× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Europe bans its own citizens Putin
hear-news
player
print-icon

নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইউরোপই ধুঁকছে: পুতিন

নিষেধাজ্ঞা-দিয়ে-ইউরোপই-ধুঁকছে-পুতিন
ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য রাখছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
পুতিন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার জন্য ইউরোপীয়রা নিজেদের জীবনযাত্রার মানে ছাড় দিচ্ছে। অন্যদিকে দরিদ্র দেশগুলো পড়েছে খাদ্য সংকটে। ইউক্রেনের শস্য থেকে দরিদ্র দেশগুলোকে বঞ্চিত করছে ইউরোপ।’

রাশিয়ার ওপর পশ্চিমের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপীয়দের জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ভ্লাদিভস্তক শহরে বুধবার একটি ফোরামে দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

পুতিন বলেন, ‘পশ্চিমের এসব নিষেধাজ্ঞা গোটা বিশ্বের জন্য হুমকি। আমরা এই অর্থনৈতিক আগ্রাসন মোকাবিলা করছি।

‘নিষেধাজ্ঞার জন্য ইউরোপীয়রা নিজেদের জীবনযাত্রার মানে ছাড় দিচ্ছে। অন্যদিকে দরিদ্র দেশগুলো পড়েছে খাদ্য সংকটে। ইউক্রেনের শস্য থেকে দরিদ্র দেশগুলোকে বঞ্চিত করছে ইউরোপ।’

কয়েক মাস ধরে ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দরগুলো অবরুদ্ধ রেখেছিল রাশিয়ান বাহিনী। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় আগস্টের শুরুতে রপ্তানি পুনরায় শুরু হয়।

পুতিনের দাবি, এ সময়ে কেবল দুটি শস্যবাহী জাহাজ আফ্রিকায় গেছে। রপ্তানি বাড়াতে পুতিন চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার বিষয়ে আলোচনা করতে চান। তবে ইউক্রেন সরকার রুশ প্রেসিডেন্টের আহ্বানকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে।

রাশিয়া ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে অভিযান শুরু করে। গত কয়েক মাসে ইউক্রেনের প্রায় পঞ্চমাংশ এলাকা দখল করেছে পুতিন বাহিনী। যুদ্ধের ছয় মাস পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং উত্তরের আশপাশের এলাকাগুলো থেকে পিছু হটে রুশ সেনারা। এখন দক্ষিণ ও পূর্বে ইউক্রেনীয় বাহিনীর পাল্টা হামলার মুখোমুখি হচ্ছে পুতিন বাহিনী।

পশ্চিমা দেশগুলো বিপুলসংখ্যক রাশিয়ান নাগরিক, ব্যবসা এবং রাষ্ট্র পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। রাশিয়ান গ্যাস ও তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অন্যদিকে নর্ড স্ট্রিম ১ গ্যাস পাইপলাইনে কারিগরি সমস্যার কথা জানিয়ে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে রাশিয়া।

এতে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুক্রবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইইউ নেতারা।

পুতিন বলেন, ‘পশ্চিমারা তাদের আচরণ অন্যান্য দেশের ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। কীভাবে ইউরোপে একের পর এক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তা বিশ্ব দেখতে পাচ্ছে।’

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে রাশিয়াতেও। দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছেই, রুশ প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানি করতে লড়াই করছে।

ইইউ ইতোমধ্যে রাশিয়া থেকে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, রাশিয়ানদের ভিসা পাওয়ার বিষয়টি আরও জটিল করার বিষয়ে গত সপ্তাহে একমত হয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা। এতে সেনজেন ভিসা আরও ব্যয়বহুল হতে পারে।

পুতিন বলেন, ‘ডলার, ইউরো ও পাউন্ডের প্রতি মানুষের আস্থা কমছে। আমি নিশ্চিত এতে আমরা কিছু হারাইনি এবং কিছুই হারাব না।’

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবার অভিযোগ, রাশিয়া জ্বালানি নিয়ে ইউরোপকে ব্ল্যাকমেইল করতে চাইছে। পুতিন ইউরোপের প্রতিটি পরিবারের স্থিতিশীলতা এবং মঙ্গল নষ্ট করতে চায়।’

ফোরামে উপস্থিত ছিলেন চীনা আইনপ্রণেতা লি ঝানশু। তাকে ইঙ্গিত করে পুতিন বলেন, ‘যে যতই রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় না কেন, এটি অসম্ভব।’

রাশিয়ার বার্তা সংস্থাগুলো বলছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন আগামী সপ্তাহে উজবেকিস্তানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Russia claims victory in referendum in 4 occupied regions of Ukraine

ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলে গণভোটে জয় দাবি রাশিয়ার

ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলে গণভোটে জয় দাবি রাশিয়ার চলছে গণভোট। ছবি: বিবিসি
রাশিয়া যদি এই চারটি অঞ্চল এবার নিজেদের দেশের সঙ্গে যুক্ত করে নেয় তবে চলমান যুদ্ধ আরেকটি ভিন্ন এবং বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যাবে। কারণ এসব অঞ্চল ফিরে পেতে ইউক্রেন হামলা করলে সেই হামলা হবে রাশিয়ার সার্বভৌম ভূমিতে হামলা।

রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের গণভোটে রায় এসেছে মস্কোর পক্ষে, তবে এই গণভোটকে জালিয়াতি আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন এবং তার মিত্র দেশগুলো।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে ২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর এ গণভোটের আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি

অঞ্চলগুলোতে দায়িত্ব নেয়া রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, গণভোটে অংশগ্রহণকারীদের সবাই এখন এর মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সমর্থন দিয়েছেন।

নির্বাচনে প্রায় ৪০ লাখ ভোটারকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাবে প্রক্রিয়াটি স্বাধীনভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি।

দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলে রুশপন্থী বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, ৯৯.২৩ শতাংশ মানুষ রাশিয়ায় যোগ দেয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে। আর খেরসনে ৮৭ শতাংশ এবং জাপোরিঝঝিয়ায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দেয়ার পক্ষে।

অবশ্য গণভোটে এত বেশি ভোট পড়ার দাবি অনেকটা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এমন প্রেক্ষাপটে ধারণা করা হচ্ছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার রাশিয়ার পার্লামেন্টে যৌথ অধিবেশনে এ অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ার অংশ করে নেয়ার ঘোষণা দেবেন। এ চারটি অঞ্চল ইউক্রেনের মোট ভূমির প্রায় ১৫ শতাংশ।

আরটির প্রতিবেদন বলছে, এ অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ার সঙ্গে অঙ্গীভূত করার জন্য রাশিয়ার পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্টের অনুমোদন লাগবে। এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগবে।

তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, কাজটি দ্রুতই হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এর আগে ২০১৪ সালের মার্চে একই ধরনের একটি গণভোটের মাধ্যমে পুতিন ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ করে নেয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন।

বিবিসি বলছে, রাশিয়া যদি এই চারটি অঞ্চল এবার নিজেদের দেশের সঙ্গে যুক্ত করে নেয় তবে চলমান যুদ্ধ আরেকটি ভিন্ন এবং বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যাবে। কারণ এসব অঞ্চল ফিরে পেতে ইউক্রেন হামলা করলে সেই হামলা হবে রাশিয়ার সার্বভৌম ভূমিতে হামলা।

ইউক্রেনের ভেতরে থাকা এই চারটি অঞ্চল জোর করে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টাকে জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনেস্কি। তিনি বলেন, দখল করা এলাকাগুলোতে এ ধরনের প্রহসনকে গণভোটের নকলও বলা যায় না।

সার্বিক পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে রাশিয়ার ওপর আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পরে গণভোট বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

আর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, এসব অঞ্চলকে রাশিয়া তাদের অংশ করে নিলে সেটিকে পাশ্চাত্য কখনোই স্বীকৃতি দেবে না।

তবে পুতিন বলেছেন, এসব অঞ্চলে বসবাসরত জাতিগত রাশিয়ান এবং রাশিয়ান ভাষাভাষী জনগণের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করার জন্য এই আয়োজন।

আরও পড়ুন:
পুতিনের সেনা সমাবেশের ঘোষণার প্রতিবাদে রাশিয়ায় বিক্ষোভ
রাশিয়ার আংশিক সেনা সমাবেশে যাদের ডাকা হবে
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  
রুশ সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ৩ লাখ রিজার্ভ সেনা তলব করছেন পুতিন
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে পুতিনকে হুঁশিয়ারি বাইডেনের

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Far right victory in Italy puts EU on edge

ইতালিতে উগ্র ডানপন্থিদের জয়ে ইইউর কপালে ভাঁজ

ইতালিতে উগ্র ডানপন্থিদের জয়ে ইইউর কপালে ভাঁজ সিলভিও বারলুসকোনি (মাঝে) এবং মাত্তেও সালভিনির (বাঁয়ে) সঙ্গে জোট বেঁধেছেন জর্জিয়া মেলোনি (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ইতালি। সাধারণ নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থিরা বিজয়ী হওয়ায় ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ বিপদের আশঙ্কায় রয়েছে। উল্টো দিকে এই জয় স্বস্তি তৈরি করতে পারে রাশিয়ার জন্য।   

ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে উগ্র ডানপন্থি ব্রাদার্স পার্টির নেতা জর্জিয়া মেলোনি। ২৫ সেপ্টেম্বরের ভোটে মেলোনির দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায়, সাত দশকের বেশি সময় পর ইতালির ক্ষমতায় আসছে উগ্র ডানপন্থিরা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ইতালি। উগ্র ডানপন্থিরা ক্ষমতায় এলে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ বিপদে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও ভোটের পর মেলোনি জানিয়েছিলেন, তারা সবার জন্য সরকার গঠন করবেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না।

তিনি বলেন, ‘ব্রাদার্স অফ ইতালির নেতৃত্বে ডানপন্থি সরকারের পক্ষে রায় দিয়ে ইতালীয়রা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।’

মেলোনির দল পেয়েছে ২৬ শতাংশ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনরিকো লেটার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভোট ১৯.৬ শতাংশ।

ভোটের এই ফলে সামনে দুঃসময় দেখছেন মধ্য-বামপন্থি এনরিকো। তিনি বলেন, ‘উগ্র ডানপন্থিদের বিজয় ইতালি এবং ইউরোপের জন্য দুঃখজনক অধ্যায়। তারপরও আমরা শক্তিশালী একটি বিরোধীদল দেশকে উপহার দেব।’

ইতালিতে উগ্র ডানপন্থিদের জয়ে ইইউর কপালে ভাঁজ
উগ্র ডানপন্থি ব্রাদার্স পার্টির নেতা জর্জিয়া মেলোনি

মাত্তেও সালভিনির লিগ ফর সালভিনি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির সেন্টার রাইট ফোর্জা ইতালিয়া দলের সঙ্গে জোট বেঁধেছিলেন মেলোনি। ভোটে সালভিনির দল পেয়েছে ৮.৮৭ শতাংশ ভোট; বারলুসকোনির পক্ষে গেছে ৮.১২ শতাংশ।

সব মিলিয়ে প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোটারের সমর্থন নিয়ে পার্লামেন্টের সিনেট এবং চেম্বার- দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছে ডানপন্থি এই জোট।

চার বছর আগে হওয়া নির্বাচনে মেলোনির ব্রাদার্স পার্টি পেয়েছিল মাত্র ৪ শতাংশ ভোট। এবার জাতীয় ঐক্য সরকারে নিজেদের না জড়িয়ে বাজিমাত করেছে উগ্র ডানপন্থি দলটি।

ভোটে বাদার্স পার্টির অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে বিরোধী দলগুলোর বিভেদও কাজ করেছে। এক মাস আগেও ইতালির বাম এবং মধ্যপন্থি দলগুলো উগ্র ডানপন্থি মেলোনি জোটকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ছিল। তবে শেষপর্যন্ত তারা সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। বলা হচ্ছে, এতেই কপাল খুলেছে মেলোনির জোটের।

জোট বেঁধে ক্ষমতায় এলেও প্রধানমন্ত্রী পদে মেলোনির আসা এখনও কিছুটা অনিশ্চিত। কারণ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট মাতারেলা, যিনি ইতালির সংবিধান অনুসারে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে অক্টোবরের শেষদিকে।

ন্যাটোর সদস্য ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তবে ইইউতে মেলোনির দেয়া বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে তাকে হাঙ্গেরির জাতীয়তাবাদী নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

মেলোনির দুই জোটসঙ্গীর সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ভোটের কিছুদিন আগে বারলুসকোনি দাবি করেছিলেন, ইউক্রেনে আক্রমণ চালাতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বাধ্য করা হয়েছে। মস্কোর ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।

ইতালির ডানপন্থি দলগুলোকে অভিনন্দন জানিয়েছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরামর্শক বালাজ অরবান। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন অনেক বন্ধু প্রয়োজন, যারা ইউরোপের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম।’

মেলোনি জোটকে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্রান্সের উগ্র ডানপন্থিরাও। ন্যাশনাল র‍্যালির নেতা জর্ডান বারডেলা বলেন, ‘ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেয়েনকে মোলায়েম শিক্ষা দিয়েছে ইতালীয়রা।’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Russian gas pipeline has leaked into the sea

সাগরে ফুটো হয়ে গেছে রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইন

সাগরে ফুটো হয়ে গেছে রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইন ফাইল ছবি
১২০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চল থেকে বাল্টিক সাগরের নিচ দিয়ে জার্মানির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পৌঁছেছে। এই পাইপলাইন তৈরির কাজ শেষ হয়েছে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। কিন্তু এখনো গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়নি।

রাশিয়ার আলোচিত গ্যাস পাইপলাইন নর্ড স্ট্রিম ২ ফুটো হতে শুরু করেছে; বাল্টিক সাগরের তলদেশে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

এতে নৌযান চলাচলে কিছুটা ঝুঁকি দেখা দিয়েছে বলে ডেনমার্ক কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি

১২০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চল থেকে বাল্টিক সাগরের নিচ দিয়ে জার্মানির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পৌঁছেছে। এই পাইপলাইন তৈরির কাজ শেষ হয়েছে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। কিন্তু এখনো গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়নি।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরুর কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পাইপলাইনটি নিয়ে অগ্রসর না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জার্মানি।

এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে সম্প্রতি এ নিয়ে রাশিয়ার করার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার কাছ থেকে গ্যাস চাইলে তাদের নর্ড স্ট্রিম ২ পাইপলাইন চালুর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

রাশিয়ার পাইপলাইন ফুটো হয়ে যাওয়ার ঘটনায় বাল্টিক সাগরে ডেনমার্কের দ্বীপ বর্নহোমের কাছে পাঁচ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

ডেনমার্কের জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সমুদ্রের তলদেশে পাইপলাইনে চাপ কমে যাওয়ার বিষয়ে জানানোর পর এটি নিয়ে কাজ করেছে কর্তৃপক্ষ।

ওই পাইপলাইনের তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠান নর্ড স্ট্রিম ২ এজির বড় অংশের মালিকানা রাশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।

ডেনমার্কের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নিষিদ্ধ এলাকার বাইরে এই পাইপলাইন ফুটো হওয়ার প্রভাব পড়বে না।

আরও পড়ুন:
পুতিনের সেনা সমাবেশের ঘোষণার প্রতিবাদে রাশিয়ায় বিক্ষোভ
রাশিয়ার আংশিক সেনা সমাবেশে যাদের ডাকা হবে
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Italys far right Giorgia Meloni is running for prime minister

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: সংগৃহীত
প্রেসিডেন্ট সার্জিও ম্যাটারেলা সকালে সিসিলিয়ান রাজধানী পালেরমোয় নিজের ভোট দেন। মেলোনি ও বাম নেতা এনরিকো লেটা ভোট দিয়েছেন রোমে। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী মাত্তেও সালভিনি মিলানে ভোট দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, জোট বেঁধে সরকার গঠন করতে পারেন উগ্র ডানপন্থি মেলোনি ও সালভিনি জোট।

প্রধানমন্ত্রী বেছে নিতে ভোট দিচ্ছেন ইতালির জনগণ। পূর্বাভাস বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম ইতালির ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে উগ্র ডানপন্থি সরকার।

স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন দেশটির ৫ কোটি ১০ লাখ ভোটার, যাদের ২৬ লাখ এবারই প্রথম ভোট দেবেন। এ ছাড়া দেশের বাইরে আছেন ৪৭ লাখ ভোটার।

জর্জিয়া মেলোনি ইতালির উগ্র ডানপন্থি ব্রাদার্স পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্য দুটি ডানপন্থি দলের সঙ্গে জোট বেঁধে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে তিনি।

প্রেসিডেন্ট সার্জিও ম্যাটারেলা সকালে সিসিলিয়ান রাজধানী পালেরমোয় নিজের ভোট দেন। মেলোনি ও বাম নেতা এনরিকো লেটা ভোট দিয়েছেন রোমে। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী মাত্তেও সালভিনি মিলানে ভোট দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, জোট বেঁধে সরকার গঠন করতে পারেন উগ্র ডানপন্থি মেলোনি ও সালভিনি জোট।

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি
চেম্বার এবং সিনেটের জন্য ভোট দিতে স্থানীয় সময় রাত ১১টা পর্যন্ত সময় পাবেন ভোটাররা

জর্জিয়া মেলোনি রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেন। তিনি চাইছেন নিজের ফ্যাসিবাদের তকমা দূর করতে। যদিও নির্বাচনি প্রচারে ফ্যাসিস্ট স্লোগান দিতে দেখা গেছে ৪৫ বছরের মেলোনিকে। এ ছাড়া অভিবাসন বন্ধে লিবিয়ায় নৌ অবরোধের পক্ষে তার অবস্থান।

এক মাস আগেও, ইতালির বাম এবং মধ্যপন্থি দলগুলো উগ্র ডানপন্থি মেলোনি জোটকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ছিল। তবে শেষপর্যন্ত তারা সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। বলা হচ্ছে, এতেই কপাল খুলেছে মেলোনি জোটের। জনমত জরিপে মেলোনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এখন মধ্য-বাম ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা এনরিকো লেটা।

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি

সিলভিও বারলুসকোনি (মাঝে) এবং মাত্তেও সালভিনির (বাঁয়ে) সঙ্গে জোট বাঁধতে পারেন জর্জিয়া মেলোনি (ডানে)

দুই কক্ষের পার্লামেন্ট ইতালির; চেম্বার এবং সিনেট। নতুন নিয়মে দুই কক্ষের আকার এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। চেম্বারের এখন ৪০০ আসন এবং সিনেট ২০০টি। এতে জোট সরকারের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো জোট ৪০ শতাংশ ভোট পেলে পার্লামেন্টের ৬০ শতাংশ আসন তাদের পক্ষে যাবে।

জোট বেঁধে ক্ষমতায় এলেও প্রধানমন্ত্রী পদে মেলোনির আসা অনিশ্চিত। কারণ এ সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট মাতারেলা, যিনি ইতালির সংবিধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মেলোনি এবং তার সহযোগীরা এ ধারায় পরিবর্তন চান। তারা পার্লামেন্টে নির্বাচিত নিরপেক্ষ ব্যক্তির চেয়ে সরাসরি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট চাইছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Russian controlled areas are also voting against Russia

রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভোট দেয়া যাচ্ছে রাশিয়ার বিপক্ষেও

রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভোট দেয়া যাচ্ছে রাশিয়ার বিপক্ষেও ভোটকেন্দ্রগুলোতে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকারের সুযোগ রেখেছে রুশপন্থিরা। ছবি: সংগৃহীত
রুশ অধীকৃত ইউক্রেনের অঞ্চলে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে শুক্রবার থেকে গণভোট শুরু হয়েছে। এই গণভোটকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, ভোট সংগ্রহ করতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে অস্ত্রধারী সেনারা। তবে রাশিয়া বলছে, নিরাপত্তার কারণেই এভাবে ভোট সংগ্রহ করা হচ্ছে। বরঞ্চ পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেই জানানো হয়েছে, এক নারীর পরিবার রাশিয়ার বিপক্ষে ভোট দিলেও সেনারা তা সংগ্রহ করেছে।

রাশিয়াতে যোগদানের বিষয়ে ইউক্রেনের অঞ্চলগুলোতে গণভোট নেয়া শুরু হয়েছে। রুশপন্থি সেনারা ভোট সংগ্রহ করতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, কিন্তু ভোট দিতে হচ্ছে মৌখিকভাবে এবং সেনারা তা টুকে রাখছেন।

ইউক্রেনীয়দের বরাতে বিবিসি এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

রুশপন্থি সেনাদের কাছে মৌখিকভাবে ভোট দিতে গেলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেয়া কী আদৌ সম্ভব, এ বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এনেরহোদারের একজন নারী বলেছেন, আপনাকে (রুশ অধীকৃত অঞ্চলের বাসিন্দাদের) মৌখিকভাবে উত্তর (ভোট) দিতে হবে এবং সেনারা তা একটি শিটে চিহ্নিত করে রাখে।

মেলিতোপোলের একজন নারী বলেছেন, দুই স্থানীয় সহযোগী দুজন রুশ সেনাকে নিয়ে তার বাবা-মায়ের ফ্ল্যাটে এসেছিল ভোট নিতে।

তিনি বলেন, “আমার বাবা (রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দেয়া বিষয়ক ভোটে) ‘না’ দিয়েছিলেন, এ সময় আমার মা কাছাকাছিই দাঁড়িয়ে ছিলেন, তিনি সেনাদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘না দেয়ার জন্য কী হবে?’ তারা বলেছে, কিছুই হবে না।”

যদিও সেই নারী বলেন, তার মা এখন চিন্তিত, তিনি ভাবছেন রুশরা তাদের ওপর নির্যাতন করবে।

সেই নারী জানিয়েছেন, ব্যক্তি বিশেষের জন্য নয়, পুরো পরিবারের জন্য একটি ব্যালট ছিল।

তবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট নেয়া হচ্ছে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে।

যদিও রাশিয়ার গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছিল, নির্বাচনি কর্মকর্তারা শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত পোর্টেবল ব্যালট বাক্স নিয়ে ঘরে ঘরে যাবেন। নিরাপত্তার খাতিরে শেষের দিন অর্থাৎ ২৭ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রে হবে ভোট। এ জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন কেন্দ্রেও ভোটদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখলে রাশিয়ার দাবিও যৌক্তিক।

এদিকে রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হতে ইউক্রেনীয় অঞ্চলে চলা গণভোটকে অবৈধ ও জালিয়াতির ভোট বলছে ইউক্রেন ও পশ্চিমা মিত্ররা।

২৩ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোট দেবে পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক এবং দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিজ্জা অঞ্চলের বাসিন্দারা।

একই রকম ভোট আয়োজন করা হয়েছিল ক্রিমিয়ায়। ২০১৪ সালে আয়োজিত সে ভোটে ক্রিমিয়াবাসী রুশ ফেডারশনে যুক্ত হতে ভোট দিয়েছিল।

এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে লেখা চিঠিতে পুশিলিন রাশিয়ান ফেডারেশনে ডিপিআরকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, জনগণ যদি গণভোটে একীকরণকে অনুমোদন দেয়, তবে তারা ফেডারেশনে যুক্ত হবে।

চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘দনবাসের সহিষ্ণু জনগণ মহান দেশের (রাশিয়া) অংশ হওয়ার যোগ্য। তারা রাশিয়াকে সব সময় নিজেদের মাতৃভূমি বলে মনে করে। এই পদক্ষেপে ঐতিহাসিক ন্যায়বিচারের পুনরুদ্ধার হবে; যা লাখ লাখ রাশিয়ানের আকাঙ্ক্ষা।

জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় ২০১৪ সালে হওয়া মিনস্ক চুক্তির আওতায় ইউক্রেনীয় রাজ্যের মধ্যে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলকে বিশেষ মর্যাদা দেয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুন:
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  
যুদ্ধেই ইউক্রেন সংকটের সমাধান: ক্রেমলিন
রুশ ফেডারেশনে ঢুকতে ডনবাস প্রজাতন্ত্রে গণভোট
ইউক্রেনকে ভেঙে ফেলার আহ্বান রোমানিয়ান কূটনীতিকের
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে পুতিনকে হুঁশিয়ারি বাইডেনের

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Poland prepares in advance to deal with nuclear threat

পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের

পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের প্রতীকী ছবি
ইউক্রেনে চলছে রুশ সামরিক অভিযান। ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাপোরিজ্জাকে কেন্দ্র করে চলছে গোলাগুলি। এদিকে রুশ অধীকৃত ইউক্রেনের অঞ্চলে ভোটাভুটিকে কেন্দ্র করে পারমণবিক সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। এসব বিষয়কেই সামনে রেখে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ মোকাবিলায় প্রস্তুতি শুরু করেছে ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড।

ইউক্রেনের কয়েকটি অঞ্চল রাশিয়ায় যুক্ত করার কার্যক্রম শুরু করেছে ক্রেমলিন। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা দিয়েছেন, রাশিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ভান্ডারে থাকা যে কোনো অস্ত্র (পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত) ব্যবহার করবে রুশ সেনারা।

এ ছাড়া বেশ কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছে, যেকোনো সময় জাপোরিজ্জা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পাশের দেশ পোল্যান্ড পারমাণবিক হামলার ও দুর্ঘটনার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে।

পোল্যান্ডের স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক ঘটনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। যদিও তারাই বলছেন, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

পারমাণবিক যেকোনো দুর্ঘটনায় ও হামলায় আশপাশে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের
পটাশিয়াম আয়োডাইট ট্যাবলেট

পোল্যান্ডের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ এডুকেশনাল ম্যানেজমেন্ট স্টাফের (ওএসকেকেও) প্রধান মারেক প্লেসনিয়ার শুক্রবার এক স্থানীয় পত্রিকাকে বলেছে, পোলিশ শিক্ষকদের জরুরি পরিস্থিতিতে তেজস্ক্রিয়তা থেকে রক্ষা পেতে জরুরি পরিস্থিতিতে বিকিরণ প্রতিরোধী পটাশিয়াম আয়োডাইট ট্যাবলেট ছাত্রদের হাতে তুলে দিতে বলা হয়েছে।

সতর্কতা জারির সঙ্গে সঙ্গে ৬ ঘণ্টার মধ্যে যাতে ট্যাবলেট বিতরণ সম্ভব হয়, সেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

ওয়ারশ সিটি হলের মুখপাত্র জ্যাকুব লেদুচোস্কি বলেছেন, বর্তমানে বিকিরণের ঘটনার ঝুঁকি যদিও খুব কম, এর পরও কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্নায়ুযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো সমকক্ষ প্রতিপক্ষের সঙ্গে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা মোকাবিলা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।

পোলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার বলেছে, এর আগে ইউক্রেনের জাপোরিজ্জায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে লড়াইয়ের সময়েও আঞ্চলিক ফায়ার সার্ভিস বিভাগে পটাশিয়াম আয়োডাইট ট্যাবলেট পাঠানো হয়েছিল।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মস্কো সামরিক অভিযান শুরু করার পরপরই রাশিয়ার সেনারা ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দখল করে। মস্কো ও কিয়েভ তখন থেকে একে অপরের ওপর পারমাণবিক কেন্দ্রে গোলাবর্ষণের অভিযোগ এনেছিল।

পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের
জাপোরিজ্জায় পাহারারত রুশ সেনা

এ ছাড়া ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পারমাণবিক যুদ্ধকে বাস্তব বলছেন ইউএস স্ট্রাটেজিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল চার্লস রিচার্ড।

বুধবার মেরিল্যান্ডে আয়োজিত এক কনফারেন্সে তিনি বলেন, ‘স্নায়ুযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো সমকক্ষ প্রতিপক্ষের সঙ্গে পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাবনা মোকাবিলা করছে যুক্তরাষ্ট্র।’

এদিকে ভ্লাদিমির পুতিনের সুরে সুর মিলিয়ে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, ‘মস্কোর অস্ত্রাগারে থাকা কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রসহ যেকোনো অস্ত্র ইউক্রেন থেকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাওয়া অঞ্চলগুলো রক্ষা করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।’

আরও পড়ুন:
যুদ্ধেই ইউক্রেন সংকটের সমাধান: ক্রেমলিন
রুশ ফেডারেশনে ঢুকতে ডনবাস প্রজাতন্ত্রে গণভোট
ইউক্রেনকে ভেঙে ফেলার আহ্বান রোমানিয়ান কূটনীতিকের
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে পুতিনকে হুঁশিয়ারি বাইডেনের
ইজিউমের গণকবরে ‘নির্যাতনের চিহ্ন’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
What Russia Wants from Votes in Occupied Ukraine

অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া

অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া লুহানস্কে গণভোটের প্রাক্কালে লিফলেট বিতরণ হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধে ফিরতে ক্রেমলিনের নেয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের একটি এই গণভোট। সার্বভৌম ইউক্রেনের আরও ১৫ শতাংশ নিজেদের করে নিলে যুদ্ধের শক্ত অজুহাত দেখাতে পারবেন পুতিন। তিনি বলতে পারবেন, ইউক্রেনে ন্যাটো ও পশ্চিমাদের পাঠানো মারণাস্ত্রের বলি হওয়ার শঙ্কায় আছে এসব অঞ্চল।

রাশিয়ান ফেডারেশনে ভিড়তে ইউক্রেনের চারটি বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় চলা গণভোট ঘিরে নানা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্রগুলো এ পদক্ষেপকে অবৈধ ও জালিয়াতির ভোট বলছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধকে আরও উসকে দেবে ভোট।

ইউক্রেনে অভিযান শুরুর সাত মাস পেরোলেও তেমন অর্জন নেই রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের। উল্টো ইউক্রেনের প্রতিরোধে দখল করা কয়েকটি এলাকা ছাড়তে হয়েছে পুতিন বাহিনীকে।

যুদ্ধে ফিরে আসতে ক্রেমলিনের নেয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের একটি এই গণভোট। সার্বভৌম ইউক্রেনের আরও ১৫ শতাংশ নিজেদের করে নিলে যুদ্ধের শক্ত অজুহাত দেখাতে পারবেন পুতিন। তিনি বলতে পারবেন, ইউক্রেনে ন্যাটো ও পশ্চিমাদের পাঠানো মারণাস্ত্রের বলি হওয়ার শঙ্কায় আছে এসব অঞ্চল। অবশ্য তিন লাখ অতিরিক্ত সেনা ডেকে ৬২০ মাইলের লম্বা এক দেয়াল তৈরি করে এই চার অঞ্চল বাঁচাতে তেমন বেগ পেতে হবে না রাশিয়াকে।

রাশিয়ানদের নেতা পুতিন যখন পূর্ব ইউক্রেনের কিছু অঞ্চল নিজের ভূখণ্ডে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার মানে তিনি তা করবেন। আগেও এর নজির আছে। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে পুতিন যখন ক্রিমিয়াকে ছিনিয়ে নেয়, তখনও গণভোট হয়েছিল।

সেবারের মতো এই গণভোটকেও অবৈধ বলছে পশ্চিমা বিশ্ব। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোরও একই সুর।

রাশিয়ান ফেডারেশনে যোগ দিতে ২৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোট দেবে পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক এবং দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের বাসিন্দারা।

জালিয়াতির ভোট কেন

কীভাবে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়াকে নিজেদের করে নিয়েছিল রাশিয়া, তা পুরো বিশ্ব দেখেছে। সে সময় ক্রেমলিন দাবি করে, তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে চায় ক্রিমিয়ার ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশ বাসিন্দা। তবে রাশিয়ার মানবাধিকার কাউন্সিলের ফাঁস হওয়া এক প্রতিবেদন বলছে, ৩০ শতাংশ রাশিয়া ঢোকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

ক্রিমিয়া দখলে নিতে খুব বেগ পেতে হয়নি রুশ বাহিনীকে, তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। যুদ্ধের মধ্যেই চলছে ভোট। যে চার অঞ্চলে ভোট হচ্ছে সবগুলোই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে।

দক্ষিণে, খেরসন শহরটি এখন নিরাপদ নয়। ইউক্রেন সেনাদের পাল্টা হামলা ঠেকাতে ব্যস্ত রুশ সেনারা। কেন্দ্রীয় প্রশাসন ভবনে গত সপ্তাহে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। এখানে নিরাপদ ভোট অসম্ভব। তবুও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই শহরের প্রায় ৭৫ হাজার বাসিন্দা ভোটে অংশ নেবে।

রাশিয়ান মিডিয়া বলছে, নির্বাচনি কর্মকর্তারা শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত পোর্টেবল ব্যালট বাক্স নিয়ে ঘরে ঘরে যাবেন। নিরাপত্তার খাতিরে শেষের দিন অর্থাৎ ২৭ সেপেটেম্বর কেন্দ্রে হবে ভোট। এ জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া

অন্যদিকে জাপোরিঝিয়ার রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ ইউক্রেনের হাতে। গণভোট এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলবে … এটা এক প্রকার নিশ্চিত।

পূর্বের দোনেৎস্ক অঞ্চলের ৬০ শতাংশ রাশিয়ার দখলে। অঞ্চলটি রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এখানে যে নিরাপদ ভোট হবে না, এটাও নিশ্চিত।

অন্যদিকে ভূমি হারাতে শুরু করলেও উত্তর-পূর্বের লুহানস্কের বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে রাশিয়া।

সংঘাতকবলিত অঞ্চলগুলোর বাসিন্দারা আগেই পালিয়ে গেছেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে অভিযান শুরুর এক দিন আগে দোনেৎস্কের বেশির ভাগ মানুষকে সরিয়ে নিয়েছিলেন অঞ্চলটির নেতা ডেনিস পুশিলিন।

ইউক্রেনের বিদ্রোহী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোর নেতারা অনেক দিন আগে থেকে এমন ভোট আয়োজনের প্রেক্ষাপট তৈরির চেষ্টায় ছিলেন। যদিও ভোট করার সিদ্ধান্ত আসে তিন দিন আগে।

এই ভোটে কোনো স্বাধীন পর্যবেক্ষক থাকবে না। বেশির ভাগ ভোটই হবে অনলাইনে। যদিও ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
ইউক্রেনকে ভেঙে ফেলার আহ্বান রোমানিয়ান কূটনীতিকের
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে পুতিনকে হুঁশিয়ারি বাইডেনের
ইজিউমের গণকবরে ‘নির্যাতনের চিহ্ন’
রাশিয়ার শহরে ইউক্রেনের হামলা
সড়ক দুর্ঘটনায় ‘সামান্য আহত’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট

মন্তব্য

p
উপরে