× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

আন্তর্জাতিক
The motive for killing so many blacks was white youth
hear-news
player
print-icon

‘অসংখ্য কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার উদ্দেশ্য ছিল শ্বেতাঙ্গ যুবকের’

অসংখ্য-কৃষ্ণাঙ্গ-হত্যার-উদ্দেশ্য-ছিল-শ্বেতাঙ্গ-যুবকের
বন্দুকহামলার পর টপস ফ্রেন্ডলি মার্কেটের ভেতর থেকে সামরিক পোশাক পরা এক শ্বেতাঙ্গ যুবককে রাইফেলসহ আটক করে পুলিশ। ছবি: রয়টার্স
বাফেলোর মেয়র বায়রন ব্রাউন বলেন, ‘নির্বিচারে গুলি চালিয়ে যত বেশী পারা যায় তত কৃষ্ণাঙ্গের জীবন কেড়ে নেয়ার লক্ষ্য ছিল শ্বেতাঙ্গ যুবক পেটন গেনড্রনের।’ এর আগে, গত বছর জুনে তার আগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাইস্কুলে বন্দুক হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দেন এই যুবক।

নিউ ইর্য়কের বাফেলোর একটি সুপার মার্কেটে চালানো উদ্দেশমূলক হামলায় অগণিত কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার উদ্দেশ ছিল গ্রেপ্তার হওয়া শ্বেতাঙ্গ যুবকের।

হামলার এক দিন পরে স্থানীয় সময় রোববার বাফেলোর মেয়র বায়রন ব্রাউন এমনটি নিশ্চিত করেছেন।

মেয়র বায়রন ব্রাউন বলেন, ‘নির্বিচারে গুলি চালিয়ে যত বেশী পারা যায় তত কৃষ্ণাঙ্গের জীবন কেড়ে নেয়ার লক্ষ্য ছিল শ্বেতাঙ্গ যুবক পেটন গেনড্রনের।’

এর আগে, গত বছর জুনে তার আগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাইস্কুলে বন্দুক হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দেন এই যুবক। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তা জানতে পরে তাকে আটক করে। সংবাদমাধ্যম এপির খবরে বলা হয়, এর পর তার অবসাদ দূর করতে মানসিক স্বাস্থ্যের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

নিউ ইয়র্কের এই হামলার পর এখন সমালোচনা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারীতে থাকা সত্ত্বেও সে কীভাবে এমন হামলা চালিয়েছে।

হামলার দিন, বুকে পরা বিশেষ সুরক্ষা ভেস্ট ও সামরিক পোশাক পরে নিজ বাসা থেকে ৩২০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সে।

টপস নামের ওই সুপার মার্কেটে ওই শ্বেতাঙ্গ যুবকের বন্দুক হামলায় নিহত হন ১০ জন। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে চালানো ওই হামলায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। হতাহতের অধিকাংশই কৃষ্ণাঙ্গ।

স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কে কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত বাফেলো শহরের একটি সুপার মার্কেটে গাড়ি পার্কিয়ের জায়গায় এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল থেকে সামরিক পোশাক পরা ১৮ বছর বয়সী এক শ্বেতাঙ্গ যুবককে স্বয়ংক্রিয় (অ্যাসল্ট) রাইফেলসহ আটক করা হয়।

হতাহতদের মধ্যে রয়েছেন ১১ কৃষ্ণাঙ্গ ও দুই শ্বেতাঙ্গ। হতাহতদের বয়স ২০ থেকে ৮৬ এর মধ্যে।

টপস ফ্রেন্ডলি মার্কেটের এই হামলার পেছনে বর্ণবিদ্বেষী ও সহিংস চরমপন্থী মনোভাবকে দুষছেন স্থানীয় প্রশাসন।

দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের বাফেলো ফিল্ড অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পেশাল এজেন্ট স্টিফেন বেলঙ্গিয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “এই গুলির ঘটনাকে ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ এবং জাতিগতভাবে সহিংস চরমপন্থী মামলা’ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।’’

বাফেলোর পুলিশ কমিশনার জোসেফ গ্রামাগলিয়া বলেন, ‘ওই সন্দেহভাজনের হামলায় ৯ ক্রেতা এবং সুপার মার্কেটে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী ওই পুলিশকর্তা বন্দুকধারীকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালিয়েছিলেন। তবে সুরক্ষা বর্ম পরে থাকায় বেঁচে যায় বন্দুকধারী। গুলিতে তিনি নিহত হন।’

একটি দোকানের ভেতরে ওই নিরাপত্তারক্ষীর মুখোমুখি অবস্থানে এলে সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিজের গলায় বন্দুক তাক করেন। এ সময় পুলিশ তাকে অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণ করতে বলেছিলেন, পুলিশ কমিশনার যোগ করেন।

সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে বাফেলোর প্রায় ২০০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে কনক্লিন অঞ্চলের বাসিন্দা পেটন গেনড্রন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দুই কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা এপিকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি দেয়া হয়নি এবং নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা তা করেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারিন জ্যঁ পিয়েরে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই ঘটনা ও এর তদন্তের বিষয়ে নিয়মিত খবর নিচ্ছেন। এই ঘটনায় জো বাইডেন ফার্স্ট লেডিকে সঙ্গে নিয়ে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা ও তাদের প্রিয়জনদের জন্য প্রার্থনা করেছেন।’

আরও পড়ুন:
নিউ ইয়র্কে ‘বর্ণবিদ্বেষী’ হামলায় নিহত ১০, শ্বেতাঙ্গ আটক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
France violates diplomatic etiquette Russia

ফ্রান্স কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে: রাশিয়া

ফ্রান্স কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে: রাশিয়া ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁ (বাঁয়ে) এবং রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। ফাইল ছবি
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ বলেন, ‘দুই নেতার কথোপকথনের বিষয়বস্তু নিয়ে রাশিয়ার লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা নীতিগতভাবে এমনভাবে আলোচনায় নেতৃত্ব দিই যে আমাদের কখনই লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা সবসময় যা মনে করি, তা বলি। আমরা আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে সবসময় প্রস্তুত থাকি।’

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর বিরুদ্ধে ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচার’ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে রাশিয়া। ভিয়েতনাম সফরে থাকা রুশ পররাষ্ট্র সের্গেই ল্যাভরভ বুধবার জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনের ফোনালাপ প্রকাশ করে মাখোঁ এ অপরাধ করেছেন।

ল্যাভরভ বলেন, ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচার একতরফাভাবে রেকর্ডিং ফাঁসের অনুমতি দেয় না।’

ইউক্রেনে রুশ অভিযানের কয়েক দিন আগে ‘গোপনীয়’ কলের বিশদ বিবরণ সম্প্রতি প্রচার করে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ২। ইউক্রেন সংঘাত বন্ধে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের তৎপরতা নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রে ওই ফোনালাপ ফাঁস করা হয়।

ল্যাভরভ বলেন, ‘দুই নেতার কথোপকথনের বিষয়বস্তু নিয়ে রাশিয়ার লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা নীতিগতভাবে এমনভাবে আলোচনায় নেতৃত্ব দিই যে আমাদের কখনই লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা সবসময় যা মনে করি, তা বলি। আমরা আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে সবসময় প্রস্তুত থাকি।’

‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর দশম বার্ষিকী ঘিরে ল্যাভরভ দুই দিনের সফরে ভিয়েতনামে আছেন। ঐতিহাসিকভাবে মস্কোর ঘনিষ্ঠ ভিয়েতনাম। এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানাতে অস্বীকার করেছে দেশটি।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে ‘বিশেষ অভিযান’ চালাচ্ছে রাশিয়া। এর আগে পূর্ব ইউক্রেনের দুটি বিদ্রোহী অধ্যুষিত অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

আরও পড়ুন:
‘ইউরোপকে কাবু করতে আসছে রুশরা’
স্নেক আইল্যান্ডে ফের ইউক্রেনের পতাকা
পুতিনের চোখ এখন দোনেৎস্কে
লুহানস্কের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার, স্বীকার ইউক্রেনের
তুরস্কে গমবাহী রুশ জাহাজ জব্দ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Special team to check the security flaws in Mamatas house

মমতার বাড়ির নিরাপত্তার ত্রুটি খতিয়ে দেখতে বিশেষ টিম

মমতার বাড়ির নিরাপত্তার ত্রুটি খতিয়ে দেখতে বিশেষ টিম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
শনিবার হাসনাবাদের নারায়ণগঞ্জের হাফিজুল মোল্লা নামে এক ব্যক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। বাড়ির ভেতরে কনফারেন্স রুমের পেছনে ৭ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলেন হাফিজুল।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির নিরাপত্তার ত্রুটি খতিয়ে দেখতে আট সদস্যের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ।

মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের নেতৃত্বে উচ্চপদস্থ কর্তাদের জরুরি বৈঠক হয়।

সূত্রের খবর, সেখানে শনিবারের ঘটনার তদন্তে ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন এবং মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির পেছন দিকের ইটের পাঁচিল উঁচু করার পাশাপাশি পাঁচিল বরাবর ১৩ থেকে ১৪ ফুটের অ্যালুমিনিয়াম সিট দিয়ে ঘিরে দেয়া হবে। যাতে সহজে কেউ উপরে উঠতে না পারে। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িকে কেন্দ্র করে বসছে দুটি ওয়াচ টাওয়ার।

এখন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির নিরাপত্তায় প্রতি শিফটে ২০ জন করে পুলিশ থাকবে। সিসিটিভি আরও ক্লোজ মনিটর করা হবে।

শুধু মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি নয়, রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্নের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।

শনিবার হাসনাবাদের নারায়ণগঞ্জের হাফিজুল মোল্লা নামে এক ব্যক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। বাড়ির ভেতরে কনফারেন্স রুমের পেছনে ৭ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলেন হাফিজুল। রোববার সকালে শিফট বদলের সময় নিরাপত্তা রক্ষীদের নজরে পড়েন হাফিজুল।

এ ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় গাফিলতি নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়।

রোববার ধৃত হাফিজুল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে সোমবার আলিপুর আদালতে তোলা হলে তাকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।

হাফিজুলের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হাফিজুল মানসিক অবসাদগ্রস্ত। রাতে বাড়িতে থাকেন না হাফিজুলের বাবার দাবি, হাফিজুল পাগল। আগেও পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে লোহার রড নিয়ে ঢোকে হাফিজুল

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Developed countries are also frustrated by the power crisis

বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল উন্নত দেশও

বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল উন্নত দেশও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির জাপান পড়তে যাচ্ছে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিদ্যুত সংকটের মাঝে। ছবি: ব্লুমবার্গ
বিশ্বের বড় অর্থনীতি জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে প্রায় বন্ধের মুখে অর্থনীতির চাকা।

বিশ্বব্যাপী বিদ্যুতের সংকট তীব্র হচ্ছে। এরই মধ্যে বিশ্বের বড় অর্থনীতি জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে প্রায় বন্ধের মুখে অর্থনীতির চাকা।

জাপানে ইয়েনের ভয়াবহ দরপতন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ও টোকিওতে তীব্র তাপদাহের কারণে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি পড়তে যাচ্ছে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ সংকটের মাঝে।

দেশটির চাহিদার ৯০ শতাংশ বিদ্যুতের আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। যার মূল্য পরিশোধ করা হয় ডলারে। বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাঁচামাল জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধে বিপাকে পড়েছে গোটা দেশের অর্থনীতি।

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অন্যতম অর্থনীতির দেশ জার্মানি জড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে।

দেশটির অর্থমন্ত্রী রোবার্ট হাবেক এই সংকটকে স্মরণকালের অন্যতম আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘রাশিয়া থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম কাঁচামাল গ্যাস রপ্তানি কমিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ফের সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে তারা।’ বার্লিনে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার স্মরণকালের সবচেয়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন ও শক্তিবিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস বাউন জনগণকে সাশ্রয়ী ও সংযমী হওয়ার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ‘সিডনি ও নিউ সাউথ ওয়েলসের বাসিন্দাদের প্রতিদিন সন্ধ্যায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ১৬ জুন পর্যন্ত এই বিধি কার্যকর থাকবে।’

এদিকে কাঁচামালের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে বিদ্যুতের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও সংযমী হতে সবার প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন সরকারপ্রধান।

বিশ্বে জ্বালানির ঊর্ধ্বগতিতে জীবিকা-সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে

গত সপ্তাহে ইকুয়েডরের বিক্ষোভকারীরা এই বার্তাটি দেশটির প্রেসিডেন্টকে দিয়েছিলেন যখন তিনি আশ্বাস দেন, গ্যাস এবং ডিজেলের দাম ১০ সেন্ট কমিয়ে দেয়া হবে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, এটা যথেষ্ট নয়।

জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গার প্রতিক্রিয়ায় এই প্রতিশ্রুতি দেন প্রেসিডেন্ট।

ইকুয়েডরের মতোই জ্বালানির লাগামহীন দাম নিয়ে ক্ষোভ ও শঙ্কা ছড়িয়েছে সারা বিশ্বে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম গ্যালন প্রতি বেড়েছে ৫ ডলার। ভোক্তাদের জীবনযাত্রায় বাড়তি এই বোঝা মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দলের ওপর প্রভাব ফেলবে।

কিন্তু অনেক জায়গায় জ্বালানির পেছনে জনগণের খরচ বৃদ্ধির ফলে জনদুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে।

পরিবারগুলো এখন শঙ্কায় রয়েছে, কীভাবে বাতি জ্বালানো নিশ্চিত করা যায়, গাড়িতে গ্যাস ও তেলের ট্যাংক ভর্তি করা যায়, তাদের বাসাবাড়ি গরম রাখা যায় এবং তাদের রান্না করার চুলা সচল রাখা যায়।

ক্রমবর্ধমান পরিবহন খরচ ও ব্যবসা পরিচালন ব্যয় এবং কর্মীদের মজুরি বাড়ানোর দাবির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

পেট্রলচালিত জেনারেটরের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের জ্বালানি না পাওয়ায় নাইজেরিয়ায় অনেক নাপিত চুল কাটতে মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করছেন।

যুক্তরাজ্যে মাঝারি আকারের একটি পরিবার গাড়ির জ্বালানির পেছনে খরচ করতে হচ্ছে ১২৫ ডলার।

হাঙ্গেরিতে বেশির ভাগ জ্বালানির স্টেশনে দিনে ৫০ লিটারের বেশি তেল কিনতে দেয়া হচ্ছে না গাড়িচালকদের।

ঘানায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশে গত মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস এবং রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ।

জ্বালানির দামের উল্লম্ফন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ককে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করছে।

জ্বালানির এমন ঊর্ধ্বগতি সরাসরি প্রভাব ফেলছে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধিতে আর ব্যাংকগুলোকে বাধ্য হয়ে বাড়াতে হচ্ছে সুদের হার।

এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধার মুখে পড়ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের অন্যতম রপ্তানিকারক ইউক্রেনে রুশ হামলা এবং এর পরে পশ্চিমা দেশসহ বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে গ্যাস ও তেলের দাম অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে গেছে।

দুই বছর ধরে চলা কোভিড-১৯ মহামারির ধকল সামলে ওঠার আগেই এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে আবারও চেপে ধরেছে।

আরও পড়ুন:
বাণিজ্য সক্ষমতা: জার্মানির সহায়তা চায় বাংলাদেশ
ওমিক্রনে জার্মানিতে প্রথম মৃত্যু
স্টার্লিং ও কেইন শেষ আটে পৌঁছে দিলেন ইংল্যান্ডকে
নকআউট ‘মহাযুদ্ধ’ জিততে মরিয়া ইংল্যান্ড ও জার্মানি

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Abbas Haniya together in Algeria

আলজেরিয়ায় একসঙ্গে আব্বাস-হানিয়া

আলজেরিয়ায় একসঙ্গে আব্বাস-হানিয়া মাহমুদ আব্বাস (বাম থেকে দ্বিতীয়), ইসমাইল হানিয়া (ডান থেকে দ্বিতীয়)। ছবি: সংগৃহীত
আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বলছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও ইসলামপন্থি হামাস আন্দোলনের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহ জনসমক্ষে মিলিত হয়েছেন।

টাইমস অফ ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুই ফিলিস্তিনি নেতার সাক্ষাৎ হয়েছে আলজেরিয়ায়।

মাহমুদ আব্বাস ও ইসমাইল হানিয়া দুই ফিলিস্তিনি নেতাই আলজেরিয়ার স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপনে এই দেশে এসেছেন।

আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বলছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও ইসলামপন্থি হামাস আন্দোলনের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাদজিদ টেবুইনের সঙ্গে এক বৈঠকেও দুই নেতা মিলিত হন, যার দেশ ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতার ৬০তম বার্ষিকী উদযাপন করছে।

আব্বাসের ধর্মনিরপেক্ষ ফাতাহ পার্টি পশ্চিমতীরে শাসন করছে আর হামাস নিয়ন্ত্রণ করছে গাজা।

২০০৭ সালের নির্বাচনের পর হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার পর হামাস গাঁজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ও আব্বাসের ধর্মনিরপেক্ষ ফাতাহ পার্টি পশ্চিমতীরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

বলা হয়ে থাকে, এই দুই নেতা সর্বশেষ ২০১৬ সালের অক্টোবরে দোহায় শেষবারের মতো মুখোমুখি হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
ফিলিস্তিনিদের সমর্থন এমা ওয়াটসনের
গাজায় হামাসের স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা
ফিলিস্তিনিদের পোস্ট মুছে দেয় ফেসবুক
ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান খুঁজুন: জাতিসংঘে বাংলাদেশ
ফিলিস্তিনের জন্য ভালোবাসা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The conflict between the Indian government and Twitter is in court this time

ভারত সরকার টুইটারের দ্বন্দ্ব এবার আদালতে

ভারত সরকার টুইটারের দ্বন্দ্ব এবার আদালতে ভারত সরকারের নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে গেছে টুইটার ইন্ডিয়া। ছবি: সংগৃহীত
আদালতে দাখিল করা আবেদনে টুইটারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া ব্লকিং আদেশগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি আইনের ৬৯ (ক) এর আলোকে উল্লেখযোগ্যভাবে ঘাটতিপূর্ণ ও কেন্দ্রের কিছু নির্দেশ পুরোপুরি অযৌক্তিক। সেসবের বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আবেদন জানিয়েছে টুইটার। কারণ কিছু কনটেন্ট ব্লক করলে তা বাকস্বাধীনতার লঙ্ঘন হতে পারে।

ভারত সরকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারের চলমান দ্বন্দ্ব এবার আদালতে গড়িয়েছে। টুইটার ইন্ডিয়া ভারত সরকারের ইলেকট্রনিকস ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের লিখিত নির্দেশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে।

কর্ণাটক হাইকোর্টে মঙ্গলবার টুইটার ইন্ডিয়ার দাখিল করা আবেদনে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অসম ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ধারা ৬৯ (ক) এর অধীনে জারি করা মন্ত্রণালয়ের বিষয়বস্তু ব্লক করার আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করেছে।

আদালতে দাখিল করা আবেদনে টুইটারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া ব্লকিং আদেশগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি আইনের ৬৯ (ক) এর আলোকে উল্লেখযোগ্যভাবে ঘাটতিপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রেই ব্লক আদেশের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়েছে যে এটি ঠিক কীভাবে ৬৯(ক) ধারায় পড়ে।

এর আগে ২৭ জুন ভারতের ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটিতে পাঠানো নতুন এক নোটিশে বলা হয়েছিল, মন্ত্রণালয় থেকে ৬ ও ৯ জুন পাঠানো নোটিশ মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে টুইটার।

নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারের সব শর্ত মানতে হবে টুইটারকে। অন্যথায় ভারতে তারা অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা হারাবে। ফলে যাবতীয় পোস্টের জন্য দায় নিতে হবে টুইটারকেই।

ভারত সরকার অভিযোগ করে আসছে, ‘তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের ধারা ৬৯-এর অধীনে কিছু বিষয়বস্তু প্ল্যাটফর্মটি থেকে সরিয়ে নেয়ার নোটিশগুলোতে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি।’

ভারতের টুইটারের চিফ কমপ্লায়েন্স অফিসারকে উদ্দেশ করে দেয়া এক বার্তায় বলা হয়েছিল, ‘যদি টুইটার তথ্য ও প্রযুক্তি আইন লঙ্ঘন করতে থাকে, তাহলে আইনের অধীনেই এর প্রতিক্রিয়া পাবে।’

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যবহারকারী অপরাধমূলক কিংবা অবমাননাকর কোনো কিছু পোস্ট করলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হবে। সেটা টুইটার, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ যেকোনো প্রতিষ্ঠানই হতে পারে।

এখন পর্যন্ত ভারতে ব্যবসা পরিচালনা করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ‘মধ্যস্থতাকারী’র সুবিধা পেয়ে এসেছে। বিতর্কিত ও অনৈতিক কোনো পোস্টের দায় সরাসরি প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়েনি।

ভারত সরকার এবার জানিয়ে দিয়েছে, এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হতে পারে। ফলে দোষী সাব্যস্ত হলে ৭ বছরের জেল এবং জরিমানা হতে পারে টুইটারের কর্মকর্তাদের।

টুইটারের দাবি, কেন্দ্রের কিছু নির্দেশ পুরোপুরি অযৌক্তিক। সেসবের বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আবেদন জানিয়েছে টুইটার। কারণ কিছু কনটেন্ট ব্লক করলে তা বাকস্বাধীনতার লঙ্ঘন হতে পারে।

তবে কেন্দ্র থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, টুইটারকে আইন মানতেই হবে।

এর আগে চলতি সপ্তাহের গোড়ার দিকে টুইটারের অভ্যন্তরীণ কিছু তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক অ্যাকাউন্ট ও টুইট ব্লক করতে বলা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ফ্রিডম হাউস, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে কিছু টুইট।

আরও পড়ুন:
স্বর্ণালংকার শিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ ভারতীয় ব্যবসায়ীদের
মণিপুরে ভূমিধসে মৃত বেড়ে ৪২
হিমাচলে বাস খাদে, নিহত ১৬
পুজারা-পান্টের ব্যাটে লিড আড়াই শ ছাড়াল ভারতের
উপহারের আম্রপালি পেলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Expedition to the agency that took Bangladeshi workers in Malaysia

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নেয়া এজেন্সিতে অভিযান

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নেয়া এজেন্সিতে অভিযান
অভিযানে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে তদন্তের স্বার্থে কয়েকজনকে আটক করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয় এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসিসি)। প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক ‘দাতুক সেরি’ খেতাবধারী এক ব্যবসায়ী।

কুয়ালালামপুর ও সেলাংগরে এই অভিযান চালানো হয় বলে বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে

অভিবাসী শ্রমিকদের নিবন্ধন নিয়ে একটি কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত ছিল এই প্রতিষ্ঠানগুলো।

অভিযানে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে তদন্তের স্বার্থে কয়েকজনকে আটক করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র বলেছে, কর্মী নিয়োগ নিয়ে পুত্রজায়া ২০১৫ সালে সংস্থাগুলোর তৈরি কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা ব্যবহার করতে সম্মত হয়েছিল। বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকও (এমওইউ) হয়েছিল।

যে ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়েছে, সম্প্রতি অভিবাসী কর্মীদের নিয়োগের জন্য নির্বাচিত ২৫টি বাংলাদেশি এজেন্সির বেশির ভাগই তার নিয়ন্ত্রণে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র বলছে, মালয়েশিয়ায় কাজ করতে চাওয়া বেশির ভাগ বিদেশি কর্মীর কাছ থেকে হাজার হাজার রিংগিতের মতো অতিরিক্ত ফি নেয়া হয় বলে অভিযোগ।

এ সমস্যা নিয়ে বেশ কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং রাজনীতিবিদ সোচ্চার হয়েছেন। ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া প্রভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। এমন প্রেক্ষাপটে অভিযান শুরু করল এমএসিসি।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানানের কাছে অভিযানের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চিত কিছু না।'

আরও পড়ুন:
নারী অভিবাসীদের নিয়ে ৭৯ শতাংশ খবর নেতিবাচক: গবেষণা
গ্রিসে অভিবাসী বোঝাই নৌকাডুবি, অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু
অভিবাসী দিবসে বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ফুল-শুভেচ্ছা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The Prime Minister of the United Kingdom is under pressure to resign

দুই মন্ত্রীর পদত্যাগে চাপে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী

দুই মন্ত্রীর পদত্যাগে চাপে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বাঁয়ে: সাজিদ জাভিদ, ডানে: ঋষি সুনাক। ছবি: সংগৃহীত
সাজিদ জাভিদ ও ঋষি সুনাকের পদত্যাগ চাপে ফেলেছে জনসনকে। তবে টোরি এমপির কেউ এখন পর্যন্ত জনসনের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ না করলেও সমালোচকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি জনসনের রাজনৈতিক সমাপ্তি।

যুক্তরাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত মাসে অনাস্থা ভোটে জয় পেলেও সহসা দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বিপদ কাটছে না। এরই মধ্যে মন্ত্রিসভার শীর্ষ দুই মন্ত্রী তার নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে পদত্যাগ করায় নতুন করে চাপে পড়া জনসনের রাজনৈতিক অস্তিত্ব হুমকিতে পড়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যান্সেলর ঋষি সুনাক এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ একে অপরের ১০ মিনিটের মধ্যে পদত্যাগ করে জুনিয়র মন্ত্রী ও সহযোগীদের মধ্যে ঝাঁকুনি সৃষ্টি করেছেন।

সমালোচকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাজনৈতিক ইতি।

তবে বরিস জনসন এখনও হাল ছাড়ছেন না। তিনি মন্ত্রিসভা রদবদল করে যুক্তরাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন।

এরই মধ্যে নাদিম জাহাভিকে নতুন চ্যান্সেলরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর চিফ অফ স্টাফ স্টিভ বার্কলেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করা হয়েছে।

দুই মন্ত্রীর পদত্যাগে চাপে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী
পার্লামেন্টে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

তবে সাজিদ জাভেদ ও ঋষি সুনাক কেউই পদত্যাগের পর প্রকাশ্যে কথা বলেননি। তবে মঙ্গলবারের পদত্যাগপত্রে প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত সমালোচনা করা হয়েছে।

তাদের পদত্যাগের আগে বিরোধী লেবার পার্টির পক্ষ থেকে এই দুই মন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে যুক্তরাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাজিদ জাভিদ সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, শীর্ষ নেতৃত্ব জাতীয় স্বার্থে কাজ করছে না।

অন্যদিকে ঋষি সুনাক বলেছিলেন, জনগণ আশা করেছিল সরকার সঠিকভাবে, দক্ষতার সঙ্গে এবং গুরুত্ব সহকারে পরিচালিত হবে।

এদিকে বরিস জনসনের নিজের দল কনজারভেটিভ (টোরি) এমপি ও প্রাক্তন চিফ হুইপ অ্যান্ড্রু মিচেল বিবিসি নিউজ নাইটকে বলেছেন, জনসনের জন্য এটিই শেষ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো চরিত্র বা মেজাজ তার আর নেই।

যদিও টোরি এমপির কেউই এখন পর্যন্ত বরিস জনসনের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেননি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিস ট্রাস জনসনের পাশেই রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
ঝড়ে উপড়ে গেল নিউটনের সেই আপেলগাছ
যুক্তরাজ্যে ‘ইউনিসের’ আঘাত, ৩ প্রাণহানি
কয়েক দশকের শক্তিশালী ঝড়ের মুখোমুখি যুক্তরাজ্য
কেএফসির বক্সে মুরগির অপরিষ্কার মাথা
করোনা ইস্যুতে জনগণকে সতর্ক করলেন বরিস জনসন

মন্তব্য

p
উপরে