রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ অধ্যুষিত ইউক্রেনের দুটি অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুগানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পূর্ব ইউক্রেনে ‘শান্তি বজায় রাখতে’ সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
রাশিয়ার এ কর্মকাণ্ডে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বলছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের ঘোষণাটি ‘ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিনা প্ররোচনায় লঙ্ঘন’ এবং এ ঘটনায় জাতিসংঘ ইউক্রেনের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের ডাককেও সমর্থন করেছে দেশটি।
ইউক্রেনের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় ইতোমধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক চলছে।
পশ্চিমা দেশগুলো বেশ আগে থেকেই মস্কোকে সতর্ক করে আসছে, যাতে তারা দোনেৎস্ক ও লুগানস্ককে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেয়। তবে কয়েক ঘণ্টা আগেই পুতিন অঞ্চল দুটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং শান্তি রক্ষার্থে সেখানে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। রাশিয়া মনে করে, অঞ্চল দুটি ঐতিহাসিকভাবেই রাশিয়ার অংশ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে দোনেৎস্কোর রাস্তায় ট্যাংক ছাড়াও ভারী সামরিক যান দেখা গেছে। এর আগে কখনো এমনটি দেখা যায়নি। এ সময় প্রায় পাঁচটি ট্যাংককে সারিবদ্ধভাবে দেখা গেছে।
এদিকে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘শক্তিশালী ও কার্যকর’ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
এর আগে সোমবার রাশিয়ার নিরাপত্তা কাউন্সিলের অনির্ধারিত এক বৈঠক শেষে ক্রেমলিন পূর্ব ইউক্রেনের দুই অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুগানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
পূর্ব ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী দোনেৎস্ক ও লুগানস্ক অঞ্চলের বিদ্রোহী নেতারা পুতিনের কাছে তাদের স্বাধীন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার আবেদন করার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ফরাসি ও জার্মান রাষ্ট্রপ্রধানকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন পুতিন।
এর আগে ২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়া ছিনিয়ে নিয়ে নিজেদের মূল ভূখণ্ডে যুক্ত করে রাশিয়া। সে সময় থেকেই পূর্ব ইউক্রেনে সংঘাত চলছে। ইউক্রেন সেনা ও মস্কো সমর্থিত বিদ্রোহীদের সংঘাতে এ পর্যন্ত ১৪ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন আরও কয়েক লাখ।
ছবি: সংগৃহীত
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফুটন্ত কড়াইয়ে এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘এল নিনো’র বিধ্বংসী জ্বালানি। বিশ্বজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই এক ভয়ংকর এই জলবায়ু দানব ধেয়ে আসার খবর দিচ্ছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। ইতোমধ্যে এশিয়া থেকে ইউরোপ প্রকৃতির এই চরম রূপের আঁচ এখনই পেতে শুরু করেছে বিশ্ববাসী। এশিয়া ও ইউরোপের বিশাল অংশজুড়ে চলছে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ, বাড়ছে মৃত্যুও। জাতিসংঘও এটিকে ‘জরুরি জলবায়ু সতর্কবার্তা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর এই প্রত্যাবর্তন একদিকে যেমন পারদ চড়াবে অস্বাভাবিক মাত্রায়, অন্যদিকে ডেকে আনবে রেকর্ডভাঙা বন্যা ও খরার মহাবিপর্যয়।
বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের ৮৫০টি বড় শহরের প্রায় অর্ধেকই বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ‘হিট স্ট্রেস’ বা তাপীয় চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও বাতাসে আর্দ্রতার কারণে শরীরের ঘাম সহজে শুকায় না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বা ঠাণ্ডা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এই তাপপ্রবাহ অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
ইউরোপে দাবদাহের মধ্যে স্পেন ও ফ্রান্সে মৃত্যু সংখ্যা বাড়ছে; আর জার্মানি, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে গত শুক্রবারের (২৬ জুন) তাপমাত্রা জুনের আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
বিবিসি লিখেছে, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কনসার্ট, ম্যারাথন ও বড় বড় গণজমায়েত বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে।
স্পেনের মোমো মনিটরিং সিস্টেমের হিসাব অনুযায়ী, দাবদাহের কারণে দেশটিতে অন্তত ৩২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বার্সেলোনার একটি বনে ভয়াবহ আগুন লাগার কারণে ১৬ হাজার মানুষকে ঘরের ভেতর আটকে থাকতে হয়েছে।
ফ্রান্সে চরম তাপমাত্রার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কায় প্যারিসের সব হাসপাতালে জরুরি পরিকল্পনা চালু করা হয়েছে। সেখানে তপ্ত গাড়ির ভেতর আটকে বেশ কয়েকজন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। তা ছাড়া দাবদাহ শুরু হওয়ার পর থেকে ফ্রান্সে অনিরাপদ এলাকায় সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফ্রান্সের সীমান্তঘেঁষা জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সারব্রুকেনে রেকর্ড ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
তবে ফ্রান্সে টানা তিন দিন ধরে নজিরবিহীন গরম অনুভূত হওয়ার পর বর্তমানে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট জানিয়েছেন, হাসপাতালে রোগীর ভিড়ের চেয়ে এখন বাড়িতে মানুষের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মুখপাত্র ক্লেয়ার নুলিস সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এই চরম পরিস্থিতির সঙ্গে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের এখন মানিয়ে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ইউরোপের এই মারাত্মক দাবদাহ ধীরে ধীরে উত্তর ও পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওলন্দাজ সীমান্তের কাছে ক্লাইন ব্রোগেলে বেলজিয়ামের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে।
পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ লিমবার্গে সর্বোচ্চ ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং যুক্তরাজ্যের সাফোকের ক্যাভেন্ডিশে রেকর্ড ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৬ জুন) ইউরোপ মহাদেশের অন্তত ১৫ কোটি মানুষকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
এই গরমের তীব্রতা আগামী দিনগুলোতে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে চেক আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন, ২০১২ সালের ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তাপমাত্রার রেকর্ড শনিবার (গতকাল) ভেঙে যেতে পারে। আর অস্ট্রিয়ার আবহাওয়াবিদরা বলছে, রোববার (২৮ জুন) দেশটির তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙতে পারে।
বলকান অঞ্চলের দেশগুলোতেও চরম গরম দেখা যাচ্ছে। সার্বিয়ায় সপ্তাহান্তে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পারদ চড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
এদিকে তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে ইউরোপের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতেও। সুইজারল্যান্ডের বেজনউ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি রিয়্যাক্টরই গত শুক্রবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ আর নদীর পানি ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল, যা রিয়্যাক্টর ঠাণ্ডা করার জন্য উপযোগী নয়।
ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, একটি স্থায়ী উচ্চচাপ বলয়ের কারণে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন এবং দক্ষিণ ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা স্বাভাবিক মৌসুমি গড়ের চেয়ে ৫-১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি চড়ছে।
কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়েই তাপমাত্রা বাড়ছে। তবে ইউরোপের গতি সবচেয়ে বেশি, এটি বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ দ্রুত গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে।
তীব্র দাবদাহে কোলন থেকে প্যারিসগামী একটি ইউরোস্টার ট্রেন ব্রাসেলসের আগে প্রায় ৪০০ যাত্রী নিয়ে বিকল হয়ে পড়ে। তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া তিন যাত্রীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ফ্রান্সে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে প্যারিসের হাসপাতালব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের চাপে সপ্তাহ শেষে অনুষ্ঠেয় প্যারিস প্রাইড মার্চ, মিউজিক ফেস্টিভালসহ বেশ কিছু বড় অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
একই কারণে জার্মানিতেও ম্যারাথনসহ বহু আয়োজন বাতিল হয়েছে। তবে শার্লেটি স্টেডিয়ামের ডায়মন্ড লিগ অ্যাথলেটিকস মিট বাতিল না করে বিকালে রোদের তীব্রতা কমলে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ গবেষণা দল সতর্ক করেছে, তীব্র গরমের কারণে সোমবার (২৯ জুন) থেকেই হিমবাহগুলো গলতে শুরু করবে, যা সাধারণত আগস্টে ঘটে থাকে। ২০২২ সালের পর এবারই হিমবাহ গলে যাওয়ার গতি সবচেয়ে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
একদিকে যখন খরায় পুড়ছে কিছু দেশ, ঠিক তখনই জাপানে আঘাত হেনেছে প্রলয়ঙ্করী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত। অন্যদিকে, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল এখন কাঁপছে ভয়াবহ বন্যা ও প্লাবনের আশঙ্কায়।
ডব্লিউএমওর আশঙ্কাজনক পূর্বাভাস: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এল নিনো নিয়ে অত্যন্ত উদ্বেগজনক কিছু পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
আগামী আগস্টের মধ্যে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ। নভেম্বরের মধ্যে এটি পূর্ণ শক্তি সঞ্চয় করার আশঙ্কা প্রায় ৯০ শতাংশ। এর ফলে আগামী তিন মাস পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
এল নিনো আসলে কী? সহজ কথায়, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা যখন স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, তখন সেই প্রক্রিয়াকে ‘এল নিনো’ বলা হয়।
প্রতি ২ থেকে ৭ বছর পরপর এই চক্র ফিরে আসে এবং এটি প্রায় ৯-১২ মাস স্থায়ী হয়। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে বাতাস, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের চেনা ছক সম্পূর্ণ উল্টে যায়।
এর আগে ২০২৩-২৪ সালের এল নিনোটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী, যার কারণে ২০২৪ সালটি বৈশ্বিক তাপমাত্রার সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল এবং ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল।
আঞ্চলিক প্রভাব: ‘কোথাও খরা, কোথাও বন্যা’- ডব্লিউএমওর মডেল অনুযায়ী, এবারের এল নিনোর প্রভাব বিশ্বকে দুটি চরম ভাগে ভাগ করে ফেলবে।
পরিস্থিতি নিয়ে ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্টে সাওলো সতর্ক করে বলেছেন, এই চরম আবহাওয়া সরাসরি আঘাত হানবে মানুষের স্বাস্থ্য, বৈশ্বিক বাস্তুতন্ত্র, কৃষি এবং জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সংকটকে আরও জোরালো ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, এল নিনো মূলত উষ্ণায়নশীল বিশ্বের আগুনে ঘি ঢালবে। এর বিধ্বংসী গতি হবে কল্পনাতীত।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই সংকটের একমাত্র কার্যকর সমাধান হলো জীবাশ্ম জ্বালানির অবসানে উদ্যোগ নেওয়া। কয়লা, তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
সবুজ রূপান্তর: নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে যাত্রা দ্রুততর করা। আসন্ন এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় বিশ্বনেতৃত্বকে কেবল আলোচনার টেবিলে না থেকে, এখনই মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে একটি ট্যাংকারে ‘অজ্ঞাত নিক্ষিপ্ত বস্তু (প্রজেক্টাইল)’ আঘাত হেনেছে। চার মাস ধরে চলা সংঘাত অবসানে দুই সপ্তাহ আগে হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি লঙ্ঘনের পর দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে শনিবার (২৭ জুন) এই ঘটনা ঘটল।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ট্যাংকারটির ব্রিজ (জাহাজের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্রু দলের সকল সদস্য নিরাপদে আছেন এবং আপাতত পরিবেশগত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সংস্থাটি এই ঘটনার তদন্ত করছে।
চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য যুদ্ধরত পক্ষগুলো একে অপরকে দুষছে। গত শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে ওয়াশিংটন ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কথা জানিয়েছে। ‘এভার লাভলি’ নামক একটি মালবাহী জাহাজে (কার্গো ভেসেল) ইরানি ড্রোন আঘাত হানার ঘটনার জবাবে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার (২৬ জুন) মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান তদারকিকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে, তারা বৃহস্পতিবারের ওই ড্রোন হামলার ‘শক্তিশালী জবাব’ দিয়েছে।
জবাবে ইরান শনিবার মার্কিন বাহিনীর সাথে যুক্ত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তর অবস্থিত বাহরাইনেও একটি ইরানি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
জ্বালানি পরিবহনের এই রুটের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ইরান নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস অননুমোদিত জাহাজ লক্ষ্য করে ‘সতর্কতামূলক গুলি’ ছুঁড়ছে, ফলে অন্য জাহাজগুলোকে প্রণালী পার হওয়ার আগে ইরানের কাছ থেকে অনুমতি নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মালবাহী (কার্গো) জাহাজে ড্রোন হামলার পর শনিবার ট্যাংকারে আঘাতের জেরে নৌচলাচল সুরক্ষায় নিয়োজিত জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার তাদের নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা বাড়িয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে এখনও ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এএফপি জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো যোগ দিলেও উদ্ধারকাজ এগোচ্ছে ধীরগতিতে।
গত বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেশটির উত্তরাঞ্চলের বহু ভবন ধসে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের কাছে উপকূলীয় শহর লা গুইরা। সেখানে একের পর এক ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
জাতিসংঘের ত্রাণবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার এএফপিকে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত জটিল একটি জরুরি পরিস্থিতি। মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।’
শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৮টা থেকে দুর্গত এলাকায় প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে বলে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো।
লা গুইরার একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে চিলির উদ্ধারকারী দল পৌঁছেছে। চারটি বহুতল ভবনের ওই কমপ্লেক্সে শত শত পরিবার বাস করত, যার অধিকাংশই এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
উদ্ধারকারী দলের প্রধান নাদিওমার পোলাঙ্কো বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভবনগুলো সম্পূর্ণ ধসে গেছে। জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এখন আমাদের চেষ্টা মূলত মরদেহ উদ্ধার করা।’
অন্যদিকে বহু এলাকায় স্বজন, প্রতিবেশী ও স্বেচ্ছাসেবীরা খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। ভারী যন্ত্রপাতি ও সরকারি সহায়তার অভাব নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
৪০ বছর বয়সী মারহোসলি সালাজার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আমার ছোট্ট গায়েলকে খুঁজছি। তার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ মাস। আমার ১৬ বছরের মেয়েটিও ভূমিকম্পে মারা গেছে। আর এক আত্মীয় এখনও নিখোঁজ।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে সহায়তা দরকার। ধ্বংসস্তূপ সরাতে যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে দেখিনি।’
কারাকাসের একটি অভিজাত এলাকায় অন্তর্বর্তী নেতা দেলসি রদ্রিগেজ পরিদর্শনে গেলে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা তাকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা স্বজনদের উদ্ধারে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা চিৎকার করে বলেন, ‘সরকার জনগণের জন্য কিছুই করছে না।’
শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প: ১৯০০ সালের পর এটিই ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। সেসময় উপকূলের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।
ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত ভেনিজুয়েলায় ১৯৯৭ সালের পর আর বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়নি।
দেশটির এক দশকেরও বেশি সময়ের অর্থনৈতিক সংকট হাসপাতাল ও জনসেবাকে দুর্বল করে দিয়েছে। লাখো মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
মার্কিন সমর্থিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ছয় মাস পরও দেশটি নাজুক এক রূপান্তর পর্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাচ্ছে: জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, অন্তত ১৭টি দেশের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ভেনিজুয়েলায় মোতায়েন করা হচ্ছে।
স্পেন, এল সালভাদর, সুইজারল্যান্ড, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
অন্তর্বর্তী নেতা দেলসি রদ্রিগেজ জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং উদ্ধারকর্মী, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও মানবিক সহায়তা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ২৫০ জনের বেশি সদস্যের একটি দুর্যোগ মোকাবিলা দল ভেনিজুয়েলায় পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষ শনাক্ত করতে প্রশিক্ষিত কুকুরসহ তিনটি বিশেষ অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিট রয়েছে।
ওয়াশিংটনের ত্রাণ তৎপরতা তদারকির জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কারাকাসে পৌঁছেছেন।
জাতিসংঘ ও অন্য সহায়তা সংস্থা যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভূমিকম্পের আগেই ভেনিজুয়েলায় লাখো মানুষ খাদ্য সংকট, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক সেবার অভাবে ভুগছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত নয় এই সংকটকে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে দেওয়া।’
বিদেশি নাগরিকও নিহত: ভূমিকম্পে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২৮ জন পর্তুগিজ, পাঁচজন স্প্যানিশ, দুইজন ব্রাজিলীয়, সাতজন চীনা, একজন চিলিয়ান এবং একজন ইতালীয়-ভেনিজুয়েলীয় নাগরিক।
এ ছাড়া, ৮৫ জন পর্তুগিজ ও ১১৯ জন স্প্যানিশ নাগরিক এখনো নিখোঁজ বা তাদের অবস্থান অজানা বলে নিজ নিজ সরকার জানিয়েছে।
এই মানবিক বিপর্যয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুক্রবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচগুলো শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অবশেষে একটি ‘রূপরেখা চুক্তিতে’ পৌঁছেছে ইসরায়েল ও লেবানন। গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং দুই দেশের রাষ্ট্রদূতরা যৌথভাবে এই চুক্তির ঘোষণা দেন। তবে এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহ সমর্থকদের তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, এই চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে।
চুক্তির মূল লক্ষ্য ও শর্তাবলী
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই নতুন কাঠামোগত চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো লেবাননের ওপর দেশটির রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা, হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করা এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া। চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ‘মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ ফর লেবানন’ নামে একটি সমন্বয়কারী সংস্থা গঠন করা হবে, যা দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও সামরিক সমন্বয় নিশ্চিত করবে।
চুক্তির আওতায় জাতিসংঘ ও মার্কিন সহযোগিতায় লেবাননকে ১৩ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে মানবিক সহায়তা প্রকল্পে এবং ৩০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করা হবে লেবাননের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননের দুটি নির্দিষ্ট এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব নিতে দেওয়া হবে। তবে হিজবুল্লাহ পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল সেখানে কঠোর নিরাপত্তা বলয় ও নিজেদের সেনা উপস্থিতি বজায় রাখবে।
রাষ্ট্রদূতদের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। নাদা হামাদাহ বলেন, ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার, বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রত্যাবর্তন এবং স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এই রূপরেখা চুক্তিটি একটি প্রথম পদক্ষেপ।’ অন্যদিকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত লেইটার একে ‘প্রকৃত শান্তি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘উভয় দেশই নিরাপদে বসবাস করবে এবং পরস্পরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান ও রক্ষা করবে।’
হিজবুল্লাহর প্রত্যাখ্যান ও গৃহযুদ্ধের হুঁশিয়ারি
এই চুক্তি ঘোষণার পরপরই হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করবে এবং নিজেদের অস্ত্র আরও দৃঢ়ভাবে ধরে রাখবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে এই চুক্তি জোরপূর্বক কার্যকর করার চেষ্টা করা হলে তা লেবাননে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করবে।’ ফাদলাল্লাহর দাবি, হিজবুল্লাহকে বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
বৈরুতের রাজপথে সহিংস বিক্ষোভ
চুক্তির প্রতিবাদে শুক্রবার গভীর রাতে বৈরুতের রাজপথ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। হিজবুল্লাহ সমর্থকরা শত শত মোটরসাইকেল নিয়ে শহরের কেন্দ্রস্থল ও বিমানবন্দর অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা টায়ার জ্বালিয়ে প্রধান সড়ক ও বিমানবন্দর সংযোগ সড়ক অবরোধ করে এবং চুক্তির বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে লেবাননের সেনাবাহিনী অস্থায়ী চেকপয়েন্ট বসিয়েছে। অনেক জায়গায় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে বিমানবন্দর সড়ক পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ এবং বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ সমর্থকদের এই বিক্ষোভ পুরো শহরে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরু হওয়ার কয়েক দিন পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালে এই সংকটের সূত্রপাত হয়। গত মার্চ থেকে চলা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে লেবাননে ৪ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৩৭ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চললেও মাঠ পর্যায়ে তা কার্যকর হয়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই চুক্তিকে একটি ‘দীর্ঘ প্রক্রিয়ার শুরু’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সামনে এখনো অনেক কঠিন পথ ও চ্যালেঞ্জ বাকি রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিজবুল্লাহর অনড় অবস্থান এবং বৈরুতের রাজপথে বর্তমান উত্তজনা চুক্তির মাঠ পর্যায়ের বাস্তবায়নকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর বর্তমান সামরিক সরকার সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্সের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের অভিযোগ, ফ্রান্স নিরবচ্ছিন্নভাবে বুরকিনা ফাসোর জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরের নেতৃত্বাধীন সরকার শুরু থেকেই পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে ফ্রান্সের প্রতি কঠোর ও বৈরী অবস্থান গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে দেশটির বর্তমান প্রশাসন অভ্যন্তরীণ সমালোচনামূলক কণ্ঠ দমনেও অত্যন্ত কঠোর নীতি অনুসরণ করছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুরকিনা ফাসোর জাতীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয় যে, গত ২৬ জুন ২০২৬ তারিখ থেকে ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবসান ঘটিয়েছে দেশটি। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ফ্রান্স এখনও ‘নব্য-ঔপনিবেশিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ লালন করছে, যা মূলত বুরকিনা ফাসোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে মদদ দেওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সরকারের দাবি, এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোই বুরকিনা ফাসো এবং সমগ্র সাহেল অঞ্চলে নিরন্তর সহিংসতা ও মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে।
অন্যদিকে ফ্রান্স বুরকিনা ফাসোর এই সিদ্ধান্তকে ‘শত্রুতাপূর্ণ ও ভিত্তিহীন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের মতে, এটি বুরকিনা ফাসো প্রশাসনের ‘উদ্বেগজনক পরিবর্তনশীল আচরণ’ এরই একটি নেতিবাচক বহিঃপ্রকাশ। প্যারিস আরও জানিয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে তারা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে। উল্লেখ্য যে, গত এক দশক ধরে বুরকিনা ফাসো এবং এর প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর ভয়াবহ সহিংসতার মোকাবিলা করে আসছে।
বুরকিনা ফাসো সরকার অবশ্য স্পষ্ট করেছে যে, তাদের এই সিদ্ধান্ত মূলত দুই দেশের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে এটি ‘বুরকিনা ফাসো ও ফ্রান্সের জনগণের মধ্যে ঐতিহাসিক, মানবিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্ককে অস্বীকার করে না।’ বর্তমান সময়ে আফ্রিকার অনেক সাবেক ফরাসি উপনিবেশেই ফ্রান্সবিরোধী মনোভাব তীব্র হচ্ছে। সেই সুযোগে এই মহাদেশে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আফ্রিকাকে নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
একসময় উত্তর, মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার বিশাল অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী দেশ হিসেবে ফ্রান্স মহাদেশটির উপনিবেশ-পরবর্তী রাজনীতি ও ইতিহাসে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছিল। এমনকি ১৯৬০-এর দশকের পর থেকে তারা অসংখ্যবার সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য ও কর্তৃত্ব বজায় রেখেছিল। তবে বুরকিনা ফাসোর এই নতুন ঘোষণা সেই দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের মূলে বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যক্রমের প্রধান স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাহরাইনের ঘাঁটিতে ইরানের চালানো ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগ থেকে জুন পর্যন্ত সংঘটিত এই হামলাগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ইরানি সমরাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। যদিও পেন্টাগন এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে, তবে স্যাটেলাইট চিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে মার্কিন গণমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এক বিশেষ বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে এই ধ্বংসযজ্ঞের বিবরণ তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন’ নামের এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটির কমান্ড হেডকোয়ার্টার্স বা প্রধান কার্যালয়সহ অন্তত এক ডজন ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে রিয়েল-টাইম সামরিক যোগাযোগের জন্য অপরিহার্য দুটি অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন টার্মিনাল সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে, যার প্রতিটির বাজারমূল্য প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই হামলায় কোনো প্রাণহানির খবর অস্বীকার করলেও নিরাপত্তার স্বার্থে তারা অধিকাংশ কর্মীকে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে এবং বর্তমানে কেবল একটি ক্ষুদ্র দল সেখানে মোতায়েন রয়েছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অবকাঠামোগুলো পুনরায় সচল করতে পেন্টাগনকে বিশাল অংকের আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। থিঙ্কট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর এক সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই যুদ্ধে মার্কিন ঘাঁটির সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ২.২ বিলিয়ন থেকে ৫.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এর মধ্যে শুধুমাত্র বাহরাইনের এই বিশেষ ঘাঁটিটি পুনর্নির্মাণ করতেই প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেন্টাগন এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট হিসাব মার্কিন কংগ্রেসের কাছে পেশ করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক কৌশল ও অবস্থানের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে গভীর পর্যালোচনায় নেমেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ইরানের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং নির্ভুলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক বিমান বাহিনীর সহকারী সেক্রেটারি ডক্টর রবি চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আমাদের স্থাপনাগুলো সাহসিকতার সঙ্গে রক্ষা করেছি, কিন্তু যেসব যুদ্ধাস্ত্র প্রতিরক্ষা ভেদ করে ভেতরে ঢুকেছে, তা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোকে আঘাত করেছে। এটি গত ১০ বছর ধরে ইরানের স্ট্রাইক টেকনোলজির পরিধি ও নির্ভুলতা বাড়ানোরই ফল।’
ভবিষ্যতে এমন আঘাত থেকে সুরক্ষায় মার্কিন বাহিনী এখন বেশ কিছু বিকল্প পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্বের সাথে ভাবছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতা থেকে দূরে থাকতে ঘাঁটিগুলো পশ্চিম দিকে সরিয়ে নেওয়া কিংবা কমান্ড সেন্টারগুলোকে মাটির নিচে বাঙ্কারে স্থানান্তরিত করা। এমনকি ইসরায়েলকেও একটি সম্ভাব্য বিকল্প সামরিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সফর করলেও সৌদি আরব সফর এড়িয়ে গেছেন, যা রিয়াদের সাথে ওয়াশিংটনের বর্তমান কূটনৈতিক দূরত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাহরাইনে গড়ে ওঠা এই সুরক্ষিত মার্কিন দুর্গটি এখন চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিশেষ স্মারক পাসপোর্টের নকশা উন্মোচন করেছেন। এই নতুন পাসপোর্টে তার নিজের একটি গম্ভীর ও কঠোর মুখভঙ্গির ছবি এবং স্বাক্ষর সংযোজন করা হয়েছে। সীমিত সংস্করণের এই পাসপোর্টটি অত্যন্ত প্রতীক্ষিত এক জাতীয় অনুষ্ঠানের স্মারক হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পাসপোর্টটির একটি নমুনা ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পাসপোর্ট।’ এই পাসপোর্টের পাতায় একটি বিশেষ বার্তা হিসেবে লেখা রয়েছে— ‘স্বাগত, তবে ভদ্রভাবে থাকুন।’
পাসপোর্টের নতুন নকশায় দেশপ্রেমের আবহে ট্রাম্পের ছবিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, তিনি একটি ডেস্কে গম্ভীর ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন এবং এর ঠিক পেছনেই যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল পাঠটি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হোয়াইট হাউসের আলোকচিত্রী ড্যানিয়েল টোরোকের তোলা একটি ছবিকে ভিত্তি করেই এই নকশাটি করা হয়েছে। পাসপোর্টের অন্যান্য পাতায় ১৭৭৬ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের দৃশ্য এবং ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা ২৫০’ কথাটি উল্লেখ রয়েছে। হোয়াইট হাউস এই বিশেষ সংস্করণের পাসপোর্টটিকে ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৬ জুলাই থেকে আগ্রহী নাগরিকরা এই বিশেষ নকশার পাসপোর্ট সংগ্রহের সুযোগ পাবেন। তবে এটি শুধুমাত্র ওয়াশিংটনে সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে এবং এর মজুত ফুরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত এটি বিতরণ করা হবে। যদিও হোয়াইট হাউস এই পাসপোর্ট সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি, তবে গত এপ্রিল মাস থেকেই এই ধরনের একটি উদ্যোগের পরিকল্পনা ছিল বলে দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা সরকারি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথিতে নিজের ব্যক্তিগত উপস্থিতি জোরালো করার একটি চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ইতোপূর্বেও বিভিন্ন সরকারি ভবনের সামনে তার বিশালাকার ছবি সংবলিত ব্যানার টাঙানো হয়েছিল এবং শীঘ্রই এক ডলারের নোটেও তার স্বাক্ষর যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নতুন পাসপোর্ট কার্যকর হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম দায়িত্বরত প্রেসিডেন্ট, যার মুখচ্ছবি সরাসরি নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণের নথিতে স্থান পাবে।
মন্তব্য