× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Imran lost his companion and ran to the army chief
google_news print-icon

সঙ্গী হারিয়ে ইমরান ছুটলেন সেনাপ্রধানের কাছে

সঙ্গী-হারিয়ে-ইমরান-ছুটলেন-সেনাপ্রধানের-কাছে
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
জোট সঙ্গীরা ছেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের আগেই পদ হারানোর বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে। অলৌকিক কিছু না ঘটলে উত্তরসূরিদের পরিণতি বরণ করে নিতে হতে পারে ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া এই নেতাকে। আগামী ৩ এপ্রিল অনাস্থা ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব ওঠার পর প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানো ইমরান খানের জন্য সময়ের ব্যাপার হয়ে গেছে। এরই মধ্যে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন জোট সঙ্গী মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট এমকিউএম-পির নেতা ফারুগ নাসিম ও আমিনুল হক।

সরকারে থাকতে পার্লামেন্টে যত ভোটের প্রয়োজন, সেটি নিশ্চিত করা যখন কঠিন হয়ে যাচ্ছে, তখন এমকিউএম-পি ইমরানকে দিল কঠিন ধাক্কা। ইমরানের জোট ছেড়ে যোগ দিয়েছে বিরোধী শিবিরে।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দেশটির সেনাপ্রধানের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় মূলধারার কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। যদিও পাকিস্তানি পত্রিকাগুলোতে বিষয়টি সেভাবে আসেনি।

ইমরান খান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেটিও পরে বাতিল হয়েছে। সব মিলিয়ে তার প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকাটাই নানা সমীকরণে এখন বিস্ময়কর।

জোট সঙ্গীর এমন অবস্থানে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের আগেই পদ হারানোর বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে। অলৌকিক কিছু না ঘটলে উত্তরসূরিদের পরিণতি বরণ করে নিতে হতে পারে ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ইমরান খানকে। আগামী ৩ এপ্রিল অনাস্থা ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তানের প্রচার আহ্বায়ক খালিদ মকবুল সিদ্দিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমরা একত্রিত হয়েছি। আমাদের সামনে এমন একটি পরীক্ষা অপেক্ষা করছে, যার মধ্য দিয়ে জাতীয় নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে।

‘আজ প্রার্থনার দিনও... সাধারণ মানুষের ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। আমি আশা করি, এবার আমরা এমন একটি গণতন্ত্রের জন্য কাজ করতে পারি, যার প্রভাব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।’

বিরোধী দলে যোগ দেয়ার বিষয়ে মকবুল সিদ্দিক বলেন, ‘অনেক প্রত্যাশা নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আসলে আমাদের কোনো ব্যক্তি বা দলীয় সুবিধা নেই।

‘আমাদের চুক্তির প্রতিটি ধারা পাকিস্তানের সাধারণ জনগণের জন্য; বিশেষ করে সেসব এলাকার জন্য যাদের আমরা গত ৩৫ বছর ধরে প্রতিনিধিত্ব করে আসছি। আমরা ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে পাকিস্তানের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছি।’

মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টের এই ঘোষণার পর বক্তব্য দেন জাতীয় পরিষদের বিরোধী দলের নেতা শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, ‘আজ পাকিস্তানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। কারণ একটি যৌথ বিরোধী দল গঠন হতে যাচ্ছে।’

‘আমি এমকিউএম-পি এবং এর কর্মীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা ২২ কোটি পাকিস্তানির ইচ্ছা বাস্তবায়ন করেছেন। বিশেষ করে আসিফ আলি জারদারি এবং বিলাওয়ালের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারা আলোচনার এই প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করেছেন। ইতিহাসকে একপাশে রেখে তারা পাকিস্তানের সমৃদ্ধি এবং করাচির সুখের এই যাত্রা শুরু করেছে।’

সঙ্গী হারিয়ে ইমরান ছুটলেন সেনাপ্রধানের কাছে

পিপিপি নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি ইসলামাবাদে একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন। ছবি: পিপিপি মিডিয়া সেল/টুইটার

এমকিউএম-পির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বেনজির ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। দলের প্রধান বিলওয়াল ভুট্টো বলেন, ‘ইমরান খান তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন। তিনি আর প্রধানমন্ত্রী নন। বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশন। আসুন এদিনই ভোটের আয়োজন করি, বিষয়টির নিষ্পত্তি করি। তারপর স্বচ্ছ নির্বাচন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যাত্রা শুরু করতে পারি।’

জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এটি শুধু করাচি কিংবা সিন্ধু নয়, পুরো পাকিস্তানের জন্য জাতীয় ঐক্যের অভিব্যক্তি।’

‘এই সিদ্ধান্তের ফলে (সরকারের মিত্ররা বিরোধীদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে) জাতীয় পরিষদে আমাদের শক্তি এখন ১৭৬-এ দাঁড়িয়েছে। যেখানে আমাদের দরকার ছিল ১৭২ ভোট।’

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর এমকিউএম-পি প্রচার আহ্বায়ক খালিদ মকবুল সিদ্দিক দুটি চুক্তিতে সই করেন। একটি পিপিপির বিলওয়ালের সঙ্গে, অন্যটি পিএমএল-এন-এর আহসান ইকবালের সঙ্গে।

ইমরানের মন্ত্রিসভায় ভাঙন

জোট সরকারের অন্যতম সঙ্গী এমকিউএম-পি। দলটির নেতা ফারুগ নাসিম এবং আমিনুল হক ইমরান খান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। নাসিম ছিলেন আইনমন্ত্রী। পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, এমকিউএম-পি আহ্বায়ক খালিদ মকবুল সিদ্দিকীর নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

আমিনুল হক ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম মন্ত্রীর দায়িত্বে। পদত্যাগপত্রে তিনি জানিয়েছেন, দলের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই পদ ছাড়ছেন।

গভীর রাতে বৈঠক

মঙ্গলবার গভীর রাতে জরুরি বৈঠক ডাকে এমকিউএম-পি। রাজনীতিতে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে, আঁচ করতে পেরেছিল নাগরিকরা। টিভি পর্দায় তাই চোখ ছিল সবার।

মধ্যরাতের কিছু আগে খাজা আসিফ, শেরি রেহমান, নাভিদ কামার, আয়াজ সাদিক, আখতার মেঙ্গল, সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলি শাহ এবং অন্যদের সমন্বয়ে একটি বিরোধী প্রতিনিধিদল পার্লামেন্টে আসে।

রাত ২টার দিকে বৈঠকে যোগ দেন আসিফ আলি জারদারি এবং তার ছেলে বিলাওয়াল, মাওলানা ফজলুর রহমান ও শেহবাজ শরিফ। আলোচনা চলে ভোর পর্যন্ত।

ইমরানবিরোধীরা যখন পার্লামেন্ট প্রাঙ্গণে বৈঠক করছিলেন, তখন সরকারের একটি প্রতিনিধিদল এমকিউএম-পি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিরোধীদের সঙ্গে না যেতে তাদের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে এমকিউএম-পি।

পরে সাংবাদিকদের সিন্ধুর গভর্নর ইমরান ইসমাইল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বার্তা খালিদ মকবুল সিদ্দিকী এবং তার সমর্থকদের পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে নতুন সমঝোতার সুযোগ রয়েছে। তাদের সব চাওয়া পূরণ হবে। আমরা অপেক্ষায় আছি।’

তবে বিরোধীদের সঙ্গে কোনো সমঝোতার চেষ্টা হয়নি বলে দাবি করেছেন ক্ষমতাসীন পিটিআই নেতা ফয়সাল ভাওদা। তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমি আলোচনায় অংশ নিয়েছিলাম। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইসলামাবাদ থেকে করাচিতে ফিরে আসি।’

পার্লামেন্টে ভোটের হিসাব-নিকাশ

নিম্নকক্ষে ৩৪২ আসনের মধ্যে বিরোধীদের দখলে আছে ১৬৩টি। বাকি ১৭৯ আসন। এর মধ্যে ইমরানের দলের আছে ১৫৫টি, চার জোটসঙ্গীর ২০টি।

পিটিআইয়ের বেশ কয়েকজন পার্লামেন্ট সদস্য এরই মধ্যে প্রকাশ্যে ইমরানের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া বুধবার ইমরান সরকারের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়া মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএম-পি)-এর ৭ এবং বালুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি)-এর ৫ আসন রয়েছে। সমর্থন প্রত্যাহারকারী জামহুরি ওয়াতন পার্টির রয়েছেন এক সদস্য। পিএমএল-কিউ-এর সদস্য ৫।

এই পরিস্থিতিতে গদি বাঁচাতে মরিয়া ইমরান সোমবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী উসমান বুজদারকে সরিয়ে জোট সঙ্গী পিএমএল-কিউ-এর চৌধুরী পারভেজ এলাহীকে দায়িত্ব দিয়েছেন। কিছুদিন আগেও ইমরান সরকারের জোট ছেড়ে বিরোধী দলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন চৌধুরী পারভেজ এলাহী।

সেনাপ্রধানের সঙ্গে ইমরানের সাক্ষাৎ

পাকিস্তানের রাজনীতিতে দেশটির সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা ব্রিটিশ রাজ থেকে স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই। দেশটির ক্ষমতা বারবার দখল করেছে বাহিনীটি।

বলা হয়ে থাকে, যখন বেসামরিক সরকার থাকে, তখনও সেনাপ্রভাব থাকে ব্যাপক। তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার বাইরে যাওয়ার সুযোগ খুবই কম।

গত নির্বাচনে ইমরান খানের বিস্ময়কর উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে সেনা সমর্থনের বিষয়টি। তবে তেহরিক নেতা কখনও স্বীকার করতে চাননি। তার দাবি, জনগণই তাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে।

ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে বুধবার বিকেলে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তবে এই সাক্ষাতে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

সন্ধ্যায় সহযোগী এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর জাতির উদ্দেশে ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা আসতে পারে বলেও গুঞ্জন উঠেছিল। পরে টুইটে ভাষণ বাতিল করার কথা জানান পিটিআই নেতা ফয়সাল জাভেদ খান।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
9 lakh 38 thousand crores budget announced in the Thirteenth National Parliament

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

* রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা * ব্যয়ের মধ্যে ঋণের সুদে ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি * অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা * বিদেশি ঋণের সুদ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা * মোট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা * ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণ ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি * ব্যাংক থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি  * সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হবে ১৫ হাজার কোটি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা ছবি: সংগৃহীত

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ স্লোগানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর মাধ্যমে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ দেড় দশক পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটিয়ে সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম জাতীয় বাজেট দিল বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন তিনি। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট উপস্থাপন।

বিগত সরকারের আমলের অর্থনৈতিক বিপর্যয়, দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের ধ্বংসস্তূপ থেকে সামষ্টিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের বাজার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন নতুন এই অর্থমন্ত্রী।

এক নজরে বাজেট: প্রথম বাজেটের মোট আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এবার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত কর খাত থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত রাজস্ব খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যয়ের মধ্যে ঋণের সুদে ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। এছাড়া ব্যাংক থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা।

বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির ঝুঁকি মাথায় রেখে অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরে দেশের মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে চান। এছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সঙ্গে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ১ ট্রিলিয়ন ডলার করতে তুলে ধরেছেন সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ।

অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১৮.৬৬ শতাংশ।

প্রস্তাবিত বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে বিগত আমলের মতো ব্যাংকিং খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ না সৃষ্টি করে বৈদেশিক উৎসে জোর দিয়েছে সরকার। মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস এবং ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা মেটানো হবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা— যা বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় ৬ হাজার কোটি টাকা কম। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ সচল রাখতেই ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমানো হয়েছে।

শিক্ষা খাতে সংস্কার: শিক্ষা খাত পুনর্গঠনে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ একলাফে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট জিডিপির ২ শতাংশ। এই খাতের প্রধান চমকগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক একটি তৃতীয় ভাষা (যেমন: জাপানিজ, কোরিয়ান, চীনা, আরবি ইত্যাদি) অন্তর্ভুক্ত করা। এই ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষায় যেতে চাইলে সরকার ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেবে।

এছাড়া নারী শিক্ষার প্রসারে মেয়েদের জন্য স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছে। স্কুলগুলোয় প্রযুক্তিভিত্তিক ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এবং পুষ্টির জন্য মিড-ডে মিল চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন ও চিকিৎসার খরচ কমাতে এবার বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌঁছাতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন করা হবে। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় প্রত্যেক নাগরিককে একটি করে আধুনিক ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়া হবে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণে অবিলম্বে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক এবং দেশব্যাপী ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশই থাকবেন নারী।

তামাকজাত পণ্যে কর বৃদ্ধি ও ভ্যাটের কড়াকড়ি: রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে বাজেটে তামাকজাত পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক ও সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। সিগারেটের সর্বনিম্ন স্তরের প্রতি ১০ শলাকার মূল্য ৬২ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরের মূল্য ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া নিকোটিন পাউচের ওপর ৪০ শতাংশ এবং হিটেড টোব্যাকোর ওপর ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

পাশাপাশি ভ্যাটের আওতা বাড়াতে এখন থেকে যেকোনো ধরনের ব্যবসায়িক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে ‘মূসক বা ভ্যাট নিবন্ধন’ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার জন্য আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর প্রস্তাব আনা হয়েছে। উচ্চ মূল্যের হিমায়িত মাছ এবং সুগন্ধি বৃক্ষ নির্যাসের আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ মূসক আরোপের প্রস্তাবও করা হয়েছে। তবে মেট্রোরেল সেবার ওপর ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতার শেষ অংশে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বললেন, এই বাজেট কেবল সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং দেশের মেহনতি মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি কল্যাণমুখী, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার মজবুত ভিত্তি।

কোন খাতে বরাদ্দ কত: সামাজিক অবকাঠামো খাত : ২ লাখ ৭৯ হাজার ১ কোটি টাকা (মোট বরাদ্দের ২৯.৭৪ শতাংশ)।

সাধারণ সেবা খাত : ২ লাখ ৪৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা (মোট বরাদ্দের ২৬.১৩ শতাংশ)।

ভৌত অবকাঠামো খাত : ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা (মোট বরাদ্দের ১৮.৬৬ শতাংশ)।

শিক্ষা খাত : ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাত : ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।

যোগাযোগ অবকাঠামো খাত : ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা।

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা খাত : ১০ হাজার ৫ শত ৩৩ কোটি টাকা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ খাত : ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা।

নারী ও শিশু উন্নয়ন খাত : ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The Coast Guard has urged not to listen to the propaganda

অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহবান জানিয়েছে কোস্ট গার্ড

অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহবান জানিয়েছে কোস্ট গার্ড ছবি: সংগৃহীত

সুন্দরবনের জয়মনির ঘোল কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুর; আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম অব্যাহত, অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতিসহ যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

বিশেষ করে সুন্দরবনের মোংলা থানাধীন জয়মনির ঘোল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় উক্ত এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।

এর ফলে বনদস্যুদের কাছে রসদ, লজিস্টিক সহায়তা, অস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই বনদস্যু ও তাদের সহযোগীরা উক্ত এলাকায় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি চায় না।

আজ বৃহস্পতিবার জয়মনির ঘোল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

এতে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন কোস্ট গার্ড সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্ট গার্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র নিজেদের অপকর্ম পরিচালনার সুবিধার্থে উক্ত স্থান থেকে কোস্ট গার্ডকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা, ভাঙচুর, অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

মূলত সুন্দরবনে বনদস্যু দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কোস্ট গার্ডের চলমান সফল কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এসব অপতৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্পষ্টভাবে জানাতে চায় যে, কোনো ধরনের অপপ্রচার, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা কিংবা কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র বাহিনীর চলমান দায়িত্ব পালন ও অভিযানিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারবে না।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে প্রকৃত তথ্য যাচাইপূর্বক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, বনদস্যু দমন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাহিনীর চলমান কার্যক্রম কোনো ধরনের হামলা, ভয়ভীতি, অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।

সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও বদ্ধপরিকর থাকবে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Mango growers of Naogaon are in trouble due to the acute shortage of fruit bags and price increase

ফ্রুট ব্যাগের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে নওগাঁর আমচাষীরা

ফ্রুট ব্যাগের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে নওগাঁর আমচাষীরা বৃহত্তম আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁর আম বাগান । ছবি: সংগৃহীত

উত্তরাঞ্চলের আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত নওগাঁ। দেশের বৃহত্তম আম উৎপাদনকারী এই জেলায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদিত হওয়ার পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়। রপ্তানিযোগ্য, নিরাপদ ও কীটনাশকমুক্ত আম উৎপাদনের জন্য চাষীরা দীর্ঘদিন ধরে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছেন। তবে চলতি মৌসুমে ফ্রুট ব্যাগের তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছেন জেলার হাজারো আমচাষী। চাহিদা অনুযায়ী ব্যাগ না পাওয়ায় অনেকেই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ আমে ব্যাগিং করতে পারেননি। ফলে উন্নতমানের আম উৎপাদন ও অধিক লাভের সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁ জেলায় বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এ বছর প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলার সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে আমের বাগান, যা জেলার মোট আমচাষের প্রায় ৭০ শতাংশ। এসব এলাকায় আম্রপালি, গোপালভোগ, খিরসাপাত, হিমসাগর, বারি-৪, গৌড়মতি, ব্যানানা ম্যাংগোসহ প্রায় ১৬টি জাতের আম উৎপাদিত হচ্ছে।

প্রতিবছর এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও গৌড়মতি জাতের আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়। এই পদ্ধতিতে আমের গায়ে দাগ পড়ে না, পোকার আক্রমণ কমে যায় এবং কীটনাশকের ব্যবহারও হ্রাস পায়। ফলে আমের গুণগত মান বৃদ্ধি পায় এবং দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশি বাজারেও চাহিদা তৈরি হয়। খোলা অবস্থার আম যেখানে প্রতি মণ সর্বোচ্চ চার হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়, সেখানে ফ্রুট ব্যাগিং করা আমের দাম প্রকারভেদে সাত থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়।

কিন্তু চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি ভিন্ন। গত বছর যেখানে প্রতিটি ফ্রুট ব্যাগ ৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৮০ পয়সায় পাওয়া গেছে, সেখানে এ বছর সেই ব্যাগ কিনতে হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত দামে। তাও প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যায়নি। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক চাষী পরিকল্পিত পরিমাণ আমে ব্যাগিং করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

পোরশা উপজেলার বন্ধুপাড়া গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রায়হান আলম জানান, তার ২২০ বিঘা জমিতে আম্রপালি, গৌড়মতি ও বারি-৪সহ বিভিন্ন জাতের আমের বাগান রয়েছে। আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে রপ্তানিযোগ্য ও নিরাপদ আম উৎপাদনের লক্ষ্যে তিনি ৬০ বিঘা জমির প্রায় ৫ লাখ আমে ফ্রুট ব্যাগিং করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সময়মতো পর্যাপ্ত ব্যাগ না পাওয়ায় আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও বারি-৪ জাতের আমে ব্যাগিং করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি গৌড়মতি জাতের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ আমে ব্যাগিং করতে পেরেছেন। এজন্য তাকে প্রতিটি ব্যাগের জন্য আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “ফ্রুট ব্যাগিং করা আমের বাজারমূল্য অনেক বেশি। কিন্তু ব্যাগের সংকটের কারণে এ বছর সেই অতিরিক্ত লাভ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।

একই উপজেলার সাদেরডাঙ্গা গ্রামের আমচাষী বাবুল আক্তার বলেন, তার ১৬ বিঘা জমির আমবাগানের অর্ধেকই আম্রপালি জাতের। গত বছর ২০ হাজার আমে ব্যাগিং করে ভালো দাম পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এ বছর ৫০ হাজার আমে ব্যাগিং করার পরিকল্পনা থাকলেও পর্যাপ্ত ব্যাগের অভাবে মাত্র ১০ হাজার গৌড়মতি আমে ব্যাগিং করতে পেরেছেন। তিনি জানান, গত বছর যে ব্যাগ ৩ টাকা ৮০ পয়সায় কিনেছিলেন, এবার সেই একই ব্যাগ কিনতে হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা দরে। তার মতে, ব্যাগিং না করতে পারায় পোকার আক্রমণও বেড়েছে, যা ফলের গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

চাষীদের মতে, গত কয়েক বছরে নতুন করে অনেক আমবাগান গড়ে উঠেছে। তিন থেকে চার বছর আগে রোপণ করা গাছগুলো এবার পূর্ণমাত্রায় ফল দিতে শুরু করায় ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। পাশাপাশি নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাগের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থা সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি।

অন্যদিকে, আমচাষীরা মনে করেন, নানা প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে তারা সরাসরি বিদেশে আম রপ্তানি করতে পারেন না। ফলে বাধ্য হয়ে মধ্যস্বত্বভোগী বা রপ্তানিকারকদের কাছে কম দামে আম বিক্রি করতে হয়। রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কৃষকবান্ধব করা হলে জেলার অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি কৃষকরাও ন্যায্য মূল্য পাবেন।

এ বিষয়ে নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মণ্ডল বলেন, রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফ্রুট ব্যাগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) অনুসরণ করে নিরাপদ আম উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে মৌসুমের শেষ দিকে হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ ব্যাগ সরবরাহ করতে পারেনি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Sportsman Ali Haider Bablu is the Member Secretary of Bandarban District Sports Association

ক্রীড়াবিদ আলী হায়দার বাবলু হলেন বান্দরবান জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব

ক্রীড়াবিদ আলী হায়দার বাবলু হলেন বান্দরবান জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব

পদাধিকারবলে জেলা প্রশাসককে সভাপতি এবং স্থানীয় ক্রীড়া ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়াবিদ আলী হায়দার বাবলুকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্যবিশিষ্ট বান্দরবান পার্বত্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।

সম্প্রতি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, ক্রীড়া শাখার নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খাঁন স্বাক্ষরিত পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি অনুমোদনপত্র জারি করা হয়।

পত্রটিতে বলা হয়, উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮ এর ধারাঃ ২ (১৫)-এ উল্লিখিত স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার সংশ্লিষ্ট গঠনতন্ত্র মোতাবেক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উপর অর্পিত ক্ষমতা অনুসরণে বান্দরবান পার্বত্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮ এর ধারাঃ ২ (৪) ও ৮-এ বর্ণিত পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যান কর্তৃক সদয় অনুমোদিত হয়েছে।

এতে বান্দরবান জেলা প্রশাসকে সভাপতি, সদস্য পদে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার, বান্দরবান পার্বত্য জেলারঅতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক), উপপরিচালক জেলা সমাজ সেবা,জেলা ক্রীড়া অফিসার, স্থানীয় ক্রীড়াবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম ও আলী হায়দার বাবলুকে সদস্য সচিব করা হয়।অনুমোদিত অ্যাডহক কমিটি স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে উল্লেখ করা হয় এই পত্রটিতে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রিড়াবিদ বলেন, নতুন এ কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমে গতি ফিরে আসবে। বিশেষ করে জেলার ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিক্সসহ বিভিন্ন খেলাধুলার উন্নয়ন, খেলোয়াড় বাছাই, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আলী হায়দার বাবলু বলেন, জেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে তিনি সকল ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড় এবং সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করছেন। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং জাতীয় পর্যায়ে বান্দরবানের ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবেন বলেও তিনি জানান।

এবিষয়ে জানতে বান্দবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের মুঠোফোনে কল ও ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও প্রতিউত্তর পাওয়া যায় নি।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Distribution of mango litchi and jackfruit to Nilphamari district jail during Madhu month

মধুমাসে নীলফামারী জেলা কারাগারে আম, লিচু ও কাঁঠাল বিতরণ

মধুমাসে নীলফামারী জেলা কারাগারে আম, লিচু ও কাঁঠাল বিতরণ ছবি: সংগৃহীত

মধুমাস উপলক্ষে নীলফামারী জেলা কারাগারে প্রায় ৫০০ বন্দী, কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের মাঝে আম, লিচু ও কাঁঠাল বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জেলা কারাগারে উৎসবমুখর পরিবেশে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মধুমাসের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার লক্ষ্যে জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. জাবেদ মেহেদীর উদ্যোগে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়। এতে বন্দীদের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কারাগারে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যেও মৌসুমি ফল বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেল সুপার মো. জাবেদ মেহেদী বলেন, “মধুমাস আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারাগারে অবস্থানরত বন্দীরাও যেন এই মৌসুমের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন, সেই চিন্তা থেকেই এ আয়োজন করা হয়েছে। মানবিক ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

ফল বিতরণ কার্যক্রমে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অংশ নেন। এ সময় বন্দীদের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক বন্দী কারা কর্তৃপক্ষের এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

আম, লিচু ও কাঁঠালের স্বাদ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে নীলফামারী জেলা কারাগারে দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
BGB in strict position to prevent push in at the border

সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি

সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া এবং শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি এবার গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) মোতায়েন করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন সীমান্তবর্তী সাধারণ জনগণ এবং সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ ৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়োজিদ সংবাদমাধ্যমকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পুশ-ইন রোধে ইতোমধ্যে সীমান্তের কিছু এলাকায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন এবং দ্রুতই আরও সদস্য মোতায়েন করা হবে। একই সাথে সীমান্তের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

এর আগে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, বিজিবির পাঁচজন ক্যাম্প প্রতিনিধি এবং বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশাল সীমান্ত এলাকা পাহারায় কেবল বিজিবির একার পক্ষে অনুপ্রবেশ ঠেকানো কঠিন। তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে বিজিবির পাশে দাঁড়াতে হবে।

স্থানীয় থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি সীমান্ত পাহারায় ভিডিপি মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
8 more children died of measles

হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

দেশে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৩৯।

বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সময়ের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯২। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৪৭ জন।

হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৬ জন, সিলেট ও বরিশালে একজন করে মারা গেছে।

এ ছাড়া নতুন করে ৯৪ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯২৭ জন। আর ৯৪৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৯ জনে।

মন্তব্য

p
উপরে