× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Iranian soldiers side with mob ex football star
hear-news
player
print-icon

ইরানি সেনারা জনতার পক্ষ নিন: সাবেক ফুটবল তারকা

ইরানি-সেনারা-জনতার-পক্ষ-নিন-সাবেক-ফুটবল-তারকা
আলি কারিমি (বাঁয়ে), পাশে প্যারেডরত ইরানের সেনাবাহিনী। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে আরতেশকে (ইরানের সেনাবাহিনী) জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এশিয়ার ম্যারাডোনাখ্যাত ফুটবলার আলি কারিমি।   

হিজাব ইস্যুতে গ্রেপ্তার কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় টানা ৭দিন ধরে উত্তাল ইরান। বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়ায়, পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিক্ষোভে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে আছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্যও।

এমন পরিস্থিতে ইরানের সেনাবাহিনীর (আরতেশ) সহায়তা চেয়েছেন ইরানের সাবেক তারকা ফুটবলার আলি কারিমি। রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে আরতেশকে জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এশিয়ার ম্যারাডোনাখ্যাত এই ফুটবলার।

বিক্ষোভের মতো সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড ঠেকাতে ইরানে সাধাণরত সেনাবাহিনীকে ডাকা হয় না। এ কাজটি করে থাকে রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। তাদের সহায়তা করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

এর আগে অনেক ইরানি নাগরিক চলমান সংকট মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ চেয়েছিল। একটি মানবাধিকার গোষ্ঠী বুধবার দাবি করেছে, কুর্দি শহর সাক্কেজে সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসির মধ্যে গুলি বিনিময় হয়েছে।

কারিমি ২০১৩ সালে অবসর নেন। দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুল নির্মাণে সহায়তা এবং ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করাসহ অনেক দাতব্য কাজের জন্য সুপরিচিত তিনি৷

২০১০ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে কারিমিসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ইরানের বিরোধীনেতা হোসেন মুসাভির পক্ষে সমর্থন দেখাতে হাতে সবুজ রিস্টব্যান্ড পরেছিলেন। হোসেন মুসাভি ২০০৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন।

ইরানি সেনারা জনতার পক্ষ নিন: সাবেক ফুটবল তারকা
২০১৩ সালে ফুটবলকে বিদায় জানান আলি কারিমি

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে বা সরকারি সহিংসতার শিকার হয়েছেন যারা, তাদের প্রকাশ্যে সমর্থন দিতে কামিরিকে প্রায়ই দেখা যায়।

রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট ফারস নিউজ এজেন্সি কারিমির এমন অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা কারিমিকে বিরোধীদের দলের নতুন নেতা বলে অভিহিত করেছে।

আরও পড়ুন:
ইরানজুড়ে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবি, বিক্ষোভে নিহত ৭
হিজাব ছাড়া ভিডিও দেয়ায় ইরানি তরুণীর পৌনে ৪ বছরের জেল
ইরানের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা
‘প্রয়োজনে মরব, তবু আগের ইরান ফিরিয়ে আনব’
হিজাবে অনিচ্ছুক নারীদের হয়রানি বন্ধ করুন: জাতিসংঘ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
A city in turbulent Iran is out of the hands of security forces

উত্তাল ইরানের এক শহর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতছাড়া

উত্তাল ইরানের এক শহর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি উল্টে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথমবারের মতো ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের আশনোয় শহরের নিয়ন্ত্রণ বিক্ষোভকারীদের হাতে। তাওহিদ জাভাদি নামে একজন গণমাধ্যমকর্মী টুইটবার্তায় লিখেছেন, ১৯৫৭ সালের পর প্রথমবারের মতো একটি শহর সম্পূর্ণরূপে বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় চলমান বিক্ষোভ থামছেই না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর মাত্রা বাড়ছে এবং পরিস্থিতি ইরানি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

কয়েকটি টুইটার ভিডিওর আলোকে ডয়চে ভেলে ফার্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথমবারের মতো ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের আশনোয় শহরের নিয়ন্ত্রণ বিক্ষোভকারীদের হাতে।

তাওহিদ জাভাদি নামে একজন গণমাধ্যমকর্মী টুইটবার্তায় লিখেছেন, ১৯৫৭ সালের পর প্রথমবারের মতো একটি শহর সম্পূর্ণরূপে বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

টুইটারে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, শহর ছেড়ে মোটরবাইকে করে পালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

এদিকে তেহরানের রাস্তা থেকে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছে, বিক্ষোভকারী জনতা তেহরানের সব রাস্তা দখল করেছে।

তবে নিরপেক্ষভাবে দাবির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইন্টারনেটে হস্তক্ষেপ, ইনস্টাগ্রাম-হোয়াটসঅ্যাপ ব্লক করা, আইআরজিসি ও বিচার বিভাগের হুমকি, এমনকি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি। কোনো কিছুই থামাতে পারছে না নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে থাকা মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চলা ইরানে চলমান বিক্ষোভ।

ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘাত হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে সরকারি এজেন্টকে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা মানুষেরা তাকে গুলি না ছুড়তে অনুরোধ করলেও এজেন্ট কথা শোনেনি। এরই মধ্যে অনলাইনে তার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্য একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।

শুক্রবার রাতে ইরানের অনেক শহরে রাস্তায় মানুষজন বিক্ষোভ করেছে। তারা এ সময় ‘খামেনির মৃত্যু’, ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু’ এবং ‘আমরা জেগে উঠব’ স্লোগান দেয়।

বিক্ষুব্ধরা ‘আমরা মরব, আমরা ইরানকে ফিরিয়ে নেব’ স্লোগানও দেয়।

সন্ধ্যার পরও যখন অন্ধকার নেমে এসেছে, তখনও বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন থামেনি। তেহরান, খোরমাবাদ, আরদাবিল, ইসফাহান, কেরমানশাহ এবং কারাজের বিভিন্ন এলাকায় রাতেও বিক্ষোভ হয়েছে।

বেশির ভাগ শহরে, বিক্ষোভকারীরা খামেনিসহ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নেতাদের ছবি ছিঁড়ে ফেলেছে।

মাশহাদ শহরের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা ইসলামি বিপ্লবের নেতা ‘মুর্তেজা মোতাহারির’ মূর্তিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
নারীর পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে ইরানে নিহত ১৭
ইরান বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৮, বাইডেনের সংহতি
ইরানে বন্ধ ইনস্টাগ্রাম, ছবি যাচ্ছে না হোয়াটসঅ্যাপে
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলন কি নতুন কিছু
ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Why did Iran explode like this after Mahsas death?

মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান

মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান ইরানজুড়ে বিক্ষুব্ধদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন মাহসা আমিনি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের কট্টরপন্থি শাসকদের প্রতি ক্ষোভের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অর্থনীতি, দুর্নীতি ও সামাজিক বিধিনিষেধ নিয়ে ব্যাপক হতাশা এই অস্থিরতার সঙ্গে মিশে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিক্ষোভের ফুটেজে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পেটাচ্ছেন।

ইরানে ‘সঠিকভাবে’ হিজাব না করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তুমুল বিক্ষোভ।

রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ৮০টি শহর এখন অগ্নিগর্ভ। পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে ৫০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। আহত হয়েছেন হাজারের বেশি।

১৯৭৯ সালে দেশটিতে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে নারীর পোশাক ইস্যুতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ এটি।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ওই বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান
মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। ছবি: সংগৃহীত

নারীর জন্য কঠোর পোশাকবিধি দেখভালের দায়িত্বে আছে ইরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ ইউনিট, ফারসি ভাষায় যার প্রাতিষ্ঠানিক নাম ‘গাস্ত-ই এরশাদ’। নিবর্তনমূলক ভূমিকার কারণে এই ইউনিট দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত অজনপ্রিয়। মাহসার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে ‘নৈতিকতা পুলিশ’-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। পাশাপাশি দেশটির শাসকগোষ্ঠীর প্রতিও বিপুলসংখ্যক মানুষের অনাস্থার প্রকাশ ঘটেছে এবার।

বিক্ষোভের বেশ কয়েকটি কারণ বিশ্লেষণ করেছেন সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদক গোলনার মোতিভেলি। তার প্রতিবেদনটি ভাষান্তর করা হয়েছে নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য।


১. বিক্ষোভের কারণ কী?

তাৎক্ষণিক কারণ ছিল ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু। ১৬ সেপ্টেম্বর এ খবর প্রকাশিত হয়। রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার তথ্য অনুসারে, মাহসা কুর্দিস্তান প্রদেশ থেকে পরিবারের সঙ্গে তেহরানে ভ্রমণে এসেছিলেন।

গাস্ত-ই এরশাদ-এর একটি দল তাকে আটকের সময় দাবি করে, মাহসার পোশাক ‘সঠিক নয়’। সংস্কারপন্থি শার্গ সংবাদপত্রের বিবরণ অনুসারে, মাহসার ভাই এ সময় পুলিশের কাছে তার বোনকে সতর্ক করে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। তবে পুলিশ তা কানে নেয়নি। মাহসাকে একটি মিনিভ্যানে জোর করে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, মাহসা একটি চেয়ারে বসা ও সেখান থেকে মেঝেতে পড়ে যাচ্ছেন। তেহরানের পুলিশ বাহিনী বলেছে, তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তবে পরিবারের দাবি, মাহসার আগে কোনো শারীরিক বা স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল না এবং কর্তৃপক্ষ তাকে মারধরের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

২. ক্ষোভ কতটা তীব্র?

ইরানের বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। তারকা, রাজনীতিক ও খেলোয়াড়রা সোশ্যাল মিডিয়াতে পুলিশের নিন্দার পাশাপাশি গাস্ত-ই এরশাদ-এর সমালোচনা করেছেন। তরুণীরা মাসহার প্রতি সংহতি জানাতে তাদের মাথার হিজাব খুলে ফেলেছেন ও পুড়িয়ে দিচ্ছেন।

ইরানের কট্টরপন্থি শাসকদের প্রতি ক্ষোভের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অর্থনীতি, দুর্নীতি ও সামাজিক বিধিনিষেধ নিয়ে ব্যাপক হতাশা এই অস্থিরতার সঙ্গে মিশে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিক্ষোভের ফুটেজে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পেটাচ্ছেন।

৩. বিক্ষোভকারীদের দাবি কী?

বিক্ষোভকারীরা ৯ বছর বয়স থেকে সব নারীর জন্য বাধ্যতামূলক হিজাবের আইনকে বদলাতে চান। এই পোশাকবিধি অনুযায়ী নারীদের জনসমক্ষে চুল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে হয় এবং লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হয়।

এ আইন ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর কার্যকর হয়। ওই বছর নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি পশ্চিমপন্থি শাহকে হটিয়ে ইরানের ক্ষমতায় বসেন। তবে তার সরকার দ্রুত দেশের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও বিপ্লবী নারী কর্মীদের মধ্যে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভে অসংখ্য পুরুষও যোগ দিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

বছরের পর বছর ধরে নারীরা ধীরে ধীরে অনুমোদনযোগ্য পোশাকের সীমানা বাড়িয়েছেন। খোলা ও লেগিনসের সঙ্গে ঢিলেঢালা শাল ও পোশাক বেশিরভাগ শহরে সাধারণ পোশাক হয়ে উঠেছে। মাহসাকে যখন আটক করা হয় তার পরনেও ছিল তেমন একটি পোশাক।

৪. হিজাব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কি এই প্রথম?

১৯৭০ দশকের শেষে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই পোশাকবিধির বিরোধিতা দেশটির কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত সুশীল সমাজের একটি বৈশিষ্ট্য ছিল। তবে ২০১৭ সালের শেষের দিকে তেহরানের পাবলিক ইলেকট্রিকাল কেবিনেট ও বেঞ্চে বেশ কয়েকজন নারী তাদের মাথার স্কার্ফ খুলে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার পর থেকে ভিন্নমত আরও জোরালো হয়।

তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশকে আগ্রাসীভাবে তাদের মাটিতেও ঠেসে ধরে রাখতেও দেখা গেছে। ওই বছরের আগস্টে সেপিদেহ রাশনো নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাশনো এক ধার্মিক, চাদরে ঢাকা ব্যক্তির সঙ্গে তর্ক করছিলেন, যিনি এক তরুণীকে তার পোশাকের জন্য হয়রানি করছিলেন।

এ দৃশ্য জাতীয় টিলিভিশনে প্রচার হওয়ার পর রাশনোকে টিভিতে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। রাশনোর চেহারা ছিল ফোলা ও তাকে মারধরের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল।

৫. কর্তৃপক্ষ কীভাবে জবাব দিয়েছে?

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সহজাত প্রবৃত্তি হলো, অনুমোদনহীন জমায়েতকে বেআইনি দাবি করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে গেলে দাঙ্গা পুলিশ সাধারণত লাঠি ব্যবহার করে বা শটগানের গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে।

সাদা পোশাকধারী, স্বেচ্ছাসেবী মিলিশিয়ারাও বিক্ষোভকারীদের আক্রমণ করে এবং পরে তাদের গ্রেপ্তারে সহায়তা করার জন্য প্রায়ই ছবি তুলে রাখে। তবে মাহসাকে নিয়ে বিক্ষোভের মাত্রা কিছুটা ভিন্ন।

ইরানি পার্লামেন্টের প্রধান (একজন কট্টরপন্থী ও সাবেক পুলিশ কমান্ডার, যিনি ১৯৯০ এর দশকের শেষ দিকে বিক্ষোভকারীদের মারধর করার জন্য অভিযুক্ত) গাস্ত-ই এরশাদ আইন সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি মাহসার বাবা-মাকে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান
তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভের সময় হিজাব খুলে পুড়িয়ে দিচ্ছেন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত

৬. আগের প্রতিবাদগুলো কী নিয়ে ছিল?

সরকারের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছিল ২০০৯ সালের গ্রিন মুভমেন্ট। ওই বছর প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদের পুনর্নিবাচনে জালিয়াতির অভিযোগে ওই বিক্ষোভ হয়। রাজনৈতিক ইস্যুতে তেহরানে একের পর এক সমাবেশ ও মিছিল হতে থাকে এবং তাতে যোগ দেন লাখ লাখ মধ্যবিত্ত ইরানি।

এই বিক্ষোব দমনে বহু মানুষকে হত্যা করা হয় ও শতাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হন। ইন্টারনেট ব্যবহারে দেয়া হয় বিধিনিষেধ। তবে এরপরও বিক্ষোভ চলমান ছিল:

  • মে, ২০২২: দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে একটি ১০ ​​তলা ভবন ধসে পড়ার পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির অনুমতি দিয়েছিলেন এক সরকারি কর্মকর্তা। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হন।

    জানুয়ারি, ২০২০: ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ভুল করে একটি যাত্রীবাহি বিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করে। এতে বিমানের ১৭৬ আরোহী মারা যান। নিরাপত্তা সংস্থার অদক্ষতা ও রাষ্ট্রের দোষ লুকানোর প্রচেষ্টায় জনগণের মাঝে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।

  • নভেম্বর, ২০১৯: জ্বালানিতে ভর্তুকি দিতে থাকা সরকার হঠাৎ করেই পেট্রলের দাম বাড়িয়ে দেয়। ইরানিরা সে সময় আমেরিকান রাষ্ট্রপতি ডনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া নিষেধাজ্ঞার অধীনে ছিল। বিক্ষোভকে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে দমন করে।

  • ২০১৭ সালের শেষদিক: অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতায় হতাশা প্রকাশ করতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এটি শেষ পর্যন্ত গড়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে।

  • তেল সমৃদ্ধ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে আরবদের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে। তারা পারস্য ইরানে সংখ্যালঘু। খুজেস্তানে চলমান দুর্নীতি ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নিয়মিত বিষয়। নিরাপত্তা বাহিনী সেগুলো ক্রমাগত দমন করছে।

৭. ইরানে বিরোধীদের অবস্থান কেমন?

ইরানে কোনো সংগঠিত বিরোধী দল নাই। মানুষ ব্যক্তিগতভাবে নেতৃত্বের সমালোচনা করে। তবে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াতে তার প্রতিফলন ঘটে খুবই কম। ইরানে একমাত্র ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধকে সমর্থন করা রাজনৈতিক দলগুলোই কাজ করতে পারে।

ধর্মনিরপেক্ষ, কমিউনিস্ট ও ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের প্রচারক দল সেখানে নিষিদ্ধ। ইরানের রাজনীতিবিদদের মোটামুটিভাবে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

চরম রক্ষণশীল: যেমন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, মধ্যপন্থি বা বাস্তববাদি রক্ষণশীল: যেমন সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বা আলি লারিজানি। আর রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির মতো সংস্কারপন্থি।

সংস্কারপন্থিরা বিশ্বাস করেন, রাজনৈতিক ব্যবস্থাটি আরও উন্মুক্ত হওয়া উচিত। তবে চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে করা পারমাণবিক চুক্তি বাতিল এবং ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে তাদের জনপ্রিয়তা এবং প্রভাব কমেছে।

৯. বর্তমান ব্যবস্থার রক্ষাকবচ কী?

খামেনি ইরানের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী শাখা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এটি তার অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছে।

অর্থনীতি ও পররাষ্ট্র নীতিসহ রাষ্ট্রের সমস্ত বড় সিদ্ধান্তের পিছনে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব খামেনির। তিনি বেশ কয়েকটি বড় ধর্মীয় ফাউন্ডেশনের ডি ফ্যাক্টো প্রধান। এ ফাউন্ডেশনগুলো দেশের কিছু বৃহত্তম সংগঠন ও পেনশন তহবিল পরিচালনা করে।

সামরিক শক্তি ও অর্থনৈতিক প্রভাবের এই একত্রীকরণ ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে রাজনীতিতে একটি শক্ত দখল বজায় রাখতে সাহায্য করছে। ইরানের সমস্ত প্রধান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম থেকে বিচার বিভাগ- সবই সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত বা রাজনৈতিকভাবে তার সঙ্গে সংযুক্ত।

গত বছরের রাইসির নির্বাচনের পর থেকে ইরানের রাষ্ট্র ও সরকারের সমস্ত কিছু কট্টরপন্থিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা ইসলামিক মতাদর্শকে কঠোরভাবে রক্ষা করছে।

আরও পড়ুন:
মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
উত্তাল ইরানের এক শহর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতছাড়া
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Spy arrested in West Bengal

পশ্চিমবঙ্গে ‘গুপ্তচর’ গ্রেপ্তার

পশ্চিমবঙ্গে ‘গুপ্তচর’ গ্রেপ্তার পাকিস্তানের চর সন্দেহে গ্রেপ্তার পীর মোহাম্মদ। ছবি: সংগৃহীত
পীর মোহাম্মদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে। এসটিএফ কর্মকর্তারা তা পরীক্ষা করছেন। জব্দ করা ডিভাইসে ভারতীয় সেনা ছাউনির বিভিন্ন ছবি মিলেছে। ফোনবুকে আছে অনেক পাকিস্তানি নম্বর।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ’র মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা পীর মোহাম্মদ নামের কথিত এক গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) পশ্চিমবঙ্গের কালিংপং থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের দাবি, পীর মোহাম্মদ পাকিস্তানের চর। গুরুদাসপুরে রেললাইন ওড়ানোর ষড়যন্ত্রে তার সংশ্লিস্টতা আছে। জঙ্গিরা ভারতের কোথায় কোথায় ঘাঁটি তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে তথ্য পাচারের বেশ কিছু প্রমাণ আছে। তার কাছে পাকিস্তানি সিমকার্ড পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তারের সময় পীর মোহাম্মদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে। এসটিএফ কর্মকর্তারা তা পরীক্ষা করছেন।

জব্দ করা ডিভাইসে ভারতীয় সেনা ছাউনির বিভিন্ন ছবি মিলেছে। ফোনবুকে আছে অনেক পাকিস্তানি নম্বর। হোয়াটস অ্যাপ কলের মাধ্যমে তিনি রাওয়ালপিন্ডিতে পাক অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে দাবি করেছেন এসটিএফ গোয়েন্দারা।

পীর মোহাম্মদ মূলত নেপালের বাসিন্দা, তবে তিনি দীর্ঘদিন কালিংপংয়ে অবস্থান করছিলেন। তিনি গ্রামে ঘুরে ঘুরে সহজ কিস্তিতে ইলেকট্রনিক্স জিনিস বিক্রি করতেন। ২০২০ সালে পীর মোহাম্মদ নেপালে যান। তাবলিগ-ই জামাত করতে গিয়ে তিনি পাক গোয়ান্দের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এরপর টাকার বিনিময়ে তাদের তথ্য সরবরাহ করতেন।

মূলত ‘তথ্যের বিনিময়ে টাকার’ টোপ দিয়ে পীর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দারা। হেফাজতে রেখে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
কলকাতায় জঙ্গি নেতার বাড়িতে তল্লাশি
কালা জাদুর অভিযোগে ঘরছাড়া করা অপ্রত্যাশিত: কলকাতা হাইকোর্ট

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
After 20 years of attacks the United States is now providing financial aid to Afghanistan

২০ বছর যুদ্ধের পর সেই আফগানিস্তানেই অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

২০ বছর যুদ্ধের পর সেই আফগানিস্তানেই অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে শিশুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনা। ছবি: সংগৃহীত
তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০১ সালে যে আফগানিস্তানে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এত বছর পর এসে সে দেশে ৩২৭ মিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে জো বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বহু বছর ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালিয়ে এখন সেই আফগানিস্তানেই বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘পুরোনো বন্ধু ও শত্রু’ তালেবান সরকারের সঙ্গে এর মাধ্যমে সম্পর্কের নতুন রসায়ন শুরু হচ্ছে দেশটির।

তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০১ সালে যে আফগানিস্তানে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এত বছর পর এসে সে দেশে ৩২৭ মিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে জো বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে আফগান নাগরিকদের জন্য এই অর্থ সহায়তার ঘোষণা দেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স

দীর্ঘ দুই দশকের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে শেষ পর্যন্ত গত বছরের ৩১ আগস্ট আফগানিস্তান থেকে নিজেদের শেষ সৈন্য ও কূটনীতিককে কাবুল থেকে তুলে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন টুইটারে লিখেছেন, ‘মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে প্রায় ৩২৭ মিলিয়ন ডলার অর্থ পাঠাচ্ছে। জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে এই অর্থ দেয়া হচ্ছে। আফগান জনগণের সঙ্গে থাকার অঙ্গীকার করছি আমরা।’

জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসী বিভাগের মাধ্যমে ১১৯ মিলিয়ন ডলার এবং মানবিক সহায়তা বিভাগের মাধ্যমে ২০৮ ডলার দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থ আফগানিস্তানের জনগণের জন্য ব্যয় হবে। নগদ অর্থ, আবাস নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য, বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা ও নারীর ওপর সহিংসতা রোধে কাজে লাগানো হবে। এই অর্থের কিছু অংশ আফগানিস্তানের প্রতিবেশী পাকিস্তানেও সহায়তা হিসেবে ব্যয় হবে বলে জানানো হয় এতে।

এর আগে আফগানিস্তানে ফ্রিজ হওয়া অর্থ দেশটিকে নতুন করে গড়ে তুলতে ব্যবহার করা হবে বলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

গত বছরের ১৫ আগস্ট আশরাফ গনিকে হটিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় বসে তালেবান। এই তালেবানের সঙ্গে একসময় বৈরী সম্পর্কেই দেশটিতে হামলা শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

বিবিসি বলছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সন্ত্রাসীরা চারটি বিমান ছিনতাই করে। দুটি বিমান দিয়ে আঘাত করা হয় নিউ ইয়র্কের বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ারে, একটি আঘাত করে ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে, আরেকটি বিধ্বস্ত হয় একটি মাঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আফগানিস্তানের তখনকার শাসক তালেবানের কাছে ওই হামলার জন্য দায়ী করে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে চান। তালেবান তাকে দিতে অস্বীকার করায় অপারেশন এন্ডুরিং ফ্রিডম শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

আফগানিস্তান ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক বছরে বিশেষ করে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর আরো কয়েকটি দেশে যুদ্ধ করতে গেছে। এতে একদিকে যেমন সামরিক অভিযানের ব্যাপারটি ব্যয়বহুল, অন্যদিকে বহু সৈন্যকেও এসব যুদ্ধে প্রাণ দিতে হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, শুধু আফগানিস্তান যুদ্ধেই দেশটির খরচ হয়েছে কয়েক হাজার কোটি ডলার। নিহত হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সৈন্য।

অবশেষে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে যুদ্ধকবলিত বিভিন্ন দেশ থেকে সৈন্যদের ফিরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এ বিষয়ে আফগানিস্তানের তালেবানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছান।

এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ‘বন্ধু হয়ে ওঠা’ আফগানিস্তান থেকে গত বছর সেনা প্রত্যাহার করে যুক্তরাষ্ট্র। এবার দেয়া হচ্ছে আর্থিক সহায়তাও।

আরও পড়ুন:
মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চায় না আফগানরাই, তালেবান মন্ত্রীর দাবি
আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে ৬ মৃত্যু
নারী বিষয়ে তালেবানকে চ্যালেঞ্জ করুক মুসলিম বিশ্ব: আমেরিকার দূত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Russian controlled areas are also voting against Russia

রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভোট দেয়া যাচ্ছে রাশিয়ার বিপক্ষেও

রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভোট দেয়া যাচ্ছে রাশিয়ার বিপক্ষেও ভোটকেন্দ্রগুলোতে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকারের সুযোগ রেখেছে রুশপন্থিরা। ছবি: সংগৃহীত
রুশ অধীকৃত ইউক্রেনের অঞ্চলে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে শুক্রবার থেকে গণভোট শুরু হয়েছে। এই গণভোটকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, ভোট সংগ্রহ করতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে অস্ত্রধারী সেনারা। তবে রাশিয়া বলছে, নিরাপত্তার কারণেই এভাবে ভোট সংগ্রহ করা হচ্ছে। বরঞ্চ পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেই জানানো হয়েছে, এক নারীর পরিবার রাশিয়ার বিপক্ষে ভোট দিলেও সেনারা তা সংগ্রহ করেছে।

রাশিয়াতে যোগদানের বিষয়ে ইউক্রেনের অঞ্চলগুলোতে গণভোট নেয়া শুরু হয়েছে। রুশপন্থি সেনারা ভোট সংগ্রহ করতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, কিন্তু ভোট দিতে হচ্ছে মৌখিকভাবে এবং সেনারা তা টুকে রাখছেন।

ইউক্রেনীয়দের বরাতে বিবিসি এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

রুশপন্থি সেনাদের কাছে মৌখিকভাবে ভোট দিতে গেলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেয়া কী আদৌ সম্ভব, এ বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এনেরহোদারের একজন নারী বলেছেন, আপনাকে (রুশ অধীকৃত অঞ্চলের বাসিন্দাদের) মৌখিকভাবে উত্তর (ভোট) দিতে হবে এবং সেনারা তা একটি শিটে চিহ্নিত করে রাখে।

মেলিতোপোলের একজন নারী বলেছেন, দুই স্থানীয় সহযোগী দুজন রুশ সেনাকে নিয়ে তার বাবা-মায়ের ফ্ল্যাটে এসেছিল ভোট নিতে।

তিনি বলেন, “আমার বাবা (রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দেয়া বিষয়ক ভোটে) ‘না’ দিয়েছিলেন, এ সময় আমার মা কাছাকাছিই দাঁড়িয়ে ছিলেন, তিনি সেনাদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘না দেয়ার জন্য কী হবে?’ তারা বলেছে, কিছুই হবে না।”

যদিও সেই নারী বলেন, তার মা এখন চিন্তিত, তিনি ভাবছেন রুশরা তাদের ওপর নির্যাতন করবে।

সেই নারী জানিয়েছেন, ব্যক্তি বিশেষের জন্য নয়, পুরো পরিবারের জন্য একটি ব্যালট ছিল।

তবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট নেয়া হচ্ছে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে।

যদিও রাশিয়ার গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছিল, নির্বাচনি কর্মকর্তারা শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত পোর্টেবল ব্যালট বাক্স নিয়ে ঘরে ঘরে যাবেন। নিরাপত্তার খাতিরে শেষের দিন অর্থাৎ ২৭ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রে হবে ভোট। এ জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন কেন্দ্রেও ভোটদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখলে রাশিয়ার দাবিও যৌক্তিক।

এদিকে রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হতে ইউক্রেনীয় অঞ্চলে চলা গণভোটকে অবৈধ ও জালিয়াতির ভোট বলছে ইউক্রেন ও পশ্চিমা মিত্ররা।

২৩ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোট দেবে পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক এবং দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিজ্জা অঞ্চলের বাসিন্দারা।

একই রকম ভোট আয়োজন করা হয়েছিল ক্রিমিয়ায়। ২০১৪ সালে আয়োজিত সে ভোটে ক্রিমিয়াবাসী রুশ ফেডারশনে যুক্ত হতে ভোট দিয়েছিল।

এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে লেখা চিঠিতে পুশিলিন রাশিয়ান ফেডারেশনে ডিপিআরকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, জনগণ যদি গণভোটে একীকরণকে অনুমোদন দেয়, তবে তারা ফেডারেশনে যুক্ত হবে।

চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘দনবাসের সহিষ্ণু জনগণ মহান দেশের (রাশিয়া) অংশ হওয়ার যোগ্য। তারা রাশিয়াকে সব সময় নিজেদের মাতৃভূমি বলে মনে করে। এই পদক্ষেপে ঐতিহাসিক ন্যায়বিচারের পুনরুদ্ধার হবে; যা লাখ লাখ রাশিয়ানের আকাঙ্ক্ষা।

জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় ২০১৪ সালে হওয়া মিনস্ক চুক্তির আওতায় ইউক্রেনীয় রাজ্যের মধ্যে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলকে বিশেষ মর্যাদা দেয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুন:
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  
যুদ্ধেই ইউক্রেন সংকটের সমাধান: ক্রেমলিন
রুশ ফেডারেশনে ঢুকতে ডনবাস প্রজাতন্ত্রে গণভোট
ইউক্রেনকে ভেঙে ফেলার আহ্বান রোমানিয়ান কূটনীতিকের
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে পুতিনকে হুঁশিয়ারি বাইডেনের

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Death toll rises to 50 in Iran clothing freedom protests

ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০

ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০ পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ইরানের রাস্তায় হিজাব খুলে বিক্ষোভরত এক নারী। ছবি: টুইটার
অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ জন মারা গেছেন। তবে ইরানের কর্তৃপক্ষ বলছে, ৫ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ নিহতের সংখ্যা ১৭ জন। এরই মধ্যে ৮০টি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে সরকারপন্থিরাও।

ইরানে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় শুরু হওয়া পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে কমপক্ষে ৫০ জন মানুষ মারা গেছেন।

অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ফলে এই নিহতের ঘটনাগুলো ঘটেছে।

আইএইচআর বলছে, ইরানের উত্তর গিলান প্রদেশের রেজভানশাহর শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর ধরানো আগুনে ৬ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া আমোল, উত্তর ইরানেও নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

সংগঠনটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম এএফপিকে ৫০ জন মারা যাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে বলেন, এরপরও (ইরানে) মানুষ তার মৌলিক অধিকার ও মর্যাদার জন্য প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে।

তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের হিসেবে, ৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ নিহতের সংখ্যা ১৭ জন।

এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটির ৮০টি শহরে ছড়িয়ে গেছে।

মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদ ও পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ‘ইসরায়েলের সেনা’ হিসেবে অবিহিত করছে সরকারপন্থি ও হিজাবপন্থিরা। তারাও বিক্ষোভের আয়োজন করেছে এবং সেই বিক্ষোভ সরাসরি সম্প্রচার করা হয় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।

ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০
তেহরানে হিজাবপন্থী সমাবেশে ইরানিরা জাতীয় পতাকা নেড়ে বিক্ষোভ করছে

‘ইসরায়েল নিপাত যাক’, ‘আমেরিকা নিপাত যাক’, ‘কোরআনের অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা উচিত’- স্লোগানে তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর প্রদক্ষিণ করে সরকারপন্থিদের মিছিল।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

চলমান উত্তাল পরিস্থিতিতে ইরানে ইন্টারনেটের গতিও কমিয়ে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। একটি বড় মোবাইল ফোন অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যাহত হওয়ার কারণে লাখ লাখ গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

তেহরান ও দক্ষিণ ইরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট পাঠাতে পারলেও কোনো ছবি পাঠাতে পারছেন না। ইনস্টাগ্রাম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।

ইন্টারনেট সেবা নিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশটিতে ইন্টারনেটে হস্তক্ষেপ নতুন ঘটনা নয়। এর আগে ২০১৯ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময়েও প্রায় সপ্তাহখানেক ইন্টারনেট বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত বেড়ে ২৬
হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানি সেনারা জনতার পক্ষ নিন: সাবেক ফুটবল তারকা
নারীর পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে ইরানে নিহত ১৭
ইরান বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৮, বাইডেনের সংহতি

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Poland prepares in advance to deal with nuclear threat

পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের

পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের প্রতীকী ছবি
ইউক্রেনে চলছে রুশ সামরিক অভিযান। ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাপোরিজ্জাকে কেন্দ্র করে চলছে গোলাগুলি। এদিকে রুশ অধীকৃত ইউক্রেনের অঞ্চলে ভোটাভুটিকে কেন্দ্র করে পারমণবিক সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। এসব বিষয়কেই সামনে রেখে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ মোকাবিলায় প্রস্তুতি শুরু করেছে ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড।

ইউক্রেনের কয়েকটি অঞ্চল রাশিয়ায় যুক্ত করার কার্যক্রম শুরু করেছে ক্রেমলিন। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা দিয়েছেন, রাশিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ভান্ডারে থাকা যে কোনো অস্ত্র (পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত) ব্যবহার করবে রুশ সেনারা।

এ ছাড়া বেশ কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছে, যেকোনো সময় জাপোরিজ্জা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পাশের দেশ পোল্যান্ড পারমাণবিক হামলার ও দুর্ঘটনার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে।

পোল্যান্ডের স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক ঘটনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। যদিও তারাই বলছেন, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

পারমাণবিক যেকোনো দুর্ঘটনায় ও হামলায় আশপাশে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের
পটাশিয়াম আয়োডাইট ট্যাবলেট

পোল্যান্ডের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ এডুকেশনাল ম্যানেজমেন্ট স্টাফের (ওএসকেকেও) প্রধান মারেক প্লেসনিয়ার শুক্রবার এক স্থানীয় পত্রিকাকে বলেছে, পোলিশ শিক্ষকদের জরুরি পরিস্থিতিতে তেজস্ক্রিয়তা থেকে রক্ষা পেতে জরুরি পরিস্থিতিতে বিকিরণ প্রতিরোধী পটাশিয়াম আয়োডাইট ট্যাবলেট ছাত্রদের হাতে তুলে দিতে বলা হয়েছে।

সতর্কতা জারির সঙ্গে সঙ্গে ৬ ঘণ্টার মধ্যে যাতে ট্যাবলেট বিতরণ সম্ভব হয়, সেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

ওয়ারশ সিটি হলের মুখপাত্র জ্যাকুব লেদুচোস্কি বলেছেন, বর্তমানে বিকিরণের ঘটনার ঝুঁকি যদিও খুব কম, এর পরও কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্নায়ুযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো সমকক্ষ প্রতিপক্ষের সঙ্গে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা মোকাবিলা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।

পোলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার বলেছে, এর আগে ইউক্রেনের জাপোরিজ্জায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে লড়াইয়ের সময়েও আঞ্চলিক ফায়ার সার্ভিস বিভাগে পটাশিয়াম আয়োডাইট ট্যাবলেট পাঠানো হয়েছিল।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মস্কো সামরিক অভিযান শুরু করার পরপরই রাশিয়ার সেনারা ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দখল করে। মস্কো ও কিয়েভ তখন থেকে একে অপরের ওপর পারমাণবিক কেন্দ্রে গোলাবর্ষণের অভিযোগ এনেছিল।

পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের
জাপোরিজ্জায় পাহারারত রুশ সেনা

এ ছাড়া ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পারমাণবিক যুদ্ধকে বাস্তব বলছেন ইউএস স্ট্রাটেজিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল চার্লস রিচার্ড।

বুধবার মেরিল্যান্ডে আয়োজিত এক কনফারেন্সে তিনি বলেন, ‘স্নায়ুযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো সমকক্ষ প্রতিপক্ষের সঙ্গে পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাবনা মোকাবিলা করছে যুক্তরাষ্ট্র।’

এদিকে ভ্লাদিমির পুতিনের সুরে সুর মিলিয়ে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, ‘মস্কোর অস্ত্রাগারে থাকা কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রসহ যেকোনো অস্ত্র ইউক্রেন থেকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাওয়া অঞ্চলগুলো রক্ষা করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।’

আরও পড়ুন:
যুদ্ধেই ইউক্রেন সংকটের সমাধান: ক্রেমলিন
রুশ ফেডারেশনে ঢুকতে ডনবাস প্রজাতন্ত্রে গণভোট
ইউক্রেনকে ভেঙে ফেলার আহ্বান রোমানিয়ান কূটনীতিকের
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে পুতিনকে হুঁশিয়ারি বাইডেনের
ইজিউমের গণকবরে ‘নির্যাতনের চিহ্ন’

মন্তব্য

p
উপরে