× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
France violates diplomatic etiquette Russia
hear-news
player
print-icon

ফ্রান্স কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে: রাশিয়া

ফ্রান্স-কূটনৈতিক-শিষ্টাচার-লঙ্ঘন-করেছে-রাশিয়া
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁ (বাঁয়ে) এবং রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। ফাইল ছবি
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ বলেন, ‘দুই নেতার কথোপকথনের বিষয়বস্তু নিয়ে রাশিয়ার লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা নীতিগতভাবে এমনভাবে আলোচনায় নেতৃত্ব দিই যে আমাদের কখনই লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা সব সময় যা মনে করি, তা বলি। আমরা আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে সব সময় প্রস্তুত থাকি।’

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর বিরুদ্ধে ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচার’ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে রাশিয়া। ভিয়েতনাম সফরে থাকা রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বুধবার জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনের ফোনালাপ প্রকাশ করে মাখোঁ এ অপরাধ করেছেন।

ল্যাভরভ বলেন, ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচার একতরফাভাবে রেকর্ডিং ফাঁসের অনুমতি দেয় না।’

ইউক্রেনে রুশ অভিযানের কয়েক দিন আগে ‘গোপনীয়’ কলের বিশদ বিবরণ সম্প্রতি প্রচার করে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ২। ইউক্রেন সংঘাত বন্ধে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের তৎপরতা নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রে ওই ফোনালাপ ফাঁস করা হয়।

ল্যাভরভ বলেন, ‘দুই নেতার কথোপকথনের বিষয়বস্তু নিয়ে রাশিয়ার লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা নীতিগতভাবে এমনভাবে আলোচনায় নেতৃত্ব দিই যে আমাদের কখনই লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা সব সময় যা মনে করি, তা বলি। আমরা আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে সব সময় প্রস্তুত থাকি।’

‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’-এর দশম বার্ষিকী ঘিরে ল্যাভরভ দুই দিনের সফরে ভিয়েতনামে আছেন। ঐতিহাসিকভাবে মস্কোর ঘনিষ্ঠ ভিয়েতনাম। এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানাতে অস্বীকার করেছে দেশটি।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে ‘বিশেষ অভিযান’ চালাচ্ছে রাশিয়া। এর আগে পূর্ব ইউক্রেনের দুটি বিদ্রোহী অধ্যুষিত অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

আরও পড়ুন:
লিসিচানস্ক দখলের দাবি ইউক্রেন রাশিয়া উভয়েরই
স্নেক আইল্যান্ডে ফসফরাস বোমা রাশিয়ার: ইউক্রেন
ইউক্রেন ক্রিমিয়া আক্রমণ করলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ: মেদভেদেভ
ন্যাটোর কাছে মাসে ৪৮ হাজার কোটি টাকা চান জেলেনস্কি
‘পুতিন নারী হলে ইউক্রেন আক্রমণ করতেন না’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Trinamool Kesht arrested in cow smuggling case

গরু পাচার মামলায় আটক তৃণমূলের কেষ্ট

গরু পাচার মামলায় আটক তৃণমূলের কেষ্ট তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট মন্ডল। ছবি: সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার সকালে তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট মন্ডলকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুর্গাপুরের সিবিআই ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।

গরু পাচার মামলায় তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট মন্ডলকে আটক করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)।

বৃহস্পতিবার সকালে অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ি থেকে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুর্গাপুরের সিবিআই ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।

সকাল ১০টা নাগাদ সিবিআই ১০-১২টি গাড়ির বহর নিয়ে গিয়ে আধা সেনাবাহিনী দিয়ে কেষ্ট মন্ডলের বীরভূমের নিচু পট্টির বাড়ি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। একদল তদন্তকারী বাড়ির ভেতরে ঢুকে সবার মোবাইল ফোন জব্দ করে। নিরাপত্তা রক্ষীদেরও বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। কয়েকজন সিবিআই তদন্তকারী অনুব্রত মণ্ডলকে গরু পাচার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। আরেক দল বাড়িতে তল্লাশি চালায়।

অনুব্রত মণ্ডলকে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। সূত্রের খবর, আজই অনুব্রত মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে ।

গরু পাচার মামলায় অনুব্রতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ বার নোটিশ পাঠিয়ে তলব করেছে সিবিআই। এর মধ্যে একবারই তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়েছেন এই তৃণমূল নেতা ।

সোমবার কলকাতার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের সিবিআই অফিসে হাজিরা দেয়ার জন্য নোটিশ পাঠায়। কেষ্ট মন্ডল প্রতিবারের মতো শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আইনজীবী মারফত চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেন, তিনি উপস্থিত থাকতে পারছেন না ।

এদিন সিবিআইয়ের দপ্তরে তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি না হয়ে কেষ্ট মন্ডল সোজা এসএসকেএম হাসপাতালে চলে যান। সেখানে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বড় কোন সমস্যা নেই বলে ছেড়ে দেয় বিশেষ মেডিকেল বোর্ড।

রাতে কলকাতা থেকে বীরভূমের বাড়িতে ফেরেন কেষ্ট মন্ডল। মঙ্গলবার সকালে আবার সিবিআইয়ের নোটিশ পৌঁছে যায় কেষ্ট মন্ডলে বাড়িতে।

বুধবার কলকাতার নিজাম প্যালেসে হাজিরা দেয়ার নোটিশ পাঠায় সিবিআই। মণ্ডল সেই হাজিরাও এড়িয়ে যেতে স্থানীয় বোলপুর মহাকুমা হাসপাতালে চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারীকে দিয়ে বেড রেস্ট লিখিয়ে সিবিআইয়ের কাছে ১৪ দিনের সময় চেয়ে আইনজীবীর চিঠি পাঠিয়ে দেন। বুধবারের হাজিরাও তিনি এড়িয়ে যান ।

আরও পড়ুন:
আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত বলে দাগ লাগানোর চেষ্টা চলছে: তৃণমূল
জেল হেফাজতে পার্থ-অর্পিতা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Take the turbine but give the gas

টারবাইন ফেরত নিয়ে গ্যাস দিন: রাশিয়াকে জার্মানি

টারবাইন ফেরত নিয়ে গ্যাস দিন: রাশিয়াকে জার্মানি জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজ গত ৩ আগস্ট নর্ড স্ট্রিম ১ গ্যাস পাইপলাইনের টারবাইনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ছবি: সংগৃহীত
নর্ড স্ট্রিম ১-এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাশিয়ান গ্যাস সরবরাহ গত মাসে তাদের সর্বোচ্চ স্তরের ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। কারণ বর্তমানে ছয়টি টারবাইনের মাত্র একটি চালু আছে। বাকিগুলোর মেরামত প্রয়োজন।

ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ বাড়াতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি। বার্লিনে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজ বলেন, ‘নর্ড স্ট্রিম-১ পাইপলাইনের জন্য মেরামত করা টারবাইন নিয়ে যান আপনারা (রাশিয়া)। এরপর ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বাড়ান।’

কানাডায় রক্ষণাবেক্ষণের পর নর্ড স্ট্রিম ১ গ্যাস টারবাইন নিয়ে রাশিয়া এবং জার্মানির শীতল যুদ্ধ চলছে। মে মাসে রাশিয়ার পাইপলাইনের কম্প্রেসার স্টেশনে যুক্ত করা হয়েছিল এ টারবাইন, যেন ইইউতে গ্যাসের পূর্ণ প্রবাহ থাকে।

তবে ইউক্রেন ইস্যুতে মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে টারবাইনটি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় কানাডা। যদিও কয়েক সপ্তাহ দেরি করে সেটি জার্মানির কাছে হস্তান্তত করা হয়।

রাশিয়ান জ্বালানি জায়ান্ট গ্যাজপ্রম বলছে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে টারবাইন ফেরত নিতে বাধা দিচ্ছে জার্মানি। তবে জার্মানির দাবি, কাগজ-পত্র ঠিক না থাকায় ফেরত দেয়া হচ্ছে না টারবাইন।

গ্যাজপ্রম জোর গলায় বলছে, টারবাইনটি রাশিয়ায় পাঠানোর পরও ঝুঁকি থাকে যাবে। কারণ এটিকে চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখবে কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ। জবাবে নিজেদের মাটিতে টারবাইন রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ বন্ধ করে দেবে অটোয়া।

নর্ড স্ট্রিম ১-এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাশিয়ান গ্যাস সরবরাহ গত মাসে তাদের সর্বোচ্চ স্তরের ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। কারণ বর্তমানে ছয়টি টারবাইনের মাত্র একটি চালু আছে। বাকিগুলোর মেরামত প্রয়োজন।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Putin is conquering Europe by turning energy into a weapon

জ্বালানিকে অস্ত্র বানিয়ে ইউরোপ জয় করছেন পুতিন

জ্বালানিকে অস্ত্র বানিয়ে ইউরোপ জয় করছেন পুতিন বিপুল জ্বালানির মজুত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলীয়ান করে তুলছে। কার্টুন: সংগৃহীত
জ্বালানিকে রাশিয়া সাফল্যের সঙ্গে অস্ত্রে পরিণত করেছে। পশ্চিমা সরকারগুলো গৃহস্থালি খরচের ভর্তুকি দিতে শত শত কোটি ডলার খরচের চাপে পড়বে। বাড়তি চাহিদার কারণে পুতিন ইউরোপে গ্যাসের সাপ্লাই কমিয়ে দেবেন। এর ফলে অক্টোবর থেকে ঘরে ও অফিসে বিদ্যুতের দাম অনেক বেড়ে যাবে। যুক্তরাজ্যে দাম বাড়বে প্রায় ৭৫ শতাংশ আর জার্মানিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়বে শতভাগেরও বেশি।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর পুতিনের ক্ষমতা ধসে পড়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল পশ্চিমা বিশ্ব। তবে ছয় মাস পর উল্টো ফল দেখা যাচ্ছে। রাশিয়া জ্বালানি গ্যাস তেলের জোগান কমিয়ে দিয়ে ইউরোপকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গে এক নিবন্ধে জ্বালানি পণ্যবিষয়ক প্রতিবেদক হাভিয়ের ব্লাস লিখেছেন, চলমান লড়াইয়ে পুতিনের জয়কে নিশ্চিত করছে দেশটির বিপুল জ্বালানি সক্ষমতা। নিবন্ধটি ভাষান্তর করা হয়েছে নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য।

যেভাবেই দেখা হোক না কেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জ্বালানি বাজারে জিতে যাচ্ছেন। মস্কো তেলের খনি থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ডলার আয় করছে। এই মুনাফা তারা ইউক্রেনে সামরিক অভিযান ও নিজ দেশে যুদ্ধের প্রতি সমর্থন অর্জনের পেছনে খরচ করছে।

রাশিয়ান বাণিজ্যের ওপর নভেম্বরে ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে জ্বালানি সংকট নিয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর বেশ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এতে ভোক্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়তে পারে।

জ্বালানি তেলের বাড়তি চাহিদার কারণে পুতিন ইউরোপে গ্যাসের সাপ্লাই কমিয়ে দেবেন। এর ফলে অক্টোবর থেকে ঘরে ও অফিসে বিদ্যুতের দাম অনেক বেড়ে যাবে। যুক্তরাজ্যে দাম বাড়বে প্রায় ৭৫ শতাংশ আর জার্মানিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়বে শতভাগেরও বেশি।

জ্বালানিকে রাশিয়া সাফল্যের সঙ্গে অস্ত্রে পরিণত করেছে। পশ্চিমা সরকারগুলো গৃহস্থালি খরচের ভর্তুকি দিতে শত শত কোটি ডলার খরচের চাপে পড়বে। এ সমস্যা নিয়ে ফ্রান্স এরই মধ্যে সমস্যায় পড়েছে।

তীব্র জ্বালানি সংকট

পুতিন যেভাবে জ্বালানি তেলের সুবিধা নিজের দিকে ঘুরিয়েছেন তা রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। গত মাসে দেশটির উৎপাদন যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ ব্যারেল উৎপাদন হচ্ছে, যা ইউক্রেন আক্রমণের ঠিক আগে জানুয়ারিতে উৎপাদিত ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল থেকে সামান্য কম। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত তেলের উৎপাদন ওই হারের চেয়েও বেশি।

এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। জুলাইয়ে টানা তৃতীয় মাসের মতো তেলের উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরেছে। চলতি বছর এপ্রিলে ইউরোপীয় দেশগুলো তেল কেনা বন্ধ করে দেয়ার পর উৎপাদন ১ কোটি ব্যারেলে নেমে এসেছিল। মস্কো তখন বাধ্য হয়ে নতুন ক্রেতা খোঁজায় মনোযোগী হয়।

উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া

মার্চ ও এপ্রিলে রাশিয়ার তেলের উৎপাদন দ্রুত কমে যায়। তবে এখন তা ইউক্রেন আক্রমণের আগের অবস্থার কাছাকাছি পর্যায়ে ফিরে এসেছে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার পর তাদের কাছে প্রতিদিন এক লাখ ব্যারেল তেল বিক্রি করতে পারছিল না মস্কো। তবে এখন তারা নতুন ক্রেতা খুঁজে পেয়েছে।

রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) ক্রেতা এখন এশিয়া, বিশেষ করে ভারত। মধ্যপ্রাচ্য ও তুরকিয়েকেও তারা নতুন ক্রেতা হিসেবে পেয়েছে। ইউরোপেও নভেম্বরে আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞার আগে কিছু দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনেছে।

যারা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, রাশিয়ার তেলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে, তারা ভুল প্রমাণিত হয়েছেন।

দ্বিতীয় সূচকটি হলো, রাশিয়ান তেলের দাম। প্রাথমিকভাবে মস্কো ক্রেতাদের প্রলুব্ধ করতে বিভিন্ন দেশের কাছে বিশাল ছাড়ে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করেছে। এরপর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্রেমলিন একটি আঁটসাঁট বাজারের সুবিধা নিয়ে মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা ফিরে পেয়েছে।

নতুন এ ধারার ভালো উদাহরণ হচ্ছে ইএসপিও ক্রুড। এটি বিশেষ এক ধরনের তেল, যা রাশিয়ার দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আসে। এ বছরের শুরুর দিকে এটি এশিয়ার তেলের বেঞ্চমার্ক দুবাই ক্রুডের কাছে ব্যারেল প্রতি ২০ ডলারের বেশি ছাড়ে বিক্রি করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি ইএসপিও ক্রুড অয়েল দুবাইয়ে তেলের সমতায় পরিবর্তন এনেছে।

রাশিয়ার মধ্যবর্তী ও ইউরোপের নিকটবর্তী উরাল অঞ্চলের ক্রুড অয়েল ইউরোপের বাজারে বিক্রি করত মস্কো। এখন আর উরাল ক্রুড অয়েল থেকে ইএসপিওর মতো লাভ হচ্ছে না। কারণ এর মূল ক্রেতা ঐতিহ্যগতভাবে জার্মানির মতো দেশ। তবে সম্প্রতি এর দামও আগের মতো হয়ে আসছে।

মস্কো নতুন পণ্যের বাজারও খুঁজছে। এসব বাজার মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় এবং যেখানে রাশিয়া অর্থায়ন করে। এরা রাশিয়ার ক্রুড অয়েল কিনতে ও চাহিদার বাজারে পাঠাতে ইচ্ছুক। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকা ও রাশিয়া বিপুল ছাড় দিতে সক্ষম হওয়ায় ক্রেমলিনে প্রচুর অর্থ আসছে। ফলে আপাতত জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা কাজ করছে না।

রাশিয়ান সাফল্যের সবশেষ সূচকটি সরাসরি বাজার সম্পর্কিত নয়, সেটি রাজনৈতিক। মার্চ ও এপ্রিলে পশ্চিমা নীতিনির্ধারকদের আশা ছিল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বে ওপেক রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। অথচ বাস্তবে উল্টোটা ঘটেছে।

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের রিয়াদ সফরের পরেও পুতিন ওপেক প্লাস জোটে তার প্রভাব বজায় রেখেছেন। বাইডেন সৌদি আরব থেকে চলে যাওয়ার পরপরই ওপেকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী মূল ব্যক্তি রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক সৌদি আরবে যান। তার কয়েক দিন পর ওপেক বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ বজায় রেখে তেলের উৎপাদন সামান্য বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়।

জ্বালানি বাজারে জয়ের অর্থ হল পুতিন ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি সীমাবদ্ধ করে বার্লিন, প্যারিস ও লন্ডনের ওপর চাপ সৃষ্টির সক্ষমতা রাখেন। এসব দেশ এবারের শীতে রেশনিং হতে পারে এমন খুচরা জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য ঘাটতির জন্য প্রস্তুত। মস্কো তেল বিক্রি করে বিপুল অর্থ উপার্জন করছে। এ জন্য রাশিয়া পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোতে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ সীমিত করে দিলেও বিশেষ ক্ষতির মুখে পড়বে না।

শীতল আবহাওয়া, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও বছরের শেষ দিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সব মিলিয়ে ইউক্রেনের জন্য পশ্চিমাদের সমর্থন কমিয়ে দেয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। ইউরোপীয় রাজনীতিকরা এতদিন কিয়েভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আন্তর্জাতিক প্রশংসা পেতে আগ্রহী ছিলেন। এখন তারা ভোটারদের জ্বালানি সংকটে পড়া ঠেকাতে নিজের দেশে পণ্যমূল্য বাগে আনতে চাইবেন।

জনসমক্ষে ইউরোপীয় সরকারগুলো রাশিয়ান শক্তি থেকে নিজেদের মুক্ত করার জন্য দৃঢ়সংকল্পে অটুট। তবে গোপনে তাদের স্বীকার করতেই হচ্ছে, এমন অবস্থান অর্থনীতিতে আঘাতের হুমকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ইউরোপে রুশ তেলের পাইপলাইন বন্ধ করল ইউক্রেন
ট্রাক ভাড়া বাড়ায় বেনাপোলে পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থা
রেলের ভাড়া বাড়ানোর আলোচনা চলছে: রেলমন্ত্রী
বাস ভাড়ার প্রতারণা কাদেরকে জানালেন জাফরউল্লাহ
বিদ্যুতের দাম বাড়ালে সরকার পতনের আন্দোলন: ইসলামী আন্দোলন

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Top Taliban leader Rahimullah Haqqani was killed

তালেবানের শীর্ষ নেতা রহিমুল্লাহ হাক্কানি নিহত

তালেবানের শীর্ষ নেতা রহিমুল্লাহ হাক্কানি নিহত তালেবানের শীর্ষ নেতা রহিমুল্লাহ হাক্কানি। ফাইল ছবি
তালেবান প্রশাসনের মুখপাত্র বিলাল কারিমি বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে সম্মানিত আলেম (শেখ রহিমুল্লাহ হাক্কানি) শত্রুদের কাপুরুষোচিত হামলায় শহীদ হয়েছেন। কাবুলের একটি প্রার্থনা অনুষ্ঠানে হামলার শিকার হন তিনি।’

বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন আফগানিস্তানে তালেবানের শীর্ষ নেতা রহিমুল্লাহ হাক্কানি। তালেবান প্রশাসনের মুখপাত্র বিলাল কারিমি বৃহস্পতিবার এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে সম্মানিত আলেম (শেখ রহিমুল্লাহ হাক্কানি) শত্রুদের কাপুরুষোচিত হামলায় শহীদ হয়েছেন। কাবুলের একটি প্রার্থনা অনুষ্ঠানে হামলার শিকার হন তিনি।’

হামলায় কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। চারটি তালেবান সূত্রের বরাতে রয়টার্স বলছে, হামলাকারী এমন একজন যিনি আগে তার পা হারিয়েছিলেন। একটি প্লাস্টিকের কৃত্রিম পায়ে তিনি বিস্ফোরক লুকিয়ে রেখেছিলেন।

আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ তালেবান কর্মকর্তা বলেন, ‘এই ব্যক্তিটি কে ছিল তা জানার চেষ্টা করছি। কে তাকে শেখ রহিমুল্লাহ হাক্কানির ব্যক্তিগত অফিসে ঢোকার সুযোগ করে দিয়েছে তা বের করার চেষ্টা করছি। এটা আফগানিস্তানের ইসলামিক এমিরেটের জন্য বড় ক্ষতি।’

তালেবানের শীর্ষ নেতা হাক্কানি ওপর আগেও প্রাণঘাতী হয়েছে। ২০২০ সালে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে আইএস বোমা হামলা চালিয়েছিল হাক্কানিকে লক্ষ্য করে। ওই হামলায় সাতজন নিহত হলেও, প্রাণে বেঁচে যান হাক্কানি।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে খাবার, ওষুধ, কম্বল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ
প্রকাশ্যে তালেবানের নেতা আখুন্দজাদা
চিকিৎসার জন্য ভূমিকম্পে আহতদের গজনি কাবুলে নিচ্ছে তালেবান
‘বিশ্ব আফগানিস্তানকে ভুলে গেছে’
আফগানিস্তানে ভূমিকম্প: ভারি বৃষ্টিতে ব্যাহত উদ্ধার অভিযান

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Citizens at risk of Ukraines bases in settlements Amnesty

জনগণকে ঢাল বানানোয় ইউক্রেনের সমালোচনা অ্যামনেস্টির

জনগণকে ঢাল বানানোয় ইউক্রেনের সমালোচনা অ্যামনেস্টির রুশ হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া বিদ্যালয় ভবনের সামনে দিয়ে বিষন্ন মনে হেঁটে যাচ্ছে এক শিক্ষার্থী। গত ৩ মার্চ ইউক্রেনের জেমটোমার অঞ্চলে চালানো হয় বিমানহামলাটি। ছবি: এএফপি
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রুশ বাহিনীর হামলা প্রতিহত করতে এমন রণকৌশল কাজে লাগাচ্ছে কিয়েভ। এমন অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

ইউক্রেনীয় বাহিনী স্কুল ও হাসপাতালসহ জনবহুল আবাসিক এলাকায় ঘাঁটি স্থাপন এবং সেখান থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করার মাধ্যমে রুশ বাহিনীর হামলার মুখে ফেলে দিয়েছে নিজ দেশের বেসামরিক নাগরিকদের।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রুশ বাহিনীর হামলা প্রতিহত করতে এমন রণকৌশল কাজে লাগাচ্ছে কিয়েভ। এমন অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

এই ধরনের রণকৌশল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে এবং বেসামরিক লোকদের বিপদে ফেলে দেয়। এর মাধ্যমে কিয়েভ বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনাকে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। এতে এমনসব জনবহুল এলাকায় চালানো রুশ হামলার বলি হচ্ছে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, ‘ইউক্রেনীয় বাহিনী কীভাবে বেসামরিক নাগরিকদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে এবং জনবহুল এলাকা থেকে যুদ্ধ পরিচালনার মাধ্যমে যুদ্ধের আইন লঙ্ঘন করছে সেগুলোর ধরন ও নমুনা আমরা নথিভুক্ত করেছি।’

রুশ হামলার বিপরীতে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অমান্য করলে তা থেকে দায়মুক্তি পেতে পারে না ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এও মনে করে না যে রণকৌশল ও যুদ্ধনীতি মেনে ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে মস্কো। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে খারকিভ, দোনভাসসহ বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালাতে গিয়ে যুদ্ধাপরাধ করেছে রুশ বাহিনীও।

বেসামরিক এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর স্থাপনা বেআইনিভাবে রুশ সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এমন তথ্য পায়নি সংস্থাটি।

চলতি বছর এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষকরা খারকিভ, ডনবাস এবং মাইকোলাইভ অঞ্চলে রুশ হামলার ধরন পর্যালোচনা করেছেন। তারা কয়েক সপ্তাহ সেসব অঞ্চলে অবস্থান করেন।

সংগঠন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরিদর্শন, বেঁচে যাওয়া ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার নেয়া এবং রিমোট সেন্সিং এবং অস্ত্রের ধরন বিশ্লেষণ করেন। এরপর তৈরি করেন প্রতিবেদন।

আরও পড়ুন:
ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে ক্রিমিয়া ছেড়ে পালাচ্ছে রুশরা
যুদ্ধের থ্রিল নিতে পর্যটক ডাকছে ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠান
ইউরোপে রুশ তেলের পাইপলাইন বন্ধ করল ইউক্রেন
ইউরোপে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা জাতিসংঘের
‘রাজাকার’ ধরতে ইউক্রেনীয় শহরে অভিযান

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Biden is on vacation with his son after burning Trump

ট্রাম্পকে পুড়িয়ে ছেলেসহ অবকাশে বাইডেন

ট্রাম্পকে পুড়িয়ে ছেলেসহ অবকাশে বাইডেন স্থানীয় সময় বুধবার অবকাশে অংশ নিতে সাউথ ক্যারোলিনায় স্ত্রীসহ পৌঁছান জো বাইডেন। তাদের ছেলে হান্টার বাইডেন ও তার পরিবারও সঙ্গে ছিল। ছবি: ফক্স এইট
হান্টার বাইডেনের আর্থিক এবং বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ে ফেডারেল তদন্ত যখন একটি জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন জনমানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে এমন তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে কি না তা নিয়েও সন্দেহ জেগেছে জনমনে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার বাসভবনে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের অভিযান নিয়ে যখন তিনি চড়াও, তখন অবকাশে পরিবারের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটাচ্ছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

শীতকালীন বাসভবন নামে পরিচিত মার-এ-লাগোতে এফবিআইয়ের এমন অভিযান কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না ট্রাম্প।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির জো বাইডেনকে সমীচীন জবাব দেয়ার কথাও জানিয়েছেন এই রিপাবলিকান নেতা।

অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এমন বার্তা দেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।

সোমবার এফবিআই অভিযান চালাতে পারে এমন খবর পেয়ে শুক্রবার থেকেই ফ্লোরিডার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন ট্রাম্প সমর্থকরা।

ট্রাম্পকে পুড়িয়ে ছেলেসহ অবকাশে বাইডেন
অভিযানের বিরুদ্ধে সাদা-কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে বক্তব্য রাখেন ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সময় বুধবার পারিবারিক অবকাশে অংশ নিতে সাউথ ক্যারোলিনায় পৌঁছান জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন।

প্রেসিডেন্টের বহনকারী বিশেষ উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ানে চেপে সেখানে যান বাইডেনপুত্র।

হোয়াইট হাউস ছেড়ে ট্রাম্প তার পাম বিচ এস্টেটের ওই বাসভবনে যাওয়ার সময় রাষ্ট্রীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সঙ্গে নিয়েছিলেন কি না তা জানতে ফেডারেল তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়।

জুনিয়র বাইডেন, তার স্ত্রী মেলিসা কোহেন এবং তাদের ছেলে বিউ মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুসে জো বাইডেনের সঙ্গে দেখা করেন এবং ছবি তোলেন। জো বাইডেন এরপর সবাইকে নিয়ে ছুটি কাটাতে সাউথ ক্যারোলিনার কিয়াওয়াহ দ্বীপে উড়াল দেন।

তাদের অবকাশে যাওয়ার দুই দিন আগে স্থানীয় সময় সোমবার এফবিআই এজেন্টরা ট্রাম্পের ফ্লোরিডার রিসোর্ট ও বাড়ি মার-এ-লাগোতে অভিযান চালান।

অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ডের অধীনে বিচার বিভাগ কেন অভিযানের মতো এমন কঠোর পদক্ষেপ নেবে তা নিয়ে নানা মহলে উঠেছে প্রশ্ন, জিজ্ঞাসা ও সন্দেহ।

হান্টার বাইডেনের আর্থিক এবং বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ে ফেডারেল তদন্ত যখন একটি জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন জনমানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে এমন তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে কি না তা নিয়েও সন্দেহ জেগেছে জনমনে।

করসংক্রান্ত তদন্তে বাইডেনপুত্রকে অভিযুক্ত করা হবে কি না তা নিয়ে সংকটে পড়েছেন ফেডারেল কর্মকর্তারা। একটি সূত্র এমনটি জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে

ফেডারেল কর্মকর্তারা কর আইন লঙ্ঘন, সম্ভাব্য বিদেশি লবিং ছাড়াও আরও কিছু বিষয়ে হান্টার বাইডেনকে অভিযুক্ত করবেন কি না তা খতিয়ে দেখছেন।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীর্ষ বিচার ব্যবস্থা ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি হান্টার বাইডেনের ব্যবসায়িক লেনদেন বিষয়ে তদন্ত করে গত মাসের শেষ দিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর এ বিষয়ে বিচারক জানিয়েছেন, বাইডেনপুত্রের বিষয়ে এখনও অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

ট্রাম্পের নিযুক্ত ডেলাওয়্যার প্রসিকিউটর ইউএস অ্যাটর্নি ডেভিড ওয়েইস তদন্তকাজটি পরিচালনা করছেন।

আরও পড়ুন:
বাড়ি তল্লাশির পাল্টা জবাব, নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প!
ট্রাম্পের বাড়িতে এফবিআইয়ের তল্লাশি, প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা
ট্রাম্পের ফ্লোরিডার বাড়িতে ‘এফবিআইয়ের তল্লাশি’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
3 soldiers killed in gun attack in Jammu and Kashmir

কাশ্মীরে বন্দুকধারীর হামলায় ৩ ভারতীয় সেনা নিহত

কাশ্মীরে বন্দুকধারীর হামলায় ৩ ভারতীয় সেনা নিহত কাশ্মীরে সেনাদের গুলিতে ২ জন বন্দুকধারীও নিহত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুকেশ সিং বলেন, কয়েকজন সন্ত্রাসী পারগালের আর্মি ক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা করলে রক্ষীরা তাদের চ্যালেঞ্জ জানায়। এ সময় গোলাগুলি শুরু হয়।

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি সেনাক্যাম্পে বন্দুকধারীর হামলায় ৩ সেনা নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা এ সময় সেনাক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। সেনা সদস্যের পাল্টা গুলিতে ২ বন্দুকধারীও নিহত হয়েছে।

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুকেশ সিং বলেন, ‘কয়েকজন সন্ত্রাসী পারগালের আর্মি ক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা করলে রক্ষীরা তাদের চ্যালেঞ্জ জানায়। এ সময় গোলাগুলি শুরু হয়।’

ক্যাম্পের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে আরো সেনা পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, এই হামলার পেছনে রয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তাইয়্যেবা।

২০১৮ সালে জম্মুর সুনজোয়ান ক্যাম্পে হামলার পর এটিই সেনা ক্যাম্পে সবচেয়ে বড় ধরনের হামলা।

২০১৬ সালে উরি ক্যাম্পে একই ধরনের হামলায় ১৮ সেনা নিহত হন।

জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এক টুইট বার্তায় নিহত সেনা সদস্য ও কর্মকর্তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহত সেনাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মডেলের ঘর থেকে ২০ কোটি রুপি জব্দ
ধর্ষণ থেকে বাঁচতে স্কুলের ছাদ থেকে লাফ, আটক ৫
কোহলিকে নিয়ে বাড়তি আলোচনা চান না রোহিত-বাটলার
কিংফিশারের মালিক মালিয়ার কারাদণ্ড
সুন্দরবনের ‘রাজার’ মৃত্যু

মন্তব্য

p
উপরে