× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
The presenter did not give an interview in Dhaka the president of Iran
hear-news
player
google_news print-icon

হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল

হিজাবে-রাজি-হননি-সিএনএনের-আমানপোর-ইরানি-প্রেসিডেন্টের-সাক্ষাৎকার-বাতিল
আমানপোর মাথায় স্কার্ফ না দেয়ায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে যোগ দেননি ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি। ছবি: সিএনএন
ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সাক্ষাৎকার নেয়ার কথা ছিল সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোরের। কিন্তু আমানপোর মাথা কাপড় দিয়ে ঢাকতে অস্বীকার করায় শেষ মুহূর্তে সাক্ষাৎকার থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন রাইসি।

অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখা সিএনএনের একটি সাক্ষাৎকার থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।

একদম শেষ মুহূর্তে সিএনএনের প্রধান আন্তর্জাতিক উপস্থাপক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোর মাথায় স্কার্ফ পরার দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর ইব্রাহিম রাইসি এই সিদ্ধান্ত নেন।

এর মাধ্যমে নারী পোশাকের স্বাধীনতার বিষয়ে ইরানে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই পোশাক বিধির বিষয়ে আপোষ না করার ইংগিত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে এখন নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। সেখানেই তার সাক্ষাৎকার নেয়ার কথা ছিল আমানপোরের।

তবে নির্ধারিত সময়ে তা শুরু না হয়ে ৪০ মিনিট ধরে চলে টানাপড়েন। প্রেসিডেন্ট রাইসির একজন সহকারী আমানপোরকে মাথায় স্কার্ফ দিতে বলেছিলেন। তবে আমানপোর তা প্রত্যাখ্যান করেন।

আমানপোর জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট রাইসির জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট আর সাক্ষাৎকার দিতে আসেননি।

হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানি বংশোদ্ভুত সিএনএন সাংবাদিক ও উপস্থাপক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোর

সিএনএনের সাংবাদিক ও উপস্থাপক আমানপোর ইরানের রাজধানী তেহরানেই বেড়ে উঠেছেন। ফার্সি ভাষায় তার বেশ দখলও রয়েছে।

ইরানে সাংবাদিকতা করার বিষয়ে স্থানীয় আইন ও রীতিনীতি মেনে প্রতিবেদন করার সময় মাথায় স্কার্ফ দিতে তার আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন আমানপোর। তিনি বলেছেন, এ ছাড়া একজন সাংবাদিক হিসেবে সেখানে (ইরানে) কাজ করার সুযোগ নেই।

একই সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ান আমানপোর স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, ইরানের বাইরে কোনো ইরানি কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য তিনি নিজের মাথা ঢাকবেন না।

সিএনএনের ‘নিউ ডে’ প্রোগ্রামে আমানপোর বলেন, ‘এখানে নিউ ইয়র্কে বা ইরানের বাইরে অন্য কোথাও, আর কোনো ইরানি প্রেসিডেন্ট আমাকে জিজ্ঞাসা (মাথায় স্কার্ফের বিষয়ে) করেননি। আমি ১৯৯৫ সাল থেকে তাদের (ইরানি প্রেসিডেন্ট) সাক্ষাৎকার নিয়েছি- ইরানের ভেতরে বা বাইরে, কখনোই পোশাক পরতে (মাথার স্কার্ফ) বলা হয়নি।’

হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদানিজাদের সাক্ষাৎকার নেয়ার সময়ও মাথায় স্কার্ফ ছিল না আমানপোরের

আমানপোর বলেন, ‘আমি খুব বিনয়ের সঙ্গে নিজের, সিএনএন ও সব নারী সাংবাদিকের পক্ষে তা (মাথায় স্কার্ফ) প্রত্যাখ্যান করেছি। কারণ এর দরকার নেই।’

তবে এক টুইটবার্তায় আমানপোর স্বীকার করেন, যেহেতু ইরানে (পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে) বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে এবং মানুষ মারা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট রাইসির সঙ্গে তার কথা বলাটা (এ সময়) গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট রুহানির সাক্ষাৎকারের সময়ও মাথায় স্কার্ফ দেননি আমানপোর

কতটা সত্যি আমানপোরের দাবি

আগের ইরানি প্রেসিডেন্টদের সাক্ষাৎকারের বিষয়ে আমানপোর যে দাবি করেছেন, তার সত্যতা রয়েছে। তিনি সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন, তাকে স্কার্ফ দিয়ে মাথা ঢাকতে হয়নি। এমনকি সাবেক রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদানিজাদের সাক্ষাৎকার নেয়ার সময়ও মাথা ঢাকেননি রাইসি।

এখানে নিউ ইয়র্কে বা ইরানের বাইরে অন্য কোথাও, কোনো ইরানি প্রেসিডেন্ট আমাকে জিজ্ঞাসা (মাথায় স্কার্ফের বিষয়ে) করেননি। আমি ১৯৯৫ সাল থেকে তাদের (ইরানি প্রেসিডেন্ট) সাক্ষাৎকার নিয়েছি- ইরানের ভেতরে বা বাইরে, কখনোই পোশাক পরতে (মাথার স্কার্ফ) বলা হয়নি।

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় আমানপোরকে একটি কাপড়ে মাথা ঢাকতে দেখা গেলেও সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়েছিল তেহরানে। মোহাম্মদ খাতামিকে সাক্ষাৎকারের সময় বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।

হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
মোহাম্মদ খাতামির সাক্ষাৎকারে আমানপোরের মাথায় কাপড় থাকলেও সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়েছিল তেহরানে

নারীদের পোশাক সম্পর্কে যা আছে ইরানের আইনে

ইরানে নারীদের পোশাক নিয়ে বিধি নিষেধ দেয়া শুরু হয় ১৯৭৯ সালে দেশটিতে হওয়া ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। দেশটিতে শরিয়াহ ভিত্তিতে করা আইনের আলোকে একজন নারীকে জনসমক্ষে মাথা ঢেকে রাখতে হয় ও ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হয়। এই আইন ইরানে অবস্থান করা সকল মুসলিম, অমুসলিম, নারী পর্যটক, বিদেশি সাংবাদিক সবার জন্য প্রযোজ্য।

ইসলামি বিপ্লবের আগে, পশ্চিমাপন্থি শাসক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে উৎখাত করার আগে তেহরানের রাস্তায় মিনিস্কার্ট ও খোলা চুল কোনো অস্বাভাবিক দৃশ্য ছিল না।

পাহলভির স্ত্রী ফারাহও পশ্চিমা পোশাকে অভ্যস্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই
ইরানজুড়ে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবি, বিক্ষোভে নিহত ৭
হিজাব ছাড়া ভিডিও দেয়ায় ইরানি তরুণীর পৌনে ৪ বছরের জেল
ইরানের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা
‘প্রয়োজনে মরব, তবু আগের ইরান ফিরিয়ে আনব’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Chaos at football field in Indonesia 129 killed in stampede

ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল মাঠে হাঙ্গামা: পদদলিত হয়ে ১৭৪ মৃত্যু

ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল মাঠে হাঙ্গামা: পদদলিত হয়ে ১৭৪ মৃত্যু ইন্দোনেশিয়ার উত্তর জাভা প্রদেশে মাঠে হাঙ্গামার সময় বিক্ষুব্ধ দর্শকদের সরানোর চেষ্টা করেন আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ছবি: এএফপি
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর জাভা প্রদেশে শনিবার রাতে আরেমা ফুটবল ক্লাব ও পেরসেবায়া সুরাবায়ার মধ্যে ম্যাচ চলছিল। ম্যাচ শেষে পরাজিত দলের সমর্থকরা মাঠে নেমে হাঙ্গামা শুরু করে। তাদের সরাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়লে অনেকে পদদলিত হয়। শ্বাসকষ্টও শুরু হয় অনেকের মধ্যে।

ইন্দোনেশিয়ার উত্তর জাভা প্রদেশে ফুটবল মাঠে পরাজিত দলের সমর্থকদের হাঙ্গামার সময় পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ১৭৪ জনের মৃত্যু ও প্রায় ১৮০ জন আহত হয়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

উত্তর জাভা পুলিশের প্রধান নিকো আফিন্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার রাতে প্রদেশে আরেমা ফুটবল ক্লাব ও পেরসেবায়া সুরাবায়ার মধ্যে ম্যাচ চলছিল। ম্যাচ শেষে পরাজিত দলের সমর্থকরা মাঠে নেমে হাঙ্গামা শুরু করে। তাদের সরাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়লে অনেকে পদদলিত হয়। শ্বাসকষ্টও শুরু হয় অনেকের মধ্যে।

স্থানীয় টিভি চ্যানেলগুলোর ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মালাং স্টেডিয়ামের দর্শক সারি থেকে লোকজন ফুটবল পিচের দিকে ছুটে যাচ্ছে। মাঠে মরদেহ বহনের ব্যাগও দেখা গেছে।

ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব নতুন নয়। ক্লাবগুলোর মধ্যে তীব্র স্নায়ুযুদ্ধ কখনও কখনও সমর্থকদের সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সর্বশেষ প্রাণহানির ঘটনার পর ইন্দোনেশিয়ার ক্রীড়ামন্ত্রী জাইনুদ্দিন আমালি স্থানীয় কম্পাসটিভিকে বলেন, ফুটবল ম্যাচের নিরাপত্তার বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করবে মন্ত্রণালয়। মাঠে দর্শকদের প্রবেশে অনুমতি না দেয়ার বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে।

ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্দোনেশিয়া (পিএসএসআই) জানিয়েছে, মাঠে হাঙ্গামা ও প্রাণহানির পরিপ্রেক্ষিতে বিআরআই লিগা ওয়ানের ম্যাচগুলো এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

লিগের সর্বশেষ ম্যাচে আরেমাকে ৩-২ গোলে হারায় পেরসেবেয়া।

আরও পড়ুন:
রান্নার তেলের চরম সংকট ইন্দোনেশিয়ায়
ইন্দোনেশিয়ার বারে সংঘর্ষ, নিহত ১৯
আবারও সেমেরুতে অগ্ন্যুৎপাত, পালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা
ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাতে মৃত্যু বেড়ে ১৩
ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাতে প্রাণহানি, এলাকা ছাড়ছে মানুষ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Same sex marriage legalized in Cuba

কিউবায় বৈধতা পেল সমলিঙ্গের বিয়ে

কিউবায় বৈধতা পেল সমলিঙ্গের বিয়ে প্রতীকী ছবি
ধর্মীয় গোষ্ঠীসহ আরও অনেকের বিরোধিতার মুখে ২০১৮ সালে সমপ্রেমী বিয়েকে বৈধতা দেয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার। তবে এর চার বছরে বদলেছে জনমত। কিউবার বেশির ভাগ নাগরিক আইন সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

কমিউনিস্ট শাসিত দেশ কিউবায় সমলিঙ্গদের বিয়ে এবং সন্তান দত্তক নেয়ার অধিকার বৈধতা পেয়েছে। এ-বিষয়ক গণভোটে কিউবানরা বিদ্যমান আইন সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

এ ঘটনাকে কিউবার এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেশটির দীর্ঘদিনের নেতিবাচক মনোভাবের বিস্ময়কর পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।

চার দশকের পুরোনো একটি ‘পারিবারিক আইনে’ বড় সংস্কার আনার পক্ষে ২৫ সেপ্টেম্বর ভোট দেয় কিউবার মানুষ। এই সংস্কারের ফলে দেশটির বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের জন্য বাড়তি সুরক্ষার পাশাপাশি এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর বেশ কিছু অধিকার নিশ্চিত হবে।

কমিউনিস্ট শাসিত কিউবায় কোনো আইন নিয়ে গণভোট আয়োজনের উদাহরণ খুব বেশি নেই। বিরল সে ধরনেরই এক গণভোটে তিন-চতুর্থাংশ নাগরিক আইন পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

ছয় দশক আগেও কিউবায় সমপ্রেমী বিয়ে এবং সন্তান দত্তকের ভাতা পাওয়ার ঘটনা ছিল কষ্টকল্পনা।

ফিদেল কাস্ত্রো সরকারের বিরুদ্ধে ১৯৫৯ সালে বিপ্লবের পর সমপ্রেমী জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ ওঠে। গ্রেপ্তার করা হয় অনেককে। কাস্ত্রো পরে অবশ্য ওই নিপীড়নের জন্য ক্ষমা চান। বিপ্লবের ২০ বছর পর ১৯৭৯ সালে কিউবায় সমপ্রেম বৈধতা পায়, তবে বিয়ে করার অধিকার দেয়া হয়নি।

গত এক দশকে দেশটির এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে সবচেয়ে সোচ্চার ছিলেন কাস্ত্রো পরিবারেরই এক সদস্য। সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রোর মেয়ে মারিলা কাস্ত্রো দীর্ঘদিন ধরে এই অধিকার নিয়ে কাজ করছেন।

ধর্মীয় গোষ্ঠীসহ আরও অনেকের বিরোধিতার মুখে ২০১৮ সালে সমপ্রেমী বিয়েকে বৈধতা দেয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার।

তবে এর চার বছরে বদলেছে জনমত। কিউবার বেশির ভাগ নাগরিক রায় দিয়েছেন আইন সংস্কারের পক্ষে।

আরও পড়ুন:
প্রেমে পড়া সিলেট ও গাইবান্ধার সেই দুই তরুণী ঘরছাড়া
সঙ্গিনী থেকে বিচ্ছিন্ন নোয়াখালীর সেই তরুণী কেটেছেন হাত
ফের বিচ্ছিন্ন সেই ২ তরুণী, যোগাযোগ বন্ধের নির্দেশ প্রশাসনের
স্কুলছাত্রীর প্রেমে নোয়াখালী থেকে টাঙ্গাইলে তরুণী
দুই তরুণীর প্রেম, বিয়েতে পরিবারের ‘না’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Foreigners were also arrested in connection with protests in Iran

ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার

ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার মাহসা আমিনিকে নিয়ে চলমান বিক্ষোভে বিদেশি ইন্ধনের দাবি তুলেছে ইরানের কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে চলমান বিক্ষোভের জন্য বিদেশি ইন্ধনকে দায়ী করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটিতে আটক করা হয়েছে ৯ ইউরোপীয় নাগরিককে। ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় বিদেশি আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় ও পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে ব্যাপক ধরপাকড়ে এবার বিদেশিদের গ্রেপ্তার শুরু করেছে ইরানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

এরই মধ্যে ৯ জন ইউরোপীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইরানের কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের চলমান অস্থিরতায় ভূমিকা পালনের কারণে আটক করা হয়েছে।

চলমান বিক্ষোভের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষ বিদেশি শত্রুদের দায়ী করছে।

আটক হওয়া ব্যক্তিরা জার্মানি, পোল্যান্ড, ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও অন্যান্য দেশের নাগরিক।

তাদের গ্রেপ্তারের ঘটনা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করতে পারে।

দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ও ৯ জন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এদিকে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছেই। পুলিশি ধরপাকড়েও থামছে না প্রতিবাদ। এরই মধ্যে ৮৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেছে।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

মানবাধিকার গোষ্ঠী হেনগাও একটি ভিডিও পোস্ট করেছে, যাতে বলা হয়েছে যে শুক্রবার গভীর রাতে আমিনির নিজ শহর সাকেজে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে।

ইরানের হিজাব নিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে যুবতী নারীদের মাথার স্কার্ফ খুলে ফেলার সময় উল্লাস করতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীন-ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ
ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
বিক্ষোভ দমনে সীমান্ত পেরিয়েও ইরানি হামলা, ৯ কুর্দি নিহত
মাস্কের স্টারলিংক ইরানে কেন কাজ করবে না?
ইরান বিক্ষোভের পরিণতি কী?

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
BBC Bangla Radio Service is shutting down

বন্ধ হচ্ছে বিবিসি বাংলা রেডিও সার্ভিস

বন্ধ হচ্ছে বিবিসি বাংলা রেডিও সার্ভিস বাংলাসহ মোট ১০টি ভাষায় সম্প্রচার বন্ধ করতে যাচ্ছে বিবিসি। ছবি: সংগৃহীত
অর্থ বাঁচাতে ১০টি ভাষার রেডিও সার্ভিস বন্ধ করতে যাচ্ছে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলা সার্ভিসও। এ ছাড়া বাংলা ইউনিটের কার্যক্রম লন্ডন থেকে সরিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসার প্রস্তাবও করা হয়েছে। তবে চীন, রাশিয়া, ইউক্রেন ও আফগানিস্তানের মতো দেশের শ্রোতাদের জন্য আরও বিনিয়োগ করতে চায় সংবাদমাধ্যমটি।

বিবিসি বাংলা রেডিও সার্ভিস ৮০ বছরেরও বেশি সময় চলার পর অবশেষে বন্ধ হতে যাচ্ছে।

ইনডিপেনডেন্ট ইউকের এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

বিবিসি রেডিওর বাংলা সার্ভিস ছাড়াও আরও ৯টি ভাষাতেও সম্প্রচার বন্ধের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে চালিত সংবাদমাধ্যমটি।

এ ছাড়া খরচ কমাতে কিছু ইউনিটকে লন্ডন থেকে সরিয়ে নিজ দেশে পাঠানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে বিবিসি বাংলা সার্ভিসের পরিষেবা ঢাকায়, থাই পরিষেবা ব্যাংককে, কোরিয়ান পরিষেবা সিউলে এবং ফোকাস অন আফ্রিকা টিভি বুলেটিন নাইরোবি থেকে সম্প্রচার করা হবে।

রেডিওতে বাংলা ছাড়া সম্প্রচার বন্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে আরবি, ফার্সি, কিরগিজ, উজবেক, হিন্দি, বাংলা, চীনা, ইন্দোনেশিয়ান, তামিল ও উর্দু রেডিওর।

ফলে এসব পরিষেবায় কর্মরত ৩৮২ জন চাকরি হারাতে যাচ্ছেন।

বিবিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাড়তে থাকা খরচ ও লাইসেন্স ফির নিষ্পত্তির কারণে সংবাদমাধ্যমটিকে কিছু কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে যেতে হচ্ছে।

বিবিসির পরিষেবাগুলোতে ব্যয় হওয়া ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে ২৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ড বাঁচিয়ে পুনরায় অন্য খাতে বিনিয়োগ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

১০টি ভাষায় বিবিসি রেডিও বন্ধ হলেও বিশ্বের কাছে চীনের গল্প তুলে ধরতে আরও খরচ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। সে জন্য নতুন চায়না গ্লোবাল ইউনিট প্রতিষ্ঠা করার জন্য অর্থ দরকার তাদের। সে ক্ষেত্রে বেঁচে যাওয়া অর্থ এই প্রকল্পে ব্যয় করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া রাশিয়া, ইউক্রেন ও আফগানিস্তানের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানোর বিষয়ে ও সংবাদ পরিবেশনে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে চায় বিবিসি।

আরও পড়ুন:
ব্রিটিশ ‘নির্ভীক’ সাংবাদিক বহিষ্কার রাশিয়ার, নিন্দা বিবিসির
বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সাইটে বিপর্যয়

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Afghan women are also on the streets to show solidarity with the Iran protests

ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায়

ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায় কাবুলে ইরানি দূতাবাদের সামনে বিক্ষোভ করছেন আফগান নারীরা। ছবি: সংগৃহীত
‘ইরান ঘুরে দাঁড়াল, এখন আমাদের পালা’, ‘মাহসার রক্ত ​​আমাদের পথ, আমাদের অনুপ্রেরণা’... স্লোগানে অন্তত ৩০ নারী কাবুলের ইরানি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন।

ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলা বিক্ষোভের ঢেউ লেগেছে আরেক রক্ষণশীল দেশ আফগানিস্তানে। তালেবানের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার কাবুলে বিক্ষোভ করেছেন নারীরা। একপর্যায়ে ফাঁকা গুলিতে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় দেশটির শাসকগোষ্ঠী তালেবান।

‘ইরান ঘুরে দাঁড়াল, এখন আমাদের পালা’, ‘মাহসার রক্ত ​​আমাদের পথ, আমাদের অনুপ্রেরণা’... স্লোগানে অন্তত ৩০ নারী ইরানি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন।

পরিচয় গোপন রাখতে সবার পরনে ছিল বোরকা, চোখে সানগ্লাস, কারও মুখে মাস্ক। তাদের হাতে ছিল ২২ বছরের কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির ছবি।

মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায়
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যেও ইরানের অন্তত ৮০ শহরে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকরা ইরানি নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

কাবুলের দূতাবাস এলাকার এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নারীর স্বাধীনতা চাওয়ার পাশাপাশি ইরান সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিল বিক্ষোভকারীরা। একসময় তালেবানের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সামনে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যে নারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।’

অন্যসব দিনের মতো বৃহস্পতিবারও কাবুলের ইরানি দূতাবাসের সামনে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন ছিল। এসবের মধ্যেও তালেবান সমাবেশের অনুমতি দিয়েছিল। তারা ভেবেছিল, প্রতিবেশী দেশে আফগান শরণার্থীদের নিপীড়নের প্রতিবাদে সমাবেশ করতে যাচ্ছেন নারীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক তালেবান নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম তারা ইরানে সহিংস আচরণের শিকার আফগান অভিবাসীদের পক্ষে প্রতিবাদ করছে। হঠাৎ বুঝতে পারলাম তারা ইরানি মেয়েটির জন্য প্রতিবাদ করছে। তাই আমাদের সহকর্মীরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।’

গত বছরের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে আসার পর নিজেদের অধিকারের দাবিতে বিক্ষিপ্তভাবে বিক্ষোভ করেছে নারীরা। শাসকদের দমন-পীড়নের কারণে এসবের বেশির ভাগই হয়েছে ঘরোয়াভাবে।

আফগান নারীদের দাবি, তাদের কর্মক্ষেত্র এবং হাইস্কুলে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হোক। তালেবানরা মেয়েদের জন্য হাইস্কুল নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে আফগান নারীরাও তাদের পুরো শরীর ঢেকে রাখতে বাধ্য। পুরুষ সঙ্গী ছাড়া কোথাও ভ্রমণ কর‍তে পারে না তারা।

এসব বিধিনিষেধের বেশির ভাগই তালেবানের প্রথম শাসনের পুনরাবৃত্তি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান শাসন করেছে তালেবান। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার শুরুর দিকে নারীর প্রতি মনোভাব বদলানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। তবে ক্ষমতায় পোক্ত হওয়ার পর স্বরূপে ফিরতে শুরু করে তালেবান।

আরও পড়ুন:
ইরান বিক্ষোভের পরিণতি কী?
নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা
ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬
ইরানের নৈতিকতা পুলিশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার নিষেধাজ্ঞা
ইরানে মাহসার পর এবার বিদ্রোহের প্রতীক হাদিস নাজাফি

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Viral in the Iran protests the young woman was shot dead?

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত? চুল বেঁধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া তরুণীকে হাদিস নাজাফি দাবি করে তার মৃত্যুর তথ্য প্রচার করছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
বিবিসি ফার্সির টুইটের পর হাদিসের মৃত্যুর প্রতিবেদন থেকে চুল বাঁধা তরুণীর ছবি সরিয়ে নেয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। তবে এর দু’দিন পর ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায়, ঝুঁটি বেঁধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ওই তরুণীর নাম হাদিস নাজাফি। বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যমও বলছে, ভাইরাল ভিডিওর তরুণী গুলিতে নিহত হয়েছেন।

কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্র করে কঠোর পোশাকবিধি নিয়ে ইরানি নারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে । ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে অন্তত ৭৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন হাজারের বেশি।

নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করলেও প্রতিবাদের ঢেউ দেশটির অন্তত ৮০টি শহরে এরইমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রতিদিনই প্রাণ দিচ্ছে মানুষ। নিহতদের মধ্যে পুরুষের পাশাপাশি নারী-শিশুও রয়েছে।

মাহসাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে নতুন করে আরও একটি নাম প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তিনি ২২ বছরের তরুণী হাদিস নাজাফি।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
মাহসা আমিনির (বাঁয়ে) পর এবার ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবির বিক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন এই তরুণী

কারাজ শহরে ২১ সেপ্টেম্বর ওই বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারান তিনি।

এর চার দিন পর গত রোববার সাংবাদিক এবং নারী অধিকারকর্মী মাসিহ আলিনেজাদ একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এতে দেখা যায় এক তরুণী তার খোলা চুল ঝুঁটি বেধে বিক্ষোভে যোগ দিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। মাসিহ আলিনেজাদের দাবি ছিল, ওই তরুণীর নামই হাদিস নাফাফি। বিক্ষোভে যোগ দেয়ার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর ছয়টি গুলিতে তিনি প্রাণ হারান।

ইরানের সাংবাদিক ফারজাদ সেফিকারানকে উদ্ধৃত করে আল আরাবিয়া জানায়, বিক্ষোভে নিহত হাদিসের মুখ, ঘাড় এবং বুকে গুলি লেগেছিল। স্থানীয় ঘায়েম হাসপাতালে নেয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়। আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনেও ভিডিওতে চুল বাঁধা তরুণীকে ‘হাদিস নাজাফি’ বলে উল্লেখ করা হয়।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
ভাইরাল ভিডিওর এই তরুণীকে হাদিস নাজাফি হিসেবে দাবি করা হচ্ছে

তবে সোমবার বিবিসি ফার্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভে যোগ দেয়ার আগে চুল বাঁধা ওই তরুণীর নাম হাদিস নাজাফি নয়। ওই তরুণী নিজেও বিবিসিকে একটি ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘আমি বিক্ষোভে নিহত হাদিসা নাজাফি নই। তবে আমি নারীদের জন্য, মাহসাদের অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’

চুল বেঁধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া নারীকে ‘হাদিস নাজাফি’ বলে দাবি করে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি অ্যানিমেশন ভাইরাল হয়েছে। তবে বিবিসি ফার্সির টুইটের পর ওই অ্যামিনেশনের নির্মাতা এলো নিকো শিরোনামে একটি সংশোধনী দেন। এলো নিকো লেখেন, বিবিসি জানিয়েছে চুল বাঁধা যে তরুণীর অ্যানিমেশন আমি করেছি, তিনি জীবিত আছেন।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?

বিবিসি ফার্সির প্রতিবেদনের পর হাদিসের মৃত্যুর প্রতিবেদন থেকে চুল বাঁধা তরুণীর ছবি সরিয়ে নেয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?

তবে এর দু’দিন পর ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দেশটির বার্তা সংস্থা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের (এএনআই) বরাতে জানায়, ঝুঁটি বেঁধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ওই তরুণীর নাম হাদিস নাজাফি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এসব প্রতিবেদনের বরাতে বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যমও ভাইরাল ভিডিওর তরুণী ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন দাবি করে বুধবার প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ভাইরাল ভিডিওর তরুণী আর হাদিস নাজাফি যে আলাদা ব্যক্তি তা নিয়ে সোমবার রাতেই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল নিউজবাংলা।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর গত মঙ্গলবার এই বিভ্রান্তি নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে। এতে বলা হয়, কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম চুল বেঁধে বিক্ষোভে সামিল হওয়া তরুণীকে হাদিস নাজাফি বলে দাবি করেছে। তারা বলেছে ভিডিওর ওই তরুণীকে পরে হত্যা হরা হয়। তবে ভিডিওটিতে যাকে দেখা গেছে তিনি হাদিস নাজাফি নন।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাল ভিডিওটির অপব্যবহার হলেও হাদিস নাজাফির মৃত্যুর ঘটনা সত্যি।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
হাদিস নাজাফির মৃত্যু সনদ

নেদারল্যান্ডভিত্তিক ফার্সি ভাষার রেডিও জামানেহ কথা বলেছে হাদিসের এক স্বজনের সঙ্গে। তার তথ্য অনুসারে, হাদিসের বয়স ২২ বছর। ইরানের কারাজে শহরে গত ২১ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভের সময় শর্টগানের অন্তত ২০টি গুলি তার শরীরে বিদ্ধ হয়। বুকে, মুখে এবং ঘাড়ে লাগা এসব গুলিতে প্রাণ হারান হাদিস।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইরান বিক্ষোভে নিহতদের যে তালিকা করেছে সেখানেও হাদিস নাজাফির নাম রয়েছে। তার পরিবার সোমবার বিবিসি ফার্সিকে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে। হাদিসের মৃত্যু সনদও প্রকাশ করেছে পরিবার। ইনস্টাগ্রামে হাদিসের অ্যাকাউন্ট ‘রিমেম্বারিং’ রয়েছে।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
ইনস্টাগ্রামে হাদিস নাজাফির অ্যাকাউন্ট

হাদিসের বোন শিরিন নাজাফি রেডিও জামানেহকে জানান, পরিবারিক বন্ধুরা তাদের কাছে আলোচিত তরুণীর ভাইরাল ভিডিওটি পাঠিয়েছিলেন। এরপর তারা প্রাথমিকভাবে সাংবাদিকদের বলেছিলেন চুল বাঁধা তরুণীটি হাদিস হতে পারে। কারণ ভিডিওর তরুণীর চুল, পোশাক ও চশমা অনেকটা হাদিসের মতোই দেখাচ্ছিল। তবে আসল তরুণী পরে বিবিসিকে তার নিজের আরেকটি ভিডিও পাঠানোর পর হাদিসের পরিবার নিজেদের ভুল বুঝতে পারে।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #MahsaAmini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

আরও পড়ুন:
ইরানের নৈতিকতা পুলিশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার নিষেধাজ্ঞা
ইরানে মাহসার পর এবার বিদ্রোহের প্রতীক হাদিস নাজাফি
পোশাকের স্বাধীনতায় ইরানি ২ বোনের হৃদয়ছোঁয়া ‘বেলা চাও’
বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর
উত্তাল ইরানে ইলন মাস্কের ভূমিকা কী

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Why Musks Starlink will not work in Iran?

মাস্কের স্টারলিংক ইরানে কেন কাজ করবে না?

মাস্কের স্টারলিংক ইরানে কেন কাজ করবে না? ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ইলন মাস্ক যে স্টারলিংক পরিষেবা ইরানিদের জন্য উন্মুক্ত করতে চান সেটি রাতারাতি করা সম্ভব নয়। ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত করতে যে হার্ডওয়্যার দরকার সেই টার্মিনাল ইরানে ঢোকাতে চোরাইপথে। এটা ব্যয়সাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ। বাড়তি খরচ করতে হবে কয়েক মিলিয়ন ডলার।

‘স্টারলিংক চালু করছি’

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলন দমনে ইরান সরকার ইন্টারনেট পরিষেবা প্রায় অচল করে দেয়ার মধ্যে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনের এক টুইটের জবাবে এমনটি লিখে সংবাদের শিরোনাম হন বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক।

বিশ্বের সঙ্গে ইরানিদের যোগাযোগের ব্যবস্থা উন্মুক্ত রাখতে নিজের প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্সের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ তৈরির ঘোষণা দিয়েছিলেন মাস্ক।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারও মাস্কের এ প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিয়ে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করে। বাইডেন প্রশাসন মাস্কের উদ্যোগকে তরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় অনুমতিও দিয়েছে।

স্যাটেলাইট লিংকের মাধ্যমে ইরানে ইন্টারনেটের ব্যবহার সহজ করা অসম্ভব নয়। তবে কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কারণে বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন।

পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনি ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যাওয়ার পর ইরানে টানা বিক্ষোভ ১৩তম দিনে গড়িয়েছে। দেশটির ৩১ প্রদেশের বেশিরভাগেই ছড়িয়ে পড়েছে তুমুল প্রতিবাদ। এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৬ জনের প্রাণহানি ও ১২শর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

‘নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ’ দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ ইরান জুড়ে কঠোর ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

স্টারলিংক কার্যকর করতে কী প্রয়োজন?

ইলন মাস্ক যে স্টারলিংক পরিষেবা ইরানিদের জন্য উন্মুক্ত করতে চান সেটি রাতারাতি করা সম্ভব নয়। এজন্য আগে ব্যবহারকারীদের নিবন্ধন করতে হবে। ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত করতে যে হার্ডওয়্যার দরকার সেই স্টারলিংক টার্মিনালগুলোকে সচল করে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু করার পর স্টারলিংক ইউক্রেনে ১৫ হাজার টার্মিনাল পাঠিয়েছে। তবে ইরানের ক্ষেত্রে বিষয়টি সহজ নয়। এসব টার্মিনালকে স্বাভাবিক কারণেই দেশে ঢুকতে বাধা দেবে তেহরান।

একমাত্র উপায় হলো হাজারো টার্মিনাল চোরাইপথে ইরানে ঢোকাতে হবে। এটা ব্যয়সাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ। বাড়তি খরচ করতে হবে কয়েক মিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ইন্টারনেট-সম্পর্কিত কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পর একে ‘ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন’ প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

একই দিনে ইরানে স্টারলিংকের ওয়েবসাইট ব্লক করে দেয়া হয়।

সম্ভাব্য আইনি জটিলতাগুলো কী?

স্টারলিংক ‘অ্যাকটিভেশন’-এর খবর ইরানিদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। অনেকেই এই পরিষেবার ওপর ভরসা করে আছেন।
তবে এই ঘোষণা অন্য ঝুঁকিও তৈরি করেছে। ব্যবহারকারীদের ধোঁকা দিতে স্টারলিংকের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারের ছদ্মবেশে ম্যালওয়্যার তৈরি করছে হ্যাকাররা।

ইরান সরকারের সহযোগিতা ছাড়াই পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে চাইলে স্টারলিংক আইনি জটিলতার মুখেও পড়তে পারে। পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে ইরানের আইনি অভিযোগ করার ইতিহাস রয়েছে।

স্টারলিংক নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে গেলে ইরান আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিউ), জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা অন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আইনিভাবে এর প্রতিকার চাইতে পারে।

ইরানের জনপ্রিয় ব্লগার ও প্রোগ্রামার জাদি এক টুইট বার্তায় লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে একটি কোম্পানি ইরানে পরিষেবা দিতে পারে না। ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোম্পানিটির বিরুদ্ধে একটি বাস্তবসম্মত অভিযোগ করবে এবং সেটি কোম্পানির জন্য সমস্যা তৈরি করবে।’

ইরানে বর্তমানে ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা কতটুকু?

জ্বালানির দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পর ২০১৯ সালে নভেম্বরে ইরান জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। তখন প্রায় এক সপ্তাহ ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। দেশটির সাড়ে আট কোটির মানুষের অধিকাংশ অফলাইনে ছিলেন।

বিক্ষোভের পরের কয়েকদিন স্থানীয় ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ রাখা হয়। সরকারি অফিস ও ব্যাংকগুলোও অফলাইনে চলে যায়। প্রথম সপ্তাহের পর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। তবে দেশের বেশ কিছু জায়গায় বিক্ষোভ চলমান থাকায় সেখানে ইন্টারনেট সীমিত করে রাখা হয়।

এবারে চিত্র ভিন্ন। কর্তৃপক্ষ এবার ভিন্ন উপায়ে ইন্টারনেট সেবার বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

স্থানীয় ওয়েবসাইট ও সার্ভিসগুলো এমনভাবে অনলাইনে রাখা হয়েছে যাতে অর্থনীতিতে তেমন প্রভাব না পড়ে। কয়েকটি ইন্টারনেট প্রোভাইডার বিশেষ করে প্রাইভেট কোম্পানিও, অন্যদের তুলনায় কম ঝামেলা পাহাচ্ছে।

তবে এমসিআই ও ইরানসেলের মতো দেশের বৃহত্তম সার্ভিসের ব্যবহারকারীরা মোবাইল ও ঘরে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না।

সন্ধ্যার পর বেশি বিক্ষোভের ঘটনা ঘটায় বিকেল ৪টা থেকে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত সংযোগ সীমিত রাখা হচ্ছে। তখন প্রাইভেট ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) সংযোগ ব্যবহারও অত্যন্ত কঠিন।

সারা দেশে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম ব্লক করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও মেসেজিং অ্যাপগুলো ফিল্টার করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ইরান বিক্ষোভের পরিণতি কী?
নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা
ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬

মন্তব্য

p
উপরে