× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Dont stop fighting for rights
hear-news
player
google_news print-icon

অধিকারের লড়াইয়ে থামবেন না মুসকান

অধিকারের-লড়াইয়ে-থামবেন-না-মুসকান
বিবি মুসকান খান পরিণত হয়েছেন অধিকারের লড়াইয়ের প্রতীকে। গ্রাফিক্স: সংগৃহীত
মুসকান বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছি না। আমি আমার অধিকারের জন্য লড়ছি। আমার শিক্ষার জন্য লড়ছি। বহু বছর ধরে আমরা হিজাব পরে আসছি। এটা খুলে ফেলতে বলার অধিকার কারও নেই।’

ভারতের কর্ণাটকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাবের বিরুদ্ধে গেরুয়া উত্তরীয়ধারীদের হিংস্রতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছেন বিবি মুসকান খান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মঙ্গলবার ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, গেরুয়াধারীরা ‘জয় শ্রী-রাম’ স্লোগান দিয়ে উত্যক্ত করার মাঝেই মুসকান আকাশে হাত উঁচিয়ে পাল্টা আল্লাহু আকবার স্লোগান দিচ্ছেন। মুসলিম নারীদের হিজাব পরে ক্লাসে অংশ নেয়ার অনুমতির দাবিতে যারা সোচ্চার তাদের সম্মিলিত কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছেন মুসকান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টকে বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে মুসকান বলেছেন, ওই ঘটনার পর তিনি আরও সাহসী হয়েছেন।

‘আমাদের ভয় পেলে চলবে না। ভয় পাওয়ার আর কোনো কারণ নেই।’

ফোনে দেয়া সাক্ষাৎকারে মুসকান বলেন, ‘যখন শুনেছি আমার কারণে অনেক মুসলিম মেয়ে এখন তাদের অধিকারের জন্য সোচ্চার হচ্ছে তখন মনোবল আরও বেড়ে গেছে। সবাই যেভাবে সমর্থন করছেন তাতে আমি খুবই খুশি।’

কর্ণাটক রাজ্যের মান্ডিয়ায় মুসকান এখন একজন সেলেব্রিটিতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর লোকজন তার বাড়িতে যাচ্ছেন। দৃশ্যত ভয়ংকর পরিস্থিতিতে একা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করায় তার সাহসের প্রশংসা করছেন সবাই। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মুসলিম সংগঠনগুলোও তাকে সমর্থন করছে।

মুসকান বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছি না। আমি আমার অধিকারের জন্য লড়ছি। আমার শিক্ষার জন্য লড়ছি। বহু বছর ধরে আমরা হিজাব পরে আসছি। এটা খুলে ফেলতে বলার অধিকার কারও নেই।’

মঙ্গলবার কী হয়েছিল

ওইদিন মুসকান প্রতিদিনের মতোই হিজাব ও বোরকা পরে তার কলেজে যান। তবে একদল ব্যক্তি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, বোরকা ও হিজাব খুলে তাকে কলেজে প্রবেশ করতে হবে।

মুসকান বলেন, “আমি তাদের কথায় পাত্তা না দিয়েই কলেজে ঢুকি। এরপর আরেকটি দল আমাকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলে উত্যক্ত করা শুরু করে। তারা আমাকে বোরকা ও হিজাব খুলে ফেলতে বলে, তা না হলে নাকি আমি নিজের কলেজে ঢুকতে পারব না। সে সময় আমি তাদের স্লোগানের জবাবে আমি ‘আল্লাহু আকবর’ বলে পাল্টা স্লোগান দিই।”

মুসকান জানান, উত্যক্তকারীরের বেশিরভাগই কলেজের কেউ নন। তিনি বলেন, ‘তারা বহিরাগত ছিলেন। আমি কাউকে চিনতে পারিনি।’

শিক্ষকেরা পাশে আছেন

মান্ডিয়ার পিইএস কলেজ অফ আর্টস, সায়েন্স অ্যান্ড কমার্সে বাণিজ্য নিয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন মুসকান। কলেজের কাছ থেকে পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

মুসকান বলেন, ‘আমার অধ্যক্ষ আমার সঙ্গে আছেন, আমার শিক্ষকেরা আছেন। কেউ কখনোই আমাকে হিজাব খুলে ফেলতে বলেননি। তারা আমাকে স্বাভাবিকভাবেই কলেজে আসতে বলেছেন। তারা আমাকে সুরক্ষা দিচ্ছেন।’

প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর হিসেবে অন্যদের অনুপ্রাণিত করলেও মুসকানের দাবি, তিনি শুধু নিজের সংস্কৃতি অনুসরণ করছেন।

মুসকান বলেন, ‘কলেজ শিক্ষা সবার জন্য। আমাকে হিজাব খুলতে বলার অধিকার কারও নেই। মুসলিম নারী হিসেবে হিজাবকে আমি প্রাধান্য দিই। তারা (অন্য ধর্মের অনুসারী) তাদের সংস্কৃতি অনুসরণ করে, আমরা আমাদেরটা করি।’

চলমান বিতর্কের সূত্রপাত গত ডিসেম্বরে, যখন উদুপি উইমেন্স প্রি-ইউনিভার্সিটি কলেজের মুসলিম ছাত্রীরা মাথার ওড়না/স্কার্ফ খুলে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। এরপর গেরুয়া উত্তরীয়ধারী হিন্দুদের কর্মসূচির কারণে অনেক স্কুল-কলেজ ছাত্রীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ করে।

কর্ণাটক রাজ্য সরকার গত ৫ ফেব্রুয়ারি ‘সাম্য, অখণ্ডতা এবং জনসাধারণের আইন-শৃঙ্খলা ব্যাহত করে’ এমন পোশাক পরে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং স্কুল-কলেজের জন্য ড্রেস কোড নির্ধারণ করে দেয়।

চলতি সপ্তাহে বিষয়টি কর্ণাটক হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। তবে আদালত বুধবার পর্যন্ত কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়নি, তারা মামলাটিকে একটি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠিয়েছে।

আরও পড়ুন:
হিজাব নিয়ে পাঁচ আবেদন শুনবে কর্ণাটক হাইকোর্ট
হিজাব ইস্যু: বেঙ্গালুরুর স্কুল-কলেজ ঘিরে ১৪৪ ধারা
কর্ণাটকের হিজাব ইস্যুতে কলকাতায় বিক্ষোভ
সেই হিজাবি তরুণীকে লাখ টাকা দিতে চান ভালুকার চেয়ারম্যান
হিজাব ইস্যুতে কর্ণাটকের আন্দোলনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সংহতি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
EU MPs shed their hair to demand freedom in Iran

ইরানে ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’ দাবিতে ইইউ এমপির চুল বিসর্জন  

ইরানে ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’ দাবিতে ইইউ এমপির চুল বিসর্জন

  ইরানি নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে চুল কেটে ফেলছেন ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি বক্তব্যের শেষদিকে সবাইকে চমকে দিয়ে নিজের ঝুঁটি কেটে ফেলেন। এ সময় কুর্দি ভাষায় তিনি বলেন, ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’; যার অর্থ- নারী, জীবন, স্বাধীনতা।

ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলা বিক্ষোভে সংহতি জানাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের নারীরা। চলচ্চিত্র অভিনেত্রীসহ তারকা সঙ্গীতশিল্পীরাও নিজেদের চুল কেটে ইরানির নারীদের সমর্থন দিচ্ছেন।

সবশেষ এই তালিকায় যুক্ত হলেন ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি। ইরাকি বংশোদ্ভূত সুইডিশ এই নারী ইইউ অ্যাসেম্বলিতে বক্তৃতা শেষে নিজের ঝুঁটি কেটে ফেলছেন।

ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে অধিবেশনের বৈঠকে বুধবার ইরানে নারীদের নিপীড়নের বিষয়টি উল্লেখ করেন সাহলানি। তিনি বলেন, ‘ইরান মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত, আমাদের ক্রোধ অত্যাচারীদের চেয়ে বেশি হবে। যতক্ষণ না ইরানের নারীরা মুক্ত হবে, আমরা তাদের পাশে থাকব।’

বক্তব্যের শেষদিকে সবাইকে চমকে দিয়ে নিজের ঝুঁটি কেটে ফেলেন সাহলানি। এ সময় কুর্দি ভাষায় তিনি বলেন, ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’; যার অর্থ- নারী, জীবন, স্বাধীনতা।

ইরানে নারীদের এমন হিজাব করতে হয়, যেন তাদের চুল দেখা না যায়। কুর্দি নারী মাহসা আমিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ইরানি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এই পোশাক কোড না মানার দায়ে। তিনদিন পর পুলিশি হেফাজতে মারা যান ২২ বছরের মাহসা।

পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়। মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ইরানে।

অনেকেই হিজাব খুলে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, কেউ কেউ নিজেদের চুল কেটে ইরান সরকারের চাপিয়ে দেয়া পোশাকের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। #HairForFreedom ট্যাগে প্রতিবাদী এসব ইরানি নারীর প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন তুরস্ক, লেবানন এবং ফ্রান্সের নারীরাও। যুক্ত হচ্ছেন তারকা ও রাজনৈতিক নেত্রীরাও।

আরও পড়ুন:
আমেরিকা-ইসরায়েলের নকশায় বিক্ষোভ: খামেনি
ইরানে এক দিনেই নিহত ৪১, তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার
ইরানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় অ্যামনেস্টি
নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Oscar winning actresses next to Iranian women with shaved heads

মাথার চুল কেটে ইরানি নারীদের পাশে অস্কারজয়ী অভিনেত্রীরা

মাথার চুল কেটে ইরানি নারীদের পাশে অস্কারজয়ী অভিনেত্রীরা জুলিয়েট বিনোচে (বাঁয়ে) এবং মেরিয়ন কোটিলার্ড। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও-তে দ্য ইংলিশ পেশেন্ট অভিনেত্রী বিনোচেকে নিজের এক মুঠো চুল কেটে ফেলতে দেখা গেছে। তিনি জানান, তার এই বিসর্জন ‘স্বাধীনতার জন্য’।

ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে সংহতি জানিয়েছেন অস্কারজয়ী জুলিয়েট বিনোচে এবং মেরিয়ন কোটিলার্ডসহ বেশ কয়েকজন তারকা অভিনেত্রী। ইরানে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে তারা নিজেদের চুল কেটে ফেলেছেন।

ব্রিটিশ অভিনেতা শার্লট র‌্যাম্পলিং, শার্লট গেইনসবার্গ এবং সঙ্গীতশিল্পী জেন বার্কিনও চুল কেটে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এমন প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদের স্ত্রী জুলি গেয়েতও।

হিজাব ইস্যুতে গ্রেপ্তার কুর্দি নারী মাহসা আমিনি ১৬ সেপ্টেম্বর মারা গেলে, বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরানের জনগণ। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাথার চুল কেটে ইরানি নারীদের পাশে অস্কারজয়ী অভিনেত্রীরা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ইরানে।

অনেকেই হিজাব খুলে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, কেউ কেউ নিজেদের চুল কেটে ইরান সরকারের চাপিয়ে দেয়া পোশাকের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। #HairForFreedom ট্যাগে প্রতিবাদী এসব ইরানি নারীর প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন তুরস্ক, লেবানন এবং ফ্রান্সের নারীরাও।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও-তে দ্য ইংলিশ পেশেন্ট অভিনেত্রী বিনোচেকে নিজের এক মুঠো চুল কেটে ফেলতে দেখা গেছে। তিনি জানান, তার এই বিসর্জন ‘স্বাধীনতার জন্য’।

soutienfemmesiran নামে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ব্রিটিশ অভিনেত্রী গেইনসবার্গকে দেখা যায়, মা বির্কিনের চুল কেটে দিচ্ছেন তিনি। soutienfemmesiran (সোটিনফেমেসিরান) এর অর্থ- ইরানি নারীর প্রতি সমর্থন।

ভিডিও-র একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, এই নারী, পুরুষরা সমর্থন চাইছে। তাদের সাহস এবং একাগ্রতায় আমরা মুগ্ধ। প্রতিবন্ধকতাগুলো ছেঁটে ফেলে আমরা তাদের সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আরও পড়ুন:
ইরানে এক দিনেই নিহত ৪১, তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার
ইরানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় অ্যামনেস্টি
নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০
ইরান সরকারের রোষানলে সাংবাদিকরাও

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Iranian schoolgirls threw off their hijabs to protest

হিজাব ফেলে বিক্ষোভে নামল ইরানের স্কুলছাত্রীরা

হিজাব ফেলে বিক্ষোভে নামল ইরানের স্কুলছাত্রীরা শিরাজ শহরে কয়েক ডজন স্কুলছাত্রীকে একটি প্রধান সড়ক অবরোধ করার সময় তাদের মাথার স্কার্ফ বাতাসে নাড়তে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত
কারাজ শহরে সোমবার হিজাববিহীন ছাত্রীদের কর্তৃপক্ষ ভেবে এক ব্যক্তিকে স্কুল থেকে বের করে দিতে দেখা গেছে। টুইটারে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও-তে দেখা যায়, ‘আপনার লজ্জা থাকা উচিত’-স্লোগানে এক ব্যক্তির দিকে তেড়ে যাচ্ছে ছাত্রীরা। এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তির দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারে তারা। বাধ্য হয়ে তিনি তখন স্কুলের গেট দিয়ে বের হয়ে যান।

ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে এবার যোগ দিয়েছে দেশটির স্কুলছাত্রীরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির যাচাই করা ভিডিও-তে দেখা যায়, ইউনিফর্ম পরা ছাত্রীরা মাথার স্কার্ফ বাতাসে নেড়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে।

হিজাব ইস্যুতে গ্রেপ্তার কুর্দি নারী মাহসা আমিনি ১৬ সেপ্টেম্বর মারা গেলে, বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরানের জনগণ। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে গোটা ইরানে।

কারাজ শহরে সোমবার হিজাববিহীন ছাত্রীদের কর্তৃপক্ষ ভেবে এক ব্যক্তিকে স্কুল থেকে বের করে দিতে দেখা গেছে। টুইটারে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও-তে দেখা যায়, ‘আপনার লজ্জা থাকা উচিত’-স্লোগানে এক ব্যক্তির দিকে তেড়ে যাচ্ছে ছাত্রীরা। এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তির দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারে তারা। বাধ্য হয়ে তিনি তখন স্কুলের গেট দিয়ে বের হয়ে যান।

কারাজ শহরের ভাইরাল আরেকটি ভিডিও-তে ছাত্রীদের চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা যদি এক না হই, তবে তারা একে একে আমাদের হত্যা করবে।’

স্কুল ছাত্রীদের বিক্ষোভ হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শিরাজেও। কয়েক ডজন ছাত্রী একটি প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এসময় তারা মাথার স্কার্ফ বাতাসে নেড়ে ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু’ বলে স্লোগান দেয়।

রাজধানী তেহরান, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সাকেজ এবং সানন্দাজে স্কুলছাত্রীদের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

শ্রেণীকক্ষে মাথার স্কার্ফ খুলে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন ছাত্রীর ছবিও ঘুরপাক খাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির প্রতিকৃতির সামনে কেউ কেউ তাদের মধ্যমা আঙ্গুল দেখায়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি সোমবার প্রথমবার বিক্ষোভ নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি জানান, ইরানের চিরশত্রু আমেরিকা এবং ইসরায়েল এই ‘দাঙ্গার’ মদদ দিচ্ছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর বিক্ষোভ শুরু করে স্কুলছাত্রীরা।

খামেনি নিরাপত্তা বাহিনীকেও তার পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন; যারা প্রতিবাদের জবাবে হিংসাত্মক দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০
ইরান সরকারের রোষানলে সাংবাদিকরাও
ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায়
বিক্ষোভে ‘উসকানি’: ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্টের মেয়ে গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীন-ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The city that runs under the rule of women men are inhuman

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর ব্রাজিলের নোইভা দো করদেইরো শহরের সব কিছু চলছে নারীদের তৈরি নিয়মে। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের বেলো ভালে শহরের প্রত্যন্ত একটি অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে নারীদের এই ‘স্বর্গরাজ্য’। পর্তুগিজ ভাষায় নোইভা দো করদেইরোর অর্থ সুন্দর উপত্যকা। এই শহরে বিবাহিত পুরুষও সপ্তাহান্তে মাত্র এক দিন স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান। বয়স ১৮ বছর পেরোলে ছেলে সন্তানদেরও সেখানে স্থায়ী বসবাস নিষিদ্ধ।

‘বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর/অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’- কাজী নজরুল ইসলাম ‘নারী’ কবিতায় এভাবেই ‘মহান সৃষ্টি’র পেছনে নারী-পুরুষের যৌথ ভূমিকার কথা লিখেছেন।

তবে ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ছিমছাম নোইভা দো করদেইরো শহরে নারীরা পুরুষদের একদম পাত্তা দিতে রাজি নন। গোটা বিশ্বে পুরুষ দাপিয়ে বেড়ালেও এই শহর চলে নারীদের নিয়মে। সেই নিয়ম এতটাই কড়া যে, রীতিমতো মানবেতর জীবনের মধ্যে আছেন পুরুষ।

বিবাহিত পুরুষও সপ্তাহান্তে মাত্র এক দিন স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান। বয়স ১৮ বছর পেরোলে ছেলে সন্তানদেরও সেখানে স্থায়ী বসবাস নিষিদ্ধ।

দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস রাজ্যের বেলো ভালে শহরের প্রত্যন্ত একটি অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে নারীদের এই ‘স্বর্গরাজ্য’। পর্তুগিজ ভাষায় নোইভা দো করদেইরোর অর্থ সুন্দর উপত্যকা। বাস্তবেও মনোরম শহরটি ছেয়ে আছে নানা ধরনের ফুল-ফলের গাছে।

শহরের অধিবাসীদের প্রায় ৯০ শতাংশই নারী, যাদের অনেকেই জীবনে কোনো পুরুষের সান্নিধ্যে আসেননি।

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

নোইভা দো করদেইরো শহরে পুরুষের এই দুর্বিপাকের জন্য অবশ্য তাদের পূর্বপুরুষেরাই দায়ী। ইতিহাস বলছে, শহরটির পত্তন ঘটান মারিয়া সেনোরিনিয়িা দে লিমা নামে এক তরুণী। মারিয়াকে জোর করে বিয়ে দিয়েছিল পরিবার।

১৮৯১ সালে মারিয়া ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার পরে নিজ শহর ছাড়তে বাধ্য হন। তিনিসহ তার পরিবারের পরবর্তী পাঁচ প্রজন্মকে ক্যাথলিক চার্চ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিপর্যস্ত মারিয়া পালিয়ে গিয়ে নোইভা দো করদেইরোতে বসবাস শুরু করেন। সমাজে একইভাবে নিগৃহীত আরও বেশ কয়েকজন নারীও ধীরে ধীরে আশ্রয় নেন সেখানে। এভাবেই গড়ে ওঠে নারীদের এক শহর, যেখানে বসবাসের সব নিয়ম-কানুন তৈরি করেছেন নারীরাই।

পরের প্রায় ৫০ বছর সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। তবে সমস্যা দেখা দেয় ১৯৪০ সালে। সে বছর অ্যানিসিও পেরেইরা নামে একজন ধর্মযাজক শহরের ১৬ বছরের এক কিশোরীকে বিয়ে করে পুরুষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। শহরে তিনি গড়ে তোলেন একটি গির্জা, সেই সঙ্গে নারীদের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয় বিভিন্ন পদক্ষেপ। নারীদের মদ্যপান, গান শোনা, চুল কাটা বা গর্ভনিরোধক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

নারীদের ওপর এই খবরদারি একটানা চলে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত। ওই বছর অ্যানিসিও মারা গেলে নোইভা দো করদেইরোর অতিষ্ঠ নারীরা সিদ্ধান্ত নেন, তারা আর কখনও পুরুষের কাছে মাথা নোয়াবেন না।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবেই পুরুষের নেতৃত্বে গঠিত ধর্মীয় সংগঠন ভেঙে দেয়া হয়। সেই সঙ্গে জারি হয় শহরে পুরুষদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ রহিত করে আইন।

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

নোইভা দো করদেইরোতে এখন সব মিলিয়ে ছয় শর মতো নারী আছেন। তাদের বেশির ভাগের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

কিছু নারী আছেন বিবাহিত, তাদের সন্তানও রয়েছে। তবে তাদের স্বামী এবং ১৮ বছরের বেশি ছেলে সন্তানদের সেখানে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নেই। সপ্তাহে মাত্র একবার তারা যেতে পারেন নিজেদের বাড়িতে। বাকি দিনগুলো কাটাতে হয় শহরের বাইরে অন্য কোথাও।

ওই শহরের আইন-কানুন তৈরি করা থেকে শুরু করে কৃষিকাজ, নগর পরিকল্পনা, এমনকি ধর্মীয় রীতিনীতিও পরিচালনা করেন নারীরা।

নোইভা দো করদেইরোর নারীরা বলছেন, নিজেদের মতো থাকতে পেরে তারা ভালোই আছেন। রোজালি ফার্নান্দেস নামে এক নারী বলেন, 'নারীরা পুরুষের চেয়ে ভালোভাবে করতে পারে এমন অনেক কিছুই আছে। পুরুষেরা যখন ছিল তার চেয়ে আমাদের শহর এখন আরও সুন্দর ও ছিমছাম।

'নিজেদের মধ্যে কখনও মতভেদ হলে আমরা নিজেদের মতো করে মিটিয়ে নিই। ঝগড়া-ফ্যাসাদের পরিবর্তে ঐকমত্য খোঁজার চেষ্টা করি। আমরা সব কাজ ভাগ করে নিয়েছি। এখানে কেউ কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে না।’

তবে এত শান্তির মধ্যেও ইদানীং কিছু নারীর আক্ষেপও দেখা যাচ্ছে। এই আক্ষেপ না থাকার কারণও অবশ্য নেই।

দারুণ রূপবতী নেলমা ফার্নান্দেস ২৩টি বসন্ত পার করে ফেলেছেন, অথচ এখনও কাউকে চুমু খেতে পারেননি।

নেলমা স্বীকার করছেন, শহরের নারীরা অসাধারণ সুন্দরী হলেও পছন্দের জীবনসঙ্গী অনেকেই খুঁজে পাচ্ছেন না। এতসব নিয়ম-কানুন মেনে শহরটিতে পা রাখার মতো সাহসী পুরুষের সংখ্যা নগণ্য।

নেলমা বলেন, ‘এখানে আমরা যারা অবিবাহিত নারী রয়েছি তাদের সঙ্গে যেসব পুরুষের দেখা হয়, তারা হয় বিবাহিত নয়তো কোনো না কোনোভাবে আত্মীয়। আমি জীবনের এতগুলো বছর কাটিয়েও কোনো পুরুষকে চুমু খাওয়ার সুযোগ পাইনি।

‘আমরা সবাই প্রেমে পড়তে চাই, বিয়ে করার স্বপ্ন দেখি। তবে স্বামী খুঁজতে এই শহর ছেড়ে চলে যেতে চাই না। আমরা এমন পুরুষের সান্নিধ্য চাই, যারা এখানকার নিয়ম মেনেই জীবনযাপনে রাজি হবে।’

আরও পড়ুন:
বীরের বেশে পাহাড়ে চারকন্যা
মালদ্বীপের লিগে খেলতে গেলেন সাবিনা
শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে নামছে বাংলাদেশ
ফুলেল ভালোবাসায় বাড়ি ফিরলেন সানজিদা-রূপনারা
চেনা মাঠে প্রত্যাশা পূরণ করতে চান সালমা-জ্যোতিরা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Same sex marriage legalized in Cuba

কিউবায় বৈধতা পেল সমলিঙ্গের বিয়ে

কিউবায় বৈধতা পেল সমলিঙ্গের বিয়ে প্রতীকী ছবি
ধর্মীয় গোষ্ঠীসহ আরও অনেকের বিরোধিতার মুখে ২০১৮ সালে সমপ্রেমী বিয়েকে বৈধতা দেয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার। তবে এর চার বছরে বদলেছে জনমত। কিউবার বেশির ভাগ নাগরিক আইন সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

কমিউনিস্ট শাসিত দেশ কিউবায় সমলিঙ্গদের বিয়ে এবং সন্তান দত্তক নেয়ার অধিকার বৈধতা পেয়েছে। এ-বিষয়ক গণভোটে কিউবানরা বিদ্যমান আইন সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

এ ঘটনাকে কিউবার এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেশটির দীর্ঘদিনের নেতিবাচক মনোভাবের বিস্ময়কর পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।

চার দশকের পুরোনো একটি ‘পারিবারিক আইনে’ বড় সংস্কার আনার পক্ষে ২৫ সেপ্টেম্বর ভোট দেয় কিউবার মানুষ। এই সংস্কারের ফলে দেশটির বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের জন্য বাড়তি সুরক্ষার পাশাপাশি এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর বেশ কিছু অধিকার নিশ্চিত হবে।

কমিউনিস্ট শাসিত কিউবায় কোনো আইন নিয়ে গণভোট আয়োজনের উদাহরণ খুব বেশি নেই। বিরল সে ধরনেরই এক গণভোটে তিন-চতুর্থাংশ নাগরিক আইন পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

ছয় দশক আগেও কিউবায় সমপ্রেমী বিয়ে এবং সন্তান দত্তকের ভাতা পাওয়ার ঘটনা ছিল কষ্টকল্পনা।

ফিদেল কাস্ত্রো সরকারের বিরুদ্ধে ১৯৫৯ সালে বিপ্লবের পর সমপ্রেমী জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ ওঠে। গ্রেপ্তার করা হয় অনেককে। কাস্ত্রো পরে অবশ্য ওই নিপীড়নের জন্য ক্ষমা চান। বিপ্লবের ২০ বছর পর ১৯৭৯ সালে কিউবায় সমপ্রেম বৈধতা পায়, তবে বিয়ে করার অধিকার দেয়া হয়নি।

গত এক দশকে দেশটির এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে সবচেয়ে সোচ্চার ছিলেন কাস্ত্রো পরিবারেরই এক সদস্য। সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রোর মেয়ে মারিলা কাস্ত্রো দীর্ঘদিন ধরে এই অধিকার নিয়ে কাজ করছেন।

ধর্মীয় গোষ্ঠীসহ আরও অনেকের বিরোধিতার মুখে ২০১৮ সালে সমপ্রেমী বিয়েকে বৈধতা দেয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার।

তবে এর চার বছরে বদলেছে জনমত। কিউবার বেশির ভাগ নাগরিক রায় দিয়েছেন আইন সংস্কারের পক্ষে।

আরও পড়ুন:
প্রেমে পড়া সিলেট ও গাইবান্ধার সেই দুই তরুণী ঘরছাড়া
সঙ্গিনী থেকে বিচ্ছিন্ন নোয়াখালীর সেই তরুণী কেটেছেন হাত
ফের বিচ্ছিন্ন সেই ২ তরুণী, যোগাযোগ বন্ধের নির্দেশ প্রশাসনের
স্কুলছাত্রীর প্রেমে নোয়াখালী থেকে টাঙ্গাইলে তরুণী
দুই তরুণীর প্রেম, বিয়েতে পরিবারের ‘না’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Transgender killed by stabbing in Paribaug

পরীবাগে ছুরিকাঘাতে ট্রান্সজেন্ডার নিহত

পরীবাগে ছুরিকাঘাতে ট্রান্সজেন্ডার নিহত ট্রান্সজেন্ডার নীলাকে মৃত বলে জানান ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসক। ফাইল ছবি
২৪ বছর বয়সী নীলাকে নিয়ে ঢামেকে যাওয়া সাথী নামের ট্রান্সজেন্ডার জানান, পরীবাগ ফুটওভার ব্রিজের ওপর দুই যুবক নীলার গলায় ছুরিকাঘাত করেন। কী কারণে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, তা জানা যায়নি।

রাজধানীর পরীবাগ ফুটওভার ব্রিজের ওপর ছুরিকাঘাতে নীলা নামের এক ট্রান্সজেন্ডার নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১টার দিকে ছুরিকাহত হন নীলা। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

২৪ বছর বয়সী নীলাকে নিয়ে ঢামেকে যাওয়া সাথী নামের ট্রান্সজেন্ডার জানান, পরীবাগ ফুটওভার ব্রিজের ওপর দুই যুবক নীলার গলায় ছুরিকাঘাত করেন।

তিনি আরও জানান, পরীবাগে ওই যুবকদের আগে দেখা যায়নি। কী কারণে নীলাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, তা জানা যায়নি।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জমি বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে খুন
জেনেভা ক্যাম্পে ৩ যুবককে ছুরিকাঘাত
রাজধানীতে ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত
‘ঝগড়া না থামায়’ ছুরিকাঘাত, আহত বাবার মৃত্যু
বেঞ্চে বসা নিয়ে দ্বন্দ্ব, সহপাঠীকে স্কুলছাত্রের ছুরিকাঘাত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Afghan women are also on the streets to show solidarity with the Iran protests

ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায়

ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায় কাবুলে ইরানি দূতাবাদের সামনে বিক্ষোভ করছেন আফগান নারীরা। ছবি: সংগৃহীত
‘ইরান ঘুরে দাঁড়াল, এখন আমাদের পালা’, ‘মাহসার রক্ত ​​আমাদের পথ, আমাদের অনুপ্রেরণা’... স্লোগানে অন্তত ৩০ নারী কাবুলের ইরানি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন।

ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলা বিক্ষোভের ঢেউ লেগেছে আরেক রক্ষণশীল দেশ আফগানিস্তানে। তালেবানের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার কাবুলে বিক্ষোভ করেছেন নারীরা। একপর্যায়ে ফাঁকা গুলিতে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় দেশটির শাসকগোষ্ঠী তালেবান।

‘ইরান ঘুরে দাঁড়াল, এখন আমাদের পালা’, ‘মাহসার রক্ত ​​আমাদের পথ, আমাদের অনুপ্রেরণা’... স্লোগানে অন্তত ৩০ নারী ইরানি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন।

পরিচয় গোপন রাখতে সবার পরনে ছিল বোরকা, চোখে সানগ্লাস, কারও মুখে মাস্ক। তাদের হাতে ছিল ২২ বছরের কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির ছবি।

মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায়
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যেও ইরানের অন্তত ৮০ শহরে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকরা ইরানি নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

কাবুলের দূতাবাস এলাকার এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নারীর স্বাধীনতা চাওয়ার পাশাপাশি ইরান সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিল বিক্ষোভকারীরা। একসময় তালেবানের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সামনে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যে নারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।’

অন্যসব দিনের মতো বৃহস্পতিবারও কাবুলের ইরানি দূতাবাসের সামনে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন ছিল। এসবের মধ্যেও তালেবান সমাবেশের অনুমতি দিয়েছিল। তারা ভেবেছিল, প্রতিবেশী দেশে আফগান শরণার্থীদের নিপীড়নের প্রতিবাদে সমাবেশ করতে যাচ্ছেন নারীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক তালেবান নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম তারা ইরানে সহিংস আচরণের শিকার আফগান অভিবাসীদের পক্ষে প্রতিবাদ করছে। হঠাৎ বুঝতে পারলাম তারা ইরানি মেয়েটির জন্য প্রতিবাদ করছে। তাই আমাদের সহকর্মীরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।’

গত বছরের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে আসার পর নিজেদের অধিকারের দাবিতে বিক্ষিপ্তভাবে বিক্ষোভ করেছে নারীরা। শাসকদের দমন-পীড়নের কারণে এসবের বেশির ভাগই হয়েছে ঘরোয়াভাবে।

আফগান নারীদের দাবি, তাদের কর্মক্ষেত্র এবং হাইস্কুলে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হোক। তালেবানরা মেয়েদের জন্য হাইস্কুল নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে আফগান নারীরাও তাদের পুরো শরীর ঢেকে রাখতে বাধ্য। পুরুষ সঙ্গী ছাড়া কোথাও ভ্রমণ কর‍তে পারে না তারা।

এসব বিধিনিষেধের বেশির ভাগই তালেবানের প্রথম শাসনের পুনরাবৃত্তি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান শাসন করেছে তালেবান। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার শুরুর দিকে নারীর প্রতি মনোভাব বদলানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। তবে ক্ষমতায় পোক্ত হওয়ার পর স্বরূপে ফিরতে শুরু করে তালেবান।

আরও পড়ুন:
ইরান বিক্ষোভের পরিণতি কী?
নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা
ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬
ইরানের নৈতিকতা পুলিশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার নিষেধাজ্ঞা
ইরানে মাহসার পর এবার বিদ্রোহের প্রতীক হাদিস নাজাফি

মন্তব্য

p
উপরে