× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
The king made the Saudi prince the prime minister
hear-news
player
google_news print-icon

সৌদি যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রী করলেন বাদশাহ

সৌদি-যুবরাজকে-প্রধানমন্ত্রী-করলেন-বাদশাহ
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বাদশাহ সালমান বিন আবদুলাজিজ আল সৌদ। ছবি: সৌদি গেজেট
শাসনের মৌলিক আইনের ৫৬ অনুচ্ছেদের বিধান এবং মন্ত্রিপরিষদ আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোতে ছাড় দিয়ে যুবরাজ এমবিএসকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন বাদশাহ সালমান বিন আবদুলাজিজ আল সৌদ, তবে এমবিএস প্রধানমন্ত্রী হলেও মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বাদশাহ।

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বাদশাহ সালমান বিন আবদুলাজিজ আল সৌদ।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাজ ফরমানে এমবিএসের ওপর নতুন এ দায়িত্ব অর্পণ করেন তার ৮৬ বছর বয়সী বাবা।

ফরমানের বরাত দিয়ে সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এমবিএস প্রধানমন্ত্রী হলেও মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বাদশাহ।

এতে জানানো হয়, শাসনের মৌলিক আইনের ৫৬ অনুচ্ছেদের বিধান এবং মন্ত্রিপরিষদ আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোতে ছাড় দিয়ে যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছে।

আরেক ফরমানে যুবরাজের নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদে রদবদল আনেন বাদশাহ সালমান।

তিনি উপপ্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। নতুন শিক্ষামন্ত্রী নিযুক্ত করা হয় ইউসেফ বিন আবদুল্লাহ আল-বেনিয়ানকে। এ ছাড়া তালাল বিন আবদুল্লাহ আল-ওতাইবিকে সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন বাদশাহ।

মন্ত্রিপরিষদে রদবদলের পরও যারা পদ ধরে রাখতে পেরেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিমন্ত্রী প্রিন্স মনসুর বিন মিতেব, জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলাজিজ বিন সালমান, প্রতিমন্ত্রী প্রিন্স তুর্কি বিন মোহাম্মদ বিন ফাহদ, ক্রীড়ামন্ত্রী প্রিন্স আবদুলাজিজ বিন তুর্কি বিন ফয়সাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলাজিজ বিন সৌদ বিন নাইফ, ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রী প্রিন্স আবদুল্লাহ বিন বন্দর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহ, সংস্কৃতিমন্ত্রী প্রিন্স বদর বিন আবদুল্লাহ বিন ফারহান, প্রতিমন্ত্রী শেখ সালেহ বিন আবদুলাজিজ আল-শেখ।

এ ছাড়াও পদে বহাল আছেন ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুললতিফ আল-শেখ, আইনমন্ত্রী ড. ওয়ালিদ আল-সামানি, প্রতিমন্ত্রী ড. মুত্তালিব আল-নাফিসাহ, প্রতিমন্ত্রী ড. মুসায়েদ বিন মোহাম্মদ আল-আইবান, প্রতিমন্ত্রী ড. ইব্রাহিম আল-আসাফ, হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক আল-রাবিয়াহ, শুরা পরিষদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. ইসাম বিন সাদ বিন সাইদ, বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারপ্রাপ্ত গণমাধ্যমবিষয়ক মন্ত্রী ড. মাজেদ আল-কাসাবি।

আরও পড়ুন:
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাইসহ ৩ বাংলাদেশি নিহত
যেকোনো ভিসাতেই সৌদিতে ওমরাহ পালনের সুযোগ
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে সৌদির সঙ্গে চুক্তি প্রস্তাব অনুমোদন
৩ মাসের ভিসা পাবেন ওমরাহযাত্রীরা
সৌদির ৪৮ শতাংশ নাগরিক সপ্তাহে খেলাধুলা করেন ৩০ মিনিট

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
IS reported the death of the top leader

শীর্ষ নেতা নিহতের খবর জানাল আইএস

শীর্ষ নেতা নিহতের খবর জানাল আইএস পতাকা হাতে আইএস যোদ্ধারা। ছবি: এএফপি
আইএসের শীর্ষ নেতার মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি আবু ওমর আল-মুহাজের নামের মুখপাত্র। তিনি দলের নতুন নেতা হিসেবে আবু আল-হুসেইন আল-হুসেইনি আল-কুরাইশির নাম ঘোষণা করেন।

যুদ্ধে সংগঠনের শীর্ষ নেতা আবু হাসান আল-হাশিমি আল-কুরাশি নিহতের ঘোষণা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএস) বা আইএস।

সংগঠনটির এক মুখপাত্র বুধবার জানান, ইরাকের নাগরিক আল-কুরাশি যুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

শীর্ষ নেতার মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি আবু ওমর আল-মুহাজের নামের ওই মুখপাত্র। তিনি দলের নতুন নেতা হিসেবে আবু আল-হুসেইন আল-হুসেইনি আল-কুরাইশির নাম ঘোষণা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নিহত হন আবু হাসান আল-হাশিমি আল-কুরাশি।

আইএসের প্রধানকে হত্যা নিয়ে সেন্টকমের মুখপাত্র কর্নেল জো বুচিনো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সিরিয়ার দা’রা প্রদেশে ফ্রি সিরিয়ান আর্মি এ অভিযান চালায়। এ অঞ্চলের জন্য (সিরিয়া) আইএসআইএস হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। সেন্টকম ও মিত্রদের নজর আইএসআইএসের স্থায়ী পরাজয়ে।’

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে আইএসের প্রধান আবু ইব্রাহিম আল-কুরাশি নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন আবু হাসান আল-কুরাশি। আইএসের সদ্য নিহত এ নেতা সম্বন্ধে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

আল-কুরাশিকে ছদ্মনাম মনে করা হচ্ছে, যেটি গ্রহণ করেছেন আইএসের বিভিন্ন নেতা।

আরও পড়ুন:
বিএমএতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ
সেনাপ্রধানের সঙ্গে রয়েল কলেজ অফ ডিফেন্স স্টাডিজ প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
বিস্ফোরণে কাঁপল আফগানিস্তান, অন্তত ৩৯ মৃত্যু
নতুন নেতার নাম ঘোষণা করল আইএস
কুরায়শি নয়, ছবিটি বাগদাদির

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Messi is part of the Saudi billion dollar project

সৌদি বিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের অংশ মেসি

সৌদি বিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের অংশ মেসি ২০১২ সালে প্রথম সৌদি সফরে যান মেসি। ছবি: এএফপি
সৌদি আরবের ভাবমূর্তি উন্নয়নের মিশনে আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি যোগ দেন চলতি বছর। আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির লক্ষ্য সৌদি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন।

কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিস্ময়কর জয় পেয়েছে সৌদি আরব। এটি ছিল গ্রুপ সি-এর প্রথম ম্যাচ। একই সঙ্গে এটি ছিল মাঠের বাইরে একটি যুদ্ধের পটভূমি, যা আগামী বেশ কয়েক বছর ধরে চলবে।

সৌদি আরবের ভাবমূর্তি উন্নয়নের মিশনে আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি যোগ দেন চলতি বছর। আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির লক্ষ্য সৌদি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন।

তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস কোম্পানির মালিকানাধীন স্পোর্টস ওয়েবসাইট দ্য অ্যাথলেটিকের নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, রিয়াদের সঙ্গে মেসির গাঁটছড়া ২০৩০ সালে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হতে সৌদি আরবের প্রচেষ্টাকে শক্তি জোগাবে। আর সে ক্ষেত্রে বঞ্চিত হতে পারে তার নিজের দেশ আর্জেন্টিনা।

২০২৬ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। এরপর ২০৩০ সালের আয়োজক দেশ ঠিক করতে চলতি বছরের জুনেই বিডিং উন্মুক্ত হয়েছে। আয়োজক দেশের নাম চূড়ান্ত হবে ২০২৪ সালে ফিফার ৭৪তম কংগ্রেসে।

এখন পর্যন্ত স্পেন, পর্তুগাল ও ইউক্রেনের যৌথ উদ্যোগের বিডিং নিশ্চিত হয়েছে। এ বছরের শুরুতেই দেশ তিনটি এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়। তবে আরও দুটি প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়ার কথা।

এর একটি হলো দক্ষিণ আমেরিকান দেশ আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে ও চিলির যৌথ উদ্যোগ। অন্যটি সৌদি আরব, মিশর ও গ্রিসের। একাধিক দেশের যৌথ আয়োজক হিসেবে বিডে অংশগ্রহণের ফলে ২০২৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব ৪৮ দলের প্রতিযোগিতায় পরিণত হচ্ছে।

২০৩০ সালের জন্য দক্ষিণ আমেরিকান বিড খুব শক্ত প্রতিপক্ষ হবে বলে মনে করছেন এর কো-অর্ডিনেটর ফার্নান্দো মারিন। দ্য অ্যাথলেটিককে তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলটি অজস্র প্রতিভার জন্ম দিয়েছে, যারা সারা বিশ্বে সুপরিচিত। এ ছাড়া ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়। এর ১০০তম বার্ষিকীতে ২০৩০ সালে দক্ষিণ আমেরিকাই হবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।’

১৯৩০ সালে স্বাগতিক উরুগুয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট জিতেছিল।

দক্ষিণ আমেরিকার যৌথ বিডের বিষয়টি ২০১৭ সালে প্রথম জনসমক্ষে আসে, যখন বার্সেলোনার সতীর্থ উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি তাদের দেশের পক্ষে প্রচারে যুক্ত হন। দুই দেশের মধ্যে একটি ম্যাচের আগে সুয়ারেজ যে জার্সি পরেন তার সামনে ২০ এবং মেসির জার্সিতে ৩০ সংখ্যাটি লেখা ছিল।

পরের বছর ফার্নান্দো মারিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টার সঙ্গে মেসি যোগ দেবেন এবং সুয়ারেজ তো অবশ্যই। আমরা তাকে (মেসি) আমাদের লক্ষ্য সম্পর্কে জানিয়েছি এবং তিনি মনে করেন এটা সম্ভব। তিনি আমাদের সাহায্য করতে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি অবশ্যই আমাদের জন্য বিশ্বকাপের পতাকাবাহী হবেন।’

তবে গত মে মাসে ঘটনার নতুন বাঁক তৈরি হয়। বর্তমানে এই গ্রহের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে বিখ্যাত ফুটবলার সৌদি আরবের প্রচারের দায়িত্ব নিতে একটি আকর্ষণীয় চুক্তিতে সই করেন।

প্রথম কথাটি হলো, চুক্তিটি হয়েছে সৌদির পর্যটন-সংক্রান্ত প্রচারের জন্য, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের বিডের প্রসঙ্গ সেখানে নেই।

তবে সৌদি আরবের জাতীয় লক্ষ্যগুলো দেশটির ‘ভিশন ২০৩০’-এর সঙ্গে যুক্ত। সরকারি ভাষ্যগুলোতে একে ‘সৌদি আরবকে বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত করার একটি অনন্য রূপান্তরমূলক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের নীলনকশা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

তাই ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের বিড সৌদি আরবের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে প্রবলভাবে যুক্ত বলে মনে হয় এবং পর্যটনের প্রচার সেই লক্ষ্যটি অর্জনে অনেকভাবে সাহায্য করবে।

অন্য উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল- পিআইএফের মাধ্যমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব নিউকাসল ইউনাইটেডকে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত, সেই সঙ্গে এলআইভি গলফ ব্রেকওয়ে ট্যুরকে সহায়তাদান। এ ছাড়া ১০ বছরের জন্য ফর্মুলা ওয়ান রেসের পৃষ্ঠপোষকতা এবং ২০১৯ সালে অ্যান্টনি জশুয়া এবং অ্যান্ডি রুইজের হেভিওয়েট বক্সিং আয়োজনের জন্য ৬৫ কোটি ডলারের চুক্তি।

সৌদিতে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কানাডার রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন ডেনিস হোরাক। তিনি বলেন, ‘বিনোদন ও ক্রীড়ায় এই বিপুল অংশগ্রহণ সৌদির ভিশন ২০৩০-এর একটি বড় অংশ। এলআইভি গলফ (সৌদি আরবের অর্থায়নে) এবং এখন এগুলোর সঙ্গে মেসির মতো তারকাদের উচ্চমূল্যে যুক্ত করার মাধ্যমে তারা বিষয়টিকে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার এবং আরও বৈশ্বিক করার চেষ্টা করছে। বিশ্বব্যাপী সৌদির সুনাম বাড়াতে হবে এবং এসবের মাধ্যমে দেশটি নিজেদের নতুন ব্র্যান্ড তৈরির চেষ্টা করছে।’

মেসির চুক্তির মেয়াদ এবং শর্ত কোনো পক্ষই প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাজ্যের ডেইলি টেলিগ্রাফ আগে এক প্রতিবেদনে জানায়, ক্রিস্টিয়ানো রোনালডো সৌদি পর্যটনের প্রচারে কাজ করার জন্য প্রতিবছর ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই আলোচনায় যুক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘনিষ্ঠ সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে রাষ্ট্রদূতদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র দ্য অ্যাথলেটিককে বলেছে, মেসির সঙ্গে সৌদির চুক্তিটির আর্থিক মূল্য রোনালদোকে দেয়া প্রস্তাবের চেয়ে ৫ গুণ বেশি হতে পারে।

সৌদি এজেন্সিগুলোর তৎপরতার বিভিন্ন উদাহরণ পর্যালোচনা করলে বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। যেমন এলআইভি গলফ ট্যুরে টাইগার উডসকে ভেড়াতে ৭০-৮০ কোটি ডলারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, তবে তিনি সেটি প্রত্যাখ্যান করেন৷

মেসির প্রতিনিধিরা বলেছেন, গোপনীয়তার শর্তের কারণে তারা চুক্তির পরিসংখ্যানগত দিকগুলো প্রকাশ করতে পারবেন না। অন্যদিকে এ-সংক্রান্ত ই-মেইলের কোনো জবাব দেয়নি সৌদি সরকার।

মেসি গত মে মাসে লোহিত সাগরের তীরের রিসোর্ট শহর জেদ্দায় ভ্রমণের সময় প্রথমবার তাকে সৌদির পর্যটনদূত হিসেবে প্রচার করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেসিকে স্বাগত জানিয়ে সৌদি পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব এক টুইটে লেখেন, ‘সৌদি আরবে এটি তার প্রথম সফর নয় এবং এটি শেষও হবে না।’

পরে ইয়টে সূর্যাস্ত দেখার সময়কার নিজের একটি ছবি প্রকাশ করেন মেসি।

ইনস্টাগ্রামে ছবির শিরোনামে তিনি লেখেন, ‘লোহিত সাগরের বুকে #ভিজিটসৌদি’। ইনস্টাগ্রামে মেসির ফলোয়ারের সংখ্যা ৩৭ কোটি। পোস্টটিতে সৌদি পর্যটন কর্তৃপক্ষের সহায়ক সংস্থা ভিজিট সৌদির ‘পেইড পার্টনারশিপ’ লেবেল যুক্ত ছিল।

মেসি পরে সৌদির সহকারী পর্যটনমন্ত্রীর প্রিন্সেস হাইফা আল-সৌদের সঙ্গে পুরোনো জেদ্দা সফরে যোগ দেন।

প্রিন্সেস হাইফা পরে টুইটারে লেখেন, ‘এই শহরের অন্তর্নিহিত রূপ, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের প্রতি তার (মেসি) মুগ্ধতা দেখে আমি আনন্দিত।’

ভিজিট সৌদির ওয়েবসাইটে এখন মেসির একটি ল্যান্ডিং পেজ রয়েছে। এর শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘লিওনেল মেসি চান আপনি নিজের ভেতরের রোমাঞ্চ-সন্ধানী সত্তাকে উন্মোচন করুন এবং অকল্পনীয় দিকগুলো উদ্ঘাটন করুন।

‘আপনি নতুন বা পুরোনো কিছু আবিষ্কার করতে অথবা শুধু নিজের ভেতরে নতুন কিছু জাগানো- যে উদ্দেশ্যেই ভ্রমণ করুন না কেন, সৌদি প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনাকে সন্তুষ্টি জোগাবে। তাহলে আর কিসের জন্য অপেক্ষা করছেন? এখনই আপনার অ্যাডভেঞ্চারের পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলুন।’

সৌদি আরবের প্রচারে মেসির এই অবস্থান ২০৩০ সালে বিশ্বকাপ আয়োজনে তার নিজের দেশের প্রচেষ্টার সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে মেসির সাপোর্ট টিম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। একইভাবে পর্যটন প্রচারের চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি কতবার সৌদি সফরে যাবেন, সে বিষয়ে তথ্য দিতেও অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, তারা এমন একটি দেশের কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের চেক নেয়ার বিষয়ে মেসির প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজি হননি, যে দেশটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের মধ্যে আছে ভিন্নমতাবলম্বী ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যা, নারী অধিকারকর্মী ও এলজিবিটি গোষ্ঠী এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) শাসনের বিরুদ্ধাচরণকারীদের ওপর ক্র্যাকডাউন।

মানবাধিকার সংস্থা ইউনিসেফ গত বছর জানায়, প্রতিবেশী ইয়েমেনে সংঘাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জড়িয়ে পড়ার পর থেকে ১০ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে। মেসি ২০১০ সাল থেকে ইউনিসেফের একজন ‘শুভেচ্ছাদূত’।

মেসির প্রতিনিধিরা ইয়েমেন বিরোধের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি, একই সঙ্গে ইউনিসেফও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মেসির অগণিত অংশীদারত্বের মধ্যে একটি হলো ফরাসি চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের হয়ে খেলা, যেখানে তিনি ৩ কোটি ইউরোর বেশি আয় করেন। এটি কাতারের সঙ্গে যুক্ত একটি তহবিলের মালিকানাধীন ক্লাব, যে দেশটির বিরুদ্ধেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

মেসি সম্প্রতি ক্রিপ্টো ফ্যান টোকেন ফার্ম সোসিওস-এর প্রচারের জন্য ২ লাখ ডলারের চুক্তি করেছেন, পাশাপাশি তিনি এনএফটিভিত্তিক গেম সোরারেও একজন বিজ্ঞাপনী মুখ। এ ছাড়া তিনি আডিডাস, পেপসি, বাডওয়াইজার, ওরেডু, প্রো অ্যাভ্যুলিউশন সকার, লুই ভ্যুইতন, ইসরায়েলি কোম্পানি ওরক্যাম, দ্য দুবাই এক্সপো-২০২০, তার নিজস্ব শো সার্ক দ্যু সোলেইল এবং চীনা দুগ্ধ কোম্পানি মেংনিউ-এর সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তি করেছেন।

ফোর্বস ম্যাগাজিন গত মে মাসে যে অনুমান প্রকাশ করে সে অনুযায়ী, গত বছর মেসি ১২ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন।

সৌদি নাগরিক খালিদ আল-জাবরির বোন সারা এবং ভাই ওমর বর্তমানে দেশটির একটি কারাগারে বন্দি। খালিদ আল-জাবরির বাবা সৌদি আরবের একজন সাবেক শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

দ্য অ্যাথলেটিক-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে খালিদ অভিযোগ করেন, তার বাবা ড. সাদ আলজাবরির ওপর চাপ দেয়ার জন্য কারাবন্দি দুই ভাইবোনকে ‘দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে সৌদি সরকার।

খালিদ বলছেন, ‘সৌদি ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমান দেশকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করছেন এবং মেসির দূতের ভূমিকা এতে অবদান রাখছে।

‘মেডিক্যাল স্কুলে পড়ার সময় তাকে (মেসি) দেখতে আমরা একসঙ্গে জড়ো হতাম। তিনি বিশ্বে সুপরিচিত এটাই একমাত্র কারণ নয়, দেশের ভেতরেও সবাই তাকে ভালোবাসে। ফুটবলের ক্ষেত্রে তার অবস্থান ঈশ্বরের ঠিক পরেই। এই চুক্তির মাধ্যমে তারা (সৌদি সরকার) সেই কেন্দ্রবিন্দুটিতে আঘাত করেছে।’

মেসি ২০১২ সালে প্রথম সৌদি আরব সফর করেন।

তার ফ্লাইট অবতরণের পর ভক্তদের হুড়োহুড়ি লেগে যায়। নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কঠোর। ভিড়ের চাপ সামলাতে ব্যতিব্যস্ত সশস্ত্র রক্ষীদের একজনের বন্দুকের নল ঘটনাক্রমে মেসির মুখের দিকে ঘুরে গিয়েছিল।

তারপর থেকে সম্পর্কটি ক্রমশ উষ্ণ হয়েছে। এর পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন তুর্কি আল-শেখ নামের এক ব্যক্তি। তিনি সৌদি জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান। এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটানো।

বিশিষ্ট সৌদি রাজনীতিক ও স্প্যানিশ লা লিগা ফুটবল ক্লাব আলমেরিয়ার মালিক আল-শেখকে ২০২০ সালের মে মাসে অনলাইনে একটি শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান মেসি।

উপলক্ষটি ছিল সৌদি ফুটবল ক্লাব আল-নাসর এফসির সাবেক সভাপতি সৌদ আল-সুওয়াইলেমের বিপক্ষে একটি চ্যারিটি প্লেস্টেশন ফুটবল ম্যাচে আল-শেখের প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

সৌদি আরবের অভাবী মানুষের জন্য তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে ম্যাচটি আয়োজন করা হয়। সেখানে মেসি ছাড়াও ডিয়েগো ম্যারাডোনা, সাবেক ব্রাজিল তারকা কাফু, রবার্তো কার্লোস এবং রোনালদিনহো, ইতালীয় ডিফেন্ডার লিওনার্দো বোনুচ্চিও শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন। চার্লি শিনের মতো বিখ্যাত অভিনেতা এবং র‌্যাপার স্নুপ ডগও বার্তা দিয়েছিলেন।

সৌদি ভিন্নমতাবলম্বী খাশোগজিকে ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমেরিকান গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে ওই হত্যায় ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুমোদন ছিল।

খাশোগজির মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা একটি সাক্ষাৎকার পরে নিউজউইকে প্রকাশ হয়। সেখানে খাশোগজি বলেন, ‘তুর্কি আল-শেখ এবং সৌদ আল-কাহতানি ছাড়া মোহাম্মদ বিন সালমানের আর কোনো রাজনৈতিক উপদেষ্টা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরা গুণ্ডা প্রকৃতির। মানুষ তাদের ভয় পায়। তুর্কি আল-শেখ খেলাধুলার দায়িত্বে আছেন। গুজব রয়েছে খেলাধুলার পেছনে ব্যয় এবং তরুণদের এতে ব্যস্ত রাখতে তার হাতে কয়েক বিলিয়ন ডলার রয়েছে।’

মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্য মিডিয়া অপারেশন এবং প্রচারের দায়িত্ব সামলাতেন সৌদ আল-কাহতানি। আমেরিকান গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাকে খাশোগজি হত্যার চক্রান্তে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়। তবে সৌদি আদালত ২০১৯ সালে তাকে এই অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়।

আল-শেখ ছিলেন মোহাম্মদ বিন সালমানের সাবেক নিরাপত্তাকর্মী। ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে ধীরে ধীরে তার প্রচণ্ড বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার হাতে তুলে দেয়া হয় সৌদি স্পোর্টস কমিশন চালানোর দায়িত্ব।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদ বিন সালমান তার ক্ষমতা সংহত করতে সৌদি আরবের শত শত ধনী ব্যবসায়ীকে রিটজ-কার্লটন হোটেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিলেন। ওই সময়ে আল-শেখ অত্যন্ত তৎপর ভূমিকা পালন করেন। পরে ঘটনাটিকে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখানো হয়।

সৌদি স্পোর্টস কমিশন পরিচালনার সময় আল-শেখ ক্রীড়ায় অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহীদের জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হন। তিনি ২০১৯ সালে সৌদিতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচ আয়োজন করেন।

মেসিও প্রকাশ্যে ৪০তম জন্মদিনে আল-শেখকে শুভেচ্ছা জানান। এর আগে তিনি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের নিয়ে রিয়াদে তার বাড়িতে ঘুরতে যান।

জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আল-শেখ ২০২২ সালের রিয়াদ সিজনের (একটি বিনোদন উৎসব) বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডে মেসির ছবি ব্যবহার করেন। এসব বিলবোর্ড লন্ডন, দুবাই ও নিউকাসলে স্থাপন করা হয়।

পিএসজির জার্সিতেও রিয়াদ সিজনের প্রচার চালানোর একটি ভিডিওতেও দেখা যায় মেসিকে।

এটি বিশেষ এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। পিএসজির সঙ্গে যুক্ত দেশ কাতারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। আল-শেখ কাতারের উপর সৌদি অবরোধের কেন্দ্রীয় শক্তির অংশ ছিলেন। এমনকি টুইটারে তিনি বলেছিলেন, কাতার নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজন ইংল্যান্ড বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেয়া উচিত।

অবশ্য পিএসজির সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মেসির অন্য কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি করায় বাধা নেই। পাশাপাশি গত বছর থেকে সৌদি ও কাতারের সম্পর্কের শীতলতা কাটতে শুরু করেছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দিন রোববার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দুই পাশে বিন সালমান ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে বসতে দেখা গেছে।

মানবাধিকার কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে অটোয়ার বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় ২০১৮ সালে কানাডার রাষ্ট্রদূত হোরাক সৌদি আরব থেকে বহিষ্কৃত হন। তিনি তার মূল্যায়নে সৌদির নেতৃত্ব সম্পর্কে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দেন।

হোরাক বলেন, বিন সালমান সৌদির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে পশ্চিমা রাজনীতিকদের মনে আশার সঞ্চার ঘটিয়েছিলেন। তবে খাশোগজির হত্যা, নারী অধিকার কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গীকে তার শাসনের বিরুদ্ধে নিয়ে যায়।

আল-শেখ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি তার প্রভাবের কথা শুনেছি। তাকে নিশ্চিতভাবে রাজকীয় ব্যবস্থায় মোহাম্মদ বিন সালমানের অতি ঘনিষ্ঠদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

‘তিনি (আল-শেখ) অবশ্যই ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত এবং মেসিকে যুক্ত করার বিষয়টি বিন সালমান অবশ্যই পছন্দ করবেন। তার (মোহাম্মদ বিন সালমান) চোখে বিশ্বে সৌদি আরবের অবস্থান উপলব্ধির আরেকটি সুযোগ ঘটাবে এই বিষয়টি। তিনি বুঝবেন সৌদি বিচ্ছিন্ন কোনো মরুরাজ্য নয়।

‘আন্তর্জাতিকভাবে মেসির যে প্রোফাইল রয়েছে, সেটি সৌদিকে স্বাভাবিকতার একটি বৃহত্তর অনুভূতি দেবে। তাই আমি মনে করি এ বিষয়টি ২০৩০ সালে তাদের বিশ্বকাপ বিডের ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে।’

হোরাক বলেন, ‘খাশোগজি হত্যার কারণে মোহাম্মদ বিন সালমান ব্র্যান্ডটির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে সৌদি আরবের ব্র্যান্ডও কলঙ্কিত হয়েছে। এমন অবস্থায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিশ্বের সেলিব্রিটিদের কাছে যত বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ তৈরি করা যাবে এবং সে অনুযায়ী সৌদি আরবের ব্র্যান্ডটিকে আবারও ঝকঝকে করে তোলা সম্ভব হবে।’

সৌদি কারাগারে বন্দি দুই স্বজনের ভাই খালিদ আল-জাবরি বলেন, ‘মেসির মতো খেলোয়াড়দের একটি দলের অংশ হিসেবে সৌদিতে খেলতে যাওয়া নিয়ে আমার আপত্তি নেই। কারণ দেশের শাসকদের নৃশংসতার কারণ দেখিয়ে সৌদি ভক্তদের তাদের প্রিয় দলের খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। আমার সমস্যা হলো মেসি নিজেকে সৌদি স্পোর্টস ওয়াশিংয়ের হাতিয়ারে পরিণত করেছেন।

‘তিনি নিজেকে শয়তানের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।’

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ সি ম্যাচের আগে সোমবার সন্ধ্যায় দোহায় সংবাদ সম্মেলনে আসেন মেসি। মাঠে যে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন তাদের হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। আর প্রতিপক্ষ দেশটি ছিল তারা, যারা তাদের প্রচারে ব্যবহার করছে মেসির ছবি।

কাতারের টেলিভিশনে সম্প্রচার হচ্ছে সৌদি আরবে মেসির সফর নিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপন।

সেই সংবাদ সম্মেলনে মেসির আগমনকে ওহ, আহা ধ্বনি এবং ফোনের ক্যামেরায় ছবি তুলে স্বাগত জানানো হয়। তিনি বেরিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে কয়েকজন করতালি দিচ্ছিলেন।

ব্যস্ত ওই মিডিয়া সেশনে দ্য অ্যাথলেটিক কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ পায়নি। মেসি এক ডজনেরও বেশি প্রশ্ন নিয়েছিলেন, তবে তার একটিও সৌদি আরবকে নিয়ে প্রচার চালানো বিষয়ক চুক্তি সংক্রান্ত ছিল না। দক্ষিণ আমেরিকান বা আরব মিডিয়া থেকে এসব প্রশ্ন করা হয়েছিল।

চলমান বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে রোববার সন্ধ্যায় ইনফান্তিনোর পাশে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বসার দৃশ্য সৌদির সামনে আরও একবার আশা জাগিয়ে তুলেছে। এই জুটিকে গত সপ্তাহে জি টোয়েন্টি সম্মেলনে বালিতেও একসঙ্গে দেখা গেছে। এর আগেও তারা একসঙ্গে বক্সিং ম্যাচ দেখেছেন।

সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য মিশর ও গ্রিসের সঙ্গে যৌথভাবে সৌদি আরবের বিডকে ফিফা গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করবে বলে রিয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। সৌদিরা ২০৩০ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজক দেশ হতেও একটি বিড জমা দিয়েছে, এটিও ভিশন ২০৩০ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ।

বিশিষ্ট আর্জেন্টাইন ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কথোপকথনে মেসিকে ঘিরে সমালোচনায় অস্বস্তি মৃদু আকারে হলেও বোঝা যায়।

বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হতে আর্জেন্টিনার আগ্রহের বিপরীতে প্রতিপক্ষের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলে মেসি সাহায্য করছেন, এটি অদ্ভুত লাগছে কিনা- এমন প্রশ্নে তার সাবেক আন্তর্জাতিক সতীর্থ ম্যাক্সি রদ্রিগেজ বলেন, ‘সত্যি বলতে কি এটা ঠিক, তবে… আপনি জানেন না শেষ পর্যন্ত কী ঘটতে যাচ্ছে।

‘আপনি নিজ দেশে বিশ্বকাপ দেখতে চান, তবে এ জন্য অনেক কিছু করতে হবে। কারণ, বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়া সহজ নয়। টুর্নামেন্টের আয়োজক নির্বাচনের সময় কী ঘটছে আমরা দেখতে পাব। আর্জেন্টাইন হিসেবে আমরা আবারও আমাদের দেশে এই আয়োজন দেখতে চাই।’

দক্ষিণ আমেরিকার যৌথ বিডের কো-অর্ডিনেটর ফার্নান্দো মারিন বলেন, ‘মাঠে এবং মাঠের বাইরে মেসির এক অনন্য ক্ষমতা রয়েছে। তিনি একটি সুউচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছেন। মেসি নিজেই একটি ব্র্যান্ড এবং এটি খুব শক্তিশালী।

‘তিনি সমস্ত ফুটবলের জন্য একটি ব্র্যান্ড, কোনো দেশের নয়। তিনি ২০৩০ সালের জন্য দক্ষিণ আমেরিকান বিডের একটি মৌলিক অংশ হিসেবে থাকবেন।’

আরও পড়ুন:
এখনও ক্রীতদাস
পদ্মা সেতু নিয়েছে জমি, দিয়েছে অহংকার
কী ঘটেছিল জিয়ার মৃত্যুর পর
যে গ্রামে অপরাধ কম, কালেভদ্রে পুলিশ  
অ্যামাজন, গুগল ও অ্যাপলে নিউজবাংলা পডকাস্ট

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Saudi wants to buy Manchester United Liverpool

ম্যানইউ-লিভারপুল কিনতে চায় সৌদি আরব

ম্যানইউ-লিভারপুল কিনতে চায় সৌদি আরব ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুলের ম্যাচ। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি ক্রীড়ামন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন তুর্কি আল-ফয়সাল বিবিসিকে জানিয়েছেন, কোনো বেসরকারি সংস্থা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুল কিনতে চাইলে সরকার সহায়তা করবে।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল নিউকাসল ইউনাইটেডের মালিক সৌদি মালিকানাধীন কনসোর্টিয়াম সৌদি পাবলিক ইনভেস্ট ফান্ড (পিআইএফ)। এবার দেশটি ওই লিগের অন্য দুই দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুল কিনতে চাইছে।

সৌদি ক্রীড়ামন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন তুর্কি আল-ফয়সাল বিবিসিকে জানিয়েছেন, কোনো বেসরকারি সংস্থা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুল কিনতে চাইলে সরকার সহায়তা করবে।

তিনি যোগ করেন, ‘সৌদিতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ খুব জনপ্রিয় এবং অনেক দর্শক রয়েছে। বেসরকারিভাবে কেউ এগিয়ে এলে আমরা অবশ্যই তাদের সমর্থন করব। কারণ আমরা জানি যে এটি দেশের মধ্যে খেলাধুলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

কয়েকদিন আগেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্জেন্টিনার তারকা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি সৌদি আরবের বিলিয়ন ডলারের ‘ভিশন ২০৩০’ প্রজেক্ট বাস্তবায়নে একটি অন্যতম অংশ।


সৌদির পর্যটনকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরাই ছিল এই চুক্তির বিষয়বস্তু। এই ভিশনের আওতায় সৌদি ২০৩০ বিশ্বকাপে আয়োজক হওয়ার পরিকল্পনা করছে।

ফুটবল বিশ্বের আরেক আইকন ক্রিস্টিয়ানো রোনালডোকে সৌদি ফুটবলের শীর্ষ ক্লাব আল নাসের ৩ বছরে ২২ কোটি ডলারের অবিশ্বাস্য অর্থের বিনিময়ে দলে ভেড়াতে চেয়েছিল। তবে রোনালডো রাজি হননি।

শুধু ফুটবলই নয় ফরমুলা ওয়ান, গলফ ও টেনিসের বিশ্বসেরা আসরগুলোও আয়োজন করতে চায় সৌদি সরকার।

আরও পড়ুন:
যেখানে অনন্য রোনালডো
স্নায়ুচাপ ধরে রেখে ঘানাকে হারাল পর্তুগাল
বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার: রোনালডোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন ম্যানইউর

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Teenager killed in twin explosions in Jerusalem

জেরুজালেমে জোড়া বিস্ফোরণে নিহত কিশোর

জেরুজালেমে জোড়া বিস্ফোরণে নিহত কিশোর জেরুজালেমের দুটি ব্যস্ত এলাকায় এমন সময়ে বিস্ফোরণ ঘটে যখন লোকেরা কাজ করতে যাচ্ছিল। ছবি: সংগৃহীত
এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বিস্ফোরণের পেছনে জড়িত বলে জানায়নি। তবে, ফিলিস্তিনি জঙ্গি গোষ্ঠী হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ উভয়ই অপরাধীদের প্রশংসা করেছে।

জেরুজালেমের বাসস্ট্যান্ডে জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় এক কিশোর নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। ইসরায়েলি পুলিশ এসব নিশ্চিত করেছে।

নিহত কিশোরের নাম আরিয়েহ শ্তসুপাক। তার নাম আরিয়েহ শ্তসুপাক। ১৬ বছরের আরিয়েহ ইসরায়েলি-কানাডিয়ান ধর্মীয় ছাত্র ছিল।

শহরের উপকণ্ঠে দুটি ব্যস্ত এলাকায় বিস্ফোরণগুলো এমন সময়ে ঘটে, যখন মানুষ কাজে যাচ্ছিলেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়, জেরুজালেমের প্রধান প্রবেশদ্বারের কাছে গিভাত শৌলে বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টার দিকে প্রথম বিস্ফোরণটি হয়।

ইসরায়েলি চিকিত্সকরা বলছেন, এতে ১২ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নিহত কিশোরও ছিলেন। শায়ার জেডেক মেডিক্যাল সেন্টারে সে মারা যায়।

প্রায় ৩০ মিনিট পর শহরের আরেকটি প্রবেশদ্বার রামোট জংশনে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ হয়। এতে তিনজন সামান্য আহত হয়।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তামন্ত্রী বলেন, ‘এটি এমন একটি হামলা যা আমরা দীর্ঘ সময়ের মধ্যে দেখিনি।’

এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বিস্ফোরণের পেছনে জড়িত বলে জানায়নি। তবে, ফিলিস্তিনি জঙ্গি গোষ্ঠী হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ উভয়ই অপরাধীদের প্রশংসা করেছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Saudi prince prostrates in victory over Argentina

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়, সিজদায় সৌদি যুবরাজ

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়, সিজদায় সৌদি যুবরাজ সৌদির জয়ের ম্যাচে সিজদা দিতে দেখা যায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
ইনস্টাগ্রামে একটি ছবিতে দেখা যায়, টিভির পর্দায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেলা দেখার সময় আনন্দে ভাইকে জড়িয়ে ধরেছেন এমবিএস। আরেক ছবিতে টেলিভিশন থেকে দূরে গিয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়তে দেখা যায় সৌদি যুবরাজকে।

ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছে সৌদি আরব। এ জয়ে আনন্দের বন্যা বইছে সৌদিজুড়ে। জয়ের উচ্ছ্বাস ছুঁয়ে গেছে বাদশাহ থেকে ফকিরকে।

প্রতিবেশী কাতারে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে দলের জয় নানাভাবে উদযাপন করেছেন সৌদির নাগরিকরা। দেশটির কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) জয় কীভাবে উদযাপন করেছেন, তা প্রকাশ হয়েছে তার ভাই প্রিন্স সৌদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ছবিগুলোতে।

আলঅ্যারাবিয়া নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইনস্টাগ্রামে একটি ছবিতে দেখা যায়, টিভির পর্দায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেলা দেখার সময় আনন্দে ভাইকে জড়িয়ে ধরেছেন এমবিএস।

আরেক ছবিতে টেলিভিশন থেকে দূরে গিয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়তে দেখা যায় সৌদি যুবরাজকে।

এমবিএস ও প্রিন্স সৌদের সঙ্গে বসে খেলা দেখেছেন তাদের বড় ভাই প্রিন্স আবদুলাজিজ, যিনি সৌদির জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ক্রীড়াবিশ্বকে হতবিহ্বল করে গতকাল লাতিন জায়ান্ট আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে সৌদি আরব।

ওই ম্যাচের মধ্য দিয়ে ১৮তম বারের মতো বিশ্বকাপে খেলে আর্জেন্টিনা। বিপরীতে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামে সবুজ বাজপাখিরা।

ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ের বিষয়ে অনেকেই নিশ্চিত ছিলেন, তবে প্রথমার্ধে অফসাইডে তিন গোল বাতিল হওয়া এবং দ্বিতীয়ার্ধে সৌদির দাপটে হার নিয়ে মাঠ ছাড়েন মেসিরা।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের জয় উদযাপনে বুধবার সৌদিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপের যত আক্ষেপ
হারের অজুহাত দিতে চান না মেসি
ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া পথ নেই: স্কালোনি
মেসিদের হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিল সৌদি আরব
সৌদির অফসাইড ফাঁদে আর্জেন্টিনা, এক গোলে এগিয়ে

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
12 beheadings in 10 days in Saudi

সৌদিতে ১০ দিনে ১২ শিরশ্ছেদ

সৌদিতে ১০ দিনে ১২ শিরশ্ছেদ সৌদি আরবে ১০ দিনে ১২ জনের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। ছবি: ডন
মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রিভের পরিচালক মায়া ফোয়ার জানান, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই প্রথা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বেশির ভাগেরই শিরশ্ছেদ করা হয় তরবারি দিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে এখনও এমন প্রথা চালু থাকায় উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।

সৌদি আরবে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে গত ১০ দিনে ১২ জনের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। এদের অনেকেরই তরবারি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরোধিতায় গত দুই বছর এই ভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথা দেশটিতে বন্ধ ছিল।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানের, চারজন সিরিয়ার, দুজন জর্দানের ও তিনজন সৌদি নাগরিক। এদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ও সহিংস ধারায় কোনো অভিযোগ ছিল না। এদের সবাই পুরুষ।

এমন সব তথ্য প্রকাশ করে মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রিভের পরিচালক মায়া ফোয়ার জানান, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই প্রথা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বেশির ভাগেরই শিরশ্ছেদ করা হয় তরবারি দিয়ে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে এখনও এমন প্রথা চালু থাকায় উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।

রিপ্রিভের পরিচালক মায়া ফোয়া বলেন, ‘মোহাম্মদ বিন সালমান বারবার তার অগ্রগতি ও প্রগতির দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কমাতে এবং মাদক অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমাতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু তরবারির মাধ্যমে নির্মম ও বিভীষিকাময় মৃত্যুদণ্ডমুক্ত দুটি বছর শেষ হতে না হতেই সৌদি কর্তৃপক্ষ মাদক অপরাধীদের আবারও ব্যাপক সংখ্যায় এবং গোপনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু করেছে।’

আরও পড়ুন:
সবার জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে হজ
সৌদি যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রী করলেন বাদশাহ
উগ্রবাদী ৫০ লাখ টেলিগ্রাম বার্তা মুছল সৌদি আরব   

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Iran has arrested two popular actresses

বিক্ষোভে সংহতি: ইরানের দুই অভিনেত্রী আটক

বিক্ষোভে সংহতি: ইরানের দুই অভিনেত্রী আটক হেনগামেহ গাজিয়ানি এবং কাতিইয়ুন রিয়াহি হিজাব ছাড়া জনসম্মুখে এসেছিলেন। ছবি: সংগৃহীত
‘সঠিকভাবে’ হিজাব না করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর মাহসা আমিনি পুলিশ হেফাজতে মারা গেলে গত সেপ্টেম্বরে গোটা দেশে হিজাববিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

সরকারবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে দুই অভিনেত্রীকে আটক করেছে ইরান সরকার।

হেনগামেহ গাজিয়ানি ও কাতিইয়ুন রিয়াহি এর আগে হিজাববিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে হিজাব ছাড়া জনসমক্ষে এসেছিলেন।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি

‘সঠিকভাবে’ হিজাব না করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর মাহসা আমিনি পুলিশ হেফাজতে মারা গেলে গত সেপ্টেম্বরে গোটা দেশে হিজাববিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। এর ঠিক পাঁচ দিন পরই ছিল মাহসার জন্মদিন।

একাধিক পুরস্কারপ্রাপ্ত গাজিয়ানি এবং রিয়াহি উভয়েই রবিবার নৈতিকতা পুলিশের হাতে আটক হন।

আটক হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজিয়ানি লেখেন, 'আমার সঙ্গে যাই ঘটুক, আমি সব সময় ইরানি জনগণের পাশে আছি। এটাই হয়তো আমার শেষ পোস্ট।'

রবিবার ইরান ফুটবল দলের অধিনায়ক কাতার ফিফা বিশ্বকাপের আসরে বলেন, ‘আমাদের মেনে নিতে হবে যে, ইরানের পরিস্থিতি ভালো নয়, এবং আমাদের জনগণ অখুশি।’

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুসারে, ইরানে হিজাববিরোধী আন্দোলনে এ পর্যন্ত ৪০০ জনের বেশি নিহত এবং ১৬ হাজার ৮০০ জনের মতো আটক হয়েছেন।

ইরান সরকার বলছে, এটা আন্দোলন নয়, দাঙ্গা। বিদেশি শত্রুদের মদদে এটা পরিচালিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
বিক্ষোভ দমাতে শ্লীলতাহানিকে অস্ত্রের মতো ব্যবহার ইরানি পুলিশের
ইরানে রক্তক্ষরণে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ২৩৩
ইরান বিক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ যে ৩ নারী
ইরানে বিক্ষোভ: আহমাদিনেজাদ নীরব কেন
বিক্ষোভে ২০০ ছাড়াল মৃত্যু, তেহরানের রাস্তায় আইনজীবীরা

মন্তব্য

p
উপরে