× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

আন্তর্জাতিক
India is a new power in the arms trade
hear-news
player
print-icon

অস্ত্র ব্যবসায় নতুন শক্তি ভারত

অস্ত্র-ব্যবসায়-নতুন-শক্তি-ভারত
২০১৪ সাল থেকে চলতি অর্থবছরের মধ্যে ভারতের অস্ত্র রপ্তানি প্রায় ৬ গুণ বেড়েছে। ছবি: এএফপি
লোকসভায় ভারতের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী অজয় ভাট বলেন, ‘ ২০১৪ সাল থেকে চলতি অর্থবছরের মধ্যে অস্ত্র রপ্তানি প্রায় ৬ গুণ বেড়েছে। ২০১৪-১৫ আর্থিক বছরে অস্ত্র রপ্তানির আর্থিক মূল্য ছিল ১ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরের ২১ মার্চ পর্যন্ত তা ঠেকেছে ১১ হাজার ৬০৭ কোটি টাকায়।’

অস্ত্র খাতে ভারতের নির্ভরশীল মিত্র রাশিয়া। ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) বলছে, গত পাঁচ বছরে ভারতে মোট অস্ত্র আমদানির ৪৯ শতাংশই কেনা হয়েছে মস্কো থেকে। এ ছাড়া ফ্রান্স, জার্মানি, ইসরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য থেকেও অস্ত্র কেনে মোদি সরকার।

অস্ত্রের ক্ষেত্রে অন্য দেশের ওপর বেশি দিন নির্ভর করা ঠিক হবে না টের পেয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাই তো প্রথম দফায় ক্ষমতায় এসেই অভ্যন্তরীণভাবে অস্ত্র তৈরিতে জোর দেন। আর এতে সফলও হয়েছেন তিনি। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অস্ত্র রপ্তানিও করছে দিল্লি।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে চলতি অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ৬০৭ কোটি টাকার অস্ত্র রপ্তানি করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।

লোকসভায় ভারতের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী অজয় ভাট বলেন, ‘ ২০১৪ সাল থেকে চলতি অর্থবছরের মধ্যে অস্ত্র রপ্তানি প্রায় ছয় গুণ বেড়েছে। ২০১৪-১৫ আর্থিক বছরে অস্ত্র রপ্তানির আর্থিক মূল্য ছিল ১ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরের ২১ মার্চ পর্যন্ত তা ঠেকেছে ১১ হাজার ৬০৭ কোটি টাকায়।’

সরকারের নানা উদ্যোগে এই সফলতা এসেছে উল্লেখ করে অজয় ভাট আরও বলেন, ‘২০২৫ সাল নাগাদ এই রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৩৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

ভারতের তৈরি ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল কিনতে জানুয়ারিতে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা) চুক্তি করেছে ফিলিপাইন। ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামের মতো আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতেও ভারতীয় অস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে। এ ছাড়া ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল পেতে দিল্লির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Swechchhasebak League president Nirmal passed away

চলে গেলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল

চলে গেলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল সিঙ্গাপুরে মৃত্যু হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের। ফাইল ছবি
সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে মৃত্যু হয় নির্মল গুহের। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল গুহ আর নেই।

সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

নির্মল গুহের বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন তিনি।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল নির্মল গুহকে। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে নেয়া হয় সিঙ্গাপুরে।

স্পেশালাইজড হাসপাতালে থাকার সময় নির্মলের ব্যক্তিগত সহকারী মামুন শিকদার নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এখনও লাইফ সাপোর্টে আছেন।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আগেও নির্মল রঞ্জন গুহের একবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। তখন তিনি ভারতে গিয়ে চিকিৎসা নেন। ওষুধ চলছিল, কিন্তু এর মধ্যে গতকাল রাতে আবার তার রক্তচাপ বেড়ে তিনি অসুস্থ হয়ে যান।’

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের পক্ষে মিছিল, পদ গেল স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার
নারায়ণগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সব কমিটি বিলুপ্ত
ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার
‘উন্নয়ন ঠেকাতে আদাজল খেয়ে নেমেছে বিএনপি’
ডোপ টেস্ট ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা নয়  

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Lalmai goes back to find the naughty teenager in the mountains

লালমাই পাহাড়ে কিশোররা খুঁজে ফেরে যারে

লালমাই পাহাড়ে কিশোররা খুঁজে ফেরে যারে
লালমাই পাহাড়ে ঘন বন আর পাতার আড়ালে উঁকি মারে টক-মিষ্টি স্বাদের এক ফল। কাঁঠালের মতো দেখতে কিন্তু তুলনামূলক ছোট এই ফলটিকেই খুঁজে ফেরে কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার দুষ্টু কিশোরের দল।

আষাঢ়ের আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে। রোদের উত্তাপে হাঁসফাঁস চারপাশ। এমন গরমেই দুষ্টু ছেলেমেয়ের দল হানা দেয় কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার লালমাই পাহাড়ে। সেখানে গাছে গাছে ঝুলে আছে হলুদ চাপালিশ!

পাকা এই চাপালিশ ভেঙে অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে কোষগুলো নিয়ে শুকনো মরিচ পোড়ায় কিশোর-কিশোরীর দল। হাল্কা মিষ্টি আর টক স্বাদের চাপালিশে ঝাল মিশিয়ে মুখে পুরে নেয় তারা। তারপর ওঠে তৃপ্তির ঠেকুর। দুপুরে উদরপূর্তির জন্য এর চেয়ে ভালো আয়োজন কি হতে পারে?

চাপালিশ দেখতে কাঁঠালের মতোই। কাঁচা অবস্থায় সবুজ। আর পাকলে হলুদ হয়ে ওঠে। আকারে ছোট এই ফলটির ভেতরে কাঁঠালের মতোই ছোট ছোট কোষ থাকে। কোষের ভেতরে থাকা এর বীচিগুলোও অনেকে আগুনে পুড়িয়ে খায়। কিছুটা চিনা বাদামের স্বাদ পাওয়া যায় এতে।

টক মিষ্টি স্বাদের এই চাপালিশকে স্থানীয়রা চামল বা চাম্বল নামেই চেনে। লালমাই পাহাড়ে শত বছর আগে প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে উঠেছিল চাপালিশের বন। ঘন সবুজ পাতার আড়াল থেকে উঁকি মারা পাকা চাপালিশ যে কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

আষাঢ় মাসেই চাপালিশ পাকতে শুরু করে। ৯০-এর দশকে লালমাই পাহাড়ে যে পরিমাণ চাপালিশ গাছ ছিল, এখন তার ছিটেফোঁটাও নেই।

লালমাই পাহাড়ে কিশোররা খুঁজে ফেরে যারে

কোটবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ জানান, পুরো লালমাই পাহাড়ে বর্তমানে অর্ধশতাধিক চাপালিশ গাছ আছে। এক সময় এই সংখ্যাটি ছিল হাজারেরও বেশি। কাঠের জন্য কিংবা জমি প্রশস্থ করতে গত কয়েক বছরে স্থানীয়রা বহু চাপালিশ গাছ কেটে ফেলেছে।

ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘পাশের সেনানিবাসের ভেতর বর্তমানে বেশকিছু চাপালিশ গাছ রয়েছে।’

কোটবাড়ি এলাকার বিজিবি ক্যাম্পের পশ্চিম পার্শ্বে হাতিগড়া এলাকায় চাপালিশ বিক্রি করেন চা দোকানীরা। দোকানের সামনে ঝুড়িতে রাখা থাকে ফলটি। কেউ আবার ক্রেতা আকর্ষণের জন্য এটিকে দোকানের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন।

চা দোকানী খায়ের মিয়া বলেন, ‘প্রতিটা ২০ টাকা করে বেচি। আষাঢ়-শাওন মাসে কাঁঠালের সাথে চামলও পাকে। শহর থেকে আসা মানুষেরাও শখ করে কিনে নিয়ে যায়। একটা গাছে ২ থেকে ৩ মন চাপালিশ ধরে।’

লালমাই পাহাড়ে কিশোররা খুঁজে ফেরে যারে

খায়ের জানান, লালমাই পাহাড়ে একসময় এত পরিমাণ চাপালিশ হতো যে, এগুলো খেতে শত শত বানর এসে ভিড় জমাতো। চাপালিশ কমার সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকাটিতে এখন বানরের সংখ্যাও কমে গেছে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা বলেন, ‘চাপালিশ একটি বিপন্ন উদ্ভিদ। আবাসস্থল ধ্বংস এবং মাত্রাতিরিক্ত আহরণের জন্য চাপালিশের বিস্তৃতি নাই বললেই চলে। সরকারের উচিত পরিকল্পিত বনায়নের অংশ হিসেবে চাপালিশ বৃক্ষের আবাদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা। এর কাঠ যেমন মূল্যবান, তেমনি এর ফল বন্যপ্রাণী ও মানুষের খাবার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।’

মেহেরুন্নেসা মনে করেন, জলবায়ু সংকটে থাকা এই পৃথিবীকে আবাসযোগ্য রাখতে বৃক্ষনিধন দমনের পাশাপাশি ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচী হাতে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে চাপালিশের চাষ একটি চমকে দেয়ার মতো বিষয় হতে পারে।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, সারাদেশে যেসব এলাকায় চাপালিশ গাছ জন্মে, তার মধ্যে কুমিল্লার লালমাই পাহাড় অন্যতম। বিলুপ্তপ্রায় এই গাছটির কাঠ ও ফল মূল্যবান। পাখি ও বনের পশুর জন্যও চাপালিশ উন্নত খাবার। এই গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি আসবাব বছরের পর বছর টিকে থাকে। এই গাছ রক্ষায় বন বিভাগের জরুরী উদ্যোগ নেয়া উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।

কুমিল্লা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমরা কোটবাড়িতে উদ্ভিদ উদ্যান করেছি। সেখানে চাপালিশের বীজ থেকে চারা করে গাছের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। যে কেউ চাইলে আমরা বীজ কিংবা চারা দিয়ে সহযোগীতা করবো।’

আরও পড়ুন:
আগের চেয়ে বেশি ফল খাচ্ছে মানুষ
সোহেলের পরীক্ষায় পাশ মালবেরি
দাম বাড়তি খেজুরে, অন্য ফলে উনিশ-বিশ
সাড়া ফেলেছে দুই বন্ধুর মিশ্র ফলের বাগান

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The father of the accused accused of beating the teacher to death has been arrested

শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: অভিযুক্তের বাবা গ্রেপ্তার

শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: অভিযুক্তের বাবা গ্রেপ্তার শিক্ষক হত্যায় অভিযুক্ত ছাত্রের বাবা গ্রেপ্তার উজ্জ্বল হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা
আশুলিয়া থানার ওসি এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যা মামলার আসামি ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতুর বাবা উজ্জ্বল হোসেনকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আজ ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সকালে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে ঢাকার মুখ্য বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি জিতুকেও গ্রেপ্তারে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।’

সাভারের আশুলিয়ায় শিক্ষককে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রের বাবা উজ্জ্বল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে বুধবার ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম কামরুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যা মামলার আসামি ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতুর বাবা উজ্জ্বল হোসেনকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আজ ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

‘সকালে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে ঢাকার মুখ্য বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি জিতুকেও গ্রেপ্তারে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বলেন, ‘ওই শিক্ষক মারা যাওয়ার দিন গত রোববার তার বড় ভাই অসীম কুমার সরকার অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম জিতুকে প্রধান করে হত্যা মামলা করেছেন। এজাহারে অজ্ঞাতনামা অনেককেই আসামি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন। ওই মামলায় প্রধান আসামির বাবাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: অভিযুক্তের বাবা গ্রেপ্তার
নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার। ছবি: সংগৃহীত

গত শনিবার দুপুরে সাভারের চিত্রশাইল এলাকার হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে মেয়েদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে কলেজের প্রভাষক উৎপলকে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠে ওই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র জিতুর বিরুদ্ধে।

পিটুনিতে গুরুতর আহত হওয়া শিক্ষক উৎপল মারা পরদিন মারা যান। এই ঘটনায় উৎপলের বড় ভাই অসীম কুমার সরকার আশুলিয়া থানায় জিতুকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও তিন থেকে চারজনের নামে হত্যা মামলা করেন।

জিতুর দশম শ্রেণিতে পড়লেও তার বয়স ১৯ বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, এই তরুণ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতেন। সেখান থেকে ঝরে পড়ার পর এই স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন।

কলেজের আইসিটি বিভাগের শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, ‘জিতু ক্লাস নাইনে আমাদের এখানে ভর্তি হয়েছিল। এর আগে সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার একটা মাদ্রাসায় পড়ত। সে ছাত্র হিসেবে খুবই দুর্বল প্রকৃতির। উচ্ছৃঙ্খলও। তার বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়েরও অভিযোগ ছিল।’

উৎপলের ওপর কীসের ক্ষোভ জিতুর?

কলেজের সামনের মার্কেটের মালিক ইমান উদ্দিনের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসল ঘটনা এখনও কলেজের শিক্ষকরা বলছেন না। তবে আস্তে আস্তে সব বেরিয়ে আসবে।

‘জিতুর বাবা উজ্জ্বল হোসেনের ব্যবসায়িক পার্টনার মাজেদ নামে এক ব্যক্তি। তাদের হোটেল ব্যবসা আছে। সেই মাজেদের শ্যালিকা এই কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ে। তার সঙ্গে জিতুর আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক।

‘কিছুদিন আগেও স্কুলের একটি কক্ষে জিতু ও সেই মেয়েকে দেখার পর শিক্ষক উৎপল তাদেরকে শাসন করেন। ওই মেয়ের পরিবারকে তিনি ফোন করে সব জানিয়ে সতর্কও করেন। মেয়েটা জিতুকে এসব বিষয় জানালে সে ক্ষুব্ধ হয়েই ওই স্যারকে পিটিয়েছে।’

ইমান উদ্দিনের তথ্য বলছে, জিতু এতটাই বেপড়োয়া ছিলেন যে, খেলার আগের দিন থেকেই কলেজের বাইরে স্টাম্প নিয়ে ঘুরছিলেন।

তিনি জানান, সেদিন জিতুর সঙ্গে আরও তিন জন ছিল। পেটানোর পর চার জন এক সঙ্গে হেঁটে চলে যায়।

একই কথা জানান ওই কলেজে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাইম ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘স্যার সেই মেয়ের বাসায় ফোন করে শক্তভাবে বিচার দিয়েছিলেন যেন মেয়েটা জিতুর সঙ্গে না মেশে। এটার ক্ষোভ থেকেই জিতু স্যারকে খেলার দিন পিটিয়েছে।’

কলেজের হিসাবরক্ষক পারুল আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কিছু দিন আগে স্কুলের একটি কক্ষে জিতু ও মেয়েটাকে অপ্রীতিকর অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু আমরা সেভাবে বিস্তারিত জানি না। মেয়েটা আমাদের কলেজের এক শিক্ষকের ছোট বোন। এর বেশি আর কিছু জানি না আমি।’

সিসিটিভি ফুটেজে কিছুই নেই

কলেজের সিসিটিভি ফুটেজেও আমলার আগে জিতুর নানা কর্মকাণ্ড ধরা পড়েছে। তবে ঘটনার সময়কার কিছুই রেকর্ড হয়নি।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার সময় বিদ্যুত না থাকায় ফুটেজ রেকর্ড হয়নি। সে সময় কলেজের বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করে দেয়া হয়। এর পেছনে জিতুর হাত আছে বলেই বিশ্বাস তাদের।

কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান বলেন, ‘উৎপল কলেজের শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান ছিলেন। তাই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে তিনি হয়ত শাসন করেছিলেন। তবে ঠিক কোন বিষয়টা, সেটা আমার জানা নেই। আর ওই দিনের ফুটেজের বিষয়টা হলো, আমরা হঠাৎ করে দেখি কারেন্ট চলে গেছে। কিন্তু তখন আশপাশে সব জায়গায় কারেন্ট ছিল। ঘটনার পরপর আমরা বুঝতে পারি, সে (জিতু) পরিকল্পিতভাবেই বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করেছে।’

নিহত শিক্ষক উৎপল সরকার সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার এঙ্গেলদানি গ্রামের মৃত অজিত সরকারের ছেলে। ৩৫ বছর বয়সী এই শিক্ষক প্রায় ১০ বছর ধরে হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকতা করছেন।

আরও পড়ুন:
মধুপুরে গৃহবধূ খুন, স্বামী-সতিন আটক
চালকের গলা কাটা দেহ উদ্ধার
‘আত্মহত্যা’য় অভিযুক্ত সুদের কারবারি
শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা: ফাঁসির আসামি জাকারিয়া পিন্টু কারাগারে
শিক্ষককে হত্যা: দুই দিনেও ধরা পড়েনি অভিযুক্ত ছাত্র

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Utpal was the teacher who was killed in the beating

মারধরে নিহত শিক্ষক উৎপলই ছিলেন পরিবারের বড় ভরসা

মারধরে নিহত শিক্ষক উৎপলই ছিলেন পরিবারের বড় ভরসা নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার। ছবি: সংগৃহীত
উৎপলের বড় ভাই অসীম কুমার পাল বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। গ্রামে আমরা এখনও যৌথ পরিবারে থাকি। ওই আমাদের পরিবারটাকে নিয়ন্ত্রণ করত। আর্থিকভাবেও ওই দেখত। আমরা অন্য ভাইরা ছোটখাটো কাজ করি।’

ঢাকার সাভারে ছাত্রের স্টাম্পের আঘাতে নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারই ছিলেন পরিবারের সবচেয়ে বড় ভরসা। বাড়ির ছোট ছেলে হলেও সবাই নির্ভর করত তারই ওপর। সেই উৎপলকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল পুরো পরিবার।

উৎপলের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার এঙ্গেলদানি গ্রামে। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। ৩৫ বছর বয়সী উৎপল প্রায় ১০ বছর ধরে শিক্ষকতা করতেন আশুলিয়ার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে।

কলেজের মাঠে গত শনিবার দুপুরে মেয়েদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে উৎপলকে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ ওঠে দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতুর বিরুদ্ধে। পরদিন সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গুরুতর আহত উৎপল মারা যান।

উৎপলকে হারিয়ে পরিবারের অবস্থা সম্পর্কে তার বড় ভাই অসীম কুমার পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাড়ির অবস্থা এখন কী বলব? আমাদের ফ্যামিলিটাই শেষ। আমার মাকে নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে। সে তো ছেলের জন্য পাগল। আমরা পাঁচ ভাই, তিন বোন। উৎপল ছিল সবার ছোট ও আদুরে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। গ্রামে আমরা এখনও যৌথ পরিবারে থাকি। ওই আমাদের পরিবারটাকে নিয়ন্ত্রণ করত। আর্থিকভাবেও ওই দেখত। আমরা অন্য ভাইরা ছোটখাটো কাজ করি।

‘আমি সাভারে একটা ছোট দোকান করি। আরেক ভাই দর্জি। আর বাকি দুজন টেক্সটাইলে ছোট পোস্টে চাকরি করে।’

দুই বছর আগে বিয়ে করেছিলেন উৎপল। স্ত্রীকে নিয়ে মিরপুর-১-এ আনছার ক্যাম্পে থাকতেন।

তার ভাই বলেন, ‘উৎপলের এখনও কোনো সন্তান হয়নি। সে আর তার স্ত্রী মিরপুর-১-এ আনছার ক্যাম্পে থাকত। সেখান থেকেই আশুলিয়ার চিত্রশাইল গিয়ে ক্লাস নিতো।’

উৎপলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রোববার জিতু ও অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন অসীম।

জিতু দশম শ্রেণিতে পড়লেও তার বয়স ১৯ বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, এই তরুণ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতেন। সেখান থেকে ঝরে পড়ার পর হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, উৎপলকে পেটাতে পরিকল্পনা করেই স্টাম্প নিয়ে এসেছিলেন জিতু। এটি নিছক ঝোঁকের বসে ঘটিয়ে ফেলা কোনো অপরাধ নয়।

যেখানে শিক্ষককে পেটানো হয়েছে, সেই জায়গাটি কলেজের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতাধীন বলে জিতু ঘটনার আগে আগে মেইন সুইচ বন্ধ করেছেন, যেন কোনো কিছু ক্যামেরায় রেকর্ড না হয়।

সেখানে মেয়েদের যে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলছিল, সেখানে স্টাম্প ব্যবহার করা হয়েছে প্লাস্টিকের। আর সেই শিক্ষককে পেটানো হয়েছে কাঠের স্টাম্প দিয়ে।

কলেজের আইসিটি বিভাগের শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, ‘জিতু ছাত্র হিসেবে খুবই দুর্বল প্রকৃতির। উচ্ছৃঙ্খলও। তার বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়েরও অভিযোগ ছিল।’

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

আরও পড়ুন:
‘সনাতন ধর্মের প্রত্যেক শিক্ষক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন’
শিক্ষককে জুতার মালা: রিটের পরামর্শ হাইকোর্টের
শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: চবিতে প্রতিবাদ
শিক্ষককে জুতার মালার ৯ দিন পর মামলা, গ্রেপ্তার ৩
স্বপনের গলায় জুতার মালা ‘সব শিক্ষকের অপমান’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The traffic pressure is less at Padma toll plaza

যানবাহনের চাপ কম পদ্মার টোল প্লাজায়

যানবাহনের চাপ কম পদ্মার টোল প্লাজায় পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজায় যানবাহনের চাপ নেই বললেই চলে। ছবি: নিউজবাংলা
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, ‘সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় এগুলো পিকআপ বা ট্রাকে করে পার করা হচ্ছে। যানবাহন চলাচল কম করছে এমনটি বলা যাবে। সাধারণ পরিবহন বাস, দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, মিনিবাস, পিকআপ সবই ভালো পরিমাণে চলাচল করছে।’

চালুর পর থেকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল নিষিদ্ধের ঘোষণা এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে।

মঙ্গলবার এ ঘোষণা আসার পর বুধবার সকাল থেকে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজায় যানবাহনের চাপ আগের চেয়ে অনেকটাই কম দেখা গেছে। ছোট যানবাহন ও বাসের সংখ্যাও ছিল খুবই কম।

এর আগে চালুর দিন পদ্মা সেতুতে বাইক দুর্ঘটনার পর থেকে সেতু কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে টোল প্লাজা এলাকায় সেতুর ওপরে টহল আরও কঠোর এবং জোরদার করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যানবাহন টোল প্লাজায় কোনো রকম অপেক্ষা ছাড়াই টোল দিয়ে সেতু পার হচ্ছে।

যানবাহনের চাপ কম পদ্মার টোল প্লাজায়
পিকআপে করে মোটরসাইকেল পদ্মা সেতু পার করা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

অন্যদিকে কিছুসংখ্যক মোটরসাইকেল টোল প্লাজার অদূরে থাকলেও তারা সেতুতে উঠতে না পারায় পিকআপ ভ্যানে করে পাড়ি দিচ্ছে পদ্মা।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, ‘সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় এগুলো পিকআপ বা ট্রাকে করে পার করা হচ্ছে। যানবাহন চলাচল কম করছে এমনটি বলা যাবে। সাধারণ পরিবহন বাস, দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, মিনিবাস, পিকআপ সবই ভালো পরিমাণে চলাচল করছে।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু ষড়যন্ত্রে জড়িতদের খুঁজতে কমিশন গঠনের নির্দেশ
পণ্য পরিবহনে সময়-খরচ কমাল পদ্মা সেতু
৩৫ বছরে উঠবে পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়: ওবায়দুল কাদের
পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেনে ঢাকা-যশোর পৌনে ২ ঘণ্টা
চালু হচ্ছে ফরিদপুর-ঢাকা বাস সার্ভিস

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Mymensingh Jamalpur rail communication is normal

ময়মনসিংহ-জামালপুর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

ময়মনসিংহ-জামালপুর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
ময়মনসিংহ রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নারায়ণ প্রসাদ সরকার জানান, ভাওয়াল এক্সপ্রেসের বিকল ইঞ্জিন পরিবর্তন করলে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিক থেকে ট্রেন চলতে শুরু করে।

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

বিকল ইঞ্জিন পরিবর্তন করলে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিক থেকে ট্রেন চলতে শুরু করে।

ময়মনসিংহ রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নারায়ণ প্রসাদ সরকার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ভাওয়াল এক্সপ্রেস ঢাকা যাচ্ছিল। সকাল ৬টার দিকে আওলীয়ানগর এলাকায় এর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর রিলিফ ট্রেন গিয়ে বিকল ইঞ্জিন পরিবর্তন করলে আবার ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আরও পড়ুন:
ইঞ্জিন বিকল, ময়মনসিংহ-জামালপুর ট্রেন বন্ধ
ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারালেন কলেজছাত্র
বিকল ট্রেন উদ্ধার, দেড় ঘণ্টা পর চালু সিলেটের রেলপথ
শিগগিরই রেলে আইটি সেল: রেলমন্ত্রী
ট্রেনের টিকিটের নতুন অ্যাপ ‘রেল সেবা’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Passengers did not increase in the launch even though the fare was reduced

ভাড়া কমলেও লঞ্চে বাড়েনি যাত্রী

ভাড়া কমলেও লঞ্চে বাড়েনি যাত্রী পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে পটুয়াখালী লঞ্চঘাটে যাত্রীর সংখ্যা কম দেখা যায়। ছবি: নিউজবাংলা
সুন্দরবন-১৪ লঞ্চের পটুয়াখালী ঘাটের কেবিন ইনচার্জ মো. জাফর মিয়া বলেন, ‘লঞ্চে কম যাত্রীর উপস্থিতি বেশি দিন থাকবে না। আশা করি, আগের মতোই যাত্রী পাব আমরা। এখন হয়তো অনেকেই নতুন সেতু দেখতে গাড়িতে করে ঢাকা যাচ্ছে বা পটুয়াখালী আসছে।’

পদ্মা সেতু চালুর প্রভাব পড়েছে পটুয়াখালী-ঢাকা নৌরুটে চলাচলরত লঞ্চগুলোতে। গত রোববার পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে দুদিন ধরে কাঙ্খিত যাত্রী পায়নি লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।

যাত্রী ধরে রাখতে কমানো হয়েছে ভাড়া। এর পরও পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে রুটে লঞ্চের সংখ্যা কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আনন্দ উপভোগ করতে অনেকেই সড়কপথ ব্যবহার করছে। তাই কয়েক দিন পর আবার আগের মতোই যাত্রী পাবে বলে আশা লঞ্চ কর্তৃপক্ষের। লঞ্চের সুপারভাইজার, মাস্টার ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এসব বিষয় জানা গেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে পটুয়াখালী লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, আগের মতো যাত্রীদের চাপ নেই, নেই হই-হুল্লোড়ও। কিছুক্ষণ পরপর দু-একজন যাত্রী এলে স্টাফরা কম দামের টিকিটের ডাক-হাঁক দিয়ে তাদের লঞ্চে ওঠানোর চেষ্টা করছেন।

দুদিন আগেও যেখানে চারটি ডাবল ডেকারের দোতলা ও তিনতলা লঞ্চ ছিল, সেখানে মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে মাত্র দুটি লঞ্চ চোখে পড়ে। এর মধ্যে একটি দোতলা, আরেকটি তিনতলা লঞ্চ।

ভাড়া কমলেও লঞ্চে বাড়েনি যাত্রী

তিন তলাবিশিষ্ট সুন্দরবন-১৪ লঞ্চের পটুয়াখালী ঘাটের কেবিন ইনচার্জ মো. জাফর মিয়া জানান, তাদের লঞ্চে প্রথম শ্রেণির যাত্রীদের জন্য সিঙ্গেল, ডাবল, ফ্যামিলি, ভিআইপিসহ মোট কেবিনের সংখ্যা ১২৯টি। এর মধ্যে বিকেল সোয়া ৫টার মধ্যে ৯২টি কেবিন বুকিং হয়েছে। বাকি কেবিন খালি। এ ছাড়া ওই সময় পর্যন্ত নিচতলা আর দোতলার ডেকে সাধারণ যাত্রী উঠেছেন সর্বমোট ২০০ থেকে ২৫০ জন।

জাফর মিয়া বলেন, ‘বছরের প্রায় সময়, এমনকি দুদিন আগেও আমাদের লঞ্চের কেবিন এক দিন আগেই প্রায় সব অগ্রিম বুকিং থাকে। সেখানে আজকে এই অবস্থা।

‘যাত্রীদের কথা ভেবে আমরা সাধারণ যাত্রীদের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করেছি মাত্র ৩০০ টাকা। আর কেবিন ভাড়া সিঙ্গেল ১ হাজার ২০০ টাকা, ডাবল কেবিন ২ হাজার ২০০ টাকা। এ ছাড়া ভিআইপি কেবিন (বাথরুম সংযুক্ত) ৫ হাজার টাকা সেটিও আগের চেয়ে কমিয়েছি।’

লঞ্চের ইনচার্জ মো. ইউনুস মিয়া জানান, গত সোমবারও তারা ঢাকা থেকে প্রায় ১০০ কেবিনে যাত্রী নিয়ে এসেছেন। এ ছাড়া সদরঘাট আর ফতুল্লা ঘাট থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ২৫০-৩০০ যাত্রী ছিলেন ডেকে।

তিনি বলেন, ‘লঞ্চের এই কম যাত্রীর উপস্থিতি বেশিদিন থাকবে না। আশা করি আগের মতোই যাত্রী পাব আমরা। এখন হয়তো অনেকেই নতুন সেতু দেখতে গাড়িতে করে ঢাকা যাচ্ছে বা পটুয়াখালী আসছে।’

ঘাটে অপেক্ষমাণ আওলাদ-৭ লঞ্চের পটুয়াখালী ঘাটের ইনচার্জ আব্দুল আজিজ জানান, তার লঞ্চে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪৫টির মতো কেবিন বুকিং হয়েছে। নিচতলা আর দোতলার ডেকে সাধারণ যাত্রী উঠেছেন ১৫০ থেকে ২০০ জন।

লঞ্চের ভাড়া নিচ্ছেন সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা আর সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার টাকা। ডাবল কেবিন ভাড়া ২ হাজার টাকা।

আজিজ বলেন, ‘কোরবানি ঈদের আগেই আশা করি যাত্রীসংখ্যা আগের মতো পাব আমরা। কারণ ঢাকার অনেক যাত্রীই মালামাল নিয়ে বাসে আসতে পারবেন না।’

ভাড়া কমলেও লঞ্চে বাড়েনি যাত্রী

আওলাদ-৭ লঞ্চের ডেকের যাত্রী সোলায়মান মিয়া বলেন, ‘তিন দিন আগে ছুটিতে গ্রামের বাড়ি মৌকরণ এলাকায় আসছিলাম। এখন লঞ্চে যাচ্ছি, কারণ সঙ্গে দুটি বড় ব্যাগ। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৩০০ টাকায় লঞ্চে শুইয়ে শুইয়ে দুজন চলে যাব।

‘কিন্তু বাসে গেলে তো দুজনের জন্য দুটি টিকিট আবার ব্যাগের জন্যও টাকা দিতে হতো।’

লঞ্চের কেবিনের যাত্রী আবু মিয়া বলেন, ‘একবার ইচ্ছে ছিল বাসে যাই। কিন্তু চিন্তা করলাম ৬-৭ ঘণ্টা বাসে বসে থাকা কষ্টকর, এরচেয়ে বরং কেবিনে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যাই।’

ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৫ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন ঢাকা-পটুয়াখালী নৌরুটে দোতলা আর তিন তলাবিশিষ্ট মোট চারটি লঞ্চ চলাচল করত। এসব লঞ্চের কেবিনের চাহিদা ছিল সোনার হরিণের মতো। ডেকে ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি যাত্রী নিয়ে প্রতিনিয়তই আসা-যাওয়া করত লঞ্চগুলো।

আরও পড়ুন:
পণ্য পরিবহনে সময়-খরচ কমাল পদ্মা সেতু
৩৫ বছরে উঠবে পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়: ওবায়দুল কাদের
পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেনে ঢাকা-যশোর পৌনে ২ ঘণ্টা
চালু হচ্ছে ফরিদপুর-ঢাকা বাস সার্ভিস
পদ্মা জয়ের সাহসে সঙ্গী প্রবাসীরা

মন্তব্য

p
উপরে