× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
BP is red hot in a volatile oil market
hear-news
player
google_news print-icon

অস্থির তেলের বাজারে বিপি ফুলে-ফেঁপে লাল

অস্থির-তেলের-বাজারে-বিপি-ফুলে-ফেঁপে-লাল
গত তিন মাসে বিপি ৭১০ কোটি পাউন্ড মুনাফা করেছে। ছবি:সংগৃহীত
কোভিড লকডাউনের পর ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাজার বিশ্লেষকরা আশা করছিলেন, এই তিন মাসে বিপি ৫৩০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত মুনাফা করতে পারে। মঙ্গলবার বিপি জানায়, গত তিন মাসে তারা ৭১০ কোটি পাউন্ড মুনাফা করেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ। সরবরাহ কমে যাওয়ায় জ্বালানির দাম আকাশে ঠেকেছে। এতে আসন্ন শীতে গ্যাস ও বিদ্যুতের জন্য চরম ভোগান্তির মুখে আছেন ইউরোপের নাগরিকরা। আর এসবের মধ্যেই বিপুল মুনাফার ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশভিত্তিক তেল জায়ান্ট-বিপি। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গত তিন মাসে তারা ৭১০ কোটি পাউন্ড মুনাফা করেছে।

কোভিড লকডাউনের পর ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাজার বিশ্লেষকরা আশা করছিলেন, এই তিন মাসে বিপি ৫৩০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত মুনাফা করতে পারে।

বিপি বলছে, ২০২১ সালের তুলনায় জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের মুনাফা ২৯০ কোটি পাউন্ড বেশি হয়েছে; যা দ্বিগুণেরও বেশি।

জ্বালানি এবং গ্যাস উৎপাদনকারী জায়ান্ট বিপি জানায়, চলতি বছর উইন্ডফলের অধীনে সরকারকে তারা ২২০ কোটি পাউন্ড ট্যাক্স দেবে। তবে তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় এবার মুনাফা কম হয়েছে।

বিপির মুনাফা কমে যাওয়ায় ব্রিটিশ জনগণের কিছু আসে যায় না। কারণ গত বছরের এই সময়ের চেয়ে তারা লিটারে ২০ সেন্ট বেশিতে গ্যাস ও পেট্রল কিনছে।

বিপির এমন ঘোষণার পর, কনজারভেটিভ সরকারকে একহাত নিয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি। তারা বলছে, ‘উপযুক্ত’ উইন্ডফল ট্যাক্স ধার্যে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিফলন এই পরিসংখ্যান।

তবে লেবারদের অভিযোগ মানতে রাজি নন বিপির প্রধান নির্বাহী বার্নার্ড লুনি। তিনি বলেন, ‘ত্রৈমাসিকের ফলাফল এটাই প্রমাণ করছে, পরিবর্তনের মধ্যেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

‘আমরা আজও বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী তেল এবং গ্যাস সরবরাহ করছি। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ত্বরান্বিত করতে বিনিয়োগও করছি।’

বিপি নিশ্চিত করছে যে তারা শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ বেশি মুনাফা দেবে। সেই সঙ্গে শেয়ার কেনার জন্য তারা ২২০ কোটি পাউন্ড খরচ করবে।

জ্বালানি জায়ান্ট আরও জানায়, চলতি বছর তারা ইউকে উইন্ডফল ট্যাক্স দেবে। উত্তর সাগরের তেল ও গ্যাস উৎপাদকদের জন্য মে মাসে জ্বালানির মুনাফা ধার্য উইন্ডফল ট্যাক্স চালু করে ব্রিটিশ সরকার।

শেয়ারহোল্ডারদের বিপি জানিয়েছে, ২০২২ সালে তারা উত্তর সাগরে ব্যবসার জন্য ২২০ কোটি পাউন্ড ট্যাক্স দেবে সরকারকে। যার মধ্যে ৬৯৫ মিলিয়ন পাউন্ড জ্বালানি মুনাফা ধার্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

অন্যদিকে বিপির প্রতিদ্বন্দ্বী শেল বলছে, গ্যাসের দাম বেশি থাকার কারণে তাদের সর্বশেষ ত্রৈমাসিকের সমন্বয়কৃত আয় দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে ৮২০ কোটি পাউন্ড হয়েছে।

জুনে অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের ব্যারেল ছিল ১১৪ ডলারের কাছাকাছি। তবে জুলাইয়ের শুরু থেকে অংকটা ১০০ ডলারের উপরে খুব কমই উঠেছে। মঙ্গলবার থেকে অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের জন্য গ্রাহককে গুনতে হবে প্রায় ৯৪ ডলার।

এদিকে তেল জায়ান্ট সৌদি আরামকো বলছে, তিন মাসে তারা ৪২৪ কোটি ডলার মুনাফা করেছে।

বিপির মুনাফা ঘোষণার পর নড়েচড়ে বসেছে পরিবেশবাদীরা। উইন্ডফল ট্যাক্স আরও বাড়াতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফ্রেন্ডস অফ দ্য আর্থ নামে একটি সংগঠন।

জ্বালানি প্রচারক সানা ইউসুফ বলেন, ‘অর্থনীতি ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানির খরচ বাড়ছে, জলবায়ু সংকট গভীর হচ্ছে। ঋষি সুনাককে অবশ্যই বেশি মুনাফার বিনিময়ে কাজ করতে হবে।

‘বিশাল এবং কার্যকর উইন্ডফল ট্যাক্স আরোপ করা এখন সময়ের দাবি।’

আইপিপিআর থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সেন্টার ফর ইকোনমিক জাস্টিস-এর প্রধান জর্জ ডিব বলেন, ‘বিপির মতো কোম্পানিগুলো প্রচুর মুনাফা করছে এবং শেয়ার বাইব্যাক স্কিমের মাধ্যমে মুনাফা সরাসরি ধনী শেয়ারহোল্ডারদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

‘ভোক্তাদের জন্য খরচ কমানো বা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ করার পরিবর্তে জীবাশ্ম জ্বালানি জায়ান্টগুলো শেয়ারহোল্ডারদেরকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’

ছায়া জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, ‘বিপির মুনাফা এটাই প্রমাণ করেছে যে সঠিক উইন্ডফল ট্যাক্স ধার্য করতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

‘ঋষি সুনাকের লজ্জায় মুখ লুকানো উচিত। ব্রিটিশ জনগণ যখন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে তখন তার সরকার উইন্ডফলের মুনাফা তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর পকেটে গুঁজে দিচ্ছেন।’

জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যত গড়ায় কাজ করা প্রতিষ্ঠান আপলিফ্টের পরিচালক টেসা খান। তিনি বলেন, ‘বিপির ক্রমবর্ধমান মুনাফা অন্য কোনো কারণে নয়, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গ্যাসের দাম বাড়ায় তারা মুনাফা করেছে। ’

‘বিপি নিশ্চয়ই ব্যাংকে গিয়ে হাসছে। তাদের মতো তেল ও গ্যাস জায়ান্টরা যখন এই ‘আজব’ মুনাফা করছে, তখন যুক্তরাজ্যের ৭০ লাখ পরিবার আসন্ন শীতে তীব্র জ্বালানি সংকটে রয়েছে।

‘সরকারকে অবশ্যই হাত গুটিয়ে বসে থাকা বন্ধ করতে হবে। পরিবারগুলোকে ঠান্ডা থেকে বাঁচতে এই অর্থের কিছু ফেরত দিতে হবে।’

ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় ইতোমধ্যে ভুগছে ব্রিটিশরা। বড় দিনের আগে এই দাম সর্বকালের উচ্চতায় পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার হয়ে বিপিএল খেলবেন আফ্রিদি, রিজওয়ান ও হাসান
আইকন মাশরাফির সিলেটে খেলবেন আমির ও থিসারা
৫৪ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি করবে সরকার
বিশ্ববাজারে ফের বাড়ছে তেলের দাম, ১০০ ডলার ছুঁইছুঁই
সাকিব-মাশরাফির নামে ফ্র্যাঞ্চাইজির আবেদন পায়নি বিপিএল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Project on modernization of three toll stations

তিন শুল্ক স্টেশন আধুনিকায়নে প্রকল্প

তিন শুল্ক স্টেশন আধুনিকায়নে প্রকল্প সোনা মসজিদ স্থল বন্দর। ছবি: সংগৃহীত
চাঁপাইনবাবগুঞ্জের সোনামসজিদ, সিলেটের তামাবিল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া শুল্ক স্টেশন আধুনিকায়নে ৩১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নিয়েছে এনবিআর।

রাজস্ব আদায়ের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ দেশের তিনটি শুল্ক স্টেশন আধুনিকায়নে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এগুলো হলো চাঁপাইনবাবগুঞ্জের সোনামসজিদ, সিলেটের তামাবিল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া।

শুল্ক স্টেশনগুলো আধুনিকায়নে ৩১৩ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ একটি প্রকল্প নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর, যা গত মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের আওতায় কাস্টমসের অবকাঠামো তৈরি ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন করা হবে।

এনবিআরের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, উল্লিখিত শুল্ক স্টেশনগুলো রাজস্ব আদায়ের দিক থকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুল্ক স্টেশনের অবকাঠামো খুবই দুর্বল। জনবলেরও ঘাটতি রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ শুল্ক স্টেশনের জন্য যা দরকার এসব শুল্ক স্টেশনে তা নেই। অথচ বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড দিন দিন বাড়ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব শুল্ক স্টেশন দিয়ে পণ্য আনা-নেয়া সহজ হবে। গতি বাড়বে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে। একইসঙ্গে বাড়বে রাজস্ব আদায়।

বর্তমানে এনবিআরের অধীনে সারাদেশে ৫০টি শুল্ক স্টেশন সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরই অবকাঠামো দুর্বল। এনবিআর সূত্র বলেছে, তিনটি শুল্ক স্টেশন আধুনিকায়নের পর অন্যগুলোতেও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় যেসব কাজ হবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- কাস্টম অফিস ও কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ, আধনিক ল্যাব তৈরি, কম্পিউটার ক্রয় ইত্যাদি।

বর্তমানে এসব শুল্ক স্টেশনে ম্যানুয়াল বা প্রচলিত প্রথায় পণ্যের শুল্কায়ন করা হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া আধুনিক হবে। এতে করে পণ্য দ্রুত খালাস হবে। সহজ হবে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য।

বর্তমানে সারা দেশে কাস্টমসের শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয় তার ৩০ ভাগ এই তিনটি স্টেশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এনবিআরের কর্মকর্তারা বলেন, আধুনিকায়নের কাজ শেষ হলে বাণিজ্যক কর্মকাণ্ড কমপক্ষে ২০ ভাগ বাড়বে।

ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয়সহ ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ৭টি রাজ্যে প্রবেশের অন্যতম দুয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া শুল্ক স্টেশন। ১৯৯৪ সালে চালু হওয়া এই স্থলবন্দর দিয়ে মাছ, পাথর, সিমেন্ট, ইট, বালি, শুটকি, প্লাস্টিক সামগ্রী, তুলাসহ প্রায় ৪২টি বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে তামাবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক স্টেশন হলেও এটি চলছে দুর্বল অবকাঠামো ও স্বল্প লোকবল দিয়ে।

কাস্টমস সূত্র বলেছে, এটিকে পূর্ণাঙ্গ শুল্ক স্টেশনে উন্নীত করা হলে রাজস্ব আদায় বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ হবে। গত অর্থবছরে তামাবিল শুল্ক স্টেশন থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ হয়। এই শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে পাথর ও কয়লা বেশি আসে।

এছাড়া সোনা মসজিদ স্থল বন্দর দিয়ে পাথর, চাল, পেঁয়াজ, শুটকি, ভুট্টাসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি করা হয়। এর মধ্যে বেশি আসে পাথর। এই শুল্ক স্টেশন থেকে মাসে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ হয়।

আরও পড়ুন:
সীমানা জটিলতায় থেমে আছে বিলোনিয়া স্থলবন্দরের উন্নয়ন

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Housing traders are seeing challenges in the new DAP

নতুন ড্যাপে চ্যালেঞ্জ দেখছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা

নতুন ড্যাপে চ্যালেঞ্জ দেখছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা রোববার এফবিসিসিআই কার্যালয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটি অন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিংয়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: নিউজবাংলা
উদ্যোক্তারা বলছেন, আগে প্রশস্ত রাস্তা না থাকলেও ৮ থেকে ১০ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা যেত। এখন সেখানে অনুমোদন পাওয়া যাবে চার থেকে পাঁচ তলার। এতে স্বল্প প্রস্থের রাস্তার পাশের জমির মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বৈষম্যের শিকার হবেন আবাসন ব্যবসায়ীরাও। ক্ষতির মুখে পড়বে আবাসন শিল্প।

পরিকল্পিত আবাসন ও উন্নত রাজধানী গড়তে নতুন বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপ অনুমোদন পেয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নতুন এই পরিকল্পনায় টেকসই নগরায়ণ-বান্ধব উদ্যোগ থাকলেও আবাসন শিল্পের জন্য বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে দাবি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (রিহ্যাব)।

রোববার এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত স্ট্যান্ডিং কমিটি অন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিংয়ের দ্বিতীয় সভায় আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা এমনটা জানিয়েছেন।

উদ্যোক্তারা জানান, নতুন ড্যাপে রাস্তার প্রশস্ততা অনুপাতে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আগে যেখানে প্রশস্ত রাস্তা না থাকলেও ৮ থেকে ১০ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা যেত, এখন সেখানে অনুমোদন পাওয়া যাবে চার থেকে পাঁচ তলার। এ কারণে স্বল্প প্রস্থের রাস্তার পাশের জমির মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বৈষম্যের শিকার হবেন আবাসন ব্যবসায়ীরাও। এমন অবস্থায় শিল্পটি ক্ষতির মুখে পড়বে বলে দাবি তাদের।

বৈঠকে জানানো হয়, আগে রাজধানীতে জমির নিবন্ধন ফি নির্ধারণ হতো মৌজার দর অনুযায়ী। নতুন ড্যাপে সেটিকে পরিবর্তন করে বাজার মূল্য অনুযায়ী নির্ধারণের বিধান করা হয়েছে। এটিকেও আবাসন শিল্পের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন উদ্যোক্তারা।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন জানান, আবাসন খাতের সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। নিজেদের ধারণা সমৃদ্ধ করতে আবাসন ব্যবসায়ীদের ড্যাপ বিষয়ে গভীর বিশ্লেষণের পরামর্শ দেন তিনি। অন্যদিকে টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিতে ড্যাপকে বাস্তবতার আলোকে সমন্বয় করতে রাজউকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে কমিটির ডিরেক্টর ইনচার্জ ও রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, ‘ড্যাপে বেশকিছু ভালো দিক রয়েছে। তবে আবাসন খাতের জন্য কিছু জটিলতাও থেকে গেছে। এসব বিষয়ে সমাধানে আসতে রাজউক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ অন্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে রিহ্যাব। ‘আমরা সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, সহযোগী হয়ে কাজ করতে চাই।’

বৈঠকে এফবিসিসিআই-এর সহ-সভাপতি আমিন হেলালী বলেন, ‘এই বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরা আমাদের কাজ। আবাসন শিল্পের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সমিতির সঙ্গে বসে সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে।’ একইসঙ্গে আবাসন খাতের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে রিহ্যাবের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নির্মাণসামগ্রীর উচ্চ মূল্যের কারণে এমনিতেই সংকটে রয়েছে আবাসন খাত। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন ড্যাপ নিয়ে শঙ্কা। এমন সংকট থেকে উত্তরণে নীতিনির্ধারক ও অংশীজনদের নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানান কমিটির চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী ভূঁইয়া মিলন।

তিনি বলেন, ‘আবাসন ব্যবসায়ীরা ড্যাপের বিরুদ্ধে নয়। তাদের আপত্তি কেবল টেকসই নগরায়ণ এবং আবাসন খাতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো নিয়ে।

এফবিসিসিআইর পরিচালক এম জি আর নাসির মজুমদার, শফিকুল ইসলাম ভরসা, বিজয় কুমার কেজরিওয়াল, হাফেজ হারুন, আবু মোতালেব, আক্কাস মাহমুদ, মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, কমিটির কো-চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন জিটু, মোহাম্মদ আলী দ্বীন, কামাল মাহমুদ, এ.এফ.এম ওবায়দুল্লাহসহ অন্য সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ড্যাপের সম্মিলিত বাস্তবায়নে জোর স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর
ড্যাপ চূড়ান্ত, কারও প্রতি অবিচার হলে সংশোধন
‘উঁচু ভবন করলে বাড়বে ডায়াবেটিস’
ড্যাপের অনুমোদন ডিসেম্বরে: মন্ত্রী তাজুল
ডিসেম্বরের মধ্যে ড্যাপ গেজেট: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The pace of remittances is not slowing down

কাটছে না রেমিট্যান্সের অশনি গতি

কাটছে না রেমিট্যান্সের অশনি গতি
অবৈধ হুন্ডি বেড়ে যাওয়ায় রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স কমছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর। এটা বন্ধ করতে না পারলে রিজার্ভের পরিমাণ আরও কমে যাবে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ বাড়াতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে গতি আনতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অবৈধ হুন্ডি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে; দেশের মঙ্গলের জন্য ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাতে প্রবাসীদের অনুরোধ করা হচ্ছে।

কিন্তু তাতে কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়ছে না অর্থনীতিরি গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মতো চলতি নভেম্বর মাসেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার চলতি মাসের ২৫ দিনের রেমিট্যান্সের তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, নভেম্বর মাসের প্রথম ২১ দিনে ১৩৪ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার (১.৩৫ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৫ কোটি ৩৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।

ডলারের বাজারের অস্থিরতার কারণে অবৈধ হুন্ডি বেড়ে যাওয়ায় রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স কমছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর। এটা বন্ধ করতে না পারলে রিজার্ভের পরিমাণ আরও কমে যাবে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে প্রতিদিন গড়ে ৭ কোটি ডলার করে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

চলতি মাসের বাকি ৪ দিনে এই হারে রেমিট্যান্স এলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মতো নভেম্বর মাসেও দেড় বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি রেমিট্যান্স আসবে। গত বছরের নভেম্বর মাসে ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। জুলাইয়ে এসেছিল ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার; যা ছিল আগের ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে বেশি ছিল ১২ শতাংশ। আগস্টে আসে ২ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। ওই দুই মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ছিল ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা ১৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এসেছিল। পরের মাস অক্টোবরে এসেছিল ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। এ মাসে ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ (১.৫২ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

গত বছরের অক্টোবরে ১৬৪ কোটি ৬৯ লাখ (১.৬৪ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল। আগের মাস সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৫৪ কোটি ডলার। এ হিসাবে গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে এই অক্টোবরে ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ রেমিট্যান্স কম এসেছে। আর সেপ্টেম্বরের চেয়ে কম এসেছে ১ শতাংশের মতো।

গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪৯ কোটি ৪৪ লাখ (১.৪৯ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। এর আট মাস পর সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স আসে অক্টোবরে।

কাটছে না রেমিট্যান্সের অশনি গতি

রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক কমায় রিজার্ভ নেমেছে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে। রোববার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের আগস্টে এই রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। এক বছর আগে ২৪ নভেম্বর রিজার্ভ ছিল ৪৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার।

তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাসের (জুলাই-অক্টোবর) হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবাহে এখনো প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এই চার মাসে ১১৯ কোটি ৮৩ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি।

গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও (জুলাই-আগস্ট) রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। তবে সেপ্টেম্বরে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অক্টোবর মাসে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ।

আর এই দুই সূচকে নেতিবাচক ধারার কারণেই আমদানি ব্যয় কমার পরও রিজার্ভ নেমেছে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে। ২০২০ সালের ৩০ জুনের পর যা সর্বনিম্ন। গত সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি খাতে ব্যয় হয়েছে ৬ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে বর্তমানের রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকিং চ্যানেলের বদলে অবৈধভাবে হুন্ডিতে অর্থ পাঠানোর কারণ, সেখানে ডলারের দর বেশি পাওয়া যায়। প্রতি ডলারের বিপরীতে তিন থেকে চার টাকার ব্যবধান অনেককেই এভাবে অর্থ পাঠানোতে আগ্রহী করছে।’

তিনি বলেন, খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলারের দর এখন ১১২ থেকে টাকা। ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে ১০৭ টাকা পাওয়া যায়। তার সঙ্গে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা যোগ হয়ে পাওয়া যায় ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। আর হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে, যার নামে পাঠান তিনি ১১৩ টাকা পর্যন্ত পাচ্ছেন।

সে কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন আহসান এইচ মনসুর। তার মূল্যায়ন, এ কারণেই ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কম আসছে।

দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসা আহসান মনসুর বলেন, ‘মূলত হুন্ডি বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সূচক কমছে। এটা বন্ধ করতে হবে। হুন্ডি কারবারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে কিন্তু রেমিট্যান্স বাড়বে না; রিজার্ভ আরও কমে যাবে।’

কাটছে না রেমিট্যান্সের অশনি গতি

হুন্ডি বন্ধে নানা পদক্ষেপ

অর্থ পাচার ও কালো টাকা না কমলে বৈধ পথে রেমিট্যান্সও বাড়বে না- বিভিন্ন মহলের এমন বার্তার পর হুন্ডি প্রতিরোধের নতুন কৌশলে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে গঠন করা হয় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সম্প্রতি হুন্ডির মাধ্যমে প্রেরিত রেমিট্যান্সের ২৩০ জন বেনিফিশিয়ারির হিসাবে সাময়িকভাবে উত্তোলন স্থগিত করে বিএফআইইউ। বলা হয়, ভবিষ্যতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাবে এমন প্রতিশ্রুতি দিলে হিসাবগুলো খুলে দেওয়া হবে।

বৈধ উপায়ে পাঠানো রেমিট্যান্সের বিপরীতে আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া, রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের সিআইপি সম্মাননা দেওয়া, রেমিট্যান্স বিতরণ প্রক্রিয়া সম্প্রসারণ ও সহজ করা, অনিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনিয়োগ ও গৃহায়ণ অর্থায়ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ফিনটেক পদ্ধতির আওতায় আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ড্রয়িং ব্যবস্থা স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করা ও রেমিট্যান্স পাঠাতে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর চার্জ ফি মওকুফ করা হয়েছে।

অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত কয়েক মাস ধরে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ নভেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশি ও তাদের প্রিয়জনদের জানানো যাচ্ছে যে, কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে (হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ পথে) প্রেরণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এতে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘আপনাদের অর্জিত মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ পথে না পাঠিয়ে বৈধ পথে বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে প্রেরণ করুন, দেশ গড়ায় মূল্যবান অবদান রাখুন এবং আপনার প্রিয়জনকে ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ রাখুন।’

অবৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষে প্রচলিত আইনে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রেমিট্যান্সের পর রপ্তানি আয়েও ধাক্কা
৮ মাসে সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স, ৩৪ বিলিয়নে নামছে রিজার্ভ
রেমিট্যান্স কমছেই, ২৭ দিনে এসেছে ১৩৬ কোটি ডলার
রেমিট্যান্সে ধীরগতি, ২০ দিনে এসেছে ১১০ কোটি ডলার
মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্সে বাড়তি ২ শতাংশ প্রণোদনা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Chittagong port stalled due to shipping strike

নৌযান ধর্মঘটে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর

নৌযান ধর্মঘটে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দর স্থবির হয়ে পড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বন্দরের কার্যক্রমে স্বাভাবিকভাবেই শ্রমিক ধর্মঘটের প্রথম পড়বে। তবে কনটেইনার জাহাজ বা কনটেইনার কার্গোতে কোনো সমস্যা নেই। আউটার অ্যাংকরেজ (বহির্নোঙর) থেকে পণ্য লোড-আনলোড বন্ধ আছে।’

সারা দেশে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দর স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্দরে জাহাজের পণ্য লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। অচলাবস্থার দেখা দিয়েছে বহির্নোঙরেও।

শনিবার রাত থেকে সারা দেশে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট শুরু হয়। রোববার সকাল থেকে বন্দরে লাইটারেজর জাহাজে লোড-আনলোড, সেইলিংসহ সব কার্যক্রম বন্ধ করে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন শ্রমিকরা।

বাংলাদেশ লাইটার শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি মোহাম্মদ নবী আলম বলেন, ‘নৌযান শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধ, শ্রমিকদের পরিচয়পত্র প্রদানসহ ১০ দফা দাবিতে এই ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। রাতে কিছু কিছু শ্রমিক কাজ করলেও সকাল থেকে পুরোপুরি ধর্মঘট চলছে।’

শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি হলো নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বুক দেয়াসহ সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, খাদ্য ভাতা ও সমুদ্র ভাতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন করা, দুর্ঘটনা ও কর্মস্থলে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা।

এ ছাড়াও রয়েছে চট্টগ্রাম থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে দেশের স্বার্থবিরোধী প্রকল্প বাস্তবায়নে চলমান কার্যক্রম বন্ধ করা, বালুবাহী বাল্কহেড ও ড্রেজারের রাত্রিকালীন চলাচলের ওপর ঢালাও নিষেধাজ্ঞা শিথিল, নৌ-পথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ করা।

দাবির মধ্যে আরও রয়েছে ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস দেয়াসহ ভারতীয় সীমানায় হয়রানি বন্ধ করা, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন নীতিমালা শতভাগ কার্যকর করে সব লাইটার জাহাজকে সিরিয়াল মোতাবেক চলাচলে বাধ্য করা, চরপাড়া ঘাটে ইজারা বাতিল ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা বন্ধ করা।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে নৌ-শ্রমিকদের এই ধর্মঘট চলবে বলে জানান তিনি।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বন্দরের কার্যক্রমে স্বাভাবিকভাবেই শ্রমিক ধর্মঘটের প্রথম পড়বে। তবে কনটেইনার জাহাজ বা কনটেইনার কার্গোতে কোনো সমস্যা নেই। আউটার অ্যাংকরেজ (বহির্নোঙর) থেকে পণ্য লোড-আনলোড বন্ধ আছে।’

এর আগে ১১ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান ও পতেঙ্গা থানার ওসিকে প্রত্যাহারসহ ৫ দফা দাবিতে বন্দর নগরীতে সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘট পালন করেন লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিকরা।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়ছে দেড়গুণ
চট্টগ্রাম-ইতালি সরাসরি পণ্যবাহী জাহাজ ফেব্রুয়ারিতে
এলসিএল কনটেইনার ডেলিভারিতে নানা সংকট
কনটেইনার ধারণক্ষমতা বাড়ল চট্টগ্রাম বন্দরের
পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের রেকর্ড

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
90 percent of the tax comes from Dhaka and Chittagong

করের ৯০ শতাংশই আসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে

করের ৯০ শতাংশই আসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে শনিবার গুলশান ক্লাবে ‘শতবর্ষে আয়কর আইন, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
‘ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে অনেক জেলা শহরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। ফলে কর আহরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ওই সব জেলার সামর্থ্যবানদের কর-জালে আনতে হবে। এ জন্য এনবিআরের সক্ষমতা ও জনবল বাড়াতে হবে।’

দেশে বছরে যে পরিমাণ আয়কর আদায় হয় তার ৯০ শতাংশই আসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে। অবশিষ্ট ১০ শতাংশ সংগৃহীত হয় অন্যান্য জেলা থেকে।

শনিবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ‘শতবর্ষের আয়কর আইন, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধে এ তথ্য জানিয়েছেন স্নেহাশীর্ষ বড়ুয়া এফসিএ।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ-আইবিএফবি এই সেমিনারের আয়োজন করে।

তথ্য অনুযায়ী, সংগৃহীত আয়করের ৭৪ শতাংশই আদায় হয় রাজধানী ঢাকা থেকে। আর ১৬ শতাংশ আসে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে। বাকি অংশ আহরণ হয় সারা দেশ থেকে।

স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে অনেক জেলা শহরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। ফলে কর আহরণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আওতা বাড়াতে হলে ওই সব জেলার সামর্থ্যবানদের কর-জালে আনতে হবে। এ জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সক্ষমতা ও জনবল বাড়াতে হবে।

গত অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে আয়কর, মূল্য সংযোজন কর-ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক মিলে মোট রাজস্ব আহরণ হয় ২ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে আয়করের অংশ ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ৯৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আদায় হয় ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে।

বর্তমানে আয়করের অংশ মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

স্নেহাশীষ বড়ুয়া মনে করেন, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে যেতে হলে করের পরিমাণ জিডিপির ৮ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। ফলে আগামী দিনে আয়কর আহরণ বৃদ্ধি হবে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ।

অনুষ্ঠানে এনবিআরের সাবেক সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, বর্তমানে ৮৬ উপজেলায় আয়কর অফিস আছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লেও জনবলের অভাবে তৃণমূল পর্যায়ে সামর্থ্যবানদের করনেটে আনা যাচ্ছে না। আওতা বাড়াতে হলে মাঠপর্যায়ে কর বিভাগের সম্প্রসারণ জরুরি।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, দেশে এখন পর্যন্ত টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। এর মধ্যে গত করবর্ষে আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে ২৫ লাখ। অর্থাৎ নিবন্ধিত করদাতার ৬৫ শতাংশই রিটার্ন জমা দেননি।

অনুষ্ঠানে আইবিএফবির সভাপতি হুমায়ন রশিদ জানান, প্রায় তিন কোটি জনসংখ্যার দেশ নেপালে আয়কর রিটার্ন জমা দেয় ২২ লাখ লোক। আর ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে জমা পড়ে ২৩ লাখ।

আয়কর আদায় ব্যবস্থা কেন্দ্রীভূত হওয়ার পেছনে প্রধানত দুটি কারণের কথা বলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মূলত ঢাকা ও চট্টগ্রামের ওপর নির্ভরশীল। দ্বিতীয়ত, কর আদায় বাড়ানোর জন্য এনবিআরের যে ধরনের কাঠামো বিস্তৃত করা দরকার সেভাবে করা হয়নি।

জ্যেষ্ঠ এই গবেষক আরও বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বাদ দিয়ে অন্যান্য জেলা শহরে কর আহরণের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলেও তা আদায় করতে পারছে না এনবিআর। সব জেলা শহরে বড় বড় ব্যবসায়ী আছেন, অনেক পেশাজীবী আছেন, যাদের আয় অনেক। এদের অনেকেই এখনও করনেটের বাইরে। শুধু তা-ই নয়, উপজেলা পর্যায়েও কর আহরণের সম্ভাবনা রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সামর্থ্যবানদের সবাইকে নেটে আনতে পারলে কর আদায়ের পরিমাণ আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন:
সম্ভাবনার প্রযুক্তি খাতে নানা সমস্যা, সমাধানের তাগিদ
বড় বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছে পদ্মা সেতু: প্যাট্রিক
বড় প্রকল্পে হংকংয়ের বিনিয়োগ চায় সরকার
‘প্রাসাদ বানালেন অথচ ভিতরে নড়বড়ে, লাভ নেই’
‘অর্থনীতিতে অবিচারের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Fire safety of the building is mandatory

ভবনের ফায়ার সেফটি বাধ্যতামূলক

ভবনের ফায়ার সেফটি বাধ্যতামূলক অষ্টম আন্তর্জাতিক ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো-২০২২-এর অনুষ্ঠান। ছবি: নিউজবাংলা
প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, দেশের কোম্পানিগুলো ফায়ার সেফটি ও কমপ্লায়েন্স মেনে চলায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা এগিয়ে আছি। বিশ্বের ১০টি গ্রিন কারখানার ৮টি এখন বাংলাদেশে। যার ফলে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে, উৎপাদন বেড়েছে এবং আমরা বেশি রপ্তানি করতে পারছি।

দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেছেন, ফায়ার সেফটি ছাড়া কোনো ভবন নির্মাণ করা হলে তা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হবে না। এখন থেকে যে ভবনগুলো হবে সেগুলোতে ফায়ার সেফটি থাকতেই হবে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) শুক্রবার রাতে ইলেকট্রনিকস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব) এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে অষ্টম আন্তর্জাতিক ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো-২০২২-এর ‘সেফটি এক্সিলেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘দেশের কোম্পানিগুলো ফায়ার সেফটি ও কমপ্লায়েন্স মেনে চলায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা এগিয়ে আছি। বিশ্বের ১০টি গ্রিন কারখানার ৮টি এখন বাংলাদেশে। যার ফলে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে, উৎপাদন বেড়েছে এবং আমরা বেশি রপ্তানি করতে পারছি।

‘এখন ফায়ার সেফটি পণ্য বেশির ভাগই আমদানি করা হচ্ছে। দেশে ১০০ ইকোনমিক জোন হচ্ছে, সেখানে ফায়ার সেফটি পণ্য উৎপাদন করা যেতে পারে। এ জন্য আগ্রহীদের ইকোনমিক জোনে প্লট পেতে সহযোগিতা করা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের ৩২টি উপজেলায় নতুন করে ফায়ার সার্ভিসের ডিপো স্থাপন করা হয়েছে। এটা দেশের বড় অর্জন। এখন দেশে ফায়ার সেফটি সনদ না থাকলে সেই ভবন ব্যবহারের অনুমতি দেবে না রাজউক বা সিটি করপোরেশন।

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইর সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী বলেন, ‘ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটির প্রয়োজনীয়তা বুঝে আমরা সেফটি কাউন্সিল গঠন করেছি। ইনডোর-আউটডোর প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।’

ফায়ার সেফটি পণ্যে আমদানি নির্ভরতা কমানোর দাবি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ইলেক্ট্রনিকস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব) অগ্নিনিরাপত্তা সঠিকভাবে বজায় রাখায় ৯টি কোম্পানিকে পুরস্কৃত করে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডু বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন ও বিস্ফোরণে নিহত ফায়ার ফাইটারদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ১৩টি ক্রেস্ট দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজাউল করিম, ইএসএসএবি সভাপতি জহির উদ্দিন বাবর, সিনিয়র সহসভাপতি নিয়াজ আলী চিশতি, মহাসচিব মাহমুদুর রশীদ, প্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
গাজীপুরে পোশাক কারখানার গুদামে আগুন
মানববন্ধনে তাজরীন ট্র্যাজেডিসহ শ্রমিক ‘হত্যাকাণ্ডের’ বিচার দাবি
চট্টগ্রামে বাটার শোরুমের আগুন নিয়ন্ত্রণে
চীনে কারখানায় আগুন, নিহত ৩৬
আগুনে দগ্ধ ছেলের মৃত্যু, বাবার মামলায় মা গ্রেপ্তার

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The new law does not allow money laundering

‘নতুন আইনে টাকা সাদা করার সুযোগ নয়’

‘নতুন আইনে টাকা সাদা করার সুযোগ নয়’ কালো টাকা সাদা করার সুযোগকে অনৈতিক মনে করেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, প্রচলিত আইনে কর্মকর্তাদের ‘ঐচ্ছিক ক্ষমতা’ অত্যধিক। সে কারণে কর ফাঁকি ও দুর্নীতির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ বিধান বাতিল করে নতুন আয়কর আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।

‘জাতীয় বাজেটে বার বার কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ দেয়া হয়েছে অনৈতিক। ক্রাইম বা অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয় অবৈধ হলেও আইন করে সেই আয়কেই বৈধতার সুযোগ দিয়েছে সরকার, যা অন্যায়।’

শনিবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত সেমিনারে বিশেষজ্ঞ বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন। একইসঙ্গে তারা নতুন আয়কর আইনে সুযোগটি না রাখার দাবি জানিয়েছেন।

‘শতবর্ষে আয়কর আইন, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অফ বাংলাদেশ-আইবিএফবি।

নতুন আয়কর আইনটি যাতে ব্যবসা-বান্ধব ও গতিশীল হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়ে সেমিনারে বক্তারা বলেন, প্রচলিত আইনে কর্মকর্তাদের ‘ঐচ্ছিক ক্ষমতা’ অত্যধিক। সে কারণে কর ফাঁকি ও দুর্নীতির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ বিধান বাতিল করে নতুন আয়কর আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।

একইসঙ্গে আয়কর আহরণ আরও বাড়াতে এসএমই খাতকে বেশি কর প্রণোদনা, করদাতাদের ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে পুনরায় ট্যাক্স ওমবুসমেন্ট বা কর ন্যায়পাল চালু, উৎসে করের হার কমানোর পরামর্শ দেন তারা।

সেমিনারে বক্তব্য দেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হাছান আরেফিন, সাবেক সচিব সোহেল আহমেদ চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ, এনবিআরের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য আলমগীর হোসেন, আইবিএফবির সহ-সভাপতি অর্থনীতিবিদ এম এ সিদ্দীক, এফবিসিসিআইর পরিচালক আব্দুল হক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্নেহাশীষ বড়ুয়া এফসিএ। সঞ্চালনা করেন আইবিএফবির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান।

মূলত বিদ্যমান আয়কর আইনটি ১৯২২ সালে প্রণীত, যা পরবর্তীতে কয়েক দফা সংশোধন হয়েছে। ওই আইনের পরিবর্তে নতুন আয়কর আইন করছে সরকার।

‘নতুন আইনে টাকা সাদা করার সুযোগ নয়’
শনিবার গুলশান ক্লাবে ‘শতবর্ষে আয়কর আইন, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

অনুষ্ঠানে সবার অংশগ্রহণে নতুন আয়কর আইনের খসড়া চূড়ান্ত করার পরামর্শ দেন হাছান আরেফিন।

করদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে পারস্পরিক আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ।

এনবিআরের সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘আইনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কর্মকর্তাদের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা। কর্মকর্তাকে বুঝতে হবে যে যিনি কর দেন তিনি কষ্ট করে আয় করেন। সুতরাং এমন আচরণ করা যাবে না যাতে করদাতা অসম্মানিত হন।’

করদাতাদের সুবিধার্থে পুনরায় কর ন্যায়পাল চালু ও কর বিভাগ সংস্কারের পরামর্শ দেন তিনি।

আলমগীর হোসেন মনে করেন, দেশে কর কম আদায়ের অন্যতম কারণ হচ্ছে সচেতনতার অভাব। তিনি বলেন, ‘করদাতাদের সুবিধার জন্যই স্বনির্ধারণী পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে করদাতাদের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে। বেসরকারি খাত ও করদাতাদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন আয়কর আইন করা হচ্ছে।’

এম এ সিদ্দীক বলেন, ‘ক্রিমিনাল বা অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয় অবৈধ হলেও সরকার এই আয়কে বৈধ করার সুযোগ দিয়েছে। আমরা আর কালো টাকা সাদা করার সুযোগ চাই না। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে প্রকারান্তরে দুর্নীতিবাজদের উৎসাহিত করছে সরকার।’

আইবিএফবির এই সহ-সভাপতি আরও বলেন, ‘এসএমই খাত হচ্ছে দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। অথচ বিদ্যমান করনীতি এই খাতের পরিপন্থী। তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাহলে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে কীভাবে? উদ্যোক্তারা কীভাবে উৎসাহিত হবেন?’

মূল প্রবন্ধে স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, দেশে টিআইএন বাড়লেও গড় কর আদায় কমছে। এতে করে গরিবের ওপর করের চাপ বাড়ছে। অর্থনীতির জন্য এটা কোনো ভালো লক্ষণ নয়।

‘এখন মোট রাজস্ব আয়ে আয়করের অবদান ৩২ শতাংশ। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে এটা ৬৫ শতাংশে উন্নীত করা। ২০২৬ সালের পর বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাবে। এরপর আমাদের অনেক সুযোগ-সুবিধাই থাকবে না। সুতরাং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে নিজস্ব সম্পদ তথা আয়কর আদায় বাড়াতেই হবে।’

করপোরেট কর হার পর পর তিন বছর কমানোর পরও দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের কার্যকর কর হার বেড়েছে। এর কারণ আমাদের দেশে উৎসে কর হার বেশি। তাই পর্যায়ক্রমে এটি কমানোর প্রস্তাব করেন তিনি।

আইবিএফবির সভাপতি হুমায়ন রশিদ বলেন, ‘নেপালের জনসংখ্যা ২ কোটি ৯০ লাখ। সে দেশে আয়কর রিটার্ন জমা দেয় ২২ লাখ মানুষ। আর আমাদের ১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশে রিটার্ন জমা দেয় ২৩ লাখ। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, বাংলাদেশে কর-সংস্কৃতি খুবই দুর্বল।

আরও পড়ুন:
বড় বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছে পদ্মা সেতু: প্যাট্রিক
বড় প্রকল্পে হংকংয়ের বিনিয়োগ চায় সরকার
‘প্রাসাদ বানালেন অথচ ভিতরে নড়বড়ে, লাভ নেই’
‘অর্থনীতিতে অবিচারের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে’
অর্থ বিল নিয়ে স্নেহাশীষ মাহমুদ অ্যান্ড কোংয়ের সেমিনার

মন্তব্য

p
উপরে