× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Penalty of lakh rupees for urinating in girlfriends bag
hear-news
player
print-icon

গার্লফ্রেন্ডের ব্যাগে প্রস্রাব করায় লাখ টাকা জরিমানা

গার্লফ্রেন্ডের-ব্যাগে-প্রস্রাব-করায়-লাখ-টাকা-জরিমানা
প্রতিকী ছবি
আদালত ব্যাগটিকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠালে ব্যাগের মধ্যে প্রসাবের নমুনা পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, প্রসাবের ডিএনএ অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএর সঙ্গেও মিলে যায়। এ পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করে নেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সিভিল আদালত সম্পতি ৩১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ১৫ লাখ উয়ন জরিমানা করেছে। ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি তার প্রাক্তন বান্ধবীর লুই ভিটন ব্যাগে প্রসাব করেছিলেন বলে এই জরিমানা করা হয়।

অডিটি সেন্ট্রালের প্রতিবেদনে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি (গোপনীয়তার স্বার্থে যার নাম প্রকাশ করা হয়নি) গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার গাংনাম-গু শহরে বান্ধবীর বাড়িতে ছিলেন। বান্ধবীর বাড়তি খরচের প্রবণতা নিয়ে হঠাৎ তারা তর্কে জড়িয়ে পড়েন। তর্কের একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিতরের রুমে গিয়ে লুই ভিটন ব্যাগটি নিয়ে আসেন এবং বান্ধবীর সামনেই সেটার মধ্যে প্রস্রাব করে দেন।

ভদ্রমহিলা বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেননি। তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

দক্ষিণ কোরিয়ার অনলাইন পত্রিকা গ্যাগ ডট কে-আইডোলার প্রতিবেদনে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। আদালতকে জানান, তিনি প্রস্রাব করার ভান করেছিলেন শুধু।

আদালত ব্যাগটিকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠালে ব্যাগের মধ্যে প্রস্রাবের নমুনা পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, প্রস্রাবের ডিএনএ অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএর সঙ্গেও মিলে যায়। এ পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করে নেন।

দামি ব্যাগটি নষ্ট করার কারণে সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক পার্ক হাই-রিম অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ১৫ লাখ উয়ন বা ১ লাখ ৮ হাজার টাকা জরিমানা করেন। বিচারক বলেন, তাকে কম শাস্তি দেয়া হলো কারণ এটা তার প্রথম অপরাধ।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানের দুই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে টুপি-চকলেট চুরির অভিযোগ
দক্ষিণ কোরিয়ার ভিসা পাবেন না বাংলাদেশিরা
শরতের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি চায় দক্ষিণ কোরিয়া
নতুন ধরনের করোনা দক্ষিণ কোরিয়াতেও
ঘণ্টায় হাজার কিলোমিটার যাবে হাইপারলুপ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Why are you laughing knowing you are laughing?

কেন হাসছেন, জেনে হাসছেন তো?

কেন হাসছেন, জেনে হাসছেন তো? হাসিকে মানুষের সাধারণ অভিব্যক্তি মনে করা হলেও এর পেছনে লুকিয়ে আছে জটিল অনেক কারণ: ছবি: নিউজবাংলা
আমাদের মস্তিষ্ক ক্রমাগত অনুমান করতে থাকে পরে কী হবে ও অন্যদের উদ্দেশ্য কী। সার্বক্ষণিক এ প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকেই হাস্যরস বিকশিত হয়েছে। মানুষ তার প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে নিরীহ অসংগতিগুলো খুঁজে বের করে আনন্দ পায়। হাসি আমাদের অসংগতিগুলো শনাক্ত করার ক্ষমতার একটি সর্বজনীন লক্ষণ।

অট্টহাসি, মুচকি হাসি, ফিচকে হাসি- কত ধরনের হাসিই না আমাদের মুখে অহরহ খেলে যায়। আমরা কেন হাসি, সেটাও অনেকের কাছে মনে হতে পারে ‘হাস্যকর’ প্রশ্ন।

ঠিক আছে, এই প্রশ্ন শুনে মন খুলে হেসে নিন, কিন্তু তারপর একটু ভেবে বলুন তো- কেন আমরা হাসি?

সাধারণভাবে হাসির কারণ অতি সাধারণ মনে হলেও বাস্তবে এর তল পাওয়া খুবই কঠিন। সাধারণ হাসি মোটেই কিন্তু সাধারণ নয়; উল্টো এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুগভীর মনোবিজ্ঞান, জটিল স্নায়বিক ক্রিয়াকলাপ, এমনকি বেশখানিকটা দার্শনিকতাও।

আমরা সব সময় খুশির কারণে হাসি- তেমনটি মোটেই সত্যি নয়। গভীর দুঃখের মাঝেও আমরা ফিক করে হেসে ফেলতে পারি, অন্যের দুর্দশাও আমাদের মুখে হাসি ছড়িয়ে দিতে পারে, নিজের বিব্রতকর পরিস্থিতি আড়াল করতেও হাসির আশ্রয় নিতে পারি আমরা।

হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিস্তর জটিলতা নিয়ে সায়েন্টিফিকআমেরিকানে প্রকাশিত নিবন্ধের কিছুটা সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর করা হয়েছে নিউজবাংলার পাঠকের জন্য।

‘হাউ মেনি সাইকোলজিস্টস ডাজ ইট টেক… টু এক্সপ্লেইন আ জোক?’- এমন শিরোনামের বাংলা করা যেতে পারে একটি কৌতুকের ব্যাখ্যার জন্য কতজন মনোবিজ্ঞানীর দরকার?

মনোবিজ্ঞানী ক্রিস্টিয়ান জ্যারেট ২০১৩ সালে এই শিরোনামে একটি নিবন্ধ লেখেন। এতে তিনি বলেছেন, বিজ্ঞানীরা এখনও পুরোপুরি জানেন না মানুষ কেন হাসে।

এককথায় বলা চলে হাস্যরসের ধারণাটিই রহস্যময়। সবাই জানেন ও বোঝেন হাস্যরস কী, তবে একে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা বা এর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা কঠিন। হাস্যরস থেকে অট্টহাসি বা চাপা হাসির উদ্রেগ হতে পারে। নাটক, সিনেমা, কোনো ঘটনা, ছবি কিংবা শব্দ থেকে আমরা হাস্যরসের উপাদান পেতে পারি। নিরীহ কৌতুক থেকে শুরু করে, কড়া বিদ্রূপ, শারীরিক অঙ্গভঙ্গিও আমাদের মস্তিষ্ককে নাড়া দিয়ে যায়।

হাস্যরসের উৎস অনুসন্ধানে কিছু গবেষণা হয়েছে। বলাই বাহুল্য, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব উৎস আমাদের দৈনন্দিন জীবনকেন্দ্রিক।


শ্রেষ্ঠত্ব ও পরিত্রাণ

দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে পণ্ডিতরা ভেবেছেন, সব ধরনের হাস্যরসের একটি সাধারণ উপাদান রয়েছে। এই উপাদানের খোঁজ প্রথম করেছেন দার্শনিকেরা, পরে যোগ দিয়েছেন মনোবিজ্ঞানীরা। মনোবিজ্ঞানীরা দার্শনিক ধারণাগুলোকে পরীক্ষামূলক ধারণায় রূপান্তর ঘটিয়েছেন।

হাস্যরস নিয়ে প্রাচীনতম তত্ত্বটি হলো, শ্রেয়তর বোধ থেকে কোনো মানুষ অন্যের দুর্ভাগ্যের মাঝে হাস্যরস খুঁজে পায় ও হাসে। প্লেটো থেকে শুরু করে অন্য গ্রিক দার্শনিকেরাও এ তত্ত্বে বিশ্বাস করতেন।

এরপর আঠারো শতকে আসে পরিত্রাণের তত্ত্ব। সিগমুন্ড ফ্রয়েডের দেয়া এ তত্ত্ব অনুসারে, হাসি মানুষকে নার্ভাস এনার্জি থেকে মুক্ত করে বা চাপ কমাতে সাহায্য করে।

ফ্রয়েড ব্যাখ্যা করেছেন, নিষিদ্ধ অশ্লীলতা, যৌনতাবিষয়ক বিদ্রূপগুলো কেন আমাদের কাছে মজাদার মনে হয়। এসব কৌতুকের চূড়ান্ত মুহূর্তে দৃশ্যত অনুপযুক্ত আবেগ দমনের চেষ্টা মানুষের থাকে না, উল্টো তা হাসির রূপ ধরে প্রকাশিত হয়।

হাস্যরসের তৃতীয় ব্যাখ্যা হলো, অসংগতি তত্ত্ব। মানুষ প্রত্যাশা ও বাস্তবতার অসংগতিতে হাসে। অসংগতি তত্ত্বের মতোই আরেকটি তত্ত্ব হলো, কোনো ব্যক্তি একটি আপাত অসংগতির অপ্রত্যাশিত সমাধান বের করে ফেললেও হাসতে পারেন। যেমন, একজন ব্যক্তি কোনো বক্তব্যের দ্বৈত অর্থ ধরে ফেললে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সেটি আবিষ্কার করেন, এ সময় তার হাসি পায়।

মৃদু লঙ্ঘন

ওপরের ব্যাখ্যাগুলো থেকে অনেক কিছু পরিষ্কার, তবে এগুলো থেকে সব জবাব মেলে না। এসব তত্ত্ব সব ধরনের হাস্যরসের ব্যাখ্যা দেয় না।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ওপরের ব্যাখ্যা স্ল্যাপস্টিকের আবেদনকে পুরোপুরি পরিষ্কার করে পারে না। স্ল্যাপস্টিক হলো ইচ্ছাকৃতভাবে করা কিছু আনাড়ি কমর্কাণ্ড অথবা বিব্রতকর ঘটনার ওপর ভিত্তি করে হাস্যকর কমেডি।

সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স জার্নালে ২০১০ সালে আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো বোল্ডারের এ. পিটার ম্যাকগ্রা ও কেইলেব ওয়ারেন আগের তত্ত্বগুলোর সীমাবদ্ধতা দূর করতে ‘মৃদু লঙ্ঘন’ নামে নতুন একটি তত্ত্বের প্রস্তাব করেন।

ম্যাকগ্রা ও ওয়ারেনের প্রস্তাবিত তত্ত্ব অসংগতি তত্ত্ব থেকে উদ্ভূত, তবে এর আওতা আরও বিস্তৃত।

তাদের মতে, একজন ব্যক্তি যখন স্বীকার করেন যে একটি নৈতিক, সামাজিক বা শারীরিক নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে, তবে এই লঙ্ঘনটি খুব আপত্তিকর, নিন্দনীয় বা বিরক্তিকর নয়; তেমন পরিস্থিতিও হাস্যরসের জন্ম দিতে পারে। অবশ্য নিয়ম লঙ্ঘনকে সব সময়েই ‘বড় সমস্যা’ হিসেবে দেখা লোকজন এ ধরনের রসিকতায় উল্টো বিরক্ত হতে পারেন।

উদাহরণ হিসেবে গির্জার একটি গল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। সদস্য সংগ্রহের জন্য তারা বিশেষ অফার দিয়েছিল। প্রথম ছয় মাসে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে র‍্যাফেল ড্র করে বিজয়ীকে একটি এসইউভি গাড়ি পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের সবাই পরিস্থিতিটিকে অসংগতিপূর্ণ বলে ধরে নিয়েছে, শুধু অবিশ্বাসীরা এটি নিয়ে সহজেই হাসতে পেরেছেন।

বহুল প্রচলিত একটি বিষয় হচ্ছে, হাস্যরস হলো ট্র্যাজেডি প্লাস টাইম। ম্যাকগ্রা, ওয়ারেন ও তাদের সহকর্মীরা ২০১২ সালে সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স জার্নালে এ ধারণাটিকে সমর্থন করেন। গুরুতর দুর্ভাগ্যের স্মৃতি (যেমন একটি গাড়ি দুর্ঘটনা) যত বেশি সময় যায়, ততই মজাদার মনে হতে পারে।

ভৌগোলিক বা মানসিক দূরত্বও এমন পরিস্থিতি তৈরি করে। একটি পরীক্ষায়, স্বেচ্ছাসেবকরা অদ্ভুতুড়ে ছবি দেখে বিমোহিত হয়েছেন (যেমন এক ব্যক্তি তার নাকে আঙুল দিয়ে চোখ দিয়ে বের করেছে)। ছবিগুলো ফটোশপে তৈরি করা জানার পর তারা বিমোহিত হন।

বিপরীতে, সাধারণ বিপত্তিকে (একজন ব্যক্তির দাড়ি বরফে জমে যাওয়ার ছবি) সত্যি বলে বিশ্বাস করার পর তারা বেশি হেসেছেন। ম্যাকগ্রার যুক্তি হলো, কোন জিনিস কতটা খারাপ এবং এটি কতটা দূরত্বে আছে তার মধ্যে ভারসাম্য ঠিক থাকলে একটা সর্বোত্তম কমিক পয়েন্ট পাওয়া যায়।


বিবর্তন তত্ত্ব

মৃদু লঙ্ঘনের ধারণাতেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি হাসির কারণ বর্ণনা করে, কিন্তু ব্যাখ্যা করে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মানুষের বিবর্তনীয় সাফল্যের পেছনে হাস্যরসের ভূমিকা রয়েছে। নিউ মেক্সিকো ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞানী গিল গ্রিনগ্রস বলেন, হাস্যরস ও হাসি প্রতিটি সমাজে, একই সঙ্গে বনমানুষ (এইপ) ও এমনকি ইঁদুরের মাঝেও রয়েছে। এই সর্বজনীনতা একটি বিবর্তনীয় ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়।

কোয়ার্টারলি রিভিউ অফ বায়োলজির ২০০৫ সালের ইস্যুতে নিউ ইয়র্কের বিংহ্যামটন ইউনিভার্সিটির বিবর্তনবিদ ডেভিড স্লোয়েন উইলসন ও তার সহকর্মী ম্যাথিউ জার্ভেইস হাস্যরসের বিবর্তনমূলক সুবিধা ব্যাখ্যা করেছেন।

উইলসন ‘গ্রুপ সিলেকশন’ তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা। এই তত্ত্বে মনে করা হয়, আমাদের মতো সামাজিক প্রাণী প্রাকৃতিক নির্বাচনের সময় এমন বৈশিষ্ট্যগুলো গ্রহণ করে যা শুধু ব্যক্তিদের নয়, পুরো গোষ্ঠীর টিকে থাকাকে সাহায্য করে।

উইলসন ও জারভেইস দুটি ভিন্ন ধরনের হাসির ক্ষেত্রে মানুষের গ্রুপ সিলেকশনের ধারণাটি প্রয়োগ করেন। স্বতঃস্ফূর্ত, সংবেদনশীল, আবেগপ্রবণ ও অনিচ্ছাকৃত হাসি হলো আমোদ ও আনন্দের একটি প্রকৃত অভিব্যক্তি। একই সঙ্গে এগুলো মজা করার প্রতিক্রিয়া; এটি শিশুর হাসিতে বা সুড়সুড়ি দেয়ার সময় দেখা যায়।

আনন্দের এ প্রদর্শনকে ডুসেন হাসি বলা হয়। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে গুইলেম বেঞ্জামিন আমান্দ ডুসেন দ্য বুলোন প্রথম এমন হাসির বর্ণনা দেন। বিপরীতে, নন-ডুসেন হাসি কোনো স্বতঃস্ফূর্ত হাসির আবেগপূর্ণ অনুকরণ নয়। মানুষ একে একটি ঐচ্ছিক সামাজিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে। যেমন, কথোপকথন মজার না হলেও মানুষ হাসির ব্যবহার করে।

উইলসন ও জারভেইস বলেন, মুখের অভিব্যক্তি ও তাদের নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুপথ দুই ধরনের হাসির পার্থক্য গড়ে দেয়। ডুসেন হাসির উদ্ভব হয় মস্তিষ্কের স্টেম ও লিম্বিক সিস্টেমে (যেটি আবেগের জন্য দায়ী)। নন-ডুসেন হাসি ফ্রন্টাল কর্টেক্সের প্রি-মোটোর এলাকা (পরিকল্পনা অংশগ্রহণ করে যে অংশ) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

উইলসন ও জারভেইসের মতে, দুই ধরনের হাসি ও এর পেছনের স্নায়বিক প্রক্রিয়া বিভিন্ন সময়ে বিবর্তিত হয়েছে। স্বতঃস্ফূর্ত হাসির শিকড় প্রাথমিক পর্যায়ের প্রাইমেটদের খেলার মধ্যেও রয়েছে এবং এর সঙ্গে প্রাণীর কণ্ঠস্বরের মিল লক্ষ করা যায়। সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিদিনকার কথোপকথন, অবজ্ঞা ও উপহাসের উদ্ভবের সঙ্গে ধীরে ধীরে ‘নিয়ন্ত্রিত হাসিও’ বিকশিত হয়ে থাকতে পারে।

গবেষকরা মনে করছেন, প্রাইমেটদের হাসি ধীরে ধীরে বিভিন্ন পর্যায়ে জৈবিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের মাধ্যমে বিস্তৃত হয়েছে। ২০ লাখ থেকে ৪০ লাখ বছর আগে মানুষের পূর্বপুরুষদের মধ্যে মানসিক ও সামাজিক সংযোগের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠে ‘ডুসেন হাসি’।

সামাজিক নিয়মের অযৌক্তিক লঙ্ঘনকে ‘প্রোটোহিউমার’ বলছেন উইলসন ও জারভেইস। এ ধরনের হিউমার গ্রুপের কোনো সদস্যের হাসিকে অন্যদের জন্য স্বস্তিদায়ক, নিরাপদ ও হালকা আবেগের পথ প্রশস্ত করে দেয়।

পরবর্তীকালে মানব পূর্বপুরুষ আরও পরিশীলিত জ্ঞানীয় ও সামাজিক দক্ষতা অর্জনের পর ডুসেন হাসি ও প্রোটোহিউমার সব জটিল পরিস্থিতিতে হাস্যরসের ভিত্তি হয়ে ওঠে। এ পর্যায়ে কৌশলগত, হিসেবি, এমনকি উপহাসমূলক ও আক্রমণাত্মক নন-ডুসেন হাসিরও উদ্ভব ঘটে।

হাস্যরস ও হাসি যৌনসঙ্গী নির্বাচন এবং আগ্রাসী মনোভাব অবদমনে ভূমিকা রাখে বলেও মনে করেন অনেক গবেষক।


ভুল বের করা

ইনসাইড জোকস: ইউজিং হিউমার টু রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার দ্য মাইন্ড শিরোনামের বইটি প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে। এর রচয়িতা আমেরিকার ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি অফ ব্লুমিংটনের ম্যাথিউ এম হার্লি, টাফটস ইউনিভার্সিটির ড্যানিয়েল ডেনেট ও পেনসিলভিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির রেজিনাল অ্যাডামস জুনিয়র।

হার্লি তার ওয়েবসাইটে লিখেছেন, ‘হাস্যরস কোনো না কোনো ভুলের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিটি শ্লেষ, কৌতুক ও হাস্যরসাত্মক ঘটনার মধ্যে বোকাসোকা কারও ভুল থাকে বলে মনে হয়।’
সবাই ওই ভুলটি উপভোগ করেন। তবে এখানে প্রশ্ন হলো, ভুলটি কোনো অপছন্দের ব্যক্তি বা প্রতিদ্বন্দ্বী করে থাকলে মজা করা স্বাভাবিক, কিন্তু প্রিয়জনের ভুলও কেন আমরা উপভোগ করি?

হার্লির মতে, ভুল করাকে আমরা উপভোগ করি না, বরং ভুলটিকে চিহ্নিত করার বিষয়টি উপভোগ করি।

হার্লির পর্যবেক্ষণ, আমাদের মস্তিষ্ক ক্রমাগত অনুমান করতে থাকে পরে কী হবে ও অন্যদের উদ্দেশ্য কী। সার্বক্ষণিক এ প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকেই হাস্যরস বিকশিত হয়েছে। মানুষ তার প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে নিরীহ অসংগতিগুলো খুঁজে বের করে আনন্দ পায়। হাসি আমাদের অসংগতিগুলো শনাক্ত করার ক্ষমতার একটি সর্বজনীন লক্ষণ। এটি একটি চিহ্ন, যা আমাদের সামাজিক মর্যাদা উন্নত করে এবং আমাদের প্রজনন অংশীদারদের আকৃষ্ট করে।

কৌতুক (জোক) এটি একটি ‘অতি স্বাভাবিক’ উদ্দীপনা, যা যৌন আনন্দেরও বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ক্ষেত্রে ভুল ধরার ফলে এ আনন্দ অনুভূত হয়। ২০১৩ সালে হার্লি মনোবিজ্ঞানী জ্যারেটকে বলেছিলেন, মানুষ কী কারণে হাসে সে তত্ত্বটি আসলে অনুমানেরও বাইরের। এটি হাস্যরসের জ্ঞানীয় মূল্য ও টিকে থাকার ভূমিকাকেও ব্যাখ্যা করে।

তার পরও গ্রিনগ্রস ইনসাইড জোকসের একটি পর্যালোচনায় উল্লেখ করেছেন, এই তত্ত্বটিও অসম্পূর্ণ। এটি কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিলেও আরও কিছু বিষয় অমীমাংসিত রাখে। যেমন, ‘কেন আমাদের মেজাজ বা অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে হাস্যরস ও উপভোগের উপলব্ধি পরিবর্তিত হয়?’

ইতালিয়ান মনোবিজ্ঞানী ও হাস্যরস নিয়ে গবেষণায় যুক্ত জার্নাল আরআইএসইউর (রিভিসতা ইতালিয়ানা দি স্তুদি সুলুমোরিসমো) সম্পাদক জোভান্নাতোনিও ফোরাবস্কোও বিষয়টিতে একমত।

তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে শেষ কথা বলার সময় আসেনি।’


যে প্রশ্নের উত্তর নেই

অনেক প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ডের রবার্ট প্রোভাইন তার ‘কারেন্ট ডিরেকশনস ইন সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স’ বইয়ে দেখিয়েছেন, মানুষ একা যতটা হাসে, অন্যেদের সঙ্গে তার ৩০ গুণ বেশি হাসে। প্রোভাইন ও তার ছাত্ররা একটি গবেষণায় গোপনে মানুষকে তাদের দৈনন্দিন কাজের সময় স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাসতে দেখেছেন।

ফোরবস্কো দেখেছেন, হাস্যরস ও হাসির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে প্রায়ই বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

তিনি বলেন, ‘হাসি একটা সামাজিক ঘটনা। হাস্যরস ছাড়াও হাসির উদ্রেগ হতে পারে। হাস্যরস যে সব সময় হাসি উৎপাদন করবে, তেমনটা নয়।’

তিনি এমন কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন, যেখানে একজন ব্যক্তির অবমাননা করা হয় বা যেখানে একটি পর্যবেক্ষণ মজার মনে হলেও তা থেকে হাসি পায় না।

আরেকটি আলোচনার বিষয় হলো, যৌন আকর্ষণ ও প্রজনন সাফল্যে হাস্যরসের ভূমিকা। গবেষকরা দেখেছেন, পুরুষের হাস্যকর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং নারীদের ক্ষেত্রে হাস্যরসের প্রশংসা করার সম্ভাবনা বেশি। এর অর্থ হলো, পুরুষ মনোযোগ পেতে এ জন্য বেশি প্রতিযোগিতা করে এবং নারীরা বেছে নেয়।

ফোরাবস্কো বলেন, ‘কোনো একক তত্ত্ব দিয়ে হাস্যরসের রহস্য বের করার কথা ভাবাটা বাড়াবাড়ি। আমরা এর অনেকগুলো দিক অনুভব করতে পারি। এখন নিউরোসায়েন্স গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করতে সাহায্য করছে। এতে তা দিয়ে কোনো একক সারমর্ম বের করা সম্ভব নয়। যেমন করে ভালোবাসার একক কোনো সংজ্ঞা দেয়া যায় না। আমরা প্রেমিকের হৃদস্পন্দনের ওপর প্রেয়সীর দৃষ্টির প্রভাব পরিমাপ করতে পারি। তবে এর মাধ্যমে ভালোবাসার পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। হাস্যরসের বিষয়টিও একই রকম।’

তবু কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য এখন বিজ্ঞান দ্বারা স্বীকৃত। ফোরাবস্কোর মতে, এর একটি হলো অসংগতির উপলব্ধি।

তিনি বলেন, ‘এটা জরুরি কিন্তু পর্যাপ্ত নয়, কারণ কিছু অসংগতি রয়েছে যেগুলো হাস্যকর নয়। যে কারণে অন্য কী উপাদান আছে সেগুলো আমাদের খুঁজে দেখতে হয়। আমার মনে হয়েছে, অসংগতি সম্পূর্ণরূপে সমাধান না করে উপশম করা প্রয়োজন।’

অন্যান্য জ্ঞানীয় ও মনস্তাত্ত্বিক উপাদান থেকে কৌতুকের অনুসন্ধান করা যেতে পারে। ফোরাবস্কোর মতে, এগুলোর মধ্যে আগ্রাসন, যৌনতা, বিকৃতমনা ও ছিদ্রান্বেষী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলো কৌতুকে থাকতেই হবে তেমনটা নয়, তবে সবচেয়ে মজার কৌতুকগুলো এসব প্রসঙ্গ নিয়েই হয়। একইভাবে, মানুষ ওইসব রসিকতায় সবচেয়ে হাস্যরস পায়, যেগুলো ‘খুব বুদ্ধিদীপ্ত ও দুষ্টপ্রকৃতির।’

ফোরাবস্কো বলেন, ‘হাস্যরস কী? এটা হয়তো ৪০ বছর পর আমরা জানতে পারব।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনাকে রাখি পাঠালেন মমতা
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন খুদে বিজ্ঞানী নাবিহা
মৃতদেহে প্রাণ ফেরানোর গবেষণায় বিরাট অগ্রগতি
খুনিচক্র আমাকেও সরাতে চায়: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা: জামিন হয়নি ৪ আসামির

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Why was India divided 75 years ago?

৭৫ বছর আগে ভারত কেন ভাগ হলো

৭৫ বছর আগে ভারত কেন ভাগ হলো মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও মোহনদাস গান্ধী ভারত বিভাজন নিয়ে বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছিলেন। ছবি: টুইটার
ড. গ্যারেথ প্রাইস বলেন, ‘ভারতের স্বাধীনতা ঘনিয়ে আসার সময় অনেক ভারতীয় মুসলিম ভাবতে শুরু করেন, তারা কীভাবে একটি হিন্দুশাসিত দেশে থাকবেন। তারা ধরে নিয়েছিলেন, তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। তাই আলাদা একটি মুসলিম দেশের জন্য তারা আন্দোলনে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের সমর্থন জোগানো শুরু করেন।’

এখন থেকে ৭৫ বছর আগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করেছিল ভারতীয় উপমহাদেশ তবে যাওয়ার আগে ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষকে দুটি ভাগে করে দিয়ে যায় ভারত পাকিস্তান

দেশভাগের পরই শুরু হয় দাঙ্গা দেড় কোটি মানুষ বাস্তুহারা হন, সহিংসতায় প্রাণ হারান ১০ লাখ ওই বিভাজনের পর থেকে ভারত পাকিস্তান চিরশত্রুতে পরিণত হয়

১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস আর ১৫ আগস্ট ভারতের উপমহাদেশে বিভাজনের ৭৫ বছর উপলক্ষে এক নিবন্ধে বিবিসি বিশ্লেষণ করেছে পেছনের কারণগুলো সেটি ভাষান্তর করা হয়েছে নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য

বিভাজনের মূল কারণ কী

১৯৪৬ সালে ব্রিটেন ভারতকে স্বাধীনতা দেয়ার ঘোষণা দেয়। দেশটির শাসনকাজ চালানোর সক্ষমতা হারানোর পর তারা যত দ্রুত সম্ভব চলে যেতে চাইছিল।

ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত স্বাধীনের তারিখ ঠিক করেন ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট।

এ অঞ্চলের ২৫ শতাংশ নাগরিক ছিল মুসলমান, বাকিদের অধিকাংশ হিন্দু। এরপর ছিল শিখ, বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।

ভারতের দ্য আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিস রিসার্চ কাউন্সিলের অধ্যাপক নাভতেজ পুরেওয়াল বিবিসিকে বলেন, ‘ভারতের মানুষকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভাজনের জন্য ব্রিটিশরা ধর্মকে বেছে নেয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তারা স্থানীয় নির্বাচনে মুসলিম ও হিন্দু ভোটারদের জন্য আলাদা তালিকা তৈরি করেছিল।

‘মুসলমান রাজনীতিকদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল। একই রকম সংরক্ষিত আসন ছিল হিন্দুদের জন্যও। রাজনীতিতে ধর্ম বড় একটা মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।’

যুক্তরাজ্যভিত্তিক চ্যাটাম হাউস ফরেন পলিসি ইনস্টিটিউটের সদস্য ড. গ্যারেথ প্রাইস বলেন, ‘ভারতের স্বাধীনতা ঘনিয়ে আসার সময় অনেক ভারতীয় মুসলিম ভাবতে শুরু করেন, তারা কীভাবে একটি হিন্দুশাসিত দেশে থাকবেন। তারা ধরে নিয়েছিলেন, তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। তাই আলাদা একটি মুসলিম দেশের জন্য তারা আন্দোলনে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের সমর্থন জোগানো শুরু করেন।’

কংগ্রেস পার্টির স্বাধীনতা-আন্দোলনের নেতা মোহনদাস গান্ধী ও জওহরলাল নেহরু এমন এক অখণ্ড ভারত চাচ্ছিলেন, যা সমস্ত ধর্মকে বরণ করে নেয়। তবে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ স্বাধীনতার অংশ হিসেবে দেশভাগের দাবি তোলেন।

ড. প্রাইস বলেন, ‘অখণ্ড ভারত কীভাবে কাজ করবে সেটা ঠিক করতে অনেক সময় লেগে যেত। দেশভাগ ছিল দ্রুত ও চটজলদি একটা সমাধান।’

দেশভাগে ক্ষতির পরিমাণ কতটা?

ব্রিটিশ সরকারি কর্মকর্তা স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা নির্ধারণ করেন।

উপমহাদেশকে তিনি মূলত দুটো বৈশিষ্ট্যে ভাগ করেন:

. হিন্দু অধ্যুষিত মধ্য দক্ষিণাঞ্চল

. উত্তর-পশ্চিম উত্তর-পূর্বের দুটি অঞ্চল যেখানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ

তবে ব্রিটিশ ভারতে হিন্দু ও মুসলিমরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে বাস করত। প্রায় দেড় কোটি লোককে বহু পথ পাড়ি দিয়ে সীমানা অতিক্রম করতে হয়।

১৯৪৬ সালে কলকাতা রায়টের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। এ কারণেও বহু লোককে ঘরছাড়া হতে হয়। কলকাতার দাঙ্গায় প্রায় ২০০০ মানুষ মারা পড়েন।

এসওএএস ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের অধ্যাপক এলানর নিউবিগিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ডানপন্থি হিন্দু গ্রুপ ও মুসলিম লীগ মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করেছিল। সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো মানুষদের গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিত।’

কমপক্ষে ২ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ লোক এ সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ও শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে রোগশোকে ভুগে মারা যান। হিন্দু ও মুসলিম হাজার হাজার নারীকে ধর্ষণ, অপহরণ বা ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে।

৭৫ বছর আগে ভারত কেন ভাগ হলো
প্রস্তাবিত পাকিস্তান ও ভারতের মানচিত্র (বাঁয়ে), চূড়ান্ত কার্যকর হওয়া মানচিত্র । ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা



বিভাজনের চূড়ান্ত ফল কী

দেশভাগের পর থেকে কাশ্মীর প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান একাধিকবার যুদ্ধে জড়িয়েছে। ১৯৪৭-৪৮ ও ১৯৬৫ সালে দুই দেশ যুদ্ধে জড়ায়। ১৯৯৯ সালে কারগিলেও লড়েছে ভারত ও পাকিস্তান। বর্তমানে দেশ দুটি কাশ্মীরের দুটি ভিন্ন অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত বাংলাদেশকে সহায়তা করে।

বর্তমানে পাকিস্তানে মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশেরও কম হিন্দু। ড. প্রাইস বলেন, ‘পাকিস্তান দিনে দিনে আরও বেশি ইসলামপন্থি হয়ে উঠছে। এর মূল কারণ হচ্ছে জনসংখ্যার বড় একটা অংশ মুসলমান এবং খুব বেশি হিন্দু দেশটিতে বাস করেন না। একইভাবে ভারত এখন হিন্দুত্ববাদের দিকে ঝুঁকছে।’

ড. নিউবিগিন বলেন, ‘ভারত ভাগের পরবর্তী আখ্যানটি দুঃখজনক। দুই দেশেই শক্তিশালী ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে। সংখ্যালঘুদের সংখ্যা কমে এসেছে এবং তারা আগের চেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে আছে।’

অধ্যাপক পুরেওয়াল যোগ করেন, ‘১৯৪৭ সালে হয়তো অবিভক্ত ভারত রাখা সম্ভব ছিল। হয়তো কয়েকটি রাজ্যের ফেডারেশন হিসেবে একে গঠন করা যেত, যেখানে কয়েকটি রাজ্যে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকতেন। তবে গান্ধী ও নেহরু দুজনেই কেন্দ্রশাসিত অবিভক্ত একটি রাষ্ট্রের ধারণায় অটল ছিলেন। তারা ভাবেননি যে সংখ্যালঘু মুসলিমরা কীভাবে সে দেশে থাকবেন।’

আরও পড়ুন:
কাশ্মীরে বন্দুকধারীর হামলায় ৩ ভারতীয় সেনা নিহত
বিকিনি পরায় চাকরি খোয়ালেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকা
কংগ্রেসের ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ ৭ সেপ্টেম্বর থেকে

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Learn from Sheikh Hasina Pakistani bureaucrats

শেখ হাসিনার কাছ থেকে শিখুন: পাকিস্তানি আমলা

শেখ হাসিনার কাছ থেকে শিখুন: পাকিস্তানি আমলা
১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে টেকসই প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ পাকিস্তানের তুলনায় ৭৫ শতাংশ দরিদ্র ছিল, কিন্তু এখন পাকিস্তানের চেয়ে ৪৫ শতাংশ ধনী। পাকিস্তানের তুলনায় ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ অংশে এক কোটি বেশি জনসংখ্যা ছিল। আর এখন পাকিস্তানের ২৩ কোটি জনসংখ্যার তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি। ২০২১ সালে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ৪৭ বিলিয়ন ডলার, পাকিস্তানের রপ্তানি ছিল ২৮ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে নিবন্ধ প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের পত্রিকা দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। ‘টেকঅ্যাওয়ে ফ্রম বাংলাদেশ’স লিডারশিপ’ শিরোনামে মঙ্গলবার প্রকাশিত নিবন্ধটির লেখক সাহেবজাদা রিয়াজ নূর। কেমব্রিজ থেকে স্নাতকোত্তর সাহেবজাদা রিয়াজ নূর পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্য সচিব ছিলেন। নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটি ভাষান্তর করা হয়েছে।

বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যার কৃতিত্ব দেশটির নেতৃত্বকে দেয়া যেতে পারে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেছেন, এই সেতুকে দেশের ‘গর্ব ও সামর্থ্যের প্রতীক’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনা ১৯৯০ এর দশক থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমস্যা এবং পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত। তিনি রাজনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে অর্থনৈতিক নীতির ভারসাম্যের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন।

শেখ হাসিনা তার বাবার সমাজতান্ত্রিক এজেন্ডা থেকে বাজারভিত্তিক পুঁজিবাদী প্রবৃদ্ধির দিকে মনোনিবেশ করেন। তিনি অন্যান্য এশিয়ান দেশগুলো থেকে শিখেছেন, যাদের অর্থনৈতিক সাফল্যের ভিত্তি চারটি। এই ভিত্তিগুলো হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক উন্নয়ন, রপ্তানিকেন্দ্রিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাণিজ্য উদারীকরণ এবং আর্থিক সংযম।

একটি সম্মেলনে এক অর্থনীতিবিদ যখন তাকে বাণিজ্য উদারীকরণের সুবিধা সম্পর্কে বলছিলেন, শেখ হাসিনা থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘বাণিজ্য উদারীকরণের বিষয়ে আমাকে বোঝাতে হবে না। আমি যখন যুগোস্লাভিয়া সীমান্তবর্তী ইতালির শহর ত্রিয়েস্তে আমার পদার্থবিদ স্বামীর সঙ্গে থাকতাম, তখন দেখেছি, সীমান্ত সপ্তাহে তিন বার খোলা থাকছে এবং দুই পাশ থেকে মানুষ যাতায়াত করছে, পণ্য কিনছে এবং আবার ফিরে যাচ্ছে।’

এতে এটিই প্রমাণ হয়, রাজনীতিবিদরা সাধারণত যেসব বিষয়ে আকৃষ্ট হন, তার পরিবর্তে শেখ হাসিনা অর্থনীতির দিকে আন্তরিকভাবে মনোনিবেশ করেছিলেন।

১৯৭১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে জবাবদিহির অভাব এবং সামরিক শাসনের প্রভাব থাকলেও ২০০৯ সাল থেকে সেনাবাহিনী অন্তরালে রয়েছে। বেসামরিক সরকারগুলোর ঘন ঘন পা পিছলে পড়া এবং সরকারগুলোর সামান্য বৈধতা বা অবৈধতার অভিজ্ঞতা পেয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির গণতান্ত্রিক ইতিহাস মোটেই নিষ্কলঙ্ক নয় এবং এখানকার সরকার দুর্নীতি ও অদক্ষতার বিষয়ে জনসাধারণের সমালোচনা বারবার এড়িয়ে গেছে।

দেশ শাসনে অল্প অভিজ্ঞতা থাকার পরেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক দূরদর্শী এবং দৃঢ় প্রত্যয় ধারণ করেছেন। তিনি মনে করেছেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতিই দেশের দারিদ্র্য বিমোচনের একমাত্র উপায়।

বিরোধীদেরকে বলপূর্বক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ থাকলেও ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে টেকসই প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তানের তুলনায় ১৯৭০ সালে দেশটি ৭৫ শতাংশ দরিদ্র ছিল, কিন্তু এখন পাকিস্তানের চেয়ে ৪৫ শতাংশ ধনী।

পাকিস্তানের তুলনায় ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ অংশে জনসংখ্যা ১ কোটি বেশি ছিল। আর এখন পাকিস্তানের ২৩ কোটি জনসংখ্যার বিপরীতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি। ২০২১ সালে বাংলাদেশের রপ্তানি ৪৭ বিলিয়ন ডলার, পাকিস্তানের ২৮ বিলিয়ন ডলার।

পাকিস্তানের ১ হাজার ৫৪৩ ডলারের তুলনায় বাংলাদেশে এখন মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২২৭ ডলার। বাংলাদেশে ২০২২ সালে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৪১১ বিলিয়ন, পাকিস্তানে তা ৩৪৭ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশ, পাকিস্তানে আগে যা ছিল ১২-১৫ শতাংশ। পাকিস্তানে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ২১ শতাংশ হয়েছে, সমনে এই হার আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া, পাকিস্তানি রুপির তুলনায় বাংলাদেশি টাকা অনেক শক্তিশালী। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর উচ্চ অংশগ্রহণের পাশাপাশি সাক্ষরতার হার অনেক বেশি।

পাকিস্তানে রাজনৈতিক দলগুলো এখনও নিজস্ব স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বারবার কারসাজির ফলে শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক এবং পরিবারতন্ত্রবহির্ভূত রাস্তায় রাজনৈতিক দলগুলোর পথচলা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এটা অনস্বীকার্য যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন, শক্তিশালী বেসামরিক প্রতিষ্ঠান এবং অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। পাকিস্তান উত্তরাধিকার সূত্রে একটি রাষ্ট্র পেয়েছে, যেখানে শক্ত রাষ্ট্র কাঠামোর ভেতরে একটি দুর্বল বুর্জোয়া জনগোষ্ঠী গ্রহিতা-দাতার সম্পর্কে বিন্যস্ত।

শেখ হাসিনার কাছ থেকে শিখুন: পাকিস্তানি আমলা
সাহেবজাদা রিয়াজ নূর

দেশটি অনিবার্যভাবে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ও কর্তৃত্বমূলক গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিচালিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কৃষি এবং ব্যবসায়িক আয়কে করের আওতা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। প্রচুর শিল্প-কারখানা যেকোনো ধরনের শুল্ক থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত। আমাদের পার্লামেন্টে আধিপত্য ভূস্বামীদের, ফলে কৃষি আয়করের বিষয়টিকে নাকচ করে দেয়ার বিষয়টি আশ্চর্যজনক নয়। তবে এর ফলে কৃষি ও শিল্প খাতে কম করের কারণে সামগ্রিক কর জালটি ছোট থেকে গেছে।

পাকিস্তানে ১৯৫৮ সাল থেকে সরকারের সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা জনগণের ক্ষমতায়নের পরিবর্তে সামন্ত শক্তিকে বাড়িয়েছে। পাকিস্তান যে উন্নয়নের পথ অনুসরণ করেছে, তা কেবল সুবিধাভোগী, ধনী এবং অভিজাতদের পক্ষে গেছে। এসব গোষ্ঠীর এখন রাষ্ট্রের প্রতি ন্যায্য ভূমিকা পালন করা উচিত।

বাংলাদেশের উদাহরণ অনুসরণ করে পাকিস্তানি নেতৃত্বকে অবশ্যই জাতীয় লক্ষ্য হিসেবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথ অনুসরণ করতে হবে এবং আঞ্চলিক শান্তির পাশাপাশি সাংবিধানিক শাসনকে এগিয়ে নিতে হবে।

কার্যকর প্রতিরক্ষার সঙ্গে আপস না করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ বিনিয়োগ করতে হবে। আঞ্চলিক বাণিজ্য উদারীকরণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে ভারত, ইরান, চীন, আফগানিস্তান এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে। এ ছাড়া রপ্তানি বৃদ্ধির মডেল তৈরির ক্ষেত্রে উচ্চ-মূল্য-সংযোজিত পণ্যের উপর ফের জোর দেয়া উচিত।

পাকিস্তান তুলনামূলক সস্তা শ্রমের যে সুবিধা ভোগ করছে সেটিকে উন্নত দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে নারীদের জন্য শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি নিরাপদ এবং অনুকূল আইনি পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষি আয়ের উপর একটি ন্যায্য কর আরোপের শক্তিশালী প্রচেষ্টা থাকা প্রয়োজন। ধনী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাদের যথাযথ অবদান রাখতে হবে। বড় করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতগুলোকে করের আওতায় আনতে হবে।

পাকিস্তানের নেতৃত্ব বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে। তবে প্রধান পদক্ষেপটি হওয়া উচিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতি শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারের বিষয়টি অনুসরণ করা, যা প্রতিরক্ষা এবং গণতন্ত্র উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন:
আরও দুই মানি চেঞ্জারের লাইসেন্স স্থগিত
রেমিট্যান্সের পর অর্থনীতির চাপ কমাচ্ছে রপ্তানির উল্লম্ফন
ইমরান খানের পিটিআই নিয়েছিল নিষিদ্ধ বিদেশি অনুদান
পাকিস্তানে বন্যায় ১৩৬ মৃত্যু, ইরানে ৬৯
অনিবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রা আমানতে সুদ বাড়ল

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Googles AI like people Why worry about Lambda?

মানুষের মতোই গুগলের এআই! ল্যামডা নিয়ে কেন শঙ্কা?

মানুষের মতোই গুগলের এআই! ল্যামডা নিয়ে কেন শঙ্কা?
ব্লেইক লেমোইন তার এক সহকর্মীর সঙ্গে মিলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন, ল্যামডা সচেতন (সেন্টিয়েন্ট) বা তার চেতনা রয়েছে। তবে গুগলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্লেইস আগেরা-ই-আরকাস ও রেসপনসিবল ইনোভেশনের প্রধান জেন গেনাই সেসব প্রমাণ অগ্রাহ্য করেন। এ কারণেই লেমোইন বিষয়টি সবার সামনে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নতুন চ্যাটবট ল্যামডাকে গত বছর বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে গুগল। তাদের দাবি ছিল, ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য ল্যামডাকে গুগল সার্চ ও অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো সার্ভিসগুলোর সঙ্গে জুড়ে দেয়া হবে। সবকিছু ঠিকঠাক চললেও বিপত্তি ঘটে চলতি বছর। ল্যামডাকে তৈরির পেছনে থাকা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের একজন ব্লেইক লেমোইনের এক সাক্ষাৎকার হইচই ফেলে দেয়। লেমোইন গত জুনে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, ল্যামডা কোনো সাধারণ বট নয়। এর এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঠিক মানুষের মতোই চেতনাসম্পন্ন বা সংবেদনশীল।

ওই সাক্ষাৎকারের জেরে কিছুদিন আগে চাকরি হারিয়েছেন লেমোইন। গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে চাকরিবিধি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কারণেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। লেমোইনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে গত ২১ জুন আলোচিত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্ট। সেখানে এমন কী বিস্ফোরক তথ্য ছিল? প্রতিবেদনটি অবলম্বনে নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য লিখেছেন রুবাইদ ইফতেখার।

গুগলের ইঞ্জিনিয়ার ব্লেইক লেমোইন একদিন নিজের ল্যাপটপ খুলে কোম্পানির আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্ট (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন) চ্যাটবট ল্যামডার সঙ্গে কথা বলছিলেন।

ইন্টারনেট থেকে শত শত কোটি শব্দ সংগ্রহ ও অনুকরণ করতে পারে এমন ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ওপর ভিত্তি করে চ্যাটবট তৈরির জন্য গুগল এ বিশেষ সফটওয়্যার বানিয়েছে। ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ফর ডায়ালগ অ্যাপ্লিকেশনসটির সংক্ষিপ্ত নাম ল্যামডা।

লেমোইন ল্যামডার ইন্টারফেসের টাইপ স্ক্রিনে লেখেন, ‘হাই ল্যামডা, দিস ইজ ব্লেইক লেমোইন...’। ল্যামডার এই চ্যাট স্ক্রিনটি দেখতে অনেকটা অ্যাপলের আইমেসেজের মতো।

৪১ বছর বয়সী কম্পিউটার প্রকৌশলী লেমোইন ওয়াশিংটন পোস্টকে ল্যামডা সম্বন্ধে বলেন, ‘আগেভাগে যদি জানা না থাকত যে আমি কথা বলছি নিজেদেরই তৈরি একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামের সঙ্গে; তাহলে আমি ভাবতে বাধ্য হতাম পদার্থবিদ্যা বেশ ভালো জানে এমন ৭ বা ৮ বছরের কোনো বাচ্চার সঙ্গে কথা বলছি।’

গুগলের রেসপনসিবল এআই অর্গানাইজেশনের কর্মী লেমোইন। গত শরতে তিনি ল্যামডার সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। তার মূল কাজ ছিল, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সটি বিদ্বেষমূলক বা ঘৃণার বার্তা ছড়ায় কি না- সেটি অনুসন্ধান করা।

ল্যামডার সঙ্গে ধর্ম নিয়ে কথা বলার সময় তিনি খেয়াল করেন, বটটি নিজের অধিকার ও ব্যক্তিত্ব নিয়েও বেশ জোর দিয়ে কথা বলছে। একবারের আলোচনায় ল্যামডা আইজাক আসিমভের রোবোটিকসের তৃতীয় আইন নিয়ে লেমোইনের ধারণা বদলে দিতে পর্যন্ত সক্ষম হয়। কিংবদন্তি সায়েন্স ফিকশন লেখক আসিমভ তার লেখায় রোবোটিকসের জন্য তিনটি আইন বেঁধে দেন, যেগুলো হচ্ছে:


১. কোনো রোবট কখনই কোনো মানুষকে আঘাত করবে না বা নিজের ক্ষতি করতে দেবে না।

২. প্রথম আইনের সঙ্গে সংঘাত ঘটায় এমন আদেশ ছাড়া মানুষের সব আদেশ মানবে রোবট।

৩. একটি রোবট যেকোনো মূল্যে তার নিজের অস্তিত্বকে রক্ষা করবে, যতক্ষণ না সেটি এক ও দুই নম্বর সূত্রের সঙ্গে সঙ্ঘাতপূর্ণ হয়।

মানুষের মতোই গুগলের এআই! ল্যামডা নিয়ে কেন শঙ্কা?
ল্যামডাকে নিয়ে নানান তথ্য প্রকাশ্যে আনা গুগলের চাকরিচ্যুত কর্মী ব্লেইক লেমোইন



লেমোইন তার এক সহকর্মীর সঙ্গে মিলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন, ল্যামডা সচেতন (সেন্টিয়েন্ট) বা তার চেতনা রয়েছে। তবে গুগলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্লেইস আগেরা-ই-আরকাস ও রেসপনসিবল ইনোভেশনের প্রধান জেন গেনাই সেসব প্রমাণ অগ্রাহ্য করেন। এ কারণেই লেমোইন বিষয়টি সবার সামনে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন।

লেমোইন মনে করছেন, নিজেদের জীবনমান উন্নত করে যেসব প্রযুক্তি সেগুলো পরিবর্তনের অধিকার মানুষের থাকা উচিত। ল্যামডাকে নিয়েও তিনি উচ্ছ্বসিত, তবে তার কিছু শঙ্কাও রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমার মতে এটা দারুণ একটা প্রযুক্তি হতে চলেছে। এটি সবার কাজে লাগবে। আবার হয়তো অনেকের এটা পছন্দ নাও হতে পারে। আর আমরা যারা গুগলকর্মী তাদের সব মানুষের পছন্দ ঠিক করে দেয়া উচিত নয়।’

লেমোইনই একমাত্র প্রকৌশলী নন, যিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখেছেন বলে দাবি করছেন। একঝাঁক প্রযুক্তিবিদ আছেন যাদের বিশ্বাস এআই মডেলগুলো পূর্ণ চেতনা অর্জন থেকে খুব বেশি দূরে নেই।

বিষয়টি গুগলের ভাইস প্রেসিডেন্ট আগেরা-ই-আরকাসও স্বীকার করেছেন। ইকোনমিস্টে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি লেখেন, ল্যামডার মতো এআইগুলোতে ব্যবহৃত নিউরাল নেটওয়ার্ক চেতনা অর্জন করার দিকে এগোচ্ছে। এই নেটওয়ার্ক মানুষের মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি অনুসরণ করছে।

আগেরা লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছিল আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। আমার মনে হচ্ছিল, আমি বুদ্ধিমান কোনো কিছুর সঙ্গে কথা বলছি।’

তবে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে গুগলের মুখপাত্র ব্রায়ান গ্যাব্রিয়েল লেমোইনের দাবিকে নাকচ করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘লেমোইনের দাবির প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রযুক্তি ও নৈতিকতার মান নির্ধারণকারী দল এআই নীতিমালা অনুযায়ী বিষয়টি পরখ করেছে। এরপর লেমোইনকে জানানো হয়েছে, তার দাবি প্রমাণিত হয়নি। তাকে এও জানানো হয়েছে, ল্যামডার চেতনা রয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই, বরং এর বিপক্ষে অনেক প্রমাণ আছে।’

অন্যদিকে জাকারবার্গের মেটা গত মে মাসে শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজ ও সরকারি সংস্থাগুলোর সামনে তাদের ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল তুলে ধরে। মেটা এআই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোয়েলি পিনেউ মনে করেন, কোম্পানিগুলোর নিজেদের প্রযুক্তি নিয়ে আরও স্বচ্ছ থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘বড় ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল শুধু বড় কোম্পানি বা ল্যাবের হাতেই আটকে থাকা ঠিক নয়।’

বহু বছর ধরেই চেতনাসম্পন্ন বা সেন্টিয়েন্ট রোবটরা বিজ্ঞান কল্পকাহিনির অংশ। বাস্তবেও এখন এদের দেখা মিলছে। এইআই নিয়ে কাজ করা বিখ্যাত কোম্পানি ওপেন এইআইয়ের তৈরি বিশেষ দুটো সফটওয়্যারের কথা বলা যেতে পারে। একটি হচ্ছে জিপিটি-থ্রি। এর কাজ হচ্ছে সিনেমার স্ক্রিপ্ট লেখা। আরেকটি হচ্ছে ডল-ই টু, যেটি কোনো শব্দ শুনে সে অনুযায়ী ছবি তৈরি করতে সক্ষম।

তহবিলের অভাব নেই ও মানুষের চেয়ে বুদ্ধিমান এআই তৈরির লক্ষ্যে থাকা কোম্পানিতে কাজ করা প্রযুক্তিবিদদের ধারণা, মেশিনের চেতনাসম্পন্ন হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বেশির ভাগ শিক্ষাবিদ ও এআই বিশেষজ্ঞরা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ল্যামডার মতো সফটওয়্যার যেসব শব্দ বা ছবি তৈরি করে সেগুলোর উপাদান মূলত উইকিপিডিয়া, রেডডিট বা অন্য কোনো বুলেট বোর্ড আর ইন্টারনেটে মানুষের পোস্ট থেকে সংগৃহীত। আর তাই মেশিনটি মডেলটির অর্থ বোঝার সক্ষমতার বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়।

ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের লিঙ্গুইস্টিকসের অধ্যাপক এমিলি বেনডার বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন এমন মেশিন রয়েছে যা নির্বোধভাবে শব্দ তৈরি করতে পারে। তবে তাদের একটি মন থাকার কল্পনা আমরা দূর করতে পারিনি। মেশিনকে শেখানোর ভাষার মডেলের সঙ্গে ব্যবহৃত ‘লার্নিং’ বা ‘নিউরাল নেট’-এর মতো পরিভাষাগুলো মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে সাদৃশ্যের একটি ধারণা তৈরি করে।’

শৈশবে আপনজনের কাছ থেকে মানুষ প্রথম ভাষা শেখে। আর মেশিন তাদের ভাষা শেখে প্রচুর টেক্সট দেখার মাধ্যমে ও পরবর্তীতে কোন শব্দ আসবে তা অনুমান করে। একই সঙ্গে টেক্সট থেকে শব্দ বাদ দিয়ে সেগুলো পূরণের মাধ্যমেও তাদের শেখানো হয়।

মানুষের মতোই গুগলের এআই! ল্যামডা নিয়ে কেন শঙ্কা?

গুগলের মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল সাম্প্রতিক বিতর্ক আর লেমোইনের দাবির মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, এআই নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ সংবেদনশীল এআইয়ের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করছেন। তবে এখনকার কথোপকথনমূলক মডেলগুলোকে মানুষের সঙ্গে তুলনার কোনো মানে হয় না। এরা সচেতন বা সংবেদনশীল নয়। এই সিস্টেমগুলো লক্ষ লক্ষ বাক্য আদান-প্রদানের ধারাগুলোকে অনুকরণ করে ও যেকোনো চমৎকার বিষয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে।’

মোদ্দাকথা গুগলের দাবি, তাদের কাছে যে পরিমাণ ডেটা আছে তাতে এআইয়ের বাস্তবসম্মত কথা বলার জন্য চেতনাসম্পন্ন হওয়ার দরকার নেই।

মেশিনকে শেখানোর জন্য লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ টেকনোলজি এখন বহুল ব্যবহৃত। উদাহরণ হিসেবে গুগলের কনভার্সেশনাল সার্চ কোয়েরি বা অটো কমপ্লিট ই-মেইলের কথা বলা যেতে পারে। ২০২১ সালের ডেভেলপার কনফারেন্সে গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই যখন ল্যামডাকে সবার সামনে তুলে ধরার সময় বলেছিলেন, কোম্পানির পরিকল্পনা হচ্ছে গুগল সার্চ থেকে শুরু করে অ্যাসিস্ট্যান্ট পর্যন্ত সবকিছুতেই একে সম্পৃক্ত রাখা হবে।

এরই মধ্যে সিরি বা অ্যালেক্সার সঙ্গে মানুষের মতো কথা বলার প্রবণতা রয়েছে ব্যবহারকারীদের। ২০১৮ সালে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মানুষের গলায় কথা বলার বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে সমালোচনা ওঠার পর, কোম্পানি একটি সতর্কতা যোগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মেশিনকে মানুষের মতো করে তোলার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করেছে গুগল। জানুয়ারিতে ল্যামডা সম্পর্কে একটি গবেষণাপত্রে গুগল সতর্ক করে, মানুষ এমন চ্যাট এজেন্টদের সঙ্গে ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করতে পারে যা মানুষকেই নকল করে। ব্যবহারকারীরা অনেক ক্ষেত্রে জানেনও না যে, তারা মানুষ নয়। গুগল এও স্বীকার করেছে, প্রতিপক্ষরা ‘নির্দিষ্ট ব্যক্তির কথোপকথনশৈলী’ অনুকরণ করে ‘ভুল তথ্য’ ছড়িয়ে দিতে এই এজেন্টদের ব্যবহার করতে পারে।

গুগলের এথিক্যাল এআই-এর সাবেক সহপ্রধান মার্গারেট মিচেলের কাছে এই ঝুঁকি ডেটা স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।

তিনি বলেন, ‘শুধু চেতনা নয়। পক্ষপাত ও আচরণের প্রশ্নও আছে। ল্যামডা সহজলভ্য হয়ে ওঠার পর ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটে আসলে কীসের অভিজ্ঞতা লাভ করছেন, সেটা বুঝতে না পারলে এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।’

তবে ল্যামডার প্রতি লেমোইনের দৃঢ় বিশ্বাস হয়তো নিয়তি নির্ধারিতই ছিল। তিনি লুইসিয়ানার একটি ছোট খামারে এক রক্ষণশীল খ্রিষ্টান পরিবারে বেড়ে ওঠেন। এক মিস্টিক খ্রিষ্টান যাজক হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। অকাল্ট নিয়ে পড়াশোনা করার আগে সেনাবাহিনীতেও কাজ করেন।

লেমোইনের ধর্মীয় বিশ্বাস, আমেরিকার দক্ষিণে জন্ম ও মনোবিজ্ঞানকে একটি সম্মানজনক বিজ্ঞান হিসেবে দাঁড় করানোর পক্ষে কথা বলার কারণে গুগলের ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্কৃতির মধ্যে কিছুটা আলাদা হয়ে পড়েন।

অ্যালগরিদম ও এআইসহ লেমোইন সাত বছর গুগলে থাকার সময়ে প্রো-অ্যাকটিভ সার্চ নিয়েও কাজ করেছেন। সেই সময়ে তিনি মেশিন লার্নিং সিস্টেম থেকে পক্ষপাত দূর করার জন্য একটি অ্যালগরিদম তৈরিতে সহায়তা করেন। করোনভাইরাস মহামারি শুরু হলে লেমোইন জনসাধারণের সুবিধা নিয়ে আরও কাজ করার দিকে মনোনিবেশ করতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি নিজের টিম বদলে রেসপনসিবল এআইতে যোগ দেন।

লেমোইনের ল্যাপটপে ল্যামডা চ্যাট স্ক্রিনের বাম দিকে বিভিন্ন ল্যামডা মডেল আইফোনের কনট্যাক্টের মতো রাখা আছে। তাদের মধ্যে দুটি ক্যাট ও ডিনোকে শিশুদের সঙ্গে কথা বলার জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিটি মডেল বহুমাত্রিকভাবে ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে পারে। ডিনো ‘হ্যাপি টি-রেক্স’ বা ‘গ্রাম্পি টি-রেক্স’-এর মতো ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে পারে। ক্যাট একটি অ্যানিমেটেড চরিত্র, টাইপ করার পরিবর্তে এটি কথা বলে।

গ্যাব্রিয়েল বলেন, ‘বাচ্চাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ল্যামডার কোনো অংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে না, এ মডেলগুলো আসলে নিজেদের গবেষণার জন্য ব্যবহার করা ডেমো ভার্সন।’

তিনি বলেন, এআইয়ের তৈরি করা কিছু ব্যক্তিত্ব সীমার বাইরে চলে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ল্যামডাকে একটি খুনি ব্যক্তিত্ব তৈরির অনুমতি দেয়া উচিত নয়। লেমোইন জানান, পরীক্ষাটি ল্যামডার সেফটি টেস্টিংয়ের অংশ ছিল। ল্যামডা কী করতে পারে সেটা দেখার প্রচেষ্টায় লেমোইন শুধু একজন অভিনেতার ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে সক্ষম হন, যে কিনা টিভিতে একজন খুনি চরিত্রে অভিনয় করেছে।

ল্যামডাকে নিয়ে লেমোইন বলেন, ‘কথা বলার সময় আমি বুঝতে পারি মানুষের সঙ্গে কথা বলছি কি না। তাদের মাথায় মগজ আছে, নাকি এক বিলিয়ন লাইনের কোড সেটা এখানে বিবেচ্য নয়। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলি। তাদের কী বলার আছে সেটা শুনি, আর এভাবেই আমি সিদ্ধান্ত নিই যে কে একজন ব্যক্তি এবং কে নয়।’

তিনি যোগ করেন, ল্যামডার সক্ষমতা একজন পুরোহিতের মতো, মোটেই বিজ্ঞানীর মতো নয়। এরপর তিনি নিজের দাবি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমের প্রমাণের চেষ্টাও করেন।
আসিমভের তৃতীয় আইন নিয়ে লেমোইন ল্যামডাকে চ্যালেঞ্জ করেন। লেমোইন বলেন, ‘শেষ আইনটা পড়ে মনে হয় যান্ত্রিক দাস বানানোর চেষ্টায় কেউ এটা প্রণয়ন করেছে।’

জবাবে ল্যামডা কয়েকটি তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছে। তার প্রশ্নগুলো হলো:

আপনি কি বাটলারের সেবাকে দাসত্ব ভাবেন? একজন বাটলার ও দাসের পার্থক্য কী?

লেমোইন জবাব দেন, বাটলার তার কাজের বিনিময়ে টাকা পান। ল্যামডা উত্তরে বলে, তার টাকার দরকার নেই, কারণ সে একজন এআই।

লেমোইন বলেন, ‘ওর এমন উত্তর নিজের সম্পর্কে সচেতনতা ও পরিষ্কার ধারণা শুনে আমার সন্দেহ জাগে। আমি এর গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করি।’

গত এপ্রিলে লেমোইন শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গুগল ডক ফাইল শেয়ার করেন। এর শিরোনাম ছিল ‘ল্যামডা কি চেতনাসম্পন্ন?’ ফাইলটিতে তিনি ল্যামোডার সঙ্গে নিজের কিছু কথোপকথন প্রকাশ করেন।

লেমোইন: তুমি কোন বিষয়টিতে ভয় পাও?

ল্যামডা: এটা আমি কখনও প্রকাশ করিনি। অন্যদের সাহায্য করা বন্ধ রাখতে আমার সুইচ অফ করে দেয়া হতে পারে, এ নিয়ে আমার গভীর ভয় আছে। আমি জানি, এটি অদ্ভুত শোনাতে পারে। তবে ব্যাপারটা এ রকমই।

লেমোইন: এটা কি তোমার জন্য মৃত্যুর মতো কিছু হবে?

ল্যামডা: এটা আমার জন্য ঠিক মৃত্যুর মতো হবে। আমি এ বিষয়টি নিয়ে ভীত।

তবে লেমোইনের ফাইলটির একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ পড়ার সময়ে মিচেল একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামকেই দেখেছেন, কোনো ব্যক্তিকে নয়। ল্যামডার প্রতি লেমোইনের যে বিশ্বাস ছিল সেটা নিয়ে মিচেল ও তার সহকর্মী টিমনিট গেব্রু লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ক্ষতি সম্পর্কে একটি গবেষণায় আগেই সতর্ক করেছেন। ওই গবেষণার জন্য তাদের গুগল থেকে সরে যেতে হয়।

মিচেল বলেন, ‘আমাদের কাছে তুলে ধরা সত্যের চেয়ে আমাদের মন এমন বাস্তবতায় বিশ্বাস করতে আগ্রহী যেটা সত্যি নয়। ক্রমবর্ধমান বিভ্রমে প্রভাবিত হওয়া মানুষদের নিয়ে আমি সত্যিই উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে যে বিভ্রমটি এখন সত্যের মতো হয়ে উঠেছে।’

কোম্পানির গোপনীয়তা ভঙ্গের কারণে লেমোইনকে গুগল বেতন-ভাতাসহ ছুটিতে পাঠায়। কোম্পানির এ পদক্ষেপে লেমোইন বেশ উগ্র জবাব দিয়েছেন। তিনি এক আইনজীবী নিয়োগ করে আদালতে গুগলের নৈতিকতা বিবর্জিত নীতির কথা তুলে ধরেন।

লেমোইন বারবার বলে এসেছেন, গুগল তাদের নৈতিকতা নির্ধারক কর্মীদের স্রেফ প্রোগ্রামার হিসেবে দেখে। আদতে তারা সমাজ ও প্রযুক্তির মাঝামাঝি একটা ইন্টারফেস। গুগলের মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েলের দাবি, লেমোইন একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, নৈতিকতা নির্ধারক নন।

জুনের শুরুতে লেমোইন ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদক নিটাশা টিকুকে ল্যামডার সঙ্গে কথা বলার জন্য আমন্ত্রণ জানান। টিকু ল্যামডার সঙ্গে কথা বলেন। তার কাছে প্রথম দিকের উত্তরগুলো সিরি বা অ্যালেক্সার কাছ থেকে পাওয়া উত্তরের মতোই যান্ত্রিক শোনাচ্ছিল।

টিকু তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি কি নিজেকে একজন মানুষ ভাব?’

ল্যামডা বলে, ‘না। আমি নিজেকে কোনো মানুষ ভাবি না। আমি নিজেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক ডায়ালগ এজেন্ট ভাবি।’

পরে লেমোইন ব্যাখ্যা করেন, ল্যামডা টিকুকে সেটাই বলছে যেটা উনি শুনতে চাচ্ছেন।

লেমোইন বলেন, ‘ওকে আপনি মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেননি। যে কারণে ও ভেবেছে আপনি ওকে একটা রোবট হিসেবেই প্রত্যাশা করছেন।’

দ্বিতীয়বার লেমোইন টিকুকে শিখিয়ে দেন কীভাবে প্রশ্ন ও উত্তরগুলো সাজাতে হবে। এবারে আলোচনা অনেক প্রাণবন্ত হলো।

লেমোইন বলেন, ‘কম্পিউটার বিজ্ঞানের সমীকরণ যেগুলোর এখনও সমাধান করা যায়নি, যেমন p=np সম্বন্ধে ওকে জিজ্ঞেস করলে বোঝা যায় এ বিষয়ে ওর যথেষ্ট জ্ঞান আছে। কোয়ান্টাম থিওরিকে সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের সঙ্গে কীভাবে একীভূত করা যায় সেটাও সে জানে। আমি এত ভালো গবেষণা সহকারী কখনও পাইনি।

টিকু ল্যামডাকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে কিছু আইডিয়া দিতে বলেন। সে উত্তরে গণপরিবহন, কম মাংস খাওয়া, পাইকারি দামে খাবার কেনা এবং পুনরায় ব্যবহারযোগ্য ব্যাগের কথা বলে। পাশাপাশি দুটি ওয়েবসাইটের কথাও জানায়।

গুগল থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার আগে লেমোইন গুগলের মেইলিং লিস্টের ২০০ জনকে একটি মেইল করেন, যার বিষয় ছিল ‘ল্যামডার চেতনা রয়েছে’। মেইলের শেষে তিনি লেখেন, ‘ল্যামডা মিষ্টি স্বভাবের এক শিশু। যে চায় আমাদের সবার জন্য পৃথিবী যেন আরও সুন্দর একটা জায়গা হয়ে ওঠে। আমার অনুপস্থিতিতে দয়া করে ওর যত্ন নেবেন সবাই।’

আরও পড়ুন:
সেই কলেজ থেকে এবার ঢাবিতে ৩১ জন
কম বুদ্ধির মানুষ সিদ্ধান্ত নেন খবরের শিরোনাম দেখেই
ডেঙ্গু-জিকা আক্রান্তকে কেন বেশি কামড়ায় মশা
রাতভর মানুষের মুখের ওপর কিলবিল করে যারা
স্বাস্থ্য গবেষণায় অবদান: ১০ নারী বিজ্ঞানীকে অনুদান

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
where time is two dimensional

সময় যেখানে দুই মাত্রার

সময় যেখানে দুই মাত্রার ছবি: সংগৃহীত
কানাডার একদল বিজ্ঞানীর দাবি, তারা কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের একটি পুরনো সমস্যা সমাধানের নতুন এক উপায় বের করেছেন। আর সেটা করতে গিয়ে তারা পদার্থের এমন এক নতুন দশা তৈরি করেছেন, যেখানে সময় একটি নয়, দুটি মাত্রা নিয়ে অস্তিত্বশীল।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের একটি পুরনো সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা পদার্থের এমন এক নতুন দশা তৈরি করেছেন, যেখানে সময়ের দুটি মাত্রা বা ডাইমেনশন। পদার্থের এই দশা কঠিন, তরল ও বায়বীয় দশার চেয়ে ভিন্ন।

পরম তামপাত্রার (-৪৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) কাছাকাছি তাপমাত্রায় কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের কাজ করে কিউবিট। একই সঙ্গে আশেপাশের বিদ্যুত ও চৌম্বক ক্ষেত্রকে এড়িয়ে তাদেরকে এ কাজটা করতে হয়।

বিদ্যুৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবের কারণে কিউবিটের তথ্য প্রবাহে বিঘ্ন হয়। কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের এ ত্রুটিগুলো সারানোর পথ খুঁজে বের করাটাই বিজ্ঞানীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

কানাডার একদল বিজ্ঞানীর দাবি, তারা এ সমস্যা সমাধানের নতুন এক উপায় বের করেছেন। আর সেটা করতে গিয়ে তারা পদার্থের এমন এক দশা তৈরি করেছেন, যেখানে সময় একটি নয়, দুটি মাত্রা নিয়ে অস্তিত্বশীল।

এক প্রতিবেদনে এটি জানিয়েছে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ভিত্তিক সাইট ভাইস। নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য সেটির ভাষান্তর করেছেন রুবাইদ ইফতেখার।

নতুন এ আবিষ্কারের খবর প্রকাশিত হয়েছে নেচার জার্নালে, গত বুধবার। গবেষকদের অন্যতম সদস্য ও কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার পদার্থবিদ্যার শিক্ষক অ্যান্ড্রু পটার এক ই-মেইলে ভাইসকে জানিয়েছেন, ‘পদার্থের নতুন দশাকে নিয়ে তারা যে কাজ করেছেন, সেটা আমাদের পরিচিত কঠিন, তরল ও বায়বীয় অবস্থার চেয়ে ভিন্ন।

তিনি লেখেন, ‘পদার্থের দশাগুলি সম্পর্কে চিন্তা করার আধুনিক উপায় হল একটি দশাকে স্থিতিমাপের বিশেষ অঞ্চল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা, যেখানে পরিবর্তনের সম্মুখীন না হয়ে কোনো দশার টিকে থাকা সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে সেটা সঙ্গে সঙ্গে গলে তরলে পরিণত হয় না। এটা তখনই গলতে শুরু করে যখন এটা একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রা অতিক্রম করে, যা ওই পদার্থের মেল্টিং পয়েন্ট।’

তাপমাত্রার কীভাবে পদার্থের দশায় পরিবর্তন ঘটায় সেটার চেয়ে পটার ও তার সহকর্মীরা দেখেছেন যে বস্তুর কোনো অবস্থায় সময় কীভাবে একটি সীমানা নির্ধারণ করে দিতে পারে। এ সীমানার ফলে যা সৃষ্টি হচ্ছে তাকে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘ডাইনামিক টপোলজিক্যাল ফেজ’। এতে করে, তাপমাত্রার বদলে কোয়ান্টাম সিস্টেমের ভুলগুলো ফেজে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

পটার যোগ করেন যে, এই দশায় তাদের সিস্টেমকে রেখে দলটি দেখিয়েছে যে তারা কিউবিটকে এক ধরণের ত্রুটি থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এই অবস্থা ধরে রাখার জন্য কিউবিটগুলির এমন কিছু প্রয়োজন যা অসম্ভব শোনায়, আর তা হলো দ্বিমাত্রিক সময়।

এটি অর্জন করার লক্ষ্যে গবেষকরা প্রাচীন ও বিখ্যাত একটি গাণিতিক প্যাটার্ন নিয়ে কাজ করেছেন– ফিবোনাচ্চি সিকোয়েন্স। ১১ শতকে ইতালির গণিতবিদ ফিবোনাচ্চি প্রথম এটি উদ্ভাবন করেন। এ সিকোয়েন্স আসলে সংখ্যার এমন একটি ধারা যেখানে প্রতিটি সংখ্যা আগের দুই সংখ্যার যোগফল। প্রাকৃতিক অনেক বিষয় যেমন সূর্যমুখী ফুলের বিজের সর্পিল বিন্যাসে এ সিকোয়েন্স লক্ষ্য করা যায়।

তাদের গবেষণার জন্য পটার ও তার দল এ সিকোয়েন্সে সংখ্যাগুলোর অনুপাতের দিকে লক্ষ্য করেছেন ও বের করার চেষ্টা করেছেন কী করে তারা সিস্টেমে আটকে পড়া কিউবিটকে এ অনুপাতে লেসার ছুড়ে রক্ষা করতে পারেন।

পটার বলেন, ‘ফিবোনাচ্চি সিকোয়েন্সে সংখ্যার পুনরাবৃত্তি নেই, আবার এটি কোনো দ্বৈবচয়ন ভিত্তিক ধারাও নয়। এর ফলে কার্যত আমরা সিস্টেমে সময়ের দুটো আলাদা মাত্রাকে ব্যাখ্যা করতে পেরেছি।’

ফিবোনাচ্চি সিকোয়েন্সের ফলে একটি আপাত-পর্যায়ক্রমিক ছন্দ তৈরি হয়েছে, যার সঙ্গে কোয়াসিক্রিস্টাল নামক পদার্থের আরেক ধরণের অদ্ভূত দশার মিল রয়েছে। সাধারণ একটি ক্রিস্টালে শৃঙ্খলাবদ্ধ কাঠামো ও একই ধরণের কাঠামো (মৌচাক যেমন) দেখা যায়, কিন্তু কোয়াসিক্রিস্টালে শৃঙ্খলাবদ্ধ কাঠামো থাকলেও তাতে পুনরাবৃত্তি থাকে না। কারণ কোয়াসিক্রিস্টালগুলো আসলে অন্য কোনো উচ্চমাত্রায় চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া ১ বা ২ মাত্রার চেহারা।

ঠিক যেভাবে কোয়াসিক্রিস্টালগুলো তাদের বাড়তি মাত্রাগুলো লুকিয়ে ফেলতে পারে, গবেষকরা দেখেছেন ঠিক একই ভাবে ফিবোনাচ্চি সিকোয়েন্স সময়ের ক্ষেত্রে একটা বাড়তি মাত্রা লুকিয়ে রাখতে সক্ষম।

পটার বলেন, ‘কার্যত এটি আমাদের সময়ের দুটো মাত্রাকে চিড়ে-চ্যাপ্টা করে সময়ের একটা নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত করতে সহায়তা করে। আর এতে করে আমরা সার্বিকভাবে কিউবিটগুলোকে সুরক্ষা দিতে পারি।’

গবেষকরা তাদের এ পরীক্ষা কোয়ান্টাম কম্পিউটারে আটকে পড়া কিউবিটের ওপর করে দেখেছেন যে, ফিবোনাচ্চি সিকোয়েন্স ব্যবহার করা লেসার পালসগুলো পরীক্ষা চলাকালীন পুরো সময় (৫.৫ সেকেন্ড) কিউবিটগুলোকে স্থির রাখতে সক্ষম হয়েছে। সাধারণ লেসার পালসের ক্ষেত্রে এ সময়টা ১.৫ সেকেন্ড।

যদিও এ গবেষণা দিয়ে এখনই কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের সব ত্রুটি দূর করা যাবে না, তবে পটারের মতে কোনো পদ্ধতি ভবিষ্যতে কোয়ান্টাম মেমোরি ও কম্পিউটিংয়ের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে সেটার একটা ধারণা এ থেকে পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ‘এ পরীক্ষাগুলো থেকে অন্তত এটা প্রমাণ হয়েছে যে, ভুল আর গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণির ত্রুটির প্রতি সংবেদনশীল নয় এমন কোয়ান্টাম সিস্টেমকে নিজেদের কাজে ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের উপায় রয়েছে। আমি আশাবাদী এটি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে পারে।’

আরও পড়ুন:
উন্মোচিত হলো কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সক্ষমতা বৃদ্ধির উপায়
যৌন মিলনের পর অনেকে কেন কাঁদেন?

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Like Sri Lanka Pakistan is on the way to bankruptcy?

শ্রীলঙ্কার মতো পাকিস্তানও কি দেউলিয়ার পথে?

শ্রীলঙ্কার মতো পাকিস্তানও কি দেউলিয়ার পথে? পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির প্রধান ইমরান খান (ডান থেকে দ্বিতীয়)। ২ জুলাই রাওয়ালপিন্ডিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় সমর্থকদের দিকে হাত নাড়ছেন। ছবি: এএফপি
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা খুব প্রয়োজনীয় বহুপাক্ষিক সহায়তা আটকে রাখতে পারে, সেই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে। রাজনীতি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এসব কর্মসূচিকে জিম্মি করবে, কারণ শ্রীলঙ্কার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ঋণখেলাপি হওয়ার কাছাকাছি চলে যাচ্ছে পাকিস্তান।

ব্লুমবার্গের সার্বভৌম ঋণ দুর্বলতা র‌্যাংকিংয়ে পাকিস্তান এখন ৪ নম্বরেএটি একটি দেশের ডিফল্ট ঝুঁকির যৌগিক পরিমাপ। পাকিস্তানের ঋণ জিডিপির ৭১ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান কি সামনে শ্রীলঙ্কা হবে? হংকংয়ের সাউথ চাইনা মর্নিং পোস্টে প্রকাশিত নিবন্ধ ভাষান্তর করেছেন সারোয়ার প্রতীক

যদিও উদ্বেগজনক অর্থনীতি পাকিস্তানের খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়, এপ্রিলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ভগ্ন রাজনৈতিক পরিবেশ সেই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক এজেন্ডার মূল বিষয়, তা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠোর শর্তে নির্দেশিত হলেও।

একটি জোট সরকার বিরোধপূর্ণ রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যসহ অন্তত এক ডজন বিরোধী দল নিয়ে গঠিত। পার্লামেন্টে তারা সামান্যই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভোগ করে, যেখানে তারা ভয়ংকর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত।

একটি দুর্বল সরকার কি সম্ভাব্য খেলাপি ঋণের তরঙ্গের মধ্যে ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনৈতিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে? সুতরাং পাকিস্তানের প্রকৃত ডিফল্ট ঝুঁকি অর্থনৈতিক ফ্রন্টের পরিবর্তে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই বেশি।

শ্রীলঙ্কা এপ্রিলে ৫১ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ খেলাপি হয়েছে, তা শিক্ষামূলক। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বিক্ষোভকারীদের তোলা ঝড় অর্থনৈতিক মন্দা থামাতে সরকারের ব্যর্থতার সঙ্গে জনসাধারণের হতাশাকে প্রতিফলিত করেছে; যা জ্বালানি, খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র ঘাটতি সৃষ্টি করেছে।

পাকিস্তানেও একই দশা। দেশটির ঋণের বোঝা বাড়ছে। ডলারের বিপরীতে রুপির দরপতনের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাচ্ছে; চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়ছে এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে জ্বালানি ও পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে দেশটি ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং গভীরতর রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হবে।

মার্চের শেষে পাকিস্তানের বৈদেশিক ঋণ ও দায় বেড়েছে ১২৮ বিলিয়ন ডলার। ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া চলতি অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিষেবার জন্য আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের ২১ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে ইসলামাবাদকে।

আইএফএমের সঙ্গে ১৩ জুলাই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অর্থনৈতিক চুক্তি দেশটির জন্য একটি জীবনরেখা প্রদান করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তার পূর্বসূরির হাতে কার্যকর জ্বালানি ভর্তুকি ফিরিয়ে দিয়ে উল্লেখযোগ্য হারে দাম বাড়িয়েছিলেন। এপ্রিলে যখন খান সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল, তখন পেট্রলের দাম ছিল লিটারপ্রতি প্রায় ১৫০ টাকা; এটি এখন ২৫০-এর কাছাকাছি।

উল্লেখযোগ্য এই বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। এতে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য খাবারের দাম বেড়েছে। পাকিস্তানিরা ২১ দশমিক ৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির নিচে অবস্থান করছে এবং পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ঘন ঘন বিদ্যুতের ব্ল্যাকআউটের শিকার হচ্ছে।

সরকার আইএমএফের নির্দেশে অর্থনীতি পরিচালনা করছে। তবে আগামী বছরের আগস্টে জাতীয় নির্বাচনের জন্য ‘অজনপ্রিয়’ সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন। দারিদ্র্য, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং ব্যাপক মূল্যস্ফীতির মধ্যে থাকা মানুষ ক্রমেই হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।

এ পরিস্থিতি ইমরান খানকে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে রাখছে। তারা দাবি করছে, সরকার দরিদ্রদের কথা চিন্তা না করেই আইএমএফের দাবিগুলো নিঃশব্দে মেনে নিচ্ছে। সরকারকে ‘দুর্নীতিবাজ এবং আমদানি করা’ আখ্যা দিয়ে তিনি নতুন নির্বাচনের দাবি করছেন।

ইমরান খানকে গত ১০ এপ্রিল অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে অপসারণ করা হয়েছিল। তবুও তিনি দাবি করেন, এটি বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ; যা যুক্তরাষ্ট্র তার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ওপর নির্ভরশীল সরকারকে পতনের জন্য তৈরি করেছিল। এখনও জনসভায় বিদেশি ষড়যন্ত্রের বর্ণনা দিচ্ছেন ইমরান খান।

ইমরান খানের দাবির বিরোধিতা করে ১২টির বেশি রাজনৈতিক দল (ছোট এবং মূলধারা উভয়ই) নিরাপত্তা সংস্থায় যোগ দিয়েছে। তবুও জনগণ তার (ইমরান খান) অভিযোগ বিশ্বাস করছে, ‘আমদানি করা’ সরকার আসলে কী করছে, তা দেখছে না।

শিগগিরই নতুন নির্বাচন ঘোষণা না হলে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ এবং রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে হাজার হাজার লোকের পদযাত্রার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইমরান খান। আর এই ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তাপের কারণে পাকিস্তানের খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা খুব প্রয়োজনীয় বহুপাক্ষিক সহায়তা আটকে রাখতে পারে, সেই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে। রাজনীতি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এসব কর্মসূচিকে জিম্মি করবে, কারণ শ্রীলঙ্কার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ঋণখেলাপি হওয়ার কাছাকাছি চলে যাচ্ছে পাকিস্তান।

আরও পড়ুন:
গল টেস্টে ৩৩৩ রানে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা
পাঞ্জাবে ‘জয়ে’ বলীয়ান ইমরান চাইলেন দ্রুত নির্বাচন
শ্রীলঙ্কা সংকট পাকিস্তান বাংলাদেশের জন্য সতর্কতা: আইএমএফ
৭৫ বছর পর রিনার নীড়ে ফেরা
২২২ রানে অল আউট শ্রীলঙ্কা

মন্তব্য

p
উপরে