× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Behind the fall of Imran
google_news print-icon

ইমরানের পতনের নেপথ্যে

ইমরানের-পতনের-নেপথ্যে
সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি: এএফপি
নাটকীয়তার ভোটে রাজনৈতিক মৃত্যু হয় ক্রিকেটার থেকে মাঠকাঁপানো রাজনীতিক ইমরানের, যার পেছনে দুটি বাস্তবতা ছিল। পার্লামেন্টের ভেতর জোটসঙ্গীদের সমর্থন হারায় পিটিআই, যার ফলে অনাস্থা ভোটে জিততে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেননি ইমরান। পার্লামেন্টের বাইরে সাবেক এ অলরাউন্ডার দৃশ্যত সেনাবাহিনীর সমর্থন হারান।

দিনভর অনেক নাটকীয়তা শেষে শনিবার মধ্যরাতে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে হলো ইমরান খানের ওপর অনাস্থার ভোট। এতে হারলেন ইমরান; হারালেন প্রধানমন্ত্রিত্ব।

এর আগে বৃহস্পতিবার এক রায়ে অনাস্থা ভোট খারিজ করে পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট, যার ফলে পার্লামেন্টের হাতেই নির্ধারণ হয় ভোট এড়াতে চাওয়া ইমরানের ভাগ্য।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনের পর ইমরানের হাতে দুটি সুযোগ ছিল। ভোটের মাধ্যমে সরিয়ে দেয়া না হলে তাকে পদত্যাগ করতে হতো। ইমরান শেষ বল পর্যন্ত খেলতে চাওয়ায় আইনপ্রণেতাদের ভোটেই তার বিদায় নিশ্চিত হয়।

নাটকীয়তায় ভরা এ ভোটে আপাতত রাজনৈতিক মৃত্যু হলো ক্রিকেটার থেকে মাঠকাঁপানো রাজনীতিক ইমরানের, যার পেছনে দুটি বাস্তবতা ছিল। পার্লামেন্টের ভেতর পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) জোটসঙ্গীদের সমর্থন হারায়, যার ফলে অনাস্থা ভোটে জিততে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেননি ইমরান। পার্লামেন্টের বাইরে সাবেক এ অলরাউন্ডার দৃশ্যত সেনাবাহিনীর সমর্থন হারান।

২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে জিততে সেনারা ইমরানকে সহায়তা করে বলে অভিযোগ ছিল বিরোধীদের। সেই সেনাবাহিনীই ইমরান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে জ্যেষ্ঠ পদগুলোতে কিছু নিয়োগ এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত ইস্যুতে। যদিও ইমরানের সঙ্গে ‘বিচ্ছেদের’ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাহিনীটি।

পাকিস্তানে গত কয়েক সপ্তাহে ইমরানকে গদিচ্যুত করতে প্রধান দুই বিরোধী দল পাকিস্তান পিপল’স পার্টি (পিপিপি) ও পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে দেয়। পিটিআই নেতৃত্বাধীন জোটের মিত্ররা ইমরানের প্রতি অসন্তোষের বিষয়ে সোচ্চার হতে থাকেন।

মার্চের শেষের দিকে পিটিআইয়ের জোটসঙ্গী বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির (বিএপি) সিনেটর আনোয়ার উল হক কাকর বলেছিলেন, ‘এখন পর্যন্ত সুশাসনের ক্ষেত্রে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।’

ইমরানের জোটত্যাগী দলটির এ নেতা আরও বলেছিলেন, ‘গত দুই বছর ধরে অসন্তোষ চলছিল। কেন্দ্রীয় সরকারে নিজেদের অবস্থান এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসংখ্যা নিয়ে দল (বিএপি) অসন্তুষ্ট ছিল।’

পিটিআইয়ের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্কের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আফজাল চাঁনের বক্তব্যে, যিনি মার্চের শুরুতে ছেড়ে আসা পিপিপিতে নতুন করে যোগ দেন।

ইমরানের নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়ার কারণ হিসেবে চাঁন বলেছিলেন, ‘(ইমরান) খানের দুর্নীতিবিরোধী প্ল্যাটফর্মে প্রভাবিত হয়েছিলাম। একই সঙ্গে বিদ্যমান পরিস্থিতির ওপর ত্যক্ত ছিলাম, কিন্তু তারপর আমি দেখলাম, খান বাইরে গরিবদের নিয়ে কথা বললেও অন্দরে তিনি সম্পদশালী বিনিয়োগকারী বেষ্টিত।’

অর্থনৈতিক সংকট

পাকিস্তানে ইমরানের প্রতি অসন্তোষ বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয় গভীরতর অর্থনৈতিক সংকটকে। তার শাসনকালের বড় সময় দুই অঙ্কের মুদ্রাস্ফীতি দেখেছে পাকিস্তান।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিরোধীরা এককাট্টা হওয়ার পর বৈশ্বিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার মধ্যেও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম কমানোর ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান। একই সঙ্গে জুনে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত দাম নির্দিষ্ট রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ইমরানের এ সিদ্ধান্ত ধারাবাহিক অর্থ ঘাটতি এবং দেনা-পাওনার ভারসাম্যজনিত সমস্যায় থাকা পাকিস্তানের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। চলতি সপ্তাহে ডলারের বিপরীতে ঐতিহাসিক অবনমন হয় রুপির। এমন বাস্তবতায় এক জরুরি বৈঠকে সুদের হার ব্যাপকভাবে বাড়ায় স্টেট ব্যাংক অফ পাকিস্তান।

এ সংকট নিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্ল্যাভাৎনিক স্কুল অফ গভর্নমেন্টের অর্থনীতিবিদ শাহরুখ ওয়ানি আল জাজিরাকে বলেন, ‘এটার একাংশ আগের সরকার সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে এবং আরেক অংশ অবশ্যই কোভিডের কারণে, তবে সরকার কৌশলী না হয়ে সমস্যা সমাধানে তড়িঘড়ি শুরু করে এবং সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি কখনও।’

ইমরানের পতনের নেপথ্যে
ইমরানের শাসনামলে অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি পাকিস্তান। ছবি: এএফপি

ইমরানের সাবেক মিত্র চাঁনের মতে, তার আসনে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ পতনে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি, সারের ঘাটতি, পাঞ্জাবে স্থানীয় সরকার পরিচালনায় ব্যর্থতা, পুলিশের তৎপরতা—এসবের প্রত্যেকটিই সীমা ছাড়িয়েছে।’

পার্লামেন্টে মিত্রদের সমর্থন হারানোয় ইমরানের পক্ষের আইনপ্রণেতা কমে যায়। ৩৪২ সদস্যের জাতীয় পরিষদে বিএপি, মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) এবং পাকিস্তান মুসলিম লিগ-কায়েদের (পিএমএল-কিউ) আসনসংখ্যা ৫ শতাংশের কম, তবে অনাস্থা ভোটে জোটের এ সঙ্গীদের ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সাড়ে তিন বছরের অধ্যায় শেষ হয়ে যায়।

শুধু জোটের মিত্র নয়, খোদ পিটিআইয়ের বিদ্রোহী কিছু আইনপ্রণেতার সমর্থন পাওয়ার কথাও জানায় বিরোধী দলগুলো।

এই বিরোধী ও বিদ্রোহীদের মতো অর্থনৈতিক অবস্থাও ছিল ইমরানের বিপক্ষে। এ নিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল বলেন, ‘পাকিস্তানের সামনে সবচেয়ে বড় দুই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং ক্রমহ্রাসমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সমস্যা হলো রিজার্ভ কমতে থাকায় মুদ্রার অবনমন হচ্ছে, যেটি মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়াচ্ছে।’

সেনাবাহিনীর ভূমিকা

ইমরানের প্রস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তার সাবেক মিত্ররা বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সামরিক কর্মকর্তাদের সম্পর্কের বিষয়টিকে আরও সামনে আনেন। বিরোধীদের অনাস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ইমরানের পক্ষ নেবে না বলে জানিয়ে দেয় সেনাবাহিনী, যাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি পার্লামেন্ট সদস্যদের সমর্থন কমতে থাকে।

বিএপির সিনেটর কাকর বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান (সেনাবাহিনী) নিরপেক্ষ হওয়ার পর মিত্ররা দেখল যে, সরকার আর টিকবে না। তিনি আর থাকতে পারবেন না, এমনটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এটি (পতন) ছিল সময়ের ব্যাপার।’

পাকিস্তানের বিগত অনেক প্রধানমন্ত্রীর একজন ইমরান খান, যিনি গদিচ্যুত হয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ ও বৈদেশিক নীতির প্রশ্নে সেনাদের সঙ্গে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে।

গত বছরের অক্টোবরে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সামরিক কর্মকর্তাদের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার বিস্ফোরণ ঘটে। সে সময় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল কামার বাজওয়ার পছন্দের ব্যক্তির পরিবর্তে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফাইজ হামিদকে সামরিক গোয়েন্দাপ্রধান হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন ইমরান। ঘটনাক্রমে বাজওয়ার মনোনীত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাদিম আনজুম আন্তবাহিনী গোয়েন্দা (আইএসআই) প্রধান হিসেবে নিযোগ পান, কিন্তু এ নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিরোধ অশুভ ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

ইমরানের পতনের নেপথ্যে
সেনাবাহিনীর প্রধান কামার বাজওয়ার সঙ্গে ইমরান খান। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল বাজওয়ার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হচ্ছে নভেম্বরে। তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সব যোগ্যতা রয়েছে সর্বজ্যেষ্ঠ জেনারেলদের একজন হামিদের। বলে রাখা ভালো, পাকিস্তানে সেনাপ্রধান নিয়োগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঢেলে সাজানোর চেষ্টা

দৃশ্যত অস্বাভাবিক পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন ইমরান খান। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ধরে রাখতে চেয়েছে সেনাবাহিনী।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বঘোষিত নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমরান খান রাশিয়া সফরে যান। ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের মধ্যে তিনি রুশদের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করার চেষ্টা করেন, তবে ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছ থেকে একটি করমর্দনের বেশি কিছু পাননি তিনি।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ইমরানের মস্কো সফরে সমর্থন দিলেও সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনে মতদ্বৈততা তীব্র হতে থাকে। পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনের পর ইমরান অভিযোগ করেন, রাশিয়া সফর এবং নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি বেছে নিতে চাওয়ার শাস্তি হিসেবে তাকে উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ষড়যন্ত্র শুরু হয়।

ইসলামাবাদে গত ২৭ মার্চ এক সমাবেশে ষড়যন্ত্রের প্রমাণ হিসেবে একটি চিঠি দেখান ইমরান খান। তার দাবি, তাকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারণে কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইমরানের পতনের নেপথ্যে
সমাবেশে কথিত চিঠি হাতে ইমরান খান। ছবি: সামা নিউজ

কূটনৈতিক সেই বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের কথিত হুমকি এবং ইমরানের ওপর অনাস্থা ভোটকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ষড়যন্ত্র আখ্যা দেয়া পাকিস্তানের রাজনীতি এবং বেসামরিক-সামরিক সম্পর্ককে আরও ঘোলা করে।

এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল, সাবেক সামরিক মুখপাত্র এবং ২০১৫ থেকে ২০১৮ মেয়াদে ইউক্রেনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আতহার আব্বাস বলেন, ‘ওই চিঠি তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করে। অনাস্থা ভোটে হস্তক্ষেপ নিয়ে (সেনাবাহিনীতে) মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়।’

জেনারেল আব্বাস ইমরান খানের শাসনামলে তার সঙ্গে সামরিক নেতৃত্বের বেশ কিছু মতপার্থক্যের কথা বলেন। তার মতে, ইমরানের দুর্বল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিতে আঁচড়ের মতো বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সেনা অভিযান এবং নাইন-ইলেভেনের পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃশ্যত অন্তহীন যুদ্ধের বিরোধী ছিলেন ইমরান। এ নিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে মতদ্বৈততা তৈরি হয় তার।

এ বিষয়ে জেনারেল আব্বাস বলেন, ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রীর (ইমরান) অবস্থান ছিল, আমরা আমেরিকার যুদ্ধ বয়ে বেড়াচ্ছি এবং জান-মালের ক্ষতি করছি। সেনাবাহিনীর মত ছিল, এটা (সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান) আফগান যুদ্ধের কুফল এবং আমাদের হাতে অন্য কোনো সুযোগ ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘সেনা নেতৃত্বের ওপর চাপ ছিল যে, যদি এটা আমেরিকার হয়ে যুদ্ধ হয়, তাহলে তরুণ কর্মকর্তা এবং সেনাদের আত্মত্যাগ বৃথা।’

অবসরপ্রাপ্ত আরেক সামরিক কর্মকর্তা এয়ার ভাইস মার্শাল শেহজাদ চৌধুরীর মতে, ইমরানের শাসনপদ্ধতির কারণেও সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার উত্তেজনা বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘নীতিগত বিষয়গুলোতে ইমরান স্থির ছিলেন না। কোনো কিছু আগে থেকে ধারণা করা যেত না কিংবা ঠিক করা ছিল না। ইমরান খান জনপ্রিয়তামুখী, যেটা তার জন্য ঝুঁকিরও।’

পরিশেষে বলা যায়, পার্লামেন্টের অভ্যন্তরে পরাজিত এবং বাইরে সমর্থন হারানো ইমরান খান রাজনীতিতে একেবারে অতীত হয়ে যাননি। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের ফিরে আসা বিরল নয়।

এ নিয়ে ইমরানের সাবেক বিশেষ সহকারী চাঁন বলেন, ‘এক মাস আগে জনগণ (ইমরান ও তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে) গালাগাল করছিল। আর এখন তারা বলছে, তিনি গৌরবের ও স্বাধীন পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
The dead body of 8 year old Senjuti was found in the morning after demanding ransom at night

রাতে মুক্তিপণ দাবি, সকালে মিলল ৮ বছরের সেঁজুতির লাশ

রাতে মুক্তিপণ দাবি, সকালে মিলল ৮ বছরের সেঁজুতির লাশ ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর সেঁজুতি (৮) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে অপহরণের পর তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সখীপুর উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত সেঁজুতি সখীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকার ফালু চন্দ্র মালুর মেয়ে। সে সখীপুর আদর্শ শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন বিকেল ৪টার পর থেকে সেঁজুতি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় গত শনিবার (২০ জুন) রাতেই শিশুটির বাবা ফালু চন্দ্র সখীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরিবারের একাধিক সদস্যের দাবি, গত রোববার (২১ জুন) রাতে তাদের কাছে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোনকল আসে। ফোনে সেঁজুতিকে জীবিত ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মৃত সেঁজুতির মা শোভা চন্দ্র বলেন, ‘আমার অনেক শত্রু আছে। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে আমার ছোট মেয়েটিকে মেরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে সোমবার সকালে পুলিশ উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরো বলেন, এটি হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। মুক্তিপণ দাবির বিষয়টিসহ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Govt working to reduce business start up process to 14 days Commerce Minister

ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা কমাতে কাজ করছে। একটি ব্যবসা শুরু করতে যেখানে আগে প্রায় এক বছর সময় লাগত, সেখানে এখন মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরুর সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি কোম্পানি ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারবে।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ ডিব্রিফিং সেশনের আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের সিডিপি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে যে সুপারিশ দিয়েছে, সেটিকে শুধু অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। এই রূপান্তরকালকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ, উৎপাদনভিত্তি বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-উত্তর বাস্তবতার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অর্থনীতির কথা বলা হয়েছে। এ শব্দগুলো শুধু অলংকার নয়, বরং বর্তমান সরকার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি। বাজেটে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লাইসেন্সিং ব্যবস্থার জটিলতা হ্রাস এবং বাজার বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকার স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।’

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, নিয়ম-নীতি প্রতিপালন এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এখন পরিবেশগত সুরক্ষা, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, যথাযথ পর্যালোচনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে গড়ে উঠছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতায় যেসব দেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় ঘটাতে পারবে, তারাই টিকে থাকবে এবং সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশ সরকারও এ রূপান্তরকে সমর্থন করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট (আরবিসি)’ প্রতিষ্ঠা করেছে। এটি সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে উন্নত সমন্বয়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই সরকারের লক্ষ্য।’

ফোরামের সুপারিশ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ প্রসার এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি বিশ্বাসযোগ্য সোর্সিং ও উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুপারিশের সঙ্গে সরকার সম্পূর্ণ একমত। ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কোথায় সময় কমানো ও প্রক্রিয়াগত ওভারল্যাপ দূর করা সম্ভব, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এক্সিকিউটিভ মেম্বার মো. হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেকজনিয়াক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি (দ্বিপক্ষীয়-পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
BGB deployment in five districts of the country

দেশের পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

দেশের পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন ছবি: সংগৃহীত

দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজার জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের অন্য জেলাগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক মোতায়েনের লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা স্ট্যান্ডবাই থাকবেন।

প্রসঙ্গত, বিজিবি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
5 members of Khulna terrorist group B company were arrested in the capital

খুলনার সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানির’ ৫ সদস্য রাজধানীতে গ্রেপ্তার

খুলনার সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানির’ ৫ সদস্য রাজধানীতে গ্রেপ্তার ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় ‘বি কোম্পানি’ নামে পরিচিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর চার সদস্যকে ঢাকা মহানগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা নগর থেকে ওই গোষ্ঠীর আরও এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন ও ৭ দশমিক ৬৫ বোরের দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে নগরের খালিশপুরে ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে হাজির করা হয়। সেখানে অভিযান ও গ্রেপ্তারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ডিবির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে খুলনা মহানগরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১ জুন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী অপরাধী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সমন্বিত বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা নজরদারি, গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্তের কাজ চলছিল।

ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার রাতে ঢাকা মহানগরের বংশাল এলাকার একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন বরিশালের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের বাসিন্দা আল-আমিন (২৯), যিনি বর্তমানে খুলনার শেখপাড়া লোহাপট্টি এলাকায় ভাড়া থাকতেন; মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার পিঠাভোগ গ্রামের বাসিন্দা তুষার শিকদার (৩৮), যিনি সোনাডাঙ্গার শেখপাড়া মেইন রোড এলাকায় বসবাস করতেন; সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কারপাসডাঙ্গা গ্রামের মো. আসিফ (২৫), যিনি নগরের নবীনগর এলাকায় থাকতেন এবং খুলনা সদরের টুটপাড়া জোড়াকল বাজার এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির (১৮)। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরের সোনাডাঙ্গা থানার গোবরচাকা এলাকার আবরার ফয়সাল ওরফে রাফিনকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবির উপপুলিশ কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা খুলনার চিহ্নিত বি কোম্পানি নামের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। দীর্ঘদিন ধরে তারা আত্মগোপনে থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুলনা নগরের একটি এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, একটি রিভলবার ও ৭ দশমিক ৬৫ বোরের দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া আরও বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে খুলনা মহানগরে সক্রিয় অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, তাদের সহযোগী এবং অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অপরাধের বিভিন্ন ঘটনায় ঘুরেফিরে কয়েকটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নাম উঠে এসেছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
A mild earthquake was felt in the capital

রাজধানীতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত

রাজধানীতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত ফাইল ছবি

রাজধানী ঢাকাসহ এর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) রাত ৯টা ২৯ মিনিট ২০ সেকেন্ড নাগাদ এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।

আকস্মিক এই ঝাঁকুনিতে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষণিকের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এতে অনেকেই বহুতল ভবন থেকে নিচে নেমে আসেন। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ঢাকায় ভূমিকম্পের এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কোভিদ গণমাধ্যমকে জানান, রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকায়।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার জানান, এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাজধানীর মিরপুর থেকে ৭ কিলোমিটারের মধ্যে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ জুন সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের কিছু উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় একই ধরনের মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। রিখটার স্কেলে সেই ভূকম্পনের তীব্রতা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪ দশমিক ৫ মাত্রা। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে থাকায় বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে ভবন নির্মাণে সতর্কতা ও দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The body of missing Bangladeshi student Emon was recovered in Cyprus

সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইমনের মরদেহ উদ্ধার

সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইমনের মরদেহ উদ্ধার ছবি: সংগৃহীত

পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরুয়ার আহমেদ ইমনের (২২) মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনায় আরেক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সময় গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি ইমনকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশটির কোফিনু এলাকার তল্লাশি চালিয়ে গাছের নিচ থেকে ঘাসঢাকা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সময় রোববার (২১ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সাইপ্রাস টাইমস।

প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১২ জুন নিখোঁজ হন ইমন। ওই দিন দেশটির লারনাকা জেলার ওরেক্লিনি এলাকার বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। সর্বশেষ তাকে সাইপ্রাসের কোফিনু এলাকায় দেখা গিয়েছিল। তার বাবা সাইপ্রাসের পুলিশকে বলেছেন, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ফোনে যোগাযোগ করে ‘মুক্তিপণ’ চেয়েছে।

মরদেহটি উদ্ধারের পর সাইপ্রাস পুলিশ জোরালো তদন্ত শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে অপহরণ হিসেবে তদন্ত করছে। এ ঘটনায় ইমনের মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর তার মোবাইল ফোন থেকে মেসেজ পাঠিয়ে পরিবার কাজ থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল।

পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় কোফিনু এলাকায় ইমনের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করে। পরে মোবাইল ট্র্যাক করে অবস্থান শনাক্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত আরেক বাংলাদেশি ২২ বছর বয়সি যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক ইমনকে অপহরণ ও হত্যা করে মরদেহ ঘাস চাপা দিয়ে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি পুলিশকে কোফিনু এলকার একটি গাছের কথাও জানান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখান থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির তথ্য ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, সেটি নিখোঁজ ইমনের মরদেহ।

পুলিশ জানায়, মরদেহটি একটি গাছের নিছে ঘাসঢাকা অবস্থায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। রোববার বিকেল ৩টার দিকে কোফিনু এলাকার একটি রেস্টহাউসের কাছ থেকে ফুলে-ফেঁপে ওঠা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ইমনের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থানও ওই এলাকাতেই শনাক্ত হয়েছিল।

প্রাথমিকভাবে মরদেহে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ইমন নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং কয়েক দিন ধরে মরদেহটি ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল।

স্বীকারোক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে লার্নাকা অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান জর্জ চারালাম্বুস বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার পেছনে আর্থিক উদ্দেশ্য ছিল। বর্তমানে তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবক একাই এ অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে তিনি তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র যেখানে পাওয়া গিয়েছিল সেই স্থানটিও পুলিশকে জানিয়েছেন। মরদেহটি পচনশীল অবস্থায় থাকায় মৃত্যুর সঠিক সময়কাল ময়নাতদন্তের পরেই জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভুক্তভোগীকে নিখোঁজের রাতেই হত্যা করা হয়েছিল।

চারালাম্বুস আরও বলেন, পুলিশ বর্তমানে একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে এবং ঘটনাটি সমাধানের কাছাকাছি রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে সন্দেহভাজনের সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অভিযান, প্রযুক্তিগত তথ্য ও যোগাযোগ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়েছে।

এদিকে সাইপ্রাসের আরেক সংবাদমাধ্যম ফাইলনিউজ ইংলিশ বলছে, লারনাকা জেলার ওরেক্লিনি এলাকায় বসবাসকারী ইমন গত ১২ জুন একটি স্থানীয় কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। পরে তিনি তার এক বন্ধুকে নিজের অবস্থান লিখে একটি বার্তা পাঠান। এছাড়া গ্রিসে থাকা তার বাবার কাছে সাহায্য চেয়ে আরেকটি বার্তা পাঠানোর পরই ইমনের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
City Administrator of Comilla to provide financial assistance to the family of Smriti who fell in the broken drain

ভাঙা ড্রেনে পড়ে নিহত ‘স্মৃতি’র পরিবারের পাশে কুমিল্লার নগর প্রশাসক, আর্থিক সহায়তা প্রদান

ভাঙা ড্রেনে পড়ে নিহত ‘স্মৃতি’র পরিবারের পাশে কুমিল্লার নগর প্রশাসক, আর্থিক সহায়তা প্রদান ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা নগরীর ছোটরায় ভাঙা ড্রেনের স্ল্যাবে পড়ে পানিতে ডুবে নিহত ৮ বছর বয়সী মাহফুজা আক্তার স্মৃতির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। সোমবার (২২ জুন) রাতে নগরীর মফিজাবাদ কলোনীতে গিয়ে স্মৃতির বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।

শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রশাসক। তিনি বলেন, “গতকাল রাতটা আমি ঘুমাতে পারিনি। বারবার স্মৃতির মুখটা চোখে ভেসে উঠেছে। আমার নিজের মেয়ের কথাও মনে হয়েছে। একটি শিশুর এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় আমারও দায় আছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন সড়কে থাকা ভাঙা স্ল্যাব চিহ্নিত করে অপসারণের কাজ শুরু করেছি। আমি চাই না আর কোনো পরিবারকে স্মৃতির পরিবারের মতো এমন শোক বয়ে বেড়াতে হোক। কুমিল্লা নগরীতে আর কোনো ভাঙা স্ল্যাব থাকবে না।”

এ সময় নগরীর দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “বিগত সময়ে যেসব ভুল হয়েছে, তার খেসারত আজ আমাদের দিতে হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।

স্মৃতির বাবা-মায়ের হাতে হাত রেখে তিনি যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরে নিহত শিশুর বাবা বিল্লাল হোসেনের হাতে ১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

উল্লেখ্য, রোববার (২১ জুন) রাতে কুমিল্লা নগরীর ছোটরা এলাকায় বৃষ্টির পানিতে ঢেকে থাকা একটি ভাঙা ড্রেনের স্ল্যাবে পড়ে পানিতে ডুবে মারা যায় শিশু মাহফুজা আক্তার স্মৃতি। মায়ের হাত থেকে ছিটকে পড়ে মুহূর্তেই নিভে যায় তার ছোট্ট জীবনের প্রদীপ। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় কুমিল্লাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।

মন্তব্য

p
উপরে