× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
5 billion will die of starvation in Russia US nuclear war
hear-news
player
google_news print-icon

রাশিয়া-আমেরিকা পরমাণু যুদ্ধে না খেয়ে মরবে ৫০০ কোটি

রাশিয়া-আমেরিকা-পরমাণু-যুদ্ধে-না-খেয়ে-মরবে-৫০০-কোটি-
নিউক্লিয়ার উইন্টারের কারণে বিশ্বে খাদ্য উৎপাদন নাটকীয় হ্রাস পাবে। ছবি: সংগৃহীত
আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করবে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রুডগার্স ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, সত্যিকার বিপর্যয় হবে সংঘাতের পরের বছরগুলোতে।

রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ হলে ৫০০ কোটির ওপর মানুষ মারা যাবে শুধু খাদ্যাভাবে।

নেচারে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এমনটাই বলা হয়েছে।

গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, দুই দেশের পারমাণবিক যুদ্ধের পর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ছাইয়ে ঢেকে যাবে। ফলে সূর্যালোক পৃথিবীতে আসতে পারবে না। বিপর্যয় ও খাদ্যাভাব নেমে আসবে পৃথিবীতে।

আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করবে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রুডগার্স ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, সত্যিকার বিপর্যয় হবে সংঘাতের পরের বছরগুলোতে। তখন বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং খাদ্যশস্যের ওপর নিউক্লিয়ার উইন্টারের প্রভাব পড়বে।

এই নিউক্লিয়ার উইন্টার তখনই আসবে যখন পারমাণবিক সংঘাতের ফলে সৃষ্ট ছাই বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে এবং পরের ১-২ বছর সূর্যালোক প্রবেশে বাধা দেবে। ফলে মানুষের যেই প্রধান খাদ্য উপাদানগুলো রয়েছে তার মধ্যে চাল, গম, ভুট্টা, সয়াবিন ছাড়াও মাছ উৎপাদন ব্যাহত হবে। বিশ্বব্যাপী দেখা দেবে খাদ্যসংকট।

তবে নিউক্লিয়ার উইন্টার পুরো পৃথিবীতেই একসঙ্গে হবে না। এটি নির্ভর করবে বায়ুর গতির ওপর।

গবেষকরা এ ক্ষেত্রে জলবায়ুর মডেল ব্যবহার করে দেখেছেন, আকাশে ধোঁয়া ও ছাইয়ের মেঘের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশে খাদ্য সরবরাহ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে।

এ খাদ্যসংকট এতই ভয়াবহ হবে যে এর ফলে ৫০০ কোটির বেশি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে।

রাশিয়া ও আমেরিকা দুই দেশই বিশ্বের প্রধান খাদ্য রপ্তানিকারক দেশ। তো এই দুই দেশেই পারমাণবিক যুদ্ধ লাগলে খাদ্য আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। এরই মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধে এর কিছুটা আঁচ পাওয়া গেছে।

জলবায়ু বিজ্ঞানের অধ্যাপক ও গবেষণাপত্রের সহলেখক অ্যালান রোবক বলছেন, ‘তথ্যগুলো আমাদের একটি জিনিসই বলে, আমাদের অবশ্যই একটি পারমাণবিক যুদ্ধকে ঘটতে বাধা দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
পরমাণু যুদ্ধ থেকে এক সুতা দূরে বিশ্ব
পরমাণু বোমা হামলা নিয়ে চিন্তিত ৭০ শতাংশ আমেরিকান
আরেকটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়াকে চায় বাংলাদেশ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Nobel celebration by lifting Pabo into the pond

পেবোকে পুকুরে ফেলে নোবেল উদযাপন

পেবোকে পুকুরে ফেলে নোবেল উদযাপন চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী এসভান্তে পেবোকে পুকুরে ছুড়ে আনন্দ উদ্‌যাপন করছেন সহকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
আনন্দে আত্মহারা সহকর্মীরা এসভান্তে পেবোকে কোলে তুলে পুকুরে ছুড়ে ফেলেন। যাতে ডুবে না যান সেজন্য লাইফ বয়াও ছুড়ে দেন তারা।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এসভান্তে পেবোর নোবেল জয়কে ব্যতিক্রমীভাবে উদযাপন করলেন সহকর্মীরা। উদ্‌যাপনের সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

ভিডিওতে দেখা যায়, আনন্দে আত্মহারা সহকর্মীরা পেবোকে কোলে তুলে পুকুরে ছুড়ে ফেলছেন। যাতে ডুবে না যান সেজন্য লাইফ বয়াও ছুড়ে দেন তারা।

বিলুপ্ত হোমিনিনের (মানুষের আদি নিকটাত্মীয়) জিনগত সঞ্চার এবং মানব বিবর্তনের সম্পর্ক আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসায় নোবেল জয় করেছেন সুইডেনের বিজ্ঞানী এসভান্তে পেবো।

নোবেল কমিটি বলেছে, ‘মানুষ সব সময়েই তার শেকড় অনুসন্ধান করছে। আমরা কোথা থেকে এসেছি এবং আমাদের আগে যারা এসেছিল তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কী? হোমিনিন থেকে আমাদের হোমো সেপিয়েন্স কীভাবে আলাদা?

‘তাৎপর্যপূর্ণ গবেষণার মাধ্যমে এসভান্তে পেবো আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব কিছু উদ্ঘাটন করেছেন। তিনি বর্তমান সময়ের মানুষের বিলুপ্ত নিকটাত্মীয় নিয়ান্ডারথালের জিন মানচিত্র তৈরি করেছেন। তিনি আমাদের অজানা হোমিনিন ডেনিসোভার অস্তিত্বও আবিষ্কার করেছেন।’

নোবেল কমিটি বলছেন, ‘তাৎপর্যপূর্ণভাবে পেবো এটাও দেখিয়েছেন, প্রায় ৭০ হাজার বছর আগে আগে আফ্রিকা থেকে অভিবাসনের পর এই বিলুপ্ত হোমিনিন থেকে হোমো সেপিয়েন্সে জিনগত স্থানান্তর ঘটে। বর্তমান সময়ের মানুষের কাছে জিনের এই প্রাচীন সেই জিনের শারীরবৃত্তীয় প্রয়োজনীয়তা এখনও রয়ে গেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কোনো সংক্রমণের ক্ষেত্রে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে তাতে এসব জিনের প্রভাব রয়েছে।’

নোবেল কমিটি বলেছে, ‘পেবোর মূল গবেষণাটি প্যালিওজেনমিক্স নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন বৈজ্ঞানিক ডিসিপ্লিনের জন্ম দিয়েছে। তার গবেষণা জিনগত পার্থক্যগুলোকে উন্মোচিত করেছে যার মাধ্যমে বর্তমান মানুষকে বিলুপ্ত হোমিনিন থেকে আলাদা করে। তার আবিষ্কার আমাদের মানুষ্য প্রজাতির অনন্য হয়ে ওঠার কারণ অন্বেষণের ভিত্তি দিয়েছে।’

১৯৫৫ সালের ২০ এপ্রিল স্টকহোমে জন্ম নেয়া পেবোর বাবা-মা দুজনই ছিলেন বিজ্ঞানী। মা এস্তোনিয়ান বংশোদ্ভূত কারিনা পেবো ছিলেন একজন কেমিস্ট। আর এসভান্তের বাবা সুনে বার্গস্ট্রম ছিলেন একজন বায়োকেমিস্ট, যিনি ১৯৮২ সালে বেঙট স্যামুয়েলসেন ও জন আর ভেইনের সঙ্গে যৌথভাবে ১৯৮২ সালে চিকিৎসায় নোবেল পান।

আরও পড়ুন:
মানুষের আদি উৎসের সন্ধান দিলেন নোবেলজয়ী এসভান্তে পেবো
আদি পুরুষ থেকে মানুষ: জিনগত বিকাশ দেখিয়ে পেবোর নোবেল জয়
অর্থনীতিতে নোবেল যুক্তরাষ্ট্রের মিলগ্রম-উইলসনের
শান্তিতে নোবেল পেল বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি
ক্রিসপারের দুই উদ্ভাবক পেলেন রসায়নে নোবেল

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Nobel Prize in Chemistry 3 scientists

রসায়নে নতুন অধ্যায়ের ভিত্তি দিয়ে ৩ বিজ্ঞানীর নোবেল জয়

রসায়নে নতুন অধ্যায়ের ভিত্তি দিয়ে ৩ বিজ্ঞানীর   নোবেল জয় ক্লিক কেমিস্ট্রি ও বায়োঅর্থোগোনাল কেমিস্ট্রিতে গবেষণা করে এ পুরস্কার পেয়েছেন কে ব্যারি শার্পলেস, মর্টেন মেলডাল ও ক্যারোলাইন আর বারটোজ্জি। ছবি: টুইটার
নোবেল কমিটি বলেছে, রসায়নের কঠিন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ভূমিকা রেখেছেন এই তিন বিজ্ঞানী। কে ব্যারি শার্পলেস এবং মর্টেন মেলডাল ক্লিক কেমেস্ট্রি নামে রসায়নের একটি কার্যকর রূপের ভিত্তি দিয়েছেন। অন্যদিকে ক্যারোলাইন আর বারটোজ্জি ক্লিক কেমেস্ট্রিকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গিয়ে জীবন্ত প্রাণীতে ব্যবহার শুরু করেন।

পদার্থবিজ্ঞানের পর এবার রসায়নেও নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন বিজ্ঞানী। ‘ক্লিক কেমিস্ট্রি’ ও ‘বায়োঅর্থোগোনাল কেমিস্ট্রি’র ভিত্তি দিয়ে এ পুরস্কার জয় করেছেন আমেরিকার ক্যারোলাইন আর বারটোজ্জি, কে ব্যারি শার্পলেস এবং ডেনমার্কের মর্টেন মেলডাল।

নোবেল কমিটি বলেছে, রসায়নের কঠিন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ভূমিকা রেখেছেন এই তিন বিজ্ঞানী। কে ব্যারি শার্পলেস এবং মর্টেন মেলডাল ক্লিক কেমেস্ট্রি নামে রসায়নের একটি কার্যকর রূপের ভিত্তি দিয়েছেন, যেখানে আণবিক গঠনগুলো দ্রুত এবং সুদক্ষভাবে সংগঠিত হয়। অন্যদিকে ক্যারোলাইন আর বারটোজ্জি ক্লিক কেমেস্ট্রিকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গিয়ে জীবন্ত প্রাণীতে ব্যবহার শুরু করেন।

ব্যারি শার্পলেস ২০০১ সালেও রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েেছিলেন। তিনি ২০০০ সালের দিকে ‘ক্লিক কেমিস্ট্রি’র ধারণাটি তৈরি করেন। এটি একটি সহজ ও নির্ভরযোগ্য রসায়ন, যেখানে রাসায়নিক প্রক্রিয়া বেশ দ্রুত ঘটে এবং অবাঞ্ছিত উপজাতগুলো এড়ানো সম্ভব।

এর কিছুদিনের মধ্যে মর্টেন মেলডাল এবং ব্যারি শার্পলেস স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে এমন এক প্রক্রিয়া উপস্থাপন করেন যাকে ক্লিক কেমিস্ট্রির ‘মুকুট রত্ন’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই প্রক্রিয়ার নাম দ্য কপার ক্যাটালাইজড অ্যাজাইড-অ্যালকাইন সাইক্লোঅ্যাডিশন।

মার্জিত ও দক্ষ এই রাসায়নিক প্রক্রিয়া এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। ওষুধের উন্নয়ন, ডিএনএ মানচিত্রতৈরিসহ বিভিন্ন উপকরণ তৈরিতে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ক্যারোলাইন আর বারটোজ্জি ক্লিক কেমেস্ট্রিকে একটি নতুন স্তরে নিয়ে গেছেন। কোষপৃষ্ঠের গুরুত্বপূর্ণ অধচ অধরা জৈব অণু গ্লাইক্যানসের মানচিত্র তৈরিতে তিনি জীবন্ত প্রাণীর অভ্যন্তরে কাজ করতে সক্ষম ক্লিক রিঅ্যাকশন তৈরি করেন। কোষের স্বাভাবিক রসায়ন ব্যাহত না করেই তার বায়োঅর্থোগোনাল রিঅ্যাকশনটি কাজ করে।

এই রাসায়নিক প্রক্রিয়া এখন কোষের প্রকৃতি অন্বেষণ এবং জৈবিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হচ্ছে। বায়োঅর্থোগোনাল রিঅ্যাকশন প্রয়োগ করে গবেষকেরা ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে ওষুধের মান উন্নয়ন করেছেন, যেগুলোর এখন ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে।

নোবেল কমিটি বলছে, ক্লিক কেমেস্ট্রি এবং বায়োঅর্থোগোনাল রিঅ্যাকশন রসায়ন বিদ্যাকে কার্যকারিতার যুগে পৌঁছে দিয়েছে। এর ফলে উপকৃত হচ্ছে গোটা মানবজাতি।

রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অফ সায়েন্সেস বুধবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ পুরস্কার ঘোষণা করে।

জৈব-অনুঘটন বিক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য গতবার রসায়নের নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন বেঞ্জামিন লিস্ট ও ডেভিড ডব্লিউ সি ম্যাকমিলান নামের দুই বিজ্ঞানী।

এ বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয় সোমবার। প্রথম দিন চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল জয় করেন সুইডিশ বিজ্ঞানী এসভান্তে পেবো।

পরদিন মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয় পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল। এ পুরস্কার পান তিন দেশের তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন ফ্রান্সের অ্যালাঁ আসপে, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ ক্লাউসার ও অস্ট্রিয়ার আন্টন সেইলিংগার।

অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১০ অক্টোবর শেষ হবে এবারের মোট ছয়টি শাখায় নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা। আগামী ডিসেম্বরে সুইডেনের স্টকহোমে নোবেল সপ্তাহে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হবে পুরস্কারের পদক, সনদ ও অর্থ।

সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে ও তার রেখে যাওয়া অর্থে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। প্রতি বছর চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে দেয়া হয় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার।

আরও পড়ুন:
বিকেলে রসায়নে নোবেল পুরস্কার জয়ীর নাম ঘোষণা
কোয়ান্টাম গবেষণায় পদার্থবিদ্যায় ৩ বিজ্ঞানীর নোবেল জয়
পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল ঘোষণা বিকেলে

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
In the afternoon the names of the winners of the Nobel Prize in Chemistry were announced

বিকেলে রসায়নে নোবেল পুরস্কার জয়ীর নাম ঘোষণা

বিকেলে রসায়নে নোবেল পুরস্কার জয়ীর নাম ঘোষণা
অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১০ অক্টোবর শেষ হবে এবারের মোট ছয়টি শাখায় নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা। আগামী ডিসেম্বরে সুইডেনের স্টকহোমে নোবেল সপ্তাহে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হবে পুরস্কারের পদক, সনদ ও অর্থ।

এ বছরের রসায়নে নোবেল পুরস্কার জয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে বুধবার।

বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এই পুরস্কার ঘোষণা করবে।

নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইট নোবেল ডট ওআরজি ও এ-সংক্রান্ত ফেসবুক পেজে এ কথা জানানো হয়েছে।

গতবার জৈব-অনুঘটন বিক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য রসায়নের নোবেল পুরস্কার পান বেঞ্জামিন লিস্ট ও ডেভিড ডব্লিউ সি ম্যাকমিলান নামের দুই বিজ্ঞানী।

চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয়েছে সোমবার। প্রথম দিন চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল জয় করেন সুইডিশ বিজ্ঞানী এসভান্তে পেবো।

পরদিন মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয় পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল। এই বিষয়ে এবার এ পুরস্কার পেয়েছেন তিন দেশের তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন ফ্রান্সের অ্যালাঁ আসপে, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ ক্লাউসার ও অস্ট্রিয়ার আন্টন সেইলিংগার।

অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১০ অক্টোবর শেষ হবে এবারের মোট ছয়টি শাখায় নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা। আগামী ডিসেম্বরে সুইডেনের স্টকহোমে নোবেল সপ্তাহে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হবে পুরস্কারের পদক, সনদ ও অর্থ।

সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে ও তার রেখে যাওয়া অর্থে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। প্রতি বছর চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে দেয়া হয় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার।

আরও পড়ুন:
কোয়ান্টাম গবেষণায় পদার্থবিদ্যায় ৩ বিজ্ঞানীর নোবেল জয়
পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল ঘোষণা বিকেলে
মানুষের আদি উৎসের সন্ধান দিলেন নোবেলজয়ী এসভান্তে পেবো

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
3 scientists win Nobel in physics for photon research

কোয়ান্টাম গবেষণায় পদার্থবিদ্যায় ৩ বিজ্ঞানীর নোবেল জয়

কোয়ান্টাম গবেষণায় পদার্থবিদ্যায় ৩ বিজ্ঞানীর নোবেল জয় পদার্থবিদ্যায় নোবেল পাওয়া তিন বিজ্ঞানী ফ্রান্সের অ্যালাঁ আসপে, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ. ক্লাউসার ও অস্ট্রিয়ার আন্টন সেইলিংগার। ছবি: সংগৃহীত
নোবেল কমিটি বলেছে, বিজড়িত ফোটন কণা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বেল অসমতার (বেল ইনইক্যুয়ালিটি) লঙ্ঘন প্রতিষ্ঠা এবং কোয়ান্টাম বিজ্ঞানকে এগিয়ে নেয়ার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে নোবেল জয় করেছেন তিন পদার্থবিদ। 

আলোর একক কণা ফোটন নিয়ে গবেষণায় বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়ে পদার্থবিজ্ঞানে এবারের নোবেল পুরস্কার জয় করেছেন তিন দেশের তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন ফ্রান্সের অ্যালাঁ আসপে, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ. ক্লাউসার ও অস্ট্রিয়ার আন্টন সেইলিংগার।

বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টায় রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অফ সায়েন্স এই পুরস্কার ঘোষণা করে

নোবেল কমিটি বলেছে, বিজড়িত ফোটন কণা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বেল অসমতার (বেল ইনইক্যুয়ালিটি) লঙ্ঘন প্রতিষ্ঠা এবং কোয়ান্টাম বিজ্ঞানকে এগিয়ে নেয়ার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে নোবেল জয় করেছেন তিন পদার্থবিদ।

এই তিন বিজ্ঞানী বিজড়িত কোয়ান্টাম পর্যায়কে ব্যবহার করে যুগান্তকারী পরীক্ষা চালিয়েছেন, যেখানে দুটি ফোটন কণা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও একক কণার মতো আচরণ করে। এই বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন কোয়ান্টাম ইনফরমেশনের উপর ভিত্তি করে নতুন প্রযুক্তি তৈরির পথ খুলে দিয়েছে।

অ্যালাঁ আসপে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা দূর করার ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছেন। ফোটনের একটি যুক্ত কণার জোড়া তার উৎস থেকে নির্গত হওয়ার পরে তিনি পরিমাপক ব্যবস্থাটি পরিবর্তন করতে সক্ষম হন, ফলে কণা দুটির নির্গত হওয়ার সময়কার যে অবস্থা বিদ্যমান ছিল তা পরবর্তী ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে না।

জন এফ. ক্লাউসার এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন যা একটি ফিল্টারের দিকে দুটি যুক্ত ফোটনকে একযোগে ছুড়ে দিতে পারে, আর সেই ফিল্টারটি কণা দুটির মেরুকরণ পরীক্ষা করে। এর মাধ্যমে পাওয়া ফলাফল বেল অসমতার (বেল ইনইক্যুয়ালিটি) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং কোয়ান্টামবিদ্যার ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর সঙ্গে মানানসই।

আন্টন সেইলিংগার গবেষণা করেছেন বিযুক্ত কোয়ান্টাম অবস্থা নিয়ে। তার গবেষণা দল কোয়ান্টাম টেলিপোর্টেশন নামে একটি বিশেষ অবস্থা দেখিয়েছেন, যেখানে একটি কণা থেকে দূরের আরেক কণায় কোয়ান্টাম অবস্থার স্থানান্তর ঘটানো সম্ভব।

কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গলমেন্ট বা জড়িত অবস্থা হলো এমন একটি ভৌত ঘটনা, যখন কণাগুলোর একটি একক গ্রুপ তৈরি হয়। এরা স্থানিক নৈকট্যকে পরস্পরের মাঝে সমান ভাগ করে নেয়। এর ফলে প্রতিটি কণার কোয়ান্টাম অবস্থা অন্য কণা থেকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায় না। এনট্যাঙ্গলমেন্ট কোয়ান্টামবিদ্যার একটি প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য যা ক্লাসিক্যাল মেকানিক্সে নেই।

এর আগে গত বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী হন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ স্যুকুরো মানাবে (জাপান), জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ম্যাটেরোলজির প্রফেসর ক্লাউস হ্যাসেলম্যান (জার্মানি) এবং ইতালির রোমের স্যাপিয়েঞ্জা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জর্জিও প্যারিসি (ইতালি)।

পৃথিবীর জলবায়ু পরিস্থিতির জটিল ভৌত সিস্টেম সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়ায় যুগান্তকারী অবদান রাখার জন্য পুরস্কার পান তারা।

এ বছর নোবেল পুরষ্কার ঘোষণা শুরু হয়েছে সোমবার। এদিন চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল জয়ী হিসেবে বিজ্ঞানী এসভান্তে পেবোর নাম ঘোষণা করা হয়। বিলুপ্ত হোমিনিনের (মানুষের আদি নিকটাত্মীয়) জিনগত সঞ্চার এবং মানব বিবর্তনের সম্পর্ক আবিষ্কারের জন্য এই পুরস্কার পান সুইডেনের এ বিজ্ঞানী।

অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১০ অক্টোবর শেষ হবে এবারের মোট ছয়টি শাখায় নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা। আগামী ডিসেম্বরে সুইডেনের স্টকহোমে নোবেল সপ্তাহে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হবে পুরস্কারের পদক, সনদ ও অর্থ।

সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে ও তার রেখে যাওয়া অর্থে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। প্রতিবছর চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে দেয়া হয় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার।

আরও পড়ুন:
পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল ঘোষণা বিকেলে
মানুষের আদি উৎসের সন্ধান দিলেন নোবেলজয়ী এসভান্তে পেবো
আদি পুরুষ থেকে মানুষ: জিনগত বিকাশ দেখিয়ে পেবোর নোবেল জয়

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Searched for the original source of man Nobel laureate Esvante Pebo

মানুষের আদি উৎসের সন্ধান দিলেন নোবেলজয়ী এসভান্তে পেবো

মানুষের আদি উৎসের সন্ধান দিলেন 
নোবেলজয়ী এসভান্তে পেবো মানব বিবর্তনে জিনগত সম্পর্ক আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসায় নোবেল জয় করেছেন এসভান্তে পেবো। ছবি: সংগৃহীত
পেবোর আবিষ্কারগুলো আধুনিক মানুষের বিবর্তনীয় ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচন করেছে। প্রমাণ হয়েছে হোমো সেপিয়েন্স আফ্রিকা থেকে অভিবাসিত হওয়ার সময় ইউরেশিয়ায় অন্তত দুটি বিলুপ্ত হোমিনিন জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল।

বিলুপ্ত হোমিনিনের (মানুষের আদি নিকটাত্মীয়) জিনগত সঞ্চার এবং মানব বিবর্তনের সম্পর্ক আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসায় নোবেল জয় করেছেন সুইডেনের বিজ্ঞানী এসভান্তে পেবো। প্রায় দুই দশকের গবেষণায় পেবো উদ্ঘাটন করেছেন অতীতে বিলুপ্ত হোমিনিনগুলোর চেয়ে আমাদের হোমো সেপিয়েন্স কীভাবে আলাদা।

তবে বিলুপ্ত হোমিনিনের কিছু জিন সঞ্চারিত হয়েছে হোমো সেপিয়েন্সে যা এখনও সক্রিয়।

নোবেল কমিটি বলেছে, ‘মানুষ সব সময়েই তার শেকড় অনুসন্ধান করছে। আমরা কোথা থেকে এসেছি এবং আমাদের আগে যারা এসেছিল তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কী?

‘তাৎপর্যপূর্ণ গবেষণার মাধ্যমে এসভান্তে পেবো আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব কিছু উদ্ঘাটন করেছেন। তিনি বর্তমান সময়ের মানুষের বিলুপ্ত নিকটাত্মীয় নিয়ান্ডারথালের জিন মানচিত্র তৈরি করেছেন। তিনি আমাদের অজানা হোমিনিন ডেনিসোভার অস্তিত্বও আবিষ্কার করেছেন।’

পেবো প্রমাণ করেছেন, প্রায় ৭০ হাজার বছর আগে আফ্রিকা থেকে অভিবাসনের পর আন্তঃপ্রজননের মাধ্যমে হোমো সেপিয়েন্সে বিলুপ্ত হোমিনিনের জিনগত স্থানান্তর ঘটে।

এসভান্তে পেবোর আবিষ্কারের গুরুত্ব নিয়ে নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিবন্ধ ভাষান্তর করা হয়েছে নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য।

আধুনিক মানুষের উদ্ভব কীভাবে

বর্তমান মানুষের উদ্ভব কীভাবে, সেই প্রশ্নে নোবেল কমিটি বলছে, ‘আমাদের উদ্ভবের উৎস এবং কী কারণগুলো আমাদের অনন্য করছে সেই প্রশ্ন প্রাচীনকাল থেকেই মানব মনকে আচ্ছন্ন রেখেছে।

‘জীবাশ্মবিদ্যা এবং প্রত্নতত্ত্ব মানব বিবর্তনের গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে আধুনিক মানুষ বা হোমো সেপিয়েন্সের শারীরবৃত্তীয় রূপটি এখন থেকে আনুমানিক ৩ লাখ বছর আগে আফ্রিকায় প্রথম বিকশিত হয়।

‘অন্যদিকে আমাদের নিকটতম আত্মীয় নিয়ান্ডারথাল আফ্রিকার বাইরে বিকশিত হয়েছিল ৪ লাখ বছর আগে। এখন থেকে ৩০ হাজার বছর আগে পর্যন্ত তারা ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ার জনবসতি গড়ে তুলেছিল এবং এই সময়ের মধ্যেই তারা বিলুপ্ত হয়ে যায়।

‘প্রায় ৭০ হাজার বছর আগে হোমো সেপিয়েন্সের দল আফ্রিকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অভিবাসিত হয় এবং সেখান থেকে তারা বাকি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। হোমো সেপিয়েন্স এবং নিয়ান্ডারথালরা এভাবে হাজার হাজার বছর ধরে ইউরেশিয়ার বিশাল অংশে সহাবস্থান করেছিল।’

নোবেল কমিটি বলছে ‘জিনগত তথ্য থেকে বিলুপ্ত নিয়ান্ডারথালদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের বিষয়ে সূত্র পাওয়া যেতে পারে। ১৯৯০ এর দশকের শেষের দিকে প্রায় সমগ্র মানবজাতির জিন মানচিত্র তৈরি করা গেছে। এটি ছিল এক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি, যার মাধ্যমে বিভিন্ন মানব জনগোষ্ঠীর মধ্যে জিনগত সম্পর্ক নিয়ে পরবর্তী গবেষণার পথ খুলে যায়।

‘বর্তমান সময়ের মানুষ এবং বিলুপ্ত নিয়ান্ডারথালদের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণের জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক নমুনা থেকে উদ্ধার হওয়া জিনগত ডিএনএর পর্যায়ক্রমিক সজ্জা তৈরির প্রয়োজন ছিল।’

আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব এক কাজ

দৃশ্যত সেই অসম্ভব কাজটিই করেছেন সুইডেনের বিজ্ঞানী এসভান্তে পেবো। কর্মজীবনের গোড়ার দিকে তিনি নিয়ান্ডারথালদের ডিএনএ বিশ্লেষণে আধুনিক জেনেটিক পদ্ধতি ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। তবে শিগগিরই চরম প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিএনএ রাসায়নিকভাবে পরিবর্তীত হয় এবং টুকরো টুকরো হয়ে যায়।

হাজার হাজার বছর পরে ডিএনএ-র সামান্য পরিমাণ অবশেষ থাকে এবং এই অবশেষ ব্যাকটেরিয়া এবং আধুনিক মানুষের ডিএনএ দ্বারা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়।

মানুষের আদি উৎসের সন্ধান দিলেন 
নোবেলজয়ী এসভান্তে পেবো
হাজারো বছরের ব্যবধানে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ডিএনএ

পোস্টডক্টরাল ছাত্র হিসেবে এসভান্তে পেবো এ পর্যায়ে বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অগ্রগামী গবেষক অ্যালান উইলসনের সঙ্গে যোগ দেন। তারা কয়েক দশকের চেষ্টায় নিয়ান্ডারথাল থেকে পাওয়া ডিএনএ অধ্যয়নের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

পেবো ১৯৯০ সালে মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেয়ার পরেও প্রাচীন ডিএনএ বিশ্লেষণের গবেষণা অব্যাহত রাখেন। তিনি নিয়ান্ডারথালের মাইটোকন্ড্রিয়া থেকে ডিএনএ বিশ্লেষণের সিদ্ধান্ত নেন। কোষের পাওয়ার হাউজ হিসেবে পরিচিত মাইটোকন্ড্রিয়া নিজস্ব ডিএনএ ধারণ করে।

মাইটোকন্ড্রিয়াল জিন আকারে ছোট এবং এটি কোষের জিনগত তথ্যের ভগ্নাংশ ধারণ করে। তবে এই ডিএনএর হাজার হাজার কপি থাকে বলে এগুলোর বিশ্লেষণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

এসভান্তে পেবো তার পরিমার্জিত পদ্ধতির সাহায্যে ৪০ হাজার বছরের পুরানো একটি হাড় থেকে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ বিশ্লেষণ করেন। এভাবে প্রথম হোমো সেপিয়েন্সের একটি বিলুপ্ত নিকটাত্মীয়ের জিন মানচিত্র তৈরি করা সম্ভব হয়। এরপর সেটির সঙ্গে বর্তমান মানুষ ও শিম্পাঞ্জির জিন মানচিত্র তুলনা করে প্রমাণিত হয় নিয়ান্ডারথালরা ছিল জিনগতভাবে আলাদা।

নিয়ান্ডারথালের জিন মানচিত্র তৈরি

নিয়ান্ডারথালের মাইটোকন্ড্রিয়ালের জিন থেকে সীমিত তথ্য পাওয়ার কারণে এসভান্তে পেবো আরও সামনে এগোনোর চ্যালেঞ্জ নেন। তিনি নিয়ান্ডারথালের পারমাণবিক জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের কঠিন পথে এগোতে থাকেন।

এ সময়ে তিনি জার্মানির লিপজিগে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার সুযোগ পান। নতুন এই ইনস্টিটিউটে পেবো ও তার দল প্রাচীন হাড়ের অবশেষ থেকে ডিএনএ বিচ্ছিন্ন করে সেগুলো বিশ্লেষণের পদ্ধতিকে ক্রমাগত উন্নত করেন।

গবেষণায় শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সাফল্য আসে। পেবো আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব কাজটি সম্ভব করে তোলেন এবং ২০১০ সালে প্রথম নিয়ান্ডারথালের পূর্ণাঙ্গ জিন মানচিত্র তৈরিতে সক্ষম হন। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিয়ান্ডারথাল এবং হোমো সেপিয়েন্সের সবশেষ সাধারণ পূর্বপুরুষ প্রায় ৮ লাখ বছর আগে এই পৃথিবীতে বসবাস করত।

মানুষের আদি উৎসের সন্ধান দিলেন 
নোবেলজয়ী এসভান্তে পেবোপেবো ও তার সহকর্মীরা এখন বিশ্বের নানা প্রান্তে নিয়ান্ডারথাল এবং আধুনিক মানুষের মধ্যে সম্পর্ক অনুসন্ধানে সক্ষম। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আফ্রিকা থেকে উদ্ভূত বর্তমান মানুষের তুলনায় ইউরোপ বা এশিয়া থেকে উদ্ভূত মানুষের ডিএনএ বিন্যাসের সঙ্গে নিয়ান্ডারথালদের ডিএনএ বিন্যাসের বেশি মিল রয়েছে। এর অর্থ, নিয়ান্ডারথাল এবং হোমো সেপিয়েন্স তাদের হাজার বছরের সহাবস্থানের সময়ে আন্তঃপ্রজনন করেছে।

ইউরোপ বা এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষের জিনের প্রায় ১-৪ শতাংশ এসেছে নিয়ান্ডারথাল থেকে।

চাঞ্চল্য জাগানো আবিষ্কার ‘ডেনিসোভা’

সাইবেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ডেনিসোভা গুহায় ২০০৮ সালে ৪০ হাজার বছরের পুরোনো একটি আঙুলের হাড়ের খণ্ডাংশ আবিষ্কৃত হয়। এই হাড়ের ডিএনএ ছিল প্রায় অপরিবর্তীত।

এসভান্তে পাবোর দল এটির জিন মানচিত্র তৈরির পর চমকে যায়। নিয়ান্ডারথাল এবং আধুনিক মানুষের সমস্ত ডিএনএ বিন্যাসের তুলনায় ওই পূর্বপুরুষের ডিএনএ বিন্যাস ছিল আলাদা।

এর মাধ্যমে পেবো একটি অজানা হোমিনিন (আদি নিকটাত্মীয়) আবিষ্কার করেন, যাদের নাম দেয়া হয় ডেনিসোভা। বিশ্বের বিভিন্ন অংশের মানুষের ডিএনএর সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে, ডেনিসোভা এবং হোমো সেপিয়েন্সের মধ্যেও জিন আদান-প্রদান হয়েছে।

মানুষের আদি উৎসের সন্ধান দিলেন 
নোবেলজয়ী এসভান্তে পেবো
হোমো সেপিয়েন্সের সঙ্গে নিয়ান্ডারথাল ও ডেনিসোভার জিন আদান-প্রদান হয়েছে

এই আন্তঃসম্পর্কটি প্রথমে মেলানেশিয়া (দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ওশেনিয়ার একটি উপ-অঞ্চল। এই অঞ্চলে চারটি স্বাধীন দেশ হলো ফিজি, ভানুয়াতু, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ এবং পাপুয়া নিউ গিনি) অঞ্চলে দেখা যায়। এছাড়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য অংশের জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ডেনিসোভার জিনের সঞ্চার লক্ষ্য করা গেছে। এসব অঞ্চলের মানুষ সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত ডেনিসোভা ডিএনএ ধারণ করছেন।

পেবোর আবিষ্কারগুলো আধুনিক মানুষের বিবর্তনীয় ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচন করেছে। প্রমাণ হয়েছে হোমো সেপিয়েন্স আফ্রিকা থেকে অভিবাসিত হওয়ার সময় ইউরেশিয়ায় অন্তত দুটি বিলুপ্ত হোমিনিন জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল।

নিয়ান্ডারথালরা পশ্চিম ইউরেশিয়ায় বাস করত, আর ডেনিসোভাদের আবাস ছিল মহাদেশের পূর্ব অংশে। আফ্রিকার বাইরে হোমো সেপিয়েন্সদের সম্প্রসারণের সময় তারা শুধু নিয়ান্ডারথালদের সঙ্গেই নয়, ডেনিসোভাদেরও মুখোমুখি হয়েছিল।

প্যালিওজেনোমিক্স কেন যুগান্তকারী

এসভান্তে পাবো তার যুগান্তকারী গবেষণার মাধ্যমে প্যালিওজেনোমিক্স নামে বিজ্ঞানের সম্পূর্ণ নতুন একটি শাখা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাথমিক আবিষ্কারের পর তার দল বিলুপ্ত হোমিনিন থেকে আরও বেশ কিছু জিন মানচিত্র তৈরি ও বিশ্লেষণ করেছে।

তার উদ্ভাবিত পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে জানা গেছে, প্রাচীন হোমিনিনগুলো আফ্রিকার হোমো সেপিয়েন্সের সঙ্গে আন্তঃপ্রজনন ঘটিয়েছে।

এখন পরিষ্কারভাবে বলা যায়, বিলুপ্ত নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে পাওয়া প্রাচীন জিন বর্তমানের আধুনিক মানুষের শরীরের ওপরে প্রভাব রাখছে। যেমন ইপিএএসওয়ান জিনটি এসেছে ডেনিসোভাদের কাছ থেকে। এটি অতিরিক্ত উচ্চতায় মানুষকে টিকে থাকতে সাহায্য করে, তিব্বতের জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই জিনের অস্তিত্ব রয়েছে। এছাড়া, নিয়ান্ডারথালের জিন বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

মানুষ কেন অনন্য

নিয়ান্ডারথাল বা ডেনিসোভারা বিলুপ্ত হয়ে গেলেও বিশ্বব্যাপী এখন দাপটের সঙ্গে টিকে রয়েছে হোমো সেপিয়েন্স।

মানুষের আদি উৎসের সন্ধান দিলেন 
নোবেলজয়ী এসভান্তে পেবো
নিয়ান্ডারথাল বা ডেনিসোভারা বিলুপ্ত হলেও বিশ্ব দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হোমো সেপিয়েন্স

হোমো সেপিয়েন্স বা আধুনিক মানুষ জটিল সংস্কৃতির পাশাপাশি একের পর এক উন্নত উদ্ভাবন ঘটিয়ে নিজেদের অনন্য করে তুলেছে। সেই সঙ্গে সব বাধা অতিক্রম করে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার বিস্ময়কর ক্ষমতা রয়েছে মানুষের।

নিয়ান্ডারথালরাও দলবদ্ধভাবে বাস করত এবং তাদের মস্তিষ্কের আকার ছিল বড়। তারাও জীবনযাপনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরঞ্জামের সাহায্য নিয়েছে, তবে কয়েক হাজার বছর ধরে সেগুলো উন্নত করার গতি ছিল তুলনামূলক অনেক কম। ফলে হোমো সেপিয়েন্সের লাখখানেক বছর আগে উদ্ভব হলেও শেষ পর্যন্ত বিলুপ্তির পথে হাঁটতে হয়েছে নিয়ান্ডারথালদের।

আরও পড়ুন:
বিকট নাক ডাকলে ঝুঁকি বেশি ক্যানসারের
প্লাস্টিক বোতলকে হীরা বানাতে চাইলে যা করতে পারেন
পুরুষের যত বেশি আত্মপ্রেম, তত দ্রুত স্খলন
অন্যকে নিয়ে গালগল্পে দিনে আমাদের ব্যয় ৫২ মিনিট
কেন হাসছেন, জেনে হাসছেন তো?

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Esvante Pebo won the Nobel Prize in medicine

আদি পুরুষ থেকে মানুষ: জিনগত বিকাশ দেখিয়ে পেবোর নোবেল জয়

আদি পুরুষ থেকে মানুষ: জিনগত বিকাশ দেখিয়ে পেবোর নোবেল জয় এ বছর চিকিৎসায় নোবেল জিতেছেন সুইডেনের বিজ্ঞানী এসভান্তে পেবো। ছবি: সংগৃহীত
নোবেল কমিটি বলেছে, ‘তাৎপর্যপূর্ণ গবেষণার মাধ্যমে এসভান্তে পেবো আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব কিছু উদ্ঘাটন করেছেন। তিনি বর্তমান সময়ের মানুষের বিলুপ্ত নিকটাত্মীয় নিয়ান্ডারথালের জিন মানচিত্র তৈরি করেছেন। তিনি আমাদের অজানা হোমিনিন ডেনিসোভার অস্তিত্বও আবিষ্কার করেছেন।’

বিলুপ্ত হোমিনিনের (মানুষের আদি নিকটাত্মীয়) জিনগত সঞ্চার এবং মানব বিবর্তনের সম্পর্ক আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসায় নোবেল জয় করেছেন সুইডেনের বিজ্ঞানী এসভান্তে পেবো।

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে বাংলাদেশে সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

নোবেল কমিটি বলেছে, ‘মানুষ সব সময়েই তার শেকড় অনুসন্ধান করছে। আমরা কোথা থেকে এসেছি এবং আমাদের আগে যারা এসেছিল তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কী? হোমিনিন থেকে আমাদের হোমো সেপিয়েন্স কীভাবে আলাদা?

‘তাৎপর্যপূর্ণ গবেষণার মাধ্যমে এসভান্তে পেবো আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব কিছু উদ্ঘাটন করেছেন। তিনি বর্তমান সময়ের মানুষের বিলুপ্ত নিকটাত্মীয় নিয়ান্ডারথালের জিন মানচিত্র তৈরি করেছেন। তিনি আমাদের অজানা হোমিনিন ডেনিসোভার অস্তিত্বও আবিষ্কার করেছেন।’

নোবেল কমিটি বলছেন, ‘তাৎপর্যপূর্ণভাবে পেবো এটাও দেখিয়েছেন, প্রায় ৭০ হাজার বছর আগে আগে আফ্রিকা থেকে অভিবাসনের পর এই বিলুপ্ত হোমিনিন থেকে হোমো সেপিয়েন্সে জিনগত স্থানান্তর ঘটে। বর্তমান সময়ের মানুষের কাছে জিনের এই প্রাচীন সেই জিনের শারীরবৃত্তীয় প্রয়োজনীয়তা এখনও রয়ে গেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কোনো সংক্রমণের ক্ষেত্রে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে তাতে এসব জিনের প্রভাব রয়েছে।’

আদি পুরুষ থেকে মানুষ: জিনগত বিকাশ দেখিয়ে পেবোর নোবেল জয়
হোমো সেপিয়েন্সের সঙ্গে নিয়ান্ডারথাল ও ডেনিসোভার জিন আদান-প্রদান হয়েছে

নোবেল কমিটি বলেছে, ‘পেবোর মূল গবেষণাটি প্যালিওজেনমিক্স নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন বৈজ্ঞানিক ডিসিপ্লিনের জন্ম দিয়েছে। তার গবেষণা জিনগত পার্থক্যগুলোকে উন্মোচিত করেছে যার মাধ্যমে বর্তমান মানুষকে বিলুপ্ত হোমিনিন থেকে আলাদা করে। তার আবিষ্কার আমাদের মানুষ্য প্রজাতির অনন্য হয়ে ওঠার কারণ অন্বেষণের ভিত্তি দিয়েছে।’

১৯৫৫ সালের ২০ এপ্রিল স্টকহোমে জন্ম নেয়া পেবোর বাবা-মা দুজনই ছিলেন বিজ্ঞানী। মা এস্তোনিয়ান বংশোদ্ভূত কারিনা পেবো ছিলেন একজন কেমিস্ট। আর এসভান্তের বাবা সুনে বার্গস্ট্রম ছিলেন একজন বায়োকেমিস্ট, যিনি ১৯৮২ সালে বেঙট স্যামুয়েলসেন ও জন আর ভেইনের সঙ্গে যৌথভাবে ১৯৮২ সালে চিকিৎসায় নোবেল পান।

এসভান্তে পেবো ১৯৮৬ সালে উপসালা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার পিএইচডি গবেষণার মূল বিষয় ছিল কীভাবে অ্যাডেনোভাইরাসের ই-নাইন্টিন (E19) প্রোটিন কীভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে পরিচালিত করে।

ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় তিনি কাজ করেছেন নিয়ান্ডার্থাল মানুষের জিন নিয়ে গবেষণা করে।

আগামী ডিসেম্বরে এসভান্তে পেবোর হাতে তুলে দেয়া হবে পুরস্কারের পদক, সনদ ও অর্থ।

তাপমাত্রা এবং স্পর্শের রিসেপ্টর আবিষ্কারের জন্য গত বছর নোবেল পুরস্কারের এই বিভাগে পুরস্কার পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড জুলিয়াস এবং লেবাননের আর্ডেম প্যাটোপোশিয়ান।

আরও পড়ুন:
অর্থনীতিতে নোবেল যুক্তরাষ্ট্রের মিলগ্রম-উইলসনের
শান্তিতে নোবেল পেল বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি
ক্রিসপারের দুই উদ্ভাবক পেলেন রসায়নে নোবেল

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
NASAs first hit by an asteroid in Earth protection

পৃথিবী সুরক্ষায় গ্রহাণুতে নাসার প্রথম আঘাত

পৃথিবী সুরক্ষায় গ্রহাণুতে নাসার প্রথম আঘাত ডিমারফোস গ্রহাণুকে সজোরে আঘাত করেছে নাসার মহাকাশযান ডার্ট। ছবি: নাসা
পৃথিবীর সঙ্গে গ্রহাণু বা অন্য কোন মহাজাগতিক বস্তুর সম্ভাব্য সংঘর্ষরোধে করা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় মানবজাতির এটি প্রথম সফল পরীক্ষা।

পৃথিবী সুরক্ষা প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো একটি গ্রহাণুকে সজোরে আঘাত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশযান।

ডাবল অ্যাস্টেরয়েড রিডিরেকসান টেস্ট (ডার্ট) নামের মহাকাশযানটি যুক্তরাষ্ট্রর স্থানীয় সময় সোমবার শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে ডিমারফোস গ্রহাণুটিকে আঘাত করে।

পৃথিবীর সঙ্গে গ্রহাণু বা অন্য কোন মহাজাগতিক বস্তুর সম্ভাব্য সংঘর্ষরোধে করা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় মানবজাতির এটি প্রথম সফল পরীক্ষা।

ডার্ট মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণের ১০ মাসের মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসির মিশন অপারেশন সেন্টার থেকে গ্রহাণু বা কোনো মহাকাশীয় বস্তুর গতি পরিবর্তনে মানবজাতির প্রথম প্রচেষ্টাটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর পর ঐতিহাসিক এই সফলতায় উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ করেন নাসার বিজ্ঞানী ও কর্মীরা।

সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ডার্টের ক্যামেরায় তোলা ছবিগুলোকে ত্রিভূজ-আকৃতির মহাকাশযান যেটি একটি ভেন্ডিং মেশিনের চেয়ে বড় হবে না, তা একটি ফুটবল স্টেডিয়ামের সমান গ্রহাণু ডিমারফোসকে আঘাত করে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১৪ মিনিটে।

৩৩ কোটি ডলারের এই প্রকল্পটি প্রায় সাত বছর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গতিশক্তির মাধ্যমে গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তন করতে মহাকাশযান সফল হয় কিনা তা দেখতে নাসার এই প্রকল্প।

এই পরীক্ষণে ডার্ট পুরোপুরি সফল হয়েছে কিনা তা টেলিস্কোপের প্রতিবেদনে জানা যাবে। এটি পেতে প্রায় এক মাস অপেক্ষা করতে হবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে একে সফল ঘোষণা দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে কার্পণ্য করেননি নাসার বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন:
পৃথিবীর কাছে আসতে থাকা গ্রহাণু নিয়ে যা জানাচ্ছে নাসা
নাসার চাঁদে অভিযান ফের স্থগিত
যান্ত্রিক ত্রুটিতে পেছাল নাসার চন্দ্র অভিযান 
৫২ বছর পর নাসার রকেট ছুটবে চাঁদে
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে রঙিন ‘কার্টহুইল’ গ্যালাক্সি

মন্তব্য

p
উপরে