ইউক্রেনের জাতীয়তাবাদী অস্ত্রধারী বাহিনী আজভ ব্যাটালিয়ন দাবি করেছে, আজভ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মারিওপোলের লড়াইয়ে রুশ সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র মোতায়েন ও ব্যবহার করেছে।
রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে আজভ ব্যাটালিয়ন দাবি করেছে, সোমবার শনাক্ত করা যায়নি এমন একটি রাসায়নিক এজেন্ট ড্রোনের সাহায্যে আজভ যোদ্ধাদের ওপর নিক্ষেপ করে রুশ সেনারা। ফলে যোদ্ধাদের দম বন্ধ হয়ে আসে ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তবে আজভ ব্যাটালিয়নের দাবি এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এরই মধ্যে রাসায়নিক হামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কাজ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।
তবে রাশিয়া বলছে, মস্কোকে শাস্তি দিতে পশ্চিমারা আরও একধাপ এগিয়ে যেতে চায়। তাই রাশিয়ার বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারের অভিযোগ আনা হচ্ছে, যাতে দেশটির বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয়া যায়।
ইউক্রেনের আজভ ব্যাটালিয়নকে নব্য নাৎসি, উগ্র জাতীয়তাবাদী অস্ত্রধারী গোষ্ঠী হিসেবে মনে করে ক্রেমলিন।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘রুশ সেনারা মারিওপোলের বাসিন্দাদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে থাকতে পারে। আমরা এর বিস্তারিত নিশ্চিত হতে মিত্রদের নিয়ে কাজ করছি।
‘এ ধরনের যেকোনো অস্ত্র ব্যবহার সংঘাত বৃদ্ধি করবে এবং আমরা পুতিন ও রুশ শাসকগোষ্ঠীকে জবাবের আওতায় আনব।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়াকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইউক্রেনে গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করলে প্রতিক্রিয়া দেখাবে ন্যাটো।
যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে রাসায়নিক অস্ত্র প্রতিরোধী সরঞ্জাম পাঠিয়েছে ইউক্রেনে। তবে পাঠানো সরঞ্জামের পরিমাণ জানা যায়নি।
গত ১ এপ্রিল হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি বলেছিলেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়া রাসায়নিক বা জীবাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। এই ধরনের হামলার পর জীবন বাঁচাতে ব্যবহার হয় এমন সরঞ্জাম সরবরাহ করার বিষয় নিয়ে চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মারিওপোলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেনের নেতারা বলে আসছেন, রাশিয়া সম্ভবত রাসায়নিক বা জীবাণু অস্ত্র ইউক্রেনে মোতায়েন করতে পারে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকেই পশ্চিমাদের বাধা উপেক্ষা করে পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে চলছে রুশ সেনাদের সামরিক অভিযান।
ইউক্রেনকে ‘অসামরিকায়ন’ ও ‘নাৎসিমুক্তকরণ’ এবং দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের রুশ ভাষাভাষী বাসিন্দাদের রক্ষা করার জন্যই এমন সামরিক পদক্ষেপ বলে দাবি করে আসছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আসছে।
Reports that Russian forces may have used chemical agents in an attack on the people of Mariupol. We are working urgently with partners to verify details.
— Liz Truss (@trussliz) April 11, 2022
Any use of such weapons would be a callous escalation in this conflict and we will hold Putin and his regime to account.
ছবিঃ ব্রিটানিকা
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্ত্যন্তিনিভকায় প্রবেশ করেছে রুশ বাহিনী। শহরটি এখন তারা অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেনীয় সেনাদের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, পুরো শহরটি বর্তমানে কোনো পক্ষেরই একক নিয়ন্ত্রণে নেই এবং এটি কার্যত একটি ‘ধূসর অঞ্চলে’পরিণত হয়েছে।
কোস্ত্যন্তিনিভকা শহরটি দনবাস অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। এই শহরের পতন ঘটলে রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনে ইউক্রেনীয়দের শেষ প্রধান দুটি ঘাঁটি—ক্রামাতোরস্ক এবং স্লোভিয়ানস্কের দিকে সরাসরি অগ্রসর হতে পারবে। এর ফলে সমগ্র দনবাস অঞ্চল দখল করার যে লক্ষ্য ক্রেমলিন নির্ধারণ করেছে, তা অর্জন করা মস্কোর জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।
বিবিসিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউক্রেনীয় ড্রোন পাইলট বলেন, ‘তারা (রুশ সেনারা) পেছনের দিক থেকে আমাদের এলাকায় ঢুকে পড়ছে। শহুরে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে তাদের সেখান থেকে হটিয়ে দেওয়া চরম কঠিন কাজ।’
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন যুদ্ধ মূলত সম্মুখভাগে স্থবির হয়ে ছিল। ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের দাবি ছিল, তাঁরা এ বছর হারানোর চেয়ে বেশি এলাকা পুনরুদ্ধার করেছেন এবং রুশ সীমান্ত ও অধিকৃত ক্রিমিয়ার মধ্যকার মস্কোর গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ লাইন ব্যাহত করতে পেরেছেন। কিন্তু কোস্ত্যন্তিনিভকায় রুশ সেনারা দক্ষিণ দিক থেকে অগ্রসর হয়ে এখন শহরের উত্তর প্রান্তেও অবস্থান নিয়েছে।
মস্কোর দাবি, তাদের বাহিনী কোস্ত্যন্তিনিভকার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং তারা ইউক্রেনীয় সামরিক ইউনিটগুলোকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে।
তবে কিয়েভ এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। শহরটি প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইউক্রেনের ১৯তম কর্পসের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওলেক্সান্ডার বাকুলিন জোর দিয়ে বলেন, ‘পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শত্রুরা সফল হতে পারেনি।’ তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এখনো শহরের ভেতরে প্রায় ১৩০ জন রুশ সেনা অবস্থান করছে।
শহরের ভেতরে যুদ্ধরত এক ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি মস্কোর দাবির মতো এতটা সংকটজনক না হলেও, ইউক্রেনীয় প্রশাসন জনসমক্ষে যা স্বীকার করছে, পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর। তিনি বলেন, ‘শহরের ভেতরে আমাদের পরিচ্ছন্নতা ও আক্রমণকারী দল কাজ করছে ঠিকই, কিন্তু রুশরা ক্রমাগত সেখানে আরও সেনা জড়ো করতে সক্ষম হচ্ছে।’
গ্রীষ্মের গাছপালার আড়াল এবং প্রতিটি ভবনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রুশ সেনারা অত্যন্ত ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন এড়াতে রুশ সেনারা অনেক সময় দিনে মাত্র ১০০ মিটার পথ হামাগুড়ি দিয়ে পার হচ্ছে।
বর্তমানে রুশ ড্রোন পাইলটরা ইউক্রেনীয় ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন পাইলট জানান, তাদের জনবল ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা থাকায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা যেহেতু শত্রু পাইলটদের খোঁজার চেয়ে তাদের পদাতিক বাহিনীকে ঠেকাতে বেশি ব্যস্ত থাকি, তাই তারা অনায়াসেই আমাদের অবস্থানগুলো শনাক্ত করে আক্রমণ চালাচ্ছে এবং আমাদের পিছু হটতে বাধ্য করছে।’
ইউক্রেনীয় ড্রোন পাইলট বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘বড় সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রুশ বাহিনী এখন এতটাই কাছাকাছি চলে এসেছে যে তারা ইউক্রেনীয় অবস্থান শনাক্ত করতে সস্তা চীনা ড্রোন ব্যবহার করছে। ফলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য রসদ সরবরাহ করা চরম কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, সবকটি স্থলপথ এখন সরাসরি রুশ গোলন্দাজ বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুর আওতায় রয়েছে।
ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইন পর্যবেক্ষণকারী প্রকল্প ‘ডিপস্টেট’ জানিয়েছে, কোস্ত্যন্তিনিভকার পতন এখন ‘সময়ের ব্যাপার মাত্র’। এটি ঘটলে এই অঞ্চলে ইউক্রেনের লজিস্টিক অপারেশন আরও জটিল হবে এবং ক্রামাতোরস্ক শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাও অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি এক ধাক্কায় বাড়িয়ে পাঁচ গুণ করেছে জাপান। গত প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এটিই দেশটিতে ভিসা ফি বাড়ানোর প্রথম ঘটনা। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই বর্ধিত ফি কার্যকর হতে যাচ্ছে।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একক প্রবেশাধিকারের (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা ফি বর্তমানের ৩ হাজার ইয়েন (প্রায় ১৮.৬৯ মার্কিন ডলার) থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ইয়েন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, একাধিক প্রবেশাধিকারের (মাল্টিপল-এন্ট্রি) ভিসা ফি বর্তমানের ৬ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার ইয়েন করা হয়েছে।
১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম ভিসা ফি সংশোধন করল টোকিও। গত শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি এবং মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামাকে প্রতিফলিত করতেই এই ফি সংশোধন করা হয়েছে।’
তবে এই সিদ্ধান্তের কারণে জাপানের বিকাশমান পর্যটনশিল্পে বড় কোনো ধাক্কা লাগবে না বলে মনে করেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করছি না যে এটি জাপানে আসা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যার ওপর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
২০২১ সাল থেকে জাপানি মুদ্রা ‘ইয়েন’-এর মান ক্রমাগত কমছে। বর্তমানে ইয়েনের মান গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ইয়েনের এই দরপতন এবং করোনা মহামারি পরবর্তী ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কারণে জাপানে বিদেশি পর্যটকদের ঢল নেমেছে। কম খরচে ভ্রমণের সুযোগ পাওয়ায় গত বছর দেশটিতে রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পর্যটকদের এই রেকর্ড আগমনও পরোক্ষভাবে এই ফি বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
কেবল ভিসাই নয়, জাপানে বসবাসরত বা বসবাস করতে ইচ্ছুক বিদেশিদের জন্য অন্যান্য ফি-ও বড় আকারে বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত মে মাসে জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে বিদেশিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ফি বৃদ্ধির একটি বিল পাস হয়।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, জাপানে স্থায়ী বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) আবেদনের সংবিধিবদ্ধ সর্বোচ্চ ফি বর্তমানের ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ইয়েন পর্যন্ত নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা বর্তমানের ৩০ গুণ।
এ ছাড়া রেসিডেন্সি স্ট্যাটাসের মেয়াদ বাড়ানোর ফিও বর্তমানের ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ইয়েন পর্যন্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। জাপানের নীতিনির্ধারকদের দাবি, ভিসা এবং আবাসনসংক্রান্ত ফিগুলো গ্রুপ অব সেভেন (জি৭) ভুক্ত অন্য উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এত দিন অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় জাপানের ভিসা ফি বেশ কম ছিল।
উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রে অনাবাসী (নন-ইমিগ্রেন্ট) ভিসা আবেদন ফি ১৮৫ ডলার থেকে ৩১৫ ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের সাধারণ স্বল্পমেয়াদি ভিসার ফি ১৩৫ পাউন্ড (প্রায় ১৭০ ডলার)। সেই তুলনায় জাপানের নতুন নির্ধারিত ফি উন্নত বিশ্বের অন্যান্য দেশের সমকক্ষ হবে বলে মনে করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে হরমুজ প্রণালী বন্ধের যেকোনো উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া প্রায় ২০ মিনিটের এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান যদি সমঝোতার পথে না আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। এমনকি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং ওই পথে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে আমরা হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেব। তারা যদি সমঝোতা না করে, তাহলে সেখানে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করব।
এর আগে শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইসরায়েলকে দায়ী করে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সরাসরি সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও তদারকির দায়িত্ব নিতে পারে। একই সঙ্গে ওই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত তেলের একটি অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বাস্তব অর্থ ও সম্ভাব্য নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এদিকে, লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকেও নতুন করে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানকে অবিলম্বে লেবাননে তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা রোববার সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার বৈঠকটি শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্পের এ ধরনের কঠোর অবস্থান নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনৌতে একটি কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত একটি তিনতলা ভবনে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ১৩ জন নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর উদ্ধারকারীরা ভবনটি থেকে অন্তত ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করেন।
দুর্ঘটনা কবলিত ভবনটিতে দ্বিতীয় তলায় থাকা কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি একটি পোষা প্রাণীর দোকানসহ আরও কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভবনের ওপরের তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষ ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। তবে আগুন লাগার সময় ঠিক কতজন মানুষ সেখানে অবরুদ্ধ ছিলেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক সংখ্যা জানানো হয়নি।
ভবনের ভেতরে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে আটকা পড়া মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে দ্বিতীয় তলায় থাকা কোচিং সেন্টার থেকে পাঁচ থেকে সাতজন শিক্ষার্থী নিচে লাফিয়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ভাঙা জানালা দিয়ে বাইরে বের হয়ে কার্নিশ ধরে ঝুলে থাকার চেষ্টা করছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি বেড়ার ওপর এবং পরে মাটিতে পড়ে যান। লাফ দেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত একজনের হাড় ভেঙে গেছে এবং আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভয়াবহ এই ঘটনার পর উদ্ধারকাজ সরাসরি তদারকি করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক। উদ্ধারকাজের অংশ হিসেবে দমকল কর্মীরা ভবনের কয়েকটি জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি লখনৌর স্থানীয় কর্মকর্তাদের দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার এবং তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
শাহবাজ শরিফ
দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে অবশেষে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে এই ইতিবাচক অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেছেন।
তার দেওয়া তথ্যমতে, অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা (রোডম্যাপ) তৈরিতে সম্মত হয়েছেন।
উভয় পক্ষের এই আলোচনাকে এগিয়ে নিতে এবং রাজনৈতিকভাবে তদারকি করতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আগামী দিনগুলোতে আরও গভীর কারিগরি বা টেকনিক্যাল আলোচনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তানের ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করে শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘একটি শান্তিপূর্ণ এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপ ও কূটনীতিকে এগিয়ে নিতে পাকিস্তান তার সৎ এবং আন্তরিক ভূমিকা পালন করে যাবে।’
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং বিশ্ব শান্তির ক্ষেত্রে এই আলোচনাকে একটি বড় ধরনের বরফ-গলা অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর পটভূমিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শাহবাজ শরিফ। সুইজারল্যান্ডে চলমান এই কূটনৈতিক আসরে ট্রাম্পের ‘দূরদর্শী এবং অত্যন্ত গতিশীল নেতৃত্বের’ জন্য তাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
সুইজারল্যান্ডের বৈঠকস্থলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শাহবাজ শরিফ বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যার সুনির্দিষ্ট ফল হিসেবে আজ আমরা সবাই এখানে এক টেবিলে বসতে পেরেছি। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে এই আলোচনার ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে দারুণ আশাবাদ ব্যক্ত করেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী।
শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, আমার বিশ্বাস, এখানে আমাদের মধ্যে অত্যন্ত চমৎকার কিছু আলোচনা হতে যাচ্ছে। আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে, এই আলোচনা আগামী দিনগুলোতে একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক পরিণতির দিকে এগিয়ে যাবে।
এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, বিগত কয়েক ঘণ্টায় দুই দেশের মধ্যে ‘অসাধারণ’ অগ্রগতি হয়েছে। তবে আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক পরিবেশ থাকলেও ইরানকে ঢালাওভাবে ছাড় দেননি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি এখনো ইরানকে ‘আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে এর দায় তেহরানের ওপর চাপান। তবে একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি দুই দেশকে এমন এক ভবিষ্যতের মুখোমুখি করেছে যেখানে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে।
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশে পড়তে যাওয়া নিয়ে ভয়াবহ বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় শিক্ষার্থীরা। ভিসা নিয়ে কড়াকড়ি ও ভারতীয় রুপির দরপতনে এ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত কয়েক মাসে ইউরোসহ বিশ্বের প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ভারতীয় রুপির ব্যাপক দরপতন হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঋণের পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গেছে। সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভারতের ঝাড়খণ্ডের ২৯ বছর বয়সি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর প্রগতি প্রিয়া ইউরোপের একটি দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, চিন্তায় আমার রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আমি এমন কোনো ঋণের বোঝা কাঁধে নিতে চাই না, যা সারা জীবনেও শোধ করা সম্ভব হবে না।
প্রিয়ার মতো ভারতের লাখ লাখ মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থী একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন। ২০২৫ সালের তথ্য বলছে, ১২ লাখেরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী বর্তমানে বিদেশে পড়াশোনা করছেন। দেশটি কয়েক বছর আগেই এ ক্ষেত্রে চীনকে ছাড়িয়ে শীর্ষ অবস্থান দখল করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রুপির ক্রমাগত অবমূল্যায়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে চাকরির অনিশ্চয়তা এবং ভিসার কঠোর নিয়মের কারণে এ অবস্থান ধরে রাখা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
ভারতের এডওয়াইজ ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির প্রতিষ্ঠাতা সুশীল সুখওয়ানি বলেন, বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক কমেছে। গত দুই বছরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ শতাংশ কমেছে। আগামীতে এ হার আরও ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমতে পারে।
ভিসা কড়াকড়ির কারণেও অনেক শিক্ষার্থীর বিদেশে পড়াশোনা দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারির সেশনে যুক্তরাজ্যের ৭৬ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই হার প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে।
রুপির দরপতনের কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। সুখওয়ানি জানান, গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে রুপির মান ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। এতে করে অনেক শিক্ষার্থীকে টিউশন ফির জন্য নতুন করে ঋণের আবেদন বা অতিরিক্ত অর্থের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০১৯ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান পরিস্থিতি বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে ভারতের মুদ্রার মান ৩৫ থেকে ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
অন্যদিকে পড়াশোনা শেষে চাকরি করে আয় বাড়লেও ক্যারিয়ার গঠনের পথ দিন দিন সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘নর্থ আমেরিকা অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টসের’ প্রতিষ্ঠাতা সুধাংশু কৌশিক বলেন, শিক্ষার্থীরা দক্ষকর্মী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে আসেন। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত গিগ ইকোনমি বা অস্থায়ী বা খণ্ডকালীন কাজে আটকে পড়ছেন। আগে এসব কাজ করে পড়াশোনার খরচ মেটাতে পারলেও এখন তারা শেষ পর্যন্ত পূর্ণকালীন হকার বা ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।
তিনি বলেন, পেশা নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা ভারতের উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা কমিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া বিদেশে পড়াশোনাও আগের চেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
স্টুডেন্ট আবাসন বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের’ চিফ অপারেটিং অফিসার মায়াঙ্ক মাহেশ্বরী বলেন, কম টিউশন ফি, পড়াশোনা পরবর্তী কাজের সুবিধা এবং ভালো কর্মসংস্থানের কারণে জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও ইতালির মতো দেশগুলো এখন ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
ছবি: সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। চলমান উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বড় অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপের পর ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা এবং দেশটির জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ শিথিলের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি এই অগ্রগতিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা এবং ট্রাম্পের হামলার হুমকির কারণে আলোচনার শুরুটা বেশ উত্তপ্ত ও উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি করতে একটি রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতি অনুযায়ী, সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে সুইজারল্যান্ডের পার্বত্য রিসোর্ট বুর্গেনস্টকে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উভয় পক্ষ লেবাননে সংঘাত থামানোর একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান রাজি হয়েছে।
গত সপ্তাহে সই হওয়া এক সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স গতকাল রোববার ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল এপ্রিল থেকে চলা নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত ৬০ দিন বাড়ানো। সোমবার ভোররাত পর্যন্ত এই আলোচনা চলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তার দেশ তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড়, বিদেশে আটকে থাকা কিছু সম্পদ ছাড় এবং ইরানের জন্য একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
আলোচনা আপাতত শেষ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরুর ঠিক আগে ফক্স নিউজ জানায়, ট্রাম্প ইরানের কর্মকর্তাদের এই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি আবারো হরমুজ প্রণালী বন্ধের চেষ্টা করে তবে ‘সেই দেশের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না’।
ট্রাম্প এই বলে আরও হুমকি দেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেবে এবং সেখান দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর নিজস্ব কর বা টোল বসাবে। সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষ থেকেই ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এক সূত্রের বরাতে জানায়, ট্রাম্পের হুমকির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ইরানি প্রতিনিধিরা আর আলোচনার কক্ষে ফিরতে রাজি হননি। তবে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত ছিল।
ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়, পারমাণবিক বিষয়ে কোনো আলোচনা শুরুর আগে পুরনো চুক্তির শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং তেল রপ্তানির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া এক মার্কিন কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেন, ইরানিদের চলে যাওয়ার খবর ঠিক নয়। গভীর রাত পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা হরমুজ প্রণালী, লেবানন পরিস্থিতি, পারমাণবিক ইস্যু এবং সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো বাস্তবায়নের খুঁটিনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছি।
এক মার্কিন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনা গতকাল সোমবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিস্তারিত কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য দুই দেশের বিশেষজ্ঞ দল সেখানে আরও কিছুদিন অবস্থান করবে।
সমঝোতা স্মারকে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। তবে লেবাননে ইসরায়েল প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার বিপরীতে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
লেবাননে যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র রক্ষা করতে পারেনি—এই অভিযোগ তুলে ইরান এর আগে জানিয়েছিল, তারা আবারও ওই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তেহরান আরও বলেছিল, রোববার আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ বা মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে কোনো কথা হবে না।
সুইজারল্যান্ডে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলাকালীন ভ্যান্স লেবানন পরিস্থিতিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি বলেন, সেখানে যুদ্ধ অবসানের পথে অগ্রগতি হয়েছে। ভ্যান্সের মতে, ‘এ ধরনের বিষয়গুলো সবসময় কিছুটা জটিল বা অগোছালো হয়।’
এদিকে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরান যদি তার মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে না আনে, তবে তিনি আবারও ইরানে হামলা শুরু করবেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, ‘লেবাননে ইরানের উচ্চ বেতনভোগী প্রক্সিদের এখনই অশান্তি সৃষ্টি করা বন্ধ করতে হবে। যদি তারা তা না করে, তবে আমরা আবারো ইরানে কঠোর হামলা করব, ঠিক গত সপ্তাহের মতো—তবে এবার হামলা হবে আরও শক্তিশালী!’
তবে ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আমাদের ‘ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় শুরু করার অনুরোধ করেছেন।’একজন মার্কিন কূটনীতিক জানান, আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের বার্তা স্পষ্ট করা এবং যুদ্ধ বন্ধের একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেন প্রণালীটি পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকে।
মন্তব্য