× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Taliban agreement with German businessman to invest in cannabis cultivation
hear-news
player
print-icon

গাঁজা চাষে বিনিয়োগে জার্মান ব্যবসায়ীর সঙ্গে তালেবানের চুক্তি!

গাঁজা-চাষে-বিনিয়োগে-জার্মান-ব্যবসায়ীর-সঙ্গে-তালেবানের-চুক্তি
কান্দাহারের গাঁজা ক্ষেতে কাজ করছেন আফগান চাষী। ছবি: এএফপি
৫৬ বছর বয়সী ভের্নার জিমারমান সিফার্ম ইন্টারন্যাশনালের মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি জানান, তালেবানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ হওয়ায় তিনি বিরক্ত। অনেকেই চুক্তিটিকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড় করছে এবং মিডিয়া এর পিছু ছাড়ছে না।

আফগানিস্তানে গত আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটিতে চলছে অর্থনৈতিক মন্দা। গত ছয় মাসে দেশটি ছেড়ে পালিয়েছেন অসংখ্য নাগরিক। তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নিপীড়নের অভিযোগও রয়েছে।

অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়া অর্থনীতি নিয়ে তালেবান সরকারও উদ্বিগ্ন। নানাভাবে বিদেশি বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছে তারা। এমনকি দেশটিতে গাঁজা চাষে বিদেশি বিনিয়োগ পেতেও মরিয়া সরকার।

গত নভেম্বরে তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক টুইট বার্তায় জানায়, আফগানিস্তানে গাঁজা প্রক্রিয়াজাতকরণের কারখানা স্থাপনের জন্য তারা সিফার্ম নামে একটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে ৪০ কোটি ইউরোর চুক্তি করেছে।

খবরটি প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তোপের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়ান মেডিক্যাল কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান সিফার্ম। প্রতিষ্ঠানটি দাবি, এ চুক্তির বিষয়ে তারা কিছুই জানে না।

পরে জানা যায়, সিফার্ম ইন্টারন্যাশনাল (ইসিআই) একটি জার্মান গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা। এই প্রতিষ্ঠান গত ২০ বছর ধরে গাঁজা গাছ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।

৫৬ বছর বয়সী ভের্নার জিমারমান প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সভিত্তিক সাইট ভাইসকে জানান, চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ হওয়ায় তিনি বিরক্ত। অনেকেই চুক্তিটিকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড় করছে এবং মিডিয়া পিছু ছাড়ছে না।

জিমারমান জানান, তার প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে বিশ্বের অনেকগুলো দেশের সঙ্গে কাজ করেছে। এসব দেশের মধ্যে আছে লেসুটু, মরক্কো, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, নর্থ মেসিডোনিয়া ও সাইপ্রাস।

সিফার্ম ইন্টারন্যাশনাল গাঁজা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনে পারদর্শী। এছাড়া এক দেশ থেকে আরেক দেশে কীভাবে গাঁজা আইনিভাবে রপ্তানি করা যায় সে বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটি পরামর্শ দেয়। কাজাখস্তানে পাঁচ লাখ ইউরোর একটি কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে সিফার্ম। এর পরই কাজ শুরু হবে আফগানিস্তানে।

গাঁজা চাষে বিনিয়োগে জার্মান ব্যবসায়ীর সঙ্গে তালেবানের চুক্তি!
কান্দাহারে গাঁজা গাছ পরখ করছেন আফগান চাষী। ছবি: এএফপি

অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য আফগানিস্তানে ওষুধি গাঁজা চাষের পরিকল্পনা রয়েছে জিমারমানের। তবে জার্মানির মতো দেশগুলো গাঁজা সেবন বৈধ ঘোষণা করলে তার প্রতিষ্ঠান আফগানিস্তানে সাধারণ গাঁজা চাষও করবে।

আফগানিস্তানে শত শত বছর ধরে গাঁজা গাছ চাষ হচ্ছে। ১৯৭০ এর দশকে দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে গাঁজা সেবন নিষিদ্ধ করা হলেও, তালেবান ক্ষমতার আসার আগ পর্যন্ত দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলে গাঁজা সেবনের রীতি ছিল।

জিমারমান বেশ কয়েক বার আফগানিস্তান গেছেন। একজন পেশাদার অ্যাথলিট ও দূরপাল্লার দৌড়বিদ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা জিমারমান ১৯৮৯ সালে কাজাখস্তানের আলমাটিতে তখনকার সোভিয়েত সৈনিকদের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তার সঙ্গে বেশ কিছু আফগান নাগরিকেরও দেখা হয়। ১৯৯১ সালে জিমারমান আফগানিস্তান ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেন।

জিমারমানের দাবি, আফগানিস্তানে তিনি সোভিয়েতবিরোধী গেরিলা নেতা আহমাদ শাহ মাসুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন। সোভিয়েত সেনাদের বিতাড়িত করার পর শাহ মাসুদ সামরিক বাহিনী নর্থ অ্যালায়েন্স গঠন করেন। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসা তালেবান সরকারের বিরোধী ছিল এই বাহিনী। ২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মাসুদকে হত্যা করা হয়। তার ছেলে আহমাদ মাসুদ বর্তমান তালেবান প্রতিরোধ শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা।

জিমারমানের দাবি, আফগানিস্তান সম্বন্ধে তার জানাশোনা অনেক বিস্তৃত। তিনি জানান, বর্তমানে পরামর্শ দেয়ার জন্য আফগানিস্তান থেকে কোনো অর্থ পাচ্ছেন না। তার প্রতিষ্ঠান তখনই আয় করা শুরু করবে যখন গাঁজা আইনিভাবে রপ্তানি শুরু হবে।

প্রশ্ন উঠছে জার্মান একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে এমন একটি সরকারের সঙ্গে ব্যবসা করবে যাকে জার্মানির সরকারই স্বীকৃতি দেয়নি! জিমারমান অবশ্য মনে করছেন, জার্মানির উচিত তালেবানদের স্বীকৃতি দেয়া। যে কারণে মূলত তার ভূমিকা হচ্ছে তালেবানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে সহায়তা দেয়া এবং অদূর ভবিষ্যতে আফগানিস্তানে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা।

জিমারমান বলেন, ‘আমরা তো অপরাধী নই!’

গাঁজা চাষে বিনিয়োগে জার্মান ব্যবসায়ীর সঙ্গে তালেবানের চুক্তি!
গাঁজা ক্ষেতে কাজ করছে আফগান কিশোর। ছবি: এএফপি

তালেবানদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সম্পর্কে জিমারমান বলেন, ‘আমি সেগুলো জানি। তবে আফগানিস্তান একক কিছু নয়। অনেকগুলো গোত্র ও পরিবারের সদস্যরা দেশের ইমেজকে বিদেশে প্রভাবিত করছে। আমি পেশাদার ভাবে কাজ করি। আমার কাজ দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে। আমার প্রজেক্টের মাধ্যমে আমি তাদের সমর্থন করি।’

জার্মান এ ব্যবসায়ী জোর দিয়ে বলেছেন তিনি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করেন না। আফগানিস্তানে চলমান মানবাধিকার সংকটের বিষয়ে তিনি অনেকটাই নিয়তিবাদী।

জিমারমান বলেন, ‘আফগানিস্তানের চলমান নৈতিকতা ও আদর্শের সঙ্গে আমি যেভাবে মানবতাকে দেখি তার কোনো মিল নেই। তবে আমি একে বদলাতে পারব না। আমি আফগান সরকারকে সমর্থন করি বলে বলছি না, তবে আমার মনে হয় জীবনে আফগানিস্তানে সমতা ফিরবে না।’

মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসাবে একাধিক দেশ ইতোমধ্যে তালেবান সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে এ নিষেধাজ্ঞা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দরিদ্র আফগানের ওপর প্রভাব ফেলেছে এবং চলমান অর্থনৈতিক সংকটকে আরও তীব্র করেছে। দেশটিতে এখন ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগছেন।

আপাতত, সিফার্ম ও তালেবানের মধ্যে চুক্তি স্থগিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে৷ সিফার্ম বলছে, বিনিয়োগ করার আগে তারা নতুন তালেবান সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রতিক্রিয়া দেখতে চায়।

জিমারমান জানান, তিনি আপাতত এ চুক্তি স্থগিতের কথা ভাবছেন। কারণ তিনি ইউরোপিয়ান ড্রাগ কার্টেলগুলোর কাছ থেকে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন। আফগানিস্তানে জিমারমানের গাঁজার ব্যবসা তাদের অবৈধ মাদক ব্যবসার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াতে পারে।

একই ধরনের সতর্ক বার্তা জিমারমান পেয়েছেন কিরগিজস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে। কিরগিজস্তানের মন্ত্রী তার বন্ধু। দেশটিতে জিমারমানের একটি বাড়িও রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, আফগানিস্তানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা অনুমান করা কঠিন। তবে, জিমারমানের দাবি তার মনের শক্তি অনেক বেশি।

আরও পড়ুন:
তালেবানের বিরুদ্ধে নারী আন্দোলন কর্মী গুমের অভিযোগ
পশ্চিমাদের সঙ্গে বৈঠকে তালেবান
‘মন হিস্টোইরি’: তালেবান থেকে বাঁচা নারী ফুটবলারের আত্মজীবনী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Afghans dont want to send girls to school Taliban minister claims

মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চায় না আফগানরাই, তালেবান মন্ত্রীর দাবি

মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চায় না আফগানরাই, তালেবান মন্ত্রীর দাবি  উরুজগান প্রদেশের বাসিন্দারা মেয়েদের স্কুলে পাঠানোতে অভ্যস্ত। ছবি: সংগৃহীত
উরুজগান প্রদেশ সফরকালে আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল্লাহ মুনির দাবি করেছেন, আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষই তাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চায় না। তবে উরুজগানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা তাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে অভ্যস্ত। সরকার অনুমতি দিলেই মেয়েরা স্কুলে যাবে।

আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, দেশটির মানুষ চায় না বর্তমান পরিস্থিতিতে আফগান মেয়েরা স্কুলে পড়ুক।

দেশটির উরুজগান প্রদেশ পরিদর্শনকালে এমনটাই বলেছেন তালেবান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল্লাহ মুনির।

মুনিরের মতে, সাংস্কৃতিক সীমাবদ্ধতার কারণে ষষ্ঠ শ্রেণির ওপরের মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলগুলো বন্ধ রয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, আরও ভালো পরিবেশ তৈরি হলে ষষ্ঠ শ্রেণির ওপরের মেয়েরাও পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চায় না আফগানরাই, তালেবান মন্ত্রীর দাবি
তালিবান সরকারের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল্লাহ মুনির

ভারপ্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনি যদি জিজ্ঞাসা করেন যে এই মসজিদে কতজন লোক তাদের ১৬ বছর বয়সী মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে ইচ্ছুক, তাহলে আমাকে একই প্রশ্ন (মেয়েদের শিক্ষাসংক্রান্ত) জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন হবে না। আপনি এবং আমি উভয়ই একই আফগান সমাজ ও সংস্কৃতিতে বড় হয়েছি। সবার কাছে তা পরিষ্কার।’

যদিও উরুজগানের অনেক বাসিন্দাই বলেছেন, ইসলামিক আমিরাত অনুমতি দিলে তারা তাদের মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে প্রস্তুত।

বাসিন্দারা বর্তমান সরকারকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেয়েদের স্কুলগুলো পুনরায় চালু করার অনুরোধ করেছেন।

উরুজগানের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি জাভিদ খপলওয়াক বলেন, ‘আমি মনে করি যে মন্ত্রী কাবুল থেকে এসেছেন এবং তিনি আমাদের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না, কারণ তিনি কাবুল থেকে এসেছেন। উরুজগানের মানুষ চায় তাদের মেয়েরা স্কুলে ফিরে যাক। তারা আগে স্কুলে যেত।’

রাজ্যের আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ ওয়ালি সামসোর বলেন, ‘যে স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আবার চালু করা উচিত, কারণ এটা জনগণের দাবি।’

গত জুলাইয়ে ইসলামিক আমিরাত আফগানিস্তানের ধর্মীয় পণ্ডিতদের প্রধান শেখ ফকিরুল্লাহ ফাইক বলেছিলেন, ইসলামিক আমিরাতের সর্বোচ্চ নেতা মাওলাবী হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ষষ্ঠ শ্রেণির ঊর্ধ্বে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল পুনরায় খোলার বিপক্ষে নন।

মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চায় না আফগানরাই, তালেবান মন্ত্রীর দাবি
আফগানিস্তানের ধর্মীয় পণ্ডিতদের প্রধান শেখ ফকিরুল্লাহ ফাইক

ফকিরুল্লাহ ফাইক দাবি করেছিলেন, মেয়েদের স্কুলগুলো পুনরায় খোলায় দেরি হওয়ার একমাত্র কারণ হলো, তালেবান চাচ্ছে পুরুষ ও নারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম আলাদা করতে।

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘শিগগিরই মেয়েদের জন্য স্কুলগুলো আবার চালু হবে। আমাদের সব মন্ত্রী ও নেতারা এ বিষয়ে একমত।’

তালেবানের পক্ষ থেকে এর আগে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েদের অংশগ্রহণ স্থগিত করে দেয়া হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের নিরাপত্তা ও উপযুক্ত পরিবেশের অভাব থাকার কারণেই এমন পদক্ষেপ বলে জানায় তালেবান।

যদিও ইসলামিক আমিরাতের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছিলেন, ধর্মীয় সমস্যার কারণে মেয়েদের স্কুল বন্ধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এশিয়া কাপ: উদ্বোধনী ম্যাচে জয় চায় দুই দলই
কাবুল বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ২১
কাবুলে মসজিদে বিস্ফোরণ, অনেক হতাহত
এশিয়া কাপে পুরো শক্তি নিয়েই যাচ্ছে আফগানিস্তান
রাশিদ খানের নৈপুণ্যে সিরিজে সমতা ফেরাল আফগানিস্তান

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Suicide attack in front of Russian embassy in Kabul kills 8

কাবুলে রুশ দূতাবাসের সামনে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৮

কাবুলে রুশ দূতাবাসের সামনে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৮ কাবুলে রুশ দূতাবাসের সামনে হামলায় ২ রুশ নাগরিকসহ ৮ জন নিহত হন। ছবি: সংগৃহীত
কাবুলভিত্তিক সাংবাদিক নাজিব লালজয় বলেন, ‘এটি (বিস্ফোরণ) আসলে দূতাবাসের কাছে ঘটেছিল। সেখানে রাশিয়ান ভিসার আবেদন করার জন্য অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিল।’

আফগানিস্তানের কাবুলে রুশ দূতাবাসের সামনে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের দুইজন রাশিয়ার নাগরিক। কাবুলের দক্ষিণ-পশ্চিমে দারুল আমান এলাকায় সোমবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বিস্ফোরণটি হয়।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে এসব জানিয়েছে। এতে বলা হয়, হামলায় কূটনৈতিক মিশনের দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। আফগান নাগরিকরাও হামলায় শিকার হয়েছেন।

কাবুলভিত্তিক সাংবাদিক নাজিব লালজয় বলেন, ‘এটি (বিস্ফোরণ) আসলে দূতাবাসের কাছে ঘটেছিল। সেখানে রাশিয়ান ভিসার আবেদন করার জন্য অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।’

হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পুলিশ জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হামলাকারী নিহত হয়েছেন।

কাবুলের পুলিশ প্রধান মাওলাভি সাবির বলেন, ‘লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই রাশিয়ান দূতাবাসের (তালেবান) রক্ষীরা আত্মঘাতীকে চিনতে পেরেছিল। তাকে থামাতে গুলি করে নিরাপত্তা বাহিনী।’

তালেবান গত বছর আফগানিস্তানের দখল নিলে, অনেক দেশ প্রতিবাদ জানিয়ে দূতাবাস বন্ধ করে দেয়। যে কয়েকটি দেশ কাবুলে দূতাবাস চালু রেখেছে তাদের মধ্যে রাশিয়া অন্যতম।

মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবানের সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে পেট্রল এবং অন্যান্য পণ্য সরবরাহের চুক্তি নিয়ে আফগান শাসকদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে পুতিন সরকার।

জঙ্গি সংগঠন আইএস সাম্প্রতিক সময়ে কাবুলসহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে বেসামরিক মানুষের পাশাপাশি ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

সাংবাদিক লালজয় বলেন, ‘এটি খুবই অপ্রত্যাশিত। কারণ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন, কাবুলের চারপাশে নিরাপত্তা খুবই কঠোর। দূতাবাসের মতো জায়গাগুলো ভালোভাবে সুরক্ষিত।

‘আফগানরা যেখানে জড়ো হয়েছিল সেখানেই বিস্ফোরণ ঘটেছে। মনে হচ্ছে, নিরীহ মানুষকে হত্যা করাই লক্ষ্য ছিল।’

আরও পড়ুন:
কাবুলে মসজিদে বিস্ফোরণ, অনেক হতাহত
এশিয়া কাপে পুরো শক্তি নিয়েই যাচ্ছে আফগানিস্তান
রাশিদ খানের নৈপুণ্যে সিরিজে সমতা ফেরাল আফগানিস্তান
বিক্ষোভকারী নারীদের পেটাল তালেবান
সিরিজে টিকে থাকল আফগানিস্তান

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Afghanistan started badly in the Asia Cup

এশিয়া কাপে দাপুটে শুরু আফগানিস্তানের

এশিয়া কাপে দাপুটে শুরু আফগানিস্তানের ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমনাত্মক ছিলেন আফগান ব্যাটাররা। ছবি: সংগৃহীত
দুই ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাই ও রহমানউল্লাহ গুরবাজের ব্যাটিং তোপের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে লঙ্কান বোলাররা। জাজাই উইকেটে ধরে খেললেও মারকুটে ব্যাটিং চালিয়ে যান গুরবাজ। দুইজনের অবিচ্ছেদ্য ৮৩ রানের জুটিতে ভর করে বড় জয়ের পথে পা দিয়ে রাখে আফগানিস্তান।

সহজ জয় দিয়ে এশিয়া কাপের পঞ্চাদশ আসরে যাত্রা শুরু করল আফগানিস্তান।

নিজেদের শততম টি-টোয়েন্টিতে তারা জয় পেয়েছে ৮ উইকেটে।

শ্রীলঙ্কার দেয়া ১০৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে রহমানুল্লাহ গুরবাজের ব্যাটিং তান্ডবে ৫৯ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আফগানরা।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমনাত্মক ছিল আফগানিস্তান। দুই ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাই ও রহমানউল্লাহ গুরবাজের ব্যাটিং তোপের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে লঙ্কান বোলাররা।

জাজাই উইকেটে ধরে খেললেও মারকুটে ব্যাটিং চালিয়ে যান গুরবাজ। দুইজনের অবিচ্ছেদ্য ৮৩ রানের জুটিতে ভর করে বড় জয়ের পথে পা দিয়ে রাখে আফগানিস্তান।

১৮ বলে ৪০ করে ডি সিলভার শিকার হয়ে গুরবাজ বিদায় নিলে বাকি কাজটা সারেন জাজাই ও জাদরান মিলে। শেষ পর্যন্ত ৫৯ বল হাতে রেখেই জয় বাগিয়ে মাঠ ছাড়ে আফগানরা।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভার থেকেই বিপর্যয় সঙ্গী হয় লঙ্কানদের। প্রথম ওভারেই ফজল হক ফারুকির ব্যাক টু ব্যাক আঘাতে সাজঘরে ফিরতে হয় কুশল মেন্ডিস ও চারিথ আশালাঙ্কাকে। দুইজনই মাঠ ছাড়েন এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে।

ফারুকির আঘাতের রেশ কাটতে না কাটতেই নাভিন উল হকের বলে রহমানুল্লাহ গুরবাজের হাতে ধরা দিয়ে ৩ রানে মাঠ ছাড়তেঁ হয় ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কাকে। এতে করে স্কোরবোর্ডে ৫ রান তুলতেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে লঙ্কানরা।

দ্রুত ৩ উইকেট পতনের রেশ কাটাতে ব্যাট হাতে আগ্রাসী হন ভানুকা রাজপাকসে। সঙ্গে নেন দানুষ্কা গুনাথিলাকাকে। দুজনে মিলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে সামাল দেন প্রাথমিক বিপর্যয়ের।

দলীয় ৪৯ রানে গুনাথিলাকা বিদায় নিলেও উইকেটের একপ্রান্ত আগলে ধরে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন রাজাপাকসে। সঙ্গী হাসারাঙ্গা ডি সিলভা ও দাসুন শানাকার স্কোর বড় করতে না পারলেও উইকেট কামড়ে বসে মারকুটে ব্যাটিং করতে থাকেন ভানুকা।

কিন্তু দলীয় ৬৯ রানে তাকে মাঠ ছাড়তে হয় রান আউটের শিকার হয়ে। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ২৯ বলে ৩৮ রানের ইনিংস।

শেষদিকে চামিকা করুনারাত্নের ৩৮ বলে ৩১ রানের ধৈর্য্যশীল ইনিংসের সুবাদে দলীয় সংগ্রহ শতরান রান করে শ্রীলঙ্কা। শেষ পর্যন্ত সবগুলো উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তানের সামনে ১০৫ রানের টার্গেট দেয় লঙ্কানরা।

আরও পড়ুন:
উদ্বোধনী ম্যাচে লঙ্কাকে চেপে ধরেছে আফগানরা
এশিয়া কাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়াটা চ্যালেঞ্জিং: বাশার
এশিয়া কাপ: উদ্বোধনী ম্যাচে জয় চায় দুই দলই

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
US producer and Afghani producer captured by Taliban

তালেবানের হাতে বন্দি যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতা ও আফগানি প্রযোজক

তালেবানের হাতে বন্দি যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতা ও আফগানি প্রযোজক
নিরাপত্তারক্ষীরা আইভর ও ফয়জুল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট পরীক্ষা করেন। দীর্ঘ সময় আটকে রেখে তাদের বারবার যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর বলে অভিযুক্ত করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের এক চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং আফগানিস্তানের এক প্রযোজককে আটকে রেখেছে তালেবান সরকার।

সংবাদমাধ্যম পর্যবেক্ষক কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টের (সিপিজে) বরাতে রোববার এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি

এই দুজনসহ আফগানিস্তানে আটক সাংবাদিকদের মুক্তি চেয়েছে সিপিজে। এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

গত ১৭ আগস্ট কাবুলের শেরপুরে পেশাগত কাজ করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক ও নির্মাতা আইভর শিয়ারার এবং প্রযোজক ফয়জুল্লাহ ফয়জবখশকে আটক করে তালেবান।

নিরাপত্তারক্ষীরা আইভর ও ফয়জুল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে তাদের পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট পরীক্ষা করে। দীর্ঘ সময় আটকে রেখে তাদের বারবার যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর বলে অভিযুক্ত করা হয়।

সিপিজের বিবৃতিতে বলা হয়, হুমকি-ধমকি না দিয়ে ওই দুজনকে মুক্তি দিতে হবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক মাসের ভিসা নিয়ে আফগানিস্তানে যান নির্মাতা আইভর। পরে এক বছরের জন্য বাড়ানো হয় তার ভিসার মেয়াদ।

তালেবান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে আফগানিস্তানের গত ৪০ বছরের ইতিহাস নিয়ে ডকুমেন্টারি বানাচ্ছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের ফেস্টিভ্যালে তার নির্মিত চলচ্চিত্র ও ভিডিওর প্রদর্শনী হয়েছে।

আইভরের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে কাজ করছিলেন প্রযোজক ফয়জুল্লাহ।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে হামলায় নিহত পাকিস্তান তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা
কাবুলে আমেরিকার হামলার নিন্দা তালেবানের
ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তালেবান নিহত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Death toll rises to 21 in Kabul blast

কাবুল বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ২১

কাবুল বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ২১ বিস্ফোরণে নিহতদের দাফনের পর দোয়া করছেন স্বজনরা
হামলায় কারা জড়িত তা এখনও নিশ্চিত না। তবে এক সপ্তাহ আগে রাজধানীতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক তালেবান নেতাকে হত্যা করে আইএস।

আফগানিস্তানের কাবুলে বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে হয়েছে ২১। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৩ জন। কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান এসব জানিয়েছেন

মাগরিবের নামাজের সময় বুধবার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে মসজিদের ইমাম আমির মুহাম্মদ কাবুলিও আছেন বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনী এখন বিস্ফোরণের স্থানটি সিল করে দিয়েছে।

হামলায় কারা জড়িত তা এখনও নিশ্চিত না। তবে এক সপ্তাহ আগে রাজধানীতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক তালেবান নেতাকে হত্যা করে আইএস।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তারা শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। বিস্ফোরণে আশেপাশের ভবনের জানালা ভেঙে গেছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘অনেক মানুষ মারা গেছে। এমনকি অনেককে মসজিদের জানালা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়েছে।’

শহরের প্রধান হাসপাতাল পরিচালনাকারী মেডিক্যাল চেরেটি ইমার্জেন্সির প্রধান স্টেফানো সোজা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে শিশুসহ ৩৫ জনের চিকিৎসা চলছে তাদের হাসপাতালে।

তিনি বলেন, ‘গুরুত্ব বিবেচনায় রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। আঘাতগুলো বিস্ফোরণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই মৃতদেহের ভেতরে শেল ছিল, অনেকের শরীরে পোড়া দাগ ছিল।’

মসজিদের ভেতরে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে ধারণা স্টেফানোর। তিনি বলেন, ‘সম্ভবত নামাজের সময় কেউ বিস্ফোরক নিয়ে মসজিদে ঢুকেছিল। ভিড়ের মধ্যে হামলাকারী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসটি সক্রিয় করে। এতে হামলাকারীর কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিরা মারা যায়। দূরে যারা ছিলেন তারা আহত হয়েছেন।’

তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের বরাতে বার্তা সংস্থা এপির বলছে, এ ধরনের অপরাধীদের শিগগিরই বিচারের আওতায় আনা হবে, কঠিন সাজা দেয়া হবে।’

এদিকে, তালেবানকে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ নিতে এবং দুর্বল সম্প্রদায়কে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মিশন (উনামা)।

উনামা বলছে, এ হামলাটি ধারাবাহিক বোমা হামলার সবশেষ ঘটনা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আড়াইশোর বেশি মানুষকে হতাহত করা হয়েছে বোমা হামলায়, যা গত বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ মাসিক বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা।’

আরও পড়ুন:
সিরিজ জয়ের হাতছানি আয়ারল্যান্ডের
তালেবানের শীর্ষ নেতা রহিমুল্লাহ হাক্কানি নিহত
অবশেষে জয় পেল আয়ারল্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আল কায়েদা প্রধান জাওয়াহিরি নিহত
ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তালেবান নিহত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Kabul mosque explosion kills many

কাবুলে মসজিদে বিস্ফোরণ, অনেক হতাহত

কাবুলে মসজিদে বিস্ফোরণ, অনেক হতাহত প্রতীকী ছবি
কাবুলে হাসপাতাল পরিচালনাকারী ইতালির এনজিও ইমার্জেন্সি জানিয়েছে, তারা আহত ২৭ জনের চিকিৎসা দিয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু রয়েছে।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে তিনজন নিহত ও অনেকে আহত হয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার মাগরিবের নামাজ চলাকালে এ হামলা হয়।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কাবুলে হাসপাতাল পরিচালনাকারী ইতালির বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ইমার্জেন্সি জানিয়েছে, তারা আহত ২৭ জনের চিকিৎসা দিয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু রয়েছে।

আফগানিস্তানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানান, বিস্ফোরণে ২০ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, বোমা হামলায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়।

তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বিস্ফোরণে হতাহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন, তবে কতজন নিহত বা আহত হয়েছে, তা সুনির্দিষ্ট করেননি তিনি।

তিনি এক টুইটবার্তায় বলেন, বেসামরিক লোকজনের হত্যাকারী ও অপরাধীদের শিগগিরই শাস্তি দেয়া হবে।

আফগান পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে একাধিক মৃত্যু হয়েছে, তবে কতজন মারা গেছে, তা জানায়নি বাহিনীটি।

কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘মসজিদে বিস্ফোরণ হয়েছে…বিস্ফোরণে একাধিক মৃত্যু হয়েছে, তবে কতজন মারা গেছে, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

আরও পড়ুন:
তালেবানের শীর্ষ নেতা রহিমুল্লাহ হাক্কানি নিহত
অবশেষে জয় পেল আয়ারল্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আল কায়েদা প্রধান জাওয়াহিরি নিহত
ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তালেবান নিহত
মেয়েদের স্কুল খোলার আহ্বান আফগানদের

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Taliban beat women protestors

বিক্ষোভকারী নারীদের পেটাল তালেবান

বিক্ষোভকারী নারীদের পেটাল তালেবান আফগানিস্তানে কর্মের অধিকার ও স্বাধীনতার দাবিতে শনিবার বিক্ষোভ করেন নারীরা। ছবি: এএফপি
কাবুলে বিক্ষোভকারী নারীদের কয়েকজন বিক্ষোভস্থলের আশপাশের দোকানগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের ধরে এনে রাইফেলের বাঁট দিয়ে পিটিয়েছেন তালেবান যোদ্ধারা।

আফগানিস্তানে তালেবানের ফের ক্ষমতায় আসার বার্ষিকীর দুই দিন আগে কর্মের অধিকার ও স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন নারীরা।

স্থানীয় সময় শনিবার রাজধানী কাবুলে এ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়, যেটি লাঠিপেটা ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় তালেবান।

কাবুলে প্রবেশের মধ্য দিয়ে ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানে ক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এর পর থেকে শিক্ষা, চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের ওপর বিধিনিষেধ দেয় সংগঠনটি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, তালেবান শাসনের প্রথম বর্ষপূতির প্রাক্কালে কাবুলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে সমাবেশে অংশ নেন প্রায় ৪০ নারী, যাদের মুখে ছিল ‘রুটি, কাজ ও স্বাধীনতা’ স্লোগান।

প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় এসে তালেবান নারীদের স্বাধীনতা রক্ষায় কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু সেগুলো রক্ষা না করে হাই স্কুলের মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারী নারীদের কয়েকজন বিক্ষোভস্থলের আশপাশের দোকানগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের ধরে এনে রাইফেলের বাঁট দিয়ে পিটিয়েছেন তালেবান যোদ্ধারা।

বিক্ষোভকারীরা চাকরির অধিকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগও চেয়েছেন। তারা ‘১৫ আগস্ট কালো দিবস’ লেখা ব্যানারকে সামনে রেখেছিলেন।

ওই নারীদের অনেকে মুখ ঢাকা বোরকা পরেননি। তারা ‘ন্যায়বিচার, ন্যায়বিচার; আমরা অজ্ঞতা নিয়ে বিরক্ত’ স্লোগানও দেন।

বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজকদের একজন জোলিয়া পার্সি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে গোয়েন্দা সংস্থার তালেবান সদস্যরা (বিক্ষোভস্থলে) এসে ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।’

আরও পড়ুন:
ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তালেবান নিহত
মেয়েদের স্কুল খোলার আহ্বান আফগানদের
আফগানিস্তানে জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠাল বাংলাদেশ
আফগানিস্তানে খাবার, ওষুধ, কম্বল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ
প্রকাশ্যে তালেবানের নেতা আখুন্দজাদা

মন্তব্য

p
উপরে