ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া সেনা মোতায়েনের পর কয়েক দিন ধরে চলছিল টানটান উত্তেজনা। অবশেষে এই উত্তেজনা না থেমে বরং আরও বেড়েছে। হামলা হবে কি না, এই প্রশ্নের উত্তর এসেছে অস্ত্রের মাধ্যমে। ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করেছে ভ্লাদিমির পুতিনের বাহিনী।
ঘটছে প্রাণহানি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সম্পদ। ক্ষতি যে শুধু ইউক্রেনের হচ্ছে তা নয়, হচ্ছে রাশিয়ারও। কিন্তু তারপরও কেন হামলা চালিয়েই যাচ্ছে রাশিয়া? আসলে কী চাইছেন পুতিন?
হামলার নেপথ্য, ইউক্রেন পরিস্থিতি, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন- এসবের বাইরেও এখন আলোচনায় আসছে অনেক কিছুই। সব মিলিয়ে বিশ্ব রাজনীতি কোন পথে, এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
চার কোটি ৪০ লাখ মানুষের আবাসস্থল ইউক্রেন একটি উন্নয়নশীল দেশ। পূর্ব ইউরোপের এ দেশের পশ্চিমে পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি, দক্ষিণ-পশ্চিমে রোমানিয়া ও মলদোভা, দক্ষিণে কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগর, পূর্বে ও উত্তর-পূর্বে রাশিয়া এবং উত্তরে বেলারুশ। কিয়েভ ইউক্রেনের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন পুতিন। আকাশ-সড়ক-সমুদ্রপথে চলছে যুদ্ধ। প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ইউক্রেন সেনারা। সঙ্গে যোগ দিয়েছে বেসামরিক নাগরিকও। রাজধানী কিয়েভসহ কয়েকটি এলাকায় বেশ শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে রুশ সেনারা।
রাজধানী ঘিরে রুশ সেনারা থাকায় কার্যত সেখান থেকে বের হওয়ার উপায় নেই কারোরই। কিয়েভের রাজপথ দখল নিয়ে আছে ইউক্রেন সেনারা। তবে অন্য জায়গাগুলোতে কখনও ইউক্রেন কখনও রাশিয়ার হাতে চলে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ইউক্রেনবাসীর জীবন এখন হাতের মুঠোয়।
রাশিয়ার সেনারা কেন আক্রমণ করল
আধুনিক ইউক্রেনের ক্রমাগত হুমকির মুখে রাশিয়া মোটেও নিরাপদ নয় জানিয়ে টেলিভিশন ভাষণে যুদ্ধের ঘোষণা দেন পুতিন। এরপরই শুরু হয় রুশ সেনাদের হামলা। উত্তর,পূর্ব এবং দক্ষিণ থেকে ইউক্রেনের রাজধানীতে আকাশ, সড়ক ও সমুদ্রপথে আক্রমণ শুরু করে তারা। পরে ক্রমেই এগিয়ে যেতে থাকে।
প্রথমে সেনা সদর দপ্তর এবং বিমানবন্দরে হামলায় চালায় রুশ সেনারা। এরপর এগোতে থাকে কিয়েভের মূল কেন্দ্রের দিকে।
যুদ্ধ শুরুর আগে নানা বিষয়ে মিথ্যা যুক্তি ও অসত্য তথ্য দিতে থাকেন পুতিন। তিনি দাবি করেন, তার লক্ষ্য গণহত্যার শিকার লোকদের রক্ষা করা এবং ইউক্রেনকে ‘অসামরিকীকরণ এবং নাৎসীকরণের হাত থেকে বাঁচানো।’
সব অভিযোগই অবশ্য অস্বীকার করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি। গণতান্ত্রিক এই দেশে গণহত্যার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান তিনি।
কয়েক মাসের আন্দোলনের পর ২০১৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় ইউক্রেনের রুশপন্থি প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে। ভ্লাদিমির পুতিন বিষয়টি নিয়ে বারবারই জেলেনস্কিকে দোষারোপ করে আসছেন। তার অভিযোগ চরমপন্থিরা ভিক্টরকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে।
ওই ঘটনার পর ক্রিমিয়ার দক্ষিণাঞ্চল দখল করে প্রতিশোধ নেয় রাশিয়া। এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহ শুরু করা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন দেয় তারা। সে সময় ইউক্রেনীয় বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে ১৪ হাজার মানুষের প্রাণ যায়।
পরে আবার ২০২১ সালে ইউক্রেন সীমান্তে সেনা মোতায়েন করে রাশিয়া। অবশ্য সে সময় যুদ্ধের কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে দেশটি। এরপর পুতিন ২০১৫ সালের একটি শান্তিচুক্তি বাতিল করেন। ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আন্দোলনের পর দুটি এলাকাকে স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া।
রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোতে ইউক্রেনের অন্তর্ভু্ক্তির বিরোধিতা করে আসছে। ন্যাটোকে তাদের রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছে রাশিয়া।
রাশিয়া কতদূর যাবে?
রাশিয়া যে ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে ক্ষমতাচ্যুত করে নিজেদের মতো কাউকে বসাতে চায়, এ ব্যাপারটা পরিষ্কার। তাদের ভাষায় ব্যাপারটা ‘নাৎসিমুক্ত করা’। এসব নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখা দিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, ‘রাশিয়ার প্রথম লক্ষ্য হলো আমি। আর দ্বিতীয় লক্ষ্য আমার পরিবার।’
এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে অবশ্য বোঝা যাচ্ছে না পুতিন ইউক্রেনে কী করতে চান। তবে একটা ব্যাপার স্পষ্ট যে দেশটির জনসাধারণকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করাও তাদের লক্ষ্য।
হামলা ইউরোপের জন্য কতটা ক্ষতিকর
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা যেমন দেশটির নাগরিকদের জন্য ভয়াবহ, তেমনই ভয়ংকর পরিণতি অপেক্ষা করছে এর প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এতটা ভীতিকর অবস্থা আর কখনও দেখেনি তারা। যুদ্ধে এরই মধ্যে ইউক্রেনের শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে।
জার্মানি একে বলছে ‘পুতিনের যুদ্ধ’। পুতিন ইউক্রেনে ‘রাশিয়ার সরকার’ চায় বলে মনে করে তারা। ইউরোপের অন্য দেশগুলোর জন্যও এই হামলার ঘটনা এক ভয়ানক অভিজ্ঞতা। ইউক্রেন ইতোমধ্যে রাশিয়া সমর্থিত যোদ্ধাদের সঙ্গে আট বছর ধরে যুদ্ধ করেছে। ইউক্রেনবাসীদের জন্য প্রতিটি মুহূর্তই এখন চরম ভয়াবহ।
পুতিন ইউক্রেনে যে হামলা শুরু করেছেন, এর জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না রাশিয়ার নাগরিকেরাও। এমনকি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে যথাযথ রীতি ছাড়াই এই যুদ্ধের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে যুদ্ধের আঁচ পড়েছে ইউক্রেন-রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশগুলোর ওপরও। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে হুড়োহুড়ি করে সীমান্তে ছুটছে মানুষ। চেষ্টা করছে পাশের দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে। পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, মলদোভা, রোমানিয়া ও স্লোভেকিয়াতে ঢোকার চেষ্টা করছেন ইউক্রেনের বাসিন্দারা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, ৭০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে।
হামলা চালাতে এসে পাঁচ হাজারের বেশি রুশ সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি ইউক্রেনের। আর ইউক্রেনের যে শতাধিক মানুষ মারা গেছে, তাদের মধ্যে আছে শিশু-নারীও। এখন পর্যন্ত পঁচ লাখ মানুষ ইউক্রেন যুদ্ধে শরণার্থী হয়েছে বলে জানা গেছে।
পশ্চিমারা কী করছে
ন্যাটো এরই মধ্যে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছে, ইউক্রেনকে সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে এর সদস্য দেশগুলোর কেউ কেউ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছে। কেউ অর্থ কেউ অস্ত্র পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে তারা অস্ত্র ও অর্থ পাঠাবে। সুইডেন অস্ত্র পাঠানোর কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া বাল্টিক সাগরে কয়েক হাজার সেনা রেখেছে ন্যাটো।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও কানাডা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রাশিয়ার ওপর। আকাশসীমা ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ। নিষেধাজ্ঞা এসেছে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর। ইউরোপজুড়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম স্পুতনিক ও রাশিয়া টুডে।
পুতিনের দাবি কী
ভ্লাদিমির পুতিন চান ইউক্রেন যেন কখনই ন্যাটোতে যোগ না দেয়। এই জোটটি ঘড়ির কাঁটা ১৯৯৭ সালে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, রাশিয়ার পিছে ফেরার কিছু নেই।
পুতিন চান ন্যাটো তাদের সদস্য দেশগুলো থেকে তাদের বাহিনী এবং সামরিক অবকাঠামো সরিয়ে ফেলুক। একই সঙ্গে রাশিয়ার সীমান্তের কাছে তারা যেন ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন না করে তারও নিশ্চয়তা চান তিনি। তবে জার্মানির মতে ‘রাশিয়ার নেতা তার বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে ইউরোপ দখল করতে চান।’
গত বছর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন রাশিয়ান এবং ইউক্রেনীয়দের ‘এক জাতি’ হিসাবে বর্ণনা করে একটি দীর্ঘ রচনা লিখেছিলেন। তিনি ওই লেখায় ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনকে ‘ঐতিহাসিক রাশিয়ার বিচ্ছিন্নতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
পুতিনের দাবি, আধুনিক ইউক্রেন সম্পূর্ণরূপে কমিউনিস্ট রাশিয়া দ্বারা তৈরি এবং এখন পশ্চিমা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি পুতুল রাষ্ট্র।
২০১৩ সালে ইইউর সঙ্গে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর না করার জন্য ইউক্রেনের ওপর তার চাপ ছিল। ক্রেমলিনপন্থি প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার ব্যাপারটি নিয়েও ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দেয় রাশিয়ায়। এর রেশ চলতে থাকে বহুদিন। অবশেষে তা যুদ্ধে গড়াল।
যুদ্ধ পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে, ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ কী আর পুতিনইবা কী হিসাব নিয়ে বসে আছেন তা জানতে অপেক্ষা করা ছাড়া আপাতত বিশ্ববাসীর সামনে কোনো পথ নেই। সময়ই নির্ধারণ করে দেবে এই হিসাব-নিকাশ। নতুন করে হয়তো লেখা হবে ইতিহাস।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তিন বিচারক মামলা দায়ের করেছেন। গত বছর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে তারা ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কানাডার বিচারক কিম্বারলি প্রোস্ট, উগান্ডার সলোমি বালুঙ্গি বোসা এবং বেনিনের রেইন অ্যাডিলেড সোফি অ্যালাপিনি গানসু গত বুধবার ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে দায়ের করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, বিচারবহির্ভূত চাপ প্রয়োগের জন্য তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো তাদের শাস্তি দেওয়া এবং নতি স্বীকারে বাধ্য করা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্তের জন্য গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির বেশ কয়েকজন বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের থাকা তাদের সব সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছিল। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে লেনদেনও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
আইসিসি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ১২৫টি সদস্য দেশে সংঘটিত গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের আন্তর্জাতিক এখতিয়ার রয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোনো সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি সুপারিশ করলে সে ক্ষেত্রেও আদালত বিচার করতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এবং ইসরায়েলের মতো কিছু দেশ আইসিসিরি কর্তৃত্ব স্বীকার করে না।
বিচারকরা অভিযোগ করেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা আইনের পরিপন্থি। কারণ এটি আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের লঙ্ঘন। কোনো ধরনের প্রকৃত জাতীয় জরুরি অবস্থা বা অস্বাভাবিক হুমকির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিচারকদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করে তাদেরসহ আইসিসির অন্য বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বিচারকরা বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার কারণে বিচারকরা এখন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, ব্যাংকিংসেবা গ্রহণ, আমাজন ও গুগলের মতো সাধারণ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, ভ্রমণের টিকিট বুকিং এবং এমনকি অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিমাও পাচ্ছেন না।’
বিচারকরা আরও বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের কাছে বিচারাধীন বা ভবিষ্যতের কোনো মামলায় তথ্য-প্রমাণ ও যুক্তি উপস্থাপন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটেনে পোর্টসমাউথ ক্রাউন কোর্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক যুবককে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০ বছর বয়সি দণ্ডপ্রাপ্ত ওই যুবকের নাম তারেক মিয়া। তিনি ১২ বছর বয়সি প্রতিবন্ধী এক মেয়েশিশুকে ধর্ষণ ও ৯ বছর বয়সি আরেক শিশুকে অনলাইনে গ্রুমিং করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালত জানিয়েছেন, তারেক এখনো মেয়েশিশুদের জন্য ‘অত্যন্ত উচ্চঝুঁকি’ তৈরি করছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ডেইলি মেইল জানিয়েছে, তারেক মিয়া তিন বছর বয়সে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। তিনি ওয়েস্ট সাসেক্সের ওয়ার্থিংয়ে বাস করতেন। ২০২৩ সালের আগস্টে স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের মাধ্যমে ১২ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়েটির সঙ্গে তার যোগাযোগ শুরু হয়। মেয়েটি নিজের বয়স জানালেও তারেক বারবার তাকে চাপ দিয়ে দেখা করতে রাজি করান। তারেকের বয়স সে সময় ১৭ বছর ছিল।
প্রসিকিউশনের আইনজীবী স্টিভেন মলয় জানান, প্রথম দেখাতেই তারেক গাড়িতে করে মেয়েটিকে এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে নির্যাতন করেন। বাড়িটির ভেতরে, গাড়ির পেছনে ও অন্যান্য স্থানে মেয়েটিকে তিনি একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ওই সময়ে তারেক কোনো সুরক্ষাসামগ্রীও ব্যবহার করেননি। অন্যদিকে মেয়েটির কোনো যৌন অভিজ্ঞতা ছিল না। ঘটনার পর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
আদালতে ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমার জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। স্কুলে থাকা অবস্থায় হঠাৎ ওই ঘটনা মনে পড়ে যায়। স্কুলে যেতে ভয় লাগে। ছয় মাস ধরে মায়ের সঙ্গে ঘুমাতে হয়েছে। দরজায় মাথা ঠেকিয়ে মেঝেতে শুয়েছি। আমি এখনো সেই ভয় কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এটা আমার শৈশব, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছে।’
মেয়েটির মা বলেন, ‘আমার মেয়ের মানসিক ক্ষতি হয়েছে। সে এখন ভুল জিনিস দেখে ও শোনে। আগের চেয়ে অনেক বেশি অন্তর্মুখী হয়ে গেছে।’ প্রবেশন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তারেকের সাংস্কৃতিক পটভূমি মেয়েশিশুদের প্রতি তার মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
২০২৪ সালের মে মাসে তারেক দ্বিতীয় ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন—যার বয়স ছিল তখন মাত্র ৯ বছর। তারেক ওই শিশুকে নিজের হস্তমৈথুনের ভিডিও পাঠান এবং ওই শিশুকেও যৌনকাজের ভিডিও পাঠাতে বাধ্য করেন। এই ঘটনার পর মেয়েটি খুব ‘উদ্বিগ্ন’ বোধ করতে শুরু করে।
দ্বিতীয় ভুক্তভোগীর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমি নাচের ক্লাস ছেড়ে দিয়েছি। স্কুলে মন বসে না। মায়ের কাছে থাকতে চাই। তিনি আমার ইমোশনাল পার্টনার।’ তার মা বলেন, ‘ঘটনার পর খুব ছোট বয়সেই আমাদের মেয়েকে যৌনতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে হয়েছে।’
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারেক ঘটনাগুলোকে ‘সিলি মিসটেক’ ও ‘বয়সের দোষ’ বলে অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু জামিনে থাকার সময়ও তিনি অন্য শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তার ডিভাইসে শিশু পর্নোগ্রাফিসংক্রান্ত উপাদানও পাওয়া গেছে।
ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে টহলরত অবস্থায় বজ্রপাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহত ভিনীত কুমার দুবে (৪৬) বিএসএফের ৭১ ব্যাটালিয়নের একজন হেড কনস্টেবল ছিলেন। তিনি উত্তর প্রদেশের কানৌজ জেলার বাসিন্দা। মুর্শিদাবাদের বাবুরা ঘাট সীমান্ত ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন তিনি।
বিএসএফ সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) গভীর রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও ঘন ঘন বজ্রপাত হচ্ছিল। ওই সময় আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে মিঠিপুর এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন দুবে।
সীমান্তের ‘জিরো লাইন’ সংলগ্ন উন্মুক্ত স্থানে নজরদারির সময় বজ্রপাতের শিকার হন তিনি। ঘটনাটি ঘটার পর সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মিঠিপুর ক্যাম্পে নিয়ে যান। পরে তাকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে একই দিনে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান এলাকায় বজ্রপাতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গঙ্গা নদী পার হওয়ার সময় নৌকায় থাকা অবস্থায় তারা বজ্রাঘাতের শিকার হন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়ার কারণে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া খোলা স্থানে অবস্থান না করার আহ্বান জানিয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানায় যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন খামেনি। আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই ইরানের বিভিন্ন শহর এবং ইরাকে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রয়াত এই নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য একটি বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এর পরদিন, অর্থাৎ ৬ জুলাই তেহরানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে ৭ জুলাই কোয়ম শহরে আরেকটি জানাজা হবে।
কোয়মের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে খামেনির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ৯ জুলাই আরেকটি জানাজা শেষে বিখ্যাত ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে তেহরানের এই আমন্ত্রণ নয়াদিল্লিকে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছে।
ভারত ও ইরানের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। জ্বালানি, বাণিজ্য এবং সংস্কৃতির পাশাপাশি ভারতের জন্য ইরানের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে পাকিস্তানের ভূখণ্ড এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় বাণিজ্যের একমাত্র পথ হচ্ছে ইরানের চাবাহার বন্দর—যেখানে ভারত বিপুল বিনিয়োগ করেছে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত ও সামরিক অংশীদারত্ব এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। খামেনি যেহেতু সরাসরি মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানে (অপারেশন এপিক ফিউরি) নিহত হয়েছেন, তাই এই জানাজায় মোদি বা ভারতের উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধিত্ব ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবকে ক্ষুব্ধ করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞ ও নয়াদিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ব্রহ্ম চেলানি বলেছেন, ‘খামেনির জানাজা নয়াদিল্লিকে অত্যন্ত নাজুক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর ভারতের নীরবতা তেহরানের চোখে এক ধরনের কূটনৈতিক ঋণ তৈরি করেছে। তবে জানাজায় ভারতের বেশি হাই-প্রোফাইল উপস্থিতি আবার ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।’
ভারতের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ দিক হলো শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়। ইরানের পর বিশ্বজুড়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলোতেই সবচেয়ে বেশি শিয়া ধর্মাবলম্বী মানুষের বাস। আয়াতুল্লাহ খামেনি বিশ্বব্যাপী শিয়া মুসলিমদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হওয়ায় ভারতের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর আবেগ তার জানাজার সঙ্গে যুক্ত। খামেনির মৃত্যুর পর ভারতের বহু জায়গায় বড় ধরনের শোক মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দুই দিক থেকেই ভারসাম্য রক্ষা করা ভারতের জন্য জরুরি।
মোদি কি ইরান যাবেন
কূটনৈতিক সূত্র ও বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই জানাজায় অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এ ছাড়া ওই সময়ে মোদির আগে থেকে নির্ধারিত বহুপক্ষীয় বিদেশ সফর রয়েছে।
তবে এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে যখন ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান, তখন ভারত একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল এবং তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়কে তেহরানে পাঠিয়েছিল। এবারও খামেনির জানাজায় কোনো সিনিয়র মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল পাঠানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
ভারত বরাবরই যেকোনো আন্তর্জাতিক সংকটে নিজস্ব ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’বজায় রাখার নীতিতে বিশ্বাসী। এখন দেখার বিষয়, কোনো পক্ষকে অসন্তুষ্ট না করে নয়াদিল্লি এই কূটনৈতিক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের খেলায় কীভাবে নিজের অবস্থান ধরে রাখে।
ছবি: সংগৃহীত
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পাকিস্তান অধিকৃত আজাদ কাশ্মীরে খাবার, জ্বালানি ও ওষুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির সরকার। এএফপি, বিবিসি উর্দু, এবং পাকিস্তানি দৈনিক ডনের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
আজাদ কাশ্মীরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাজার, মুদি কিংবা ওষুধের দোকান এবং পেট্রোল স্টেশনগুলোতে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এক প্রতিবেদনে দৈনিক ডন জানিয়েছে, রাজধানী মুজাফফরাবাদের বাসিন্দারা খাবার, ওষুধ ও জ্বালানি কিনতে পার্শ্ববর্তী খাইবার পাখতুনখোয়ায় যাচ্ছেন; আর পুঞ্চ, রাওয়ালাকোট, বাঘ এবং নীলম উপত্যকার বাসিন্দারা এসব পণ্য কিনে আনছেন রাওয়ালপিন্ডি এবং ইসলামাবাদ থেকে।
ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে সাংবাদিকদের প্রবেশ এবং ইন্টারনেটও। আজাদ কাশ্মীরের বেশিরভাগ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ মিলছে না। যেসব জায়গায় মিলছে, সেখানেও গতি খুব ধীর।
উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতালাভের পর জম্মু- কাশ্মীরের দুটি অঞ্চল দখল করে পাকিস্তান— আজাদ কাশ্মীর এবং গিলগিট-বাল্টিস্তান। বর্তমানে উভয়েই পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং দুটিতেই প্রাদেশিক আইনসভা বা বিধানসভা রয়েছে। আজাদ কাশ্মীরের বিধানসভায় আসনসংখ্যা ৪৫টি। সেই ৪২টি আসনের মধ্যে আবার ১২টি আসন ভারতের জম্মু- কাশ্মীর থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।
বিধানসভায় সংরক্ষণ ব্যবস্থা তুলে দেওয়া এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে গত ৫ জুন থেকে আন্দোলন শুরু করে আজাদ কাশ্মীরভিত্তিক রাজনৈতিক দল জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে)। আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ৯ জুন হরতালও ডাকে জেএএকে। মূলত সেই হরতাল থেকেই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত শুরু হয় জেএএকে’র।
গত শনিাবর এএফপির বরাতে জানা গিয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গত প্রায় দু’সপ্তাহে নিহত হয়েছেন ২৪ জন, আহত হয়েছেন আরও বহুসংখ্যক। সেইসঙ্গে বিক্ষোভে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এ পর্যন্ত জেএএকের ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকার সংবাদমাধ্যম এবং ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত করায় তারপর থেকে এ সংক্রান্ত হালনাগাদ কোনো তথ্য এখনও আসেনি।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সরকারের নির্বিচার গ্রেপ্তারের কারণে বর্তমানে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লেও পরিস্থিতি এখনও থমথমে। নীলম জেলার বাসিন্দা আলিফ দীন বিবিসি উর্দুকে বলেছেন, ‘স্থানীয় রেশনের দোকানে আমার টাকা জমা দেওয়া আছে। আমি গত ১৫ দিন ধরে দোকানে যাচ্ছি, কিন্তু আটা পাচ্ছি না। খোলাবাজারে যে আটা পাওয়া যাচ্ছে, তার দাম অস্বাভাবিক বেশি।’
অনেকে খাইবার পাখতুনখোয়া বা রাওয়ালপিন্ডি থেকে পণ্য কিনে আনছেন, কিন্তু সেখানেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। পুঞ্চ জেলার বাসিন্দা নাভিদ নামের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তিনি রাওয়ালপিন্ডি থেকে বাসার জন্য প্রয়োজনীয় আটা, ডাল, চিনি, লবণ ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনে ফিরছিলেন, কিন্তু আজাদ কাশ্মীরে প্রবেশের পর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেসব খাদ্যসামগ্রী জব্দ করে নিয়ে গেছে।
আমি পুলিশের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করেছি, ভিক্ষে চেয়েছি যেন খাবারগুলো তারা ফিরিয়ে দেয়। আমি তাদের এও বলেছি যে, আমার স্ত্রী সন্তানসম্ভাবা। তবু তারা খাবারগুলো ফেরত দেয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, আজাদ কাশ্মীরের প্রবেশপথগুলোতে দাঁড়িয়ে আছে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাকের সারি, কিন্তু সেসবকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ডন। কেন্দ্রীয় প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডনকে জানিয়েছেন, তারা রক্তপাতহীনভাবে জেএএকের বিক্ষোভ দমন করতে চান। এ কারণে ইচ্ছাকৃতভাবেই এই কৌশল নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কারণ, যদি খাদ্য ও জরুরি পণ্যের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে, তাহলে এমনিতেই বিক্ষোভের তেজ স্তিমিত হয়ে যাবে।
এদিকে জেএএকে নেতারা জানিয়েছেন, তারা বিক্ষোভ থেকে পিছু হটবেন না; বরং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন কর্মসূচি হিসেবে ১ লাখ মানুষ নিয়ে বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র রাওয়ালকোট থেকে রাজধানী মুজাফফরাবাদ লংমার্চের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেএএএক। সেই কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সম্পাদিত সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থানকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে এই চুক্তির ফলে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ওয়াশিংটনকে নিজের ইচ্ছামতো পরিচালনা করার যে দাপুটে রাজনৈতিক ভাবমূর্তি তিনি গড়ে তুলেছিলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে তা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদ এবং ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এতকাল ধরে একটি সুনির্দিষ্ট দর্শনের ওপর নিজের রাজনৈতিক পরিচয় টিকিয়ে রেখেছিলেন। তার মূল দাবি ছিল, তিনি একাই আমেরিকার প্রশাসনকে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের স্বার্থে চালিত করতে পারেন। মার্কিন রিপাবলিকান পার্টির নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে তিনি নিজেকে এমন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে প্রমাণ করেছিলেন যিনি যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।
এক সময় আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদরা তাকে রসিকতা করে ‘আমেরিকান হুইস্পারার’ বা যুক্তরাষ্ট্রের কানপড়া দাতা বলে ডাকতেন, কারণ তিনি একটি ফোন কলেই ওয়াশিংটনের কৌশলগত সমীকরণ বদলে দিতে পারতেন। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে যে নতুন চুক্তি করেছেন, তা নেতানিয়াহুর এতকালের সাজানো গল্পকে সম্পূর্ণ উল্টে দিয়েছে।
বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদরা বলছেন, এখন ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারণ করার পরিবর্তে নেতানিয়াহু আমেরিকার তৈরি করা শর্তগুলো মুখবুজে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের দেশের স্বার্থে একটি স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধান খুঁজছেন যেখানে ইসরায়েলের আপত্তি বা ওজর-আপত্তিগুলোকে তিনি কেবল একটি সামান্য প্রতিবন্ধকতা ছাড়া আর কিছুই ভাবছেন না। এমনকি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি বলেছেন, তিনি নেতানিয়াহুকে কোনো নির্দেশ দিলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তা করতে বাধ্য হন।
সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ডেনিস রস বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু এখন নিজের দেশেও এক চরম উভয়সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। একদিকে যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র চাপ, অন্যদিকে লেবাননে কোনো ধরনের সামরিক ছাড় দেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নিজের কট্টর রাজনৈতিক ভোটব্যাংক।
এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এখন পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করলে দেশে তীব্র রাজনৈতিক ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে, আবার যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হবে। এর ফলে আগামী শরৎকালীন সাধারণ নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পূর্ণ একাকী হয়ে পড়েছেন।
নেতানিয়াহুর সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবিভ বুশিনস্কি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিটি মূলত নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের জন্য একটি চূড়ান্ত ও মরণকামড়। তিনি কেবল ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধেই পরাজিত হননি, বরং নিজের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও হারিয়েছেন। তিনি এখন আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্পের সঙ্গেও একটি বড় ধরনের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন।’
অবশ্য এ বিষয়ে নেতানিয়াহুর দাপ্তরিক কার্যালয় থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে চলতি মাসের এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক মূলত দুই অংশীদারের মতো, যেখানে অনেক বিষয়ে মিল থাকলেও কিছু বিষয়ে অমিল থাকাটা স্বাভাবিক। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বিশাল সাফল্যকে খাটো করে দেখানোর জন্য একটি পদ্ধতিগত প্রচারণ চালানো হচ্ছে।
হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করেছেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি এখনও আগের মতোই অত্যন্ত সুদৃঢ় ও অটুট রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের বাধ্যবাধকতা নেই এবং দেশটির আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য এখন মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি যুদ্ধ থেকে নিজেদের পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া এবং আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল কারাগার বা বন্দিশালায় আটক থাকা ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো নিজ দেশে ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূমিকম্পের পর সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি জানিয়ে একটি বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধানের নিজস্ব দাপ্তরিক টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতির বরাতে ইন্ডিয়া ডট কম এই খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূর পরবাসের কারাগার থেকে পাঠানো ওই যৌথ বার্তায় নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস দে মাদুরো দেশের এই চরম দুর্যোগের সময়ে নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আজকের বার্তা একটাই: সর্বোচ্চ ঐক্য, সর্বোচ্চ সংহতি এবং সর্বোচ্চ পদক্ষেপ।’
উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ বছরের শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন থেকে মার্কিন বিশেষ সামরিক বাহিনী মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আকস্মিকভাবে আটক করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন এবং সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা চলছে।
কারাগার থেকে পাঠানো ওই বিশেষ টেলিগ্রাম বার্তায় সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান নিকোলাস মাদুরো দেশের বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ সামাজিক ও মানবিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘কেউ যেন একা না থাকে, প্রতিটি সম্প্রদায় যেন তাদের সন্তান, দাদা-দাদি, অসুস্থদের যত্ন নেয়।’ তিনি ভেনেজুয়েলার আপামর জনসাধারণকে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল, ফায়ার সার্ভিস এবং জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের কাজে সর্বাত্মক সহায়তা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার ওপর প্রকৃতির এই আকস্মিক আঘাত ও ধ্বংসলীলাকে একটি বড় জাতীয় সংকট হিসেবে আখ্যা দিয়ে মাদুরো বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা আজ অনেক বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। আমরা বিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও সংহতির মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াব।’ তিনি বিশ্বাস করেন, অতীতের মতো এবারও ভেনেজুয়েলার জনগণ সব বাধা পেরিয়ে নতুন করে নিজেদের গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো দেশের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানিয়েছেন, এই জোড়া ভূমিকম্পের তীব্র আঘাতে দেশজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এবং সীমান্তবর্তী অনেক শহরের অনেক বহুতল ভবন হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছে। তবে পুরো দেশে ঠিক কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং কত লোক গৃহহীন হয়েছেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত ও সঠিক তথ্য জানতে আরও বিস্তারিত মূল্যায়নের জন্য বর্তমান প্রশাসন অপেক্ষা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বা ইউএসজিএস-এর দেওয়া সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় সময় গত বুধবার রাত ১০টা ৪ মিনিটে কারাকাস শহর থেকে আনুমানিক ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিম দিকে অবস্থিত সান ফেলিপ অঞ্চলের কাছে প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর ঠিক পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ইউমারে নামক এলাকার কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি অত্যন্ত বিধ্বংসী ও তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
মার্কিন ভূবিজ্ঞানীদের ওই সরকারি সংস্থা বা ইউএসজিএস আরও জানিয়েছে, ভূমিকম্পের তীব্রতা ও গভীরতার কারণে লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও মারাত্মক পরিকাঠামোগত ক্ষতির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটিতে সামগ্রিক মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও সংস্থাটি তাদের গাণিতিক মডেলে সতর্ক করেছে। তবে ভেনেজুয়েলার স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা নিখোঁজ হওয়া মানুষের সঠিক ও চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেনি।
মন্তব্য