× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Lankan army is coming to cultivation
hear-news
player
print-icon

চাষাবাদে নামছে লঙ্কান সেনাবাহিনী

চাষাবাদে-নামছে-লঙ্কান-সেনাবাহিনী
খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে ঘাটতি এড়াতে এ পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে লঙ্কান সেনাবাহিনী। ছবি: এপি
জুলাইয়ের প্রথম দিকে শুরু হওয়া জরুরি প্রকল্পটির নেতৃত্বে আছেন সেনাবাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিকুম লিয়ানাগে। চিফ অফ স্টাফ মেজর জেনারেল জগথ কোডিথুওয়াক্কু পুরো প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করবেন।

অর্থনৈতিক মন্দায় ধুঁকতে থাকা শ্রীলঙ্কাকে বাঁচাতে এবার এগিয়ে এলো দেশটির সেনাবাহিনী। ১ হাজার ৫০০ একরের বেশি অনুর্বর বা পরিত্যক্ত রাষ্ট্রীয় জমিতে কৃষিকাজ করবে তারা। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে ঘাটতি এড়াতে এ পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে লঙ্কান সেনাবাহিনী

ব্রিটেন থেকে ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর সবচেয়ে বাজে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রটি। এই অবস্থায় খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্পূরক ও প্রচারের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার গ্রিন অ্যাগ্রিকালচার স্টেয়ারিং কমিটি (জিএএসসি) প্রতিষ্ঠা করেছে।

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে খাদ্য, ওষুধ, রান্নার গ্যাস, জ্বালানি এবং টয়লেট পেপারের মতো নিত্যপণ্যের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ও রান্নার গ্যাস কেনার জন্য দোকানের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছে দেশটির সাধারণ নাগরিকরা।

সরকারের চাষাবাদ অভিযানের সহায়ক প্রক্রিয়া হিসেবে জুলাইয়ের প্রথম দিকে শুরু হওয়া জরুরি প্রকল্পটির নেতৃত্বে আছেন সেনাবাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিকুম লিয়ানাগে। চিফ অফ স্টাফ মেজর জেনারেল জগথ কোডিথুওয়াক্কু পুরো প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করবেন।

সেনাবাহিনী শুক্রবার নিউজফার্স্ট ডট এলকে জানায়, কৃষি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচিত বীজের জাত চাষের জন্য সেনারা কাজ করবে। দেশজুড়ে সব নিরাপত্তা বাহিনীর সদর দপ্তর এখন আঞ্চলিকভাবে চাষাবাদের সম্ভাবনাগুলো পরীক্ষা করছে৷

প্রতিবেদনে বলা হয়, আঞ্চলিক স্তরে জমিগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে চাষাবাদের জন্য উপযুক্ত করে তোলা হবে। তার আগে সংশ্লিষ্ট গভর্নর, জেলা ও বিভাগীয় সচিবালয়, ভূমি কর্মকর্তা এবং গ্রাম সেবা আধিকারিকদের কাছ থেকে নেয়া হবে পরামর্শ।

শ্রীলঙ্কায় চালের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠেকাতে ভারতীয় ক্রেডিট লাইনের আওতায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিউজ পোর্টাল ইকোনমি নেক্সট বলছে, ভারতীয় ঋণ সহায়তা কর্মসূচির অধীনে স্টেট ট্রেডিং করপোরেশনকে তহবিল বরাদ্দ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

অর্থনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলার জন্য মার্চে শ্রীলঙ্কা সরকারকে দেয়া এক বিলিয়ন ডলারের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়েছে ভারত। সময় বাড়ানোর বিষয়ে চুক্তি হওয়ার পর শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেছিলেন, ‘ভারত সব সময় শ্রীলঙ্কার জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।’

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ২০২১ সালের এপ্রিলে রাসায়নিক সারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। এতে চাল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটেছিল।

এই নিষেধাজ্ঞার আগে ধান উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল শ্রীলঙ্কা। পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে ২০২০ সালে মহামারি শুরুর পর থেকে। লকডাউনে বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম খাত পর্যটনশিল্প ধসে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে সম্প্রতি পার্লামেন্টে বলেছেন, ‘আগামী ছয় মাসের জন্য মানুষের দৈনন্দিন জীবন যেন ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে শ্রীলঙ্কার ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।’

প্রায় দেউলিয়া দেশটি এখন বৈদেশিক ঋণখেলাপি। শ্রীলঙ্কার এখন মোট বৈদেশিক ঋণ ৫১ বিলিয়ন ডলার।

এপ্রিলে রাজাপাকসে সরকার জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পরিশোধ করতে হবে শ্রীলঙ্কাকে। তবে চলতি বছর প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ স্থগিত করছে তারা।

আরও পড়ুন:
দেশ ছাড়ার পর গোতাবায়ার পদত্যাগ
গোতাবায়া সিঙ্গাপুরে, গন্তব্য সৌদি ‌আরব
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কলম্বোতে কারফিউ
শ্রীলঙ্কার সেনাদের অস্ত্র কেড়ে নিয়েছে বিক্ষোভকারীরা
মালদ্বীপ ছেড়ে সিঙ্গাপুরের পথে গোতাবায়া

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
FBCCI ILO to work jointly on labor protection

শ্রমিক সুরক্ষায় যৌথভাবে কাজ করবে এফবিসিসিআই-আইএলও

শ্রমিক সুরক্ষায় যৌথভাবে কাজ করবে এফবিসিসিআই-আইএলও
প্রকল্পের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক্যাল, রাসায়নিক, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল, চামড়া, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, আসবাব, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং, স্থানীয় বাজারকেন্দ্রিক তৈরি পোশাক ও স্টিল রি-রোলিং শিল্পে কাজের নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে ১৫টি ইউনিট স্থাপন করা হবে।

অগ্রাধিকারমূলক শিল্পে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের সুরক্ষায় যৌথভাবে কাজ করবে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)।

বুধবার বিকেলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে এ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়।

চুক্তির আওতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১০টি শিল্প খাতের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে কার্যক্রম নেয়া হবে। পেশাগত স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধানে সাংগঠনিক পর্যায়ে (শিল্প খাতভিত্তিক মালিক সমিতি) এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সক্ষমতা তৈরি ও প্রচারণা কার্যক্রম নেয়া হবে। এ প্রকল্পে সহায়তা দেবে আইএলওর আরএমজি প্রোগ্রাম। অর্থায়ন করবে কানাডা ও নেদারল্যান্ডস সরকার।

প্রকল্পের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক্যাল, রাসায়নিক, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল, চামড়া, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, আসবাব, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং, স্থানীয় বাজারকেন্দ্রিক তৈরি পোশাক ও স্টিল রি-রোলিং শিল্পে কাজের নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে ১৫টি ইউনিট স্থাপন করা হবে।

এ ছাড়া ২ হাজার ৪০০ সেফটি প্রতিনিধি ও ‌১০০ সেফটি কমিটির মাধ্যমে শিল্প মালিক ও কর্মীদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা ও সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

অনুষ্ঠানে আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পৌটিআইনেন বলেন, ‘অগ্রাধিকারমূলক শিল্প খাতগুলোর নিরাপদ সংস্কৃতি চর্চাকে উন্নত করার প্রক্রিয়ায় এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আইএলও গর্বিত।

‘আশা করছি, আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা এ দেশের কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, হতাহতের ঘটনা ও রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করবে এবং এর ফলে অসংখ্য জীবন রক্ষা পাবে।’

বাংলাদেশের শ্রম আইনে ৫০ অথবা এর বেশি কর্মী কাজ করে এমন সব প্রতিষ্ঠানে সমানসংখ্যক মালিক ও কর্মী প্রতিনিধি নিয়ে সেফটি কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আইএলও-এফবিসিসিআইয়ের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ৯০০ সেফটি কমিটির সদস্যদের অগ্নিনিরাপত্তা, পেশাগত সেফটি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এর ফলে কমিটিগুলো তাদের কর্মক্ষেত্রের সেফটি ইস্যুগুলো আরও ভালোভাবে চিহ্নিত ও তদারক করতে পারবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শক্তিশালী ও কার্যকর সেফটি ইউনিট, সেফটি কমিটি ও সেফটি প্রতিনিধি তৈরিতে আইএলওর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় এফবিসিসিআই এই প্রকল্প নিয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে উন্নত কর্মপরিবেশ ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত হলে আমাদের কারখানা আরও নিরাপদ হবে, উৎপাদনশীলতাও বাড়বে। আর তা আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী, পরিচালকবৃন্দ ও এফবিসিসিআইয়ের সেফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শহীদুল্লাহ।

এর আগে গত মে মাসে আইএলওর আরএমজি প্রোগ্রাম ঢাকায় প্রথমবারের মতো ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি ফোরামের (আইএসএফ) আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সব শিল্প খাতে কর্মক্ষেত্রে সেফটি ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নবিষয়ক আলোচনা হয়।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইর সহায়তার এক হাজার আরএমজি সেফটি কমিটিকে অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ (ওএসএইচ), অগ্নিনিরাপত্তা ও কোভিড-১৯ গাইডলাইন বিষয়ে সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে আইএলওর আরএমজি প্রোগ্রাম।

আরও পড়ুন:
বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে ব্রাজিলের সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের দুই চুক্তি
গভর্নরকে এফবিসিসিআই সভাপতি: সবাইকে সমান সুবিধা দিন
ঢাকায় ফের দূতাবাস চালুর চিন্তা আর্জেন্টিনার
বন্ড মার্কেট শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নেবে এফবিসিসিআই
রাত ৮টার পরও দোকান খোলা চায় এফবিসিসিআই

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Money exchange can earn a maximum of one and a half rupees per dollar

মানি এক্সচেঞ্জ ডলারপ্রতি সর্বোচ্চ দেড় টাকা লাভ করতে পারবে

মানি এক্সচেঞ্জ ডলারপ্রতি সর্বোচ্চ দেড় টাকা লাভ করতে পারবে
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন থেকে ব্যাংকগুলো যে দরে ক্যাশ ডলার বিক্রি করবে মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলো তার চেয়ে এক টাকা বেশি দরে কিনতে পারবে। আর বিক্রি করতে পারবে সর্বোচ্চ দেড় টাকা বেশি দরে।’

সংকট কাটাতে ব্যাংকের মতো মানি চেঞ্জারদের ক্ষেত্রেও ডলার বেচা-কেনায় ব্যবধান (স্প্রেড) নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে ব্যাংকের সঙ্গে মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবধান হবে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৫০ পয়সা। ব্যাংকের ক্ষেত্রে যেটা ১ টাকা।

খোলাবাজারে বিদেশি মুদ্রা কেনাবেচার প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) সঙ্গে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন থেকে ব্যাংক যে দরে ক্যাশ ডলার বিক্রি করবে সেই দরকে বেঞ্চ মার্ক ধরে এর চেয়ে সর্বোচ্চ দেড় টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে পারবে মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলো। এক্ষেত্রে ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবধান হবে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৫০ পয়সা।

‘ব্যাংকগুলো যে দরে ক্যাশ ডলার বিক্রি করবে মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলো তার চেয়ে এক টাকা বেশি দরে কিনতে পারবে। আর বিক্রি করতে পারবে সর্বোচ্চ দেড় টাকা বেশি দরে।’

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ডলারের বাজার নিয়ে এক ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছি। ডলার বাজারের অস্থিরতা দূর করতে এর আগে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈঠক করেছে। সেখানে তাদেরকে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো যে দরে ডলার কিনবে, তার সঙ্গে বিক্রি মূল্যের একটি সিলিং করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যবধান হবে সর্বোচ্চ এক টাকা। সব ব্যাংক এটি ফলো করবে বলে তারা জানিয়েছেন।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা ব্যাংকগুলোতে যেমন পরিদর্শন চালিয়েছি, তেমনই খোলাবাজারও পরিদর্শন করেছি। বাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেয়া ২৩৫টি বৈধ মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। কোনো অনিয়ম পেলে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি না নিয়ে ৭’শর বেশি মানি চেঞ্জার বাজারে কাজ করছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে আইন-শৃংখলা বাহিনী। ইতোমধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে তারা শাটডাউন করেছে। আরো বেশকিছু প্রতিষ্ঠান এই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

আরও পড়ুন:
বিমানবন্দরে ৩২ হাজার ডলারসহ আটক ১
এক মাসে রিজার্ভ থেকে ১.১৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি
তিন মাসের রিজার্ভই যথেষ্ট: প্রধানমন্ত্রী
শুধু বাংলাদেশ নয়, সব দেশেই কমছে রিজার্ভ
রিজার্ভে চাপ কমাতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ সিদ্ধান্ত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Economists see three ways to control inflation

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তিন উপায় দেখছেন অর্থনীতিবিদরা

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তিন উপায় দেখছেন অর্থনীতিবিদরা
মঙ্গলবার একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল্যস্ফীতি কীভাবে প্রশমন করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কৌশল খুঁজতে বলেছেন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি করতে হলে তিনটি পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে। 

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় মূল্যস্ফীতি প্রশমনে সরকারকে তিন পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এগুলো হলো: বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, ব্যাংক খাতের ঋণের সুদ হারের নির্ধারিত সীমা তুলে দেয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘নীতি সুদ হার’ বাড়ানো।

এসব পদক্ষেপ নিলে মূল্যস্ফীতি সহনীয় হবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে বলে মত দেন তারা।

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও মূল্যস্ফীতির জ্বরে কাঁপছে। আর মূল্যস্ফীতির যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ।

বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি দেশের ভেতরেও এর দাম সমন্বয় করেছে সরকার। এর অভিঘাতে পণ্যমূল্য আরও বাড়ায় সীমিত ও নির্ধারিত আয়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ যে কষ্টে আছে, তার প্রতিফলন উঠে এসেছে সরকারপ্রধানের বক্তব্যেও।

মঙ্গলবার একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট হচ্ছে। কীভাবে মূলস্ফীতি প্রশমন করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কৌশল খুঁজতে হবে।’

বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, জুলাই মাস শেষে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গ্রামে এই হার শহরের তুলনায় বেশি।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, দেশে প্রকৃত মূল্যস্ফীতি আরও বেশি। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি ও সানেম দাবি করেছে দেশে মূল্যস্ফীতির হার বিদ্যমান হারের চেয়ে দ্বিগুণ। শুধু বাংলাদেশেই নয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সারা বিশ্বেই মূল্যস্ফীতির সূচক উর্ধ্বমুখী।

বৈশ্বিক সংকটের কারণে বর্তমানে দেশে ডলারের তীব্র সংকট চলছে। এক ডলার কিনতে এখন খরচ করতে হচ্ছে একশ টাকার ওপরে। অর্থাৎ স্থানীয় টাকার মান কমছে আর ডলার রকেট গতিতে ছুটছে। ডলার নিয়ে এমন সংকট আগে কখনই দেখা যায়নি দেশে। ফলে ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় হারে অস্থিরতা চলছে।

বিনিময় হার বাজারের উপরে ছেড়ে দেয়ার পরামর্শ দিয়ে অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে হলে বিনিময় হার স্থিতিশীল করা আবশ্যক।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংকট মোকাবিলায় প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ প্রায় সব দেশেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘নীতি সুদ’ হার বাড়িয়ে মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক চুপ করে বসে আছে কেন, এ প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, মূল্যস্ফীতি সহনীয় করার আরেকটি উপায় হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘নীতি সুদ’ হার বাড়ানো।

বেসরকারি বিনিয়োগে খরার কারণে ব্যাংক খাতে বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। ঋণের সুদ হার ৯ শতাংশ বেঁধে দেয়ার পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। অর্থনীতিবিদরা জানান, সরকার যে উদ্দেশ্যে ব্যাংক খাতে ঋণ ও আমানতের সুদ হার ৯/৬ বেঁধে দিয়েছে, তা সফল হয়নি। তাই ঋণের সুদ হার ‘বাজার ভিত্তিক’ করার পরামর্শ দেন তারা।

যোগাযোগ করা হলে তত্ত্বাবাধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা খুব সহজ নয়। এখন যে মূল্যস্ফীতি হচ্ছে, তা বৈশ্বিক কারণে। তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি বিশ্ববাজারে কিছু স্বস্তির আভাস। জ্বালানি তেলের দাম কমছে। খাদ্যশস্যের দামও কমতে শুরু করেছে। এ ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে আশা করা হচ্ছে আগামী দুই মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে।’

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাবেক কর্মকর্তা ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিআরআই-এর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুদহার বাড়ালে টাকা আরও দামি হবে। তখন ডলারের চাহিদা কমে আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতসহ প্রায় সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদ হার বাড়িয়ে বাজার থেকে মুদ্রা তুলে নিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে।’

খ্যাতনামা এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন, ব্যয়ের ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধনে সরকার যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলো ঠিকই আছে। সিদ্ধান্তগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি-না সে বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করতে হবে।

আরও পড়ুন:
মূল্যস্ফীতি প্রশমনের কৌশল খুঁজুন: প্রধানমন্ত্রী
জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে: অর্থমন্ত্রী
চার সূচকের পর স্বস্তি এবার মূল্যস্ফীতির হিসাবে
দু-এক মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে মূল্যস্ফীতি: অর্থমন্ত্রী
ব্যাংকে সুদহারের নয়-ছয় নিয়ে উভয় সংকট

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
50 paisa increase the price of four taka increase the logic?

‘৫০ পয়সা খরচ বাড়ায় দাম চার টাকা বাড়ার লজিক আছে?’

‘৫০ পয়সা খরচ বাড়ায় দাম চার টাকা বাড়ার লজিক আছে?’ সচিবালয়ে বুধবার এক কোটি পরিবারের মধ্যে টিসিবির ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ছবি: নিউজবাংলা
ধরেন তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচের জন্য প্রতি কেজিতে ৫০ পয়সা করে বাড়তে পারে, সেখানে ব্যবসায়ীরা ৪ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এখানে কোনো লজিক আছে? নাই: বাণিজ্য মন্ত্রী

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে চালের পরিবহন ব্যয় কেজিপ্রতি ৫০ পয়সা বাড়তে পারে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আর এর সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম চার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন জানিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন তিনি। বলেছেন, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘এভাবে দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। সুযোগ পেয়ে লাফিয়ে পড়েছে ব্যবসায়ীরা।’

সচিবালয়ে বুধবার এক কোটি পরিবারের মধ্যে টিসিবির ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

গত ৫ আগস্ট থেকে ডিজেলের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানোর পর পণ্যমূল্য আরেক দফা লাফ দেয়ায় জনসাধারণের জীবন হয়েছে আরও কঠিন। তবে পণ্যমূল্য যে হারে বেড়েছে, তা পরিবহন খরচ বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি বলে মনে করে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বলেছেন, পণ্যমূল্য এতটা বাড়ার কোনো কারণ নেই।

মাত্রাতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা তুলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা সুযোগ যখন নেয়, সবাই একবারে লাফ দিয়ে নেয়।…ধরেন তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচের জন্য প্রতি কেজিতে ৫০ পয়সা করে বাড়তে পারে, সেখানে ব্যবসায়ীরা ৪ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এখানে কোনো লজিক আছে? নাই৷’

এই অতিমুনাফার প্রবণতা সহজে থামানো যাবে না বলেও মনে করেন টিপু মুনশি। বলেন, ‘আমরা তো এসব একবারে শেষ করতে পারব না। তাদের সঙ্গে বসে সেটেল (নিষ্পত্তি) করতে হবে। আমাদের একটু সময় দেন। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করছি।

‘আমাদের একটু সময় দেন। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করছি। আমরা কষ্টে আছি, স্বীকার করছি।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা এ বিষয়গুলো দেখছি। তবে সবকিছু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করে না। আর সব ব্যাপারে আমি আপনাদের বোঝাতে পারব, তা কিন্তু নয়। আমার যেটা কথা…হঠাৎ করে সুযোগ কেউ কেউ নিয়েছে। যে পরিমাণ বাড়ার কথা, তার থেকে অনেক বেশি সুযোগ নিয়েছে, এটা সত্যি কথা। আমরা চেষ্টা করছি।’

ডলারে ক্রমবর্ধমান দরও দুশ্চিন্তায় ফেলেছে মন্ত্রীকে। তিনি বলেন, ‘ডলারের দাম হঠাৎ করে এত বেশি। খুব চেষ্টা করা হচ্ছে কীভাবে কী করা যায়। আমাদের কাছে হিসাব আছে।’

কবে নাগাদ বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সেটা বলা যাবে না, তবে আমরা খুব আশাবাদী অক্টোবরের মধ্যে কিছুটা কমে আসবে। কতগুলো ফ্যাক্টর কাজ করে। আমি জানি না, পুতিন সাহেব কবে যুদ্ধ বন্ধ করবেন। সেটা তো আমার হিসাবের মধ্যে নেই।’

আরও পড়ুন:
দাম নিয়ন্ত্রণে ডিম আমদানির চিন্তা
রাশিয়ার তেল কেনার কী উপায়, বাধা কোথায়?
রুশ তেল আমদানি ইস্যুতে বিশেষজ্ঞ দল আসছে
রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আনতে চান প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের ব্যারেল ৯০ ডলারের নিচে

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The thought of importing eggs to control prices

দাম নিয়ন্ত্রণে ডিম আমদানির চিন্তা

দাম নিয়ন্ত্রণে ডিম আমদানির চিন্তা এক মাসে ডিমের দাম এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে গেছে। ফাইল ছবি
ডিম আমদানি করতে তো একটু সময় লাগবে। আমরা দেখি, যদি এমনটাই হয় যে সত্যি ডিম আমদানি করলে এটা কমবে, তাহলে আমরা ডিম আমদানির প্রক্রিয়ায় যাব: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রায় প্রতিদিনই বেড়ে যাওয়া দাম নিয়ন্ত্রণে এবার ডিম আমদানির চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। পাশাপাশি দেশে কেন এভাবে হুট করে পণ্যটির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে, সেটিও মূল্যায়ন করা হবে।

এক মাস ধরে ডিমের দাম এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে যাওয়ার পর তীব্র জন-অসন্তোষ ও অস্বস্তির মধ্যে বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ কথা জানান। এক কোটি পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রির কার্যক্রম নিয়ে জানাতে তিনি আসেন গণমাধ্যমের সামনে।

ডিম নিয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রী মনে করেন, সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফা করছে। তিনি বলেন, ‘সুযোগ যখন নেয় সবাই একবারে লাভ দিয়ে করে নেয়।’

রাতারাতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষি, মৎস্যসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় মিলে ডিমের ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করব দাম কীভাবে কমানো যায়।’

আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিম আমদানি করতে তো একটু সময় লাগবে। আমরা দেখি, যদি এমনটাই হয় যে সত্যি ডিম আমদানি করলে এটা কমবে, তাহলে আমরা ডিম আমদানির প্রক্রিয়ায় যাব।’

সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাবে ফার্মের মুরগির ডিমের হালি এখন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও যা ছিল ৪৩ থেকে ৪৭ টাকা। এক মাস আগে ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা হালি। আর এক বছর আগে ছিল ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা।

অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২০ শতাংশের মতো, এক মাসে বেড়েছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আর এক বছরে বেড়েছে ৫৪ শতাংশের বেশি।

ডিমের এই দাম বৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আজই বৈঠকে বসার কথাও জানান টিপু মুনশি। বলেন, ‘সেখানে আলোচনা হবে কেন ডিমের দাম এমন হলো। তৃণমূলে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, আমরা সেগুলো দেখছি। বিভিন্ন সময় এমন অসুবিধা হয়েছে, সেগুলো আমরা অ্যাড্রেস করেছি। দু-চার বা পাঁচ দিন সময় অবশ্য লেগেছে।’

ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে কি?

বিশ্ববাজারে দাম কমলেও ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটি নিয়েও বাণিজ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সেই সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও। আলোচনা চলছে। বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমেছে, আবার ডলারের দাম বেড়েছে। এ দুটিকে বিবেচনায় নিয়ে একটি দাম নির্ধারণ করতে হবে।

‘আমরা সেই চেষ্টাই করছি। খুব শিগগিরই তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে। আমরা বসে আছি যদি ডলারের দামটা একটু কমে। আমাদেরও ওদের সঙ্গে নেগোশিয়েট করার একটু সুযোগ হবে।’

ভর্তুকি মূল্যের পণ্য বিতরণে অনিয়ম প্রসঙ্গ

ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিতরণে এক কোটি মানুষ বাছাইয়ে অনিয়ম হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘শহরগুলো থেকে ৭০ লাখ লোক ঠিক করা হয়েছে। রমজানের মাসে ঈদকে সামনে রেখে সময় কম থাকায় তখন একটু তাড়াহুড়া ছিল। স্থানীয় কমিটি এ তালিকা করেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় করেনি।

‘টিআইবি যে রিপোর্ট করে, সেটা প্রথম দিককার রিপোর্ট, মার্চ ও এপ্রিলের দিকে তারা চেক করেছে। তারা এক কোটি কার্ডধারীর মধ্যে এক হাজার ৪৭ জনকে নিয়েছেন। যেটার পার্সেন্টেজ পয়েন্ট দশমিক ০০০১৪ শতাংশ। এর মধ্যে বাদ দেয়া সাড়ে ৮ লাখ মানুষও তো আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অ্যাপ্রিসিয়েট করি, যেকোনো রিপোর্ট যেকোনো তদন্ত- সেটা আমাদের চোখ-কান খুলে দেয়। কিন্তু সেটি যদি যৌক্তিক হয় বা সেটা যথার্থ হয়, তাহলে আমাদের পক্ষে কাজ করতে সুবিধা হয়। তা না হলে মানুষের মধ্যে কনফিউশন সৃষ্টি করে। তারপরও আমরা কাউকে আন্ডারমাইন্ড করতে চাই না। আমাদের দায়িত্ব যে, সত্যিটা কী, কী ঘটনা ঘটেছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বলা হয়েছে নাম ঢোকার ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। আমি একেবারে অস্বীকার করতে চাই না যে হয়নি। কিন্তু রিয়েলিটিটা কী, আমাদের দেশটা কোথায়? পশ্চিমা বিশ্বের মতো না যে, একটা চাপ দিয়ে বিস্তারিত পাওয়া যাবে। আমাদের নির্ভর করতে হয়েছে কমিটির ওপর। হতে পারে ৫ শতাংশ মানুষ নজর ফাঁকি দিয়ে ঢুকে গেছে। কিন্তু আমরা ৯৫ শতাংশ মানুষের কাছে তো পৌঁছে গেলাম। আমরা পর্যায়ক্রমে কিন্তু সেগুলোও দেখছি।

‘আমরা আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে চাই। এ চলার পথে যদি কোথাও কোনো কারেকশন দরকার হয়, কোথাও কোনো অনিয়ম থাকে, সেটাও আমরা অ্যাড্রেস করব।

‘এক কোটি কার্ডের মধ্যে ৮০ শতাংশ কার্ড করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরে এখনও কার্ড দেয়া হয়নি। আশা করি এক মাসের মধ্যে শতভাগ হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
বাজারে কম ডিমের দাম, হোটেলে বেশি
জনগণকে গাছের পাতা খাওয়ার পরামর্শ মিসরের প্রেসিডেন্টের
ডিমের বাজারও চড়া
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ মুরগির মাংস-ডিমে ‘সাফল্য’
বিশ্বজুড়ে ডিমের দাম বাড়ল কেন

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Where is the way to buy Russian oil?

রাশিয়ার তেল কেনার কী উপায়, বাধা কোথায়?

রাশিয়ার তেল কেনার কী উপায়, বাধা কোথায়? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিল পরিশোধ করা কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে আমরা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করব কি না? এটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। রাশিয়া থেকে তেল কিনলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি বিরাগভাজন হয়, তাহলে এই পথে যাওয়া ঠিক হবে না।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনার ‍উপায় খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মঙ্গলবার তিনি এ নির্দেশ দেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতসহ অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও রাশিয়া থেকে সস্তায় জ্বালানি তেল কিনতে পারে। অনেক পথও আছে, তবে সমস্যা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সবচেয়ে বড় অর্থনীতির এই দেশটিকে ‘না চটিয়ে’ রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অখুশি হলে এই দুই বড় বাজারে বাংলাদেশের ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হুমকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে তারা বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি না করলে বা কমিয়ে দিলে দেশ বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে।

বেশ কিছুদিন ধরেই রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। গত মে মাসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও এমন ইঙ্গিত দেন। তবে কীভাবে আমদানি হবে, দাম কীভাবে পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো উপায় নির্ধারণ হয়নি।

একনেক সভা শেষে মঙ্গলবার পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না?”'

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি করা গেলে বিনিময় মুদ্রা কী হবে, সে বিষয়েও একটি সমাধান খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান মান্নান।

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পরে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া আগে প্রতিদিন প্রায় ৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করত, যার অর্ধেকের বেশি যেত ইউরোপে। ।

গত ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে অভিযান শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা একের পর এক মস্কোর ওপর অবরোধ আরোপ শুরু করে।

একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জ্বালানির জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার ঘোষণা দেয়।

রাশিয়ার তেল কেনার কী উপায়, বাধা কোথায়?

নিষেধাজ্ঞার মুখে অন্য ক্রেতারা রুশ তেল কেনা থেকে পিছু হটলেও বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যাপক মূল্য ছাড়ে তাৎক্ষণিক টেন্ডারের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে বাড়তি তেল কেনা শুরু করে। চীনও রাশিয়া থেকে তেল কেনা বাড়িয়েছে বলে খবর এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে রাশিয়া থেকে ভারতের অতিরিক্ত তেল কেনার বিষয়টি ভালোভাবে না নেয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে স্পষ্ট করেছে ওয়াশিংটন।

রাশিয়ার পণ্য কেনার ক্ষেত্রে দাম পরিশোধ নিয়েও জটিলতা রয়েছে। সুইফটে নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারে দাম পরিশোধ সম্ভব নয়। আর রাশিয়াও অনেক দেশের ক্ষেত্রে রুবলে দাম পরিশোধের শর্ত দিচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর পরপর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১৩০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও এখন তা অনেকটা কমে এসেছে। কিন্তু তেল আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভর্তুকি কমাতে আর ডলার বাঁচাতে সরকার আগস্টের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে, যার প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে অনেকটা।

তেল বাঁচাতে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমিয়ে দিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে রুটিন করে সব এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

এ অবস্থায় রাশিয়া থেকে তেল কেনা হলে অনেক কম দামে পাওয়া যাবে বলে বাংলাদেশ সরকার আশা করছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে যে দামে তেল কেনে ভারত, তার তুলনায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২০ ডলার বা তারও বেশি ছাড় দিচ্ছে রাশিয়া৷ তাই ভারত এখন যেসব দেশ থেকে তেল কেনে, সেই তালিকায় দুই নম্বরে উঠে গেছে রাশিয়া৷ আগে সৌদি আরব ছিল দুই নম্বরে৷ এখন তারা তিন নম্বরে আছে৷ এক নম্বরে আগের মতোই ইরাক আছে৷

বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে তেল কিনলে মূল্য পরিশোধ করা যাবে কীভাবে- এ প্রশ্নের উত্তরে অর্থনীতির গবেষক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিনভাবে দাম পরিশোধ করা যেতে পারে। প্রথমত, আমরা এখন রাশিয়ায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের মতো পণ্য রপ্তানি করে থাকি। আমরা যে তেল কিনব সেই দাম রপ্তানি থেকে যে আয় হবে তা দিয়ে একটা সমন্বয় করা যেতে পারে।

’দ্বিতীয়ত, আমাদের রূপপুর পারমণবিক বিদুৎ কেন্দ্রের জন্য বড় ধরনের কেনাকাটা করতে হচ্ছে, সেই কেনাকাটার বিলের সঙ্গে তেল আমদানির বিল সমন্বয় করা যেতে পারে। আর শেষেরটি হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সম্মতি দিলে ডলারেও পেমেন্ট করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিল পরিশোধ করা কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে আমরা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করব কি না? এটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। রাশিয়া থেকে তেল কিনলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি বিরাগভাজন হয়, তাহলে এই পথে যাওয়া ঠিক হবে না।

’কেননা, এই দুই বড় বাজারে বাংলাদেশের ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি। রাশিয়া থেকে তেল কেনা শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো যদি নাখোশ হয়, তারা বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি না করে বা কমিয়ে দেয় তাহলে বাংলাদেশ বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে।’

এক হিসাব দিয়ে আহসান মনসুর বলেন, ‘রাশিয়া থেকে কম দামে তেল কিনলে হয়তো আমাদের ৩০-৪০ কোটি ডলারের মতো সাশ্রয় হবে। কিন্তু রাশিয়া-ইউরোপ অখুশি হলে ৩৫-৪০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

‘তাই আমি মনে করি, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাড়াহুড়া না করে ভেবেচিন্তে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সব দিক বিবেচনায় রাখতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা কিন্তু ভারতের মতো বড় দেশ নই। যুক্তরাষ্ট্র অনেক কিছুতে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। ভারতের অনেক বড় বড় বহুজাতিক কোম্পানি আছে। যাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নির্ভর করে।

‘কিন্তু আমাদের কিন্তু সে রকম অবস্থা নেই। আমরা ছোট দেশ, ছোট অর্থনীতি। যে অর্থনীতির অনেক কিছুই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। তাই এই দুই দেশ নাখোশ হয়, এমন সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না।

‘যুক্তরাষ্ট্র যদি নীরব থাকে আমরা ভারতের মতো রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারি, কিন্তু তারা চটে গেলে দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। সেই ঝুঁকি আমরা নেব কি না-সেটাই এখন বড় বিষয়। মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র চটলে, ইইউও চটবে।’

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় মুদ্রা বিনিময় (কারেন্সি সোয়াপ) নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। রাশিয়া, চীন ও ভারত—এই তিন দেশের সঙ্গে এমন হতে পারে। আমরা এসব দেশ থেকে আমদানি বেশি করি। তাহলে তারা আমাদের টাকা কী করবে? এ নিয়ে কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাশিয়ার আর্থিক লেনদেনের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞার কারণে সুইফট সিস্টেমের বাইরে গিয়ে চীনের মুদ্রা বা টাকা এবং রুবলে লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও মস্কো ভাবছে। এটা সম্ভব। রাশিয়ায় আমাদের যে ১ বিলিয়ন ডলারের মতো রপ্তানি হয়, সেই রপ্তানি বিল রাশিয়ার মুদ্রা রুবলে নিলে, সেই রুবল দিয়ে আমরা তেলের দাম শোধ করতে পারি। আবার ডলার বা টাকা দিয়ে চীনের মুদ্রা ইউয়ান কিনে সেই ইউয়ান দিয়েও তেলের দাম পরিশোধ করা যেতে পারে।’

দেশের আরেক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারত রাশিয়া থেকে রুবলে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। সেটা সম্ভব হলে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যও রুবল-টাকায় হওয়া সম্ভব।

‘তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, সরকার টু সরকার বাণিজ্য হলে সেটা রুবল-টাকাতে হওয়ায় খুব একটা সমস্যা নেই। কিন্তু বেসরকারি পর্যায়ে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। কেননা, বেসরকারি উদ্যোক্তারা টাকা দিয়ে যেমন সহজেই ডলার কিনতে পারেন; রুবল তো সেভাবে পাবেন না।’

ভারতের রাষ্ট্রীয় তেল পরিশোধনকারী সংস্থা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (এইচপিসিএল) সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের এপ্রিল-মে মাসে রাশিয়া থেকে মাত্র ৪৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের তেল কিনেছিল ভারত৷ আর চলতি ২০২২ সালের শুধু মে মাসেই ১৯০ কোটি ডলারের তেল কিনেছে ভারত৷

আগে বছরে চাহিদার মোট ২ শতাংশ রাশিয়া থেকে আমদানি করত ভারত। এবার এপ্রিল-মে মাসে চাহিদার ১০ শতাংশ তেল রাশিয়া থেকে আমদানি করেছে। যত সময় গড়াচ্ছে, ততই রাশিয়া থেকে তেল আনার পরিমাণও বাড়ছে৷ কারণ রাশিয়া সস্তায় তেল দিচ্ছে ভারতকে।

কিছুদিন আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ভারত সফরে গিয়ে বাংলাদেশও যাতে ভারতের মতো সস্তায় রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারে, সেই রাস্তা বাতলে দিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে অনুরোধ করেছিলেন।

দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা আহসান মনসুর বলেন, ‘ইউরোপ-আমেরিকার চোখ রাঙানিকে ভারত ভয় না পেয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তার কারণ হলো- আয়তনে ও প্রভাবে ভারত অনেকটাই বড়৷ ভারতের বিশাল বাজার ধরতে সব দেশের কোম্পানি উদগ্রীব৷ ভারতের বাজার হারালে অনেক বহুজাতিক কোম্পানি রীতিমতো বিপাকে পড়বে৷’

‘অস্ত্র থেকে শুরু করে ভোগ্যপণ্য- সবকিছুর ক্ষেত্রেই ভারতের বাজার তাদের কাছে খুবই লোভনীয়৷ সে জন্য ভারত এই চাপকে উপেক্ষা করতে পারে।’

‘কিন্তু বাংলাদেশ পারে না, এটাই বাস্তব সত্য,’ বলেন আহসান মনসুর।

আরও পড়ুন:
‘পারমাণবিক বিপর্যয়ে দায়ী থাকবে ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা’
মুসলিম লীগের মতো হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী
পরিত্যক্ত ঘরে মিলল ৩ হাজার লিটার ডিজেল
কাঁচাবাজার নিয়ন্ত্রণহীন
আমদানি কমছে, বাড়ছে রেমিট্যান্স, ফিরছে স্বস্তি

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The hearing of the ruling on the cancellation of Dr Yunuss case is going on

ড. ইউনূসের মামলা বাতিল প্রশ্নে রুলের শুনানি চলছে

ড. ইউনূসের মামলা বাতিল প্রশ্নে রুলের শুনানি চলছে শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের লোগো। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ চারজনের নামে মামলা করেন। এ মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন ড. ইউনূস।

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে শান্তিতে নোবেলজয়ী ও গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামে করা মামলা বাতিলে জারি করা রুলের শুনানি চলছে।

বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে বুধবার এ শুনানি শুরু হয়।

ইউনূসের পক্ষে শুনানি করছেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ চারজনের নামে ওই মামলা করেন।

ড. ইউনূস ছাড়াও গ্রামীণ টেলিকমের এমডি আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহানকে মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।

মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করায় শ্রম আইনের ৪ এর ৭, ৮, ১১৭ ও ২৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন ড. ইউনূস।

আরও পড়ুন:
আইনজীবীকে ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের ‘১২ কোটি টাকা দেয়ার’ ঘটনা তদন্ত চেয়ে রিট
চাকরিচ্যুতদের আইনজীবীর সঙ্গে ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের ‘সমঝোতা’, অ্যাকাউন্ট জব্দ
ইউনূস সেন্টারের বিবৃতি বিভ্রান্তিমূলক: সেলিম মাহমুদ
চাকরিচ্যুতদের ‘ঠকাতে’ ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের অনিয়মে হাইকোর্টের বিস্ময়
পদ্মা সেতু নিয়ে ইউনূস সেন্টারের ব্যাখ্যা সত্যের অপলাপ: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে