× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
4 dead in earthquake in Philippines
hear-news
player
print-icon

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃত ৪, আহত ৬০

ফিলিপাইনে-ভূমিকম্পে-মৃত-৪-আহত-৬০
ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভবন। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিপাইনের উত্তরের প্রদেশ আবরার বহু বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। জরুরি বিভাগের কর্মীরা ছাড়াও স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দারাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ ৭.১ মাত্রার বললেও ফিলিপাইনের সিসমোলজি ইনস্টিটিউট বলছে, ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৩ মাত্রার।  

ফিলিপাইনের লুজন দ্বীপে বুধবার রিখটার স্কেলে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে দেশটির উত্তর প্রদেশের একটি হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি ভবন বাজেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের ফলে এ পর্যন্ত ৪ জন মারা গেছেন ও আহত হয়েছেন ৬০ জন।

মারা যাওয়াদের মধ্যে ১ জন ও আহতদের মধ্যে ২৫ জনই আবরা প্রদেশের। আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

দেশটির উত্তরের প্রদেশের বহু বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। জরুরি বিভাগের কর্মীরা ছাড়াও স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দারাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে।

রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ ৭.১ মাত্রার বললেও ফিলিপাইনের সিসমোলজি ইনস্টিটিউট বলছে, ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৩ মাত্রার।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল দেশটির ডোলোরস শহরের প্রায় ১১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বের ১০ কিলোমিটার গভীরে। রাজধানী ম্যানিলাতেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।

উত্তরের আবরা প্রদেশে ভূমিকম্পের ফলে ধসে পড়া হাসপাতাল থেকে সবাইকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সেখানেও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

২ লাখ ৫০ হাজার বাসিন্দার আবরা প্রদেশের গভর্নর জয় বার্নোস তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতালের ছবি পোস্ট করেছেন।

লাগানগিলাং শহরের মেয়র রোভলিন ভিলামোর বলেন, ‘আমরা এখনো আফটারশক অনুভব করছি। বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়েছি। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’

ভূমিকম্পের ফলে প্রদেশটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। আফটারশকের কারণে এখনো বাসিন্দারা ঘরে থাকতে পারছেন না। তারা খোলা স্থানে অবস্থান করছেন।

ভূমিকম্পের পরে রাজধানী ম্যানিলাতেও মেট্রো চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ ও ভূকম্পনগতভাবে সক্রিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অফ ফায়ারে ফিলিপাইনের অবস্থান। রিং অফ ফায়ার মূলত একটি আগ্নেয়গিরি ও ফল্ট লাইনের ব্যান্ড, প্রশান্ত মহাসাগরের ধারে বৃত্তাকারে এর অবস্থান।

আরও পড়ুন:
ফিলিপাইনের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্টের অক্সফোর্ড ডিগ্রি জালিয়াতি
সুপার টাইফুনে ফিলিপাইনে মৃত্যু বেড়ে ৩৭৫
টাইফুনে লন্ডভন্ড ফিলিপাইন, নিহত অন্তত ৭৫
‘ঈশ্বরের পুত্র’ ধর্মযাজক জড়ালেন নারী পাচার মামলায়
যৌনমিলনের সর্বনিম্ন বয়স বাড়ছে ফিলিপাইনে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Europes water is drying up electricity production is decreasing

শুকিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের জলাধার, কমছে বিদ্যুৎ উৎপাদন

শুকিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের জলাধার, কমছে বিদ্যুৎ উৎপাদন
পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ব্যবহার করা হয় পানি; পানি নিয়ে সংকটময় সময় পার হওয়ার এই সময়ে এ উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০ ভাগ কমে এসেছে যুক্তরাজ্যে।

পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতিতে শুকিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নদ-নদী,খাল-বিলসহ পানির উৎস, তৈরি হচ্ছে শুষ্ক অবস্থা। এ প্রেক্ষাপটে প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। এই মুহূর্তে বড় ধরনের সংকটে না পড়লেও আগামী দিনে আসলে যুক্তরাজ্য এবং ওই সব দেশের বিদ্যুতের অবস্থা কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে প্রতিদিনই।

পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ব্যবহার করা হয় পানি; পানি নিয়ে সংকটময় সময় পার হওয়ার এই সময়ে এ উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০ ভাগ কমে এসেছে যুক্তরাজ্যে। খরাময় অবস্থা শুধু যে বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে তা-ই নয়, এই সমস্যা ছড়িয়ে পড়েছে অন্য ক্ষেত্রেও।

বিবিসি বলছে, পারমাণবিক স্থাপনায় যেখানে নদীর পানি ব্যবহার করে ঠান্ডা পরিবেশ তৈরি করা হয়; সেখানেও পানির ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের মতো দেশেও সামনের শীতে জানুয়ারিতে শিল্প-কারখানা ও সাধারণ পরিবারগুলোর জন্যও সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হতে পারে।

দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির’ বিষয় মাথায় রেখে সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করার পরও সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ছয় ভাগের এক ভাগ ঘাটতি থাকবে।

এদিকে টেমস নদী আগের থেকে অনেক বেশি শুকিয়ে গেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দিয়েছে খরা। এ অবস্থায় দক্ষিণ, মধ্য ও পূর্ব ইংল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে খরা পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ সরকার। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল গ্রিড বিদ্যুৎ বিপর্যয় এড়াতে বিশালসংখ্যক গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে।

বিবিসি বলছে, ইউরোপে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পানি। কিন্তু নদী ও জলাশয়ে পানির অভাব এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ফেলছে।

ইতালিতে মোট বিদ্যুতের পাঁচ ভাগের এক ভাগ পাওয়া যায় পানিবিদ্যুৎ থেকে। অথচ গত ১২ মাসে এই উৎসের বিদ্যুৎ কমে এসেছে ৪০ ভাগ।
প্রায় একই অবস্থা স্পেনেও। এ দেশে উৎপাদন কমেছে ৪৪ ভাগ। পানি বিদ্যুৎ নিয়ে সংকটে পড়েছে নরওয়েও।

বিদ্যুৎ নিয়ে গবেষণা করা ফ্যাবিয়ান রনিনগেন বলেছেন, এ প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমবেশি হতে পারে। তবে উৎপাদন ৪০ ভাগ কম মানে হলো, চরম পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

তিনি বলেন, পানিবিদ্যুৎ নিয়ে এই পরিসংখ্যান শুধু ইউরোপের একটি অংশে কার্যকর তা নয়। এমন ঘটনা ঘটেছে সব বড় বড় পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোতেও। সব জায়গায়ই বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে।

এটি সত্যিই একটি বড় প্রভাব, মন্তব্য করেন ফ্যাবিয়ান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদ্যুৎ নিয়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে যদি দুই দেশ বিদ্যুৎ সংকটে পড়ে তাহলে আসলে কী ঘটবে কেউই তা জানে না।

আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শিল্পাঞ্চলে জোনভিত্তিক ছুটি নির্ধারণ
জার্মানিতে বিদ্যুতের দাম বেড়ে ৫ গুণ
সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল কৃষকের

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Taslima is shocked by the attack on Rushdie

রুশদির ওপর হামলায় স্তম্ভিত তসলিমা

রুশদির ওপর হামলায় স্তম্ভিত তসলিমা তসলিমা নাসরিন ও সালমান রুশদি। ছবি: সংগৃহীত
টুইটে তসলিমা নাসরিন লেখেন, ‘এইমাত্র জানলাম, নিউ ইয়র্কে হামলার শিকার হয়েছেন সালমান রুশদি। আমি সত্যিই স্তম্ভিত। এমনটা হবে, তা কখনোই ভাবিনি।’

ভারতে জন্ম নেয়া ব্রিটিশ-আমেরিকান ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক সালমান রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় স্তম্ভিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের শাটোকোয়া ইনস্টিটিউশনে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় হামলার শিকার হন রুশদি। এতে গুরুতর আহত লেখককে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে।

হামলার প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে শুক্রবার রাত ও শনিবার সকালে বেশ কিছু পোস্ট করেন তসলিমা।

প্রথম ‍টুইটে তসলিমা লেখেন, ‘এইমাত্র জানলাম, নিউ ইয়র্কে হামলার শিকার হয়েছেন সালমান রুশদি। আমি সত্যিই স্তম্ভিত। এমনটা হবে, তা কখনোই ভাবিনি।

‘তিনি পশ্চিমে বসবাস করে আসছিলেন এবং ১৯৮৯ সাল থেকেই তিনি সুরক্ষায় আছেন। যদি তার ওপর হামলা হয়, তাহলে ইসলামের সমালোচনা করা যে কেউ হামলার শিকার হতে পারেন। আমি উদ্বিগ্ন।’

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুকার পুরস্কারজয়ী রুশদিকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তার ওপর এ হামলার কারণ নিয়ে আরেক টুইটে তসলিমা লেখেন, ‘লোকজন বলছে, মন্তব্য করার আগে চলুন জেনে নিই কেন হামলা হয়েছে রুশদির ওপর। যেহেতু তিনি ইসলামপন্থিদের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন, সেহেতু তাকে কোনো ইসলামপন্থি যে হত্যাচেষ্টা করতে পারে, সেটি কল্পনা করা কি খুব কঠিন?’

সালমান রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় হাদি মাতার নামের একজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

এ নিয়ে করা টুইটে তসলিমা লেখেন, ‘২৪ বছর বয়সী ইরানীয়-আমেরিকান হাদি মাতার রুশদির ওপর হামলা করেছেন। হাদি মাতারের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আয়াতুল্লাহ খোমেনির ছবি ছিল, যিনি ১৯৮৯ সালে রুশদির বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছিলেন…এখন হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে ধারণা করতে পারেন।’

আরও পড়ুন:
নিউ ইয়র্কে সালমান রুশদির ঘাড়ে ছুরিকাঘাত, হামলাকারী আটক
‘তাহলে কি টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেলেন সুস্মিতা?’
ফেসবুকে এবার ‘মৃত’ নয়, ‘সীমিত’ তসলিমা
আনিসুলের কান্নায় তসলিমার কটাক্ষ
আমার কীভাবে করোনা হলো: তসলিমা নাসরিন

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Chronology The Satanic Verses to Rushdies Stab

সময়ক্রম: স্যাটানিক ভার্সেস থেকে রুশদিকে ছুরিকাঘাত

সময়ক্রম: স্যাটানিক ভার্সেস থেকে রুশদিকে ছুরিকাঘাত 'দ্য স্যাটানিক ভার্সেস' বই হাতে সালমান রুশদি। ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ধর্মকে হেয় করার অভিযোগে ইরানের প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রহুল্লাহ খোমেনি সালমান রুশদি ও তার বইয়ের প্রকাশকদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেছিলেন। এমনকি তিনি বলেছিলেন, কেউ রুশদিকে হত্যা করতে গিয়ে নিহত হলে সে শহীদ, সে জান্নাতে যাবে।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত বুকার জয়ী লেখক সালমান রুশদি ছুরি হামলায় আহত হয়ে এখন নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ৩৩ বছর আগেই স্যাটানিক ভার্সেস বইয়ে ইসলাম ধর্মকে হেয় করার অভিযোগে ইরানের প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রহুল্লাহ খোমেনি তার ও তার বইয়ের প্রকাশকদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেছিলেন। এমনকি তিনি বলেছিলেন, কেউ রুশদিকে হত্যা করতে গিয়ে নিহত হলে সে শহীদ, সে জান্নাতে যাবে। দ্য স্যাটানিক ভার্সেস বইটি নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নিউজবাংলা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

সেপ্টেম্বর ২৬, ১৯৮৮: ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশিত হয়।

ফেব্রুয়ারি ১২, ১৯৮৯: যুক্তরাষ্ট্রে এই বই বিক্রির প্রতিবাদে পাকিস্তানে আন্দোলন শুরু হয়। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ১৯৮৯: ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রহুল্লাহ খোমেনি বিশ্বের সব মুসলিমকে রুশদিকে হত্যা করার আহ্বান জানান।

ফেব্রুয়ারি ২৪, ১৯৮৯: প্রায় ১০ হাজার বিক্ষোভকারী ভারতের মুম্বাইতে ব্রিটিশ হাইকমিশনের দিকে রওনা দিলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি করে। সেখানে পুলিশের গুলিতে ১২ জন মারা যান।

মে ২৭, ১৯৮৯: ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাইরে স্যাটানিক ভার্সেস প্রকাশের প্রতিবাদে প্রায় ৩০ হাজার ইরাকপন্থি ও ইরানপন্থি জড়ো হলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

সেপ্টেম্বর, ১৯৮৯: ব্রিটেনের প্রকাশক সংস্থা পেঙ্গুইন পাবলিশার্স যারা রুশদির বইটি প্রকাশ করেছিল, তাদের একটি বইয়ের দোকানের বাইরে ৪টি বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল।

জুলাই ৩, ১৯৯১: স্যাটানিক ভার্সেসের ইতালীয় ভাষায় অনুবাদকারী ইত্তোরে ক্যাপরিওলোকে তার ফ্ল্যাটেই ছুরি নিয়ে আক্রমণ করা হয়। আক্রমণকারী ছিলেন একজন ইরানি।

জুলাই ১২, ১৯৯১: বইটির জাপানি ভাষায় অনুবাদকারী হিতোশি ইগারাশিকে টোকিওতে ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয় এবং হত্যাকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। হিতোশি ছিলেন তুলনামূলক সংস্কৃতির একজন স্কলার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক। যিনি সত্তরের দশকে ইরানে পড়াশোনা করেন।

সেপ্টেম্বর ৭, ১৯৯৫: খোমেনির দেয়া ফতোয়ার ৬ বছর পর লন্ডনে প্রথম জনসমক্ষে বের হন সালমান রুশদি।

ফেব্রুয়ারি ১২, ১৯৯৭: ফতোয়ার ৮ বছর পর ইরানের বিপ্লবী ১৫তম খোরদাদ ফাউন্ডেশন রুশদির মাথার জন্য ঘোষিত পুরস্কার বৃদ্ধি করে ২৫ লাখ ডলার করে।

সেপ্টেম্বর ২২, ১৯৯৮: ইরানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি রুশদির ফতোয়ার বিষয়টি এক অর্থে বাতিল করে দিয়ে বলেন, ‘বিষয়টি শেষ।’

সেপ্টেম্বর ২৪, ১৯৯৮: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খাররাজি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবিন কুকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, রুশদির জীবনের জন্য হুমকি হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না ইরান। এমনকি কাউকে এমন কিছু করতে উৎসাহিতও করবে না।

সেপ্টেম্বর ২৮, ১৯৯৮: ইরানের গণমাধ্যম জানায়, ৩ জন ইরানি ধর্মগুরু ইসলামের অনুসারিদের ফতোয়ার অধীনে রুশদিকে হত্যার আহ্বান জানান।

অক্টোবর ৪, ১৯৯৮: ইরানের ১৬০ জন পার্লামেন্ট মেম্বার এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, রুশদির বিরুদ্ধে দেয়া ফতোয়া জারি থাকবে।

অক্টোবর ১০, ১৯৯৮: ইরানের ছাত্ররা রুশদির হত্যার পুরস্কার দিতে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ডলার সংগ্রহ করে।

ফেব্রুয়ারি ৩, ১৯৯৯: মুম্বাইয়ে জন্ম নেয়া রুশদিকে ভারত ভিসা প্রদান করে। সে সময় দেশটির মুসলিমরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে।

জুন ১৫, ২০০৭: সাহিত্যে অবদানের জন্য রুশদিকে নাইটহুড উপাধিতে ভূষিত করেন ব্রিটিশ রানী এলিজাবেথ। পাকিস্তান, ইরান ও মালয়েশিয়া এর কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানায়।

জানুয়ারি ২০, ২০১২: ভারতের জয়পুরে একটি সাহিত্য উৎসবে সালমান রুশদির উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কয়েকটি মুসলিম গোষ্ঠীর প্রতিবাদের মুখে তিনি উৎসবে আর যোগ দেননি।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১২: ইরানের একটি ধর্মীয় ফাউন্ডেশন তার মাথার জন্য ৩৩ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে।

জুন ২০, ২০১৪: অন্য লেখকদের সাহায্য করার জন্য এবং বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখায় তাকে পেনটার (পেন) প্রাইজ দেয়া হয়।

অক্টোবর ১৩, ২০১৫: ফ্রাঙ্কফ্রুট বইমেলায় রুশদির উপস্থিতির জন্য ইরানের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় সেই বইমেলা থেকে নিজেদের অংশগ্রহণ প্রত্যাহার করে নেয়।

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৬: ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া আউটলেট রুশদিকে হত্যার জন্য ৬ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে।

জুন ১, ২০২২: ব্রিটিশ রানীর জন্মদিনে রুশদিকে ‘কম্পানিয়ন অফ অনার’ করা হয়।

আগস্ট ১২, ২০২২: পশ্চিম নিউ ইয়র্কের শাটোকোয়া ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় সালমান রুশদির ওপর হামলা চালায় এক তরুণ। আহত রুশদির কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সার্জারির পর তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার বইয়ের এজেন্ট এন্ড্রু ওয়াইলি এক মেইলে জানিয়েছেন, সালমান সম্ভবত এক চোখ হারিয়েছেন, তার নার্ভেও আঘাত লেগেছে, তার লিভার ছুরির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রুশদির ওপর হামলাকারী কে এই হাদি মাতার
রুশদি ভেন্টিলেশনে, হারাতে পারেন চোখ
সালমান রুশদিকে ২০ সেকেন্ডে ১০-১৫ বার ছুরিকাঘাত
নিউ ইয়র্কে সালমান রুশদির ঘাড়ে ছুরিকাঘাত, হামলাকারী আটক

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Ukraines Western allies will be responsible for the nuclear disaster

‘পারমাণবিক বিপর্যয়ে দায়ী থাকবে ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা’

‘পারমাণবিক বিপর্যয়ে দায়ী থাকবে ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা’ চেরনোবিল দুর্ঘটনায় পরিত্যক্ত ভবন। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেছেন, পারমাণবিক অবকাঠামোতে কিয়েভের অপরাধমূলক আক্রমণ বিশ্বকে একটি পারমাণবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে, যা চেরনোবিলের মতো ঘটনার জন্ম দেবে এবং ইউরোপকে সবচেয়ে বড় তেজস্ক্রিয় দূষণের দিকে নিয়ে যাবে। এর প্রভাব রাজধানী কিয়েভসহ অন্তত আটটি ইউক্রেনীয় অঞ্চলকে প্রভাবিত করতে পারে। এ ছাড়া লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক ছাড়াও মলদোভা, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও বেলারুশেরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইউরোপের সবচেয়ে বড় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র জাপোরিজ্জা রুশ সেনাদের নিয়ন্ত্রণে। কিয়েভের দাবি, সেখানে সমরাস্ত্র জমা করে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে রুশ সেনারা। পাল্টা অভিযোগ করে কিয়েভ বলছে, ইউক্রেনীয় সেনারা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গোলা নিক্ষেপ করছে।

রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, কিয়েভের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড বিশ্বকে বড় পারমাণবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার আমাদের পশ্চিমা সহকর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছি যে, তারা কিয়েভের সঙ্গে কথা বলতে ব্যর্থ হলে এটি সবচেয়ে জঘন্য ও বেপরোয়া পদক্ষেপ নেবে, যার পরিণতি ইউক্রেনের বাইরেও পড়বে।’

ভ্যাসিলি এ সময় পশ্চিমাদের উদ্দেশে বলেন, যেকোনো পারমাণবিক বিপর্যয়ের জন্য কিয়েভের পশ্চিমা সমর্থকদেরই দায় বহন করতে হবে।

তার মতে, পারমাণবিক অবকাঠামোতে কিয়েভের অপরাধমূলক আক্রমণ বিশ্বকে একটি পারমাণবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে, যা চেরনোবিলের মতো ঘটনার জন্ম দেবে এবং ইউরোপকে সবচেয়ে বড় তেজস্ক্রিয় দূষণের দিকে নিয়ে যাবে। এর প্রভাব রাজধানী কিয়েভসহ অন্তত আটটি ইউক্রেনীয় অঞ্চলকে প্রভাবিত করতে পারে। এ ছাড়া লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক ছাড়াও মলদোভা, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও বেলারুশেরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

‘পারমাণবিক বিপর্যয়ে দায়ী থাকবে ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা’
জাতিসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া

নেবেনজিয়া আরও বলেন, এই ধরনের মাত্রার পারমাণবিক বিপর্যয় কল্পনা করা কঠিন।

রুশ সেনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনীয় শহর এনারগোদারে অবস্থিত জাপোরিজ্জা প্ল্যান্টটি গত কয়েক সপ্তাহ যাবৎ ধারাবাহিক হামলার শিকার হচ্ছে।

চীন সমস্যা সমাধানে ইউক্রেন ও রাশিয়াকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতির জন্য রাশিয়াকেই দায়ী করছে।

গত ৬ আগস্ট ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শনিবার রাশিয়ার রকেট হামলায় পারমাণবিক স্থাপনার গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। তিনটি তেজস্ক্রিয় শনাক্তকরণ যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যেকোনো তেজস্ক্রিয় লিকের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় তা শনাক্তকরণ ও বিকিরণ প্রতিরোধ অসম্ভব হয়ে গেছে।

কিয়েভ বলছে, এবার ভাগ্যক্রমে পারমাণবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেলেও বার বার ভাগ্য সহায়ক হবে না।

এমন পরিস্থিতিতে আইএইএ প্রধান রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি বলেছেন, ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গোলাগুলির খবরে তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

জাতিসংঘের আণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা (আইএইএ) ইউক্রেনের জাপোরিজ্জা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

গ্রসি বলেছেন, শুক্রবারের হামলা পারমাণবিক বিপর্যয়ের সত্যিকারের ঝুঁকি তৈরি করেছে, যা ইউক্রেন এবং এর বাইরে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

আমরা বারবার আমাদের পশ্চিমা সহকর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছি যে, তারা কিয়েভের সঙ্গে কথা বলতে ব্যর্থ হলে এটি সবচেয়ে জঘন্য ও বেপরোয়া পদক্ষেপ নেবে, যার পরিণতি ইউক্রেনের বাইরেও পড়বে।

তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় কর্মীদেরর অবশ্যই হুমকি ও চাপ ছাড়াই তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে এবং আইএইএকে প্রযুক্তিগত সহায়তার অনুমতি দেয়া উচিত।

গ্রসি আরও বলেন, ইউক্রেন এবং অন্যত্র একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক দুর্ঘটনা থেকে জনগণকে রক্ষা করার স্বার্থে আমাদের মতভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তবে মস্কোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।

জাপোরিজ্জায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রুশ প্রধান ইয়েভজেনি বালিতস্কি রোবরার টেলিগ্রামে এক বার্তায় বলেন, ইউক্রেনীয় সেনারাই বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেলের মজুত লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‘পারমাণবিক বিপর্যয়ে দায়ী থাকবে ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা’
জাপোরিজ্জা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রহরারত রুশ সেনা

তবে নিরপেক্ষভাবে কিয়েভ ও মস্কোর দাবির সত্যতাই যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

যেহেতু পারমাণবিক প্রকল্পটি রুশ সেনাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে এবং সেখানে রুশ সেনারাই অবস্থান করছে, তাহলে ঠিক কী কারণে রুশ সেনারাই সেখানে হামলা চালাবে তা স্পষ্ট করেনি কিয়েভ।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘পারমাণবিক প্রকল্পে যেকোনো বোমা হামলা নির্লজ্জ অপরাধ, সন্ত্রাসের কাজ।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন গত সপ্তাহের শুরুর দিকে অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর জন্য এই প্ল্যান্টটিকে নিরাপদ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া। কারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা থাকায় ইউক্রেনীয় সেনারা সেখানে গোলা বর্ষণ করতে পারবে না।

গত মার্চে ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের মধ্যেই দেশটিতে অবস্থিত ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাপোরিজ্জাতে হামলা চালায় রুশ সেনারা। ইউক্রেন সে সময় দাবি করে, রুশ গোলার আঘাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আগুন ধরে যায়।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা জানিয়েছিলেন, এই কেন্দ্রের চুল্লি গলে যাওয়া চেরনোবিলের থেকে ১০ গুণ বেশি ভয়াবহ হতে পারে।

এর আগে ১৯৮৬ সালে ইউক্রেনের চেরনোবিলে সোভিয়েত আমলে এক পারমাণবিক দুর্ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পারমাণবিক প্রযুক্তির ইতিহাসে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা।

২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর ২০ বছরে তেজস্ক্রিয়তার পরোক্ষ প্রভাবে প্রায় ৪ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
ইউরোপে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা জাতিসংঘের
‘রাজাকার’ ধরতে ইউক্রেনীয় শহরে অভিযান
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে মুসলমানরা কোন পক্ষে?
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্দি বিনিময়ে রুশ মন্ত্রীর ইঙ্গিত
খাদ্যশস্যের আরও ৩ জাহাজ ইউক্রেন ছাড়বে আজ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The search of secret documents from Trumps house is on specific charges

ট্রাম্পের বাসা থেকে গোপন নথি উদ্ধার, তল্লাশি ‘নির্দিষ্ট অভিযোগে’

ট্রাম্পের বাসা থেকে গোপন নথি উদ্ধার, তল্লাশি ‘নির্দিষ্ট অভিযোগে’ ডনাল্ড ট্রাম্প
ট্রাম্পের বাসায় যে পরোয়ানায় তল্লাশি, তাতে মূলত তিনটি অভিযোগ। এর মধ্যে একটি হলো গুপ্তচরবৃত্তি আইন লঙ্ঘন। এই আইনে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে- এমন তথ্য প্রকাশ করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে অতি গোপনীয়সহ মোট ১১টি নথি উদ্ধার করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)। আর এই অভিযান চালানো হয়েছে গুপ্তচরবৃত্তি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে।

গত মঙ্গলবার ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-এ-লাগো এস্টেটে চালানো ওই অভিযান নিয়ে শুক্রবার এফবিআই এ তথ্য জানিয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

দেশটির বিচারিক আদালতের দেয়া পরোয়ানায় ট্রাম্পের বাসায় অভিযান চালানো হয়। পরোয়ানায় আসলে কী আছে, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি।

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো পরোয়ানার কপি পেয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশ করছে। এতেই উঠে এসেছে নানা ঘটনা। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য বলছেন, যা চলছে তা রাজনৈতিক।

ট্রাম্পের বাসায় যে পরোয়ানায় তল্লাশি, তাতে মূলত তিনটি অভিযোগ। এর মধ্যে একটি হলো গুপ্তচরবৃত্তি আইন লঙ্ঘন। এই আইনে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে- এমন তথ্য প্রকাশ করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, উদ্ধার হওয়া নথিগুলো কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। একটি তালিকা ‘টিএস/এসসিআই’ বা অতি গোপন/সংবেদনশীল তথ্যের জন্য সংরক্ষিত। এ নথির তালিকায় ‘অতি গোপন নথির চার সেট’, ‘গোপন নথির তিনটি সেট’ এবং ‘গোপনীয়’ নথির তিনটি সেট করা হয়েছে।

এফবিআইয়ের উদ্ধার করা জিনিসের মধ্যে ২০টি বাক্স, ফটো বাইন্ডার, ‘ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট’ সম্পর্কে লেখা এবং ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মিত্র রাজনৈতিক পরামর্শদাতা রজার স্টোনের পক্ষে লেখা একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে।

এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক বিবৃতিতে বলেছেন, উদ্ধার হওয়া সব কিছু ‘শ্রেণিবদ্ধ’ এবং ‘নিরাপদে’ সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, এসব জিনিস জব্দ করার কিছু নেই। রাজনৈতিক নাটক না করে, বাসায় না তল্লাশি চালিয়েও এগুলো তারা নিতে পারতেন।

এফবিআই এজেন্টরা গত মঙ্গলবার ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-এ-লাগো এস্টেটে অভিযান চালায়। এরপর ট্রাম্পের অসংখ্য আইনি জটিলতাগুলো আবার লাইমলাইটে চলে আসে।

এফবিআইয়ের দাবি, ২০২১ সালে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় গোপনীয় কিছু তথ্য সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন ট্রাম্প।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এমন ধারণাই এখন স্পষ্ট।

এর আগে ট্রাম্পের ছেলে ডনাল্ড জুনিয়র এবং ইভাঙ্কাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

নানা নাটকীয়তার পর গত বছরের ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা ছাড়েন ট্রাম্প। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি আবার লড়বেন বলে আলোচনা চলছে।

এরই মধ্যে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বাসভবনে এফবিআইয়ের অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় উঠেছে। রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতারা বিচার বিভাগ ও এফবিআইয়ের কঠোর নিন্দা করেছেন।

আরও পড়ুন:
ট্রাম্পকে পুড়িয়ে ছেলেসহ অবকাশে বাইডেন
তদন্তকারীদের কাছে মুখ খোলেননি ট্রাম্প

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Rushdies attacker revealed

রুশদির ওপর হামলাকারী কে এই হাদি মাতার

রুশদির ওপর হামলাকারী কে এই হাদি মাতার সালমান রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় আটক হাদি মাতার (বাঁয়ে)। ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাদি মাতারের অ্যাকাউন্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি শিয়া চরমপন্থা এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রতি সহানুভূতিশীল। জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় হলেও নিউ জার্সিতে বসবাস করছিলেন ২৪ বছর বয়সী হাদি। 

ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক সালমান রুশদির ওপর হামলায় জড়িত অভিযোগে হাদি মাতার নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। নিউ ইয়র্কের ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় ২৪ বছর বয়সী হাদিকে।

ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত রুশদির সার্জারির পর তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। তার বইয়ের এজেন্ট এন্ড্রু ওয়াইলি জানিয়েছেন, সম্ভবত তিনি এক চোখ হারিয়েছেন। রুশদির অবস্থা ভালো নয়।

পুলিশের হাতে আটক হাদি মাতারের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় হলেও তিনি নিউ জার্সিতে বসবাস করছিলেন। তার বিরুদ্ধে এখনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ বলছে রুশদির অবস্থা দেখে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হবে হাদির বিরুদ্ধে।

হাদি মাতারের আগের রেকর্ড জানতে এবং হামলার উদ্দেশ্য বের করতে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সহায়তা চেয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ।

নিউ ইয়র্ক পুলিশের মেজর ইউজিন স্ট্যানিসজেউস্কি বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ছুরিকাঘাতের উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাদির অ্যাকাউন্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি শিয়া চরমপন্থা এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রতি সহানুভূতিশীল।

হাদির ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়েও তথ্য পেয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ।

নিউ ইয়র্কের শাটোকোয়া ইনস্টিটিউশনের শুক্রবার সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় সালমান রুশদির ওপর হামলা চালান হাদি মাতার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রুশদিকে ২০ সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ বার ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার পর রুশদি তৎক্ষণাৎ মেঝেতে পড়ে যান। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে লেখককে ঘিরে ফেলেন। অনুষ্ঠানে আনুমানিক আড়াই হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘রুশদিকে মুহূর্তের মধ্যে বেশ কয়েকবার আঘাত করা হয় এবং তিনি তার রক্তের ওপরই লুটিয়ে পড়েন।’

হামলায় সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী হেনরি রিসও মাথায় সামান্য আঘাত পেয়েছেন। রিস একটি অলাভজনক সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা; যা নিপীড়নের হুমকির মধ্যে থাকা নির্বাসিত লেখকদের জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে।

রুশদির ওপর হামলাকারী কে এই হাদি মাতার
নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠান মঞ্চে হামলার শিকার হন সালমান রুশদি

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ উপন্যাস দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। শুধু যুক্তরাজ্যেই বইটির ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল।

১৯৮৮ সালে দ্য স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাস লেখার পর থেকে বছরের পর বছর প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছেন এই লেখক।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেস তার রুশদির চতুর্থ উপন্যাস। এই বই লেখার জন্য রুশদিকে ৯ বছর আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেস প্রকাশনার পর সহিংসতায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ছিলেন উপন্যাসটির জাপানি ভাষায় অনুবাদকও।

আরও পড়ুন:
রুশদি ভেন্টিলেশনে, হারাতে পারেন চোখ
সালমান রুশদিকে ২০ সেকেন্ডে ১০-১৫ বার ছুরিকাঘাত
নিউ ইয়র্কে সালমান রুশদির ঘাড়ে ছুরিকাঘাত, হামলাকারী আটক

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Rushdie cannot speak on ventilation

রুশদি ভেন্টিলেশনে, হারাতে পারেন চোখ

রুশদি ভেন্টিলেশনে, হারাতে পারেন চোখ গুরুতর আহতাবস্থায় রুশদিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
শুক্রবার সকালে পশ্চিম নিউ ইয়র্কের শাটোকোয়া ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় সালমান রুশদির ওপর হামলা চালায় এক তরুণ। গুরুতর আহত রুশদির সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি এখনও কথা বলতে পারছেন না। সম্ভবত তার এক চোখ নষ্ট হয়ে গেছে।

নিউ ইয়র্কে হামলার শিকার ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক সালমান রুশদির সার্জারি শেষ হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সার্জারির পর সালমান রুশদিকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার বইয়ের এজেন্ট এন্ড্রু ওয়াইলি জানিয়েছেন, তার অবস্থা ভালো নয়।

এক ই-মেইলে ওয়াইলি বলেন, সালমান সম্ভবত এক চোখ হারিয়েছেন, তার নার্ভেও আঘাত লেগেছে, তার লিভার ছুরির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার সকালে পশ্চিম নিউ ইয়র্কের শাটোকোয়া ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় সালমান রুশদির ওপর হামলা চালায় এক তরুণ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা সে সময় জানিয়েছিলেন, তাকে ২০ সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ বার আঘাত করা হয়েছে। তবে সে সময় তারা ঠিক বুঝতে পারেননি যে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, নাকি তাকে ঘুষি মারা হয়েছে।

এপির একজন সাংবাদিক সে সময় জানিয়েছিলেন, হামলাকারী রুশদিকে ১০ থেকে ১৫ বার ঘুষি বা ছুরিকাঘাত করেছে।

হামলার পর রুশদি তৎক্ষণাৎ মেঝেতে পড়ে যান। তখন হামলাকারী শান্ত হন। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে লেখককে ঘিরে ফেলেন। অনুষ্ঠানে আনুমানিক আড়াই হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘রুশদিকে মুহূর্তের মধ্যে বেশ কয়েকবার আঘাত করা হয় এবং তিনি তার রক্তের ওপরই লুটিয়ে পড়েন।’

ঘটনার পরই রিটা ল্যান্ডম্যান নামের একজন সহযোগিতার জন্য এগিয়ে গিয়েছিলেন এই বলে যে তাকে জীবিত মনে হচ্ছে এবং তার সিপিআর প্রয়োজন।

রুশদি ভেন্টিলেশনে, হারাতে পারেন চোখ
নিউ ইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় হামলা হয় সালমান রুশদির ওপর

ল্যান্ডম্যান বলেন, ‘লোকজন বলাবলি করছিল, তার এখনও নাড়ির স্পন্দন আছে, নাড়ির স্পন্দন আছে...।’

হামলাটির মুহূর্তে সামনের সারিতেই বসেছিলেন ওহিওর ক্লিভল্যান্ডের বাসিন্দা রজার ওয়ার্নার। তিনি বলেন, ‘তিনি (রুশদি) রক্তে ভেসে যাচ্ছিলেন। আর মেঝেতে রক্তের স্রোতধারা বইছিল।

‘আমি শুধু তার চোখের চারপাশে রক্ত দেখছিলাম, যা তার গাল বেয়ে নেমে যাচ্ছিল।’

পরে রুশদিকে হেলিকপ্টারে করে কাছের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়।

নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল টুইটে বলেন, ‘আমরা সালমান (রুশদি) এবং তার প্রিয়জনদের পাশে আছি। তদন্তে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।’

হামলায় সাক্ষাৎকার-গ্রহণকারী হেনরি রিসও মাথায় সামান্য আঘাত পেয়েছেন। রিস একটি অলাভজনক সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা; যা নিপীড়নের হুমকির মধ্যে থাকা নির্বাসিত লেখকদের জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ উপন্যাস দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। শুধু যুক্তরাজ্যেই বইটির ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল।

১৯৮৮ সালে দ্য স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাস লেখার পর থেকে বছরের পর বছর প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছেন এই লেখক।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেস তার রুশদির চতুর্থ উপন্যাস। এই বই লেখার জন্য রুশদিকে ৯ বছর আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।

পরাবাস্তববাদী ও উত্তর-আধুনিক এই উপন্যাসটি কিছু মুসলিমের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল; যারা এর বিষয়বস্তুকে নিন্দাজনক বলে মনে করেন। ইরান ও বাংলাদেশসহ কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশে বইটি নিষিদ্ধও করা হয়েছিল।

বইটি প্রকাশের এক বছর পর, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি রুশদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আহ্বান জানান । তার মাথার জন্য ৩০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন খোমেনি।

তারপরও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন রুশদি। এক পর্যায়ে ইরান সরকার সরে আসে খোমেনির ডিক্রি থেকে।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেস প্রকাশনার পর সহিংসতায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ছিলেন উপন্যাসটির জাপানি ভাষায় অনুবাদকও।

২০০৭ সালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ যখন তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন, তখন ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল ইরান ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের একজন মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী বলেছিলেন, এ সম্মান ‘আত্মঘাতী হামলাকে ন্যায্যতা দেয়।’

এসব হুমকির কারণে রুশদির অনেক অনুষ্ঠান বাতিলও হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সালমান রুশদিকে ২০ সেকেন্ডে ১০-১৫ বার ছুরিকাঘাত
নিউ ইয়র্কে সালমান রুশদির ঘাড়ে ছুরিকাঘাত, হামলাকারী আটক

মন্তব্য

p
উপরে