এবার কানাডার অন্টারিওর একটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তুললেন এক নারী। ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখে হার্টসংক্রান্ত জটিলতায় চিকিৎসা নিতে গেলে তিনি বর্ণবাদী বিদ্বেষের শিকার হন।
সিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭২ বছর বয়সী বর্ণবাদের শিকার কৃষ্ণাঙ্গ নারী শার্লি আর্চিবল্ড অন্টারিওর উইন্ডসর রিজিওনাল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন।
শার্লি সিটিভিকে জানান, সে সময় তিনি অনুভব করছিলেন তার হার্ট যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যদিও আগে থেকেই শার্লি হার্টের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। তাই হার্টসংক্রান্ত সমস্যার লক্ষণগুলো তার জানা। সেদিন একই পরিচিত লক্ষণগুলো আবার অনুভব করছিলেন তিনি।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেলে আবার তার ব্যথা বৃদ্ধি পায়। এ সময় তিনি রেজিস্ট্রেশনে থাকা কর্তব্যরত ক্লার্ককে বিষয়টি উঠে গিয়ে জানালে সে চিৎকার দিয়ে বলে ‘যাও বসো।’
এ ঘটনার ঠিক ১৫ মিনিট পর রেজিস্ট্রেশন ক্লার্ক শার্লিকে জানিয়েছিলেন, একজন নার্স তার সঙ্গে কথা বলবে। তিনি নার্সকে বলেন, আমার মেয়ে ফোনে আমার সঙ্গে কথা বলছে। সঙ্গে সঙ্গে সেই ক্লার্ক তাকে বলেন, আপনি যদি ফোন বন্ধ না করেন, আমি সিকিউরিটিকে ডাকব।
সাধারণত কানাডার হাসপাতালগুলোতে খুবই আন্তরিকতার সঙ্গেই রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হয়। শার্লি ও তার মেয়ে অ্যামি এ ঘটনাকে দেখছে একেবারে বর্ণবাদী বিদ্বেষ হিসেবে।
শার্লির মেয়ে অ্যামি জানান, তিনি হাসপাতালে এসে দেখতে পান, অনেকেই ফোনে কথা বলছে। যদিও তিনি মাকে বলেন, ফোন পারসে ঢুকিয়ে রাখতে।
এরপরও তাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়। এমনটাই জানিয়ে ও সহায়তা চেয়ে টুইট করেন অ্যামি।
যদিও শার্লি পরে জানান, এ সময় তিনি শিশুর মতো কাঁদছিলেন। এমন পরিস্থিতিতেও তিনি তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়েছেন। যদি তার মেয়ে অ্যামি না থাকত, তিনি মারাও যেতে পারতেন।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় উইন্ডসর রিজিওনাল হাসপাতাল (ডব্লিওআরএইচ) ও অন্টারিও নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (ওএনএ) একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, 'ডব্লিউআরএইচ এবং ওএনএ যেকোনো ধরনের বর্ণবাদী অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। একই সঙ্গে নার্সিং স্টাফদের সুনাম রক্ষার পক্ষেও সমর্থন করব, যারা এই মহামারিজুড়ে অধ্যবসায় ও সততা দিয়ে কাজ করে গেছে।‘
My mother is alone and worried she may be having a heart attack. She was waiting in triage. SHE IS A BLACK WOMAN. THEY JUST FORCEFULLY REMOVED HER AND SHE THINKS SHE IS DYING. She just called me screaming that they are harming her. This is at the @WRHospital. I need HELP PLEASE
— Amie Archibald-Varley, RN, MN (@AmieVarley) February 8, 2022
ছবি: সংগৃহীত
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা ও বহির্গামী যাত্রীদের সুবিধার্থে বিনামূল্যে শাটল বাস সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বুধবার (৮ জুলাই) বিমানবন্দরের ক্যানোপি এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সেবার উদ্বোধন করেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ।
বেবিচক জানায়, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং বেবিচক চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়নে এ শাটল সার্ভিস পরিচালিত হবে। বাসগুলো বিমানবন্দর–বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড, জসিমউদ্দিন মোড়–বিমানবন্দর রেলস্টেশন এবং কাওলা–বিমানবন্দর রুটে চলাচল করবে। যাত্রীরা এসব রুটে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দ্রুত, নিরাপদ ও আরামদায়কভাবে যাতায়াত করতে পারবেন।
এ সেবা বিশেষভাবে প্রবীণ, নারী, শিশু, শারীরিকভাবে অক্ষম এবং ভারী লাগেজ বহনকারী যাত্রীদের জন্য উপকারী হবে বলে জানিয়েছে বেবিচক। পাশাপাশি ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে বিমানবন্দর এলাকায় যানজট নিরসন, পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নেও এটি ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, ‘দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে বেবিচক ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এরই অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে এই বিনামূল্যের শাটল সার্ভিস, যা যাত্রীদের সময় সাশ্রয়, নিরাপদ চলাচল এবং উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।’
অনুষ্ঠানে বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিভিন্ন অংশীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কোনো একক কার্যকর পদ্ধতি নেই। সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই এ ধরনের রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্যে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সচিব বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মশক নিধনে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন বিষয়ক শোকেসিং পর্যালোচনা উপলক্ষ্যে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সচিব আরো বলেন, গবেষণায় সফলতা অর্জনের জন্য গবেষকদের দৃঢ় অঙ্গীকার, নিষ্ঠা এবং লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অপরিহার্য। তিনি বলেন, একটি সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে গবেষণা পরিচালিত হলে তার বাস্তবসম্মত ও কার্যকর ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
তিনি মশার জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যকর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে আধুনিক ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গবেষণালব্ধ সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগুলো যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর মতামত প্রদান করেন।
সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ আশরাফ আলী ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, আইসিডিডিআরবি, আইইডিসিআর-এর অধ্যাপক ও গবেষকবৃন্দ, অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণকারী প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ড. মুর্শিদা খান, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পূর্ব সতর্কতা হিসেবে ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। বুধবার (৮ জুলাই) জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সই করা এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার আলোকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
নির্দেশনায় বলা হয়, ‘প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মনিটরিং কমিটি ‘‘ক্লিন স্কুল টিম’’ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, বিদ্যালয় ভবন ও শ্রেণিকক্ষ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ছাদ, ড্রেন, খোলা জায়গা ও জমে থাকা পানির স্থান নিয়মিত পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণা চালানো, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উৎসাহ দিতে পুরস্কারের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
আদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠিত ‘ক্লিন স্কুল টিম’-এর সভাপতি থাকবেন প্রতিষ্ঠানপ্রধান। এ ছাড়া একজন অভিভাবক প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্যানিটারি পরিদর্শক বা উপজেলা পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি, দুইজন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্দেশনা পাওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠন করে কার্যক্রম শুরু করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতা। এ কারণেই আমরা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘‘ক্লিন স্কুল টিম’’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নিজেদের বাড়ি ও আশপাশেও যেন তারা একই অভ্যাস অনুসরণ করে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ, ছাদ, বারান্দা, ড্রেন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র এবং যেসব স্থানে পানি জমে মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিদর্শন ও পরিষ্কার রাখতে হবে।’
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীতে অটোরিকশা চালককে অজ্ঞান করে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞানপার্টি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ওয়ারী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. দেলোয়ার হোসেন ওরফে হৃদয় (৪০), মো. মানিক সরদার (৫২) ও মো. লিটন (৫০)।
ডিএমপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৮ জুন রাত প্রায় ৯টার দিকে খিলগাঁও থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন চালক দিদারুল ইসলাম। পরদিন ২৯ জুন ভোর প্রায় ৪টার দিকে ওয়ারী থানাধীন নবাবপুর রোড থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রথমে ওয়ারী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তে ওয়ারী থানা পুলিশের একটি দল সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে। পরে বুধবার (৮ জুলাই) রাত প্রায় ৩টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর, ঢাকার কেরানীগঞ্জ এবং ডিএমপির লালবাগ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের সময় তাদের হেফাজত থেকে ছিনতাইকৃত একটি অটোরিকশা, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা অজ্ঞানপার্টি চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তারা যাত্রী সেজে অটোরিকশা চালকদের অজ্ঞান করে অটোরিকশা ও অন্যান্য মালামাল ছিনতাই করত বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা একটি বিশাল অবৈধ পান বাগান উচ্ছেদ করেছে বন বিভাগ। উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন কুরমা বন বিটের কুরমা খাসিয়া পুঞ্জিসংলগ্ন ছোট পিকল এলাকায় এ অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। অভিযানে প্রায় ৩ দশমিক ২৯ হেক্টর (প্রায় ৮ একর) বনভূমি দখলমুক্ত করার পাশাপাশি আনুমানিক এক হাজার পানের চারা উপড়ে ফেলা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা ও অবৈধ পান চাষের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়।
রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক প্রীতম বড়ুয়া অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংরক্ষিত বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ভূমি গ্রাসকারীদের হাত থেকে বনভূমি ফিরিয়ে আনতে তাদের এই নিয়মিত কার্যক্রম।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩.২৯ হেক্টর বনাঞ্চল অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করেছি। বনের পরিবেশ ধ্বংস করে যারা এই বাগান গড়ে তুলেছিল, তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে একটি পিওআর (POR) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দিনব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে কুরমা বিট কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা, বন বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সঙ্গীয় বনরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বনের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ চাষাবাদ ও দখলদারিত্ব উচ্ছেদে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে অতি বর্ষণে পৌর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, দোকান ঘর ও আবাসিক এলাকার নিচু অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল ও দৈনন্দিন কার্যক্রম। পানি নিষ্কাশনের ধীরগতির কারণে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত থেকে বুধবার (৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত একটানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে পৌর শহরের নিচু এলাকার বসতবাড়ি, দোকানপাট ও রাস্তার ওপর এক হাটু পানি জমে জনসাধারণের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে যাওয়ার সময় ব্যাপক দুর্ভোগের স্বীকার হতে হয়। যানবাহনের স্বল্পতা ও রাস্তায় পানি থাকায় পরীক্ষার্থীদের কাপড় ভিজিয়েই পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে হয়েছে।
মুক্তাগাছা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকাই এ ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টির মূল কারণ। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং কিছু স্থানে ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় পানি নামতে দেরি হচ্ছে। ফলে সামান্য সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই সড়ক ও বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ছে।
জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেক দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাজারে ক্রেতার উপস্থিতিও কমে গেছে। বিভিন্ন এলাকার রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় যাতায়াতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তা ছাড়া ব্যটারিচালিত অটোরিকশাগুলো পানিতে চালাতে গিয়ে মটর বিকল হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে অটোরিকশাচালকরা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াহাব তানজীল জানান, পৌরসভার ড্রেন মেরামত ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থার জন্য পৌর প্রশাসককে মৌখিক এবং লিখিতভাবে আবেদন করা হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। বিশেষ করে বড় মসজিদ রোডে হাজী শুকুর আলীর নির্মাণাধীন মার্কেট তৈরির নির্মাণসামগ্রী তিন বৎসর যাবৎ রাস্তায় রেখে মার্কেটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে বৃষ্টি হলেই মার্কেটে তৈরিতে ব্যবহৃত বালু ও সুরকি ভেসে গিয়ে ড্রেন ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে মুক্তাগাছা বড় মসজিদ, দরিচারিআনী বাজার ও আটানী বাজার রোড এলাকায় রাস্তার ওপর পানি জমে যাওয়ায় মুসল্লিদের মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া, সাধারণ মানুষের দরিচারআনী বাজার ও আটানী বাজারে যাওয়ায় খুবই সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে মহিলাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষের বক্তব্য, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রশাসকের পক্ষে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। তাছাড়া একজন প্রশাসক উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করার পর উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করাও অনেকটা কষ্টসাধ্য।
জলাবদ্ধতার নোংরা পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ড্রেন পরিষ্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
ছবি: সংগৃহীত
নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিহত ও আহত ১১টি পরিবারকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটি) কর্তৃক অনুমোদিত মোট ৪১ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক বিতরণ করেন।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম. সাজ্জাদুল হাসান, বিআরটিএ নরসিংদী সার্কেলের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার বখতিয়ার উদ্দিন, মোটরযান পরিদর্শক মো. রাসেল আহমেদ, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. মিনহাজ উদ্দীন আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিহত ও আহত পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে ক্ষতিপূরণের আবেদন করা হয়। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিহতের স্বজন ও আহতদের প্রত্যেক ব্যক্তির মধ্যে অনুদানের টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বিআরটি সূত্রে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে উপযুক্ত প্রমাণসহ নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে ট্রাস্টি বোর্ড আবেদন যাচাই-বাছাইপূর্বক আর্থিক সহায়তা মঞ্জুর করে।
মন্তব্য