× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
41 killed in one day in Iran University campus rampage in Tehran
hear-news
player
google_news print-icon

ইরানে এক দিনেই নিহত ৪১, তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব

ইরানে-এক-দিনেই-নিহত-৪১-তেহরানে-বিশ্ববিদ্যালয়-ক্যাম্পাসে-তাণ্ডব
তেহরানের শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে রোববার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। ছবি: টুইটার
মাহসার মৃত্যুর পর এক দিনে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে গত শুক্রবার। অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটসের (আইএইচআর) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের জাহেদান শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ওই দিন ৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। ১৮ দিনের টানা বিক্ষোভে সব মিলিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা ১৩৩।

ইরানে চলমান বিক্ষোভে এক দিনেই ৪০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন। ফলে পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হলো ১৩৩ জন।

প্রতিবাদকারীদের দমনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ব্লকসহ ইন্টারনেটে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে এর পরও থামছে না বিক্ষোভ-সহিংসতা।

দেশটির সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদে যোগ দিয়েছেন। তাদের দমনে ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে রোববার শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি ও টিয়ার সেল ছুড়তে দেখা গেছে।

মাহসার মৃত্যুর পর এক দিনে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে গত শুক্রবার। অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটসের (আইএইচআর) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের জাহেদান শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ওই দিন ৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।

এ ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আইএইচআরের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম। তিনি বলেন, ‘ইরানে, বিশেষ করে জাহেদানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের সমান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এটিসহ ইরানের সম্প্রতি অন্য অপরাধগুলোর তদন্ত করা।’

ইরানে এক দিনেই নিহত ৪১, তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব
নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল ইরান

মাহসা আমিনির মুত্যুর পাশাপাশি চাবাহার শহরে পুলিশ কর্মকর্তার হাতে এক কিশোরী ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে জাহেদানে শুক্রবার জুমার নামাজের পর শুরু হয় বিক্ষোভ। এতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে বহু মানুষ হতাহত হন। বেলুচ অ্যাক্টিভিস্ট ক্যাম্পেইন সেদিন নিহত ৪১ জনের নাম প্রকাশ করে।

তবে সিস্তান-বেলুচিস্তানের গভর্নরের দাবি, জাহেদানে ১৯ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।

জাহেদানে বিক্ষোভের সময় সিস্তান-বেলুচিস্তানে ইসলামি বিপ্লবি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান আলী মুসাভিও গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় ইরানের অন্যান্য এলাকায় চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতায় অন্তত ৯২ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইএইচআর। সংস্থাটির হিসাবে ১৮ দিনের টানা বিক্ষোভে সব মিলিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা ১৩৩।

নিরাপত্তা বাহিনীকে শক্তি প্রয়োগের সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেয়া হলেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে।

ইরানে এক দিনেই নিহত ৪১, তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব
তেহরানের শরিফ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রোববার বিক্ষোভে হামলা চালায় নিরাপত্তা বাহিনী

রাজধানী তেহরানের শরিফ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রোববার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় নিরাপত্তা বাহিনী। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির মুখে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছেন। আরেক ভিডিওতে মোটরসাইকেল আরোহী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের একটি গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। ওই গাড়ির আরোহী তার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন।

নিরাপত্তা বাহিনী শিক্ষার্থীদের অবস্থানের পাশাপাশি ছাত্রাবাস লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট ও চরম লঙ্ঘন।

মাহসার মৃত্যুর পর শুরু হওয়া বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটির প্রায় সব শহরে ছড়িয়ে গেছে।

পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের ‘ইসরায়েলের সেনা’ হিসেবে অভিহিত করছে সরকার ও হিজাবপন্থিরা। এরই মধ্যে তারাও বিক্ষোভ করেছে এবং সেই বিক্ষোভ সরাসরি সম্প্রচার করা হয় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

হিজাব আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য চলতি বছরের ৫ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে ‘সঠিক নিয়মে’ পোশাকবিধি অনুসরণ না করা নারীদের সরকারি সব অফিস, ব্যাংক এবং গণপরিবহনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত জুলাইয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #no2hijab হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। দেশটির নারী অধিকারকর্মীরা ১২ জুলাই সরকারঘোষিত জাতীয় হিজাব ও সতীত্ব দিবসে প্রকাশ্যে তাদের বোরকা ও হিজাব সরানোর ভিডিও পোস্ট করেন।

আরও পড়ুন:
বিক্ষোভে ‘উসকানি’: ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্টের মেয়ে গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীন-ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ
ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
বিক্ষোভ দমনে সীমান্ত পেরিয়েও ইরানি হামলা, ৯ কুর্দি নিহত
মাস্কের স্টারলিংক ইরানে কেন কাজ করবে না?

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Argentinians have the upper hand in the knockout tiebreak

বিশ্বকাপের টাইব্রেকে পাল্লা ভারী আর্জেন্টিনার

বিশ্বকাপের টাইব্রেকে পাল্লা ভারী আর্জেন্টিনার ২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে টাইব্রেকে জয়ের পর আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস। ছবি: ইন্টেলিজেন্সার
পরিসংখ্যান বলছে, নকআউট ম্যাচগুলোতে টাইব্রেকে আর্জেন্টিনার জেতার রেকর্ডই বেশি। নকআউট পর্বে এ পর্যন্ত পাঁচবারের টাইব্রেকে চারবারই জিতেছে লা আলবিসেলেস্তেরা।

কাতার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা-অস্ট্রেলিয়া।

টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডে বেশ কয়েকটি ম্যাচ ড্র হলেও নকআউট পর্বে সে সুযোগ নেই। গোল সংখ্যা সমান হলে কিংবা নির্ধারিত সময়ে কোনো গোল না হলে টাইব্রেকারে হবে নিষ্পত্তি।

পরিসংখ্যান বলছে, নকআউট ম্যাচগুলোর টাইব্রেকে আর্জেন্টিনার জেতার রেকর্ডই বেশি।

নকআউট পর্বে এ পর্যন্ত পাঁচবারের টাইব্রেকে চারবারই জিতেছে দেশটি।

১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ইউগোস্লাভিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১২০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে ইউগোস্লাভিয়াকে ৩-২ গোলের ব্যবধানে হারায় মেসির পূর্বসূরীরা।

বিশ্বকাপের টাইব্রেকে পাল্লা ভারী আর্জেন্টিনার

ওই বিশ্বকাপেই সেমিফাইনাল ম্যাচ ইতালির সঙ্গে ১-১ ড্র হলে টাইব্রেকে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে জেতে আর্জেন্টিনা।

১৯৯৮ সালে আবারও দ্বিতীয় রাউন্ডে টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। এর আগে ২-২ গোলে তাদের নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয। টাইব্রেকারে হার্নান ক্রেসপো আর্জেন্টিনার হয়ে দ্বিতীয় কিকটি মিস করেন। ডেভিড ব্যাটি এবং পল ইনসের কিক ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন গোল কিপার কার্লোস রোয়া। এতে ওই টুর্নামেন্টে এগিয়ে যায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এ ম্যাচে ৪-৩ গোলে টাইব্রেকে জেতে লা আলবিসেলেস্তেরা।

আর্জেন্টিনা পরবর্তী টাইব্রেকের মুখোমুখি হয় ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে। কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে টাইব্রেকে ৪-২ গোলে হারে তারা। এটি ছিল আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসির প্রথম বিশ্বকাপ। জার্মান গোলকিপার ইয়েনস লেহমান রবার্তো আয়ালা এবং এস্তেবান কাম্বিয়াসোর কিক ঠেকিয়ে দেন। এতেই নিশ্চিত হয়ে যায় জার্মানির সেমিফাইনাল।

বিশ্বকাপের টাইব্রেকে পাল্লা ভারী আর্জেন্টিনার

আর্জেন্টিনা নকআউট পর্বে শেষ টাইব্রেকের মুখোমুখি হয় ২০১৪ সালে। ওই বছর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৪-২ গোলের ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টাইন গোলকিপার সার্জিও রোমেরো এ জয়ের নায়ক ছিলেন। তিনি রন ভ্লার এবং ওয়েসলি স্নাইডারের পেনাল্টি কিক ঠেকিয়ে দিলে ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের পতাকা হাতে মেসির ছবি কীভাবে?
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকাপ গ্রাফিতি
‘বিচ্ছকাপ আইসা পড়ছে’
বিশ্বকাপের ঢেউ আছড়ে পড়েছে দেশে
ডিআরইউ ফুটবলের শিরোপা জিতল চ্যানেল আই

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
If you get a legend at the end

অন্তিমক্ষণে পেলে!

অন্তিমক্ষণে পেলে! ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে। ছবি: সংগৃহীত
হৃদযন্ত্রের সমস্যা ও শরীর ফুলে যাওয়ায় ৮২ বছর বয়সী পেলেকে সাও পাওলোর অ্যালবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এমন একসময় এই কিংবদন্তি হাসপাতালে ভর্তি হলেন, যখন কাতারে বিশ্বকাপে লড়ছেন তার উত্তরসূরীরা।

শারীরিক অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হয়েছে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলের। কেমোথেরাপি কাজ করছে না তার শরীরে। ব্রাজিলের সংবাদপত্র ‘ফোলহা ডে সাও পাওলো’ এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পেলেকে রাখা হয়েছে ‘প্যালিয়াটিভ কেয়ার’-এ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, প্যালিয়াটিভ কেয়ার একটি বিশেষ ব্যবস্থা। মুমূর্ষু রোগীদের এই ব্যবস্থায় নেয়া হয়। যখন রোগীর শরীরে কোনও চিকিৎসা কাজ করে না, তখনই তাকে প্যালিয়াটিভ কেয়ারে রাখা হয়।

গত মঙ্গলবার হৃদযন্ত্রের সমস্যা ও শরীর ফুলে যাওয়ায় ৮২ বছর বয়সী পেলেকে সাও পাওলোর অ্যালবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এমন একসময় এই কিংবদন্তি হাসপাতালে ভর্তি হলেন, যখন কাতারে বিশ্বকাপে লড়ছেন তার উত্তরসূরীরা।

১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি অ্যাডসন অ্যারানটিস দো নাসিমেন্তো বিশ্বজুড়ে পরিচিত পেলে নামেই। তাকে বলা হয় সর্বকালের সেরা ফুটবলার।

কয়েক বছর ধরেই ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন পেলে। গত বছর তার কোলন টিউমারও ধরা পড়ে। শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হওয়ায় তাকে আর সেভাবে প্রকাশ্যে দেখা যায় না এখন।

একদিন আগেই পেলের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে ভক্তদের আশ্বস্ত করেছিলেন তার মেয়ে কেলি নাসিমেন্তো। গত শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘বাবার শরীর নিয়ে গণমাধ্যমে বেশ উদ্বেগ। তবে জরুরি বা ভয়ের কিছু নেই।’

এদিকে শনিবার ফোলহা ডে সাও পাওলো জানায়, পেলে অন্ত্রের ক্যান্সার মোকাবিলা করার জন্য কয়েক মাস ধরে কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। তবে এখন চিকিৎসা আর কাজ করছে না।

আরও পড়ুন:
শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে আবার নেপালের মুখোমুখি বাংলাদেশ
ভুটানকে ৮-০ গোলে হারাল বাংলাদেশের মেয়েরা
তারা খালি টাকা চায়: সালাউদ্দিন
অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ আছেন মান্ডা
পুরস্কার আর সংবর্ধনায় ভাসলেন সাফজয়ী পাহাড়ি কন্যারা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
For the first time Iran released the number of people killed in the movement

প্রথমবারের মতো আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ ইরানের

প্রথমবারের মতো আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ ইরানের ইরানে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। ছবি: সংগৃহীত
তেহরানের নিরাপত্তা সংস্থার বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সন্ত্রাসীদের মিডিয়া গ্রুপ দ্বারা পরিচালিত একটি হাইব্রিড যুদ্ধ মোকাবিলা করছে ইরান।’

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ইরানজুড়ে চলা বিক্ষোভে ২ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরান সরকার এই প্রথমবারের মতো আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করল।

শনিবার এক বিবৃতিতে ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষদ সংস্থার পক্ষ থেকে এই নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়। এতে বিক্ষোভকে দাঙ্গা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বিদেশি মদদপুষ্ট দলের দাঙ্গা এবং বিপ্লববিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ২ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিরপরাধ ব্যক্তিরা নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মারা গেছে।

তবে কীভাবে তারা নিহত হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি।

কয়েকদিন আগেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার আমির আলি হাজিজাদেহ জানান, ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে অস্থিরতায় তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

তবে বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই আন্দোলনে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

সঠিকভাবে হিজাব না করার অভিযোগে ইরানের নৈতিকতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যু হয় ১৬ সেপ্টেম্বর। এ ঘটনায় ক্রমান্বয়ে গোটা ইরানে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের মদদে এই অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তেহরানের নিরাপত্তা সংস্থার বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সন্ত্রাসীদের মিডিয়া গ্রুপ দ্বারা পরিচালিত একটি হাইব্রিড যুদ্ধ মোকাবিলা করছে ইরান।’

জাতিসংঘ ইরান সরকারকে বিক্ষোভকারীদের ওপর অসম শক্তি ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে ভোটের পর ইরানের আন্দোলন ইস্যুতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা তদন্তে সহায়তা করবে না।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Pakistans foreign minister called the defeat of 1971 a military failure

একাত্তরের পরাজয়কে ‘সামরিক ব্যর্থতা’ বললেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

একাত্তরের পরাজয়কে ‘সামরিক ব্যর্থতা’ বললেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি (বাঁয়ে); ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ভারতীয় জেনারেল জে এস অরোরার কাছে পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজীর আত্মসমর্পণ; পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রতিষ্ঠাতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর নাতি বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, ‘সেই বিপর্যস্ত সময়ে যখন জুলফিকার আলী ভুট্টো দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন গোটা জাতি মানসিকভাবে অনেক ভেঙে পড়েছিল, সব আশা হারিয়ে ফেলেছিল। সেই সব চ্যালেঞ্জ সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন জুলফিকার আলী ভুট্টো।’

১৯৭১ সালে গ্লানিকর পরাজয়ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ নামের নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হওয়াকে ‘সামরিক ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া পাকিস্তান ভেঙে যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক ব্যর্থতাকে দায়ী করার এক সপ্তাহ পর এমন মন্তব্য করেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রতিষ্ঠাতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর নাতি বিলাওয়াল ভুট্টো।

স্থানীয় সময় বুধবার করাচির নিশতার পার্কে পিপিপির ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে এই মন্তব্য করেন দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান বিলাওয়াল।

তিনি বলেন, ‘সেই বিপর্যস্ত সময়ে যখন জুলফিকার আলী ভুট্টো দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন গোটা জাতি মানসিকভাবে অনেক ভেঙে পড়েছিল, সব আশা হারিয়ে ফেলেছিল। সেই সব চ্যালেঞ্জ সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন জুলফিকার আলী ভুট্টো।’

বিলাওয়াল আরও বলেন, ‘তিনি (জুলফিকার আলী ভুট্টো) পাকিস্তান জাতিকে পুনর্গঠন করেছেন, জনগণের মধ্যে সাহস ফিরিয়ে এনেছিলেন। অবশেষে, আমাদের ৯০ হাজার সেনাকে দেশে ফিরিয়ে আনেন। ‘সামরিক ব্যর্থতার’ কারণে যে ৯০ হাজার সেনা সদস্য যুদ্ধবন্দি হয়েছিলেন তারা পরিবারের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হতে পেরেছিলেন। আর এসবই সম্ভব হয়েছিল রাজনীতিতে আশা ছড়িয়ে দিয়ে ঐক্য আর অন্তর্ভুক্তির সমন্বয়ে।’

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর কন্যা ও দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।

দেশটির অন্যতম সংবাদমাধ্যম ডনের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে দ্য হিন্দু।

অবসর নেয়ার ৬ দিন আগে দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান আলাদা হয়ে যাওয়ার জন্য তখনকার রাজনৈতিক নেতাদের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। সেই সঙ্গে তিনি সেই বিপর্যয়ে সেনাবাহিনীর ত্যাগ ও অবদানকে হেয় করারও তীব্র সমালোচনা করেন।

১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে নিহত সেনাদের আত্মত্যাগ স্মরণে গত ২৩ নভেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত প্রতিরক্ষা ও শহীদ দিবস অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় জেনারেল বাজওয়া এমন মন্তব্য করেন। সেই সময় সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের ‘গৃহযুদ্ধে’ সেনাবাহিনীর অবস্থান নিয়েও কথা বলেন।

জেনারেল বাজওয়া বলেন, ‘আমি কিছু তথ্য সংশোধন করতে চাই। প্রথমত, সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) ছিল ইসলামাবাদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা, সামরিক ব্যর্থতা নয়।

‘যুদ্ধরত সেনার সংখ্যা ৯২ হাজার ছিল না। যুদ্ধ করেছেন ৩৪ হাজার সেনা। বাকিরা ছিল বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের লোকজন। এই ৩৪ হাজার সেনা ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২ লাখ ৫০ হাজার সেনা সদস্য এবং মুক্তিবাহিনীর ২ লাখ যোদ্ধার মুখোমুখি হয়েছিল।

‘এই কঠিন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে আমাদের সেনাবাহিনী সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছে। ত্যাগ স্বীকার করেছে, যা ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল মানেকশ স্বীকার করেছিলেন।’

জাতি এখনও এই ত্যাগকে যথেষ্ট সম্মান জানাতে পারেনি দাবি করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান বাজওয়া বলেন, ‘এটা অবিচার। আজকের আয়োজনে বক্তব্য রাখার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমি এই শহীদদের অভিবাদন জানাই। এটা অব্যাহত থাকবে। তারা আমাদের নায়ক। তাদের নিয়ে জাতির গর্ব করা উচিত।’

ছয় বছর ধরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন জেনারেল বাজওয়া। ২৯ নভেম্বর অবসরে যান তিনি।

২০১৬ সালে তিন বছরের জন্য সেনাপ্রধান নিযুক্ত হন বাজওয়া। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে তার মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ে।

সেনাপ্রধান হিসেবে জনগণের উদ্দেশে নিজের শেষ ভাষণের একটি বড় অংশে ছিল রাজনৈতিক ইস্যু।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ভারতীয় জেনারেল জে এস অরোরার নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজী।

আরও পড়ুন:
রাজনৈতিক ব্যর্থতায় পাকিস্তান ভেঙেছে: সেনাপ্রধান বাজওয়া
রাজাপুর পাকহানাদার মুক্ত দিবস
‘সেনাপ্রধান নিয়োগের পর ইমরানকে দেখে নেব’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Rashid lives for hair

হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করে জীবন খোয়ালেন রশিদ

হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করে জীবন খোয়ালেন রশিদ প্রতীকী ছবি
যুগ যুগ ধরে নারীর সৌন্দর্য্য বিচার করা হয়েছে তার চেহারা দেখে। ক্রমবর্ধমান বস্তুবাদী ভারতীয় সমাজে পুরুষরাও এখন একই চাপ অনুভব করেন। সামাজিক অবস্থান হারানোর ভয়ে তারা নিজেদের তরুণ এবং প্রফুল্ল দেখাতে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন।

ভারতের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের নির্বাহী আতহার রশিদ চেয়েছিলেন তাকে যেন সুদর্শন দেখায়। কারণ শিগগিরই বিয়ে করবেন তিনি। তবে ৩০ বছরের রশিদ চুল প্রতিস্থাপনের (হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট) সিদ্ধান্ত আপাতদৃষ্টিতে মারাত্মক ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

যুগ যুগ ধরে নারীর সৌন্দর্য্য বিচার করা হয়েছে তার চেহারা দেখে। ক্রমবর্ধমান বস্তুবাদী ভারতীয় সমাজে পুরুষরাও এখন একই চাপ অনুভব করেন। সামাজিক অবস্থান হারানোর ভয়ে তারা নিজেদের তরুণ এবং প্রফুল্ল দেখাতে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন।

অকালে টাক পড়া পুরুষরা চুল প্রতিস্থাপনে ঝুঁকছেন। আয় মোটামুটি বেড়ে যাওয়ায় পুরুষরা নিজেদের চেহারা আরও আকর্ষনীয় করতে টাকা খরচ করতে দ্বিধা করেন না।

চুল প্রতিস্থাপন (হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট) দুর্বলভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি সেক্টর। কখনো কখনো ইউটিউব দেখে স্ব-প্রশিক্ষিত অপেশাদাররা এ কাজটি করে থাকেন; যার ফলাফল হতে পারে মারাত্মক।

রশিদ তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। একটি দারুণ জীবনের আকাঙ্ক্ষায় বিভোর ছিলেন তিনি। চাকরি করে নিজে বাড়ি কিনেছেন; দুই বোনকে বিয়েও দিয়েছেন রশিদ।

রশিদের মা আছিয়া বেগম বলেন, ‘সবকিছু ওর পরিকল্পনা অনুযায়ী হচ্ছিল। বিপত্তি বাধে গত বছর। দিল্লির একটি ক্লিনিকে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করার পর সে সেপসিস রোগে আক্রান্ত হয়। তার মাথা ফুলে ওঠে। ভয়ানক যন্ত্রণা ভোগ করেছিল আমার ছেলে।

‘আমার ছেলের খুব কষ্টের মৃত্যু হয়েছে। তার কিডনি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। এক সময় তার অন্যান্য অঙ্গগুলো অকার্যকর হতে শুরু করে।’

রশিদের ফুলে যাওয়া মুখ এবং তার মৃত্যুর আগে সারা শরীরে কালো ফুসকুড়ি দেখা দিয়েছিল। সেসব ছবি দেখিয়ে রশিদের পরিবার পুলিশে অভিযোগ করে। তার ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারকারী দুই ব্যক্তি সহচারজনকে গ্রেপ্তার করা করেছে পুলিশ। তারা এখন বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছে।

দিল্লির একটি পাড়ায় তার এক রুমের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে বসে রশিদের মা আছিয়া বেগম বলেন, ‘প্রতিদিনই ছেলের কথা মনে করে তিলে তিলে মরছি।

‘আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি। কিছু মানুষের এমন প্রতারণার কারণে যেন আর কারও বুক খালি না হয়।’

আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিকারী

একজন দক্ষ সার্জন যদি চুল প্রতিস্থাপন করেন তবে এটি হতে পারে জীবন-পরিবর্তনকারী। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

হরিশ আইয়ার একজন সমঅধিকার কর্মী। তিনি বলেন, ‘জীবনধারা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুরুষরা তাদের সাজসজ্জার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করেছে। তারুণ্য এবং প্রাণশক্তি প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা আসলে সব লিঙ্গের মধ্যেই থাকে।

‘আগে এটা কেবল নারীদের ওপর ছিল। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন নারীর পাশাপাশি পুরুষরাও সেই চাপ অনুভব করেন।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অলস জীবনযাপন, ধূমপান, অনুপযুক্ত খাদ্য এবং মানসিক চাপের ফলে চুল পড়ে যেতে পারে।

চুল প্রতিস্থাপনের পদ্ধতিতে মাথার পেছনের চুলের ঘন জায়গা থেকে ফলিকল নিয়ে তা মাথার যে অংশের চুল পড়ে গেছে সে অংশে লাগানো হয়। এটা অনেকটা চারাগাছ রোপনের মতো।

ডাক্তার মায়াঙ্ক সিং এক মাসে ১৫টি পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করেন। নয়া দিল্লিতে তার ক্লিনিক।

মায়াঙ্কের বেশিরভাগ রোগীর বয়স ২৫-৩৫ বছর। হয় তারা বিয়ে করতে কিংবা পেশাগত জীবনে আরও উন্নতি করতে চাইছেন।

ভারতের কোটি কোটি মানুষ যেখানে দিনে ২০০ টাকারও কম আয় করেন, সেখানে এই সার্জারির জন্য গুনতে হয় আনুমানিক চার লাখ ৪০ হাজার টাকা (৪ হাজার ৩০০ ডলার)। এ কারণে অলিগলিতে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন ক্লিনিকে অল্প টাকায় চুল প্রতিস্থাপনে আগ্রহী হয়ে থাকেন মানুষ।

ইউটিউব কর্মশালা

মায়াঙ্ক সিং অ্যাসোসিয়েশন অফ হেয়ার রিস্টোরেশন সার্জনস অফ ইন্ডিয়ার সেক্রেটারিও। তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষের কারণে এই সেক্টরটির বদনাম হচ্ছে।

‘অনেকের এই পৌরাণিক ধারণা আছে যে এটি খুবই নিরাপদ এবং অল্প সময়ের প্রক্রিয়া। অথচ অস্ত্রোপচারের সময়কাল বেশ দীর্ঘ। প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘন্টা লাগে।

‘এতে প্রচুর লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহার হয়; যা ধাপে ধাপে প্রয়োগ করা হয়। যদি কারও সে সম্পর্কে জ্ঞান না থাকে, তবে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।’

ভারতের চুল প্রতিস্থাপনের ক্লিনিকের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। গ্রাহক টানতে প্রায়ই তাদের নানা অফার বা ছাড় দিতে দেখা যায়। এ অবস্থা বিবেচনায় দেশটির ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন সেপ্টেম্বরে একটি সতর্কতা জারি করেছে৷

এতে বলা হয়, চুল প্রতিস্থাপনের মতো নান্দনিক প্রক্রিয়ার জন্য ওয়ার্কশপ বা ইউটিউব বা অনুরূপ প্ল্যাটফর্মে প্রশিক্ষণ পর্যাপ্ত নয়। কেবল প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের মাধ্যমে এসব করা উচিত।

প্লাস্টিক সার্জন মায়াঙ্ক সিং বলেন, ‘নির্দেশিকাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য ছিল।’

মায়াঙ্কের কাছে প্রতিস্থাপন করে নতুন চুল গজানোর তালিকা দীর্ঘ; যারা বছরের পর বছর ধরে টাকের কারণে সামাজিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলেছেন। তাদের একজন ডাক্তার লক্ষ্মী নারায়ণন।

২৯ বছরের নায়রায়ণ বলেন, ‘১৮ বছর বয়স থেকে আমার চুল ঝরতে শুরু করে। আমি নিজের ছবি তোলা বা এমনকি আয়নায় তাকাতেও ভয় পেতাম।

‘সে অবস্থা এখন আর নেই। এখন আমি মানুষের সঙ্গে আত্মবিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করতে পারি।’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Harry Meghan relationship trailer on Netflix

হ্যারি-মেগান সম্পর্কের ট্রেলার নেটফ্লিক্সে

হ্যারি-মেগান সম্পর্কের ট্রেলার নেটফ্লিক্সে নেটফ্লিক্স ডকুমেন্টারিতে সাসেক্সের ডিউক এবং ডাচেস। ছবি: সংগৃহীত
ডকুমেন্টারিতে হ্যারি-মেগান দম্পতির কিছু ব্যক্তিগত ছবি রয়েছে, এগুলো আগে কখনও প্রকাশ হয়নি। বলা হচ্ছে, এটি একটি বৈশ্বিক ঘটনা।’   

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য হ্যারি এবং তার স্ত্রী মেগানের নতুন ডকুমেন্টারি সিরিজের ট্রেলার প্রকাশ করেছে নেটফ্লিক্স। এক মিনিটের ট্রেলারে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সঙ্গে দম্পতির অপ্রকাশিত কিছু সাদা-কালো ছবি দেখা গেছে।

ট্রেলারে দম্পতিকে প্রশ্ন করা হয় কেন তারা এই ডকুমেন্টারি বানাতে চান? যার উত্তরে হ্যারি বলেন, ‘বন্ধ দরজার আড়ালে কি ঘটছে তা কেউ দেখে না।

‘পরিবারকে রক্ষা করার জন্য যা যা করা সম্ভব আমাকে তাই করতে হয়েছিল’... এ সময় পাশে থাকা মেগানকে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।

মেগানের একটি বক্তব্য দিয়ে ট্রেলারটি শেষ হয়।

মেগান বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টা এতোই গুরুত্বপূর্ণ, তখন আমাদের গল্পটা আমাদের কাছ থেকেই শোনা ভালো না?’

ট্রেলারে যে ছবিগুলো প্রকাশ হয়েছে সেগুলোর মধ্যে আছে, ২০২০ সালে কমনওয়েলথ ডে সার্ভিসে বড় ভাই উইলিয়াম ও ভাবী কেটের সঙ্গে হ্যারি-মেগান দম্পতির ছবি। রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে জনসম্মক্ষে তাদের সর্বশেষ উপস্থিতি ছিল সেদিন।

রান্নাঘরের টেবিলে বসা মেগানকে চুমো খাচ্ছেন হ্যারি...এমন আনন্দের মুহূর্তের ছবিও আছে ট্রেলারে। এ ছাড়া নবদম্পতি তাদের বিয়েতে নাচছে, একটি ফটোবুথে পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে এবং মেগানের বেবি বাম্পের ছবিও প্রকাশ হয়েছে ট্রেলারে।

এসবের পাশাপাশি তাদের কষ্টের মুহুর্তগুলোও স্থান পেয়েছে ট্রেলারে; যেখানে মেগানকে চোখের পানি মুছতে এবং মুখ ঢেকে বসে থাকতে দেখা যায়।

হ্যারি-মেগান সম্পর্কের ট্রেলার নেটফ্লিক্সে

হ্যারি অ্যান্ড মেগান শিরোনামের ডকুমেন্টারিটিকে একটি ‘গ্লোবাল ইভেন্ট’ বলে বর্ণনা করছে নেটফ্লিক্স। ‘শিগগিরই আসছে’ লেখা দিয়ে ট্রেলারটি শেষ হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ৮ ডিসেম্বর এটি মুক্তি পাবে।

নেটফ্লিক্স জানায়, বিয়ের পরপর হ্যারি-মেগানের গোপন দিনগুলো; রাজপরিবার থেকে তাদের দূরে সরে যাওয়া বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে ডকুমেন্টারিতে। এতে হ্যারি-মেগান দম্পতির বন্ধু, তাদের পরিবার এবং রাজকীয় ইতিহাসবিদদের বক্তব্যও রয়েছে।

নেটফ্লিক্স জানায়, সিরিজটিতে এক দম্পতির প্রেমের গল্পের চেয়েও বেশি কিছু রয়েছে। এখানে বিশ্ব এবং একে-অপরের সঙ্গে আমরা কেমন আচরণ করি, সেসবের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

এমি-জয়ী পরিচালক লিজ গারবাস এটি নির্মাণ করেছেন। দুইবার একাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি।

রাজতন্ত্র ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর নেটফ্লিক্স এবং স্পোটিফাই-এর সঙ্গে ‘লোভনীয়’ চুক্তিতে সই করেন হ্যারি-মেগান। বলা হচ্ছে, এই চুক্তির মূল্য ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Demonstrators cheer at Irans departure
কাতার বিশ্বকাপ

পরাজয়ে উল্লাস ইরানে, গুলিতে নিহত ১

পরাজয়ে উল্লাস ইরানে, গুলিতে নিহত ১
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ কয়েকটি শহরে মঙ্গলবার রাতে ইরানিদের রাস্তায় নেমে নাচতে এবং গাড়ির হর্ন বাজাতে দেখা গেছে। এর কিছু আগে, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ইরান। 

কাতারে যে ফুটবল দলটি বিশ্বকাপ খেলতে গেছে, অনেক ইরানির চোখে তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিনিধিত্ব করে। এ কারণে জাতীয় ফুটবল দলকে সমর্থন দিতে অস্বীকার করেছেন তারা। তবে ফুটবলারদের ওপর ‘অন্যায্য’ চাপ দেয়ার জন্য ইরানের অভ্যন্তরে এবং বাইরের শত্রু শক্তিকে দায়ী করছে ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়াগুলো।

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ কয়েকটি শহরে মঙ্গলবার রাতে ইরানিদের রাস্তায় নেমে নাচতে এবং গাড়ির হর্ন বাজাতে দেখা গেছে। এর কিছু আগে, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ইরান।

এদিকে হার উদযাপনের সময় উত্তর ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে একজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইরান হিউম্যান রাইটস বলছে, মঙ্গলবার রাতে ফুটবল দলের পরাজয় উদযাপনের জন্য কাস্পিয়ান সাগরের শহর বন্দর আনজালিতে নিজের গাড়ির হর্ন বাজাচ্ছিলেন ২৭ বছরের মেহরান সামাক। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী তার মাথায় গুলি করে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মেহরানের।

পরাজয়ে উল্লাস ইরানে, গুলিতে নিহত ১
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, প্রতিবাদের চিহ্ন হিসেবে গাড়ির হর্ন বাজানোর সময় নিরাপত্তা বাহিনী মেহরান সামাককে গুলি করে হত্যা করেছে

বিবিসি ফার্সি বুধবার সকালে সুনাকের দাফনের একটি ভিডিও পায়। এ সময় সেখানে উপস্থিত জনতাকে বলতে শোনা যায়- ‘তুমি নোংরা, তুমি অনৈতিক, আমি একজন স্বাধীন নারী’। ইরানের বিক্ষোভে প্রায়শই ব্যবহৃত একটি স্লোগান এটি।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ইরানের ফুটবলাররা জাতীয় সঙ্গীত গায়নি। ওই ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-২ ব্যবধানে হারে ইরান।

তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েলসের বিপক্ষে খেলায় তারা জাতীয় সংগীত গেয়েছিল। সে ম্যাচে ২-০ গোলে জেতে ইরান।

অনেক বিক্ষোভকারী এটাকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন। যদিও এমন খবর ছিল যে দলটি ইরানি কর্তৃপক্ষের তীব্র চাপের মধ্যে ছিল।

১০ সপ্তাহ আগে মাহসা আমিনির হেফাজতে মৃত্যুর পর ইরানে অস্থিরতা শুরু হয়। হিজাব ঠিকভাবে না করায় ২২ বছরের মাহসাকে তেহরানের নৈতিকতা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল।

ইরান সরকার চলমান বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ বলছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের মদদে দেশে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে কিছু মানুষ।

বিক্ষোভ দমাতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী শক্ত অবস্থান নিয়েছে। এতে ঘটছে হতাহত। মানবাধিকার কর্মীরা হিসাবে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ৬০ শিশুসহ কমপক্ষে ৪৫০ জন নিহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার আছেন ১৮ হাজারের বেশি মানুষ।

অনলাইনে মঙ্গলবার রাতে শেয়ার হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের উত্তর-পশ্চিমে মাহসা আমিনির নিজ শহর সাক্কেজে কয়েক ডজন লোক ইরানি ফুটবল দলের পরাজয় উদযাপন করছে। আতশবাজি পুড়িয়ে মাথার স্কার্ফ নেড়ে তাদের উল্লাস করতে দেখা যায়।

কুর্দি অঞ্চলের অন্যান্য কয়েকটি শহর থেকেও এমন ভিডিও পেয়েছে বিবিসি ফার্সি। এসব শহরে সম্প্রতি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল সানন্দাজে জনতাকে গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচতে দেখা গেছে। অন্যদিকে কেরমানশাহ এবং মারিভানে উদযাপনকারীদের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এটি চলামান বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান স্লোগান।

তেহরানে ইমাম সাদিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা একটি হলের বাইরে জড়ো হয়ে ‘অসম্মানজনক মৃত্যু’ বলে স্লোগান দেয়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ইরানের ম্যাচের সময় স্টেডিয়ামের ভেতরেও ভক্তদের এই স্লোগানটি দিতে দেখা গেছে।

বিক্ষোভকারীদের প্রচারমাধ্যম ১৫০০তাসভির একটি ভিডিও পোস্ট করেছে যেটিতে দেখা যায়, নিরাপত্তা বাহিনী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বেহবাহানে উদযাপনকারী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাচ্ছে; তেহরানের কাছে কাজভিনে এক নারীকে মারধর করছে।

মঙ্গলবারের ম্যাচের পর কাতারের আল থুমামা স্টেডিয়ামের বাইরে সরকারবিরোধী এবং সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষও হয়।

ড্যানিশ সাংবাদিক রাসমুস ট্যানথোল্ড্টের ভিডিও-তে ধরা পড়েছে সংঘর্ষের দৃশ্য। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন পুরুষ ইরানের পতাকা হাতে টি-শার্ট পরা একজনকে বি খোঁচাচ্ছে। ওই ব্যক্তির টি-শার্টে লেখা- ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’।

তখন তার সঙ্গে থাকা এক নারীকে বলতে শোনা যায়, তিনি হামলার শিকার হয়েছেন। নিরাপদে স্টেডিয়াম ছেড়ে যাওয়ার জন্য তিনি সাহায্য চাইছিলেন।

বিবিসি পার্সিয়ানের কাছে আসা আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের বাইরে এক পুরুষ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করছে নিরাপত্তা বাহিনী। বিক্ষোভকারীকে তখন চিৎকার করে বলতে শোনা যায়- ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় ফুটবল দলের প্রশংসা করেছে।

রক্ষণশীল ফারহিখতেগান পত্রিকাটি বলছে, ‘আমরা ইরানের জন্য গর্বিত। অন্যদিকে রেভল্যুশনারি গার্ডস-সংশ্লিষ্ট দৈনিক জাভান বলছে, দলটি ‘আসল খেলা জিতেছে: মানুষের হৃদয় এক করার খেলা।’

কেহান পত্রিকার সম্পাদককে নিয়োগ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি। ওই সম্পাদক বলেন, ‘দলটি সবচেয়ে অন্যায্য পরিস্থিতিতে টুর্নামেন্টে গিয়েছিল। তাদের ওপর দেশের পাশপাশি বিদেশে থেকেও চাপ ছিল।

পরাজয়ে উল্লাস ইরানে, গুলিতে নিহত ১
ক্রিস্টিয়ান পুলিসিকের একমাত্র গোলে ইরানকে হারায় যুক্তরাষ্ট্র

ম্যাচের আগে কট্টরপন্থী তাসনিম সংবাদ সংস্থা সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল। ওই প্রতিবেদনে অজ্ঞাত একটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে বলা হয়, ইরানি খেলোয়াড়রা ‘ভালো আচরণ’ না করলে তাদের পরিবারকে ‘কারাবাস ও নির্যাতন’ করবে বিপ্লবী গার্ড।

আরও পড়ুন:
ইরান ম্যাচের আগে ক্ষমা চাইলেন আমেরিকার কোচ
বিক্ষোভ নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত চায় না ইরান
যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপ থেকে বের করে দেয়ার আহ্বান ইরানের
খামেনির বিরুদ্ধে এবার তার ভাগনি সোচ্চার
হিজাবহীন নারীকে সেবা দিয়ে চাকরি গেল ব্যাংক কর্মকর্তার

মন্তব্য

p
উপরে