× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

আন্তর্জাতিক
Erdogan tied the dream of Finland and Sweden
hear-news
player
print-icon

ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের স্বপ্ন পূরণে বাধা এরদোয়ান

ফিনল্যান্ড-ও-সুইডেনের-স্বপ্ন-পূরণে-বাধা--এরদোয়ান
ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোতে যোগদানের বিরোধিতায় এরদোয়ান। ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটো সদস্য পদের আবেদনের বিরোধিতা করবে তুরস্ক। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আঙ্কারাকে তার অবস্থান পরিবর্তন করতে রাজি করাতে যেকোনো চেষ্টা নিষ্ফল হবে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আঙ্কারার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য চাপ দেয়া হবে। ফিনল্যান্ড ও সুইডেনও তুরস্কে প্রতিনিধিদল পাঠাবে।

ইউক্রেনে চলমান রুশ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা শঙ্কায় দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য দুই দেশের যোগদানকে সমর্থন করবে বলে জানিয়েছে।

এবার রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটো সদস্য পদের আবেদনের বিরোধিতা করবে তুরস্ক। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আঙ্কারাকে তার অবস্থান পরিবর্তন করতে রাজি করাতে যেকোনো চেষ্টা নিষ্ফল হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আঙ্কারার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য চাপ দেয়া হবে। এর আগে ন্যাটোর জেনারেল মিরসিয়া জিওনা আশা প্রকাশ করেছিলেন যে তুরস্ককে এই ইস্যুতে রাজি করানো যাবে।

সুইডিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হেলসিংকি ও স্টকহোম থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তুরস্ক সফরে যাবে। যদিও এরদোয়ান প্রেসব্রিফিংয়ে আপস না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এ সপ্তাহেই সুইডেন ও ফিনল্যান্ড রাশিয়ার হুমকি সত্ত্বেও ন্যাটোতে যোগদানের আবেদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও আগে থেকেই এরদোয়ান ফিনল্যান্ড ও সুইডেন সম্পর্কে বলেছেন, দুই দেশই তুরস্কে নিষিদ্ধ কুর্দিস্তান ওয়ার্কাস পার্টি (পিকেকে) ও পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (ডিএইচকেপি/সি) এর নিরাপদ অতিথিশালা।

তুরস্ক এই দুই সংগঠনকেই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।

পশ্চিমা এই সামরিক জোটের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৩০। ন্যাটোতে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের যোগ দিতে হলে প্রতিটি দেশের সমর্থন লাগবে। কোনো একটি ন্যাটোভুক্ত দেশ ফিনল্যান্ডের যোগদানের বিষয়ে ভেটো প্রদান করলেই দেশটির ন্যাটোতে যোগদান স্থগিত হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে এরদোয়ানের এই ঘোষণা দুই দেশের ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়টি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।

ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের স্বপ্ন পূরণে বাধা  এরদোয়ান
ন্যাটোর সঙ্গে ফিনল্যান্ডের যৌথ সামরিক মহড়ায় গোলাবর্ষণের দৃশ্য

তুরস্কের বিরোধিতা সত্ত্বেও ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক। ফিনল্যান্ড ও আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সিদ্ধান্ত আমাদের নিরাপত্তার সক্ষমতা এবং নরডিক দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বৃদ্ধি করবে।’

সানা মারিন আশা করেন যে ফিনিশ পার্লামেন্টে ন্যাটোতে যোগদানের আবেদনের প্রস্তাব পাস হবে।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে দুই নরডিক দেশ ফিনল্যান্ড ও সুইডেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে আসছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর দুই দেশই নিরপেক্ষ ভূমিকা থেকে বেরিয়ে এসে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে দুই দেশকেই সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিনল্যান্ডের এমন পদক্ষেপ রুশ-ফিনিশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি উত্তর ইউরোপের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ফিনল্যান্ডকে নিরপেক্ষ দেশের ভূমিকায় থাকতে বাধ্য করার জন্য রাশিয়া সামরিক প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য বিকল্প উপায়ে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

তবে ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্তের কারণে ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে মস্কো ঠিক কী কী পদক্ষেপ নেবে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি দেশটির সাম্প্রতিক দেয়া বিবৃতিতে। এর আগে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যদি ফিনল্যান্ড ও সুইডেন ন্যাটোতে যোগ দেয়, তবে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করবে।

রুশ নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ এর আগে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, দুই দেশ যাতে বাস্তবতা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যথায় বাড়ির পাশে পরমাণু অস্ত্র ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বসবাস করতে হবে তাদের।

ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের স্বপ্ন পূরণে বাধা  এরদোয়ান
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ

এ ছাড়া ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এর আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ন্যাটোর সম্প্রসারণ কীভাবে কার্যকর হয় এবং তা রুশ সীমান্তের কতটা কাছে চলে আসে, তার ওপর সবকিছু নির্ভর করছে।’

ফিনল্যান্ডে এরই মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান রাও নরডিক। যদিও বলা হচ্ছে, দেশটির ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়নি। পাওনা টাকা নিয়ে জটিলতার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাও নরডিক।

তবে ফিনল্যান্ড বলছে, রাশিয়া দেশটির চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। ফলে ফিনল্যান্ড বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ আনতে পারবে। এটি দেশটির জন্য খুব একটা চাপ নয়।

আরও পড়ুন:
ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্ত ফিনল্যান্ডের
ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে গেলে পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি রাশিয়ার
ন্যাটোর মহড়ায় প্রাণ গেল ৪ আমেরিকান সেনার
ন্যাটো-রাশিয়া পারমাণবিক যুদ্ধে প্রথম ঘণ্টায় যা হতে পারে
ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ: রাশিয়া

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
World War III when Ukraine invaded Crimea Medvedev

ইউক্রেন ক্রিমিয়া আক্রমণ করলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ: মেদভেদেভ

ইউক্রেন ক্রিমিয়া আক্রমণ করলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ: মেদভেদেভ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দিমিত্রি মেদভেদেভ। ছবি: সংগৃহীত
দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, আমাদের জন্য ক্রিমিয়া রাশিয়ার অংশ এবং এটি চিরকাল থাকবে। ক্রিমিয়ার ওপর আক্রমণের যেকোনো প্রচেষ্টা আমাদের জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো। যদি কোনো ন্যাটো সদস্য তা করে, তাহলে এর অর্থ হবে সমগ্র উত্তর আটলান্টিক জোটের সঙ্গে সংঘর্ষ। অর্থাৎ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ পশ্চিমাদের সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেন যদি পূর্ণাঙ্গ ন্যাটো সদস্য হয়ে ক্রিমিয়া আক্রমণ করে, তাহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।

রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্গিমেন্টি আই ফ্যাকটি পত্রিকায় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মেদভেদেভ বলেন, ‘আমাদের জন্য ক্রিমিয়া রাশিয়ার অংশ এবং এটি চিরকাল থাকবে। ক্রিমিয়ার ওপর আক্রমণের যেকোনো প্রচেষ্টা আমাদের জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো। যদি কোনো ন্যাটো সদস্য তা করে, তাহলে এর অর্থ হবে সমগ্র উত্তর আটলান্টিক জোটের সঙ্গে সংঘর্ষ। অর্থাৎ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, যা পুরোপুরি বিপর্যয়।’

২০১৪ সালে ইউক্রেনে এক অভ্যুত্থানে মস্কোপন্থি সরকারের পতন হলে রুশ সেনারা দেশটিতে আক্রমণ করে ক্রিমিয়া দখল করে নেয়। পরে এক গণভোটে ক্রিমিয়ার জনগণ রাশিয়ার সঙ্গে যোগদানের পক্ষে ভোট দেয়। ক্রিমিয়াতে মূলত রুশভাষীদেরই বসবাস।

যদিও ইউক্রেন এই গণভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে এবং ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়া-দখলকৃত অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে।

সম্প্রতি ইউক্রেনীয় সেনাদের ভারী অস্ত্র সরবরাহ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। তবে শর্ত এই যে এসব ভারী অস্ত্র দিয়ে রুশ ভূখণ্ডে আঘাত করা যাবে না। শুধু ইউক্রেনে অনুপ্রবেশ করা রুশ সেনাদের ওপর হামলার ক্ষেত্রে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে।

ইউক্রেন দাবি করে আসছে, ক্রিমিয়া হলো রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চল। রুশ ভূখণ্ডে পশ্চিমা অস্ত্র ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি ক্রিমিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভ, যিনি বর্তমানে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়ে বলেছেন, ‘আমাদের সেই দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বিরোধ এমনকি এর কোনো সম্ভাব্য কারণও নেই, আমরা এমনটা আশাও করি না। ন্যাটোতে যোগ দিয়ে যদি তারা আরও ভালো ও নিরাপদ বোধ করে তবে তারা ন্যাটোতে থাকুক। সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ছাড়াও ন্যাটো আমাদের পাশেই রয়েছে।’

তবে নরডিক দেশগুলোর ন্যাটোতে যোগদানের ফলে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করে এর প্রতিক্রিয়া জানাবে এমনটা জানিয়ে মেদভেদেভ বলেন, দুই ন্যাটো প্রার্থী দেশের নাগরিকদের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্রধারী যুদ্ধজাহাজের দোরগোড়ায় বসবাস করা রোমাঞ্চিত হওয়ার মতো কিছু নয়।

এ ছাড়া মেদভেদেভের মতে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের সামরিক গঠনে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হবে, যা দুই দেশই নিজেদের বেসামরিক প্রকল্পে ব্যয় করতে পারত।

ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের কারণেই সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুরুতে তুরস্ক দুই দেশের ন্যাটোতে যোগদানের বিরোধিতা করলেও পরে তার অবস্থান থেকে সরে আসে।

এদিকে ন্যাটো সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, এবারের সংঘাত শেষ হলে আমাদের অবশ্যই পশ্চিমা নিরাপত্তাবলয়ে একটি স্থান দিতে হবে। আমাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দরকার এবং আপনাদের অবশ্যই ইউক্রেনের জন্য একটি সাধারণ নিরাপত্তার জায়গা খুঁজে বের করতে হবে।

আরও পড়ুন:
রুশ মিসাইলে ইউক্রেনের শপিংমল বিধ্বস্ত, নিহত ১১
আক্রান্ত কিয়েভ, সহায়তা বাড়াচ্ছে ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য
‘দোনেৎস্কে মার খাচ্ছে রুশপন্থিরা’
রুশ হুমকিতে এবার লিথুনিয়া
নোবেল পুরস্কারের পদক বেচে ইউক্রেনীয়দের অর্থ পাঠাচ্ছেন রুশ সাংবাদিক

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Zelensky wants 48000 crore rupees a month from NATO

ন্যাটোর কাছে মাসে ৪৮ হাজার কোটি টাকা চান জেলেনস্কি

ন্যাটোর কাছে মাসে ৪৮ হাজার কোটি টাকা চান জেলেনস্কি ভিডিওলিংকের মাধ্যমে ন্যাটো কনফারেন্সে ভাষণ দিচ্ছেন জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি মনে করেন, পশ্চিমাদের উচিত ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিজয়ী হতে সর্বাত্মক সহায়তা করা, কারণ কিয়েভ পরাজিত হলে রাশিয়া ও পশ্চিমা শক্তির সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠবে।

ইউক্রেনে চলছে রুশ সামরিক অভিযান। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে চলমান লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো ব্লককে তার দেশের প্রতি সহযোগিতা ও সমর্থন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার মাদ্রিদে ন্যাটো সম্মেলনে ভিডিওলিংকের মাধ্যমে ভাষণ দেয়ার সময় জেলেনস্কি এই মন্তব্য করেছেন।

তিনি আরও বলেন, কিয়েভ পরাজিত হলে পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ হবে। আপনারা হয় ইউক্রেনের জয়ের জন্য যথেষ্ট সাহায্য করুন, নতুবা রাশিয়া ও আপনাদের (পশ্চিমা) মধ্যে যুদ্ধ হবে।

ইউক্রেনের সরাসরি সামরিক ও আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেছেন, কিয়েভের বাজেট ঘাটতি মেটাতে মাসে ৫ বিলিয়ন ডলার (৪৮ হাজার কোটি টাকা) প্রয়োজন।

জেলেনস্কির মতে, সামরিক সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেনকে যুদ্ধের ময়দানে বিজয়ের মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সাহায্য করতে এবং রুশ কর্মকাণ্ডের সত্যিকার জোরালো জবাব দিতে সমগ্র ইউরো-আটলান্টিক সম্প্রদায়ের জন্য প্রয়োজন।

এবারে ন্যাটো সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, এবারের সংঘাত শেষ হলে আমাদের অবশ্যই পশ্চিমা নিরাপত্তাবলয়ে একটি স্থান দিতে হবে। আমাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দরকার এবং আপনাদের অবশ্যই ইউক্রেনের জন্য একটি সাধারণ নিরাপত্তার জায়গা খুঁজে বের করতে হবে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকেই পশ্চিমাদের বাধা উপেক্ষা করে পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে চলছে রুশ সেনাদের সামরিক অভিযান।

দোনবাসের বাসিন্দাদের রক্ষা করার জন্যই এমন সামরিক পদক্ষেপ বলে দাবি করে আসছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আসছে।

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এ যুদ্ধ বন্ধ না হলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের খাদ্যসংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন:
আক্রান্ত কিয়েভ, সহায়তা বাড়াচ্ছে ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য
‘দোনেৎস্কে মার খাচ্ছে রুশপন্থিরা’
রুশ হুমকিতে এবার লিথুনিয়া
নোবেল পুরস্কারের পদক বেচে ইউক্রেনীয়দের অর্থ পাঠাচ্ছেন রুশ সাংবাদিক
ছাড়ে সবচেয়ে বেশি রাশিয়ার তেল কিনেছে চীন

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
France got female speaker

নারী স্পিকার পেল ফ্রান্স

নারী স্পিকার পেল ফ্রান্স ইয়ায়েলই হলেন ফ্রান্সের প্রথম নারী স্পিকার। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সের পার্লামেন্ট ইয়ায়েল ব্রাউন-পিভেটকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করেছে। তিনি হতে যাচ্ছেন দেশটির নিম্নকক্ষের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম নারী। এর আগে গত মাসে একজন নারী প্রধানমন্ত্রীও পেয়েছে দেশটি।

ফ্রান্সের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর মধ্যপন্থী জোটের ইয়ায়েল ব্রাউন-পিভেটকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করেছে।

দ্য ন্যাশনাল নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়ায়েলই হতে যাচ্ছেন দেশটির নিম্নকক্ষের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম নারী। তিনি গর্ভপাতের অধিকারের একজন সমর্থক।

ইমানুয়েল মাখোঁর দল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর এবং ফরাসি রাজনীতির অতি-ডান ও বাম শিবির শক্তিশালী হওয়ার পর জাতীয় পরিষদে এই প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হলো।

এর আগে নির্বাচনে পার্লামেন্টে ৫৭৭টি আসনের মধ্যে ইমানুয়েলের দল জয় পেয়েছে ২৪৫টিতে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের দরকার ছিল ২৮৯টি আসন।

এখনও মাখোঁর দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে অ্যাসেম্বলিতে। তবে নতুন কোনো আইন পাস করার জন্য এই সংখ্যাগরিষ্ঠতাও যথেষ্ট নয়।

ইয়ায়েল ব্রাউন-পিভেট একজন প্রাক্তন সমাজতন্ত্রী। ২০১৬ সালে তিনি মাখোঁর পার্টিতে যোগ দেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনাপ্রবাহের দিকে আলোকপাত করে ইয়ায়েল ব্রাউন-পিভেট ফ্রান্সের গর্ভপাত অধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন এবং চেম্বারকে আইন রক্ষার বিষয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে গত মাসে ফ্রান্সের শ্রমমন্ত্রী এলিজাবেথ বর্নিকে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।

এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে ৩০ বছরের বেশি সময় পর দেশটিতে একজন নারী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

৬১ বছর বয়সী এই নারী রাজনীতিক বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ ক্যাসটেক্সের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

দেশটিতে সবশেষ নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেন ইডিথ ক্রেসন। তিনি ১৯৯১ সালের মে মাস থেকে ১৯৯২-এর এপ্রিল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন:
৩০ বছর পর নারী প্রধানমন্ত্রী পেল ফ্রান্স
ফ্রান্সের নির্বাচন ও ভবিতব্যের ম্লান আলো
ম্যাখোঁবিরোধী বিক্ষোভে গুলি, নিহত ২
মাখোঁর জয়ে উচ্ছ্বসিত ইইউ, ধাক্কা খেলেন পুতিন
আবারও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Paris attacks 20 people sentenced to different terms

প্যারিস হামলা: ২০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

প্যারিস হামলা: ২০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ফ্রান্সের প্যারিসে ২০১৫ সালের হামলার পর ব্যাতাক্লান কনসার্ট হলের পাশে পুলিশ সদস্য ও উদ্ধারকারীরা। ছবি: এএফপি
প্যারিসে বন্দুক ও বোমা হামলায় ১৩০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সালাহ আবদেসলামকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, যা ফ্রান্সে বিরল। এ মামলায় আরও ১৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ২০১৫ সালের সিরিজ হামলার ঘটনায় সন্ত্রাস ও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন হামলাকারীদের মধ্যে বেঁচে থাকা একমাত্র ব্যক্তি।

বন্দুক ও বোমা হামলায় ১৩০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সালাহ আবদেসলামকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, যা ফ্রান্সে বিরল।

এ মামলায় আরও ১৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, আধুনিক ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ বিচারকাজ শুরু হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে।

প্যারিস হামলা: ২০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সে সবচেয়ে ন্যক্কারজনক হামলা মামলার শুনানিতে অংশ নিতে ৯ মাসের বেশি সময় প্যারিসের বিশেষ আদালতে হাজির হন ভুক্তভোগী, সাংবাদিক ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা।

২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর কয়েকটি বার, রেস্তোরাঁ, জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়াম ও ব্যাতাক্লানের সংগীতানুষ্ঠানে হামলায় কয়েক শ মানুষ আহত হন।

হামলা মামলার বিচারের শুরুতে আবদেসলাম নিজেকে তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ‘সেনা’ হিসেবে দাবি করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি হতাহতদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, তিনি খুনি নন। তাকে খুনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হবে অন্যায়।

আবদেসলাম আদালতকে আরও বলেন, হামলার দিন বিস্ফোরকযুক্ত জামা বা সুইসাইড ভেস্টে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল না তার। প্যারিসের উপকণ্ঠে সুইসাইড ভেস্ট খুলে ফেলেছিলেন তিনি।

ওই সুইসাইড ভেস্ট ক্রুটিপূর্ণ থাকার বিষয়টি গ্রহণ করেছে আদালত, তবে আবদেসলাম শেষ মুহূর্তে তার মানসিকতা পরিবর্তন করেছেন, এমন দাবি নাকচ করেছেন বিচারকরা।

আবদেসলামের আমৃত্যু কারাদণ্ডের অর্থ হলো ৩০ বছর কারাবাসের পর প্যারোলে তার মুক্তি পাওয়ার সুযোগ খুবই কম।

ফ্রান্সে অপরাধীদের কঠোরতম সাজা হলো আমৃত্যু কারাদণ্ড। দেশটির আদালতে এ ধরনের সাজা দেয়ার ঘটনা বিরল।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এডিথ সিউরাত বিবিসিকে বলেন, এ দণ্ডে বেদনা উপশম করেনি। তিনি সন্তুষ্ট নন।

ওই নারী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ক্ষত ও মানসিক যন্ত্রণা, দুঃস্বপ্ন ও আঘাত বয়ে বেড়াচ্ছি। এখনও আমাদের এটা নিয়েই বাঁচতে হচ্ছে।’

বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

প্যারিসে সিরিজ হামলায় ২০ জনকে দুই বছর থেকে শুরু করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

হামলায় জড়িতদের মধ্যে ৩৭ বছর বয়সী মোহামেদ আবরিনিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তাকে কমপক্ষে ২২ বছর কারাগারে কাটাতে হবে।

হামলাকারীদের কয়েকজনকে প্যারিসে গাড়ি চালিয়ে আনার কথা স্বীকার করেন আবরিনি।

ফ্রান্সে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিতদের সাধারণত ১৮ থেকে ২২ বছর কারাবন্দি থাকতে হয়। ক্ষেত্রবিশেষে সেটা ৩০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। এরপর আসামি প্যারোলের জন্য বিবেচিত হন।

হামলার সমন্বয়কারী মরক্কো বংশোদ্ভূত বেলজিয়ামের নাগরিক মোহামেদ বাক্কালিকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তিনি বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে বাসা ভাড়া দিয়েছিলেন হামলাকারীদের।

সুইডেনের নাগরিক ওসামা ক্রায়েম ও তিউনিসিয়ার নাগরিক সোফিয়েন আয়ারিকে ৩০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তারা পরস্পর যোগসাজশে আমস্টারডাম বিমানবন্দরে আলাদা হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন।

মোহাম্মদ উসমান ও আদেল হাদ্দাদিকে ১৮ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত অন্য ছয়জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ফ্রান্সের নির্বাচন ও ভবিতব্যের ম্লান আলো
ম্যাখোঁবিরোধী বিক্ষোভে গুলি, নিহত ২
মাখোঁর জয়ে উচ্ছ্বসিত ইইউ, ধাক্কা খেলেন পুতিন
আবারও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁ
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: বড় চ্যালেঞ্জে মাখোঁ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Putin would not have invaded Ukraine if he were a woman

‘পুতিন নারী হলে ইউক্রেন আক্রমণ করতেন না’

‘পুতিন নারী হলে ইউক্রেন আক্রমণ করতেন না’ পুতিন নারী হলে যুদ্ধ শুরু করতেন না বলে মনে করেন বরিস জনসন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের মতে, ইউক্রেনে আক্রমণ বিষাক্ত পুরুষত্বের একটি নিখুঁত উদাহরণ। তাই তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পদগুলোতে নারীদের যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউক্রেনে চলছে রুশ সামরিক অভিযান। পশ্চিমা বাধা উপেক্ষা করে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পরিকল্পনা বুঝতে ঘাম ঝরাতে হচ্ছে পশ্চিমা গোয়েন্দাদের।

এমন পরিস্থিতিতে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জি-সেভেনের সম্মেলন চলাকালে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দাবি করেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নারী হলে ইউক্রেন আক্রমণ করতেন না।

বরিস বলেন, ‘যদি পুতিন একজন নারী হতেন, স্পষ্টই তিনি তা নন, কিন্তু তিনি যদি হতেন, আমি সত্যিই মনে করি না যে তিনি আক্রমণ ও সহিংসতার জন্য একটি পাগলাটে যুদ্ধ শুরু করতেন।’

তার মতে, ইউক্রেনে আক্রমণ বিষাক্ত পুরুষত্বের একটি নিখুঁত উদাহরণ। তাই তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পদগুলোতে নারীদের যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে ইউক্রেন যুদ্ধের চার মাস হয়ে গেলেও যুদ্ধ সমাপ্তির কোনো লক্ষণ নেই। ন্যাটো বলছে, যুদ্ধ দীর্ঘ হবে।

তবে জি-সেভেনের নেতারা মরিয়া হয়ে চাইছেন ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি, এমনটাই জানিয়েছেন বরিস জনসন। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, সহসা যুদ্ধ অবসানে কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নেই।

তবে জনসনের মতে, পশ্চিমাদের উচিত হবে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে যাওয়া। ফলে পুতিনের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে জেলেনস্কি ভালো অবস্থানে থাকবেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকেই পশ্চিমাদের বাধা উপেক্ষা করে পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে চলছে রুশ সেনাদের সামরিক অভিযান।

দোনবাসের বাসিন্দাদের রক্ষা করার জন্যই এমন সামরিক পদক্ষেপ বলে দাবি করে আসছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আসছে।

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এ যুদ্ধ বন্ধ না হলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের খাদ্যসংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন:
‘দোনেৎস্কে মার খাচ্ছে রুশপন্থিরা’
রুশ হুমকিতে এবার লিথুনিয়া
নোবেল পুরস্কারের পদক বেচে ইউক্রেনীয়দের অর্থ পাঠাচ্ছেন রুশ সাংবাদিক
ছাড়ে সবচেয়ে বেশি রাশিয়ার তেল কিনেছে চীন
রুশ গান নিষিদ্ধ করল ইউক্রেনের পার্লামেন্ট

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Sweden joins NATO in Finland

সুইডেন ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগ দেয়ায় সায় তুর্কিয়ের

সুইডেন ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগ দেয়ায় সায় তুর্কিয়ের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে ন্যাটোতে যোগদানের পথে সুইডেন ও ফিনল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত
ন্যাটোতে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের যোগ দিতে হলে প্রতিটি সদস্য দেশের সমর্থন লাগবে। কোনো একটি ন্যাটোভুক্ত দেশ ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের যোগদানের বিষয়ে ভেটো প্রদান করলেই দেশ দুটির ন্যাটোতে যোগদান স্থগিত হয়ে যাবে। সে কারণে তুর্কিয়ের সমর্থন দুই দেশের জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল।

ন্যাটো সদস্য হওয়ার জন্য সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেবে তুর্কিয়ে। তুর্কিয়ের এ সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের ন্যাটোতে যোগদানের সবচেয়ে বড় বাধার অবসান হলো।

পশ্চিমা এই সামরিক জোটের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৩০। ন্যাটোতে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের যোগ দিতে হলে প্রতিটি দেশের সমর্থন লাগবে। কোনো একটি ন্যাটোভুক্ত দেশ ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের যোগদানের বিষয়ে ভেটো প্রদান করলেই দেশ দুটির ন্যাটোতে যোগদান স্থগিত হয়ে যাবে। সে কারণে তুর্কিয়ের সমর্থন দুই দেশের জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটোপ্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ বলেছেন, সন্দেহভাজন জঙ্গিদের তুরস্কে ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে সুইডেন চেষ্টা বাড়াতে সম্মত হয়েছে এবং সুইডেন ও ফিনল্যান্ড দুই দেশই তুরস্কের ওপর দেয়া অস্ত্র বিক্রির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সম্মত হয়েছে।

ফলে আঙ্কারা সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে ন্যাটোতে যোগদান সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড থেকে যা পাওয়ার ছিল তা তুর্কিয়ে পেয়েছে।

সুইডেন ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগ দেয়ায় সায় তুর্কিয়ের
ন্যাটোর সঙ্গে ফিনল্যান্ডের যৌথ সামরিক মহড়ায় গোলাবর্ষণের দৃশ্য

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নিনিস্তো বলেছেন, তিনটি দেশের যৌথ স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছে, যেখানে একে অপরের নিরাপত্তার হুমকির বিরুদ্ধে পূর্ণ সমর্থন দেবে।

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী ম্যাগদালেনা অ্যান্ডারসন বলেছেন, এটি পশ্চিমা জোট ন্যাটোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছিলেন, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটো সদস্য পদের আবেদনের বিরোধিতা করবে তুর্কিয়ে এবং আঙ্কারাকে তার অবস্থান পরিবর্তন করতে রাজি করাতে যেকোনো চেষ্টা নিষ্ফল হবে।

এরদোগান ফিনল্যান্ড ও সুইডেন সম্পর্কে বলেছিলেন, দুই দেশই তুর্কিয়েতে নিষিদ্ধ কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) ও পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (ডিএইচকেপি/সি) নিরাপদ অতিথিশালা।

তুর্কিয়ে এই দুই সংগঠনকেই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।

সুইডেন ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগ দেয়ায় সায় তুর্কিয়ের
তুর্কিয়ের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান

যদিও ন্যাটোর জেনারেল মিরসিয়া জিওনা আশা প্রকাশ করেছিলেন যে তুরস্ককে এই ইস্যুতে রাজি করানো যাবে।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে দুই নরডিক দেশ ফিনল্যান্ড ও সুইডেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে আসছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর দুই দেশই নিরপেক্ষ ভূমিকা থেকে বেরিয়ে এসে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে দুই দেশকেই সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছিল, ফিনল্যান্ডের এমন পদক্ষেপ রুশ-ফিনিশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি উত্তর ইউরোপের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ফিনল্যান্ডকে নিরপেক্ষ দেশের ভূমিকায় থাকতে বাধ্য করার জন্য রাশিয়া সামরিক প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য বিকল্প উপায়ে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

তবে ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্তের কারণে ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে মস্কো ঠিক কী কী পদক্ষেপ নেবে, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি দেশটির সাম্প্রতিক দেয়া বিবৃতিতে।

এর আগেও ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যদি ফিনল্যান্ড ও সুইডেন ন্যাটোতে যোগ দেয়, তবে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করবে।

রুশ নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ এর আগে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, দুই দেশ যাতে বাস্তবতা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যথায় বাড়ির পাশে পরমাণু অস্ত্র ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বসবাস করতে হবে তাদের।

সুইডেন ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগ দেয়ায় সায় তুর্কিয়ের
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ

এ ছাড়া ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এর আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ন্যাটোর সম্প্রসারণ কীভাবে কার্যকর হয় এবং তা রুশ সীমান্তের কতটা কাছে চলে আসে, তার ওপর সবকিছু নির্ভর করছে।’

ফিনল্যান্ডে এরই মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান রাও নরডিক। যদিও বলা হচ্ছে, দেশটির ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়নি। পাওনা টাকা নিয়ে জটিলতার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাও নরডিক।

তবে ফিনল্যান্ড বলছে, রাশিয়া দেশটির চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। ফলে ফিনল্যান্ড বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ আনতে পারবে। এটি দেশটির জন্য খুব একটা চাপ নয়।

আরও পড়ুন:
ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্ত ফিনল্যান্ডের
ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে গেলে পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি রাশিয়ার
ন্যাটোর মহড়ায় প্রাণ গেল ৪ আমেরিকান সেনার
ন্যাটো-রাশিয়া পারমাণবিক যুদ্ধে প্রথম ঘণ্টায় যা হতে পারে
ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ: রাশিয়া

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
NATO concerned over Moscow Beijing rapprochement

মস্কো-বেইজিং ঘনিষ্ঠতায় উদ্বিগ্ন ন্যাটো

মস্কো-বেইজিং ঘনিষ্ঠতায় উদ্বিগ্ন ন্যাটো ইউক্রেন অভিযানের পর মস্কো-বেইজিং সম্পর্ক উষ্ণ হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘চীনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে না ন্যাটো। তবে ইউক্রেন আগ্রাসনের পর থেকে মস্কো-বেইজিং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আমরা চিন্তিত।’

চীনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে না ন্যাটো। তবে রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির উষ্ণ সম্পর্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোটটি।

ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘চীনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে না ন্যাটো। তবে ইউক্রেন আগ্রাসনের পর থেকে মস্কো-বেইজিং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আমরা চিন্তিত।’

মাদ্রিদে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘আমরা চীনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে গণ্য করি না। চীন শিগিরই বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোতে তাদের সঙ্গে আমাদের কাজ করতে হবে।

‘তবে আমরা হতাশ হয়েছি। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের নিন্দা করতে পারেনি চীন। তারা ন্যাটো, পশ্চিমাদের সম্পর্কে অনেক মিথ্যা আখ্যান ছড়িয়ে দিচ্ছে। বলা হচ্ছে, চীন ও রাশিয়া এখন অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ।’

ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার বিপক্ষে ভোট দেয় চীন। এতে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি বিশ্ব নেতারা।

এমনকি এই ইস্যুতে রাশিয়ার কোনো নিন্দাও জানায়নি। উল্টো জ্বালানি রপ্তানিতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা খাওয়া রাশিয়ার তেল কেনার আভাস দিয়েছে বেইজিং।

আরও পড়ুন:
ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্ত ফিনল্যান্ডের
ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে গেলে পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি রাশিয়ার
ন্যাটোর মহড়ায় প্রাণ গেল ৪ আমেরিকান সেনার
ন্যাটো-রাশিয়া পারমাণবিক যুদ্ধে প্রথম ঘণ্টায় যা হতে পারে
ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ: রাশিয়া

মন্তব্য

p
উপরে