× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Hadi Rushdies attacker was a devout student of boxing
hear-news
player
print-icon

রুশদির হামলাকারী হাদি ছিলেন ‘ধর্মপ্রাণ’, শিখছিলেন বক্সিং

রুশদির-হামলাকারী-হাদি-ছিলেন-ধর্মপ্রাণ-শিখছিলেন-বক্সিং
সালমান রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় আটক হাদি মাতার। ছবি: সংগৃহীত
হাদি মাতারের সাবেক সহপাঠী গ্যাব্রিয়েল সানচেজ বলেন, ‘হাদি এমন একটি জঘন্য অপরাধ করেছে শুনে আমি হতবাক হয়ে গেছি। ক্যালিফোর্নিয়ার এলিজাবেথ লার্নিং সেন্টারে সে আমার সহপাঠী ছিল। হাদি ছিল খুবই ধর্মপ্রাণ একজন মুসলমান। সে বিতর্কে অংশ নিত এবং তার বেশ কয়েকজন বন্ধু ছিল।’

ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক সালমান রুশদির ওপর হামলায় জড়িত অভিযোগে আটক হাদি মাতার স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ছিলেন প্রচণ্ড ধর্মপ্রাণ। তার বন্ধুরা বলছেন, হাদির এমন সহিংস রূপ তাদের অচেনা।

নিউ ইয়র্কে শুক্রবার সকালে সালমান রুশদিকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় ২৪ বছর বয়সী হাদিকে।

গুরুতর আহত রুশদির সার্জারির পর তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। তার বইয়ের এজেন্ট এন্ড্রু ওয়াইলি জানিয়েছেন, সম্ভবত তিনি এক চোখ হারিয়েছেন। তার যকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রুশদির অবস্থা ভালো নয়।

আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পুলিশের হাতে আটক হাদি মাতারের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় হলেও তিনি নিউ জার্সির ফেয়ারভিউ এলাকায় বসবাস করছিলেন।

হাদির জন্মের আগে তার বাবা-মা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ইয়ারুন থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় পাড়ি জমান। ইয়ারুন পৌরসভার প্রধান আলী কাসেম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লেবাননের সংবাদপত্র ডেইলি আন-নাহারকে তিনি বলেন, হাদির জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে, তিনি কখনও ইয়ারুনে আসেননি।

হাদির বিরুদ্ধে এখনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ বলছে, রুশদির অবস্থা দেখে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হবে তার বিরুদ্ধে।

হাদি মাতার ২০১৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নিউ জার্সিতে আসেন। ক্যালিফোর্নিয়ার এলিজাবেথ লার্নিং সেন্টারে তার সহপাঠীরা জানান, তারা হাদিকে প্রচণ্ড ধার্মিক হিসেবে জানতেন।

হাদি মাতারের সাবেক সহপাঠী গ্যাব্রিয়েল সানচেজ বলেন, ‘হাদি এমন একটি জঘন্য অপরাধ করেছে শুনে আমি হতবাক হয়ে গেছি। ক্যালিফোর্নিয়ার এলিজাবেথ লার্নিং সেন্টারে সে আমার সহপাঠী ছিল। হাদি ছিল খুবই ধর্মপ্রাণ এক মুসলমান। সে বিতর্কে অংশ নিত এবং তার বেশ কয়েকজন বন্ধু ছিল।’

গ্যাব্রিয়েল বলেন, ‘হাদি আমাদের স্কুলের রেস্টরুমে অজু করত। একবারই ওকে প্রচণ্ড রেগে যেতে দিখেছি। বছরের শেষের দিকে আমাদের জীববিজ্ঞান শিক্ষকের ক্লাসের মূল্যায়নে সে লিখেছিল, তিনি (শিক্ষক) ধর্ম সম্পর্কে যেভাবে কথা বলেন, তাতে মনে হয় ধর্মকে তিনি ঘৃণা করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাদি আমার সঙ্গে যে কয়েকটি বিষয়ে কথা বলেছে, তার একটি ছিল দয়া। সালমান রুশদির ওপর যে হাদি এই আক্রমণ করেছে, সে আমার অতীতের চেনা হাদি নয়। কারণ আমি যাকে চিনতাম, সে দয়ার কথা বলত।’

হাদি মাতারের আগের রেকর্ড জানতে এবং হামলার উদ্দেশ্য বের করতে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সহায়তা চেয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ।

নিউ ইয়র্ক পুলিশের মেজর ইউজিন স্ট্যানিসজেউস্কি বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ছুরিকাঘাতের উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাদির অ্যাকাউন্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি শিয়া চরমপন্থা এবং ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) প্রতি সহানুভূতিশীল।

হাদির ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়েও তথ্য পেয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। এ ড্রাইভিং লাইসেন্সে তিনি ব্যবহার করেছেন লেবাননের শিয়া সশস্ত্র গ্রুপ হিজবুল্লাহ নেতা মুগনিয়ার নাম। জিহাদ মুগনিয়া ২০১৫ সালে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন।

রুশদির হামলাকারী হাদি ছিলেন ‘ধর্মপ্রাণ’, শিখছিলেন বক্সিং
ভুয়া নামে হাদি মাতারের ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড। ছবি: সংগৃহীত

নিউ জার্সিতে আসার পর গত কয়েক বছরে হাদি মাতারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে এখনও পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে গত এপ্রিলে তিনি বক্সিং শিখতে শুরু করেন।

স্টেট অফ ফিটনেস বক্সিং ক্লাবের এক মুখপাত্র জানান, মাতার এপ্রিলে বক্সিং গ্রুপ ক্লাস করতে ভর্তি হন। গত ৯ আগস্ট পর্যন্ত তিনি ক্লাবে সদস্যপদ বহাল রাখেন।

নিউ জার্সিতে হাদির প্রতিবেশীরা তার সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য দিতে পারেনি। আশপাশের সবাইকে অনেকটা এড়িয়ে চলতেন হাদি।

এক প্রতিবেশী জানান, তারা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে হাদি মাতারকে শনাক্ত করেন।

একটি হাসপাতালের সাবেক কর্মী আন্তোনিও লোপা বলেন, ‘আমি হাদি মাতারের বাড়ির সামনের রাস্তার উল্টো দিকে থাকি। প্রায়ই ওকে বাড়ি ফিরতে দেখেছি, তবে কখনও কথা হয়নি।’

৭০ বছর বয়সী লোপার ধারণা, হাদির বাসায় আরও ছয়-সাতজন থাকতেন। সম্ভবত তারা সবাই আত্মীয়। তিন থেকে চার বছর আগে তারা দ্বিতল ভবনটিতে আসেন।

নিউ ইয়র্কের শাটোকোয়া ইনস্টিটিউশনে শুক্রবার সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় সালমান রুশদির ওপর হামলা চালান হাদি মাতার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রুশদিকে ২০ সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ বার ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার পর রুশদি তৎক্ষণাৎ মেঝেতে পড়ে যান।

আশপাশের লোকজন ছুটে এসে লেখককে ঘিরে ফেলেন। অনুষ্ঠানে আনুমানিক আড়াই হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘রুশদিকে মুহূর্তের মধ্যে বেশ কয়েকবার আঘাত করা হয় এবং তিনি তার রক্তের ওপরই লুটিয়ে পড়েন।’

হামলায় সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী হেনরি রিসও মাথায় সামান্য আঘাত পান। রিস একটি অলাভজনক সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা, যা নিপীড়নের হুমকির মধ্যে থাকা নির্বাসিত লেখকদের জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ উপন্যাস দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। শুধু যুক্তরাজ্যেই বইটির ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল।

১৯৮৮ সালে দ্য স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাস লেখার পর থেকে বছরের পর বছর প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছেন এ লেখক।

স্যাটানিক ভার্সেস রুশদির চতুর্থ উপন্যাস। এ বই লেখার জন্য রুশদিকে ৯ বছর আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।

ওই বই প্রকাশের পর সহিংসতায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন। এর মধ্যে ছিলেন উপন্যাসটির জাপানি ভাষার অনুবাদকও।

আরও পড়ুন:
সময়ক্রম: স্যাটানিক ভার্সেস থেকে রুশদিকে ছুরিকাঘাত
রুশদির ওপর হামলাকারী কে এই হাদি মাতার
রুশদি ভেন্টিলেশনে, হারাতে পারেন চোখ
সালমান রুশদিকে ২০ সেকেন্ডে ১০-১৫ বার ছুরিকাঘাত
নিউ ইয়র্কে সালমান রুশদির ঘাড়ে ছুরিকাঘাত, হামলাকারী আটক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
After 11 years of rape and murder 9 people get life

ধর্ষণের পর হত্যায় ১১ বছর পর ৯ জনের যাবজ্জীবন

ধর্ষণের পর হত্যায় ১১ বছর পর ৯ জনের যাবজ্জীবন
২০১১ সালের মার্চ মাসে সদরের বিষয়খালী গ্রামের ওই গৃহবধূকে তুলে নিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করে আসামিরা। তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

ঝিনাইদহ সদরে ১১ বছর আগে গৃহবধুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায়ে ৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মিজানুর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় দেন।

আসামিরা হলেন বিষয়খালী এলাকার মোহাম্মদ রসুল, শরিফুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম, গোলাম রসুল, আব্দুল আজিজ, আজিজুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, বাদশা মিয়া ও আব্দুল বাতেন। এদের মধ্যে শরিফুল ও আমিরুল ইসলাম পলাতক আছেন।

মামলার আরেক আসামি মো. আনোয়ারের মৃত্যু হয়েছে।

২০১১ সালের মার্চ মাসে সদরের বিষয়খালী গ্রামের ওই গৃহবধূকে তুলে নিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করে আসামিরা। তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

এ হত্যার নিহতের স্বামী পরদিন আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন।

মামলার বাদী নিহতের স্বামী বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলেও বিচার পেয়ে আমরা খুশি। এই রায় যেন কার্যকর হয়।’

আরও পড়ুন:
রাতে শিশুটিকে ডোবায় ফেলে এসে ঘুমিয়ে পড়েন বাবা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধর্ষণের অভিযোগে ওয়ার্ডবয় গ্রেপ্তার
জমি নিয়ে বিরোধে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
প্রতিবেশীর আমবাগানে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের ঝুলন্ত মরদেহ
চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Accused absconding from hanging arrested

ফাঁসির পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

ফাঁসির পলাতক আসামি গ্রেপ্তার আসামি গ্রেপ্তারের পর র‍্যাবের ব্রিফিং। ছবি: নিউজবাংলা
‘গার্মেন্টে কাজ করতে গিয়ে বন্ধুত্ব হয়েছিল শহিদুল ইসলাম ও শাহিন আলমের। পরে তারা একটি এনজিও খোলেন অংশীদারিত্বে। লোভের বশবর্তী হয়ে এনজিওর পুরো মালিকানা পেতেই শাহিন খুন করেন শহীদুলকে।’

বন্ধুকে হত্যায় ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আসামি শাহিন আলমকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

প্রায় ৬ বছর আত্মগোপনে থাকা এ আসামিকে সোমবার মানিকগঞ্জ ঘিওর থানার বড়টিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৪।

রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে আসামি গ্রেপ্তার ও হত্যা মামলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক ও পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টে কাজ করতে গিয়ে বন্ধুত্ব হয়েছিল শহিদুল ইসলাম ও শাহিন আলমের। পরে তারা একটি এনজিও খোলেন অংশীদারিত্বে। লোভের বশবর্তী হয়ে এনজিওর পুরো মালিকানা পেতেই শাহিন খুন করেন শহীদুলকে। এ মামলায় গ্রেপ্তারের পর শাহিন ও তার সহযোগিরা আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। এক পর্যায়ে শাহিন জামিন নিয়ে পালিয়ে যান।’

র‍্যাব জানায়, ৬ বছর ধরে নাম-পরিচয় বদলে আত্মগোপনে ছিলেন শাহিন আলম।

২০০১ সালে আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টে চাকরি করার সময় বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে শহীদুল ও শাহিনের। শহীদুল আগে একটি এনজিওতে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে দুজনে মিলে এনজিও প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেন।

২০০৪ সালে ঢাকা জেলার ধামরাই গোয়াড়ীপাড়ায় একটি অফিস ভাড়া নিয়ে তারা ‘বাংলা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা’ নামের সঞ্চয় ও ক্ষুদ্র ঋণদান সংস্থা চালু করেন। গার্মেন্টের চাকরি ছেড়ে তারা এনজিওর কাজ চালাতে থাকেন।

দুজন নারী কর্মী নিয়োগ দিয়ে ধামরাই এলাকায় তারা কার্যক্রম বাড়াতে থাকেন। চারটি প্রোগ্রামে ৪৫০ জন সদস্য সংগ্রহ করে সঞ্চয়, ঋণদান এবং ফিক্সড ডিপোজিট কার্যক্রম চালান।

শহীদুলের দক্ষতায় অল্প সময়ের মধ্যেই লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয় সংস্থাটি। লোভের ভশে শাহিন নিজের কব্জায় সবকিছু নেয়ার চেষ্টা করেন। তারই এক পর্যায়ে খুন করেন শহীদুলকে।

মামলায় বলা হয়েছে, আসামি শাহিন তার মামাতো ভাই টাঙ্গাইলের সন্ত্রাসী রাজা মিয়াকে নিয়ে শহীদুলকে হত্যার পরিকল্পনা নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০৬ সালের ২০ মে সন্ধ্যায় শাহিন নিজের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখার কথা বলে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা নামক জায়গায় ডেকে নেন শহীদুলকে। সেখানে নম্বরবিহীন মাইক্রোবাস নিয়ে অবস্থান করছিলেন রাজা মিয়া। সাহেদ, কুদ্দুস, বিষ্ণু সুইপার ও ড্রাইভার রহম আলী ছিলেন তার সঙ্গে।

রাতে শহীদুল যেতে না চাইলে আসামিরা তাকে বাসায় নামিয়ে দেয়ার কথা বলে মাইক্রোবাসে তুলে নেন। কিছুক্ষণ পর শহীদুলের গলায় রশি পেচিয়ে ও মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করেন আসামিরা। এরপর শহীদুলের নিথর দেহ নিয়ে তারা কালামপুর, সাটুরিয়া হয়ে নির্জনস্থান বেতুলিয়া ব্রীজের কাছে যান।

মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শহীদুলকে জবাই করা হয়। সেখানে দেহ ফেলে রেখে বিচ্ছিন্ন মাথা পলিথিনে ভরে নাগরপুরের জগতলা নামক স্থানে পুঁতে রাখে।

পরদিন সাটুরিয়া থানা পুলিশ মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে একটি হত্যা মামলা করে। এর দুইদিন পর শহীদুলের মস্তক উদ্ধার করে নাগরপুর থানা পুলিশ।

শহীদুল হত্যা মামলায় সাটুরিয়া থানা পুলিশ দুই এনজিও কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়। এরপর পুলিশ শাহিনকে গ্রেপ্তার করে। শাহিন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে হত্যার বিস্তারিত তথ্য জানান। শাহিন আলম ১০ বছর কারাগারে থাকার পর ২০১৬ সালে জামিন পান। এরপর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

শহীদুল হত্যা মামালার রায়ে ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর আদালত শাহিন আলমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তার ৪ সহযোগি সাহেদ, রাজা মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস ও বিষ্ণু সুইপারকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়।

ফাঁসির আসামি শাহিন আলমকে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাব সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করেছে।

আরও পড়ুন:
২১ বছর লুকিয়ে ছিলেন স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত
৬ মাসের সাজা এড়াতে পালিয়ে ছিলেন ৮ বছর
‘সরল বিশ্বাসে খেতা শাহকে আশ্রয় দিয়ে খুইয়েছি স্ত্রী’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Protests over deaths in police custody in Tangail

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে বিক্ষোভ টাঙ্গাইলে

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে বিক্ষোভ টাঙ্গাইলে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। ছবি: নিউজবাংলা
লেবু মিয়ার স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, ‘ভালো মানুষকে নিয়ে গেছে পুলিশ। তার সঙ্গে কিছুই ছিল না। কীভাবে রশি তার কাছে গেলো? এটা আত্মহত্যা না হত্যা করা হয়েছে।’

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়িতে আটক এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর ব্যাপক বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক বন্ধ করার পাশাপাশি স্থানীয় একটি বাজারে ঘণ্টাব্যাপী অবরোধও করেন।

পুলিশের দাবি, সেই ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। তবে স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাকে পুলিশ নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার রাতে উপজেলার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে লেবু মিয়া নামে এক ব্যক্তি মারা যান। তিনি বাঁশতৈল গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে।

সখিনা আক্তার নামে এক নারীকে হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লেবু মিয়া ও সেই নারীর সাবেক স্বামী মফিজুর রহমানকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, পাঁচ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয় সখিনা আক্তারের। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর প্রবাসী ছেলের স্ত্রীকে থাকতেন। পুত্রবধূ বাড়িতে যাওয়ায় গত রোববার রাতে সখিনা বাড়িতে একাই ছিলেন। রাতের কোনো এক সময় তার ঘরে ঢুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরদিন বেলা ১২ টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে বাঁশতৈল ফাড়ি পুলিশ। এই ঘটনায় মফিজুর ও লেবুকে আটক করে রাতে ফাঁড়ির হাজাতখানায় রাখা হয়।

বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ফাঁড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে লেবু মিয়ার গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় তাকে দেখতে পাই।’

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে বিক্ষোভ টাঙ্গাইলে
বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে মারা যান লেবু মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

লেবু মিয়ার স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, ‘ভালো মানুষকে নিয়ে গেছে পুলিশ। তার সঙ্গে কিছুই ছিল না। কীভাবে রশি তার কাছে গেলো? এটা আত্মহত্যা না হত্যা করা হয়েছে।’

এই ঘটনায় বিক্ষোভ দেখানো মাসুদ মিয়া বলেন, ‘এটা আত্মহত্যা না, হত্যা করা হয়েছে। তিনি মানসিক রোগী না যে আত্মহত্যা করবেন। তিনি ভালো মানুষ। তাকে বেধরক মারপিটের কারণে মারা গেছে।’

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, ‘বিষয়টি মর্মান্তিক। তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরই আসলে বোঝা যাবে তার মৃত্যুটা কীভাবে হয়েছে।

‘যেহেতু ঘটনা স্পর্শকাতর তাই ঘটনা তদন্ত পূর্বক সকল ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

লেবুর স্ত্রীর অভিযোগ, পরিবারকে না জানিয়ে পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
হেফাজতে মৃত্যু: রামপুরায় সড়কে বিক্ষোভ, যানজট
হেফাজতে মৃত্যু: লাশ হস্তান্তর নিয়ে স্বজন-পুলিশের বিপরীত বক্তব্য
হাতিরঝিল থানা হেফাজতে মৃত্যু: ২ পুলিশ বরখাস্ত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
PBI chiefs case against Babul

বাবুল ও ইলিয়াসের বিরুদ্ধে পিবিআই প্রধানের মামলা

বাবুল ও ইলিয়াসের বিরুদ্ধে পিবিআই প্রধানের মামলা পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার ও সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ধানমণ্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধানমণ্ডি মডেল থানায় আজ একটি মামলা হয়েছে। মামলার বাদী পিবিআই প্রধান। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্ত চলছে।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে বাবুল আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ইলিয়াছ হোসাইন, হাবিবুর রহমান লাবু ও আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া।

বনজ কুমার মজুমদার মামলার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধানমণ্ডি মডেল থানায় আজ একটি মামলা হয়েছে। মামলার বাদী পিবিআই প্রধান। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্ত চলছে।’

ধানমন্ডি মডেল থানায় আজ একটি মামলা হয়েছে। মামলার বাদি পিবিআই প্রধান। মামলা নম্বর-২৪। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্ত চলছে।

প্রসঙ্গত, মিতু হত্যা মামলায় হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের নামে মামলার আবেদন করেন আলোচিত সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার।

আবেদনে বনজ কুমার মজুমদার ছাড়া যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয় তারা হলেন- পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের এসপি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের এসপি নাঈমা সুলতানা, পিবিআইয়ের সাবেক পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা, এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম ও চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবির।

৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালতে আবেদনটি করা হয়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর তার সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু।

আরও পড়ুন:
বনজের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন নাকচ
মিতু হত্যায় বাবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র পিবিআইয়ের
বাবুল আক্তারের কথা বাস্তবসম্মত কি না তদন্তে বোঝা যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআইপ্রধানের নামে মামলার আবেদন বাবুল আক্তারের

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Employees should be moderate in using social media

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক করল প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক করল প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা’ উদ্ধৃত করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্ট, ছবি, অডিও-ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করার ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ একাউন্টে ক্ষতিকর কন্টেন্টের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন। এর জন্য তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা’ উদ্ধৃত করে এমন নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সব পরিচালক/প্রকল্প পরিচালক, সব উপ-পরিচালক/বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা/সুপারিনটেনডেন্ট, পিটিআই, সব উপজেলা/থানা শিক্ষা কর্মকর্তা/ইনস্ট্রাক্টর, ইউআরসিকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারীদের করণীয় নির্ধারণ করা এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বলা হয়েছে। এছাড়াও নির্দেশিকায় সামাজিক মাধ্যমে দাপ্তরিক ও ব্যক্ষিগত একাউন্ট তৈরি করা এবং এতে পরিহারযোগ্য বিষয়াদি উল্লেখ রয়েছে।

যেসব নির্দেশনা

চিঠিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। জাতীয় ঐক্য ও চেতনা পরিপন্থী তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন বা ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির পরিপন্থী কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোনো ‘কন্টেন্ট’ বা ‘ফ্রেন্ড’ সিলেকশনে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন এবং অপ্রয়োজনীয় ট্যাগ, রেফারেন্স বা শেয়ার করা পরিহার করতে হবে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার বা নিজ অ্যাকাউন্টে ক্ষতিকারক কন্টেন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন এবং সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সার্ভিস বা পেশাকে হেয়প্রতিপন্ন করে এমন কোনো পোস্ট দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। লিঙ্গ বৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কমূলক কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।

জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো বিষয়ে লেখা, অডিও বা ভিডিও প্রকাশ বা শেয়ার করা যাবে না। ভিত্তিহীন, অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে।

কোনো রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সংবলিত কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Chairman Salim Khans bail hearing on October 12

চেয়ারম্যান সেলিম খানের জামিন শুনানি ১২ অক্টোবর

চেয়ারম্যান সেলিম খানের জামিন শুনানি ১২ অক্টোবর চাঁদপুরের আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান। ছবি: সংগৃহীত
গত ১৪ সেপ্টেম্বর এ মামলায় সেলিম খানকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

৩৪ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় চাঁদপুরের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সেলিম খানের জামিন শুনানির জন্য আগামী ১২ অক্টোবর দিন ঠিক করে দিয়েছে আদালত।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আসাদুজ্জামানের আদালতে মঙ্গলবার তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান প্রতিবেদনসহ জামিন শুনানির জন্য এ সময় দিন ঠিক করে দেয় আদালত।

এ সময় পর্যন্ত তিনি আইনজীবীর জিম্মায় মুক্ত থাকবেন। আইনজীবী সেদিন তাকে আদালতে হাজির করার ব্যাপারে বন্ড জমা দিয়েছেন।

এদিন সেলিম খানের পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন শাহিনুর রহমান। দুদকের পক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন খুরশীদ আলম ও মাহমুদ হোসন জাহাঙ্গীর।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর এ মামলায় সেলিম খানকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর সেলিম খানকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে দুদক। ২০ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করেন।

২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় আদালত।

গত ১ আগস্ট চাঁদপুর সদরের লক্ষ্মীপুর ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খানের নামে মামলা করে দুদক। মামলায় তার বিরুদ্ধে ৩৪ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়।

দুদক সচিব জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর সেলিম খানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্পদ বিবরণী চায় দুদক। সেলিম খান ৬৬ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব জমা দেন, কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার ৩৪ কোটি ৫৩ লাখ ৮১ হাজার ১১৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:
জামিন স্থগিত, সেলিম খানকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
অবৈধ সম্পদের মামলা: চাঁদপুরের সেলিম খানের জামিন
ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খানকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
চাঁদপুরের সেলিম খানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২ নভেম্বর
চাঁদপুরের সেলিম খানকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Life for younger brother for killing elder brother

বড় ভাইকে হত্যার দায়ে ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন

বড় ভাইকে হত্যার দায়ে ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন
জেলা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘২০১৯ সালের ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১২টার দিকে নিজ বসতঘরে ছোটভাই আবদুল মান্নানের দায়ের কোপের আঘাতে খুন হয় বড় ভাই আবদুল হান্নান। বড়ভাই আবদুল হান্নানকে হত্যার ঘটনা আদালতে দোষী প্রমাণ হওয়ায় তার ছোটভাই আবদুল মান্নানকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন বিচারক।’

লক্ষ্মীপুরে বড় ভাইকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছোটভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এই রায় দেন। রায়ের সময় আদালতে আসামি আবদুল মান্নান উপস্থিত ছিল।

জেলা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালের ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১২টার দিকে নিজ বসতঘরে ছোটভাই আবদুল মান্নানের দায়ের কোপের আঘাতে খুন হয় বড় ভাই আবদুল হান্নান। বড়ভাই আবদুল হান্নানকে হত্যার ঘটনা আদালতে দোষী প্রমাণ হওয়ায় তার ছোটভাই আবদুল মান্নানকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন বিচারক।’

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের চর পার্বতীনগর গ্রামের আনু মুন্সি বাড়ির বাসিন্দা আবুল কালামের দুই ছেলে আবদুল হান্নান ও আবদুল মান্নান। হান্নানকে বিয়ে করানোর পর থেকে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বড় ভাই হান্নান তার স্ত্রীকে নিয়ে মান্নানের প্রতি সন্দেহ করে।

২০১৯ সালের ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১২টার দিকে হান্নান তার ছোটভাইকে বসতঘরের জানালার পাশে দেখতে পেয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে তাকে মারধর করে। এ সময় জানালার পাশে থাকা ছোট ভাই মান্নান একটি দা নিয়ে হান্নানের ঘরে ঢুকে। কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে মান্নান তার বড়ভাই হান্নানের ঘাড়ে দা দিয়ে কোপ দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

পরদিন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের পিতা আবুল কালাম ২০ ফেব্রুয়ারি ছোট ছেলে হান্নানকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরদিন পুলিশ মান্নানকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সেই সময়ের সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রানা দাস আসামি মান্নানকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে প্রায় সাড়ে চার বছর পর এই মামলার রায় দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
জোড়া খুনের ১৭ বছর পর ৩ জনের যাবজ্জীবন
বন্ধুকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন
নেশার টাকার জন্য মাকে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন
বাবা-ছেলে খুন: ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১৭ জনের যাবজ্জীবন
মাদ্রাসাছাত্রকে হত্যায় ২ জনের যাবজ্জীবন

মন্তব্য

p
উপরে