× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Thousands of people flocked to Edinburgh overnight to pay their last respects to the Queen
hear-news
player
print-icon

রানিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাতভর এডিনবার্গে হাজারো মানুষের ভিড়

রানিকে-শেষ-শ্রদ্ধা-জানাতে-রাতভর-এডিনবার্গে-হাজারো-মানুষের-ভিড়
রানিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেন্ট জাইলস ক্যাথেড্রাল ঘিরে জড়ো হয় প্রায় ২০ হাজার মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গের সেন্ট জাইলস ক্যাথেড্রালে শোকার্তরা জড়ো হতে থাকেন। এই ক্যাথেড্রালেই রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কফিন রাখা হয়েছে।

ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে শোকাহত স্কটল্যান্ডবাসী। রানিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী এডিনবার্গে হাজারো মানুষ রাতভর অপেক্ষা করছেন রানিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কটিশ রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে বিভিন্ন বয়সের ও শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হয়েছে। পুরো স্কটল্যান্ড থেকেই মানুষ এখানে এসেছেন।

প্রায় ২০ হাজার মানুষ রানির কফিন দেখার জন্য কমপক্ষে এক মাইল দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।

রানিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাতভর এডিনবার্গে হাজারো মানুষের ভিড়
এডিনবার্গে রানিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছে শিশুরাও

স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে সেন্ট জাইলস ক্যাথেড্রালে শোকার্তরা জড়ো হতে থাকেন। এই ক্যাথেড্রালেই রানির কফিন রাখা হয়েছে।

জড়ো হওয়া অনেককেই রানির শোকে কাঁদতে দেখা যায়। অনেকে তাদের শিশুসন্তানকেও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে নিয়ে এসেছেন।

এই ঠান্ডা রাতে ভিড় জমানো মানুষের জন্য স্যালভেশন আর্মির ভ্যানগুলো থেকে গরম পানীয় ও রোলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হওয়াদের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও টয়লেটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

রানিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাতভর এডিনবার্গে হাজারো মানুষের ভিড়
রানিকে শেষ বিদায় জানাতে এসে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি অনেকে

এডিনবার্গের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর যুক্তরাজ্যের রয়েল এয়ারফোর্সের একটি বিমানে রানির কফিন পৌঁছাবে লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেসে। সেখান থেকে পরে নিয়ে আসা হবে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে।

১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রানির শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।

ওয়েস্টমিনস্টার হলে রানির কফিন পাহারায় থাকবেন রাজকীয় বাহিনী রয়াল হাউসহোল্ডের ইউনিটের সৈন্যরা।

রানিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাতভর এডিনবার্গে হাজারো মানুষের ভিড়
রানিকে শ্রদ্ধা জানাতে সারিবদ্ধ মানুষের দীর্ঘ সারি

শেষকৃত্যের আগে সেখানে চার দিন সাধারণ মানুষ রানির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ পাবেন। কফিন রাখা হবে কিছুটা উঁচু এক প্ল্যাটফর্মের ওপর।

গত ৮ সেপ্টেম্বর স্কটল্যান্ডে নিজের দুর্গ বালমোরালে ৯৬ বছর বয়সে মারা যান ৭০ বছর ধরে রানির সিংহাসনে থাকা দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

আরও পড়ুন:
বালমোরাল প্রাসাদ ছাড়লেন রানি
ভারতে রানির মুকুটের আদলে হবে দুর্গার মুকুট
দাদির মৃত্যুতে মেগানকে সঙ্গে নিয়ে রাজপ্রাসাদে হ্যারি
রানির মৃত্যুর পর নতুন রাজা, কী ভাবছেন প্রবাসীরা
৭০ বছর পর খেলার মাঠে ‘গড সেভ দ্য কিং’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Far right victory in Italy puts EU on edge

ইতালিতে উগ্র ডানপন্থিদের জয়ে ইইউর কপালে ভাঁজ

ইতালিতে উগ্র ডানপন্থিদের জয়ে ইইউর কপালে ভাঁজ সিলভিও বারলুসকোনি (মাঝে) এবং মাত্তেও সালভিনির (বাঁয়ে) সঙ্গে জোট বেঁধেছেন জর্জিয়া মেলোনি (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ইতালি। সাধারণ নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থিরা বিজয়ী হওয়ায় ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ বিপদের আশঙ্কায় রয়েছে। উল্টো দিকে এই জয় স্বস্তি তৈরি করতে পারে রাশিয়ার জন্য।   

ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে উগ্র ডানপন্থি ব্রাদার্স পার্টির নেতা জর্জিয়া মেলোনি। ২৫ সেপ্টেম্বরের ভোটে মেলোনির দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায়, সাত দশকের বেশি সময় পর ইতালির ক্ষমতায় আসছে উগ্র ডানপন্থিরা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ইতালি। উগ্র ডানপন্থিরা ক্ষমতায় এলে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ বিপদে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও ভোটের পর মেলোনি জানিয়েছিলেন, তারা সবার জন্য সরকার গঠন করবেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না।

তিনি বলেন, ‘ব্রাদার্স অফ ইতালির নেতৃত্বে ডানপন্থি সরকারের পক্ষে রায় দিয়ে ইতালীয়রা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।’

মেলোনির দল পেয়েছে ২৬ শতাংশ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনরিকো লেটার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভোট ১৯.৬ শতাংশ।

ভোটের এই ফলে সামনে দুঃসময় দেখছেন মধ্য-বামপন্থি এনরিকো। তিনি বলেন, ‘উগ্র ডানপন্থিদের বিজয় ইতালি এবং ইউরোপের জন্য দুঃখজনক অধ্যায়। তারপরও আমরা শক্তিশালী একটি বিরোধীদল দেশকে উপহার দেব।’

ইতালিতে উগ্র ডানপন্থিদের জয়ে ইইউর কপালে ভাঁজ
উগ্র ডানপন্থি ব্রাদার্স পার্টির নেতা জর্জিয়া মেলোনি

মাত্তেও সালভিনির লিগ ফর সালভিনি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির সেন্টার রাইট ফোর্জা ইতালিয়া দলের সঙ্গে জোট বেঁধেছিলেন মেলোনি। ভোটে সালভিনির দল পেয়েছে ৮.৮৭ শতাংশ ভোট; বারলুসকোনির পক্ষে গেছে ৮.১২ শতাংশ।

সব মিলিয়ে প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোটারের সমর্থন নিয়ে পার্লামেন্টের সিনেট এবং চেম্বার- দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছে ডানপন্থি এই জোট।

চার বছর আগে হওয়া নির্বাচনে মেলোনির ব্রাদার্স পার্টি পেয়েছিল মাত্র ৪ শতাংশ ভোট। এবার জাতীয় ঐক্য সরকারে নিজেদের না জড়িয়ে বাজিমাত করেছে উগ্র ডানপন্থি দলটি।

ভোটে বাদার্স পার্টির অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে বিরোধী দলগুলোর বিভেদও কাজ করেছে। এক মাস আগেও ইতালির বাম এবং মধ্যপন্থি দলগুলো উগ্র ডানপন্থি মেলোনি জোটকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ছিল। তবে শেষপর্যন্ত তারা সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। বলা হচ্ছে, এতেই কপাল খুলেছে মেলোনির জোটের।

জোট বেঁধে ক্ষমতায় এলেও প্রধানমন্ত্রী পদে মেলোনির আসা এখনও কিছুটা অনিশ্চিত। কারণ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট মাতারেলা, যিনি ইতালির সংবিধান অনুসারে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে অক্টোবরের শেষদিকে।

ন্যাটোর সদস্য ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তবে ইইউতে মেলোনির দেয়া বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে তাকে হাঙ্গেরির জাতীয়তাবাদী নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

মেলোনির দুই জোটসঙ্গীর সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ভোটের কিছুদিন আগে বারলুসকোনি দাবি করেছিলেন, ইউক্রেনে আক্রমণ চালাতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বাধ্য করা হয়েছে। মস্কোর ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।

ইতালির ডানপন্থি দলগুলোকে অভিনন্দন জানিয়েছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরামর্শক বালাজ অরবান। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন অনেক বন্ধু প্রয়োজন, যারা ইউরোপের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম।’

মেলোনি জোটকে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্রান্সের উগ্র ডানপন্থিরাও। ন্যাশনাল র‍্যালির নেতা জর্ডান বারডেলা বলেন, ‘ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেয়েনকে মোলায়েম শিক্ষা দিয়েছে ইতালীয়রা।’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Russian gas pipeline has leaked into the sea

সাগরে ফুটো হয়ে গেছে রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইন

সাগরে ফুটো হয়ে গেছে রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইন ফাইল ছবি
১২০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চল থেকে বাল্টিক সাগরের নিচ দিয়ে জার্মানির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পৌঁছেছে। এই পাইপলাইন তৈরির কাজ শেষ হয়েছে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। কিন্তু এখনো গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়নি।

রাশিয়ার আলোচিত গ্যাস পাইপলাইন নর্ড স্ট্রিম ২ ফুটো হতে শুরু করেছে; বাল্টিক সাগরের তলদেশে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

এতে নৌযান চলাচলে কিছুটা ঝুঁকি দেখা দিয়েছে বলে ডেনমার্ক কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি

১২০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চল থেকে বাল্টিক সাগরের নিচ দিয়ে জার্মানির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পৌঁছেছে। এই পাইপলাইন তৈরির কাজ শেষ হয়েছে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। কিন্তু এখনো গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়নি।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরুর কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পাইপলাইনটি নিয়ে অগ্রসর না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জার্মানি।

এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে সম্প্রতি এ নিয়ে রাশিয়ার করার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার কাছ থেকে গ্যাস চাইলে তাদের নর্ড স্ট্রিম ২ পাইপলাইন চালুর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

রাশিয়ার পাইপলাইন ফুটো হয়ে যাওয়ার ঘটনায় বাল্টিক সাগরে ডেনমার্কের দ্বীপ বর্নহোমের কাছে পাঁচ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

ডেনমার্কের জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সমুদ্রের তলদেশে পাইপলাইনে চাপ কমে যাওয়ার বিষয়ে জানানোর পর এটি নিয়ে কাজ করেছে কর্তৃপক্ষ।

ওই পাইপলাইনের তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠান নর্ড স্ট্রিম ২ এজির বড় অংশের মালিকানা রাশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।

ডেনমার্কের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নিষিদ্ধ এলাকার বাইরে এই পাইপলাইন ফুটো হওয়ার প্রভাব পড়বে না।

আরও পড়ুন:
পুতিনের সেনা সমাবেশের ঘোষণার প্রতিবাদে রাশিয়ায় বিক্ষোভ
রাশিয়ার আংশিক সেনা সমাবেশে যাদের ডাকা হবে
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Italys far right Giorgia Meloni is running for prime minister

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: সংগৃহীত
প্রেসিডেন্ট সার্জিও ম্যাটারেলা সকালে সিসিলিয়ান রাজধানী পালেরমোয় নিজের ভোট দেন। মেলোনি ও বাম নেতা এনরিকো লেটা ভোট দিয়েছেন রোমে। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী মাত্তেও সালভিনি মিলানে ভোট দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, জোট বেঁধে সরকার গঠন করতে পারেন উগ্র ডানপন্থি মেলোনি ও সালভিনি জোট।

প্রধানমন্ত্রী বেছে নিতে ভোট দিচ্ছেন ইতালির জনগণ। পূর্বাভাস বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম ইতালির ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে উগ্র ডানপন্থি সরকার।

স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন দেশটির ৫ কোটি ১০ লাখ ভোটার, যাদের ২৬ লাখ এবারই প্রথম ভোট দেবেন। এ ছাড়া দেশের বাইরে আছেন ৪৭ লাখ ভোটার।

জর্জিয়া মেলোনি ইতালির উগ্র ডানপন্থি ব্রাদার্স পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্য দুটি ডানপন্থি দলের সঙ্গে জোট বেঁধে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে তিনি।

প্রেসিডেন্ট সার্জিও ম্যাটারেলা সকালে সিসিলিয়ান রাজধানী পালেরমোয় নিজের ভোট দেন। মেলোনি ও বাম নেতা এনরিকো লেটা ভোট দিয়েছেন রোমে। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী মাত্তেও সালভিনি মিলানে ভোট দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, জোট বেঁধে সরকার গঠন করতে পারেন উগ্র ডানপন্থি মেলোনি ও সালভিনি জোট।

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি
চেম্বার এবং সিনেটের জন্য ভোট দিতে স্থানীয় সময় রাত ১১টা পর্যন্ত সময় পাবেন ভোটাররা

জর্জিয়া মেলোনি রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেন। তিনি চাইছেন নিজের ফ্যাসিবাদের তকমা দূর করতে। যদিও নির্বাচনি প্রচারে ফ্যাসিস্ট স্লোগান দিতে দেখা গেছে ৪৫ বছরের মেলোনিকে। এ ছাড়া অভিবাসন বন্ধে লিবিয়ায় নৌ অবরোধের পক্ষে তার অবস্থান।

এক মাস আগেও, ইতালির বাম এবং মধ্যপন্থি দলগুলো উগ্র ডানপন্থি মেলোনি জোটকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ছিল। তবে শেষপর্যন্ত তারা সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। বলা হচ্ছে, এতেই কপাল খুলেছে মেলোনি জোটের। জনমত জরিপে মেলোনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এখন মধ্য-বাম ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা এনরিকো লেটা।

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি

সিলভিও বারলুসকোনি (মাঝে) এবং মাত্তেও সালভিনির (বাঁয়ে) সঙ্গে জোট বাঁধতে পারেন জর্জিয়া মেলোনি (ডানে)

দুই কক্ষের পার্লামেন্ট ইতালির; চেম্বার এবং সিনেট। নতুন নিয়মে দুই কক্ষের আকার এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। চেম্বারের এখন ৪০০ আসন এবং সিনেট ২০০টি। এতে জোট সরকারের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো জোট ৪০ শতাংশ ভোট পেলে পার্লামেন্টের ৬০ শতাংশ আসন তাদের পক্ষে যাবে।

জোট বেঁধে ক্ষমতায় এলেও প্রধানমন্ত্রী পদে মেলোনির আসা অনিশ্চিত। কারণ এ সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট মাতারেলা, যিনি ইতালির সংবিধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মেলোনি এবং তার সহযোগীরা এ ধারায় পরিবর্তন চান। তারা পার্লামেন্টে নির্বাচিত নিরপেক্ষ ব্যক্তির চেয়ে সরাসরি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট চাইছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Russian controlled areas are also voting against Russia

রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভোট দেয়া যাচ্ছে রাশিয়ার বিপক্ষেও

রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভোট দেয়া যাচ্ছে রাশিয়ার বিপক্ষেও ভোটকেন্দ্রগুলোতে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকারের সুযোগ রেখেছে রুশপন্থিরা। ছবি: সংগৃহীত
রুশ অধীকৃত ইউক্রেনের অঞ্চলে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে শুক্রবার থেকে গণভোট শুরু হয়েছে। এই গণভোটকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, ভোট সংগ্রহ করতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে অস্ত্রধারী সেনারা। তবে রাশিয়া বলছে, নিরাপত্তার কারণেই এভাবে ভোট সংগ্রহ করা হচ্ছে। বরঞ্চ পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেই জানানো হয়েছে, এক নারীর পরিবার রাশিয়ার বিপক্ষে ভোট দিলেও সেনারা তা সংগ্রহ করেছে।

রাশিয়াতে যোগদানের বিষয়ে ইউক্রেনের অঞ্চলগুলোতে গণভোট নেয়া শুরু হয়েছে। রুশপন্থি সেনারা ভোট সংগ্রহ করতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, কিন্তু ভোট দিতে হচ্ছে মৌখিকভাবে এবং সেনারা তা টুকে রাখছেন।

ইউক্রেনীয়দের বরাতে বিবিসি এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

রুশপন্থি সেনাদের কাছে মৌখিকভাবে ভোট দিতে গেলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেয়া কী আদৌ সম্ভব, এ বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এনেরহোদারের একজন নারী বলেছেন, আপনাকে (রুশ অধীকৃত অঞ্চলের বাসিন্দাদের) মৌখিকভাবে উত্তর (ভোট) দিতে হবে এবং সেনারা তা একটি শিটে চিহ্নিত করে রাখে।

মেলিতোপোলের একজন নারী বলেছেন, দুই স্থানীয় সহযোগী দুজন রুশ সেনাকে নিয়ে তার বাবা-মায়ের ফ্ল্যাটে এসেছিল ভোট নিতে।

তিনি বলেন, “আমার বাবা (রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দেয়া বিষয়ক ভোটে) ‘না’ দিয়েছিলেন, এ সময় আমার মা কাছাকাছিই দাঁড়িয়ে ছিলেন, তিনি সেনাদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘না দেয়ার জন্য কী হবে?’ তারা বলেছে, কিছুই হবে না।”

যদিও সেই নারী বলেন, তার মা এখন চিন্তিত, তিনি ভাবছেন রুশরা তাদের ওপর নির্যাতন করবে।

সেই নারী জানিয়েছেন, ব্যক্তি বিশেষের জন্য নয়, পুরো পরিবারের জন্য একটি ব্যালট ছিল।

তবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট নেয়া হচ্ছে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে।

যদিও রাশিয়ার গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছিল, নির্বাচনি কর্মকর্তারা শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত পোর্টেবল ব্যালট বাক্স নিয়ে ঘরে ঘরে যাবেন। নিরাপত্তার খাতিরে শেষের দিন অর্থাৎ ২৭ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রে হবে ভোট। এ জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন কেন্দ্রেও ভোটদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখলে রাশিয়ার দাবিও যৌক্তিক।

এদিকে রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হতে ইউক্রেনীয় অঞ্চলে চলা গণভোটকে অবৈধ ও জালিয়াতির ভোট বলছে ইউক্রেন ও পশ্চিমা মিত্ররা।

২৩ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোট দেবে পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক এবং দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিজ্জা অঞ্চলের বাসিন্দারা।

একই রকম ভোট আয়োজন করা হয়েছিল ক্রিমিয়ায়। ২০১৪ সালে আয়োজিত সে ভোটে ক্রিমিয়াবাসী রুশ ফেডারশনে যুক্ত হতে ভোট দিয়েছিল।

এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে লেখা চিঠিতে পুশিলিন রাশিয়ান ফেডারেশনে ডিপিআরকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, জনগণ যদি গণভোটে একীকরণকে অনুমোদন দেয়, তবে তারা ফেডারেশনে যুক্ত হবে।

চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘দনবাসের সহিষ্ণু জনগণ মহান দেশের (রাশিয়া) অংশ হওয়ার যোগ্য। তারা রাশিয়াকে সব সময় নিজেদের মাতৃভূমি বলে মনে করে। এই পদক্ষেপে ঐতিহাসিক ন্যায়বিচারের পুনরুদ্ধার হবে; যা লাখ লাখ রাশিয়ানের আকাঙ্ক্ষা।

জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় ২০১৪ সালে হওয়া মিনস্ক চুক্তির আওতায় ইউক্রেনীয় রাজ্যের মধ্যে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলকে বিশেষ মর্যাদা দেয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুন:
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  
যুদ্ধেই ইউক্রেন সংকটের সমাধান: ক্রেমলিন
রুশ ফেডারেশনে ঢুকতে ডনবাস প্রজাতন্ত্রে গণভোট
ইউক্রেনকে ভেঙে ফেলার আহ্বান রোমানিয়ান কূটনীতিকের
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে পুতিনকে হুঁশিয়ারি বাইডেনের

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Poland prepares in advance to deal with nuclear threat

পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের

পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের প্রতীকী ছবি
ইউক্রেনে চলছে রুশ সামরিক অভিযান। ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাপোরিজ্জাকে কেন্দ্র করে চলছে গোলাগুলি। এদিকে রুশ অধীকৃত ইউক্রেনের অঞ্চলে ভোটাভুটিকে কেন্দ্র করে পারমণবিক সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। এসব বিষয়কেই সামনে রেখে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ মোকাবিলায় প্রস্তুতি শুরু করেছে ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড।

ইউক্রেনের কয়েকটি অঞ্চল রাশিয়ায় যুক্ত করার কার্যক্রম শুরু করেছে ক্রেমলিন। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা দিয়েছেন, রাশিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ভান্ডারে থাকা যে কোনো অস্ত্র (পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত) ব্যবহার করবে রুশ সেনারা।

এ ছাড়া বেশ কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছে, যেকোনো সময় জাপোরিজ্জা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পাশের দেশ পোল্যান্ড পারমাণবিক হামলার ও দুর্ঘটনার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে।

পোল্যান্ডের স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক ঘটনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। যদিও তারাই বলছেন, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

পারমাণবিক যেকোনো দুর্ঘটনায় ও হামলায় আশপাশে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের
পটাশিয়াম আয়োডাইট ট্যাবলেট

পোল্যান্ডের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ এডুকেশনাল ম্যানেজমেন্ট স্টাফের (ওএসকেকেও) প্রধান মারেক প্লেসনিয়ার শুক্রবার এক স্থানীয় পত্রিকাকে বলেছে, পোলিশ শিক্ষকদের জরুরি পরিস্থিতিতে তেজস্ক্রিয়তা থেকে রক্ষা পেতে জরুরি পরিস্থিতিতে বিকিরণ প্রতিরোধী পটাশিয়াম আয়োডাইট ট্যাবলেট ছাত্রদের হাতে তুলে দিতে বলা হয়েছে।

সতর্কতা জারির সঙ্গে সঙ্গে ৬ ঘণ্টার মধ্যে যাতে ট্যাবলেট বিতরণ সম্ভব হয়, সেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

ওয়ারশ সিটি হলের মুখপাত্র জ্যাকুব লেদুচোস্কি বলেছেন, বর্তমানে বিকিরণের ঘটনার ঝুঁকি যদিও খুব কম, এর পরও কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্নায়ুযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো সমকক্ষ প্রতিপক্ষের সঙ্গে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা মোকাবিলা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।

পোলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার বলেছে, এর আগে ইউক্রেনের জাপোরিজ্জায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে লড়াইয়ের সময়েও আঞ্চলিক ফায়ার সার্ভিস বিভাগে পটাশিয়াম আয়োডাইট ট্যাবলেট পাঠানো হয়েছিল।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মস্কো সামরিক অভিযান শুরু করার পরপরই রাশিয়ার সেনারা ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দখল করে। মস্কো ও কিয়েভ তখন থেকে একে অপরের ওপর পারমাণবিক কেন্দ্রে গোলাবর্ষণের অভিযোগ এনেছিল।

পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের
জাপোরিজ্জায় পাহারারত রুশ সেনা

এ ছাড়া ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পারমাণবিক যুদ্ধকে বাস্তব বলছেন ইউএস স্ট্রাটেজিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল চার্লস রিচার্ড।

বুধবার মেরিল্যান্ডে আয়োজিত এক কনফারেন্সে তিনি বলেন, ‘স্নায়ুযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো সমকক্ষ প্রতিপক্ষের সঙ্গে পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাবনা মোকাবিলা করছে যুক্তরাষ্ট্র।’

এদিকে ভ্লাদিমির পুতিনের সুরে সুর মিলিয়ে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, ‘মস্কোর অস্ত্রাগারে থাকা কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রসহ যেকোনো অস্ত্র ইউক্রেন থেকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাওয়া অঞ্চলগুলো রক্ষা করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।’

আরও পড়ুন:
যুদ্ধেই ইউক্রেন সংকটের সমাধান: ক্রেমলিন
রুশ ফেডারেশনে ঢুকতে ডনবাস প্রজাতন্ত্রে গণভোট
ইউক্রেনকে ভেঙে ফেলার আহ্বান রোমানিয়ান কূটনীতিকের
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে পুতিনকে হুঁশিয়ারি বাইডেনের
ইজিউমের গণকবরে ‘নির্যাতনের চিহ্ন’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
What Russia Wants from Votes in Occupied Ukraine

অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া

অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া লুহানস্কে গণভোটের প্রাক্কালে লিফলেট বিতরণ হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধে ফিরতে ক্রেমলিনের নেয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের একটি এই গণভোট। সার্বভৌম ইউক্রেনের আরও ১৫ শতাংশ নিজেদের করে নিলে যুদ্ধের শক্ত অজুহাত দেখাতে পারবেন পুতিন। তিনি বলতে পারবেন, ইউক্রেনে ন্যাটো ও পশ্চিমাদের পাঠানো মারণাস্ত্রের বলি হওয়ার শঙ্কায় আছে এসব অঞ্চল।

রাশিয়ান ফেডারেশনে ভিড়তে ইউক্রেনের চারটি বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় চলা গণভোট ঘিরে নানা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্রগুলো এ পদক্ষেপকে অবৈধ ও জালিয়াতির ভোট বলছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধকে আরও উসকে দেবে ভোট।

ইউক্রেনে অভিযান শুরুর সাত মাস পেরোলেও তেমন অর্জন নেই রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের। উল্টো ইউক্রেনের প্রতিরোধে দখল করা কয়েকটি এলাকা ছাড়তে হয়েছে পুতিন বাহিনীকে।

যুদ্ধে ফিরে আসতে ক্রেমলিনের নেয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের একটি এই গণভোট। সার্বভৌম ইউক্রেনের আরও ১৫ শতাংশ নিজেদের করে নিলে যুদ্ধের শক্ত অজুহাত দেখাতে পারবেন পুতিন। তিনি বলতে পারবেন, ইউক্রেনে ন্যাটো ও পশ্চিমাদের পাঠানো মারণাস্ত্রের বলি হওয়ার শঙ্কায় আছে এসব অঞ্চল। অবশ্য তিন লাখ অতিরিক্ত সেনা ডেকে ৬২০ মাইলের লম্বা এক দেয়াল তৈরি করে এই চার অঞ্চল বাঁচাতে তেমন বেগ পেতে হবে না রাশিয়াকে।

রাশিয়ানদের নেতা পুতিন যখন পূর্ব ইউক্রেনের কিছু অঞ্চল নিজের ভূখণ্ডে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার মানে তিনি তা করবেন। আগেও এর নজির আছে। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে পুতিন যখন ক্রিমিয়াকে ছিনিয়ে নেয়, তখনও গণভোট হয়েছিল।

সেবারের মতো এই গণভোটকেও অবৈধ বলছে পশ্চিমা বিশ্ব। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোরও একই সুর।

রাশিয়ান ফেডারেশনে যোগ দিতে ২৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোট দেবে পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক এবং দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের বাসিন্দারা।

জালিয়াতির ভোট কেন

কীভাবে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়াকে নিজেদের করে নিয়েছিল রাশিয়া, তা পুরো বিশ্ব দেখেছে। সে সময় ক্রেমলিন দাবি করে, তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে চায় ক্রিমিয়ার ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশ বাসিন্দা। তবে রাশিয়ার মানবাধিকার কাউন্সিলের ফাঁস হওয়া এক প্রতিবেদন বলছে, ৩০ শতাংশ রাশিয়া ঢোকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

ক্রিমিয়া দখলে নিতে খুব বেগ পেতে হয়নি রুশ বাহিনীকে, তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। যুদ্ধের মধ্যেই চলছে ভোট। যে চার অঞ্চলে ভোট হচ্ছে সবগুলোই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে।

দক্ষিণে, খেরসন শহরটি এখন নিরাপদ নয়। ইউক্রেন সেনাদের পাল্টা হামলা ঠেকাতে ব্যস্ত রুশ সেনারা। কেন্দ্রীয় প্রশাসন ভবনে গত সপ্তাহে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। এখানে নিরাপদ ভোট অসম্ভব। তবুও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই শহরের প্রায় ৭৫ হাজার বাসিন্দা ভোটে অংশ নেবে।

রাশিয়ান মিডিয়া বলছে, নির্বাচনি কর্মকর্তারা শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত পোর্টেবল ব্যালট বাক্স নিয়ে ঘরে ঘরে যাবেন। নিরাপত্তার খাতিরে শেষের দিন অর্থাৎ ২৭ সেপেটেম্বর কেন্দ্রে হবে ভোট। এ জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া

অন্যদিকে জাপোরিঝিয়ার রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ ইউক্রেনের হাতে। গণভোট এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলবে … এটা এক প্রকার নিশ্চিত।

পূর্বের দোনেৎস্ক অঞ্চলের ৬০ শতাংশ রাশিয়ার দখলে। অঞ্চলটি রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এখানে যে নিরাপদ ভোট হবে না, এটাও নিশ্চিত।

অন্যদিকে ভূমি হারাতে শুরু করলেও উত্তর-পূর্বের লুহানস্কের বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে রাশিয়া।

সংঘাতকবলিত অঞ্চলগুলোর বাসিন্দারা আগেই পালিয়ে গেছেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে অভিযান শুরুর এক দিন আগে দোনেৎস্কের বেশির ভাগ মানুষকে সরিয়ে নিয়েছিলেন অঞ্চলটির নেতা ডেনিস পুশিলিন।

ইউক্রেনের বিদ্রোহী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোর নেতারা অনেক দিন আগে থেকে এমন ভোট আয়োজনের প্রেক্ষাপট তৈরির চেষ্টায় ছিলেন। যদিও ভোট করার সিদ্ধান্ত আসে তিন দিন আগে।

এই ভোটে কোনো স্বাধীন পর্যবেক্ষক থাকবে না। বেশির ভাগ ভোটই হবে অনলাইনে। যদিও ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
ইউক্রেনকে ভেঙে ফেলার আহ্বান রোমানিয়ান কূটনীতিকের
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে পুতিনকে হুঁশিয়ারি বাইডেনের
ইজিউমের গণকবরে ‘নির্যাতনের চিহ্ন’
রাশিয়ার শহরে ইউক্রেনের হামলা
সড়ক দুর্ঘটনায় ‘সামান্য আহত’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Russian nuclear weapons to protect Donbas according to US commander nuclear war is possible

দোনবাস রক্ষায় রুশ পরমাণু অস্ত্র, ইউএস কমান্ডারের মতে পরমাণু যুদ্ধ সম্ভব

দোনবাস রক্ষায় রুশ পরমাণু অস্ত্র, ইউএস কমান্ডারের মতে পরমাণু যুদ্ধ সম্ভব রাশিয়ার কাছে ৫ হাজারের বেশি পরমাণু ওয়ারহেড আছে। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ভৌগলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সব উপায় ব্যবহার (পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারে প্রচ্ছন্ন হুমকি) করা হবে। একই কথায় সুর মিলিয়েছেন দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। তার মতে, রাশিয়ার সঙ্গে নতুন যুক্ত হওয়া অঞ্চল রক্ষায় পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।

রাশিয়ার মূল ভুখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে যাওয়া ইউক্রেনীয় অঞ্চলগুলোকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে রুশ সেনারা।

এমনটাই জানিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা দিমিত্রি মেদভেদেভ।

তিনি বলেন, ‘মস্কোর অস্ত্রাগারে থাকা কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র সহ যে কোনো অস্ত্র ইউক্রেন থেকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাওয়া অঞ্চলগুলো রক্ষা করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।’

নিজস্ব টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেয়া এক বার্তায় মেদভেদেভ ইউক্রেনীয় অঞ্চলে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথাও বলেছেন। একই সঙ্গে বলেছেন, এরপরে সেখানে (ইউক্রেনের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হওয়ার) ফিরে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে গত বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ভৌগলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সব উপায় ব্যবহার (পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারে প্রচ্ছন্ন হুমকি) করা হবে। ইউক্রেনে লড়তে ৩ লাখ রিজার্ভ সেনা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রাশিয়ায় যোগদানের জন্য আজ থেকেই ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন, জাপোরিজ্জা ও মাইকোলাইভে ভোট গ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে।

এই অঞ্চলগুলো যদি রাশিয়ার মূল ভুখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে রাশিয়ার পারমাণবিক নীতি অনুযায়ী ভৌগলিক অখণ্ডতা হুমকিতে পড়লে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে।

তবে রাশিয়ার এই পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহারের প্রচ্ছন্ন হুমকির মধ্যেই ইউএস স্ট্রাটেজিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল চার্লস রিচার্ড বুধবার মেরিল্যান্ডে আয়োজিত এক কনফারেন্সে বলেন, ‘স্নায়ুযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো সমকক্ষ প্রতিপক্ষের সঙ্গে পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাবনা মোকাবেলা করছে যুক্তরাষ্ট্র।’

রাশিয়ার হাতে কতটি পরমাণু অস্ত্র

কোন দেশে কতটি পরমাণু অস্ত্র আছে, সে তথ্যগুলো আনুমানিক। ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্টের হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার কাছে আছে ৫ হাজার ৯৭৭টি পরমাণু ওয়ারহেড। ওয়ারহেড হলো পরমাণু অস্ত্রের অগ্রভাগ, যেটা পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটায়।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার এসব ওয়ারহেডের মধ্যে প্রায় দেড় হাজারকে বাতিল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। দেশটির কাছে থাকা বাকি সাড়ে চার হাজারের মতো অস্ত্র কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র হিসেবে পরিচিত।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা রকেট, যা দিয়ে অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যায়। এই অস্ত্রগুলো পরমাণু যুদ্ধে ব্যবহার হয়।

রাশিয়ার হাতে থাকা বাকি অস্ত্রগুলো ছোট, কম ধ্বংসাত্মক পরমাণু অস্ত্র। এগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে স্বল্পপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে কিংবা সমুদ্রে ব্যবহার করার উপযোগী। এ ছাড়া সাবমেরিন থেকেও রাশিয়ার আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা রয়েছে।

ইউক্রেন পরিস্থিতিতে পারমাণবিক যুদ্ধ কতটা বাস্তব?

ইউক্রেনে রুশ বাহিনী কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসছে, এমন দাবি পশ্চিমাদের। এদিকে ইউক্রেনকে সহায়তায় ন্যাটোভুক্ত দেশ ট্যাংকের মতো আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহ করছে।

যদিও সরাসরি ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশ ইউক্রেন যুদ্ধে জড়ায়নি, এরপরও ইউক্রেনকে অস্ত্র দেয়ার বিষয়টি ভালো চোখে দেখছে না রাশিয়া। এরই মধ্যে পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহের ওপর ভর করে যুদ্ধে বেশ সফলতা দেখিয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার দখলকৃত সব অঞ্চল পুনরুদ্ধারের আগ পর্যন্ত সেনারা থামবে না।

এমন অবস্থায় যে কৌশলগত পরমাণু বোমা ব্যবহারকে একসময় অসম্ভব ভাবা হতো, তার সম্ভাবনা এখন বাড়ছে।

১৯৯১ সালে স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পর কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রগুলো আর কৌশলগত চিন্তার অংশ নয়। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধে এই অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা ক্রমে বাড়ছে।

১৯৬২ সালে কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন নিয়ে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক সংঘাতে জড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এখন প্রায় ৫০ বছর পর এসে আবারও ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান পারমাণবিক সংঘাতের বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে আসছে।

রাশিয়ার পারমাণবিক হামলায় পশ্চিমা প্রতিক্রিয়া কী হবে?

রাশিয়া যদি ইউক্রেনে সীমিত পরিসরেও পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার করে, তাতে পশ্চিমাদের প্রতিক্রিয়া কী হবে? তা বলা মুশকিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, রাশিয়া যদি পারমাণবিক, রাসায়নিক বা জীবাণু অস্ত্রের হামলা চালায়, যুক্তরাষ্ট্র চুপ করে বসে থাকবে না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এখন পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার হয়নি। এদিকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে ওয়ারশোতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ওয়ারশো মেমোরেন্ডাম নামে পরিচিত।

যদিও সেই চুক্তি পশ্চিমারাই লঙ্ঘন করেছে ও পূর্ব ইউরোপের সোভিয়েত ব্লকের অনেকেই এখন ন্যাটো সদস্য। এমনকি ইউক্রেনের সঙ্গে প্রাথমিক বিরোধও ন্যাটোর সদস্য হওয়া নিয়েই।

আরও পড়ুন:
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে পুতিনকে হুঁশিয়ারি বাইডেনের
ইজিউমের গণকবরে ‘নির্যাতনের চিহ্ন’
রাশিয়ার শহরে ইউক্রেনের হামলা
সড়ক দুর্ঘটনায় ‘সামান্য আহত’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট
বাইবেলের ধ্বংসলীলার পথে হাঁটছে পশ্চিম: রাশিয়া

মন্তব্য

p
উপরে