পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাবের পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্র কাজ করছে বলে দাবি করছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। জানিয়েছেন, পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে বিরোধীরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তার ধারণা, ফেব্রুয়ারির শেষে রাশিয়া সফরই কাল হচ্ছে তার।
পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান তার মেয়াদ পূরণ করতে পারেন কি না, এমন আলোচনা যখন বড় হচ্ছে, সে সময় সরকার থেকে তার সরে যাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত। পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে অনাস্থা প্রস্তাব। আর অভাবনীয় কিছু না হলে তার পরাজয় নিশ্চিত প্রায়।
৩ এপ্রিল অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটের কথা রয়েছে। তার তিন দিন আগে বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে আবেগপ্লুত ভাষণ দেন ইমরান। বলেন, তিনি একটি ইসলামী রাষ্ট্র গঠন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ‘ষড়যন্ত্রকারী'দের কাছে পারছেন না।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর অনেকবার হুমকি চিঠি পেয়েছেন বলে ভাষণে জানান ইমরান খান। তিনি বলেন, ‘এগুলো সব বিদেশি ষড়যন্ত্র।’
বক্তব্যের এক ফাঁকে ইমরান তার পকেট থেকে এক টুকরো কাগজ বের করে জনতাকে দেখিয়ে দাবি করেন, সরকারকে পতনের জন্য একটি ‘আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র’ তৈরির প্রমাণ এটি। তবে গণমাধ্যমকে সেই নথি দেখাননি ইমরান খান।
যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ
ভাষণের এক পর্যায় মুখ ফসকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করে ফেলেন ইমরান খান।
তিনি বলেন, ‘আজ এখানে এসেছি কারণ ৮ বা ৭ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি চিঠি পেয়েছিলাম। এটি একটি স্বাধীন দেশ ও সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ছিল।
‘তারা আগে থেকেই জানত যে একটি অনাস্থা প্রস্তাব আসছে। তখন অনাস্থা প্রস্তাবও জমা দেয়া হয়নি। এর মানে তারা (বিরোধীরা) বিদেশিদের সঙ্গে মিলে এই কাজ করছে। ভিনদেশিরা বলেছিল, তারা পাকিস্তানের প্রতি ক্ষুব্ধ। এটা আসলে একটা অজুহাত।
‘তারা (বিদেশিরা) জানিয়েছিল, ইমরান খান অনাস্থার পদক্ষেপে হেরে গেলে তারা পাকিস্তানকে ক্ষমা করে দেবে। যদি পদক্ষেপ ব্যর্থ হয় তবে পাকিস্তানকে একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’
ইমরান বলেন, ‘যেদিন প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলাম, সেদিনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে স্বাধীন। যার মানে এটা হবে পাকিস্তানিদের জন্য। এর মানে এই নয় যে আমরা শত্রুতা চেয়েছিলাম। যখন সরকার গঠন করি তখন জানিয়েছিলাম, যেসব পররাষ্ট্রনীতি আমাদের পক্ষে নয়, সেগুলো থেকে সরে আসব।’
রাশিয়া সফর নিয়ে যা বললেন
সম্প্রতি রাশিয়া সফর প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রদূত তাদের (যুক্তরাষ্ট্রকে) বলেছিলেন যে রাশিয়া সফরের সিদ্ধান্তটি পরে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা মানতে নারাজ। তারা বলছে, এটি কেবল ইমরান খানের কারণে হয়েছে। তিনি থাকলে আমাদের সম্পর্ক ভালো হতে পারে না। তারা আসলে যা বলছে তা হলো, ইমরান খানের স্থলাভিষিক্ত যিনি হবেন তার সঙ্গে তাদের কোনো সমস্যা নেই।’
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলার দিন যখন পশ্চিমা দেশগুলো যখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক অবরোধের ঘোষণা আসছিল, সেদিনই ইমরান খান দেশটিতে দুই দিনের সফরে যান। বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির পরিকল্পনা করে এই সফরের কথা জানানো হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি।
আবেগী কথাবার্তা
কীভাবে নানা চড়াই-উৎরাই পাশ কাটিয়ে আজকের এই অবস্থানে এসেছেন তার ব্যাখ্যাও দেন ইমরান খান।
তিনি বলেন, ‘আজ দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলতে হবে। আমি সরাসরি এই আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছি কারণ এই মুহূর্তে আমাদের সামনে দুটি পথ রয়েছে।
‘তবে তার আগে আপনাদের বলতে চাই, কেন আমার মতো একজন ব্যক্তি রাজনীতিতে প্রবেশ করলেন। আমি একজন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি যাকে আল্লাহ খ্যাতি ও সম্পদ সবকিছু দিয়েছিলেন। আমি সেই প্রথম প্রজন্মের যারা একটি স্বাধীন দেশে জন্মগ্রহণ করেছি।
‘বয়সে পাকিস্তান আমার থেকে পাঁচ বছরের বড়। আমার বাবা-মা দাসত্বের সময় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তারা আমাকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছিলেন যে আমি ভাগ্যবান। কারণ, আমি স্বাধীন দেশে জন্ম নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতিতে প্রবেশ করেছি কারণ আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে পাকিস্তান কখনই সেই দেশ হতে পারে না যার স্বপ্ন আল্লামা ইকবাল দেখেছিলেন। যার জন্য অসুস্থ অবস্থায় লড়াই করেছিলেন কায়েদ-ই-আজম। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া, যা মদিনা রাজ্যের সঙ্গে যায়।
‘যখন রাজনীতি শুরু করি, তখন আমি আমার দলের ইশতেহারে তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। ন্যায়বিচার, যার অর্থ শক্তিশালী আইন; যা সবার জন্য সমান। দ্বিতীয়টি হলো মানবতা। কারণ একটি ইসলামী রাষ্ট্রে দয়া থাকতে হয়। শেষ কারণ আত্মসম্মান। একটি মুসলিম জাতি কখনও কারও গোলাম হতে পারে না।’
সৃষ্টিকর্তা তার পাশে ছিলেন- এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন ইমরান খান। বলেন, ‘আল্লাহ যদি আমাকে আশীর্বাদ না করতেন তবে আমি রাজনীতিতে আসতাম না।
‘আমাকে ১৪ বছর উপহাস সহ্য করতে হয়েছে। রাজনীতিতে কেন এসেছি সেই প্রশ্নের মুখে পরেছি বারবার। আজকে আমি আপনাদের বলতে চাই, একটি আদর্শের কারণে রাজনীতিতে আমার আসা।’
প্রধানমন্ত্রী বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হয়েছিল। তবে কোনো কারণ না দেখিয়ে ঠিকানা স্থগিত করা হয়। আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও এমকিউএম-পি এবং বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি) উপস্থিত ছিল না।
অনাস্থায় পরাজয় নিশ্চিতপ্রায়
পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব ওঠার পর প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানো ইমরান খানের জন্য সময়ের ব্যাপার হয়ে গেছে। এরই মধ্যে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন জোট সঙ্গী মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট এমকিউএম-পির নেতা ফারুগ নাসিম ও আমিনুল হক।
সরকারে থাকতে পার্লামেন্টে যত ভোটের প্রয়োজন, সেটি নিশ্চিত করা যখন কঠিন হয়ে যাচ্ছে, তখন এমকিউএম-পি ইমরানকে দিল কঠিন ধাক্কা। ইমরানের জোট ছেড়ে যোগ দিয়েছে বিরোধী শিবিরে।
জোটসঙ্গীর এমন অবস্থানে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের আগেই পদ হারানোর বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে। অলৌকিক কিছু না ঘটলে উত্তরসূরিদের পরিণতি বরণ করে নিতে হতে পারে ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ইমরান খানকে। আগামী ৩ এপ্রিল অনাস্থা ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্ত্রিসভায় ভাঙন
জোট সরকারের অন্যতম সঙ্গী এমকিউএম-পি। দলটির নেতা ফারুগ নাসিম এবং আমিনুল হক ইমরান খান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। নাসিম ছিলেন আইনমন্ত্রী। পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, এমকিউএম-পি আহ্বায়ক খালিদ মকবুল সিদ্দিকীর নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
আমিনুল হক ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম মন্ত্রীর দায়িত্বে। পদত্যাগপত্রে তিনি জানিয়েছেন, দলের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই পদ ছাড়ছেন।
পার্লামেন্টে ভোটের হিসাব-নিকাশ
নিম্নকক্ষে ৩৪২ আসনের মধ্যে বিরোধীদের দখলে আছে ১৬৩টি। বাকি ১৭৯ আসন। এর মধ্যে ইমরানের দলের আছে ১৫৫টি, চার জোটসঙ্গীর ২০টি।
পিটিআইয়ের বেশ কয়েকজন পার্লামেন্ট সদস্য এরই মধ্যে প্রকাশ্যে ইমরানের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া বুধবার ইমরান সরকারের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়া মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএম-পি)-এর ৭ এবং বালুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি)-এর ৫ আসন রয়েছে। সমর্থন প্রত্যাহারকারী জামহুরি ওয়াতন পার্টির রয়েছেন এক সদস্য। পিএমএল-কিউ-এর সদস্য ৫।
এই পরিস্থিতিতে গদি বাঁচাতে মরিয়া ইমরান সোমবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী উসমান বুজদারকে সরিয়ে জোট সঙ্গী পিএমএল-কিউ-এর চৌধুরী পারভেজ এলাহীকে দায়িত্ব দিয়েছেন। কিছুদিন আগেও ইমরান সরকারের জোট ছেড়ে বিরোধী দলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন চৌধুরী পারভেজ এলাহী।
ছবি: সংগৃহীত
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কঠোর অবস্থান নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
শনিবার (২০ জুন) শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকা সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। বিকেল ৪টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্র জানায়, সকাল ৭টার দিকে চার শিশু, ১১ নারী ও পাঁচ পুরুষসহ মোট ২০ জনকে চৌকা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয় এবং সীমান্তে শক্ত অবস্থান নেয়।
এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সমঝোতার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শূন্যরেখার ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ওই ২০ জনকে বিএসএফের ১১৯ ব্যাটালিয়নের সুখদেবপুর ক্যাম্পের মাধ্যমে ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ রুহুল আমীন বলেন, পুশ ইনের খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত গ্রামবাসী সীমান্ত এলাকায় জড়ো হন। তারা বিজিবির প্রতি সমর্থন জানান এবং ঘটনার প্রতিবাদ করেন।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি সদস্যরা গ্রামবাসীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেন। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশও সহযোগিতা করেন।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. বাদশাহ জানান, ঘটনার একপর্যায়ে বিএসএফ ও বিজিবি সদস্যরা কয়েক গজ দূরত্বে মুখোমুখি অবস্থান নেন। বিএসএফ সদস্যরা বিজিবিকে সরে যেতে বললেও বিজিবি সদস্যরা দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দেন, ‘এক পা-ও সরব না।’ পরে প্রথমে পুশ ইনের জন্য আনা ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায় বিজিবি।
শেষ পর্যন্ত বিএসএফ তাদের নিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যায়। বিকেলে সীমান্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসে এর আগে জেলার গোমস্তাপুর সীমান্তে তিন দফায় ৪৪ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় বিএসএফ।
ফাইল ছবি
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশজুড়ে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় ৪ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এ সময়ে কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। শনিবার (২০ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আগামী পাঁচ দিন দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এ অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকলেও আগামী ৫ দিনে এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। সেই সঙ্গে আগামী ৩ দিন গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী ২ দিন তা বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে এই সময়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় নদীগুলোর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। সেই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৩ দিনে এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এই অবস্থায় আগামী ৭২ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় এসব নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম ও কংস নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি ভুগাই নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৩ দিন এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি এই সময়ে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় এসব নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন ও খোয়াই নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি যাদুকাটা, মনু ও ধলাই নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। আগামী ৩ দিনে এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে সেলোনিয়া গোমতী, ফেনী, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। আগামী ৩ দিন এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত
আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন চালু কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে পাবনা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তা ও সুধী সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
সেতুমন্ত্রী বলেন, আগস্টের মধ্যে ঢাকা-পাবনা একটা রেল চালু করতে চলেছি। লোকোমোটিভ ইতোমধ্যে প্রস্তুত আছে। আমাদের কোচ আসছে। আগামী মাসে আমরা কিছু কোচ পেয়ে যাব এবং কোচ পেলেই প্রথমেই আমরা দুটি লাইন চালু করছি। একটা হচ্ছে ঢাকা-পাবনা। পরবর্তীটা ঢাকা-খুলনা।
তিনি বলেন, আমি খুলনার মানুষ। আমি মনে করেছি ঢাকা-পাবনার অগ্রাধিকারটা অনেক বেশি। কারণ সাফারিংটাও তাদের বেশি। তো নিশ্চয়ই পাবনারটা আগে হচ্ছে, তারপরে খুলনারটা চালু হচ্ছে।
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্য ও জনসেবার স্বার্থে পরিবহন খাতকে সুশৃঙ্খল করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষের সহযোগিতা পাচ্ছে সরকার। পরিবহন সেক্টরের শৃঙ্খলা দরকার। এখন সে শৃঙ্খলাটা কীভাবে হবে, পরিবহন সেক্টরের সাথে যারা যুক্ত আছে তাদেরকে নিয়েই করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে না। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোও বর্তমান বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে উত্তরণ চায়। তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা আমরা পাচ্ছি। তারাও একটা আমূল পরিবর্তন চায়, একটা শৃঙ্খলা চায়, একটা জবাবদিহিতার মধ্যেও থাকতে চায়।
সরকার একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের বহুমাত্রিক (মাল্টিমোডাল) যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস একটি মাল্টিমোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা, যেটা আন্তর্জাতিক বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত এবং স্বীকৃত, সেটি হয়তো বাংলাদেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হতে চলেছে।
পাবনার যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি বলেন, একটা ডিপিপি প্রণয়ন বলেন—এগুলো একটা প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপ। সেটি ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং অনুসরণ করে চলছে। নিশ্চয়ই যেহেতু পাবনাবাসীর দাবি একটা বৃহত্তর জনস্বার্থে, সামষ্টিক স্বার্থে। ডেফিনেটলি এটা বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। আমি যেহেতু যোগাযোগ ব্যবস্থাপনাটা দেখছি—রেল, সড়ক এবং নৌ। সেখানে নৌ এবং সড়ক দুটোরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। সেটা সমন্বয় করে ইতোমধ্যে আমরা অগ্রসর করছি। আমার বিশ্বাস দ্রুততম সময়ের মধ্যেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সরকার গ্রহণ করবে।
এ সময় পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মন্ডল, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সুফী উল্লাহসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় কূপে পড়া একটি ছাগল উদ্ধার করতে নেমে একই পরিবারের ৪ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২০ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার গারো জনপদ জলই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বাবা বাবুল হাদিমা (৪৮), ছেলে নেইমার ম্রং, বাবুল হাদিমার শ্যালক রতন নকরেক (২৬) ও ভগ্নিপতি গাব্রিয়েল সাংমা (৪২)।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক এ খবরটি নিশ্চিত করেন।
গারো আদিবাসী নেতা ইউজিন নকরেক জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাবুল হাদিমার একটি ছাগল বাড়ির নিকটস্থ একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যায়। ছাগলটি তোলার জন্য বাবুল হাদিমার স্কুলপডুয়া ছেলে নেইমার প্রথম কূপে নামে। কিন্তু তার সাড়াশব্দ না পেয়ে কূপে নামেন রতন। একপর্যায়ে তারও সাড়া না মেলায় কূপে নামেন গাব্রিয়েল। কিন্তু এদের কারও কোনো সাড়া না পাওয়ায় সবার শেষে নামেন বাবুল হাদিমা। তিনিও কূপ থেকে না উঠলে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ হয়।
গ্রামের সুসাং সাংমা জানান, এরপর মধুপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ঘটনার দুই ঘণ্টা পর কূপ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এলাকার ইউপি সদস্য হাসমত আলী জানান, পুরোনো কূপে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় সেখানে সম্ভবত গ্যাসের সৃষ্টি হয়েছিল। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
মুন্সীগঞ্জ জেলার সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং জনসেবার মানোন্নয়নে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন এবং মতবিনিময় সভার মধ্য দিয়ে শনিবার (২০ জুন) মুন্সীগঞ্জে ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি।
সফরের শুরুতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাজারে দুই তলা বিশিষ্ট গ্রামীণ মার্কেট নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তিনি গজারিয়া উপজেলার আওতাধীন ব্র্যাক অফিস–ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদ সড়কের চেইনেজ ০ থেকে ২০০০ মিটার পর্যন্ত পুনর্বাসন ও প্রশস্তকরণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
পরবর্তীতে মন্ত্রী মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ইসলামপুর এলাকার কাঠেরপুল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সেতুটির বর্তমান অবস্থা, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সেখানে একটি সেতু প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। পরে তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
এরপর মুন্সীগঞ্জ সার্কিট হাউজে জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সকলের অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরে ‘I Have a Plan’ ঘোষণা করেছিলেন এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন। তিনি তার পিতা-মাতার দেখানো পথে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন।
মুন্সীগঞ্জবাসীর উদ্দেশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, জেলার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ এবং দেশের বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী আসনের কতিপয় সংসদ সদস্য।
ছবি: সংগৃহীত
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের সতর্কতা, সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় চোর চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ৫ম তলার ২১ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে এক রোগীর স্বজনের ব্যাগ থেকে সুকৌশলে একটি মোবাইল ফোন চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে চোর চক্রের কয়েকজন সদস্য।
ঘটনার সময় ভুক্তভোগী বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে চোর চক্রের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালে টহলরত আনসার সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ধাওয়া করেন।
আনসার সদস্যদের দ্রুত ও সাহসী ধাওয়ার মুখে চক্রের কয়েকজন সদস্য অন্ধকার ও ভিড়ের সুযোগে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পুরাতন ভবনের ৫ম তলার গেইট সংলগ্ন এলাকা থেকে মোঃ সোহেল মিয়া (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হন আনসার সদস্যরা। প্রাথমিক তল্লাশিতে তার কাছ থেকে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, মোবাইল ফোনটি চক্রের অন্য এক সদস্যের কাছে ছিল, যিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তিকে আনসার সদস্যরা নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাকে সদর থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন পিসি মোঃ ফারুক হোসেন। অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন আনসার সদস্য মোঃ আফজাল হোসেন এবং মোঃ নজরুল ইসলাম। তাদের সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপের ফলে চোর চক্রের এক সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়েছে এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনসার সদস্যদের দায়িত্বশীলতা, সতর্কতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তারা জানান, আনসার সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে এবং হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় বাহিনীর সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, হাসপাতাল ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনসেবায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব
পালন করে যাচ্ছেন। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চোর চক্রের সদস্য আটক করার এ ঘটনাটি বাহিনীর সতর্কতা, সাহসিকতা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় অঙ্গীকারের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জনগণের কল্যাণে দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অফিস করেন এবং এই তিন মাসে তিনি যে অভূতপূর্ব কাজ করেছেন, অন্য কেউ ক্ষমতায় থাকলে তিন বছরেও তা করতে পারত না।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌর বিএনপির প্রয়াত সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের স্মরণে আয়োজিত এক ভাবগম্ভীর শোকসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যকালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে যে পরিমাণ জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছে, তার নজির পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই দীর্ঘ সময়ে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে জিয়া পরিবার এবং গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালানো হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীই কোনো না কোনোভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং জেলা-উপজেলা লেভেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছেন গোপালপুর ও ভূঞাপুরের মানুষ।
তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে আরও বলেন, বর্তমানে দেশ এবং দল দুই জায়গাতেই নানা ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে এবং চক্রান্তের মাধ্যমে দলের ভেতর বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি মনে করিয়ে দেন, তাঁরা সবাই জিয়া পরিবারের লোক এবং দলের সবাইকে তিনি নিজের পরিবারের সদস্য মনে করেন। তাই যেকোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু। এছাড়া স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান গিয়াসসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।
মন্তব্য