× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
The price of wheat is falling in the world market
hear-news
player
print-icon

বিশ্ববাজারে কমছে গমের দাম

বিশ্ববাজারে-কমছে-গমের-দাম-
রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে গমসহ অন্য খাদ্যশস্য রপ্তানির খবর প্রকাশ হলে বিশ্ববাজারে গমের দাম ৩ শতাংশ কমে যায়। গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে অভিযান শুরু পর গমসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্যের দাম রেকর্ড বেড়ে যায়। এমনকি বিশ্বের অনেক দেশে খাদ্য ঘাটতিও দেখা দেয়। 

ইউক্রেনের বন্দরগুলো থেকে গমসহ অন্য খাদ্যশস্য রপ্তানির খবরে বিশ্ববাজারে গমের দাম কমতে শুরু করেছে। বিশ্বব্যাপী খাদ্য সঙ্কট দূর করতে জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় স্থানীয় সময় শুক্রবার একটি চুক্তি করে ইউক্রেন ও রাশিয়া।

এর এক দিন পরেই কিয়েভ কৃষ্ণ সাগরে অবস্থিত তাদের বন্দরগুলোর মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩০ লাখ টনের বেশি গম ও অন্য কৃষিপণ্য রপ্তানির পরিকল্পনার কথা জানায়।

রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটির এক প্রতিবেদনে এমন পরিকল্পনার কথা জানান ইউক্রেনের উপমন্ত্রী ইউরি ভাসকভ। তিনি বলেন, ইউক্রেনের বন্দর থেকে শস্য, খাদ্য এবং সার রপ্তানি করা হবে।

ইকোনমিক ট্রুথ পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘এই রপ্তানি মাসে ৩০ লাখ টন বা তার বেশি হতে পারে। এটি পর্যায়ক্রমে হবে। আমরা যদি পরিমাণ আরও বাড়াতে চাই, তাহলে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। তখন আমরা এর সঠিক পরিমাণ উল্লেখ করতে পারব। তবে আমরা দেখছি, এটি ৩০ লাখ টনের বেশি করা সম্ভব।’

ফোর্বস ইউক্রেনকে দেয়া আলাদা এক সাক্ষাৎকারে ভাসকভ বলেন, ‘শস্য বোঝাই প্রথম জাহাজটি চার দিনের মধ্যেই ইউক্রেনের বন্দর ছাড়তে পারে। এ ছাড়া অন্য তিন বন্দর ওডেসা, চেরনোমরস্ক এবং ইউজনি পুরোপুরি চালু হতে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে।’

চুক্তির অংশ হিসেবে জাতিসংঘ রাশিয়ার খাদ্য ও সার রপ্তানির বাধাগুলোও দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

খাদ্যশস্য রপ্তানির এই চুক্তির খবরের পর বিশ্ববাজারে গমের দাম কমতে শুরু করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কেট ইনসাইডার

শুক্রবার রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে গমসহ অন্য খাদ্যশস্য রপ্তানির খবর প্রকাশ হলে বিশ্ববাজারে গমের দাম ৩ শতাংশ কমে যায়। গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে অভিযান শুরু পর গমসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্যের দাম রেকর্ড বেড়ে যায়। এমনকি বিশ্বের অনেক দেশে খাদ্য ঘাটতিও দেখা দেয়।

তাই ইউক্রেনের বন্দরগুলোকে অবরোধমুক্ত করা জরুরি হয়ে পড়ে। দেশটি জানিয়েছে, তাদের সবচেয়ে বড় বন্দর ওডেসায় প্রায় দুই কোটি টন শস্য আটকে আছে।

অবশ্য চুক্তির পর এক দিন না পেরোতেই বন্দরনগরী ওডেসায় হামলা হয়েছে। রাশিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইউক্রেনের এই বন্দরনগরের অবকাঠামোয় আঘাত করেছে বলে জানিয়েছে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

আরও পড়ুন:
ফিফার কাছে ৫ কোটি ইউরো দাবি শাখতারের
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভোগান্তি বেড়েছে সাধারণ মানুষের: প্রধানমন্ত্রী
‘পুতিনের জ্বালায়’ বন্ধ টিভি চ্যানেল বিদেশ গিয়ে আবার সম্প্রচারে
বাল্যবন্ধুকে বিদায় করলেন জেলেনস্কি
৫১৪৮ শিশুসহ ২৮ হাজার ইউক্রেনীয়কে সরিয়ে নিল রাশিয়া

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
50 missing after boat sinks in Greece

গ্রিসে নৌকা ডুবে নিখোঁজ ৫০

গ্রিসে নৌকা ডুবে নিখোঁজ ৫০ গ্রিসে নৌকা ডুবে ৫০ জন নিখোঁজ। ছবি: এএফপি
কোস্ট গার্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নৌকাটিতে অন্তত ৮০ জন ছিলেন বলে উদ্ধার হওয়া ২৯ জনের অনেকেই জানিয়েছেন। সে হিসাবে এখনও আরও ৫০ জনের মতো নিখোঁজ।’

গ্রিসের এজিয়ান সাগরে কারপাথোস দ্বীপের কাছে একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৫০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছে।

দেশটির কোস্ট গার্ডের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে বলেছে সংবাদ সংস্থা এএফপি।

তিনি বলেন, ‘নৌকাটিতে অন্তত ৮০ জন ছিলেন বলে উদ্ধার হওয়া ২৯ জনের অনেকেই জানিয়েছেন। সে হিসাবে এখনও আরও ৫০ জনের মতো নিখোঁজ।’

গ্রিসের কোস্ট গার্ড বলছে, মঙ্গলবার নৌকাটি তুরস্ক থেকে ইতালির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। নিখোঁজদের সন্ধানে তারা তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

কোস্ট গার্ডের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘উদ্ধার অভিযানে আমাদের চারটি যান অংশ নিয়েছে। এসবের মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ এরইমধ্যে এজিয়ান সাগরের দক্ষিণে তল্লাশি শুরু করেছে।’

কোস্ট গার্ডের একটি টহল নৌকা এবং বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে বলে জানান তিনি।

দেশটির সাকি রেডিওতে দেয়া এক বক্তব্যে কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র নিকোস কোকালাস বলেন, ‘সাগরে বাতাসের গতিবেগ ৫০ কিলোমিটারের বেশি হওয়ায় উদ্ধার কাজ পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

দারিদ্রপীড়িত আফ্রিকা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে পালিয়ে উন্নত জীবনের আশায় প্রায়ই অভিবাসীরা গ্রিস উপকূল হয়ে ইউরোপে পাড়ি জমায়। এই উপকূল দিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশিও ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই চ্যানেল পাড়ি দেয়ার সময় শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে ডুবে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ডুবে অন্তত ৬৪ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।

জাতিসংঘের এই অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুন গ্রিসের মাইকোনোস দ্বীপের কাছে নৌকা ডুবে অন্তত ৮ জন মারা যান।

এ ছাড়া ডুবে যাওয়া নৌকা থেকে আরও ১০৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Swiss banks have no chance of keeping corruption money Ambassador

সুইস ব্যাংকে দুর্নীতির অর্থ রাখার সুযোগ নেই: রাষ্ট্রদূত

সুইস ব্যাংকে দুর্নীতির অর্থ রাখার সুযোগ নেই: রাষ্ট্রদূত বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিকাব আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড। ছবি: নিউজবাংলা
সুইস রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড কালো টাকা রাখার স্বর্গরাজ্য নয়। এই বিষয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। সুইস ব্যাংক অবৈধ অর্থকে কোনোভাবেই উৎসাহিত করে না। সুইস ব্যাংক বিশ্বের একটি অন্যতম ব্যাংকিং ব্যবস্থা, আমাদের জিডিপির অন্যতম একটি বড় অংশ। সুইস জাতীয় ব্যাংক প্রতি বছর বাংলাদেশি গ্রাহকদের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় ব্যক্তিগত টাকা সংরক্ষণ হার বাড়ছে না, বরং কমছে।’

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমা নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে বাংলাদেশে দেশটির রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড জানিয়েছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত বা অপ্রদর্শিত অর্থ রাখার সুযোগ তাদের কোনো ব্যাংকে নেই। তিনি এও জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের মধ্যে কারা টাকা জমা রেখেছে, সে বিষয়ে তার দেশের সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য চায়নি বাংলাদেশ সরকার।

বাংলাদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়তে তার দেশের উদ্যোগের বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে সাংবা‌দিক‌দের এক প্রশ্নের জবা‌বে তিনি এ কথা ব‌লেন।

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড ব‌লেন, ‘সুইস ব্যাংক আন্তর্জাতিক সব প্রক্রিয়া মেনেই কাজ করে। সেখানে কালো টাকা বা দুর্নীতির অর্থ রাখার কোনো সুযোগ নেই।’

সুইস ব্যাংক বলতে সুইজারল্যান্ডের কোনো একক ব্যাংককে বোঝায় না। সুইস নাশনাল ব্যাংক বলতে যে প্রতিষ্ঠানটি আছে, সেটি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশটির যেকোনো ব্যাংকে রাখা টাকাই সুইস ব্যাংকের টাকা হিসেবে আলোচনায় আসে।

গত জুনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সুইস ব্যাংকগুলোতে এখন বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার বেশি। টাকার অবমূল্যায়নে এই অঙ্ক এখন ৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে গত ১২ মাসে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে।

এই অর্থ জমা নিয়ে বরাবর তুমুল বিতর্ক হয় বাংলাদেশে। সমালোচকরা বলে আসছেন, বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ এটি।

সুইস ব্যাংকে দুর্নীতির অর্থ রাখার সুযোগ নেই: রাষ্ট্রদূত

অবশ্য বাংলাদেশ থেকে নানাভাবে অবৈধ উপায়ে পাচার হওয়া অর্থ যেমন সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা হয়, তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও দেশটিতে অর্থ জমা রাখেন। তাই সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশিদের মোট অর্থের মধ্যে বৈধ-অবৈধ সব অর্থই রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে অনেক প্রশ্নের জবাব মেলে না এ কারণে যে, সাধারণত সুইস ব্যাংক অর্থের উৎস গোপন রাখে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থ জমা রাখেন।

এই হিসাব প্রকাশের আগের বছর সুইস ব্যাংক থেকে বাংলাদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ ফেরত আনার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। এরপর সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে (সুইস ব্যাংক) সঞ্চয়কারী বাংলাদেশিদের নামের তালিকা চায় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব ব্যাংকে টাকা জমাকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জানাতে বলা হয়। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে দেয়া হয়নি।

সুইস রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড কালো টাকা রাখার স্বর্গরাজ্য নয়। এই বিষয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। সুইস ব্যাংক অবৈধ অর্থকে কোনোভাবেই উৎসাহিত করে না। সুইজ ব্যাংক বিশ্বের একটি অন্যতম ব্যাংকিং ব্যবস্থা, আমাদের জিডিপির অন্যতম একটি বড় অংশ। সুইজ জাতীয় ব্যাংক প্রতি বছর বাংলাদেশি গ্রাহকদের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় ব্যক্তিগত টাকা সংরক্ষণ হার বাড়ছে না, বরং কমছে।’

অন্য এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিরা কত টাকা জমা রেখেছে ওই তথ্য প্রতি বছর সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক দিয়ে থাকে। ওই অর্থ অবৈধপথে আয় করা হয়েছে কি না, এটি আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়।’

বাংলাদেশ সরকার সুনির্দিষ্ট কারও তথ্য চায়নি

অন্য এক সুইস প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার সুইজারল্যান্ড সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট করে কারো সম্পর্কে তথ্য চায়নি।

অর্থপাচার নিয়ে সুইজারল্যান্ড আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি ব‌লেন, ‘তথ্য পেতে হলে কী করতে হবে, সে সম্পর্কে আমরা সরকারকে জানিয়েছি, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো তথ্যের জন্য আমাদের কাছে অনুরোধ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক মান অনুসারে আমরা যেকোনো ধরনের তথ্য আদান-প্রদানের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও চুক্তি করতে পারি। ইতোম‌ধ্যে আমরা বাংলাদেশ সরকারকে এ বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে সব তথ্য সরবরাহ করে‌ছি।’

বাংলা‌দে‌শের স‌ঙ্গে সুইজারল‌্যা‌ন্ডের সহ‌যো‌গিতা অব‌্যাহত থাক‌বে জানিয়ে নাথালি চুয়ার্ড ব‌লেন, ‘গত বছর দুই দেশের বাণিজ্য এক বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এ দেশের স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম সুইস সরকারের সহায়তায় হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের মতো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সুইস সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। সুইস সরকার ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে। আগামী দিনগুলোতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

আগামী দিনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তির প্রসারে সুইস সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে ব‌লেও জানান রাষ্ট্রদূত।

রো‌হিঙ্গা সংকট প্রস‌ঙ্গে তিনি ব‌লেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধা‌নে সুইজারল্যান্ড সব সময় বাংলাদেশের পাশে আছে। সুইজারল্যান্ড চায় রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও নিরাপদে প্রত্যাবাসন হোক।

‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন অবস্থায় আমরা বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করব। আমরা জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য নই। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে এখন রয়েছি। সেখানে আমরা বিষয়গুলো তুলে ধরব।'

অনুষ্ঠানে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) এর সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈনুদ্দীনের সঞ্চালনায় সংগঠনটির সভাপতি রেজাউল করিম লোটাসসহ উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যরা।

আরও পড়ুন:
মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির আড়ালে অর্থপাচার!
বাংলাদেশ ব্যাংকের পুঁজিবাজারবান্ধব আরেক সিদ্ধান্ত
শ্রীলঙ্কা সংকট পাকিস্তান বাংলাদেশের জন্য সতর্কতা: আইএমএফ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The Russians are fleeing Crimea due to the terrible explosion

ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে ক্রিমিয়া ছেড়ে পালাচ্ছে রুশরা

ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে ক্রিমিয়া ছেড়ে পালাচ্ছে রুশরা বিস্ফোরণস্থল থেকে পর্যটকদের অবস্থান দূরে নয়। ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে ক্রিমিয়ায় অবস্থিত রাশিয়ার একটি বিমান ঘাঁটিতে। তবে কিয়েভ এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও ঘটনার পরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ক্রিমিয়া দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, ক্রিমিয়ার মুক্তি দিয়ে যুদ্ধ শেষ হবে।

রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ক্রিমিয়া যুক্ত হওয়ার পর রুশদের প্রধান অবকাশ যাপনের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে স্থানটি। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর ইউক্রেনের ভেতর সেনা পাঠাতে ট্রানজিট হিসেবে ক্রিমিয়াকে ব্যবহার করে রুশ সেনারা। এরপরেও ক্রিমিয়ার ভেতরে সেই অর্থে কখনও হামলা চালায়নি ইউক্রেনীয় সেনারা।

এবার ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিমিয়ার নভোফেদোরিভকাতে ধারাবাহিকভাবে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অঞ্চলটি ছেড়ে পালাতে শুরু করেছে রুশ পর্যটকরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরই মধ্যে পালাতে থাকা রুশদের গাড়ির যানজটে থাকার ছবি প্রকাশ পেয়েছে

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ক্রিমিয়ার নভোফেদোরিভকাতে কমপক্ষে ১৫ বার আলাদা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছে।

বিস্ফোরণগুলো হয়েছে ক্রিমিয়ায় অবস্থিত রাশিয়ার একটি বিমান ঘাঁটিতে। যেই বিমান ঘাঁটি থেকে ইউক্রেনের অভ্যন্তরেও হামলা পরিচালনা করা হতো। সেই বিমান ঘাঁটিতে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, ফ্রিগেট বিমান রয়েছে।

ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে ক্রিমিয়া ছেড়ে পালাচ্ছে রুশরা
ক্রিমিয়া থেকে পালানো রুশদের গাড়ির দীর্ঘ সারি

ঘাঁটিটির অবস্থান ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ১৩০ মাইল দূরে।

কিয়েভ এই ঘটনার কোনো দায়ভার স্বীকার না করলেও ঘটনার পরপরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সুত্রপাত ক্রিমিয়া থেকে এবং ক্রিমিয়া স্বাধীনের মাধ্যমেই এই যুদ্ধের সমাপ্তি হবে।

এদিকে ইউক্রেনের একজন সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ইউক্রেনের হামলার কারণেই এই বিস্ফোরণ।

তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, বিস্ফোরক ধ্বংস করার কারণেই এই বিস্ফোরণ। যদিও ক্রিমিয়ার রুশ কর্মকর্তারাই বলছেন, বিস্ফোরণে ১ জন মারা গেছেন এবং শিশুসহ আহত হয়েছেন ৫ জন।

ধারণা করা হচ্ছে, এই বিস্ফোরণ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত আটাকমস ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে। তবে বাইডেন প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেনকে এই ধরনের কোনো অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে জানায়নি।

২০১৪ সালে ইউক্রেনে এক অভ্যুত্থানে মস্কোপন্থি সরকারের পতন হলে রুশ সেনারা দেশটিতে আক্রমণ করে ক্রিমিয়া দখল করে নেয়। পরে এক গণভোটে ক্রিমিয়ার জনগণ রাশিয়ার সঙ্গে যোগদানের পক্ষে ভোট দেয়। ক্রিমিয়াতে মূলত রুশভাষীদেরই বসবাস।

ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে ক্রিমিয়া ছেড়ে পালাচ্ছে রুশরা
প্রত্যক্ষদর্শীরা প্রায় ১৫টি আলাদা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন

যদিও ইউক্রেন এই গণভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে এবং ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়া-দখলকৃত অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে।

সম্প্রতি ইউক্রেনীয় সেনাদের ভারী অস্ত্র সরবরাহ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। তবে শর্ত এই যে এসব ভারী অস্ত্র দিয়ে রুশ ভূখণ্ডে আঘাত করা যাবে না। শুধু ইউক্রেনে অনুপ্রবেশ করা রুশ সেনাদের ওপর হামলার ক্ষেত্রে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে।

ইউক্রেন দাবি করে আসছে, ক্রিমিয়া হলো রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চল। রুশ ভূখণ্ডে পশ্চিমা অস্ত্র ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি ক্রিমিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

আরও পড়ুন:
খাদ্যশস্যের আরও ৩ জাহাজ ইউক্রেন ছাড়বে আজ
‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’
অবশেষে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য পাচ্ছে বিশ্ব
ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ায় রুশ নৌ দিবস বাতিল
ইউক্রেনের শীর্ষ শস্য ব্যবসায়ী নিহত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Load shedding plan in UK due to power shortage

যুক্তরাজ্যে জানুয়ারিতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শঙ্কা

যুক্তরাজ্যে জানুয়ারিতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শঙ্কা তীব্র শীতের মধ্যেই যুক্তরাজ্যে দেয়া হতে পারে লোডশেডিং। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতির কারণে এনার্জি প্রাইস ক্যাপের অনুমানে প্রথমবারের মতো গড় বার্ষিক বিদ্যুৎ বিল ৪ হাজার পাউন্ড ছাড়িয়ে গেছে। অথচ শীত এখনও শুরুই হয়নি। অনেক পরিবারই এরই মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলায় জানুয়ারিতে যখন দেশটিতে তীব্র শীতের সময়, তখনই পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।

ঠান্ডা আবহাওয়ায় যুক্তরাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, ফলে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধিরও প্রয়োজন হয়। অথচ ইউক্রেন সংকটের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর অবরোধ আরোপ করায় ইউরোপের দেশগুলোর রুশ গ্যাস প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের মতো দেশেও সামনের শীতে জানুয়ারিতে শিল্প-কারখানা ও সাধারণ পরিবারগুলোর জন্যও সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হতে পারে।

দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির’ বিষয় মাথায় রেখে সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করার পরও সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ছয় ভাগের এক ভাগ ঘাটতি থাকবে।

সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতিতে জানুয়ারিতে যদি গড় তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং নরওয়ে ও ফ্রান্স থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের পরিমাণ যদি কমে আসে, টানা ৪ দিন বিদ্যুৎ নাও থাকতে পারে। বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় আবাসিক বাড়িতে, শিল্পের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত লোডশেডিং দেয়া হতে পারে।

ইউরো উইকলি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল গ্রিড বিদ্যুৎ বিপর্যয় এড়াতে বিশাল সংখ্যক গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে।

শীতকালে গড় তাপমাত্রা কমে এলে নরওয়ে ও ফ্রান্স থেকেও গ্যাস আমদানি কমে আসবে, ফলে যুক্তরাজ্যকে গ্যাস সংরক্ষণের জন্য জরুরি ব্যবস্থা চালু করতে হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাজ্যে বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতির কারণে এনার্জি প্রাইস ক্যাপের অনুমানে প্রথমবারের মতো গড় বার্ষিক বিদ্যুৎ বিল ৪ হাজার পাউন্ড ছাড়িয়ে গেছে। অথচ শীত এখনও শুরুই হয়নি।

অনেক পরিবারই এরই মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে।

ন্যাশনাল গ্রিড সতর্ক করে বলেছে, বিদ্যুতের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। এই বছরের শুরুতেই ঋষি সুনাক যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন, তখনই তিনি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ৪০০ ডলার করে ছাড় দিয়েছিলেন।

এবারের শীতে সরকারকে আরও বেশি কিছু করতে হতে পারে।

ফ্রান্স, নরওয়ে, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসকে সংযোগকারী বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে বিদ্যুৎপ্রবাহ কম হলে ব্রিটিশদের জীবন আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।

নরওয়ে সোমবার বলেছে, তাদের যে বিদ্যুৎ চাহিদার অভ্যন্তরীণ ঘাটতি রয়েছে, তা রোধ করতে শীতকালে বিদ্যুৎ রপ্তানি সীমিত করার উপায়গুলো খুঁজছে।

নরওয়ের তুলনায় যুক্তরাজ্যে বিদ্যুতের দাম অনেক বেশি। অনেক ক্ষেত্রেই দেশটি বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভর করে। তাই নরওয়ের এমন সিদ্ধান্তে দেশটির বিদ্যুৎ খরচ আরও বাড়বে এবং ন্যাশনাল গ্রিডকে কৌশলগত রিজার্ভ ব্যবহারে বাধ্য করতে পারে।

এদিকে শীতের মাত্রা বাড়লে যুক্তরাজ্যকে গ্যাসের জন্য অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের মুখাপেক্ষী হতে হবে। কিন্তু ইউরোপের অন্যতম প্রধান গ্যাসের উৎস নর্ডস্ট্রিম-১-এ রাশিয়া মেরামতের কথা বলে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলো এরই মধ্যে চাপে রয়েছে।

ফলে যুক্তরাজ্যের গ্যাস ঘাটতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো কতটুকু কী করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড সতর্ক করেছে যে, মুদ্রাস্ফীতির চাপ দেশটিকে অর্থনৈতিক মন্দার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের উত্তরসূরি যেই হোক না কেন তার ওপর এই বর্তমান গ্যাসসংকট একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। যদিও জনসনের দুই সম্ভাব্য উত্তরসূরি লিস ট্রাস ও ঋষি সুনাক উভয়েই মধ্যবিত্তের ওপর চাপ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

যদিও যুক্তরাজ্যের ব্যবসা, জ্বালানি ও শিল্প পরিসংখ্যান বিভাগ বলছে, ‘এই পরিস্থিতি এমন কিছু না, যা আমরা চাই। বাসা, ব্যবসা ও শিল্প আত্মবিশ্বাসী হতে পারে যে তারা তাদের প্রয়োজনীয় গ্যাস পাবে।’

আরও পড়ুন:
যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে এগিয়ে ঋষি সুনাক
যুক্তরাজ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা ৫ সেপ্টেম্বর
প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর মুখে বরিস জনসন
খুন করলেও কি আইনের ঊর্ধ্বে ব্রিটিশ রানি
দুই মন্ত্রীর পদত্যাগে চাপে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Ukrainian institutions are inviting tourists to take a picture of the war

যুদ্ধের থ্রিল নিতে পর্যটক ডাকছে ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠান

যুদ্ধের থ্রিল নিতে পর্যটক ডাকছে ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠান
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ট্যুরের জন্য সাইন আপ করা যে কেউ বোমায় ধ্বংসাবশেষ, বিধ্বস্ত ভবন, ক্যাথেড্রাল এবং স্টেডিয়ামগুলোর মধ্য দিয়ে হাঁটার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি পুড়ে যাওয়া সামরিক হার্ডওয়্যার এবং বিমান হামলার সাইরেনগুলোতে স্বচক্ষে দেখে আসতে পারবেন পর্যটকরা।  

অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়দের জন্য দারুন খবর নিয়ে এল একটি পর্যটন সংস্থা। বোমার আঘাতে বিধ্বস্ত শহর দেখার পাশাপাশি লড়াইরত যোদ্ধাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। যদিও দেশটির নাম শুনলে হয়ত অনেকেই সরে আসবেন পরিকল্পনা থেকে।

কথা হচ্ছে ইউক্রেন নিয়ে। দেশটিতে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের ছয় মাস চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে অভিযান জোরদার করেছে পুতিন বাহিনী। মৃত্যু ও ধ্বংসের ঢেউ উড়িয়ে ইউক্রেনে পর্যটকদের আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ভিজিট ইউক্রেন নামের প্রতিষ্ঠানটি।

গত মাসে প্রতিষ্ঠানটি এই ট্যুর প্ল্যান চালু করে। বলা হচ্ছে, ইউক্রেনীয় সেনারা যেসব দখল শত্রুমুক্ত করেছে, সেসব শহরের অবস্থা সরাসরি দেখার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে প্ল্যানে। ট্যুর কোম্পানির ওয়েবসাইটে লেখা রয়েছে, ‘এখনই অদম্য ইউক্রেনে ভ্রমণ শুরু করুন।’

ইউক্রেন ভ্রমণে আন্তর্জাতিক সতর্কতা সত্ত্বেও সংস্থাটি বলছে, এ পর্যন্ত ১৫০টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। তাদের ওয়েবসাইটে বলা হচ্ছে, ইউক্রেনে নিরাপদ ভ্রমণের তথ্য সরবরাহ করে প্রতি মাসে ১৫ লাখ হিট পাচ্ছে তারা। যা রুশ অভিযানের আগের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ট্যুরের জন্য সাইন আপ করা যে কেউ বোমায় ধ্বংসাবশেষ, বিধ্বস্ত ভবন, ক্যাথেড্রাল এবং স্টেডিয়ামগুলোর মধ্য দিয়ে হাঁটার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি পুড়ে যাওয়া সামরিক হার্ডওয়্যার এবং বিমান হামলার সাইরেনগুলোতে স্বচক্ষে দেখে আসতে পারবেন পর্যটকরা।

ভিজিট ইউক্রেনের প্রতিষ্ঠাতা আন্তন তারানেঙ্কো বলেন, ‘অনেকের কাছে এমন ছুটি ভয়ংকর মনে হতে পারে। তবে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন এটা “ডার্ক ট্যুরিজম” নয়, যেখানে কেবল মৃত্যু, বিপর্যয়ের মতো দৃশ্যগুলো দেখানো হয়।

তারানেঙ্কো আরও বলেন, ‘এই সফরগুলো ইউক্রেনের জন্য তার নাগরিকদের ভালোবাসার মনোভাব তুলে ধরার পাশাপাশি বহির্বিশ্বকে এটা দেখানোর সুযোগ রয়েছে যে যুদ্ধের মধ্যেও জীবন থেমে থাকে না।

‘ইউক্রেনে যা ঘটছে তার মধ্যেও কীভাবে লোকেরা মানিয়ে নিচ্ছে, একে অপরকে সাহায্য করছে সেসব দেখার সুযোগ থাকছে। বোমা হামলায় বিধ্বস্ত দোকান ফের চালুর পর সেখানে বসে বন্ধুদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো চেখে দেখতে পাবেন।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে ইউক্রেনে ‘লেভেল ফোর সতর্কতা জারি করেছে। সেই সঙ্গে অবিলম্বে আমেরিকান নাগরিকদের ইউক্রেন ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। কিয়েভে বাইডেন প্রশাসন দূতাবাসে কার্যক্রম স্থগিতের পর সাফ জানিয়ে দিয়েছে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কোনো কনস্যুলার সহায়তা দেয়া হবে না।

অন্যান্য দেশও একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে। যুক্তরাজ্যের ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস বলছে, শহর ও অঞ্চলে হামলার কারণে “জীবনের জন্য প্রকৃত ঝুঁকি” রয়েছে।

তবুও তারানেঙ্কো আশায় বুক বাঁধছেন। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি আমাদের ধ্বংস হওয়া শহর এবং সাহসী লোকদের যুদ্ধ দেখতে চান, তবে দয়া করে এখনই আসুন। তবে আপনাদের সর্তক থাকতে হবে। কারণ ইউক্রেন এখনও শতভাগ নিরাপদ না।’

যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটির ধ্বংসপ্রাপ্ত পর্যটন শিল্পকে রক্ষা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও, ইউক্রেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ ট্যুরের অনুমোদন দেয়নি।

ইউক্রেনের স্টেট এজেন্সি ফর ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্টের চেয়ারপার্সন মারিয়ানা ওলেস্কিভ বলেন, ‘এখন পরিদর্শনের উপযুক্ত সময় নয়। তবে আমরা জয়ী হওয়ার পর মানুষকে ইউক্রেন দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানাব।’

আরও পড়ুন:
‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’
অবশেষে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য পাচ্ছে বিশ্ব
ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ায় রুশ নৌ দিবস বাতিল
ইউক্রেনের শীর্ষ শস্য ব্যবসায়ী নিহত
ইউক্রেনের কালো তালিকায় ভারতের শীর্ষ কূটনীতিক

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The United Nations fears nuclear disaster in Europe

ইউরোপে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা জাতিসংঘের

ইউরোপে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা জাতিসংঘের চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয়ে পুরো শহর ছেড়ে চলে যেতে হয় বাসিন্দাদের। ছবি: সংগৃহীত
রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। তবে রাশিয়া বলছে, ইউক্রেনীয় সেনারাই বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেলের মজুত লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেনের জাপোরিজ্জাতেই রয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ইউক্রেনে সাম্প্রতিক রাশিয়ার সামরিক অভিযানের শুরুর দিকেই বেলারুশ হয়ে রুশ সেনারা প্রবেশ করে জাপোরিজ্জার নিয়ন্ত্রণ নেয়।

সে সময় ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় রাশিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গোলাবর্ষণ করেছিল।

তবে পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়ার পর ইউক্রেনীয় কর্মীদের রুশ বাহিনী রেখে দেয়। তবে ইউক্রেনের অভিযোগ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়ার পর এটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে রুশ সেনারা। সেখানে গোলাবারুদ মজুদ করছে এবং সেখান থেকে ইউক্রেনের অনেক বেসামরিক স্থাপনায় হামলা করছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শনিবার রাশিয়ার রকেট হামলায় পারমাণবিক স্থাপনার গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। তিনটি তেজস্ক্রিয় শনাক্তকরণ যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যে কোনো তেজস্ক্রিয় লিকের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় তা শনাক্তকরণ ও বিকিরণ প্রতিরোধ অসম্ভব হয়ে গেছে।

কিয়েভ বলছে, এবার ভাগ্যক্রমে পারমাণবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেলেও বার বার ভাগ্য সহায় হবে না।

এমন পরিস্থিতিতে আইএইএ প্রধান রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি বলেছেন, ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গোলাগুলির খবরে তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের আণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা (আইএইএ) ইউক্রেনের জাপোরিজ্জা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে যে কোনো ধরণের সামরিক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউরোপে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা জাতিসংঘের
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মারিয়ানো গ্রসি

গ্রসি বলেছেন, শুক্রবারের হামলা পারমাণবিক বিপর্যয়ের সত্যিকারের ঝুঁকি তৈরি করেছে যা ইউক্রেন এবং এর বাইরে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় কর্মীদেরর অবশ্যই হুমকি ও চাপ ছাড়াই তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে এবং আইএইএকে প্রযুক্তিগত সহায়তার অনুমতি দেয়া উচিত।

গ্রসি আরও বলেন, ইউক্রেন এবং অন্যত্র একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক দুর্ঘটনা থেকে জনগণকে রক্ষা করার স্বার্থে আমাদের মতভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আইএইএর পক্ষ থেকে প্ল্যান্টটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলার পরই ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে জাপোরিজ্জায় গোলাবর্ষণের অভিযোগ আনলো।

তবে মস্কোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।

জাপোরিজ্জায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রুশ প্রধান ইয়েভজেনি বালিতস্কি রোবরার টেলিগ্রামে এক বার্তায় বলেন, ইউক্রেনীয় সেনারাই বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেলের মজুত লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউরোপে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা জাতিসংঘের
জাপোরিজ্জা পারামাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প

তবে নিরপেক্ষভাবে কিয়েভ ও মস্কোর দাবির সত্যতাই যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

যেহেতু পারমাণবিক প্রকল্পটি রুশ সেনাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে এবং সেখানে রুশ সেনারাই অবস্থান করছে, তাহলে ঠিক কী কারণে রুশ সেনারাই সেখানে হামলা চালাবে তা স্পষ্ট করেনি কিয়েভ।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘পারমাণবিক প্রকল্পে যে কোনো বোমা হামলা নির্লজ্জ অপরাধ, সন্ত্রাসের কাজ।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন গত সপ্তাহের শুরুর দিকে অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর জন্য এই প্ল্যান্টটিকে নিরাপদ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া। কারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা থাকায় ইউক্রেনীয় সেনারা সেখানে গোলা বর্ষণ করতে পারবে না।

গত মার্চে ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের মধ্যেই দেশটিতে অবস্থিত ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাপোরিজ্জাতে হামলা চালায় রুশ সেনারা। ইউক্রেন সে সময় দাবি করে, রুশ গোলার আঘাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আগুন ধরে যায়।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা জানিয়েছিলেন, এই কেন্দ্রের চুল্লি গলে যাওয়া চেরনোবিলের থেকে ১০ গুণ বেশি ভয়াবহ হতে পারে।

এর আগে ১৯৮৬ সালে ইউক্রেনের চেরনোবিলে সোভিয়েত আমলে এক পারমাণবিক দুর্ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পারমাণবিক প্রযুক্তির ইতিহাসে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা।

২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর ২০ বছরে তেজস্ক্রিয়তার পরোক্ষ প্রভাবে প্রায় ৪ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ায় রুশ নৌ দিবস বাতিল
ইউক্রেনের শীর্ষ শস্য ব্যবসায়ী নিহত
ইউক্রেনের কালো তালিকায় ভারতের শীর্ষ কূটনীতিক
রুশ হামলার তোয়াক্কা না করে স্বাভাবিক জীবনে
ইউক্রেন ছাড়ার অপেক্ষায় খাদ্যশস্য বোঝাই ১৬ জাহাজ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Turkey will buy Russian gas in rubles

রুবলে রাশিয়ার গ্যাস কিনবে তুরস্ক

রুবলে রাশিয়ার গ্যাস কিনবে তুরস্ক তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: এএফপি
ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রথমবারের মতো রাশিয়া সফর করছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। দুই নেতার বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একমত হয়েছেন উভয় নেতা।  

পশ্চিমা বাধা উপেক্ষা করে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান চালানোয় একের পর এক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া মস্কো জ্বালানিকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। বন্ধু নয়, এমন দেশকে রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে হলে দাম পরিশোধ করতে হবে রুবলে, এমন শর্তজুড়ে দেয় ক্রেমলিন।

ওয়েল প্রাইসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ৪ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর রাশিয়ার গ্যাস তুরস্কের রুবলে কেনার বিষয়টি জানিয়েছেন রাশিয়ার সহকারী প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রথমবারের মতো রাশিয়া সফর করছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। দুই নেতার বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একমত হয়েছেন উভয় নেতা।

তুরস্ক তার চাহিদার প্রায় অর্ধেক গ্যাস রাশিয়া থেকে আমদানি করে।

সম্প্রতি ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে মধ্যস্ততার ভূমিকা পালন করে তুরস্ক। এর মধ্যে ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে শস্যবাহী জাহাজ বন্দর ছেড়ে গেছে।

এর পাশাপাশি দুই নেতা সিরিয়া ও কুর্দিসংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনাও করেছে।

মার্চের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রুবলে গ্যাস বিক্রির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার সম্পদ জব্দ করার ফলে ওই দেশগুলোর মুদ্রার ওপর মস্কোর আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই রাশিয়া লেনদেনের ক্ষেত্রে ওই সব দেশের মুদ্রা নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করছে।

পুতিন বলেন, ‘আমি অল্প সময়ে লেনদেনে পরিবর্তন আনতে কিছু ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মস্কোর বন্ধু নয় এমন দেশগুলোতে আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস রুবলের বিনিময়ে সরবরাহ করা হবে। আমাদের পণ্য ইইউ কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে ডলার বা ইউরোতে লেনদেনের কোনো মানে হয় না।’

তবে মস্কোর বন্ধু রাষ্ট্রগুলোও রুবলে আগ্রহ দেখিয়েছে আগেই। বেলারুশ জানিয়েছে, এরই মধ্যে রুবলে রাশিয়ার গ্যাস কেনা শুরু করেছে দেশটি।

আরও পড়ুন:
তুর্কিয়ের ড্রোন প্রকল্পে থাকতে চায় রাশিয়া
ইউরোপে রুশ গ্যাস পাওয়া নিয়ে নতুন শঙ্কা
ইউক্রেনীয় জেনারেলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রাশিয়ার
বৈশ্বিক খাদ্যসংকটের দায় পশ্চিমাদের: রাশিয়া
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে পিঠটান হাঙ্গেরির

মন্তব্য

p
উপরে