× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Death toll rises to 15 in gas cylinder explosion in Iraq
hear-news
player
google_news print-icon

ইরাকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ১৫

ইরাকে-গ্যাস-সিলিন্ডার-বিস্ফোরণে-মৃত-বেড়ে-১৫-
ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর সুলাইমানিয়ার একটি আবাসিক এলাকায় বৃহস্পতিবার সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। ছবি: এএফপি   
সুলাইমানিয়া শহরের সিভিল ডিফেন্সের প্রধান দিয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মোট ১৫টি মৃতদেহ বের করা হয়েছে। শুক্রবার ভোররাত পর্যন্ত অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত ছিল। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কোনো মরদেহ নেই।’

ইরাকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ হয়েছে। আহত আছেন ১৬ জন। উত্তরাঞ্চলীয় শহর সুলাইমানিয়ার একটি আবাসিক এলাকায় বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে।

সুলাইমানিয়ার সিভিল ডিফেন্স জানায়, বিস্ফোরণে একটি বাড়ি ধসে পড়ে। চাপা পড়াদের উদ্ধারে ১৭ ঘণ্টা অভিযান চলেছে।

কুর্দি অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে দীর্ঘ চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকলকর্মীরা।

শহরের সিভিল ডিফেন্সের প্রধান দিয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মোট ১৫টি মৃতদেহ বের করা হয়েছে। শুক্রবার ভোররাত পর্যন্ত অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত ছিল। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কোনো মরদেহ নেই।’

শহরের জরুরি প্রতিক্রিয়া প্রধান সামান নাদের বলেন, ‘একটি ট্যাঙ্ক থেকে গ্যাস লিক হওয়ায় বিস্ফোরণ ঘটেছে।’

পুলিশ জানায়, আগুনে বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনটি বাড়ি এবং অন্তত পাঁচটি গাড়ি ধ্বংস হয়েছে। আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির ছাদে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বসানো হয়েছিল। সেটি থেকে বিস্ফোরণ ঘটে।

ইরাকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ১৫
ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কোনো মরদেহ নেই বলে জানিয়েছেন শহরের সিভিল ডিফেন্সের প্রধান দিয়ার ইব্রাহিম

এ ঘটনায় শুক্রবার তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন সুলাইমানিয়াহ প্রদেশের গভর্নর হাভাল আবুবাকার। তিনি জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে অন্তত এক শিশু রয়েছে।

বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি।

ইরাকে অবকাঠামোগত ট্র্যাজেডিগুলো খুব সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছে। অক্টোবরের শেষের দিকে রাজধানী বাগদাদে একটি গ্যাস ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে অন্তত ৯ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

এ ছাড়া গত বছরের এপ্রিলে বাগদাদের একটি হাসপাতালের করোনাভাইরাস নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে আগুন লাগলে কমপক্ষে ৮২ জন নিহত হন; আহত হয় শতাধিক মানুষ। অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন:
ইরাকের পার্লামেন্টে সদর সমর্থকদের হানা
প্রত্নবস্তু পাচার: ইরাকে ব্রিটেনের নাগরিকের ১৫ বছরের জেল
দেউলিয়া লেবাননের নাগরিকরা ছুটছেন ইরাকে
ইরাকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় নিল ইরান
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ইরাক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Khashoggi murder Saudi crown princes case dismissed in US court

খাশোগজি হত্যা: যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে সৌদি যুবরাজের মামলা খারিজ

খাশোগজি হত্যা: যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে সৌদি যুবরাজের মামলা খারিজ সাংবাদিক জামাল খাশোগজি ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: বিবিসি
ওয়াশিংটনের ফেডারেল বিচারক জন বেটস জানান, একটি বিদেশি সরকারের বর্তমান প্রধান হিসেবে সৌদি যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের বিচারের আওতা থেকে রেহাই পাবেন। আর যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের অবস্থান এটি।

সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে করা একটি মামলা খারিজ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। ওয়াশিংটনের একটি আদালত মঙ্গলবার এই মামলা খারিজ করে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংবাদিক খাশোগজিকে হত্যায় বিন সালমানের ভূমিকা নিয়ে মামলাটি করেছিলেন খাশোগজির বাগদত্তা হাতিশ চেঙ্গিস এবং তার অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ ডন।

ওয়াশিংটনের ফেডারেল বিচারক জন বেটস জানান, একটি বিদেশি সরকারের বর্তমান প্রধান হিসেবে সৌদি যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের বিচারের আওতা থেকে রেহাই পাবেন। আর যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের অবস্থান এটি।

এর আগে গত ১৭ নভেম্বর একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিচারক জন বেটস জানান, সরকারের অবস্থানের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা তার নেই। সালমান বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়মুক্তি পেতে পারেন।

যদিও কয়েক সপ্তাহ আগেই যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করা হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্বাহী শাখা সৌদি আরবসহ বৈদেশিক বিষয়গুলো দেখভাল করে। বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ থাকার পরেও বিন সালমানের বিরুদ্ধে মামলা নেয়া হলে এটি সরকারের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হবে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের কনস্যুলেটে খুন হন দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট ও সৌদি রাজতন্ত্রের নীতির কট্টর সমালোচক খাশোগজি। বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথি নিতে সৌদি কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন তিনি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের তদন্তে উঠে আসে, এ হত্যাকাণ্ডে মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশ ছিল।

খাশোগজি হত্যা নিয়ে ২০২১ সালে ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ২০১৭ সাল থেকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যুবরাজের। ফলে যুবরাজের অনুমোদন ছাড়া খাশোগজি হত্যার মতো একটি অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা খুবই কম।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে সেসময় বলা হয়, যুবরাজ খাশোগজিকে হুমকি মনে করতেন এবং দরকার হলে সহিংস কায়দায় তাকে দমিয়ে রাখার পদক্ষেপে যুবরাজের জোর সমর্থন ছিল।

আরও পড়ুন:
খাশোগজি হত্যায় ভীতির পরিবেশ তৈরি করেন সৌদি যুবরাজ
খাশোগজি হত্যা: যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা নাকচ সৌদির
খাশোগজি হত্যায় অনুমোদন ছিল সৌদি যুবরাজের: যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি বাদশাহকে ফোন বাইডেনের
খাশোগজি হত্যা: সৌদি বাদশাহকে ‘ফোন করবেন’ বাইডেন

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
China is going to Riyadh amid the Saudi US dispute
সিএনএনের প্রতিবেদন

সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র দূরত্বের মধ্যে রিয়াদ যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট

সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র দূরত্বের মধ্যে রিয়াদ যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। ছবি: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ সৌদি আরবে শির সফরের গুঞ্জন কয়েক মাস ধরেই চলছে। এ সফরের কথা এখনও রিয়াদ ও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি।

তেল উৎপাদনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কে ভাটার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং।

চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএনের মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার দুই দিনের সফরে সৌদিতে যাবেন শি।

সূত্রগুলো সিএনএনকে জানায়, চীন-আরব শীর্ষ সম্মেলন ও চীন-জিসিসি সম্মেলনে অংশ নিতে রিয়াদ যাচ্ছেন পূর্ব এশিয়ার দেশটির প্রেসিডেন্ট।

চীন-আরব শীর্ষ সম্মেলনে আরবের ১৪টি দেশের প্রধানের অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র রাষ্ট্র সৌদি আরবে শির সফরের গুঞ্জন কয়েক মাস ধরেই চলছে, তবে এ সফরের কথা এখনও স্বীকার করেনি রিয়াদ কিংবা বেইজিং।

শির সফর নিয়ে জানতে চাইলে সিএনএনের কাছে কোনো মন্তব্য করেনি বেইজিং।

গত সপ্তাহে সৌদি সরকার চীন-আরব শীর্ষ সম্মেলন কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিকদের নিবন্ধন করায়, তবে সে সম্মেলনের নির্দিষ্ট তারিখের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যার পর সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ফাটল ধরে। তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির সঙ্গে দূরত্ব আরও বাড়ে যুক্তরাষ্ট্রের।

সৌদির নেতৃত্বাধীন ওপেক প্লাস তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়ায় ক্ষুব্ধ হয় ওয়াশিংটন। গত অক্টোবরে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমায় ওপেক প্লাস জোট।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের কারণে মস্কোর বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। এরই পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র তেল উৎপাদন বাড়ানোর চাহিদার কথা জানালেও সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ওপেক প্লাস জোট তাতে সাড়া দেয়নি।

তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সৌদি আরব যুদ্ধরত রাশিয়াকে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র; তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে রিয়াদ।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Sindalah is the future of luxury travel

বিলাসী ভ্রমণের আগামী ঠিকানা সৌদির ‘সিন্দালাহ’

বিলাসী ভ্রমণের আগামী ঠিকানা সৌদির ‘সিন্দালাহ’ সিন্দালাহ দ্বীপটি লোহিত সাগরের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি প্রেস এজেন্সি অনুসারে, দ্বীপটি লোহিত সাগরের একটি প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে। ২০২৪ সালের প্রথম দিকে পর্যটকদের এখানে স্বাগত জানানো শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

‘স্বপ্নের’ নিওম সিটির বিলাসবহুল দ্বীপ সিন্দালাহ’র সুপারইয়ট এবং টপ-অ্যান্ড অ্যাপার্টমেন্ট পর্যটকদের আতিথেয়তায় প্রস্তুত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবের পরবর্তী বাদশাহ মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেছেন, প্রকল্পটি সৌদির পর্যটনশিল্পকে অনেক দূর এগিয়ে নেবে। ২০২৪ সালের প্রথম দিকে পর্যটকদের এখানে স্বাগত জানানো শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে

আনুমানিক ৮ লাখ ৪০ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত সিন্দালাহ দ্বীপ। গিগা-প্রকল্পের অধীনে দ্বীপটি চালু হলে, পর্যটন খাতে সাড়ে ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি অনুসারে, দ্বীপটি লোহিত সাগরের একটি প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে। ২০২৪ সালের প্রথম দিকে পর্যটকদের এখানে স্বাগত জানানো শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্রাউন প্রিন্স সালমান বলেছেন, ‘এটি নিওমের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ভিশন ২০৩০’র অধীনে পর্যটন উচ্চাকাঙ্ক্ষার দিক বিবেচনায় বড় একটি পদক্ষেপ এটা।

‘সিন্দালাহ লোহিত সাগরে নিওমের প্রথম বিলাসবহুল দ্বীপ এবং ইয়ট ক্লাবের গন্তব্য হবে; যা লোহিত সাগরের একটি সুন্দর প্রবেশদ্বার প্রদান করবে। এটি অঞ্চলের রোমাঞ্চকর এবং আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠবে।

‘এটি এমন একটি গন্তব্য হবে যেখানে ভ্রমণকারীরা পানির নিচ কিংবা ওপর দুই দিক থেকেই নিওম এবং সৌদি আরবের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে। সিন্দালাহ হবে বিলাসবহুল ভ্রমণের ভবিষ্যৎ।’

সিন্দালাহ-এ একটি ৮৬ সামদ্রিক ঘাট (বার্থ মেরিনা) থাকবে। এ ছাড়া ৩৩৩টি টপ-অ্যান্ড সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্টের পাশাপাশি ৪১৩টি আল্ট্রা-প্রিমিয়াম হোটেল রুম থাকবে।

দ্বীপটির অন্যান্য আকর্ষণগুলোর মধ্যে আছে বিলাসবহুল বিচক্লাব, ইয়ট ক্লাব এবং ৩৮ ধরনের অনন্য খাবার; এগুলো লোহিত সাগরে একটি অতুলনীয় অভিজ্ঞতা প্রদান করবে ভ্রমণ পিয়াসীদের।

এ ছাড়া বিশ্বমানের ৬ হাজার ৪৭৪ গজের (৫ হাজার ৯২০ মিটার) পার ৭০ কোর্সের অভিজ্ঞতার সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে সিন্দালাহ একটি জনপ্রিয় গলফ গন্তব্য হয়ে উঠবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

৫০০ বিলিয়ন ডলারের স্মার্ট সিটি নিওম। মোহাম্মদ বিন সালমান এটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানও। প্রকল্পটি সৌদি আরবের জাতীয় পর্যটনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হচ্ছে।

নভেম্বরে ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল গ্লোবাল সামিটে বক্তৃতা দেয়ার সময় নিওম-এর প্রধান নির্বাহী নাদমি আল-নাসর বলেছিলেন, ‘স্মার্ট সিটিতে ঝুলন্ত স্টেডিয়ামগুলো ভবিষ্যতকে নতুন করে কল্পনা করতে সাহায্য করবে পর্যটকদের৷’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই মানুষ এসে দেখুক কীভাবে স্পোর্টস স্টেডিয়াম তৈরি হয়… কোথায় তৈরি হয়। নিওমের স্পোর্টস স্টেডিয়ামগুলো ৩০০ মিটার লম্বা এবং সেগুলো শূন্যে ঝুলে আছে।’

নিওমের শিল্পনগরী অক্সাগন নিয়েও ব্যাপক আশাবাদী সৌদি আরব। তারা বলছে, এটিরও বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। দর্শনার্থীরা এখানে এসে দেখতে পারবেন, ভবিষ্যৎ কেমন হবে।

‘অক্সাগনে সব ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান থাকবে। এটি নিওমের বন্দর হলেও৷ তবুও আমরা দেখতে চাই পর্যটকরা অক্সাগনে এক বা দুই দিন কাটাচ্ছেন। তারা অক্সাগনে শিল্পের ভবিষ্যৎ দেখতে পাবেন। নিওমের সবকিছুই আসলে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আমরা চাই, সবাই এসে দেখুক ভবিষ্যতে সমুদ্রবন্দরগুলো কীভাবে কাজ করবে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Iran executes 4 people for supporting Israel

মোসাদকে সহায়তা, ইরানে ৪ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

মোসাদকে সহায়তা, ইরানে ৪ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর  প্রতীকী ছবি
এই চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কাজ ও অপহরণে সহায়তা এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে আরও তিনজনকে পাঁচ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে সহায়তার অভিযোগে ইরানে চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানি বার্তা সংস্থা মেহর বুধবার জানায়, ইসরায়েল সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তার অপরাধে ওই চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

এই চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কাজ ও অপহরণে সহায়তা এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে আরও তিনজনকে পাঁচ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

ইরানের আরেক বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের গত জুনে গ্রেপ্তার করা হয়। ইরানজুড়ে চলা পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভের আগেই তারা গ্রেপ্তার হন।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Divorce your wife if your favorite team loses in the World Cup

বিশ্বকাপে পছন্দের দল হারলে ডিভোর্স!

বিশ্বকাপে পছন্দের দল হারলে ডিভোর্স! গত ৩০ নভেম্বর সৌদি-মেক্সিকো ফুটবল ম্যাচের একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
৩০ নভেম্বর সৌদি আরবের বিপক্ষে মেক্সিকোর ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে অনলাইনে এসে শপথ নিতে দেখা যায় এক ব্যক্তিকে। তাকে বলতে শোনা যায়, মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে যদি সৌদি আরব হেরে যায়, তবে স্ত্রীকে ছেড়ে দেবেন তিনি। 

কাতার বিশ্বকাপের উত্তেজনায় কাঁপছে বিশ্ব। পছন্দের দল নিয়ে মাতামাতিও চলছে সেই তালে। তবে এই উন্মাদনায় ওমানের এক সৌদিভক্ত যে কাণ্ড করেছেন সেটাতে সমর্থন দেয়া কঠিন। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপে পছন্দের দল হেরে বসলে স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে দেবেন!

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গালফ নিউজের খবরে বলা হয়, ৩০ নভেম্বর সৌদি আরবের বিপক্ষে মেক্সিকোর ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে অনলাইনে এসে শপথ নিতে দেখা যায় ওই ব্যক্তিকে। তাকে বলতে শোনা যায়, মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে যদি সৌদি আরব হেরে যায়, তবে স্ত্রীকে ছেড়ে দেবেন তিনি।

ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় সৌদি আরব। শুধু তাই নয়, এই ম্যাচের সঙ্গে সৌদিদের নকআউট পর্বে খেলার আশাও শেষ হয়ে যায়।

ম্যাচ শেষে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন কী না, তা অবশ্য জানা যায়নি। তারপরও পুরো বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। অনেকেই ফুটবল অনুরাগীদের সচেতন হতে, আবার অনেকে ব্যক্তিগত জীবন থেকে খেলাকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
IS reported the death of the top leader

শীর্ষ নেতা নিহতের খবর জানাল আইএস

শীর্ষ নেতা নিহতের খবর জানাল আইএস পতাকা হাতে আইএস যোদ্ধারা। ছবি: এএফপি
আইএসের শীর্ষ নেতার মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি আবু ওমর আল-মুহাজের নামের মুখপাত্র। তিনি দলের নতুন নেতা হিসেবে আবু আল-হুসেইন আল-হুসেইনি আল-কুরাইশির নাম ঘোষণা করেন।

যুদ্ধে সংগঠনের শীর্ষ নেতা আবু হাসান আল-হাশিমি আল-কুরাশি নিহতের ঘোষণা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএস) বা আইএস।

সংগঠনটির এক মুখপাত্র বুধবার জানান, ইরাকের নাগরিক আল-কুরাশি যুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

শীর্ষ নেতার মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি আবু ওমর আল-মুহাজের নামের ওই মুখপাত্র। তিনি দলের নতুন নেতা হিসেবে আবু আল-হুসেইন আল-হুসেইনি আল-কুরাইশির নাম ঘোষণা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নিহত হন আবু হাসান আল-হাশিমি আল-কুরাশি।

আইএসের প্রধানকে হত্যা নিয়ে সেন্টকমের মুখপাত্র কর্নেল জো বুচিনো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সিরিয়ার দা’রা প্রদেশে ফ্রি সিরিয়ান আর্মি এ অভিযান চালায়। এ অঞ্চলের জন্য (সিরিয়া) আইএসআইএস হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। সেন্টকম ও মিত্রদের নজর আইএসআইএসের স্থায়ী পরাজয়ে।’

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে আইএসের প্রধান আবু ইব্রাহিম আল-কুরাশি নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন আবু হাসান আল-কুরাশি। আইএসের সদ্য নিহত এ নেতা সম্বন্ধে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

আল-কুরাশিকে ছদ্মনাম মনে করা হচ্ছে, যেটি গ্রহণ করেছেন আইএসের বিভিন্ন নেতা।

আরও পড়ুন:
বিএমএতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ
সেনাপ্রধানের সঙ্গে রয়েল কলেজ অফ ডিফেন্স স্টাডিজ প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
বিস্ফোরণে কাঁপল আফগানিস্তান, অন্তত ৩৯ মৃত্যু
নতুন নেতার নাম ঘোষণা করল আইএস
কুরায়শি নয়, ছবিটি বাগদাদির

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Messi is part of the Saudi billion dollar project

সৌদি বিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের অংশ মেসি

সৌদি বিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের অংশ মেসি ২০১২ সালে প্রথম সৌদি সফরে যান মেসি। ছবি: এএফপি
সৌদি আরবের ভাবমূর্তি উন্নয়নের মিশনে আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি যোগ দেন চলতি বছর। আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির লক্ষ্য সৌদি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন।

কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিস্ময়কর জয় পেয়েছে সৌদি আরব। এটি ছিল গ্রুপ সি-এর প্রথম ম্যাচ। একই সঙ্গে এটি ছিল মাঠের বাইরে একটি যুদ্ধের পটভূমি, যা আগামী বেশ কয়েক বছর ধরে চলবে।

সৌদি আরবের ভাবমূর্তি উন্নয়নের মিশনে আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি যোগ দেন চলতি বছর। আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির লক্ষ্য সৌদি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন।

তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস কোম্পানির মালিকানাধীন স্পোর্টস ওয়েবসাইট দ্য অ্যাথলেটিকের নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, রিয়াদের সঙ্গে মেসির গাঁটছড়া ২০৩০ সালে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হতে সৌদি আরবের প্রচেষ্টাকে শক্তি জোগাবে। আর সে ক্ষেত্রে বঞ্চিত হতে পারে তার নিজের দেশ আর্জেন্টিনা।

২০২৬ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। এরপর ২০৩০ সালের আয়োজক দেশ ঠিক করতে চলতি বছরের জুনেই বিডিং উন্মুক্ত হয়েছে। আয়োজক দেশের নাম চূড়ান্ত হবে ২০২৪ সালে ফিফার ৭৪তম কংগ্রেসে।

এখন পর্যন্ত স্পেন, পর্তুগাল ও ইউক্রেনের যৌথ উদ্যোগের বিডিং নিশ্চিত হয়েছে। এ বছরের শুরুতেই দেশ তিনটি এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়। তবে আরও দুটি প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়ার কথা।

এর একটি হলো দক্ষিণ আমেরিকান দেশ আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে ও চিলির যৌথ উদ্যোগ। অন্যটি সৌদি আরব, মিশর ও গ্রিসের। একাধিক দেশের যৌথ আয়োজক হিসেবে বিডে অংশগ্রহণের ফলে ২০২৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব ৪৮ দলের প্রতিযোগিতায় পরিণত হচ্ছে।

২০৩০ সালের জন্য দক্ষিণ আমেরিকান বিড খুব শক্ত প্রতিপক্ষ হবে বলে মনে করছেন এর কো-অর্ডিনেটর ফার্নান্দো মারিন। দ্য অ্যাথলেটিককে তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলটি অজস্র প্রতিভার জন্ম দিয়েছে, যারা সারা বিশ্বে সুপরিচিত। এ ছাড়া ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়। এর ১০০তম বার্ষিকীতে ২০৩০ সালে দক্ষিণ আমেরিকাই হবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।’

১৯৩০ সালে স্বাগতিক উরুগুয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট জিতেছিল।

দক্ষিণ আমেরিকার যৌথ বিডের বিষয়টি ২০১৭ সালে প্রথম জনসমক্ষে আসে, যখন বার্সেলোনার সতীর্থ উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি তাদের দেশের পক্ষে প্রচারে যুক্ত হন। দুই দেশের মধ্যে একটি ম্যাচের আগে সুয়ারেজ যে জার্সি পরেন তার সামনে ২০ এবং মেসির জার্সিতে ৩০ সংখ্যাটি লেখা ছিল।

পরের বছর ফার্নান্দো মারিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টার সঙ্গে মেসি যোগ দেবেন এবং সুয়ারেজ তো অবশ্যই। আমরা তাকে (মেসি) আমাদের লক্ষ্য সম্পর্কে জানিয়েছি এবং তিনি মনে করেন এটা সম্ভব। তিনি আমাদের সাহায্য করতে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি অবশ্যই আমাদের জন্য বিশ্বকাপের পতাকাবাহী হবেন।’

তবে গত মে মাসে ঘটনার নতুন বাঁক তৈরি হয়। বর্তমানে এই গ্রহের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে বিখ্যাত ফুটবলার সৌদি আরবের প্রচারের দায়িত্ব নিতে একটি আকর্ষণীয় চুক্তিতে সই করেন।

প্রথম কথাটি হলো, চুক্তিটি হয়েছে সৌদির পর্যটন-সংক্রান্ত প্রচারের জন্য, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের বিডের প্রসঙ্গ সেখানে নেই।

তবে সৌদি আরবের জাতীয় লক্ষ্যগুলো দেশটির ‘ভিশন ২০৩০’-এর সঙ্গে যুক্ত। সরকারি ভাষ্যগুলোতে একে ‘সৌদি আরবকে বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত করার একটি অনন্য রূপান্তরমূলক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের নীলনকশা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

তাই ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের বিড সৌদি আরবের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে প্রবলভাবে যুক্ত বলে মনে হয় এবং পর্যটনের প্রচার সেই লক্ষ্যটি অর্জনে অনেকভাবে সাহায্য করবে।

অন্য উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল- পিআইএফের মাধ্যমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব নিউকাসল ইউনাইটেডকে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত, সেই সঙ্গে এলআইভি গলফ ব্রেকওয়ে ট্যুরকে সহায়তাদান। এ ছাড়া ১০ বছরের জন্য ফর্মুলা ওয়ান রেসের পৃষ্ঠপোষকতা এবং ২০১৯ সালে অ্যান্টনি জশুয়া এবং অ্যান্ডি রুইজের হেভিওয়েট বক্সিং আয়োজনের জন্য ৬৫ কোটি ডলারের চুক্তি।

সৌদিতে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কানাডার রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন ডেনিস হোরাক। তিনি বলেন, ‘বিনোদন ও ক্রীড়ায় এই বিপুল অংশগ্রহণ সৌদির ভিশন ২০৩০-এর একটি বড় অংশ। এলআইভি গলফ (সৌদি আরবের অর্থায়নে) এবং এখন এগুলোর সঙ্গে মেসির মতো তারকাদের উচ্চমূল্যে যুক্ত করার মাধ্যমে তারা বিষয়টিকে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার এবং আরও বৈশ্বিক করার চেষ্টা করছে। বিশ্বব্যাপী সৌদির সুনাম বাড়াতে হবে এবং এসবের মাধ্যমে দেশটি নিজেদের নতুন ব্র্যান্ড তৈরির চেষ্টা করছে।’

মেসির চুক্তির মেয়াদ এবং শর্ত কোনো পক্ষই প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাজ্যের ডেইলি টেলিগ্রাফ আগে এক প্রতিবেদনে জানায়, ক্রিস্টিয়ানো রোনালডো সৌদি পর্যটনের প্রচারে কাজ করার জন্য প্রতিবছর ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই আলোচনায় যুক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘনিষ্ঠ সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে রাষ্ট্রদূতদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র দ্য অ্যাথলেটিককে বলেছে, মেসির সঙ্গে সৌদির চুক্তিটির আর্থিক মূল্য রোনালদোকে দেয়া প্রস্তাবের চেয়ে ৫ গুণ বেশি হতে পারে।

সৌদি এজেন্সিগুলোর তৎপরতার বিভিন্ন উদাহরণ পর্যালোচনা করলে বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। যেমন এলআইভি গলফ ট্যুরে টাইগার উডসকে ভেড়াতে ৭০-৮০ কোটি ডলারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, তবে তিনি সেটি প্রত্যাখ্যান করেন৷

মেসির প্রতিনিধিরা বলেছেন, গোপনীয়তার শর্তের কারণে তারা চুক্তির পরিসংখ্যানগত দিকগুলো প্রকাশ করতে পারবেন না। অন্যদিকে এ-সংক্রান্ত ই-মেইলের কোনো জবাব দেয়নি সৌদি সরকার।

মেসি গত মে মাসে লোহিত সাগরের তীরের রিসোর্ট শহর জেদ্দায় ভ্রমণের সময় প্রথমবার তাকে সৌদির পর্যটনদূত হিসেবে প্রচার করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেসিকে স্বাগত জানিয়ে সৌদি পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব এক টুইটে লেখেন, ‘সৌদি আরবে এটি তার প্রথম সফর নয় এবং এটি শেষও হবে না।’

পরে ইয়টে সূর্যাস্ত দেখার সময়কার নিজের একটি ছবি প্রকাশ করেন মেসি।

ইনস্টাগ্রামে ছবির শিরোনামে তিনি লেখেন, ‘লোহিত সাগরের বুকে #ভিজিটসৌদি’। ইনস্টাগ্রামে মেসির ফলোয়ারের সংখ্যা ৩৭ কোটি। পোস্টটিতে সৌদি পর্যটন কর্তৃপক্ষের সহায়ক সংস্থা ভিজিট সৌদির ‘পেইড পার্টনারশিপ’ লেবেল যুক্ত ছিল।

মেসি পরে সৌদির সহকারী পর্যটনমন্ত্রীর প্রিন্সেস হাইফা আল-সৌদের সঙ্গে পুরোনো জেদ্দা সফরে যোগ দেন।

প্রিন্সেস হাইফা পরে টুইটারে লেখেন, ‘এই শহরের অন্তর্নিহিত রূপ, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের প্রতি তার (মেসি) মুগ্ধতা দেখে আমি আনন্দিত।’

ভিজিট সৌদির ওয়েবসাইটে এখন মেসির একটি ল্যান্ডিং পেজ রয়েছে। এর শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘লিওনেল মেসি চান আপনি নিজের ভেতরের রোমাঞ্চ-সন্ধানী সত্তাকে উন্মোচন করুন এবং অকল্পনীয় দিকগুলো উদ্ঘাটন করুন।

‘আপনি নতুন বা পুরোনো কিছু আবিষ্কার করতে অথবা শুধু নিজের ভেতরে নতুন কিছু জাগানো- যে উদ্দেশ্যেই ভ্রমণ করুন না কেন, সৌদি প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনাকে সন্তুষ্টি জোগাবে। তাহলে আর কিসের জন্য অপেক্ষা করছেন? এখনই আপনার অ্যাডভেঞ্চারের পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলুন।’

সৌদি আরবের প্রচারে মেসির এই অবস্থান ২০৩০ সালে বিশ্বকাপ আয়োজনে তার নিজের দেশের প্রচেষ্টার সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে মেসির সাপোর্ট টিম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। একইভাবে পর্যটন প্রচারের চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি কতবার সৌদি সফরে যাবেন, সে বিষয়ে তথ্য দিতেও অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, তারা এমন একটি দেশের কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের চেক নেয়ার বিষয়ে মেসির প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজি হননি, যে দেশটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের মধ্যে আছে ভিন্নমতাবলম্বী ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যা, নারী অধিকারকর্মী ও এলজিবিটি গোষ্ঠী এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) শাসনের বিরুদ্ধাচরণকারীদের ওপর ক্র্যাকডাউন।

মানবাধিকার সংস্থা ইউনিসেফ গত বছর জানায়, প্রতিবেশী ইয়েমেনে সংঘাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জড়িয়ে পড়ার পর থেকে ১০ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে। মেসি ২০১০ সাল থেকে ইউনিসেফের একজন ‘শুভেচ্ছাদূত’।

মেসির প্রতিনিধিরা ইয়েমেন বিরোধের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি, একই সঙ্গে ইউনিসেফও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মেসির অগণিত অংশীদারত্বের মধ্যে একটি হলো ফরাসি চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের হয়ে খেলা, যেখানে তিনি ৩ কোটি ইউরোর বেশি আয় করেন। এটি কাতারের সঙ্গে যুক্ত একটি তহবিলের মালিকানাধীন ক্লাব, যে দেশটির বিরুদ্ধেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

মেসি সম্প্রতি ক্রিপ্টো ফ্যান টোকেন ফার্ম সোসিওস-এর প্রচারের জন্য ২ লাখ ডলারের চুক্তি করেছেন, পাশাপাশি তিনি এনএফটিভিত্তিক গেম সোরারেও একজন বিজ্ঞাপনী মুখ। এ ছাড়া তিনি আডিডাস, পেপসি, বাডওয়াইজার, ওরেডু, প্রো অ্যাভ্যুলিউশন সকার, লুই ভ্যুইতন, ইসরায়েলি কোম্পানি ওরক্যাম, দ্য দুবাই এক্সপো-২০২০, তার নিজস্ব শো সার্ক দ্যু সোলেইল এবং চীনা দুগ্ধ কোম্পানি মেংনিউ-এর সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তি করেছেন।

ফোর্বস ম্যাগাজিন গত মে মাসে যে অনুমান প্রকাশ করে সে অনুযায়ী, গত বছর মেসি ১২ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন।

সৌদি নাগরিক খালিদ আল-জাবরির বোন সারা এবং ভাই ওমর বর্তমানে দেশটির একটি কারাগারে বন্দি। খালিদ আল-জাবরির বাবা সৌদি আরবের একজন সাবেক শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

দ্য অ্যাথলেটিক-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে খালিদ অভিযোগ করেন, তার বাবা ড. সাদ আলজাবরির ওপর চাপ দেয়ার জন্য কারাবন্দি দুই ভাইবোনকে ‘দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে সৌদি সরকার।

খালিদ বলছেন, ‘সৌদি ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমান দেশকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করছেন এবং মেসির দূতের ভূমিকা এতে অবদান রাখছে।

‘মেডিক্যাল স্কুলে পড়ার সময় তাকে (মেসি) দেখতে আমরা একসঙ্গে জড়ো হতাম। তিনি বিশ্বে সুপরিচিত এটাই একমাত্র কারণ নয়, দেশের ভেতরেও সবাই তাকে ভালোবাসে। ফুটবলের ক্ষেত্রে তার অবস্থান ঈশ্বরের ঠিক পরেই। এই চুক্তির মাধ্যমে তারা (সৌদি সরকার) সেই কেন্দ্রবিন্দুটিতে আঘাত করেছে।’

মেসি ২০১২ সালে প্রথম সৌদি আরব সফর করেন।

তার ফ্লাইট অবতরণের পর ভক্তদের হুড়োহুড়ি লেগে যায়। নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কঠোর। ভিড়ের চাপ সামলাতে ব্যতিব্যস্ত সশস্ত্র রক্ষীদের একজনের বন্দুকের নল ঘটনাক্রমে মেসির মুখের দিকে ঘুরে গিয়েছিল।

তারপর থেকে সম্পর্কটি ক্রমশ উষ্ণ হয়েছে। এর পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন তুর্কি আল-শেখ নামের এক ব্যক্তি। তিনি সৌদি জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান। এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটানো।

বিশিষ্ট সৌদি রাজনীতিক ও স্প্যানিশ লা লিগা ফুটবল ক্লাব আলমেরিয়ার মালিক আল-শেখকে ২০২০ সালের মে মাসে অনলাইনে একটি শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান মেসি।

উপলক্ষটি ছিল সৌদি ফুটবল ক্লাব আল-নাসর এফসির সাবেক সভাপতি সৌদ আল-সুওয়াইলেমের বিপক্ষে একটি চ্যারিটি প্লেস্টেশন ফুটবল ম্যাচে আল-শেখের প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

সৌদি আরবের অভাবী মানুষের জন্য তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে ম্যাচটি আয়োজন করা হয়। সেখানে মেসি ছাড়াও ডিয়েগো ম্যারাডোনা, সাবেক ব্রাজিল তারকা কাফু, রবার্তো কার্লোস এবং রোনালদিনহো, ইতালীয় ডিফেন্ডার লিওনার্দো বোনুচ্চিও শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন। চার্লি শিনের মতো বিখ্যাত অভিনেতা এবং র‌্যাপার স্নুপ ডগও বার্তা দিয়েছিলেন।

সৌদি ভিন্নমতাবলম্বী খাশোগজিকে ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমেরিকান গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে ওই হত্যায় ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুমোদন ছিল।

খাশোগজির মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা একটি সাক্ষাৎকার পরে নিউজউইকে প্রকাশ হয়। সেখানে খাশোগজি বলেন, ‘তুর্কি আল-শেখ এবং সৌদ আল-কাহতানি ছাড়া মোহাম্মদ বিন সালমানের আর কোনো রাজনৈতিক উপদেষ্টা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরা গুণ্ডা প্রকৃতির। মানুষ তাদের ভয় পায়। তুর্কি আল-শেখ খেলাধুলার দায়িত্বে আছেন। গুজব রয়েছে খেলাধুলার পেছনে ব্যয় এবং তরুণদের এতে ব্যস্ত রাখতে তার হাতে কয়েক বিলিয়ন ডলার রয়েছে।’

মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্য মিডিয়া অপারেশন এবং প্রচারের দায়িত্ব সামলাতেন সৌদ আল-কাহতানি। আমেরিকান গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাকে খাশোগজি হত্যার চক্রান্তে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়। তবে সৌদি আদালত ২০১৯ সালে তাকে এই অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়।

আল-শেখ ছিলেন মোহাম্মদ বিন সালমানের সাবেক নিরাপত্তাকর্মী। ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে ধীরে ধীরে তার প্রচণ্ড বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার হাতে তুলে দেয়া হয় সৌদি স্পোর্টস কমিশন চালানোর দায়িত্ব।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদ বিন সালমান তার ক্ষমতা সংহত করতে সৌদি আরবের শত শত ধনী ব্যবসায়ীকে রিটজ-কার্লটন হোটেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিলেন। ওই সময়ে আল-শেখ অত্যন্ত তৎপর ভূমিকা পালন করেন। পরে ঘটনাটিকে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখানো হয়।

সৌদি স্পোর্টস কমিশন পরিচালনার সময় আল-শেখ ক্রীড়ায় অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহীদের জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হন। তিনি ২০১৯ সালে সৌদিতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচ আয়োজন করেন।

মেসিও প্রকাশ্যে ৪০তম জন্মদিনে আল-শেখকে শুভেচ্ছা জানান। এর আগে তিনি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের নিয়ে রিয়াদে তার বাড়িতে ঘুরতে যান।

জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আল-শেখ ২০২২ সালের রিয়াদ সিজনের (একটি বিনোদন উৎসব) বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডে মেসির ছবি ব্যবহার করেন। এসব বিলবোর্ড লন্ডন, দুবাই ও নিউকাসলে স্থাপন করা হয়।

পিএসজির জার্সিতেও রিয়াদ সিজনের প্রচার চালানোর একটি ভিডিওতেও দেখা যায় মেসিকে।

এটি বিশেষ এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। পিএসজির সঙ্গে যুক্ত দেশ কাতারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। আল-শেখ কাতারের উপর সৌদি অবরোধের কেন্দ্রীয় শক্তির অংশ ছিলেন। এমনকি টুইটারে তিনি বলেছিলেন, কাতার নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজন ইংল্যান্ড বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেয়া উচিত।

অবশ্য পিএসজির সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মেসির অন্য কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি করায় বাধা নেই। পাশাপাশি গত বছর থেকে সৌদি ও কাতারের সম্পর্কের শীতলতা কাটতে শুরু করেছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দিন রোববার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দুই পাশে বিন সালমান ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে বসতে দেখা গেছে।

মানবাধিকার কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে অটোয়ার বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় ২০১৮ সালে কানাডার রাষ্ট্রদূত হোরাক সৌদি আরব থেকে বহিষ্কৃত হন। তিনি তার মূল্যায়নে সৌদির নেতৃত্ব সম্পর্কে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দেন।

হোরাক বলেন, বিন সালমান সৌদির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে পশ্চিমা রাজনীতিকদের মনে আশার সঞ্চার ঘটিয়েছিলেন। তবে খাশোগজির হত্যা, নারী অধিকার কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গীকে তার শাসনের বিরুদ্ধে নিয়ে যায়।

আল-শেখ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি তার প্রভাবের কথা শুনেছি। তাকে নিশ্চিতভাবে রাজকীয় ব্যবস্থায় মোহাম্মদ বিন সালমানের অতি ঘনিষ্ঠদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

‘তিনি (আল-শেখ) অবশ্যই ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত এবং মেসিকে যুক্ত করার বিষয়টি বিন সালমান অবশ্যই পছন্দ করবেন। তার (মোহাম্মদ বিন সালমান) চোখে বিশ্বে সৌদি আরবের অবস্থান উপলব্ধির আরেকটি সুযোগ ঘটাবে এই বিষয়টি। তিনি বুঝবেন সৌদি বিচ্ছিন্ন কোনো মরুরাজ্য নয়।

‘আন্তর্জাতিকভাবে মেসির যে প্রোফাইল রয়েছে, সেটি সৌদিকে স্বাভাবিকতার একটি বৃহত্তর অনুভূতি দেবে। তাই আমি মনে করি এ বিষয়টি ২০৩০ সালে তাদের বিশ্বকাপ বিডের ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে।’

হোরাক বলেন, ‘খাশোগজি হত্যার কারণে মোহাম্মদ বিন সালমান ব্র্যান্ডটির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে সৌদি আরবের ব্র্যান্ডও কলঙ্কিত হয়েছে। এমন অবস্থায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিশ্বের সেলিব্রিটিদের কাছে যত বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ তৈরি করা যাবে এবং সে অনুযায়ী সৌদি আরবের ব্র্যান্ডটিকে আবারও ঝকঝকে করে তোলা সম্ভব হবে।’

সৌদি কারাগারে বন্দি দুই স্বজনের ভাই খালিদ আল-জাবরি বলেন, ‘মেসির মতো খেলোয়াড়দের একটি দলের অংশ হিসেবে সৌদিতে খেলতে যাওয়া নিয়ে আমার আপত্তি নেই। কারণ দেশের শাসকদের নৃশংসতার কারণ দেখিয়ে সৌদি ভক্তদের তাদের প্রিয় দলের খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। আমার সমস্যা হলো মেসি নিজেকে সৌদি স্পোর্টস ওয়াশিংয়ের হাতিয়ারে পরিণত করেছেন।

‘তিনি নিজেকে শয়তানের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।’

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ সি ম্যাচের আগে সোমবার সন্ধ্যায় দোহায় সংবাদ সম্মেলনে আসেন মেসি। মাঠে যে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন তাদের হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। আর প্রতিপক্ষ দেশটি ছিল তারা, যারা তাদের প্রচারে ব্যবহার করছে মেসির ছবি।

কাতারের টেলিভিশনে সম্প্রচার হচ্ছে সৌদি আরবে মেসির সফর নিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপন।

সেই সংবাদ সম্মেলনে মেসির আগমনকে ওহ, আহা ধ্বনি এবং ফোনের ক্যামেরায় ছবি তুলে স্বাগত জানানো হয়। তিনি বেরিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে কয়েকজন করতালি দিচ্ছিলেন।

ব্যস্ত ওই মিডিয়া সেশনে দ্য অ্যাথলেটিক কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ পায়নি। মেসি এক ডজনেরও বেশি প্রশ্ন নিয়েছিলেন, তবে তার একটিও সৌদি আরবকে নিয়ে প্রচার চালানো বিষয়ক চুক্তি সংক্রান্ত ছিল না। দক্ষিণ আমেরিকান বা আরব মিডিয়া থেকে এসব প্রশ্ন করা হয়েছিল।

চলমান বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে রোববার সন্ধ্যায় ইনফান্তিনোর পাশে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বসার দৃশ্য সৌদির সামনে আরও একবার আশা জাগিয়ে তুলেছে। এই জুটিকে গত সপ্তাহে জি টোয়েন্টি সম্মেলনে বালিতেও একসঙ্গে দেখা গেছে। এর আগেও তারা একসঙ্গে বক্সিং ম্যাচ দেখেছেন।

সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য মিশর ও গ্রিসের সঙ্গে যৌথভাবে সৌদি আরবের বিডকে ফিফা গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করবে বলে রিয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। সৌদিরা ২০৩০ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজক দেশ হতেও একটি বিড জমা দিয়েছে, এটিও ভিশন ২০৩০ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ।

বিশিষ্ট আর্জেন্টাইন ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কথোপকথনে মেসিকে ঘিরে সমালোচনায় অস্বস্তি মৃদু আকারে হলেও বোঝা যায়।

বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হতে আর্জেন্টিনার আগ্রহের বিপরীতে প্রতিপক্ষের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলে মেসি সাহায্য করছেন, এটি অদ্ভুত লাগছে কিনা- এমন প্রশ্নে তার সাবেক আন্তর্জাতিক সতীর্থ ম্যাক্সি রদ্রিগেজ বলেন, ‘সত্যি বলতে কি এটা ঠিক, তবে… আপনি জানেন না শেষ পর্যন্ত কী ঘটতে যাচ্ছে।

‘আপনি নিজ দেশে বিশ্বকাপ দেখতে চান, তবে এ জন্য অনেক কিছু করতে হবে। কারণ, বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়া সহজ নয়। টুর্নামেন্টের আয়োজক নির্বাচনের সময় কী ঘটছে আমরা দেখতে পাব। আর্জেন্টাইন হিসেবে আমরা আবারও আমাদের দেশে এই আয়োজন দেখতে চাই।’

দক্ষিণ আমেরিকার যৌথ বিডের কো-অর্ডিনেটর ফার্নান্দো মারিন বলেন, ‘মাঠে এবং মাঠের বাইরে মেসির এক অনন্য ক্ষমতা রয়েছে। তিনি একটি সুউচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছেন। মেসি নিজেই একটি ব্র্যান্ড এবং এটি খুব শক্তিশালী।

‘তিনি সমস্ত ফুটবলের জন্য একটি ব্র্যান্ড, কোনো দেশের নয়। তিনি ২০৩০ সালের জন্য দক্ষিণ আমেরিকান বিডের একটি মৌলিক অংশ হিসেবে থাকবেন।’

আরও পড়ুন:
এখনও ক্রীতদাস
পদ্মা সেতু নিয়েছে জমি, দিয়েছে অহংকার
কী ঘটেছিল জিয়ার মৃত্যুর পর
যে গ্রামে অপরাধ কম, কালেভদ্রে পুলিশ  
অ্যামাজন, গুগল ও অ্যাপলে নিউজবাংলা পডকাস্ট

মন্তব্য

p
উপরে