× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
And after a while the twin towers of India will collapse in the blink of an eye
hear-news
player
google_news print-icon

ভারতীয় টুইন টাওয়ার এই ছিল, এই নেই

ভারতীয়-টুইন-টাওয়ার-এই-ছিল-এই-নেই-
মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেল ভারতীয় টুইন টাওয়ার। এএনআইয়ের ফেসবুক লাইভ থেকে নেয়া ছবি।
ঘড়ির কাঁটা যখন ঠিক স্থানীয় সময় ২টা ৩০ মিনিট, তখনই প্রচুর বিস্ফোরক দিয়ে মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে দেয়া হলো জোড়া ভবন।

চোখের পলকে মাত্র ৯ সেকেন্ডে ধূলিসাৎ হয়ে গেল আলোচিত ভারতীয় টুইন টাওয়ার।

স্থানীয় সময় বেলা ঠিক ৩টায় উত্তর প্রদেশের নয়ডার ৯৩-এ সেক্টরে এমারেল্ড কোর্টের জোড়া ভবনটি গুঁড়িয়ে দেয়া হলো বিস্ফোরক দিয়ে।

এনডিটিভিসহ একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এ দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করেছে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে একটু একটু করে তৈরি হওয়া সেই গগনচুম্বী ভবন এখন অতীত। একটু আগেও যে ভবন দাঁড়িয়ে ছিল মাথা উঁচু করে, মুহূর্তেই তা নাই হয়ে গেল।

জোড়া এই ভবন ধ্বংসের পর এখন চলছে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম। কংক্রিটের অংশগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। তিন মাস তৎপরতা চালাবেন উদ্ধারকারীরা।

ভবনের চারপাশে মোতায়েন রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ৫৬০ জন পুলিশ কর্মী, রিজার্ভ ফোর্সের ১০০ জন এবং জরুরি বাহিনীর চারটি দল ঘিরে আছে পুরো এলাকা।

ভারতীয় এ টুইন টাওয়ার ধ্বংস করতে ৯ হাজারের বেশি গর্ত খোঁড়া হয়। সেখানে রাখা হয় ৩৭০০ কেজির বেশি বিস্ফোরক। ১০০ মিটারের সুপারটেক টুইন টাওয়ার ভেঙে পড়ে তাসের ঘরের মতো।

ভারতীয় টুইন টাওয়ার এই ছিল, এই নেই
ধ্বংসের আগে ভারতীয় টুইন টাওয়ার। ছবি: এনডিটিভি

নয়ডার ‘এমারেল্ড কোর্ট’ প্রকল্পেই তৈরি হয়েছিল ৪০ তলা উঁচু দুটি ভবন। যা উচ্চতায় কুতুব মিনারকেও ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু ওই জোড়া ভবন নিয়ে প্রথম থেকেই শুরু হয় বিতর্ক।

‘সবুজ পান্না’র নামে তৈরি হয়েছিল যে আবাসন, অভিযোগ ওঠে সেই আবাসন চত্বরের সবুজ ধ্বংস করেই এই টাওয়ার মাথা তুলতে চলেছে। যা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান ওই এলাকার বাসিন্দারা।

এমারেল্ড কোর্টে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আবাসনগুলোর মাঝখানে মাথা তুলে দাঁড়ানো দুই জোড়া ভবনের নাম, ‘অ্যাপেক্স’ এবং ‘সিয়ান’। তবে ২০০০ সালে যখন ‘এমারেল্ড কোর্ট’ আবাসন তৈরির ভাবনাচিন্তা শুরু হলো, তখন এদের কথা ভাবা হয়নি। তখন কথা ছিল, গ্রেটার নয়ডার এই এলাকায় ১৪টি আবাসন ভবন তৈরি হবে। যার প্রত্যেকটি হবে ৯ তলা উচ্চতার। কিন্তু ২০১২ সালে হঠাৎই বদলে যায় পরিকল্পনা।

‘এমারেল্ড কোর্ট’ নির্মাণের দায়িত্বে ছিল সুপারটেক নামে একটি সংস্থা। তারাই ২০১২ সালে ঘোষণা করে পরিকল্পনা বদলের কথা। বদল হওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘এমারেল্ড কোর্ট’-এ ১৪টির বদলে ১৫টি আবাসন ভবন হবে। ৯ বদলে উচ্চতা হবে ১১ তলা। আর হবে নতুন দুটি গগনচুম্বী ভবন যার উচ্চতা কুতুব মিনারকেও ছাড়াবে।

ভারতীয় টুইন টাওয়ার এই ছিল, এই নেই

২৪ তলা পর্যন্ত এই জোড়া ভবন বানানো হবে বলে স্থির করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে সেই ভবন ৪০ তলা করা হয়।

‘সিয়ান’ আর ‘অ্যাপেক্স’ মাথা তোলার পর তা নিয়ে আপত্তি তোলেন ‘এমারেল্ড কোর্ট’-এর বাসিন্দারা। তারা অভিযোগ করেন, ভবন দুটি ভেঙে দেয়া হোক, কেননা সেগুলো তৈরি হয়েছে বেআইনিভাবে। এ ব্যাপারে এলাহাবাদ হাইকোর্টে আপিল করেন তারা, যা হাইকোর্টে মঞ্জুর হয়। ২০১৪ সালে ‘অ্যাপেক্স’ এবং ‘সিয়ান’ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায় সুপারটেক। প্রায় সাত বছর ধরে মামলা চলার পর ২০২১ সালে দেশের শীর্ষ আদালতও টাওয়ার দুটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ বহাল রাখে।

নির্মাণ সংস্থা সেই রায়কে পুনর্বিবেচনা করতে বলে। এমনকি ‘এমারেল্ড কোর্ট’-এর অন্য বাসিন্দাদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গও উত্থাপন করে আদালতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পুরোনো রায়ই বহাল রাখে।

আরও পড়ুন:
মধ্য দুপুরে ৯ সেকেন্ডে ধসে পড়বে ভারতের টুইন টাওয়ার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
This years Nobel Peace Prize belongs to a human rights activist and two organizations from Ukraine and Russia

শান্তিতে নোবেল বেলারুশের মানবাধিকারকর্মী, ইউক্রেন-রাশিয়ার দুই সংগঠনের

শান্তিতে নোবেল বেলারুশের মানবাধিকারকর্মী, ইউক্রেন-রাশিয়ার দুই সংগঠনের
নোবেল পুরস্কারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, পুরস্কারজয়ী ব্যক্তি ও সংগঠন নিজেদের দেশে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি। তারা দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংরক্ষণে কাজ করছেন। একই সঙ্গে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকাদের সমালোচানার পাশাপাশি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন তারা।

বেলারুশের মানবাধিকারকর্মী অ্যালিয়েস বিয়ালিয়াৎস্কি এবং যুদ্ধরত দুই দেশ ইউক্রেন-রাশিয়া ভিত্তিক দুই মানবাধিকার সংগঠনকে এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মী অ্যালিয়েস বিয়ালিয়াৎস্কির সঙ্গে এই পুরস্কার পেয়েছে রাশিয়াভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা মেমোরিয়াল এবং ইউক্রেনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ।

শুক্রবার বিকেল ৩টায় নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি পুরস্কার ঘোষণা করে। নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইট নোবেল ডট ওআরজি ও এ-সংক্রান্ত ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

নোবেল পুরস্কারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, পুরস্কারজয়ী ব্যক্তি ও সংগঠন নিজেদের দেশে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি। তারা দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংরক্ষণে কাজ করছেন। একই সঙ্গে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকাদের সমালোচানার পাশাপাশি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন তারা।

এতে বলা হয়, শান্তি ও গণতন্ত্রের জন্য নাগরিক সমাজের তাৎপর্য তুলে ধরেছেন নোবেল জয়ী ব্যক্তি ও দুই প্রতিষ্ঠান। যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নথি তৈরিতে তারা দেখিয়েছেন অসাধারণ কর্মদক্ষতা।

গত বছর মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার দুই সাংবাদিক মারিয়া রেসা ও দিমিত্রি মুরাতভ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।

চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয়েছে গত ৩ অক্টোবর। প্রথম দিন চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল জয় করেন সুইডিশ বিজ্ঞানী এসভান্তে পেবো।

পরদিন মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয় পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল। এই বিষয়ে এবার এ পুরস্কার পেয়েছেন তিন দেশের তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন ফ্রান্সের অ্যালাঁ আসপে, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ ক্লাউসার ও অস্ট্রিয়ার আন্টন সেইলিংগার।

বুধবার রসায়নেও নোবেল পুরস্কার পান তিন বিজ্ঞানী। ‘ক্লিক কেমিস্ট্রি’ ও ‘বায়োঅর্থোগোনাল কেমিস্ট্রি’র ভিত্তি দিয়ে এ পুরস্কার জয় করেছেন আমেরিকার ক্যারোলাইন আর বারটোজ্জি, কে ব্যারি শার্পলেস এবং ডেনমার্কের মর্টেন মেলডাল।

আর বৃহস্পতিবার এ বছরের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান ফ্রান্সের লেখক আনি আরনোঁ। নোবেল কমিটি বলেছে, ব্যক্তিস্মৃতির উৎসমূল, বিচ্ছিন্নতা এবং যৌথ অবদমনের চিত্র ক্ষুরধার ও সাহসী ভঙ্গীতে লেখনীতে তুলে ধরেছেন ৮২ বছর বয়সী আনি আরনোঁ।

অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১০ অক্টোবর শেষ হবে এবারের মোট ছয়টি শাখায় নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা। আগামী ডিসেম্বরে সুইডেনের স্টকহোমে নোবেল সপ্তাহে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হবে পুরস্কারের পদক, সনদ ও অর্থ। সম্মানজনক এই পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি সুইডিশ ক্রোনার (১১ লাখ মার্কিন ডলার)।

সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে ও তার রেখে যাওয়া অর্থে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। প্রতি বছর চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে দেয়া হয় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার।

আরও পড়ুন:
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিকেল ৩টায়
ব্যক্তিস্মৃতির শিকড়সন্ধানী লেখক আনি আরনোঁর নোবেল জয়
শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Biden warned about the war of the end of the book

কিতাবের শেষ জামানার যুদ্ধের বিষয়ে সতর্ক করলেন বাইডেন

কিতাবের শেষ জামানার যুদ্ধের বিষয়ে সতর্ক করলেন বাইডেন হিরোশিমায় বিস্ফোরিত পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ক্ষমতা ছিল ১৫ কিলোটন। ছবি: প্রতীকী
১৯৬২ সালে কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন নিয়ে আরমাগেডনের মুখোমুখি হয়েছিল বিশ্ব। এরপরে ১৯৯১ সালে স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পর কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রগুলো আর কৌশলগত চিন্তার অংশ ছিল না। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধে এই অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা ক্রমে বাড়ছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্টই বলছেন, শেষ জামানার যুদ্ধের মুখোমুখি হতে পারে বিশ্ব।

ইউক্রেনে পিছিয়ে পড়ছে রুশসেনারা। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধে জেতার জন্য রাশিয়া যদি কৌশলগত পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করে তবে বিশ্ব ‘আরমাগেডন’-এর মুখোমুখি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

বাইবেলের নিউটেস্টামেন্টে বর্ণিত, আরমাগেডন হলো সেই স্থান যেখানে বিশ্ব ধ্বংসের আগে ভালো ও খারাপের শেষ যুদ্ধ হবে।

নিউ ইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক তহবিল সংগ্রহকারীদের অনুষ্ঠানে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকির বিষয়ে বলেন, ‘আমরা কেনেডি এবং কিউবার সংকটের পর আরমাগেডনের মুখোমুখি হইনি।’

(১৯৬২ সালে কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন নিয়ে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক সংঘাতে জড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এখন প্রায় ৫০ বছর পর এসে আবারও ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান পারমাণবিক সংঘাতের বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে আসছে।)

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দিকে ইঙ্গিত করে বাইডেন বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন একজন লোক আছে যাকে আমি মোটামোটি ভালোভাবে চিনি।

‘যখন তিনি (ভ্লাদিমির পুতিন) কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র বা জৈবিক অস্ত্র বা রাসায়নিক অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহারের কথা বলেন, তখন তিনি রসিকতা করেন না কারণ তার সামরিক বাহিনী, আপনি বলতে পারেন, উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল।’

যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, পারমাণবিক হামলা চালালে নিজেকে আর রক্ষা করতে পারবেন না পুতিন। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে পারমাণবিক হামলা হলে বিশ্ব কখনোই রাশিয়াকে ক্ষমা করবে না।

কিতাবের শেষ জামানার যুদ্ধের বিষয়ে সতর্ক করলেন বাইডেন
সিক্সটি মিনিটসের অনুষ্ঠানে উপস্থাপক স্কট পেলির সঙ্গে জো বাইডেন

এর আগে গতমাসে সানডেস সিক্সটি মিনিটের প্রোগ্রামের প্রিভিউতে দেখা যায়, উপস্থাপক স্কট পেলি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যদি রাশিয়া ইউক্রেনে রাসায়নিক ও কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করার কথা বিবেচনা করে তবে রাশিয়াকে উদ্দেশ্য করে বাইডেনের বার্তা কী হবে।

জবাবে বাইডেন বলেন, ‘করবেন না (পারমাণবিক বোমা ব্যবহার)। করবেন না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আপনি যুদ্ধের চেহারা (পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করলে) পরিবর্তন করবেন।’

তবে রাশিয়া যদি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে, সে ক্ষেত্রে আমেরিকার কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন বাইডেন।

কিন্তু আমেরিকা যে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা নিশ্চিত করে সে সময় বাইডেন বলেছিলেন, ‘এবং তারা কী করবে, তার ওপর নির্ভর করবে, কী প্রতিক্রিয়া ঘটবে।’

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ভ্লাদিমির পুতিনকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন যে রাশিয়া যদি ইউক্রেনে পারমাণবিক বা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে 'পরিণাম' ভোগ করবে।

এদিকে রাশিয়া বারবার বলে এসেছে, দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নীতি হলো রাশিয়ার অস্তিত্ব হুমকিতে পড়লেই কেবল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে দেশটি।

বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের ৪টি অঞ্চলকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। ইউক্রেনও অঞ্চলগুলো উদ্ধারে মরিয়া। সেক্ষেত্রে এই ৪ অঞ্চলে ইউক্রেনের সামরিক অভিযান, রাশিয়ার ভেতরের হামলা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে ক্রেমলিন।

ইউক্রেন পরিস্থিতিতে পারমাণবিক যুদ্ধ কতটা বাস্তব?

ইউক্রেনে রুশ বাহিনী কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসছে, এমন দাবি পশ্চিমাদের। এদিকে ইউক্রেনকে সহায়তায় ন্যাটোভুক্ত দেশ ট্যাংকের মতো আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহ করছে।

যদিও সরাসরি ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশ ইউক্রেন যুদ্ধে জড়ায়নি, এরপরও ইউক্রেনকে অস্ত্র দেয়ার বিষয়টি ভালো চোখে দেখছে না রাশিয়া। এমন অবস্থায় যে কৌশলগত পরমাণু বোমা ব্যবহারকে একসময় অসম্ভব ভাবা হতো, তার সম্ভাবনা এখন বাড়ছে।

এবং তারা কী করবে, তার ওপর নির্ভর করবে, কী প্রতিক্রিয়া ঘটবে।

কিতাবের শেষ জামানার যুদ্ধের বিষয়ে সতর্ক করলেন বাইডেন
রাশিয়ার কৌশলগত পরমাণু বাহিনী

১৯৯১ সালে স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পর কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রগুলো আর কৌশলগত চিন্তার অংশ নয়। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধে এই অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা ক্রমে বাড়ছে।

রাশিয়ার পারমাণবিক হামলায় পশ্চিমা প্রতিক্রিয়া কী হবে?

রাশিয়া যদি ইউক্রেনে সীমিত পরিসরেও পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার করে, তাতে পশ্চিমাদের প্রতিক্রিয়া কী হবে? তা বলা মুশকিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, রাশিয়া যদি পারমাণবিক, রাসায়নিক বা জীবাণু অস্ত্রের হামলা চালায়, যুক্তরাষ্ট্র চুপ করে বসে থাকবে না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এখন পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার হয়নি। এদিকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে ওয়ারশোতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ওয়ারশো মেমোরেন্ডাম নামে পরিচিত।

যখন তিনি (ভ্লাদিমির পুতিন) কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র বা জৈবিক অস্ত্র বা রাসায়নিক অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহারের কথা বলেন, তখন তিনি রসিকতা করেন না কারণ তার সামরিক বাহিনী, আপনি বলতে পারেন, উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল।

যদিও সেই চুক্তি পশ্চিমারাই লঙ্ঘন করেছে ও পূর্ব ইউরোপের সোভিয়েত ব্লকের অনেকেই এখন ন্যাটো সদস্য। এমনকি ইউক্রেনের সঙ্গে প্রাথমিক বিরোধও ন্যাটোর সদস্য হওয়া নিয়েই।

এখন প্রশ্ন হলো ইউক্রেনকে পরাজিত করতে পুতিন কী পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা থেকে বেরিয়ে আসবেন?

কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র আসলে কী

পারমাণবিক বোমা প্রকৃত অর্থে একটি ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক কমান্ডারদের সুবিধা দিতে আরও নমনীয়, অপেক্ষাকৃত ছোট থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা তৈরি ও পরীক্ষা শুরু হয় ১৯৫০-এর মাঝামাঝি সময় থেকে।

একবিংশ শতাব্দীতে এসে পরমাণু ওয়ারহেডগুলো আরও আধুনিক হয়েছে। যেখানে একজন অপারেটর একটি পারমাণবিক বোমার ধ্বংস ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দিতে পারবে। যেখানে একটি কৌশলগত পারমাণবিক বোমা ১ কিলোটনের ভগ্নাংশ থেকে ৫০ কিলোটন পর্যন্ত হতে পারে। এক কিলোটনের বিস্ফোরণ ক্ষমতা ১ হাজার টন টিএনটির সমান।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমায় বিস্ফোরিত ‘লিটল বয়’ পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ক্ষমতা ছিল ১৫ কিলোটন।

কৌশলগত পারমাণবিক বোমাবিরোধী সৈন্যের সংখ্যা, জাহাজ, মার্শালিং ইয়ার্ড, বিমান ঘাঁটির আকারের ওপর নির্ভর করে ব্যবহার করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল।

স্নায়ুযুদ্ধের সময়, শুধু চেকোস্লোভাকিয়ার সেনাবাহিনী প্রাথমিক আক্রমণের অংশ হিসেবে ন্যাটো লক্ষ্যবস্তুতে ১৩১টি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করার পরিকল্পনা প্রস্তুত করে রেখেছিল।

ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোরও পারমাণবিক হামলার জবাব দেয়ার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল।

এরপরও যুদ্ধক্ষেত্রে এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার মুহূর্তেই যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়ার মতো দেশ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন:
রাশিয়ার গুপ্তচর ইলন মাস্ক!
রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্রের ট্রেন সচল, ঘাঁটিও ছেড়েছে পরমাণু সাবমেরিন
‘পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না রাশিয়া’
জাতিসংঘে রাশিয়ার বিপক্ষে ভোট দেয়নি চীন-ভারত
ইউক্রেনের ন্যাটোভুক্তির বিষয়ে যা জানাল আমেরিকা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Hero Muslim youth saved 10 Durga devotees who were drowning in a mountain slide

পাহাড়ি ঢলে ডুবতে থাকা ১০ জন দুর্গাভক্তকে বাঁচিয়ে ‘হিরো’ মুসলিম যুবক

পাহাড়ি ঢলে ডুবতে থাকা ১০ জন দুর্গাভক্তকে বাঁচিয়ে ‘হিরো’ মুসলিম যুবক জলপাইগুড়ির তেশিমিলা গ্রামের মুসলিম বাসিন্দা মোহাম্মদ মানিক। ছবি: সংগৃহীত
মাল নদীতে পাহাড়ি ঢলে ডুবতে থাকা দুর্গাভক্তদের বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন মুসলিম যুবক মো. মানিক। ১০ জনকে বাঁচিয়ে তিনি এখন সবার কাছে হিরো হয়েছেন।

নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ি ঢলে ডুবতে থাকা ১০ জনের জীবন বাঁচিয়ে সবার প্রশংসা পাচ্ছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির তেশিমিলা গ্রামের মুসলিম বাসিন্দা মোহাম্মদ মানিক।

বুধবার পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার মাল নদীতে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন দিতে আসেন মালবাজার শহর ও স্থানীয় চা বাগানের দুর্গাপূজা কমিটির উদ্যোক্তারা। বিসর্জন দেখতে নদীর ধারে পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের ভিড় জমান।

বিসর্জন চলাকালীন আচমকা হড়পা বানে (পাহাড়ি ঢল) মাল নদীর পানি ফুলে ওঠে। পাহাড় থেকে নেমে আসে তীব্র স্রোত। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৫০ থেকে ৬০ জন নদীর স্রোতে ভেসে যান।

তেশিমিলা গ্রামের বাসিন্দা মো. মানিক প্রতিবছরের মতো পরিবার নিয়ে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন দেখতে যান। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মানিকও। মানুষকে জলের স্রোতে ভেসে যেতে দেখে ২৫ থেকে ৩০ ফুট উঁচু পাড় থেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি।

দক্ষ উদ্ধারকারীর মতো ১০ জনের প্রাণ বাঁচিয়ে মর্মান্তিক এই ঘটনার পরেও সবার কাছে নায়ক হয়ে ওঠেন মো. মানিক।

মোহাম্মদ মানিক ১০ জনের প্রাণ বাঁচালেও হড়পা বানে এখনো পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে । হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।

এদিকে মাল নদীতে মাঝেমধ্যে হড়পা বাগানের নজির রয়েছে। খুব সম্প্রতি হড়পা বান হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ নদীর চরিত্র জেনেও প্রশাসন যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়নি। অন্যথায় এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত বলে তাদের দাবি। এখনো অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। তল্লাশি অভিযান চলছে ।

এদিকে এই শোকের আবহে শুক্রবার জলপাইগুড়ি জেলার দুর্গা পূজার কার্নিভাল বাতিল করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
‘খাদ্যের অভাবে’ বাংলাদেশের বাঘ যাচ্ছে ভারতে
পশ্চিমবঙ্গে অস্থির চালের বাজার
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপে সতর্কতা পশ্চিমবঙ্গে
বিজেপির সভামঞ্চে নারীকে মারধর
টেলিমেডিসিনে সুস্থ স্ট্রোকের রোগী

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Erdogan has no objection to meeting with Assad

আসাদের সঙ্গে সাক্ষাতে আপত্তি নেই এরদোয়ানের

আসাদের সঙ্গে সাক্ষাতে আপত্তি নেই এরদোয়ানের সবশেষ ২০১১ সালে সাক্ষাৎ হয় আসাদ ও এরদোয়ানের। ছবি: সংগৃহীত
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের শুরু থেকেই আসাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তুরস্ক। এমনকি আসাদ বিরোধী, মধ্যমপন্থি সিরীয় বিদ্রোহীদের অর্থ ও অস্ত্র সহায়তাও দিয়েছে আঙ্কারা। এখন গুটিকয়েক এলাকা বাদে অধিকাংশ এলাকাই আসাদের নিয়ন্ত্রণে। আসাদের সঙ্গে আবারও সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইছে তুরস্ক। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানও বলছেন, আসাদের সঙ্গে বৈঠক অসম্ভব কিছু নয়।

সিরিয়া ও তুরস্কের সম্পর্ক ঠিকঠাক করতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।

ইউরোপিয়ান পলিটিক্যাল কমিউনিটির আলোচনায় যোগ দিতে বর্তমানে প্রাগ সফরে রয়েছেন এরদোয়ান।

সেখানেই বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখার হওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে বলেন, ‘এখনও এ ধরণের বৈঠক এজেন্ডায় নেই। তবে আমি বলতে পারি না যে আসাদের সঙ্গে দেখা করা অসম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘সঠিক সময় এলে আমরা সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠকের পথে যেতে পারি।’

প্রায় এক দশক ধরে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলছে। তবে সেই গৃহযুদ্ধে তুরস্কের অবস্থান ছিল বরাবরই আসাদের বিরুদ্ধে।

আঙ্কারা ও দামেস্কের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে সিরিয়ার পরিস্থিতি নতুন রূপ পাবে, কারণ আসাদ বিরোধীদের পেছনে সমর্থন দিয়ে আসছে তুরস্ক।

আগস্টে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু সিরিয়ার বিচ্ছিন্নতা রোধে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে অক্টোবরে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের বৈঠকের ফাঁকে কাভুসোগলু জানিয়েছিলেন যে তিনি সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল মেকদাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, সিরিয়া সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্যে দেশটির জনগনের সঙ্গে থাকবে তুরস্ক।

আরও পড়ুন:
আরও কাছাকাছি তুরস্ক-ইসরায়েল
রুবলে রাশিয়ার গ্যাস কিনবে তুরস্ক
‘তুর্কিয়ের আঞ্চলিক পরাশক্তি হওয়া ঠেকাতেই অভ্যুত্থান’
খাশোগজি ইস্যু যে কারণে চেপে গেল তুরস্ক
তুরস্কের নতুন নাম তুর্কিয়ে

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
A few hours later the Nobel Peace Prize was announced

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিকেল ৩টায়

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিকেল ৩টায়
গত বছর মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার দুই সাংবাদিক মারিয়া রেসা ও দিমিত্রি মুরাতভ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।

শান্তিতে এ বছরের নোবেল পুরস্কার জয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে শুক্রবার।

বিকেল ৩টায় নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এই পুরস্কার ঘোষণা করবে।

নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইট নোবেল ডট ওআরজি ও এ-সংক্রান্ত ফেসবুক পেজে এ কথা জানানো হয়েছে।

গত বছর মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার দুই সাংবাদিক মারিয়া রেসা ও দিমিত্রি মুরাতভ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।

চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয়েছে সোমবার। প্রথম দিন চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল জয় করেন সুইডিশ বিজ্ঞানী এসভান্তে পেবো।

পরদিন মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয় পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল। এই বিষয়ে এবার এ পুরস্কার পেয়েছেন তিন দেশের তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন ফ্রান্সের অ্যালাঁ আসপে, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ ক্লাউসার ও অস্ট্রিয়ার আন্টন সেইলিংগার।

বুধবার রসায়নেও নোবেল পুরস্কার পান তিন বিজ্ঞানী। ‘ক্লিক কেমিস্ট্রি’ ও ‘বায়োঅর্থোগোনাল কেমিস্ট্রি’র ভিত্তি দিয়ে এ পুরস্কার জয় করেছেন আমেরিকার ক্যারোলাইন আর বারটোজ্জি, কে ব্যারি শার্পলেস এবং ডেনমার্কের মর্টেন মেলডাল।

আর বৃহস্পতিবার এ বছরের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান ফ্রান্সের লেখক আনি আরনোঁ। নোবেল কমিটি বলেছে, ব্যক্তিস্মৃতির উৎসমূল, বিচ্ছিন্নতা এবং যৌথ অবদমনের চিত্র ক্ষুরধার ও সাহসী ভঙ্গীতে লেখনীতে তুলে ধরেছেন ৮২ বছর বয়সী আনি আরনোঁ।

অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১০ অক্টোবর শেষ হবে এবারের মোট ছয়টি শাখায় নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা। আগামী ডিসেম্বরে সুইডেনের স্টকহোমে নোবেল সপ্তাহে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হবে পুরস্কারের পদক, সনদ ও অর্থ। সম্মানজনক এই পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি সুইডিশ ক্রোনার (১১ লাখ মার্কিন ডলার)।

সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে ও তার রেখে যাওয়া অর্থে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। প্রতি বছর চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে দেয়া হয় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার।

আরও পড়ুন:
ব্যক্তিস্মৃতির শিকড়সন্ধানী লেখক আনি আরনোঁর নোবেল জয়
শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?
পেবোকে পুকুরে ফেলে নোবেল উদযাপন
রসায়নে নতুন অধ্যায়ের ভিত্তি দিয়ে ৩ বিজ্ঞানীর নোবেল জয়

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Sharif University of Tehran calls for rallies across Iran

পুরো ইরানে সমাবেশের ডাক তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটির

পুরো ইরানে সমাবেশের ডাক তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটির কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানের পরেও ইরানে আন্দোলন থামছে না। ছবি: সংগৃহীত
তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলাকালীন সশস্ত্র ব্যক্তিদের ধরপাকড়ের শিকার হয়েছে শিক্ষার্থীরা। অনেক ছাত্রকেই আটক করেছে সাদা পোশাকধারীরা। অথচ দেশটির আইনে সশস্ত্র বাহিনীর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢোকা নিষিদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে শরিফ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শনিবার পুরো দেশে সমাবেশের ডাক দিয়েছে।

ইরানে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইরানি অ্যাকটিভিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা শনিবার পুরো দেশে সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তেহরানের মর্যাদাপূর্ণ শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির অধ্যাপকরা ২ অক্টোবর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে ৮ অক্টোবর শনিবার দেশটির সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশ করার জন্য দেশের সব ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আহ্বান জানিয়েছে।

তবে এ আহ্বান জানানো হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কারণ দেশটির মূলধারার গণমাধ্যমগুলো সেন্সরশিপের কারণে বিক্ষোভের খবর প্রচার করতে পারে না।

শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি ক্যাম্পাসের ভেতর শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভরত অনেক ছাত্রকে আটক করা হয়েছে, যেখানে আইন অনুযায়ী ক্যাম্পাসের ভেতরে সশস্ত্র বাহিনীর প্রবেশ নিষিদ্ধ।

ইরানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, শুধু ক্যাম্পাসেই নয়, অনেক ছাত্রকে তাদের বাড়ি সহ অন্যান্য স্থান থেকে আটক করা হয়েছে।

এসব ঘটনারই বিচ্ছিন্নভাবে না করে সামগ্রিকভাবে প্রতিবাদ করতে চাইছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

পুরো ইরানে সমাবেশের ডাক তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটির
মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনা ইরানসহ বিশ্বের অনেক দেশেই প্রতিবাদ হয়েছে

আর কয়েকদিনের মধ্যেই ইরানে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেও অনেক স্থানেই স্কুল ছাত্রীরা বিক্ষোভ করছে, মাথার হিজাব খুলে ফেলছে ও ক্লাসে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে। তারা স্কুলেও বিক্ষোভ করেছে এবং স্কুল থেকে ফেরার পথেও বিক্ষোভ করেছে, স্লোগান দিয়েছে।

অনেক শিক্ষার্থীই তাদের মাথার স্কার্ফ জ্বালিয়ে দিয়েছে।

এদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ দমনে এতোই কঠোর হয়েছে যে সরকারের অনেক কট্টর সমর্থকদের পক্ষেও তা হজম করা কঠিন হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

অসলো-ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের (আইএইচআর) দেয়া তথ্যানুসারে, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ২৯ জন সাংবাদিক, ২০ জন অধিকারকর্মী এবং ১৯ জন শিক্ষক সহ অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আইএইচআর মঙ্গলবার জানিয়েছে যে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৯ শিশুসহ অন্তত ১৫৪ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।

এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বৃহস্পতিবার মাহসা আমিনির মৃত্যুর নিন্দা করেছে এবং মাহসার মৃত্যুর সঙ্গে যারা জড়িত এবং বিক্ষোভ দমনে যারা কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে।

আরও পড়ুন:
হিজাব ফেলে বিক্ষোভে নামল ইরানের স্কুলছাত্রীরা
নাক কেটে, মাথা চূর্ণ করে কিশোরীদের হত্যা করছে ইরানি পুলিশ
আমেরিকা-ইসরায়েলের নকশায় বিক্ষোভ: খামেনি
ইরানে এক দিনেই নিহত ৪১, তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
EU approves new sanctions on Russia

রাশিয়ায় নতুন নিষেধাজ্ঞা দিল ইইউ

রাশিয়ায় নতুন নিষেধাজ্ঞা দিল ইইউ রাশিয়ার অর্থনীতিতে ধস নামাতে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে ইইউ। ছবি:সংগৃহীত
ব্লকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়া থেকে তৃতীয় কোনো দেশে সাগরপথে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সাগরপথে পরিবহণ সম্পর্কিত খরচ নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।

ইউক্রেন ইস্যুতে আরেক দফায় নিষেধাজ্ঞায় পড়ল রাশিয়া। রুশ সরকার ও অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে বৃহস্পতিবার নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন।

ব্লকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়া থেকে তৃতীয় কোনো দেশে সাগরপথে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সাগরপথে পরিবহণ সম্পর্কিত খরচ নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।

ব্লকটি ইস্পাত পণ্যের আমদানি নিষেধাজ্ঞাও বাড়িয়েছে। নতুন নিষেধজ্ঞায় আওতায় পড়েছে কাগজ, সিগারেট, প্লাস্টিক, প্রসাধনী ও বিমানখাতের পণ্যসামগ্রী আমদানি-রপ্তানি।

এ ছাড়া গহনা শিল্পে ব্যবহৃত উপাদান আমদানি-রপ্তানি এবং বিমানখাতের পণ্য বেচা-কেনায়ও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইইউ।

নতুন নিষেধাজ্ঞায় আছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের ওপর কিছু বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। এতে ইইউ’র নাগরিকরা রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা বা বোর্ডে কোনো পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না।

ইইউ শীর্ষ কূটনীতিক জোসেপ বোরেল বলেন, ‘আমরা রাশিয়ার অর্থনীতিকে ফের আঘাত করেছি, ওদের আমদানি-রপ্তানির ক্ষমতা সীমিত করেছি। রাশিয়ার জ্বালানি নির্ভরতা থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করার পথে এগুচ্ছি।’

পোল্যান্ডের ইইউ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেজ স্যাডোসের বলেন, ‘প্যাকেজটি আরও শক্তিশালী হতে পারত। তবে আমাদের ঐক্যমত্যের প্রয়োজন আছে... রাশিয়ার সর্বশেষ আক্রমনাত্মক পদক্ষেপের প্রতি আমাদের এই শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া থাকা গুরুত্বপূর্ণ।’

আরও পড়ুন:
রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্রের ট্রেন সচল, ঘাঁটিও ছেড়েছে পরমাণু সাবমেরিন
‘পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না রাশিয়া’
জাতিসংঘে রাশিয়ার বিপক্ষে ভোট দেয়নি চীন-ভারত
ইউক্রেনের ন্যাটোভুক্তির বিষয়ে যা জানাল আমেরিকা
ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলকে রাশিয়ায় সংযুক্তির ঘোষণা পুতিনের

মন্তব্য

p
উপরে