× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

আন্তর্জাতিক
Al Jazeera journalist shot dead by Israeli forces
hear-news
player
print-icon

ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আল জাজিরার সাংবাদিক নিহত

ইসরায়েলি-বাহিনীর-গুলিতে-আল-জাজিরার-সাংবাদিক-নিহত আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ। ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের কাছে বুধবার ইসরায়েলি বাহিনীর তল্লাশির খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন শিরিন। ওই সময় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

ইসরায়েলের দখলকৃত পশ্চিম তীরে দেশটির বাহিনীর গুলিতে শিরিন আবু আকলেহ নামের আল জাজিরার এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ওই মন্ত্রণালয় ও আল জাজিরার সাংবাদিকরা জানান, বুধবার পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর তল্লাশির খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন শিরিন। ওই সময় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

আল জাজিরার সাংবাদিক নিদা ইব্রাহিম জানান, শিরিনের মৃত্যুর সময়কার পরিস্থিতি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে ঘটনার ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন।

ফিলিস্তিনের রামাল্লা শহর থেকে নিদা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা জানতে পেরেছি, ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাকে মৃত ঘোষণা করেছে। জেনিনের ঘটনাগুলো বিশেষত দখলকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে জেনিনে ইসরায়েলি বাহিনীর তল্লাশির খবর সংগ্রহ করছিলেন শিরিন আবু আকলেহ। ওই সময় গুলি এসে তার মাথায় লাগে।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিদা আরও বলেন, খুবই প্রশংসিত একজন সাংবাদিক ছিলেন শিরিন। ২০০০ সালে ফিলিস্তিনে দ্বিতীয় ইন্তিফাদা শুরুর সময় থেকে তিনি আল জাজিরার সঙ্গে যুক্ত।

আরও পড়ুন:
পশ্চিম তীরে আরও ৪ হাজার বসতি গড়বে ইসরায়েল
ক্ষমা চেয়েছেন পুতিন: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী
ইসরায়েলে হামলায় তিনজন নিহত
‘ইসরায়েলে সরাসরি হামলা চালাতে পারে ইরান’
অজানা জন্ডিসে আক্রান্ত ইসরায়েলের ১২ শিশু

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Who shot dead journalist Shirin?

সাংবাদিক শিরিনের মৃত্যু কার গুলিতে?

সাংবাদিক শিরিনের মৃত্যু কার গুলিতে? যে স্থানে গুলিবিদ্ধ হন শিরিন আবু আকলেহ সেখানে পোর্ট্রেট রেখে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ছবি: এএফপি
শিরিন হত্যার পর ধারণ করা একটি ভিডিওর প্রাথমিক ফরেনসিক অডিও বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বন্দুকের গোলাগুলি প্রায় ১৭৭ থেকে ১৮৪ মিটার দূরে শুরু হয়। ধারণা করা হচ্ছে যে অস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করা হয়েছে তা ওই এলাকায় আইডিএফ ও সশস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ব্যবহৃত অস্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আল জাজিরায় কাজ করা ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি শহর জেনিন থেকে রিপোর্ট করার সময় ১১ মে সকালে মাথায় গুলির আঘাতে নিহত হন। তিনি সে সময় ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের (আইডিএফ) একটি অভিযান কভার করছিলেন। ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতার মাঝে এটি ছিল জেনিনে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী পরিচালিত কয়েকটি অভিযানের অন্যতম। আইডিএফের কয়েকটি অভিযানে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

সাংবাদিক শিরিন হত্যার পরের ঘটনার ভিডিও দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বিশৃঙ্খল মুহূর্তগুলো দেখা যায় ভিডিওতে। দেখা গেছে, অন্যরা তার মরদেহের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

ভিডিও থেকে প্রমাণিত, শিরিনের মাথায় গুলি লেগেছিল।

ভিডিওতে যেমনটা দেখা গেছে, সে সময় শিরিন আরেকজন সাংবাদিকের সঙ্গে ছিলেন। তার পরনে পরিষ্কার অক্ষরে ‘প্রেস’ লেখা নীল রঙের ভেস্ট ও মাথায় হেলমেট ছিল।

শিরিন নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট দাবি করেন, ‘সশস্ত্র ফিলিস্তিনিদের এলোপাতাড়ি গুলিতে তার মারা যাওয়ার ‘সম্ভাবনা আছে’। তবে পরে এক সংবাদ সম্মলনে ইসরায়েলের ডিফেন্স মিনিস্টার বেনি গান্টজ বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের গুলিতে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে, আবার দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের পক্ষের গুলিতেও তার মৃত্যু হতে পারে। আমরা বিষয়টির তদন্ত করছি।’

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও আল জাজিরা এ ঘটনায় সরাসরি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়, শিরিন কাদের গুলিতে নিহত হয়েছেন সেটা ‘পরিষ্কার’ নয়।

ভিডিও, অডিও বিশ্লেষণ করে পুরো বিষয়টিকে দেখার চেষ্টা করেছে নেদারল্যান্ডসের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সাইট বেলিংক্যাট। তাদের প্রতিবেদন অবলম্বনে লিখেছেন রুবাইদ ইফতেখার।

শিরিন হত্যার সময় তার সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের দাবি, আইডিএফ সৈন্যরা কোনো সতর্ক বার্তা ছাড়াই তাদের ওপর গুলি চালায়। সাংবাদিকদের বিশ্বাস, তাদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা হয়েছে।

এ হত্যায় আইডিএফ নিজেদের সৈনিকের দায় স্বীকার করে নিলেও, ১৩ মে তারা যে অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে শিরিনের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

উন্মুক্ত সোর্সের ছবি ও ভিডিওতে দেখে কার গুলিতে শিরিন নিহত হয়েছেন পূর্ণাঙ্গভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে এগুলো থেকে বোঝা সম্ভব, ঘটনা কী ঘটেছিল এবং সেগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির তুলনা করা যেতে পারে।

আইডিএফের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের সৈন্য ও শিরিনের মাঝখানে অন্য যোদ্ধা থাকতে পারে। এতে আরও বলা হয়, একজন ইসরায়েলি সৈন্যের বুলেট অসাবধানতাবশত তাকে আঘাত করে। তবে আইডিএফ ও সাংবাদিকদের মাঝে ওই রাস্তায় অন্য কোনো সশস্ত্র ব্যক্তির অস্তিত্ব ভিডিও ফুটেজে নেই। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সমস্ত প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকরা সরু ওই রাস্তায় এমন কোনো যোদ্ধাকে দেখেননি বা দেখলেও সেটা বলেননি। তাদের বক্তব্য তাই ইসরায়েলি সৈন্যদের থেকে আলাদা।

আইডিএফের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বন্দুকধারীরা আইডিএফ বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি করে। ওইভাবে শিরিন আঘাত পেতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বন্দুকধারীরা একটি গলিপথ থেকে আইডিএফ সৈন্যদের দিকে দ্রুত গুলি ছুড়ছে।

শিরিনের মৃত্যুর পর মুহূর্তে যখন এক ব্যক্তি তার মৃতদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন, সে সময় যে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে তা উদ্দেশ্যহীন নয়, বরং তা ধীরগতির ও ইচ্ছাকৃত। এ থেকে বোঝা যায়, একঝাঁক গুলি না করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে গুলি করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওগুলোতে চিত্রিত বন্দুকধারীদের অবস্থান আইডিএফ সৈন্যদের তুলনায় শিরিনের কাছ থেকে অনেক দূরে। অথবা তারা অবস্থান শিরিনকে দেখার বা লক্ষ্য করার মতো অবস্থানে নেই।

অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া ইমেজ ও ভিডিও আর সেই সঙ্গে বেলিংক্যাটের করা একটি অডিও বিশ্লেষণও সাক্ষীর সাক্ষ্যের দিকগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়।

শিরিনের মৃত্যুর প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশের পরপর ফেসবুকে পোস্ট করা এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আইডিএফ বাহিনী এমন একটি অবস্থানে পৌঁছেছে, যা ১৯০ থেকে ২৫০ মিটার দক্ষিণে প্রসারিত। ওই অবস্থান থেকে শিরিনকে গুলি করা হয়েছিল। এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ টুইটারে পোস্ট করা অন্য একটি ভিডিওর অডিও বিশ্লেষণ থেকে অনুমান করা যায়, শিরিনের মৃত্যুর পর তার সহকর্মীদের দিকে ১৭৭ থেকে ১৮৪ মিটার দূর থেকে গুলি করা হয়েছিল। একই ফুটেজেও দেখা যাচ্ছে, বন্দুকের গুলিগুলো দক্ষিণে শুরু হয়েছে যখন পূর্বোক্ত ব্যক্তি শিরিনের দেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

শিরিনকে যে স্থানে গুলি করা হয়েছিল তার দক্ষিণে আইডিএফ সৈন্যদের আবির্ভাবের সঠিক সময় ফেসবুক ভিডিওটি থেকে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ও ক্যামেরা অপারেটরদের ধারণ করা ফুটেজ থেকে মেটাডেটা বা আইডিএফের ভিডিও এ বিষয়ে আরও স্পষ্টতা তৈরি করতে পারে। এটি শিরিনের মৃত্যুর সময় সৈন্যদের অবস্থানের সম্ভাবনাকে আরও নির্দিষ্ট করতে সক্ষম হবে।

ঘটনাস্থল

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিরিনের সহকর্মীরা একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যাতে জেনিনে গুলি চালানোর পরের ঘটনাগুলো দেখা যায়।

শহরের পশ্চিমে বালাত আল শুহাদা রাস্তায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। নিচের স্ক্রিনশটটি শিরিনের শুটিংয়ের পর নেয়া একটি ভিডিও থেকে নেয়া হয়েছে। এটি টুইটারে আল জাজিরার একজন প্রযোজক শেয়ার করেন। এটি ড্যাশবোর্ড ও ছাদে অবস্থিত ক্যামেরা থেকে রাস্তার চিত্র সংগ্রহ করা ক্রাউড সোর্সিং সাইট ম্যাপিলারির এক ব্যবহারকারীর ২০২০ সালের ওই স্থানের তোলা একটি ছবির সঙ্গে মিলে যায়।

সাংবাদিক শিরিনের মৃত্যু কার গুলিতে?
আল জাজিরার এক প্রযোজক শিরিন হত্যাকান্ডের স্থানের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ছবি: স্ক্রিনশট

হত্যার সময়

একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, শিরিন পড়ে আছেন। সেগুলোর ছায়ার দৈর্ঘ্য বিশ্লেষণ করে বের করা সম্ভব এ হত্যাকাণ্ড কখন ঘটেছে।

বেলিংক্যাট গোলাগুলির প্রথম যে ভিডিওটি পেয়েছে সেটি টেলিগ্রামে শেয়ার করা হয় স্থানীয় সময় সকাল ৬.৩৬ মিনিটে। শিরিনের সঙ্গে থাকা আরেক সাংবাদিক আলি আল-সামুদি, যিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হন, তিনি ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে যাওয়ার পুরো সময় লাইভ স্ট্রিম করেন। তার লাইভ স্ট্রিম শুরু হয় সকাল ৬.৩৩ মিনিটে।

সাংবাদিক শিরিনের মৃত্যু কার গুলিতে?
ভিডিওর স্ক্রিনশটে ছায়ার দৈর্ঘ্য পরিমাপ করে হত্যাকান্ডের সময় নির্ণয় সম্ভব। ছবি: বেলিংক্যাট

এই ভিডিওতে ছায়ার দৈর্ঘ্য বিশ্লেষণ করে ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে সেই সময় নির্ণয় করা সম্ভব। ওপরে উল্লেখিত ভিডিও যেটি আল জাজিরার প্রযোজক শেয়ার করেছেন সেখানে ক্যামেরা বালাত আল শুহাদা সড়ক বরাবর পশ্চিম দিকে মুখ করা। এরপর ক্যামেরা ঘোরানো হয় দক্ষিণ দিকে যেখানে আবু আকলেহর মরদেহ পড়ে ছিল। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মানুষজন ও রোড সাইনের ছায়া পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিম দিকে পড়েছে।

জেনিনে সকালের সংঘর্ষ

ওইদিন সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয় সকাল ৬টা নাগাদ। টেলিগ্রামে ৫.৫৯ মিনিটে শেয়ার করা একটি ভিডিও শিরিন মারা যাওয়ার স্থানের প্রায় ১২০ মিটার পূর্বদিকে রেকর্ড করা হয়। সেখানে গুলির শব্দ শোনা যায় এবং দূরের বিল্ডিংয়ের ওপর সাদা ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

শিরিনের মৃত্যুর পর, কয়েকজন ইসরায়েলি ভাষ্যকার জেনিনে অদেখা লক্ষ্যবস্তুতে সশস্ত্র লোকজন গুলি চালাচ্ছেন এমন বেশ কয়েকটি ভিডিওর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অন্য একটি ভিডিওতে (‘ভিডিও টু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে) দেখা যায়, একটি গলিপথে একজন লোক রাইফেল দিয়ে গুলি করছেন৷ ইসরায়েলি মিডিয়া রিপোর্ট ও আইডিএফ জানিয়েছে, অভিযানের সকালে এই ভিডিওটি ধারণ করা হয়। যিনি গুলি করার অংশটি ভিডিও করেছেন তিনি অন্য সশস্ত্র ব্যক্তিদের দলের অংশ। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রী শুরুতে বলেন, এই ভিডিওতে যে গুলি চালানো হয়েছে তাতেই শিরিন নিহত হয়েছেন। তবে, ফুটেজ বিশ্লেষণে এ ধরনের দাবি সঠিক বলে মনে হয়নি।

ইসরায়েল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বিটিসেলেম, ভিডিও টু ধারণের জায়গায় গিয়েছিল। তারা একটি ভিডিও করে যেখানে ওই জায়গাটি পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। ওই ভিডিওর মাধ্যমে বেলিংক্যাট ভিডিও টুর জিওলোকেশন নিশ্চিত হয়েছে। শিরিন যেখানে নিহত হন সেখান থেকে ওই লোকেশন ২৭০ মিটার দূরে।

বিটিসেলেমের ভিডিওতে আরও দেখা যায়, সশস্ত্র লোকটি যে গলিতে গুলি চালাচ্ছিল সেটির শেষে একটি প্রাচীর রয়েছে। শিরিন যেখানে নিহত হয়েছেন সেটি এ জায়গা নয়। অর্থাৎ, ভিডিও টু-তে গুলি করতে থাকা ব্যক্তিটির গুলি চালিয়ে শিরিনকে হত্যা করা সম্ভব নয়। যদিও সোশ্যাল মিডিয়াতে এর উল্টোটা চাউর হয়েছে।

১১ মে সকালে জেনিনে অভিযানের সময় রেকর্ড করা ভিডিও টুর সমর্থনে বেশ কিছু তথ্য আছে। প্রথমত, বেলিংক্যাট প্রথমে ভিডিও পায় ১১ মে সকাল ৬টা ৪১ মিনিটে টেলিগ্রামে। এই ভিডিওর ফ্রেমের একাধিক রিভার্স ইমেজ অনুসন্ধানের পর তা থেকে ওই সময়ের আগে কোনো ফল পাওয়া যায়নি৷

দ্বিতীয়ত, ইসরায়েলি রাজনীতিক ও মিডিয়ার দাবিতে যে ভিডিওটি রেকর্ড করা হয় সেখানে বিটিসেলেমের টিম গিয়েছিল। ওই ভিডিওর বন্দুকধারী শিরিনের মৃত্যুর জন্য দায়ী হতে পারে এমনটা দাবি ছিল ইসরায়েলের। সবশেষে, আইডিএফের বডি ক্যামের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সৈন্যরা একটি সমান্তরাল গলিপথে নেমে যাচ্ছে, যেখানে ভিডিও টুর বন্দুকধারী তার অস্ত্র থেকে গুলি ছুড়ছিল।

‘সকালে জেনিনে আইডিএফ সৈন্যদের সকালের কার্যক্রম’ শীর্ষক আইডিএফ প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সৈন্যরা বিটিসেলেমের ভিডিওতে যে গলি দেখা গেছে সে রকম একটা গলিপথ দিয়ে যাচ্ছে। এই দুই ভিডিওর তুলনা করলে দেখা যায়, ভিডিও টুর সশস্ত্র ব্যক্তিরা ও আইডিএফ সৈন্যরা সমান্তরাল গলিপথে অবস্থান করছিল। শিরিন যখন নিহত হন তখন ওই দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি চলছিল।

আইডিএফের বডিক্যাম ভিডিওর শেষে দেখা গেছে সৈন্যরা একটি রাস্তায় দৌড়ে বেরিয়ে আসে। সেখানে তখন পাঁচটি সাঁজোয়া যান অপেক্ষা করছিল। আইডিএফের এই অবস্থানটি ছিল, যেখানে শিরিনকে গুলি করে হত্যা করা হয় সেখান থেকে একই রাস্তার দক্ষিণে। কনভয়ের সামনের গাড়িটি শিরিনকে গুলি করার স্থান থেকে প্রায় ১৯০ মিটার দক্ষিণে অবস্থিত ছিল। আর পেছনের গাড়ির দূরত্ব ছিল ২৫০ মিটার।

ফেসবুকে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে আপলোড করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একই আইডিএফ গাড়ির কনভয় যাচ্ছে ও একই স্থানে এসে থামছে, যে স্থানটি আইডিএফের বডি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে। আপলোডের সময়টি আইডিএফ সৈন্যরা কখন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে তার একটি উচ্চসীমা বেঁধে দেয়। অন্য কথায়, ভিডিওটি অবশ্যই ৬টা ৪০ মিনিটের আগে রেকর্ড হয়েছে। কারণ ওই সময় সেটি ফেসবুকে আপলোড করা হয়।

ভিডিওটি বাড়ির ভেতর থেকে রেকর্ড করা হয়েছে বলে যে ব্যক্তি এটি রেকর্ড করেছেন তার নিরাপত্তার স্বার্থে বেলিংক্যাট এটির সঙ্গে কোনো লিঙ্ক রাখেনি।

বডিক্যাম ভিডিওর শেষে আইডিএফের অবস্থান একজন ক্যামেরা ক্রু প্রায় ১০০ মিটার উত্তরে ছয়টি ভিডিওর একটি সিরিজে রেকর্ড করেন। তার অবস্থান ছিল আইডিএফের অবস্থান এবং শিরিনকে গুলি করা স্থানের মধ্যে। এই ভিডিওগুলো টেলিগ্রামে পোস্ট করা হয়।

আইডিএফ বডি ক্যামেরার ফুটেজ ও টেলিগ্রাম ভিডিওগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে, শিরিনকে যেখানে গুলি করে হত্যা করা হয় সে জায়গার প্রায় ২০০ মিটার নিচে রাস্তার একটি অংশ আইডিএফের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ভিডিও থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়, তার পাশের রাস্তাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণের জন্য সংঘর্ষ হচ্ছিল। এমন কোনো ফুটেজ বা ছবি পাওয়া যায়নি, যা থেকে বোঝা সম্ভব আইডিএফ সৈন্য ও শিরিনের মধ্যে কোনো ফিলিস্তিনি যোদ্ধা অবস্থান করছিল।

তবে আরেকটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওতে (‘ভিডিও থ্রি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে) কাছাকাছি রাস্তার কোণে একদল ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে৷ তাদের গোলাগুলি করতে দেখা যাচ্ছে। আইডিএফ সাঁজোয়া কনভয়ের দক্ষিণে আনুমানিক এক ব্লক দূরত্বে ভিডিওটির নেয়া হয়েছে (ম্যাপিলারিতে যা দেখা যাচ্ছে)।

ভিডিওতে স্বল্প বিরতি দিয়ে পরপর গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।

ভিডিও টু, ভিডিও থ্রি ও আইডিএফ বডি ক্যাম ভিডিও একসঙ্গে বিবেচনায় নিলে জেনিনে ওইদিন সকালে ভিডিওতে ধারণ করা দুটি পক্ষের অবস্থানের একটি আনুমানিক চিত্র পাওয়া যায়।

ভিডিও থ্রি ঠিক কোন সময়ে ধারণ করা হয়েছে সেটা বের করা সম্ভব হয়নি।

তবে লক্ষণীয় বিষয়, যে ভিডিওটি আল জাজিরার এক সাংবাদিক পোস্ট করেছেন যেখানে শিরিনের সহকর্মীকে গোলাগুলির মুখে পড়তে দেখা যাচ্ছে; সেখানে শটগুলো লক্ষ্য করে ও ইচ্ছাকৃতভাবে করা হচ্ছে বলে মনে হয়। উদ্দেশ্যহীন ও একাধারে গুলি ছোড়া হয়নি। গুলি ছোড়ার এই প্যাটার্নটি ক্রসফায়ারের নয়, বরং সাংবাদিকদের দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করে করার সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করে। ভিডিও থ্রির ব্যক্তিদের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে আইডিএফ কনভয়ের দক্ষিণে ও শিরিনের অবস্থান থেকে বেশ খানিকটা দূরে।

এ ছাড়া বেলিংক্যাটের করা একটি অডিও বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, শিরিনের মৃত্যুর পরপর তার অবস্থানের দিকে গুলি চালানো হয়েছিল ভিডিও থ্রি-তে সশস্ত্র লোকদের অবস্থানের কাছ থেকে।

বুলেটের গতি ও শব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা স্টেট ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক রবার্ট সি. মারের সঙ্গে কথা বলেছে বেলিংক্যাট। মার অডিও ফরেনসিক বিশ্লেষণ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ও আইডিএফ ও অন্য অস্ত্রধারীদের অস্ত্রের ওপর ভিত্তি করে শুটার ও শিরিনের কাছে থাকা ক্যামেরাধারীর দূরত্ব নির্ণয়ের জন্য তাকে অনুরোধ করে বেলিংক্যাট। ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায়, শিরিন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরেও দক্ষিণ দিক থেকে তাদের ওপর গুলিবর্ষণ হতে থাকে।

বেলিংক্যাটকে করা ই-মেইলে মার লেখেন, ‘ভিডিওতে থাকা অডিও শুনে যা বোঝা যাচ্ছে তা হলো, ১ মিনিট ৫৬.২৫ সেকেন্ড ও ২ মিনিট ১৯.৫৩৮ সেকেন্ডে দুইবার গুলির শব্দ পাওয়া যায়। দুটি শব্দের ক্ষেত্রেই শুরুতে একটি শক্তিশালী ক্র্যাক সাউন্ড ও ৩০০ মিলিসেকেন্ড (.৩ সেকেন্ড) পর একটা দুর্বল শব্দ পাওয়া যায়।

‘আমার মতে, শুরুর শব্দটা কোনো সুপারসনিক বুলেটের শক ওয়েভ ক্যামেরার মাইক অতিক্রম করার সময়ের শব্দ। পরের শব্দটা বন্দুকের নলের বিস্ফোরণের।’

ঘটনার সময় আইডিএফ বা ফিলিস্তিনিদের ব্যবহৃত অধিকাংশ অস্ত্রগুলোকে উপরোক্ত ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে। সেগুলো এম ফোর বা সিআর ফিফটিন সিরিজের ৫.৫৬ মিলিমিটার রাইফেল। যেগুলো ব্যারেলের দৈর্ঘ্য ছিল ২৯২ থেকে ৩৬৮ মিমি। ২০১০ সালে সুইডেনের ন্যাটো ওয়েপনস অ্যান্ড সেনসরস ওয়ার্কিং গ্রুপ একটি প্রেজেন্টেশনে ৫.৫৬ মিমি গুলির ক্ষেত্রে নলের গতি ও ব্যারেলের দৈর্ঘ্যের একটি তুলনা প্রকাশ করে।

সেখানে বলা হয়, ন্যাটোর ব্যবহৃত গুলি এসএস ওয়ানওনাইন ৫.৫৬ মিমি ব্যবহার করলে বুলেটের গতি দাঁড়াবে প্রতি সেকেন্ডে ৮২০ থেকে ৮৬৬ মিটার। এ থেকে বোঝা যায়, ওপরের ভিডিওতে ক্যামেরা থেকে রাইফেল ১৭৭ থেকে ১৮৪ মিটার দূরত্বে ছিল।

মার এই হিসেবের সঙ্গে সাবধানতা ও সতর্কতার একটি নোট যোগ করেন। তিনি লেখেন, ‘দূরত্বের অনুমান বাতাসের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে, যেহেতু এটি শব্দের গতিকে প্রভাবিত করে।’

বুলেটের ক্যালিবার বিশ্লেষণ করা প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে শিরিনকে যে বুলেটটি হত্যা করে সেটি ছিল ৫.৫৬ মিমি।

মার উল্লেখ করেছেন, বুলেটের অনুমিত গতিতে সামান্য পার্থক্যের ফলে গণনায় পরিবর্তন হতে পারে। তিনি যোগ করেন, ‘সম্ভবত বড় প্রশ্ন হল বুলেটের গতি সম্পর্কে আমার অনুমান। যদি বুলেটটি ধীর সুপারসনিক গতিতে ছোটে তবে দূরত্বের অনুমান দীর্ঘ হবে। আর যদি বুলেটটি দ্রুত সুপারসনিক গতিতে ছোটে, তবে দূরত্বের অনুমান কম হবে।’

দৃষ্টিরেখা

ওই অঞ্চলের ছবি থেকে আরও কিছু ক্লু পাওয়া যায়। যা থেকে ধারণা করা সম্ভব শিরিন ও অন্য সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে ওই শুটার কোথায় অবস্থান করছিল।

জেনিন ক্যাম্প টেলিগ্রাম চ্যানেলে শেয়ার করা একটি ছবি তোলা হয়েছে যেখানে শিরিন নিহত হয়েছেন। এটি অনেকগুলো ছবির একটি, যেখানে ফিলিস্তিনিরা তার মৃত্যুর স্থানে ফুল দিচ্ছেন। ক্যামেরাটি সরাসরি দক্ষিণ দিকে মুখ করা, যা আইডিএফ কনভয় এবং সশস্ত্র লোকদের অবস্থান থেকে দৃষ্টি রেখা কী হতে পারে সেটার একটা আনুমানিক ধারনা দেয়।

আইডিএফের কনভয় ও ভিডিও টু এবং ভিডিও থ্রিতে সশস্ত্র লোকদের অবস্থান থেকে উত্তরে দৃষ্টিসীমা/রেখা একটি কবরস্থানের প্রাচীর দ্বারা আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। কবরস্থান ও এর প্রাচীরের কারণে রাস্তাটি একক একটি সরু লেনের রাস্তায় পরিণত হয়।

সাংবাদিক শিরিনের মৃত্যু কার গুলিতে?
সশস্ত্র ব্যক্তিদের অবস্থান থেকে উত্তরে দৃষ্টিসীমা রেখা একটি কবরস্থানের প্রাচীরে আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। ছবি: বেলিংক্যাট

এই প্রাচীরটি স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবির পাশাপাশি ওইদিনের ভিডিও ফুটেজে দৃশ্যমান।

কবরস্থানের প্রাচীরই শুধু রাস্তার উত্তরে দেখার ক্ষেত্রে বাধা দেয়। সারা সকাল জুড়ে, রাস্তার পশ্চিম দিকে গাড়ি পার্ক করা ছিল, যা আইডিএফ কনভয়ের রাস্তার স্তরের অবস্থান থেকে উত্তরে গুলি করা ও ভিডিও টু এবং ভিডিও থ্রিতে সশস্ত্র লোকদের গুলি করাকে আরও কঠিন করে তুলেছিল।

টেলিগ্রামে শেয়ার করা আরেকটি ছবিতে কবরস্থানের প্রাচীর ও হলুদ গাড়ির কারণে দৃষ্টিসীমার বাধা স্পষ্ট। ছবিটি রাস্তার দক্ষিণ দিকে একটি পাহাড় থেকে তোলা হয়েছে। যেখান থেকে শিরিন নিহত হওয়ার অবস্থান উত্তরে।

ওপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আইডিএফ অবস্থান থেকে আবু আকলেহকে যেখানে গুলি করে হত্যা করা হয় সেখানে দৃষ্টিসীমা সংকীর্ণ।

এটি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সাদা টি-শার্ট পরা ব্যক্তি যিনি শিরিনকে সাহায্য করতে গেছেন, তার আচরণ থেকে বোঝা যায়, তাদের দিকে তখনও দক্ষিণ থেকে গুলি ছোড়া হচ্ছে। যেমনটা ভিডিওতে দেখা গেছে। ভিডিওর ১ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড ও ২ মিনিট ২০ সেকেন্ডে শিরিনকে তোলার চেষ্টার সময় ওই ব্যক্তি রাস্তার কেন্দ্রের দিকে পূর্ব দিকে সরে আড়াল থেকে বেরিয়ে আসেন। উভয় সময় আমরা একটি করে গুলির শব্দ শুনতে পাই, যা লোকটির যথেষ্ট কাছাকাছি। যার ফলে তিনি রাস্তার পশ্চিম দিকের একটি দেয়ালের সঙ্গে নিজেকে চেপে আড়াল হতে বাধ্য করে। ওপরের ছবিতে দেখা হলুদ গাড়ি ও নিচের ছবিতে গাছটি দেয়ালের কাছাকাছি দাঁড়ালে তার আড়াল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

আইডিএফ অবস্থানের সামান্য পশ্চিমে একটি উঁচু ভবন থাকায় শুটার একটি উঁচু অবস্থান থেকে গুলি চালাতে পারে এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। এটি শিরিন ও তার সহকর্মীরা গাছের আড়াল থেকে ও প্রাচীর থেকে দূরে সরে গেলে তা দেখার একটি অবস্থান তৈরি করে।

ওপেন সোর্সের সারসংক্ষেপ

বর্তমানে ওপেন সোর্স ভিডিওগুলো থেকে শিরিনকে হত্যা করার নির্দিষ্ট মুহূর্ত বা তাকে গুলি করার বিশদ বিবরণ পাওয়া সম্ভব নয়। তবে, একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য আইডিএফ সৈন্যদের দিকে ইঙ্গিত করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া ভিডিওগুলো তাদের দাবিকে নাকচ করার জন্য যথেষ্ট নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি তাদের সমর্থন করে বলে মনে হয়।

ওপেন সোর্স ভিডিওতে দেখা যায়, আইডিএফ সৈন্যরা ও সশস্ত্র গোষ্ঠী রাস্তায় লড়াই করার সময় শিরিন রাস্তায় পড়ে ছিলেন। সে সময় আইডিএফের একটি স্পষ্ট গতিপথ ছিল ও যেখানে তাকে গুলি করা হয় তারা সেটার কাছে অবস্থান করছিল। এটি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য আরও বাধাগ্রস্ত ও দূরবর্তী অবস্থান।

বডিক্যাম ফুটেজে দেখা আইডিএফ সাঁজোয়া যানবাহনের নেতৃস্থানীয় যানটি শিরিনকে গুলি করার স্থান থেকে প্রায় ১৯০ মিটার দূরে অবস্থান করছিল। ভিডিও থ্রিতে রাস্তায় গুলি চালাতে দেখা গেছে যে সশস্ত্র দলটিকে তারা ছিল প্রায় ৩০০ মিটার দূরে।

সাংবাদিক শিরিনের মৃত্যু কার গুলিতে?
নীল বৃত্তের স্থানে আবু আকলেহ গুলিবিদ্ধ হন। কমলা বৃত্তের স্থান থেকে টেলেগ্রাম ভিডিও নেয়া হয় আর সবুজ রঙের অঞ্চলে আইডিএফ সৈন্যরা অবস্থান করছিল। ছবি: বেলিংক্যাট

শিরিন হত্যার পর ধারণ করা একটি ভিডিওর প্রাথমিক ফরেনসিক অডিও বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বন্দুকের গোলাগুলি প্রায় ১৭৭ থেকে ১৮৪ মিটার দূরে শুরু হয়। ধারণা করা হচ্ছে যে অস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করা হয়েছে তা ওই এলাকায় আইডিএফ ও সশস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ব্যবহৃত অস্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই অনুমান আইডিএফের অবস্থান এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থানের চেয়ে সাংবাদিক হত্যার স্থানের মধ্যে আনুমানিক দূরত্বের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

৫১ বছর বয়সী শিরিন আবু আকলেহকে ১৩ মে পূর্ব জেরুজালেমের মাউন্ট জায়ন প্রোটেস্ট্যান্ট কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Israeli lie in journalist Shirins murder

সাংবাদিক শিরিন হত্যায় ইসরায়েলি মিথ্যাচার

সাংবাদিক শিরিন হত্যায় ইসরায়েলি মিথ্যাচার আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহক। ছবি: এএফপি
ইসরায়েলের প্রভাবশালী মানবাধিকার সংস্থা- বিটস্লেম বলছে, ইসরায়েল শিরিনের হত্যা নিয়ে যে ভিডিও প্রকাশ করেছে, সে জায়গাটি হত্যাকাণ্ডের স্থান থেকে ৩০০ মিটার (৯৮৫ ফুট) দূরে। শিরিনের কর্মস্থল আল জাজিরার সানাদ নিউজ ভেরিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটও বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। তারাও দাবি করেছেন ভিডিওটি ভুয়া।  

আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে যেদিন হত্যা করা হয়, সেদিন তার মাথায় ছিল হেলমেট, গায়ে ছিল ভেস্ট। যেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল ‘প্রেস’।

গুলি হেলমেট ও ভেস্টের ঠিক মাঝখান দিয়ে শিরিনের ঘাড়ে বিদ্ধ হয়। এ সময় শিরিনের সহকর্মীরা এবং পথচারীরা তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করলে গুলি চলতে থাকে। তাই তারা এগিয়ে আসতে পারেননি। নিথর পড়ে ছিল শিরিনের দেহ।

শুরুতে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা এই মৃত্যুর জন্য দায়ী। বিষয়টি প্রমাণে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তেল আবিব। যেখানে দেখা যায়, একদল ফিলিস্তিনি গুলি ছুড়তে ছুড়তে একটি সরু গলি পার হচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রভাবশালী মানবাধিকার সংস্থা- বিটস্লেম ওই ভিডিও ধারণের স্থানটি খুঁজে পেয়েছেন। তারা বলছে, ওই ভিডিওটি শিরিন হত্যাকাণ্ডের স্থান থেকে ৩০০ মিটার (৯৮৫ ফুট) দূরের একটি স্থান।

শিরিনের কর্মস্থল আল জাজিরার সানাদ নিউজ ভেরিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটও বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। তারাও দাবি করেছেন ভিডিওটি ভুয়া।

প্রপাগান্ডায় কাজ না হওয়ায় আগের অবস্থান থেকে সরে আসে ইসরায়েল সরকার। তারা এই হত্যার তদন্ত করার আশ্বাস দেয়। তবে শেষমেশ আগের রূপেই ফিরেছে ইসরায়েল সরকার। তদন্ত না করার ইঙ্গিত দিয়েছে তেল আবিব। অতীতে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় তদন্ত করে নিজ দেশে সমালোচিত হয়েছিল দেশটির সরকার।

পশ্চিম জেরুজালেম থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ইমরান খান বলেন, ‘আসলে সক্রিয় সামরিক অভিযানে একজন চাকরিরত ইসরায়েলি সেনা অফিসার বা সৈনিকের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি তদন্ত খুলতে হবে। ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টা এখন একেবারেই অসম্ভব।

‘তদন্ত হলে সরকারের ওপর হামলা হবে। বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। এ ছাড়া সাধারণত ইসরায়েলিরা সেনাবাহিনীকে অন্য চোখে দেখে। তারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে সেনারা তাদের রক্ষক।’

ইসরায়েলের জনপ্রিয় দৈনিক হারেটজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় ফৌজদারি আইন লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ নেই। ইসরায়েলি সেনারা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তারা ভেবেছিল ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের দিকে গুলি ছোড়া হচ্ছিল। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সাংবাদিক শিরিনের আশপাশে কোনো গুলি চলেনি।

সাংবাদিক শিরিন হত্যায় ইসরায়েলি মিথ্যাচার
গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক শিরিনের নিথর দেহের পাশে এক সহকর্মী। ছবি: সংগৃহীত

শিরিনের শরীর থেকে বের করা বুলেটের টুকরা প্রমাণ হিসেবে রেখেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলের সামরিক পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বলছে, তদন্ত হলে ইসরায়েলি সেনাদের সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিষয়টি ইসরায়েলি সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেটজের বরাতে বৃহস্পতিবার এ খবর ছেপেছে জেরুজালেম পোস্ট।

সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ দুই দশকের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা করেছেন। ২০০০ সালে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ইন্তিফাদা বা বিদ্রোহের সময় পশ্চিম তীরের প্রধান শহরগুলোতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বড় বড় হামলাগুলো কভার করে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন শিরিন।

পশ্চিম তীরের শহর জেনিনে গত ১১ মে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের খবর কভার করার সময় গুলিতে নিহত হন ৫১ বছরের শিরিন। প্রত্যক্ষদর্শী এবং তার সহকর্মীদের দাবি, ইসরায়েলি স্নাইপারের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন শিরিন।

সাংবাদিক শিরিন হত্যায় ইসরায়েলি মিথ্যাচার
পূর্ব জেরুজালেমে নেয়া হচ্ছে সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকের মরদেহ। ছবি: এপি

হারেটজের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় শিরিনের পরিবার জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী মৃত্যুর তদন্ত না করায় তারা বিস্মিত নয়।

‘আমরা এটিই আশা করছিলাম। এ কারণেই আমরা চাইনি তারা (ইসরায়েল) তদন্তে অংশ নিক। আমরা এই কাজের জন্য দায়ী যে কাউকেই জবাবদিহি করতে চাই।

‘যেহেতু তিনি একজন আমেরিকান নাগরিক, তাই আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। সেই সঙ্গে একটি ন্যায্য ও স্বচ্ছ তদন্ত শুরুর পাশাপাশি এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

জবাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। নিজের নাগরিকের হত্যার তদন্তে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
পশ্চিম তীরে আরও ৪ হাজার বসতি গড়বে ইসরায়েল
ক্ষমা চেয়েছেন পুতিন: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী
ইসরায়েলে হামলায় তিনজন নিহত
‘ইসরায়েলে সরাসরি হামলা চালাতে পারে ইরান’
অজানা জন্ডিসে আক্রান্ত ইসরায়েলের ১২ শিশু

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Israel commits possible war crimes in West Bank UN

পশ্চিম তীরে ‘সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ’ করছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ

পশ্চিম তীরে ‘সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ’ করছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ   মাসাফের ইয়াত্তায় অন্তত ১২০০ ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেল আবিব। ছবি: এপি
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের জোরপূর্বক স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মানবিক ও মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এ বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা উচিত।

ইসরায়েলি আগ্রাসনে পশ্চিম তীরে ‘সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ’ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাসাফের ইয়াত্তায় অন্তত ১২০০ ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেল আবিব, তা যুদ্ধাপরাধের সামিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের জোরপূর্বক স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মানবিক ও মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এ বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা উচিত।

এক যৌথ বিবৃতিতে সোমবার জাতিসংঘের তিন বিশেষজ্ঞ জানান, মাসাফের ইয়াত্তা থেকে ফিলিস্তিনিদের তাড়িয়ে দেয়ার নীতি বহাল রেখেছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত নিপীড়নের চর্চাকে স্থায়ী করতে ইসরায়েলি বিচার ব্যবস্থাও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

জোরপূর্বক উচ্ছেদের অনুমতি দেয়ার জন্য আদালতের সিদ্ধান্তটি ‘আরও বেশি উদ্বেগজনক’। কারণ অঞ্চলটি ইসরায়েলি সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য নেয়া হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কীভাবে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের ওপর অগ্রাধিকার দেয়া যেতে পারে? ইসরায়েল এলাকাটি খালি করার জন্য কোনো ‘অবশ্যকীয় সামরিক প্রয়োজনীয়তা’ দেখায়নি।

ইসরায়েলি হাইকোর্ট অফ জাস্টিস চলতি মাসের শুরুতে ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত অঞ্চলটি অধিগ্রহণের পক্ষে রায় দেয়। এতে অন্তত ৫০০ শিশুসহ ১২০০ ফিলিস্তিনি আশ্রয়হীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন।

গত ৪ মে ইসরায়েলের হাইকোর্ট উচ্ছেদ ঠেকাতে মাসাফের ইয়াত্তার বাসিন্দাদের আপিল খারিজ করে দেয়। এই রায়ে কার্যকরভাবে ফিলিস্তিনিদের দুই দশকের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হেব্রনের দক্ষিণের এই অঞ্চলকে সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঘোষণা করেছে। নাম দিয়েছে-ফায়ারিং জোন ৯১৮।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েলি বাহিনী ইতোমধ্যে খ্রিবেত আল ফাখিয়েত এবং আল-মারকেজের মাসাফের ইয়াত্তা সম্প্রদায়ের কাঠামো ভেঙে দিয়েছে।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ বলেন, ‘১৯০৭ হেগ রেজ্যুলেশন এবং চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল।

‘তার বদলে অধিকৃত অঞ্চলে ইহুদি বসতি স্থাপনে জোর দিচ্ছে ইসরায়েল। সেখানে বাস করা ফিলিস্তিনের তাড়িয়ে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘনের চেষ্টা চলছে। এটা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে।’

জাতিসংঘের হিসাবে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের মে পর্যন্ত আবাসিক, শিক্ষা, ব্যবসায়িক এবং চিকিৎসা অবকাঠামোসহ অন্তত ৮ হাজার ৪১৩টি ফিলিস্তিনি ভবন ধ্বংস করেছে ইসরায়েল। এসবের কারণে ১২ হাজারের বেশি বাসিন্দা বাস্তচ্যুত হয়েছেন; পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৯৪ জন ফিলিস্তিনি।

এ ছাড়া ২০০৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের এপ্রিলের মধ্যে অন্তত ৬ হাজার ৩০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। পাল্টা হামলায় প্রাণ গেছে ২৬৮ ইসরায়েলির।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The Saudi dowel is getting lost

হারিয়ে যাচ্ছে সৌদি দোয়েল

হারিয়ে যাচ্ছে সৌদি দোয়েল বিলুপ্তপ্রায় সৌদি দোয়েল আসিরি ম্যাগপাই
তায়েফ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শোব্রাক জানান, এটি একমাত্র সৌদি পাখি; যা পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না।

আসিরি ম্যাগপাই নামের একটি দোয়েলের প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। এটি সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিম পাহাড়ে থাকে। এই প্রজাতি করভিডে পরিবারের সদস্য।

তায়েফ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শোব্রাক বলেছেন, ‘এর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। কেউ যদি এটিকে সংরক্ষণ পদক্ষেপ না নেয় তাহলে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’

শোব্রাক আফ্রিকা ও ইউরেশিয়ায় পরিযায়ী পাখির সংরক্ষণ সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক বিষয়ক কমিটির সদস্য।

বিলুপ্তপ্রায় দোয়েলটির বৈজ্ঞানিক নাম পিকা এ্যসিরেনসিস। ২০০৩ সালে প্রকাশিত পাখিদের জিনের উপর একটি গবেষণার মাধ্যমে এটিকে আলাদা প্রজাতি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় বলা হয়, ম্যাগপাই অন্যান্য পাখির প্রজাতি থেকে আলাদা এবং বিশ্বের কোথাও এটিকে পাওয়া যাবে না।

শোব্রাক বলেছেন, ‘স্যাটেলাইটের মাধ্যমে চিহ্নিত করা পাখিটি উঁচু অঞ্চলে বাস করে। এটি অন্য পাখিদের মত শীতকালে জায়গা বদলায় না।’

ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওয়াইল্ডলাইফের সাথে সৌদি আরামকোর স্পনসর করা এটিই সর্বশেষ গবেষণা। এর বসবাসের জন্য পরিবেশের ৮০ শতাংশই অনুপযুক্ত হয়ে গেছে এবং ২০ শতাংশ বাকি রয়েছে।

দোয়েলটির সংখ্যা এভাবে কমে যাওয়াই এটিকে বিশ্বের বিরল পাখিদের কাতারে ফেলেছে।

শোব্রাক বলেন, ‘সংখ্যা কমে যাওয়ার বিভিন্ন কারণ, যেমন- শহরের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পাখির বাসস্থানের ওপর এর প্রভাব, গাছের মৃত্যু। এসবই এই পাখির বেঁচে থাকার ওপর প্রভাব ফেলে।’

শোব্রাক আরও বলেন, ‘অন্য সব পাখির মতোই আসিরি ম্যাগপাইয়ের প্রজনন এবং পুষ্টি গ্রহণ করে বেঁচে থাকার জন্য উপযোগী পরিবেশের প্রয়োজন। পাখিটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে হবে।’

তিনি জানান, এটি একমাত্র সৌদি পাখি; যা পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না।’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The new president of the UAE is Sheikh Mohammed bin Al Zayed

আমিরাতের নতুন প্রেসিডেন্ট শেখ মোহামেদ বিন আল জায়েদ

আমিরাতের নতুন প্রেসিডেন্ট শেখ মোহামেদ বিন আল জায়েদ আরব আমিরাতের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন শেখ মোহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। ছবি: রয়টার্স
শেখ মোহম্মদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল সুপ্রিম কাউন্সিল থেকে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর আগে দীর্ঘদিন তিনি আবুধাবির শাসক ছিলেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন দেশটির দীর্ঘ দিনের শাসক শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তিনি আরব বিশ্বে শক্তিশালী শাসক এবং 'এমবিজেড' নামে সমধিক পরিচিত।

দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং আবুধাবির শাসক শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মৃত্যুর পরের দিন শনিবারই মোহামেদ বিন আল জায়েদকে এই দায়িত্ব দেয়া হলো।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ডাব্লিউএএম-এর বরাতে আলজাজিরার খবরে বলা হয়, শেখ মোহম্মদকে ফেডারেল সুপ্রিম কাউন্সিল থেকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ মোহম্মদ এতোদিন পর্দার আড়ালেই ছিলেন। তার স্বাস্থ্যের ভঙ্গুর অবস্থার জন্য তাকে পাশ কাটিয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন তার সৎ ভাই সদ্য প্রয়াত খালিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।

আমিরাতের সাত শাসক এলাকার শেখদের একটি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শেখ খলিফা শুক্রবার ৭৩ বছর বয়সে মারা যাওয়ার পরের দিনেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর তার ওপর ‘আস্থা ও বিশ্বাস’ রাখায় কাউন্সিলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন মোহামেদ বিন জায়েদ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখদের ভোটাভুটির মাধ্যমেই মোহম্মদ বিন জায়েদকে নির্বাচিত করা হয়েছে। যারা ভোট দিয়েছেন তাদের মধ্যে দুবাইয়ের শাসকও ছিলেন।

ভোটের পর দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম টুইটারে লেখেন, ‘আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই। আমরা তার প্রতি আনুগত্যেরও অঙ্গীকার করছি এবং আমাদের জনগণ তার প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করেছে।’

‘ঈশ্বরের কৃপায়, তার নেতৃত্বে পুরো দেশকে গৌরব ও সম্মানের পথে নিয়ে যাবেন তিনি।’

শুক্রবার দেশটির রাজধানী আবুধাবির আল বাতিন কবরস্থানে প্রেসিডেন্ট খলিফা আল নাহিয়ানকে দাফন করা হয়।

আবুধাবির শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান আবুধাবির মসজিদে প্রথম জানাজায় অংশ নেন। এ সময় প্রয়াত প্রেসিডেন্টের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

এ ছাড়া মাগরিবের নামাজের পর দেশজুড়ে মসজিদে মসজিদে প্রেসিডেন্টের জন্য দোয়া করা হয়।

শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মৃত্যুতে দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে আরব আমিরাত। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকা রাখা হবে অর্ধনমিত। মন্ত্রণালয়সহ সব ধরনের অফিস বন্ধ থাকবে তিন দিন।

১৯৪৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জায়েদ আল নাহিয়ান। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট। ২০০৪ সালের ৩ নভেম্বর থেকে প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি আবুধাবির শাসকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আরও পড়ুন:
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ করছে আমিরাত
জাহাজে বিস্ফোরণ, কাঁপল আমিরাতের শহর
নিষেধাজ্ঞার আগে দুবাইয়ে বিমানের জোড়া ফ্লাইট
বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ সংযুক্ত আরব আমিরাত
নাগরিকত্বের দুয়ার খুলছে আমিরাত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
He was the voice of truth and justice

‘তিনি ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠস্বর’

‘তিনি ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠস্বর’ আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘এই মৃত্যুর জন্য ইসরায়েল দায়ী। ঘটনা তদন্তে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ তদন্তের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যাব।’

আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হওয়ার একদিন পর ফিলিস্তিনের রামাল্লায় রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয় তাকে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের শহরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) প্রেসিডেন্ট ভবনে আয়োজনে অংশ নেন কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি

জেনিন শহরে বুধবার ভোরে সামরিক অভিযান কভার করার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন শিরিন।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস শিরিনকে সম্মান জানানোর পর, ভবন প্রাঙ্গনে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা তাকে শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মাহমুদ আব্বাস। তিনি বলেন, ‘এই মৃত্যুর জন্য ইসরায়েল দায়ী। ঘটনা তদন্তে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ তদন্তের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যাব।’

শিরিনের হত্যাকাণ্ড ফিলিস্তিন ও আরব বিশ্বে শোকের ছায়া ফেলেছে।

৫১ বছরের শিরিন আল জাজিরা আরবি টেলিভিশনের একজন সিনিয়র সংবাদদাতা ছিলেন। চ্যানেলটি চালু হওয়ার এক বছর পর ১৯৯৭ সালে সেখানে যোগ দেন তিনি।

‘তিনি ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠস্বর’

ফিলিস্তিনের অনেকেই শিরিনকে ২০০০ সালে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ইন্তিফাদা বা বিদ্রোহের সময় পশ্চিম তীরের প্রধান শহরগুলোতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বড় বড় হামলাগুলো কভার করার জন্য মনে রাখবে।

সাংবাদিকতার ছাত্র আজহার খালাফ বলেন, ‘তার শাহাদাতের খবরটি প্রত্যেক ফিলিস্তিনির মুখে চড় মারার মতো ছিল।’

বিরজাইট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র শিরিনকে ‘মিডিয়া আইকন’ এবং ‘মডেল’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

‘তিনি ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠস্বর’

‘তিনি প্রতিটি বাড়িতে ছিলেন, প্রতিটা ফিলিস্তিনিদের ব্যথা অনুভব করেছিলেন। তিনি ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠস্বর।’

শিরিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপর রামাল্লা শহরের কেন্দ্র আল-মানারা স্কোয়ারে তার একটি বিশাল ছবি টাঙানো হয়।

৩৭ বছরের রাজনৈতিক ও সামাজিককর্মী হাজেম আবু হেলাল বলেন, ‘শিরিন জনগণের কাছাকাছি ছিলেন।

‘সবাই তাকে শুধু তার কাজের জন্যই নয়, সমাজে তার সম্পৃক্ততার জন্যও জানত। তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশপাশি বিভিন্ন সংগঠনের অনেক উদ্যোগের অংশ ছিলেন।’

‘তিনি ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠস্বর’

সাংবাদিক, সহকর্মী এবং বন্ধুরা বৃহস্পতিবার সকালে ইস্তিশারি হাসপাতালে শিরিনকে দেখতে ভিড় করেন। তবে কেবল ঘনিষ্ঠদের হাসপাতালের মর্গে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তাদের কান্নায় তখন ভারী হয়ে উঠে আশপাশ।

এরপর তার মরদেহ সেখান থেকে পিএ ন্যাশনাল গার্ডের গাড়িতে নেয়া হয় প্রেসিডেন্ট কম্পাউন্ডে। সেখানে আয়োজন শেষ করে শিরিনের মরদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্স এবং পরে একটি কাফেলায় করে রামাল্লা এবং জেরুজালেমের মাঝে অবস্থিত কালান্দিয়া চেকপয়েন্টে নেয়া হয়।

সেখান থেকে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহর সেন্ট লুইস ফ্রেঞ্চ হাসপাতালে তার পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার ওল্ড সিটিতে শিরিনের দাফন হবে।

আরও পড়ুন:
‘ইসরায়েলে সরাসরি হামলা চালাতে পারে ইরান’
অজানা জন্ডিসে আক্রান্ত ইসরায়েলের ১২ শিশু
ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত ৫ ফিলিস্তিনি
ইসরায়েলকে দেয়া মগে ‘চীনের আড়িপাতার যন্ত্র’
অবাধ স্বাধীনতা পেল ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Anger over the role of western media in the murder of journalist Shirin

সাংবাদিক শিরিন হত্যায় পশ্চিমা মিডিয়ার ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ

সাংবাদিক শিরিন হত্যায় পশ্চিমা মিডিয়ার ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ দীর্ঘ ২৫ বছর আল জাজিরার হয়ে কাজ করছেন শিরিন আবু আকলেহ। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে নিয়মিত তাকে দেখা যেত আল জাজিরা টেলিভিশনের পর্দায়। শিরিনের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে শোকে কাতর ফিলিস্তিনবাসী। শিরিনের কর্মজীবনের প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, অনেক মিডিয়া এই হত্যাকাণ্ডে ইসরায়েলকে না জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক ছিল।

আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহের হত্যার ঘটনায় পশ্চিমা মিডিয়ার কড়া সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ব্যবহারকারীরা বলছে, মিডিয়া আউটলেটগুলো শিরিন হত্যায় ইসরায়েলের ভূমিকা উপেক্ষা করেছে।

৫১ বছরের শিরিন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সাংবাদিক, কাজ করতেন আল জাজিরার আরবি টেলিভিশনের হয়ে। বুধবার সকালে ইসরায়েলি সেনার গুলিতে নিহত হন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে একটি ইসরায়েলি সামরিক অভিযান কভার করার সময় গুলিবিদ্ধ হন শিরিন।

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে নিয়মিত তাকে দেখা যেত আল জাজিরা টেলিভিশনের পর্দায়। শিরিনের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে শোকে কাতর ফিলিস্তিনবাসী। শিরিনের কর্মজীবনের প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, অনেক মিডিয়া এই হত্যাকাণ্ডে ইসরায়েলকে না জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা এই বিষয়ে চটেছেন পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর। টুইটে একজন লেখেন, “ওদের গল্প ‘অবিশ্বাস্য”।

ইহুদি ভয়েস ফর পিস-এর রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার এ ঘটনায় নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি শিরোনামের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের শিরোনাম ছিল, ‘৫১ বছর বয়সে মারা গেছেন’। সেখানে মৃত্যুর কারণ তারা উল্লেখ করেনি।

টুইটে মিলার লেখেন, ‘শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের রিপোর্ট করার সময় একজন ইসরায়েলি স্নাইপার শিরিন আবু আকলেহকে গুলি করে হত্যা করেছিল।

‘৫১ বছর বয়সে মারা যায়’। অবিশ্বাস্য, এনওয়াইটি।’

একই শিরোনাম উল্লেখ করে নিউ ইয়র্ক টাইমসের আইনি মানবাধিকার ও বেসরকারীকরণ প্রকল্পের সহপরিচালক বাসাম খাজা টুইটে লেখেন, ‘৫১ বছর বয়সে মৃত্যু’ বলা সত্যিই অদ্ভুত। যেখানে একজন সাংবাদিককে মাথায় গুলি করা হয়েছিল।

শিরিন হত্যার খবরে ভুল তথ্য দেয়ার বিষয়টি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছিল আল জাজিরা। পরে এনওয়াইটি সংশোধন করে খবরটি। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছিল, শিরিন ‘সংঘর্ষে’ নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি ‘আখ্যান’

সমালোচিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও (এপি)। এপির শিরোনাম ছিল, “আইকনিক ফিলিস্তিনি সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ ‘বন্দুকের গুলিতে নিহত হয়েছেন’। টুইটে এক ব্যবহারকারী লেখেন, এপির এ ধরনের আচরণ ‘অনৈতিক সাংবাদিকতা’।

“তিনি এলিয়েনদের (ভিনগ্রহের প্রাণী) হাতে খুন হননি। ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে খুন হয়েছেন। মৌলিক সত্য নিয়ে ‘বিকল্প তথ্য' প্রচারের জন্য প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত।”

ফাতিমা সাইদ নামে এক ব্যবহারকারী অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) শব্দ চয়নের নিন্দা করেছেন। বলেছেন, এক বছর আগে গাজায় তাদের কার্যালয় বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী।

টুইটে তিনি লেখেন, “মৃত্যুতেও ফিলিস্তিনিদের জন্য কোনো মর্যাদা বা ন্যায়বিচার নেই। ইসরায়েলের হাতে একজন প্রবীণ সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ডকে এলোমেলো ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বলে বর্ণনা করেছে একটি মূলধারার সংবাদ আউটলেট।

“এটি সেই একই এপি যার অফিসগুলো গত বছর ইসরায়েলি বোমায় চ্যাপ্টা হয়েছিল।”

গাজা উপত্যকায় গত বছরের মে মাসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একটি টাওয়ার ধ্বংস হয়। এই টাওয়ারে আল জাজিরা এবং দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ব্যুরোসহ অনেক আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট এবং অফিস ছিল।

ইউক্রেন এবং ফিলিস্তিনের সংঘাতে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কারণে পশ্চিমা মিডিয়া আউটলেটগুলোর সমালোচনা করেছেন আমেরিকান সাংবাদিক কেভিন গোসজটোলা। তিনি বলেছেন, শিরিনের মৃত্যুর খবরটি আরও ভালো কভারেজের দাবি রাখত।

টুইটে তিনি লেখেন, ‘ইউক্রেনে যদি একজন সাংবাদিককে রাশিয়ান সামরিক বাহিনী লক্ষ্যবস্তু করে হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া এটিকে একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রতিবেদন করবে এবং ক্ষোভের সৃষ্টি করবে।

‘আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে ইসরায়েলি সেনারা হত্যা করেছে। এ খবরটি আরও ভালো কভারেজের দাবি রাখে।’

আল জাজিরাকে হামাদ বিন খলিফা ইউনিভার্সিটির মিডল ইস্ট স্টাডিজের সহকারী অধ্যাপক মার্ক ওয়েন জোনস বলেন, “ইসরায়েলের সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। শিরিনের মৃত্যুকে ঘিরে তারা ‘জল ঘোলা’ করার চেষ্টা করছে।”

জোনস বলেন, ‘ইসরায়েল এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় দারুণ অভ্যস্ত। তারা ফিলিস্তিনি নাগরিক বা সাংবাদিকদের হত্যা করে। সুতরাং তারা যা করেছে তার একটি বর্ণনা ইতোমধ্যেই রয়েছে। আর সেই বর্ণনাটি হলো শিরিনের হত্যার বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।

‘আমরা জানি এটি অকল্পনীয়। তবে এই বর্ণনাটি খুব তাড়াতাড়ি প্রকাশ করা হয়েছিল। যদি তারা শিরিনের মৃত্যুর চারপাশে জল ঘোলা করতে পারে, তাহলে সম্ভবত তারা এটাও প্রচার করতে পারে যে ফিলিস্তিনিরাই শিরিনকে হত্যা করেছে এবং এতে তারা সফলও হয়েছে৷

‘বাস্তবে এটিই ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের দৈনিক গার্ডিয়ান এবং বিবিসি ইতোমধ্যেই তাদের প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সংস্করণের ঘটনাগুলোকে গুরুত্বসহকারে প্রচার করে।’

আরও পড়ুন:
অজানা জন্ডিসে আক্রান্ত ইসরায়েলের ১২ শিশু
ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত ৫ ফিলিস্তিনি
ইসরায়েলকে দেয়া মগে ‘চীনের আড়িপাতার যন্ত্র’
অবাধ স্বাধীনতা পেল ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী
ইসরায়েলে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ২, আহত ৮

মন্তব্য

p
উপরে