× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

আন্তর্জাতিক
Scene of killing of Ukrainian Ukrainians on CCTV
hear-news
player

বেসামরিক ইউক্রেনীয়দের হত্যার দৃশ্য সিসিটিভিতে

বেসামরিক-ইউক্রেনীয়দের-হত্যার-দৃশ্য-সিসিটিভিতে ভিডিও ফুটেজে অস্ত্র হাতে থাকা রুশ দুই সেনা। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়া ও ইউক্রেনের সেনাদের মধ্যে লড়াই তুঙ্গে থাকার মধ্যে একটি সাইকেলের দোকানে ছিলেন নিরাপত্তাকর্মী লিওনিদ। ভিডিওতে দেখা যায়, সেই দোকানে গিয়ে লিওনিদসহ নিরস্ত্র দুই ইউক্রেনীয়কে হত্যা করেন রুশ সেনারা। পরবর্তী সময়ে তারা দোকানটি লুট করেন।

লিওনিদ প্লিয়াৎস ও তার বসের পিঠে রুশ সেনাদের গুলি চালানোর দৃশ্যটি ধারণ করা হয়েছিল ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরায়। সে ফুটেজ হাতে পেয়েছে বিবিসি। সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্তের জন্য সেটি এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন ইউক্রেনের প্রসিকিউটররা।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘটনাটি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আশপাশে রুশ সেনাদের সঙ্গে ইউক্রেনের বাহিনীর তুমুল লড়াইয়ের সময়কার। সে সময় রাজধানীমুখী প্রধান প্রধান সড়কে যুদ্ধ চলছিল দুই বাহিনীর।

এতে উল্লেখ করা হয়, লড়াই তুঙ্গে থাকার মধ্যে একটি সাইকেলের দোকানে ছিলেন নিরাপত্তাকর্মী লিওনিদ। ভিডিওতে দেখা যায়, সেই দোকানে গিয়ে লিওনিদসহ নিরস্ত্র দুই ইউক্রেনীয়কে হত্যা করেন রুশ সেনারা। পরবর্তী সময়ে তারা দোকানটি লুট করেন।

বিবিসি বলছে, ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার টুকরা ফুটেজগুলো জোড়া লাগিয়ে পুরো বিষয়টি দেখার চেষ্টা করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

ঘটনার দিন লিওনিদ যাদের ফোন করেছিলেন এবং যেসব স্বেচ্ছাসেবী ইউক্রেনীয় যোদ্ধা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন, তাদের বক্তব্যও নিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চুরি করা একটি ভ্যানে করে ঘটনাস্থলে আসেন রুশ সেনারা। ভ্যানটিতে রুশ সেনারা যে ভঙ্গিতে বিজয়সূচক ‘ভি’ চিহ্ন দেখান, সে রকম একটি চিত্র এবং ‘ট্যাংক স্পেৎসনাজ’ শব্দযুগল আঁকা ছিল।

সেনাদের পরনে ছিল সামরিক পোশাক। উঁচিয়ে ধরা বন্দুকের ট্রিগারে ছিল তাদের হাত।

বিবিসির কাছে থাকা ফুটেজে দেখা যায়, বেসামরিক নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতে হাত উঁচু করে রুশ সেনাদের দিকে এগোচ্ছিলেন লিওনিদ। শুরুতে লিওনিদ ও তার বসের সঙ্গে বেষ্টনীর বাইরে থেকে কথা বলছিলেন রুশ সেনারা।

সে সময়ের ফুটেজের কোনো অডিও পাওয়া যায়নি, তবে দুজনকে শান্ত দেখা যায়। এমনকি তারা ধূমপানও করেছিলেন।

পরবর্তী সময়ে দুই ইউক্রেনীয়কে ঘটনাস্থল ছাড়তে দেখা যায়। রুশ সেনারাও সেখান থেকে চলে যেতে থাকেন।

বিবিসির ফুটেজে দেখা যায়, হঠাৎ করে সেনারা আগের জায়গায় এসে দুই ইউক্রেনীয়র পিঠে গুলি চালাতে থাকেন। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয় তাৎক্ষণিক।

লিওনিদ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে তার কক্ষ পর্যন্ত যান। রক্তপাত কমাতে তিনি কোমরে বেল্টও বাঁধেন। তারপর ফোনে সাহায্য চান বন্ধু ভাসিল পোদলেভস্কির কাছে।

লিওনিদ তার বন্ধুকে জানান, সেনারা দাবি করেছিলেন, তারা বেসামরিক লোকজনকে হত্যা করেন না। এরপর তারা তাকে (লিওনিদ) গুলি করেন।

আরও পড়ুন:
পোল্যান্ডে রুশদের ওপর হামলার ভিডিও প্রকাশ
বৈশ্বিক ক্ষুধা পরিস্থিতির শঙ্কায় জাতিসংঘ
ইউক্রেনকে ৪ হাজার কোটি ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইউক্রেনে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি পুতিনের: যুক্তরাষ্ট্র
ইইউতে যোগ দিতে ইউক্রেনের লাগবে ‘কয়েক দশক’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Russian civilian killed in Ukrainian shelling

‘ইউক্রেনীয় গোলায় রুশ বেসামরিকের মৃত্যু’

‘ইউক্রেনীয় গোলায় রুশ বেসামরিকের মৃত্যু’ ইউক্রেনীয় গোলার আঘাতে বিধ্বস্ত রাশিয়ার আবাসিক ভবন। ছবি: সংগৃহীত
গত বুধবারও রাশিয়ার কুরস্ক ও বেলগোরোদে বেশ কয়েকটি গ্রামে ইউক্রেনীয় সেনাদের গোলা নিক্ষেপের ঘটনায় সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে একজন আহত হয়েছিলেন। রুশ তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের হামলার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে।

ইউক্রেনে চলছে রুশ সামরিক অভিযান। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ভেতরেও গোলা নিক্ষেপ করছেন ইউক্রেনীয় সেনারা। এবার দেশটির কুরস্ক অঞ্চলের তেতকিনো গ্রামে ইউক্রেনের গোলাবর্ষণে অন্তত একজন রুশ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুরস্ক অঞ্চলের মেয়র রোমান স্টারোভয়েট এক টেলিগ্রাম পোস্টে হতাহতের বিষয়টি বলেছেন।

স্ট্ররোভয়েট দাবি করেন, ইউক্রেনীয় সেনারা ভোরবেলা গোলা নিক্ষেপ করেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় কমপক্ষে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

মেয়র জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় হামলায় নিহত ব্যক্তি পেশায় একজন ট্রাকচালক।

ইউক্রেনীয় গোলার আঘাতে গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দমকলকর্মীরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন। এর মধ্যে কিছু অবিস্ফোরিত শেলও রয়ে গেছে।

তবে ইউক্রেন হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগেও রাশিয়ার ভেতরে যেকোনো হামলার বিষয়ে ইউক্রেন কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে গত বুধবারও রাশিয়ার কুরস্ক ও বেলগোরোদে বেশ কয়েকটি গ্রামে ইউক্রেনীয় সেনাদের গোলা নিক্ষেপের ঘটনায় সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে একজন আহত হয়েছিলেন।

রুশ তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের হামলার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকেই পশ্চিমাদের বাধা উপেক্ষা করে পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে চলছে রুশ সেনাদের সামরিক অভিযান।

ইউক্রেনকে ‘অসামরিকায়ন’ ও ‘নাৎসিমুক্তকরণ’ এবং দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের রুশ ভাষাভাষী বাসিন্দাদের রক্ষা করার জন্যই এমন সামরিক পদক্ষেপ বলে দাবি করে আসছে রাশিয়া।

ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন:
বেসামরিক ইউক্রেনীয়দের হত্যার দৃশ্য সিসিটিভিতে
পোল্যান্ডে রুশদের ওপর হামলার ভিডিও প্রকাশ
বৈশ্বিক ক্ষুধা পরিস্থিতির শঙ্কায় জাতিসংঘ
ইউক্রেনকে ৪ হাজার কোটি ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইউক্রেনে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি পুতিনের: যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The Ukrainian cat won the award by raising money through blogs

কানে পুরস্কার জিতল স্টেপান

কানে পুরস্কার জিতল স্টেপান ‘ওয়ার্ল্ড ইনফ্লুয়েন্সার্স অ্যান্ড ব্লগার্স অ্যাওয়ার্ডস’ জিতেছে ইউক্রেনের স্টেপান। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের পশু-পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিতে তহবিল সংগ্রহের জন্য এই খেতাব জিতে নেয় খারকিভের বিড়ালটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে স্টেপানের পুরস্কার জেতার ভিডিও।

চলতি বছরের ‘ওয়ার্ল্ড ইনফ্লুয়েন্সার্স অ্যান্ড ব্লগার্স অ্যাওয়ার্ডস’ নামের আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছে ইউক্রেনের আলোচিত সেই বিড়াল স্টেপান। ইউক্রেনের পশু-পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিতে তহবিল সংগ্রহের জন্য এই খেতাব জিতে নেয় খারকিভের বিড়ালটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে স্টেপানের পুরস্কার জেতার ভিডিও।

গত এপ্রিলে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল ইউক্রেনের খারকিভ শহরের তারকা বিড়াল স্টেপান। ব্লগারদের জন্য বিশ্বে প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের কান শহরে এই আয়োজন করা হয়।

শহরের পাঁচ তারকা হোটেল মার্টিনেজে অনাড়ম্বর আয়োজনে উপস্থিত ছিল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সংস্থা ও প্রভাবক (ইনফ্লুয়েন্সার)। আয়োজনের গড় প্রবেশ মূল্য ছিল এক হাজার ইউরো (প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা)!

উপস্থিত ছিলেন টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ২০ কোটিরও বেশি ফলোয়ারের খাবি লেমও। যেসব ভিডিও দিয়ে তিনি এত জনপ্রিয় হয়েছেন, সেসব ভিডিওতে কোনো কথা বলেন না খাবি।

তিনি বলেন, ‘ধন্যবাদ সবাইকে! আমি অনেক খুশী, অনেক খুশী!’

ইউক্রেন যুদ্ধ পুরোদমে শুরু হলে, দুই সপ্তাহের জন্য নেট দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল ১৩ বছরের স্টেপান। সে সময়ে অনেকেই নানা আশঙ্কা করেছিল। পরে অবশ্য তার মালিক ভক্তদের আশ্বস্ত করেন। জানান, খারকিভে ক্রমাগত চলা গোলা হামলার কারণে ইন্টারনেট থেকে দূরে ছিল সে। পরে সুযোগ বুঝে এক সময়ে স্টেপানকে নিয়ে ফ্রান্সে চলে যান তার মালিক আন্না।

‘লাভইউস্টেপান’ নামের ইন্সটাগ্রাম পেজ চালান স্টেপান। ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ার ১১ লাখের কাছাকাছি। অ্যাকাউন্টটি অবশ্য চালান স্টেপানের মালিক আন্না।

ইয়াহু নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টেপানকে এক মাস বয়সে রাস্তা থেকে উদ্ধার করেছিলেন আন্না। ২০১৯ সালে খ্যাতি অর্জন করেছিল, যখন টিকটকে তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। স্টেভি ওয়ান্ডারের ‘আই জাস্ট কলড টু সে আই লাভ ইউ’ গানটিতে এক গ্লাস ওয়াইন নিয়ে নানা কারসাজি করেছিল স্টেপান, যা ২৭ মিলিয়নের বেশিবার দেখা হয়েছিল।

স্টেপানের মালিক আন্না জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় অর্থ ইউক্রেনের পশু-পাখির সহায়তায় ব্যবহার করা হয়। এরই মধ্যে ১০ হাজার ডলার এ কাজে ব্যয় করেছে তারা।

আরও পড়ুন:
ইউক্রেন ছাড়ল স্টেপান, স্বস্তিতে ১১ লাখ ভক্ত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The United Nations has warned of a global food crisis in the coming months

আগামী কয়েক মাসে বিশ্বে খাদ্য সংকট, সতর্কতা জাতিসংঘের

আগামী কয়েক মাসে বিশ্বে খাদ্য সংকট, সতর্কতা জাতিসংঘের স্থানীয় সময় বুধবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বক্তব্য দেন। ছবি: রয়টার্স
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেন, ‘এই সংঘাত কমপক্ষে এক কোটি মানুষকে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে। এর ফলে অপুষ্টি, গণক্ষুধা এবং দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতিও দেখা দিতে পারে।’

খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে সুপরিচিত ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংঘাতের কারণে আগামী কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

বিশ্বে মোট গম উৎপাদনের ৩০ শতাংশ হয় ইউক্রেন ও রাশিয়ায়। আর ভুট্টা উৎপাদনের ২০ শতাংশ উৎপাদিত হয় এই দুই দেশে। যুদ্ধের কারণে এরই মধ্যে ভেঙে পড়েছে এই দুই দেশ থেকে গম ও ভুট্টাসহ অধিকাংশ খাদ্যপণ্যের রপ্তানি। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলনিয়সের সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন সব তথ্য।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেন, ‘ইউক্রেনে রুশ হামলার কারণে আগামী কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ফলে দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি হবে।’

স্থানীয় সময় বুধবার নিউ ইয়র্কে বিশ্বসংস্থাটির মহাসচিব এমন সর্তকতার কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধের ফলে দ্রব্যের উচ্চমূল্যের কারণে দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।’

মহাসচিব বলেন, ‘ইউক্রেন যদি যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রায় রপ্তানি আবারও শুরু করতে না পারে, তা হলে বিশ্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে; আর সেই দুর্ভিক্ষ কয়েক বছর ধরে চলবে।’

এই যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের বন্দরগুলো থেকে রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। এসব বন্দর দিয়ে সংঘাতের আগে বিপুল পরিমাণ সূর্যমুখীর তেল, ভুট্টা ও গমের মতো খাদ্যশস্য রপ্তানি হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী এসব নিত্যপণ্যের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং এর বিকল্প পণ্যগুলোর দামও বেড়ে গেছে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই বছর বিশ্বে খাদ্যের দাম ৩০ শতাংশের বেশী বেড়েছে।

গুতেরেস বলেন, এই সংঘাত কমপক্ষে এক কোটি মানুষকে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে। এর ফলে অপুষ্টি, গণক্ষুধা এবং দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতিও দেখা দিতে পারে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘আমরা যদি এখন থেকে একযোগে কাজ শুরু করতে পারি, তবে পৃথিবীতে খাদ্যের সংকট দেখা দেবে না। এ সমস্যা যদি আমরা শিগগিরই সমাধানে ব্যর্থ হই তবে সামনের মাসগুলোতেই আমরা খাদ্য ঘাটতির মুখোমুখি হতে পারি।’

আরও পড়ুন:
বৈশ্বিক ক্ষুধা পরিস্থিতির শঙ্কায় জাতিসংঘ
ইউক্রেনকে ৪ হাজার কোটি ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Sweden is interested in green and renewable energy in Bangladesh

বাংলাদেশের সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আগ্রহ সুইডেনের

বাংলাদেশের সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আগ্রহ সুইডেনের সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার বার্জ ভন লিন্ডের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল বুধবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। ছবি: নিউজবাংলা
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘কার্বন ট্রেডের আওতায় এখানে বিনিয়োগ হতে পারে, যাতে কম মূল্যে নবায়ণযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ফুয়েল মিক্সেও ক্লিন এনার্জি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। আর এইচঅ্যান্ডএম ও সুইডেন স্রেডার সঙ্গে সমন্বয় করে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করলে বাংলাদেশে নবায়ণযোগ্য জ্বালানি বা সবুজ রূপান্তর আরো দ্রুত হবে।’

বাংলাদেশের জ্বালানি খাত বিশেষ করে সবুজ জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপের দেশ সুইডেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে বুধবার সচিবালয়ে দেখা করে এই আগ্রহের কথা জানিয়েছে ঢাকায় সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার বার্জ ভন লিন্ডের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল।

সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি এবং সংশ্লিষ্ট খাতে কারিগরি ও প্রযুক্তি সহায়তা নিয়েও আলোচনা করে দু’পক্ষ।

সুইডিশ রাষ্ট্রদূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং এ বিষয়ে সুইডেনের অবস্থান নিয়েও আলোচনা করেন। সুইডিশ কোম্পানি এইচঅ্যান্ডএম-এর গ্লোবাল হেড ইউসুফ ইল নাটুর জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি, নবায়ণযোগ্য জ্বালানি, সবুজ রূপান্তর ও রিসাইক্লিংয়ের ওপর আলোকপাত করেন। কার্বন নিঃসরণ এবং এর প্রতিকার নিয়েও আলোচনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ক্লিন এনার্জির প্রসারে কাজ করছে। খুবই কম কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হয়েও বাংলাদেশ এতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। কার্বন ট্রেডের আওতায় এখানে বিনিয়োগ হতে পারে, যাতে কম মূল্যে নবায়ণযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। আর ফুয়েল মিক্সে ক্লিন এনার্জি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। আর এইচঅ্যান্ডএম এবং সুইডেন স্রেডার সঙ্গে সমন্বয় করে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশে নবায়ণযোগ্য জ্বালানি বা সবুজ রূপান্তর আরো দ্রুত হবে।’

প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন সুইডিশ অ্যাম্বেসির প্রথম সচিব অ্যানা ভানটেসন, কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউর রহমান, এইচঅ্যান্ডএমের পাবলিক অ্যাফেয়ার ম্যানেজার মাশাররাত কাদের, এনফোর্সমেন্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার তানজিদা ইসলাম ও নুসরাত চৌধুরী।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Colonel criticizes Russia on Russian TV

রুশ টিভিতে রাশিয়ার সমালোচনা কর্নেলের

রুশ টিভিতে রাশিয়ার সমালোচনা কর্নেলের উত্তর ক্রিমিয়ায় রুশ ট্যাংক বহর। ছবি: সংগৃহীত
রুশ অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল ও সামরিক বিশ্লেষক মিখাইল খোদারেনেক সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি (রাশিয়ার জন্য) স্পষ্টতই খারাপ হয়ে যাবে কারণ ইউক্রেন পশ্চিমাদের কাছে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা পাবে এবং ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী দশ লাখ মানুষকে অস্ত্র দিতে পারে।

ইউক্রেনে চলছে রুশ সামরিক অভিযান। ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অভিযানের পর থেকেই রাশিয়ার মূলধারার গণমাধ্যমগুলোকে রুশ বাহিনীর যেকোনো অপারেশনাল ব্যার্থতার বিষয়ে নিশ্চুপ থাকতে দেখা গেছে এবং রুশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনেকটাই পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমের বিপরীত তথ্য প্রচার করেছে।

এবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় এক টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে ক্রেমলিনের দাবিকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

ক্রেমলিন শুরু থেকেই বলে আসছে, ইউক্রেনে সামরিক অভিযান রাশিয়ার পরিকল্পনা মাফিকই হচ্ছে। এতদিন রুশ টেলিভিশন চ্যানেলকে এই বিষয়টি প্রচার করতে দেখা গেছে।

এই প্রথম রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের ৬০ মিনিটের টকশো অনুষ্ঠান টুয়াইস ডেইলির প্রোগ্রামের অতিথি অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল ও সামরিক বিশ্লেষক মিখাইল খোদারেনেক রুশ টেলিভিশনে সচরাচর প্রচার করা তথ্যের বিপরীতে ভিন্ন কিছু উপস্থাপন করেছেন।

রুশ টিভিতে রাশিয়ার সমালোচনা কর্নেলের
রুশ অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল ও সামরিক বিশ্লেষক মিখাইল খোদারেনেক

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘পরিস্থিতি (রাশিয়ার জন্য) স্পষ্টতই খারাপ হয়ে যাবে কারণ ইউক্রেন পশ্চিমাদের কাছে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা পাবে এবং ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী দশ লাখ মানুষকে অস্ত্র দিতে পারে।’

টকশোতে যুদ্ধক্ষেত্রে নৈতিক অবস্থানের বিষয়ে আলোকপাত করেছেন মিখাইল। তিনি ইউক্রেনীয় সেনাদের বিষয়ে বলেন, ‘তাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করার আকাঙ্খা অনেক বেশি বিদ্যমান। আর যুদ্ধক্ষেত্রের চূড়ান্ত বিজয় সেনাদের মনোবল দ্বারা নির্ধারিত হয়।’

রুশ এই সামরিক বিশ্লেষকের মতে, রাশিয়ার সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিই সবচেয়ে বড় সমস্যা। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ব থেকে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং পুরো বিশ্ব আমাদের বিরুদ্ধে, যদিও আমরা একটা স্বীকার করতে চাই না। আমাদের এটি সমাধান করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমাদের বিরুদ্ধে ৪২টি দেশের জোট থাকে এবং যখন আমাদের সম্পদ, সামরিক ও প্রযুক্তি বিষয় সীমিত হয় তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে মনে করা যায় না।’

তার বক্তব্যের বিষয়ে স্টুডিওর অন্যান্য অতিথিরা চুপ ছিলেন। এমন কি প্রোগ্রামের উপস্থাপক ওলগা স্কাবেয়েভা, যাকে ক্রেমলিনপন্থি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সবসময় ক্রেমলিনের পক্ষে যিনি উচ্চকন্ঠ। অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেলের বক্তব্যের বিষয়ে তাকেও চুপ করে থাকতে দেখা যায়।

এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রের গতি-প্রকৃতি মস্কোর পরিকল্পনা মাফিক হচ্ছে না এবং রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হতে পারে ইউক্রেন, এমনটাই দাবি করেন ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ।

রুশ টিভিতে রাশিয়ার সমালোচনা কর্নেলের
ন্যাটোর মহাসচিব জেনারেল জেনস স্টলটেনবার্গ

রোববার প্রতিবেদকদের সঙ্গে হওয়া এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইউক্রেন-রাশিয়ার সংঘাতের সবশেষ পরিস্থিতির আলোকে এই মন্তব্য করেন স্টলটেনবার্গ। ‘ইউক্রেনের প্রতি দৃঢ় সমর্থন, ন্যাটোর প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করা এবং যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব’ ছিল বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু।

এ ছাড়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে জোটের ভবিষ্যৎ অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।

ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘রাশিয়ার পরিকল্পনামাফিক যুদ্ধ চলছে না। তারা কিয়েভ দখল করতে ব্যর্থ হয়েছে। খারকিভ থেকেও পিছু হটেছে। দোনবাসেও তারা হামলা স্থগিত করেছে। রাশিয়া তাদের কৌশলগত উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারছে না।’

তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন লড়াই চালিয়ে যাবে। সাহসিকতার সঙ্গে তাদের জন্মভূমি রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ন্যাটো আগের চেয়ে শক্তিশালী এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ দৃঢ়ভাবে একত্রিত।’

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেন ত্যাগ না করে রাজধানী কিয়েভে অবস্থান করেন এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান সেনা অভিযানের মধ্যেই ন্যাটোভুক্ত অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান রাজধানী কিয়েভ সফর করেন।

যদিও চলতি মাসের শুরুর দিকে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ দাবি করেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান পরিকল্পনামাফিকই চলছে।

আমরা বিশ্ব থেকে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং পুরো বিশ্ব আমাদের বিরুদ্ধে, যদিও আমরা একটা স্বীকার করতে চাই না। আমাদের এটি সমাধান করতে হবে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকেই পশ্চিমাদের বাধা উপেক্ষা করে পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে চলছে রুশ অভিযান।

ইউক্রেনকে ‘অসামরিকায়ন’ ও ‘নাৎসিমুক্তকরণ’ এবং দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে রক্ষা করার জন্যই এমন সামরিক পদক্ষেপ বলে দাবি করে আসছে রাশিয়া। এছাড়া ক্রেমলিনের দাবি, ইউক্রেনকে অবশ্যই নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের ভূমিকায় থাকতে হবে, অর্থ্যাৎ দেশটি কখনোই পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হতে পারবে না। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন:
বৈশ্বিক ক্ষুধা পরিস্থিতির শঙ্কায় জাতিসংঘ
ইউক্রেনকে ৪ হাজার কোটি ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইউক্রেনে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি পুতিনের: যুক্তরাষ্ট্র
ইইউতে যোগ দিতে ইউক্রেনের লাগবে ‘কয়েক দশক’
পোল্যান্ডে রুশ দূতকে হেনস্তা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Holiday approval in the Spanish cabinet due to period complications

পিরিয়ড জটিলতায় ছুটি স্পেনের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

পিরিয়ড জটিলতায় ছুটি স্পেনের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পিরিয়ড জটিলতা যত দিন চলবে ততদিন নারীর সবেতনে ছুটি অনুমোদন করেছে স্পেনের মন্ত্রিসভা। ছবি: সংগৃহীত
খসড়ায় মাসে তিন অথবা পাঁচ দিনের ছুটির প্রস্তাব করা হলেও মন্ত্রিসভা কোনো সময় বেঁধে দেয়নি। ফলে পিরিয়ড জটিলতা যত দিন চলবে ততদিন পর্যন্ত সবেতনে ছুটি নিতে পারবেন স্পেনের নারীরা। তবে এজন্য চিকিৎসকের সনদ থাকতে হবে।   

পিরিয়ড বা মাসিকের সময় শারীরিক জটিলতায় ভোগা নারীদের কর্মক্ষেত্রে ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে স্পেন সরকার। মন্ত্রিসভা বৈঠকে মঙ্গলবার প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়।

এ ছাড়া ১৬ বছর বয়স হলে বাবা-মা বা অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই কিশোরীদের গর্ভপাতের অধিকারে সায় দিয়েছে স্পেনের মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত আরও বেশকিছু পরিকল্পনা অনুমোদন পেয়েছে।

চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে বিষয়গুলো এরপর পার্লামেন্টে তোলা হবে। আর সেখানে আইন হিসেবে পাশ হলে ইউরোপের প্রথম দেশের নাগরিক হিসেবে ঋতুস্রাবের সময় ছুটির অধিকার ভোগ করবেন স্পেনের নারীরা।

খসড়ায় এ ক্ষেত্রে মাসে তিন অথবা পাঁচ দিনের ছুটির প্রস্তাব করা হলেও মন্ত্রিসভা কোনো সময় বেঁধে দেয়নি। ফলে পিরিয়ড জটিলতা যত দিন চলবে ততদিন পর্যন্ত সবেতনে ছুটি নিতে পারবেন স্পেনের নারীরা। তবে এজন্য চিকিৎসকের সনদ থাকতে হবে।

বর্তমানে শুধু জাপান, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো এশিয়ার কয়েকটি দেশ ও জাম্বিয়ায় নারীর ঋতুস্রাবকালীন ছুটির অনুমোদন আছে।

স্প্যানিশ গাইনোকোলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, পিরিয়ডের সময় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী গুরুতর ব্যথায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ডিসমেনোরিয়া। পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগে থেকেই ব্যথায় ভোগা নারীদের বিবেচনায় নিলে সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ডিসমেনোরিয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া ও জ্বর।

মন্ত্রিসভা বৈঠক সামনে রেখে স্পেনের সমতাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রদ্রিগেজ গত শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এসব লক্ষণ (তীব্র পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া ও জ্বর) কারও মধ্যে দেখা গেলে সাময়িক শারীরিক জটিলতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কাজেই পিরিয়ডের সময়কার এসব জটিলতাকেও আমাদের স্বীকার করা প্রয়োজন। এ সময়টি অত্যন্ত কষ্টকর, তাই এতে আক্রান্ত নারীদের বাড়িতে বিশ্রামের সুযোগ দেয়া উচিত।’

পাশাপাশি এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘আমরা উন্নয়ন ঘটানোর চেষ্টা করছি, যাতে করে ব্যথা নিয়ে নারীদের কাজ করতে যাওয়া আর স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত না হয়। পিরিয়ডকে ঘিরে কলঙ্ক, লজ্জা ও নীরবতার অবসান যাতে ঘটে। আমরা অধিকার প্রশ্নে অগ্রগতি ঘটাতে চাই।’

স্পেনের বামপন্থি সরকারের এ উদ্যোগ অবশ্য বিরোধিতার মুখেও পড়ছে। বামপন্থি জোটের মধ্যে থাকা কিছু দল এবং ট্রেড ইউনিয়নের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বিভক্তি। কেউ কেউ বলছেন, এই পদক্ষেপের বিপরীত ফল হতে পারে। নারীদের নিয়োগ প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে হেয় করার প্রবণতা বাড়তে পারে।

স্পেনের মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবে ছুটির বিষয়টি ছাড়াও ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপে জোর দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুলগুলোতে স্যানিটারি প্যাড সরবরাহ, প্রান্তিক এলাকার নারীদের স্যানিটারি প্যাড ও ট্যাম্পন বিনা মূল্যে প্রদান এবং সুপার মার্কেটে এসব পণ্যের ওপর থেকে ভ্যাট বাতিল।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর
ভারতে তিন নারীর একজন সহিংসতার শিকার
নারী আইপিএলে যাচ্ছেন সালমা
মাদকে ঝোঁক বাড়ছে নারীর, বেশি ঝুঁকি সচ্ছল পরিবারে
নারী ডেটে ডাকলে যৌনতার সম্ভাবনা বেশি

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Erdogan tied the dream of Finland and Sweden

ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের স্বপ্ন পূরণে বাধা এরদোয়ান

ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের স্বপ্ন পূরণে বাধা  এরদোয়ান ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোতে যোগদানের বিরোধিতায় এরদোয়ান। ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটো সদস্য পদের আবেদনের বিরোধিতা করবে তুরস্ক। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আঙ্কারাকে তার অবস্থান পরিবর্তন করতে রাজি করাতে যেকোনো চেষ্টা নিষ্ফল হবে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আঙ্কারার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য চাপ দেয়া হবে। ফিনল্যান্ড ও সুইডেনও তুরস্কে প্রতিনিধিদল পাঠাবে।

ইউক্রেনে চলমান রুশ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা শঙ্কায় দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য দুই দেশের যোগদানকে সমর্থন করবে বলে জানিয়েছে।

এবার রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটো সদস্য পদের আবেদনের বিরোধিতা করবে তুরস্ক। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আঙ্কারাকে তার অবস্থান পরিবর্তন করতে রাজি করাতে যেকোনো চেষ্টা নিষ্ফল হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আঙ্কারার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য চাপ দেয়া হবে। এর আগে ন্যাটোর জেনারেল মিরসিয়া জিওনা আশা প্রকাশ করেছিলেন যে তুরস্ককে এই ইস্যুতে রাজি করানো যাবে।

সুইডিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হেলসিংকি ও স্টকহোম থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তুরস্ক সফরে যাবে। যদিও এরদোয়ান প্রেসব্রিফিংয়ে আপস না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এ সপ্তাহেই সুইডেন ও ফিনল্যান্ড রাশিয়ার হুমকি সত্ত্বেও ন্যাটোতে যোগদানের আবেদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও আগে থেকেই এরদোয়ান ফিনল্যান্ড ও সুইডেন সম্পর্কে বলেছেন, দুই দেশই তুরস্কে নিষিদ্ধ কুর্দিস্তান ওয়ার্কাস পার্টি (পিকেকে) ও পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (ডিএইচকেপি/সি) এর নিরাপদ অতিথিশালা।

তুরস্ক এই দুই সংগঠনকেই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।

পশ্চিমা এই সামরিক জোটের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৩০। ন্যাটোতে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের যোগ দিতে হলে প্রতিটি দেশের সমর্থন লাগবে। কোনো একটি ন্যাটোভুক্ত দেশ ফিনল্যান্ডের যোগদানের বিষয়ে ভেটো প্রদান করলেই দেশটির ন্যাটোতে যোগদান স্থগিত হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে এরদোয়ানের এই ঘোষণা দুই দেশের ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়টি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।

ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের স্বপ্ন পূরণে বাধা  এরদোয়ান
ন্যাটোর সঙ্গে ফিনল্যান্ডের যৌথ সামরিক মহড়ায় গোলাবর্ষণের দৃশ্য

তুরস্কের বিরোধিতা সত্ত্বেও ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক। ফিনল্যান্ড ও আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সিদ্ধান্ত আমাদের নিরাপত্তার সক্ষমতা এবং নরডিক দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বৃদ্ধি করবে।’

সানা মারিন আশা করেন যে ফিনিশ পার্লামেন্টে ন্যাটোতে যোগদানের আবেদনের প্রস্তাব পাস হবে।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে দুই নরডিক দেশ ফিনল্যান্ড ও সুইডেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে আসছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর দুই দেশই নিরপেক্ষ ভূমিকা থেকে বেরিয়ে এসে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে দুই দেশকেই সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিনল্যান্ডের এমন পদক্ষেপ রুশ-ফিনিশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি উত্তর ইউরোপের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ফিনল্যান্ডকে নিরপেক্ষ দেশের ভূমিকায় থাকতে বাধ্য করার জন্য রাশিয়া সামরিক প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য বিকল্প উপায়ে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

তবে ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্তের কারণে ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে মস্কো ঠিক কী কী পদক্ষেপ নেবে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি দেশটির সাম্প্রতিক দেয়া বিবৃতিতে। এর আগে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যদি ফিনল্যান্ড ও সুইডেন ন্যাটোতে যোগ দেয়, তবে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করবে।

রুশ নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ এর আগে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, দুই দেশ যাতে বাস্তবতা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যথায় বাড়ির পাশে পরমাণু অস্ত্র ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বসবাস করতে হবে তাদের।

ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের স্বপ্ন পূরণে বাধা  এরদোয়ান
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ

এ ছাড়া ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এর আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ন্যাটোর সম্প্রসারণ কীভাবে কার্যকর হয় এবং তা রুশ সীমান্তের কতটা কাছে চলে আসে, তার ওপর সবকিছু নির্ভর করছে।’

ফিনল্যান্ডে এরই মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান রাও নরডিক। যদিও বলা হচ্ছে, দেশটির ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়নি। পাওনা টাকা নিয়ে জটিলতার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাও নরডিক।

তবে ফিনল্যান্ড বলছে, রাশিয়া দেশটির চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। ফলে ফিনল্যান্ড বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ আনতে পারবে। এটি দেশটির জন্য খুব একটা চাপ নয়।

আরও পড়ুন:
ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্ত ফিনল্যান্ডের
ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে গেলে পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি রাশিয়ার
ন্যাটোর মহড়ায় প্রাণ গেল ৪ আমেরিকান সেনার
ন্যাটো-রাশিয়া পারমাণবিক যুদ্ধে প্রথম ঘণ্টায় যা হতে পারে
ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ: রাশিয়া

মন্তব্য

উপরে