× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

আন্তর্জাতিক
Suicide bomber kills 7 in Pakistan
hear-news
player
print-icon

পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় শিশু, সেনাসহ নিহত ৬

পাকিস্তানে-আত্মঘাতী-বোমা-হামলায়-শিশু-সেনাসহ-নিহত-৬
আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত তিন সেনাসদস্য। ছবি: সংগৃহীত
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাকারী বোমা বিস্ফোরণ ঘটালে তিন সেনাসদস্য নিহত হন। এ সময় আরও তিন শিশু নিহত হয়েছে।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু ও তিনজন সেনাসদস্য।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বরাত দিয়ে ডন জানিয়েছে, উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মিরানশাহ এলাকায় রোববার আত্মঘাতী এ হামলা হয়েছে।

নিহত তিন সেনাসদস্য হলেন ল্যান্স হাবিলদার জুবায়ের কাদির, সিপাহী উজাইর আসফার ও কাসিম মাকসুদ।

হামলায় নিহত তিন শিশু হলো আনাম, আহসান ও আহমেদ হাসান। তাদের বয়স যথাক্রমে ৪, ৮ ও ১১ বছর।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাকারী বোমা বিস্ফোরণ ঘটালে তিন সেনাসদস্য নিহত হন। এ সময় আরও তিন শিশু নিহত হয়েছে।

আত্মঘাতী হামলাকারী ও তার সহযোগীদের চিহ্নিত করতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে বলে বিবৃতি দিয়েছে আইএসপিআর।

আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি শিশু হত্যাকারীদের ‘ইসলাম ও মানবতার শত্রু’ বলে অভিহিত করেছেন।

আরও পড়ুন:
সৌদি যাচ্ছেন শাহবাজ, সঙ্গে নাতি-নাতনি
নতুন পাসপোর্ট পেলেন নওয়াজ শরিফ
পাকিস্তানের অস্বস্তি
ইমরান খানকে রাষ্ট্রীয় উপহার ফেরত দিতেই হবে
পশ্চিমাদের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক গড়ার চেষ্টায় পাকিস্তানের নতুন সরকার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Akhundzada the leader of the Taliban in public

প্রকাশ্যে তালেবানের নেতা আখুন্দজাদা

প্রকাশ্যে তালেবানের নেতা আখুন্দজাদা তালেবান নেতা মোল্লা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। ছবি: সংগৃহীত
মোল্লা হাইবাতুল্লাহ ‘জাতীয় ঐক্যের’ বিষয়ে আলোচনার জন্য কমপক্ষে তিন হাজার ধর্মীয় পণ্ডিতদের সামনে ভাষণ দিয়েছেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে কোনো স্বাধীন সাংবাদিককে আসতে দেয়া হয়নি।

তালেবানের নেতা মোল্লা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল সফর করেছেন। গত আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে চলে আসার পর এটাই তার প্রথম কাবুল সফর।

তালেবান কর্মকর্তাদের বরাতে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মোল্লা হাইবাতুল্লাহ ‘জাতীয় ঐক্যের’ বিষয়ে আলোচনার জন্য কমপক্ষে তিন হাজার ধর্মীয় পণ্ডিতদের সামনে ভাষণ দিয়েছেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে কোনো স্বাধীন সাংবাদিককে আসতে দেয়া হয়নি।

বক্তব্যের অডিও সম্প্রচার

মোল্লা হাইবতুল্লাহর কোনো ভিডিও বা ছবি প্রকাশ করা হয়নি। তবে তার উপস্থিতি ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চস্বরে উল্লাস শোনা যায়।

গুঞ্জন আছে, মোল্লা হাইবাতুল্লাহ কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন। যদিও একাধিক সূত্র বিবিসিকে হাইবাতুল্লাহর জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বক্তৃতায় হাইবাতুল্লাহ তালেবানের আফগানিস্তান দখলের প্রশংসা করেছিলেন। তাকে বলতে শোনা গেছে, ‘এ ঘটনা কেবল আফগানদের জন্য নয়, বিশ্বের সব মুসলমানদের জন্য গর্বের বিষয় এটি।’

নারীর প্রতি তালেবানের আচরণের অব্যাহত আন্তর্জাতিক সমালোচনাকেও মোকাবিলা করার কথাও জানান হাইবাতুল্লাহ। জনসমক্ষে সম্প্রতি নারীদের আগাগোড়া পর্দা করার নির্দেশ দিয়েছে তালেবান সরকার।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহকে ধন্যবাদ। আমরা এখন একটি স্বাধীন দেশ। বিদেশিদের আমাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ কড়া উচিত না। এটি আমাদের ব্যবস্থাপনা। আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত রয়েছে।

‘এক আল্লাহর প্রতি আমাদের ভক্তি আছে। আমরা অন্যের আদেশ মেনে নিতে পারি না। আল্লাহ তা পছন্দ করেন না।’

সমাবেশে মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য আলোচনা হয়নি। দেশের অধিকাংশ জায়গায় মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান সরকার। সমাবেশে কোনো নারীকে আসতে দেয়া হয়নি।

প্রকাশ্যে তালেবানের নেতা আখুন্দজাদা

জ্যেষ্ঠ এক তালেবান নেতা বলেন, ‘নারীরা আমাদের মা, বোন। আমরা তাদের অনেক সম্মান করি। যখন তাদের ছেলেরা সমাবেশে থাকে তার মানে তারাও এখানে আছেন।’

তবে বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছে না আফগান নারী অধিকার কর্মীরা। ক্ষোভ ও হতাশার সঙ্গে তারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

প্রকাশ্যে তালেবানের নেতা আখুন্দজাদা

দক্ষিণ হেলমান্দ প্রদেশের একজন বলেন, ‘তারা (তালেবান) কেবল মানুষের মুখ বন্ধ করার জন্য জড়ো হয়েছিল।’

আফগান নারীবাদী এবং রাজনীতিবিদ মুনাসা মুবারেজ বলেন, ‘এই সমাবেশ বৈধ না। কেউ এটিকে গুরুত্ব সহকারে নেবে না। আসলে আফগান ও তালেবানের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। তারা কি একবারও মানুষকে জিজ্ঞাসা করেছে কেন তারা অর্থের জন্য অনাহারে থাকে, তাদের শরীরের অঙ্গ বা সন্তান বিক্রি করে?

‘তারা নারীদের প্রতিনিধিত্ব করছে না। তালেবান সার্কেলে নারীদের কোনো প্রতিনিধি নেই। বিশ্ব এখন এটি জানে। আমি আশা করি বিশ্ব আমাদের সাহায্য করবে।’

কাবুলের বাসিন্দা বারানের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান সরকার। তিনি বলেন, ‘এটি সমমনা লোকদের একটি সমাবেশ ছিল। এটি আমার কথা নয়… এটা সবাই মনে করে এবং বলে।

‘একজন নারী হিসেবে আমি খুবই হতাশ। তারা আমাদের মানুষ হিসেবে মূল্য দেয় না। গত কয়েক মাস ধরে আফগান নারীরা এক মিনিটেরও সুখ পায়নি। সরকার, সমাজ এমনকি আমাদের পরিবার দ্বারা দমন করা হচ্ছে। আমি বিশ্বের কাছে তালেবানের উপজাতীয় সরকারকে স্বীকৃতি না দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

গত বছর তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিদেশী উন্নয়ন সহায়তা অনেকাংশে বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু ব্যাংকে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় গভীর অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটে রয়েছে আফগানিস্তান। জাতিসংঘ এবং দাতব্য সংস্থাগুলো যদিও স্বল্পমেয়াদী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে, তবে তা পর্যাপ্ত না।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে মৃত হাজার ছুঁইছুঁই
আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে ২৫০ জনের মৃত্যু
কাবুলে শিখ উপাসনালয়ের সামনে বিস্ফোরণ
জিম্বাবুয়েতে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতল আফগানিস্তান
রাস্তায় কাপড় বেচছেন আফগান নারী সাংবাদিক

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Tailor murders in Rajasthan miners

রাজস্থানে দর্জি হত্যার পেছনে পাকিস্তানের জঙ্গিরা?

রাজস্থানে দর্জি হত্যার পেছনে পাকিস্তানের জঙ্গিরা? সহিংসতার শঙ্কায় উদয়পুরে মোতায়েন রয়েছে বাড়তি পুলিশ। ছবি: এএফপি
মহানবীকে (সা.) নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির মুখপাত্র নূপুর শর্মার পক্ষে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় গত মঙ্গলবার খুন হন উদয়পুরের দর্জি কানহাইয়া লাল। তার শিরশ্ছেদ করেন গোস মোহাম্মদ ও রিয়াজ আখতারি নামে দুই যুবক। ৪৬ বছরের কানহাইয়ার শরীরে ২৬টি ছুরিকাঘাতের ক্ষত ছিল।

রাজস্থানের উদয়পুরে দর্জি খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করছেন তদন্ত কর্মকর্তারামুম্বাই হামলার সঙ্গেও বিষয়টি জড়িত বলে ধারণা করছে পুলিশ। কেননা ঘুষ দিয়ে খুনিদের একজন তার মোটরসাইকেল ২৬১১ নম্বরে নিবন্ধন করিয়েছিলেন। খুনের পর পালিয়ে যেতে ওই মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করেছিলেন তারা।

২৬১১ সংখ্যাটির সঙ্গে ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাই হামলার যোগসূত্র থাকায় পুলিশ এর পেছনে মুম্বাই হামলাকারীদের হাত থাকার কথা ভাবছে। ওই হামলায় ১৭৫ জন নিহত হন।

মহানবীকে (সা.) নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির মুখপাত্র নূপুর শর্মার পক্ষে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় গত মঙ্গলবার খুন হন উদরপুরের দর্জি কানহাইয়া লাল। তার শিরশ্ছেদ করেন গোস মোহাম্মদ ও রিয়াজ আখতারি নামে দুই যুবক। ৪৬ বছরের কানহাইয়ার শরীরে ২৬টি ছুরিকাঘাতের ক্ষত ছিল।

হত্যার দৃশ্য ভিডিও করেছিলেন খুনিরা। উদয়পুর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে রাজসামন্দ জেলায় এই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার হন তারা। মোটরসাইকেলটি এখন উদয়পুরের ধানমান্ডি থানায় পড়ে আছে৷

বৃহস্পতিবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দুই অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিনের জন্য বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান।

পুলিশের বরাতে এনডিটিভির খবরে বলা হয়, রিয়াজ মোটরসাইকেল নিবন্ধনের জন্য ২৬১১ নম্বরটি চেয়েছিলেন। এ জন্য ৫ হাজার রুপি ঘুষও দিতে হয়েছে তাকে। এ ছাড়া রিয়াজের পাসপোর্ট থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালে তিনি নেপালে গিয়েছিলেন। তার মোবাইল ডাটা ঘেঁটে দেখা গেছে, এই ফোন থেকে তিনি পাকিস্তানে কল করেছিলেন।

রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট অফিস (আরটিও) রেকর্ড বলছে, রিয়াজ আখতারি ২০১৩ সালে এইচডিএফসি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে মোটরসাইকেলটি কিনেছিলেন। গাড়ির বিমার মেয়াদ ২০১৪ সালের মার্চে শেষ হয়েছিল।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর উদয়পুরের ইন্সপেক্টর জেনারেল এবং পুলিশ সুপারসহ ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসের (আইপিএস) ৩২ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। সহিংসতার আশঙ্কায় রাজ্যজুড়ে জারি হয় এক মাসের ১৪৪ ধারা। বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে উদয়পুরে।

আরও পড়ুন:
নূপুর শর্মাকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলল আদালত
ভারতে ‘তালেবানি মানসিকতা’ চলবে না: আজমির শরিফ প্রধান
সেই নূপুরের পক্ষ নেয়ায় রাজস্থানে দর্জি খুন, ১৪৪ ধারা
জবিতে শিক্ষার্থীদের ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Corona restrictions again in West Bengal

আবারও করোনার বিধিনিষেধ পশ্চিমবঙ্গে

আবারও করোনার বিধিনিষেধ পশ্চিমবঙ্গে
বর বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ থাকলে অবশ্যই করোনা পরীক্ষা ও প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। এ নিয়ে নতুন বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে রাজ্যজুড়ে।

বৃহস্পতিবার রাজ্যের স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভাইরাস মোকাবিলায় এই নির্দেশনা জারি করে।

বৃহস্পতিবার ১৫২৪ জন করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছেন। ২৯ জুন যা ছিল ১৪২৪ অর্থাৎ একদিনে ১০০ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুধু কলকাতায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৬০১ জন সংক্রমিত হয়েছেন। একজনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যে শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লাখ ২৯ হাজার ৪২৫ জন।

রাজ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জ্বর বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ থাকলে অবশ্যই করোনা পরীক্ষা ও প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৪ শতাংশের নিচে নামলে করোনা পরীক্ষা ও হাসপাতালে ভর্তি পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সাধারণ সামাজিক দূরত্ব বিধি, মাস্ক পরার পাশাপাশি নিয়মিত স্যানিটাইজ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নাক বা মুখের চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীদের করোনা পরীক্ষা আবশ্যক বলে রাজ্য নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, করোনার চতুর্থ ঢেউ শিগগিরই শুরু হতে পারে। তবে টিকাদানের জন্য আক্রান্তরা দ্রুত সেরে উঠবেন বলেও মত তাদের।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের ডিরেক্টর চিকিৎসক সুজিত কুমার সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, আসলে সাধারণ মানুষ করোনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ঠিকমতো মানছেন না। আর সে কারণেই করোনা সংক্রমণ বাড়ছে।

তিনি বলেন, আমাদের অবিলম্বে মাস্ক পরা নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। সামাজিক দূরত্ব বিধি বজায় রাখা উচিত।

আরও পড়ুন:
করোনা শনাক্তের পাশাপাশি এবার বাড়ছে মৃত্যুও
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ মাস পর করোনায় মৃত্যু
করোনার চতুর্থ ঢেউ: এবার আর লকডাউন নয়

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Hong Kong is not a compromise China

হংকং প্রশ্নে আপস নয়: চীন

হংকং প্রশ্নে আপস নয়: চীন হংকংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং। ছবি: এএফপি
চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশ বা অঞ্চলের কোনো মানুষ কখনই রাজনৈতিক ক্ষমতা এমন শক্তি বা ব্যক্তিদের হাতে যেতে দেবে না যারা নিজেদের দেশকে ভালোবাসে না। এমনকি বিক্রি বা বিশ্বাসঘাতকতাও করে না।’

‘এক দেশ দুই ব্যবস্থা’ শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে চীন। ব্রিটিশ শাসন থেকে হংকংয়ের মুক্ত হওয়ার ২৫ বছর পূর্তিতে দেয়া ভাষণে এ কথা জানান চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং। ব্রিটেন ১৯৯৭ সালে চীনের কাছে অঞ্চলটি ছেড়ে দেয়।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বৃহস্পতিবার হংকং যান শি চিন। দুই বছরের মধ্যে মূল ভূখণ্ডের বাইরে এটি তার প্রথম সফর।

ভাষণে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই শাসনব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে মেনে চলতে হবে। তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে বেইজিং। এই নীতি বারবার পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রমাণিত হয়েছে এটি একটি ভালো ব্যবস্থা। এটির পরিবর্তনের কোনো কারণ নেই।

‘২৫ বছর ধরে হংকংয়ের সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতার পাশাপাশি চীনের “মৌলিক স্বার্থ” রক্ষায় কাজ করেছে বেইজিং। এই ব্যবস্থায় হংকংবাসীর সর্বসম্মত অনুমোদন রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই নীতির পক্ষে।’

‘এক দেশ দুই ব্যবস্থা’-এর অধীনে হংকং স্বায়ত্তশাসন পায়। পাশাপাশি বাক ও সমাবেশের স্বাধীনতাও রয়েছে তাদের। এ ছাড়া মূল ভূখণ্ড চীনে পাওয়া যায় না এমন অন্যান্য অধিকার ভোগ করেন হংকংয়ের বাসিন্দারা।

হংকং প্রশ্নে আপস নয়: চীন

ব্রিটেন এবং চীনের মধ্যে একটি চুক্তির মাধ্যমে ‘এক দেশ দুই ব্যবস্থা’ নীতি প্রণয়ন হয়েছিল, হংকংয়ে আইনে অন্তর্ভুক্ত। চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০৪৭ সালে। তবে চুক্তি শেষে হংকং কী মর্যাদা পাবে তা অনিশ্চিত। যদিও চীন কোনোদিনই চাইবে না অঞ্চলটি হাতছাড়া হোক।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে হংকংয়ের। অঞ্চলটির ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ, বাকস্বাধীনতা ও ভিন্নমতকে দমন করে এমন আইন ও সংস্কার আনে চীন সরকার। এতে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে শি চিন সরকার।

হংকং প্রশ্নে আপস নয়: চীন

হংকংয়ে শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে এটা স্পষ্ট যে চীন রাজনৈতিক মডেল সংরক্ষণ করতে চায়। তবে কয়েক বছর ধরে হংকংয়ে বড় বিক্ষোভ দেখেছে বিশ্ব। পশ্চিমা দেশগুলোসহ অনেকেই হংকংয়ে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেছে।

ভাষণে শি চিন বলেন, ‘হংকংয়ের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই নীতি অপরিহার্য। এ নিয়ে কোনো আপস করা উচিত হবে না।

‘পৃথিবীর কোনো দেশ বা অঞ্চলের কোনো মানুষ কখনই রাজনৈতিক ক্ষমতা এমন শক্তি বা ব্যক্তিদের হাতে যেতে দেবে না যারা নিজেদের দেশকে ভালোবাসে না। এমনকি বিক্রি বা বিশ্বাসঘাতকতাও করে না।’

আরও পড়ুন:
হংকংয়ের মিডিয়া টাইকুন লাইয়ের ফের কারাদণ্ড
হংকংয়ে ‘দেশপ্রেম আইন’ পাস
হংকংয়ে গণতন্ত্রকামীদের ধরপাকড়, যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা
হংকংয়ের আইনপ্রণেতাদের গণপদত্যাগ
চীনের প্রস্তাবে অযোগ্য ঘোষিত হংকংয়ের ৪ আইনপ্রণেতা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The Indian government gave Twitter one last chance

টুইটারকে শেষ সুযোগ দিল ভারত সরকার

টুইটারকে শেষ সুযোগ দিল ভারত সরকার ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো নোটিশ পালনে ব্যর্থ হচ্ছে টুইটার ইন্ডিয়া। ছবি: সংগৃহীত
চলতি সপ্তাহের গোড়ার দিকে টুইটারের অভ্যন্তরীণ কিছু তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক অ্যাকাউন্ট ও টুইট ব্লক করতে বলা হয়েছিল। তবে সরকারের নির্দেশনা টুইটারের পক্ষ থেকে মানা হয়েছিল কি না তা জানা যায়নি।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে টুইটার ইন্ডিয়াকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ম মেনে চলার শেষ সুযোগ দেয়া হয়েছে।

২৭ জুন ভারতের ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটিতে পাঠানো নতুন এক নোটিশে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় থেকে ৬ ও ৯ জুন পাঠানো নোটিশ মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে টুইটার।

নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারের সব শর্ত মানতে হবে টুইটারকে। অন্যথায় ভারতে তারা অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা হারাবে। ফলে যাবতীয় পোস্টের জন্য দায় নিতে হবে টুইটারকেই।

ভারত সরকার অভিযোগ করে আসছে, ‘তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের ধারা ৬৯-এর অধীনে কিছু বিষয়বস্তু প্ল্যাটফর্মটি থেকে সরিয়ে নেয়ার নোটিশগুলোতে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি।’

ভারতের টুইটারের চিফ কমপ্লায়েন্স অফিসারকে উদ্দেশ করে দেয়া এক বার্তায় বলা হয়েছে, ‘যদি টুইটার তথ্য ও প্রযুক্তি আইন লঙ্ঘন করতে থাকে, তাহলে আইনের অধীনেই এর প্রতিক্রিয়া পাবে।’

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যবহারকারী অপরাধমূলক কিংবা অবমাননাকর কোনো কিছু পোস্ট করলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হবে। সেটা টুইটার, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ যেকোনো প্রতিষ্ঠানই হতে পারে।

এখন পর্যন্ত ভারতে ব্যবসা পরিচালনা করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ‘মধ্যস্থতাকারী’র সুবিধা পেয়ে এসেছে। বিতর্কিত ও অনৈতিক কোনো পোস্টের দায় সরাসরি প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়েনি।

ভারত সরকার এবার জানিয়ে দিয়েছে, এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হতে পারে।

এর আগে চলতি সপ্তাহের গোড়ার দিকে টুইটারের অভ্যন্তরীণ কিছু তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক অ্যাকাউন্ট ও টুইট ব্লক করতে বলা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ফ্রিডম হাউস, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে কিছু টুইট।

তবে সরকারের নির্দেশনা টুইটারের পক্ষ থেকে মানা হয়েছিল কি না তা জানা যায়নি।

আরও পড়ুন:
উদয়পুরের ঘটনায় শান্তি বজায় রাখার আহ্বান মমতার
টি-টোয়েন্টি সিরিজে আয়ারল্যান্ডকে ক্লিনসুইপ ভারতের
জুবায়ের ও তিস্তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ মমতার
জি-৭ বিবৃতি ও টুইটারের তথ্যে মোদি সরকারের দ্বিচারিতা
নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য তালিকায় AltNews-এর জুবায়ের

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Teachers must take risks against distortion of history Amartya

ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে ঝুঁকি নিতে হবে শিক্ষকদের: অমর্ত্য

ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে ঝুঁকি নিতে হবে শিক্ষকদের: অমর্ত্য নোবেলজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ প্রফেসর অমর্ত্য সেন। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ আনছে বিভিন্ন মহল। এ প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেন বলেন, ইতিহাসের উদ্দেশ্য হলো সত্য সাধনা করা। ভুল করা হলে ঠিক করতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষকদের এর জন্য ঝুঁকি নিতে হবে।  

ইতিহাস বিকৃতি হলে, ইতিহাসে সত্য সাধনা না হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে শিক্ষকদের ঝুঁকি নিতে হবে বলে মনে করেন ভারতের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।

বৃহস্পতিবার কলকাতার সল্টলেকে অমর্ত্য সেন রিসার্চ সেন্টারের উদ্বোধন করেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও হার্ভাড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর অমর্ত্য সেন।

সেখানে প্রতীচি ট্রাস্টের একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে ভারতের বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তৃতা করেন অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। এ সময় ভারতের বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি।

একজন স্কুলশিক্ষক নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও হার্ভাড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অমর্ত্য সেনকে প্রশ্ন করেন, যেভাবে সিলেবাস থেকে ইতিহাসের নানা অধ্যায় সরিয়ে নেয়া হচ্ছে, বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে একজন শিক্ষকের ভূমিকা কী?

জবাবে অমর্ত্য সেন বলেন, ইতিহাসের উদ্দেশ্য হলো সত্য সাধনা করা। ভুল করা হলে ঠিক করতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষকদের এর জন্য ঝুঁকি নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বহু বিপ্লবীর জেলযাত্রার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় কত মানুষ দ্বীপান্তরে গিয়েছেন, জেলে গিয়েছেন, সেইসব তো আমরা জানি। ঝুঁকি নিয়েই তারা এসব কাজ করেছেন।’

তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতাই শেষ দেখা নয়।

ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ আনছে অনেক মহল।

কেন্দ্রীয় স্কুলগুলোর সিলেবাস থেকে মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস সরিয়ে নেয়া হয়েছে। মুসলিম শাসন আমলে তাজমহল থেকে জ্ঞানবাপীর মতো বিভিন্ন স্থাপত্য কীর্তির ভেতরে হিন্দু মন্দির ও দেবদেবীর উপস্থিতির দাবি করে দেশের বিভিন্ন আদালতে মামলাও চলছে।

এ বিষয়ে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘ভারতের ইতিহাস চর্চা শেষ হয়ে যায়নি, ইতিহাস লেখার প্রক্রিয়া আজও চলছে। ফলে কোনটা ইতিহাস আর কোনটা বিকৃতি, সে ব্যাপারে এখনই অবস্থান নেয়ার সময় আসেনি।’

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইতিহাসবিদ সুরঞ্জন দাস বলেন, ‘ইতিহাস হবে সত্যনিষ্ঠ । বিকৃতির কোনো জায়গা নেই ইতিহাসে।’

আরও পড়ুন:
টি-টোয়েন্টি সিরিজে আয়ারল্যান্ডকে ক্লিনসুইপ ভারতের
জুবায়ের ও তিস্তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ মমতার
জি-৭ বিবৃতি ও টুইটারের তথ্যে মোদি সরকারের দ্বিচারিতা
নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য তালিকায় AltNews-এর জুবায়ের
শুভেন্দুর গ্রেপ্তার দাবি

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Nupur Sharma is solely responsible for what is happening in the country Supreme Court of India

নূপুর শর্মাকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলল আদালত

নূপুর শর্মাকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলল আদালত নূপুর শর্মার দায়িত্বহীন মন্তব্য গোটা দেশে আগুন ছড়িয়ে দিয়েছে, জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ফাইল ছবি
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলে, ‘তার পুরো দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। গোপন বিষয় নিয়ে নূপুর শর্মার দায়িত্বহীন ও বেফাঁস মন্তব্য গোটা দেশে আগুন ছড়িয়ে দিয়েছে।’

ভারতে এখন যা ঘটছে তার জন্য ক্ষমতাসীন বিজেপির বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মাকে এককভাবে দায়ী করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। গোপন বিষয় নিয়ে নূপুর শর্মার দায়িত্বহীন ও বেফাঁস মন্তব্য গোটা দেশে আগুন ছড়িয়ে দিয়েছে, জানায় দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়টি উল্লেখ করে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট বিজেপির সাবেক এ মুখপাত্রের কঠোর সমালোচনা করে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তান টাইমস এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

আদালত আরও জানায়, উত্তরপ্রদেশের বারানসীর জ্ঞানবাপী মসজিদ নিয়ে হিন্দু-মুসলিমের বিরোধের মধ্যে মোহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে নূপুর শর্মার মন্তব্য দেশজুড়ে ভয়াবহ বিতর্কের জন্ম দেয়।

আদালত আরও বলে, ‘তার পুরো দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

৩৭ বছর বয়সী এই নেত্রী দেশের বিভিন্ন জায়গায় তার বিরুদ্ধে করা এফআইআর নয়াদিল্লিতে স্থানান্তরের আবেদন জানালে আদালত তার বিষয়ে এমন পর্যবেক্ষণ দেয়।

এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে কাতার, সৌদি আরব, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ভারতকে চিঠি দিয়েছে। পরে বিজেপি সরকার জানিয়েছে, ভারতে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে।

আদালত জানিয়েছে, তার বেফাঁস মন্তব্য রাজস্থানের উদয়পুরে দর্জি হত্যার মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য দায়ী। এই হত্যার জেরে পুরো রাজ্য ও এর বাইরে উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ এখনও রাজস্তানে বহাল রয়েছে যেটি ভারতের অন্যতম প্রধান পর্যটক আকর্ষণীয় স্থান।

মহানবীকে (সা.) নিয়ে নূপুর শর্মার অবমাননাকর মন্তব্য ভিন্নধারার গণমাধ্যমে তুলে ধরার জেরে গ্রেপ্তার হন ভারতের জনপ্রিয় ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট অল্টনিউজের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক মোহাম্মদ জুবায়ের।

আদালত তিরস্কার করে আরও জানিয়েছে, নূপুরের মন্তব্যের জেরে সহিংসতা ছড়িয়েছে উত্তর প্রদেশেও।

সম্প্রতি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে নূপুর শর্মাকে ডেকে কথা বলতে চায় পুলিশ, তবে সেসময় তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে ই-মেইলে ২৫ জুন পুলিশের সামনে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয় নূপুরকে। কিন্তু উত্তর দেননি তিনি।

এরপরই নূপুরের খোঁজে তার নয়াদিল্লির বাড়িতে উপস্থিত হয় পুলিশের একটি দল। কিন্তু শুক্রবার পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে বিজেপির এই সাবেক মুখপাত্রের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

শুধু মুম্বাই নয়, বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য পশ্চিমবঙ্গেও নূপুর শর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি থানায় তার বিরুদ্ধে করা হয় এফআইআর।

২০ জুন থানায় উপস্থিত হওয়ার জন্য তলবও করা হয়েছে তাকে। কিন্তু নূপুর সেখানে যাবেন কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের বিতর্ক অনুষ্ঠানে নূপুর শর্মা মহানবীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিতর্কিত মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা নবীন কুমার জিন্দালও।

এরপরই শুরু হয় সমালোচনা আর বিক্ষোভ। দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় সংঘর্ষ ও সহিংসতা। বিভিন্ন রাজ্যে এরই মধ্যে নূপুরের বিরুদ্ধে মামলা হয়। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ক্ষোভ পৌঁছেছে বিভিন্ন মুসলিম দেশে। কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে কোনো কোনো দেশ।

এ ইস্যুতে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় বিজেপির পক্ষ থেকে নূপুর ও নবীনকে ছয় বছরের জন্য বরখাস্ত করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম এবং পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, সেসব দেশে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ঘোষণাও দেয় মুসলমানরা।

এ ঘটনার পর দলের নেতা ও মুখপাত্রদের টিভি বিতর্কে অংশ নেয়ার ব্যাপারে নতুন নিয়ম করে বিজেপি। এখন থেকে কেবল দলটির অনুমোদিত মুখপাত্র এবং প্যানেলিস্টরা টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নিতে পারবেন। টিভি বিতর্কে অংশ নিতে মুখপাত্র এবং প্যানেলিস্ট নির্ধারণ করে দেবে দলটির মিডিয়া সেল।

নূপুরকে গ্রেপ্তারের দাবি উঠে বিভিন্ন মহলে। তবে এখনও পর্যন্ত নূপুর-বিতর্কে মুখ খোলেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আরও পড়ুন:
ভারতে ‘তালেবানি মানসিকতা’ চলবে না: আজমির শরিফ প্রধান
শিক্ষক নিপীড়ন: পুলিশের নির্লিপ্ততা নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশ্ন
সেই নূপুরের পক্ষ নেয়ায় রাজস্থানে দর্জি খুন, ১৪৪ ধারা
জবিতে শিক্ষার্থীদের ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক
আ.লীগের পতন জনগণের দাবিতে পরিণত হয়েছে: ফখরুল

মন্তব্য

p
উপরে