× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

আন্তর্জাতিক
World War III is declared Pope
hear-news
player
print-icon

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে: পোপ

তৃতীয়-বিশ্বযুদ্ধ-ঘোষণা-করা-হয়েছে-পোপ
পোপ ফ্রান্সিসের মতে, ‘বিশ্ব’ যুদ্ধে লিপ্ত এবং যার পেছনে রয়েছে অস্ত্র ব্যবসা। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচনা না করলেও সামরিক অভিযান প্রতিরোধে ইউক্রেনীয় সেনাদের বীরত্বের প্রশংসা করে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, আমাদের চোখের সামনে বিশ্বযুদ্ধ, বৈশ্বিক স্বার্থ, অস্ত্র বিক্রি ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যা বীর জনগণকে শহীদ করছে।

ইউক্রেনে চলছে রুশ সামরিক অভিযান। যুদ্ধবিরতির কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না। বরঞ্চ সংঘাতের তীব্রতা বাড়ছে। এদিকে পরাশক্তি চীন-তাইওয়ান দ্বীপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে। তাইওয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণা করলে সামরিক অভিযান শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং।

এমন পরিস্থিতিতে আরটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এরই মধ্যে চলছে, যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট এবং বিশ্বজুড়ে অন্যান্য সংঘাতে কাজ করা ‘উপাদান’ এর প্রমাণ।

জেসুইট মিডিয়া আউটলেটে এক সাক্ষাৎকারে পোপ বলেন, ‘কয়েক বছর আগে আমার মনে হয়েছিল যে আমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের খণ্ড খণ্ড লড়াইয়ের মুখোমুখি হচ্ছি। আজ, আমার জন্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেনের লড়াই যখন আমাদের সংবেদনশীলতাকে আরও বেশি আঘাত করছে, একই সময়ে উত্তর নাইজেরিয়া ও মিয়ানমারের মতো জায়গায়ও যুদ্ধ চলছে এবং কেউ পাত্তা দেয় না।’

পোপ ফ্রান্সিসের মতে, ‘বিশ্ব’ যুদ্ধে লিপ্ত এবং যার পেছনে রয়েছে অস্ত্র ব্যবসা।

তবে পোপ ফ্রান্সিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কঠোর সমালোচনা করা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন।

রাশিয়ার সামরিক অভিযান প্রতিরোধে ইউক্রেনীয় সেনাদের বীরত্বের প্রশংসা করলেও তিনি বলেন, আমাদের চোখের সামনে বিশ্বযুদ্ধ, বৈশ্বিক স্বার্থ, অস্ত্র বিক্রি ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যা বীর জনগণকে শহীদ করছে।

পোপ ফ্রান্সিস আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ইউক্রেনের অনেক পশ্চিমা সমর্থক লড়াইয়ের শুরুর দিকে ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়ে আসা নারী ও শিশুদের জন্য ‘তাদের হৃদয় খুলে’ দেওয়ার পর এখন সেই সমর্থন এরই মধ্যে শীতল হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই নারীদের (শরণার্থীদের) দেখভাল করবে কে? এরই মধ্যে শকুন বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’

পোপ ফ্রান্সিসের বক্তব্যের মতোই ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। তাহলে কি ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ? যুক্তরাজ্যের এক্সপ্রেস ইউকে পত্রিকা বিশ্বযুদ্ধের ট্যাগও চালু করেছে।

কেমব্রিজ ডিকশনারিতে বিশ্বযুদ্ধের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বিশ্বযুদ্ধ সেটাই, যখন অনেক দেশ বিশাল সামরিক বাহিনী নিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

এ ছাড়া কলিন্স ডিকশনারিতেও বিশ্বযুদ্ধের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বিশ্বের সব দেশ যে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে, সেটাই বিশ্বযুদ্ধ।

বিশ্বযুদ্ধ বলতে আমরা বুঝি, যে যুদ্ধে পুরো বিশ্বের সব দেশ কিংবা অধিকাংশ দেশ জড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত এমন বিশ্বযুদ্ধ হয়েছে দুটি। সে ক্ষেত্রে ইউক্রেন ও রাশিয়ার চলমান যুদ্ধকে বিশ্বযুদ্ধ বলার সুযোগ নেই। যদিও দুই দেশের কেউই একে অপরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা করেনি।

তবে এ ক্ষেত্রে ভিন্ন একটি বিষয় রয়েছে। বিশ্বের প্রত্যক্ষ করা দুটি বিশ্বযুদ্ধই হয়েছে ইউরোপে এবং এর শুরুটা হয়েছে দুই দেশের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দের সস্ত্রীক খুনের ঘটনায় অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরি যুদ্ধ শুরু করে, যা পরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রূপ নেয়। ঠিক একই রকম ঘটনা ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর সময়ও। জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণ একসময় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নেয়।

আগের দুটি বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে যুদ্ধে জড়াতে চায়নি। পরিস্থিতি দেশটিকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মেক্সিকোগামী আন্তর্জাতিক জাহাজে জার্মান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়।

ফলে নিরপেক্ষতা থেকে বেরিয়ে এসে ১৯১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রিয়া ও জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। একই ঘটনা ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েও। যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি পার্ল হারবারে জার্মানির মিত্র জাপানের আক্রমণের ফলে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

বর্তমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ক্ষেত্রেও রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এরই মধ্যে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া একে অপরকে গুলি করে, তবে তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। তাই পশ্চিমা সামরিক জোটও রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে যুক্ত হতে চাইছে না।

আর তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণতি যে পারমাণবিক যুদ্ধ, তাও বেশ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ মোটেও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নয়। তবে ইউক্রেনে রুশ হামলা কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু? তা এখনও বলার সময় আসেনি।

আরও পড়ুন:
জেলেনস্কির কন্যা কি পালিয়ে পোল্যান্ডে
ইউক্রেনকে ভারী অস্ত্র দিলে কড়া ব্যবস্থার হুমকি পুতিনের
পুতিনের সুরে সুর মেলালেন মেদভেদেভ
‘ইউক্রেনে ঐতিহাসিক ভুল পুতিনের’
ষষ্ঠ দফায় রাশিয়ার তেলের ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
India loses ৮ 80 million in 6 months

ইন্টারনেট বন্ধে ৬ মাসে ভারতের ক্ষতি ৮ কোটি ডলার

ইন্টারনেট বন্ধে ৬ মাসে ভারতের ক্ষতি ৮ কোটি ডলার প্রতীকী ছবি
প্রতিবেদনে তিন ধরনের শাটডাউন উল্লেখ করা হয়েছে: ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, সোশ্যাল মিডিয়া শাটডাউন এবং গুরুতর কণ্ঠরোধ করা, যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক শুধুমাত্র ভয়েস কল এবং টেক্সট বার্তা প্রেরণ করতে সক্ষম।

বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ইন্টারনেট বন্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ২০২২ সালের প্রথম ৬ মাসে ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। লন্ডনের ওয়েবসাইট ‘টপ টেনভিপিএন’-এর সর্বশেষ রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।

‘টপ টেন ভিপিএন' হলো একটি নেতৃস্থানীয় ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক পর্যালোচনা ওয়েবসাইট। সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের প্রথম ৬ মাসের ক্ষতি পুরো ২০২১ সালের ক্ষতির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

সংস্থাটি ১৬টি দেশজুড়ে প্রধান শাটডাউন তালিকাভুক্ত করেছে, যার ক্ষতির পরিমাণ ১০.৬ বিলিয়ন ডলার।

২০২১ সালে ৫০টি বড় শাটডাউনে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৫.৪৫ বিলিয়ন ডলার। রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২২ সালে ইন্টারনেট শাটডাউনের ক্ষেত্রে ১৬টি দেশের মধ্যে ৬ নম্বর স্থানে আছে। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ভারতে ৫৩৫ ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল সরকারি নির্দেশে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৭৯.৫ মিলিয়ন ডলার।

ইন্টারনেট শাটডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬ কোটি ৯৪ লাখ ৯১ হাজার ৭৫৭ জন।

প্রতিবেদনে তিন ধরনের শাটডাউন উল্লেখ করা হয়েছে: ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, সোশ্যাল মিডিয়া শাটডাউন এবং গুরুতর কণ্ঠরোধ করা, যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক শুধুমাত্র ভয়েস কল এবং টেক্সট বার্তা প্রেরণ করতে সক্ষম।

চলতি বছর সারা বিশ্বে ১০.৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সবচেয়ে বড় অংশ রাশিয়ার, যেখানে ইন্টারনেট বন্ধ করার জন্য ৮.৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সীমিত করার জন্য ভ্লাদিমির পুতিনের দেশে ইন্টারনেট শাটডাউন শুরু হয়।

সুদান, সিরিয়া এবং আলজেরিয়ায় সরকার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় জালিয়াতি বন্ধ করতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়।

২০২২ সালে প্রথম ৬ মাসে ভারত ষষ্ঠ স্থানে থাকলেও, ২০২১-এ তৃতীয়, ২০২০-এ প্রথম এবং ২০১৯-এ তৃতীয় স্থানে ছিল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের ক্ষেত্রে।

ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করার ক্ষেত্রে ভারতের সবচেয়ে খারাপ সময় ছিল ২০২০ সাল। সে বছর ৮ হাজার ৯২৭ ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ ছিল সরকারি নির্দেশে।

ওই বছর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ২.৮ বিলিয়ন ডলার। তখন ১০.৩ মিলিয়ন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিশ্বে তখন ভারত ছিল এক নম্বরে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The BJP chief demanded an apology from Mamata

বিজেপি নেতাকে মমতার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি

বিজেপি নেতাকে মমতার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি
দুদিন আগে দিলীপ ঘোষ একটি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলায় বলেন, বাংলার মেয়ে। গোয়ায় গিয়ে বলেন, গোয়ার মেয়ে। বাবা-মায়ের ঠিকানা নেই নাকি! যেখানে যা ইচ্ছা বলে দেবেন, এটা হয় নাকি?’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করার জন্য বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস।

বৃহস্পতিবার রাজভবনে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের কাছে এই দাবি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক শেষে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার প্রসঙ্গে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে আমরা রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। তিনি এ রাজ্যের সংবিধানিক প্রধান। তাই তার কাছে আমরা দিলীপ ঘোষের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আবেদন জানিয়েছি।’

কাকলি ঘোষ বলেন, ‘শুধু এবার নয়, দিলীপ ঘোষ এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী প্রসঙ্গে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন।’

দুদিন আগে দিলীপ ঘোষ একটি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলায় বলেন, বাংলার মেয়ে। গোয়ায় গিয়ে বলেন, গোয়ার মেয়ে। বাবা-মায়ের ঠিকানা নেই নাকি! যেখানে যা ইচ্ছা বলে দেবেন, এটা হয় নাকি?’

দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার টুইট করে দিলীপের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান।

কাকলী ঘোষ দস্তিদার, কুনাল ঘোষ, ব্রাত্য বসু, শশী পাঁজা, মালা রায়, সাজদা আহমেদ, তাপস রায় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে ছিলেন।

তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র কুনাল ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাজ্যপালের আচরণ দেখে অনেকে তাকে রাজ্য বিজেপির চিফ পেট্রন মনে করেন। কিন্তু এখন রাজ্যপালকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি সবার রাজ্যপাল। কথায় কথায় টুইট করেন। কিন্তু এ প্রসঙ্গে তিনি তার অবস্থান স্পষ্ট করেননি। তবে আমরা আশা করব, তিনি অবশ্যই এ বিষয়ে কোনো না কোনো ব্যবস্থা নেবেন।’

মুখ্যমন্ত্রীকে অশালীন মন্তব্য করার জন্য ইতোমধ্যে বিজেপির দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

আরও পড়ুন:
আরএসএস প্রধানকে মিষ্টি পাঠাতে বলে সমালোচনার মুখে মমতা
মমতার কবিতার বই নিয়ে শ্রীলেখার খোঁচা
পশ্চিমবঙ্গে ৪৬ জেলা চান মমতা
মমতাকে সম্মাননার প্রতিবাদে বাংলা আকাদেমির পুরস্কার ফেরত-ইস্তফা
বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The world will be angry if Russia tries to punish Moscow

রাশিয়াকে শায়েস্তার চেষ্টা হলে গজব পড়বে বিশ্বে: মস্কো

রাশিয়াকে শায়েস্তার চেষ্টা হলে গজব পড়বে বিশ্বে: মস্কো ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেনকে দেয়া পশ্চিমা কামান অবশেষে রাশিয়ার অগ্রসর সেনাদের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

যুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থন দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে রাশিয়া। একজন শীর্ষ রুশ কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘রাশিয়াকে শায়েস্তার চেষ্টা হলে বিশ্বে গজব পড়বে।’

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেনকে দেয়া পশ্চিমা কামান অবশেষে রাশিয়ার অগ্রসর সেনাদের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে, রাশিয়ান বাহিনী বুধবার দোনেৎস্ক অঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালায়। গত সপ্তাহে তীব্র লড়াইয়ের পরে রাশিয়ার বাহিনীর ফের হামলার শঙ্কা রয়েছে।

রাশিয়া ইতোমধ্যে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় লুহানস্ক অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে দাবি করেছে।

সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন তারা দোনবাসের দোনেৎস্ক অঞ্চল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে অগ্রসর হচ্ছে। ঠিক যে কৌশলে লুহানস্ক দখল করেছিল রুশ বাহিনী, ঠিক সে পথেই দোনেৎস্ক অঞ্চল দখল নিতে এগোচ্ছে তারা।

স্লোভিয়ানস্ক, ক্রামতোর্স্ক এবং বাখমুত এখন রাশিয়ার মূল লক্ষ্য। স্লোভিয়ানস্কেই প্রথম আঘাত করবে রাশিয়ান বাহিনী।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্লোভিয়ানস্ক ঘিরেই রাশিয়া-ইউক্রেনের পরবর্তী যুদ্ধ হবে।

এদিকে লুহানস্ক অঞ্চলটির গভর্নর বলেছেন, লুহানস্কের জন্য যুদ্ধ ‘এখনও শেষ হয়নি।’

অঞ্চলটির সামরিক প্রশাসনের প্রধান সের্হি হাইদাই বুধবার বলেছেন, লুহানস্ক অঞ্চলটি পুরোপুরি দখলে নিতে পারেনি রাশিয়া। এলাকার উপকণ্ঠে লড়াই এখনও চলছে।

বৃহস্পতিবার ফেসবুকে তিনি আবার বলেছেন, ‘লুহানস্ক অঞ্চলের জন্য যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি।’

লুহানস্ক অঞ্চলের উপকণ্ঠে লড়াই চলছে। রাশিয়ান বাহিনী লুহানস্কের লিসিচানস্ক এলাকা এবং দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাখমুতের মাঝামাঝিতে যুদ্ধ করছে। তারা এই অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করছে।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি এক ভাষণে পূর্ব ইউক্রেনের বিদ্রোহী অধ্যুষিত দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

এর তিন দিন পর ইউক্রেনে অভিযান চালায় রুশ বাহিনী।

২০১৪ সালের ১১ মে পূর্বাঞ্চলীয় লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চল ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে গণভোটের আয়োজন করে। এতে স্বাধীনতার পক্ষে রায় হলেও তা মেনে নেয়নি ইউক্রেন। এর প্রায় আট বছর পর ২১ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের ওই দুই অঞ্চলকে স্বাধীন দেশের স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। এই আট বছরে ওই অঞ্চলে সংঘাতে মারা পড়েছেন ১৪ হাজারের বেশি মানুষ।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকেই পশ্চিমাদের বাধা উপেক্ষা করে পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে চলছে রুশ সেনাদের সামরিক অভিযান।

বাসিন্দাদের রক্ষা করার জন্যই এমন সামরিক পদক্ষেপ বলে দাবি করে আসছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আসছে।

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এ যুদ্ধ বন্ধ না হলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের খাদ্যসংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন:
তুরস্কে গমবাহী রুশ জাহাজ জব্দ
লিসিচানস্ক দখলের দাবি ইউক্রেন রাশিয়া উভয়েরই
স্নেক আইল্যান্ডে ফসফরাস বোমা রাশিয়ার: ইউক্রেন
ইউক্রেন ক্রিমিয়া আক্রমণ করলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ: মেদভেদেভ
ন্যাটোর কাছে মাসে ৪৮ হাজার কোটি টাকা চান জেলেনস্কি

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Nuclear energy is getting recognition of green energy in Europe

পরমাণু জ্বালানি ‘গ্রিন এনার্জির’ স্বীকৃতি পাচ্ছে ইউরোপে

পরমাণু জ্বালানি ‘গ্রিন এনার্জির’ স্বীকৃতি পাচ্ছে ইউরোপে ফ্রান্সের গ্রাভলিনে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: এএফপি
প্রস্তাবটি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তোলার পর প্রাথমিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের বিরোধিতার মুখে পড়ে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেয়া জার্মানি প্রস্তাবের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নেয়। তবে ফ্রান্সের নেতৃত্বে প্রস্তাবটির পক্ষে রয়েছে ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ।

প্রাকৃতিক গ্যাস এবং পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রকে জলবায়ুবান্ধব বিনিয়োগ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে। প্রস্তাবটি নিয়ে বুধবার ভোটাভুটিতে পক্ষে ২৭৮ ভোট ও বিপক্ষে ৩২৮ ভোট পড়েছে। ৩৩ সদস্য ভোট দেননি।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এই ভোট এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) করা প্রস্তাবটিকে আইনে পরিণত করার পথ খুলে দিয়েছে। এটি এখন ঠেকাতে হলে ইইউর ২৭ সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ২০টি দেশের বিরোধিতা প্রয়োজন, যার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

প্রস্তাবটি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তোলার পর প্রাথমিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের বিরোধিতার মুখে পড়ে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেয়া জার্মানি প্রস্তাবের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নেয়। তবে ফ্রান্সের নেতৃত্বে প্রস্তাবটির পক্ষে রয়েছে ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ।

পরিবেশবাদী কয়েকটি সংস্থা ও ইইউর কয়েকজন নীতিনির্ধারক জীবাশ্ম জ্বালানি (গ্যাস) ও পরমাণু জ্বালানিকে ‘গ্রিন এনার্জি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে হলে অস্ট্রিয়া ও লুক্সেমবার্গ ইইউর বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণাও দিয়েছে।

এর পরও ইইউ পার্লামেন্টের বৃহত্তম আইনপ্রণেতা দল মধ্য-ডানপন্থি ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেয়েছে প্রস্তাবটি। মধ্যপন্থি রিনিউ ইউরোপ গ্রুপও প্রস্তাবের পক্ষে সায় দিয়েছে। মূলত সবুজপন্থি ও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা এর বিরোধিতা করেন।

রাশিয়ার সুবিধা পাওয়ার আশঙ্কা

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। এর পাল্টা পদক্ষেপে প্রাকৃতিক গ্যাস ও পরমাণু জ্বালানিকে ‘পরিবেশবান্ধব’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার উদ্যোগের সমালোচনা করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস।

গ্রিনপিসের ইইউ সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ক্যাম্পেইনার আরিয়াদনা রদ্রিগো বলেন, ‘এটা নোংরা রাজনীতি। গ্যাস ও পরমাণু জ্বালানিকে নিরাপদ ও সবুজায়ন করার মানে হচ্ছে পুতিনের যুদ্ধ তহবিলে আরও টাকা ঢালা। আমরা বিষয়টি নিয়ে আদালতে লড়াই করব।’

এ পরিকল্পনার পেছনে রাশান জ্বালানি কোম্পানি গাজপ্রম ও রজনেফটের লবিং রয়েছে- এমনটা দাবি করেছেন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের ডাচ নীতিনির্ধারক পল টাংখ। এক বিবৃতিতে তিনি এ পদক্ষেপকে প্রাতিষ্ঠানিক ‘গ্রিনওয়াশ’ আখ্যা দেন।

টাংখ বলেন, ‘জলবায়ু নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করার উদ্দেশ্য আছে যে দেশগুলোর, তাদের জন্য একটি নজির স্থাপন করতে এ পরিকল্পনা প্রতিরোধ করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে এ পদক্ষেপের পক্ষেও আছেন অনেকে। রিনিউ গ্রুপ ও ইইউএর ফরাসি নীতিনির্ধারক জাইলস বোয়ের মতে, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি দীর্ঘমেয়াদি একটি সমাধান। এটি দিয়ে এ মুহূর্তের জ্বালানি চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।’

ডানপন্থি ল অ্যান্ড ও জাস্টিস পার্টির (পিআইএস) ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পোলিশ সদস্য বোগদান রিয়োনকা বলেন, ‘কম ধনী ইইউ দেশগুলোর কয়লা নির্ভরশীলতা কমাতে গ্যাস ও পারমাণবিক শক্তিতে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন।’

চেক প্রধানমন্ত্রী পেটর ফিয়ালা বলেছেন, বুধবারের এ ভোট ইউরোপের জন্য ‘চমৎকার খবর’। এক টুইটবার্তায় তিনি লেখেন, ‘এটি জ্বালানি স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথ প্রশস্ত করেছে, যা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

আরও পড়ুন:
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ইঙ্গিত প্রতিমন্ত্রীর
জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে ভারত, পণ্য রপ্তানিতে ধস
বিশ্ববাজারে ৪ মাসে সবচেয়ে কম জ্বালানি তেলের দাম

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Boris Johnson resigned as prime minister in the face of a rebellion

বিদ্রোহের মুখে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়লেন বরিস জনসন

বিদ্রোহের মুখে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়লেন বরিস জনসন ডাউনিং স্ট্রিটে সরকারি বাসভবনের সামনে বরিস জনসন। ছবি: সংগৃহীত
বরিস জনসন বলেন, ‘এটি কনজারভেটিভ এমপিদের ইচ্ছা। তারা একজন নতুন নেতা চাইছেন। ওয়েস্টমিনস্টারও এটি চাইছে। পার্টির নেতৃত্বে থাকার আমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে তারা।’

অবশেষে পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। রাজনৈতিক টানাপড়েনে একের পর এক মন্ত্রীর পদত্যাগ ও এমপিদের সমর্থন হারানোর পর, পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন জনসন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বৃহস্পতিবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন জনসন।

তিনি বলেন, ‘এটি কনজারভেটিভ এমপিদের ইচ্ছা। তারা একজন নতুন নেতা চাইছেন। ওয়েস্টমিনস্টারও এটি চাইছে। পার্টির নেতৃত্বে থাকার আমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে তারা।’

ইতোমধ্যে জনসন একটি নতুন মন্ত্রিসভা নিয়োগ দিয়েছেন। এতে লেভেলিং আপ সেক্রেটারি গ্রেগ ক্লার্ক এবং ল্যাঙ্কাস্টারের ডাচির চ্যান্সেলর কিট মল্টহাউস।

আগামী সপ্তাহে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে বলেও জানিয়েছেন জনসন।

তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য এতদিন অপেক্ষা করেছিলাম কারণ ব্যক্তিগতভাবে আমি ভোটারদের ম্যান্ডেট দিতে আগ্রহী।

‘কনজারভেটিভ পার্টির ১৯২২ কমিটির প্রধান স্যার গ্রাহাম ব্র্যাডির সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে বলেছি, নতুন নেতা খোঁজার প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা উচিত। আগামী সপ্তাহে এ নিয়ে কাজ করার দিন-তারিখ ঠিক করা হবে।’

যেসব মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, সেসব মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দেয়ার কথাও জানিয়েছেন জনসন।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে সেরা কাজটি ছেড়ে দেয়ায় আমি অত্যন্ত দুঃখিত। তবে বিষয়টি মেনে নিয়েছি।’

যৌন অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত এমপি ক্রিস পিঞ্চারকে কদিন আগে সরকারে নিয়োগ দিয়েছিলেন জনসন। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল দেখা দিলে গত সপ্তাহে কনজারভেটিভ পার্টি থেকে এমপিত্ব হারান পিঞ্চার।

প্রধানমন্ত্রী জনসন নিজের ভুলও স্বীকার করেন। জানিয়েছিলেন, পিঞ্চার যে সরকারি চাকরির জন্য যোগ্য নন, তা বুঝতে তার দেরি হয়েছে।

তবে এতেও শেষ রক্ষা হলো না। অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

ওয়েলশ সেক্রেটারি সাইমন হার্ট বুধবার পদত্যাগ করেন। এদিন কেবিনেট সভায় বেশির ভাগ এমপি পদ ছাড়ার জন্য জনসনকে চাপ দেন। পরদিন নর্দান আয়ারল্যান্ডের সেক্রেটারি ব্র্যান্ডন লুইস সাইমনকে অনুসরণ করেন।

শুধু নিজ দলেই নয়, বিরোধী লেবার পার্টির তোপের মুখে ছিলেন ৫৮ বছরের এই ব্রিটিশ রাজনীতিক। লেবার পার্টি সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, জনসন প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকলে তারা পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব তুলবে।

আরও পড়ুন:
করোনা ইস্যুতে দ্বিমত, ব্রিটেনে ব্রেক্সিটমন্ত্রীর পদত্যাগ
ফের কন্যাসন্তানের বাবা বরিস জনসন
বরিস, চার্লস ও বিল গেটসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
করোনার মধ্যে বরিসের ঘরে আসছে দ্বিতীয় সন্তান
দরিদ্র দেশে ১০০ কোটি টিকার অঙ্গীকার জি-সেভেনের: জনসন

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Loadshedding in South Africa for up to six hours a day

লোডশেডিংয়ে নাকাল সাউথ আফ্রিকা

লোডশেডিংয়ে নাকাল সাউথ আফ্রিকা সাউথ আফ্রিকার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী এসকম এবং কয়লাচালিত প্ল্যান্ট। ছবি: সংগৃহীত
গত বছরে দেশটির জাতীয় গ্রিডে চাহিদার চেয়ে ২৫২১ গিগাওয়াট ঘণ্টা কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। আর এ বছরের কেবল জুলাই মাসেই এসকম জাতীয় গ্রিডে ২২৭৬ গিগাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ কম বিদ্যুৎ দিয়েছে। 

সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে সাউথ আফ্রিকা। দিনে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ।

তীব্র শীতের মধ্যে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে নাকাল দেশটির মানুষ। রুম হিটার চালু, রাতের খাবার রান্না এমনকি ফোন চার্জ করতেও সমস্যা হচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি ‘এসকম’ একে বলছে স্টেজ সিক্স লোডশেডিং। বিদ্যুৎ না থাকায় অচল ট্রাফিক সিগনাল লাইট। এতে রাস্তায় তৈরি হচ্ছে যানজট। কর্মক্ষেত্র এবং বাড়িতেও তৈরি হয়েছে দুর্বিষহ অবস্থা।

এমন পরিস্থিতিতে রীতিমতো বিরক্ত সাউথ আফ্রিকার প্রধান শহর জোহানেসবার্গের বাসিন্দা জর্জ ল্যান্ডন। দেশ ছাড়ার ইচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘লন্ডনে আমার একটি চাকরির ইন্টারভিউ রয়েছে। আমি আগামীকাল ফ্লাইট বুক করছি। আমি আমার দেশকে ভালোবাসি, তবে দেশকেও তো আমাদের ভালোবাসতে হবে।’

এসকম-এর দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির জন্য সাউথ আফ্রিকায় দিন দিন বিদ্যুৎ পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে।

গত বছরে দেশটির জাতীয় গ্রিডে চাহিদার চেয়ে ২৫২১ গিগাওয়াট ঘণ্টা কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। আর এ বছরের কেবল জুলাই মাসেই এসকম জাতীয় গ্রিডে ২২৭৬ গিগাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ কম বিদ্যুৎ দিয়েছে।

দিনে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন রাখার ব্যপারে এসকম বলছে, কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে কোনো এলাকা বাছাই করা হচ্ছে না। যে কোনো এলাকায় যে কোনো সময়ে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হতে পারে।

আরও পড়ুন:
বামপন্থিদের কথা শুনলে বিদ্যুতের এই দশা হতো না: সিপিবি
লোডশেডিংয়ে নাজেহাল হাসপাতালের রোগীরা
‘বিদ্যুৎ এলে ২০ মিনিট পর আবার চলে যাচ্ছে’
লোডশেডিংয়ের এলাকাভিত্তিক সূচি তৈরির নির্দেশ
বন্যার মধ্যে লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ দ্বিগুণ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Boris Johnson is stepping down as party president

প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর মুখে বরিস জনসন

প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর মুখে বরিস জনসন ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট থেকে দলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বরিস জনসন। ছবি: সংগৃহীত
এই গ্রীষ্মেই কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত করা হবে এবং অক্টোবরেই দলীয় সম্মেলনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ঠিক করা হবে। এর আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বরিস জনসন।

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক টানাপড়েন একের পর এক মন্ত্রীর পদত্যাগ ও এমপিদের সমর্থন হারানোর পর কনজারভেটিভ পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর পদও হারাতে হবে তাকে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গ্রীষ্মেই কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত করা হবে এবং অক্টোবরেই দলীয় সম্মেলনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ঠিক করা হবে।

এর আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বরিস জনসন।

যদিও এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও পার্টি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে ঋষি সুনাকের স্থলাভিষিক্ত হওয়া সদ্য দায়িত্ব পাওয়া অর্থমন্ত্রী নাদিম জাহাভিসহ তার মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্যরা তাকে পদত্যাগ করে মর্যাদার সঙ্গে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আশা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট থেকে পদত্যাগের বিবৃতি দেবেন।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাজ্যের নরউইচে বাঙালির ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্যোগ
বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করতে চায় যুক্তরাজ্য
ঝড়ে উপড়ে গেল নিউটনের সেই আপেলগাছ
যুক্তরাজ্যে ‘ইউনিসের’ আঘাত, ৩ প্রাণহানি
কয়েক দশকের শক্তিশালী ঝড়ের মুখোমুখি যুক্তরাজ্য

মন্তব্য

p
উপরে