× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Iran in China Russia alliance to beat America
hear-news
player
print-icon

আমেরিকাকে টেক্কা দিতে চীন- রাশিয়ার জোটে ইরান

আমেরিকাকে-টেক্কা-দিতে-চীন--রাশিয়ার-জোটে-ইরান
এসসিও সম্মেলনের সাইডলাইনে বৈঠক শেষে হাত মেলাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: এএফপি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমিরাবদুল্লাহিয়ান বলেন, ‘এসসিওর পূর্ণ সদস্যপদের জন্য নথিতে সই করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, ট্রানজিট এবং জ্বালানি সহযোগিতার নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে ইরান।’

আমেরিকার প্রভাব কমাতে মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে (এসসিও) যোগ দিয়েছে ইরান। এ-সংক্রান্ত একটি স্মারকে বৃহস্পতিবার সই করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমিরাবদুল্লাহিয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “এসসিওর পূর্ণ সদস্যপদের জন্য নথিতে সই করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, ট্রানজিট এবং জ্বালানি সহযোগিতার নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে ইরান।”

চীন, ভারত, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তানের নেতারা মিলে ২০০১ সালে গঠন করেন-এসসিও। উজবেকিস্তানের সমরকন্দে বৃহস্পতিবার সকালে সম্মেলন করে সদস্য দেশগুলো। এই সম্মেলনের ঠিক আগ মুহূর্তে ইরানের যোগ দেয়ার ঘোষণাটি আসে।

আফগানিস্তান, বেলারুশ, ইরান ও মঙ্গোলিয়া এই গ্রুপের পর্যবেক্ষক দেশ। তাদের ছয়টি ‘সংলাপ অংশীদার’ দেশ আছে। এগুলো হলো আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, কম্বোডিয়া, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও তুরস্ক।

গত বছর ইরানের যোগদানের আবেদন গ্রহণ করে এসসিও। সে সময় তেহরান জানায়, পরমাণু ইস্যুতে পশ্চিমাদের চাপিয়ে দেয়া নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া জানাতে তাদের সাহায্য দরকার।

সমরকন্দে সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেন, ‘ইরান, রাশিয়া বা অন্যান্য দেশের মতো আমেরিকার নিষেধাজ্ঞায় থাকা অঞ্চলগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলে অনেক জটিলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

‘আমেরিকানরা মনে করে, তারা যেকোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তাদের দমাতে পারবে। তাদের ধারণাটি আসলে ভুল।’

জবাবে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, ‘রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক দারুণভাবে এগোচ্ছে। তেহরানের এসসিও সদস্য হওয়ার প্রশ্নে আমাদের পূর্ণ সমর্থন আছে।’

ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে পূর্ণ সদস্যপদ পাবে ইরান।

২০১৮ সাল থেকে ইরানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশটির অর্থনীতিতে শক্ত আঘাত করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া, চীনের আহ্বান উপেক্ষা করে ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসেন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
9 Kurds killed in Iranian attack across the border to suppress protests

বিক্ষোভ দমনে সীমান্ত পেরিয়েও ইরানি হামলা, ৯ কুর্দি নিহত

বিক্ষোভ দমনে সীমান্ত পেরিয়েও ইরানি হামলা, ৯ কুর্দি নিহত ইরাকের কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। ছবি: এএফপি
কুর্দি আঞ্চলিক সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আরব নিউজ বলছে, প্রতিবেশী দেশটির উত্তরাঞ্চলে ড্রোন হামলা চালিয়ে অন্তত ৯ জনকে হত্যা করেছে ইরান, আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। ইরানি কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে বুধবার হামলাটি হয়।    

ইরানে হিজাব ইস্যুতে গ্রেপ্তার কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুতে দেশজুড়ে চলছে বিক্ষোভ। ইতোমধ্যে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে অন্তত ৭০টি শহরে। বিক্ষোভ দমাতে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান বাড়ছে প্রাণহানি।

এসবের মধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে ইরাকের কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে ইরানের ড্রোন হামলা খবর পাওয়া গেছে। কারণ ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও অস্থিরতার জন্য ‘কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ দায়ী করছে তেহরান।

কুর্দি আঞ্চলিক সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আরব নিউজ বলছে, প্রতিবেশী দেশটির উত্তরাঞ্চলে ড্রোন হামলা চালিয়ে অন্তত ৯ জনকে হত্যা করেছে ইরান, আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। ইরানি কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে বুধবার হামলাটি হয়।

ইরানি কুর্দিস্তানের ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য সোরান নুরি বলেন, ‘ইরবিলের প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পূর্বে কোয়া শহরে হামলা হয়েছে।’

ইরানে নিষিদ্ধ বামপন্থী সশস্ত্র বিরোধী সংগঠনটি কেডিপিআই নামে পরিচিত। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার।

কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার বলছে, ‘বিরোধী মতাদর্শের ওপর ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না, এটা যে অজুহাতেই হোক না কেন।

‘আমরা হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। এসব বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানিয়েছে, কুর্দিস্তানের চারটি এলাকা হামলার শিকার হয়েছে।

নুরি বলেন, ‘ইরানের ড্রোন হামলা একটি সামরিক ক্যাম্প, বসতবাড়ি, অফিস এবং কোয়া শহরের আশপাশের কয়েকটি এলাকায় আঘাত হেনেছে। হামলা এখনও হচ্ছে।’

তবে এসবে কর্ণপাত করছে না ইরান সরকার। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ইরাকের উত্তরে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর ঘাঁটিকে ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করেছে বিপ্লবী গার্ড।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

বিক্ষোভ দমনে সীমান্ত পেরিয়েও ইরানি হামলা, ৯ কুর্দি নিহত
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

হিজাব আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য চলতি বছরের ৫ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে ‘সঠিক নিয়মে’ পোশাকবিধি অনুসরণ না করা নারীদের সরকারি সব অফিস, ব্যাংক এবং গণপরিবহনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত জুলাইয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #no2hijab হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। দেশটির নারী অধিকারকর্মীরা ১২ জুলাই সরকার ঘোষিত জাতীয় হিজাব ও সতীত্ব দিবসে প্রকাশ্যে তাদের বোরকা ও হিজাব সরানোর ভিডিও পোস্ট করেন।

আরও পড়ুন:
মাস্কের স্টারলিংক ইরানে কেন কাজ করবে না?
ইরান বিক্ষোভের পরিণতি কী?
নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা
ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬
ইরানের নৈতিকতা পুলিশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার নিষেধাজ্ঞা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Myanmar model jailed by junta for spreading nude photos

নগ্ন ছবি ছড়ানোয় মিয়ানমারের মডেলের জেল

নগ্ন ছবি ছড়ানোয় মিয়ানমারের মডেলের জেল ন্যান মিউ স্যান
দণ্ডপ্রাপ্ত ন্যান মিউ স্যান গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসা সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আন্দোলনও করেছিলেন। অনলফি ফ্যানে কনটেন্ট দেয়ার ঘটনায় তিনিই প্রথম দণ্ড ভোগ করছেন।

নগ্ন ছবি ও ভিডিও ছড়ানোর দায়ে এক মডেলকে ছয় বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার আদালত।

দেশটির সংস্কৃতির ক্ষতি ও মর্যাদাহানি করায় তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি

সপ্তাহ দুয়েক আগেই সাবেক এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তিনি একটি পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও আপলোড করেছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ন্যান মিউ স্যান গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসা সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আন্দোলনও করেছিলেন। অনলফি ফ্যানে কনটেন্ট দেয়ার ঘটনায় তিনিই প্রথম দণ্ড ভোগ করছেন।

নগ্ন ছবি ছড়ানোয় মিয়ানমারের মডেলের জেল

এর আগে আরেক মডেলকেও সামরিক সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য গ্রেপ্তার করে মিয়ানমার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই আন্দোলনের ছবি পোস্ট করার ঘটনায় অক্টোবরে তার বিরুদ্ধেও রায় হবে।

স্যানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে যোগাযোগমাধ্যমে অর্থের জন্য নগ্ন ছবি ও ভিডিও আপলোড করেছেন তিনি। এ অপরাধে দেশটিতে সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজার আইন রয়েছে।

ইয়াঙ্গুনের একটি কারাগারে বন্দি আছেন এই মডেল। কারাগারটিতে অনেক রাজনৈতিক নেতাও বন্দি আছেন। তিনি যে মামলায় সাজা পেয়েছে, এ ধরনের মামলায় কোনো আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেয় না জান্তা সরকার।

স্যানের মাা বলেছেন, সম্প্রতি তিনি মেয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। তবে সামরিক আদালতে রায় নিয়ে বুধবারের আগ পর্যন্ত তিনি কিছুই জানতেন না।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমার নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল চীন
তুমব্রু সীমান্তে দুর্গোৎসব নিয়ে উৎকণ্ঠা
যুদ্ধের মাধ্যমে উন্নয়ন ধ্বংস করতে পারি না: কৃষিমন্ত্রী

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
What are the consequences of Iran protests?

ইরান বিক্ষোভের পরিণতি কী?

ইরান বিক্ষোভের পরিণতি কী? মাহসা আমিনির মৃত্যু কেন্দ্র করে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে উত্তাল ইরান। ছবি: সংগৃহীত
আরব বসন্তের সময়ের মতোই ইরানের বর্তমান বিক্ষোভ নেতৃত্বহীন। নেতৃত্বহীন বিক্ষোভের একটি দিক হলো, এখানে এমন কোনো গ্রুপ নেই যারা আরও মানুষকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানাতে পারে। এমন কেউ নেই যারা বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও কৌশলের সমন্বয় করতে পারে। স্বতঃস্ফূর্ততা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হতে পারে, তবে একে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা কঠিন।

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে টানা বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৬ জন।

বিক্ষোভ দমনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ব্লকসহ ইন্টারনেটে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে এর পরও একের পর এক শহরে ছড়িয়ে পড়ছে সহিংস প্রতিবাদ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক নিবন্ধে এই বিক্ষোভের সম্ভাব্য পরিণতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ব্লুমবার্গের অপিনিয়ন কলামিস্ট ববি ঘোষের নিবন্ধটি ভাষান্তর করা হয়েছে নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য।

পুলিশি হেফাজতে কুর্দি নারী মাহসা আমিনির মৃত্যু কেন্দ্র করে ইরানে টানা বিক্ষোভ তৃতীয় সপ্তাহের দিকে গড়াচ্ছে। সময় যতই যাচ্ছে, ততই দমন-পীড়ন তীব্র করছে শাসকগোষ্ঠী।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমিরাবদুল্লাহিয়ান পশ্চিমা প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘ইরানে বড় কোনো ঘটনা ঘটছে না।’

তবে ইরান যোগাযোগমাধ্যমগুলো বন্ধ করে শাসকগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান বর্বরতাকে চাপা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের নেতৃস্থানীয় শক্তিগুলো ক্রমাগত এর নিন্দা জানাচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এখন প্রশ্ন হলো, বিক্ষোভকারীরা ইরানের অভ্যন্তরের অন্য গোষ্ঠীগুলোকে তাদের সঙ্গে যোগ দিতে রাজি করাতে পারবে কি না।

চোখের সামনে ঘটা প্রমাণগুলো অস্বীকারে ইরানিদের রাজি করাতে না পেরে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির শাসকেরা এখন প্রোপাগান্ডার পথ বেছে নিচ্ছে। তারা প্রচার করছে বিক্ষোভগুলো নিছক ‘দাঙ্গা’, ইরানের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা দুর্বল করে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় এগুলো ঘটানো হচ্ছে।

তবে ইরানি জনতা বোকা নয়। যোগাযোগমাধ্যম ব্ল্যাকআউটকে ফাঁকি দিয়ে তারা অব্যাহত বিক্ষোভের কথা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। গোটা বিশ্ব জানে, মাহসা আমিনির হেফাজতে মৃত্যুতে প্রতিবাদে প্রথম যারা রাস্তায় নেমেছিলেন তারা এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির ডালপালা ছেঁটে, এমনকি শিকড় উপড়ে ফেলার আহ্বান জানাচ্ছেন।

বিক্ষোভে তাদের স্লোগান শুধু প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির বিরুদ্ধে নয়, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং তার ছেলে মোজতবাও এখন ক্ষোভের লক্ষ্য। মোজতবাকে অনেকেই পর্দার নেপথ্যের শক্তি বলে মনে করেন।

আশঙ্কা ছিল, রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাতের কারণে ইরানের দিকে বিশ্বের মনোযোগ নাও পড়তে পারে। তবে সেটি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। পশ্চিমা নেতারা তেহরানের শাসনব্যবস্থাকে চেপে ধরেছেন।

ক্র্যাকডাউনে জড়িত দেশটির নৈতিকতা পুলিশ এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। ইরানিদের ইন্টারনেট পরিষেবায় সাহায্য করতে বাইডেন প্রশাসন ইলন মাস্কের স্টারলিংকের মতো সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে।

তবে ইরানের শাসকগোষ্ঠী প্রচলিত হাতিয়ারের ওপর নির্ভরতা যদি হারিয়েও ফেলে, তার পরও তাদের দমন-পীড়নের ভয়ংকর ব্যবস্থাগুলো বেশ নির্ভরযোগ্য। নিয়মিত পুলিশ এবং বাসিজ মিলিশিয়া থেকে শুরু করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের প্রতিবাদ আন্দোলন দমনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তাদের হাতে ২০১৯ সালে এক হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান, এর মাধ্যমে সে বছর তুমুল বিক্ষোভ দমন করা হয়।

আর সেটা ঘটেছিল কথিত মধ্যপন্থি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সময়ে। এবার বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট রাইসির কাছ থেকে আরও বেশি নিষ্ঠুরতার শিকার হতে পারেন। রাইসি এর আগে বিচারক থাকার সময়ে অসংখ্য মানুষকে ফাঁসিতে ঝোলানোর রায় দিয়েছেন।

প্রতিবাদ এগিয়ে নিতে বিক্ষোভকারীদের আন্তর্জাতিক মনোযোগের চেয়েও বেশি প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ সমর্থন। এই সমর্থন রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার ভেতর এবং বাইরে- দুই দিক থেকেই পেতে হবে।

রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার ভেতর থেকে সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। অন্তত স্বল্প সময়ের মধ্যে শাসন​​ব্যবস্থায় ফাটল ধরার কোনো লক্ষণ নেই। তথাকথিত মধ্যপন্থি রুহানি এবং তার সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফের মতো ব্যক্তিদের বেশির ভাগই দুই সপ্তাহ ধরে নিশ্চুপ।

দেশটির কয়েক ডজন গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহর (শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতা) মধ্যে কেবল হোসেইন নুরি হামাদানি মৃদু ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারকে উচিত জনগণের দাবির কথা শোনা।

অন্যদিকে বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মহসেনি এজেই সতর্ক করে বলেছেন, যেসব জনব্যক্তিত্ব বিক্ষোভকে সমর্থন করবেন তাদের অবশ্যই সরকারি সম্পত্তি বিনষ্টের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

আরব বসন্তের সময় তিউনিসিয়া ও মিসরের মতো ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীও বিক্ষোভকারীদের প্রতি ন্যূনতম সহানুভূতি দেখিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দমনের পাশাপাশি তারা শাসকগোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাল্টা বিক্ষোভের মঞ্চায়ন করছে। নিজস্ব মিডিয়া আউটলেট ব্যবহার করে সরকারপন্থি সেই বিক্ষোভ প্রচারও করা হয়।

চলমান বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের জন্য আশা হয়ে দাঁড়াতে পারে আন্দোলনে দেশটির সংগঠিত শ্রমিকদের সংহতি। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির মধ্যে বেতন বাড়ানোর দাবিতে বেশ কয়েকটি শ্রমিক ইউনিয়ন গত দুই বছরে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। তারা এখনও নারীদের নেতৃত্বে চলমান বিক্ষোভে যোগ দেয়নি।

শিক্ষকদের একটি ইউনিয়ন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে, তবে তার প্রভাব খুব একটা পড়েনি। ইউনিয়নগুলোর সাড়া না পাওয়ার কারণ হতে পারে তারা আগের আন্দোলনের ব্যর্থতার জন্য নিরাশায় ভুগছে। এখন যারা রাস্তায় প্রতিবাদমুখর, তাদের বেশির ভাগ তরুণ ও বেকার। এই বিক্ষোভকারীদের সাফল্যের সম্ভাবনা নিয়েও ইউনিয়নগুলো সন্দিহান।

রাইসি এবং খামেনির সঙ্গে মতভেদ আছে শাসকগোষ্ঠীর ভেতরের এমন নেতারাও একইভাবে অপেক্ষা করছেন। তারা দেখতে চান, আগের বিক্ষোভকারীদের চেয়ে এবারের আন্দোলনকারীরা রাস্তায় বেশি দিন টিকে থাকার শক্তি রাখেন কি না।

ইরানের অভিজাত শ্রেণির মধ্যে সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বিভেদ দেখা দিয়েছিল ২০০৯ সালে। বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রতিবাদে ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ নামে দেশব্যাপী বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়। ওই আন্দোলন ব্যাপক জনসমর্থন পেলেও নিরাপত্তা বাহিনী শেষ পর্যন্ত দেশটির সর্বোচ্চ নেতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিক্ষোভ দমন করে।

সেবারও প্রাণ হারান বহু মানুষ। আন্দোলনের নেতাদের গৃহবন্দি করা হয় এবং সেই বন্দিদশা আর শেষ হয়নি।

আরব বসন্তের সময়ের মতোই ইরানের বর্তমান বিক্ষোভ নেতৃত্বহীন। ফলে শাসকগোষ্ঠী কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এটি দমনের সুযোগ পাচ্ছে না।

তবে নেতৃত্বহীন বিক্ষোভের আরেকটি দিক হলো, এখানে এমন কোনো গ্রুপ নেই যারা আরও মানুষকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানাতে পারে। এমন কেউ নেই যারা বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও কৌশলের সমন্বয় করতে পারে। স্বতঃস্ফূর্ততা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হতে পারে, তবে একে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা কঠিন।

বিক্ষোভকারীদের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো, নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দুক ও গুলির মুখেও নিজেদের সাহস ধরে রাখা এবং রাস্তায় টিকে থাকা। সেই সঙ্গে তারা প্রার্থনা করতে পারেন, এই অনমনীয় দৃঢ়তা শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকেও যুক্ত হতে উৎসাহিত করবে। এরপর শাসকগোষ্ঠীর ভেতর থেকেই তাদের পক্ষে সরব হবেন অনেকে।

এমন ঘটনা ঘটাতে মহাকাব্যিক সহ্যসীমার প্রয়োজন পড়বে। সেই ঘটনার দৃশ্যায়ন হবে নির্মম, কিন্তু বিশ্ব তা থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখতে পারবে না।

আরও পড়ুন:
বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর
উত্তাল ইরানে ইলন মাস্কের ভূমিকা কী
হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট
মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান
মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Sri Lankan government employees are punished for posting on Facebook

ফেসবুকে পোস্ট দিলেই শাস্তি শ্রীলঙ্কার সরকারি কর্মীদের

ফেসবুকে পোস্ট দিলেই শাস্তি শ্রীলঙ্কার সরকারি কর্মীদের শ্রীলঙ্কার একটি সরকারি অফিস। ফাইল ছবি
শ্রীলঙ্কায় সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা ১৫ লাখের মতো। এতদিন তাদের গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা নিষেধ ছিল, এবার সেই নিষেধাজ্ঞা পৌঁছাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের ক্ষেত্রেও।

নানা সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কার সরকারি কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মত প্রকাশ করে পোস্ট করলেই শাস্তি পেতে হবে তাদের।

দেশটির জনপ্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এই নির্দেশনা দেয়া হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস

শ্রীলঙ্কায় সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা ১৫ লাখের মতো। এতদিন তাদের গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা নিষেধ ছিল, এবার সেই নিষেধাজ্ঞা পৌঁছাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের ক্ষেত্রেও।

সম্প্রতি বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী খাবারের অভাবে স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলে একটি প্রাদেশিক স্কুলের শিক্ষক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অভিযোগের পর সরকারি কর্মীদের ওপর নতুন নিয়ম প্রয়োগ করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকাররি কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশ করা অপরাধ। এটি করলে কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

১৯৪৮ সালে ব্রিটিশরাজের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছে এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্র।

দেশটিতে নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দামে বিপর্যস্ত জনজীবন। মূল্যস্ফীতি, দুর্বল সরকারি অর্থব্যবস্থা এবং করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।

লঙ্কান সরকারের অন্যতম রাজস্ব আয়ের খাত পর্যটনশিল্প ধসে পড়েছে, রেমিট্যান্স পৌঁছেছে তলানিতে। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ নেমে এসেছে ২ বিলিয়ন ডলারে। লোডশেডিং; খাবার, ওষুধ ও জ্বালানিসংকটে ক্ষোভ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গত কয়েক বছর শ্রীলঙ্কার রাজনীতি বেশ টালমাটাল ছিল। এই অবস্থায় দেশটির বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে।

এ প্রেক্ষাপটে সংকটের জন্য প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ও তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতিকে দায়ী করেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভরতদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও ক্ষমতাসীনদের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজনের।

একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজপাকসে ও তার ভাই প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসেকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। এসেছে নতুন নেতৃত্ব। ঋণের জন্য চুক্তি হয়েছে আইএমএফসহ বিভিন্ন সংস্থা ও দেশের সঙ্গে। তবু অস্থিরতা চলছেই। কাটছে না দেশটির সংকট।

আরও পড়ুন:
শ্রীলঙ্কা সংকটের ‘বড় বলি’ হচ্ছেন তামিলরা
২০২২ সালে শ্রীলঙ্কাকে শীর্ষ ঋণদাতা ভারত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Russia claims victory in referendum in 4 occupied regions of Ukraine

ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলে গণভোটে জয় দাবি রাশিয়ার

ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলে গণভোটে জয় দাবি রাশিয়ার চলছে গণভোট। ছবি: বিবিসি
রাশিয়া যদি এই চারটি অঞ্চল এবার নিজেদের দেশের সঙ্গে যুক্ত করে নেয় তবে চলমান যুদ্ধ আরেকটি ভিন্ন এবং বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যাবে। কারণ এসব অঞ্চল ফিরে পেতে ইউক্রেন হামলা করলে সেই হামলা হবে রাশিয়ার সার্বভৌম ভূমিতে হামলা।

রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের গণভোটে রায় এসেছে মস্কোর পক্ষে, তবে এই গণভোটকে জালিয়াতি আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন এবং তার মিত্র দেশগুলো।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে ২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর এ গণভোটের আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি

অঞ্চলগুলোতে দায়িত্ব নেয়া রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, গণভোটে অংশগ্রহণকারীদের সবাই এখন এর মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সমর্থন দিয়েছেন।

নির্বাচনে প্রায় ৪০ লাখ ভোটারকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাবে প্রক্রিয়াটি স্বাধীনভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি।

দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলে রুশপন্থী বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, ৯৯.২৩ শতাংশ মানুষ রাশিয়ায় যোগ দেয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে। আর খেরসনে ৮৭ শতাংশ এবং জাপোরিঝঝিয়ায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দেয়ার পক্ষে।

অবশ্য গণভোটে এত বেশি ভোট পড়ার দাবি অনেকটা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এমন প্রেক্ষাপটে ধারণা করা হচ্ছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার রাশিয়ার পার্লামেন্টে যৌথ অধিবেশনে এ অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ার অংশ করে নেয়ার ঘোষণা দেবেন। এ চারটি অঞ্চল ইউক্রেনের মোট ভূমির প্রায় ১৫ শতাংশ।

আরটির প্রতিবেদন বলছে, এ অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ার সঙ্গে অঙ্গীভূত করার জন্য রাশিয়ার পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্টের অনুমোদন লাগবে। এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগবে।

তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, কাজটি দ্রুতই হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এর আগে ২০১৪ সালের মার্চে একই ধরনের একটি গণভোটের মাধ্যমে পুতিন ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ করে নেয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন।

বিবিসি বলছে, রাশিয়া যদি এই চারটি অঞ্চল এবার নিজেদের দেশের সঙ্গে যুক্ত করে নেয় তবে চলমান যুদ্ধ আরেকটি ভিন্ন এবং বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যাবে। কারণ এসব অঞ্চল ফিরে পেতে ইউক্রেন হামলা করলে সেই হামলা হবে রাশিয়ার সার্বভৌম ভূমিতে হামলা।

ইউক্রেনের ভেতরে থাকা এই চারটি অঞ্চল জোর করে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টাকে জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনেস্কি। তিনি বলেন, দখল করা এলাকাগুলোতে এ ধরনের প্রহসনকে গণভোটের নকলও বলা যায় না।

সার্বিক পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে রাশিয়ার ওপর আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পরে গণভোট বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

আর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, এসব অঞ্চলকে রাশিয়া তাদের অংশ করে নিলে সেটিকে পাশ্চাত্য কখনোই স্বীকৃতি দেবে না।

তবে পুতিন বলেছেন, এসব অঞ্চলে বসবাসরত জাতিগত রাশিয়ান এবং রাশিয়ান ভাষাভাষী জনগণের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করার জন্য এই আয়োজন।

আরও পড়ুন:
পুতিনের সেনা সমাবেশের ঘোষণার প্রতিবাদে রাশিয়ায় বিক্ষোভ
রাশিয়ার আংশিক সেনা সমাবেশে যাদের ডাকা হবে
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  
রুশ সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ৩ লাখ রিজার্ভ সেনা তলব করছেন পুতিন
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে পুতিনকে হুঁশিয়ারি বাইডেনের

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The king made the Saudi prince the prime minister

সৌদি যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রী করলেন বাদশাহ

সৌদি যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রী করলেন বাদশাহ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বাদশাহ সালমান বিন আবদুলাজিজ আল সৌদ। ছবি: সৌদি গেজেট
শাসনের মৌলিক আইনের ৫৬ অনুচ্ছেদের বিধান এবং মন্ত্রিপরিষদ আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোতে ছাড় দিয়ে যুবরাজ এমবিএসকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন বাদশাহ সালমান বিন আবদুলাজিজ আল সৌদ, তবে এমবিএস প্রধানমন্ত্রী হলেও মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বাদশাহ।

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বাদশাহ সালমান বিন আবদুলাজিজ আল সৌদ।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাজ ফরমানে এমবিএসের ওপর নতুন এ দায়িত্ব অর্পণ করেন তার ৮৬ বছর বয়সী বাবা।

ফরমানের বরাত দিয়ে সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এমবিএস প্রধানমন্ত্রী হলেও মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বাদশাহ।

এতে জানানো হয়, শাসনের মৌলিক আইনের ৫৬ অনুচ্ছেদের বিধান এবং মন্ত্রিপরিষদ আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোতে ছাড় দিয়ে যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছে।

আরেক ফরমানে যুবরাজের নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদে রদবদল আনেন বাদশাহ সালমান।

তিনি উপপ্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। নতুন শিক্ষামন্ত্রী নিযুক্ত করা হয় ইউসেফ বিন আবদুল্লাহ আল-বেনিয়ানকে। এ ছাড়া তালাল বিন আবদুল্লাহ আল-ওতাইবিকে সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন বাদশাহ।

মন্ত্রিপরিষদে রদবদলের পরও যারা পদ ধরে রাখতে পেরেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিমন্ত্রী প্রিন্স মনসুর বিন মিতেব, জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলাজিজ বিন সালমান, প্রতিমন্ত্রী প্রিন্স তুর্কি বিন মোহাম্মদ বিন ফাহদ, ক্রীড়ামন্ত্রী প্রিন্স আবদুলাজিজ বিন তুর্কি বিন ফয়সাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলাজিজ বিন সৌদ বিন নাইফ, ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রী প্রিন্স আবদুল্লাহ বিন বন্দর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহ, সংস্কৃতিমন্ত্রী প্রিন্স বদর বিন আবদুল্লাহ বিন ফারহান, প্রতিমন্ত্রী শেখ সালেহ বিন আবদুলাজিজ আল-শেখ।

এ ছাড়াও পদে বহাল আছেন ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুললতিফ আল-শেখ, আইনমন্ত্রী ড. ওয়ালিদ আল-সামানি, প্রতিমন্ত্রী ড. মুত্তালিব আল-নাফিসাহ, প্রতিমন্ত্রী ড. মুসায়েদ বিন মোহাম্মদ আল-আইবান, প্রতিমন্ত্রী ড. ইব্রাহিম আল-আসাফ, হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক আল-রাবিয়াহ, শুরা পরিষদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. ইসাম বিন সাদ বিন সাইদ, বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারপ্রাপ্ত গণমাধ্যমবিষয়ক মন্ত্রী ড. মাজেদ আল-কাসাবি।

আরও পড়ুন:
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাইসহ ৩ বাংলাদেশি নিহত
যেকোনো ভিসাতেই সৌদিতে ওমরাহ পালনের সুযোগ
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে সৌদির সঙ্গে চুক্তি প্রস্তাব অনুমোদন
৩ মাসের ভিসা পাবেন ওমরাহযাত্রীরা
সৌদির ৪৮ শতাংশ নাগরিক সপ্তাহে খেলাধুলা করেন ৩০ মিনিট

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Saudi Arabia deletes 5 million telegram messages

উগ্রবাদী ৫০ লাখ টেলিগ্রাম বার্তা মুছল সৌদি আরব   

উগ্রবাদী ৫০ লাখ টেলিগ্রাম বার্তা মুছল সৌদি আরব    সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত এতিদালের সদরদপ্তর। ছবি: এএফপি
দ্য গ্লোবাল সেন্টার ফর কমবেটিং এক্সট্রিমিস্ট আইডিওলজি (এতিদাল) জানিয়েছে, ১৭ জুলাই থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় টেলিগ্রামের একটি টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে মিলে ৫২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮টি কনটেন্ট মুছে ফেলেছে তারা।

সৌদি আরবে দুই মাসে ৫০ লাখের বেশি উগ্রবাদী টেলিগ্রাম বার্তা মুছে দিয়েছে দেশটির সরকার।

দ্য গ্লোবাল সেন্টার ফর কমবেটিং এক্সট্রিমিস্ট আইডিওলজি (এতিদাল) সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। তারা বলেছে, ১৭ জুলাই থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় টেলিগ্রামের একটি টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে মিলে ৫২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮টি কনটেন্ট মুছে ফেলা হয়েছে।

মুছে ফেলা কনটেন্টগুলোর মধ্যে আছে, সিরিয়া গৃহযুদ্ধে জড়িত জঙ্গি গোষ্ঠী তাহরির আল-শাম সম্পর্কিত ৩০ লাখ ১২ হাজার ৪৮৩টি বার্তা, আল-কায়েদা সম্পর্কিত ১১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৭টি এবং আইএস সম্পর্কিত ১০ লাখ ৮৮ হাজার ১৪২টি বার্তা।

এতিদাল জানায়, উগ্রবাদী কনটেন্ট সরিয়ে নিতে চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে টেলিগ্রামের সঙ্গে কাজ শুরু করে তারা। মূলত ব্যবহারকারীদের হুমকি এবং নেতিবাচক মতাদর্শ থেকে রক্ষা করতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়। মুছে ফেলা আরবি বার্তাগুলোর মধ্যে আছে, পিডিএফ, ভিডিও এবং ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া ফাইল।

সৌদি লেখক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুবারক আল-আতি মনে করছেন, চরমপন্থি বক্তব্য ও সন্ত্রাসবাদের ধারণা মোকাবিলায় তারা যথেষ্ট... এটা প্রমাণ করতে যাচ্ছে এতিদাল।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিকস্তরে হুমকি মোকাবিলায় সংস্থাটির কাজ সুপরিচিত। টেলিগ্রামের মতো হাই-প্রোফাইল অংশীদারের সঙ্গে কাজ করে সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য পাবলিক অনলাইনে চরমপন্থী প্রভাব কমাতে পারবে তারা।

‘এটি সমাজে এ ধরনের কনটেন্টের প্রভাব কমিয়ে আনবে। পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক সংস্থাগুলোকে সমাজের নিরাপত্তা রক্ষা ও বজায়ে নিজেদের দায়িত্বগুলোকে মনে করিয়ে দেবে।’

উগ্রবাদী ৫০ লাখ টেলিগ্রাম বার্তা মুছল সৌদি আরব
সৌদি লেখক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুবারক আল-আতি

এতিদাল হলো একটি বৈশ্বিক সংস্থা; যার কাজ চরমপন্থা মোকাবিলা এবং এর মূলোৎপাটন করা। সেই সঙ্গে জনগণের মধ্যে সহনশীলতা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি প্রচার করে থাকে সংস্থাটি।

রিয়াদে ২০১৭ সালের ২১ মে আরব-ইসলামিক-আমেরিকান শীর্ষ সম্মেলনের সময় আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে সহযোগিতার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এতিদাল। এটির সদরদপ্তর সৌদি রাজধানী রিয়াদে।

মন্তব্য

p
উপরে