× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
King Charles III ascended the throne
hear-news
player
google_news print-icon

সিংহাসনে বসলেন রাজা তৃতীয় চার্লস

সিংহাসনে-বসলেন-রাজা-তৃতীয়-চার্লস
শনিবার স্থানীয় সময় সকালে লন্ডনের সেন্ট জেমসেস প্রাসাদে এক সাড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন ‘অ্যাকসেশন কাউন্সিলের’ মাধ্যমে চার্লসকে রাজা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।

মা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর গ্রেট ব্রিটেনের রাজা হিসেবে সিংহাসনে বসলেন প্রিন্স চার্লস ফিলিপ আর্থার জর্জ। তিনি পরিচিত হবেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস হিসেবে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, শনিবার স্থানীয় সময় সকালে লন্ডনের সেন্ট জেমসেস প্রাসাদে এক সাড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন ‘অ্যাকসেশন কাউন্সিলের’ মাধ্যমে চার্লসকে রাজা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। তবে রোববার যুক্তরাজ্যজুড়ে রাজার অভিষেক অনুষ্ঠান হবে।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য, দেশটির প্রধানমন্ত্রী, অন্য জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, ক্যান্টারবুরির আর্চবিশপ, জ্যেষ্ঠ বেসামরিক কর্মচারী, কমনওয়েলথের হাইকমিশনাররা এবং লন্ডনের লর্ড মেয়রসহ অন্যদের নিয়ে এই কাউন্সিল গঠন করা হয়।

আনুষ্ঠানিকভাবে চার্লকে রাজা ঘোষণার আগে তিনি প্রয়াত রানির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় নতুন জাতীয় সংগীত হিসেবে বাজানো হয়, গড সেফ দ্য কিং।

সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রানির সিংহাসনে থাকা দ্বিতীয় এলিজাবেথ গত বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ডে নিজের দুর্গ বালমোরালে ৯৬ বছর বয়সে মারা যান।

দেশটিতে ঘোষণা দেয়া হয় ১০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় হবে যুক্তরাজ্যের প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।

লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবে এলাকার সেইন্ট পল গির্জার কবরস্থানে সমাহিত করা হবে রানিকে। তার আগে অবশ্য সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে রানির দেহ রাখা হবে ওয়েস্টমিনিস্টার হলে।

নিয়ম অনুযায়ী, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ সিংহাসন লাভ করেন তার বড় ছেলে চার্লস। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিয়মানুযায়ী রাজার পদবি সাবেক প্রিন্স অফ ওয়েলস স্বয়ংক্রিয়ভাবে, তৎক্ষণাৎ ও কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই পেয়েছেন।

তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাউন্সিলে তাকে রাজা হিসেবে ঘোষণা দিতে হয়, যা শনিবার দেয়া হলো। রানির মৃত্যুতে দেশটিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হলেও চার্লসকে রাজা ঘোষণার কারণে সেটি আবারও পুরো উত্তোলন করা হয়।

আরও পড়ুন:
ক্যামিলার মাথায় শোভা পাবে কোহিনূর
কোন দেশে কীভাবে শ্রদ্ধা রানিকে
বিশ্বমঞ্চে রানির নেতৃত্ব স্মরণ পুতিনের
সবার জন্য সমমর্যাদা: নতুন রাজা তৃতীয় চার্লস
রানি এলিজাবেথকে ভোলেনি বৈরাগীরচালা গ্রাম

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
China India did not vote against Russia in the United Nations

জাতিসংঘে রাশিয়ার বিপক্ষে ভোট দেয়নি চীন-ভারত

জাতিসংঘে রাশিয়ার বিপক্ষে ভোট দেয়নি চীন-ভারত আফ্রিকার দেশ গ্যাবনও রাশিয়ার বিপক্ষে ভোটদানে বিরত থাকে। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনীয় অঞ্চল রাশিয়ায় যুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও আলবেনিয়া। রাশিয়ার ভেটোতে প্রস্তাব পাস হয়নি। ক্রেমলিনের জন্য স্বস্তি এই যে, ইউক্রেনীয় অঞ্চল সংযুক্তির পরেও চীন ও ভারত তাদের বিপক্ষে ভোটদানে বিরত ছিল।

দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিজ্জা ও খেরসনকে রাশিয়ার ভূখণ্ডে যুক্ত করার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল আমেরিকা ও আলবেনিয়া।

তবে রাশিয়ার ভেটোর কারণে প্রস্তাব পাস হয়নি। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ভোটদানে বিরত থাকে।

নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী দেশ ভারত, ব্রাজিল ও গ্যাবন রাশিয়ার বিপক্ষে ভোট না দিয়ে ভোটদানে বিরত থাকে।

তবে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে আমেরিকা, আলবেনিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ঘানা, আয়ারল্যান্ড, কেনিয়া, মেক্সিকো, নরওয়ে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে চলছে রাশিয়ার সামরিক অভিযান। পশ্চিমারা রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিলেও চীন ও ভারত রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর বদলে রাশিয়া থেকে রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি তেল কিনেছে দুই দেশই।

একই অবস্থা ব্রাজিলেরও। রাশিয়ার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যেতে নারাজ দেশটি। উল্টো আসন্ন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় রাশিয়ার সার, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি ব্যবহার করতে চায় দেশটি।

এর আগে শুক্রবার ইউক্রেনের অঞ্চল দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিজ্জাকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

জাতিসংঘে রাশিয়ার বিপক্ষে ভোট দেয়নি চীন-ভারত
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

ক্রেমলিনে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দেয়া এক ভাষণে এই চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে পুতিন বলেছেন, এর মাধ্যমে এই অঞ্চলগুলোর বাসিন্দাদের স্বাধীন ইচ্ছাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে এবং তারাও তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশীদারদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

ভাষণে পুতিন দাবি করেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙনের ফলে যে অন্যায় হয়েছে এই ৪ অঞ্চলের যুক্ত হওয়া কিছুটা হলেও সেই অন্যায় মেরামত করেছে।

পশ্চিমাদের আধিপত্যবাদী উল্লেখ করে পুতিন বলেছেন, তারা তাদের ইচ্ছাকে পুরো বিশ্বের ওপর চাপিয়ে দিতে চায় এবং তারা রাশিয়াকে উপনিবেশে পরিণত করতে চায়।

একই সঙ্গে তিনি নিশ্চয়তা দিয়েছেন নতুন যুক্ত হওয়া এই অঞ্চলের বাসিন্দারা রাশিয়ার নাগরিকত্ব পাবেন এবং রাশিয়া কখনোই এই সংযুক্তির বিষয়ে আপস করবে না।

তবে কিয়েভ বলছে, এই সংযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনবে না। তারা রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চল ফিরিয়ে নিতে লড়াই চালিয়ে যাবে।

এর আগে এই চার অঞ্চলে ৫ দিনব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। যদিও ইউক্রেন ও পশ্চিমারা বলে আসছিল, এই গণভোট ও গণভোটের ভিত্তিতে ইউক্রেনের ভূখণ্ড রাশিয়ায় সংযুক্তি কোনোভাবেই বৈধ নয়।

তবে পশ্চিমা বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করে এর আগেও ২০১৪ সালে ক্রিমিয়াকে নিজ ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রাশিয়া।

ক্রেমলিনের মতে, ইউক্রেনের নব্য নাৎসিদের হাতে রুশভাষী নাগরিকরা নিরাপদ নয় এবং এই রুশভাষীদের রক্ষা করা রাশিয়ার দায়িত্ব।

এদিকে এই সংযুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশ।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস নিউ ইয়র্ক সিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেছেন, এর (চার অঞ্চলের রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তি) কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

এ ছাড়া ইউক্রেনের অঞ্চল রাশিয়ায় সংযুক্তির ঘটনা, যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করে দিতে পারে এবং সেই বিষয়টি জানেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

তাই মূল ভূখণ্ডে সংযুক্তির আগে তিনি আংশিক সেনা সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে ৩ লাখ নতুন সেনাকে এসব অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে। প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রচ্ছন্ন ইংগিতও দিয়েছেন পুতিন।

এই চার অঞ্চল ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৫ শতাংশ, আয়তন প্রায় ১ লাখ বর্গ কিলোমিটারের ওপর এবং কৃষি উৎপাদনের ১৩-১৫ শতাংশ এই অঞ্চলগুলোতেই উৎপন্ন হয়।

এ ছাড়া জাপোরিজ্জাতে রয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

আরও পড়ুন:
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চায় ভারত ও চীন  
রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভোট দেয়া যাচ্ছে রাশিয়ার বিপক্ষেও
পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামান: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী
অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
What America said about Ukraines NATO membership

ইউক্রেনের ন্যাটোভুক্তির বিষয়ে যা জানাল আমেরিকা

ইউক্রেনের ন্যাটোভুক্তির বিষয়ে যা জানাল আমেরিকা ন্যাটোর সামরিক মহড়া। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই ন্যাটোতে যোগদানের আবেদন করেছে ইউক্রেন। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মতে, কিয়েভ কার্যত ন্যাটোর মিত্র, সে হিসেবে জোটটিতে দ্রুত যোগদান পদ্ধতির দাবিদার ইউক্রেন। তবে আমেরিকা মনে করে, ইউক্রেনে ন্যাটোতে যোগদানের এটি সঠিক সময় নয়।

পশ্চিমা সামরিক জোটে কোনো দেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ‘খোলা দরজা’ নীতিতে সব সময়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমেরিকা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের সদস্যপদ আবেদন বিবেচনার এখন ভুল সময়।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেছেন হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান।

হোয়াইট হাউসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই মুহূর্তে আমরা মনে করি, ইউক্রেনকে সমর্থন করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো দেশটিকে গ্রাউন্ড সাপোর্ট (অস্ত্র দিয়ে সহায়তা) করা, ব্রাসেলসের প্রক্রিয়াটি (ন্যাটোতে যুক্ত হওয়া) অন্য সময়ে নেয়া উচিত।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি ন্যাটোতে যোগদানের আবেদন করেছেন।

তিনি দাবি করেছেন, কিয়েভ এরই মধ্যে কার্যত ন্যাটোর মিত্র, তাই এটি (ইউক্রেন) দ্রুত যোগদান পদ্ধতির দাবি করেছে।

ইউক্রেনের ন্যাটোভুক্তির বিষয়ে যা জানাল আমেরিকা
হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান

ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত। এমন অবস্থায় দেশটির ন্যাটোতে যোগদান মানে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে যাবে ন্যাটো। এমনটা চাইছে না পশ্চিমা এই সামরিক জোটটি।

এ ছাড়া ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্কের সঙ্গে রাশিয়ার বেশ উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার বিভিন্ন মধ্যস্ততায় দেশটিকে ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে।

সে ক্ষেত্রে আঙ্কারার পক্ষে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়ে সমর্থন দেয়াটা বেশ জটিল। যদিও ইউক্রেনের সঙ্গে তুরস্কের সামরিক খাতেও সম্পর্ক রয়েছে।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদান এই মুহূর্তে সম্ভব নয় ইঙ্গিত দিয়ে ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেছেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য করতে হলে ন্যাটোভুক্ত ৩০ দেশেরই ঐকমত্য প্রয়োজন।

যদিও একই সঙ্গে স্টলটেনবার্গ ইউক্রেনের প্রতি অটল ও দৃঢ় সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভোট দেয়া যাচ্ছে রাশিয়ার বিপক্ষেও
পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামান: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী
অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া
দোনবাস রক্ষায় রুশ পরমাণু অস্ত্র, ইউএস কমান্ডারের মতে পরমাণু যুদ্ধ সম্ভব

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Putin announced the annexation of 4 regions of Ukraine to Russia

ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলকে রাশিয়ায় সংযুক্তির ঘোষণা পুতিনের

ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলকে রাশিয়ায় সংযুক্তির ঘোষণা পুতিনের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিজ্জা ও খেরসনকে রাশিয়ার ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই অঞ্চল অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কোনো আপসে যাবে না ক্রেমলিন এবং সেখানকার বাসিন্দাদের দেয়া হবে রুশ নাগরিকত্ব। তবে পশ্চিমা বিশ্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই সংযুক্তিকে তারা কখনোই স্বীকৃতি দেবে না।

ইউক্রেনের অঞ্চল দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিজ্জাকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

শুক্রবার ক্রেমলিনে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দেয়া এক ভাষণে এই চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে পুতিন বলেছেন, এর মাধ্যমে এই অঞ্চলগুলোর বাসিন্দাদের স্বাধীন ইচ্ছাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে এবং তারাও তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশীদারদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

ভাষণে পুতিন দাবি করেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙনের ফলে যে অন্যায় হয়েছে এই ৪ অঞ্চলের যুক্ত হওয়া কিছুটা হলেও সেই অন্যায় মেরামত করেছে।

পশ্চিমাদের আধিপত্যবাদী উল্লেখ করে পুতিন বলেছেন, তারা তাদের ইচ্ছাকে পুরো বিশ্বের ওপর চাপিয়ে দিতে চায় এবং তারা রাশিয়াকে উপনিবেশে পরিণত করতে চায়।

একই সঙ্গে তিনি নিশ্চয়তা দিয়েছেন নতুন যুক্ত হওয়া এই অঞ্চলের বাসিন্দারা রাশিয়ার নাগরিকত্ব পাবেন এবং রাশিয়া কখনোই এই সংযুক্তির বিষয়ে আপস করবে না।

তবে কিয়েভ বলছে, এই সংযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনবে না। তারা রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চল ফিরিয়ে নিতে লড়াই চালিয়ে যাবে।

এর আগে এই চার অঞ্চলে ৫ দিনব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। যদিও ইউক্রেন ও পশ্চিমারা বলে আসছিলেন, এই গণভোট ও গণভোটের ভিত্তিতে ইউক্রেনের ভূখণ্ডের রাশিয়ায় সংযুক্তি কোনোভাবেই বৈধ নয়।

তবে পশ্চিমা বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করে এর আগেও ২০১৪ সালে ক্রিমিয়াকে নিজ ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রাশিয়া।

ক্রেমলিনের মতে, ইউক্রেনের নব্য নাৎসিদের হাতে রুশভাষী নাগরিকরা নিরাপদ নয় এবং এই রুশভাষীদের রক্ষা করা রাশিয়ার দায়িত্ব।

এই সংযুক্তির আগে বৃহস্পতিবার জাপোরিজ্জা ও খেরসন অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

এর আগে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর আগে তিনি দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককেও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

যদিও এতদিন রাশিয়ার সঙ্গে ক্রিমিয়ার সরাসরি স্থল ভূখণ্ডে যোগাযোগ না থাকলেও নতুন এই চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হলে ক্রিমিয়ার সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হবে।

এদিকে এই সংযুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশ।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস নিউ ইয়র্ক সিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেছেন, এর (চার অঞ্চলের রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তি) কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

এ ছাড়া ইউক্রেনের অঞ্চল রাশিয়ায় সংযুক্তির ঘটনা, যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করে দিতে পারে এবং সেই বিষয়টি জানেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

তাই মূল ভূখণ্ডে সংযুক্তির আগে তিনি আংশিক সেনা সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে ৩ লাখ নতুন সেনাকে এসব অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে। প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রচ্ছন্ন ইংগিতও দিয়েছেন পুতিন।

এই চার অঞ্চল ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৫ শতাংশ, আয়তন প্রায় ১ লাখ বর্গ কিলোমিটারের ওপর এবং কৃষি উৎপাদনের ১৩-১৫ শতাংশ এই অঞ্চলগুলোতেই উৎপন্ন হয়।

এ ছাড়া জাপোরিজ্জাতে রয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

আরও পড়ুন:
পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামান: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী
অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া
দোনবাস রক্ষায় রুশ পরমাণু অস্ত্র, ইউএস কমান্ডারের মতে পরমাণু যুদ্ধ সম্ভব
রাশিয়াকে শাস্তি পেতেই হবে: জেলেনস্কি

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
23 killed in missile attack in Zaporizhia
রাশিয়া-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি দোষারোপ

জাপোরিজ্জায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২৩

জাপোরিজ্জায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২৩ গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরকে দোষারোপ করছে। ছবি: সংগৃহীত
শুক্রবার ইউক্রেনের জাপোরিজ্জাসহ চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর আগে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জাপোরিজ্জাকে স্বীকৃতিও দিয়েছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে অঞ্চলটিতে একটি গাড়িবহরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন এই ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে।

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চল জাপোরিজ্জায় একটি গাড়িবহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এই হামলার জন্য রাশিয়ার সেনাদের দায়ী করেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ২৩ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছে। হতাহতের সবাই বেসামরিক লোক।

টেলিগ্রামের এক বার্তায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন জাপোরিজ্জার আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দার স্টারুক।

তিনি জানিয়েছেন, গাড়িবহরে থাকা ব্যক্তিরা তাদের আত্মীয়দের রাশিয়া অধিকৃত ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলেই রয়েছে।

তবে ক্রেমলিন মনোনিত জাপোরিজ্জা কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে।

মস্কোপন্থি কর্মকর্তা ভ্লাদিমির রোগভ টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় দাবি করেছেন, কিয়েভের শাসকেরা রাশিয়ার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে, যা একটি জঘন্য উসকানি।

তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় যোদ্ধারা আরও একটি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেছে।

এদিকে আজই রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে যাওয়া ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে জাপোরিজ্জা। গতকালই প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির মাধ্যমে জাপোরিজ্জা ও খেরসনের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে যুক্ত করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেই এমন ডিক্রি জারি করা হয়েছে।

তবে পশ্চিমা বিশ্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনীয় অঞ্চলের অন্তর্ভূক্তির স্বীকৃতি তারা দেবে না।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস পর্যন্ত বলেছেন, এ পদক্ষেপের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

আরও পড়ুন:
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামান: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী
অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া
দোনবাস রক্ষায় রুশ পরমাণু অস্ত্র, ইউএস কমান্ডারের মতে পরমাণু যুদ্ধ সম্ভব
রাশিয়াকে শাস্তি পেতেই হবে: জেলেনস্কি
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Tearshell arrests 90 in anti Iranian protests in Norway

নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০

নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০ ইরানবিরোধী বিক্ষুব্ধরা নরওয়ে পুলিশের ওপরও হামলা করেছে। ছবি: ডয়চে ভেলে
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বিক্ষোভ হচ্ছে। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইরানের বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে ইরানি দূতাবাসের সামনে জড়ো হয় একদল মানুষ। এ সময় জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।

নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্র করে ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলা আন্দোলনের ইস্যুতে সহিংসতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে ইউরোপের দেশ নরওয়েতে।

দেশটির রাজধানী অসলোতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের সামনে প্রবাসী কুর্দি বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়। এ সময় তারা মাহসাকে নিয়ে এবং ইরানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভরত বেশ কয়েকজন আক্রমণাত্মক হয়ে পড়ে এবং গেট ভেঙে দূতাবাস ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়।

এ সময় বিক্ষুব্ধরা পুলিশের দিকে পাথর ছুড়ে মারে এবং লাঠি হাতে চড়াও হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে তারা টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০
বিক্ষোভকারীদের হাতে কুর্দি ভাষায় লেখা ও ইরানবিরোধী প্ল্যাকার্ড ছিল

ঘটনাস্থল থেকে ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এ ঘটনায় দুজন সামান্য আহত হয়েছেন।

ইরানের দূতাবাস ঘিরে হওয়া এই বিক্ষোভ কোন সংগঠন আয়োজন করেছে, তা জানা যায়নি।

ইরানি দূতাবাস এই ঘটনা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

বিক্ষোভ চলাকালীন অনেকের হাতেই ইরানবিরোধী পোস্টার দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীরা এ সময় ‘নারী, জীবন ও স্বাধীনতা’ এবং ‘কুর্দিস্তান দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দিতে থাকে।

এর আগে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসেও ইরানবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে এবং সেখানেও বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন:
বিক্ষোভ দমনে সীমান্ত পেরিয়েও ইরানি হামলা, ৯ কুর্দি নিহত
মাস্কের স্টারলিংক ইরানে কেন কাজ করবে না?
ইরান বিক্ষোভের পরিণতি কী?
নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা
ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Putin recognized the independence of two more regions of Ukraine

ইউক্রেনের আরও দুই অঞ্চলের স্বাধীনতায় স্বীকৃতি পুতিনের

ইউক্রেনের আরও দুই অঞ্চলের স্বাধীনতায় স্বীকৃতি পুতিনের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির মাধ্যমে জাপোরিজ্জা ও খেরসনের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে যুক্ত করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেই এমন ডিক্রি জারি করা হয়েছে। তবে পশ্চিমাবিশ্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তির স্বীকৃতি তারা দেবে না। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস পর্যন্ত বলেছেন, এ পদক্ষেপের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

ইউক্রেনের জাপোরিজ্জা ও খেরসন অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর আগে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর আগে তিনি দোনেৎস্ক ও লুহানেস্ককেও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার জারি করা এক প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রিতে পুতিন বলেছেন, ‘আমি দক্ষিণ ইউক্রেনের জাপোরিজ্জা ও খেরসনের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিচ্ছি।’

রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দোনেৎস্ক, লুহানেস্ক, জাপোরিজ্জা ও খেরসনের সংযুক্তির প্রস্তুতি হিসেবেই জাপোরিজ্জা ও খেরসনের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন পুতিন।

আজই এক জমকালো অনুষ্ঠানে নতুন এই চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তির ঘোষণা দেবেন পুতিন।

এরই মধ্যে ইউক্রেনের এই চারটি অঞ্চলের ক্রেমলিন মনোনীত নেতারা রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় জড়ো হয়েছেন।

খেরসন অঞ্চলের একজন কর্মকর্তা রেড স্কয়ারে নিজের একটি ভিডিওতে বলতে দেখা যায়, ‘বিজয় আমাদেরই, আমরা রাশিয়া।’

এর আগে এই চার অঞ্চলে পাঁচ দিনব্যাপী চলা এক গণভোটে বাসিন্দারা রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ভোট দেয় বলে দাবি করেছে ক্রেমলিন।

এর আগে ২০১৪ সালেও একইভাবে ক্রিমিয়া অঞ্চলকে রুশ ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

যদিও এতদিন রাশিয়ার সঙ্গে ক্রিমিয়ার সরাসরি স্থল ভূখণ্ডে যোগাযোগ না থাকলেও নতুন এই চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হলে ক্রিমিয়ার সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হবে।

এদিকে এই সংযুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাবিশ্বের অনেক দেশ।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস নিউ ইয়র্ক সিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেছেন, এর (চার অঞ্চলের রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তি) কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

আরও পড়ুন:
অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া
দোনবাস রক্ষায় রুশ পরমাণু অস্ত্র, ইউএস কমান্ডারের মতে পরমাণু যুদ্ধ সম্ভব
রাশিয়াকে শাস্তি পেতেই হবে: জেলেনস্কি
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  
যুদ্ধেই ইউক্রেন সংকটের সমাধান: ক্রেমলিন

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
NATO troops may enter Ukraine Polands foreign minister

ইউক্রেনে ঢুকতে পারে ন্যাটো সেনা: পোল্যান্ডের মন্ত্রী

ইউক্রেনে ঢুকতে পারে ন্যাটো সেনা: পোল্যান্ডের মন্ত্রী অস্ত্র সহায়তা দিলেও এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে সেনা মোতায়েন করেনি ন্যাটো। ছবি: সংগৃহীত
আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল নিজ ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে যাচ্ছে রাশিয়া। ইউক্রেনের হামলা প্রতিহত করতে এরই মধ্যে ৩ লাখ সেনা সমাবেশের নির্দেশ দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, বিকল্প হিসেবে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের। পারমাণবিক হুমকির প্রেক্ষিতে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে ন্যাটো সেনা।

ইউক্রেনে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করলে ন্যাটো দেশটিতে সেনা পাঠাতে পারে বলে জানিয়েছেন পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেবিগনিউ রাউ।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাতে রাশিয়া টুডে এমনটাই জানিয়েছে।

আরএমএফ এফএম রেডিওর সঙ্গে কথা বলার সময় রাউকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে রাশিয়া যদি পারমাণবিক বিকল্প বিবেচনা করে তবে সংস্থাটি কিভাবে জবাব দেবে। মন্ত্রীর মতে, পশ্চিমারা দৃঢ়ভাবে ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে এই ধরণের আক্রমণের (পারমাণবিক হামলা) জবাব দেবে।

এ ধরণের (পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন, কিংবা হামলা) পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে ন্যাটো সেনা প্রবেশের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি রাউ।

একই সঙ্গে তিনি জানান, সবচেয়ে খারাপ কিছু যদি ঘটে (পারমাণবিক হামলা) তবে এর প্রতিক্রিয়া সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানের নির্দেশিত পদক্ষেপের থেকে খুব বেশি আলাদা হবে না।

ইউক্রেনে ঢুকতে পারে ন্যাটো সেনা: পোল্যান্ডের মন্ত্রী
পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেবিগনিউ রাউ

এর আগে জ্যাক সুলিভান জানিয়েছিলেন, রাশিয়া পারমাণবিক হামলা চালালেও কনভেনশনাল (প্রচলিত) পথেই জবাব দেবে পশ্চিমারা।

যদিও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো বরাবরই বলে এসেছে, রাশিয়ার সঙ্গে তারা কোনো যুদ্ধে নেই এবং তারা ন্যাটো-রাশিয়া সংঘাতের পক্ষে নয়।

এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমাদের থেকে পারমাণবিক হামলার ব্ল্যাকমেইলের বিষয়ে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, এই বাতাস পশ্চিমাদের দিকেও ঘুরে যেতে পারে।

এদিকে, রাশিয়ার ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ দাবি করেছেন, মস্কো কাউকে পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি দিচ্ছে না।

রাশিয়ার মিলিটারি ডকট্রেইনের (সামরিক নীতি) রেফারেন্স দিয়ে রিয়াবকভ জানান, এই ধরণের অস্ত্র রাশিয়া কেবল দেশের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়লেই ব্যবহার করবে।

আরও পড়ুন:
দোনবাস রক্ষায় রুশ পরমাণু অস্ত্র, ইউএস কমান্ডারের মতে পরমাণু যুদ্ধ সম্ভব
রাশিয়াকে শাস্তি পেতেই হবে: জেলেনস্কি
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  
যুদ্ধেই ইউক্রেন সংকটের সমাধান: ক্রেমলিন
রুশ ফেডারেশনে ঢুকতে ডনবাস প্রজাতন্ত্রে গণভোট

মন্তব্য

p
উপরে