× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Bangladesh India border guard friendly football match
hear-news
player
print-icon

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তরক্ষীর প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

বাংলাদেশ-ভারত-সীমান্তরক্ষীর-প্রীতি-ফুটবল-ম্যাচ
বুধবার ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের দক্ষিণ বঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের ৮৬ ব্যাটালিয়ন, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের সীমা চৌকি শিকারপুরে এই ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের দক্ষিণ বঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের ৮৬ ব্যাটালিয়ন, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের সীমা চৌকি শিকারপুরে এই ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

বিএসএফের সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের মহাপরিদর্শক অতুল ফুলঝুলে এই ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে ব্রিগেডিয়ার মহিউদ্দিন মোহাম্মদ জাবেদ, পিএসসি ডিরেক্টর মোহাম্মদ আরিফুল হক এবং ১৪ জনের একটি প্রতিনিধি দল এই ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন।

বিএসএফের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

৯০ মিনিটের খেলা শেষে ৫-০ গোলে বিএসএফ জয়ী হয়।

করিমপুরের বিধায়ক, জেলা পরিষদের সদস্যরা, বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করেন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
The king made the Saudi prince the prime minister

সৌদি যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রী করলেন বাদশাহ

সৌদি যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রী করলেন বাদশাহ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বাদশাহ সালমান বিন আবদুলাজিজ আল সৌদ। ছবি: সৌদি গেজেট
শাসনের মৌলিক আইনের ৫৬ অনুচ্ছেদের বিধান এবং মন্ত্রিপরিষদ আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোতে ছাড় দিয়ে যুবরাজ এমবিএসকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন বাদশাহ সালমান বিন আবদুলাজিজ আল সৌদ, তবে এমবিএস প্রধানমন্ত্রী হলেও মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বাদশাহ।

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বাদশাহ সালমান বিন আবদুলাজিজ আল সৌদ।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাজ ফরমানে এমবিএসের ওপর নতুন এ দায়িত্ব অর্পণ করেন তার ৮৬ বছর বয়সী বাবা।

ফরমানের বরাত দিয়ে সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এমবিএস প্রধানমন্ত্রী হলেও মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বাদশাহ।

এতে জানানো হয়, শাসনের মৌলিক আইনের ৫৬ অনুচ্ছেদের বিধান এবং মন্ত্রিপরিষদ আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোতে ছাড় দিয়ে যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছে।

আরেক ফরমানে যুবরাজের নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদে রদবদল আনেন বাদশাহ সালমান।

তিনি উপপ্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। নতুন শিক্ষামন্ত্রী নিযুক্ত করা হয় ইউসেফ বিন আবদুল্লাহ আল-বেনিয়ানকে। এ ছাড়া তালাল বিন আবদুল্লাহ আল-ওতাইবিকে সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন বাদশাহ।

মন্ত্রিপরিষদে রদবদলের পরও যারা পদ ধরে রাখতে পেরেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিমন্ত্রী প্রিন্স মনসুর বিন মিতেব, জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলাজিজ বিন সালমান, প্রতিমন্ত্রী প্রিন্স তুর্কি বিন মোহাম্মদ বিন ফাহদ, ক্রীড়ামন্ত্রী প্রিন্স আবদুলাজিজ বিন তুর্কি বিন ফয়সাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলাজিজ বিন সৌদ বিন নাইফ, ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রী প্রিন্স আবদুল্লাহ বিন বন্দর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহ, সংস্কৃতিমন্ত্রী প্রিন্স বদর বিন আবদুল্লাহ বিন ফারহান, প্রতিমন্ত্রী শেখ সালেহ বিন আবদুলাজিজ আল-শেখ।

এ ছাড়াও পদে বহাল আছেন ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুললতিফ আল-শেখ, আইনমন্ত্রী ড. ওয়ালিদ আল-সামানি, প্রতিমন্ত্রী ড. মুত্তালিব আল-নাফিসাহ, প্রতিমন্ত্রী ড. মুসায়েদ বিন মোহাম্মদ আল-আইবান, প্রতিমন্ত্রী ড. ইব্রাহিম আল-আসাফ, হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক আল-রাবিয়াহ, শুরা পরিষদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. ইসাম বিন সাদ বিন সাইদ, বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারপ্রাপ্ত গণমাধ্যমবিষয়ক মন্ত্রী ড. মাজেদ আল-কাসাবি।

আরও পড়ুন:
উগ্রবাদী ৫০ লাখ টেলিগ্রাম বার্তা মুছল সৌদি আরব   
মহাকাশ গবেষকদের শীর্ষ সংগঠনে নেতৃত্বের সারিতে সৌদি নারী
এবার সৌদি আইডল
মদিনায় স্বর্ণের খনি
‘মেয়ে জীবিত না মরে গেছে জানতাম না’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Saudi Arabia deletes 5 million telegram messages

উগ্রবাদী ৫০ লাখ টেলিগ্রাম বার্তা মুছল সৌদি আরব   

উগ্রবাদী ৫০ লাখ টেলিগ্রাম বার্তা মুছল সৌদি আরব    সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত এতিদালের সদরদপ্তর। ছবি: এএফপি
দ্য গ্লোবাল সেন্টার ফর কমবেটিং এক্সট্রিমিস্ট আইডিওলজি (এতিদাল) জানিয়েছে, ১৭ জুলাই থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় টেলিগ্রামের একটি টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে মিলে ৫২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮টি কনটেন্ট মুছে ফেলেছে তারা।

সৌদি আরবে দুই মাসে ৫০ লাখের বেশি উগ্রবাদী টেলিগ্রাম বার্তা মুছে দিয়েছে দেশটির সরকার।

দ্য গ্লোবাল সেন্টার ফর কমবেটিং এক্সট্রিমিস্ট আইডিওলজি (এতিদাল) সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। তারা বলেছে, ১৭ জুলাই থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় টেলিগ্রামের একটি টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে মিলে ৫২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮টি কনটেন্ট মুছে ফেলা হয়েছে।

মুছে ফেলা কনটেন্টগুলোর মধ্যে আছে, সিরিয়া গৃহযুদ্ধে জড়িত জঙ্গি গোষ্ঠী তাহরির আল-শাম সম্পর্কিত ৩০ লাখ ১২ হাজার ৪৮৩টি বার্তা, আল-কায়েদা সম্পর্কিত ১১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৭টি এবং আইএস সম্পর্কিত ১০ লাখ ৮৮ হাজার ১৪২টি বার্তা।

এতিদাল জানায়, উগ্রবাদী কনটেন্ট সরিয়ে নিতে চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে টেলিগ্রামের সঙ্গে কাজ শুরু করে তারা। মূলত ব্যবহারকারীদের হুমকি এবং নেতিবাচক মতাদর্শ থেকে রক্ষা করতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়। মুছে ফেলা আরবি বার্তাগুলোর মধ্যে আছে, পিডিএফ, ভিডিও এবং ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া ফাইল।

সৌদি লেখক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুবারক আল-আতি মনে করছেন, চরমপন্থি বক্তব্য ও সন্ত্রাসবাদের ধারণা মোকাবিলায় তারা যথেষ্ট... এটা প্রমাণ করতে যাচ্ছে এতিদাল।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিকস্তরে হুমকি মোকাবিলায় সংস্থাটির কাজ সুপরিচিত। টেলিগ্রামের মতো হাই-প্রোফাইল অংশীদারের সঙ্গে কাজ করে সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য পাবলিক অনলাইনে চরমপন্থী প্রভাব কমাতে পারবে তারা।

‘এটি সমাজে এ ধরনের কনটেন্টের প্রভাব কমিয়ে আনবে। পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক সংস্থাগুলোকে সমাজের নিরাপত্তা রক্ষা ও বজায়ে নিজেদের দায়িত্বগুলোকে মনে করিয়ে দেবে।’

উগ্রবাদী ৫০ লাখ টেলিগ্রাম বার্তা মুছল সৌদি আরব
সৌদি লেখক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুবারক আল-আতি

এতিদাল হলো একটি বৈশ্বিক সংস্থা; যার কাজ চরমপন্থা মোকাবিলা এবং এর মূলোৎপাটন করা। সেই সঙ্গে জনগণের মধ্যে সহনশীলতা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি প্রচার করে থাকে সংস্থাটি।

রিয়াদে ২০১৭ সালের ২১ মে আরব-ইসলামিক-আমেরিকান শীর্ষ সম্মেলনের সময় আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে সহযোগিতার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এতিদাল। এটির সদরদপ্তর সৌদি রাজধানী রিয়াদে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Far right victory in Italy puts EU on edge

ইতালিতে উগ্র ডানপন্থিদের জয়ে ইইউর কপালে ভাঁজ

ইতালিতে উগ্র ডানপন্থিদের জয়ে ইইউর কপালে ভাঁজ সিলভিও বারলুসকোনি (মাঝে) এবং মাত্তেও সালভিনির (বাঁয়ে) সঙ্গে জোট বেঁধেছেন জর্জিয়া মেলোনি (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ইতালি। সাধারণ নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থিরা বিজয়ী হওয়ায় ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ বিপদের আশঙ্কায় রয়েছে। উল্টো দিকে এই জয় স্বস্তি তৈরি করতে পারে রাশিয়ার জন্য।   

ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে উগ্র ডানপন্থি ব্রাদার্স পার্টির নেতা জর্জিয়া মেলোনি। ২৫ সেপ্টেম্বরের ভোটে মেলোনির দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায়, সাত দশকের বেশি সময় পর ইতালির ক্ষমতায় আসছে উগ্র ডানপন্থিরা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ইতালি। উগ্র ডানপন্থিরা ক্ষমতায় এলে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ বিপদে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও ভোটের পর মেলোনি জানিয়েছিলেন, তারা সবার জন্য সরকার গঠন করবেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না।

তিনি বলেন, ‘ব্রাদার্স অফ ইতালির নেতৃত্বে ডানপন্থি সরকারের পক্ষে রায় দিয়ে ইতালীয়রা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।’

মেলোনির দল পেয়েছে ২৬ শতাংশ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনরিকো লেটার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভোট ১৯.৬ শতাংশ।

ভোটের এই ফলে সামনে দুঃসময় দেখছেন মধ্য-বামপন্থি এনরিকো। তিনি বলেন, ‘উগ্র ডানপন্থিদের বিজয় ইতালি এবং ইউরোপের জন্য দুঃখজনক অধ্যায়। তারপরও আমরা শক্তিশালী একটি বিরোধীদল দেশকে উপহার দেব।’

ইতালিতে উগ্র ডানপন্থিদের জয়ে ইইউর কপালে ভাঁজ
উগ্র ডানপন্থি ব্রাদার্স পার্টির নেতা জর্জিয়া মেলোনি

মাত্তেও সালভিনির লিগ ফর সালভিনি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির সেন্টার রাইট ফোর্জা ইতালিয়া দলের সঙ্গে জোট বেঁধেছিলেন মেলোনি। ভোটে সালভিনির দল পেয়েছে ৮.৮৭ শতাংশ ভোট; বারলুসকোনির পক্ষে গেছে ৮.১২ শতাংশ।

সব মিলিয়ে প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোটারের সমর্থন নিয়ে পার্লামেন্টের সিনেট এবং চেম্বার- দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছে ডানপন্থি এই জোট।

চার বছর আগে হওয়া নির্বাচনে মেলোনির ব্রাদার্স পার্টি পেয়েছিল মাত্র ৪ শতাংশ ভোট। এবার জাতীয় ঐক্য সরকারে নিজেদের না জড়িয়ে বাজিমাত করেছে উগ্র ডানপন্থি দলটি।

ভোটে বাদার্স পার্টির অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে বিরোধী দলগুলোর বিভেদও কাজ করেছে। এক মাস আগেও ইতালির বাম এবং মধ্যপন্থি দলগুলো উগ্র ডানপন্থি মেলোনি জোটকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ছিল। তবে শেষপর্যন্ত তারা সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। বলা হচ্ছে, এতেই কপাল খুলেছে মেলোনির জোটের।

জোট বেঁধে ক্ষমতায় এলেও প্রধানমন্ত্রী পদে মেলোনির আসা এখনও কিছুটা অনিশ্চিত। কারণ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট মাতারেলা, যিনি ইতালির সংবিধান অনুসারে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে অক্টোবরের শেষদিকে।

ন্যাটোর সদস্য ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তবে ইইউতে মেলোনির দেয়া বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে তাকে হাঙ্গেরির জাতীয়তাবাদী নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

মেলোনির দুই জোটসঙ্গীর সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ভোটের কিছুদিন আগে বারলুসকোনি দাবি করেছিলেন, ইউক্রেনে আক্রমণ চালাতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বাধ্য করা হয়েছে। মস্কোর ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।

ইতালির ডানপন্থি দলগুলোকে অভিনন্দন জানিয়েছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরামর্শক বালাজ অরবান। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন অনেক বন্ধু প্রয়োজন, যারা ইউরোপের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম।’

মেলোনি জোটকে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্রান্সের উগ্র ডানপন্থিরাও। ন্যাশনাল র‍্যালির নেতা জর্ডান বারডেলা বলেন, ‘ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেয়েনকে মোলায়েম শিক্ষা দিয়েছে ইতালীয়রা।’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
In Iran the death toll of protestors has increased to 76 despite being shot at

ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬

ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬ ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ আরও জোরাল হচ্ছে (বাঁয়ে), এটি দমনে সরাসরি গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে। ছবি: আইএইচআর
মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত নিহত ৭৬ জনের মধ্যে অন্তত ছয় নারী ও চার শিশু রয়েছে। কর্তৃপক্ষের দমনপীড়ন উপেক্ষা করে সোমবারও তেহরান, ইয়াজদ, কারাজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।

ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান প্রবল বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৬ জন।

বিক্ষোভ দমনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ব্লকসহ ইন্টারনেটে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে এর পরেও একের পর এক শহরে ছড়িয়ে পড়ছে সহিংস বিক্ষোভ।

অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটসের (আইএইচআর) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালানোয় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।

ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬
রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন হিজাববিরোধীরা

ইরান সরকার দাবি করছে, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৪১, তাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক জন সদস্যও আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইরানের বিভিন্ন শহরে সোমবার রাতেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

মাহসা আমিনি যে প্রদেশে বসবাস করতেন সেই পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্দিস্তানের রাজধানী সান্দাজে নারীরা উল্লাসিত জনতার সামনে মাথার হিজাব খুলে পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ইয়াজদ শহরে কয়েক নারীকে গাড়ির ওপর দাঁড়িয়েও স্লোগান দিতে দেখা যায়। আইএইচআর-এর প্রকাশিত বেশ কিছু ছবিতে দেখা যায়, সান্দাজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে পুলিশ।

ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬
ইয়াজদ শহরে গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন নারীরা

বিভিন্ন ভিডিওতে তেহরানেও ব্যাপক জনবিক্ষোভ দেখা গেছে। তারা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন।

তাবরিজ শহরের কয়েকটি ভবন থেকে মোবাইল ফোনে তোলা ভিডিওতে দেখা যায়, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি, টিয়ার গ্যাস উপেক্ষা করে রাস্তায় প্রতিবাদ করছে মানুষ।

আইএইচআর-এর মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মাহসার মৃত্যুর ঘটনায় চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত নিহত ৭৬ জনের মধ্যে অন্তত ছয় নারী ও চার শিশু রয়েছে। কর্তৃপক্ষের দমনপীড়ন উপেক্ষা করে সোমবারও তেহরান, ইয়াজদ, কারাজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে মাজানদারান শহরে। সেখানে নিহতের সংখ্যা ২৫। এরপর পশ্চিম আজারবাইজানে ১১, গিলান শহরে ১০, কেরমানশাহ শহরে ৬, কুর্দিস্তানে ৬, আলবোর্জে ৪ জন এবং তেহরানে ৩ জনের প্রাণ হারানোর তথ্য দিয়েছে আইএইচআর। বাকিরা মারা গেছেন কোহগিলুয়েহ এবং বয়ের আহমদ, ইসফাহান, খোরাসান-রাজাভি, জাঞ্জন, সেমন, কাজভিন, ইলম এবং পূর্ব আজারবাইজানে।

ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬
তিন বছরের মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট ও চরম লঙ্ঘন।

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, গ্রেপ্তারের মোট সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়ে গেছে। বিক্ষোভকারীরা সরকারি সম্পত্তির ওপর হামলা করছে বলেও দাবি করা হয় রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমে।

মাজানদারানের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ করিমি সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে বলেন, ‘ইসলামি বিপ্লববিরোধী এজেন্ট দাঙ্গাকারীরা সরকারি ভবনে হামলা চালিয়েছে, তারা সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করছে।’

বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেন মোহসেনি এজেই।

মিজান অনলাইনে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানে পুলিশ সদরদপ্তর পরিদর্শনে গিয়ে বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন গোলামহোসেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা দিনের ২৪ ঘণ্টা দায়িত্বপালন করছেন। অনেকে একটু ঘুমানোর সুযোগ পর্যন্ত পাচ্ছেন না।’

মাহসার মৃত্যুর পর শুরু হওয়া বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটির ৮০টির বেশি শহরে ছড়িয়ে গেছে।

পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ অংশগ্রহণকারীদের ‘ইসরায়েলের সেনা’ হিসেবে অবিহিত করছে সরকার ও হিজাবপন্থিরা। এরই মধ্যে তারাও বিক্ষোভ করেছে এবং সেই বিক্ষোভ সরাসরি সম্প্রচার করা হয় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।

ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬
ইরানের অন্তত ৮০ শহরে ছড়িয়েছে বিক্ষোভ

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ।

ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

হিজাব আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য চলতি বছরের ৫ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে ‘সঠিক নিয়মে’ পোশাকবিধি অনুসরণ না করা নারীদের সরকারি সব অফিস, ব্যাংক এবং গণপরিবহনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত জুলাইয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #no2hijab হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। দেশটির নারী অধিকারকর্মীরা ১২ জুলাই সরকার ঘোষিত জাতীয় হিজাব ও সতীত্ব দিবসে প্রকাশ্যে তাদের বোরকা ও হিজাব সরানোর ভিডিও পোস্ট করেন।

আরও পড়ুন:
হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট
মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান
মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
উত্তাল ইরানের এক শহর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতছাড়া
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
US Canada Sanctions on Irans Morality Police

ইরানের নৈতিকতা পুলিশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার নিষেধাজ্ঞা

ইরানের নৈতিকতা পুলিশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার নিষেধাজ্ঞা পুলিশ হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে ইরানের তেহরানে বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি
স্থানীয় সময় সোমবার কানাডার অটোয়ায় দেশটি প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়া আন্দোলনকারীদের ওপর ইসলামিক রিপাবলিকটির সরকারের নজীরবিহীন দমন-পীড়নের কারণে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তথাকথিত নৈতিকতা পুলিশ সদস্যরা, প্রজাতন্ত্রের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংস্থা এর আওতায় পড়বে।’

ইরানে পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় দেশটির ‘নৈতিকতা পুলিশ’ ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা।

স্থানীয় সময় সোমবার কানাডার অটোয়ায় দেশটি প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়া আন্দোলনকারীদের ওপর ইসলামিক রিপাবলিকটির সরকারের নজীরবিহীন দমন-পীড়নের কারণে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তথাকথিত নৈতিকতা পুলিশ সদস্যরা, প্রজাতন্ত্রের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংস্থা এর আওতায় পড়বে।’

একই ইস্যুতে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দেশটির বিতর্কিত নৈতিকতা পুলিশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ।

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, কুর্দি তরুণীর মৃত্যুর দায় দেশটির নৈতিকতা পুলিশ ইউনিটের। এই মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভরত নারীদের পুলিশের নির্বিচার দমন-পীড়নের ঘটনায় এমন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ইরানে ‘সঠিকভাবে’ হিজাব না করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তুমুল বিক্ষোভ।

রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ৮০টি শহর এখন অগ্নিগর্ভ। পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে সোমবার পর্যন্ত ৭৫ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন, বলে জানিয়েছে ওসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস। এ সময় আহত হয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ।

১৯৭৯ সালে দেশটিতে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে নারীর পোশাক ইস্যুতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ এটি।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ওই বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

ইরানের নৈতিকতা পুলিশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার নিষেধাজ্ঞা
মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। ছবি: সংগৃহীত

নারীর জন্য কঠোর পোশাকবিধি দেখভালের দায়িত্বে আছে ইরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ ইউনিট, ফারসি ভাষায় যার প্রাতিষ্ঠানিক নাম ‘গাস্ত-ই এরশাদ’। নিবর্তনমূলক ভূমিকার কারণে এই ইউনিট দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত অজনপ্রিয়। মাহসার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে ‘নৈতিকতা পুলিশ’-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। পাশাপাশি দেশটির শাসকগোষ্ঠীর প্রতিও বিপুলসংখ্যক মানুষের অনাস্থার প্রকাশ ঘটেছে এবার।

আরও পড়ুন:
ইরানে মাহসার পর এবার বিদ্রোহের প্রতীক হাদিস নাজাফি
পোশাকের স্বাধীনতায় ইরানি ২ বোনের হৃদয়ছোঁয়া ‘বেলা চাও’
বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Thousands of people held flowers at Shinzos funeral

ফুল হাতে হাজারো মানুষ শিনজোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজনে

ফুল হাতে হাজারো মানুষ শিনজোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে শিনজো আবেকে। ছবি: বিবিসি
শিনজোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা চলছে দেশজুড়ে। রাষ্ট্রীয়ভাবে কেন তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধরা। তাদের মতে, এতে খরচ না করে অর্থগুলো টাইফুন শিজুয়োকাতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যয় করা উচিত।

কঠোর নিরাপত্তায় ফুল, প্রার্থণা আর গান স্যালুটে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে টোকিওর কেন্দ্রস্থলে নিপ্পন বুদোকান হলে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার এই আয়োজন শুরু হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স

শিনজোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা চলছে দেশজুড়ে। রাষ্ট্রীয়ভাবে কেন তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধরা। তাদের মতে, এতে খরচ না করে অর্থগুলো টাইফুন শিজুয়োকাতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যয় করা উচিত।

তবে সমালোচনায় কান না দিয়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বড় ধরনের আয়োজন করেন জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বহু দেশপ্রধানকে।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে সকাল থেকেই ভেন্যুতে উপস্থিত হয়েছেন হাজারো মানুষ। ভিড় সামলানে না পেরে নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা আগেই খুলে দেয়া হয় গেট।

কয়েক ঘণ্টায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ শিনজোর প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ফুল দেয়ার পর কিছুক্ষণ নীরব থেকে সেখানে শিনজোর ছবির সামনে প্রার্থনা করেন তারা।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার এই আয়োজনে ৪ হাজার ৩ শ’র মতো মানুষ অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে যোগ দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ অন্তত ৪০টি দেশের প্রতিনিধি।

আয়োজনে অংশ নিতে আসা অতিথিসহ পুরো বিষয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশের ২০ হাজারের মতো সদস্য। বন্ধ রাখা হয়েছে ওই এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

গত ৮ জুলাই জাপানের পশ্চিমাঞ্চলের নারা শহরে এক নির্বাচনী সভায় বক্তৃতা দেয়ার সময় বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন শিনজো।

২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেও জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতিতে বড় প্রভাব ছিল তার। এই দলের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শিনজো আবে ছিলেন সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী। ২০০৬ সালে তিনি প্রথবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। ২০১২ সালে তিনি আবারও প্রধানমন্ত্রী হন। তার বাবা ছিলেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়া তার এক দাদা জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

জাপানে বন্দুক হামলা খুবই বিরল ঘটনা। কারণ সেখানে অস্ত্র বহন করা নিষিদ্ধ। এ ছাড়া জাপানে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের টার্গেট করে হত্যা করার ঘটনাও খুব একটা দেখা যায় না।

২০০৭ সালে নাগাসাকি শহরের মেয়র ইচো ইতোকে গুলি করে হত্যা করেছিল গ্যাংস্টাররা। ১৯৬০ সালে জাপানের সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রধানকে বক্তব্য দেবার সময় গুলি ছুড়ে হত্যা করে ডানপন্থিরা।

আরও পড়ুন:
আবেকে শ্রদ্ধা ভালোবাসায় শেষ বিদায়
আবেকে আগেও হত্যার চেষ্টা করেছিলেন হামলাকারী
আবের মৃত্যুতে সারা দেশে শোক

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Russian gas pipeline has leaked into the sea

সাগরে ফুটো হয়ে গেছে রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইন

সাগরে ফুটো হয়ে গেছে রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইন ফাইল ছবি
১২০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চল থেকে বাল্টিক সাগরের নিচ দিয়ে জার্মানির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পৌঁছেছে। এই পাইপলাইন তৈরির কাজ শেষ হয়েছে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। কিন্তু এখনো গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়নি।

রাশিয়ার আলোচিত গ্যাস পাইপলাইন নর্ড স্ট্রিম ২ ফুটো হতে শুরু করেছে; বাল্টিক সাগরের তলদেশে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

এতে নৌযান চলাচলে কিছুটা ঝুঁকি দেখা দিয়েছে বলে ডেনমার্ক কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি

১২০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চল থেকে বাল্টিক সাগরের নিচ দিয়ে জার্মানির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পৌঁছেছে। এই পাইপলাইন তৈরির কাজ শেষ হয়েছে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। কিন্তু এখনো গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়নি।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরুর কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পাইপলাইনটি নিয়ে অগ্রসর না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জার্মানি।

এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে সম্প্রতি এ নিয়ে রাশিয়ার করার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার কাছ থেকে গ্যাস চাইলে তাদের নর্ড স্ট্রিম ২ পাইপলাইন চালুর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

রাশিয়ার পাইপলাইন ফুটো হয়ে যাওয়ার ঘটনায় বাল্টিক সাগরে ডেনমার্কের দ্বীপ বর্নহোমের কাছে পাঁচ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

ডেনমার্কের জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সমুদ্রের তলদেশে পাইপলাইনে চাপ কমে যাওয়ার বিষয়ে জানানোর পর এটি নিয়ে কাজ করেছে কর্তৃপক্ষ।

ওই পাইপলাইনের তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠান নর্ড স্ট্রিম ২ এজির বড় অংশের মালিকানা রাশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।

ডেনমার্কের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নিষিদ্ধ এলাকার বাইরে এই পাইপলাইন ফুটো হওয়ার প্রভাব পড়বে না।

আরও পড়ুন:
পুতিনের সেনা সমাবেশের ঘোষণার প্রতিবাদে রাশিয়ায় বিক্ষোভ
রাশিয়ার আংশিক সেনা সমাবেশে যাদের ডাকা হবে
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  

মন্তব্য

p
উপরে