× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Excluding Gujarat riots and Mughal history in Indian textbooks
google_news print-icon

ভারতে পাঠ্যবই থেকে মোগল ইতিহাস-গুজরাট দাঙ্গা উধাও

পাঠ্যসূচি
মোগল ইতিহাস থাকছে না ভারতের পাঠ্যসূচিতে। ছবি: সংগৃহীত
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, ‘গুজরাট দাঙ্গা দেখায় যে সরকারি যন্ত্রও সাম্প্রদায়িক আবেগের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহারের বিপদ সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করে গুজরাট দাঙ্গা। এটা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য হুমকি। এ ছাড়া ‘কিংস অ্যান্ড ক্রনিকলস: দ্য মুঘল কোর্টস (সি. সিক্সটিন-সেভেন্টিনথ সেঞ্চুরিজ)’ শিরোনামের গোটা অধ্যায়ও দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাসের বই থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

ভারতের পাঠ্যসূচিতে বড় পরিবর্তন এনেছে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং এনসিইআরটি। বই থেকে গুজরাট দাঙ্গার পাশাপাশি মোগল ইতিহাসের অধ্যায় মুছে ফেলা হয়েছে।

করোনা মহামারির পর শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কমাতে এ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের শিক্ষা বোর্ড। তারা বলছে, ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গা, ভারতে মোগল শাসন এবং ১৯৭৫ সালে জারি করা দেশজুড়ে জরুরি অবস্থার মতো কয়েকটি বিষয়বস্তু এনসিইআরটির বই থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

এনসিইআরটি বলছে, “সংশোধনটি ‘বইয়ের বিষয়বস্তুর যৌক্তিকতার’ অংশ। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

“কোভিড-১৯ মহামারির কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর বিষয়বস্তুর চাপ কমানো অপরিহার্য। ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি ২০২০, বিষয়বস্তুর চাপ কমাতে এবং সৃজনশীল মানসিকতার সঙ্গে অভিজ্ঞতামূলক শিক্ষার সুযোগ প্রদানের ওপর জোর দেয়।”

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বইয়ের ‘ভারতীয় রাজনীতিতে সাম্প্রতিক উন্নয়ন’ অধ্যায়ের গুজরাট দাঙ্গার রেফারেন্সটি মুছে ফেলা হয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, ‘গুজরাট দাঙ্গা দেখায় যে সরকারি যন্ত্রও সাম্প্রদায়িক আবেগের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহারের বিপদ সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করে গুজরাট দাঙ্গা। এটা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য হুমকি।’

‘কিংস অ্যান্ড ক্রনিকলস: দ্য মুঘল কোর্টস (সি. সিক্সটিন-সেভেন্টিনথ সেঞ্চুরিজ)’ শিরোনামের গোটা অধ্যায়ও দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাসের বই থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

ভারতে পাঠ্যবই থেকে মোগল ইতিহাস-গুজরাট দাঙ্গা উধাও

ভারত সরকারের হিসাবে গুজরাট দাঙ্গায় অন্তত ১ হাজার ৪৪ জন নিহত, ২২৩ জন নিখোঁজ এবং ২ হাজার ৫০০ মানুষ আহত হন। ছবি: সংগৃহীত

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বই থেকে নকশাল আন্দোলনের ইতিহাসের একটি পৃষ্ঠা এবং ‘জরুরি অবস্থা সম্পর্কিত বিতর্ক’-এর চারটি পৃষ্ঠাও বাদ দেয়া হয়েছে।

দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যসূচি থেকে সরানো অন্যান্য বিষয়বস্তুর মধ্যে আছে শীতল যুদ্ধ এবং ‘বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার আধিপত্য’র কিছু অংশ।

একাদশ শ্রেণির ইতিহাসের পাঠ্যবই থেকে ‘কেন্দ্রীয় ইসলামিক ভূমি’ শিরোনামের একটি অধ্যায় এবং ‘শিল্প বিপ্লব’ নামে আরেকটি অধ্যায় বাদ দেয়া হয়েছে।

সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশনের ২০২২-২৩ পাঠ্যক্রমের দশম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞান বই থেকে ফয়েজের দুটি কবিতার উদ্ধৃতি মুছে ফেলার দুই মাস পর এই সংশোধন এলো।

আরও পড়ুন:
নূপুর শর্মা ইস্যুতে আটক মুসলিমদের মারধর ভারতীয় পুলিশের
সেনা নিয়োগে নতুন নিয়মের প্রতিবাদে উত্তাল ভারত  
সাউথ আফ্রিকা দল থেকে ছিটকে গেলেন মারক্রাম
কে হবেন ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজেপিকে হারাতে জোটবদ্ধ বিরোধীরা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Students police clash in DU campus area even at night

ঢাবি ক্যাম্পাস এলাকায় রাতেও শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ

ঢাবি ক্যাম্পাস এলাকায় রাতেও শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নীলক্ষেত মোড় এলাকায় শিক্ষার্থী-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ছবি: নিউজবাংলা
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম জানিয়েছেন, বুধবার বিকেল থেকে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই গুলিবিদ্ধ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা চলে গেলেও ক্যাম্পাস-সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাতে একাধিক স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে নীলক্ষেত মোড় এলাকায় এবং প্রায় একই সময়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়।

এদিকে বিকেল থেকে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম। তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে অনেকেই গুলিবিদ্ধ।

রাত সাড়ে ৯টার দিকেও নীলক্ষেত মোড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি অংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলে। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। জবাবে শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ মিনার এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। রাত পৌনে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের সামনে সংঘর্ষ শুরু হয়।

বঙ্গবন্ধু টাওয়ার থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও চানখাঁরপুল মোড় পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে।

এ সময় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। জবাবে আন্দোলনকারীরা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলার পর আন্দোলনকারীরা পিছু হটে পুরান ঢাকার দিকে চলে যান।

আরও পড়ুন:
নিহত ওয়াসিমের মায়ের কান্না থামছে না
কুবিতে গায়েবানা জানাজায় ইমামের ‘না’
যৌথ অভিযানে চার ঘণ্টা পর মুক্ত রাবি উপাচার্য
বৃহস্পতিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
চট্টগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ মামলা, আসামি কয়েক হাজার

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Wasims mother is not stopping crying
কোটা সংস্কার আন্দোলন

নিহত ওয়াসিমের মায়ের কান্না থামছে না

নিহত ওয়াসিমের মায়ের কান্না থামছে না কক্সবাজারের চকরিয়ায় গ্রামের বাড়িতে অঝোরে কাঁদছেন ওয়াসিমের মা ও অন্য স্বজনরা। ছবি: নিউজবাংলা
কক্সবাজারের পেকুয়ায় গ্রামের বাড়িতে ওয়াসিমের মা জোসনা বেগম আহাজারি করতে করতে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত রাতিয়া আর পোয়া হইয়েদে; অমা চিন্তা নগরিওন,এক বছর পর চরি গরিলে বেজ্ঞিন ঠিক অইযাইবই। আজিয়া আঁর পোয়ারে মারি ফেলাইয়ে। আঁর পোয়ারে যাঁরা মাইজ্জে ইতারার ফাঁসি চাই।’

লেখাপড়ার পর্ব প্রায় শেষ। এক বছর পরে চাকরি করে পরিবারের হাল ধরার আশ্বাস দিয়েছিলেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় চিরতরে হারিয়ে গেছেন এই টগবগে তরুণ।

নিহত ওয়াসিমের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাঘগুজারা বাজারপাড়া এলাকায়।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে সন্তানকে নিরাপদ স্থানে গিয়ে সাবধানতা অবলম্বনের জন্য বলেছিলেন মা জোসনা। দীর্ঘক্ষণ কথোপকথনে ওয়াসিম তার মাকে আশ্বস্ত করেন- একবছর পরই পড়াশোনার পাট চুকিয়ে চাকরি করবেন। তখন তাকে ঘিরে পরিবারের সব দুশ্চিন্তার অবসান ঘটবে। আর পরদিনই পেলেন সন্তানের মৃত্যুর খবর।

ওয়াসিমের এমন নির্মম মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

নিহত ওয়াসিমের মায়ের কান্না থামছে না
কোটা সংস্কার দাবিতে চট্টগ্রামে চলমান আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন ওয়াসিম। ছবি: নিউজবাংলা

মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত হন ওয়াসিম। তার মরদেহ বুধবার নিজ গ্রামে আনা হয়। পেকুয়া মেহেরনামা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শোকাহত হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

নিহত মোহাম্মদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম সৌদি আরব প্রবাসী। মা জোসনা বেগম গৃহিণী। ওয়াসিম পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়। বড় ভাই আরশেদ আলী সৌদি আরব প্রবাসী। বড় বোন মর্জিনা আকতারের বিয়ে হয়েছে। এক ছোট বোন রুশনি আকতারেরও বিয়ে হয়েছে। সবার ছোট সাবরিনা ইয়াসমিন পড়ছে দশম শ্রেণিতে।

স্বজনরা জানান, মোহাম্মদ ওয়াসিম মেহেরনামা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে এসএসসি, ২০১৯ সালে বাকলিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ২০১৯-২০ সেশনে চট্টগ্রাম কলেজে থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে ভর্তি হয়ে চতুর্থ বর্ষে পড়ছিলেন।

স্থানীয় লোকজন ও সহপাঠিরা জানিয়েছেন, মোহাম্মদ ওয়াসিম ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তার ফেসবুক ঘেঁটেও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়াসিমের বাড়ির উঠানে শোকার্ত মানুষের ভিড়। ওয়াসিমের চাচা রিদুয়ানুল হক আহাজারি করে মাঠিতে গড়াগড়ি খাচ্ছেন। তাকে কয়েকজন সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। পাকা বাড়িটির ভেতরে ওয়াসিমের মা-বোন ও স্বজনদের আহাজারি চলছে।

ওয়াসিমের মা জোসনা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত রাতিয়া আর পোয়া হইয়েদে; অমা চিন্তা নগরিওন,এক বছর পর চরি গরিলে বেজ্ঞিন ঠিক অইযাইবই। আজিয়া আঁর পোয়ারে মারি ফেলাইয়ে। আঁর পোয়ারে যাঁরা মাইজ্জে ইতারার ফাঁসি চাই।’

ওয়াসিমের বোন সাবরিনা ইয়াসমিন মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে প্র্রথমে ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ পান। আহাজারি করে তিনি বলে, ‘আমার ভাই কোনো অপরাধ করেনি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলেছে। তাই বলে এভাবে মেরে ফেলতে হবে? এই দেশে কি কোনো বিচার নেই? আমার ভাইয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল। চাকরি করে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবে বলেছিল। কিন্তু তারা সব শেষ করে দিছে।’

স্থানীয় লোকজন বলেন, ‘ওয়াসিম ছোটবেলা থেকে ডানপিটে ছিলেন। কোনো অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতেন। সবসময় সুন্দর সমাজের স্বপ্ন দেখতেন।’

মোহাম্মদ ওয়াসিমের ফেসবুক আইডি ঘেঁটে দেখা যায়, নিহত হওয়ার ছয় ঘণ্টা আগে তিনি স্ট্যাটাস দেন- ‘চলে আসুন ষোলশহর।’

১৮ ঘণ্টা আগে তিনি লাঠিসোটা হাতে কিছু যুবকের সঙ্গে সেলফি তুলে পোস্ট দেন- ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে আমার প্রাণের সংগঠন। আমি এই পরিচয়ে শহিদ হব।’

এদিকে ওয়াসিম নিহত হওয়ার খবরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদী রহমানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল হয়। ‘ওয়াসিম মরলো কেন, জবাব চাই, জবাব চাই’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’সহ নানা স্লোগানে মিছিলটি পেকুয়া চৌমুহনীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

আরও পড়ুন:
কুবিতে গায়েবানা জানাজায় ইমামের ‘না’
যৌথ অভিযানে চার ঘণ্টা পর মুক্ত রাবি উপাচার্য
বৃহস্পতিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
চট্টগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ মামলা, আসামি কয়েক হাজার
জামালপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, সংঘর্ষে আহত ১২

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The imam does not wear a robe at the funeral

কুবিতে গায়েবানা জানাজায় ইমামের ‘না’

কুবিতে গায়েবানা জানাজায় ইমামের ‘না’ কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে বুধবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গায়েবানা জানাজা পড়েন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম খলিলুর রহমান বলেন, ‘জানাজার ব্যাপারে আমাকে আগে থেকে অবগত করা হয়নি। আছরের নামাজের পর জানানো হয়। আমি নিজের ইচ্ছা থেকে কয়েকবার আপনাদের জন্য দোয়া করেছি। সামনেও করব ইনশাআল্লাহ।’

সারাদেশে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত আন্দোলনকারীদের স্মরণে গায়েবানা জানাজার নামাজ পড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মো. খলিলুর রহমান। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

তবে তাই বলে গায়েবানা জানাজা আটকে থাকেনি। নামাজ পড়িয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ১৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের মাঠে এই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম খলিলুর রহমান বলেন, ‘জানাজার ব্যাপারে আমাকে আগে থেকে অবগত করা হয়নি। আছরের নামাজের পর জানানো হয়। আমি নিজের ইচ্ছা থেকে কয়েকবার আপনাদের জন্য দোয়া করেছি। সামনেও করব ইনশাআল্লাহ।’

আরও পড়ুন:
হল না ছাড়ার ঘোষণা শাবি শিক্ষার্থীদের, হলে হলে তল্লাশি, অস্ত্র উদ্ধার
ঢাবির হলগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দিচ্ছে পুলিশ
ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ পাঁচ দাবিতে উত্তাল রাবি, উপাচার্য অবরুদ্ধ
বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে শিক্ষার্থীরা, উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ
জাবির রেজিস্ট্রার ভবনে উপাচার্য অবরুদ্ধ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
After four hours in the joint operation freed Rabi Vice Chancellor
কোটা সংস্কার আন্দোলন

যৌথ অভিযানে চার ঘণ্টা পর মুক্ত রাবি উপাচার্য

যৌথ অভিযানে চার ঘণ্টা পর মুক্ত রাবি উপাচার্য বুধবার রাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর মুক্ত হন রাবি উপাচার্যসহ অন্য কর্মকর্তারা। ছবি: নিউজবাংলা
রাবি প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিতে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে যৌথভাবে অভিযান শুরু করে পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাব। এ সময় তারা কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে ভিসি ও অন্য কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদেরকে মুক্ত করতে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে তারা কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে কিছুটা সরে গেলে দীর্ঘ চার ঘণ্টা পর উপাচার মুক্ত হন।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের সামনে এই অভিযান শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধার অভিযানে পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাবের সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন। এতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

আন্দোলনকারীরা প্রশাসন ভবনের পেছনে ও বঙ্গবন্ধু হলের দিকে অবস্থান নিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। তবে তারা বেশিক্ষণ অবস্থান নিতে না পেরে সরে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই উপাচার্যকে প্রশাসন ভবন থেকে বের করে নিয়ে আসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

মুক্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার‌ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আমরা অনেক ধৈর্য্য ধরে তাদের সঙ্গে তিনবার বসেছি। তাদের কথা শুনেছি।

‘তারা আমাদের কথা শুরুতে শুনেছিল। এর কিছুক্ষণ পর তারা আমাদের জানালো, বিষয়টি আর আমাদের হাতে নেই, বহিরাগতরা প্রবেশ করেছে। আমার শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে এখানে ছিল না। সবশেষে বহিরাগতরা এখানে রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলা করতে এসেছিল।’

যৌথ অভিযানে চার ঘণ্টা পর মুক্ত রাবি উপাচার্য
অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উপাচার্যকে মুক্ত করতে বুধবার রাতে রাবি ক্যাম্পাসে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাব সদস্য অভিযান চালান। ছবি: নিউজবাংলা

উপাচার্য বলেন, ‘হলে যারা থাকবে বা চলে যাবে আজকের জন্য তাদের সব দায়িত্ব আমরা নিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে অনুপ্রবেশকারীরা প্রবেশ করে আমাদের পানি ও বৈদ্যুতিক লাইন বন্ধ করে দিল। ফলে আমরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার পর আমরা পুলিশ প্রশাসনকে কল করেছি। তারা আমাদের উদ্ধার করেছে। আজকে যারা হলে থাকবে, তাদের নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করব। ক্যাম্পাসের পুরো দায়িত্ব এখন প্রশাসনের হাতে, আমরা তাদের নির্দেশে চলব।’

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আনিসুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নির্দেশনা দেয়ার পর আমরা ক্যাম্পাসে এসে সন্ধ্যা ৭টা থেকে আধ ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার অভিযান চালিয়েছি। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ভবিষ্যতে প্রশাসন সহযোগিতা চাইলে আমরা সাহায্য করব।’

এর আগে বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে রাবি কর্তৃপক্ষ। এরপর শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে হবিবুর রহমান মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। আন্দোলনকারীরা পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লিখিতভাবে পাঁচ দফা দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা দীর্ঘ আলোচনা শেষে বেলা আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানান।

প্রশাসনের সিদ্ধান্তে দাবি পূরণ না হওয়ায় এ সময় উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পড়েন। একপর্যায়ে প্রশাসন ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের জন্য নেয়া খাবারও ছিনিয়ে নেয় আন্দোলনকারীরা। পরে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে শিক্ষার্থীদের দশজন প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনায় বসেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। তবে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনকারীরা প্রশাসন ভবনের ফটক তালা দিয়ে ঘেরাও করে রাখেন। এতে উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ভেতরে আটকা পড়েন। এ সময় আন্দোলনকারীরা প্রশাসন ভবনের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
চট্টগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ মামলা, আসামি কয়েক হাজার
জামালপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, সংঘর্ষে আহত ১২
কোটার আন্দোলনকালে ববি শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ
হল না ছাড়ার ঘোষণা শাবি শিক্ষার্থীদের, হলে হলে তল্লাশি, অস্ত্র উদ্ধার

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Students announced a complete shutdown across the country on Thursday
কোটা সংস্কার আন্দোলন

বৃহস্পতিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

বৃহস্পতিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বুধবার পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস ছোড়ে। ছবি: নিউজবাংলা
শিক্ষার্থীদের ‘শান্তিপূর্ণ’ আন্দোলনে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও সোয়াটের হামলা, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণ এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে নতুন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ‘শান্তিপূর্ণ’ আন্দোলনে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও সোয়াটের হামলা, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণ এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে নতুন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বুধবার রাত ৮টা ৯ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবকু গ্রুপে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ব্যতীত কোনো প্রতিষ্ঠানের দরোজা খুলবে না। অ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সড়কে কোনো গাড়ি চলবে না। সারাদেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাচ্ছি- আগামীকালকের কর্মসূচি সফল করুন।’

হোয়াটসঅ্যাপে আসিফ মাহমুদ আরও লিখেন, ‘আমাদের অভিভাবকদের বলছি- আমরা আপনাদেরই সন্তান। আমাদের পাশে দাঁড়ান, রক্ষা করুন। এই লড়াইটা শুধু ছাত্রদের না, দল-মত নির্বিশেষে এদেশের আপামর জনসাধারণের।’

আরও পড়ুন:
ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ পাঁচ দাবিতে উত্তাল রাবি, উপাচার্য অবরুদ্ধ
বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে শিক্ষার্থীরা, উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ
জাবির রেজিস্ট্রার ভবনে উপাচার্য অবরুদ্ধ
কোটা আন্দোলনের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত: কাদের
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ক্রাইম সিন ফিতা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
12 injured in jamalpur road and railway blockade clash
কোটা সংস্কার আন্দোলন

জামালপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, সংঘর্ষে আহত ১২

জামালপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, সংঘর্ষে আহত ১২ জামালপুরে আন্দোলনরত শিক্ষাথীরা বুধবার রেলপথ অবরোধ করলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ছবি: নিউজবাংলা
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে জামালপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, ট্রেনে হামলা, ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ট্রেনে হামলার ঘটনায় ট্রেন চালক ও শিশুসহ অন্তত ১০ যাত্রী এবং ছাত্রলীগের হামলায় ১০ থেকে ১২ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে জামালপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, ট্রেনে হামলা, ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ট্রেনে হামলার ঘটনায় ট্রেন চালক ও শিশুসহ অন্তত ১০ যাত্রী এবং ছাত্রলীগের হামলায় ১০ থেকে ১২ জন সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে বুধবার সকালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জামালপুর শহরের মির্জা আজম চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে এখানে জড়ো হতে থাকে।

সমবেত শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে এবং ঢাকাসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা এবং প্রাণহানির প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা জামালপুরের সঙ্গে মেলান্দহ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও মাদারগঞ্জ উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে।

এছাড়াও কোটাবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে গায়েবানা জানাজা পড়েন শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা সড়ক অবরোধ তুলে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের শেখেরভিটা রেলক্রসিংয়ে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং রেলপথ অবরোধ করেন। এর কিছু সময় পর ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেন থামানোর জন্য মুহুর্মুহু পাথর নিক্ষেপ করে হামলা চালান আন্দোলনকারীরা। এ সময় ট্রেন চালকসহ অন্তত ১০ জন ট্রেনযাত্রী পাথরের আঘাতে আহত হন।

আধ ঘণ্টা ট্রেনটি আটকে রাখার পর অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।

দুপুরে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের দিকে অগ্রসর হন। কলেজের ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তন্ময়ের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী মিছিলে হামলা করে। এতে ১০ থেকে ১২ জন ছাত্র-ছাত্রী আহত হন। পরে শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া করলে তারা কলেজের প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে অবস্থান নেন।

এদিকে কলেজের বাইরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কলেজের ভেতরে অবরূদ্ধ হয়ে পড়ে। পুলিশ কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়ায় আন্দোলনকারীরা ভেতরে প্রবেশ করতে না পেয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করে। প্রায় দেড় ঘন্টা পর আন্দোলনকারীরা কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করলে ছাত্রলীগ নেতারা বাইরে বেরিয়ে আসেন।

কলেজ ত্যাগ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের পাঁচরাস্তা হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গেইটপাড় এলাকায় গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় তারা প্রধান সড়ক এবং জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ ও জামালপুর-সরিষাবাড়ী রেলক্রসিংয়ে অবস্থান নিয়ে ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এতে বন্ধ থাকে যানবাহন ও ট্রেন চলাচল। গেইটপাড় এলাকায় দেড় ঘন্টা অবস্থান নেয়ার পর বিকেলে আন্দোলনকারীরা কোটা সংস্কারের দাবি জানিয়ে তাদের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন:
কোটার আন্দোলনকালে ববি শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ
হল না ছাড়ার ঘোষণা শাবি শিক্ষার্থীদের, হলে হলে তল্লাশি, অস্ত্র উদ্ধার
ঢাবির হলগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দিচ্ছে পুলিশ
ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ পাঁচ দাবিতে উত্তাল রাবি, উপাচার্য অবরুদ্ধ
বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে শিক্ষার্থীরা, উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Bobby student shot during quota agitation

কোটার আন্দোলনকালে ববি শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ

কোটার আন্দোলনকালে ববি শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ পুলিশের ছোড়া শটগানের গুলি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেদোয়ানের ঘাড়ে বিদ্ধ হয়। ছবি: নিউজবাংলা
নথুল্লাবাদ এলাকায় বুধবার কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ শটগানের গুলি চালায়। এ সময় গুলি এসে লাগে রেদোয়ানের ঘাড়ে। আশপাশের মানুষের সহায়তায় তাকে ইসলামিয়া হাসপাতালে নেয়া হয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেদোয়ান উল ইসলাম। তিনি ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বুধবার বরিশাল শহরের নথুল্লাবাদ এলাকায় কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত হন তিনি।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় কোটা আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালায়। এ সময় পুলিশের ছোড়া শটগানের গুলি এসে লাগে রেদোয়ানের ঘাড়ে। আশপাশের মানুষের সহায়তায় তাকে ইসলামিয়া হাসপাতালে নেয়া হয়।

রেদোয়ানের সহপাঠী বাসুদেব কর্মকার বলেন, ‘আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনে পুলিশ কেন গুলি চালাবে? পুলিশের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছে রেদোয়ান। এমন অন্যায় হামলার আমরা যথাযথ বিচার চাই।

‘হামলা করে আমাদের এই ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।’

আরও পড়ুন:
কোটা আন্দোলনের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত: কাদের
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ক্রাইম সিন ফিতা
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঢাবি, হল ছাড়তে হবে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন
ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে ঢাবির হলগুলোকে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা আন্দোলনকারীদের

মন্তব্য

p
উপরে