× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Putin would not have invaded Ukraine if he were a woman
hear-news
player
print-icon

‘পুতিন নারী হলে ইউক্রেন আক্রমণ করতেন না’

পুতিন-নারী-হলে-ইউক্রেন-আক্রমণ-করতেন-না
পুতিন নারী হলে যুদ্ধ শুরু করতেন না বলে মনে করেন বরিস জনসন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের মতে, ইউক্রেনে আক্রমণ বিষাক্ত পুরুষত্বের একটি নিখুঁত উদাহরণ। তাই তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পদগুলোতে নারীদের যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউক্রেনে চলছে রুশ সামরিক অভিযান। পশ্চিমা বাধা উপেক্ষা করে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পরিকল্পনা বুঝতে ঘাম ঝরাতে হচ্ছে পশ্চিমা গোয়েন্দাদের।

এমন পরিস্থিতিতে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জি-সেভেনের সম্মেলন চলাকালে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দাবি করেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নারী হলে ইউক্রেন আক্রমণ করতেন না।

বরিস বলেন, ‘যদি পুতিন একজন নারী হতেন, স্পষ্টই তিনি তা নন, কিন্তু তিনি যদি হতেন, আমি সত্যিই মনে করি না যে তিনি আক্রমণ ও সহিংসতার জন্য একটি পাগলাটে যুদ্ধ শুরু করতেন।’

তার মতে, ইউক্রেনে আক্রমণ বিষাক্ত পুরুষত্বের একটি নিখুঁত উদাহরণ। তাই তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পদগুলোতে নারীদের যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে ইউক্রেন যুদ্ধের চার মাস হয়ে গেলেও যুদ্ধ সমাপ্তির কোনো লক্ষণ নেই। ন্যাটো বলছে, যুদ্ধ দীর্ঘ হবে।

তবে জি-সেভেনের নেতারা মরিয়া হয়ে চাইছেন ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি, এমনটাই জানিয়েছেন বরিস জনসন। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, সহসা যুদ্ধ অবসানে কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নেই।

তবে জনসনের মতে, পশ্চিমাদের উচিত হবে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে যাওয়া। ফলে পুতিনের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে জেলেনস্কি ভালো অবস্থানে থাকবেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকেই পশ্চিমাদের বাধা উপেক্ষা করে পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে চলছে রুশ সেনাদের সামরিক অভিযান।

দোনবাসের বাসিন্দাদের রক্ষা করার জন্যই এমন সামরিক পদক্ষেপ বলে দাবি করে আসছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আসছে।

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এ যুদ্ধ বন্ধ না হলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের খাদ্যসংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন:
‘দোনেৎস্কে মার খাচ্ছে রুশপন্থিরা’
রুশ হুমকিতে এবার লিথুনিয়া
নোবেল পুরস্কারের পদক বেচে ইউক্রেনীয়দের অর্থ পাঠাচ্ছেন রুশ সাংবাদিক
ছাড়ে সবচেয়ে বেশি রাশিয়ার তেল কিনেছে চীন
রুশ গান নিষিদ্ধ করল ইউক্রেনের পার্লামেন্ট

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Take the turbine but give the gas

টারবাইন ফেরত নিয়ে গ্যাস দিন: রাশিয়াকে জার্মানি

টারবাইন ফেরত নিয়ে গ্যাস দিন: রাশিয়াকে জার্মানি জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজ গত ৩ আগস্ট নর্ড স্ট্রিম ১ গ্যাস পাইপলাইনের টারবাইনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ছবি: সংগৃহীত
নর্ড স্ট্রিম ১-এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাশিয়ান গ্যাস সরবরাহ গত মাসে তাদের সর্বোচ্চ স্তরের ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। কারণ বর্তমানে ছয়টি টারবাইনের মাত্র একটি চালু আছে। বাকিগুলোর মেরামত প্রয়োজন।

ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ বাড়াতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি। বার্লিনে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজ বলেন, ‘নর্ড স্ট্রিম-১ পাইপলাইনের জন্য মেরামত করা টারবাইন নিয়ে যান আপনারা (রাশিয়া)। এরপর ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বাড়ান।’

কানাডায় রক্ষণাবেক্ষণের পর নর্ড স্ট্রিম ১ গ্যাস টারবাইন নিয়ে রাশিয়া এবং জার্মানির শীতল যুদ্ধ চলছে। মে মাসে রাশিয়ার পাইপলাইনের কম্প্রেসার স্টেশনে যুক্ত করা হয়েছিল এ টারবাইন, যেন ইইউতে গ্যাসের পূর্ণ প্রবাহ থাকে।

তবে ইউক্রেন ইস্যুতে মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে টারবাইনটি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় কানাডা। যদিও কয়েক সপ্তাহ দেরি করে সেটি জার্মানির কাছে হস্তান্তত করা হয়।

রাশিয়ান জ্বালানি জায়ান্ট গ্যাজপ্রম বলছে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে টারবাইন ফেরত নিতে বাধা দিচ্ছে জার্মানি। তবে জার্মানির দাবি, কাগজ-পত্র ঠিক না থাকায় ফেরত দেয়া হচ্ছে না টারবাইন।

গ্যাজপ্রম জোর গলায় বলছে, টারবাইনটি রাশিয়ায় পাঠানোর পরও ঝুঁকি থাকে যাবে। কারণ এটিকে চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখবে কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ। জবাবে নিজেদের মাটিতে টারবাইন রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ বন্ধ করে দেবে অটোয়া।

নর্ড স্ট্রিম ১-এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাশিয়ান গ্যাস সরবরাহ গত মাসে তাদের সর্বোচ্চ স্তরের ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। কারণ বর্তমানে ছয়টি টারবাইনের মাত্র একটি চালু আছে। বাকিগুলোর মেরামত প্রয়োজন।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Putin is conquering Europe by turning energy into a weapon

জ্বালানিকে অস্ত্র বানিয়ে ইউরোপ জয় করছেন পুতিন

জ্বালানিকে অস্ত্র বানিয়ে ইউরোপ জয় করছেন পুতিন বিপুল জ্বালানির মজুত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলীয়ান করে তুলছে। কার্টুন: সংগৃহীত
জ্বালানিকে রাশিয়া সাফল্যের সঙ্গে অস্ত্রে পরিণত করেছে। পশ্চিমা সরকারগুলো গৃহস্থালি খরচের ভর্তুকি দিতে শত শত কোটি ডলার খরচের চাপে পড়বে। বাড়তি চাহিদার কারণে পুতিন ইউরোপে গ্যাসের সাপ্লাই কমিয়ে দেবেন। এর ফলে অক্টোবর থেকে ঘরে ও অফিসে বিদ্যুতের দাম অনেক বেড়ে যাবে। যুক্তরাজ্যে দাম বাড়বে প্রায় ৭৫ শতাংশ আর জার্মানিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়বে শতভাগেরও বেশি।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর পুতিনের ক্ষমতা ধসে পড়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল পশ্চিমা বিশ্ব। তবে ছয় মাস পর উল্টো ফল দেখা যাচ্ছে। রাশিয়া জ্বালানি গ্যাস তেলের জোগান কমিয়ে দিয়ে ইউরোপকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গে এক নিবন্ধে জ্বালানি পণ্যবিষয়ক প্রতিবেদক হাভিয়ের ব্লাস লিখেছেন, চলমান লড়াইয়ে পুতিনের জয়কে নিশ্চিত করছে দেশটির বিপুল জ্বালানি সক্ষমতা। নিবন্ধটি ভাষান্তর করা হয়েছে নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য।

যেভাবেই দেখা হোক না কেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জ্বালানি বাজারে জিতে যাচ্ছেন। মস্কো তেলের খনি থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ডলার আয় করছে। এই মুনাফা তারা ইউক্রেনে সামরিক অভিযান ও নিজ দেশে যুদ্ধের প্রতি সমর্থন অর্জনের পেছনে খরচ করছে।

রাশিয়ান বাণিজ্যের ওপর নভেম্বরে ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে জ্বালানি সংকট নিয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর বেশ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এতে ভোক্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়তে পারে।

জ্বালানি তেলের বাড়তি চাহিদার কারণে পুতিন ইউরোপে গ্যাসের সাপ্লাই কমিয়ে দেবেন। এর ফলে অক্টোবর থেকে ঘরে ও অফিসে বিদ্যুতের দাম অনেক বেড়ে যাবে। যুক্তরাজ্যে দাম বাড়বে প্রায় ৭৫ শতাংশ আর জার্মানিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়বে শতভাগেরও বেশি।

জ্বালানিকে রাশিয়া সাফল্যের সঙ্গে অস্ত্রে পরিণত করেছে। পশ্চিমা সরকারগুলো গৃহস্থালি খরচের ভর্তুকি দিতে শত শত কোটি ডলার খরচের চাপে পড়বে। এ সমস্যা নিয়ে ফ্রান্স এরই মধ্যে সমস্যায় পড়েছে।

তীব্র জ্বালানি সংকট

পুতিন যেভাবে জ্বালানি তেলের সুবিধা নিজের দিকে ঘুরিয়েছেন তা রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। গত মাসে দেশটির উৎপাদন যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ ব্যারেল উৎপাদন হচ্ছে, যা ইউক্রেন আক্রমণের ঠিক আগে জানুয়ারিতে উৎপাদিত ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল থেকে সামান্য কম। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত তেলের উৎপাদন ওই হারের চেয়েও বেশি।

এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। জুলাইয়ে টানা তৃতীয় মাসের মতো তেলের উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরেছে। চলতি বছর এপ্রিলে ইউরোপীয় দেশগুলো তেল কেনা বন্ধ করে দেয়ার পর উৎপাদন ১ কোটি ব্যারেলে নেমে এসেছিল। মস্কো তখন বাধ্য হয়ে নতুন ক্রেতা খোঁজায় মনোযোগী হয়।

উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া

মার্চ ও এপ্রিলে রাশিয়ার তেলের উৎপাদন দ্রুত কমে যায়। তবে এখন তা ইউক্রেন আক্রমণের আগের অবস্থার কাছাকাছি পর্যায়ে ফিরে এসেছে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার পর তাদের কাছে প্রতিদিন এক লাখ ব্যারেল তেল বিক্রি করতে পারছিল না মস্কো। তবে এখন তারা নতুন ক্রেতা খুঁজে পেয়েছে।

রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) ক্রেতা এখন এশিয়া, বিশেষ করে ভারত। মধ্যপ্রাচ্য ও তুরকিয়েকেও তারা নতুন ক্রেতা হিসেবে পেয়েছে। ইউরোপেও নভেম্বরে আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞার আগে কিছু দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনেছে।

যারা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, রাশিয়ার তেলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে, তারা ভুল প্রমাণিত হয়েছেন।

দ্বিতীয় সূচকটি হলো, রাশিয়ান তেলের দাম। প্রাথমিকভাবে মস্কো ক্রেতাদের প্রলুব্ধ করতে বিভিন্ন দেশের কাছে বিশাল ছাড়ে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করেছে। এরপর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্রেমলিন একটি আঁটসাঁট বাজারের সুবিধা নিয়ে মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা ফিরে পেয়েছে।

নতুন এ ধারার ভালো উদাহরণ হচ্ছে ইএসপিও ক্রুড। এটি বিশেষ এক ধরনের তেল, যা রাশিয়ার দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আসে। এ বছরের শুরুর দিকে এটি এশিয়ার তেলের বেঞ্চমার্ক দুবাই ক্রুডের কাছে ব্যারেল প্রতি ২০ ডলারের বেশি ছাড়ে বিক্রি করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি ইএসপিও ক্রুড অয়েল দুবাইয়ে তেলের সমতায় পরিবর্তন এনেছে।

রাশিয়ার মধ্যবর্তী ও ইউরোপের নিকটবর্তী উরাল অঞ্চলের ক্রুড অয়েল ইউরোপের বাজারে বিক্রি করত মস্কো। এখন আর উরাল ক্রুড অয়েল থেকে ইএসপিওর মতো লাভ হচ্ছে না। কারণ এর মূল ক্রেতা ঐতিহ্যগতভাবে জার্মানির মতো দেশ। তবে সম্প্রতি এর দামও আগের মতো হয়ে আসছে।

মস্কো নতুন পণ্যের বাজারও খুঁজছে। এসব বাজার মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় এবং যেখানে রাশিয়া অর্থায়ন করে। এরা রাশিয়ার ক্রুড অয়েল কিনতে ও চাহিদার বাজারে পাঠাতে ইচ্ছুক। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকা ও রাশিয়া বিপুল ছাড় দিতে সক্ষম হওয়ায় ক্রেমলিনে প্রচুর অর্থ আসছে। ফলে আপাতত জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা কাজ করছে না।

রাশিয়ান সাফল্যের সবশেষ সূচকটি সরাসরি বাজার সম্পর্কিত নয়, সেটি রাজনৈতিক। মার্চ ও এপ্রিলে পশ্চিমা নীতিনির্ধারকদের আশা ছিল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বে ওপেক রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। অথচ বাস্তবে উল্টোটা ঘটেছে।

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের রিয়াদ সফরের পরেও পুতিন ওপেক প্লাস জোটে তার প্রভাব বজায় রেখেছেন। বাইডেন সৌদি আরব থেকে চলে যাওয়ার পরপরই ওপেকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী মূল ব্যক্তি রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক সৌদি আরবে যান। তার কয়েক দিন পর ওপেক বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ বজায় রেখে তেলের উৎপাদন সামান্য বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়।

জ্বালানি বাজারে জয়ের অর্থ হল পুতিন ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি সীমাবদ্ধ করে বার্লিন, প্যারিস ও লন্ডনের ওপর চাপ সৃষ্টির সক্ষমতা রাখেন। এসব দেশ এবারের শীতে রেশনিং হতে পারে এমন খুচরা জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য ঘাটতির জন্য প্রস্তুত। মস্কো তেল বিক্রি করে বিপুল অর্থ উপার্জন করছে। এ জন্য রাশিয়া পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোতে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ সীমিত করে দিলেও বিশেষ ক্ষতির মুখে পড়বে না।

শীতল আবহাওয়া, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও বছরের শেষ দিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সব মিলিয়ে ইউক্রেনের জন্য পশ্চিমাদের সমর্থন কমিয়ে দেয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। ইউরোপীয় রাজনীতিকরা এতদিন কিয়েভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আন্তর্জাতিক প্রশংসা পেতে আগ্রহী ছিলেন। এখন তারা ভোটারদের জ্বালানি সংকটে পড়া ঠেকাতে নিজের দেশে পণ্যমূল্য বাগে আনতে চাইবেন।

জনসমক্ষে ইউরোপীয় সরকারগুলো রাশিয়ান শক্তি থেকে নিজেদের মুক্ত করার জন্য দৃঢ়সংকল্পে অটুট। তবে গোপনে তাদের স্বীকার করতেই হচ্ছে, এমন অবস্থান অর্থনীতিতে আঘাতের হুমকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ইউরোপে রুশ তেলের পাইপলাইন বন্ধ করল ইউক্রেন
ট্রাক ভাড়া বাড়ায় বেনাপোলে পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থা
রেলের ভাড়া বাড়ানোর আলোচনা চলছে: রেলমন্ত্রী
বাস ভাড়ার প্রতারণা কাদেরকে জানালেন জাফরউল্লাহ
বিদ্যুতের দাম বাড়ালে সরকার পতনের আন্দোলন: ইসলামী আন্দোলন

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Citizens at risk of Ukraines bases in settlements Amnesty

জনগণকে ঢাল বানানোয় ইউক্রেনের সমালোচনা অ্যামনেস্টির

জনগণকে ঢাল বানানোয় ইউক্রেনের সমালোচনা অ্যামনেস্টির রুশ হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া বিদ্যালয় ভবনের সামনে দিয়ে বিষন্ন মনে হেঁটে যাচ্ছে এক শিক্ষার্থী। গত ৩ মার্চ ইউক্রেনের জেমটোমার অঞ্চলে চালানো হয় বিমানহামলাটি। ছবি: এএফপি
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রুশ বাহিনীর হামলা প্রতিহত করতে এমন রণকৌশল কাজে লাগাচ্ছে কিয়েভ। এমন অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

ইউক্রেনীয় বাহিনী স্কুল ও হাসপাতালসহ জনবহুল আবাসিক এলাকায় ঘাঁটি স্থাপন এবং সেখান থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করার মাধ্যমে রুশ বাহিনীর হামলার মুখে ফেলে দিয়েছে নিজ দেশের বেসামরিক নাগরিকদের।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রুশ বাহিনীর হামলা প্রতিহত করতে এমন রণকৌশল কাজে লাগাচ্ছে কিয়েভ। এমন অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

এই ধরনের রণকৌশল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে এবং বেসামরিক লোকদের বিপদে ফেলে দেয়। এর মাধ্যমে কিয়েভ বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনাকে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। এতে এমনসব জনবহুল এলাকায় চালানো রুশ হামলার বলি হচ্ছে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, ‘ইউক্রেনীয় বাহিনী কীভাবে বেসামরিক নাগরিকদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে এবং জনবহুল এলাকা থেকে যুদ্ধ পরিচালনার মাধ্যমে যুদ্ধের আইন লঙ্ঘন করছে সেগুলোর ধরন ও নমুনা আমরা নথিভুক্ত করেছি।’

রুশ হামলার বিপরীতে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অমান্য করলে তা থেকে দায়মুক্তি পেতে পারে না ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এও মনে করে না যে রণকৌশল ও যুদ্ধনীতি মেনে ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে মস্কো। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে খারকিভ, দোনভাসসহ বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালাতে গিয়ে যুদ্ধাপরাধ করেছে রুশ বাহিনীও।

বেসামরিক এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর স্থাপনা বেআইনিভাবে রুশ সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এমন তথ্য পায়নি সংস্থাটি।

চলতি বছর এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষকরা খারকিভ, ডনবাস এবং মাইকোলাইভ অঞ্চলে রুশ হামলার ধরন পর্যালোচনা করেছেন। তারা কয়েক সপ্তাহ সেসব অঞ্চলে অবস্থান করেন।

সংগঠন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরিদর্শন, বেঁচে যাওয়া ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার নেয়া এবং রিমোট সেন্সিং এবং অস্ত্রের ধরন বিশ্লেষণ করেন। এরপর তৈরি করেন প্রতিবেদন।

আরও পড়ুন:
ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে ক্রিমিয়া ছেড়ে পালাচ্ছে রুশরা
যুদ্ধের থ্রিল নিতে পর্যটক ডাকছে ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠান
ইউরোপে রুশ তেলের পাইপলাইন বন্ধ করল ইউক্রেন
ইউরোপে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা জাতিসংঘের
‘রাজাকার’ ধরতে ইউক্রেনীয় শহরে অভিযান

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The price of electricity has increased five times in Germany during the drought

জার্মানিতে বিদ্যুতের দাম বেড়ে ৫ গুণ

জার্মানিতে বিদ্যুতের দাম বেড়ে ৫ গুণ জার্মানির একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপের জ্বালানি সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে রাইন নদীর পানি কমে যাওয়া। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে নদীটি দৃশ্যত নৌযান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এর ফলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানির সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হবে। সড়ক বা রেলপথে জ্বালানি পরিবহন সম্ভব হলেও সেটি অনেক বেশি ব্যয়সাপেক্ষ।

চলমান দাবদাহ ও খরায় ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে আসায় জার্মানিতে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির রেকর্ড হয়েছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়, একদিকে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে থাকা রাশিয়া গ্যাস রপ্তানি সীমিত করেছে ইউরোপে, অন্যদিকে গ্রীষ্মের খরতাপে পুড়ছে পুরো মহাদেশ। এমন পরিস্থিতি ইউরোপের জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। শীতে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে গেলে এ সংকট আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইউরোপের জ্বালানি সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে রাইন নদীর পানি কমে যাওয়া। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে নদীটি দৃশ্যত নৌযান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এর ফলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানির সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হবে।

সড়ক বা রেলপথে জ্বালানি পরিবহন সম্ভব হলেও সেটি অনেক বেশি ব্যয়সাপেক্ষ।

এ বিষয়ে এএমই গ্রুপের এক নোটে বলা হয়, ‘রাইন নদীর পানির স্তর নেমে যাওয়া এসব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লার জোগান ব্যাহত করবে।’

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ইউরোপিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জে জার্মানির বিদ্যুতের প্রতি মেগাওয়াটের দাম ৩.২ শতাংশ বেড়ে ৪২০ ইউরো হয়েছে। এটি এক বছর আগের দামে চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি।

প্রচণ্ড তাপ ও খরায় জলবিদ্যুতের জোগান দেয়া নদী, জলাধারগুলোও শুকিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে নরওয়ের অসলোভিত্তিক জ্বালানি প্রযুক্তি কোম্পানি ভলুর পানি বিশেষজ্ঞ সিলজে এরিকসেন হলমেন বলেন, ইউরোপে শুষ্ক অবস্থা কাটার কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না। এটা এ কারণে নয় যে, শুধু এ গ্রীষ্মটাই শুষ্ক; সময়টা দীর্ঘ হওয়ায় খরার প্রভাব আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুন:
মেশিনে ঘাস কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই ভাইয়ের মৃত্যু
বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুলছিল যুবকের দেহ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের সাফল্য বৈপ্লবিক: কাদের
পিকনিকের লঞ্চ বিদ্যুতায়িত: নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার
পিকনিকের লঞ্চ বিদ্যুতায়িত, নিখোঁজ ১

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Arson planned French minister

দাবানল পরিকল্পিত: ফ্রান্সের মন্ত্রী

দাবানল পরিকল্পিত: ফ্রান্সের মন্ত্রী দাবানল ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিমানের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে দেশটির ইতিহাসে চলতে থাকা সবচেয়ে বড় দাবানলে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২০০ হেক্টর জমি আগুনে পুড়ে গেছে। ফায়ার ফাইটাররা আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের ইতিহাসে চলতে থাকা সবচেয়ে বড় দাবানলের পেছনে নাশকতার আশঙ্কার কথা বলছেন স্বয়ং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিনি।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলছে দাবানল। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য একদিকে উচ্চ তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত জনজীবন, অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরাও দাবানলের জন্য দায়ী করে আসছে জলবায়ু পরিবর্তনকে।

রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের ইতিহাসে চলতে থাকা সবচেয়ে বড় দাবানলের পেছনে নাশকতার আশঙ্কার কথা বলছেন স্বয়ং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিনি।

মধ্য ফ্রান্সের অ্যাভেরন ভ্রমণের সময় দারমানিনি সাংবাদিকদের বুধবার বলেন, সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত প্রায় ৮ জায়গায় নতুন করে আগুন লেগেছে, এটি অস্বাভাবিক।

এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মীদের আগুনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়টিও বলার সময় তিনি এটিকে হিংসাত্মক আগুন হিসেবেই অভিহিত করেন।

ফ্রান্সে দেশটির ইতিহাসে চলতে থাকা সবচেয়ে বড় দাবানলে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২০০ হেক্টর জমি আগুনে পুড়ে গেছে। ফায়ার ফাইটাররা আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। বোর্দেওক্সের প্রধান মহাসড়ক এরই মধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেখানকার ১০ হাজার বাসিন্দাকে এরই মধ্যে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মডেল বান্ধবীকে স্ত্রী করলেন সাবেক ফরাসি প্রেসিডেন্ট
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী বর্নিকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন
৩০ বছর পর নারী প্রধানমন্ত্রী পেল ফ্রান্স
ফ্রান্সের নির্বাচন ও ভবিতব্যের ম্লান আলো
ম্যাখোঁবিরোধী বিক্ষোভে গুলি, নিহত ২

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
50 missing after boat sinks in Greece

গ্রিসে নৌকা ডুবে নিখোঁজ ৫০

গ্রিসে নৌকা ডুবে নিখোঁজ ৫০ গ্রিসে নৌকা ডুবে ৫০ জন নিখোঁজ। ছবি: এএফপি
কোস্ট গার্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নৌকাটিতে অন্তত ৮০ জন ছিলেন বলে উদ্ধার হওয়া ২৯ জনের অনেকেই জানিয়েছেন। সে হিসাবে এখনও আরও ৫০ জনের মতো নিখোঁজ।’

গ্রিসের এজিয়ান সাগরে কারপাথোস দ্বীপের কাছে একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৫০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছে।

দেশটির কোস্ট গার্ডের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে বলেছে সংবাদ সংস্থা এএফপি।

তিনি বলেন, ‘নৌকাটিতে অন্তত ৮০ জন ছিলেন বলে উদ্ধার হওয়া ২৯ জনের অনেকেই জানিয়েছেন। সে হিসাবে এখনও আরও ৫০ জনের মতো নিখোঁজ।’

গ্রিসের কোস্ট গার্ড বলছে, মঙ্গলবার নৌকাটি তুরস্ক থেকে ইতালির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। নিখোঁজদের সন্ধানে তারা তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

কোস্ট গার্ডের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘উদ্ধার অভিযানে আমাদের চারটি যান অংশ নিয়েছে। এসবের মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ এরইমধ্যে এজিয়ান সাগরের দক্ষিণে তল্লাশি শুরু করেছে।’

কোস্ট গার্ডের একটি টহল নৌকা এবং বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে বলে জানান তিনি।

দেশটির সাকি রেডিওতে দেয়া এক বক্তব্যে কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র নিকোস কোকালাস বলেন, ‘সাগরে বাতাসের গতিবেগ ৫০ কিলোমিটারের বেশি হওয়ায় উদ্ধার কাজ পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

দারিদ্রপীড়িত আফ্রিকা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে পালিয়ে উন্নত জীবনের আশায় প্রায়ই অভিবাসীরা গ্রিস উপকূল হয়ে ইউরোপে পাড়ি জমায়। এই উপকূল দিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশিও ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই চ্যানেল পাড়ি দেয়ার সময় শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে ডুবে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ডুবে অন্তত ৬৪ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।

জাতিসংঘের এই অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুন গ্রিসের মাইকোনোস দ্বীপের কাছে নৌকা ডুবে অন্তত ৮ জন মারা যান।

এ ছাড়া ডুবে যাওয়া নৌকা থেকে আরও ১০৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Swiss banks have no chance of keeping corruption money Ambassador

সুইস ব্যাংকে দুর্নীতির অর্থ রাখার সুযোগ নেই: রাষ্ট্রদূত

সুইস ব্যাংকে দুর্নীতির অর্থ রাখার সুযোগ নেই: রাষ্ট্রদূত বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিকাব আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড। ছবি: নিউজবাংলা
সুইস রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড কালো টাকা রাখার স্বর্গরাজ্য নয়। এই বিষয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। সুইস ব্যাংক অবৈধ অর্থকে কোনোভাবেই উৎসাহিত করে না। সুইস ব্যাংক বিশ্বের একটি অন্যতম ব্যাংকিং ব্যবস্থা, আমাদের জিডিপির অন্যতম একটি বড় অংশ। সুইস জাতীয় ব্যাংক প্রতি বছর বাংলাদেশি গ্রাহকদের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় ব্যক্তিগত টাকা সংরক্ষণ হার বাড়ছে না, বরং কমছে।’

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমা নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে বাংলাদেশে দেশটির রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড জানিয়েছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত বা অপ্রদর্শিত অর্থ রাখার সুযোগ তাদের কোনো ব্যাংকে নেই। তিনি এও জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের মধ্যে কারা টাকা জমা রেখেছে, সে বিষয়ে তার দেশের সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য চায়নি বাংলাদেশ সরকার।

বাংলাদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়তে তার দেশের উদ্যোগের বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে সাংবা‌দিক‌দের এক প্রশ্নের জবা‌বে তিনি এ কথা ব‌লেন।

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড ব‌লেন, ‘সুইস ব্যাংক আন্তর্জাতিক সব প্রক্রিয়া মেনেই কাজ করে। সেখানে কালো টাকা বা দুর্নীতির অর্থ রাখার কোনো সুযোগ নেই।’

সুইস ব্যাংক বলতে সুইজারল্যান্ডের কোনো একক ব্যাংককে বোঝায় না। সুইস নাশনাল ব্যাংক বলতে যে প্রতিষ্ঠানটি আছে, সেটি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশটির যেকোনো ব্যাংকে রাখা টাকাই সুইস ব্যাংকের টাকা হিসেবে আলোচনায় আসে।

গত জুনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সুইস ব্যাংকগুলোতে এখন বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার বেশি। টাকার অবমূল্যায়নে এই অঙ্ক এখন ৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে গত ১২ মাসে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে।

এই অর্থ জমা নিয়ে বরাবর তুমুল বিতর্ক হয় বাংলাদেশে। সমালোচকরা বলে আসছেন, বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ এটি।

সুইস ব্যাংকে দুর্নীতির অর্থ রাখার সুযোগ নেই: রাষ্ট্রদূত

অবশ্য বাংলাদেশ থেকে নানাভাবে অবৈধ উপায়ে পাচার হওয়া অর্থ যেমন সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা হয়, তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও দেশটিতে অর্থ জমা রাখেন। তাই সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশিদের মোট অর্থের মধ্যে বৈধ-অবৈধ সব অর্থই রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে অনেক প্রশ্নের জবাব মেলে না এ কারণে যে, সাধারণত সুইস ব্যাংক অর্থের উৎস গোপন রাখে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থ জমা রাখেন।

এই হিসাব প্রকাশের আগের বছর সুইস ব্যাংক থেকে বাংলাদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ ফেরত আনার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। এরপর সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে (সুইস ব্যাংক) সঞ্চয়কারী বাংলাদেশিদের নামের তালিকা চায় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব ব্যাংকে টাকা জমাকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জানাতে বলা হয়। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে দেয়া হয়নি।

সুইস রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড কালো টাকা রাখার স্বর্গরাজ্য নয়। এই বিষয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। সুইস ব্যাংক অবৈধ অর্থকে কোনোভাবেই উৎসাহিত করে না। সুইজ ব্যাংক বিশ্বের একটি অন্যতম ব্যাংকিং ব্যবস্থা, আমাদের জিডিপির অন্যতম একটি বড় অংশ। সুইজ জাতীয় ব্যাংক প্রতি বছর বাংলাদেশি গ্রাহকদের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় ব্যক্তিগত টাকা সংরক্ষণ হার বাড়ছে না, বরং কমছে।’

অন্য এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিরা কত টাকা জমা রেখেছে ওই তথ্য প্রতি বছর সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক দিয়ে থাকে। ওই অর্থ অবৈধপথে আয় করা হয়েছে কি না, এটি আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়।’

বাংলাদেশ সরকার সুনির্দিষ্ট কারও তথ্য চায়নি

অন্য এক সুইস প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার সুইজারল্যান্ড সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট করে কারো সম্পর্কে তথ্য চায়নি।

অর্থপাচার নিয়ে সুইজারল্যান্ড আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি ব‌লেন, ‘তথ্য পেতে হলে কী করতে হবে, সে সম্পর্কে আমরা সরকারকে জানিয়েছি, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো তথ্যের জন্য আমাদের কাছে অনুরোধ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক মান অনুসারে আমরা যেকোনো ধরনের তথ্য আদান-প্রদানের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও চুক্তি করতে পারি। ইতোম‌ধ্যে আমরা বাংলাদেশ সরকারকে এ বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে সব তথ্য সরবরাহ করে‌ছি।’

বাংলা‌দে‌শের স‌ঙ্গে সুইজারল‌্যা‌ন্ডের সহ‌যো‌গিতা অব‌্যাহত থাক‌বে জানিয়ে নাথালি চুয়ার্ড ব‌লেন, ‘গত বছর দুই দেশের বাণিজ্য এক বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এ দেশের স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম সুইস সরকারের সহায়তায় হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের মতো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সুইস সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। সুইস সরকার ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে। আগামী দিনগুলোতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

আগামী দিনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তির প্রসারে সুইস সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে ব‌লেও জানান রাষ্ট্রদূত।

রো‌হিঙ্গা সংকট প্রস‌ঙ্গে তিনি ব‌লেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধা‌নে সুইজারল্যান্ড সব সময় বাংলাদেশের পাশে আছে। সুইজারল্যান্ড চায় রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও নিরাপদে প্রত্যাবাসন হোক।

‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন অবস্থায় আমরা বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করব। আমরা জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য নই। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে এখন রয়েছি। সেখানে আমরা বিষয়গুলো তুলে ধরব।'

অনুষ্ঠানে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) এর সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈনুদ্দীনের সঞ্চালনায় সংগঠনটির সভাপতি রেজাউল করিম লোটাসসহ উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যরা।

আরও পড়ুন:
মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির আড়ালে অর্থপাচার!
বাংলাদেশ ব্যাংকের পুঁজিবাজারবান্ধব আরেক সিদ্ধান্ত
শ্রীলঙ্কা সংকট পাকিস্তান বাংলাদেশের জন্য সতর্কতা: আইএমএফ

মন্তব্য

p
উপরে