সীমান্ত ইস্যুতে ভারত চীনের কয়েক দফা বৈঠকের পরও গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনারা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিলেন ২০২০ সালের জুন মাসে। সে সংঘর্ষে ভারতের প্রায় ২০ জওয়ান প্রাণ হারান, আহত হয় আরও অনেকে। ভারতের অভিযোগ ছিল চীনা সেনারা ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে ঘাঁটি গেড়ে অবস্থান করছিলেন।
এবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব লাদাখে ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করা একজন চীনা সেনার হাতেই বুধবার শোভা পেয়েছে শীতকালীন অলিম্পিকের মশাল।
অনেকেই চীনের এই পদক্ষেপকে ভারতের বিরুদ্ধে উসকানি হিসেবে দেখছেন।
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) রেজিমেন্ট কমান্ডার কুই ফাবাওয়ের হাতে শোভা পেয়েছে অলিম্পিকের মশাল। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর ভারত-চীনের মধ্যে হয়ে যাওয়া সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এ সময় ভারতের ২০ জন সেনা নিহত হন এবং চীনের নিহত হন ৪ জন সেনা। যদিও ভারতের দাবি, চীনের আরও বেশিসংখ্যক সেনা নিহত হয়েছেন।
সেই সংঘাতে কমান্ডার কুই ফাবাও মাথায় গুরুতর আহত হন। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি তাকে ‘চীনের নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। গত ডিসেম্বরে সিসিটিভিকে জানিয়েছেন, তিনি লড়াইয়ের ময়দানে ফিরতে প্রস্তুত এবং আবারও লড়াই করবেন।
তবে গালওয়ান উপত্যকার লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করা চীন সেনার হাতে অলিম্পিক মশাল দেয়ায় এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সিনেট ফরেইন রিলেশন কমিটি র্যংকিং মেম্বার এক টুইটবার্তায় এ ঘটনাকে লজ্জাজনক হিসেবে অভিহিত করেছে।
It's shameful that #Beijing chose a torchbearer for the #Olympics2022 who's part of the military command that attacked #India in 2020 and is implementing #genocide against the #Uyghurs. The U.S. will cont. to support #Uyghur freedoms & the sovereignty of India.
— Senate Foreign Relations Committee Ranking Member (@SenateForeign) February 3, 2022
ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় তিনটি প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৩৬ বেসামরিক নিহত ও আরও ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। দেশটির তালেবান সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।
তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত সামাজিক মাধ্যম এক্স এ এক পোস্টে বলেছেন, ‘গত রোববার রাতে (২৮ জুন) চালানো এই হামলার ফলে ৩৬ বেসামরিক শহীদ হয়েছেন, তাদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। আর আরও ১৬৩ জন আহত হয়েছেন।
আল জাজিরা পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, করাচিতে সিন্ধু রেঞ্জার্সের শিবিরে বোমা ও বন্দুক হামলায় আধাসামরিক বাহিনীটির তিন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত বরাবর স্থল অভিযান ও আকাশ হামলা চালিয়ে ২৯ জনকে হত্যা করেছে।
সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, দেশজুড়ে সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর অনেকগুলো হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এক্স এ করা পোস্টে তারার বলেন, ‘আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনারে তিনটি লক্ষ্যস্থল নির্ভুল আঘাত ধ্বংস করা হয়েছে।’
কয়েক বছর ধরে পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলো একের পর এক হামলার শিকার হচ্ছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব হামলার অধিকাংশের জন্য পাকিস্তান তালেবান নামে পরিচিত তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) জঙ্গি গোষ্ঠীকে দায় দিচ্ছে।
শনিবার রাতে পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী সিন্ধু রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে বোমা ও বন্দুক হামলায় বাহিনীটির তিন সদস্য নিহত ও আরও তিনজন আহত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা হামলায় তিন আক্রমণকারী নিহত ও আরেকজন গ্রেপ্তার হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।
এক বিবৃতিতে এ হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তান তালেবানের উপদল জঙ্গি গোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার।পাকিস্তান এই হামলার দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক অভিযান চালাবে,’ তখনই বলেছিল পাকিস্তান সামরিক বাহিনী।
তারার দাবি করেন, আফগান সীমান্তের এই প্রদেশগুলোতে পাকিস্তান তালেবানের গোপন ও সুরক্ষিত আস্তানাগুলোকে লক্ষ্যস্থল করা হয়। পাকিস্তান তালেবান আফগান তালেবান থেকে পৃথক একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। তবে এই দুই তালেবানের মধ্যে মিত্রতা আছে।
জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো আফগানিস্তানের নিরাপদ আস্তানায় থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে প্রাণঘাতী হামলা চালাতে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ ইসলামাবাদের। কাবুল এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তারা কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিচ্ছে না বলে পাল্টা দাবি করেছে।
ছবি: সংগৃহীত
ভেনিজুয়েলার বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পের পর চার দিনে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাস, এবং লা গুয়াইরাসহ বিভিন্ন শহরের ধ্বংস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেই দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
‘ধ্বংসস্তূপগুলোতে আমাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত আছে। গত রোববার (২৮ জুন) ধ্বংস্তূপে আটকে পড়া মরদেহগুলো যেমন উদ্ধার করা হয়েছে, তেমনি জীবিতদেরও উদ্ধার কর হচ্ছে। আমাদের অভিযান শিগগিরই শেষ হচ্ছে না। ধ্বংসস্তূপের তলায় আমাদের স্বজনার জীবিত আছেন— এমন আশনিয়ে আমাদের এগোতে হবে’, বিবৃতিতে বলেছেন দেলসি।
বুধবার (২৪ জুন) ভেনিজুয়েলার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনিজুয়েলায়। দুই ভূমিকম্পের মাঝখানে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড ছিল বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)।
বুধবারের (২৪ জুন) ভূমিকম্পকে ভেনিজুয়েলার এ যাবৎকালের ইতিহাসের সবচেয়ে সবচাইতে ভয়াবহ, বিধ্বংসী ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশটির অজস্র ভবন, বাসাবাড়ি আংশিক কিংবা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এই জোড়া ভূমিকম্পে। ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মোট নিহতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে বাড়িঘর ও ভবনের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের উদ্ধারের জন্য দিশেহারা অবস্থায় আছে উত্তর ভেনিজুয়েলার হাজার হাজার পরিবার।
ভূমিকম্পের পর ভেনিজুয়েলার বহু এলাকা বিদুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেলসি জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ পরিষেবা বিভাগের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে দেশের অন্তত ৭৫ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
এর আগে ভেনিজুয়েলার পার্লামেন্টের স্পিকার জর্জ রদ্রিগুয়েজ বলেছিলেন, বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫০ জনের মরদেহ এবং আহত অবস্থায় ৩ হাজার ১৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমিকম্পে ভেনিজুয়েলায় এ পর্যন্ত ৭৭৪টি ভবন ধসে পড়েছে বলেও জানিয়েছেন জর্জ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে ভেনিজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভেনিজুয়েলার সরকারের পক্ষ থেকে এখনও নিখোঁজদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি; তবে দেশটির বিরোধী দলের দাবি, এখনও নিখোঁজ আছেন অন্তত ৫০ হাজার মানুষ।
ছবি: সংগৃহীত
উত্তর জার্মানির শহর স্টাডেতে একটি যুব কল্যাণ কেন্দ্রে বন্দুক হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও বেশ কয়েক জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারীসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বন্দরনগরী হামবুর্গের কাছে অবস্থিত যুব কল্যাণ কেন্দ্রে হামলার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি পলাতক নেই। তিনি বলেন, ঠিক কতজন আহত হয়েছেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নিহতরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামবুর্গের পশ্চিমে অবস্থিত স্টাডেতে প্রায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। বন্দুক হামলার পর পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের ওই এলাকা থেকে এড়িয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ভেনিজুয়েলায় উদ্ধারকারীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে দেশটির বাতাস। এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৪৩০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুধবার (২৪ জুন) রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্প লা গুয়াইরার আশেপাশের উপকূলীয় এলাকাকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এলাকাটিতে প্রবেশ সীমিত করার পদক্ষেপ নেয় কারণ যানজটের বিশৃঙ্খলা উদ্ধারকাজকে বাধাগ্রস্ত করছিল।
সরকারি উদ্ধারকারী দলের অপ্রতুলতার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মানুষ মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং তারা হাত দিয়েই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেছে। সাহায্য সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, লা গুয়াইরার আশেপাশের এলাকায় প্রবেশ করতে চাইলে এখন থেকে যে কাউকে সরকারি অনুমতি নিতে হবে। তবে কাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
কর্তৃপক্ষ একটি শক্তিশালী সরকারি প্রতিক্রিয়ার চিত্র তুলে ধরলেও, মানুষ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খুব কম সংখ্যক সরকারি উদ্ধারকারী দল দেখেছে বলে জানিয়েছে। সরকারি বাহিনী লা গুয়াইরায় বেঁচে যাওয়া মানুষদের মধ্যে খাদ্য ও পানি বিতরণ করছে এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, জীবিত মানুষ উদ্ধারের এই সংকটময় মুহূর্তে তার সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
তিনি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী ও মানবিক সহায়তার আগমনকে স্বাগত জানিয়েছেন। রদ্রিগেজ বলেছেন, লা গুয়াইরাকে সামরিকীকরণ করা হয়েছে এবং আরও সাহায্য আসছে। যদিও বাসিন্দারা বলেছেন, এটি তাদের প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য।
ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ দিন পর জীবিত উদ্ধার ১১ বছরের শিশু
ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার রাতে দেশটির লা গুয়াইরা অঞ্চলে এ উদ্ধার অভিযান সফল হয়, যা চলমান দুর্যোগ মোকাবিলা কার্যক্রমে আশার নতুন আলো এনে দিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, কারাবায়েদা এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটি জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের ভিডিওতে দেখা যায়, হেলমেট ও বিশেষ সুরক্ষা পোশাক পরা উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের স্তূপ বেয়ে একজনকে নিচে নামিয়ে আনছেন। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতের অন্ধকারে ফ্লাডলাইট ও টর্চের আলোয় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রদ্রিগেজ বলেন, কিছুক্ষণ আগে কারাবায়েদায় ১১ বছর বয়সি একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এই মুহূর্তে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি জীবনই ভেনিজুয়েলার জন্য আশার প্রতীক। এর আগে শনিবার একই অঞ্চলে মোইসেস নামের আরেক ১১ বছর বয়সি শিশুকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী কলম্বিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট (UNGRD) জানায়, শিশুটি উদ্ধারে প্রায় ছয় ঘণ্টার অত্যন্ত সতর্ক ও নিখুঁত অভিযান চালানো হয়।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলে, মোইসেসকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং সে এখন নিরাপদে রয়েছে। ছয় ঘণ্টার সূক্ষ্ম উদ্ধার অভিযানের পর আমাদের উদ্ধারকর্মীরা মাটির প্রায় তিন মিটার নিচে আটকে থাকা শিশুটির কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং তাকে নিরাপদে বের করে আনেন।
বুধবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া শিশুদের ঘটনা স্বজনহারাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় শহর টম্বলেনে একটি বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সবাই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৮ জুন) স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন। নিহতদের মধ্যে ১০ জন যাত্রী ও ১ জন পাইলট।
এএফপির প্রকাশিত প্রতিবেদনে, ফ্রান্সের মেউর্থ-এ-মোজেল বিভাগের প্রিফেক্ট ইভ সেগি জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি প্লেনটি কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে ও ঘটনার পেছনে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বিএফএম জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর মুর্ত-এ-মোজেল বিভাগের বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার (২৮ জুন) টম্বলেন শহরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি একটি প্যারাশুট প্রশিক্ষণ স্কুলের ছিল। দুর্ঘটনায় পাইলটসহ বিমানে থাকা ১০ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন প্রশিক্ষণার্থী এবং পাঁচজন প্রশিক্ষক ছিলেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ছবি: সংগৃহীত
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফুটন্ত কড়াইয়ে এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘এল নিনো’র বিধ্বংসী জ্বালানি। বিশ্বজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই এক ভয়ংকর এই জলবায়ু দানব ধেয়ে আসার খবর দিচ্ছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। ইতোমধ্যে এশিয়া থেকে ইউরোপ প্রকৃতির এই চরম রূপের আঁচ এখনই পেতে শুরু করেছে বিশ্ববাসী। এশিয়া ও ইউরোপের বিশাল অংশজুড়ে চলছে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ, বাড়ছে মৃত্যুও। জাতিসংঘও এটিকে ‘জরুরি জলবায়ু সতর্কবার্তা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর এই প্রত্যাবর্তন একদিকে যেমন পারদ চড়াবে অস্বাভাবিক মাত্রায়, অন্যদিকে ডেকে আনবে রেকর্ডভাঙা বন্যা ও খরার মহাবিপর্যয়।
বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের ৮৫০টি বড় শহরের প্রায় অর্ধেকই বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ‘হিট স্ট্রেস’ বা তাপীয় চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও বাতাসে আর্দ্রতার কারণে শরীরের ঘাম সহজে শুকায় না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বা ঠাণ্ডা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এই তাপপ্রবাহ অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
ইউরোপে দাবদাহের মধ্যে স্পেন ও ফ্রান্সে মৃত্যু সংখ্যা বাড়ছে; আর জার্মানি, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে গত শুক্রবারের (২৬ জুন) তাপমাত্রা জুনের আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
বিবিসি লিখেছে, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কনসার্ট, ম্যারাথন ও বড় বড় গণজমায়েত বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে।
স্পেনের মোমো মনিটরিং সিস্টেমের হিসাব অনুযায়ী, দাবদাহের কারণে দেশটিতে অন্তত ৩২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বার্সেলোনার একটি বনে ভয়াবহ আগুন লাগার কারণে ১৬ হাজার মানুষকে ঘরের ভেতর আটকে থাকতে হয়েছে।
ফ্রান্সে চরম তাপমাত্রার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কায় প্যারিসের সব হাসপাতালে জরুরি পরিকল্পনা চালু করা হয়েছে। সেখানে তপ্ত গাড়ির ভেতর আটকে বেশ কয়েকজন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। তা ছাড়া দাবদাহ শুরু হওয়ার পর থেকে ফ্রান্সে অনিরাপদ এলাকায় সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফ্রান্সের সীমান্তঘেঁষা জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সারব্রুকেনে রেকর্ড ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
তবে ফ্রান্সে টানা তিন দিন ধরে নজিরবিহীন গরম অনুভূত হওয়ার পর বর্তমানে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট জানিয়েছেন, হাসপাতালে রোগীর ভিড়ের চেয়ে এখন বাড়িতে মানুষের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মুখপাত্র ক্লেয়ার নুলিস সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এই চরম পরিস্থিতির সঙ্গে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের এখন মানিয়ে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ইউরোপের এই মারাত্মক দাবদাহ ধীরে ধীরে উত্তর ও পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওলন্দাজ সীমান্তের কাছে ক্লাইন ব্রোগেলে বেলজিয়ামের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে।
পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ লিমবার্গে সর্বোচ্চ ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং যুক্তরাজ্যের সাফোকের ক্যাভেন্ডিশে রেকর্ড ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৬ জুন) ইউরোপ মহাদেশের অন্তত ১৫ কোটি মানুষকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
এই গরমের তীব্রতা আগামী দিনগুলোতে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে চেক আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন, ২০১২ সালের ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তাপমাত্রার রেকর্ড শনিবার (গতকাল) ভেঙে যেতে পারে। আর অস্ট্রিয়ার আবহাওয়াবিদরা বলছে, রোববার (২৮ জুন) দেশটির তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙতে পারে।
বলকান অঞ্চলের দেশগুলোতেও চরম গরম দেখা যাচ্ছে। সার্বিয়ায় সপ্তাহান্তে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পারদ চড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
এদিকে তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে ইউরোপের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতেও। সুইজারল্যান্ডের বেজনউ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি রিয়্যাক্টরই গত শুক্রবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ আর নদীর পানি ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল, যা রিয়্যাক্টর ঠাণ্ডা করার জন্য উপযোগী নয়।
ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, একটি স্থায়ী উচ্চচাপ বলয়ের কারণে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন এবং দক্ষিণ ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা স্বাভাবিক মৌসুমি গড়ের চেয়ে ৫-১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি চড়ছে।
কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়েই তাপমাত্রা বাড়ছে। তবে ইউরোপের গতি সবচেয়ে বেশি, এটি বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ দ্রুত গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে।
তীব্র দাবদাহে কোলন থেকে প্যারিসগামী একটি ইউরোস্টার ট্রেন ব্রাসেলসের আগে প্রায় ৪০০ যাত্রী নিয়ে বিকল হয়ে পড়ে। তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া তিন যাত্রীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ফ্রান্সে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে প্যারিসের হাসপাতালব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের চাপে সপ্তাহ শেষে অনুষ্ঠেয় প্যারিস প্রাইড মার্চ, মিউজিক ফেস্টিভালসহ বেশ কিছু বড় অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
একই কারণে জার্মানিতেও ম্যারাথনসহ বহু আয়োজন বাতিল হয়েছে। তবে শার্লেটি স্টেডিয়ামের ডায়মন্ড লিগ অ্যাথলেটিকস মিট বাতিল না করে বিকালে রোদের তীব্রতা কমলে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ গবেষণা দল সতর্ক করেছে, তীব্র গরমের কারণে সোমবার (২৯ জুন) থেকেই হিমবাহগুলো গলতে শুরু করবে, যা সাধারণত আগস্টে ঘটে থাকে। ২০২২ সালের পর এবারই হিমবাহ গলে যাওয়ার গতি সবচেয়ে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
একদিকে যখন খরায় পুড়ছে কিছু দেশ, ঠিক তখনই জাপানে আঘাত হেনেছে প্রলয়ঙ্করী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত। অন্যদিকে, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল এখন কাঁপছে ভয়াবহ বন্যা ও প্লাবনের আশঙ্কায়।
ডব্লিউএমওর আশঙ্কাজনক পূর্বাভাস: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এল নিনো নিয়ে অত্যন্ত উদ্বেগজনক কিছু পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
আগামী আগস্টের মধ্যে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ। নভেম্বরের মধ্যে এটি পূর্ণ শক্তি সঞ্চয় করার আশঙ্কা প্রায় ৯০ শতাংশ। এর ফলে আগামী তিন মাস পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
এল নিনো আসলে কী? সহজ কথায়, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা যখন স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, তখন সেই প্রক্রিয়াকে ‘এল নিনো’ বলা হয়।
প্রতি ২ থেকে ৭ বছর পরপর এই চক্র ফিরে আসে এবং এটি প্রায় ৯-১২ মাস স্থায়ী হয়। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে বাতাস, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের চেনা ছক সম্পূর্ণ উল্টে যায়।
এর আগে ২০২৩-২৪ সালের এল নিনোটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী, যার কারণে ২০২৪ সালটি বৈশ্বিক তাপমাত্রার সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল এবং ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল।
আঞ্চলিক প্রভাব: ‘কোথাও খরা, কোথাও বন্যা’- ডব্লিউএমওর মডেল অনুযায়ী, এবারের এল নিনোর প্রভাব বিশ্বকে দুটি চরম ভাগে ভাগ করে ফেলবে।
পরিস্থিতি নিয়ে ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্টে সাওলো সতর্ক করে বলেছেন, এই চরম আবহাওয়া সরাসরি আঘাত হানবে মানুষের স্বাস্থ্য, বৈশ্বিক বাস্তুতন্ত্র, কৃষি এবং জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সংকটকে আরও জোরালো ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, এল নিনো মূলত উষ্ণায়নশীল বিশ্বের আগুনে ঘি ঢালবে। এর বিধ্বংসী গতি হবে কল্পনাতীত।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই সংকটের একমাত্র কার্যকর সমাধান হলো জীবাশ্ম জ্বালানির অবসানে উদ্যোগ নেওয়া। কয়লা, তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
সবুজ রূপান্তর: নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে যাত্রা দ্রুততর করা। আসন্ন এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় বিশ্বনেতৃত্বকে কেবল আলোচনার টেবিলে না থেকে, এখনই মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে একটি ট্যাংকারে ‘অজ্ঞাত নিক্ষিপ্ত বস্তু (প্রজেক্টাইল)’ আঘাত হেনেছে। চার মাস ধরে চলা সংঘাত অবসানে দুই সপ্তাহ আগে হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি লঙ্ঘনের পর দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে শনিবার (২৭ জুন) এই ঘটনা ঘটল।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ট্যাংকারটির ব্রিজ (জাহাজের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্রু দলের সকল সদস্য নিরাপদে আছেন এবং আপাতত পরিবেশগত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সংস্থাটি এই ঘটনার তদন্ত করছে।
চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য যুদ্ধরত পক্ষগুলো একে অপরকে দুষছে। গত শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে ওয়াশিংটন ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কথা জানিয়েছে। ‘এভার লাভলি’ নামক একটি মালবাহী জাহাজে (কার্গো ভেসেল) ইরানি ড্রোন আঘাত হানার ঘটনার জবাবে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার (২৬ জুন) মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান তদারকিকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে, তারা বৃহস্পতিবারের ওই ড্রোন হামলার ‘শক্তিশালী জবাব’ দিয়েছে।
জবাবে ইরান শনিবার মার্কিন বাহিনীর সাথে যুক্ত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তর অবস্থিত বাহরাইনেও একটি ইরানি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
জ্বালানি পরিবহনের এই রুটের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ইরান নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস অননুমোদিত জাহাজ লক্ষ্য করে ‘সতর্কতামূলক গুলি’ ছুঁড়ছে, ফলে অন্য জাহাজগুলোকে প্রণালী পার হওয়ার আগে ইরানের কাছ থেকে অনুমতি নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মালবাহী (কার্গো) জাহাজে ড্রোন হামলার পর শনিবার ট্যাংকারে আঘাতের জেরে নৌচলাচল সুরক্ষায় নিয়োজিত জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার তাদের নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা বাড়িয়েছে।
মন্তব্য