× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Women in the United States are losing the right to abortion
hear-news
player
print-icon

যুক্তরাষ্ট্রের নারীরা হারাতে যাচ্ছেন গর্ভপাতের অধিকার

যুক্তরাষ্ট্রের-নারীরা-হারাতে-যাচ্ছেন-গর্ভপাতের-অধিকার
রায়ে উচ্ছ্বসিত গর্ভপাতবিরোধীরা। ছবি: সংগৃহীত
মিসিসিপির গভর্নর টেট রিভস এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে আরও হৃৎপিণ্ড স্পন্দিত হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গর্ভপাতের অধিকার কেড়ে নেয়াকে একটি ‘দুঃখজনক ত্রুটি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

যুক্তরাজ্যে লাখ লাখ নারী গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার হারাতে যাচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫০ বছর পর সুপ্রিম কোর্ট ‘রো বনাম ওয়েডের’ সিদ্ধান্তকে বাতিল করে দিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নারীরা গর্ভপাতের অধিকার হারাতে যাচ্ছেন।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায় দেশটির অন্যান্য রাজ্যে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার পথ প্রশস্ত করবে। এই রায়ে উচ্ছ্বসিত যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল নাগরিকরা।

একজন গর্ভপাতবিরোধী কর্মী বিবিসিকে বলেছেন, এই দেশে আইনই যথেষ্ট নয়, জীবনে এই বিষয়টিকে (গর্ভপাত) অচিন্তনীয় করে দিতে হবে।

মিসিসিপির গভর্নর টেট রিভস এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে আরও হৃৎপিণ্ড স্পন্দিত হবে, আরও রিপোর্ট কার্ড দেয়া হবে, আরও লীগ গেমস খেলা হবে এবং আরও বেশি জীবন ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারবে। এটি একটি আনন্দের দিন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের ‘রো বনাম ওয়েডের’ একজন সমালোচক। তিনি গর্ভপাতবিরোধী সমর্থকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন, প্রতিটি রাজ্যে আইনের মাধ্যমে ‘জীবনের পবিত্রতা’ সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত থামা যাবে না।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গর্ভপাতের অধিকার কেড়ে নেয়াকে একটি ‘দুঃখজনক ত্রুটি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং রাজ্যগুলোকে গর্ভপাত পদ্ধতির অনুমতি দেয়ার জন্য আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

গর্ভপাত প্রদানকারী স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা প্ল্যান্ড প্যারেন্টহুডের গবেষণা অনুসারে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর প্রজননে সক্ষম ৩ কোটি ৬০ লাখ নারীর গর্ভপাতের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে।

এর আগে ‘রো বনাম ওয়েড’ মামলায় ১৯৭৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, একজন নারীর গর্ভপাতের অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।

সেই রায় দেশটির নারীদের গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসে (ত্রৈমাসিক) গর্ভপাতের নিরঙ্কুশ অধিকার দেয়া হয়েছিল। পরবর্তী ৩ মাসে ছিল বিধিনিষেধ। ৬ মাস পরে গর্ভপাত নিষিদ্ধ।

আরও পড়ুন:
স্বামীকে হত্যার দায়ে ‘স্বামীকে কীভাবে হত্যা করবেন’ বইয়ের লেখকের যাবজ্জীবন
যুক্তরাষ্ট্রে সপ্তাহান্তে গুলিতে নিহত ৫, আহত ২৭
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক নিয়ন্ত্রণে দুই দলে ঐকমত্য
যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর ৩১ সদস্য গ্রেপ্তার
বন্দুক সহিংসতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Salman Rushdie has a good sense of humor

সালমান রুশদির রসবোধ অক্ষুণ্ন

সালমান রুশদির রসবোধ অক্ষুণ্ন ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক সালমান রুশদি। ফাইল ছবি
নিউ ইয়র্কে শুক্রবার সকালে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় হামলার শিকার হন ৭৫ বছরের সালমান রুশদি। এক ব্যক্তি মঞ্চে ওঠে তার ঘাড়ে ও পেটে ১০-১৫ বার ছুড়ি দিতে আঘাত করে। ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় হামলাকারী হাদি মাতারকে।

ভয়ঙ্কর হামলার পর হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসাধীন সালমান রুশদি। জটিল অস্ত্রোপচারের পর মাত্র কথা বলার সক্ষমতা ফিরে পেয়েছেন। এর মধ্যেও সহজাত ও অদম্য রসবোধ হারাননি আলোচিত এই ঔপন্যাসিক।

এক টুইটে রোববার এ কথা জানান রুশদির ছেলে জাফর রুশদি।

জাফর লিখেছেন, ‘আমার বাবা জীবন বদলে দেয়া আঘাত সহ্য করেছেন। তবু তিনি পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন।’

এর আগে লেখকের এজেন্ট অ্যান্ড্রু ওয়াইলি জানিয়েছিলেন, সালমান রুশদির চিকিৎসা চলছে। সময় লাগবে সেরে উঠতে। কারণ আঘাতগুলো গুরুতর।

নিউ ইয়র্কে শুক্রবার সকালে এক অনুষ্ঠানে হামলার শিকার হন ৭৫ বছরের সালমান রুশদি। লেবানিজ বংশোদ্ভূত যুবক হাদি মাতার মঞ্চে উঠে তার ঘাড়ে ও পেটে ১০-১৫ বার ছুরি দিতে আঘাত করে। পরে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় হাদিকে।

রুশদির ছেলে শুক্রবার এক টুইটে লিখেছিলেন, ‘হামলার পর আমার বাবা গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।’

শনিবার রুশদিকে ভেন্টিলেটর থেকে সরিয়ে নেয়ার পর জাফর বলেছিলেন, ‘স্বস্তি পাচ্ছি। বাবা কিছুটা কথা বলতে পেরেছেন।’

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ উপন্যাস দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। শুধু যুক্তরাজ্যেই বইটির ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়।

১৯৮৮ সালে দ্য স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাস লেখার পর থেকে বছরের পর বছর প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছেন এই লেখক। দ্য স্যাটানিক ভার্সেস তার রুশদির চতুর্থ উপন্যাস। এই বই লেখার জন্য রুশদিকে ৯ বছর আত্মগোপনে থাকতে হয়।

পরাবাস্তববাদী ও উত্তর-আধুনিক এই উপন্যাসটি কিছু মুসলিমের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। ইরান ও বাংলাদেশসহ কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশে বইটি নিষিদ্ধও করা হয়। বইটি প্রকাশের এক বছর পর, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি রুশদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আহ্বান জানান । তার মাথার জন্য ৩০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন খোমেনি।

তারপরও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন রুশদি। এক পর্যায়ে ইরান সরকার সরে আসে খোমেনির ডিক্রি থেকে।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেস প্রকাশনার পর সহিংসতায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ছিলেন উপন্যাসটির জাপানি ভাষায় অনুবাদকও। রুশদির ব্রিটিশ এবং আমেরিকান নাগরিকত্ব রয়েছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে একজন সোচ্চার কণ্ঠ তিনি।

আরও পড়ুন:
রুশদির ওপর হামলায় স্তম্ভিত তসলিমা
সময়ক্রম: স্যাটানিক ভার্সেস থেকে রুশদিকে ছুরিকাঘাত
রুশদির ওপর হামলাকারী কে এই হাদি মাতার
রুশদি ভেন্টিলেশনে, হারাতে পারেন চোখ
সালমান রুশদিকে ২০ সেকেন্ডে ১০-১৫ বার ছুরিকাঘাত

মন্তব্য

কথা বলতে পারছেন রুশদি

কথা বলতে পারছেন রুশদি ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি। ছবি: এএফপি
হামলাস্থল নিউ ইয়র্কের চৌতাউকা ইনস্টিটিউশনের প্রেসিডেন্ট মাইকেল হিল টু্‌ইট বার্তায় বলেন, ‘সালমান রুশদিকে ভেন্টিলেটর থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং তিনি কথা বলছেন। সবার কাছে প্রার্থনার আবেদন রইল।’

ছুরিকাঘাতের এক দিন পর ঔপন্যাসিক সালমান রুশদির অবস্থার উন্নতি হলে তাকে ভেন্টিলেটর থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি এখন কথা বলতে পারছেন।

হামলাস্থল নিউ ইয়র্কের চৌতাউকা ইনস্টিটিউশনের প্রেসিডেন্ট মাইকেল হিল এমনটি নিশ্চিত করেছেন।

টু্‌ইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘সালমান রুশদিকে ভেন্টিলেটর থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং তিনি কথা বলছেন। সবার কাছে প্রার্থনার আবেদন রইল।’

শুক্রবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে সালমান রুশদি হামলার শিকার হন এবং অস্ত্রোপচারের পর তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। অবস্থার উন্নতি হলে তাকে ভেন্টিলেটর থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।

রুশদির এজেন্ট অ্যান্ড্রু ওয়াইলি যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমকে স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে জানিয়েছিলেন, লেখক একটি চোখ হারাতে পারেন।

কথা বলতে পারছেন রুশদি
সালমান রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় আটক হাদি মাতার আদালতে। ছবি: এপি

রুশদিকে ছুরিকাঘাত করা সন্দেহভাজন যুবক হাদি মাতারের নামে শনিবার হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।

নিউ ইয়র্কের চৌতাউকা কাউন্টির প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, হামলাকারী হাদি মাতারকে হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার সব ধরনের জামিন বাতিল করা হয়েছে।

মাতারের বিরুদ্ধে একটি স্থানীয় শিক্ষাকেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠান মঞ্চে দৌড়ে সালমান রুশদি এবং তার সাক্ষাৎকারকারীর ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত রুশদির অস্ত্রোপচারের পর তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। সেখানে লেখকের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল।

৭৫ বছর বয়সী সালমান রুশদি তার উপন্যাস দ্য স্যাটানিক ভার্সেসের জন্য বছরের পর বছর হত্যার হুমকি পেয়ে এসেছেন। বইটিকে অনেক মুসলমান ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবমাননা বলে মনে করেন।

চৌতাউকা ইনস্টিটিউশনে হামলার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল নিউ জার্সির ফেয়ারভিউ থেকে মাতারকে আটক করা হয়।

হামলার পরদিন স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হয় তাকে। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। সন্দেহভাজন হাদি মাতারের মুখে মাস্ক ও পরনে ছিল কারাগারের পোশাক।

ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেসন এসমিডট একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘এটি একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায় মাত্র।’

রুশদির ওপর হামলায় জড়িত অভিযোগে হাদি মাতারকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে পুলিশ।

তার বইয়ের এজেন্ট এন্ড্রু ওয়াইলি জানিয়েছেন, সম্ভবত তিনি এক চোখ হারিয়েছেন। রুশদির অবস্থা ভালো নয়।

আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পুলিশের হাতে আটক হাদি মাতারের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় হলেও তিনি নিউ জার্সির ফেয়ারভিউ এলাকায় বসবাস করছিলেন।

হাদির জন্মের আগে তার বাবা-মা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ইয়ারুন থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় পাড়ি জমান। ইয়ারুন পৌরসভার প্রধান আলী কাসেম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লেবাননের সংবাদপত্র ডেইলি আন-নাহারকে তিনি বলেন, হাদির জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে, তিনি কখনও ইয়ারুনে আসেননি।

হাদির বিরুদ্ধে এখনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ বলছে, রুশদির অবস্থা দেখে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হবে হাদির বিরুদ্ধে।

হাদি মাতারের আগের রেকর্ড জানতে এবং হামলার উদ্দেশ্য বের করতে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সহায়তা চেয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ।

নিউ ইয়র্ক পুলিশের মেজর ইউজিন স্ট্যানিসজেউস্কি বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ছুরিকাঘাতের উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাদির অ্যাকাউন্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি শিয়া চরমপন্থা এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রতি সহানুভূতিশীল।

হাদির ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়েও তথ্য পেয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ।

নিউ ইয়র্কের শাটোকোয়া ইনস্টিটিউশনের শুক্রবার সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় সালমান রুশদির ওপর হামলা চালান হাদি মাতার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রুশদিকে ২০ সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ বার ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার পর রুশদি তৎক্ষণাৎ মেঝেতে পড়ে যান। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে লেখককে ঘিরে ফেলেন। অনুষ্ঠানে আনুমানিক আড়াই হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘রুশদিকে মুহূর্তের মধ্যে বেশ কয়েকবার আঘাত করা হয় এবং তিনি তার রক্তের ওপরই লুটিয়ে পড়েন।’

হামলায় সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী হেনরি রিসও মাথায় সামান্য আঘাত পেয়েছেন। রিস একটি অলাভজনক সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা; যা নিপীড়নের হুমকির মধ্যে থাকা নির্বাসিত লেখকদের জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ উপন্যাস দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। শুধু যুক্তরাজ্যেই বইটির ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল।

১৯৮৮ সালে দ্য স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাস লেখার পর থেকে বছরের পর বছর প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছেন এই লেখক।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেস রুশদির চতুর্থ উপন্যাস। এই বই লেখার জন্য রুশদিকে ৯ বছর আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেস প্রকাশনার পর সহিংসতায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ছিলেন উপন্যাসটির জাপানি ভাষায় অনুবাদকও।

আরও পড়ুন:
রুশদির হামলাকারীর নামে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
রুশদির হামলাকারী হাদি ছিলেন ‘ধর্মপ্রাণ’, শিখছিলেন বক্সিং
রুশদির ওপর হামলার প্রশংসায় আয়াতুল্লাহ খামেনি
রুশদির ওপর হামলায় স্তম্ভিত তসলিমা
সময়ক্রম: স্যাটানিক ভার্সেস থেকে রুশদিকে ছুরিকাঘাত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Charges of attempted murder against Rushdies attacker

রুশদির হামলাকারীর নামে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

রুশদির হামলাকারীর নামে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ সালমান রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় আটক যুবক হাদি মাতারের নামে নিউ ইয়র্কের চৌতাউকা কাউন্টির আদালতে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। ছবি: এপি
হামলার পরদিন স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হয় সন্দেহভাজন যুবক হাদি মাতারকে। তার নামে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেসন এসমিডট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘এটি একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায় মাত্র।’

যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনুষ্ঠানে ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক সালমান রুশদিকে ছুরিকাঘাত করা সন্দেহভাজন যুবক হাদি মাতারের নামে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিউ ইয়র্কের চৌতাউকা কাউন্টির প্রসিকিউটর জানিয়েছেন হামলাকারী হাদি মাতারকে হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার সব ধরনের জামিন বাতিল করা হয়েছে।

মাতারের বিরুদ্ধে একটি স্থানীয় শিক্ষাকেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মঞ্চে দৌড়ে সালমান রুশদি এবং তার সাক্ষাৎকারকারীর ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

শুক্রবার ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত রুশদির সার্জারির পর তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। লেখকের অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।

রুশদির হামলাকারীর নামে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
সালমান রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় আটক হাদি মাতার (বাঁয়ে)।

৭৫ বছর বয়সী সালমান রুশদি তার উপন্যাস দ্য স্যাটানিক ভার্সেসের জন্য বছরের পর বছর হত্যার হুমকি পেয়ে এসেছেন। বইটিকে অনেক মুসলমান ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবমাননা বলে মনে করেন।

চৌতাউকা ইনস্টিটিউশনে হামলার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল নিউ জার্সির ফেয়ারভিউ থেকে মাতারকে আটক করা হয়।

হামলার পরদিন স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হয় তাকে। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। সন্দেহভাজন হাদি মাতারের মুখে মাস্ক ও পরনে ছিল কারাগারের পোশাক।

ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেসন এসমিডট একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘এটি একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায় মাত্র।’

স্থানীয় সময় শুক্রবার সালমান রুশদির ওপর হামলায় জড়িত অভিযোগে হাদি মাতারকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে পুলিশ।

তার বইয়ের এজেন্ট এন্ড্রু ওয়াইলি জানিয়েছেন, সম্ভবত তিনি এক চোখ হারিয়েছেন। রুশদির অবস্থা ভালো নয়।

আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পুলিশের হাতে আটক হাদি মাতারের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় হলেও তিনি নিউ জার্সির ফেয়ারভিউ এলাকায় বসবাস করছিলেন।

হাদির জন্মের আগে তার বাবা-মা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ইয়ারুন থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় পাড়ি জমান। ইয়ারুন পৌরসভার প্রধান আলী কাসেম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লেবাননের সংবাদপত্র ডেইলি আন-নাহারকে তিনি বলেন, হাদির জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে, তিনি কখনও ইয়ারুনে আসেননি।

এর আগে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, রুশদির অবস্থা দেখে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হবে হাদির বিরুদ্ধে।

হাদি মাতারের আগের রেকর্ড জানতে এবং হামলার উদ্দেশ্য বের করতে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সহায়তা চেয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ।

নিউ ইয়র্ক পুলিশের মেজর ইউজিন স্ট্যানিসজেউস্কি বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ছুরিকাঘাতের উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাদির অ্যাকাউন্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি শিয়া চরমপন্থা এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রতি সহানুভূতিশীল।

হাদির ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়েও তথ্য পেয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ।

নিউ ইয়র্কের শাটোকোয়া ইনস্টিটিউশনের শুক্রবার সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় সালমান রুশদির ওপর হামলা চালান হাদি মাতার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রুশদিকে ২০ সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ বার ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার পর রুশদি তৎক্ষণাৎ মেঝেতে পড়ে যান। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে লেখককে ঘিরে ফেলেন। অনুষ্ঠানে আনুমানিক আড়াই হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘রুশদিকে মুহূর্তের মধ্যে বেশ কয়েকবার আঘাত করা হয় এবং তিনি তার রক্তের ওপরই লুটিয়ে পড়েন।’

হামলায় সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী হেনরি রিসও মাথায় সামান্য আঘাত পেয়েছেন। রিস একটি অলাভজনক সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা; যা নিপীড়নের হুমকির মধ্যে থাকা নির্বাসিত লেখকদের জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ উপন্যাস দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। শুধু যুক্তরাজ্যেই বইটির ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল।

১৯৮৮ সালে দ্য স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাস লেখার পর থেকে বছরের পর বছর প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছেন এই লেখক।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেস রুশদির চতুর্থ উপন্যাস। এই বই লেখার জন্য রুশদিকে ৯ বছর আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেস প্রকাশনার পর সহিংসতায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ছিলেন উপন্যাসটির জাপানি ভাষায় অনুবাদকও।

আরও পড়ুন:
রুশদির হামলাকারী হাদি ছিলেন ‘ধর্মপ্রাণ’, শিখছিলেন বক্সিং
রুশদির ওপর হামলার প্রশংসায় আয়াতুল্লাহ খামেনি
রুশদির ওপর হামলায় স্তম্ভিত তসলিমা
সময়ক্রম: স্যাটানিক ভার্সেস থেকে রুশদিকে ছুরিকাঘাত
রুশদির ওপর হামলাকারী কে এই হাদি মাতার

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Hadi Rushdies attacker was a devout student of boxing

রুশদির হামলাকারী হাদি ছিলেন ‘ধর্মপ্রাণ’, শিখছিলেন বক্সিং

রুশদির হামলাকারী হাদি ছিলেন ‘ধর্মপ্রাণ’, শিখছিলেন বক্সিং সালমান রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় আটক হাদি মাতার। ছবি: সংগৃহীত
হাদি মাতারের সাবেক সহপাঠী গ্যাব্রিয়েল সানচেজ বলেন, ‘হাদি এমন একটি জঘন্য অপরাধ করেছে শুনে আমি হতবাক হয়ে গেছি। ক্যালিফোর্নিয়ার এলিজাবেথ লার্নিং সেন্টারে সে আমার সহপাঠী ছিল। হাদি ছিল খুবই ধর্মপ্রাণ একজন মুসলমান। সে বিতর্কে অংশ নিত এবং তার বেশ কয়েকজন বন্ধু ছিল।’

ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক সালমান রুশদির ওপর হামলায় জড়িত অভিযোগে আটক হাদি মাতার স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ছিলেন প্রচণ্ড ধর্মপ্রাণ। তার বন্ধুরা বলছেন, হাদির এমন সহিংস রূপ তাদের অচেনা।

নিউ ইয়র্কে শুক্রবার সকালে সালমান রুশদিকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় ২৪ বছর বয়সী হাদিকে।

গুরুতর আহত রুশদির সার্জারির পর তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। তার বইয়ের এজেন্ট এন্ড্রু ওয়াইলি জানিয়েছেন, সম্ভবত তিনি এক চোখ হারিয়েছেন। তার যকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রুশদির অবস্থা ভালো নয়।

আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পুলিশের হাতে আটক হাদি মাতারের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় হলেও তিনি নিউ জার্সির ফেয়ারভিউ এলাকায় বসবাস করছিলেন।

হাদির জন্মের আগে তার বাবা-মা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ইয়ারুন থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় পাড়ি জমান। ইয়ারুন পৌরসভার প্রধান আলী কাসেম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লেবাননের সংবাদপত্র ডেইলি আন-নাহারকে তিনি বলেন, হাদির জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে, তিনি কখনও ইয়ারুনে আসেননি।

হাদির বিরুদ্ধে এখনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ বলছে, রুশদির অবস্থা দেখে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হবে তার বিরুদ্ধে।

হাদি মাতার ২০১৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নিউ জার্সিতে আসেন। ক্যালিফোর্নিয়ার এলিজাবেথ লার্নিং সেন্টারে তার সহপাঠীরা জানান, তারা হাদিকে প্রচণ্ড ধার্মিক হিসেবে জানতেন।

হাদি মাতারের সাবেক সহপাঠী গ্যাব্রিয়েল সানচেজ বলেন, ‘হাদি এমন একটি জঘন্য অপরাধ করেছে শুনে আমি হতবাক হয়ে গেছি। ক্যালিফোর্নিয়ার এলিজাবেথ লার্নিং সেন্টারে সে আমার সহপাঠী ছিল। হাদি ছিল খুবই ধর্মপ্রাণ এক মুসলমান। সে বিতর্কে অংশ নিত এবং তার বেশ কয়েকজন বন্ধু ছিল।’

গ্যাব্রিয়েল বলেন, ‘হাদি আমাদের স্কুলের রেস্টরুমে অজু করত। একবারই ওকে প্রচণ্ড রেগে যেতে দিখেছি। বছরের শেষের দিকে আমাদের জীববিজ্ঞান শিক্ষকের ক্লাসের মূল্যায়নে সে লিখেছিল, তিনি (শিক্ষক) ধর্ম সম্পর্কে যেভাবে কথা বলেন, তাতে মনে হয় ধর্মকে তিনি ঘৃণা করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাদি আমার সঙ্গে যে কয়েকটি বিষয়ে কথা বলেছে, তার একটি ছিল দয়া। সালমান রুশদির ওপর যে হাদি এই আক্রমণ করেছে, সে আমার অতীতের চেনা হাদি নয়। কারণ আমি যাকে চিনতাম, সে দয়ার কথা বলত।’

হাদি মাতারের আগের রেকর্ড জানতে এবং হামলার উদ্দেশ্য বের করতে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সহায়তা চেয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ।

নিউ ইয়র্ক পুলিশের মেজর ইউজিন স্ট্যানিসজেউস্কি বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ছুরিকাঘাতের উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাদির অ্যাকাউন্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি শিয়া চরমপন্থা এবং ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) প্রতি সহানুভূতিশীল।

হাদির ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়েও তথ্য পেয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। এ ড্রাইভিং লাইসেন্সে তিনি ব্যবহার করেছেন লেবাননের শিয়া সশস্ত্র গ্রুপ হিজবুল্লাহ নেতা মুগনিয়ার নাম। জিহাদ মুগনিয়া ২০১৫ সালে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন।

রুশদির হামলাকারী হাদি ছিলেন ‘ধর্মপ্রাণ’, শিখছিলেন বক্সিং
ভুয়া নামে হাদি মাতারের ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড। ছবি: সংগৃহীত

নিউ জার্সিতে আসার পর গত কয়েক বছরে হাদি মাতারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে এখনও পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে গত এপ্রিলে তিনি বক্সিং শিখতে শুরু করেন।

স্টেট অফ ফিটনেস বক্সিং ক্লাবের এক মুখপাত্র জানান, মাতার এপ্রিলে বক্সিং গ্রুপ ক্লাস করতে ভর্তি হন। গত ৯ আগস্ট পর্যন্ত তিনি ক্লাবে সদস্যপদ বহাল রাখেন।

নিউ জার্সিতে হাদির প্রতিবেশীরা তার সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য দিতে পারেনি। আশপাশের সবাইকে অনেকটা এড়িয়ে চলতেন হাদি।

এক প্রতিবেশী জানান, তারা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে হাদি মাতারকে শনাক্ত করেন।

একটি হাসপাতালের সাবেক কর্মী আন্তোনিও লোপা বলেন, ‘আমি হাদি মাতারের বাড়ির সামনের রাস্তার উল্টো দিকে থাকি। প্রায়ই ওকে বাড়ি ফিরতে দেখেছি, তবে কখনও কথা হয়নি।’

৭০ বছর বয়সী লোপার ধারণা, হাদির বাসায় আরও ছয়-সাতজন থাকতেন। সম্ভবত তারা সবাই আত্মীয়। তিন থেকে চার বছর আগে তারা দ্বিতল ভবনটিতে আসেন।

নিউ ইয়র্কের শাটোকোয়া ইনস্টিটিউশনে শুক্রবার সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় সালমান রুশদির ওপর হামলা চালান হাদি মাতার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রুশদিকে ২০ সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ বার ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার পর রুশদি তৎক্ষণাৎ মেঝেতে পড়ে যান।

আশপাশের লোকজন ছুটে এসে লেখককে ঘিরে ফেলেন। অনুষ্ঠানে আনুমানিক আড়াই হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘রুশদিকে মুহূর্তের মধ্যে বেশ কয়েকবার আঘাত করা হয় এবং তিনি তার রক্তের ওপরই লুটিয়ে পড়েন।’

হামলায় সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী হেনরি রিসও মাথায় সামান্য আঘাত পান। রিস একটি অলাভজনক সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা, যা নিপীড়নের হুমকির মধ্যে থাকা নির্বাসিত লেখকদের জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ উপন্যাস দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। শুধু যুক্তরাজ্যেই বইটির ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল।

১৯৮৮ সালে দ্য স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাস লেখার পর থেকে বছরের পর বছর প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছেন এ লেখক।

স্যাটানিক ভার্সেস রুশদির চতুর্থ উপন্যাস। এ বই লেখার জন্য রুশদিকে ৯ বছর আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।

ওই বই প্রকাশের পর সহিংসতায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন। এর মধ্যে ছিলেন উপন্যাসটির জাপানি ভাষার অনুবাদকও।

আরও পড়ুন:
সময়ক্রম: স্যাটানিক ভার্সেস থেকে রুশদিকে ছুরিকাঘাত
রুশদির ওপর হামলাকারী কে এই হাদি মাতার
রুশদি ভেন্টিলেশনে, হারাতে পারেন চোখ
সালমান রুশদিকে ২০ সেকেন্ডে ১০-১৫ বার ছুরিকাঘাত
নিউ ইয়র্কে সালমান রুশদির ঘাড়ে ছুরিকাঘাত, হামলাকারী আটক

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The search of secret documents from Trumps house is on specific charges

ট্রাম্পের বাসা থেকে গোপন নথি উদ্ধার, তল্লাশি ‘নির্দিষ্ট অভিযোগে’

ট্রাম্পের বাসা থেকে গোপন নথি উদ্ধার, তল্লাশি ‘নির্দিষ্ট অভিযোগে’ ডনাল্ড ট্রাম্প
ট্রাম্পের বাসায় যে পরোয়ানায় তল্লাশি, তাতে মূলত তিনটি অভিযোগ। এর মধ্যে একটি হলো গুপ্তচরবৃত্তি আইন লঙ্ঘন। এই আইনে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে- এমন তথ্য প্রকাশ করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে অতি গোপনীয়সহ মোট ১১টি নথি উদ্ধার করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)। আর এই অভিযান চালানো হয়েছে গুপ্তচরবৃত্তি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে।

গত মঙ্গলবার ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-এ-লাগো এস্টেটে চালানো ওই অভিযান নিয়ে শুক্রবার এফবিআই এ তথ্য জানিয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

দেশটির বিচারিক আদালতের দেয়া পরোয়ানায় ট্রাম্পের বাসায় অভিযান চালানো হয়। পরোয়ানায় আসলে কী আছে, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি।

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো পরোয়ানার কপি পেয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশ করছে। এতেই উঠে এসেছে নানা ঘটনা। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য বলছেন, যা চলছে তা রাজনৈতিক।

ট্রাম্পের বাসায় যে পরোয়ানায় তল্লাশি, তাতে মূলত তিনটি অভিযোগ। এর মধ্যে একটি হলো গুপ্তচরবৃত্তি আইন লঙ্ঘন। এই আইনে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে- এমন তথ্য প্রকাশ করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, উদ্ধার হওয়া নথিগুলো কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। একটি তালিকা ‘টিএস/এসসিআই’ বা অতি গোপন/সংবেদনশীল তথ্যের জন্য সংরক্ষিত। এ নথির তালিকায় ‘অতি গোপন নথির চার সেট’, ‘গোপন নথির তিনটি সেট’ এবং ‘গোপনীয়’ নথির তিনটি সেট করা হয়েছে।

এফবিআইয়ের উদ্ধার করা জিনিসের মধ্যে ২০টি বাক্স, ফটো বাইন্ডার, ‘ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট’ সম্পর্কে লেখা এবং ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মিত্র রাজনৈতিক পরামর্শদাতা রজার স্টোনের পক্ষে লেখা একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে।

এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক বিবৃতিতে বলেছেন, উদ্ধার হওয়া সব কিছু ‘শ্রেণিবদ্ধ’ এবং ‘নিরাপদে’ সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, এসব জিনিস জব্দ করার কিছু নেই। রাজনৈতিক নাটক না করে, বাসায় না তল্লাশি চালিয়েও এগুলো তারা নিতে পারতেন।

এফবিআই এজেন্টরা গত মঙ্গলবার ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-এ-লাগো এস্টেটে অভিযান চালায়। এরপর ট্রাম্পের অসংখ্য আইনি জটিলতাগুলো আবার লাইমলাইটে চলে আসে।

এফবিআইয়ের দাবি, ২০২১ সালে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় গোপনীয় কিছু তথ্য সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন ট্রাম্প।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এমন ধারণাই এখন স্পষ্ট।

এর আগে ট্রাম্পের ছেলে ডনাল্ড জুনিয়র এবং ইভাঙ্কাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

নানা নাটকীয়তার পর গত বছরের ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা ছাড়েন ট্রাম্প। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি আবার লড়বেন বলে আলোচনা চলছে।

এরই মধ্যে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বাসভবনে এফবিআইয়ের অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় উঠেছে। রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতারা বিচার বিভাগ ও এফবিআইয়ের কঠোর নিন্দা করেছেন।

আরও পড়ুন:
ট্রাম্পকে পুড়িয়ে ছেলেসহ অবকাশে বাইডেন
তদন্তকারীদের কাছে মুখ খোলেননি ট্রাম্প

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Salman Rushdie was stabbed 10 15 times in 20 seconds

সালমান রুশদিকে ২০ সেকেন্ডে ১০-১৫ বার ছুরিকাঘাত

সালমান রুশদিকে ২০ সেকেন্ডে ১০-১৫ বার ছুরিকাঘাত নিউ ইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় হামলা হয় সালমান রুশদির ওপর। ছবি: সংগৃহীত
রাব্বি চার্লস নামের একজন বলেন, ‘প্রথমে বুঝতে পারিনি কী ঘটছে। কয়েক সেকেন্ড পর বিষয়টি বুঝতে পারি। হামলাটি প্রায় ২০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল।

সালমান রুশদিকে ২০ সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ বার আঘাত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। দৃশ্যটা এতটাই নাটকীয় ছিল যে উপস্থিত দুই হাজারের বেশি দর্শক শুরুতে এটিকে ‘স্টান্ট’ ভেবেছিল।

নিউ ইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় হামলার শিকার হন লেখক সালমান রুশদি। তাকে হাসপাতালে নেয়া হলেও অবস্থা সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রাব্বি চার্লস নামের একজন বলেন, ‘প্রথমে বুঝতে পারিনি কী ঘটছে। কয়েক সেকেন্ড পর বিষয়টি বুঝতে পারি। হামলাটি প্রায় ২০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল।’

এপির একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, হামলাকারী রুশদিকে ১০ থেকে ১৫ বার ঘুষি বা ছুরিকাঘাত করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী একজন ক্যাথলিন জোনস। তিনি বলেন, ‘হামলাকারী কালো পোশাকে ছিলেন, মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল। আমরা ভেবেছিলাম সম্ভবত এটি একটি স্টান্টের অংশ। তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিষয়টা স্পষ্ট যায়।’

এপি বলছে, হামলার পর রুশদি তৎক্ষণাৎ মেঝেতে পড়ে যান। তখন হামলাকারী শান্ত হয়। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে লেখককে ঘিরে ফেলেন। অনুষ্ঠানে আনুমানিক আড়াই হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘রুশদিকে মুহূর্তের মধ্যে বেশ কয়েকবার আঘাত করা হয় এবং তিনি তার রক্তের ওপরই লুটিয়ে পড়েন।’

ঘটনার পরই রিটা ল্যান্ডম্যান নামের একজন সহযোগিতার জন্য এগিয়ে গিয়েছিলেন এই বলে যে, তাকে জীবিত মনে হচ্ছে এবং তার সিপিআর প্রয়োজন।

ল্যান্ডম্যান বলেন, ‘লোকজন বলাবলি করছিল, তার এখনও নাড়ির স্পন্দন আছে, নাড়ির স্পন্দন আছে...।’

হামলাটির মুহূর্তে সামনের সারিতেই বসেছিলেন ওহিওর ক্লিভল্যান্ডের বাসিন্দা রজার ওয়ার্নার। তিনি বলেন, ‘তিনি (রুশদি) রক্তে ভেসে যাচ্ছিলেন। আর মেঝেতে রক্তের স্রোতধারা বইছিল।

‘আমি শুধু তার চোখের চারপাশে রক্ত দেখছিলাম, যা তার গাল বেয়ে নেমে যাচ্ছিল।’

নিউ ইয়র্ক স্টেট পুলিশ ছুরিকাঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, রুশদিকে হেলিকপ্টারে কাছের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। হামলাকারী তাদের হেফাজতে আছে।

নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল টুইটে বলেন, ‘আমরা সালমান (রুশদি) এবং তার প্রিয়জনদের পাশে আছি। তদন্তে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
নিউ ইয়র্কে সালমান রুশদির ঘাড়ে ছুরিকাঘাত, হামলাকারী আটক

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Attack on Salman Rushdie in New York

নিউ ইয়র্কে সালমান রুশদির ঘাড়ে ছুরিকাঘাত, হামলাকারী আটক

নিউ ইয়র্কে সালমান রুশদির ঘাড়ে ছুরিকাঘাত, হামলাকারী আটক নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠান মঞ্চে হামলার শিকার হন সালমান রুশদি। ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্ক স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি মঞ্চে ওঠে রুশদি ও একজন সাক্ষাৎকারগ্রহণকারীর ওপর হামলা চালায়। বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, রুশদির ঘাড়ে ছুরিকাঘাতের ক্ষত হয়েছে।

ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক সালমান রুশদির ওপর নিউ ইয়র্কে হামলা হয়েছে। ঘাড়ে জখমসহ ৭৫ বছরের রুশদিকে ভর্তি করা হয়েছে একটি হাসপাতালে। তবে তার অবস্থা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলাকারী এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রুশদির অস্ত্রোপচার চলছিল।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে নিউ ইয়র্কের শাটোকোয়া ইনস্টিটিউশনের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন বুকার পুরস্কার বিজয়ী এই লেখক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এক ব্যক্তি দৌঁড়ে মঞ্চে ওঠেন। রুশদির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সময় তাকে ঘুষি বা ছুরিকাঘাত করতে দেখেছেন তারা।

অনলাইনে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ঘটনার পরপরই মঞ্চে ছুটে আসছেন অংশগ্রহণকারীরা।

নিউ ইয়র্ক স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি মঞ্চে ওঠে রুশদি ও একজন সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর ওপর হামলা চালান।

বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ছুরিকাঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে রুশদির ঘাড়। পরে লেখককে হেলিকপ্টারে করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ডেইলি মিররের খবরে বলা হয়, মঞ্চে ওঠে এক ব্যক্তি রুশদিকে ঘুষি শুরু করলে তিনি মেঝেতে পড়ে যান। এরপর লেখকের প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। মঞ্চ, তার চেয়ার এবং আশপাশ রক্তে ভেসে যায়।

হামলায় সাক্ষাৎকার-গ্রহণকারী হেনরি রিসও মাথায় সামান্য আঘাত পেয়েছেন। রিস একটি অলাভজনক সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা; যা নিপীড়নের হুমকির মধ্যে থাকা নির্বাসিত লেখকদের জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ উপন্যাস দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। শুধু যুক্তরাজ্যেই বইটির ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল।

১৯৮৮ সালে দ্য স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাস লেখার পর থেকে বছরের পর বছর প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছেন এই লেখক।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেস তার রুশদির চতুর্থ উপন্যাস। এই বই লেখার জন্য রুশদিকে ৯ বছর আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।

নিউ ইয়র্কে সালমান রুশদির ঘাড়ে ছুরিকাঘাত, হামলাকারী আটক
রুশদিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ছবি: এএফপি

পরাবাস্তববাদী ও উত্তর-আধুনিক এই উপন্যাসটি কিছু মুসলিমের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল; যারা এর বিষয়বস্তুকে নিন্দাজনক বলে মনে করেন। ইরান ও বাংলাদেশসহ কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশে বইটি নিষিদ্ধও করা হয়েছিল।

বইটি প্রকাশের এক বছর পর, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি রুশদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আহ্বান জানান । তার মাথার জন্য ৩০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন খোমেনি।

তারপরও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন রুশদি। এক পর্যায়ে ইরান সরকার সরে আসে খোমেনির ডিক্রি থেকে।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেস প্রকাশনার পর সহিংসতায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ছিলেন উপন্যাসটির জাপানি ভাষায় অনুবাদকও।

রুশদির ব্রিটিশ এবং আমেরিকান নাগরিকত্ব রয়েছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে একজন সোচ্চার কণ্ঠ তিনি।

নিউ ইয়র্কে সালমান রুশদির ঘাড়ে ছুরিকাঘাত, হামলাকারী আটক
সালমান রুশদি। ছবি: সংগৃহীত

২০০৭ সালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ যখন তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন, তখন ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল ইরান ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের একজন মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী বলেছিলেন, এ সম্মান ‘আত্মঘাতী হামলাকে ন্যায্যতা দেয়।’

এসব হুমকির কারণে রুশদির অনেক অনুষ্ঠান বাতিলও হয়েছে।

সবশেষ পশ্চিম নিউ ইয়র্কের শাটোকোয়া ইনস্টিটিউশনের আয়োজনে তার উপস্থিতি ছিল অলাভজনক একটি সংস্থার আয়োজিত গ্রীষ্মকালীন বক্তৃতা সিরিজে প্রথমবার।

সংস্থাটির অন-সাইট পুলিশ বিভাগের এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, এ ঘটনায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

অনুষ্ঠানস্থলের একজন শিল্পী জানান, সকালে অ্যাম্ফিথিয়েটারে হামলার আগ পর্যন্ত রিহার্সালগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। অনুষ্ঠানটি এখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য

p
উপরে