× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Both Ukraine and Russia claim to occupy Lisichansk
hear-news
player
google_news print-icon

লিসিচানস্ক দখলের দাবি ইউক্রেন রাশিয়া উভয়েরই

লিসিচানস্ক-দখলের-দাবি-ইউক্রেন-রাশিয়া-উভয়েরই
লিসিচানস্ক শহর দখলের দাবি দুই দেশেরই। ছবি: টুইটার থেকে নেয়া
ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ বলছে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে লিসিচানস্কে ব্যাপক হামলার শিকার হচ্ছে তারা। কিন্তু শহরটি তাদের দখলেই রয়েছে। আর রাশিয়া সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বলছে, তারা সফলভাবে শহরে প্রবেশ করেছে এবং কেন্দ্রে অবস্থান নিয়ে আছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর লিসিচানস্ক এখন প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে। রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই দেশই এ শহর দখলের দাবি করেছে।

রোববার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি

ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ বলছে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে লিসিচানস্কে ব্যাপক হামলার শিকার হচ্ছে তারা। কিন্তু শহরটি তাদের দখলেই রয়েছে।

আর রাশিয়া সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বলছে, তারা সফলভাবে শহরে প্রবেশ করেছে এবং কেন্দ্রে অবস্থান নিয়ে আছে।

রাশিয়ার গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে শহরের কেন্দ্রে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও রাশিয়ান সেনাদের কুচকাওয়াজ করার দৃশ্য দেখা গেছে। টুইটারে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরটির ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রশাসনিক ভবনে রুশ পতাকা উড়ছে।

লিসিচানস্ক ছিল ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া লুহানস্ক অঞ্চলের ভেতরে ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত শেষ শহর। দোনবাস অঞ্চলের একাংশে অবস্থিত এটি।

লুহানস্কের গভর্নর শেরি হাইডা বলেছেন, রাশিয়ার সেনারা সব দিক থেকে শহরে প্রবেশ করছে। রাশিয়ায় লুহানস্কের রাষ্ট্রদূত রোডিওন মিরশনিক রাশিয়ার এক টেলিভিশনকে বলেছেন, শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়েছে, তবে শহরটি এখনো স্বাধীন নয়।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকেই পশ্চিমাদের বাধা উপেক্ষা করে পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে চলছে রুশ সেনাদের সামরিক অভিযান।

বাসিন্দাদের রক্ষা করার জন্যই এমন সামরিক পদক্ষেপ বলে দাবি করে আসছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আসছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর এখন পর্যন্ত দেশটির ৮০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশ ছেড়েছে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ।

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এ যুদ্ধ বন্ধ না হলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের খাদ্যসংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন:
স্নেক আইল্যান্ডে ফসফরাস বোমা রাশিয়ার: ইউক্রেন
ইউক্রেন ক্রিমিয়া আক্রমণ করলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ: মেদভেদেভ
ন্যাটোর কাছে মাসে ৪৮ হাজার কোটি টাকা চান জেলেনস্কি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Syphilis outbreak in Europe hits sex workers head on

ইউরোপে সিফিলিসের প্রকোপ, যৌনকর্মীদের মাথায় হাত

ইউরোপে সিফিলিসের প্রকোপ, যৌনকর্মীদের মাথায় হাত সিফিলিস আতঙ্কে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের যৌনকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
সিফিলিস মূলত পেলিডাম দ্বারা সৃষ্ট একটি যৌনবাহিত রোগ। সংক্রমণের প্রাথমিক পথ যৌন সংস্পর্শ; এ ছাড়া রক্ত পরিসঞ্চালন, চুম্বন, চামড়ায় আঘাত এবং গর্ভাবস্থায় বা জন্মের সময় মায়ের কাছ থেকে ভ্রূণে সংক্রমিত হতে পারে।

ইউরোপে ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়েছে যৌনবাহিত রোগ- সিফিলিস। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের যৌনকর্মীরা। এই অবস্থায় দেশটিতে হুমকিতে পড়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো পেশাটি।

সিফিলিস মূলত পেলিডাম দ্বারা সৃষ্ট একটি যৌনবাহিত রোগ। সংক্রমণের প্রাথমিক পথ যৌন সংস্পর্শ; এ ছাড়া রক্ত পরিসঞ্চালন, চুম্বন, চামড়ায় আঘাত এবং গর্ভাবস্থায় বা জন্মের সময় মায়ের কাছ থেকে ভ্রূণে সংক্রমিত হতে পারে।

যৌনকর্মী থেকে যৌন শিক্ষাবিদ বনে যাওয়া লিয়ান ইয়ং বলেন, ‘যদিও এটা ভয়ঙ্কর, তবে এই দুর্যোগে যুক্তরাজ্যের যৌনকর্মীদের এক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাদের এখন পেশাদার আরচণ করা উচিত। সেক্স ইন্ড্রাস্টির নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে আওয়াজ তুলতে হবে।’

ইয়াং আটজন যৌনকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছেন এই রোগ নিয়ে, যারা সিফিলিস আতঙ্কে কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।

ইয়াং বলেন, ‘তারা রোজগার হারাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে সবাইকে একত্রিত হতে হবে। এতেই মিলবে সমাধান।

‘কয়েক বছর ধরেই একটি ইউনিয়ন চাইছে এ পেশায় জড়িতরা। যুক্তরাজ্যে এ ধরনের একটি ইউনিয়ন গড়ে তুলতে ইউএস ইউনিয়ন দ্য অ্যাডাল্ট পারফরম্যান্স আর্টিস্ট গিল্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালানা ইভান্সের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি।’

ঢালাও স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে পেশাদার যৌনকর্মীদের সুরক্ষা দেয়া সবচেয়ে সহজ সমাধান। আমেরিকা ও ইউরোপের যৌনকর্মীদের ৭ বা ১৪ দিন পরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তবে যুক্তরাজ্যে ২৮ দিন পর পর এই পরীক্ষা হয়।

ইউরোপের দেশটিতে সিফিলিস দ্রুত ছড়িতে পড়তে পারে বলে উদ্বেগে আছেন লিয়ান ইয়ং। তিনি বলেন, ‘যৌনকর্মীরাও মানুষ। তাদের উচিত, পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড এবং পুলিশের সঙ্গে শক্ত যোগাযোগ স্থাপন করা। আর এ জন্য প্রয়োজন একটি ইউনিয়ন।’

যুক্তরাষ্ট্রের যৌনকর্মীর স্বাস্থ্যের তথ্য সংগ্রহে রাখে পাস নামে একটি সংস্থা। এটি জানায়, ইউরোপে সিফিলিসে আক্রান্ত কয়েকজন যৌনকর্মীর তথ্য পেয়েছে তারা। সেক্স ইন্ড্রাস্টির খবর ছাপানো প্রকাশনা সংস্থা Xbiz-এ গত সপ্তাহে একটি সতর্কতাও দেয়া হয়েছিল

ইউরোপে এসটিডি পরীক্ষার মান অতোটা ভালো না। অন্যদিকে পাস আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপে কাজ করে না। এ জন্য তাদের কাছে যৌনরোগে আক্রান্তদের সঠিক হিসাব রাখা সম্ভব হয় না।

ইউনিয়ন গড়ে অবশ্য এসটিডি প্রাদুর্ভাব ঠেকানোর নিশ্চয়তা নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিএসডি) সেপ্টেম্বরে জানায়, গত বছরের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেড়েছে তাদের দেশে সিফিলিসে আক্রান্ত।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The advance of Ukrainian troops continues

ইউক্রেনীয় সেনাদের অগ্রযাত্রা চলছেই

ইউক্রেনীয় সেনাদের অগ্রযাত্রা চলছেই ইউক্রেনীয় সেনা ট্যাংকবহর। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনীয় সেনাদের আক্রমণের তীব্রতায় বিভিন্ন ফ্রন্ট থেকে পিছু হটছে রুশ সেনারা। কিয়েভ বলছে, ইউক্রেনীয় সেনাদের গতি রোধ করার জন্য পিছিয়ে পড়ার আগে ডিপো, ব্রিজ ভেঙে যাচ্ছে তারা। এমন যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও হাল ছাড়ছে না ক্রেমলিন। পুতিনের নির্দেশে এরই মধ্যে ২ লাখ রিজার্ভ সেনা জড়ো করা হয়েছে। যাদের খুব শিগগিরই দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিজ্জা ও খেরসনে মোতায়েন করা হবে।

ইউক্রেনে বিভিন্ন ফ্রন্টে পিছিয়ে পড়তে শুরু করেছে রাশিয়ার সেনারা। এমনটি দেখা গেছে দেশটিরই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেখানো মানচিত্রে।

মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৈনিক ভিডিও ব্রিফিংয়ে কোনো সামরিক ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা না হলেও যে মানচিত্র দেখানো হয়েছে, তাতে দেখা গেছে দিনিপার নদীর পশ্চিম তীরের দুদচানি গ্রাম আর রাশিয়ার সেনাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মানচিত্রে আরও দেখা গেছে রুশ বাহিনী ওসকিল নদীর পশ্চিম তীরের অবস্থানও ছেড়ে চলে গেছে।

এদিকে এই মাসে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর আক্রমণের পর লুহানস্ক প্রদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পিছু হটেছে রাশিয়ার সেনা।

সবমিলিয়ে ইউক্রেনে রুশ সেনাদের ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি মঙ্গলবার রাতে এক ভিডিও ভাষণে বলেন, ‘বর্তমান প্রতিরক্ষা অভিযানে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দেশের দক্ষিণে বেশ দ্রুত ও শক্তিশালী পদ্ধতিতে অগ্রসর হচ্ছে। খেরসন, খারকিভ, লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের অনেক শহর মুক্ত করা হয়েছে।’

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীও মঙ্গলবারের আগে এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে খেরসনে রুশ বাহিনী ‘নিঃস্ব’ এবং তাদের অবস্থান থেকে তারা পিছিয়ে পড়ছে। পিছিয়ে যাওয়ার আগে গোলাবারুদ, ডিপো ও ব্রিজ ধ্বংস করছে তারা।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, আমাদের সেনাদের অগ্রসরের গতি ধীর করার জন্য এসব করা হয়েছে।

ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ উপমন্ত্রী ইয়েভেন এনিন মঙ্গলবার বলেছেন যে ইউক্রেনের বাহিনী খেরসনের ৫০টি শহর ও গ্রাম পুনরুদ্ধার করেছে।

বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে এখন ইউক্রেনীয় সেনারা অভিযান পরিচালনা করছে, তা গণভোটের আলোকে ও নিজেদের পার্লামেন্টে এই অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সে ক্ষেত্রে এসব অঞ্চলে ইউক্রেনের সেনাদের সামরিক অভিযান, রাশিয়ার ভূখণ্ডে সেনা অভিযানের সমতুল্য।

এরই মধ্যে এসব অঞ্চলে মোতায়েনের জন্য দুই লাখ রিজার্ভ সেনা জড়ো করেছে রাশিয়া।

ইউক্রেনে চলতি সামরিক অভিযানের শুরুর দিকেই দক্ষিণ কৃষ্ণ সাগর অঞ্চল খেরসন দখল করে রুশ সেনারা।

আরও পড়ুন:
ইউক্রেনের ন্যাটোভুক্তির বিষয়ে যা জানাল আমেরিকা
ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলকে রাশিয়ায় সংযুক্তির ঘোষণা পুতিনের
জাপোরিজ্জায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২৩
ইউক্রেনের আরও দুই অঞ্চলের স্বাধীনতায় স্বীকৃতি পুতিনের
ইউক্রেনে ঢুকতে পারে ন্যাটো সেনা: পোল্যান্ডের মন্ত্রী

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Nuclear submarines have also left the Russian nuclear weapon train base

রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্রের ট্রেন সচল, ঘাঁটিও ছেড়েছে পরমাণু সাবমেরিন

রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্রের ট্রেন সচল, ঘাঁটিও ছেড়েছে পরমাণু সাবমেরিন পরমাণু হামলা চালাতে সক্ষম রাশিয়ার সাবমেরিন বেলগরোদ। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার দখল করা একের পর এক অঞ্চল পুনরুদ্ধারের দাবি করছে কিয়েভ। এমন পরিস্থিতিতে প্রথাগত যুদ্ধে পিছিয়ে পড়লেও রাশিয়ার পরমাণু বাহিনী তৎপরতা শুরু করেছে। কিন্তু এটি কি কোনো মহড়ার প্রস্তুতি, নাকি সত্যিই ইউক্রেনে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে যাচ্ছে রাশিয়ার সেনারা। উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।

ক্রিমিয়ার পর নতুন করে ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে রাশিয়ার ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকে তোয়াক্কা করছে না ইউক্রেনীয় সেনারা। এরই মধ্যে দোনেৎস্কের গুরুত্বপূর্ণ শহর লেমিন থেকে রুশ সেনাদের হটিয়ে দেয়ার দাবি করেছে কিয়েভ। এ ছাড়া খেরসন অঞ্চলের দুটি শহরকে পুনরুদ্ধারের দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি।

এমন পরিস্থিতিতে যখন প্রথাগত যুদ্ধে রাশিয়ার সেনারা সাফল্য আনতে পারছে না তখন রাশিয়ার পরমাণু বাহিনীর তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে

রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্রের সরঞ্জামবাহী ট্রেন এরই মধ্যে যাত্রা শুরু করেছে। তবে এর গন্তব্য অজানা। ট্রেনটি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকা পরমাণু অস্ত্র সংক্রান্ত বিভাগের। যারা মূলত পরমাণু অস্ত্র মজুত, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকে।

রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে- এমনটা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

সমর বিশারদ কনরাদ মুসিকা বলেন, ‘পরমাণু ইউনিটের ভারী সামরিক সরঞ্জাম চলাচলের মানে এই নয় যে রাশিয়া ইউক্রেনে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

তবে মুসিকার মতে, এটি (রাশিয়া) পশ্চিমের কাছে একটি সংকেত হতে পারে যে মস্কো সংঘাতের পরিধি বাড়াচ্ছে।

রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্রের ট্রেন সচল, ঘাঁটিও ছেড়েছে পরমাণু সাবমেরিন
রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক রকেট ফোর্সেস

তবে বছরের এ সময় এমনিতেও রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক রকেট ফোর্সেস (আরভিএসএন) শরৎকালীন মহড়া চালিয়ে থাকে।

আরভিএসএন হচ্ছে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি বিশেষ শাখা, যা দেশটির পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ কর্মসূচির ভিত্তি। এই বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্রসংক্রান্ত বাহিনী।

আরভিএসএন অনেক মিসাইল রেজিমেন্টের সমন্বয়ে গঠিত। যাদের কাছে আছে হাজার হাজার পারমাণবিক অস্ত্র ও আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম)।

এদিকে শুধু পরমাণু অস্ত্রের সরঞ্জামবাহী ট্রেনই নয়। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো জানিয়েছে, আর্কটিকে থাকা রাশিয়ার নৌঘাটি থেকে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ‘বেলগরোদ’ পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন ঘাঁটি ছেড়ে গেছে।

রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্রের ট্রেন সচল, ঘাঁটিও ছেড়েছে পরমাণু সাবমেরিন
পোসাইডন

ন্যাটো বলছে, বেলগরোদ সাবমেরিনটি ‘কারা’ সাগরে বিশেষ পরমাণু অস্ত্র পোসাইডন পরীক্ষা করতে পারে।

পোসাইডন হলো এমন এক পারমাণবিক ড্রোন, যা উপকূলীয় অঞ্চলে ১ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতার সুনামি তৈরি করতে পারে।

এর আগে সম্প্রতি রুশ সামরিক ব্যর্থতার কারণে চেচেন প্রজাতন্ত্রের নেতা রমজান কাদিরভ ইউক্রেনে স্বল্পমাত্রার পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

যদিও কাদিরভের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ স্পষ্ট করে বলেছিলেন, আবেগ দিয়ে নয়। নিউক্লিয়ার ডকট্রেইন (পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের নীতি) মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ইউক্রেনের আরও দুই অঞ্চলের স্বাধীনতায় স্বীকৃতি পুতিনের
ইউক্রেনে ঢুকতে পারে ন্যাটো সেনা: পোল্যান্ডের মন্ত্রী
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চায় ভারত ও চীন  
রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভোট দেয়া যাচ্ছে রাশিয়ার বিপক্ষেও
পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
China India did not vote against Russia in the United Nations

জাতিসংঘে রাশিয়ার বিপক্ষে ভোট দেয়নি চীন-ভারত

জাতিসংঘে রাশিয়ার বিপক্ষে ভোট দেয়নি চীন-ভারত আফ্রিকার দেশ গ্যাবনও রাশিয়ার বিপক্ষে ভোটদানে বিরত থাকে। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনীয় অঞ্চল রাশিয়ায় যুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও আলবেনিয়া। রাশিয়ার ভেটোতে প্রস্তাব পাস হয়নি। ক্রেমলিনের জন্য স্বস্তি এই যে, ইউক্রেনীয় অঞ্চল সংযুক্তির পরেও চীন ও ভারত তাদের বিপক্ষে ভোটদানে বিরত ছিল।

দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিজ্জা ও খেরসনকে রাশিয়ার ভূখণ্ডে যুক্ত করার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল আমেরিকা ও আলবেনিয়া।

তবে রাশিয়ার ভেটোর কারণে প্রস্তাব পাস হয়নি। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ভোটদানে বিরত থাকে।

নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী দেশ ভারত, ব্রাজিল ও গ্যাবন রাশিয়ার বিপক্ষে ভোট না দিয়ে ভোটদানে বিরত থাকে।

তবে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে আমেরিকা, আলবেনিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ঘানা, আয়ারল্যান্ড, কেনিয়া, মেক্সিকো, নরওয়ে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে চলছে রাশিয়ার সামরিক অভিযান। পশ্চিমারা রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিলেও চীন ও ভারত রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর বদলে রাশিয়া থেকে রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি তেল কিনেছে দুই দেশই।

একই অবস্থা ব্রাজিলেরও। রাশিয়ার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যেতে নারাজ দেশটি। উল্টো আসন্ন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় রাশিয়ার সার, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি ব্যবহার করতে চায় দেশটি।

এর আগে শুক্রবার ইউক্রেনের অঞ্চল দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিজ্জাকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

জাতিসংঘে রাশিয়ার বিপক্ষে ভোট দেয়নি চীন-ভারত
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

ক্রেমলিনে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দেয়া এক ভাষণে এই চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে পুতিন বলেছেন, এর মাধ্যমে এই অঞ্চলগুলোর বাসিন্দাদের স্বাধীন ইচ্ছাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে এবং তারাও তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশীদারদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

ভাষণে পুতিন দাবি করেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙনের ফলে যে অন্যায় হয়েছে এই ৪ অঞ্চলের যুক্ত হওয়া কিছুটা হলেও সেই অন্যায় মেরামত করেছে।

পশ্চিমাদের আধিপত্যবাদী উল্লেখ করে পুতিন বলেছেন, তারা তাদের ইচ্ছাকে পুরো বিশ্বের ওপর চাপিয়ে দিতে চায় এবং তারা রাশিয়াকে উপনিবেশে পরিণত করতে চায়।

একই সঙ্গে তিনি নিশ্চয়তা দিয়েছেন নতুন যুক্ত হওয়া এই অঞ্চলের বাসিন্দারা রাশিয়ার নাগরিকত্ব পাবেন এবং রাশিয়া কখনোই এই সংযুক্তির বিষয়ে আপস করবে না।

তবে কিয়েভ বলছে, এই সংযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনবে না। তারা রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চল ফিরিয়ে নিতে লড়াই চালিয়ে যাবে।

এর আগে এই চার অঞ্চলে ৫ দিনব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। যদিও ইউক্রেন ও পশ্চিমারা বলে আসছিল, এই গণভোট ও গণভোটের ভিত্তিতে ইউক্রেনের ভূখণ্ড রাশিয়ায় সংযুক্তি কোনোভাবেই বৈধ নয়।

তবে পশ্চিমা বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করে এর আগেও ২০১৪ সালে ক্রিমিয়াকে নিজ ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রাশিয়া।

ক্রেমলিনের মতে, ইউক্রেনের নব্য নাৎসিদের হাতে রুশভাষী নাগরিকরা নিরাপদ নয় এবং এই রুশভাষীদের রক্ষা করা রাশিয়ার দায়িত্ব।

এদিকে এই সংযুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশ।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস নিউ ইয়র্ক সিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেছেন, এর (চার অঞ্চলের রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তি) কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

এ ছাড়া ইউক্রেনের অঞ্চল রাশিয়ায় সংযুক্তির ঘটনা, যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করে দিতে পারে এবং সেই বিষয়টি জানেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

তাই মূল ভূখণ্ডে সংযুক্তির আগে তিনি আংশিক সেনা সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে ৩ লাখ নতুন সেনাকে এসব অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে। প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রচ্ছন্ন ইংগিতও দিয়েছেন পুতিন।

এই চার অঞ্চল ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৫ শতাংশ, আয়তন প্রায় ১ লাখ বর্গ কিলোমিটারের ওপর এবং কৃষি উৎপাদনের ১৩-১৫ শতাংশ এই অঞ্চলগুলোতেই উৎপন্ন হয়।

এ ছাড়া জাপোরিজ্জাতে রয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

আরও পড়ুন:
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চায় ভারত ও চীন  
রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভোট দেয়া যাচ্ছে রাশিয়ার বিপক্ষেও
পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামান: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী
অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
What America said about Ukraines NATO membership

ইউক্রেনের ন্যাটোভুক্তির বিষয়ে যা জানাল আমেরিকা

ইউক্রেনের ন্যাটোভুক্তির বিষয়ে যা জানাল আমেরিকা ন্যাটোর সামরিক মহড়া। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই ন্যাটোতে যোগদানের আবেদন করেছে ইউক্রেন। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মতে, কিয়েভ কার্যত ন্যাটোর মিত্র, সে হিসেবে জোটটিতে দ্রুত যোগদান পদ্ধতির দাবিদার ইউক্রেন। তবে আমেরিকা মনে করে, ইউক্রেনে ন্যাটোতে যোগদানের এটি সঠিক সময় নয়।

পশ্চিমা সামরিক জোটে কোনো দেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ‘খোলা দরজা’ নীতিতে সব সময়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমেরিকা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের সদস্যপদ আবেদন বিবেচনার এখন ভুল সময়।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেছেন হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান।

হোয়াইট হাউসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই মুহূর্তে আমরা মনে করি, ইউক্রেনকে সমর্থন করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো দেশটিকে গ্রাউন্ড সাপোর্ট (অস্ত্র দিয়ে সহায়তা) করা, ব্রাসেলসের প্রক্রিয়াটি (ন্যাটোতে যুক্ত হওয়া) অন্য সময়ে নেয়া উচিত।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি ন্যাটোতে যোগদানের আবেদন করেছেন।

তিনি দাবি করেছেন, কিয়েভ এরই মধ্যে কার্যত ন্যাটোর মিত্র, তাই এটি (ইউক্রেন) দ্রুত যোগদান পদ্ধতির দাবি করেছে।

ইউক্রেনের ন্যাটোভুক্তির বিষয়ে যা জানাল আমেরিকা
হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান

ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত। এমন অবস্থায় দেশটির ন্যাটোতে যোগদান মানে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে যাবে ন্যাটো। এমনটা চাইছে না পশ্চিমা এই সামরিক জোটটি।

এ ছাড়া ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্কের সঙ্গে রাশিয়ার বেশ উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার বিভিন্ন মধ্যস্ততায় দেশটিকে ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে।

সে ক্ষেত্রে আঙ্কারার পক্ষে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়ে সমর্থন দেয়াটা বেশ জটিল। যদিও ইউক্রেনের সঙ্গে তুরস্কের সামরিক খাতেও সম্পর্ক রয়েছে।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদান এই মুহূর্তে সম্ভব নয় ইঙ্গিত দিয়ে ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেছেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য করতে হলে ন্যাটোভুক্ত ৩০ দেশেরই ঐকমত্য প্রয়োজন।

যদিও একই সঙ্গে স্টলটেনবার্গ ইউক্রেনের প্রতি অটল ও দৃঢ় সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভোট দেয়া যাচ্ছে রাশিয়ার বিপক্ষেও
পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামান: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী
অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া
দোনবাস রক্ষায় রুশ পরমাণু অস্ত্র, ইউএস কমান্ডারের মতে পরমাণু যুদ্ধ সম্ভব

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Putin announced the annexation of 4 regions of Ukraine to Russia

ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলকে রাশিয়ায় সংযুক্তির ঘোষণা পুতিনের

ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলকে রাশিয়ায় সংযুক্তির ঘোষণা পুতিনের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিজ্জা ও খেরসনকে রাশিয়ার ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই অঞ্চল অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কোনো আপসে যাবে না ক্রেমলিন এবং সেখানকার বাসিন্দাদের দেয়া হবে রুশ নাগরিকত্ব। তবে পশ্চিমা বিশ্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই সংযুক্তিকে তারা কখনোই স্বীকৃতি দেবে না।

ইউক্রেনের অঞ্চল দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিজ্জাকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

শুক্রবার ক্রেমলিনে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দেয়া এক ভাষণে এই চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে পুতিন বলেছেন, এর মাধ্যমে এই অঞ্চলগুলোর বাসিন্দাদের স্বাধীন ইচ্ছাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে এবং তারাও তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশীদারদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

ভাষণে পুতিন দাবি করেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙনের ফলে যে অন্যায় হয়েছে এই ৪ অঞ্চলের যুক্ত হওয়া কিছুটা হলেও সেই অন্যায় মেরামত করেছে।

পশ্চিমাদের আধিপত্যবাদী উল্লেখ করে পুতিন বলেছেন, তারা তাদের ইচ্ছাকে পুরো বিশ্বের ওপর চাপিয়ে দিতে চায় এবং তারা রাশিয়াকে উপনিবেশে পরিণত করতে চায়।

একই সঙ্গে তিনি নিশ্চয়তা দিয়েছেন নতুন যুক্ত হওয়া এই অঞ্চলের বাসিন্দারা রাশিয়ার নাগরিকত্ব পাবেন এবং রাশিয়া কখনোই এই সংযুক্তির বিষয়ে আপস করবে না।

তবে কিয়েভ বলছে, এই সংযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনবে না। তারা রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চল ফিরিয়ে নিতে লড়াই চালিয়ে যাবে।

এর আগে এই চার অঞ্চলে ৫ দিনব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। যদিও ইউক্রেন ও পশ্চিমারা বলে আসছিলেন, এই গণভোট ও গণভোটের ভিত্তিতে ইউক্রেনের ভূখণ্ডের রাশিয়ায় সংযুক্তি কোনোভাবেই বৈধ নয়।

তবে পশ্চিমা বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করে এর আগেও ২০১৪ সালে ক্রিমিয়াকে নিজ ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রাশিয়া।

ক্রেমলিনের মতে, ইউক্রেনের নব্য নাৎসিদের হাতে রুশভাষী নাগরিকরা নিরাপদ নয় এবং এই রুশভাষীদের রক্ষা করা রাশিয়ার দায়িত্ব।

এই সংযুক্তির আগে বৃহস্পতিবার জাপোরিজ্জা ও খেরসন অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

এর আগে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর আগে তিনি দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককেও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

যদিও এতদিন রাশিয়ার সঙ্গে ক্রিমিয়ার সরাসরি স্থল ভূখণ্ডে যোগাযোগ না থাকলেও নতুন এই চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হলে ক্রিমিয়ার সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হবে।

এদিকে এই সংযুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশ।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস নিউ ইয়র্ক সিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেছেন, এর (চার অঞ্চলের রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তি) কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

এ ছাড়া ইউক্রেনের অঞ্চল রাশিয়ায় সংযুক্তির ঘটনা, যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করে দিতে পারে এবং সেই বিষয়টি জানেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

তাই মূল ভূখণ্ডে সংযুক্তির আগে তিনি আংশিক সেনা সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে ৩ লাখ নতুন সেনাকে এসব অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে। প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রচ্ছন্ন ইংগিতও দিয়েছেন পুতিন।

এই চার অঞ্চল ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৫ শতাংশ, আয়তন প্রায় ১ লাখ বর্গ কিলোমিটারের ওপর এবং কৃষি উৎপাদনের ১৩-১৫ শতাংশ এই অঞ্চলগুলোতেই উৎপন্ন হয়।

এ ছাড়া জাপোরিজ্জাতে রয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

আরও পড়ুন:
পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি পোল্যান্ডের
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামান: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী
অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া
দোনবাস রক্ষায় রুশ পরমাণু অস্ত্র, ইউএস কমান্ডারের মতে পরমাণু যুদ্ধ সম্ভব
রাশিয়াকে শাস্তি পেতেই হবে: জেলেনস্কি

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
23 killed in missile attack in Zaporizhia
রাশিয়া-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি দোষারোপ

জাপোরিজ্জায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২৩

জাপোরিজ্জায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২৩ গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরকে দোষারোপ করছে। ছবি: সংগৃহীত
শুক্রবার ইউক্রেনের জাপোরিজ্জাসহ চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর আগে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জাপোরিজ্জাকে স্বীকৃতিও দিয়েছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে অঞ্চলটিতে একটি গাড়িবহরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন এই ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে।

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চল জাপোরিজ্জায় একটি গাড়িবহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এই হামলার জন্য রাশিয়ার সেনাদের দায়ী করেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ২৩ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছে। হতাহতের সবাই বেসামরিক লোক।

টেলিগ্রামের এক বার্তায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন জাপোরিজ্জার আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দার স্টারুক।

তিনি জানিয়েছেন, গাড়িবহরে থাকা ব্যক্তিরা তাদের আত্মীয়দের রাশিয়া অধিকৃত ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলেই রয়েছে।

তবে ক্রেমলিন মনোনিত জাপোরিজ্জা কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে।

মস্কোপন্থি কর্মকর্তা ভ্লাদিমির রোগভ টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় দাবি করেছেন, কিয়েভের শাসকেরা রাশিয়ার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে, যা একটি জঘন্য উসকানি।

তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় যোদ্ধারা আরও একটি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেছে।

এদিকে আজই রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে যাওয়া ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে জাপোরিজ্জা। গতকালই প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির মাধ্যমে জাপোরিজ্জা ও খেরসনের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে যুক্ত করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেই এমন ডিক্রি জারি করা হয়েছে।

তবে পশ্চিমা বিশ্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনীয় অঞ্চলের অন্তর্ভূক্তির স্বীকৃতি তারা দেবে না।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস পর্যন্ত বলেছেন, এ পদক্ষেপের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

আরও পড়ুন:
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামান: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী
অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া
দোনবাস রক্ষায় রুশ পরমাণু অস্ত্র, ইউএস কমান্ডারের মতে পরমাণু যুদ্ধ সম্ভব
রাশিয়াকে শাস্তি পেতেই হবে: জেলেনস্কি
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  

মন্তব্য

p
উপরে