× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Pelosi asked for peace in Taiwan raising tensions
hear-news
player
print-icon

উত্তেজনা বাড়িয়ে তাইওয়ানে শান্তি চাইলেন পেলোসি

উত্তেজনা-বাড়িয়ে-তাইওয়ানে-শান্তি-চাইলেন-পেলোসি
যুক্তরাষ্ট্রের হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। ছবি: সংগৃহীত
জাপান সফররত ন্যান্সি পেলোসি টোকিওতে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তিনি বারবার পুনরাবৃত্তি করেছেন যে তিনি স্বশাসিত দ্বীপটিতে শান্তি চান এবং স্থিতাবস্থার ধারাবাহিকতা চান। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, চীন বিভিন্ন উপায়ে তাইওয়ানকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর নিয়ে এরই মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। পুরো তাইওয়ানকে চারদিক থেকে ঘিরে মহড়া চালাচ্ছে পরাশক্তি চীন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান ছেড়ে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো স্বশাসিত দ্বীপটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

জাপান সফররত ন্যান্সি পেলোসি টোকিওতে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তিনি বারবার পুনরাবৃত্তি করেছেন যে তিনি স্বশাসিত দ্বীপটিতে শান্তি চান এবং স্থিতাবস্থার ধারাবাহিকতা চান।

কিন্তু একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, চীন বিভিন্ন উপায়ে তাইওয়ানকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়।

তিনি তার সফরের প্রসঙ্গে বলেছেন, তাইওয়ানে কে সফর করবে বা না করবে, তা চীন সরকার ঠিক করতে পারে না। তার জন্য এই সফর নয়, এটি তাইওয়ানের সমৃদ্ধ হতে থাকা গণতন্ত্রকে উদযাপনের জন্য।

এমনকি শুধু চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য দেশটির মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখতে নারাজ পেলোসি।

তিনি বলেন, যদি বাণিজ্যিক সম্পর্কের চিন্তায় চীনের মানবাধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কথা না বলে, তবে অন্যান্য স্থানের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলার অধিকার হারাবে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সফরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনায় সামরিক মহড়া চালাচ্ছে চীন।

পুরো তাইওয়ানকে ঘিরে ধরে মহড়া চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে তাইওয়ানের বিমানবন্দরে ৫০টি ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণ বাতিল করেছে।

তাইওয়ানের উপকূলের পানিসীমায় চীনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ডংফেং এসে পড়েছে। প্রথমবারের মতো চীনের সেনারা তাইওয়ানের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

পুরো তাইওয়ান ঘিরে চলমান মহড়ায় তাজা গোলাবারুদ ব্যবহার করছে চীন।

এমন পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং ভূমিভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রও মোতায়েন করেছে তারা।

চলমান উত্তেজনাতেও তাইওয়ানের নাগরিকদের জীবনযাপন স্বাভাবিক হলেও নাগরিকরা উদ্বিগ্ন।

যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান উপকূলে বিমানবাহী রণতরি পাঠিয়েছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, বর্তমান উত্তেজনার কারণে বিমানবাহী রণতরি পাঠানো হয়নি। রুটিন অপারেশনের অংশ হিসেবেই রোনাল্ড রিগ্যান রণতরি সেখানে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
চীনের ড্রোন লক্ষ্য করে ফ্লেয়ার ছুড়ল তাইওয়ান
সেপ্টেম্বরে দুয়ার খুলবে যুক্তরাষ্ট্র
তাইওয়ানকে ঘিরে ৫ দিনের সামরিক মহড়া চীনের
তাইওয়ানের সামরিক সক্ষমতা কতটুকু
উন্মাদ পেলোসি তাইওয়ানে কেন: ট্রাম্প

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Salman Rushdie has a good sense of humor

সালমান রুশদির রসবোধ অক্ষুণ্ন

সালমান রুশদির রসবোধ অক্ষুণ্ন ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক সালমান রুশদি। ফাইল ছবি
নিউ ইয়র্কে শুক্রবার সকালে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় হামলার শিকার হন ৭৫ বছরের সালমান রুশদি। এক ব্যক্তি মঞ্চে ওঠে তার ঘাড়ে ও পেটে ১০-১৫ বার ছুড়ি দিতে আঘাত করে। ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় হামলাকারী হাদি মাতারকে।

ভয়ঙ্কর হামলার পর হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসাধীন সালমান রুশদি। জটিল অস্ত্রোপচারের পর মাত্র কথা বলার সক্ষমতা ফিরে পেয়েছেন। এর মধ্যেও সহজাত ও অদম্য রসবোধ হারাননি আলোচিত এই ঔপন্যাসিক।

এক টুইটে রোববার এ কথা জানান রুশদির ছেলে জাফর রুশদি।

জাফর লিখেছেন, ‘আমার বাবা জীবন বদলে দেয়া আঘাত সহ্য করেছেন। তবু তিনি পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন।’

এর আগে লেখকের এজেন্ট অ্যান্ড্রু ওয়াইলি জানিয়েছিলেন, সালমান রুশদির চিকিৎসা চলছে। সময় লাগবে সেরে উঠতে। কারণ আঘাতগুলো গুরুতর।

নিউ ইয়র্কে শুক্রবার সকালে এক অনুষ্ঠানে হামলার শিকার হন ৭৫ বছরের সালমান রুশদি। লেবানিজ বংশোদ্ভূত যুবক হাদি মাতার মঞ্চে উঠে তার ঘাড়ে ও পেটে ১০-১৫ বার ছুরি দিতে আঘাত করে। পরে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় হাদিকে।

রুশদির ছেলে শুক্রবার এক টুইটে লিখেছিলেন, ‘হামলার পর আমার বাবা গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।’

শনিবার রুশদিকে ভেন্টিলেটর থেকে সরিয়ে নেয়ার পর জাফর বলেছিলেন, ‘স্বস্তি পাচ্ছি। বাবা কিছুটা কথা বলতে পেরেছেন।’

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ উপন্যাস দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। শুধু যুক্তরাজ্যেই বইটির ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়।

১৯৮৮ সালে দ্য স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাস লেখার পর থেকে বছরের পর বছর প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছেন এই লেখক। দ্য স্যাটানিক ভার্সেস তার রুশদির চতুর্থ উপন্যাস। এই বই লেখার জন্য রুশদিকে ৯ বছর আত্মগোপনে থাকতে হয়।

পরাবাস্তববাদী ও উত্তর-আধুনিক এই উপন্যাসটি কিছু মুসলিমের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। ইরান ও বাংলাদেশসহ কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশে বইটি নিষিদ্ধও করা হয়। বইটি প্রকাশের এক বছর পর, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি রুশদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আহ্বান জানান । তার মাথার জন্য ৩০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন খোমেনি।

তারপরও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন রুশদি। এক পর্যায়ে ইরান সরকার সরে আসে খোমেনির ডিক্রি থেকে।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেস প্রকাশনার পর সহিংসতায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ছিলেন উপন্যাসটির জাপানি ভাষায় অনুবাদকও। রুশদির ব্রিটিশ এবং আমেরিকান নাগরিকত্ব রয়েছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে একজন সোচ্চার কণ্ঠ তিনি।

আরও পড়ুন:
রুশদির ওপর হামলায় স্তম্ভিত তসলিমা
সময়ক্রম: স্যাটানিক ভার্সেস থেকে রুশদিকে ছুরিকাঘাত
রুশদির ওপর হামলাকারী কে এই হাদি মাতার
রুশদি ভেন্টিলেশনে, হারাতে পারেন চোখ
সালমান রুশদিকে ২০ সেকেন্ডে ১০-১৫ বার ছুরিকাঘাত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Washingtons thoughts on Delhis role in transporting Russian oil

রুশ তেল পরিবহনে দিল্লির ভূমিকায় ওয়াশিংটনের চিন্তা 

রুশ তেল পরিবহনে দিল্লির ভূমিকায় ওয়াশিংটনের চিন্তা 
দিল্লি বলছে, রাশিয়ার তেলপণ্য ভারতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করায় ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন।

রাশিয়া থেকে তেল কিনে যুক্তরাষ্ট্রে তা পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ভারতের বিরুদ্ধে। ওয়াশিংটনের দাবি, গভীর সাগরে রুশ ট্যাংকার থেকে ভারতীয় জাহাজে তেল তোলা হয়েছিল। গুজরাট বন্দর থেকে সে তেলবাহী জাহাজ নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছে।

এ ঘটনায় দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটন যোগাযোগ করেছে। ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মাইকেল পাত্রের বরাতে শনিবার এ খবর ছেপেছে রয়টার্স।

পাত্রের ভাষ্য, একটি ভারতীয় জাহাজ গভীর সাগরে রাশিয়ান ট্যাংকার থেকে তেল তুলেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিকে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় জাহাজ এই তেল পশ্চিম উপকূলে গুজরাট রাজ্যের একটি বন্দরে পৌঁছে দেয়, যেখানে তেল প্রক্রিয়া করা হয়। তারপর তা নিউ ইয়র্কে পাঠানো হয়।

ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপনে ওড়িশায় একটি অনুষ্ঠানে পাত্র বলেন, ‘আপনারা জানেন যে যারা রাশিয়ান তেল কিনছেন, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কদিন আগে গভীর সাগরে ভারতীয় জাহাজের সঙ্গে রাশিয়ান ট্যাংকারের দেখা হয়েছিল। সেখানে রুশ ট্যাংকার থেকে ভারতীয় জাহাজে তেল নেয়া হয়। পরে এটি গুজরাটের একটি বন্দরে চলে আসে।

‘সেই বন্দরে এ তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এতে তেল পাতনে রূপান্তরিত হয়েছিল, যা মূলত প্লাস্টিক তৈরিতে কাজে লাগে। পরিশ্রুত আউটপুট সেই জাহাজে আবার রাখা হয়েছিল এবং এটি গন্তব্যহীন যাত্রা করেছিল। মাঝসাগরে এটির কোর্স ঠিক হলে নিউ ইয়র্কে পৌঁছায়।’

কর্মকর্তা বিতর্কিত জাহাজের নাম প্রকাশ করেননি। জাহাজের বিস্তারিতও জানা যায়নি।

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরের শুরুতে রাশিয়ার তেল ও তেলপণ্য নিষিদ্ধ করে। এই নিষেধাজ্ঞায় মতামত জানায়নি দিল্লি।

ইউক্রেন যুদ্ধের আগে রাশিয়া থেকে অল্প পরিমাণে তেল কিনত ভারত। তবে নিষেধাজ্ঞায় মুখে পরে রাশিয়া তেলের দামে ছাড় দিলে সুযোগটাকে কাজে লাগায় ভারত। গত মার্চ থেকে রুশ তেল কেনা ১০ গুণ বাড়িয়েছে দিল্লি।

ব্লুমবার্গ বলছে, জুনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির (ভারত) দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে সৌদি আরবকে ছাড়িয়ে গেছে রাশিয়া। ইরাকের পরই এখন মস্কোর অবস্থান।

দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

আরও পড়ুন:
যুদ্ধের থ্রিল নিতে পর্যটক ডাকছে ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠান
ইউরোপে রুশ তেলের পাইপলাইন বন্ধ করল ইউক্রেন
ইউরোপে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা জাতিসংঘের
‘রাজাকার’ ধরতে ইউক্রেনীয় শহরে অভিযান
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে মুসলমানরা কোন পক্ষে?

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Church fire in Giza kills at least 41 including children

গিজায় চার্চে আগুন, শিশুসহ কমপক্ষে ৪১ মৃত্যু

গিজায় চার্চে আগুন, শিশুসহ কমপক্ষে ৪১ মৃত্যু
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গিজার কপটিক আবু সিফিন গির্জায় বৈদ্যুতিক তার থেকে আগুন লাগে। এ সময় গির্জায় ৫ হাজারের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিল। আগুনের কারণে বের হওয়ার পথটি বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প পথে সবাই এক সঙ্গে নামার চেষ্টা করেছিল। এতে পদদলিত হয়ে অনেক মৃত্যু হয়।  

মিসরের একটি চার্চে আগুনের ঘটনায় শিশুসহ কমপক্ষে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাড়াহুড়ো করে পালাতে গিয়ে পিষ্ট হয়ে মারা গেছেন অনেকে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে আগুন লাগে চার্চটিতে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গিজার কপটিক আবু সিফিন চার্চে বৈদ্যুতিক তার থেকে আগুন লাগে। এ সময় চার্চে ৫ হাজারের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আগুনের কারণে বের হওয়ার পথটি বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প পথে সবাই এক সঙ্গে নামার চেষ্টা করেছিল। এতে পদদলিত হয়ে অনেক মৃত্যু হয়।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

পাশের একটি গির্জার ফাদার ফরিদ ফাহমি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লেগেছিল।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। তারা একটি জেনারেটর ব্যবহার করছিল। বিদ্যুৎ ফিরে এলে, ওভারলোডের কারণে আগুন ধরে যায়।’

আগুন লাগার পর থেকে উপাসকরা তাদের মুহূর্তগুলো ব্যাখ্যা করছেন।

ইয়াসির মুনির নামে এক উপাসকবলেন, ‘তৃতীয় এবং চতুর্থ তলায় লোকজন জড়ো হচ্ছিল। আমরা দ্বিতীয় তলা থেকে ধোঁয়া আসতে দেখেছি। তখন লোকজন সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করে।’

‘তারপর আমরা একটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। আমি এবং তার মেয়ে নিচতলায় ছিলাম। তাই পালাতে পেরেছি।

এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেন, ‘নিরাপরাধ এসব মানুষের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’

প্রসিকিউটরের কার্যালয় বলছে, আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে একটি দল পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
১৩ বছর পর মিসর সফরে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মিসরে ফারাও সাম্রাজ্যের চেয়েও পুরোনো সমাধি
মিসরে তিন হাজার বছর আগের শহর আবিষ্কার
রাজপথে ফারাও সম্রাটদের ‘মমিযাত্রা’ শনিবার
মিসরে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৩২

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Even though the price of oil is the same the bus fare in Kolkata is less than in Dhaka
বাস ভাড়ায় নৈরাজ্য-৯

তেলের দাম সমান হলেও কলকাতায় বাস ভাড়া ঢাকার চেয়ে কম

তেলের দাম সমান হলেও কলকাতায় বাস ভাড়া ঢাকার চেয়ে কম পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও বাংলাদেশের ঢাকার বাস ভাড়াতেও রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। ছবি: নিউজবাংলা
২০১৮ সালে সবশেষ সেখানে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল, যখন ডিজেলের দর ছিল লিটারে ৬২ রুপি। এখন সেই দর ৯৪, মাঝে উঠেছিল ১০৬। তবে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়নি। প্রথম চার কিলোমিটারের ভাড়া ৮ রুপি, এরপর প্রতি কিলোমিটার ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ সেখানে বেশি দূরত্বে গেলে ভাড়া কমে। কিন্তু ঢাকায় কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ঠিক করে দেয়া হয়েছে আড়াই টাকা। যাত্রী যত দূরই যাক না কেন, ভাড়ার হার একই। অবশ্য ঢাকার মতো কলকাতাতেও বাড়তি আদায়ের অভিযোগ আছে।

জ্বালানি তেলের দাম পশ্চিমবঙ্গের সমান করার পর রাজ্যের রাজধানী কলকাতার বাস ভাড়ার ক্ষেত্রে সেখানকার উদাহরণ আর গ্রহণ করা হয়নি।

সেখানে বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ঢাকার সমান হলেও প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ঢাকার চেয়ে কম। সেখানে বাসে টিকিট দেয়া হয়, যা ঢাকায় নেই।

আবার কলকাতায় একজন যাত্রী বেশি দূরত্বের গন্তব্যে গেলে তার ভাড়ার হার কমে আসে, সেটি ঢাকা তো দূরের কথা, বাংলাদেশের কোথাও নেই।

এখানে দূরপাল্লায় ৫০ কিলোমিটারের ক্ষেত্রে ভাড়ার যে হার, ৫০০ কিলোমিটারের ক্ষেত্রেও একই হার। অথচ এই দেশের লঞ্চের ক্ষেত্রে উদাহরণ আছে যে বেশি দূরত্বে গেলে ভাড়ার হার কম হয়।

ভারতের জ্বালানি তেলের দাম নিয়মিত ওঠানামা করে বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে। আর দাম বাড়লে বা কমলেই বাস ভাড়া বাড়ে বা কমে না।

২০১৮ সালে সবশেষ সেখানে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল, যখন ডিজেলের দর ছিল লিটারে ৬২ রুপি। এখন সেই দর ৯৪, মাঝে উঠেছিল ১০৬। তবে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়নি।

সে সময় বাস ভাড়া ঠিক করা হয় প্রথম চার কিলোমিটারের জন্য ৮ রুপি এবং পরের প্রতি কিলোমিটারের জন্য ৭৫ পয়সা করে। আবার বেশি দূরত্বে গেলে সেটিও কমে আসে।

কিন্তু বাংলাদেশে ভাড়া ঠিক করার ক্ষেত্রে এই স্ল্যাব রাখা হয়নি। এখানে ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রতি কিলোমিটার সরাসরি আড়াই টাকা আর দূরপাল্লায় ঠিক করা হয়েছে ২ টাকা ২০ পয়সা হারে।

অবশ্য কলকাতাতেও ঢাকার মতোই বাস ভাড়া বেশি আদায় করার প্রমাণ মিলছে। তার পরও যতটা বেশি নিচ্ছে, সেটি ঢাকায় নির্ধারণ করা হারের চেয়ে সাশ্রয়ী। ঢাকায় নির্ধারিত হারের চেয়ে অনেক বেশি ভাড়া আদায় করা হয়। এমনকি সরকারি পরিবহন কোম্পানি বিআরটিসি ও সরকারি আবাসন সংস্থা রাজউকের বাসেও বেশি আদায় হয়। এর মধ্যে হাতিরঝিলে রাজউক পরিচালিত চক্রাকার বাসে ভাড়া যেকোনো বেসরকারি কোম্পানির ভাড়ার হারের চেয়ে অনেক বেশি।

কলকাতায় বাসের ভাড়া নির্ধারণ যে পদ্ধতিতে

২০১৮ সালের চার্ট অনুযায়ী বাসের ন্যূনতম ভাড়া ৮ রুপি, যেটি বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ টাকার মতো। এর পরের ১২ কিলোমিটার গেলে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া যোগ করা হয় ৭৫ পয়সা হারে।

অর্থাৎ কেউ ১২ কিলোমিটার গেলে ভাড়া হবে ১৪ রুপি, যা বাংলাদেশের মুদ্রায় ১৭ টাকা।

কিন্তু বাংলাদেশে ১২ কিলোমিটারের জন্য ভাড়া ৩০ টাকা, আদায় করা হচ্ছে কোথাও ৪০, কোথাও তার চেয়ে বেশি।

অথচ দেশেই সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া ৪০ টাকা, অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে পড়ে ২০ টাকা। এরপর প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১২ টাকা। প্রতি মিনিটে ওয়েটিংয়ে ২ টাকা।

লঞ্চ ভাড়ার ক্ষেত্রেও আছে একই উদাহরণ। প্রথম ১০০ কিলোমিটারের জন্য কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ৩০ পয়সা আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি হলে তখন প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া হয় ২ টাকা হারে।

বিআরটিএ চুপ, যাত্রীর পক্ষের লোকরা অসহায়

ঢাকার তুলনায় কলকাতার যাত্রীদের বাস ভাড়া কম নির্ধারণের বিষয়ে সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গত ৬ আগস্ট বাস ভাড়া বাড়িয়ে দেয়ার পর সড়কে যেসব বিশৃঙ্খলা ও বাড়তি ভাড়ার সমস্যা ছিল, সেগুলো নিয়ে পরদিন থেকে নিউজবাংলা প্রতিবেদন তৈরির জন্য বহুবার বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদারের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করেছে।

বহু ফোন তিনি উপেক্ষা করেছেন। একবার কল করে এসএমএস পাঠাতে বলেন। তার কাছে অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন রেখে এসএমএস পাঠানো হলেও তিনি জবাব দেননি।

যাত্রী অধিকার নিয়ে সোচ্চার সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বরাবরই বলে আসছি আমাদের দেশে মালিকদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয় না।’

প্রতিবেশী দেশগুলো সেবার মানের দিকে এগিয়ে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যাত্রীসেবার মান তলানিতে। লক্কড়-ঝক্কড় বাসকে সর্বোচ্চ দামের ধরে ভাড়া ঠিক করা হয়। এসব অনিয়ম নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) কিছুই বলে না।’

গণপরিবহন নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাস ভাড়া বৃদ্ধির সময় ১৮টি খাত বিবেচনা করে ভাড়া বাড়ানো হয়। যেগুলো কিছুটা অতিরঞ্জিত। অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবে ওই ক্ষেত্রে ব্যয় হয় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।’

তিনি বলেন, ‘বাস কোম্পানির হিসাবে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। এ ছাড়া কিছু হিডেন কস্ট রয়েছে। যেমন, চাঁদা।’

ওয়েবিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ওয়েবিল নামে কোনো দর্শন পৃথিবীর কোথাও নেই। বাংলাদেশের মালিক সমিতি তাদের উদ্ভাবনী মেধাশক্তি দিয়ে এই প্রথা চালু করেছে। কিন্তু এই মেধা যদি তারা যাত্রীসেবায় ব্যয় করত, তাহলে যাত্রীদের সেবার মানের অনেক উন্নতি হতো।

বাড়তি ভাড়া আদায়ের সমস্যা কলকাতাতেও আছে

ঢাকার মতোই কলকাতাতেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের সমস্যা আছে। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে ঝগড়াঝাটিও নিয়মিত হয়। বাড়তি ভাড়া আদায়ে বাসে ভুয়া টিকিট বিতরণের অভিযোগও আছে।

যেমন প্রথম চার কিলোমিটারে নির্ধারিত ভাড়ার ৮ রুপির জায়গায় তেলের বাড়তি দরের কথা বলে ১০ রুপি নেয়া হচ্ছে। পরের স্টেজে ১০ রুপি দিয়ে যে ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত যাওয়া যেত, এখন সেখানে ১৫ রুপি নেয়া হচ্ছে। তারপর স্টেজে ১৮ কিলোমিটার পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ রুপি নেয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন রুটে একই দূরত্বের জন্য বিভিন্ন রকম ভাড়া নেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন অঞ্চলে বাস মালিকরা তাদের নিজেদের মতো করে ভাড়া ঠিক করে নিয়েছেন।

আমতলা শিয়ালদা ২৩৫ নম্বর রুটে ন্যূনতম বাস ভাড়া ১০ রুপি। পরের স্টেজে বেহালা থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারের জন্য দিতে হচ্ছে ১৫ রুপি। আবার আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে সল্টলেক নিউ টাউন বাসে ধর্মতলা থেকে করুণাময়ী পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ কিলোমিটারের জন্য ২০ থেকে ২৫ রুপি ভাড়া নেয়া হচ্ছে।

২৩৯ নম্বর রুটে বাবুঘাট নিউ টাউন বাসে ন্যূনতম ভাড়া ১০ রুপি। কিন্তু তার পরের ধাপে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটারের জন্য কোথাও ১৫ কোথাও ২০ আবার কোথাও ২৫ রুপি পর্যন্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে।

এ নিয়ে প্রবল বচসা, উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে প্রতিদিন।

বাস মালিক ও যাত্রী- দুই পক্ষই চাইছে সরকার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন বাস ভাড়ার তালিকা দিক। তাহলে কোনো পক্ষের আর ঠকতে হয় না।

তবে সরকারি বাসে কোনো ভাড়া বাড়েনি । বাড়তি ভাড়া নেয়ার বিষয় নেই। কিন্তু রাস্তায় সরকারি বাসের দেখা মেলা ভার।

রবীন্দ্রসদন থেকে ২৩০ নম্বর বাসে উঠেছেন রীনা রায়, যাবেন শিয়ালদা। তার সাফ কথা, 'ফেয়ার চার্ট দেখাতে হবে। আর বাড়তি ভাড়ার টিকিট দিতে হবে। তাহলে কোনো অসুবিধা নেই।'

শিয়ালদা থেকে বড়িষা যাবেন পীযূষ কান্তি সরকার। বাস ভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার ফেয়ার চার্ট দিচ্ছে না। যে যার মতো ভাড়া নিচ্ছে! মগের মুলুক চলছে।'

এ প্রসঙ্গে রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সম্প্রতি বলেন, 'যদি অতিরিক্ত ভাড়া চান কন্ডাক্টর, তাকে ভাড়াটা দিয়ে টিকিটটা নিন। তারপর যেখানে নামছেন, সেখানকার স্থানীয় থানায় ওই বাসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করুন। সেই অভিযোগের রিসিভ কপি আমাকে পাঠিয়ে দিন। আমি পরিবহন দপ্তরের কর্মকর্তাদের বলব, ওই বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।’

বাসভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে লাগাতার আন্দোলন করে চলেছে এসইউসিআই পার্টি। দলের নেতা প্রভাশিস জানার অভিযোগ, বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগে বিভিন্ন থানায় অভিযোগ করে সেই কপি পরিবহন দপ্তরে পাঠানো হলেও সরকারের তরফে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ‘সরকার ভাড়া বাড়াবে না এ কথা বলে, কার্যত মালিকদের সুবিধা করে দিয়েছে। জনগণের ওপর অলিখিতভাবে বাড়তি ভাড়ার বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকার সব জেনে বুঝে কোনো দায়িত্ব নিচ্ছে না।'

বেহালা শিয়ালদা মিনিবাস রুটের ড্রাইভার বাবুল লস্কর বলছেন, 'যখন ৮ টাকা ন্যূনতম ভাড়া ছিল, তখন এক লিটার ডিজেলের দাম ছিল ৬২ টাকা। আর এখন ১০০ টাকা ছুঁইছুঁই করছে। তেলের দাম যদি কমে, সে অনুযায়ী সরকার যদি ভাড়ার তালিকা দেয়, সবাই তালিকা অনুযায়ী ভাড়া দিলে, কোনো ঝামেলা থাকবে না।'

বড়িশা জয়েন্ট কাউন্সিল বাস সিন্ডিকেটের অমল সাহা বলেন, ‘বাস ভাড়া নিয়ে মাঝেমধ্যে গণ্ডগোল হয়। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে সবাই, সব মেনে নিচ্ছেন। মেনে নিয়েই কাজ করছেন। সরকারের কাছে বারবার বলা হয়েছে, কিন্তু কেউ নতুন ভাড়ার তালিকা দিচ্ছে না। উল্টো হুমকি দিচ্ছে, আগের ভাড়াই দিতে হবে। এভাবে তো আর গাড়ি চলে না। কিন্তু পাবলিক মোটামুটি মেনে নিয়েছেন। এই অবস্থায় গাড়ি চলছে।’

আরও পড়ুন:
বাস ভাড়ার প্রতারণা কাদেরকে জানালেন জাফরউল্লাহ
বিআরটিএ ঘুমিয়ে, ফায়দা নিয়েই যাচ্ছে রাইদা
স্বাধীন পরিবহন ভাড়া কাটে ‘স্বাধীনভাবে’
কার কাছে বিচার দেবেন বাসযাত্রীরা
বাস ভাড়ায় স্বল্প দূরত্বে স্বস্তি দিল বিআরটিএ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
India Pakistan silence on Rushdie issue

রুশদি ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানে নীরবতা

রুশদি ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানে নীরবতা ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক সালমান রুশদি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে শুক্রবার সকালে সালমান রুশদি ছুরি হামলার শিকার হন। অস্ত্রোপচারের পর তার অবস্থা এখন কিছুটা উন্নতির দিকে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত রুশদির ওপর হামলা নিয়ে নীরবতা পালন করছেন ভারত ও পাকিস্তানের বিশিষ্টজনরা।

ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক সালমান রুশদির ওপর সন্ত্রাসী হামলায় গোটা বিশ্বের বুদ্ধিজীবী-লেখকরা যখন স্তম্ভিত, তখন প্রায় নিরুত্তাপ ভারতীয় উপমহাদেশ।

যুক্তরাজ্যের সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত রুশদির ওপর হামলা নিয়ে নীরবতা পালন করছেন পাকিস্তানের বিশিষ্টজনরা।

রুশদির জন্ম ভারতের মুম্বাইয়ে হলেও দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে শুক্রবার সকালে সালমান রুশদি ছুরি হামলার শিকার হন। অস্ত্রোপচারের পর তার অবস্থা এখন কিছুটা উন্নতির দিকে।

৭৫ বছর বয়সী রুশদি তার উপন্যাস দ্য স্যাটানিক ভার্সেসের জন্য হত্যার হুমকি মাথায় নিয়ে ঘুরছিলেন। বইটির বিরুদ্ধে মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবমাননার অভিযোগ রয়েছে।

স্যাটানিক ভার্সেস লেখার জন্য ৩৩ বছর আগে ইরানের তৎকালীন প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি তার ও তার বইয়ের প্রকাশকদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেন। রুশদির ওপর শুক্রবার হামলার প্রশংসা করেছেন খামেনি।

গার্ডিয়ান লিখেছে, পাকিস্তানে ধর্মীয় অবমাননা খুব সংবেদনশীল ইস্যু। অনেক সময় এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণ না হলেও বড় ধরনের সহিংসতা ঘটে।

পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসির ২০১১ সালে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে তার নিরাপত্তারক্ষীর হাতে নিহত হন। তাসির ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি আসিয়া বিবি নামে একজন খ্রিস্টান নারীকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

একজন মুসলিম নারীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আসিয়া আঘাত করেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছিল।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশদির ওপর হামলার প্রতিবাদ করলে বা এ ইস্যুতে কথা বললে পাকিস্তানে হত্যার হুমকির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে কেউ কথা বলছেন না।

পাকিস্তানের লেখক ও ঔপন্যাসিকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছে গার্ডিয়ান, তবে কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি।

অলাভজনক সংবাদ সংস্থা রাইজ নিউজের প্রতিষ্ঠাতা ভ্যানগাস একটি টুইটে লিখেছেন, ‘কেউ কেউ এখনও সালমান রুশদির উপর টুইট করবেন কিনা তা নিয়ে ভাবছেন। আপনি নিজেকে একজন লেখক, সাংবাদিক এবং কর্মী বলছেন, অথচ সহিংসতার নিন্দা করার সাহস আপনার নেই। আপনার নীরবতাই সবকিছু বলে দিচ্ছে। আপনি যেই হোন না কেন বিবেকবান হলে আপনি সহিংসতাকে কখনও উৎসাহ জোগাবেন না।’

সিরিল আলমেদা নামের একজন সাংবাদিক বলেছেন, ‘ইরানি ফতোয়ার ধোঁয়াশার মধ্যে অনেকেই ভুলে গেছেন, রুশদির বিরুদ্ধে প্রথম বিক্ষোভগুলোর কিছু হয়েছিল পাকিস্তানে। তবে সালমান তাসিরের হত্যাকাণ্ড সেই বিষয়টিকে বহুগুণে ছাড়িয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আসিয়া বিবির ঘটনা ধর্মান্ধতার একটি ঢেউ তুলেছে। এটি সমাজকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, আজ (পাকিস্তানের) ভোটের বিচারে সবচেয়ে বড় দলগুলোর মধ্যে একটি দল ব্লাসফেমি আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের এজেন্ডা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অল্পসংখ্যক কর্মী বা লেখক কথা বলার সাহস রাখেন।’

রুশদির ওপর হামলা নিয়ে পাকিস্তানের মতোই নীরব ভারত। ভারতই প্রথম দেশ হিসেবে ১৯৮৮ সালে দ্য স্যাটানিক ভার্সেস নিষিদ্ধ করে।

রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় ভারত সরকার বা দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি দেয়া হয়নি।

স্যাটানিক ভার্সেস বইটি বের হওয়ার সময় কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল। তারা দ্রুত বইটি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। সে সময়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন নটবর সিং। রুশদির ওপর হামলার পর শনিবার তিনি বইটির ওপর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কারণে সে সময় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।’

নটবর সিং ভারতীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়াকে বলেন, “তখনকার প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী বইটি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আমার মতামত জানতে চেয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম, ‘সারা জীবন আমি বই নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করে এসেছি। তবে যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কথা আসে, তখন রুশদির মতো একজন মহান লেখকের বইও নিষিদ্ধ করা উচিৎ।”

রাজীব গান্ধী সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে নটবর সিং বলেন, ‘পুরো মুসলিম বিশ্ব তখন জ্বলে উঠছিল। আমাদের বিপুল সংখ্যক মুসলিম নাগরিক রয়েছে। তা ছাড়া এই সময়ে বইটিতে যা আছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। রক্ষণশীল মুসলিম গোষ্ঠী এবং আলেমরা বইটি না পড়া সত্ত্বেও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তারা বই নিষিদ্ধের দাবিতে রাস্তায় প্রতিবাদের অংশ হিসাবে কপিগুলো পুড়িয়ে দিয়েছিলেন।’

বর্তমান ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি সে সময় ওই সিদ্ধান্তের কারণে রাজীব গান্ধীকে অভিযুক্ত করেছিল। দলটি বলেছিল, মত প্রকাশের স্বাধীনতার তোয়াক্কা না করে মুসলিম ভোটের জন্য কংগ্রেস সরকার বইটি নিষিদ্ধ করেছে।

রুশদি ক্ষুব্ধ হয়ে রাজীব গান্ধীকে চিঠি লিখেছিলেন।

কয়েক দশক পরে এখন ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। সে সময় প্রতিবাদ করলেও এই সময়ে এসে বিজেপি সরকার রুশদির ওপর হামলা নিয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

কিছু রক্ষণশীল মুসলিম গোষ্ঠীও রুশদির উপর হামলার বিষয়ে বিবৃতি না দেয়াকে বেছে নিয়েছে। বিজেপি সহিংস কর্মকাণ্ডকে সমর্থনের অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করতে পারে এমন আশঙ্কায় গোষ্ঠীগুলো চুপ থাকছে।

রুশদি ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ উপন্যাস দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। শুধু যুক্তরাজ্যেই বইটির ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল।

১৯৮৮ সালে দ্য স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাস লেখার পর থেকে বছরের পর বছর ধরে প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছিলেন এই লেখক।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেস রুশদির চতুর্থ উপন্যাস। এই বই লেখার কারণে রুশদিকে ৯ বছর আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেস প্রকাশের পর সহিংসতায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন, যার উপন্যাসটির জাপানি ভাষায় অনুবাদকও রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
কথা বলতে পারছেন রুশদি
রুশদির হামলাকারীর নামে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
রুশদির হামলাকারী হাদি ছিলেন ‘ধর্মপ্রাণ’, শিখছিলেন বক্সিং
রুশদির ওপর হামলার প্রশংসায় আয়াতুল্লাহ খামেনি
রুশদির ওপর হামলায় স্তম্ভিত তসলিমা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Modi mourns the death of billionaire Jhunjhunwala

ভারতের ‘ওয়ারেন বাফেট’ ঝুনঝুনওয়ালার মৃত্যু

ভারতের ‘ওয়ারেন বাফেট’ ঝুনঝুনওয়ালার মৃত্যু ভারতের পুঁজিবাজারে অন্যতম বিনিয়োগকারী রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা। সিএনবিসি-টিভি
শোকবার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অদম্য ও কিংবদন্তি বিনিয়োগকারী রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার অবদান ভোলার নয়। গোটা দেশের উন্নয়ন নিয়ে তিনি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তার এই প্রয়াণ অনেক দুঃখের। তার পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি আমার সমবেদনা।’

ভারতের পুঁজিবাজারে অন্যতম বিনিয়োগকারী ও দেশটির ৩৬তম ধনী রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার মৃত্যু হয়েছে। তার এয়ারলাইনস আকাশা এয়ারের বাণিজ্যিকভাবে উদ্বোধনের এক সপ্তাহের মাথায় মৃত্যু হয় তার।

সেই অনুষ্ঠানে হুইলচেয়ারে করে এসেছিলেন তিনি। পরে সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বেশ কয়েক দিন ধরেই তিনি শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন তিনি। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে নেয়ার আগে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

তার মৃত্যুতে পুঁজিবাজার, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শোকবার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অদম্য ও কিংবদন্তি বিনিয়োগকারী রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার অবদান ভোলার নয়। গোটা দেশের উন্নয়ন নিয়ে তিনি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তার এই প্রয়াণ অনেক দুঃখের। তার পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি আমার সমবেদনা।’

পুঁজিবাজারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক এই প্রভাবশালী ঝুনঝুনওয়ালাকে বলা হয় ভারতের ওয়ারেন বাফেট। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ারেন বাফেটকে বলা হয় সর্বকালের সেরা বিনিয়োগকারী।

সব মিলিয়ে তিন ডজনেরও বেশি কোম্পানিতে ঝুনঝুওয়ালার ব্যাপক মাত্রায় বিনিয়োগ ছিল। টাইটান, স্টার হেলথ, টাটা মোটরস এবং মেট্রো ব্র্যান্ড ছিল তার সবচেয়ে বড় হোল্ডিং। তিনি হাঙ্গামা মিডিয়া ও অ্যাপটেকের চেয়ারম্যানও ছিলেন।

প্রভাবশালী এই ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী দালাল স্ট্রিটের ‘বিগ বুল’ নামে পরিচিত। ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক তিনি। তিনি ভারতের ৩৬তম ধনী বিলিয়নেয়ার ছিলেন।

জি গ্রুপের চেয়ারম্যান, রাজ্যসভার সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্যাবসায়িক অংশীদার সুভাষ চন্দ্র, জেট এয়ারের সিইও ভিনয় দুবে, ইন্ডিগো প্রধান অদিত্য ঘোষও শোক জানিয়েছেন।

মন্তব্য

কথা বলতে পারছেন রুশদি

কথা বলতে পারছেন রুশদি ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি। ছবি: এএফপি
হামলাস্থল নিউ ইয়র্কের চৌতাউকা ইনস্টিটিউশনের প্রেসিডেন্ট মাইকেল হিল টু্‌ইট বার্তায় বলেন, ‘সালমান রুশদিকে ভেন্টিলেটর থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং তিনি কথা বলছেন। সবার কাছে প্রার্থনার আবেদন রইল।’

ছুরিকাঘাতের এক দিন পর ঔপন্যাসিক সালমান রুশদির অবস্থার উন্নতি হলে তাকে ভেন্টিলেটর থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি এখন কথা বলতে পারছেন।

হামলাস্থল নিউ ইয়র্কের চৌতাউকা ইনস্টিটিউশনের প্রেসিডেন্ট মাইকেল হিল এমনটি নিশ্চিত করেছেন।

টু্‌ইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘সালমান রুশদিকে ভেন্টিলেটর থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং তিনি কথা বলছেন। সবার কাছে প্রার্থনার আবেদন রইল।’

শুক্রবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে সালমান রুশদি হামলার শিকার হন এবং অস্ত্রোপচারের পর তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। অবস্থার উন্নতি হলে তাকে ভেন্টিলেটর থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।

রুশদির এজেন্ট অ্যান্ড্রু ওয়াইলি যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমকে স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে জানিয়েছিলেন, লেখক একটি চোখ হারাতে পারেন।

কথা বলতে পারছেন রুশদি
সালমান রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় আটক হাদি মাতার আদালতে। ছবি: এপি

রুশদিকে ছুরিকাঘাত করা সন্দেহভাজন যুবক হাদি মাতারের নামে শনিবার হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।

নিউ ইয়র্কের চৌতাউকা কাউন্টির প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, হামলাকারী হাদি মাতারকে হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার সব ধরনের জামিন বাতিল করা হয়েছে।

মাতারের বিরুদ্ধে একটি স্থানীয় শিক্ষাকেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠান মঞ্চে দৌড়ে সালমান রুশদি এবং তার সাক্ষাৎকারকারীর ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত রুশদির অস্ত্রোপচারের পর তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। সেখানে লেখকের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল।

৭৫ বছর বয়সী সালমান রুশদি তার উপন্যাস দ্য স্যাটানিক ভার্সেসের জন্য বছরের পর বছর হত্যার হুমকি পেয়ে এসেছেন। বইটিকে অনেক মুসলমান ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবমাননা বলে মনে করেন।

চৌতাউকা ইনস্টিটিউশনে হামলার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল নিউ জার্সির ফেয়ারভিউ থেকে মাতারকে আটক করা হয়।

হামলার পরদিন স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হয় তাকে। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। সন্দেহভাজন হাদি মাতারের মুখে মাস্ক ও পরনে ছিল কারাগারের পোশাক।

ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেসন এসমিডট একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘এটি একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায় মাত্র।’

রুশদির ওপর হামলায় জড়িত অভিযোগে হাদি মাতারকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে পুলিশ।

তার বইয়ের এজেন্ট এন্ড্রু ওয়াইলি জানিয়েছেন, সম্ভবত তিনি এক চোখ হারিয়েছেন। রুশদির অবস্থা ভালো নয়।

আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পুলিশের হাতে আটক হাদি মাতারের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় হলেও তিনি নিউ জার্সির ফেয়ারভিউ এলাকায় বসবাস করছিলেন।

হাদির জন্মের আগে তার বাবা-মা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ইয়ারুন থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় পাড়ি জমান। ইয়ারুন পৌরসভার প্রধান আলী কাসেম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লেবাননের সংবাদপত্র ডেইলি আন-নাহারকে তিনি বলেন, হাদির জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে, তিনি কখনও ইয়ারুনে আসেননি।

হাদির বিরুদ্ধে এখনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ বলছে, রুশদির অবস্থা দেখে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হবে হাদির বিরুদ্ধে।

হাদি মাতারের আগের রেকর্ড জানতে এবং হামলার উদ্দেশ্য বের করতে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সহায়তা চেয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ।

নিউ ইয়র্ক পুলিশের মেজর ইউজিন স্ট্যানিসজেউস্কি বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ছুরিকাঘাতের উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাদির অ্যাকাউন্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি শিয়া চরমপন্থা এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রতি সহানুভূতিশীল।

হাদির ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়েও তথ্য পেয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ।

নিউ ইয়র্কের শাটোকোয়া ইনস্টিটিউশনের শুক্রবার সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় সালমান রুশদির ওপর হামলা চালান হাদি মাতার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রুশদিকে ২০ সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ বার ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার পর রুশদি তৎক্ষণাৎ মেঝেতে পড়ে যান। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে লেখককে ঘিরে ফেলেন। অনুষ্ঠানে আনুমানিক আড়াই হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘রুশদিকে মুহূর্তের মধ্যে বেশ কয়েকবার আঘাত করা হয় এবং তিনি তার রক্তের ওপরই লুটিয়ে পড়েন।’

হামলায় সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী হেনরি রিসও মাথায় সামান্য আঘাত পেয়েছেন। রিস একটি অলাভজনক সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা; যা নিপীড়নের হুমকির মধ্যে থাকা নির্বাসিত লেখকদের জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ উপন্যাস দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। শুধু যুক্তরাজ্যেই বইটির ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল।

১৯৮৮ সালে দ্য স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাস লেখার পর থেকে বছরের পর বছর প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছেন এই লেখক।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেস রুশদির চতুর্থ উপন্যাস। এই বই লেখার জন্য রুশদিকে ৯ বছর আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেস প্রকাশনার পর সহিংসতায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ছিলেন উপন্যাসটির জাপানি ভাষায় অনুবাদকও।

আরও পড়ুন:
রুশদির হামলাকারীর নামে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
রুশদির হামলাকারী হাদি ছিলেন ‘ধর্মপ্রাণ’, শিখছিলেন বক্সিং
রুশদির ওপর হামলার প্রশংসায় আয়াতুল্লাহ খামেনি
রুশদির ওপর হামলায় স্তম্ভিত তসলিমা
সময়ক্রম: স্যাটানিক ভার্সেস থেকে রুশদিকে ছুরিকাঘাত

মন্তব্য

p
উপরে