× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

আন্তর্জাতিক
Insanity in Germany on a 9 euro travel package
hear-news
player
print-icon

৯ ইউরোর ভ্রমণ প্যাকেজে জার্মানিতে উন্মাদনা

৯-ইউরোর-ভ্রমণ-প্যাকেজে-জার্মানিতে-উন্মাদনা
কোলনের প্রধান স্টেশনে প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ছবি: সংগৃহীত
ডিবি রেজিও ওয়ার্কস কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান রালফ ড্যামডে বলছেন, ‘আঞ্চলিক ট্রেনগুলোতে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক অনেক বেশি ভিড় হচ্ছে। গোটা দেশেই তৈরি হয়েছে যানজট। প্ল্যাটফর্ম এবং ট্রেনগুলো কানায় কানায় পূর্ণ। ট্রেন থেকে বাড়তি যাত্রীদের নামিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।’

স্মরণকালের ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতিতে ধুঁকছে জার্মানি। চলতি মাসে মুদ্রাস্ফীতির হার ঠেকেছে ৭.৯-এ। এপ্রিলেও মুদ্রাস্ফীতি সাম্প্রতিক সময়ের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল বলে জানাচ্ছে জার্মানির পরিসংখ্যানবিষয়ক সংস্থা-ডিস্ট্যাট৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবশেষ ১৯৭৩-৭৪ সালের ভয়াবহ তেলসংকটের সময়েই কেবল এমন পরিস্থিতি দেখেছেন জার্মানরা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে দারুণ এক পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপের শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জার্মানি। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই তিন মাসের জন্য মাত্র ৯ ইউরোর বিশেষ পরিবহন পাস ছেড়েছে জার্মানির সরকার। এই পাস ব্যবহার করে দেশটির আঞ্চলিক পর্যায়ে ট্রেনসহ সব গণপরিবহনে চড়া যাবে।

শুধু তা-ই নয়, পেট্রোলে লিটারপ্রতি ২৯.৫৫ সেন্ট এবং ডিজেলে ১৪.০৪ সেন্ট মূল্যছাড়ও দিয়েছে দেশটির সরকার।

এই উদ্যোগে দারুণ সারা মিলেছে। ১ জুন থেকেই তিলধারণের জায়গা নেই ট্রেনগুলোতে। সবাই ছুটছেন পছন্দের পর্যটন কেন্দ্রে।

ডিবি রেজিও ওয়ার্কস কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান রালফ ড্যামডে বলছেন, প্রতিদিন অন্তত ৪০০ ট্রেনে প্রচণ্ড ভিড় দেখা যাচ্ছে। জ্বালানির কম মূল্যের সুযোগে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়েও বেরোচ্ছেন অনেকে।

‘আঞ্চলিক ট্রেনগুলোতে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক অনেক বেশি ভিড় হচ্ছে। গোটা দেশেই তৈরি হয়েছে যানজট। প্ল্যাটফর্ম এবং ট্রেনগুলো কানায় কানায় পূর্ণ। ট্রেন থেকে বাড়তি যাত্রীদের নামিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।’

অতিরিক্ত যাত্রীবাহী ট্রেনসহ নানা সমস্যার অন্তত ৭০০ অভিযোগ প্রতিদিন অপারেশন সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে। সপ্তাহান্তে বা আগের ছুটির তুলনায় যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

ড্যামডে বলেন, ‘রেলওয়ের কর্মীদের বিরুদ্ধে শারীরিক আক্রমণ হয়নি, তবে মৌখিক আক্রমণ হচ্ছে।’

যাত্রীদের এমন চাপের কারণে রেলকর্মীদের বাড়তি কাজ করতে হচ্ছে। ড্যামডে বলেন, ‘স্বাভাবিকের তুলনায় এখন যাত্রীদের বেশি সহায়তা প্রয়োজন। এই যেমন, গণপরিবহনে মাস্ক যে এখনও বাধ্যতামূলক, তা অনেকেই জানেন না।’

৯ ইউরোতে মাসিক টিকিটের অফারটি আগস্ট পর্যন্ত চলবে। আঞ্চলিক ট্রেনসহ জার্মানিজুড়ে স্থানীয় পরিবহনে এটি ব্যবহার করা যাবে। তবে আইসিই পরিষেবাগুলোর মতো দূরদূরান্তের যাত্রায় এই টিকিট ব্যবহার করা যাবে না।

যাত্রী সমিতির সংগঠন-প্রো বাহনের এক মুখপাত্র বলেন, ‘পিক টাইমে মূল লাইনগুলো প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকায় অনেক ট্রেন সময়মতো ছাড়তে পারছে না।

‘উত্তর জার্মানির মেট্রোনমের মতো কিছু রেল কোম্পানি সাইকেল পরিবহন বাদ দিয়েছে। কারণ তারা ভিড় সামলাতে পারেনি।’

আরও পড়ুন:
জার্মান পার্লামেন্টে এমপি হলেন দুই ট্রান্সজেন্ডার
নির্বাচনে হারল মেরকেলের দল
সাড়ে ৮ হাজার মানুষকে টিকার বদলে স্যালাইন
বিস্ফোরণ: জার্মানিতে ঘোর বিপদের বার্তা
জার্মানিতে ভারী বর্ষণে ৪৪ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ অর্ধশত

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Putin would not have invaded Ukraine if he were a woman

‘পুতিন নারী হলে ইউক্রেন আক্রমণ করতেন না’

‘পুতিন নারী হলে ইউক্রেন আক্রমণ করতেন না’ পুতিন নারী হলে যুদ্ধ শুরু করতেন না বলে মনে করেন বরিস জনসন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের মতে, ইউক্রেনে আক্রমণ বিষাক্ত পুরুষত্বের একটি নিখুঁত উদাহরণ। তাই তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পদগুলোতে নারীদের যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউক্রেনে চলছে রুশ সামরিক অভিযান। পশ্চিমা বাধা উপেক্ষা করে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পরিকল্পনা বুঝতে ঘাম ঝরাতে হচ্ছে পশ্চিমা গোয়েন্দাদের।

এমন পরিস্থিতিতে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জি-সেভেনের সম্মেলন চলাকালে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দাবি করেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নারী হলে ইউক্রেন আক্রমণ করতেন না।

বরিস বলেন, ‘যদি পুতিন একজন নারী হতেন, স্পষ্টই তিনি তা নন, কিন্তু তিনি যদি হতেন, আমি সত্যিই মনে করি না যে তিনি আক্রমণ ও সহিংসতার জন্য একটি পাগলাটে যুদ্ধ শুরু করতেন।’

তার মতে, ইউক্রেনে আক্রমণ বিষাক্ত পুরুষত্বের একটি নিখুঁত উদাহরণ। তাই তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পদগুলোতে নারীদের যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে ইউক্রেন যুদ্ধের চার মাস হয়ে গেলেও যুদ্ধ সমাপ্তির কোনো লক্ষণ নেই। ন্যাটো বলছে, যুদ্ধ দীর্ঘ হবে।

তবে জি-সেভেনের নেতারা মরিয়া হয়ে চাইছেন ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি, এমনটাই জানিয়েছেন বরিস জনসন। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, সহসা যুদ্ধ অবসানে কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নেই।

তবে জনসনের মতে, পশ্চিমাদের উচিত হবে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে যাওয়া। ফলে পুতিনের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে জেলেনস্কি ভালো অবস্থানে থাকবেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকেই পশ্চিমাদের বাধা উপেক্ষা করে পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে চলছে রুশ সেনাদের সামরিক অভিযান।

দোনবাসের বাসিন্দাদের রক্ষা করার জন্যই এমন সামরিক পদক্ষেপ বলে দাবি করে আসছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আসছে।

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এ যুদ্ধ বন্ধ না হলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের খাদ্যসংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন:
‘দোনেৎস্কে মার খাচ্ছে রুশপন্থিরা’
রুশ হুমকিতে এবার লিথুনিয়া
নোবেল পুরস্কারের পদক বেচে ইউক্রেনীয়দের অর্থ পাঠাচ্ছেন রুশ সাংবাদিক
ছাড়ে সবচেয়ে বেশি রাশিয়ার তেল কিনেছে চীন
রুশ গান নিষিদ্ধ করল ইউক্রেনের পার্লামেন্ট

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Sweden joins NATO in Finland

সুইডেন ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগ দেয়ায় সায় তুর্কিয়ের

সুইডেন ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগ দেয়ায় সায় তুর্কিয়ের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে ন্যাটোতে যোগদানের পথে সুইডেন ও ফিনল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত
ন্যাটোতে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের যোগ দিতে হলে প্রতিটি সদস্য দেশের সমর্থন লাগবে। কোনো একটি ন্যাটোভুক্ত দেশ ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের যোগদানের বিষয়ে ভেটো প্রদান করলেই দেশ দুটির ন্যাটোতে যোগদান স্থগিত হয়ে যাবে। সে কারণে তুর্কিয়ের সমর্থন দুই দেশের জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল।

ন্যাটো সদস্য হওয়ার জন্য সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেবে তুর্কিয়ে। তুর্কিয়ের এ সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের ন্যাটোতে যোগদানের সবচেয়ে বড় বাধার অবসান হলো।

পশ্চিমা এই সামরিক জোটের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৩০। ন্যাটোতে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের যোগ দিতে হলে প্রতিটি দেশের সমর্থন লাগবে। কোনো একটি ন্যাটোভুক্ত দেশ ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের যোগদানের বিষয়ে ভেটো প্রদান করলেই দেশ দুটির ন্যাটোতে যোগদান স্থগিত হয়ে যাবে। সে কারণে তুর্কিয়ের সমর্থন দুই দেশের জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটোপ্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ বলেছেন, সন্দেহভাজন জঙ্গিদের তুরস্কে ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে সুইডেন চেষ্টা বাড়াতে সম্মত হয়েছে এবং সুইডেন ও ফিনল্যান্ড দুই দেশই তুরস্কের ওপর দেয়া অস্ত্র বিক্রির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সম্মত হয়েছে।

ফলে আঙ্কারা সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে ন্যাটোতে যোগদান সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড থেকে যা পাওয়ার ছিল তা তুর্কিয়ে পেয়েছে।

সুইডেন ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগ দেয়ায় সায় তুর্কিয়ের
ন্যাটোর সঙ্গে ফিনল্যান্ডের যৌথ সামরিক মহড়ায় গোলাবর্ষণের দৃশ্য

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নিনিস্তো বলেছেন, তিনটি দেশের যৌথ স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছে, যেখানে একে অপরের নিরাপত্তার হুমকির বিরুদ্ধে পূর্ণ সমর্থন দেবে।

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী ম্যাগদালেনা অ্যান্ডারসন বলেছেন, এটি পশ্চিমা জোট ন্যাটোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছিলেন, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটো সদস্য পদের আবেদনের বিরোধিতা করবে তুর্কিয়ে এবং আঙ্কারাকে তার অবস্থান পরিবর্তন করতে রাজি করাতে যেকোনো চেষ্টা নিষ্ফল হবে।

এরদোগান ফিনল্যান্ড ও সুইডেন সম্পর্কে বলেছিলেন, দুই দেশই তুর্কিয়েতে নিষিদ্ধ কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) ও পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (ডিএইচকেপি/সি) নিরাপদ অতিথিশালা।

তুর্কিয়ে এই দুই সংগঠনকেই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।

সুইডেন ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগ দেয়ায় সায় তুর্কিয়ের
তুর্কিয়ের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান

যদিও ন্যাটোর জেনারেল মিরসিয়া জিওনা আশা প্রকাশ করেছিলেন যে তুরস্ককে এই ইস্যুতে রাজি করানো যাবে।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে দুই নরডিক দেশ ফিনল্যান্ড ও সুইডেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে আসছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর দুই দেশই নিরপেক্ষ ভূমিকা থেকে বেরিয়ে এসে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে দুই দেশকেই সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছিল, ফিনল্যান্ডের এমন পদক্ষেপ রুশ-ফিনিশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি উত্তর ইউরোপের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ফিনল্যান্ডকে নিরপেক্ষ দেশের ভূমিকায় থাকতে বাধ্য করার জন্য রাশিয়া সামরিক প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য বিকল্প উপায়ে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

তবে ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্তের কারণে ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে মস্কো ঠিক কী কী পদক্ষেপ নেবে, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি দেশটির সাম্প্রতিক দেয়া বিবৃতিতে।

এর আগেও ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যদি ফিনল্যান্ড ও সুইডেন ন্যাটোতে যোগ দেয়, তবে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করবে।

রুশ নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ এর আগে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, দুই দেশ যাতে বাস্তবতা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যথায় বাড়ির পাশে পরমাণু অস্ত্র ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বসবাস করতে হবে তাদের।

সুইডেন ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগ দেয়ায় সায় তুর্কিয়ের
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ

এ ছাড়া ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এর আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ন্যাটোর সম্প্রসারণ কীভাবে কার্যকর হয় এবং তা রুশ সীমান্তের কতটা কাছে চলে আসে, তার ওপর সবকিছু নির্ভর করছে।’

ফিনল্যান্ডে এরই মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান রাও নরডিক। যদিও বলা হচ্ছে, দেশটির ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়নি। পাওনা টাকা নিয়ে জটিলতার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাও নরডিক।

তবে ফিনল্যান্ড বলছে, রাশিয়া দেশটির চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। ফলে ফিনল্যান্ড বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ আনতে পারবে। এটি দেশটির জন্য খুব একটা চাপ নয়।

আরও পড়ুন:
ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্ত ফিনল্যান্ডের
ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে গেলে পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি রাশিয়ার
ন্যাটোর মহড়ায় প্রাণ গেল ৪ আমেরিকান সেনার
ন্যাটো-রাশিয়া পারমাণবিক যুদ্ধে প্রথম ঘণ্টায় যা হতে পারে
ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ: রাশিয়া

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
NATO concerned over Moscow Beijing rapprochement

মস্কো-বেইজিং ঘনিষ্ঠতায় উদ্বিগ্ন ন্যাটো

মস্কো-বেইজিং ঘনিষ্ঠতায় উদ্বিগ্ন ন্যাটো ইউক্রেন অভিযানের পর মস্কো-বেইজিং সম্পর্ক উষ্ণ হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘চীনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে না ন্যাটো। তবে ইউক্রেন আগ্রাসনের পর থেকে মস্কো-বেইজিং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আমরা চিন্তিত।’

চীনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে না ন্যাটো। তবে রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির উষ্ণ সম্পর্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোটটি।

ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘চীনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে না ন্যাটো। তবে ইউক্রেন আগ্রাসনের পর থেকে মস্কো-বেইজিং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আমরা চিন্তিত।’

মাদ্রিদে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘আমরা চীনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে গণ্য করি না। চীন শিগিরই বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোতে তাদের সঙ্গে আমাদের কাজ করতে হবে।

‘তবে আমরা হতাশ হয়েছি। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের নিন্দা করতে পারেনি চীন। তারা ন্যাটো, পশ্চিমাদের সম্পর্কে অনেক মিথ্যা আখ্যান ছড়িয়ে দিচ্ছে। বলা হচ্ছে, চীন ও রাশিয়া এখন অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ।’

ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার বিপক্ষে ভোট দেয় চীন। এতে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি বিশ্ব নেতারা।

এমনকি এই ইস্যুতে রাশিয়ার কোনো নিন্দাও জানায়নি। উল্টো জ্বালানি রপ্তানিতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা খাওয়া রাশিয়ার তেল কেনার আভাস দিয়েছে বেইজিং।

আরও পড়ুন:
ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্ত ফিনল্যান্ডের
ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে গেলে পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি রাশিয়ার
ন্যাটোর মহড়ায় প্রাণ গেল ৪ আমেরিকান সেনার
ন্যাটো-রাশিয়া পারমাণবিক যুদ্ধে প্রথম ঘণ্টায় যা হতে পারে
ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ: রাশিয়া

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Russia will not allow Bidens wife and daughter to enter

বাইডেনের স্ত্রী-কন্যাকে ঢুকতে দেবে না রাশিয়া

বাইডেনের স্ত্রী-কন্যাকে ঢুকতে দেবে না রাশিয়া
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকেই পশ্চিমাদের বাধা উপেক্ষা করে পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে চলছে রুশ সেনাদের সামরিক অভিযান।

ইউক্রেনে হামলার প্রতিবাদে রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদেরও একই পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। তবে এবার সেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল রাশিয়া।

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের স্ত্রী জিল বাইডেন ও মেয়েসহ তাদের দেশের ২৫ নাগরিকের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ওই ২৫ জন সে দেশে প্রবেশ করতে পারবেন না। তাদের কোনোভাবেই ঢুকতে দেয়া হবে না।

নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ২৫ জনের তালিকা প্রকাশ প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার রাজনৈতিক ও শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো। ‘স্টপ লিস্টে’ যুক্ত করা হয়েছে তাদের নাম।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকেই পশ্চিমাদের বাধা উপেক্ষা করে পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে চলছে রুশ সেনাদের সামরিক অভিযান।

বাসিন্দাদের রক্ষা করার জন্যই এমন সামরিক পদক্ষেপ বলে দাবি করে আসছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আসছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর এখন পর্যন্ত দেশটির ৮০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশ ছেড়েছে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ।

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এ যুদ্ধ বন্ধ না হলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের খাদ্যসংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন:
শপিংমলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যুদ্ধাপরাধ: জি-সেভেন
রুশ মিসাইলে ইউক্রেনের শপিংমল বিধ্বস্ত, নিহত ১১
আক্রান্ত কিয়েভ, সহায়তা বাড়াচ্ছে ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Russian missile attack on shopping mall is a war crime G Seven

শপিংমলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যুদ্ধাপরাধ: জি-সেভেন

শপিংমলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যুদ্ধাপরাধ: জি-সেভেন জার্মানিতে ২৬-২৮ জুন জি-সেভেন সম্মেলনে অংশ নেন কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারপ্রধানরা। ছবি: দ্য মস্কো টাইমস
ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ন্যক্কারজনক অভিহিত করে নিন্দা জানানোর পাশাপাশি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছান শিল্পোন্নত সাতটি দেশের জোট জি-সেভেন নেতারা।

ইউক্রেনের শপিংমলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে যুদ্ধাপরাধ উল্লেখ করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ আরও কঠিন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিল্পোন্নত সাতটি দেশের জোট জি-সেভেন নেতারা।

জার্মানিতে তিন দিনব্যাপী জি-সেভেন সম্মেলনে অংশ নেন কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারপ্রধানরা।

একে ন্যক্কারজনক অভিহিত করে নিন্দা জানানোর পাশাপাশি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ হামলায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছান তারা।

এক বিবৃতিতে এ হামলাকে ঘৃণিত উল্লেখ করে বলা হয়, ‘ইউক্রেনের নিরাপরাধ নাগরিকের ওপর এমন নির্বিচার হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল।’

নেতারা প্রতিশ্রুতি দেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং দায়ী ব্যক্তিদের ক্রেমেনচুক শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হবে।’

ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রেমেনচুকের একটি শপিংমলে সোমবার ব্যস্ততম সময়ে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হন। আর আহত হন অন্তত অর্ধশতাধিক বেসামরিক মানুষ।

শপিংমলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যুদ্ধাপরাধ: জি-সেভেন

ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রেমেনচুকের একটি শপিংমলে সোমবার ব্যস্ততম সময়ে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হন। ছবি: সংগৃহীত

হামলার হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় পলটাভা অঞ্চলের গভর্নর দিমিত্র লুনিন বলেন, ‘ধ্বংসস্তপের মধ্যে আরও মৃতদেহ আছে কি-না খুঁজে দেখা হচ্ছে।’

এ ছাড়া আহত ৫০ জনের মধ্যে ২১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি ও ২৯ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে, জানান লুনিন। এই ঘটনাকে তিনি বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করেন। কারণ ওই শপিংমলের আশপাশে কিংবা কাছাকাছি এলাকায়ও কোনো সামরিক কর্মকাণ্ড ছিল না।

ক্রেমেনচুকের শপিংমলে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব অ্যান্টনি ব্লিংকেনও। রুশ এই হামলায় পুরো বিশ্ব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলে এক টুইট বার্তায় উল্লেখ করেন তিনি।

একে ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদেমির জেলেনস্কি। তিনি দাবি করেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ওই শপিংমলে অন্তত এক হাজার মানুষ ছিলেন।

আরেকটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লুহানস্কের লিশিচানস্ক শহরে অন্তত ৮ সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর সেরহি গাইডাই। ওই হামলায় আরও ২১ জন আহত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ শহরে ৫ সাধারণ মানুষ নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছেন এমন খবর দিয়েছেন ওই শহরের গভর্নর ওলেহ সিনেহুবয়।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক হামলা শুরু করে রাশিয়া।

আরও পড়ুন:
রুশ মিসাইলে ইউক্রেনের শপিংমল বিধ্বস্ত, নিহত ১১
আক্রান্ত কিয়েভ, সহায়তা বাড়াচ্ছে ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য
‘দোনেৎস্কে মার খাচ্ছে রুশপন্থিরা’
রুশ হুমকিতে এবার লিথুনিয়া
নোবেল পুরস্কারের পদক বেচে ইউক্রেনীয়দের অর্থ পাঠাচ্ছেন রুশ সাংবাদিক

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Russia will supply Belarus with a nuclear capable missile

বেলারুশকে পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র দেবে রাশিয়া

বেলারুশকে পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র দেবে রাশিয়া রাশিয়ার তৈরি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইস্কান্দার-এম। ছবি: সংগৃহীত
সেন্ট পিটার্সবার্গে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি বলেছেন, প্রচলিত এবং পারমাণবিক উভয় সংস্করণেই ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে বেলারুশ। ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের শুরু থেকেই রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বেলারুশ। তাই মিনস্কের আশঙ্কা, পশ্চিমাদের সামরিক রোষানলে পড়তে পারে বেলারুশ।

ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শনিবার জানিয়েছেন, মিত্র দেশ বেলারুশকে পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহ করবে রাশিয়া।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেন্ট পিটার্সবার্গে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি বলেছেন, প্রচলিত এবং পারমাণবিক উভয় সংস্করণেই ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে বেলারুশ।

লুকাশেঙ্কোর পক্ষ থেকে ন্যাটোর হুমকির বিষয়ে পুতিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রুশ প্রেসিডেন্ট বেলারুশের বিমান বাহিনীর এস-২৫ বিমানকে পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম করতে বলেছেন। একই সঙ্গে পাইলটের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ওপরও তিনি জোর দিয়েছেন।

এর আগে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের শুরুর দিকে পশ্চিমাদের উদ্দেশে লুকাশেঙ্কো বলেন, 'আপনারা যদি (পশ্চিমারা) আমাদের সীমান্ত ঘেঁষে পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়াতে পারমাণবিক বোমা রাখেন। তাহলে আমিও পুতিনের কাছে যাব এবং রাশিয়াকে নিঃশর্তভাবে দেয়া পারমাণবিক অস্ত্রগুলো ফেরত চাইব।'

১৯৯৪-১৯৯৬ সালের মধ্যে প্রাক্তন সোভিয়েত রাষ্ট্র বেলারুশ, কাজাখস্তান ও ইউক্রেন নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করে।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের শুরু থেকেই রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বেলারুশ। এমনকি ইউক্রেনের ভূখণ্ডে হামলার ক্ষেত্রেও বেলারুশের ভূমি ব্যবহার করেছে রুশ সেনারা। তাই মিনস্কের আশঙ্কা, পশ্চিমাদের সামরিক রোষানলে পড়তে পারে বেলারুশ।

ইস্কান্দার-এম কী?

ইস্কান্দার-এম হলো রুশ নির্মিত স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যা ৫০০ কিলোমিটার (৩১০ মাইল) দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে পারে।

জেনস ডিফেন্সের তথ্যানুসারে প্রচলিত ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র, ভ্যাকুয়াম বোমা, বাঙ্কার ব্লাস্টার, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস (ইএমপি) ওয়ারহেডের পাশাপাশি এটি পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।

এই ক্ষেপণাস্ত্র ২০০৮ সালে রাশিয়া ও জর্জিয়ার সংঘর্ষের সময় প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়।

আরও পড়ুন:
রাশিয়ায় কেএফসি সত্যিই কি এসএফসি
পাবনায় পালিত হলো রাশিয়া ডে
বাল্টিক সাগরে রুশ মহড়া
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি দেখছে রাশিয়া
যুদ্ধ মহড়ায় রাশিয়ার পরমাণু বাহিনী

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Russia is the first foreign debt defaulter in 100 years

১০০ বছরের মধ্যে প্রথম বৈদেশিক ঋণখেলাপি রাশিয়া

১০০ বছরের মধ্যে প্রথম বৈদেশিক ঋণখেলাপি রাশিয়া এর আগে শেষবার রাশিয়া বৈদেশিক ঋণখেলাপি হয়েছিল ১৯১৮ সালে। ছবি: সংগৃহীত
রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে, রাশিয়ার কাছে অর্থ রয়েছে এবং ঋণ পরিশোধের জন্য দেশটি অর্থ প্রদান করতে ইচ্ছুক। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের অর্থ প্রদান করা অসম্ভব করে তুলেছে। রাশিয়ার বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন ডলার। রুশ অর্থমন্ত্রী এন্তোন সিলুয়ানভ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আর কোনো বৈদেশিক ঋণ নেবে না রাশিয়া। 

ইউক্রেনে চলছে রুশ সামরিক অভিযান। পশ্চিমা বাধা উপেক্ষা করে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোতে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে রাশিয়া।

এমন পরিস্থিতিতে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০০ বছরেরও বেশি সময় পর এই প্রথমবারের মতো বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে দেশটি।

রোববারের মধ্যে রাশিয়ার ১০০ মিলিয়ন ডলার শোধ করার কথা ছিল।

ঋণখেলাপ এড়াতে সংকল্পবদ্ধ ছিল রাশিয়া- এমনটাই জানিয়ে ক্রেমলিন বলছে, ‘এটি রাশিয়ার মর্যাদার ওপর আঘাত।’

রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে, রাশিয়ার কাছে অর্থ রয়েছে এবং ঋণ পরিশোধের জন্য দেশটি অর্থ প্রদান করতে ইচ্ছুক। কিন্তু নিষেধাজ্ঞাগুলো আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের অর্থ প্রদান করা অসম্ভব করে তুলেছে।

রুশ অর্থমন্ত্রী এন্তোন সিলুয়ানভ এই পরিস্থিতিকে একটি প্রহসন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

রাশিয়ার বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন ডলার। এদিকে রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করে দৈনিক ১ বিলিয়ন ডলার আয় করছে।

এমন পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী সিলুয়ানভ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আর কোনো বৈদেশিক ঋণ নেবে না রাশিয়া।

শেষবার রাশিয়া বৈদেশিক ঋণখেলাপি হয়েছিল ১৯১৮ সালে। বলশেভিক বিপ্লবের সময় নতুন কমিউনিস্ট নেতা ভ্লাদিমির লেনিন রুশ সাম্রাজ্যের ঋণ পরিশোধ করতে অস্বীকার করেছিলেন।

১৯৯৮ সালেও দেশটি একবার অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলেও সে সময়ও দেশটির বৈদেশিক ঋণখেলাপ হয়নি।

ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞায় বৈশ্বিক ব্যাংকিং সিস্টেম সুইফট থেকে ছিটকে পড়ে রাশিয়া। সে সময়েই রাশিয়ার ঋণখেলাপি হওয়া অনিবার্য বলে মনে ধরে নেয়া হচ্ছিল।

ইউক্রেন আক্রমণের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক প্রথম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকে রাশিয়া ডিফল্টের একটি অনিবার্য পথে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

রাশিয়া প্রতিদিন ১ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি রপ্তানি করছে এবং ভবিষ্যতে তাদের ঋণ নেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
পাবনায় পালিত হলো রাশিয়া ডে
বাল্টিক সাগরে রুশ মহড়া
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি দেখছে রাশিয়া
যুদ্ধ মহড়ায় রাশিয়ার পরমাণু বাহিনী
চাঁদে ফিরছে রাশিয়া

মন্তব্য

p
উপরে