× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

আন্তর্জাতিক
Russia warns Europe to cut off gas supplies
hear-news
player
print-icon

গ্যাস বন্ধ করতে পারে রাশিয়া, ইউরোপকে সতর্কবার্তা

গ্যাস-বন্ধ-করতে-পারে-রাশিয়া-ইউরোপকে-সতর্কবার্তা
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় জ্বালানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের আগে, ইউরোপ তার প্রাকৃতিক গ্যাসের ৪০ শতাংশ আমদানি করত রাশিয়া থেকে। বর্তমানে তা ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডস রুশ মুদ্রা রুবলে গ্যাসের মূল্য পরিশোধে অস্বীকার করায় সেসব দেশে গ্যাস সরবরাহ স্থগিত করে দিয়েছে রাশিয়া।

ইউক্রেনে চলছে রুশ সামরিক অভিযান। ফলে রাশিয়াকে একের পর এক পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হচ্ছে। ইউরোপের রুশ জ্বালানিনির্ভরতাকে কেন্দ্র করে পাল্টা পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করছে রাশিয়াও।

এবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসছে শীতে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে রাশিয়া, এমন আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করে ইউরোপকে সতর্ক করেছেন ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির প্রধান ফাতিহ বিরল।

তিনি বলেছেন, যদিও সম্পূর্ণ সরবরাহ বন্ধ হয়তো হবে না, তবে এমন পরিস্থিতি চিন্তা করে ইউরোপকে জরুরি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে।

বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউরোপের কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, তারা প্রত্যাশার তুলনায় বেশ কম রুশ গ্যাস পাচ্ছে।

যদিও রুশ কর্মকর্তারা বলছেন, কম গ্যাস সরবরাহ ইচ্ছাকৃত নয়। এ জন্য প্রযুক্তিগত সমস্যা দায়ী।

রুশ এই ব্যাখ্যায় একমত নন ফাতিহ বিরল। তিনি বলছেন, গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয়া রাশিয়ার ‘কৌশলগত কারণে’। রাশিয়া মূলত গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয়ার বিভিন্ন অজুহাত খুঁজে বেড়াচ্ছে এবং সম্ভবত পুরোপুরি বন্ধও করে দেবে।

ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের আগে ইউরোপ তার প্রাকৃতিক গ্যাসের ৪০ শতাংশ আমদানি করত রাশিয়া থেকে। বর্তমানে তা ২০ শতাংশে নেমে এসেছে।

ইউরোপজুড়ে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। শুক্রবার ইতালীয় এনার্জি ফার্ম এনি বলছে যে, রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গ্যাজপ্রম থেকে যে গ্যাস তারা আশা করেছিল তার মাত্র অর্ধেক পেয়েছে।

অন্যদিকে রাশিয়া থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার খবর জানিয়েছে স্লোভাকিয়া ও অস্ট্রিয়া।

ফ্রান্স বলেছে, ১৫ জুন থেকে জার্মানি হয়ে কোনো রুশ গ্যাস তারা পায়নি।

এদিকে পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডস রুশ মুদ্রা রুবলে গ্যাসের মূল্য পরিশোধে অস্বীকার করায় সেসব দেশে গ্যাস সরবরাহ স্থগিত করে দিয়েছে রাশিয়া।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বন্ধু নয় এমন দেশকে রুশ মুদ্রা রুবলেই গ্যাস কিনতে হবে।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির প্রধান ফাতেহ বিরল মনে করেন, চলমান গ্যাস সংকটে চাহিদা কমাতে জরুরি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দিয়েছে, যেমন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহার বাড়ানো এবং সম্ভব হলে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সময়সীমা দীর্ঘায়িত করা।

যদি রাশিয়ান গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, তবে কঠোর ব্যবস্থার প্রয়োজন হতে পারে এবং ইউরোপে পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খলভাবে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে রেশনিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এমনটাই মনে করেন ফাতিহ বিরল।

এদিকে রুশ গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে নেদারল্যান্ডসের জলবায়ু ও জ্বালানিমন্ত্রী রব জেটেন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ক্ষতি বিবেচনায় বিশ্বব্যাপী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছিল। ইউরোপের দেশগুলো এ ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে শুরু থেকেই।

এক অর্থে জার্মানির পর নেদারল্যান্ডসও বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিল।

এর আগে একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার পর জার্মান অর্থমন্ত্রী রবার্ট হ্যাবেক বলেছেন যে বার্লিনকে রুশ গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুন:
যুদ্ধ মহড়ায় রাশিয়ার পরমাণু বাহিনী
চাঁদে ফিরছে রাশিয়া
নেদারল্যান্ডসে রুশ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ
গ্যাস সরবরাহ চুক্তিতে সম্মত রাশিয়া-সার্বিয়া
বাংলাদেশে তেল বিক্রি করতে চায় রাশিয়া: প্রতিমন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Nuclear energy is getting recognition of green energy in Europe

পরমাণু জ্বালানি ‘গ্রিন এনার্জির’ স্বীকৃতি পাচ্ছে ইউরোপে

পরমাণু জ্বালানি ‘গ্রিন এনার্জির’ স্বীকৃতি পাচ্ছে ইউরোপে ফ্রান্সের গ্রাভলিনে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: এএফপি
প্রস্তাবটি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তোলার পর প্রাথমিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের বিরোধিতার মুখে পড়ে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেয়া জার্মানি প্রস্তাবের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নেয়। তবে ফ্রান্সের নেতৃত্বে প্রস্তাবটির পক্ষে রয়েছে ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ।

প্রাকৃতিক গ্যাস এবং পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রকে জলবায়ুবান্ধব বিনিয়োগ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে। প্রস্তাবটি নিয়ে বুধবার ভোটাভুটিতে পক্ষে ২৭৮ ভোট ও বিপক্ষে ৩২৮ ভোট পড়েছে। ৩৩ সদস্য ভোট দেননি।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এই ভোট এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) করা প্রস্তাবটিকে আইনে পরিণত করার পথ খুলে দিয়েছে। এটি এখন ঠেকাতে হলে ইইউর ২৭ সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ২০টি দেশের বিরোধিতা প্রয়োজন, যার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

প্রস্তাবটি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তোলার পর প্রাথমিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের বিরোধিতার মুখে পড়ে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেয়া জার্মানি প্রস্তাবের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নেয়। তবে ফ্রান্সের নেতৃত্বে প্রস্তাবটির পক্ষে রয়েছে ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ।

পরিবেশবাদী কয়েকটি সংস্থা ও ইইউর কয়েকজন নীতিনির্ধারক জীবাশ্ম জ্বালানি (গ্যাস) ও পরমাণু জ্বালানিকে ‘গ্রিন এনার্জি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে হলে অস্ট্রিয়া ও লুক্সেমবার্গ ইইউর বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণাও দিয়েছে।

এর পরও ইইউ পার্লামেন্টের বৃহত্তম আইনপ্রণেতা দল মধ্য-ডানপন্থি ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেয়েছে প্রস্তাবটি। মধ্যপন্থি রিনিউ ইউরোপ গ্রুপও প্রস্তাবের পক্ষে সায় দিয়েছে। মূলত সবুজপন্থি ও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা এর বিরোধিতা করেন।

রাশিয়ার সুবিধা পাওয়ার আশঙ্কা

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। এর পাল্টা পদক্ষেপে প্রাকৃতিক গ্যাস ও পরমাণু জ্বালানিকে ‘পরিবেশবান্ধব’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার উদ্যোগের সমালোচনা করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস।

গ্রিনপিসের ইইউ সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ক্যাম্পেইনার আরিয়াদনা রদ্রিগো বলেন, ‘এটা নোংরা রাজনীতি। গ্যাস ও পরমাণু জ্বালানিকে নিরাপদ ও সবুজায়ন করার মানে হচ্ছে পুতিনের যুদ্ধ তহবিলে আরও টাকা ঢালা। আমরা বিষয়টি নিয়ে আদালতে লড়াই করব।’

এ পরিকল্পনার পেছনে রাশান জ্বালানি কোম্পানি গাজপ্রম ও রজনেফটের লবিং রয়েছে- এমনটা দাবি করেছেন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের ডাচ নীতিনির্ধারক পল টাংখ। এক বিবৃতিতে তিনি এ পদক্ষেপকে প্রাতিষ্ঠানিক ‘গ্রিনওয়াশ’ আখ্যা দেন।

টাংখ বলেন, ‘জলবায়ু নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করার উদ্দেশ্য আছে যে দেশগুলোর, তাদের জন্য একটি নজির স্থাপন করতে এ পরিকল্পনা প্রতিরোধ করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে এ পদক্ষেপের পক্ষেও আছেন অনেকে। রিনিউ গ্রুপ ও ইইউএর ফরাসি নীতিনির্ধারক জাইলস বোয়ের মতে, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি দীর্ঘমেয়াদি একটি সমাধান। এটি দিয়ে এ মুহূর্তের জ্বালানি চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।’

ডানপন্থি ল অ্যান্ড ও জাস্টিস পার্টির (পিআইএস) ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পোলিশ সদস্য বোগদান রিয়োনকা বলেন, ‘কম ধনী ইইউ দেশগুলোর কয়লা নির্ভরশীলতা কমাতে গ্যাস ও পারমাণবিক শক্তিতে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন।’

চেক প্রধানমন্ত্রী পেটর ফিয়ালা বলেছেন, বুধবারের এ ভোট ইউরোপের জন্য ‘চমৎকার খবর’। এক টুইটবার্তায় তিনি লেখেন, ‘এটি জ্বালানি স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথ প্রশস্ত করেছে, যা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

আরও পড়ুন:
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ইঙ্গিত প্রতিমন্ত্রীর
জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে ভারত, পণ্য রপ্তানিতে ধস
বিশ্ববাজারে ৪ মাসে সবচেয়ে কম জ্বালানি তেলের দাম

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Boris Johnson resigned as prime minister in the face of a rebellion

বিদ্রোহের মুখে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়লেন বরিস জনসন

বিদ্রোহের মুখে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়লেন বরিস জনসন ডাউনিং স্ট্রিটে সরকারি বাসভবনের সামনে বরিস জনসন। ছবি: সংগৃহীত
বরিস জনসন বলেন, ‘এটি কনজারভেটিভ এমপিদের ইচ্ছা। তারা একজন নতুন নেতা চাইছেন। ওয়েস্টমিনস্টারও এটি চাইছে। পার্টির নেতৃত্বে থাকার আমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে তারা।’

অবশেষে পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। রাজনৈতিক টানাপড়েনে একের পর এক মন্ত্রীর পদত্যাগ ও এমপিদের সমর্থন হারানোর পর, পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন জনসন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বৃহস্পতিবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন জনসন।

তিনি বলেন, ‘এটি কনজারভেটিভ এমপিদের ইচ্ছা। তারা একজন নতুন নেতা চাইছেন। ওয়েস্টমিনস্টারও এটি চাইছে। পার্টির নেতৃত্বে থাকার আমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে তারা।’

ইতোমধ্যে জনসন একটি নতুন মন্ত্রিসভা নিয়োগ দিয়েছেন। এতে লেভেলিং আপ সেক্রেটারি গ্রেগ ক্লার্ক এবং ল্যাঙ্কাস্টারের ডাচির চ্যান্সেলর কিট মল্টহাউস।

আগামী সপ্তাহে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে বলেও জানিয়েছেন জনসন।

তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য এতদিন অপেক্ষা করেছিলাম কারণ ব্যক্তিগতভাবে আমি ভোটারদের ম্যান্ডেট দিতে আগ্রহী।

‘কনজারভেটিভ পার্টির ১৯২২ কমিটির প্রধান স্যার গ্রাহাম ব্র্যাডির সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে বলেছি, নতুন নেতা খোঁজার প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা উচিত। আগামী সপ্তাহে এ নিয়ে কাজ করার দিন-তারিখ ঠিক করা হবে।’

যেসব মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, সেসব মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দেয়ার কথাও জানিয়েছেন জনসন।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে সেরা কাজটি ছেড়ে দেয়ায় আমি অত্যন্ত দুঃখিত। তবে বিষয়টি মেনে নিয়েছি।’

যৌন অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত এমপি ক্রিস পিঞ্চারকে কদিন আগে সরকারে নিয়োগ দিয়েছিলেন জনসন। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল দেখা দিলে গত সপ্তাহে কনজারভেটিভ পার্টি থেকে এমপিত্ব হারান পিঞ্চার।

প্রধানমন্ত্রী জনসন নিজের ভুলও স্বীকার করেন। জানিয়েছিলেন, পিঞ্চার যে সরকারি চাকরির জন্য যোগ্য নন, তা বুঝতে তার দেরি হয়েছে।

তবে এতেও শেষ রক্ষা হলো না। অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

ওয়েলশ সেক্রেটারি সাইমন হার্ট বুধবার পদত্যাগ করেন। এদিন কেবিনেট সভায় বেশির ভাগ এমপি পদ ছাড়ার জন্য জনসনকে চাপ দেন। পরদিন নর্দান আয়ারল্যান্ডের সেক্রেটারি ব্র্যান্ডন লুইস সাইমনকে অনুসরণ করেন।

শুধু নিজ দলেই নয়, বিরোধী লেবার পার্টির তোপের মুখে ছিলেন ৫৮ বছরের এই ব্রিটিশ রাজনীতিক। লেবার পার্টি সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, জনসন প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকলে তারা পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব তুলবে।

আরও পড়ুন:
করোনা ইস্যুতে দ্বিমত, ব্রিটেনে ব্রেক্সিটমন্ত্রীর পদত্যাগ
ফের কন্যাসন্তানের বাবা বরিস জনসন
বরিস, চার্লস ও বিল গেটসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
করোনার মধ্যে বরিসের ঘরে আসছে দ্বিতীয় সন্তান
দরিদ্র দেশে ১০০ কোটি টিকার অঙ্গীকার জি-সেভেনের: জনসন

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Boris Johnson is stepping down as party president

প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর মুখে বরিস জনসন

প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর মুখে বরিস জনসন ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট থেকে দলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বরিস জনসন। ছবি: সংগৃহীত
এই গ্রীষ্মেই কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত করা হবে এবং অক্টোবরেই দলীয় সম্মেলনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ঠিক করা হবে। এর আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বরিস জনসন।

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক টানাপড়েন একের পর এক মন্ত্রীর পদত্যাগ ও এমপিদের সমর্থন হারানোর পর কনজারভেটিভ পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর পদও হারাতে হবে তাকে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গ্রীষ্মেই কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত করা হবে এবং অক্টোবরেই দলীয় সম্মেলনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ঠিক করা হবে।

এর আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বরিস জনসন।

যদিও এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও পার্টি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে ঋষি সুনাকের স্থলাভিষিক্ত হওয়া সদ্য দায়িত্ব পাওয়া অর্থমন্ত্রী নাদিম জাহাভিসহ তার মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্যরা তাকে পদত্যাগ করে মর্যাদার সঙ্গে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আশা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট থেকে পদত্যাগের বিবৃতি দেবেন।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাজ্যের নরউইচে বাঙালির ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্যোগ
বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করতে চায় যুক্তরাজ্য
ঝড়ে উপড়ে গেল নিউটনের সেই আপেলগাছ
যুক্তরাজ্যে ‘ইউনিসের’ আঘাত, ৩ প্রাণহানি
কয়েক দশকের শক্তিশালী ঝড়ের মুখোমুখি যুক্তরাজ্য

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Even if he is killed is the British Queen above the law?

খুন করলেও কি আইনের ঊর্ধ্বে ব্রিটিশ রানি

খুন করলেও কি আইনের ঊর্ধ্বে ব্রিটিশ রানি ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ছবি: সংগৃহীত
রানি আইন মানতে বাধ্য নন, কারণ তিনিই আইন। অপরাধ তিনি করলেও পুলিশের সাধ্য নেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার। রানির আনুগত্যের শপথ নিয়েই একজন প্রশিক্ষণার্থী ক্যাডেট থেকে পুলিশ হন। রানি শুধু পুলিশকে বলবেন, এখান থেকে চলে যাও। পুলিশকে চলে যেতে হবে।

যুক্তরাজ্য চালায় নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা। এরপরও রাজপরিবার এখনও বহাল তবিয়তেই রয়েছে দেশটিতে। এখনও রানির নিরাপত্তার জন্য রয়েছে কুইন্স গার্ড। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানও রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তার নামেই যুক্তরাজ্যে জারি হয় রাষ্ট্রীয় আদেশ।

যুক্তরাজ্যে আইনের দৃষ্টিতে রানির অবস্থান সব কিছুর ঊর্ধ্বে। এ ক্ষেত্রে তিনি অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করেন। তাকে দেওয়ানি ও ফৌজদারি তদন্তের অধীনে বিচার করা যাবে না, এমনকি কোনো অপরাধেই তাকে আটক করা যাবে না।

গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রেও রানির কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগে না। বাধা লাগে না সিটবেল্ট। ট্রাফিকের গতিসীমাও তাকে মানতে হবে না। যদি তিনি গতিসীমা লঙ্ঘনও করেন, পুলিশের কিছুই করার নেই। কারণ তার বিরুদ্ধে নেয়া যাবে না কোনো আইনানুগ পদক্ষেপ।

দেশের বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ রানি এলিজাবেথের কোনো পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না। কারণ যুক্তরাজ্যে তার নামেই ইস্যু হয় পাসপোর্ট। তাই তার কোনো পাসপোর্টের প্রয়োজন নেই।

রানিকে কোনো ধরনের ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয় না, এমনকি রাজপরিবারের কোনো আয়েও ট্যাক্স দিতে হয় না। তবে রানি অফিশিয়াল কাজে ব্যবহার হয় না এমন সম্পদের ক্ষেত্রে তিনি নিজ ইচ্ছায় ট্যাক্স দেন। যদিও তা দিতে তিনি বাধ্য নন।

কিন্তু যদি তিনি খুনের মতো অপরাধ করেন, তাহলে কী হবে?

ব্রিটিশ হেরিটেজ ট্রাভেল একটি প্রতিবেদন করেছে, যার শিরোনাম ছিল, ‘কী হবে যদি রানি কাউকে খুন করেন?’

যেকোনো খুনের বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব নেন একজন পুলিশ সদস্য। যুক্তরাজ্যে একজন কনস্টেবল হিসেবে দায়িত্ব নিতে গেলে রানির আনুগত্য ও সেবার শপথ নিতে হয়।

এমনকি আদালতের রায় পাঠ করা হয় রানির পক্ষ থেকে।

রানি আইন মানতে বাধ্য নন, কারণ তিনিই আইন। এমন পরিস্থিতিতে কোনো পুলিশের সাধ্য নেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা। তিনি শুধু পুলিশকে বলবেন, এখান থেকে চলে যাও। পুলিশকে চলে যেতে হবে। কোনো কোর্টের মুখোমুখিও তাকে হতে হবে না।

তবে পার্লামেন্ট একটি উদ্যোগ নিতে পারবে, একজন খুনি রানিকে রাজক্ষমতা থেকে অপসারণের জন্য বিল উত্থাপনের মাধ্যমে। তবে এখানেও সমস্যা রয়েছে, কারণ সেই বিল কার্যকর হতেও রানির অনুমোদন লাগবে।

এখন কথা হচ্ছে, রাজপরিবারের সবার ক্ষেত্রেই কী এমনটা প্রযোজ্য। এর উত্তর হল ‘না।’, তবে অবশ্য রানি চাইলে ভিন্ন কথা। কারণ রানির কথাই যুক্তরাজ্যে আইন।

সৌভাগ্যবশত যুক্তরাজ্যের মানুষের সেবার দিকেই রানির মনোযোগ। এমন কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে তার সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

রাজপরিবারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, যদিও আইন মানতে বাধ্য নন রানি। এর পরও তার সব কার্যক্রম যাতে আইনের মধ্যে থাকে, তা নিশ্চিত করতে তিনি সতর্ক থাকেন।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করতে চায় যুক্তরাজ্য
ঝড়ে উপড়ে গেল নিউটনের সেই আপেলগাছ
যুক্তরাজ্যে ‘ইউনিসের’ আঘাত, ৩ প্রাণহানি
কয়েক দশকের শক্তিশালী ঝড়ের মুখোমুখি যুক্তরাজ্য
কেএফসির বক্সে মুরগির অপরিষ্কার মাথা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Germany in time bomb

‘টাইম বোমায়’ জার্মানি

‘টাইম বোমায়’ জার্মানি জার্মানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত
শীতপ্রধান দেশ জার্মানিতে বাসা ও অফিস গরম রাখতে শীতকালে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির রাজনীতিক ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, আসন্ন শীতের মৌসুমের আগে জ্বালানি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

পশ্চিমা হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। ফলে রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিতে থাকে বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ। রাশিয়াও পাল্টা পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইউরোপের রুশ গ্যাসনির্ভরতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এরই মধ্যে পোল্যান্ড, বুলগেরিয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে গ্যাজপ্রম।

প্রযুক্তিগত ত্রুটির দোহাই দিয়ে জার্মানিতেও গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে রুশ কৌশলগত শ্বাসরোধের প্রচেষ্টার কারণে জার্মানিতে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। ফলে বেড়েছে দ্রব্যমূল্যের দাম।

এ ছাড়া শীতপ্রধান দেশ জার্মানিতে শীতকালে প্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় শুধু বাসা ও অফিসগুলো গরম রাখার জন্য হিটার চালাতে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশটির রাজনীতিবিদ ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এরই মধ্যে সতর্ক করে জানিয়েছেন, আসন্ন শীতের মৌসুমের আগে জ্বালানি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

জুলাইয়ের শুরুতে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ পরিস্থিতিকে একটি টাইম বোমার সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, যদি হঠাৎ করে এই শীতে ঘর গরম করার বিল কয়েক শ ইউরো বেড়ে যায়, তবে তা এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে যে সত্যিই অনেক লোক মোকাবেলা করতে পারবে না।

দেশটির অর্থমন্ত্রী রোবার্ট হাবেক এই সংকটকে স্মরণকালের অন্যতম আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘রাশিয়া থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম কাঁচামাল গ্যাস রপ্তানি কমিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ফের সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে তারা।’

বার্লিনে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

তিনি জার্মানদের একসঙ্গে থাকতে অনুরোধ করেছেন এবং ট্রেড ইউনিয়ন, নিয়োগকর্তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও শিক্ষাবিদদের গোলটেবিলে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। সবশেষ ১৯৬০-এর দশকে পশ্চিম জার্মানিতে এমন বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় পরিবেশের জন্য বিপর্যয়কর বন্ধ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে চায় জার্মানি। জার্মান অর্থমন্ত্রী রবার্ট হ্যাবেক বলেছেন যে বার্লিনকে রুশ গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুন:
বাণিজ্য সক্ষমতা: জার্মানির সহায়তা চায় বাংলাদেশ
ওমিক্রনে জার্মানিতে প্রথম মৃত্যু
বিশ্বকাপে সবার আগে জার্মানি
জার্মান পার্লামেন্টে এমপি হলেন দুই ট্রান্সজেন্ডার
নির্বাচনে হারল মেরকেলের দল

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Danger does not seem to be leaving behind

বিপদ যেন পিছুই ছাড়ছে না

বিপদ যেন পিছুই ছাড়ছে না  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ছবি: সংগৃহীত
অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একযোগে দুই মন্ত্রী পদত্যাগে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। দলের অনেক নেতা এখন জনসনকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন।

যুক্তরাজ্যে দুই মন্ত্রীর আকস্মিক পদত্যাগে বিপাকে আছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। কেবিনেট সভায় জনসনকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে চাপ দেয়া হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী জনসন সাফ জানিয়েছেন, আগাম নির্বাচনের কোনো কারণ দেখছেন না তিনি।

অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একযোগে দুই মন্ত্রী পদত্যাগে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব নিয়ে ওঠে প্রশ্ন।

যৌন অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত এমপি ক্রিস পিঞ্চারকে কদিন আগে সরকারে নিয়োগ দেন জনসন। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল দেখা দিলে গত সপ্তাহে কনজারভেটিভ পার্টি থেকে এমপিত্ব হারান পিঞ্চার।

প্রধানমন্ত্রী জনসন নিজের ভুলও স্বীকার করেন। জানিয়েছিলেন, পিঞ্চার যে সরকারি চাকরির জন্য যোগ্য নন, তা বুঝতে তার দেরি হয়েছে। এটা এক রকম স্পষ্ট যে জনসনের ওই সিদ্ধান্তের জেরেই প্রভাবশালী দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন।

পদত্যাগপত্রে সরকার পরিচালনায় জনসনের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এ দুই মন্ত্রী। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেন, ‘দক্ষতা ও গুরুত্বের সঙ্গে সরকার পরিচালিত হবে এমনটাই আশা করে জনগণ।’

কয়েক মাস আগে করোনা বিধিনিষেধ ভেঙে পার্টি করে জরিমানা গুনতে হয়েছিল বরিস জনসনকে।

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ রাজনীতিক সাজিদ জাভিদ জানান, একের পর এক কেলেঙ্কারির ঘটনার পর তার মনে হয় না এই সরকারের সঙ্গে তিনি কাজ অব্যাহত রাখতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘জনগণের পাশাপাশি অনেক এমপি প্রধানমন্ত্রী জনসনের ওপর আস্থা হারিয়েছেন।’

গত মাসে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আস্থা ভোটে পদ ধরে রাখতে পেরেছিলেন। যদিও দলের বড় একটা অংশ ভোট দিয়েছিলেন তার বিরুদ্ধে।

স্বাস্থ্য ও অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের পর বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা কিয়ের স্টার্মার বলেন, ‘এটা এখন পরিষ্কার... সরকার ভেঙে পড়ছে।

আরও পড়ুন:
করোনার মধ্যে বরিসের ঘরে আসছে দ্বিতীয় সন্তান
দরিদ্র দেশে ১০০ কোটি টিকার অঙ্গীকার জি-সেভেনের: জনসন
সীমিত পরিসরে বিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর
আইসোলেশনে বরিস জনসন
ড্যাশবোর্ডের মতো জ্বলজ্বল করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা: জনসন

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Developed countries are also frustrated by the power crisis

বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল উন্নত দেশও

বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল উন্নত দেশও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির জাপান পড়তে যাচ্ছে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিদ্যুত সংকটের মাঝে। ছবি: ব্লুমবার্গ
বিশ্বের বড় অর্থনীতি জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে প্রায় বন্ধের মুখে অর্থনীতির চাকা।

বিশ্বব্যাপী বিদ্যুতের সংকট তীব্র হচ্ছে। এরই মধ্যে বিশ্বের বড় অর্থনীতি জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে প্রায় বন্ধের মুখে অর্থনীতির চাকা।

জাপানে ইয়েনের ভয়াবহ দরপতন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ও টোকিওতে তীব্র তাপদাহের কারণে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি পড়তে যাচ্ছে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ সংকটের মাঝে।

দেশটির চাহিদার ৯০ শতাংশ বিদ্যুতের আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। যার মূল্য পরিশোধ করা হয় ডলারে। বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাঁচামাল জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধে বিপাকে পড়েছে গোটা দেশের অর্থনীতি।

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অন্যতম অর্থনীতির দেশ জার্মানি জড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে।

দেশটির অর্থমন্ত্রী রোবার্ট হাবেক এই সংকটকে স্মরণকালের অন্যতম আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘রাশিয়া থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম কাঁচামাল গ্যাস রপ্তানি কমিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ফের সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে তারা।’ বার্লিনে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার স্মরণকালের সবচেয়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন ও শক্তিবিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস বাউন জনগণকে সাশ্রয়ী ও সংযমী হওয়ার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ‘সিডনি ও নিউ সাউথ ওয়েলসের বাসিন্দাদের প্রতিদিন সন্ধ্যায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ১৬ জুন পর্যন্ত এই বিধি কার্যকর থাকবে।’

এদিকে কাঁচামালের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে বিদ্যুতের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও সংযমী হতে সবার প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন সরকারপ্রধান।

বিশ্বে জ্বালানির ঊর্ধ্বগতিতে জীবিকা-সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে

গত সপ্তাহে ইকুয়েডরের বিক্ষোভকারীরা এই বার্তাটি দেশটির প্রেসিডেন্টকে দিয়েছিলেন যখন তিনি আশ্বাস দেন, গ্যাস এবং ডিজেলের দাম ১০ সেন্ট কমিয়ে দেয়া হবে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, এটা যথেষ্ট নয়।

জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গার প্রতিক্রিয়ায় এই প্রতিশ্রুতি দেন প্রেসিডেন্ট।

ইকুয়েডরের মতোই জ্বালানির লাগামহীন দাম নিয়ে ক্ষোভ ও শঙ্কা ছড়িয়েছে সারা বিশ্বে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম গ্যালন প্রতি বেড়েছে ৫ ডলার। ভোক্তাদের জীবনযাত্রায় বাড়তি এই বোঝা মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দলের ওপর প্রভাব ফেলবে।

কিন্তু অনেক জায়গায় জ্বালানির পেছনে জনগণের খরচ বৃদ্ধির ফলে জনদুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে।

পরিবারগুলো এখন শঙ্কায় রয়েছে, কীভাবে বাতি জ্বালানো নিশ্চিত করা যায়, গাড়িতে গ্যাস ও তেলের ট্যাংক ভর্তি করা যায়, তাদের বাসাবাড়ি গরম রাখা যায় এবং তাদের রান্না করার চুলা সচল রাখা যায়।

ক্রমবর্ধমান পরিবহন খরচ ও ব্যবসা পরিচালন ব্যয় এবং কর্মীদের মজুরি বাড়ানোর দাবির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

পেট্রলচালিত জেনারেটরের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের জ্বালানি না পাওয়ায় নাইজেরিয়ায় অনেক নাপিত চুল কাটতে মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করছেন।

যুক্তরাজ্যে মাঝারি আকারের একটি পরিবার গাড়ির জ্বালানির পেছনে খরচ করতে হচ্ছে ১২৫ ডলার।

হাঙ্গেরিতে বেশির ভাগ জ্বালানির স্টেশনে দিনে ৫০ লিটারের বেশি তেল কিনতে দেয়া হচ্ছে না গাড়িচালকদের।

ঘানায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশে গত মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস এবং রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ।

জ্বালানির দামের উল্লম্ফন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ককে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করছে।

জ্বালানির এমন ঊর্ধ্বগতি সরাসরি প্রভাব ফেলছে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধিতে আর ব্যাংকগুলোকে বাধ্য হয়ে বাড়াতে হচ্ছে সুদের হার।

এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধার মুখে পড়ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের অন্যতম রপ্তানিকারক ইউক্রেনে রুশ হামলা এবং এর পরে পশ্চিমা দেশসহ বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে গ্যাস ও তেলের দাম অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে গেছে।

দুই বছর ধরে চলা কোভিড-১৯ মহামারির ধকল সামলে ওঠার আগেই এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে আবারও চেপে ধরেছে।

আরও পড়ুন:
বাণিজ্য সক্ষমতা: জার্মানির সহায়তা চায় বাংলাদেশ
ওমিক্রনে জার্মানিতে প্রথম মৃত্যু
স্টার্লিং ও কেইন শেষ আটে পৌঁছে দিলেন ইংল্যান্ডকে
নকআউট ‘মহাযুদ্ধ’ জিততে মরিয়া ইংল্যান্ড ও জার্মানি

মন্তব্য

p
উপরে