× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
The United Nations fears nuclear disaster in Europe
hear-news
player
print-icon

ইউরোপে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা জাতিসংঘের

ইউরোপে-পারমাণবিক-বিপর্যয়ের-শঙ্কা-জাতিসংঘের
চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয়ে পুরো শহর ছেড়ে চলে যেতে হয় বাসিন্দাদের। ছবি: সংগৃহীত
রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। তবে রাশিয়া বলছে, ইউক্রেনীয় সেনারাই বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেলের মজুত লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেনের জাপোরিজ্জাতেই রয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ইউক্রেনে সাম্প্রতিক রাশিয়ার সামরিক অভিযানের শুরুর দিকেই বেলারুশ হয়ে রুশ সেনারা প্রবেশ করে জাপোরিজ্জার নিয়ন্ত্রণ নেয়।

সে সময় ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় রাশিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গোলাবর্ষণ করেছিল।

তবে পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়ার পর ইউক্রেনীয় কর্মীদের রুশ বাহিনী রেখে দেয়। তবে ইউক্রেনের অভিযোগ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়ার পর এটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে রুশ সেনারা। সেখানে গোলাবারুদ মজুদ করছে এবং সেখান থেকে ইউক্রেনের অনেক বেসামরিক স্থাপনায় হামলা করছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শনিবার রাশিয়ার রকেট হামলায় পারমাণবিক স্থাপনার গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। তিনটি তেজস্ক্রিয় শনাক্তকরণ যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যে কোনো তেজস্ক্রিয় লিকের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় তা শনাক্তকরণ ও বিকিরণ প্রতিরোধ অসম্ভব হয়ে গেছে।

কিয়েভ বলছে, এবার ভাগ্যক্রমে পারমাণবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেলেও বার বার ভাগ্য সহায় হবে না।

এমন পরিস্থিতিতে আইএইএ প্রধান রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি বলেছেন, ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গোলাগুলির খবরে তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের আণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা (আইএইএ) ইউক্রেনের জাপোরিজ্জা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে যে কোনো ধরণের সামরিক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউরোপে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা জাতিসংঘের
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মারিয়ানো গ্রসি

গ্রসি বলেছেন, শুক্রবারের হামলা পারমাণবিক বিপর্যয়ের সত্যিকারের ঝুঁকি তৈরি করেছে যা ইউক্রেন এবং এর বাইরে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় কর্মীদেরর অবশ্যই হুমকি ও চাপ ছাড়াই তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে এবং আইএইএকে প্রযুক্তিগত সহায়তার অনুমতি দেয়া উচিত।

গ্রসি আরও বলেন, ইউক্রেন এবং অন্যত্র একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক দুর্ঘটনা থেকে জনগণকে রক্ষা করার স্বার্থে আমাদের মতভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আইএইএর পক্ষ থেকে প্ল্যান্টটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলার পরই ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে জাপোরিজ্জায় গোলাবর্ষণের অভিযোগ আনলো।

তবে মস্কোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।

জাপোরিজ্জায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রুশ প্রধান ইয়েভজেনি বালিতস্কি রোবরার টেলিগ্রামে এক বার্তায় বলেন, ইউক্রেনীয় সেনারাই বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেলের মজুত লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউরোপে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা জাতিসংঘের
জাপোরিজ্জা পারামাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প

তবে নিরপেক্ষভাবে কিয়েভ ও মস্কোর দাবির সত্যতাই যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

যেহেতু পারমাণবিক প্রকল্পটি রুশ সেনাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে এবং সেখানে রুশ সেনারাই অবস্থান করছে, তাহলে ঠিক কী কারণে রুশ সেনারাই সেখানে হামলা চালাবে তা স্পষ্ট করেনি কিয়েভ।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘পারমাণবিক প্রকল্পে যে কোনো বোমা হামলা নির্লজ্জ অপরাধ, সন্ত্রাসের কাজ।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন গত সপ্তাহের শুরুর দিকে অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর জন্য এই প্ল্যান্টটিকে নিরাপদ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া। কারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা থাকায় ইউক্রেনীয় সেনারা সেখানে গোলা বর্ষণ করতে পারবে না।

গত মার্চে ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের মধ্যেই দেশটিতে অবস্থিত ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাপোরিজ্জাতে হামলা চালায় রুশ সেনারা। ইউক্রেন সে সময় দাবি করে, রুশ গোলার আঘাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আগুন ধরে যায়।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা জানিয়েছিলেন, এই কেন্দ্রের চুল্লি গলে যাওয়া চেরনোবিলের থেকে ১০ গুণ বেশি ভয়াবহ হতে পারে।

এর আগে ১৯৮৬ সালে ইউক্রেনের চেরনোবিলে সোভিয়েত আমলে এক পারমাণবিক দুর্ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পারমাণবিক প্রযুক্তির ইতিহাসে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা।

২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর ২০ বছরে তেজস্ক্রিয়তার পরোক্ষ প্রভাবে প্রায় ৪ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ায় রুশ নৌ দিবস বাতিল
ইউক্রেনের শীর্ষ শস্য ব্যবসায়ী নিহত
ইউক্রেনের কালো তালিকায় ভারতের শীর্ষ কূটনীতিক
রুশ হামলার তোয়াক্কা না করে স্বাভাবিক জীবনে
ইউক্রেন ছাড়ার অপেক্ষায় খাদ্যশস্য বোঝাই ১৬ জাহাজ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Italys far right Giorgia Meloni is running for prime minister

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: সংগৃহীত
প্রেসিডেন্ট সার্জিও ম্যাটারেলা সকালে সিসিলিয়ান রাজধানী পালেরমোয় নিজের ভোট দেন। মেলোনি ও বাম নেতা এনরিকো লেটা ভোট দিয়েছেন রোমে। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী মাত্তেও সালভিনি মিলানে ভোট দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, জোট বেঁধে সরকার গঠন করতে পারেন উগ্র ডানপন্থি মেলোনি ও সালভিনি জোট।

প্রধানমন্ত্রী বেছে নিতে ভোট দিচ্ছেন ইতালির জনগণ। পূর্বাভাস বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম ইতালির ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে উগ্র ডানপন্থি সরকার।

স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন দেশটির ৫ কোটি ১০ লাখ ভোটার, যাদের ২৬ লাখ এবারই প্রথম ভোট দেবেন। এ ছাড়া দেশের বাইরে আছেন ৪৭ লাখ ভোটার।

জর্জিয়া মেলোনি ইতালির উগ্র ডানপন্থি ব্রাদার্স পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্য দুটি ডানপন্থি দলের সঙ্গে জোট বেঁধে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে তিনি।

প্রেসিডেন্ট সার্জিও ম্যাটারেলা সকালে সিসিলিয়ান রাজধানী পালেরমোয় নিজের ভোট দেন। মেলোনি ও বাম নেতা এনরিকো লেটা ভোট দিয়েছেন রোমে। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী মাত্তেও সালভিনি মিলানে ভোট দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, জোট বেঁধে সরকার গঠন করতে পারেন উগ্র ডানপন্থি মেলোনি ও সালভিনি জোট।

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি
চেম্বার এবং সিনেটের জন্য ভোট দিতে স্থানীয় সময় রাত ১১টা পর্যন্ত সময় পাবেন ভোটাররা

জর্জিয়া মেলোনি রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেন। তিনি চাইছেন নিজের ফ্যাসিবাদের তকমা দূর করতে। যদিও নির্বাচনি প্রচারে ফ্যাসিস্ট স্লোগান দিতে দেখা গেছে ৪৫ বছরের মেলোনিকে। এ ছাড়া অভিবাসন বন্ধে লিবিয়ায় নৌ অবরোধের পক্ষে তার অবস্থান।

এক মাস আগেও, ইতালির বাম এবং মধ্যপন্থি দলগুলো উগ্র ডানপন্থি মেলোনি জোটকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ছিল। তবে শেষপর্যন্ত তারা সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। বলা হচ্ছে, এতেই কপাল খুলেছে মেলোনি জোটের। জনমত জরিপে মেলোনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এখন মধ্য-বাম ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা এনরিকো লেটা।

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি

সিলভিও বারলুসকোনি (মাঝে) এবং মাত্তেও সালভিনির (বাঁয়ে) সঙ্গে জোট বাঁধতে পারেন জর্জিয়া মেলোনি (ডানে)

দুই কক্ষের পার্লামেন্ট ইতালির; চেম্বার এবং সিনেট। নতুন নিয়মে দুই কক্ষের আকার এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। চেম্বারের এখন ৪০০ আসন এবং সিনেট ২০০টি। এতে জোট সরকারের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো জোট ৪০ শতাংশ ভোট পেলে পার্লামেন্টের ৬০ শতাংশ আসন তাদের পক্ষে যাবে।

জোট বেঁধে ক্ষমতায় এলেও প্রধানমন্ত্রী পদে মেলোনির আসা অনিশ্চিত। কারণ এ সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট মাতারেলা, যিনি ইতালির সংবিধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মেলোনি এবং তার সহযোগীরা এ ধারায় পরিবর্তন চান। তারা পার্লামেন্টে নির্বাচিত নিরপেক্ষ ব্যক্তির চেয়ে সরাসরি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট চাইছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Russian controlled areas are also voting against Russia

রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভোট দেয়া যাচ্ছে রাশিয়ার বিপক্ষেও

রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভোট দেয়া যাচ্ছে রাশিয়ার বিপক্ষেও ভোটকেন্দ্রগুলোতে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকারের সুযোগ রেখেছে রুশপন্থিরা। ছবি: সংগৃহীত
রুশ অধীকৃত ইউক্রেনের অঞ্চলে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে শুক্রবার থেকে গণভোট শুরু হয়েছে। এই গণভোটকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, ভোট সংগ্রহ করতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে অস্ত্রধারী সেনারা। তবে রাশিয়া বলছে, নিরাপত্তার কারণেই এভাবে ভোট সংগ্রহ করা হচ্ছে। বরঞ্চ পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেই জানানো হয়েছে, এক নারীর পরিবার রাশিয়ার বিপক্ষে ভোট দিলেও সেনারা তা সংগ্রহ করেছে।

রাশিয়াতে যোগদানের বিষয়ে ইউক্রেনের অঞ্চলগুলোতে গণভোট নেয়া শুরু হয়েছে। রুশপন্থি সেনারা ভোট সংগ্রহ করতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, কিন্তু ভোট দিতে হচ্ছে মৌখিকভাবে এবং সেনারা তা টুকে রাখছেন।

ইউক্রেনীয়দের বরাতে বিবিসি এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

রুশপন্থি সেনাদের কাছে মৌখিকভাবে ভোট দিতে গেলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেয়া কী আদৌ সম্ভব, এ বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এনেরহোদারের একজন নারী বলেছেন, আপনাকে (রুশ অধীকৃত অঞ্চলের বাসিন্দাদের) মৌখিকভাবে উত্তর (ভোট) দিতে হবে এবং সেনারা তা একটি শিটে চিহ্নিত করে রাখে।

মেলিতোপোলের একজন নারী বলেছেন, দুই স্থানীয় সহযোগী দুজন রুশ সেনাকে নিয়ে তার বাবা-মায়ের ফ্ল্যাটে এসেছিল ভোট নিতে।

তিনি বলেন, “আমার বাবা (রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দেয়া বিষয়ক ভোটে) ‘না’ দিয়েছিলেন, এ সময় আমার মা কাছাকাছিই দাঁড়িয়ে ছিলেন, তিনি সেনাদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘না দেয়ার জন্য কী হবে?’ তারা বলেছে, কিছুই হবে না।”

যদিও সেই নারী বলেন, তার মা এখন চিন্তিত, তিনি ভাবছেন রুশরা তাদের ওপর নির্যাতন করবে।

সেই নারী জানিয়েছেন, ব্যক্তি বিশেষের জন্য নয়, পুরো পরিবারের জন্য একটি ব্যালট ছিল।

তবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট নেয়া হচ্ছে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে।

যদিও রাশিয়ার গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছিল, নির্বাচনি কর্মকর্তারা শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত পোর্টেবল ব্যালট বাক্স নিয়ে ঘরে ঘরে যাবেন। নিরাপত্তার খাতিরে শেষের দিন অর্থাৎ ২৭ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রে হবে ভোট। এ জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন কেন্দ্রেও ভোটদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখলে রাশিয়ার দাবিও যৌক্তিক।

এদিকে রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হতে ইউক্রেনীয় অঞ্চলে চলা গণভোটকে অবৈধ ও জালিয়াতির ভোট বলছে ইউক্রেন ও পশ্চিমা মিত্ররা।

২৩ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোট দেবে পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক এবং দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিজ্জা অঞ্চলের বাসিন্দারা।

একই রকম ভোট আয়োজন করা হয়েছিল ক্রিমিয়ায়। ২০১৪ সালে আয়োজিত সে ভোটে ক্রিমিয়াবাসী রুশ ফেডারশনে যুক্ত হতে ভোট দিয়েছিল।

এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে লেখা চিঠিতে পুশিলিন রাশিয়ান ফেডারেশনে ডিপিআরকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, জনগণ যদি গণভোটে একীকরণকে অনুমোদন দেয়, তবে তারা ফেডারেশনে যুক্ত হবে।

চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘দনবাসের সহিষ্ণু জনগণ মহান দেশের (রাশিয়া) অংশ হওয়ার যোগ্য। তারা রাশিয়াকে সব সময় নিজেদের মাতৃভূমি বলে মনে করে। এই পদক্ষেপে ঐতিহাসিক ন্যায়বিচারের পুনরুদ্ধার হবে; যা লাখ লাখ রাশিয়ানের আকাঙ্ক্ষা।

জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় ২০১৪ সালে হওয়া মিনস্ক চুক্তির আওতায় ইউক্রেনীয় রাজ্যের মধ্যে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলকে বিশেষ মর্যাদা দেয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুন:
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  
যুদ্ধেই ইউক্রেন সংকটের সমাধান: ক্রেমলিন
রুশ ফেডারেশনে ঢুকতে ডনবাস প্রজাতন্ত্রে গণভোট
ইউক্রেনকে ভেঙে ফেলার আহ্বান রোমানিয়ান কূটনীতিকের
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে পুতিনকে হুঁশিয়ারি বাইডেনের

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Poland prepares in advance to deal with nuclear threat

পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের

পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের প্রতীকী ছবি
ইউক্রেনে চলছে রুশ সামরিক অভিযান। ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাপোরিজ্জাকে কেন্দ্র করে চলছে গোলাগুলি। এদিকে রুশ অধীকৃত ইউক্রেনের অঞ্চলে ভোটাভুটিকে কেন্দ্র করে পারমণবিক সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। এসব বিষয়কেই সামনে রেখে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ মোকাবিলায় প্রস্তুতি শুরু করেছে ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড।

ইউক্রেনের কয়েকটি অঞ্চল রাশিয়ায় যুক্ত করার কার্যক্রম শুরু করেছে ক্রেমলিন। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা দিয়েছেন, রাশিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ভান্ডারে থাকা যে কোনো অস্ত্র (পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত) ব্যবহার করবে রুশ সেনারা।

এ ছাড়া বেশ কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছে, যেকোনো সময় জাপোরিজ্জা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পাশের দেশ পোল্যান্ড পারমাণবিক হামলার ও দুর্ঘটনার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে।

পোল্যান্ডের স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক ঘটনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। যদিও তারাই বলছেন, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

পারমাণবিক যেকোনো দুর্ঘটনায় ও হামলায় আশপাশে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের
পটাশিয়াম আয়োডাইট ট্যাবলেট

পোল্যান্ডের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ এডুকেশনাল ম্যানেজমেন্ট স্টাফের (ওএসকেকেও) প্রধান মারেক প্লেসনিয়ার শুক্রবার এক স্থানীয় পত্রিকাকে বলেছে, পোলিশ শিক্ষকদের জরুরি পরিস্থিতিতে তেজস্ক্রিয়তা থেকে রক্ষা পেতে জরুরি পরিস্থিতিতে বিকিরণ প্রতিরোধী পটাশিয়াম আয়োডাইট ট্যাবলেট ছাত্রদের হাতে তুলে দিতে বলা হয়েছে।

সতর্কতা জারির সঙ্গে সঙ্গে ৬ ঘণ্টার মধ্যে যাতে ট্যাবলেট বিতরণ সম্ভব হয়, সেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

ওয়ারশ সিটি হলের মুখপাত্র জ্যাকুব লেদুচোস্কি বলেছেন, বর্তমানে বিকিরণের ঘটনার ঝুঁকি যদিও খুব কম, এর পরও কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্নায়ুযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো সমকক্ষ প্রতিপক্ষের সঙ্গে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা মোকাবিলা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।

পোলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার বলেছে, এর আগে ইউক্রেনের জাপোরিজ্জায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে লড়াইয়ের সময়েও আঞ্চলিক ফায়ার সার্ভিস বিভাগে পটাশিয়াম আয়োডাইট ট্যাবলেট পাঠানো হয়েছিল।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মস্কো সামরিক অভিযান শুরু করার পরপরই রাশিয়ার সেনারা ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দখল করে। মস্কো ও কিয়েভ তখন থেকে একে অপরের ওপর পারমাণবিক কেন্দ্রে গোলাবর্ষণের অভিযোগ এনেছিল।

পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের
জাপোরিজ্জায় পাহারারত রুশ সেনা

এ ছাড়া ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পারমাণবিক যুদ্ধকে বাস্তব বলছেন ইউএস স্ট্রাটেজিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল চার্লস রিচার্ড।

বুধবার মেরিল্যান্ডে আয়োজিত এক কনফারেন্সে তিনি বলেন, ‘স্নায়ুযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো সমকক্ষ প্রতিপক্ষের সঙ্গে পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাবনা মোকাবিলা করছে যুক্তরাষ্ট্র।’

এদিকে ভ্লাদিমির পুতিনের সুরে সুর মিলিয়ে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, ‘মস্কোর অস্ত্রাগারে থাকা কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রসহ যেকোনো অস্ত্র ইউক্রেন থেকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাওয়া অঞ্চলগুলো রক্ষা করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।’

আরও পড়ুন:
যুদ্ধেই ইউক্রেন সংকটের সমাধান: ক্রেমলিন
রুশ ফেডারেশনে ঢুকতে ডনবাস প্রজাতন্ত্রে গণভোট
ইউক্রেনকে ভেঙে ফেলার আহ্বান রোমানিয়ান কূটনীতিকের
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে পুতিনকে হুঁশিয়ারি বাইডেনের
ইজিউমের গণকবরে ‘নির্যাতনের চিহ্ন’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
What Russia Wants from Votes in Occupied Ukraine

অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া

অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া লুহানস্কে গণভোটের প্রাক্কালে লিফলেট বিতরণ হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধে ফিরতে ক্রেমলিনের নেয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের একটি এই গণভোট। সার্বভৌম ইউক্রেনের আরও ১৫ শতাংশ নিজেদের করে নিলে যুদ্ধের শক্ত অজুহাত দেখাতে পারবেন পুতিন। তিনি বলতে পারবেন, ইউক্রেনে ন্যাটো ও পশ্চিমাদের পাঠানো মারণাস্ত্রের বলি হওয়ার শঙ্কায় আছে এসব অঞ্চল।

রাশিয়ান ফেডারেশনে ভিড়তে ইউক্রেনের চারটি বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় চলা গণভোট ঘিরে নানা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্রগুলো এ পদক্ষেপকে অবৈধ ও জালিয়াতির ভোট বলছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধকে আরও উসকে দেবে ভোট।

ইউক্রেনে অভিযান শুরুর সাত মাস পেরোলেও তেমন অর্জন নেই রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের। উল্টো ইউক্রেনের প্রতিরোধে দখল করা কয়েকটি এলাকা ছাড়তে হয়েছে পুতিন বাহিনীকে।

যুদ্ধে ফিরে আসতে ক্রেমলিনের নেয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের একটি এই গণভোট। সার্বভৌম ইউক্রেনের আরও ১৫ শতাংশ নিজেদের করে নিলে যুদ্ধের শক্ত অজুহাত দেখাতে পারবেন পুতিন। তিনি বলতে পারবেন, ইউক্রেনে ন্যাটো ও পশ্চিমাদের পাঠানো মারণাস্ত্রের বলি হওয়ার শঙ্কায় আছে এসব অঞ্চল। অবশ্য তিন লাখ অতিরিক্ত সেনা ডেকে ৬২০ মাইলের লম্বা এক দেয়াল তৈরি করে এই চার অঞ্চল বাঁচাতে তেমন বেগ পেতে হবে না রাশিয়াকে।

রাশিয়ানদের নেতা পুতিন যখন পূর্ব ইউক্রেনের কিছু অঞ্চল নিজের ভূখণ্ডে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার মানে তিনি তা করবেন। আগেও এর নজির আছে। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে পুতিন যখন ক্রিমিয়াকে ছিনিয়ে নেয়, তখনও গণভোট হয়েছিল।

সেবারের মতো এই গণভোটকেও অবৈধ বলছে পশ্চিমা বিশ্ব। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোরও একই সুর।

রাশিয়ান ফেডারেশনে যোগ দিতে ২৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোট দেবে পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক এবং দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের বাসিন্দারা।

জালিয়াতির ভোট কেন

কীভাবে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়াকে নিজেদের করে নিয়েছিল রাশিয়া, তা পুরো বিশ্ব দেখেছে। সে সময় ক্রেমলিন দাবি করে, তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে চায় ক্রিমিয়ার ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশ বাসিন্দা। তবে রাশিয়ার মানবাধিকার কাউন্সিলের ফাঁস হওয়া এক প্রতিবেদন বলছে, ৩০ শতাংশ রাশিয়া ঢোকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

ক্রিমিয়া দখলে নিতে খুব বেগ পেতে হয়নি রুশ বাহিনীকে, তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। যুদ্ধের মধ্যেই চলছে ভোট। যে চার অঞ্চলে ভোট হচ্ছে সবগুলোই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে।

দক্ষিণে, খেরসন শহরটি এখন নিরাপদ নয়। ইউক্রেন সেনাদের পাল্টা হামলা ঠেকাতে ব্যস্ত রুশ সেনারা। কেন্দ্রীয় প্রশাসন ভবনে গত সপ্তাহে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। এখানে নিরাপদ ভোট অসম্ভব। তবুও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই শহরের প্রায় ৭৫ হাজার বাসিন্দা ভোটে অংশ নেবে।

রাশিয়ান মিডিয়া বলছে, নির্বাচনি কর্মকর্তারা শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত পোর্টেবল ব্যালট বাক্স নিয়ে ঘরে ঘরে যাবেন। নিরাপত্তার খাতিরে শেষের দিন অর্থাৎ ২৭ সেপেটেম্বর কেন্দ্রে হবে ভোট। এ জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া

অন্যদিকে জাপোরিঝিয়ার রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ ইউক্রেনের হাতে। গণভোট এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলবে … এটা এক প্রকার নিশ্চিত।

পূর্বের দোনেৎস্ক অঞ্চলের ৬০ শতাংশ রাশিয়ার দখলে। অঞ্চলটি রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এখানে যে নিরাপদ ভোট হবে না, এটাও নিশ্চিত।

অন্যদিকে ভূমি হারাতে শুরু করলেও উত্তর-পূর্বের লুহানস্কের বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে রাশিয়া।

সংঘাতকবলিত অঞ্চলগুলোর বাসিন্দারা আগেই পালিয়ে গেছেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে অভিযান শুরুর এক দিন আগে দোনেৎস্কের বেশির ভাগ মানুষকে সরিয়ে নিয়েছিলেন অঞ্চলটির নেতা ডেনিস পুশিলিন।

ইউক্রেনের বিদ্রোহী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোর নেতারা অনেক দিন আগে থেকে এমন ভোট আয়োজনের প্রেক্ষাপট তৈরির চেষ্টায় ছিলেন। যদিও ভোট করার সিদ্ধান্ত আসে তিন দিন আগে।

এই ভোটে কোনো স্বাধীন পর্যবেক্ষক থাকবে না। বেশির ভাগ ভোটই হবে অনলাইনে। যদিও ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
ইউক্রেনকে ভেঙে ফেলার আহ্বান রোমানিয়ান কূটনীতিকের
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে পুতিনকে হুঁশিয়ারি বাইডেনের
ইজিউমের গণকবরে ‘নির্যাতনের চিহ্ন’
রাশিয়ার শহরে ইউক্রেনের হামলা
সড়ক দুর্ঘটনায় ‘সামান্য আহত’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Russian nuclear weapons to protect Donbas according to US commander nuclear war is possible

দোনবাস রক্ষায় রুশ পরমাণু অস্ত্র, ইউএস কমান্ডারের মতে পরমাণু যুদ্ধ সম্ভব

দোনবাস রক্ষায় রুশ পরমাণু অস্ত্র, ইউএস কমান্ডারের মতে পরমাণু যুদ্ধ সম্ভব রাশিয়ার কাছে ৫ হাজারের বেশি পরমাণু ওয়ারহেড আছে। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ভৌগলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সব উপায় ব্যবহার (পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারে প্রচ্ছন্ন হুমকি) করা হবে। একই কথায় সুর মিলিয়েছেন দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। তার মতে, রাশিয়ার সঙ্গে নতুন যুক্ত হওয়া অঞ্চল রক্ষায় পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।

রাশিয়ার মূল ভুখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে যাওয়া ইউক্রেনীয় অঞ্চলগুলোকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে রুশ সেনারা।

এমনটাই জানিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা দিমিত্রি মেদভেদেভ।

তিনি বলেন, ‘মস্কোর অস্ত্রাগারে থাকা কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র সহ যে কোনো অস্ত্র ইউক্রেন থেকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাওয়া অঞ্চলগুলো রক্ষা করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।’

নিজস্ব টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেয়া এক বার্তায় মেদভেদেভ ইউক্রেনীয় অঞ্চলে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথাও বলেছেন। একই সঙ্গে বলেছেন, এরপরে সেখানে (ইউক্রেনের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হওয়ার) ফিরে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে গত বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ভৌগলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সব উপায় ব্যবহার (পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারে প্রচ্ছন্ন হুমকি) করা হবে। ইউক্রেনে লড়তে ৩ লাখ রিজার্ভ সেনা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রাশিয়ায় যোগদানের জন্য আজ থেকেই ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন, জাপোরিজ্জা ও মাইকোলাইভে ভোট গ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে।

এই অঞ্চলগুলো যদি রাশিয়ার মূল ভুখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে রাশিয়ার পারমাণবিক নীতি অনুযায়ী ভৌগলিক অখণ্ডতা হুমকিতে পড়লে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে।

তবে রাশিয়ার এই পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহারের প্রচ্ছন্ন হুমকির মধ্যেই ইউএস স্ট্রাটেজিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল চার্লস রিচার্ড বুধবার মেরিল্যান্ডে আয়োজিত এক কনফারেন্সে বলেন, ‘স্নায়ুযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো সমকক্ষ প্রতিপক্ষের সঙ্গে পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাবনা মোকাবেলা করছে যুক্তরাষ্ট্র।’

রাশিয়ার হাতে কতটি পরমাণু অস্ত্র

কোন দেশে কতটি পরমাণু অস্ত্র আছে, সে তথ্যগুলো আনুমানিক। ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্টের হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার কাছে আছে ৫ হাজার ৯৭৭টি পরমাণু ওয়ারহেড। ওয়ারহেড হলো পরমাণু অস্ত্রের অগ্রভাগ, যেটা পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটায়।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার এসব ওয়ারহেডের মধ্যে প্রায় দেড় হাজারকে বাতিল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। দেশটির কাছে থাকা বাকি সাড়ে চার হাজারের মতো অস্ত্র কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র হিসেবে পরিচিত।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা রকেট, যা দিয়ে অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যায়। এই অস্ত্রগুলো পরমাণু যুদ্ধে ব্যবহার হয়।

রাশিয়ার হাতে থাকা বাকি অস্ত্রগুলো ছোট, কম ধ্বংসাত্মক পরমাণু অস্ত্র। এগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে স্বল্পপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে কিংবা সমুদ্রে ব্যবহার করার উপযোগী। এ ছাড়া সাবমেরিন থেকেও রাশিয়ার আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা রয়েছে।

ইউক্রেন পরিস্থিতিতে পারমাণবিক যুদ্ধ কতটা বাস্তব?

ইউক্রেনে রুশ বাহিনী কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসছে, এমন দাবি পশ্চিমাদের। এদিকে ইউক্রেনকে সহায়তায় ন্যাটোভুক্ত দেশ ট্যাংকের মতো আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহ করছে।

যদিও সরাসরি ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশ ইউক্রেন যুদ্ধে জড়ায়নি, এরপরও ইউক্রেনকে অস্ত্র দেয়ার বিষয়টি ভালো চোখে দেখছে না রাশিয়া। এরই মধ্যে পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহের ওপর ভর করে যুদ্ধে বেশ সফলতা দেখিয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার দখলকৃত সব অঞ্চল পুনরুদ্ধারের আগ পর্যন্ত সেনারা থামবে না।

এমন অবস্থায় যে কৌশলগত পরমাণু বোমা ব্যবহারকে একসময় অসম্ভব ভাবা হতো, তার সম্ভাবনা এখন বাড়ছে।

১৯৯১ সালে স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পর কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রগুলো আর কৌশলগত চিন্তার অংশ নয়। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধে এই অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা ক্রমে বাড়ছে।

১৯৬২ সালে কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন নিয়ে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক সংঘাতে জড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এখন প্রায় ৫০ বছর পর এসে আবারও ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান পারমাণবিক সংঘাতের বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে আসছে।

রাশিয়ার পারমাণবিক হামলায় পশ্চিমা প্রতিক্রিয়া কী হবে?

রাশিয়া যদি ইউক্রেনে সীমিত পরিসরেও পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার করে, তাতে পশ্চিমাদের প্রতিক্রিয়া কী হবে? তা বলা মুশকিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, রাশিয়া যদি পারমাণবিক, রাসায়নিক বা জীবাণু অস্ত্রের হামলা চালায়, যুক্তরাষ্ট্র চুপ করে বসে থাকবে না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এখন পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার হয়নি। এদিকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে ওয়ারশোতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ওয়ারশো মেমোরেন্ডাম নামে পরিচিত।

যদিও সেই চুক্তি পশ্চিমারাই লঙ্ঘন করেছে ও পূর্ব ইউরোপের সোভিয়েত ব্লকের অনেকেই এখন ন্যাটো সদস্য। এমনকি ইউক্রেনের সঙ্গে প্রাথমিক বিরোধও ন্যাটোর সদস্য হওয়া নিয়েই।

আরও পড়ুন:
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে পুতিনকে হুঁশিয়ারি বাইডেনের
ইজিউমের গণকবরে ‘নির্যাতনের চিহ্ন’
রাশিয়ার শহরে ইউক্রেনের হামলা
সড়ক দুর্ঘটনায় ‘সামান্য আহত’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট
বাইবেলের ধ্বংসলীলার পথে হাঁটছে পশ্চিম: রাশিয়া

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Demonstrations in Russia over Putins military build up announcement

পুতিনের সেনা সমাবেশের ঘোষণার প্রতিবাদে রাশিয়ায় বিক্ষোভ

পুতিনের সেনা সমাবেশের ঘোষণার প্রতিবাদে রাশিয়ায় বিক্ষোভ আংশিক সেনা সমাবেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের আটক করেছে রুশ পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়াভিত্তিক মানবাধিকার গ্রুপ ওভিডি-ইনফো জানিয়েছে, ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে রাজধানী মস্কো ও গুরুত্বপূর্ণ শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মস্কোর প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, রাস্তায় যেকোনো অনুমোদনহীন প্রতিবাদে আহ্বান ও অংশগ্রহণের জন্য ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

ইউক্রেনে সংঘাতের কারণে পুতিনের আংশিক সেনা সমাবেশের প্রতিবাদে রাশিয়ায় হওয়া মিছিল থেকে শত শত বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়াভিত্তিক মানবাধিকার গ্রুপ ওভিডি-ইনফো জানিয়েছে, ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে রাজধানী মস্কো ও গুরুত্বপূর্ণ শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ ছাড়াও সাইবেরিয়ান শহর, ইরকুতস্ক, উয়েকাটেরিনবার্গসহ রাশিয়ার বেশ কয়েক স্থানে প্রতিবাদ মিছিল হয়েছিল।

বুধবার মস্কোর প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, রাস্তায় যেকোনো অনুমোদনহীন প্রতিবাদে আহ্বান ও অংশগ্রহণের জন্য ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এ ধরনের প্রতিবাদকারীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীকে অসম্মান করা, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান সম্পর্কে ভুয়া খবর ছড়ানো বা অপ্রাপ্ত বয়স্কদের প্রতিবাদ করতে উৎসাহিত করার বিরুদ্ধে আইনের আওতায় বিচার করা হতে পারে।

এদিকে পুতিনের সমাবেশ ঘোষণার পর রাশিয়া থেকে ছাড়া ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি বেড়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবিগুলোতেও টিকিট বিক্রির লাইনে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

বুধবারই প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু দেশব্যাপী সংঘবদ্ধতার অধীনে তিন লাখ রিজার্ভ সেনা ডাকার কথা জানিয়েছেন।

শোইগু জানিয়েছেন, এই সেনা সমাবেশের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের জন্য প্রযোজ্য হবে না, এমনকি নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্যও নয়। শুধু যারা সামরিক বাহিনীতে কাজ করেছেন, তাদেরই ডাকা হবে।

যাদের ডাকা হবে তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এরা এমন লোক নয়, যারা সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছু শোনেনি, এরা তারাই যারা সামরিক বাহিনীতে চাকরি শেষ করেছে, যাদের সামরিক বিশেষত্ব আছে... এবং সামরিক অভিজ্ঞতাও রয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার ২ কোটি ৫০ লাখ সেনা সমাবেশের সক্ষমতা রয়েছে। সেই হিসাবে যে সেনা সমাবেশ করার কথা বলা হয়েছে তা সক্ষমতার ১ শতাংশের কিছু বেশি।

আরও পড়ুন:
জার্মানি চূড়ান্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে: রাশিয়া
খারকিভ পুনরুদ্ধার, কিয়েভের বড় সাফল্য
৩ বছরের মধ্যে ‘রাশিয়া-পোল্যান্ড সামরিক সংঘাত’
রূপপুরের জন্য রাশিয়া থেকে এলো ১৪২১ টন যন্ত্রপাতি
রাশিয়া থেকে সুখোই কিনতে চলেছে ইরান

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Those who will be called to Russias partial military assembly

রাশিয়ার আংশিক সেনা সমাবেশে যাদের ডাকা হবে

রাশিয়ার আংশিক সেনা সমাবেশে যাদের ডাকা হবে মাতৃভূমি রক্ষায় আংশিক সেনা সমাবেশের ডাক দিয়েছেন পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু জানিয়েছেন, এই সেনা সমাবেশের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের জন্য প্রযোজ্য হবে না, এমনকি নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্যও নয়। শুধু যারা সামরিক বাহিনীতে কাজ করেছেন, তাদেরই ডাকা হবে।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষিত আংশিক সেনা সমাবেশের বিস্তারিত জানিয়েছে ক্রেমলিন।

রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবারই প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু দেশব্যাপী সংঘবদ্ধতার অধীনে তিন লাখ রিজার্ভ সেনা ডাকার কথা জানিয়েছেন।

শোইগু জানিয়েছেন, এই সেনা সমাবেশের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের জন্য প্রযোজ্য হবে না, এমনকি নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্যও নয়। শুধু যারা সামরিক বাহিনীতে কাজ করেছেন, তাদেরই ডাকা হবে।

যাদের ডাকা হবে তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এরা এমন লোক নয়, যারা সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছু শোনেনি, এরা তারাই যারা সামরিক বাহিনীতে চাকরি শেষ করেছে, যাদের সামরিক বিশেষত্ব আছে... এবং সামরিক অভিজ্ঞতাও রয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার ২ কোটি ৫০ লাখ সেনা সমাবেশের সক্ষমতা রয়েছে। সেই হিসাবে যে সেনা সমাবেশ করার কথা বলা হয়েছে তা সক্ষমতার ১ শতাংশের কিছু বেশি।

এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশটিতে আংশিক সমন্বিত সামরিক প্রস্তুতি ঘোষণা করেছেন।

রেকর্ডকৃত এক টেলিভিশন ভাষণে আংশিক সামরিক সংহতি ঘোষণা দেয়ার সময় পুতিন অভিযোগ করে বলেন, পশ্চিমারা রাশিয়াকে ধ্বংস করতে চায় এবং এ জন্য ইউক্রেনের জনগণকে তারা কামানের খোসায় পরিণত করার চেষ্টা করছে।

রাশিয়ার আংশিক সেনা সমাবেশে যাদের ডাকা হবে
রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু

মাতৃভূমি রক্ষায় এই আংশিক সেনা সমাবেশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুতিন।

এ সময় তিনি রাশিয়ার সঙ্গে প্রক্সি যুদ্ধ শুরু করার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি দায় দিয়েছেন।

পুতিন বলেন, ‘যদি আমাদের দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা হুমকির সম্মুখীন হয়, রাশিয়া এবং আমাদের জনগণকে রক্ষা করার জন্য, আমরা আমাদের হাতে থাকা সব উপায় ব্যবহার করব। এটি কোনো ফাঁকা বুলি নয়।

‘যারা পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে আমাদের ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে তাদের জানা উচিত যে বিরাজমান বাতাস তাদের দিকে ঘুরতে পারে।’

পুতিন ঘোষণায় জানিয়েছেন, রাশিয়ার অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর জন্য তিনি অর্থায়ন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার থেকেই আংশিক সমন্বিত সামরিক প্রস্তুতির কার্যক্রম শুরু হবে।

এর মানে হচ্ছে, রুশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় আরও অবদান রাখতে হবে। রিজার্ভ সেনাদের প্রয়োজনে ডাকা হতে পারে।

যেহেতু রাশিয়ার নিরাপত্তা হুমকিতে, সে ক্ষেত্রে এ ঘোষণার আলোকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারও করতে পারে রুশ সেনারা।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘোষণা এমন সময় এলো যখন দনবাস অঞ্চলের রুশ স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ চলতি মাসেই রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে গণভোটের আয়োজন করতে যাচ্ছে।

এর আগে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় যোগদানকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পুতিন বলেছিলেন, দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চান তিনি।

ক্রেমলিনের দাবি, নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ভূমিকা পালনের ইস্যুতে আলোচনা থেকে বেরিয়ে গেছে কিয়েভই।

আরও পড়ুন:
খারকিভ পুনরুদ্ধার, কিয়েভের বড় সাফল্য
৩ বছরের মধ্যে ‘রাশিয়া-পোল্যান্ড সামরিক সংঘাত’
রূপপুরের জন্য রাশিয়া থেকে এলো ১৪২১ টন যন্ত্রপাতি
রাশিয়া থেকে সুখোই কিনতে চলেছে ইরান
ধনীদের যেন ঈশ্বর কবুল করেন: রুশ চার্চপ্রধান

মন্তব্য

p
উপরে