× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Rs 6 lakh crore disappears in Indian capital market
google_news print-icon

ভারতের পুঁজিবাজারে ধস, উধাও ৮ লাখ কোটি রুপি

ভারতের-পুঁজিবাজারে-ধস-উধাও-৮-লাখ-কোটি-রুপি
ভারতের শেয়ারবাজারে টানা পঞ্চম দিনের মতো ধস নামল।
সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিনেই ভারতের শেয়ারবাজার থেকে মুছে গেছে লগ্নিকারীদের ৮ লাখ কোটি রুপির শেয়ারসম্পদ। গত শুক্রবার বাজার মূলধন ছিল ২৭০ লাখ কোটি রুপি, যা সোমবার ২৬২ লাখ কোটি রুপিতে নেমে এসেছে।

কয়েক দিন ধরেই ওঠানামা চলছিল ভারতের শেয়ারবাজার। তবে সোমবার বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বিএসই) সূচক সেনসেক্স ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই) সূচক নিফটিতে বড় ধরনের ধস নামে।

সোমবার বাজার খোলার সময় সেনসেক্স ৫৮ হাজার ৬১৯ পয়েন্টে ছিল। পরে পয়েন্ট হারিয়ে সূচক নেমে আসে ৫৭ হাজার ৮৪২-তে। অন্যদিকে নিফটি ৩৫৩ পয়েন্ট হারায়। এটি নেমে আসে ১৭ হাজার ২৫০ পয়েন্টে।

গত সপ্তাহের শেষে বাজার বন্ধের সময় সেনসেক্স ৪২৭ পয়েন্ট নেমে ৫৯ হাজার ৩৭-তে পৌঁছেছিল। ১৩৯ পয়েন্ট পতনের পর নিফটি ছিল ১৭ হাজার ৬১৭ পয়েন্টে।

সপ্তাহের প্রথম দিনেই ভারতের শেয়ারবাজার থেকে মুছে গেছে লগ্নিকারীদের ৮ লাখ কোটি রুপির শেয়ারসম্পদ। গত শুক্রবারে বাজার মূলধন ছিল ২৭০ লাখ কোটি রুপি, যা সোমবার ২৬২ লাখ কোটি রুপিতে নেমে এসেছে।

আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজার কয়েক দিন ধরেই দুর্বল। এর প্রভাবেই ভারতের শেয়ারবাজারে এ নিয়ে পঞ্চম দিনের মতো ধস নামল। এশিয়ার শেয়ারবাজারও পতনের দিকে।

বিকেল পর্যন্ত রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (আরআইএল), ইনফোসিস, এইচডিএফসি ব্যাংক, বাজাজ ফাইন্যান্স, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংক এবং টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) সেনসেক্সের সব শেয়ারবাজারে লাল চিহ্নে লেনদেন করছিল।

ছোট এবং মাঝারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারেরও পতন হয়েছে সোমবার। প্রায় সব ধরনের শেয়ারের দামই পড়েছে।

বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে এদিন মাত্র ৪৫৬টি শেয়ার ছিল ঊর্ধ্বমুখী ও ৩ হাজার ৬৯টি নিম্নমুখী।

সেক্টরাল সূচকগুলোর মধ্যে নিফটি মেটাল সূচক হিন্দুস্তান কপার এবং জিন্দাল স্টিল অ্যান্ড পাওয়ার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। তবে এদিন সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে প্রযুক্তি খাতে। নিফটির আইটি সূচক ২ দশমিক ২২ শতাংশেরও বেশি নিচে নেমেছে।

জোমাটো, পেটিএম ও নিয়ের মতো প্রযুক্তি কোম্পানির ট্রেডিং সেশনে ক্ষতি হয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা এক্সিস ব্যাংক ও এইচডিএফসি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির তৃতীয় ত্রৈমাসিকের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে ৷

যদিও বিশেষজ্ঞরা বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার সঙ্গে লেনদেন করতে ও কোম্পানির মুনাফা দেখে শেয়ার বেচাকেনা করতে নিষেধ করেছেন।

কারণ ২০২২-২৩-এর কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে বাজারগুলোয় আরও পতনের আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
বহুজাতিক কোম্পানি বিএটিবিসির আয় বেড়েছে
ডিএসইর সমস্যাসংকুল অ্যাপে ফি নিয়ে ক্ষোভ
ফ্লোর প্রাইসে হাত নয়, লেনদেন বাড়ানোর চেষ্টায় বিএসইসি
পাওয়ার গ্রিডে মালিকানা কমাচ্ছে সরকার
যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ডের পর তেজিভাব এশিয়ার শেয়ারে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Israel seizes Iranian ships in the Strait of Hormuz

হরমুজ প্রণালিতে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজ জব্দ ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজ জব্দ ইরানের পর্তুগালের পতাকাবাহী জাহাজ এমএসসি অ্যারিসে অবতরণ করে সেটিকে ইরানের জলসীমায় নিয়ে গেছে আইআরজিসির হেলিকপ্টার। ছবি: আল জাজিরা
কার্গো জাহাজটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এমএসসি জানিয়েছে, জাহাজটি জব্দ করেছে ইরান। একে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ২৫ ক্রুর কল্যাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালিতে শনিবার ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট একটি পণ্যবাহী (কার্গো) জাহাজ জব্দ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, কৌশগলতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ করতে তেহরানের হুমকির কয়েক দিন পর এবং সিরিয়ায় ইরানি কনস্যুলেটে হামলার জবাবের হুঁশিয়ারির মধ্যে জাহাজ জব্দের ঘটনাটি ঘটল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর প্রতিবেদনে জানানো হয়, হেলিকপ্টার থেকে পর্তুগালের পতাকাবাহী জাহাজ এমএসসি অ্যারিসে নেমে সেটিকে ইরানের জলসীমায় নিয়ে গেছেন আইআরজিসির সদস্যরা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাহাজটি ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট।

কার্গো জাহাজটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এমএসসি জানিয়েছে, জাহাজটি জব্দ করেছে ইরান। একে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ২৫ ক্রুর কল্যাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, জোডিয়াক মেরিটাইম নামের প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট গোর্টাল শিপিংয়ের কাছ থেকে অ্যারিস নামের কার্গো জাহাজটি লিজ নেয় এমএসসি।

জোডিয়াকের বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজের সমস্ত কর্মকাণ্ডের দায়ভার এমএসসির।

ইসরায়েলি ব্যবসায়ী এয়াল ওফারের আংশিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জোডিয়াক।

আরও পড়ুন:
ইরানে এবার সরাসরি হামলা চালানোর হুমকি ইসরায়েলের
ঈদের দিনে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার
ইসরায়েলি হামলা অবরোধের মধ্যে নিরুত্তাপ ঈদ গাজায়
ইসরায়েলে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ তুঙ্গে
জিম্মি মুক্তিতে হামাসকে চাপ দিতে মিসর ও কাতারকে বাইডেনের চিঠি

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Eyewitness accounts of the Sydney attack

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় সিডনির হামলা

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় সিডনির হামলা কাঁদতে কাঁদতে বাসায় ফিরছেন শপিং মলে থাকা কয়েকজন। ছবি: বিবিসি
প্রত্যক্ষদর্শী হুমা হুসাইনি বলেন, ‘এর মধ্যে হঠাৎ গুলির আওয়াজ পাই। আমি তখন শেষ! ভেবেছিলাম, ওর কাছে পিস্তলও আছে।’

ঘড়িতে তখন তিনটা বেজে কিছু বেশি। সিডনির ওয়েস্টফিল্ড বন্ডি জংশন শপিং মলে তখন লোকে লোকারণ্য। হঠাৎ করেই শোরগোল, সেইসঙ্গে শপিং মল থেকে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের হুমমুড়িয়ে বের হয়ে আসতে দেখা গেল। জানা গেল, ভেতরে ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়েছেন এক ব্যক্তি।

প্রত্যক্ষদর্শী দোকানকর্মী রাশদান আকাশাহ বিবিসিকে বলেন, ‘ছুরি ধরে থাকা ব্যক্তি চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছিল। সেসময় একটি রড দিয়ে আরেক যুবক তাকে সিঁড়ি থেকে নামানোর চেষ্টা করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় সিডনির হামলা
ক্রোতাদের নিরাপত্তায় তাদের দোকানের মধ্যে ঢুকতে সাহায্য করেন রাশদান। ছবি: বিবিসি

‘সঙ্গে সঙ্গে আমি দোকানের সিইওকে দোকানের শাটার নামানোর অনুমতি দিতে অনুরোধ করি। ওই লোকটি হামলা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে যায় আর এসব হচ্ছিল আমাদের দোকানের সামনেই।’

শপিং মল থেকে বের হয়ে একজন বলেন, ‘আমি তাকে (হামলাকারীকে) পুরোপুরি দেখিনি। কোনোমতে প্রাণ নিয়ে বের হয়ে এসেছি।

‘এটা একেবারে পাগলামি। মনে হচ্ছিল, প্রাণটা বুঝি আজকেই গেল।’

আরেকজন বলেন, ‘ছুরি দিতে আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গে একজন লুটিয়ে পড়ে। তারপর আমিও প্রাণভয়ে দৌড় দেই।’

ওলিন্ডা নেমার নামের এক যুবতী হামলাকারীকে সরে যেতে বাধ্য করেন। তার কথায়, ‘আমি তাকে কাউকে আঘাত করতে দেখিনি। তবে দেখলাম যে সে পালাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় সিডনির হামলা
একটি দোকানের মধ্যে ঢুকে প্রাণ রক্ষা করেন ওলিন্ডা।

‘প্রথমে আমিও বুঝতে পারিনি ঘটনাটি কী ঘটেছে। ভেতরের লোকজন চিৎকার করছিল আর পালাচ্ছিল। তাই আমিও দৌড় দেই।

‘দৌড় দিয়ে এক দোকানে ঢুকে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তারা দরজা বন্ধ করে দেয়। সেখানে আরও অনেকে ছিল। কেউ কেউ পুলিশে ফোন করছিল। ফোন করার দশ মিনিটের মধ্যে পুলিশ চলে আসে।’

পুরো ঘটনার সময় ৪৫ মিনিট ধরে একটি দোকানের চেঞ্জ রুমে লুকিয়ে ছিলেন হুমা হুসাইনি ও মোহাম্মদ নাভিদ।

কাঁপতে কাঁপতে বিবিসিকে হুমা বলেন, ‘আমার এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না! ওর (হামলাকারীর) হাতে বিশাল বড় একটি ছুরি ছিল, প্রায় এক হাত হবে। আমি ওর খুব কাছেই ছিলাম।

‘আর ওর পেছনে দুই জন অল্পবয়সী নারী মেঝেতে পড়ে ছিলেন। একজন ওঠার চেষ্টা করলেও অন্যজন নিথর ছিলেন।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় সিডনির হামলা
পুরো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন হুমা হুসাইনি (বাঁয়ে) ও মোহাম্মদ নাভিদ।

এর মধ্যেই পুলিশ এসে হামলাকারীকে গুলি করে। তবে বিষয়টি বুঝতে না পেরে আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন হুমা।

তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে হঠাৎ গুলির আওয়াজ পাই। আমি তখন শেষ! ভেবেছিলাম, ওর কাছে পিস্তলও আছে। পরে বুঝতে পারি যে, পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গুলি করেছে।’

ঘটনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এসে ওই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে। এক নারী পুলিশের গুলিতে হামলাকারী নিহত হন, যাকে স্থানীয় গণমাধ্যমে ‘হিরো’র তকমা দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত আটজন, যাদের মধ্যে নয় মাস বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। শিশুটির মা অবশ্য প্রাণ হারিয়েছেন।

একাই ওই ব্যক্তি ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে জানিয়েছে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ।

এ হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট হতে না পারলেও ঘটনার পুনরাবৃত্তির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সহকারী কমিশনার অ্যান্থনি কুক।

আরও পড়ুন:
অস্ট্রেলিয়ায় শপিং মলে ছুরি হামলা, হামলাকারীসহ নিহত ৭

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Ireland Norway Spain ready to recognize Palestine

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত আয়ারল্যান্ড নরওয়ে স্পেন

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত আয়ারল্যান্ড নরওয়ে স্পেন শুক্রবার ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস (বাঁয়ে) ও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জনতার উদ্দেশে হাত নাড়ছেন। ছবি: আল জাজিরা।
শুক্রবার ডাবলিনে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, ‘ফিলিস্তিনকে শুধু স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণাই নয়, জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে তারা যাতে স্বীকৃতি পায়, সেজন্যও আমাদের অটুট সমর্থন থাকবে।’

স্পেনের পর আয়ারল্যান্ড ও নরওয়েও ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো মানচেজের সঙ্গে বৈঠকের পর পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিন নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে দুই দেশ।

শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস বলেন, আয়ারল্যান্ড শিগগিরই ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চায়। তবে ইউরোপের আরও দেশ যদি এ বিষয়ে রাজি থাকে, তাহলে তাদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে এ পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আয়ারল্যান্ড সফরের আগে ওইদিন নরওয়েতে যান সানচেজ। সেখানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্তোরের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনিও একই ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন।

স্তোরে বলেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে ওসলোও (নরওয়ের রাজধানী) প্রস্তুত। আরও যেসব দেশ একইরকম ভাবছে, তাদের সঙ্গে একসঙ্গে এ ঘোষণা দেয়া হবে।

এর আগে গাজা উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বীকৃতি দেয়া প্রয়োজন। এতে ওই অঞ্চলের শান্তি স্থাপন প্রক্রিয়া সত্যিকার অর্থে গতি পাবে।’

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ঢুকে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র শাসক গোষ্ঠী হামাস। ওই হামলায় অন্তত এক হাজার ১০০ বেসামরিক ইসরায়েলি নিহত হন।

ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। হামলা শুরুর পর ৯ অক্টোবর গাজায় সর্বাত্মক অবরোধের ঘোষণা দেয় দখলদার ইসরায়েল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আগ্রাসনে ক্রমবর্ধমান মৃত্যু, অনাহার ও অবকাঠামোর ক্ষতি মিলিয়ে এই কয়েক মাসে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে গাজা।

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত আয়ারল্যান্ড নরওয়ে স্পেন
মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে গাজা। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি ইসরায়েলের এমন অমানবিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরব হতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহল। তারই ধারাবাহিকতায় উপত্যকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এরইমধ্যে শুধু নরওয়ে আয়ারল্যান্ড নয়, স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় ইউরোপের অনেক দেশই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

গত মাসে মাল্টা ও স্লোভেনিয়াকে সঙ্গে নিয়ে স্পেন ও আয়ারল্যান্ড ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য যৌথভাবে কাজ করার ঘোষণা দেয়। সেসময় তারা জানায়, আমরা প্রস্তত, ‘সঠিক পরিস্থিতিতে’ এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

শুক্রবার সানচেজের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে হ্যারিস বলেন, ‘বিষয়টি ধীরে ধীরে আরও এগিয়ে যাচ্ছে এবং আমরা (স্বীকৃতির) ঘোষণা দেয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছি। সবাই মিলে আমরা এর বাস্তবায়ন করব।

‘নিজ দেশের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের দাবি ফিলিস্তিনের দীর্ঘদিনের। তারাও আয়ারল্যান্ড ও স্পেনের মতো স্বাধীন ও স্বকীয়ভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর মাঝে স্থান করে নেয়ার অধিকার রাখে।’

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত আয়ারল্যান্ড নরওয়ে স্পেন
শুক্রবার ডাবলিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস। ছবি: সংগৃহীত

ওই সংবাদ সম্মেলনে সানচেজ বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের স্বীকৃতি দিতে ইচ্ছুক রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথভাবে ঘোষণা দেয়া হবে। তবে অবশ্যই ঘোষণার আগে সময়ের উপযুক্ততা বিবেচনা করে হবে।

‘শুধু স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণাই নয়, জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে তারা যাতে স্বীকৃতি পায়, সেজন্যও আমাদের অটুট সমর্থন থাকবে।’

এক পায়ে খাড়া নরওয়ে

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশ না হয়েও ইইউ দেশগুলোর সঙ্গে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে ‘তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত’ নরওয়ে।

শুক্রবার শেনজেন অঞ্চলের সদস্য এ দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্তোরে বলেন, ‘তবে আমরা এর জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দিন-তারিখ ঠিক করিনি। একই মনোভাবের সব দেশের সম্মিলিত কার্যক্রম হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়া হবে।’

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত আয়ারল্যান্ড নরওয়ে স্পেন
শুক্রবার স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্তোরে। ছবি: সংগৃহীত

গত বছরের নভেম্বরে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে নিজেদের সংসদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে নরওয়ে।

এর আগে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতেও একবার ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি শান্তি আলোচনার আয়োজন করে দেশটি, যা পরবর্তীতে ‘অসলো চুক্তি’তে রূপান্তরিত হয়।

অসলো চুক্তি

অসলোতে ওই আলোচনার জন্য তৎকালীন ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইসাক রবিন নোবেল শান্তি পুরষ্কার পান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অসলো চুক্তি-১ স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৯৯৫ সালে মিশরের তাবায় অসলো চুক্তি-২ স্বাক্ষরিত হয়।

ওই চুক্তির মাধ্যমে দুপক্ষের মধ্যে যে বোঝাপড়া হয়, তা হলো- ফিলিস্তিনিরা নিজেদের অংশের ভূখণ্ড শাসনের অধিকার পাবে এবং ইসরায়েল প্রথমে পশ্চিম তীরের জেরিকো এবং তারপর গাজা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেবে। এর পরিবর্তে, ইসরায়েলি রাষ্ট্রের বৈধতা স্বীকার করে নেবে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও)।

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত আয়ারল্যান্ড নরওয়ে স্পেন
১৯৯৩ সালে ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে অসলো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এটি ছিল দুপক্ষের মধ্যে প্রথম শান্তি চুক্তি। ছবি: বিবিসি

কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটায় ওই সমঝোতা চুক্তি। তখনকার প্রেক্ষাপটে একে বিরাট সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বাস্তবতা হচ্ছে- ওই চুক্তির তিন দশক পর এখন আবার সেই ‘যুদ্ধাবস্থা’ বিরাজ করছে।

২০০৭ সাল থেকে কট্টরপন্থী ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস উপত্যকার ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে পরিস্থিতির আবারও অবনতি হতে শুরু করে। হামাস অবশ্য অসলো চুক্তির সময়ই এর বিরোধিতা করেছিল।

সবশেষ ইসরাইলের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে হামাসের আকস্মিক অথচ ব্যাপক হামলার কারণে গত অক্টোবর থেকে উপত্যকায় সব ধরনের ধৈর্যের সীমা লঙ্ঘিত হয়েছে।

ইসরায়েলের হুঁশিয়ারি

গাজায় চলমান আগ্রাসনের শুরু থেকেই প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সমালোচনা করে আসছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী। এ সপ্তাহে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী হ্যারিসও নেতানিয়াহুর সেনা আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছেন।

তবে ইউরোপের দেশগুলোর এই কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করেছে ইসরায়েল।

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত আয়ারল্যান্ড নরওয়ে স্পেন
ইউরোপের দেশগুলোর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়ার পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছে ইসরায়েল। ছবিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

এ বিষয়ে আর না এগোতে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাদের এ উদ্যোগ ‘সন্ত্রাসবাদের জন্য একটি পুরস্কার’ হিসেবে গণ্য হবে। সেইসঙ্গে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এ সংঘাত যদিও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব, তার সম্ভাবনাও কমিয়ে দেবে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নারী ও শিশুসহ ৩৩ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সেইসঙ্গে আহত হয়েছেন ৭৬ হাজারের অধিক।

সর্বোপরি, জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৩৯টিই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও বিবিসি।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলে ইরানের হামলার হুমকি বাস্তব: হোয়াইট হাউস
ইরানের হামলার শঙ্কা, শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসছেন নেতানিয়াহু
২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান
ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কূটনীতিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
In Japan by 2050 one in five households will have a single elderly person

জাপানে ২০৫০ সালের মধ্যে ৫ পরিবারের একটিতে থাকবে একাকী বয়স্ক লোক

জাপানে ২০৫০ সালের মধ্যে ৫ পরিবারের একটিতে থাকবে একাকী বয়স্ক লোক ফাইল ছবি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ এক কোটি আট লাখ বয়স্ক লোক একাকী বাস করবে যা দেশটির মোট পরিবারের ২০.৬ শতাংশ।

জাপানে ২০৫০ সাল নাগাদ প্রতি পাঁচ পরিবারের একটিতে বাস করবেন একাকী বয়স্ক একজন মানুষ।

‘ন্যাশনাল ইন্সস্টিটিউট অফ পপুলেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি রিসার্চ’ থেকে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে বলে স্থানীয় সময় শুক্রবার জানিয়েছে একাধিক সংবাদমাধ্যম।

সরকার অনুমোদিত ওই গবেষণাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতি পাঁচ বছর পর পর গবেষণাপত্র প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ এক কোটি আট লাখ বয়স্ক লোক একাকী বাস করবে যা দেশটির মোট পরিবারের ২০.৬ শতাংশ।

এটি ২০২০ সালের পরিমাণ থেকে বেশি। ওই সময়ে বয়স্ক লোকের একাকী বাস করার সংখ্যা ছিল ৭৩ লাখ ৭০ হাজার যা মোট পরিবারের ১৩.২ শতাংশ।

এতে বলা হয়, জাপানে দিনদিনই বয়স্ক লোকের সংখ্যা বাড়ছে। তরুণদের মধ্যে বিয়ে না করা এবং বিয়ে করলেও সন্তান না নেয়ার প্রবণতার কারণে এমনটি ঘটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে জনসংখ্যার এ পরিস্থিতিকে জাপান সংকট হিসেবেই বিবেচনা করছে। কারণ, বয়স্কদের পেছনে চিকিৎসা এবং কল্যাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে এর চাপ পড়ছে।

ইন্সস্টিটিউট বলছে, বর্তমানে বয়স্কদের অনেকের সন্তান কিংবা ভাই বোন রয়েছে যারা তাদের দেখাশোনা করছে। কিন্তু এখন থেকে ৩০ বছর পরে সন্তানহীন একাকী বাস করা বয়স্কদের সংখ্যা বাড়বে এবং তাদের ভাই বোনও তেমন থাকবে না।

এদিকে শুক্রবার প্রকাশিত সরকারি উপাত্ত থেকে জানা গেছে, জাপানে ২০২৩ সালে জনসংখ্যা পাঁচ লাখ ৯৫ হাজার কমে ১২ কোটি ৪০ লাখে দাঁড়িয়েছে।

এ কারণে জাপান সরকার অর্থপূর্ণ সাফল্য ছাড়াই জনসংখ্যার হ্রাস এবং বার্ধ্যকে ধীর করার উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Threat of Iranian attack on Israel is real White House

ইসরায়েলে ইরানের হামলার হুমকি বাস্তব: হোয়াইট হাউস

ইসরায়েলে ইরানের হামলার হুমকি বাস্তব: হোয়াইট হাউস
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে ইসরায়েলি হামলায় দেশটির দুজন জেনারেল নিহত হওযার পর থেকেই ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা নিয়ে উদ্বেগ চলছে।

ইসরায়েলে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি বাস্তব।

হোয়াইট হাউস শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে ইসরায়েলি হামলায় দেশটির দুজন জেনারেল নিহত হওযার পর থেকেই ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা নিয়ে উদ্বেগ চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা এখনও এখানে ইরানের সম্ভাব্য হুমকিকে বাস্তব, কার্যকর বলে মনে করি।

তিনি আরও বলেছেন, ‘কোন আকারে, কোন মাত্রায় এবং কোন সুযোগ নিয়ে হামলা হতে পারে, তা আমি বলতে পারছি না।’ তবে ইরানের হামলার হুমকি ‘কার্যকর’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ‘খুব, খুব নিবিড়ভাবে বিষয়টি দেখছে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ইসরাইলে বড়ো ধরনের হামলার হুমকি দিচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইরান হামলা চালালে ইসরাইলকে ‘লৌহবর্মের’ মতো সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সূত্র: বাসস

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Netanyahu is sitting with top officials fearing Irans attack

ইরানের হামলার শঙ্কা, শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসছেন নেতানিয়াহু

ইরানের হামলার শঙ্কা, শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসছেন নেতানিয়াহু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি
বিবিসি জানায়, নেতানিয়াহু ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়েভ গালান্ট ও বিরোধীদলীয় নেতা বেনি গানৎজের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।

সিরিয়ার দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতে ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দামেস্কে হামলায় ইরানের জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের হত্যার ঘটনায় তেহরানের বদলার শঙ্কায় উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দেশটিতে বিবিসির অংশীদার সিবিএস নিউজকে বলেন, ইসরায়েলের ওপর ‘চ্যালেঞ্জিং’ বড় ধরনের হামলা শিগগিরই হতে পারে। অন্যদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মকভাবে প্রস্তুত।

বিবিসি জানায়, নেতানিয়াহু ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়েভ গালান্ট ও বিরোধীদলীয় নেতা বেনি গানৎজের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।

এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা সিবিএসকে বলেন, হামলায় শতাধিক ড্রোন, বেশ কিছু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে ইরান। এগুলোর লক্ষ্য হতে পারে ইসরায়েলের সামরিক বিভিন্ন স্থাপনা।

এদিকে স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, ইরানের হামলার হুমকি ‘বিশ্বাসযোগ্য’ এবং ওয়াশিংটন বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ইরানের হামলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া তাদের নাগরিক ও কর্মকর্তাদের ইসরায়েলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট কূটনৈতিক মিশনের কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের তেল আবিব, জেরুজালেম ও বির শেভার বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ তুঙ্গে
জিম্মি মুক্তিতে হামাসকে চাপ দিতে মিসর ও কাতারকে বাইডেনের চিঠি
ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস বা ক্ষতির শিকার গাজার ৬২% বাড়িঘর: জাতিসংঘ
গাজা বিজয়ী হওয়ার আগ পর্যন্ত লড়াই চলবে: হিজবুল্লাহ
ইসরায়েলি হামলার জবাবের প্রস্তুতি: যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সরে যেতে’ বলল ইরান

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Iran can attack Israel within 24 to 48 hours
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন

২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান

২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান গত ৫ এপ্রিল সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত সাত আইআরজিসি সদস্যের শেষকৃত্যের সময় তেহরানে বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর একটি কুশপুত্তলিকা ঝোলায়। ছবি: এএফপি
ইরানের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে পূর্ণ ধারণা রাখা যুক্তরাষ্ট্রের এক কূটনীতিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ‘ইসরায়েলের লক্ষ্য অন্যত্র থাকাকালে কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের মাটিতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে পারে ইরান। আমাদের গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো অন্তত তাই ইঙ্গিত করছে।’

আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলের মাটিতে ইরান হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এক কূটনীতিক এ তথ্য জানিয়েছেন বলে শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কয়েকজন কর্মকর্তাসহ ১৩ জন নিহত হন।

ইসরায়েল ওই হামলার দায় স্বীকার না করলেও তেল আবিবকেই দায়ী করেছে ইরান। ওই হামলার উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে বলেও তেহরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসেন রিজাইয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তাসনিম নিউজ।

এ বিষয়ে পূর্ণ ধারণা রাখা যুক্তরাষ্ট্রের এক কূটনীতিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ‘ইসরায়েলের লক্ষ্য অন্যত্র থাকাকালে কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের মাটিতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে পারে ইরান। আমাদের গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো অন্তত তাই ইঙ্গিত করছে।’

ওই কূটনীতিক জানান, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই হামলা চালাতে পারে ইরান। এ হামলা মোকাবিলায় নিজেদের ভূখণ্ডের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল।

তেহরানের প্রতিক্রিয়া

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে টাইমস অফ ইসরায়েলের খবরে বলা হয়, হামলার বিষয়ে তেহরান এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসেনি বলে জানিয়েছেন ইরানের এক কর্মকর্তা।

আইআরজিসির এক উপদেষ্টার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সপ্তাহের শুরুতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ইসরায়েলে হামলা চালাতে বেশ কয়েকটি বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন আইআরজিসির কর্মকর্তারা। এর মধ্যে অত্যাধুনিক মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথাও উল্লেখ করেন তারা।

২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান
ইসরায়েলকে শুক্রবার উপযুক্ত জবাব দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই। ছবি: তাসনিম নিউজ

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা পোস্টগুলোতেও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলার হুমকি দেয়া হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের দিমোনার পারমাণবিক স্থাপনা, হাইফার বিমানবন্দরের মতো স্থাপনা, তবে এসব পোস্টের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি টাইমস অফ ইসরায়েল।

সংবাদমাধ্যমটির খবরে উল্লেখ করা হয়, হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে, ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মতো কিছু করা হলে অবশ্যই তার পাল্টা জবাব দেবে তেল আবিব। এ ক্ষেত্রে দেশটি ইরানের কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।

প্রস্তুত ইসরায়েল

ইসরায়েল ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাগযুদ্ধ নতুন মাত্রা পায় বৃহস্পতিবার। ওই দিন ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘(ইরান থেকে) আগত সব ধরনের হামলা মোকাবিলায় আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

এর পরপরই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল থেকে একাধিকবার তেহরানকে এমন কিছু না করতে সতর্ক করা হয়।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেসের (আইডিএফ) মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যেকোনো হামলার জন্য পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করছে ইসরায়েল। আমরা প্রতি মুহূর্তে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

‘আমরা নিজেদের প্রতিরক্ষার পাশাপাশি পাল্টা আক্রমণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমাদের যেসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, তা দিয়েই শত্রুর মোকাবিলা করা হবে। তা ছাড়া আমাদের কৌশলগত মিত্ররাও এমন পরিস্থিতিতে আমাদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন।’

ইসরায়েলকে পূর্ণ সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রল কমান্ডের জেনালের মাইকেল কুরিল্লা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলে পৌঁছান। সেখানে তিনি আইডিএফের চিফ অফ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারজি হালেবির সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত হুমকি ও তা মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। ওই আলোচনার পরই আইডিএফের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে মিত্রদের কথা তুলে ধরে আইডিএফ।

ওই দিন রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়েভ গালান্ট। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের ওপর ইরান ও এর আঞ্চলিক মিত্রদের ক্রমবর্ধমান হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সুদৃঢ় সমর্থন দিয়ে যাবে।

‘ইরানি হামলা মোকাবিলায় মিস্টার গালান্ট যুক্তরাষ্ট্রকে গণনায় নিতে পারে। এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে’, উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

পরে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ‘আমরা (লয়েড) অস্টিনকে জানিয়েছি যে, ইরান সরাসরি ইসরায়েলে হামলা করলে আমরাও তাদের একইভাবে জবাব দেব।’

২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান
এ বছরের ২৬ মার্চ পেন্টাগনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন (বাঁয়ে) ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়েভ গালান্ট। ছবি: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আরেক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনাকালে অস্টিন গালান্টের কাছে অভিযোগ করেন, ১ এপ্রিলের ঘটনার বিষয়ে আগে থেকে পেন্টাগনকে কিছুই জানানো হয়নি।

এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইরানকে বিরত রাখতে চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান

এদিকে ইসরায়েলে হামলায় নিরুৎসাহিত করার ব্যাপারে ইরানকে বোঝাতে বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।

ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে ওই ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যে ‘গঠনমূলক ভূমিকা’ পালন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছেন চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই।

শুধু এ ফোনালাপ নয়, হামাসকে সহযোগিতা বন্ধের জন্য ইরানকে চাপ দিতে চীনকে প্রকাশ্যে বারবার অনুরোধ জানিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরে কূটনীতিকদের ভ্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা

ক্রমবর্ধমান হামলার হুমকি থাকায় এরই মধ্যে নিজ দেশের কূটনীতিকদের ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তেল আবিব, জেরুজালেম এবং বির শেভা এলাকার বাইরে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’

নাগরিকদের সতর্ক করেছে ফ্রান্সও

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত নিজ দেশের নাগরিকদের ইরান, লেবানন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চল ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে ফ্রান্স।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্তেফান সেজোর্নের এক প্রতিনিধি শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে এএফপি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ইরানভিত্তিক ফরাসি কূটনীতিকদের আত্মীয়রা ফ্রান্সে ফিরে আসবেন। একই সঙ্গে ফ্রান্সের বেসামরিক নাগরিকদের ইরান, লেবানন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চল ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে।

উত্তেজনা কমাতে চাইলেও প্রতিশোধের বিষয়ে বদ্ধপরিকর ইরান

ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকেও যোগাযোগ করা হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান এমন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা (ইসরায়েলের হামলার) এমনভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে যাতে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়।

সিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় কোনো অবস্থাতেই তাড়াহুড়া করা হবে না বলে ইরানের সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরান ‘খুব স্পষ্ট’ করে বলেছে যে, দামেস্কে দূতাবাসে হামলার জবাব তারা অবশ্যই দেবে। সে ক্ষেত্রে তা যেন ‘নিয়ন্ত্রিত’ হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য আঞ্চলিক মিত্রদের ব্যবহার করা হতে পারে বলেও ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, এরই মধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার মতো বিশ্ব মোড়লরাও ইরানকে সংযত হতে অনুরোধ জানিয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরান বলেছে, ইসরায়েলের হামলার পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ব্যবস্থা নিলে প্রতিশোধের ‘আবশ্যকতা’ হয়তো এড়ানো যেত।

এ বিষয়ে এক্সে দেয়া পোস্টে জাতিসংঘে ইরানের মিশন লিখেছে, ‘নিরাপত্তা পরিষদ যদি (দামেস্কের কূটনৈতিক চত্বরে) আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলকে বিচারের মুখোমুখি করত, তাহলে ইরানের আর এই দুর্বৃত্তকে শাস্তি দেয়ার কথা চিন্তা করা লাগত না।’

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কূটনীতিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র
ইরানে এবার সরাসরি হামলা চালানোর হুমকি ইসরায়েলের
ঈদের দিনে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার

মন্তব্য

p
উপরে