× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Factory fire in China kills 36
hear-news
player
google_news print-icon

চীনে কারখানায় আগুন, নিহত ৩৬

চীনে-কারখানায়-আগুন-নিহত-৩৬
মধ্য চীনের হেনান প্রদেশের আনিয়াং শহরে কাইজিনডা ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের একটি প্ল্যান্টে আগুনের ঘটনা ঘটে। ছবি: ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে
মধ্য চীনের একটি প্ল্যান্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩৬ জন নিহত হয়েছে। দুজন নিখোঁজ রয়েছে। নিহত ও নিখোঁজ ছাড়া আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, সিসিটিভি যোগ করেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের পেছনে নাশকতার আভাস রয়েছে।

চীনের হেনান প্রদেশের আনিয়াং শহরের একটি প্ল্যান্টে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন দুজন। হতাহতের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মধ্য চীনের একটি প্ল্যান্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় মধ্য চীনের হেনান প্রদেশের আনিয়াং শহরে কাইজিনডা ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের একটি প্ল্যান্টে আগুনের ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বিস্তারিত আর জানানো হয়নি।

‘অ্যালার্ম পাওয়ার পর মিউনিসিপ্যাল ​​ফায়ার রেসকিউ ডিট্যাচমেন্ট ফোর্স ঘটনাস্থলে বাহিনী পাঠায়, জানিয়েছে সিসিটিভি।

জননিরাপত্তা, জরুরি বিভাগ, মিউনিসিপ্যাল প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ইউনিটগুলো জরুরি ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য একই সময়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলা হয়েছে।

নিহত ও নিখোঁজ ছাড়া আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, সিসিটিভি যোগ করেছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের পেছনে নাশকতার আভাস রয়েছে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

নিরাপত্তাজনিত ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশটির শিল্প-কারখানায় প্রায়ই আগুনের ঘটনা ঘটে।

গত বছর জুনে শিয়াইন প্রদেশে একটি কারখানায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় ২৫ জন নিহত হন।

২০১৯ সালে সাংহাই প্রদেশে রাসায়নিকের কারখানায় বিস্ফোরণে ৭৮ জন নিহত হন।

আরও পড়ুন:
উত্তরার বস্তিতে আগুন: পরিবারপ্রতি ৫ হাজার টাকা দেয়ার নির্দেশ
সেটেলমেন্ট অফিসে আগুন, নিরাপত্তাকর্মী দগ্ধ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Pakistans foreign minister called the defeat of 1971 a military failure

একাত্তরের পরাজয়কে ‘সামরিক ব্যর্থতা’ বললেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

একাত্তরের পরাজয়কে ‘সামরিক ব্যর্থতা’ বললেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি (বাঁয়ে); ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ভারতীয় জেনারেল জে এস অরোরার কাছে পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজীর আত্মসমর্পণ; পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রতিষ্ঠাতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর নাতি বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, ‘সেই বিপর্যস্ত সময়ে যখন জুলফিকার আলী ভুট্টো দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন গোটা জাতি মানসিকভাবে অনেক ভেঙে পড়েছিল, সব আশা হারিয়ে ফেলেছিল। সেই সব চ্যালেঞ্জ সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন জুলফিকার আলী ভুট্টো।’

১৯৭১ সালে গ্লানিকর পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ নামের নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হওয়াকে ‘সামরিক ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া পাকিস্তান ভেঙে যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক ব্যর্থতাকে দায়ী করার এক সপ্তাহ পর এমন মন্তব্য করেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রতিষ্ঠাতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর নাতি বিলাওয়াল ভুট্টো।

স্থানীয় সময় বুধবার করাচির নিশতার পার্কে পিপিপির ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে এই মন্তব্য করেন দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান বিলাওয়াল।

তিনি বলেন, ‘সেই বিপর্যস্ত সময়ে যখন জুলফিকার আলী ভুট্টো দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন গোটা জাতি মানসিকভাবে অনেক ভেঙে পড়েছিল, সব আশা হারিয়ে ফেলেছিল। সেই সব চ্যালেঞ্জ সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন জুলফিকার আলী ভুট্টো।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, ‘তিনি (জুলফিকার আলী ভুট্টো) পাকিস্তান জাতিকে পুনর্গঠন করেছেন, জনগণের মধ্যে সাহস ফিরিয়ে এনেছিলেন। এবং অবশেষে, আমাদের ৯০ হাজার সেনাকে দেশে ফিরিয়ে আনেন। ‘সামরিক ব্যর্থতার’ কারণে যে ৯০ হাজার সেনাসদস্য যুদ্ধবন্দি হয়েছিলেন তারা পরিবারের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হতে পেরেছিলেন। আর, এসবই সম্ভব হয়েছিল রাজনীতিতে আশা ছড়িয়ে দিয়ে ঐক্য আর অন্তর্ভুক্তির সমন্বয়ে।’

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর কন্যা ও দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।

দেশটির অন্যতম সংবাদমাধ্যম ডনের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে দ্য হিন্দু।

অবসর নেয়ার ৬ দিন আগে দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান আলাদা হয়ে যাওয়ার জন্য তখনকার রাজনৈতিক নেতাদের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। সেই সঙ্গে তিনি সেই বিপর্যয়ে সেনাবাহিনীর ত্যাগ ও অবদানকে হেয় করারও তীব্র সমালোচনা করেন।

১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে নিহত সেনাদের আত্মত্যাগ স্মরণে গত ২৩ নভেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত প্রতিরক্ষা ও শহীদ দিবস অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় জেনারেল বাজওয়া এমন মন্তব্য করেন। সেই সময় সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের ‘গৃহযুদ্ধে’ সেনাবাহিনীর অবস্থান নিয়েও কথা বলেন।

জেনারেল বাজওয়া বলেন, ‘আমি কিছু তথ্য সংশোধন করতে চাই। প্রথমত, সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) ছিল ইসলামাবাদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা, সামরিক ব্যর্থতা নয়।

‘যুদ্ধরত সেনার সংখ্যা ৯২ হাজার ছিল না। যুদ্ধ করেছেন ৩৪ হাজার সেনা। বাকিরা ছিল বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের লোকজন। এই ৩৪ হাজার সেনা ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২ লাখ ৫০ হাজার সেনা সদস্য এবং মুক্তিবাহিনীর ২ লাখ যোদ্ধার মুখোমুখি হয়েছিল।

‘এই কঠিন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে আমাদের সেনাবাহিনী সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছে। ত্যাগ স্বীকার করেছে; যা ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল মানেকশ স্বীকার করেছিলেন।’

জাতি এখনও এই ত্যাগকে যথেষ্ট সম্মান জানাতে পারেনি দাবি করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান বাজওয়া বলেন, ‘এটা অবিচার। আজকের আয়োজনে বক্তব্য রাখার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমি এই শহীদদের অভিবাদন জানাই। এটা অব্যাহত থাকবে। তারা আমাদের নায়ক। তাদের নিয়ে জাতির গর্ব করা উচিত।’

ছয় বছর ধরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন জেনারেল বাজওয়া। ২৯ নভেম্বর অবসরে যান তিনি।

২০১৬ সালে তিন বছরের জন্য সেনাপ্রধান নিযুক্ত হন বাজওয়া। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে তার মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ে।

সেনাপ্রধান হিসেবে জনগণের উদ্দেশে নিজের শেষ ভাষণের একটি বড় অংশে ছিল রাজনৈতিক ইস্যু।

আরও পড়ুন:
রাজনৈতিক ব্যর্থতায় পাকিস্তান ভেঙেছে: সেনাপ্রধান বাজওয়া
রাজাপুর পাকহানাদার মুক্ত দিবস
‘সেনাপ্রধান নিয়োগের পর ইমরানকে দেখে নেব’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Rashid lives for hair

হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করে জীবন খোয়ালেন রশিদ

হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করে জীবন খোয়ালেন রশিদ প্রতীকী ছবি
যুগ যুগ ধরে নারীর সৌন্দর্য্য বিচার করা হয়েছে তার চেহারা দেখে। ক্রমবর্ধমান বস্তুবাদী ভারতীয় সমাজে পুরুষরাও এখন একই চাপ অনুভব করেন। সামাজিক অবস্থান হারানোর ভয়ে তারা নিজেদের তরুণ এবং প্রফুল্ল দেখাতে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন।

ভারতের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের নির্বাহী আতহার রশিদ চেয়েছিলেন তাকে যেন সুদর্শন দেখায়। কারণ শিগগিরই বিয়ে করবেন তিনি। তবে ৩০ বছরের রশিদ চুল প্রতিস্থাপনের (হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট) সিদ্ধান্ত আপাতদৃষ্টিতে মারাত্মক ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

যুগ যুগ ধরে নারীর সৌন্দর্য্য বিচার করা হয়েছে তার চেহারা দেখে। ক্রমবর্ধমান বস্তুবাদী ভারতীয় সমাজে পুরুষরাও এখন একই চাপ অনুভব করেন। সামাজিক অবস্থান হারানোর ভয়ে তারা নিজেদের তরুণ এবং প্রফুল্ল দেখাতে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন।

অকালে টাক পড়া পুরুষরা চুল প্রতিস্থাপনে ঝুঁকছেন। আয় মোটামুটি বেড়ে যাওয়ায় পুরুষরা নিজেদের চেহারা আরও আকর্ষনীয় করতে টাকা খরচ করতে দ্বিধা করেন না।

চুল প্রতিস্থাপন (হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট) দুর্বলভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি সেক্টর। কখনো কখনো ইউটিউব দেখে স্ব-প্রশিক্ষিত অপেশাদাররা এ কাজটি করে থাকেন; যার ফলাফল হতে পারে মারাত্মক।

রশিদ তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। একটি দারুণ জীবনের আকাঙ্ক্ষায় বিভোর ছিলেন তিনি। চাকরি করে নিজে বাড়ি কিনেছেন; দুই বোনকে বিয়েও দিয়েছেন রশিদ।

রশিদের মা আছিয়া বেগম বলেন, ‘সবকিছু ওর পরিকল্পনা অনুযায়ী হচ্ছিল। বিপত্তি বাধে গত বছর। দিল্লির একটি ক্লিনিকে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করার পর সে সেপসিস রোগে আক্রান্ত হয়। তার মাথা ফুলে ওঠে। ভয়ানক যন্ত্রণা ভোগ করেছিল আমার ছেলে।

‘আমার ছেলের খুব কষ্টের মৃত্যু হয়েছে। তার কিডনি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। এক সময় তার অন্যান্য অঙ্গগুলো অকার্যকর হতে শুরু করে।’

রশিদের ফুলে যাওয়া মুখ এবং তার মৃত্যুর আগে সারা শরীরে কালো ফুসকুড়ি দেখা দিয়েছিল। সেসব ছবি দেখিয়ে রশিদের পরিবার পুলিশে অভিযোগ করে। তার ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারকারী দুই ব্যক্তি সহচারজনকে গ্রেপ্তার করা করেছে পুলিশ। তারা এখন বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছে।

দিল্লির একটি পাড়ায় তার এক রুমের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে বসে রশিদের মা আছিয়া বেগম বলেন, ‘প্রতিদিনই ছেলের কথা মনে করে তিলে তিলে মরছি।

‘আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি। কিছু মানুষের এমন প্রতারণার কারণে যেন আর কারও বুক খালি না হয়।’

আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিকারী

একজন দক্ষ সার্জন যদি চুল প্রতিস্থাপন করেন তবে এটি হতে পারে জীবন-পরিবর্তনকারী। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

হরিশ আইয়ার একজন সমঅধিকার কর্মী। তিনি বলেন, ‘জীবনধারা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুরুষরা তাদের সাজসজ্জার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করেছে। তারুণ্য এবং প্রাণশক্তি প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা আসলে সব লিঙ্গের মধ্যেই থাকে।

‘আগে এটা কেবল নারীদের ওপর ছিল। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন নারীর পাশাপাশি পুরুষরাও সেই চাপ অনুভব করেন।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অলস জীবনযাপন, ধূমপান, অনুপযুক্ত খাদ্য এবং মানসিক চাপের ফলে চুল পড়ে যেতে পারে।

চুল প্রতিস্থাপনের পদ্ধতিতে মাথার পেছনের চুলের ঘন জায়গা থেকে ফলিকল নিয়ে তা মাথার যে অংশের চুল পড়ে গেছে সে অংশে লাগানো হয়। এটা অনেকটা চারাগাছ রোপনের মতো।

ডাক্তার মায়াঙ্ক সিং এক মাসে ১৫টি পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করেন। নয়া দিল্লিতে তার ক্লিনিক।

মায়াঙ্কের বেশিরভাগ রোগীর বয়স ২৫-৩৫ বছর। হয় তারা বিয়ে করতে কিংবা পেশাগত জীবনে আরও উন্নতি করতে চাইছেন।

ভারতের কোটি কোটি মানুষ যেখানে দিনে ২০০ টাকারও কম আয় করেন, সেখানে এই সার্জারির জন্য গুনতে হয় আনুমানিক চার লাখ ৪০ হাজার টাকা (৪ হাজার ৩০০ ডলার)। এ কারণে অলিগলিতে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন ক্লিনিকে অল্প টাকায় চুল প্রতিস্থাপনে আগ্রহী হয়ে থাকেন মানুষ।

ইউটিউব কর্মশালা

মায়াঙ্ক সিং অ্যাসোসিয়েশন অফ হেয়ার রিস্টোরেশন সার্জনস অফ ইন্ডিয়ার সেক্রেটারিও। তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষের কারণে এই সেক্টরটির বদনাম হচ্ছে।

‘অনেকের এই পৌরাণিক ধারণা আছে যে এটি খুবই নিরাপদ এবং অল্প সময়ের প্রক্রিয়া। অথচ অস্ত্রোপচারের সময়কাল বেশ দীর্ঘ। প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘন্টা লাগে।

‘এতে প্রচুর লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহার হয়; যা ধাপে ধাপে প্রয়োগ করা হয়। যদি কারও সে সম্পর্কে জ্ঞান না থাকে, তবে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।’

ভারতের চুল প্রতিস্থাপনের ক্লিনিকের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। গ্রাহক টানতে প্রায়ই তাদের নানা অফার বা ছাড় দিতে দেখা যায়। এ অবস্থা বিবেচনায় দেশটির ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন সেপ্টেম্বরে একটি সতর্কতা জারি করেছে৷

এতে বলা হয়, চুল প্রতিস্থাপনের মতো নান্দনিক প্রক্রিয়ার জন্য ওয়ার্কশপ বা ইউটিউব বা অনুরূপ প্ল্যাটফর্মে প্রশিক্ষণ পর্যাপ্ত নয়। কেবল প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের মাধ্যমে এসব করা উচিত।

প্লাস্টিক সার্জন মায়াঙ্ক সিং বলেন, ‘নির্দেশিকাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য ছিল।’

মায়াঙ্কের কাছে প্রতিস্থাপন করে নতুন চুল গজানোর তালিকা দীর্ঘ; যারা বছরের পর বছর ধরে টাকের কারণে সামাজিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলেছেন। তাদের একজন ডাক্তার লক্ষ্মী নারায়ণন।

২৯ বছরের নায়রায়ণ বলেন, ‘১৮ বছর বয়স থেকে আমার চুল ঝরতে শুরু করে। আমি নিজের ছবি তোলা বা এমনকি আয়নায় তাকাতেও ভয় পেতাম।

‘সে অবস্থা এখন আর নেই। এখন আমি মানুষের সঙ্গে আত্মবিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করতে পারি।’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Harry Meghan relationship trailer on Netflix

হ্যারি-মেগান সম্পর্কের ট্রেলার নেটফ্লিক্সে

হ্যারি-মেগান সম্পর্কের ট্রেলার নেটফ্লিক্সে নেটফ্লিক্স ডকুমেন্টারিতে সাসেক্সের ডিউক এবং ডাচেস। ছবি: সংগৃহীত
ডকুমেন্টারিতে হ্যারি-মেগান দম্পতির কিছু ব্যক্তিগত ছবি রয়েছে, এগুলো আগে কখনও প্রকাশ হয়নি। বলা হচ্ছে, এটি একটি বৈশ্বিক ঘটনা।’   

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য হ্যারি এবং তার স্ত্রী মেগানের নতুন ডকুমেন্টারি সিরিজের ট্রেলার প্রকাশ করেছে নেটফ্লিক্স। এক মিনিটের ট্রেলারে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সঙ্গে দম্পতির অপ্রকাশিত কিছু সাদা-কালো ছবি দেখা গেছে।

ট্রেলারে দম্পতিকে প্রশ্ন করা হয় কেন তারা এই ডকুমেন্টারি বানাতে চান? যার উত্তরে হ্যারি বলেন, ‘বন্ধ দরজার আড়ালে কি ঘটছে তা কেউ দেখে না।

‘পরিবারকে রক্ষা করার জন্য যা যা করা সম্ভব আমাকে তাই করতে হয়েছিল’... এ সময় পাশে থাকা মেগানকে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।

মেগানের একটি বক্তব্য দিয়ে ট্রেলারটি শেষ হয়।

মেগান বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টা এতোই গুরুত্বপূর্ণ, তখন আমাদের গল্পটা আমাদের কাছ থেকেই শোনা ভালো না?’

ট্রেলারে যে ছবিগুলো প্রকাশ হয়েছে সেগুলোর মধ্যে আছে, ২০২০ সালে কমনওয়েলথ ডে সার্ভিসে বড় ভাই উইলিয়াম ও ভাবী কেটের সঙ্গে হ্যারি-মেগান দম্পতির ছবি। রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে জনসম্মক্ষে তাদের সর্বশেষ উপস্থিতি ছিল সেদিন।

রান্নাঘরের টেবিলে বসা মেগানকে চুমো খাচ্ছেন হ্যারি...এমন আনন্দের মুহূর্তের ছবিও আছে ট্রেলারে। এ ছাড়া নবদম্পতি তাদের বিয়েতে নাচছে, একটি ফটোবুথে পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে এবং মেগানের বেবি বাম্পের ছবিও প্রকাশ হয়েছে ট্রেলারে।

এসবের পাশাপাশি তাদের কষ্টের মুহুর্তগুলোও স্থান পেয়েছে ট্রেলারে; যেখানে মেগানকে চোখের পানি মুছতে এবং মুখ ঢেকে বসে থাকতে দেখা যায়।

হ্যারি-মেগান সম্পর্কের ট্রেলার নেটফ্লিক্সে

হ্যারি অ্যান্ড মেগান শিরোনামের ডকুমেন্টারিটিকে একটি ‘গ্লোবাল ইভেন্ট’ বলে বর্ণনা করছে নেটফ্লিক্স। ‘শিগগিরই আসছে’ লেখা দিয়ে ট্রেলারটি শেষ হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ৮ ডিসেম্বর এটি মুক্তি পাবে।

নেটফ্লিক্স জানায়, বিয়ের পরপর হ্যারি-মেগানের গোপন দিনগুলো; রাজপরিবার থেকে তাদের দূরে সরে যাওয়া বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে ডকুমেন্টারিতে। এতে হ্যারি-মেগান দম্পতির বন্ধু, তাদের পরিবার এবং রাজকীয় ইতিহাসবিদদের বক্তব্যও রয়েছে।

নেটফ্লিক্স জানায়, সিরিজটিতে এক দম্পতির প্রেমের গল্পের চেয়েও বেশি কিছু রয়েছে। এখানে বিশ্ব এবং একে-অপরের সঙ্গে আমরা কেমন আচরণ করি, সেসবের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

এমি-জয়ী পরিচালক লিজ গারবাস এটি নির্মাণ করেছেন। দুইবার একাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি।

রাজতন্ত্র ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর নেটফ্লিক্স এবং স্পোটিফাই-এর সঙ্গে ‘লোভনীয়’ চুক্তিতে সই করেন হ্যারি-মেগান। বলা হচ্ছে, এই চুক্তির মূল্য ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Demonstrators cheer at Irans departure
কাতার বিশ্বকাপ

পরাজয়ে উল্লাস ইরানে, গুলিতে নিহত ১

পরাজয়ে উল্লাস ইরানে, গুলিতে নিহত ১
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ কয়েকটি শহরে মঙ্গলবার রাতে ইরানিদের রাস্তায় নেমে নাচতে এবং গাড়ির হর্ন বাজাতে দেখা গেছে। এর কিছু আগে, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ইরান। 

কাতারে যে ফুটবল দলটি বিশ্বকাপ খেলতে গেছে, অনেক ইরানির চোখে তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিনিধিত্ব করে। এ কারণে জাতীয় ফুটবল দলকে সমর্থন দিতে অস্বীকার করেছেন তারা। তবে ফুটবলারদের ওপর ‘অন্যায্য’ চাপ দেয়ার জন্য ইরানের অভ্যন্তরে এবং বাইরের শত্রু শক্তিকে দায়ী করছে ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়াগুলো।

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ কয়েকটি শহরে মঙ্গলবার রাতে ইরানিদের রাস্তায় নেমে নাচতে এবং গাড়ির হর্ন বাজাতে দেখা গেছে। এর কিছু আগে, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ইরান।

এদিকে হার উদযাপনের সময় উত্তর ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে একজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইরান হিউম্যান রাইটস বলছে, মঙ্গলবার রাতে ফুটবল দলের পরাজয় উদযাপনের জন্য কাস্পিয়ান সাগরের শহর বন্দর আনজালিতে নিজের গাড়ির হর্ন বাজাচ্ছিলেন ২৭ বছরের মেহরান সামাক। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী তার মাথায় গুলি করে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মেহরানের।

পরাজয়ে উল্লাস ইরানে, গুলিতে নিহত ১
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, প্রতিবাদের চিহ্ন হিসেবে গাড়ির হর্ন বাজানোর সময় নিরাপত্তা বাহিনী মেহরান সামাককে গুলি করে হত্যা করেছে

বিবিসি ফার্সি বুধবার সকালে সুনাকের দাফনের একটি ভিডিও পায়। এ সময় সেখানে উপস্থিত জনতাকে বলতে শোনা যায়- ‘তুমি নোংরা, তুমি অনৈতিক, আমি একজন স্বাধীন নারী’। ইরানের বিক্ষোভে প্রায়শই ব্যবহৃত একটি স্লোগান এটি।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ইরানের ফুটবলাররা জাতীয় সঙ্গীত গায়নি। ওই ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-২ ব্যবধানে হারে ইরান।

তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েলসের বিপক্ষে খেলায় তারা জাতীয় সংগীত গেয়েছিল। সে ম্যাচে ২-০ গোলে জেতে ইরান।

অনেক বিক্ষোভকারী এটাকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন। যদিও এমন খবর ছিল যে দলটি ইরানি কর্তৃপক্ষের তীব্র চাপের মধ্যে ছিল।

১০ সপ্তাহ আগে মাহসা আমিনির হেফাজতে মৃত্যুর পর ইরানে অস্থিরতা শুরু হয়। হিজাব ঠিকভাবে না করায় ২২ বছরের মাহসাকে তেহরানের নৈতিকতা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল।

ইরান সরকার চলমান বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ বলছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের মদদে দেশে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে কিছু মানুষ।

বিক্ষোভ দমাতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী শক্ত অবস্থান নিয়েছে। এতে ঘটছে হতাহত। মানবাধিকার কর্মীরা হিসাবে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ৬০ শিশুসহ কমপক্ষে ৪৫০ জন নিহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার আছেন ১৮ হাজারের বেশি মানুষ।

অনলাইনে মঙ্গলবার রাতে শেয়ার হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের উত্তর-পশ্চিমে মাহসা আমিনির নিজ শহর সাক্কেজে কয়েক ডজন লোক ইরানি ফুটবল দলের পরাজয় উদযাপন করছে। আতশবাজি পুড়িয়ে মাথার স্কার্ফ নেড়ে তাদের উল্লাস করতে দেখা যায়।

কুর্দি অঞ্চলের অন্যান্য কয়েকটি শহর থেকেও এমন ভিডিও পেয়েছে বিবিসি ফার্সি। এসব শহরে সম্প্রতি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল সানন্দাজে জনতাকে গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচতে দেখা গেছে। অন্যদিকে কেরমানশাহ এবং মারিভানে উদযাপনকারীদের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এটি চলামান বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান স্লোগান।

তেহরানে ইমাম সাদিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা একটি হলের বাইরে জড়ো হয়ে ‘অসম্মানজনক মৃত্যু’ বলে স্লোগান দেয়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ইরানের ম্যাচের সময় স্টেডিয়ামের ভেতরেও ভক্তদের এই স্লোগানটি দিতে দেখা গেছে।

বিক্ষোভকারীদের প্রচারমাধ্যম ১৫০০তাসভির একটি ভিডিও পোস্ট করেছে যেটিতে দেখা যায়, নিরাপত্তা বাহিনী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বেহবাহানে উদযাপনকারী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাচ্ছে; তেহরানের কাছে কাজভিনে এক নারীকে মারধর করছে।

মঙ্গলবারের ম্যাচের পর কাতারের আল থুমামা স্টেডিয়ামের বাইরে সরকারবিরোধী এবং সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষও হয়।

ড্যানিশ সাংবাদিক রাসমুস ট্যানথোল্ড্টের ভিডিও-তে ধরা পড়েছে সংঘর্ষের দৃশ্য। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন পুরুষ ইরানের পতাকা হাতে টি-শার্ট পরা একজনকে বি খোঁচাচ্ছে। ওই ব্যক্তির টি-শার্টে লেখা- ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’।

তখন তার সঙ্গে থাকা এক নারীকে বলতে শোনা যায়, তিনি হামলার শিকার হয়েছেন। নিরাপদে স্টেডিয়াম ছেড়ে যাওয়ার জন্য তিনি সাহায্য চাইছিলেন।

বিবিসি পার্সিয়ানের কাছে আসা আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের বাইরে এক পুরুষ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করছে নিরাপত্তা বাহিনী। বিক্ষোভকারীকে তখন চিৎকার করে বলতে শোনা যায়- ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় ফুটবল দলের প্রশংসা করেছে।

রক্ষণশীল ফারহিখতেগান পত্রিকাটি বলছে, ‘আমরা ইরানের জন্য গর্বিত। অন্যদিকে রেভল্যুশনারি গার্ডস-সংশ্লিষ্ট দৈনিক জাভান বলছে, দলটি ‘আসল খেলা জিতেছে: মানুষের হৃদয় এক করার খেলা।’

কেহান পত্রিকার সম্পাদককে নিয়োগ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি। ওই সম্পাদক বলেন, ‘দলটি সবচেয়ে অন্যায্য পরিস্থিতিতে টুর্নামেন্টে গিয়েছিল। তাদের ওপর দেশের পাশপাশি বিদেশে থেকেও চাপ ছিল।

পরাজয়ে উল্লাস ইরানে, গুলিতে নিহত ১
ক্রিস্টিয়ান পুলিসিকের একমাত্র গোলে ইরানকে হারায় যুক্তরাষ্ট্র

ম্যাচের আগে কট্টরপন্থী তাসনিম সংবাদ সংস্থা সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল। ওই প্রতিবেদনে অজ্ঞাত একটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে বলা হয়, ইরানি খেলোয়াড়রা ‘ভালো আচরণ’ না করলে তাদের পরিবারকে ‘কারাবাস ও নির্যাতন’ করবে বিপ্লবী গার্ড।

আরও পড়ুন:
ইরান ম্যাচের আগে ক্ষমা চাইলেন আমেরিকার কোচ
বিক্ষোভ নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত চায় না ইরান
যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপ থেকে বের করে দেয়ার আহ্বান ইরানের
খামেনির বিরুদ্ধে এবার তার ভাগনি সোচ্চার
হিজাবহীন নারীকে সেবা দিয়ে চাকরি গেল ব্যাংক কর্মকর্তার

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Police clash with protesters in Guangzhou China

চীনের গুয়াংজুতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

চীনের গুয়াংজুতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চীনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি। ছবি: এএফপি
চীনের বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাংহাই, রাজধানী বেইজিং ও অন্য শহরগুলোতে সপ্তাহজুড়ে বিক্ষোভের পর গুয়াংজুতে সংঘর্ষকে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের এক দশকের বেশি সময়ের শাসনামলে সবচেয়ে বড় অসহযোগ আন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীনের শিল্পোৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংজুতে করোনাভাইরাসজনিত কঠোর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গুয়াংদং প্রদেশের রাজধানীতে মঙ্গলবার রাতে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান করোনাবিধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, চীনের বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাংহাই, রাজধানী বেইজিং ও অন্য শহরগুলোতে সপ্তাহজুড়ে বিক্ষোভের পর গুয়াংজুতে সংঘর্ষকে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের এক দশকের বেশি সময়ের শাসনামলে সবচেয়ে বড় অসহযোগ আন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

টুইটারে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) পরা পুলিশ সদস্যরা ঢাল দিয়ে দৃশ্যত ইট-পাথর ঠেকাচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে পুলিশ সদস্যরা একদল মানুষকে হাতকড়া পরিয়ে অজানা কোনো এক স্থানে নিয়ে যান।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশকে লক্ষ্য করে ভারী বস্তু ছুড়ছেন স্থানীয়রা।

অন্য এক ভিডিওতে সরু রাস্তায় সমবেত লোকজনের উদ্দেশে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে মারতে দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের। ওই সময় ধোঁয়া থেকে বাঁচতে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন বিক্ষোভকারীরা।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপ থেকে বের করে দেয়ার আহ্বান ইরানের
খামেনির বিরুদ্ধে এবার তার ভাগনি সোচ্চার
হিজাবহীন নারীকে সেবা দিয়ে চাকরি গেল ব্যাংক কর্মকর্তার
চীনে করোনা বিধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ বাড়ছে
এবার ইরানের জাতীয় সংগীতে গ্যালারি থেকে ‘দুয়ো’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The Roman emperor was afraid of being killed according to a 500 year old letter

খুনের ভয়ে ছিলেন রোমানসম্রাট, ৫০০ বছর আগের চিঠিতে তথ্য

খুনের ভয়ে ছিলেন রোমানসম্রাট, ৫০০ বছর আগের চিঠিতে তথ্য রাজা পঞ্চম চার্লসের প্রতিকৃতি
জ্যন ডে সেইন্ট মাউরিসের কাছে লেখা তিন পৃষ্ঠার চিঠিতে ৭০টি লাইন রয়েছে। এতে সংকেত ব্যবহার করা হয়েছিল ১২০টি। এই সাংকেতিক চিঠি সংরক্ষিত ছিল বহু বছর ধরে। ছয় মাসের চেষ্টা উদ্ধার হয়েছে এর অর্থ।

হত্যার শিকার হওয়ার ভয় ঢুকেছিল রোমানসম্রাট ও স্পেনের রাজা পঞ্চম চার্লসের মনে, একটি চিঠিতে ওই আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

১৫৪৭ সালে সই করা ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সম্রাটের চিঠিটির গোপন কোড বা সংকেত উদ্ধার করেছে ফ্রান্সের একদল গবেষক। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

পঞ্চম চার্লসের ধারণা হয়েছিল, ইতালির কোনো হামলাকারী তাকে হত্যা করতে পারেন।

ফ্রান্সের ন্যান্সিতে একটি নৈশভোজের আয়োজনে ২০১৯ সালে লরিয়ার ক্রিপ্টোগ্রাফার সিসিল পিয়েরট চিঠিটির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন। একপর্যায়ে ২০২১ সালে তা শহরের ঐতিহাসিক গ্রন্থাগারে খুঁজে পান তিনি।

সিসিল জানান, প্রথম ব্যাপারটি ছিল প্রতীকগুলোকে শ্রেণিবদ্ধ করা এবং নিদর্শনগুলোর সন্ধান করা। তবে এটি কেবল অক্ষরের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতীক ছিল না। বিষয়টি আরও জটিল ছিল।

খুনের ভয়ে ছিলেন রোমানসম্রাট, ৫০০ বছর আগের চিঠিতে তথ্য

জ্যন ডে সেইন্ট মাউরিসের কাছে লেখা তিন পৃষ্ঠার চিঠিতে ৭০টি লাইন রয়েছে। এতে সংকেত ব্যবহার করা হয়েছিল ১২০টি। এই সাংকেতিক চিঠি সংরক্ষিত ছিল বহু বছর ধরে। ছয় মাসের চেষ্টা উদ্ধার হয়েছে এর অর্থ।

পুরো চিঠিতে কী লেখা আছে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। শুধু এর সারমর্ম জানানো হয়েছে।

পঞ্চম চার্লস তার প্রতিনিধিকে বেশ সতর্ক থাকতে বলেছিলেন বলে জানানো হয় এতে। চিঠির তথ্যানুযায়ী, পঞ্চম চার্লস একটি গুজব নিয়ে ভাবতেন। তার ধারণা ছিল একজন ইতালীয় সম্রাটকে হত্যার চেষ্টা করবেন।

ষোড়শ শতকে সম্রাট পঞ্চম চার্লস শাসন করেছেন ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। পশ্চিম ইউরোপ থেকে আমেরিকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তার সাম্রাজ্য।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Iran US standoff in Qatar

ইরান-আমেরিকা ‘মহারণ’ কাতারে

ইরান-আমেরিকা ‘মহারণ’ কাতারে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক উত্তাপ। ছবি: সংগৃহীত
আল থুমামা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপ ‘বি’ থেকে দুই দলেরই নক আউট পর্বে খেলার সুযোগ রয়েছে। তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠতে পারে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ।

কাতার বিশ্বকাপে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাঠে নামছে ইরান। ফুটবলে শক্তির দিক থেকে দুই দলের খুব একটা পার্থক্য নেই। ফিফা রেটিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র ১৬ নম্বরে; চার ধাপ পিছিয়ে ইরানের অবস্থান ২০-এ। তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠতে পারে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ।

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ইরানে চলমান বিক্ষোভ-প্রতিবাদের ঢেউ এরই মধ্যে কাতার বিশ্বকাপের মাঠেও পৌঁছে গেছে। বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জাতীয় সংগীত গাননি ইরানি ফুটবলাররা। পাশাপাশি আগের দুই ম্যচে গ্যালারিতেও দৃশ্যমান ছিল ইরানিদের প্রতিবাদ। আমেরিকার বিপক্ষে ইরানের তৃতীয় ম্যাচে ক্ষোভের এই মাত্রা আরও তীব্র হতে পারে।

আল থুমামা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপ ‘বি’ থেকে দুই দলেরই নক আউট পর্বে খেলার সুযোগ রয়েছে। মাঠের লড়াইটাও তাই হাড্ডাহাড্ডি হবে।

ফ্রান্সে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্ক ছিন্ন হয়। তারপর সেই ম্যাচেই হয়েছিল দু'দলের প্রথম দেখা।

সে ম্যাচের আগে অভূতপূর্ব এক ঘটনা ঘটেছিল। উত্তেজনায় পানি ঢেলে ইরানি খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছিলেন সাদা গোলাপ। তোলা হয়েছিল গ্রুপ ছবিও।

ম্যাচে হামিদ ইস্টিলি এবং মেহেদি মাহদাভিকিয়ার গোলে ২-০তে জয় পায় ইরান। সেটি ছিল বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে ইরানের প্রথম জয়। আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিল তেহরানের রাস্তায়।

এবার কাতার বিশ্বকাপে গত শুক্রবার ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথম জয় পায় ইরান। এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬-২ গোলে হার মানতে হয়েছিল ইরানি ফুটবলারদের। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এবার জয় পেলে প্রথমবারের মতো নক আউট পর্বে খেলবে তারা।

তবে আমেরিকার বিপক্ষে লড়াইটা কেবল ফুটবল নিয়ে নয়।

ইসলামি শাসনের ইরান যে কয়েকটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ শাসন করছে, নারীদের হিজাব তার একটি। ৭০ দিনের বেশি সময় ধরে ইরানে হিজাববিরোধী তুমুল বিক্ষোভ চলছে; যেটা এখন ইরানের সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে, বিক্ষোভ দমাতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে প্রাণ দিয়েছেন চার শতাধিক মানুষ। তাদের মধ্যে আছে ৬০ জনের বেশি শিশু। ইরানি কর্তৃপক্ষ অবশ্য আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।

হিজাব ঠিকমতো না করার অভিযোগে গ্রেপ্তার কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনি পুলিশি হেফাজতে মারা যান গত ১৬ সেপ্টেম্বর। সেদিন থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানী তেহরান। অল্প দিনে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা ইরানে।

‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ স্লোগানটি বিশ্বকাপেও দেখা যাচ্ছে অনেক ইরানি বিক্ষোভকারী আশা করছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সাবেক এবং বর্তমান অ্যাথলেটিকরাও তাদের সমর্থন দেবেন।

ইরান দলের অধিনায়ক এহসান হাজিসাফি গত সপ্তাহে দোহায় সংবাদ সম্মেলনে বিক্ষোভে সংহতি প্রকাশ করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতিও জানান। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মিলিয়েছেন খেলোয়াড়রা।

ইংল্যান্ড ম্যাচের পর ইরানে আবার চাঙা হয় বিক্ষোভ। নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা ও ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটতে থাকে।

তবে ওয়েলসের বিপক্ষে জয়ের পর নিরাপত্তা বাহিনীর চোখের সামনেই রাস্তায় উদযাপনে মাতে ইরানি জনতা। এর আগে বিক্ষোভ দমাতে যে পুলিশ সরাসরি গুলি ছুড়তে দ্বিধা করেনি, সেই পুলিশ সদস্যরাও সেদিন পতাকা নাড়িয়ে তাদের উৎসাহ দেয়। মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, রাস্তায় নাচতে-গাইতেও দেখা গেছে তাদের। সেদিন প্রথা ভেঙে ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত নিউজ ওয়েবসাইটগুলো হেডস্কার্ফহীন উল্লসিত নারীদের ছবি প্রকাশ করে৷

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা তাদের দেশে ‘দাঙ্গা’ এবং ‘সন্ত্রাসবাদ’-এর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করছেন, তবে তা অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন।

আরও পড়ুন:
ফিফার টুইটে এবার বাংলাদেশে ব্রাজিল উদযাপন
নেইমারকে মিস করেছেন তিতে
ব্রাজিলের জয়ে জগন্নাথে বাঁধভাঙা উল্লাস
ম্যাচের আগে মেসিকে পোলিশ ডিফেন্ডারের হুঁশিয়ারি
আর্জেন্টিনার খেলা নিয়ে বন্ধুকে খুন

মন্তব্য

p
উপরে