× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
That is why Moscow is significant
google_news print-icon

যে কারণে তাৎপর্যপূর্ণ মস্কভা

যে-কারণে-তাৎপর্যপূর্ণ-মস্কভা
সমুদ্রে ডুবে গেছে রুশ যুদ্ধজাহাজ মস্কোভা। ছবি: সংগৃহীত
আটলান্ট-ক্লাস মিসাইল ক্রুজার এই মস্কভা জাহাজটি রুশ নৌবাহিনীতে সার্ভিস দিয়ে আসছে ১৯৭৯ সাল থেকে। এর মধ্যে রয়েছে ১৬টি এন্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, টর্পেটো ও গান। কৃষ্ণসাগরে মোতায়েন এ জাহাজটি ফেব্রুয়ারি থেকেই ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ করে আসছে।

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর সম্মানে জাহাজটির নাম রাখা হয়েছিল মস্কভা। সোভিয়েত আমলে নির্মিত এই যুদ্ধজাহাজ জর্জিয়া, সিরিয়ায় সংঘাতে অংশ নিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে এর অস্ত্রাগারে আগুন লাগার পর সমুদ্রের বুকেই তার সলিল সমাধি ঘটেছে। মস্কভা শুধু একটি রণতরী নয়, এটি ছিল রুশ নৌবাহিনীর কৃষ্ণসাগর ফ্লিটের অহংকার।

শুরুতে যেই জাহাজকে শ্লাভা অর্থাৎ গৌরব বলে ডাকা হতো, তার জন্য এটি অপমানজনক সমাপ্তি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, শান্তিকালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও যৌথভাবে বিভিন্ন গবেষণাকাজে অংশ নিয়েছিল মস্কভা।

মস্কভার শেষ পরিণতি

অভ্যন্তরীণ অস্ত্রাগারে বিস্ফোরণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রণতরীটি তীরে নোঙর করার সময় সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।

তবে ইউক্রেন দাবি করছে কৃষ্ণসাগরে মোতায়েন রাশিয়ার ফ্ল্যাগশিপে বুধবার ইউক্রেনীয় সেনাদের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এ সময় রণতরীতে আগুন ধরে যায়।

এর প্রকৃত সামরিক মূল্যের থেকেও এর সামগ্রিক মর্যাদা বেশি। স্বাভাবিকভাবেই, বর্তমান সামরিক অভিযানে এর খুব একটা ভূমিকা নেই। এটি ডুবে যাওয়াতেও অভিযানের কোনো প্রভাব পড়বে না।

কিয়েভের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি মস্কো। একই সঙ্গে ইউক্রেনীয় বাহিনীও তাদের দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি।

রণতরীতে থাকা ৫১০ ক্রু ও মেরিন সেনাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মস্কো। তবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

যে কারণে তাৎপর্যপূর্ণ মস্কভা
ডূবে যাওয়ার ৬ দিন আগে মাক্সারের ছবিতে মস্কভা

মস্কভা ডুবে যাওয়ার তাৎপর্য

১২ হাজার ৫০০ টনের আটলান্ট-ক্লাস মিসাইল ক্রুজার এই মস্কভা জাহাজটি রুশ নৌবাহিনীতে সার্ভিস দিয়ে আসছে ১৯৭৯ সাল থেকে। এর মধ্যে রয়েছে ১৬টি অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, টর্পেডো ও গান। কৃষ্ণসাগরে মোতায়েন আটলান্ট-ক্লাসের এটিই একমাত্র জাহাজ। এ ছাড়া বাকি দুটি মিসাইল ফ্রিগেট ‘মার্শাল উসতিনভ’ ও ‘ভারইয়াগ’ রাশিয়ার নর্দান ও প্যাসিফিক ফ্লিটে মোতায়েন রয়েছে।

দ্য ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার (আইওডব্লিউ) বলছে, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে ইউক্রেনের আঘাতেই মস্কভা ডুবেছে কি না। তবে মস্কভা হারানো সেটা যে কারণেই হোক না কেন, ইউক্রেনের প্রপাগান্ডা ছড়ানোর জন্য এটি বড় বিজয়।

মস্কভা ডুবে যাওয়া রুশ নৌবাহিনীর আত্মবিশ্বাসেও চিড় ধরাবে।

কিন্তু সামরিক বিবেচনায় মস্কভা ডুবে যাওয়াতে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিকল্পনায় খুব একটা ব্যাঘাত ঘটার কথা নয়।

এ জাহাজটি ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই কৃষ্ণসাগরে মোতায়েন ছিল।

আইওডব্লিউ বলছে, মস্কভা সম্ভবত ইউক্রেনের সামরিক সরঞ্জামকেন্দ্রগুলোতে ও বিমানঘাঁটিগুলোতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে ব্যবহৃত হতো।

এ ধরনের হামলা খুব কাজে দিলেও বিমান হামলা কিংবা ভূমি থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এর তাৎপর্য খুবই নগণ্য।

রাশিয়ার সামরিক বিশ্লেষক আলেক্সান্ডার খ্রামাচিখিন মস্কভা ডুবে যাওয়াকে মোটেও গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘জাহাজটি খুবই পুরোনো। প্রায় ৫ বছর আগে থেকেই একে অবসরে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।

‘এর প্রকৃত সামরিক মূল্যের থেকেও এর সামগ্রিক মর্যাদা বেশি। স্বাভাবিকভাবেই, বর্তমান সামরিক অভিযানে এর খুব একটা ভূমিকা নেই। এটি ডুবে যাওয়াতেও অভিযানের কোনো প্রভাব পড়বে না।’

মস্কভার ইতিহাস

মস্কভা একটি আটলান্ট-ক্লাস ক্রুজার যুদ্ধজাহাজ। ১৯৭০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীর বিরুদ্ধে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে এটিকে নকশা করা হয়। এ ছাড়াও দূরবর্তী মোতায়েন সোভিয়েত জাহাজগুলোকে আকাশ প্রতিরক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রেও কার্যকর ছিল।

বিমানবাহী রণতরীর বিরুদ্ধে কার্যকারিতার জন্য এটিকে ‘ক্যারিয়ার কিলার’ হিসেবে ডাকা হতো।

আর মস্কভা, যার নাম ছিল ‘স্লাভা’, তৈরি করাই হয়েছিল ইউক্রেনের মাইকোলাইভের শিপইয়ার্ডে। সময়ের পরিক্রমায় ইউক্রেনই এখন এটিকে ডুবিয়ে দেয়ার দাবি করছে।

জাহাজটি খুবই পুরোনো। প্রায় ৫ বছর আগে থেকেই একে অবসরে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।

১৯৭৯ সালে এটি তৈরি হলেও এর তিন বছর পর এটি সোভিয়েত নৌবাহিনীতে কমিশন পায়। কৃষ্ণসাগর ফ্লিটের এটিই ছিল ফ্ল্যাগশিপ। ১৮৬ মিটার লম্বা জাহাজটিতে ৬২ জন অফিসারসহ ৪৭৬ জন ক্রুয়ের থাকার ব্যবস্থা ছিল।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Iran left the meeting room by rejecting the peace talks with the US
ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বয়কট করে সভাকক্ষ ছাড়লো ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বয়কট করে সভাকক্ষ ছাড়লো ইরান
ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নতুন করে সামরিক হামলার তীব্র হুমকি আসায় সুইজারল্যান্ডে চলমান উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা বর্জন করেছে ইরানের প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনা ত্যাগের কথা নিশ্চিত করেছেন।

মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দেন যে, তেহরান কখনোই আমেরিকার সাথে সরাসরি সংলাপে বসতে চায়নি, কেবল মধ্যস্থতাকারীদের বিশেষ অনুরোধে তারা পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। আলোচনার মাঝপথে ট্রাম্পের দেওয়া হুমকির সংবাদ পাওয়ার পর তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান। গালিবাফ বলেন, “ট্রাম্প আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আমাদের এই প্রতিনিধি দল এবং একই সাথে ইরানের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর তীব্র হুমকি দিয়েছেন।” তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ্য করে সভাকক্ষেই স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে, এই ধরনের হুমকি উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির শর্তগুলোর সরাসরি লঙ্ঘন। চাপের মুখে ইরান কোনো আলোচনা চালিয়ে যাবে না বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।

এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর ইরানি প্রতিনিধি দল তাৎক্ষণিকভাবে সভাকক্ষ ত্যাগ করে। মার্কিন পক্ষ থেকে পুনরায় বৈঠকের অনুরোধ জানানো হলেও তেহরান তা সরাসরি নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানি প্রতিনিধিদের সাথে দীর্ঘ ৮০ মিনিট আলোচনা করেন এবং একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন। ইরানি স্পিকার মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে দেন যে, তারা কেবলমাত্র কাতার ও পাকিস্তানের সাথে কথা বলবেন, আমেরিকার সাথে আর কোনো সংলাপে অংশ নেবেন না।

এর আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছিলেন যে, লেবাননে ইরানের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো কার্যক্রম বন্ধ না করলে তেহরানের ওপর আরও মারাত্মক আঘাত হানা হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও কঠোর ভাষায় বলেন যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করলে ইরানের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে। ট্রাম্পের এমন উসকানিমূলক বক্তব্যের পর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য যে, গত ১৪ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশ এক ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছিল, যার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল লেবানন যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা।

আন্তর্জাতিক
Mamata Banerjee was removed by Arup Roy the new Trinamool Congress chairman

তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন চেয়ারম্যান অরূপ রায়, সরিয়ে দেওয়া হল মমতাকে

তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন চেয়ারম্যান অরূপ রায়, সরিয়ে দেওয়া হল মমতাকে ছবি: সংগৃহীত

ভারতের তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকে যে দলের অবিসংবাদিত নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছিলেন, সেই দলের শীর্ষ পদ থেকেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়।

সোমবার (২২ জুন) কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে এই বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে দলের প্রায় ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতা পৌরসভার অন্তত ৭০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাংগঠনিক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক হলেও ২০২২ সালের পর আর কোনো নতুন কমিটি গঠিত হয়নি। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকেই এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এরপর দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে ধ্বনি ভোটে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দলের নতুন নেতৃত্ব কাঠামোও চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথিন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন।

সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহাকে। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামান আনসারিকে। পাশাপাশি দলের অতীতের সব আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য বিশেষ নিরীক্ষক বা অডিটর নিয়োগের সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Ukraine is about to lose its last base to Russia

রাশিয়ার কাছে শেষ ঘাঁটি হারানোর পথে ইউক্রেন

রাশিয়ার কাছে শেষ ঘাঁটি হারানোর পথে ইউক্রেন ছবিঃ ব্রিটানিকা

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্ত্যন্তিনিভকায় প্রবেশ করেছে রুশ বাহিনী। শহরটি এখন তারা অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেনীয় সেনাদের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, পুরো শহরটি বর্তমানে কোনো পক্ষেরই একক নিয়ন্ত্রণে নেই এবং এটি কার্যত একটি ‘ধূসর অঞ্চলে’পরিণত হয়েছে।

কোস্ত্যন্তিনিভকা শহরটি দনবাস অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। এই শহরের পতন ঘটলে রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনে ইউক্রেনীয়দের শেষ প্রধান দুটি ঘাঁটি—ক্রামাতোরস্ক এবং স্লোভিয়ানস্কের দিকে সরাসরি অগ্রসর হতে পারবে। এর ফলে সমগ্র দনবাস অঞ্চল দখল করার যে লক্ষ্য ক্রেমলিন নির্ধারণ করেছে, তা অর্জন করা মস্কোর জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

বিবিসিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউক্রেনীয় ড্রোন পাইলট বলেন, ‘তারা (রুশ সেনারা) পেছনের দিক থেকে আমাদের এলাকায় ঢুকে পড়ছে। শহুরে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে তাদের সেখান থেকে হটিয়ে দেওয়া চরম কঠিন কাজ।’

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন যুদ্ধ মূলত সম্মুখভাগে স্থবির হয়ে ছিল। ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের দাবি ছিল, তাঁরা এ বছর হারানোর চেয়ে বেশি এলাকা পুনরুদ্ধার করেছেন এবং রুশ সীমান্ত ও অধিকৃত ক্রিমিয়ার মধ্যকার মস্কোর গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ লাইন ব্যাহত করতে পেরেছেন। কিন্তু কোস্ত্যন্তিনিভকায় রুশ সেনারা দক্ষিণ দিক থেকে অগ্রসর হয়ে এখন শহরের উত্তর প্রান্তেও অবস্থান নিয়েছে।

মস্কোর দাবি, তাদের বাহিনী কোস্ত্যন্তিনিভকার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং তারা ইউক্রেনীয় সামরিক ইউনিটগুলোকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে।

তবে কিয়েভ এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। শহরটি প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইউক্রেনের ১৯তম কর্পসের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওলেক্সান্ডার বাকুলিন জোর দিয়ে বলেন, ‘পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শত্রুরা সফল হতে পারেনি।’ তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এখনো শহরের ভেতরে প্রায় ১৩০ জন রুশ সেনা অবস্থান করছে।

শহরের ভেতরে যুদ্ধরত এক ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি মস্কোর দাবির মতো এতটা সংকটজনক না হলেও, ইউক্রেনীয় প্রশাসন জনসমক্ষে যা স্বীকার করছে, পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর। তিনি বলেন, ‘শহরের ভেতরে আমাদের পরিচ্ছন্নতা ও আক্রমণকারী দল কাজ করছে ঠিকই, কিন্তু রুশরা ক্রমাগত সেখানে আরও সেনা জড়ো করতে সক্ষম হচ্ছে।’

গ্রীষ্মের গাছপালার আড়াল এবং প্রতিটি ভবনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রুশ সেনারা অত্যন্ত ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন এড়াতে রুশ সেনারা অনেক সময় দিনে মাত্র ১০০ মিটার পথ হামাগুড়ি দিয়ে পার হচ্ছে।

বর্তমানে রুশ ড্রোন পাইলটরা ইউক্রেনীয় ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন পাইলট জানান, তাদের জনবল ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা থাকায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা যেহেতু শত্রু পাইলটদের খোঁজার চেয়ে তাদের পদাতিক বাহিনীকে ঠেকাতে বেশি ব্যস্ত থাকি, তাই তারা অনায়াসেই আমাদের অবস্থানগুলো শনাক্ত করে আক্রমণ চালাচ্ছে এবং আমাদের পিছু হটতে বাধ্য করছে।’

ইউক্রেনীয় ড্রোন পাইলট বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘বড় সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রুশ বাহিনী এখন এতটাই কাছাকাছি চলে এসেছে যে তারা ইউক্রেনীয় অবস্থান শনাক্ত করতে সস্তা চীনা ড্রোন ব্যবহার করছে। ফলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য রসদ সরবরাহ করা চরম কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, সবকটি স্থলপথ এখন সরাসরি রুশ গোলন্দাজ বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুর আওতায় রয়েছে।

ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইন পর্যবেক্ষণকারী প্রকল্প ‘ডিপস্টেট’ জানিয়েছে, কোস্ত্যন্তিনিভকার পতন এখন ‘সময়ের ব্যাপার মাত্র’। এটি ঘটলে এই অঞ্চলে ইউক্রেনের লজিস্টিক অপারেশন আরও জটিল হবে এবং ক্রামাতোরস্ক শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাও অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
After 50 years Japan increased the visa fee by 5 times

৫০ বছর পর ভিসা ফি একলাফে ৫ গুণ করল জাপান

৫০ বছর পর ভিসা ফি একলাফে ৫ গুণ করল জাপান ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি এক ধাক্কায় বাড়িয়ে পাঁচ গুণ করেছে জাপান। গত প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এটিই দেশটিতে ভিসা ফি বাড়ানোর প্রথম ঘটনা। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই বর্ধিত ফি কার্যকর হতে যাচ্ছে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একক প্রবেশাধিকারের (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা ফি বর্তমানের ৩ হাজার ইয়েন (প্রায় ১৮.৬৯ মার্কিন ডলার) থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ইয়েন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, একাধিক প্রবেশাধিকারের (মাল্টিপল-এন্ট্রি) ভিসা ফি বর্তমানের ৬ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার ইয়েন করা হয়েছে।

১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম ভিসা ফি সংশোধন করল টোকিও। গত শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি এবং মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামাকে প্রতিফলিত করতেই এই ফি সংশোধন করা হয়েছে।’

তবে এই সিদ্ধান্তের কারণে জাপানের বিকাশমান পর্যটনশিল্পে বড় কোনো ধাক্কা লাগবে না বলে মনে করেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করছি না যে এটি জাপানে আসা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যার ওপর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

২০২১ সাল থেকে জাপানি মুদ্রা ‘ইয়েন’-এর মান ক্রমাগত কমছে। বর্তমানে ইয়েনের মান গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ইয়েনের এই দরপতন এবং করোনা মহামারি পরবর্তী ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কারণে জাপানে বিদেশি পর্যটকদের ঢল নেমেছে। কম খরচে ভ্রমণের সুযোগ পাওয়ায় গত বছর দেশটিতে রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পর্যটকদের এই রেকর্ড আগমনও পরোক্ষভাবে এই ফি বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

কেবল ভিসাই নয়, জাপানে বসবাসরত বা বসবাস করতে ইচ্ছুক বিদেশিদের জন্য অন্যান্য ফি-ও বড় আকারে বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত মে মাসে জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে বিদেশিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ফি বৃদ্ধির একটি বিল পাস হয়।

নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, জাপানে স্থায়ী বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) আবেদনের সংবিধিবদ্ধ সর্বোচ্চ ফি বর্তমানের ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ইয়েন পর্যন্ত নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা বর্তমানের ৩০ গুণ।

এ ছাড়া রেসিডেন্সি স্ট্যাটাসের মেয়াদ বাড়ানোর ফিও বর্তমানের ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ইয়েন পর্যন্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। জাপানের নীতিনির্ধারকদের দাবি, ভিসা এবং আবাসনসংক্রান্ত ফিগুলো গ্রুপ অব সেভেন (জি৭) ভুক্ত অন্য উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এত দিন অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় জাপানের ভিসা ফি বেশ কম ছিল।

উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রে অনাবাসী (নন-ইমিগ্রেন্ট) ভিসা আবেদন ফি ১৮৫ ডলার থেকে ৩১৫ ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের সাধারণ স্বল্পমেয়াদি ভিসার ফি ১৩৫ পাউন্ড (প্রায় ১৭০ ডলার)। সেই তুলনায় জাপানের নতুন নির্ধারিত ফি উন্নত বিশ্বের অন্যান্য দেশের সমকক্ষ হবে বলে মনে করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক
US will take control of Strait of Hormuz if deal fails Donald Trump

সমঝোতা ব্যর্থ হলে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র: ডোনাল্ড ট্রাম্প

সমঝোতা ব্যর্থ হলে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র: ডোনাল্ড ট্রাম্প ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে হরমুজ প্রণালী বন্ধের যেকোনো উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া প্রায় ২০ মিনিটের এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান যদি সমঝোতার পথে না আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। এমনকি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং ওই পথে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে আমরা হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেব। তারা যদি সমঝোতা না করে, তাহলে সেখানে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করব।

এর আগে শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইসরায়েলকে দায়ী করে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সরাসরি সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও তদারকির দায়িত্ব নিতে পারে। একই সঙ্গে ওই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত তেলের একটি অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বাস্তব অর্থ ও সম্ভাব্য নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এদিকে, লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকেও নতুন করে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানকে অবিলম্বে লেবাননে তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা রোববার সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার বৈঠকটি শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্পের এ ধরনের কঠোর অবস্থান নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Students jump to save 13 lives killed in coaching center fire in India

ভারতে কোচিং সেন্টারে আগুনে নিহত ১৩, প্রাণ বাঁচাতে শিক্ষার্থীদের লাফ

ভারতে কোচিং সেন্টারে আগুনে নিহত ১৩, প্রাণ বাঁচাতে শিক্ষার্থীদের লাফ ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনৌতে একটি কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত একটি তিনতলা ভবনে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ১৩ জন নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর উদ্ধারকারীরা ভবনটি থেকে অন্তত ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করেন।

দুর্ঘটনা কবলিত ভবনটিতে দ্বিতীয় তলায় থাকা কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি একটি পোষা প্রাণীর দোকানসহ আরও কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভবনের ওপরের তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষ ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। তবে আগুন লাগার সময় ঠিক কতজন মানুষ সেখানে অবরুদ্ধ ছিলেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক সংখ্যা জানানো হয়নি।

ভবনের ভেতরে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে আটকা পড়া মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে দ্বিতীয় তলায় থাকা কোচিং সেন্টার থেকে পাঁচ থেকে সাতজন শিক্ষার্থী নিচে লাফিয়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ভাঙা জানালা দিয়ে বাইরে বের হয়ে কার্নিশ ধরে ঝুলে থাকার চেষ্টা করছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি বেড়ার ওপর এবং পরে মাটিতে পড়ে যান। লাফ দেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত একজনের হাড় ভেঙে গেছে এবং আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভয়াবহ এই ঘটনার পর উদ্ধারকাজ সরাসরি তদারকি করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক। উদ্ধারকাজের অংশ হিসেবে দমকল কর্মীরা ভবনের কয়েকটি জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি লখনৌর স্থানীয় কর্মকর্তাদের দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার এবং তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Iran US talks successfully completed Pak PM Shahbaz Sharif

ইরান-মার্কিন আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন: পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ

ইরান-মার্কিন আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন: পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শাহবাজ শরিফ

দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে অবশেষে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে এই ইতিবাচক অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেছেন।

তার দেওয়া তথ্যমতে, অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা (রোডম্যাপ) তৈরিতে সম্মত হয়েছেন।

উভয় পক্ষের এই আলোচনাকে এগিয়ে নিতে এবং রাজনৈতিকভাবে তদারকি করতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আগামী দিনগুলোতে আরও গভীর কারিগরি বা টেকনিক্যাল আলোচনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তানের ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করে শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘একটি শান্তিপূর্ণ এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপ ও কূটনীতিকে এগিয়ে নিতে পাকিস্তান তার সৎ এবং আন্তরিক ভূমিকা পালন করে যাবে।’

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং বিশ্ব শান্তির ক্ষেত্রে এই আলোচনাকে একটি বড় ধরনের বরফ-গলা অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর পটভূমিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শাহবাজ শরিফ। সুইজারল্যান্ডে চলমান এই কূটনৈতিক আসরে ট্রাম্পের ‘দূরদর্শী এবং অত্যন্ত গতিশীল নেতৃত্বের’ জন্য তাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

সুইজারল্যান্ডের বৈঠকস্থলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শাহবাজ শরিফ বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যার সুনির্দিষ্ট ফল হিসেবে আজ আমরা সবাই এখানে এক টেবিলে বসতে পেরেছি। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে এই আলোচনার ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে দারুণ আশাবাদ ব্যক্ত করেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী।

শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, আমার বিশ্বাস, এখানে আমাদের মধ্যে অত্যন্ত চমৎকার কিছু আলোচনা হতে যাচ্ছে। আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে, এই আলোচনা আগামী দিনগুলোতে একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক পরিণতির দিকে এগিয়ে যাবে।

এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, বিগত কয়েক ঘণ্টায় দুই দেশের মধ্যে ‘অসাধারণ’ অগ্রগতি হয়েছে। তবে আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক পরিবেশ থাকলেও ইরানকে ঢালাওভাবে ছাড় দেননি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি এখনো ইরানকে ‘আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে এর দায় তেহরানের ওপর চাপান। তবে একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি দুই দেশকে এমন এক ভবিষ্যতের মুখোমুখি করেছে যেখানে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে।

মন্তব্য

p
উপরে