প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর শাহবাজ শরিফ সবার আশীর্বাদের জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ দেশকে হেফাজত করেছেন। এর পেছনে রয়েছে যৌথ বিরোধী দলের নেতাদের নিরলস প্রচেষ্টাও।
পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন প্রধানমন্ত্রীকে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে জানিয়ে শাহবাজ আরও বলেন, ‘আজকে ঐতিহাসিক দিন। অর্থনৈতিক সূচকের মাধ্যমে জনগণের স্বস্তি বোঝা যায়। রুপি তার অন্তর্নিহিত মান ফিরে পেয়েছে, যা প্রতি ডলারে ১৯০ টাকায় বিনিময় হচ্ছিল। আজ প্রতি ডলারে ১৮২ রুপিতে নেমে এসেছে।
শাহবাজ বলেন, ‘ইমরান খান সেই ব্যক্তি যিনি বলেছিলেন মার্কিন ডলারের বিপরীতে যখন ১ রুপি বেড়ে যায়, তখন এটা প্রমাণ হয় যে দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি। এখন বিষয়টা তার দেখা উচিত।
সুপ্রিম কোর্টের ‘একমত’ রায়কে স্বাগত জানিয়ে শাহবাজ আরও বলেন, ‘যেদিন সুপ্রিম কোর্ট ওই রায় দেয়, সেই দিনটিকে পাকিস্তানের ইতিহাসের ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত।’
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরিদর্শন করেছেন।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে তিনি প্রাচীন গৌড়ের বিভিন্ন প্রত্নস্থল ঘুরে দেখার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী সোনামসজিদ ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন।
সফরকালে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ ছাড়া সোনামসজিদ সীমান্ত ফাঁড়িতে (বিওপি) দায়িত্ব পালনরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় তিনি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং স্থলবন্দরের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
প্রাচীন গৌড়ের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রদূতকে বিভিন্ন স্থাপনার ছবি তুলতে দেখা যায়। তিনি এলাকার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সফরকালে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, ৫৯ বিজিবি মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মুক্ত সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে মাগুরায় ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় মাগুরা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক। প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক শেখ ইলিয়াস মিথুনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক সঞ্জয় রায় চৌধুরী, মাসুম বিল্লাহ কলিন্স, শাহিন আলম তুহিন, ইমরান হোসেন, শিউলি আফরোজ সাথী, আলিমুজ্জামান উজ্জ্বল, ফয়সাল পারভেজ, জয়ন্ত জোয়ার্দার, শরীফ স্বাধীন, নাঈমুর রহমান, সুজন মাহামুদ, শাহিনুর রহমান ও তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৬ জুন তৎকালীন সরকার মাত্র চারটি সংবাদপত্র রেখে সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়। ফলে বহু সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। ইতিহাসের সেই ঘটনাকে স্মরণ করে দেশের সাংবাদিক সমাজ প্রতি বছর ১৬ জুনকে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। রাষ্ট্র ও সমাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।’ অতীতের সে দুঃখজনক ঘটনার শিক্ষা নিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।
সভায় মাগুরা প্রেসক্লাবের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মহানগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিয়মিত বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নিজেদের গ্যাং বা দলের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব ফেসবুক পেজ, গোপন গ্রুপ এবং টিকটক আইডি বা অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছে, সেগুলোকে ডিএমপির সাইবার ইউনিট অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে রাজধানীর মিরপুর বিভাগ ও মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান চলছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, র্যাব-২ মোহাম্মদপুর এলাকায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ১১৯টি ছিনতাইবিরোধী সফল অভিযান পরিচালনা করেছে এবং এসব অভিযান থেকে ২৫২ জন ছিনতাইকারী ও অপরাধীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনেছে।
পরবর্তীতে ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বাতেনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, দেশের সর্বত্র মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোর গ্যাং, চুরি, ছিনতাই ও রাহাজানি থেকে সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও জানান, এর অংশ হিসেবে বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং এবং পাড়া-মহল্লায় উঠান বৈঠকের আয়োজন করে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি তরুণ সমাজকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক নিয়মিত কাউন্সেলিং, বিশেষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অভিযান এবং নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
ভারতীয় রুপির বিপরীতে সর্বোচ্চ দামে বাংলাদেশি টাকা। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর ভারতীয় রুপির বিপরীতে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। বর্তমানে বাংলাদেশের ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ৭৯ ভারতীয় রুপি, যা মাত্র কিছুদিন আগেও ছিল মাত্র ৭৩ রুপি।
একইভাবে আগে যেখানে ১০০ রুপি কিনতে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রায় ১৪০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হতো, মুদ্রা বাজারের বর্তমান হারের কারণে এখন সেখানে লাগছে মাত্র ১২৩ টাকা।
মুদ্রা বিনিময় হারের এই বড় ধরনের পরিবর্তনে দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত বাণিজ্য, আমদানি কার্যক্রম এবং ভারতগামী পাসপোর্টধারী যাত্রীদের মধ্যে বড় রকমের স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাধারণত ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে একজন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীকে যাত্রার আগেই বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে ভারতীয় দূতাবাসের ভিসা ফি ১ হাজার ৫৫০ টাকা, ভারতের বন্দর চার্জ ৪০০ রুপি, বাংলাদেশ সরকারের ভ্রমণ কর ১ হাজার টাকা এবং বন্দর ফি ৬৫ টাকা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এর বাইরেও ভিসার সিরিয়াল সংগ্রহ ও যাতায়াত বাবদ একটি বড় অঙ্কের ব্যয় হয়। ফলে রুপির উচ্চমূল্যের কারণে এতদিন ভারত ভ্রমণ সাধারণ মানুষের জন্য বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছিল।
শুধু ভ্রমণই নয়, রুপির চড়া দামের কারণে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতেও অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছিল দেশের ব্যবসায়ীদের, যার ফলে অনেক আমদানিকারক লোকসানের আশঙ্কায় তাঁদের ব্যবসার পরিধি সীমিত করে ফেলেছিলেন।
তবে সম্প্রতি ভারতের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করেই রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান লক্ষণীয়ভাবে বাড়তে শুরু করে এবং গত তিন দিনের ব্যবধানে টাকার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এতে ভ্রমণকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যবহারকারী পাসপোর্টধারী রাশেদুজ্জামান জানান, টাকার মান বাড়ায় ভারত ভ্রমণের খরচ আগের চেয়ে কিছুটা কমবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির বিষয়।
অন্যদিকে বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বাংলাদেশি টাকা শক্তিশালী হওয়ায় ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের সামগ্রিক ব্যয় কমবে এবং দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন এই পরিবর্তনকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে বলেন, বিগত ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশি টাকার মান রুপির বিপরীতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ভারতের নির্বাচন-পরবর্তী এই সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যাত্রী চলাচল আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১ হাজার ৮৩৬ জন দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছেন এবং একই দিনে ৩৪৫টি ট্রাকে করে দুই দেশের আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহন করা হয়েছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীদের জোরালো প্রত্যাশা হলো বাংলাদেশি টাকার এই ইতিবাচক ধারা যদি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকে, তবে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে এবং সীমান্ত অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ ঢাকা মহানগরের থানাগুলোকে দালালমুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, থানা এলাকায় মাদক উদ্ধার ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। থানাকে দালালমুক্ত রাখতে হবে। কোনো অপরাধ যেন থানা এলাকায় সংঘটিত হতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বুধবার (১৭ জুন) ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে গত মে মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সভায় ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে। বিশেষ করে মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
সভায় তিনি আরও বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার প্রদান করা হবে। অন্যদিকে দায়িত্বে অবহেলা, শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আসন্ন পবিত্র আশুরার সব কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেউ যেন বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি করতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
মাসিক অপরাধ সভায় মে মাসে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানসহ উত্তম কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার।
র্যাবের হাতে গ্রেফতার এক্সেল বাবু। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর আদাবরে বিকাশ দোকানিকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই এবং থানা পুলিশের দুই কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় কুখ্যাত ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ফরিদ উদ্দিন বাবু ওরফে এক্সেল বাবুসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর এবং মিরপুরের পীরেরবাগ ও ৬ ফিট এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত বাকি পাঁচজন হলেন এই সন্ত্রাসী চক্রের বর্তমান সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাঈদ, রাশেদ খন্দকার, মো. লিটন, মো. তসির এবং মো. তরিকুল ইসলাম। গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, চাপাতি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নাঈমুল হাসান এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, গত ১৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় এক বিকাশ এজেন্টকে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে প্রায় ৩ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা। ঘটনার পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আদাবর থানা পুলিশ তুরাগ হাউজিং এলাকায় অভিযান চালালে ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আদাবর থানার ওসি জাইদুল ইসলাম এবং এসআই তরুণ গুরুতর আহত হন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে আমির ও রুবেল নামে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয় এবং পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরসহ মোট ৬ জনকে আটক করে। পরবর্তীতে মূলহোতাদের ধরতে র্যাব-২ এর গোয়েন্দা দল নজরদারি বাড়িয়ে এই ছয় শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব জানায়, কব্জি কাটা গ্রুপের মূল প্রধান আনোয়ার ও বর্তমান প্রধান আবু সাঈদের ‘গুরু’ বা মেন্টর হিসেবে কাজ করতেন এই এক্সেল বাবু।
তিনি আরও জানান, এক্সেল বাবু নিজেই র্যাবের কাছে এই গ্যাংয়ের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। মূলত তার প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয় ও ছত্রছায়ায় এই গ্রুপটি মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। মূল প্রধান আনোয়ার গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে আবু সাঈদ এই পুরো গ্রুপটিকে মাঠে থেকে নিয়ন্ত্রণ করছিল। র্যাব কর্মকর্তা নাঈমুল হাসান জোর দিয়ে বলেন, এক্সেল বাবুর মতো গডফাদার ও পৃষ্ঠপোষকদের যতক্ষণ পর্যন্ত আইনের আওতায় আনা না যাবে, ততক্ষণ এই গ্যাংগুলো বারবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করবে। এই কারণে অপরাধ দমনে র্যাব এখন থেকে আরও আক্রমণাত্মক ও কঠোর পুলিশিং ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ছিনতাইকারী ও অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার বিষয়ে র্যাবের পদক্ষেপ জানতে চাওয়া হলে অতিরিক্ত ডিআইজি নাঈমুল হাসান রামিসা হত্যা মামলার দ্রুততম সময়ে রায় হওয়ার উদাহরণটি টেনে আনেন।
তিনি বলেন, ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের অংশ হিসেবে র্যাব শুধু অপরাধীদের আটক ও তদন্তের কাজটি করে থাকে। তবে এই ধরনের কুখ্যাত ছিনতাইকারী এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোনো বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা যেত, তবে দেশের সাধারণ জনগণ আরও অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করতো এবং অপরাধীদের মনেও ভয় তৈরি হতো।
ছবি: সংগৃহীত
ধর্ষক ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না উল্লেখ করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এসব অপরাধীর পক্ষে কেউ সুপারিশ করতে এলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।
মাদক ও ধর্ষণের বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “ধর্ষক বা মাদক ব্যবসায়ীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ হতে পারে না।” রাজনৈতিক নেতাদের সতর্ক করে তিনি আরও যোগ করেন, “এদের দমনে যদি কোনো রাজনৈতিক নেতা তদবির করেন, তবে সেই নেতাসহ তাদের একই মামলায় জড়িয়ে হাজতে পাঠানো হবে। আমার নিজের দলের নেতা হলেও রেহাই পাবেন না।” দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নজরদারির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে, রাষ্ট্রের শত চোখ ফাঁকি দিয়ে পার পাওয়া এখন অসম্ভব।
প্রশাসনের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে সকাল ৯টায় অফিস করলেও অনেক জেলা-উপজেলায় কর্মকর্তারা সময়মতো উপস্থিত হন না, যা অনভিপ্রেত। তিনি স্পষ্ট জানান যে, শূন্যপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কেবল মেধাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং কোনো রাজনৈতিক তদবির সেখানে গ্রাহ্য হবে না। বিগত সময়ের মেগা প্রজেক্টগুলোতে অর্থ লোপাটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পৌনে চার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে অবিশ্বাস্যভাবে ব্যয় বাড়িয়ে দেখানোর মতো দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় বর্তমান সরকার অনেক প্রকল্প স্থগিত করে নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে।
মাদক চোরাচালানে ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনি ফাঁকফোকর গলিয়ে জামিন পাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের দমনে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের মডেলটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। বাজেট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি মন্তব্য করেন যে, দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী এই বাজেটের বিরোধিতা কেবল বিরোধিতার খাতিরেই করা হচ্ছে। এর আগে মন্ত্রী ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় নির্মিত একটি অত্যাধুনিক কসাইখানা এবং শৈলকূপায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
মন্তব্য