× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
The police have arrested the sister in law of the president of Peru
hear-news
player
print-icon

পুলিশে ধরেছে পেরুর প্রেসিডেন্টের শ্যালিকাকে

পুলিশে-ধরেছে-পেরুর-প্রেসিডেন্টের-শ্যালিকাকে
ইয়েনিফার পেরেদেস
গ্রেপ্তারের পর প্রেসিডেন্টের এই নিকটাত্মীয়কে ৩০ মাস ধরে কারাগারে আটকে রাখার নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।

দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পেরুর প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিলিওর এক শ্যালিকাকে।

স্থানীয় সময় রোববার গ্রেপ্তারের পর প্রেসিডেন্টের এই নিকটাত্মীয়কে ৩০ মাস ধরে কারাগারে আটকে রাখার নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।

আল জাজিরা বলছে, অভিযুক্ত ইয়েনিফার পেরেদেসকে ছোটবেলা থেকে লালন–পালন করে আসছেন প্রেসিডেন্ট দম্পতি। তাকে প্রায়ই এ জন্য নিজের মেয়ে বলে সম্বোধন করেন তারা।

দেশটির প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, কাস্তিলিওর পক্ষের লোকদের মধ্যে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে প্রভাব বিস্তারে জড়িত তার শ্যালিকা।

প্রাক-বিচারে আটকাদেশ দেয়া ইয়েনিফারের বিরুদ্ধে এখনও নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তিনি কারাগারে থাকাকালে তদন্ত চালিয়ে যাবেন প্রসিকিউটররা।

প্রেসিডেন্ট কাস্তিলিওর বিরুদ্ধে ছয়টি ফৌজদারি অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছেন প্রসিকিউটররা। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার মামলার বিচারে বাধা দেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ক্ষমতায় বসার পর ১৩ মাস ধরে পেরুর প্রেসিডেন্টের পদে আছেন বামপন্থি পেদ্রো কাস্তিলিও।

এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়া এই প্রেসিডেন্ট অভিসংশনের চেষ্টার মধ্যেও পড়েছেন। তবে টিকে গেছেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট কাস্তিলিও বলে আসছেন, তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের চেষ্টার অংশ হিসেবে প্রসিকিউটররা নানা অভিযোগ তুলছেন।

আরও পড়ুন:
পেরুতে বাস খাদে পড়ে নিহত ২০
পেরুতে এক সপ্তাহে তৃতীয় প্রেসিডেন্ট

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Viral in the Iran protests the young woman was shot dead?

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত? চুল বেঁধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া তরুণীকে হাদিস নাজাফি দাবি করে তার মৃত্যুর তথ্য প্রচার করছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
বিবিসি ফার্সির টুইটের পর হাদিসের মৃত্যুর প্রতিবেদন থেকে চুল বাঁধা তরুণীর ছবি সরিয়ে নেয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। তবে এর দু’দিন পর ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায়, ঝুঁটি বেঁধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ওই তরুণীর নাম হাদিস নাজাফি। বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যমও বলছে, ভাইরাল ভিডিওর তরুণী গুলিতে নিহত হয়েছেন।

কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্র করে কঠোর পোশাকবিধি নিয়ে ইরানি নারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে । ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে অন্তত ৭৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন হাজারের বেশি।

নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করলেও প্রতিবাদের ঢেউ দেশটির অন্তত ৮০টি শহরে এরইমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রতিদিনই প্রাণ দিচ্ছে মানুষ। নিহতদের মধ্যে পুরুষের পাশাপাশি নারী-শিশুও রয়েছে।

মাহসাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে নতুন করে আরও একটি নাম প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তিনি ২২ বছরের তরুণী হাদিস নাজাফি।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
মাহসা আমিনির (বাঁয়ে) পর এবার ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবির বিক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন এই তরুণী

কারাজ শহরে ২১ সেপ্টেম্বর ওই বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারান তিনি।

এর চার দিন পর গত রোববার সাংবাদিক এবং নারী অধিকারকর্মী মাসিহ আলিনেজাদ একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এতে দেখা যায় এক তরুণী তার খোলা চুল ঝুঁটি বেধে বিক্ষোভে যোগ দিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। মাসিহ আলিনেজাদের দাবি ছিল, ওই তরুণীর নামই হাদিস নাফাফি। বিক্ষোভে যোগ দেয়ার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর ছয়টি গুলিতে তিনি প্রাণ হারান।

ইরানের সাংবাদিক ফারজাদ সেফিকারানকে উদ্ধৃত করে আল আরাবিয়া জানায়, বিক্ষোভে নিহত হাদিসের মুখ, ঘাড় এবং বুকে গুলি লেগেছিল। স্থানীয় ঘায়েম হাসপাতালে নেয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়। আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনেও ভিডিওতে চুল বাঁধা তরুণীকে ‘হাদিস নাজাফি’ বলে উল্লেখ করা হয়।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
ভাইরাল ভিডিওর এই তরুণীকে হাদিস নাজাফি হিসেবে দাবি করা হচ্ছে

তবে সোমবার বিবিসি ফার্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভে যোগ দেয়ার আগে চুল বাঁধা ওই তরুণীর নাম হাদিস নাজাফি নয়। ওই তরুণী নিজেও বিবিসিকে একটি ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘আমি বিক্ষোভে নিহত হাদিসা নাজাফি নই। তবে আমি নারীদের জন্য, মাহসাদের অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’

চুল বেঁধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া নারীকে ‘হাদিস নাজাফি’ বলে দাবি করে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি অ্যানিমেশন ভাইরাল হয়েছে। তবে বিবিসি ফার্সির টুইটের পর ওই অ্যামিনেশনের নির্মাতা এলো নিকো শিরোনামে একটি সংশোধনী দেন। এলো নিকো লেখেন, বিবিসি জানিয়েছে চুল বাঁধা যে তরুণীর অ্যানিমেশন আমি করেছি, তিনি জীবিত আছেন।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?

বিবিসি ফার্সির প্রতিবেদনের পর হাদিসের মৃত্যুর প্রতিবেদন থেকে চুল বাঁধা তরুণীর ছবি সরিয়ে নেয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?

তবে এর দু’দিন পর ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দেশটির বার্তা সংস্থা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের (এএনআই) বরাতে জানায়, ঝুঁটি বেঁধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ওই তরুণীর নাম হাদিস নাজাফি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এসব প্রতিবেদনের বরাতে বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যমও ভাইরাল ভিডিওর তরুণী ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন দাবি করে বুধবার প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ভাইরাল ভিডিওর তরুণী আর হাদিস নাজাফি যে আলাদা ব্যক্তি তা নিয়ে সোমবার রাতেই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল নিউজবাংলা।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর গত মঙ্গলবার এই বিভ্রান্তি নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে। এতে বলা হয়, কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম চুল বেঁধে বিক্ষোভে সামিল হওয়া তরুণীকে হাদিস নাজাফি বলে দাবি করেছে। তারা বলেছে ভিডিওর ওই তরুণীকে পরে হত্যা হরা হয়। তবে ভিডিওটিতে যাকে দেখা গেছে তিনি হাদিস নাজাফি নন।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাল ভিডিওটির অপব্যবহার হলেও হাদিস নাজাফির মৃত্যুর ঘটনা সত্যি।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
হাদিস নাজাফির মৃত্যু সনদ

নেদারল্যান্ডভিত্তিক ফার্সি ভাষার রেডিও জামানেহ কথা বলেছে হাদিসের এক স্বজনের সঙ্গে। তার তথ্য অনুসারে, হাদিসের বয়স ২২ বছর। ইরানের কারাজে শহরে গত ২১ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভের সময় শর্টগানের অন্তত ২০টি গুলি তার শরীরে বিদ্ধ হয়। বুকে, মুখে এবং ঘাড়ে লাগা এসব গুলিতে প্রাণ হারান হাদিস।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইরান বিক্ষোভে নিহতদের যে তালিকা করেছে সেখানেও হাদিস নাজাফির নাম রয়েছে। তার পরিবার সোমবার বিবিসি ফার্সিকে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে। হাদিসের মৃত্যু সনদও প্রকাশ করেছে পরিবার। ইনস্টাগ্রামে হাদিসের অ্যাকাউন্ট ‘রিমেম্বারিং’ রয়েছে।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
ইনস্টাগ্রামে হাদিস নাজাফির অ্যাকাউন্ট

হাদিসের বোন শিরিন নাজাফি রেডিও জামানেহকে জানান, পরিবারিক বন্ধুরা তাদের কাছে আলোচিত তরুণীর ভাইরাল ভিডিওটি পাঠিয়েছিলেন। এরপর তারা প্রাথমিকভাবে সাংবাদিকদের বলেছিলেন চুল বাঁধা তরুণীটি হাদিস হতে পারে। কারণ ভিডিওর তরুণীর চুল, পোশাক ও চশমা অনেকটা হাদিসের মতোই দেখাচ্ছিল। তবে আসল তরুণী পরে বিবিসিকে তার নিজের আরেকটি ভিডিও পাঠানোর পর হাদিসের পরিবার নিজেদের ভুল বুঝতে পারে।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #MahsaAmini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

আরও পড়ুন:
ইরানের নৈতিকতা পুলিশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার নিষেধাজ্ঞা
ইরানে মাহসার পর এবার বিদ্রোহের প্রতীক হাদিস নাজাফি
পোশাকের স্বাধীনতায় ইরানি ২ বোনের হৃদয়ছোঁয়া ‘বেলা চাও’
বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর
উত্তাল ইরানে ইলন মাস্কের ভূমিকা কী

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Why Musks Starlink will not work in Iran?

মাস্কের স্টারলিংক ইরানে কেন কাজ করবে না?

মাস্কের স্টারলিংক ইরানে কেন কাজ করবে না? ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ইলন মাস্ক যে স্টারলিংক পরিষেবা ইরানিদের জন্য উন্মুক্ত করতে চান সেটি রাতারাতি করা সম্ভব নয়। ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত করতে যে হার্ডওয়্যার দরকার সেই টার্মিনাল ইরানে ঢোকাতে চোরাইপথে। এটা ব্যয়সাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ। বাড়তি খরচ করতে হবে কয়েক মিলিয়ন ডলার।

‘স্টারলিংক চালু করছি’

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলন দমনে ইরান সরকার ইন্টারনেট পরিষেবা প্রায় অচল করে দেয়ার মধ্যে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনের এক টুইটের জবাবে এমনটি লিখে সংবাদের শিরোনাম হন বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক।

বিশ্বের সঙ্গে ইরানিদের যোগাযোগের ব্যবস্থা উন্মুক্ত রাখতে নিজের প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্সের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ তৈরির ঘোষণা দিয়েছিলেন মাস্ক।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারও মাস্কের এ প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিয়ে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করে। বাইডেন প্রশাসন মাস্কের উদ্যোগকে তরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় অনুমতিও দিয়েছে।

স্যাটেলাইট লিংকের মাধ্যমে ইরানে ইন্টারনেটের ব্যবহার সহজ করা অসম্ভব নয়। তবে কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কারণে বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন।

পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনি ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যাওয়ার পর ইরানে টানা বিক্ষোভ ১৩তম দিনে গড়িয়েছে। দেশটির ৩১ প্রদেশের বেশিরভাগেই ছড়িয়ে পড়েছে তুমুল প্রতিবাদ। এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৬ জনের প্রাণহানি ও ১২শর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

‘নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ’ দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ ইরান জুড়ে কঠোর ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

স্টারলিংক কার্যকর করতে কী প্রয়োজন?

ইলন মাস্ক যে স্টারলিংক পরিষেবা ইরানিদের জন্য উন্মুক্ত করতে চান সেটি রাতারাতি করা সম্ভব নয়। এজন্য আগে ব্যবহারকারীদের নিবন্ধন করতে হবে। ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত করতে যে হার্ডওয়্যার দরকার সেই স্টারলিংক টার্মিনালগুলোকে সচল করে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু করার পর স্টারলিংক ইউক্রেনে ১৫ হাজার টার্মিনাল পাঠিয়েছে। তবে ইরানের ক্ষেত্রে বিষয়টি সহজ নয়। এসব টার্মিনালকে স্বাভাবিক কারণেই দেশে ঢুকতে বাধা দেবে তেহরান।

একমাত্র উপায় হলো হাজারো টার্মিনাল চোরাইপথে ইরানে ঢোকাতে হবে। এটা ব্যয়সাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ। বাড়তি খরচ করতে হবে কয়েক মিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ইন্টারনেট-সম্পর্কিত কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পর একে ‘ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন’ প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

একই দিনে ইরানে স্টারলিংকের ওয়েবসাইট ব্লক করে দেয়া হয়।

সম্ভাব্য আইনি জটিলতাগুলো কী?

স্টারলিংক ‘অ্যাকটিভেশন’-এর খবর ইরানিদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। অনেকেই এই পরিষেবার ওপর ভরসা করে আছেন।
তবে এই ঘোষণা অন্য ঝুঁকিও তৈরি করেছে। ব্যবহারকারীদের ধোঁকা দিতে স্টারলিংকের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারের ছদ্মবেশে ম্যালওয়্যার তৈরি করছে হ্যাকাররা।

ইরান সরকারের সহযোগিতা ছাড়াই পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে চাইলে স্টারলিংক আইনি জটিলতার মুখেও পড়তে পারে। পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে ইরানের আইনি অভিযোগ করার ইতিহাস রয়েছে।

স্টারলিংক নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে গেলে ইরান আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিউ), জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা অন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আইনিভাবে এর প্রতিকার চাইতে পারে।

ইরানের জনপ্রিয় ব্লগার ও প্রোগ্রামার জাদি এক টুইট বার্তায় লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে একটি কোম্পানি ইরানে পরিষেবা দিতে পারে না। ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোম্পানিটির বিরুদ্ধে একটি বাস্তবসম্মত অভিযোগ করবে এবং সেটি কোম্পানির জন্য সমস্যা তৈরি করবে।’

ইরানে বর্তমানে ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা কতটুকু?

জ্বালানির দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পর ২০১৯ সালে নভেম্বরে ইরান জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। তখন প্রায় এক সপ্তাহ ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। দেশটির সাড়ে আট কোটির মানুষের অধিকাংশ অফলাইনে ছিলেন।

বিক্ষোভের পরের কয়েকদিন স্থানীয় ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ রাখা হয়। সরকারি অফিস ও ব্যাংকগুলোও অফলাইনে চলে যায়। প্রথম সপ্তাহের পর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। তবে দেশের বেশ কিছু জায়গায় বিক্ষোভ চলমান থাকায় সেখানে ইন্টারনেট সীমিত করে রাখা হয়।

এবারে চিত্র ভিন্ন। কর্তৃপক্ষ এবার ভিন্ন উপায়ে ইন্টারনেট সেবার বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

স্থানীয় ওয়েবসাইট ও সার্ভিসগুলো এমনভাবে অনলাইনে রাখা হয়েছে যাতে অর্থনীতিতে তেমন প্রভাব না পড়ে। কয়েকটি ইন্টারনেট প্রোভাইডার বিশেষ করে প্রাইভেট কোম্পানিও, অন্যদের তুলনায় কম ঝামেলা পাহাচ্ছে।

তবে এমসিআই ও ইরানসেলের মতো দেশের বৃহত্তম সার্ভিসের ব্যবহারকারীরা মোবাইল ও ঘরে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না।

সন্ধ্যার পর বেশি বিক্ষোভের ঘটনা ঘটায় বিকেল ৪টা থেকে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত সংযোগ সীমিত রাখা হচ্ছে। তখন প্রাইভেট ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) সংযোগ ব্যবহারও অত্যন্ত কঠিন।

সারা দেশে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম ব্লক করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও মেসেজিং অ্যাপগুলো ফিল্টার করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ইরান বিক্ষোভের পরিণতি কী?
নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা
ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
What are the consequences of Iran protests?

ইরান বিক্ষোভের পরিণতি কী?

ইরান বিক্ষোভের পরিণতি কী? মাহসা আমিনির মৃত্যু কেন্দ্র করে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে উত্তাল ইরান। ছবি: সংগৃহীত
আরব বসন্তের সময়ের মতোই ইরানের বর্তমান বিক্ষোভ নেতৃত্বহীন। নেতৃত্বহীন বিক্ষোভের একটি দিক হলো, এখানে এমন কোনো গ্রুপ নেই যারা আরও মানুষকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানাতে পারে। এমন কেউ নেই যারা বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও কৌশলের সমন্বয় করতে পারে। স্বতঃস্ফূর্ততা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হতে পারে, তবে একে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা কঠিন।

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে টানা বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৬ জন।

বিক্ষোভ দমনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ব্লকসহ ইন্টারনেটে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে এর পরও একের পর এক শহরে ছড়িয়ে পড়ছে সহিংস প্রতিবাদ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক নিবন্ধে এই বিক্ষোভের সম্ভাব্য পরিণতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ব্লুমবার্গের অপিনিয়ন কলামিস্ট ববি ঘোষের নিবন্ধটি ভাষান্তর করা হয়েছে নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য।

পুলিশি হেফাজতে কুর্দি নারী মাহসা আমিনির মৃত্যু কেন্দ্র করে ইরানে টানা বিক্ষোভ তৃতীয় সপ্তাহের দিকে গড়াচ্ছে। সময় যতই যাচ্ছে, ততই দমন-পীড়ন তীব্র করছে শাসকগোষ্ঠী।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমিরাবদুল্লাহিয়ান পশ্চিমা প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘ইরানে বড় কোনো ঘটনা ঘটছে না।’

তবে ইরান যোগাযোগমাধ্যমগুলো বন্ধ করে শাসকগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান বর্বরতাকে চাপা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের নেতৃস্থানীয় শক্তিগুলো ক্রমাগত এর নিন্দা জানাচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এখন প্রশ্ন হলো, বিক্ষোভকারীরা ইরানের অভ্যন্তরের অন্য গোষ্ঠীগুলোকে তাদের সঙ্গে যোগ দিতে রাজি করাতে পারবে কি না।

চোখের সামনে ঘটা প্রমাণগুলো অস্বীকারে ইরানিদের রাজি করাতে না পেরে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির শাসকেরা এখন প্রোপাগান্ডার পথ বেছে নিচ্ছে। তারা প্রচার করছে বিক্ষোভগুলো নিছক ‘দাঙ্গা’, ইরানের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা দুর্বল করে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় এগুলো ঘটানো হচ্ছে।

তবে ইরানি জনতা বোকা নয়। যোগাযোগমাধ্যম ব্ল্যাকআউটকে ফাঁকি দিয়ে তারা অব্যাহত বিক্ষোভের কথা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। গোটা বিশ্ব জানে, মাহসা আমিনির হেফাজতে মৃত্যুতে প্রতিবাদে প্রথম যারা রাস্তায় নেমেছিলেন তারা এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির ডালপালা ছেঁটে, এমনকি শিকড় উপড়ে ফেলার আহ্বান জানাচ্ছেন।

বিক্ষোভে তাদের স্লোগান শুধু প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির বিরুদ্ধে নয়, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং তার ছেলে মোজতবাও এখন ক্ষোভের লক্ষ্য। মোজতবাকে অনেকেই পর্দার নেপথ্যের শক্তি বলে মনে করেন।

আশঙ্কা ছিল, রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাতের কারণে ইরানের দিকে বিশ্বের মনোযোগ নাও পড়তে পারে। তবে সেটি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। পশ্চিমা নেতারা তেহরানের শাসনব্যবস্থাকে চেপে ধরেছেন।

ক্র্যাকডাউনে জড়িত দেশটির নৈতিকতা পুলিশ এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। ইরানিদের ইন্টারনেট পরিষেবায় সাহায্য করতে বাইডেন প্রশাসন ইলন মাস্কের স্টারলিংকের মতো সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে।

তবে ইরানের শাসকগোষ্ঠী প্রচলিত হাতিয়ারের ওপর নির্ভরতা যদি হারিয়েও ফেলে, তার পরও তাদের দমন-পীড়নের ভয়ংকর ব্যবস্থাগুলো বেশ নির্ভরযোগ্য। নিয়মিত পুলিশ এবং বাসিজ মিলিশিয়া থেকে শুরু করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের প্রতিবাদ আন্দোলন দমনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তাদের হাতে ২০১৯ সালে এক হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান, এর মাধ্যমে সে বছর তুমুল বিক্ষোভ দমন করা হয়।

আর সেটা ঘটেছিল কথিত মধ্যপন্থি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সময়ে। এবার বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট রাইসির কাছ থেকে আরও বেশি নিষ্ঠুরতার শিকার হতে পারেন। রাইসি এর আগে বিচারক থাকার সময়ে অসংখ্য মানুষকে ফাঁসিতে ঝোলানোর রায় দিয়েছেন।

প্রতিবাদ এগিয়ে নিতে বিক্ষোভকারীদের আন্তর্জাতিক মনোযোগের চেয়েও বেশি প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ সমর্থন। এই সমর্থন রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার ভেতর এবং বাইরে- দুই দিক থেকেই পেতে হবে।

রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার ভেতর থেকে সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। অন্তত স্বল্প সময়ের মধ্যে শাসন​​ব্যবস্থায় ফাটল ধরার কোনো লক্ষণ নেই। তথাকথিত মধ্যপন্থি রুহানি এবং তার সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফের মতো ব্যক্তিদের বেশির ভাগই দুই সপ্তাহ ধরে নিশ্চুপ।

দেশটির কয়েক ডজন গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহর (শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতা) মধ্যে কেবল হোসেইন নুরি হামাদানি মৃদু ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারকে উচিত জনগণের দাবির কথা শোনা।

অন্যদিকে বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মহসেনি এজেই সতর্ক করে বলেছেন, যেসব জনব্যক্তিত্ব বিক্ষোভকে সমর্থন করবেন তাদের অবশ্যই সরকারি সম্পত্তি বিনষ্টের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

আরব বসন্তের সময় তিউনিসিয়া ও মিসরের মতো ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীও বিক্ষোভকারীদের প্রতি ন্যূনতম সহানুভূতি দেখিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দমনের পাশাপাশি তারা শাসকগোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাল্টা বিক্ষোভের মঞ্চায়ন করছে। নিজস্ব মিডিয়া আউটলেট ব্যবহার করে সরকারপন্থি সেই বিক্ষোভ প্রচারও করা হয়।

চলমান বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের জন্য আশা হয়ে দাঁড়াতে পারে আন্দোলনে দেশটির সংগঠিত শ্রমিকদের সংহতি। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির মধ্যে বেতন বাড়ানোর দাবিতে বেশ কয়েকটি শ্রমিক ইউনিয়ন গত দুই বছরে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। তারা এখনও নারীদের নেতৃত্বে চলমান বিক্ষোভে যোগ দেয়নি।

শিক্ষকদের একটি ইউনিয়ন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে, তবে তার প্রভাব খুব একটা পড়েনি। ইউনিয়নগুলোর সাড়া না পাওয়ার কারণ হতে পারে তারা আগের আন্দোলনের ব্যর্থতার জন্য নিরাশায় ভুগছে। এখন যারা রাস্তায় প্রতিবাদমুখর, তাদের বেশির ভাগ তরুণ ও বেকার। এই বিক্ষোভকারীদের সাফল্যের সম্ভাবনা নিয়েও ইউনিয়নগুলো সন্দিহান।

রাইসি এবং খামেনির সঙ্গে মতভেদ আছে শাসকগোষ্ঠীর ভেতরের এমন নেতারাও একইভাবে অপেক্ষা করছেন। তারা দেখতে চান, আগের বিক্ষোভকারীদের চেয়ে এবারের আন্দোলনকারীরা রাস্তায় বেশি দিন টিকে থাকার শক্তি রাখেন কি না।

ইরানের অভিজাত শ্রেণির মধ্যে সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বিভেদ দেখা দিয়েছিল ২০০৯ সালে। বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রতিবাদে ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ নামে দেশব্যাপী বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়। ওই আন্দোলন ব্যাপক জনসমর্থন পেলেও নিরাপত্তা বাহিনী শেষ পর্যন্ত দেশটির সর্বোচ্চ নেতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিক্ষোভ দমন করে।

সেবারও প্রাণ হারান বহু মানুষ। আন্দোলনের নেতাদের গৃহবন্দি করা হয় এবং সেই বন্দিদশা আর শেষ হয়নি।

আরব বসন্তের সময়ের মতোই ইরানের বর্তমান বিক্ষোভ নেতৃত্বহীন। ফলে শাসকগোষ্ঠী কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এটি দমনের সুযোগ পাচ্ছে না।

তবে নেতৃত্বহীন বিক্ষোভের আরেকটি দিক হলো, এখানে এমন কোনো গ্রুপ নেই যারা আরও মানুষকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানাতে পারে। এমন কেউ নেই যারা বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও কৌশলের সমন্বয় করতে পারে। স্বতঃস্ফূর্ততা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হতে পারে, তবে একে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা কঠিন।

বিক্ষোভকারীদের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো, নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দুক ও গুলির মুখেও নিজেদের সাহস ধরে রাখা এবং রাস্তায় টিকে থাকা। সেই সঙ্গে তারা প্রার্থনা করতে পারেন, এই অনমনীয় দৃঢ়তা শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকেও যুক্ত হতে উৎসাহিত করবে। এরপর শাসকগোষ্ঠীর ভেতর থেকেই তাদের পক্ষে সরব হবেন অনেকে।

এমন ঘটনা ঘটাতে মহাকাব্যিক সহ্যসীমার প্রয়োজন পড়বে। সেই ঘটনার দৃশ্যায়ন হবে নির্মম, কিন্তু বিশ্ব তা থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখতে পারবে না।

আরও পড়ুন:
বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর
উত্তাল ইরানে ইলন মাস্কের ভূমিকা কী
হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট
মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান
মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Chinese yuan falls to record low against dollar

ডলারের বিপরীতে রেকর্ড পতন চীনা ইউয়ানের

ডলারের বিপরীতে রেকর্ড পতন চীনা ইউয়ানের প্রতীকী ছবি
আন্তর্জাতিক বাজারে বুধবার ইউয়ানের দর ২০১১ সালের পর সর্বনিম্নে নামে। ওই বছর থেকে দর বাড়া-কমার ডেটা প্রকাশ শুরু হয়।

ঊর্ধ্বমুখী যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বিপরীতে রেকর্ড পতন হয়েছে চীনা মুদ্রা ইউয়ানের।

আন্তর্জাতিক বাজারে বুধবার ইউয়ানের দর ২০১১ সালের পর সর্বনিম্নে নামে। ওই বছর থেকে দর বাড়া-কমার ডেটা প্রকাশ শুরু হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০০৮ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর সর্বনিম্ন দরপতন হয় ইউয়ানের।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ তাদের সুদহার ফের বাড়ানোর পর প্রভাবশালী মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে ডলার। এবার ডলারের বিপরীতে বড় দরপতন দেখল ইউয়ান।

ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে আল জাজিরার খবরে বলা হয়, চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে ‍বুধবার এক ডলার কিনতে খরচ করতে হয়েছে ৭ দশমিক ২৩৮৬ ইউয়ান।

চীনা মুদ্রার অবনমনের খবরের মধ্যে বুধবার এশিয়ার বড় পুঁজিবাজারগুলোতে সূচকে ধস নেমেছে।

সকালে লেনদেনের সময় জাপানের নিক্কেই, হংকংয়ের হ্যাং সেং এবং সাউথ কোরিয়ার কসপির সূচক কমে ২ শতাংশের বেশি।

ইউয়ানের পতন ঠেকাতে কাজ করছে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপল’স ব্যাংক অফ চায়না (পিবিওসি)। এর অংশ হিসেবে চীনা ব্যাংকগুলোতে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়নের সীমা কমিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংকটকালে ডলারে বিনিয়োগকে নিরাপদ মনে করেন অনেকে। এটি অন্য মুদ্রার বিপরীতে ডলারকে শক্তিশালী করায় ভূমিকা রেখেছে।

সোমবার ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্নে নামে ব্রিটিশ পাউন্ড। দুই দিন পর বেশ কিছু মুদ্রার বিপরীতে ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে যায় ডলার।

আরও পড়ুন:
আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের দর আরও বাড়ল
একদিনে ডলারের বিপরীতে রেকর্ড ১০ টাকা দরপতন
ডলারের দর আরও ১ টাকা বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ব্যাংকে ডলারের নতুন দর কার্যকর হয়নি
ডলার নিয়ে সিদ্ধান্তের ‘মাথামুণ্ডু নেই’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
What women wear is a womans decision Malala

নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা

নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা শান্তিতে নোবেলজয়ী সমাজকর্মী মালালা ইউসুফজাই (বাঁয়ে ) এবং ইরানি তরুণী মাহসা আমিনি। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
মালালা বলেন, ‘যেমনটা আগেই বলেছি, যদি কেউ আমাকে মাথা ঢেকে রাখতে বাধ্য করে, আমি প্রতিবাদ করব। যদি কেউ আমাকে আমার স্কার্ফ খুলতে বাধ্য করে, আমি প্রতিবাদ করব। আমি মাহসা আমিনির জন্য ন্যায়বিচারের আহ্বান জানাচ্ছি।’

একজন নারী কি পোশাক পরবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার কেবল সেই নারী। ইরানি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুতে ক্ষোভ জানিয়ে এ মন্তব্য করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী সমাজকর্মী মালালা ইউসুফজাই।

টুইটার এবং ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মালালা লেখেন, ‘একজন নারী যা-ই পরতে পছন্দ করুন না কেন, সে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার সেই নারীর আছে।

‘যেমনটা আগেই বলেছি, যদি কেউ আমাকে মাথা ঢেকে রাখতে বাধ্য করে, আমি প্রতিবাদ করব। যদি কেউ আমাকে আমার স্কার্ফ খুলতে বাধ্য করে, আমি প্রতিবাদ করব। আমি মাহসা আমিনির জন্য ন্যায়বিচারের আহ্বান জানাচ্ছি।’

নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও প্রত্যক্ষদর্শী ও মাহসার পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা মাহসার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে; যেখানে দেখা যায়, কোমায় থাকা তরুণীর মাথা ব্যান্ডেজে মোড়ানো, টিউবের সাহায্যে তিনি শ্বাস নিচ্ছেন।

নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #MahsaAmini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

বিক্ষোভের ১২ দিনে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে অন্তত ৮০টি শহরে। বিক্ষোভ দমাতে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানে সহিংস হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি।

ইরান সরকারের হিসাবে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত পুলিশ সদস্যসহ ৪১ জন নিহত হয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা বলছে, সংখ্যাটা ৭৬।

আরও পড়ুন:
উত্তাল ইরানে ইলন মাস্কের ভূমিকা কী
হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট
মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান
মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
উত্তাল ইরানের এক শহর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতছাড়া

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
In Iran the death toll of protestors has increased to 76 despite being shot at

ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬

ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬ ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ আরও জোরাল হচ্ছে (বাঁয়ে), এটি দমনে সরাসরি গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে। ছবি: আইএইচআর
মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত নিহত ৭৬ জনের মধ্যে অন্তত ছয় নারী ও চার শিশু রয়েছে। কর্তৃপক্ষের দমনপীড়ন উপেক্ষা করে সোমবারও তেহরান, ইয়াজদ, কারাজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।

ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান প্রবল বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৬ জন।

বিক্ষোভ দমনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ব্লকসহ ইন্টারনেটে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে এর পরেও একের পর এক শহরে ছড়িয়ে পড়ছে সহিংস বিক্ষোভ।

অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটসের (আইএইচআর) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালানোয় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।

ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬
রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন হিজাববিরোধীরা

ইরান সরকার দাবি করছে, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৪১, তাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক জন সদস্যও আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইরানের বিভিন্ন শহরে সোমবার রাতেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

মাহসা আমিনি যে প্রদেশে বসবাস করতেন সেই পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্দিস্তানের রাজধানী সান্দাজে নারীরা উল্লাসিত জনতার সামনে মাথার হিজাব খুলে পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ইয়াজদ শহরে কয়েক নারীকে গাড়ির ওপর দাঁড়িয়েও স্লোগান দিতে দেখা যায়। আইএইচআর-এর প্রকাশিত বেশ কিছু ছবিতে দেখা যায়, সান্দাজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে পুলিশ।

ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬
ইয়াজদ শহরে গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন নারীরা

বিভিন্ন ভিডিওতে তেহরানেও ব্যাপক জনবিক্ষোভ দেখা গেছে। তারা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন।

তাবরিজ শহরের কয়েকটি ভবন থেকে মোবাইল ফোনে তোলা ভিডিওতে দেখা যায়, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি, টিয়ার গ্যাস উপেক্ষা করে রাস্তায় প্রতিবাদ করছে মানুষ।

আইএইচআর-এর মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মাহসার মৃত্যুর ঘটনায় চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত নিহত ৭৬ জনের মধ্যে অন্তত ছয় নারী ও চার শিশু রয়েছে। কর্তৃপক্ষের দমনপীড়ন উপেক্ষা করে সোমবারও তেহরান, ইয়াজদ, কারাজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে মাজানদারান শহরে। সেখানে নিহতের সংখ্যা ২৫। এরপর পশ্চিম আজারবাইজানে ১১, গিলান শহরে ১০, কেরমানশাহ শহরে ৬, কুর্দিস্তানে ৬, আলবোর্জে ৪ জন এবং তেহরানে ৩ জনের প্রাণ হারানোর তথ্য দিয়েছে আইএইচআর। বাকিরা মারা গেছেন কোহগিলুয়েহ এবং বয়ের আহমদ, ইসফাহান, খোরাসান-রাজাভি, জাঞ্জন, সেমন, কাজভিন, ইলম এবং পূর্ব আজারবাইজানে।

ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬
তিন বছরের মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট ও চরম লঙ্ঘন।

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, গ্রেপ্তারের মোট সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়ে গেছে। বিক্ষোভকারীরা সরকারি সম্পত্তির ওপর হামলা করছে বলেও দাবি করা হয় রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমে।

মাজানদারানের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ করিমি সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে বলেন, ‘ইসলামি বিপ্লববিরোধী এজেন্ট দাঙ্গাকারীরা সরকারি ভবনে হামলা চালিয়েছে, তারা সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করছে।’

বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেন মোহসেনি এজেই।

মিজান অনলাইনে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানে পুলিশ সদরদপ্তর পরিদর্শনে গিয়ে বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন গোলামহোসেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা দিনের ২৪ ঘণ্টা দায়িত্বপালন করছেন। অনেকে একটু ঘুমানোর সুযোগ পর্যন্ত পাচ্ছেন না।’

মাহসার মৃত্যুর পর শুরু হওয়া বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটির ৮০টির বেশি শহরে ছড়িয়ে গেছে।

পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ অংশগ্রহণকারীদের ‘ইসরায়েলের সেনা’ হিসেবে অবিহিত করছে সরকার ও হিজাবপন্থিরা। এরই মধ্যে তারাও বিক্ষোভ করেছে এবং সেই বিক্ষোভ সরাসরি সম্প্রচার করা হয় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।

ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬
ইরানের অন্তত ৮০ শহরে ছড়িয়েছে বিক্ষোভ

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ।

ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

হিজাব আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য চলতি বছরের ৫ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে ‘সঠিক নিয়মে’ পোশাকবিধি অনুসরণ না করা নারীদের সরকারি সব অফিস, ব্যাংক এবং গণপরিবহনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত জুলাইয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #no2hijab হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। দেশটির নারী অধিকারকর্মীরা ১২ জুলাই সরকার ঘোষিত জাতীয় হিজাব ও সতীত্ব দিবসে প্রকাশ্যে তাদের বোরকা ও হিজাব সরানোর ভিডিও পোস্ট করেন।

আরও পড়ুন:
হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট
মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান
মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
উত্তাল ইরানের এক শহর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতছাড়া
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
NASAs first hit by an asteroid in Earth protection

পৃথিবী সুরক্ষায় গ্রহাণুতে নাসার প্রথম আঘাত

পৃথিবী সুরক্ষায় গ্রহাণুতে নাসার প্রথম আঘাত ডিমারফোস গ্রহাণুকে সজোরে আঘাত করেছে নাসার মহাকাশযান ডার্ট। ছবি: নাসা
পৃথিবীর সঙ্গে গ্রহাণু বা অন্য কোন মহাজাগতিক বস্তুর সম্ভাব্য সংঘর্ষরোধে করা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় মানবজাতির এটি প্রথম সফল পরীক্ষা।

পৃথিবী সুরক্ষা প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো একটি গ্রহাণুকে সজোরে আঘাত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশযান।

ডাবল অ্যাস্টেরয়েড রিডিরেকসান টেস্ট (ডার্ট) নামের মহাকাশযানটি যুক্তরাষ্ট্রর স্থানীয় সময় সোমবার শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে ডিমারফোস গ্রহাণুটিকে আঘাত করে।

পৃথিবীর সঙ্গে গ্রহাণু বা অন্য কোন মহাজাগতিক বস্তুর সম্ভাব্য সংঘর্ষরোধে করা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় মানবজাতির এটি প্রথম সফল পরীক্ষা।

ডার্ট মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণের ১০ মাসের মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসির মিশন অপারেশন সেন্টার থেকে গ্রহাণু বা কোনো মহাকাশীয় বস্তুর গতি পরিবর্তনে মানবজাতির প্রথম প্রচেষ্টাটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর পর ঐতিহাসিক এই সফলতায় উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ করেন নাসার বিজ্ঞানী ও কর্মীরা।

সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ডার্টের ক্যামেরায় তোলা ছবিগুলোকে ত্রিভূজ-আকৃতির মহাকাশযান যেটি একটি ভেন্ডিং মেশিনের চেয়ে বড় হবে না, তা একটি ফুটবল স্টেডিয়ামের সমান গ্রহাণু ডিমারফোসকে আঘাত করে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১৪ মিনিটে।

৩৩ কোটি ডলারের এই প্রকল্পটি প্রায় সাত বছর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গতিশক্তির মাধ্যমে গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তন করতে মহাকাশযান সফল হয় কিনা তা দেখতে নাসার এই প্রকল্প।

এই পরীক্ষণে ডার্ট পুরোপুরি সফল হয়েছে কিনা তা টেলিস্কোপের প্রতিবেদনে জানা যাবে। এটি পেতে প্রায় এক মাস অপেক্ষা করতে হবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে একে সফল ঘোষণা দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে কার্পণ্য করেননি নাসার বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন:
পৃথিবীর কাছে আসতে থাকা গ্রহাণু নিয়ে যা জানাচ্ছে নাসা
নাসার চাঁদে অভিযান ফের স্থগিত
যান্ত্রিক ত্রুটিতে পেছাল নাসার চন্দ্র অভিযান 
৫২ বছর পর নাসার রকেট ছুটবে চাঁদে
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে রঙিন ‘কার্টহুইল’ গ্যালাক্সি

মন্তব্য

p
উপরে