× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Three thousand New York workers are losing their jobs because they are not vaccinated
hear-news
player
print-icon

টিকা না নেয়ায় চাকরি হারাচ্ছেন নিউ ইয়র্কের ৩ হাজার কর্মী

টিকা-না-নেয়ায়-চাকরি-হারাচ্ছেন-নিউ-ইয়র্কের-৩-হাজার-কর্মী
করোনার টিকার নিয়মের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন নিউ ইয়র্ক শহরের কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
চাকরিচ্যুতির ঘটনায় নিউ ইয়র্ক শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছেন টিকা না নেয়ারা। পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাও নিয়েছেন তারা।

বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাসের টিকা না নেয়ায় চাকরি হারাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের প্রায় তিন হাজার কর্মী।

গত শুক্রবারের মধ্যে এসব কর্মীদের টিকা নিতে বলেছিল নিউ ইয়র্ক শহর কর্তৃপক্ষ।

নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র জানিয়েছেন, টিকা নেয়ার নিয়ম তিনি পাল্টাবেন না।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাকরিচ্যুত হতে যাওয়াদের মধ্যে আছেন শিক্ষক ও অগ্নিনির্বাপক কর্মী। এ ছাড়া নিউ ইয়র্ক শহরের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীও রয়েছেন।

নিউ ইয়র্ক শহরে গত বছর করোনার টিকা নেয়ার নিয়ম চালু করা হয়।

শহরের ৯৫ শতাংশের বেশি চাকরিজীবী টিকা নিয়েছেন। তবে কিছু অংশ বলছেন, টিকার বাধ্যবাধকতা তাদের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন হচ্ছে। এ কারণে তারা টিকা নেয়ার নিয়ম মানছেন না।

টিকার নিয়ম চালুর পর থেকেই তারা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।

চাকরিচ্যুতির এ ঘটনায় বড় ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছেন বিরোধীরা। পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাও নিয়েছেন তারা।

এদিকে নিউ ইয়র্ক মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেছেন, সিটি কর্তৃপক্ষ কর্মীদের বরখাস্ত করছে তা নয়, বরং কর্মীরা নিয়ম না মেনে ‘পদত্যাগ’ করছেন।

টিকার নেয়ার নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে এই ৩ হাজার টিকাহীনদের মধ্যে অনেকেই অবৈতনিক ছুটিতে রয়েছেন। নিয়ম চালুর পর প্রায় এক হাজার কর্মীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তবে তারা টিকা দেবেন বলে সম্মত হয়েছিলেন। তারা যদি শুক্রবারের মধ্যে টিকা দেয়ার প্রমাণ জমা দিতে ব্যর্থ হন তবে তাদের পদ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

নিউ ইয়র্কের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক বনি স্কালা কিলাডাইটিস। তিনি ধর্মীয় স্বাধীনতার যুক্তি দেখিয়ে চারবার টিকার নিয়ম থেকে ছাড় পাওয়ার আবেদন করেছেন। তবে তার আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনও জানা যায়নি।

৪৯ বছর বয়সী বনি স্কালা বলেন, ‘টিকা না নেয়ার সিদ্ধান্ত মোটেই সহজ ছিল না। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমি এখন পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী। টিকা না নেয়ার কারণে যদি আমার শিক্ষকতা পেশায় আর ফেরা না হয়, তবে বলব, তাই হোক। তবে আমার পদত্যাগ করার ইচ্ছা নেই।’

২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরুর পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন নিউ ইয়র্ক শহরের বাসিন্দারা।

শুরু থেকেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা টিকা নেয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। তারা বলছেন, টিকা নেয়াই করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

টিকা আবিষ্কারের পর নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি সান ফ্রান্সিসকো, বোস্টন ও শিকাগোর মতো বড় শহর কিংবা রাজ্যগুলোয় টিকা নেয়ার ওপর জোর দেয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে বাসরত প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ টিকা নিয়েছেন। আর নিউইয়র্ক শহরের ৮৫ শতাংশের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে।

এদিকে টিকা নিতে চান না এমন মানুষের সংখ্যাও নিউ ইয়র্ক শহরে কম নয়। সেখানকার প্রায় ১৩ হাজার মানুষ বাধ্যতামূলক টিকার নিয়ম থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করেছিলেন। আবেদনকারীদের প্রায় অর্ধেকের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। বাকি অর্ধেকের মধ্য থেকেই তিন হাজার কর্মী এবার চাকরিচ্যুত হতে চলেছেন।

আরও পড়ুন:
জন্মনিবন্ধনের ভুলে টিকা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা
করোনায় মৃতদের ৮০ শতাংশ টিকা নেননি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
হাড় মুড়মুড় কমাতে ১২ বার করোনার টিকা
টিকার ভয়ে চড়লেন গাছে
কোভ্যাক্স থেকে এলো টিকার সবচেয়ে বড় চালান

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Death of Muslim Brotherhood leader Yusuf al Qaradai

মুসলিম ব্রাদারহুডের আধ্যাত্মিক নেতা ইউসুফ আল-কারাদায়ির মৃত্যু

মুসলিম ব্রাদারহুডের আধ্যাত্মিক নেতা ইউসুফ আল-কারাদায়ির মৃত্যু মুসলিম ব্রাদারহুডের আধ্যাত্মিক নেতা ও আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন অফ মুসলিম স্কলারের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ আল-কারাদায়ি। ছবি: রয়টার্স
সোমবার ৯৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর খবরটি তার অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে জানানো হয়।

কাতারভিত্তিক মুসলিম ব্রাদারহুডের আধ্যাত্মিক নেতা ও আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন অফ মুসলিম স্কলারের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ আল-কারাদায়ির মৃত্যু হয়েছে

আল অ্যারাবিয়ার খবরে বলা হয়, সোমবার ৯৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর খবরটি তার অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে জানানো হয়।

তার পুত্র আবদুল রহমান ইউসুফ আল-কারাদায়ি টুইটার অ্যাকাউন্টে দেয়া খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

মিসরীয় ইউসুফ আল-কারাদায়ি ২০১৩ সাল থেকে কাতারে নির্বাসিত ছিলেন। পরে কাতার তাকে নাগরিকত্ব দেয়।

২০১৫ সালে মিসরে তার অনুপস্থিতিতে বিচার করা হয় এবং দেশটি তখন ইউসুফের কারাদণ্ডের রায় দেয়।

২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন অফ মুসলিম স্কলার’-এর চেয়ারম্যান ছিলেন ইউসুফ আল-কারাদায়ি। এরপর টানা ১৫ বছর একই পদে ছিলেন তিনি।

মিসরে ১৯২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জন্ম হয় ইউসুফ আল-কারাদায়ির। মিসরের উত্তর নীলনদের তীরবর্তী সাফাত তোরাব গ্রামে তার বেড়ে ওঠা শুরু। দুই বছর বয়সে বাবা মারা যান। পরে চাচা তার লালন-পালন করেন। ১০ বছর বয়সে তিনি সম্পূর্ণ কোরআন হিফজ করেন।

আরও পড়ুন:
আইনজীবী ইউসুফের ‘ফি’ ১৬ কোটি টাকা
নারী ও শিশুনির্ভর কন্টেন্ট নির্মাণে মালালার সঙ্গে অ্যাপল
করোনায় বিএনপি নেতা কামাল ইবনে ইউসুফের মৃত্যু
করোনায় আক্রান্ত নাসির উদ্দীন ইউসুফ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Secret audio of Pak Prime Minister auctioned on dark web for 36 crores

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর গোপন অডিও ফাঁস

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর গোপন অডিও ফাঁস সৌদি আরবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ছবি: এপি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের দলের নেতা ফাওয়াদ জানান, ১১৫ ঘণ্টার অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। ডার্ক ওয়েবে নিলামকারী এর দাম চাইছেন ৩৬ কোটি সাড়ে ৭ লাখ টাকার মতো।

নানা সংকটে জর্জরিত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কথোপকথনের রেকর্ড ফাঁস হয়েছে, এই অডিও আবার তোলা হয়েছে নিলামেও।

সম্প্রতি ইন্টারনেট জগতে অবৈধ কর্মকাণ্ডের মার্কেটপ্লেস ডার্ক ওয়েবে ওই অডিও নিলামে তোলা হয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ নেতা ফাওয়াদ চৌধুরী।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের দলের নেতা ফাওয়াদ জানান, ১১৫ ঘণ্টার অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। ডার্ক ওয়েবে নিলামকারী এর দাম চাইছেন ৩৬ কোটি সাড়ে ৭ লাখ টাকার মতো।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় যে নিরাপদ না, তা এতেই বোঝা যায়। অডিও শুনলেই তো বোঝা যায়, সব সিদ্ধান্ত আসছে লন্ডন থেকে।’

প্রধানমন্ত্রীর কথোপকথনের অডিও ফাঁসের ঘটনা দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যর্থতার কারণে হয়েছে বলে মনে করেন এই নেতা।

জিও টিভি বলছে, ফাঁস হওয়া অডিওতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে পাকিস্তান মুসলিম লীগের (নওয়াজ) মরিয়ম নওয়াজ শরিফ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, আইনমন্ত্রী আজম তারার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ কয়েকজনের কণ্ঠ শোনা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে ওই অডিওর খণ্ডিত অংশ। একটিতে মরিয়মের সঙ্গে ভারত থেকে পাওয়ার প্ল্যান্ট আনার ব্যাপারে কথা বলছিলেন শাহবাজ শরিফ। আরেকটি অডিওতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ নিয়ে মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায় তাকে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অডিও ফাঁসের বিষয়টি জানেন। এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ফাঁস হওয়া অডিওর তদন্তে সব সংস্থার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা ঠিক ছিল কি না, তা তদন্তেই বেরিয়ে আসবে।’

মন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ বলেন, ‘স্বাচ্ছন্দ্যে বলতে পারি, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সব কথোপকথন রেকর্ড করে প্রকাশ করা হলেও তাতে বিব্রতকর কিছু থাকবে না।’

বিভিন্ন নাটকীয়তার পর গত ৯ এপ্রিল মধ্যরাতের অনাস্থা ভোটে ৬৯ বছর বয়সী ইমরান খানের প্রধানমন্ত্রিত্বের অবসান ঘটে। তিনি দেশটির ২২তম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। পরে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে আবার ভোটাভুটিতে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ নেতা শাহবাজ শরিফ।

দুর্নীতির দায়ে নওয়াজ শরিফ অভিশংসিত হওয়ার পর ২০১৮ সালে চার দলের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন ইমরান। তার সরকারের মেয়াদ ছিল ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত।

শাহবাজ শরিফ ক্ষমতায় এসেই রাজনীতি-অর্থনীতিসহ নানা সংকটে ইরমান খানকে দায়ী করেছেন। দলীয় কর্মসূচিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে ইমরানকে। তিনিও সংকটে শাহবাজকে দায়ী করে তার পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন করছেন।

আরও পড়ুন:
ভারতের সঙ্গে অর্থপূর্ণ আলোচনা চাই: মোদিকে শাহবাজ শরিফ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Iranian Oscar Jayeer calls on the world to stand by the protesters

বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর

বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর  সাইপ্রাসে ইরানি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনে সমর্থন জানাচ্ছেন ইরানের বিশিষ্টজনরা। এবার এই বিক্ষোভের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববাসীকেও ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন দুইবারের অস্কার জয়ী ইরানি পরিচালক আসঘার ফারহাদি।

নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় সৃষ্ট আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি জানাতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দুইবারের অস্কার বিজয়ী ইরানি চলচ্চিত্র পরিচালক আসঘার ফারহাদি।

রোববার ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান তিনি।

এই সময় চলমান আন্দোলনে পুরুষদের পাশাপাশি প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেয়া প্রগতিশীল ও সাহসী নারীদেরও প্রশংসা করেছেন তিনি।

ফারহাদি বলেন, ‘তারা এমন সাধারণ, অথচ মৌলিক অধিকার খুঁজছে যেগুলো রাষ্ট্র তাদের দিতে প্রত্যাখ্যান করেছে।

‘এই সমাজ, বিশেষ করে নারীরা, এই সময়ে এসে কঠোর ও বেদনাদায়ক পথ অতিক্রম করেছে এবং তারা স্পষ্টভাবেই একটি গন্তব্যে পৌঁছেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের খুব কাছ থেকে দেখেছি, তারা ১৭ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণী।

বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর
দুইবারের অস্কার জয়ী ইরানি পরিচালক আসঘার ফারহাদি

‘তারা যেভাবে রাস্তায় মিছিল করেছে, আমি তাদের মুখে ক্ষোভ ও আশা দেখেছি । সব বর্বরতাকে উপেক্ষা করে তাদের নিজেদের ভাগ্য বেছে নেয়ার অধিকারের দাবিতে তাদের স্বাধীনতার সংগ্রামকে আমি গভীরভাবে সম্মান করি।’

বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সারা বিশ্বের সব শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, বুদ্ধিজীবী, নাগরিক অধিকার কর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছি, যারা মানবিক মর্যাদা ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং তারা যাতে ইরানের শক্তিশালী ও সাহসী নারী-পুরুষের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভিডিও প্রকাশ করে।’

মূলত জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য পরিচিতি রয়েছে আসঘার ফারহাদির। ২০১১ সালে ‘এ সেপারেশন’ এবং ২০১৬ সালে ‘দ্য সেলসম্যান’ চলচ্চিত্রের জন্য বিদেশি ভাষা ক্যাটাগরিতে দুইবার অস্কার (অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড) জেতেন তিনি।

আমি তাদের মুখে ক্ষোভ ও আশা দেখেছি । সব বর্বরতাকে উপেক্ষা করে তাদের নিজেদের ভাগ্য বেছে নেয়ার অধিকারের দাবিতে তাদের স্বাধীনতার সংগ্রামকে আমি গভীরভাবে সম্মান করি।

এদিকে ‘সঠিক নিয়মে’ হিজাব না পরার অভিযোগে নৈতিকতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর ২২ বছরের মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ইরান।

তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গত কয়েক দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে।

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে এই বিক্ষোভে নারীদের পাশাপাশি ইরানি পুরুষও যোগ দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক নারী নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরার ঘোষণা দিয়ে ভিডিও পোস্ট করছেন।

বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর
এ সেপারেশন ও দ্য সেলসম্যান চলচ্চিত্রের জন্য অস্কার পেয়েছিলেন আসঘার ফারহাদি

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের নৈতিকতা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসার হার্ট অ্যাটাক হয়, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তাল ইরান। ইরানের বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষও চলছে।

আরও পড়ুন:
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০
ইরানের রাস্তায় এবার হিজাবপন্থিরা
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত বেড়ে ২৬
হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানি সেনারা জনতার পক্ষ নিন: সাবেক ফুটবল তারকা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
What is Elon Musks role in the Iran protests?

উত্তাল ইরানে ইলন মাস্কের ভূমিকা কী

উত্তাল ইরানে ইলন মাস্কের ভূমিকা কী ইরানে স্টারলিংক সক্রিয় করতে যাচ্ছেন ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত
নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি নারী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল ইরানে বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেট সেবা সীমিত করেছে দেশটির সরকার। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকার সরকারের সবুজ সংকেত পেয়ে বিক্ষোভকারীদের জন্য ইন্টারনেট সেবা সচল রাখতে এগিয়ে এসেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগে কিয়েভের আহ্বানে সারা দিয়ে ইউক্রেনেও ইন্টারনেট সেবা সরবরাহ করেছিলেন তিনি।

চলমান বিক্ষোভের মুখে ইন্টারনেট সেবা সীমিত করেছে ইরান সরকার। এমন পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ চাঙ্গা রাখতে আমেরিকার বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক সেখানে স্টারলিংক সক্রিয় করার বিষয়টি জানিয়েছেন।

ইরানে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে ২২ বছর বয়সী কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানে শুরু হয় বিক্ষোভ। এই বিক্ষোভ দমনে ইরানের কর্তৃপক্ষ দেশটিতে ইন্টারনেট সেবা সীমিত করে দিয়েছে, ব্লক করে দিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম।

এবার আমেরিকার সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বিক্ষোভকারীদের সহযোগিতার জন্য ইরানে স্যাটেলাইট নির্ভর মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা চালু করার বিষয়টি আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টোনি ব্লিঙ্কেনের এক টুইটের জবাবে এমনটাই জানিয়েছেন মাস্ক।

তবে এ বিষয়ে মাস্কের আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য জানা যায়নি বা কোন পথে বিক্ষোভকারীদের হাতে রিসিভার এন্টেনা পৌঁছাবে, তাও জানা যায়নি। ইরানিদের হাতে ইন্টারনেট সেবা সরঞ্জাম সরবরাহ করার ক্ষেত্রে কোনো নিয়মতান্ত্রিক জটিলতায় পড়তে হবে না মাস্ককে।

কারণ পরমাণু ইস্যুতে ইরানে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পরও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরানি জনগণের জন্য ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণের নির্দেশিকা জারি করেছে।

উত্তাল ইরানে ইলন মাস্কের ভূমিকা কী
স্পেসএক্সের রকেটে মহাকাশে স্টারলিংক স্যাটেলাইট

এর আগে বৈশ্বিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লক্স জানিয়েছিল, ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিম ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশের কিছু অংশে শুরুতে ইন্টারনেট সেবা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভ শুরুর পর তেহরান ও অন্যান্য শহরেও ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটছে।

তেহরান ও দক্ষিণ ইরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট পাঠাতে পারলেও কোনো ছবি পাঠাতে পারছেন না। ইনস্টাগ্রাম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।

চলমান উত্তাল পরিস্থিতিতে ইরানে ইন্টারনেটের গতিও কমিয়ে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। একটি বড় মোবাইল ফোন অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যাহত হওয়ার কারণে লাখ লাখ গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

ইন্টারনেট সেবা নিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশটিতে ইন্টারনেটে হস্তক্ষেপ নতুন ঘটনা নয়। এর আগে ২০১৯ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময়েও প্রায় সপ্তাহখানেক ইন্টারনেট বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।

তবে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ার ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে ইলন মাস্কের স্টারলিংকের ইন্টারনেট সরবরাহ নতুন কিছু নয়।

এর আগে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স স্টারলিংকের হাজার হাজার এন্টেনা পাঠিয়েছে ইউক্রেনে, যাতে রুশ হামলার মধ্যে দেশটির বিপর্যস্ত ইন্টারনেট সেবা সচল থাকে।

ইউক্রেনে রাশিয়া হামলা শুরু করলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে ইলন মাস্কের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়। ইলন মাস্ক সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইউক্রেনের জন্য সচল করেন।

স্পেসএক্সের সহপ্রতিষ্ঠান স্টারলিংক পৃথিবীর দ্রুত বিকাশমান বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি, যাদের লক্ষ্য পৃথিবীর লো-অরবিটে থাকা স্যাটেলাইট থেকে বিশ্বব্যাপী লো লেটেন্সির ব্রডব্র্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা। স্টারলিংক তার বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে, খুব শিগগিরই প্রতিষ্ঠানটি ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার তৈরিতে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুন:
ইরানের রাস্তায় এবার হিজাবপন্থিরা
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত বেড়ে ২৬
হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানি সেনারা জনতার পক্ষ নিন: সাবেক ফুটবল তারকা
নারীর পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে ইরানে নিহত ১৭

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
India and China want talks to end Ukraine war

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চায় ভারত ও চীন  

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চায় ভারত ও চীন   জাতিসংঘ সফরে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং। ছবি: এএফপি
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমরা শান্তির পক্ষে আছি এবং দৃঢ়ভাবে সেখানে থাকবে। আমরা সেই পক্ষে আছি, যে পক্ষ সংলাপ এবং কূটনীতির চায়। অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং বলেন, ‘ইউক্রেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সহায়ক সব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে বেইজিং।’

আলোচনার মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে ভারত ও চীন। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে শনিবার এ আহ্বান জানায় দিল্লি ও বেইজিং।

চলতি অধিবেশনের শুরু থেকেই চাপেই ছিলেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। অবশেষে শনিবার তিনি ইউক্রেন ইস্যুতে কথা বলেন। জানান, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘জঘন্য’ প্রচারণা চালাচ্ছে পশ্চিম।

তবে এদিন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সমর্থন দিতে দেখা যায়নি গুরুত্বপূর্ণ কোনো দেশকে। ফেব্রুরায়িতে ইউক্রেন অভিযানের কদিন আগে যে চীন রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে ‘অটুট’ বন্ধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারাও মুখে কুলুপ আঁটেন।

সংকট যেন উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রভাবিত না করে সেদিকে নজর রাখতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

ওয়াং বলেন, ‘ইউক্রেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সহায়ক সব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে চীন। শান্তি জন্য প্রয়োজন আলোচনা।

‘মৌলিক সমাধান হলো সব পক্ষের বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগকে মোকাবিলা করা এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর এবং টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা।’

২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবার সঙ্গে দেখা করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

চলতি মাসের শুরুতে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে এক বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ইউক্রেন ইস্যুতে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন

চীনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ ভারত। তবে মস্কোর সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কও পুরোনো। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে রাশিয়ার ওপর অনেকটায় নির্ভর করতে হয় ভারতকে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর বলেন, ‘ইউক্রেনের সংঘাত ক্রমাগত উত্তপ্ত হওয়ার কারণে আমাদের এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় যে আমরা আসলে কার পক্ষে আছি।

‘আমাদের উত্তর সবসময় সোজা এবং সৎ... ভারত শান্তির পক্ষে আছে এবং দৃঢ়ভাবে সেখানে থাকবে। আমরা সেই পক্ষে আছি, যে পক্ষ সংলাপ এবং কূটনীতির পক্ষে।

যুদ্ধের জন্য চীনের জোরালো সমর্থনের ঘাটতি দেখেন না আমেরিকান কর্মকর্তারা। তারা চীনের এই অবস্থানে দারুণ খুশী। জানিয়েছে, বেইজিং সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় রাশিয়াকে এখন উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য করেছে।

আক্রমণাত্মক রাশিয়া

একটি সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেন ইস্যুতে চীনের পক্ষ থেকে কোনো চাপ এসেছে কি না এমন প্রশ্ন এড়িতে যান রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ। এসবের চেয়ে পশ্চিমের নিন্দা করতে বেশি ব্যস্ত ছিলেন তিনি।

ল্যাভরভ বলেন, ‘পশ্চিমে রুসোফোবিয়া নজিরবিহীন। তারা আমাদের দেশে কেবল সামরিক পরাজয় ঘটাতে নয়, রাশিয়াকে ধ্বংস ও ভেঙে ফেলার অভিপ্রায় ঘোষণা করতেও পিছপা হচ্ছে না।

‘স্নায়ুযুদ্ধ শেষের পর যুক্তরাষ্ট্র এমন ভান করা শুরু করে যে তারা পৃথিবীতে ঈশ্বরের পাঠানো দূত। যখন যেখানে যা করতে ইচ্ছা করে, তা করা যেন পবিত্র দায়িত্ব তাদের।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ‘স্বৈরাচারী, কঠোর, দখলদার সত্তা’ বলে বর্ণনা করেছেন। বলেছেন, সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস আনাস্তাসিয়াদেসকে মস্কোর সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করতে বাধ্য করেছে ব্লকটি।

ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে না থাকায় পশ্চিমের কড়া সমালোচনা করেন ল্যাভরভ। বলেন, ‘যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা কখনই দূরে সরে যাইনি।’

রিজার্ভ সেনা তলব এবং পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়ায় রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে পশ্চিম। তারা ইতোমধ্যে পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার আয়োজিত গণভোটের ফলকে স্বীকৃতি না দেয়ার অঙ্গিকার করেছে।

আরও পড়ুন:
রাশিয়াকে শাস্তি পেতেই হবে: জেলেনস্কি
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  
যুদ্ধেই ইউক্রেন সংকটের সমাধান: ক্রেমলিন
রুশ ফেডারেশনে ঢুকতে ডনবাস প্রজাতন্ত্রে গণভোট
ইউক্রেনকে ভেঙে ফেলার আহ্বান রোমানিয়ান কূটনীতিকের

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Anti Hijabs Get Appropriate Answer Iranian President

হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট

হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট ১৬ সেপ্টেম্বর মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে গোটা ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: সংগৃহীত
তিন বছরের মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা। এবারের প্রতিবাদটা রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ইস্যুতে নয়, বিস্ফোরণটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আরোপিত লিঙ্গভিত্তিক পোশাক কোডের প্রতিক্রিয়ায়।

ইরানে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে দেশটিতে যে অস্থিরতার ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে, তার বিরুদ্ধে সমুচিত জবাব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। অতি রক্ষণশীল এই প্রেসিডেন্ট হিজাববিরোধী আন্দোলনকে ‘দাঙ্গা’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেছেন, যারা দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা’ নেয়া হবে।

বিক্ষোভে মাশহাদ শহরে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যের পরিবারের সঙ্গে শনিবার ফোনালাপে এ কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

ইরান সরকারের হিসাবে, হিজাববিরোধী আন্দোলনে এ পর্যন্ত মারা গেছেন অন্তত ৪১ জন। নিহতদের বেশির ভাগ বিক্ষোভকারী, কয়েকজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

১৬ সেপ্টেম্বর মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদে কয়েক শ বিক্ষোভকারী, সংস্কারপন্থি এবং সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিক্ষোভ এখন ছড়িয়ে পড়েছে অন্তত ৭০টি শহর ও গ্রামে।

বিক্ষোভ দমাতে সরাসরি গুলি ছুড়ছে নিরাপত্তা বাহিনী, জেরা করা হচ্ছে মানবাধিকারকর্মীদের। অন্যদিকে, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর মারছে বিক্ষোভকারীরা, সরকারি ভবন এবং গাড়িতেও আগুন দিচ্ছে তারা। ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু চাই’ বলে স্লোগান দিচ্ছে বিক্ষুব্ধরা।

তিন বছরের মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা। এবারের প্রতিবাদটা রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ইস্যুতে নয়, বিস্ফোরণটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আরোপিত লিঙ্গভিত্তিক পোশাক কোডের প্রতিক্রিয়ায়।

হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট
তিন বছরের মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা

মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে ধরা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সঠিকভাবে হিজাব করেননি তিনি।

পুলিশ হেফাজতে মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, একসময় চলে যান কোমায়। হাসপাতালে ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়েছে।

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

কিছু ইরানি নারী বিক্ষোভকারী তখন থেকে সমাবেশে নিজেদের হিজাব খুলে ফেলছে, অনেকে নিজের চুল কেটে ফেলছেন, কেউ কেউ নারীর স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছে।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ৭ মার্চ নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

এই পোশাকবিধি অনুযায়ী নারীদের জনসমক্ষে চুল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে হয় এবং লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। আর বিষয়টি নিশ্চিতের দায়িত্ব রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিশেষ শাখা- নৈতিকতা পুলিশের ওপর।

‘ক্ষোভ এবং আশা’

মানবাধিকারের দাবিতে চলা কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেয়া প্রগতিশীল এবং সাহসী নারীদের সমর্থনে ইরানের অনেক পুরুষ রাস্তায় নেমেছেন। ইরানের অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা আসগর ফারহাদিও নাম লিখিয়েছেন এই তালিকায়।

ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘তারা যেভাবে রাস্তায় মিছিল করেছে, আমি তাদের মুখে ক্ষোভ ও আশা দেখেছি।

‘তাদের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম এবং ভাগ্য বেছে নিতে সাহসে আমি মুগ্ধ। সম্মান জানাই তাদের।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ব্যাপকহারে শেয়ার হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খোলা চুলের এক তরুণীর সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তির পর তাকে মাটিতে চেপে ধরেছে দাঙ্গা পুলিশ। পরে অন্য নারীরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে।

এমন পরিস্থিতে পুরানো নিষেধাজ্ঞা অনুসরণ করতে শুরু করেছে ফেসবুক, টুইটার, টিকটক এবং টেলিগ্রাম। তারা ওয়েব মনিটর নেটব্লকসের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম এবং স্কাইপ পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। সীমিত করে দিয়েছে ইন্টারনেট সেবা।

হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

এই অবস্থায় আরও রক্তপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে ইরান সরকারকে সতর্ক করেছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

দেশের বাইরে থেকে ইরানের নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়েও বিক্ষোভ চলছে। অ্যাথেন্স, বার্লিন, ব্রাসেলস, ইস্তাম্বুল, মাদ্রিদ, নিউ ইয়র্ক, প্যারিস, সান্তিয়াগো, স্টকহোম, দ্য হেগ, টরন্টো এবং ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন শহরে চলছে প্রতিবাদ।

‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’

ইরান দেশটি চালান ৮৩ বছর বয়স্ক আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। মূলত পরমাণু কর্মসূচি কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি এক প্রকার অবরুদ্ধ হয়ে আছে। আছে অর্থনৈতিক নানা নিষেধাজ্ঞা। ইরানের এই পরিস্থিতির জন্য বরাবরই ‘বিদেশি চক্রান্ত’কে দায়ী করছে দেশটির সরকার৷

হিজাব এবং রক্ষণশীল মূল্যবোধের পক্ষে বড় সমাবেশেরও আয়োজন করেছে ইরান সরকার। তেহরানের এঙ্গেলাব (বিপ্লব) স্কোয়ারে রোববার আরেকটি সরকারপন্থী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার বড় সমাবেশ করেন হিজাবপন্থিরা।

বাধ্যতামূলক পোষাক কোড প্রত্যাহার এবং নৈতিকতা পুলিশের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরানের প্রধান সংস্কারবাদী দল- ইউনিয়ন অফ ইসলামিক ইরান পিপলস পার্টি। ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমোদন’ এবং গ্রেপ্তারদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইরানের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। ইরানে তাদের নিজস্ব উত্স থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে তারা।

অসলোভিত্তিক সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস নিরাপত্তা বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বাদেই কমপক্ষে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বিক্ষোভে। অনেকের মরদেহ গোপনে দাফন করতে তাদের পরিবারকে জোর করা হয়েছে বলেও জানাচ্ছে মানবাধিকার সংগঠনটি।

হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট
রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন হিজাববিরোধীরা

ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনও আমিনির মৃত্যুর কারণ জানায়নি। তবে তার পরিবার বলছে, মাথায় আঘাতের কারণেই আমিনির মৃত্যু হয়েছে।

আমিনিকে মারধর করা হয়নি… এ কথা শুরু থেকেই জোর গলায় দাবি করে আছেন ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ ওয়াহিদি। তিনি বলেছেন, ‘এ ঘটনায় সিদ্ধান্তকে পৌঁছাতে অবশ্যই মেডিক্যাল পরীক্ষকের চূড়ান্ত মতামতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত বেড়ে ২৬
হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানি সেনারা জনতার পক্ষ নিন: সাবেক ফুটবল তারকা
নারীর পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে ইরানে নিহত ১৭
ইরান বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৮, বাইডেনের সংহতি

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Italys far right Giorgia Meloni is running for prime minister

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: সংগৃহীত
প্রেসিডেন্ট সার্জিও ম্যাটারেলা সকালে সিসিলিয়ান রাজধানী পালেরমোয় নিজের ভোট দেন। মেলোনি ও বাম নেতা এনরিকো লেটা ভোট দিয়েছেন রোমে। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী মাত্তেও সালভিনি মিলানে ভোট দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, জোট বেঁধে সরকার গঠন করতে পারেন উগ্র ডানপন্থি মেলোনি ও সালভিনি জোট।

প্রধানমন্ত্রী বেছে নিতে ভোট দিচ্ছেন ইতালির জনগণ। পূর্বাভাস বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম ইতালির ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে উগ্র ডানপন্থি সরকার।

স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন দেশটির ৫ কোটি ১০ লাখ ভোটার, যাদের ২৬ লাখ এবারই প্রথম ভোট দেবেন। এ ছাড়া দেশের বাইরে আছেন ৪৭ লাখ ভোটার।

জর্জিয়া মেলোনি ইতালির উগ্র ডানপন্থি ব্রাদার্স পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্য দুটি ডানপন্থি দলের সঙ্গে জোট বেঁধে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে তিনি।

প্রেসিডেন্ট সার্জিও ম্যাটারেলা সকালে সিসিলিয়ান রাজধানী পালেরমোয় নিজের ভোট দেন। মেলোনি ও বাম নেতা এনরিকো লেটা ভোট দিয়েছেন রোমে। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী মাত্তেও সালভিনি মিলানে ভোট দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, জোট বেঁধে সরকার গঠন করতে পারেন উগ্র ডানপন্থি মেলোনি ও সালভিনি জোট।

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি
চেম্বার এবং সিনেটের জন্য ভোট দিতে স্থানীয় সময় রাত ১১টা পর্যন্ত সময় পাবেন ভোটাররা

জর্জিয়া মেলোনি রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেন। তিনি চাইছেন নিজের ফ্যাসিবাদের তকমা দূর করতে। যদিও নির্বাচনি প্রচারে ফ্যাসিস্ট স্লোগান দিতে দেখা গেছে ৪৫ বছরের মেলোনিকে। এ ছাড়া অভিবাসন বন্ধে লিবিয়ায় নৌ অবরোধের পক্ষে তার অবস্থান।

এক মাস আগেও, ইতালির বাম এবং মধ্যপন্থি দলগুলো উগ্র ডানপন্থি মেলোনি জোটকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ছিল। তবে শেষপর্যন্ত তারা সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। বলা হচ্ছে, এতেই কপাল খুলেছে মেলোনি জোটের। জনমত জরিপে মেলোনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এখন মধ্য-বাম ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা এনরিকো লেটা।

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি

সিলভিও বারলুসকোনি (মাঝে) এবং মাত্তেও সালভিনির (বাঁয়ে) সঙ্গে জোট বাঁধতে পারেন জর্জিয়া মেলোনি (ডানে)

দুই কক্ষের পার্লামেন্ট ইতালির; চেম্বার এবং সিনেট। নতুন নিয়মে দুই কক্ষের আকার এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। চেম্বারের এখন ৪০০ আসন এবং সিনেট ২০০টি। এতে জোট সরকারের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো জোট ৪০ শতাংশ ভোট পেলে পার্লামেন্টের ৬০ শতাংশ আসন তাদের পক্ষে যাবে।

জোট বেঁধে ক্ষমতায় এলেও প্রধানমন্ত্রী পদে মেলোনির আসা অনিশ্চিত। কারণ এ সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট মাতারেলা, যিনি ইতালির সংবিধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মেলোনি এবং তার সহযোগীরা এ ধারায় পরিবর্তন চান। তারা পার্লামেন্টে নির্বাচিত নিরপেক্ষ ব্যক্তির চেয়ে সরাসরি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট চাইছে।

মন্তব্য

p
উপরে